«

»

Dec ১৯

রাজাকার

[ভূমিকাঃ কাদের মোল্লার অতীত সম্পর্কে তেমন একটা জানা নেই আমার। নানা ঝামেলায় বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাও খুব একটা পড়া হয়নি কিছুদিন ধরে। কাজেই তার ফাঁসি সম্পর্কে কোনো অভিমত প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা আমার পক্ষে। অবশ্য একাত্তরে রাজাকারদের অনেকের দূর্বৃত্তপনা, অমানবিক মানুষ হত্যা ও নানা অপকর্মের কিছু কিছু কাহিনী কম-বেশী আমরা সবাই জানি। কিছুদিন আগে ‘রায়ট’ শিরোনামে আমার একটা ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছিল সদালাপে। সেখানে ভূমিকায় লিখেছিলাম- ‘২০১১ সালের বইমেলায় বিদ্যাপ্রকাশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ব্যবধান’ শিরোনামে আমার একটি গল্পের বই বের হয় যেখানে ১৫ টি গল্পের ভেতর ‘রায়ট’ ছিল একটি।’ ঐ বইয়েরই ১৫ টি গল্পের ভেতর ‘রাজাকার’ ছিল আরেকটি। এ গল্পটিও পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে মন চাইলো। ধন্যবাদ।]

 

রাজাকার

 

।। এক।।

সূর্য একেবারে মাথার ওপরে। চারিদিকে ধা ধা রোদ। জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি। ট্রেন ষ্টেশনের পাশে স্থির দাঁড়িয়ে আছে যতীন। অবশ্য ট্রেন ষ্টেশন বলতে সাধারনত যা বুঝায়, এটা সেরকম না। কোনো প্লাটফর্ম নেই রেল লাইনের দুপাশে। খানিকটা জায়গা নিয়ে ইট- সুরকি বিছানো। তার থেকে একটু দূরে ছাউনিওয়ালা ছোট্ট একটা টিকিট ঘর। দিনে দুবার সেখানে টুল পেতে টিকিট বিক্রি করেন ষ্টেশন মাষ্টার। আলমডাঙ্গা ট্রেন ষ্টেশনে দিনে মাত্র দুবার থামে ট্রেন- দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ একবার এবং সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ আরেকবার। কেবল স্থানীয় কিছু যাত্রী আলমডাঙ্গা ষ্টেশন থেকে ওঠানামা করে লোকাল ট্রেনটায়। পূর্ব পাকিস্থানের ট্রেনগুলো প্রায় সবই লক্কড়মার্কা। এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে তেমনই ভঙ্গুর যেন রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

 

গত দুমাস ধরে প্রতিদিন ট্রেন ষ্টেশনে এসে বাবার জন্যে অপেক্ষা করে যতীন। দুপুর এবং সন্ধ্যায়- দুবারই। যতীনের বয়স দশ-এগার’র মত। সে বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ছোট ছোট দুটো বোন আছে যতীনের। একটার বয়স সাত। আরেকটার পাঁচ। সেই যে মাস দু-তিন আগে গন্ডগোল শুরু হলে বাবাকে ধরে নিয়ে গেল পাকিস্থানি মেলেটারিরা, তারপর থেকে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে যতীন। বাবা যাওয়ার সময় কথা দিয়েছিলেন, ফিরে আসবেন। তার বাবা কখনও কথার নড়চড় করেননা। যতীন জানে তার বাবা নিশ্চয় ফিরে আসবেন। সে কারনে দুপুর ও সন্ধ্যায় ট্রেন আসার সময় হলেই বাড়ি থেকে এক দৌড়ে ট্রেন ষ্টেশনে চলে আসে যতীন। গত দুমাসে একদিনও এর হেরফের হয়নি। মা’কে বাবার ফিরে আসার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি যদিও মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদেন, কিন্তু একইসাথে যতীনকে মা আশ্বাস দেন তার বাবা ফিরে আসবেন বলে।

 

যতীনের স্পষ্ট মনে আছে বাবাকে মেলেটারিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটা। তখন গন্ডগোল সবেমাত্র শুরু হয়েছে। যতীনরা থাকে সাধুডাঙ্গার হিন্দু পাড়ায়। সাধুডাঙ্গা আলমডাঙ্গা থানার অন্তর্ভূক্ত ছোটখাট একটা গ্রাম। যতীনদের আশপাশে অনেকগুলো হিন্দু ঘর। গন্ডগোল শুরু হলে হিন্দু পাড়ার প্রায় পুরোটাই খালি হয়ে যায়। মেলেটারির ভয়ে সবাই পালিয়ে যায় ভারতে। প্রতিবেশীরা সবাই যাওয়ার সময় যতীনের বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল তাদের সাথে ভারতে পালিয়ে যেতে। বাবা রাজী হননি। তিনি আলমডাঙ্গার একমাত্র সরকারি প্রাইমারি স্কুলের হেডমাষ্টার। আশপাশের মানুষ, তা হিন্দু নাকি মুসলমান, তাকে দেবতার মত সন্মান করে। তিনি জ্ঞানত কারো কোনো ক্ষতি করেননি কোনোদিন। বরং উপকারই করেছেন অসংখ্য মানুষের। তারতো কোনো শত্রু নেই। না কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি চেনেন, আর না কোনো মেলেটারির সাথে তার কোনোদিন সামনাসামনি সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে তিনি কেন পৈত্রিক ভিটে-মাটি ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাবেন? মা’ও চলে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু বাবা ছিলেন সব বিষয়েই পাহাড়ের মত অনড়। একবার কোনো বিষয়ে তিনি ‘না’ বললে তাকে দিয়ে আর ‘হ্যাঁ’ বলানো যেত না।

