«

»

Jun ০৫

কোরানের কথা-২৯,সুরা বাক্বারা-১৬৪-১৬৭,রুকু-২০

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরানের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তার অফুরন্ত নিদর্শন সমুহের বর্ণনা দিয়েছেন, কিন্তু আলোচ্য আয়াত(১৬৪)টি এমনই একটি বিশেষ আয়াত, যেখানে আল্লাহ তায়ালা একই সাথে অনেক গুলো নিদর্শনের বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কোরানে বড় বড় কিছু আয়াত আছে যা, ফুল বাগিচায় শ্রেষ্ঠ ফুলটির মত স্ব মহিমায় উজ্জ্বল। এ আয়াতটি তাদেরই একটি। এ আয়াতটিকে ‘আয়াতুল আয়াত’ বা নিদর্শনের আয়াত বলা হয়।

১৬৪/ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللّهُ مِنَ السَّمَاء مِن مَّاء فَأَحْيَا بِهِ الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخِّرِ بَيْنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ لآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ অর্থাৎ;-নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত দিনের বিবর্তনে, এবং নদীতে নৌকা সমুহের চলাচলে,যা মানুষের জন্য কল্যানকর,আর আল্লাহ তায়ালা আকাশ হতে যে বারি বর্ষন করেন,যাদ্বারা মৃত জমীনকে সজীব করে তোলেন, এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব রকম জীবজন্তু, এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনে, মেঘ মালা যা, তারই হুকুমের অধীনে আসমান ও জমিনের মাঝে বিচরণ করে, অবশ্যই এসবের মাঝে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের নিদর্শন রয়েছে। পৃথিবীর সৃষ্টি,দিবারাত্রীর পরিবর্তন, যুগ যুগ ধরে একই নিয়মের অনুগামী, কার নির্দেশে নৌকা জাহাজ কল্যান করে চলেছে, শত শত গ্যালন পানি সমৃদ্ধ মেঘমালা শূন্যাকাশে ভেঁসে চলেছে, বর্ষনের ফলে বিরান শুষ্ক পৃথিবী সজীব হয়ে,ঝোপ ঝাড়, বৃক্ষরাজী পত্র-পল্লবে নবজীবন লাভ করছে, হরেক প্রজাতীর কীট-পতঙ্গ, পশু-পক্ষী জলে-স্থলে বিচরণ করে চলেছে, এ সকল নিদর্শন পিছনের দক্ষ্য কারিগরের উপস্থিতি, জ্ঞ্যানবাননদের হৃদয়ে জ্ঞ্যান বৃদ্ধি করে চলেছে। হতভাগ্য দের জন্য রয়েছে পরের আয়াত।

১৬৫/ وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلّهِ جَمِيعاً وَأَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِঅর্থাৎ;-আর মানুষের মাঝে এমন লোকও রয়েছে যারা, অন্যান্নকে আল্লার সমকক্ষ্য সাব্যস্ত করে, এবং তাদের প্রতি এমন ভালবাসা পোষন করে, যেমন আল্লাকে দেখানো উচিত, আর যারা প্রকৃতত ঈমান এনেছে, আল্লার প্রতি তাদের ভালবাসা দৃঢ়তম, আর যদি জালিমরা প্রত্যক্ষ করত, দেখতে পেত যাবতীয় ক্ষমতা শুধু মাত্র আল্লাহ তায়ালার, এবং আল্লার শাস্তিই সর্বাপেক্ষা কঠিনতর। আল্লাহ বলেন’ অমা খালাকতুল জিন্না অয়াল ইনসা ইল্লা লেইয়া’বুদুন’। আমি মনুষ্য ও জ্বীন জাতীকে একমাত্র আমার দাসত্য করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ লক্ষ্য ভুলে, নিজ নিজ আদর্শ বাস্তবায়নে মরিয়া। কারও আদর্শ বিত্ত বৈভব, কারও বা সামজিক সিকৃতী। বস্তুতঃ আল্লার দেও আদর্শ ছাড়া অন্য যে কোন লক্ষ্যবস্তুকে প্রাধান্য দেওয়াই শিরকের শামিল। ভবিষ্যত জীবনে সুখ সাচ্ছন্দে থাকার লক্ষে অর্থ সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়াও এআয়াতের আলোকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত। জীব প্রেম, ভাষা প্রেম, দেশ প্রেম প্রভৃতি যদি আল্লাহ প্রেমকে অতিক্রম করে তাও শিরকের পর্যায়ভুক্ত।সুরা হজ্বে এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা আসবে।

