«

»

Jan ০২

“মাতাল অবস্থায় তোমরা নামাজের কাছেও যেও না”

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সূরা আন-নিসা রুকু;-৭ আয়াত;-৪৩-৫০ কোঃ কথা-৭৬
—————————————————————————————————————————————————
সুরা বাক্বারায় আমরা মদ নিষিদ্ধের সূচনা সংকেত পড়ে এসেছি। সেখানে বলা হয়েছে, যে মদ ও জুয়াতে উপকার আছে তবে ক্ষতির পরিমান তার চেয়ে বেশী। আলোচ্য ৪৩ নং আয়াতটি উক্ত নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় স্তর। এখানে বলা হয়েছে যে, তোমরা যখন মাতাল থাক তখন নামাজের কাছে যেওনা। এখানে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলীমদের বিবেকের উপরে মদ বা নেশাকে ছেড়েদিলেন। তার আগেই নামাজের গুরুত্ব তাদের কাছে সুবিদিত ছিল। যাতে মুসলীমগন বিবেচনায় আনে যে, নামাজের যা প্রতিবন্ধক তা কোনদিন ভাল নয়। অতএব তা পরিত্যাজ্য।

৪৩/يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقْرَبُواْ الصَّلاَةَ وَأَنتُمْ سُكَارَى حَتَّىَ تَعْلَمُواْ مَا تَقُولُونَ وَلاَ جُنُبًا إِلاَّ عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىَ تَغْتَسِلُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مِّنكُم مِّن الْغَآئِطِ أَوْ لاَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
অর্থাৎ;-হে ইমানদারগন, তোমরা যখন নেশাগ্রস্থ থাক, তখন নামাজের কাছেও যেওনা, যতক্ষননা তোমরা যা বলছ তা বুঝতে সক্ষম হও। আর অপবিত্র অবস্থায় নয়, যতক্ষন না গোসল কর। তবে মুসাফীর অবস্থার কথা সতন্ত্র, আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ যদি প্রস্রাব পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারীগমন করে থাকে, আর যদি পানি না পাওয়া যায় তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও, মুখ মণ্ডল ও হাত মসেহ করে নাও। নিশচয় আল্লাহ তায়ালা অতিশয় ক্ষমাশীল।

ইসলাম সর্বাবস্থায় তার বিধানগুলি সহজ করার চেষ্টা করেছে। তারই একটা প্রমান এ আয়াতে পাওয়া যায়। তাহল পানির দঃষ্প্রাপ্যতায় পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে পবিত্র হওয়া। আয়াতের প্রথমেই নেশাগ্রস্থ অবস্থায় যখন মানুষ কি বলে তা নিজেই জানেনা, ফলে উল্টা পাল্টা কথা বলে। দেখা যেত অনেকেই নামাজে সুরা কাফেরুন পড়তে গিয়ে না’র যায়গা না, বার না’য়ের যায়গায় হাঁ করে ফেলছে, তখনই এল এ আদেশ। সেই সঙ্গে কয়েকটি অপবিত্র অবস্থাকথা বর্ণনা করে, সে অবস্থায়ও নামাজ আদায় করতে নিষেধ হল। পবিত্রত অর্জনে পানি অমিল হলে মাটি দ্বারা তাপুরণ করার অনুমতিও দেওয়া হল।

এই প্রসঙ্গে বলাযেতে পারে যে, আমরা সাধারণতঃ সুরা কেরাতে কি বলছি তা নাবুঝেই অনেকে নামাজ আদায় করে থাকি। তাই সেখানেও না হাঁ আর হাঁ না হওয়ারও সম্ভাবনা বিদ্যমান।তাই আমাদেরও ঐ গুলি বুঝে পড়া এ আয়াত অনুযায়ী অবশ্য কর্তব্যও বলা যেতে পারে।

৪৪/أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُواْ نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلاَلَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّواْ السَّبِيلَ
অর্থাৎ;-তুমিকি ওদের দেখনি? যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে। তারা পথ ভ্রষ্টতা খরিদ করেছে এবং কামনা করে তোমরাও আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হও।

