«

»

Jul ২২

কোরানের কথা-৩৯,সুরা বাক্বারা-২৩২-২৩৫,রুকু-৩০.

বায়েন তালাক অবস্থায় যদি স্বামী স্ত্রী(প্রাক্তন) সমঝোতার মাধ্যমে,পুনরায় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, তবে তাদের বাধা দানে বিরত থাকার আদেশ নিয়ে আসছে পরের আয়াত। এ অবস্থায় নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা আছে তার বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার। যেমন তাকে বাধ্য করা যাবে না, তেমনই কোন হীতাকাঙ্খী, অবিভাবক তাকে বাধা দিতেও পারবে না।

২৩২/وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاء فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْاْ بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ   অর্থাৎ;-আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারাও মেয়াদ পূর্ণ করতে থাকে, তখন তাদেরকে পারষ্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে, পূর্ব স্বামীর সাথে নিয়মানুযায়ী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দান কোরনা, এ উপদেশ তাকেই দেওয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ ও কেয়ামতের দিনে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা, আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জাননা। 

 

   পরের আয়াতে আসছে শরিয়তের আরও একটি বিধান।

২৩৩/ وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلاَدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ لاَ تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلاَّ وُسْعَهَا لاَ تُضَآرَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلاَ مَوْلُودٌ لَّهُ بِوَلَدِهِ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَلِكَ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالاً عَن تَرَاضٍ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُواْ أَوْلاَدَكُمْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّآ آتَيْتُم بِالْمَعْرُوفِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ  অর্থাৎ;- আর সন্তানবতী মায়েরা তাদের সন্তানকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, যদি দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়, আর সন্তানের পিতার উপর নারীর খোর পোষের দায়িত্ব, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বর্তাবে, কাউকে তার সামর্থাতিরিক্ত চাপের সন্মুখীন করা যাবেনা, আর মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করা যাবেনা এবং যার সন্তান তাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতীর সন্মুখীন করা যাবেনা, আর ওয়ারীসদের উপরও এই দায়িত্ব, অতঃপর যদি পিতামাতা ইচ্ছা করে তাহলে নিজেদের পারষ্পরিক পরামর্শ ক্রমে দু’বছরের ভিতরেই দুধ ছাড়িয়ে দিতে পারে, তাতে তাদের কোন পাপ নেই, আর যদি তোমরা কোন ধাত্রীর দ্বারা নিজের সন্তানদের দুধ পান করাতে চাও, যদি তোমরা সাব্যস্তকৃত প্রচলিত বিনিময় দিয়ে দাও তাতেও কোন পাপনেই, আর আল্লাকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ তোমাদের কাজ অত্যন্ত ভাল করেই দেখেন।

 তালাক প্রাপ্তা নারীর যদি দুগ্ধপোষ্য সন্তান থাকে, তারজন্য শরিয়তের কি বিধান তা এখানে বলা হচ্ছে। আইনতঃ সন্তান পিতার হয়ে থাকে। তাই মা যেমন উক্ত সন্তানকে দুধ পান করিয়ে পালন করবেন, এবং পূর্ণ দু’বছরই দুধ পান করান তবে সন্তানের পিতার উপর উক্ত মায়ের ভরণ পোষণ বা খোরপোষ দু’বছরের জন্যই বর্তাবে। পিতার সামর্থ ও বাজারের উপর ভিত্তি করে তা দিতে হবে। এ ব্যাপারে উভয়ে কেউ কাউকেই ক্ষতির মধ্যে ফেলতে পারবে না। অর্থাৎ কোন রকম কারও উপর জুলুম জবরদস্তি করা যাবেনা। এখানে বলাযেতে পারে যে, বাচ্চার দুধের প্রয়োজন দু’বছর স্থায়ী হলনা, বাচ্চা সেচ্ছায় দুধ ছেড়ে দিল বা বাচ্চা মারাগেল, মায়ের খোরপোষের প্রয়োজনও শেষ হয়ে যাবে। কিংবা হয়ত মায়ের কোথাও ভাল সন্মন্ধ হতে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে তাকেও জোর করে বাধা দেওয়া যাবেন। এজন্যই বলা হয়েছে, সমঝোতার দ্বারা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুধ ছাড়ানো বা ধাত্রী দ্বারা দুধ পান করানোও যেতে পারে। তৎকালীন আরবে দুধমায়ের প্রচলন ছিল। নবী করিম সঃ এর দুধ মায়ের নাম ছিল হালিমা।

  খোর পোষের এ নিয়ম ভঙ্গ করে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট শাহবানু খ্যাত কেসের রায়ে তালাক প্রাপ্তা শাহবানুর আজীবন খোরপোষের দায়িত্ব, তার প্রাক্তন স্বামীর উপর ন্যাস্ত করে। ভারতীয় মুসলমানেরা শরিয়ত লঙ্ঘনের জন্য বিক্ষোভ, আন্দোলন করে। বাধ্য হয়ে জনাব রাজিব গান্ধী(তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী)এই মর্মে আইন পাশ করেন যে, ভারতের সর্বোচ্য আদালতও মুসলীম শরীয়া আইনের বাইরে,কোন মুসলীম কেসের রায় দিতে পারবে না।

২৩৪/وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ            অর্থাৎ;- তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যু বরণ করে, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে, তার পর যখন মেয়াদ পূর্ণ হবে, নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে তোমাদের কোন পাপ নেই, তোমরা যাকর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।

   স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা নারী, চার মাস দশদিন মেয়াদ পালন করবে।  মেয়াদ শেষে নিজের ভবিষ্যতের জন্য নীতি গত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি তাকে দেওয়া হয়েছে।

২৩৫/وَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاء أَوْ أَكْنَنتُمْ فِي أَنفُسِكُمْ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَـكِن لاَّ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلاَّ أَن تَقُولُواْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا وَلاَ تَعْزِمُواْ عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّىَ يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ   অর্থাৎ;- আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে,  তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে, কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখোনা, বিধি মত কথাবার্তা ছাড়া, আর নির্ধারিত মেয়াদ সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা কোরনা, আর জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যা আছে তা আল্লাহর জানা আছে, কাজেই তাকে ভয় করো আর মনে রেখো আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্যশীল।         

চারমাস দশদিনের মেয়াদ পার না হওয়া পর্যন্ত বিধবার সাথে আকারে ইঙ্গিতে বা ভাল কথায় প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু গোপনে কোন প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ মেয়াদ শেষে অবশ্যই বিয়ে করব এমন পাকা কথা দেওয়া যাবেনা মেয়াদ কালে কোন ক্রমেই বিয়ে করা অনুমোদিত নয়। এ আয়াতে ‘আল কিতাব’ বলতে শরিয়তকেই বোঝানো হয়েছে।         –       —–চলবে—-

Leave a Reply

Your email address will not be published.