১৬৬/ إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُواْ مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ অর্থাৎ;-অনুসৃতরা যখন অনুস্মরণ কারিদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবে, এবং যখন আজাব প্রত্যক্ষ করবে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

১৬৭/وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّؤُواْ مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ অর্থাৎ;-এবং যারা অনুস্মরণ করেছিল তারা বলবে; হায় যদি একবার আমাদের ফিরে যাবার সুযোগ দেওয়া হত, তাহলে আমরাও তাদের অস্বীকার করে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমন তারা আমাদের সাথে করেছে, এ ভাবেই আল্লাহ তদের অনুতপ্ত করার জন্য তাদেরকে কৃতকর্ম দেখাবেন, কিন্তু তারা কখনও আগুন থেকে বের হতে পারবে না। পৃথিবীর বাহ্যিক জীবনে আমাদের কার্য্যকলাপের কিছু বাস্তব চিত্র এ আয়াতে ফুটে উঠেছে। তার পরিনতীর কথাও আল্লাহ এ আয়াতে বর্ননা করে, সাবধান হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। অতিরিক্ত সুবিধাভোগ বা পরকালে পার পাবার নিমিত্তে, বুঝে বা না বুঝে মানুষ প্রভাব শালী বা পীর আওলীয়া গনের অনুস্মরণ করে। কেউ বা পীর আওলীয়া গনের মাজারে আসক্ত হয়ে পড়ে। এদের পরিনতীর ব্যাপারে আয়াতদ্বয়ে বলা হয়েছে;-যখন(কেয়ামতের দিন) ঐ সব প্রভাবশালী, পীর, ওলী, আওলীয়া যাদের তথাকথিত মুরিদ বা অনুসারী গন পৃথিবীতে অন্ধ অনুস্মরণ করে, পরকালে পাথেয় যোগাড়ের আশায় বদান্ন হত, সেই অনুসৃত গন, নিজ নিজ অনুসারী গনকে অস্মীকার করবে, ভক্তগন সামনে পরিনতীর আজাব প্রত্যক্ষ করবে, নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে, হা হুতাস করে বলতে থাকবে; হায় যদি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারতাম তবে, ওদের মত করে আমরাও বদলা নিতাম। আল্লাহ বলেন কস্মিন কালেও তারা সেসুযোগ পাবেনা সুরা ‘আবাসা’(৮০)৩৪,৩৫,৩৬,৩৭ নং আয়াতেও বলা হয়েছে;-সেদিন, ভাই ভাইকে এড়িয়ে চলবে, মা বাবা সন্তানকে,স্বামী স্ত্রী কে, স্ত্রী স্বামী কে এড়িয়ে চলবে, এক কথায় সকল সম্পর্কের অবসান হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ বিষয়ে ব্যাস্ত থাকবে। কেউ কারও কোন উপকারে আসবেনা।  —-চলবে—

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    Abdus samad

    ফুয়াদ ভাই,
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমি একমাত্র সদালাপেই আছি। ভাল লাগে, আসুন না আবার সবাই আগের মত অংশ গ্রহন করে একে প্রানবন্ত করে তুলি। এত পরিচ্ছন্ন ব্লগ আর আছে কিনা আমার জানা নাই। ধন্যবাদ সংশ্লিস্ট সকলকে।

  2. 2
    Abdus samad

    জনাব শামস ভাই,
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ,আমার নিজের  অসুবিধা ও সদালাপের টাল মাটাল অবস্থার জন্য অনেকদিন লেখা দিতে পারিনি। আপাদের সহযোগীতা,সবার প্রেরনা পেলে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

    1. 2.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      আবারো লেখায় ফিরে আসার জন্য স্বাগতম। কিন্তু সদালাপ কি ঠিক থাকবে ? নাকি আবার সমস্যায় পড়বে ?

      :r

  3. 1
    শামস

    সামাদ ভাই,
    আপনার সিরিজ আবার চালু করেছেন দেখে ভাল লাগল। অনেক নীরব পাঠকের উপকারে দেবে।

    -শামস

Comments have been disabled.