এ সুরার ভুমিকায় বলা হয়েছে, এ সুরায় তিন ধরণের লোকদের কথা আলোচনা হবে। যথা প্র্রকৃত মুমিন, আহলে কিতাব(ইহুদী ও খ্রীষ্টান)ও প্রকৃত মুনাফেক। আলোচ্য আয়াতটি আহলে কিতাবদের ভাগের। পবিত্র কোরআনই পূর্ণাঙ্গ কিতাব। এতে শরিয়ত ও হেকমত দুইটিই আছে। অপর দিকে তওরাতে শরিয়ত আর ইঞ্জীলে হেকমত আলাদা ভাবে অবতীর্ণ হয়। তাই আগের গুলোকে অংশ বলা হয়েছে। আংশীক কিতাব প্রাপ্তরা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তারা চায় মুসলীমরাও পথ ভ্রষ্ট হোক। যার ধারা আজও বিদ্যমান।

৪৫/وَاللّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ وَكَفَى بِاللّهِ وَلِيًّا وَكَفَى بِاللّهِ نَصِيرًا
অর্থাৎ;-আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।

৪৬/مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِن لَّعَنَهُمُ اللّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلاَ يُؤْمِنُونَ إِلاَّ قَلِيلاً

অর্থাৎ;-যারা ইহুদী হয়েছে, তাদের কিছুলোক কথার প্রকৃত অর্থ বিকৃত করে বলে, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম, আর ‘শোন’না শোনার মত, আর মুখ বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বলে, রা-ইনা (আমাদের রাখাল)।অথচ যদি তারা বলত, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি, শোন, এবং আমাদের প্রতি নজর দাও, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম। আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত দিয়েছেন কুফরীর দরুন। অতএব তারা ইমান আনছেনা, কিন্তু অতি অল্প সংখ্যক।

উচ্চরণের ভঙ্গী পরিবর্তণ করে বা শব্দের বিকৃত উচ্চারণ যাতে অর্থের হেরফের করে রসুলকে বিব্রত করা যায়, তেমন আচরণের সাথে আমাদের পরিচয় আছে। এটা তাদের স্বভাবজাত অভ্যাস। এরা বার বার রসুল সঃ এর কাছে মোজেজা দেখাবার আব্দার করত। তিনি যে আল্লাহর নবী, তার প্রমান দাবী করত। এক পর্যায়ে আল্লাহ সুরা মোহাম্মদ অবতীর্ণ করে তাদের দাবী মেটাতে চাইলেন। তার পরও তারা যথা পূর্বং তথা পরং রয়ে গেল। আল্লাহ বলেন, তারা যদি এমনটি না করে সঠিক কথাটিই বলত ও ইমান আনত, তবে তা ছিল তাদের জন্যই কল্যানকর। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হা-দু’ বা যারা ইহুদী হয়েছে। মনে রাখতে হবে আল্লাহ কাউকে ইহুদী বানান নাই বা কাউকে নাসারা বানান নাই। তারা নিজেরাই নিজেদের ঐনামে পরিচয় দেয়। তাই আল্লাহ ওদের জন্য ক্রীয়াপদ (জমা মুজাক্কার গায়েব) ব্যবহার করেছেন।বস্তুত প্রথমে সকলে মুসলীমই ছিল।

৪৭/يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ آمِنُواْ بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَى أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ وَكَانَ أَمْرُ اللّهِ مَفْعُولاً
অর্থাৎ;-হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারী বৃন্দ, যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। যার সত্যায়ন করে তা, যা তোমাদের কাছে রয়েছে পূর্ব হতে। এমন হওয়ার আগে যে আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পিছনের দিকে। কিংবা অভিশম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন অভিসম্পাত করেছি আসহাবে ‘সাবতের’ উপর। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে।

যাদের কাছেই আসমানী কিতাব এসেছে, তাদের নিজ নিজ কিতাবের উপর ইমান আনতে বলা হচ্ছে, সেই সঙ্গে তাদের হস্তগত কিতাব যে কিতাবের সত্যায়ন করছে, সেই কিতাব বা এই কোরআনের উপর ইমান আনতে বলা হচ্ছে। তওরাত মূলতঃ ‘বাইবেলের পুরাতন নিয়ম’ ও ইঞ্জীল, ‘বাইবেলের নূতন নিয়ম’ কেই বলে। সেই বাইবেল সংষ্কার হতে হতে এমন হয়েছে যার আসল অবশিষ্ট নাই বললেই চলে। তবে, বর্ণবাস লিখিত বাইবেলে বহু যায়গায় পবিত্র কোরআনের ও নবী করিম সঃ এর ভবিষ্যত বাণী এখনও অবশিষ্ট আছে। সেই বাইবেল খানি দুঃষ্প্রাপ্য বললেই চলে।পবিত্র কোরআন তওরাত ও ইঞ্জীলের প্রত্যায়ন করে। শনিবারের আইন অমান্য করার কারণে, আল্লাহ ঐ সম্প্রদায়ে সেই লোকদের নিকৃষ্ট বাঁদর বানিয়ে দিয়েছিলেন। তা আমরা সুরা বাক্বারায় পড়ে এসেছি। আল্লাহ সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছেন অমন কিছু করা বা তোমাদের মুখের চিহ্ন মুছে বা তাকে পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দেবার আগে ইমান আনো। আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে দিলে অবশ্যই তা পুরণ হবে।

৪৮/إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
অর্থাৎ;-নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না যে লোক তার সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন তার নিম্ন পর্যায়ের পাপ যার জন্য ইচ্ছা করেন। আর যেলোক আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করল, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।

৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে, বড় গোনাহ গুলি এড়িয়ে চলতে পারলে আল্লাহ ছোট গোনাহ গুলো আল্লাহ মাফ করে দেবেন। বড় গোনার কথা আগেই বলা হয়েছে। সব থেকে বড় গোনাহ আল্লাহর সাথে শরীক করা। শিরিকের গোনাহ আল্লাহ কোন অবস্থাতেই ক্ষমা করবেন না।

৪৯/أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُمْ بَلِ اللّهُ يُزَكِّي مَن يَشَاء وَلاَ يُظْلَمُونَ فَتِيلاً
অর্থাৎ;-তুমিকি তাদের দেখনি? যারা নিজেদের পূত পবিত্র বলে থাকে, অথচ পবিত্র করেন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই। বস্তুতঃ তাদের উপর সূতা পরিমান অন্যায়ও করা হবেনা।

এ আয়াতটিও আহলে কিতাবদের জন্য। ইহুদীগন নিজেদের পূত পবিত্র মনে করে। আল্লাহর অতি আদরের ও শ্রেষ্ঠ বান্দা বলে মনে করে। এ কথা সুরা আরাফ এ পাওয়া যাবে।ইহুদীরা মনে করে অন্যেরা পশু শামিল। পশুকে যেমন মানুষের উপকারার্থে ব্যবহার করা হয়। তেমনই অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে ব্যবহার করলে কোন দোষ নেই।

৫০/انظُرْ كَيفَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللّهِ الكَذِبَ وَكَفَى بِهِ إِثْمًا مُّبِينًا
অর্থাৎ;-লক্ষ কর কেমন করে তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অথচ এই প্রকাশ্য পাপই যথেষ্ট।

২ comments

  1. 2
    আবদুস সামাদ

    কিংশুক ভাই, আমি ডাঃ ইসরার আহমদ সাহেবের ‘বয়ানুল কোরআন’ এরই সংক্ষীপ্ত বাংলা অনুবাদ করে যাচ্ছি। মানুষ স্বভাবতই তার্কিকও নিজের মত বা দলকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, ফলে সংঘর্স হয়। আমি ইমাম মাজহাব যথা সম্ভব এড়িয়ে মোটামুটি বোঝার উপযুক্ত করে লেখার চাষ্টা করি।কোরআনের জ্ঞান দু ভাবে পাওয়া যায়;-সাধারণ যা উপরিভাগেই পাওয়া যায় যেমন নদীতে তেল ভাসে। অপরটি গবেষনা লব্ধ জ্ঞান,যা জ্ঞানী দার্শনীক বা বিজ্ঞানী গন  ডুবুরী হয়ে গভীর থেকে তুলে রত্ন আহরণের মত করে, করে থাকেন। আমি প্রথমটাই করার চেষ্টা করি। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 1
    কিংশুক

     
    সুরা নিসা, আয়াত ৪৩ এর তাফসির ইবন কাথিরে পড়েছিলাম, সুনানে ইবনে মাজায় রয়েছে হযরত সাদ(রা:) বলেন তাঁরা মদপান করে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ার পর একজন লোক উটের চোয়ালের অস্থি উঠিয়ে হযরত সাদ(রা:) কে মেরে দেয়ায় এ আয়াতটি অবতীর্ন হয় (এ হাদিসটি সহীহ মুসলিমেও পূর্নভাবে বর্নিত হয়েছে)। মুসনাদে ইবনে হাতিমে রয়েছে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ(রা:) জনগনকে জিয়াফত করেন, জনগন আহারের পর মদ্যপান করেন এবং জ্ঞানশুন্য হয়ে যান, এমন সময় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায় , একজনকে ইমাম করা হয় তিনি সুরা কাফিরুন পাঠ করেন। সে সময় এই আয়াতটি নাজিল হয় (এ হাদিসটি জামেউত তিরমিজির মধ্যেও রয়েছে এবং এটা হাসান)। ইমাম ইবনে জারির (রা:)র বর্ননায় রয়েছে হযরত আলী(রা:), হযরত আব্দুর রহমান(রা) এবং তৃতীয় একজন সাহাবী মদ পান করেন। হযরত আব্দুর রহমান(রা:)কে ইমাম বানানো হয় । কোরআনুল কারীমের সুরা তিনি বিশৃংখলভাবে পাঠ করেন। তখন এই আয়াতটি নাজিল হয়।(সুনান ই আবু দাউদ, সুনান ই নাসাঈয়ের মধ্যেও এই বর্ননাটি রয়েছে)। তাফসির ইবনে জারীরেও আর একটি বর্ননা রয়েছে যে, হযরত আলী (রা:) ইমাম হন এবং যেভাবে পড়তে চেয়েছিলেন সেভাবে পারেননি। তখন এই আয়াতিট নাজিল হয়। অন্য একটি বর্ননায় রয়েছে যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ(রা:) ইমাম হন এবং সুরা কাফিরুন ভূলভাবে পড়েন। তখন এই আয়াতটি নাজিল হয়। কয়েক বছর পূর্বে পাকিস্তানী ড: ইসরার আহমেদ q tv তে সুরা নিসার তাফসিরে তিরমিজি শরীফের বয়াতে হযরত আলী (রা:) ইমাম হন এবং সুরা কাফিরুন ভূলভাবে পড়ে ফেলেন বর্ননা করায় পরে শিয়া, বেরেলভিদের তীব্র তোপের মুখে পড়ে ক্ষমা চান । কিছুদিন পূর্বে সালাফি ড: বিলাল ফিলিপ(ড: জাকির নায়েক, বিলাল ফিলিপ, আব্দুর রহমান গ্রীন, ইউসুফ এস্টাস সবাইকেই খুব সম্মান করি) উয়াহদাতুল উয়াজুদের সাথে মিল থাকার সন্দেহে  হারুন ইয়াহিয়াকে (তিনিও পছন্দের) এবং চার মাজহাবের যেকোন একটি মাজহাব মানার উপদেশের দেয়ায় হামজা ইউসুফ (তিনিও খুব পছন্দের)কে তীব্রভাবে তিরস্কার করলেন ও সকল মুসলমানদের হারুন ইয়াহিয়া, হামজা ইউসুফ হতে সাবধান করে দিলেন তখন  বর্তমানকালের সালাফিগনের সাথে নিজের মতামতের শতভাগ মিল না থেকে  (তাঁদের মতের সাথে শতভাগ মিল না থাকলে তাঁরা কমপক্ষে বিদআতি বলেন) বরং অন্যান্য সুন্নিদের মতো আল্লাহ তায়ালার পরিচয় পুরোপুরি বুজার ক্ষমতা মানুষের জ্ঞানের বাইরে এমন মনোভাবের কারনে খুব বড় ভূল হয়ে যাচ্ছে কিনা তা বুজার জন্য ড: ইসরার আহমেদের(তিনি  ঊয়াহদাতুল উয়াজুদের সমর্থক) লেকচার শুনে বিষয়টা বোজার চেষ্টা করতে গিয়ে আবারও শুনলাম, তিনি হযরত আলী(রা:) সুরা কাফিরুন পড়তে গিয়ে ভূল করেছিলেন উল্লেখ করলেন । ড: ইসরার আহমেদের (আহমেদের দিদাতের সাথে সাথে ড: ইসরার আহমেদও জাকির নায়েকের একজন শিক্ষক) বক্তব্য সঠিক কিনা তা যদি আপনার জানা থাকে তাহলে জানালে খুশী হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.