 

সেদিন দুপুরে যতীনরা কেবল ভাত খেতে বসেছিল। এমন সময় বাড়ীর কড়া নড়ে উঠলো খুব জোরে। বাবা খাওয়া রেখে দরজা খুলে দিলেন। যতীন কৌতুহল বশতঃ বাবার পেছন পেছন দরজা পর্যন্ত গিয়েছিল কারা এসেছে দেখতে। দরজার সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন বাবার কলিগ ও যতীনদের স্কুলের ইসলামিয়াতের শিক্ষক, ওবায়দুল্লাহ স্যার। সাদা পাঞ্জাবি, সাদা টুপি এবং সাদা দাঁড়িতে স্যারকে দেখতে বরাবর দেবদূতের মত লাগতো যতীনের কাছে। সলজ্জ যতীন হাত তুলে সালাম দিয়েছিল স্যারকে। স্যার মুচকী হেসে উত্তরও দিয়েছিলেন যতীনের সালামের। স্যারের পেছনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিল আট-দশ জন মেলেটারি। জীবনে আগে কোনোদিন পাকিস্থানি মেলেটারি দেখেনি যতীন। বড় বড় গোঁফওয়ালা, লালচোখা, মেলেটারি পোষাক পরা মানুষগুলোকে দেখে কেন জানি এক অজানা ভয় পেয়ে বসেছিল যতীনকে। একছুঁটে ঘরে এসে মায়ের আঁচলের নীচে লুকিয়েছিল যতীন।

 

বাবাকে মেলেটারিদের সাথে মহাকুমা শহর, চুয়াডাঙ্গার মেলেটারি ক্যাম্পে যেতে হবে বিশেষ কারনে। ওবায়দুল্লাহ স্যার ঘরে ঢুকে বাবা ও মা’কে তেমনটাই বলেছিলেন। মেলেটারিরা বাবাকে সেখানে নিয়ে শুধু নাকি কী কী সব তথ্য শুনবেন বাবার কাছ থেকে। এরপর বিকেল নাগাদ ওবায়দুল্লাহ স্যার নিজে এসে বাবাকে নাকি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাবেন। যতীনের মা খুবই রূপবতী। ওবায়দুল্লাহ স্যার বাবা-মা’র সাথে কথা বলার সময় বারবার তার মায়ের দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিলেন তা মোটেও পছন্দ হয়নি যতীনের। পূর্ণ বয়স্ক নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক বা কামনা-বাসনা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ যতীনের শিশুমনও বুঝে গিয়েছিল, তার মায়ের দিকে ওবায়দুল্লাহ স্যারের চাহনিটা ছিল খুব খারাপ ধরনের।

 

।। দুই।।

সেদিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো। বাবা এলেন না। মা সারারাত ধরে কাঁদলেন। যতীন বাবার অপেক্ষায় বসে থেকে থেকে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল। ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো মায়ের কান্নায়। বাবা ফিরে আসেন নি। তাদের পুরো হিন্দু পাড়া ফাঁকা। মা কাকে জিজ্ঞেস করবেন? কার কাছে পাবেন বাবার খবর? স্কুল সেই গন্ডগোল শুরু হওয়ার পর থেকেই তালাবদ্ধ। ওবায়দুল্লাহ স্যারের বাড়ী কোন্‌ পাড়ায় তা তারা জানে না। মা সারাদিন পাগলের মত ছুটোছুটি করলেন বাবার ব্যাপারে কোথাও কোনো খোঁজ পাওয়া যায় কিনা, কিন্তু লাভ হলোনা। তারও প্রায় তিন-চার দিন পর এক সন্ধ্যায় ওবায়দুল্লাহ স্যার যতীনদের বাসায় এলেন। মা স্যারের হাত দুখানা ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। স্যার কেমন যেন চকচকে চোখে মায়ের মাথায়, পিঠে অনেকক্ষণ ধরে হাত বুলিয়ে মাকে স্বান্তনা দিলেন। এরপর মা’কে একপাশে ডেকে নিয়ে ফিসফিস করে কী যেন বললেন স্যার। তা শুনে মা যেন একেবারে পাথর হয়ে গেলেন। আর যতীনের দিকে সরুচোখে তাকিয়ে, অদ্ভূত বিজাতীয় মুচকী হাসি হেসে স্যার ওদের বাড়ি থেকে সেদিনের মতো বের হয়ে গেলেন।

 

এরপর থেকে ওবায়দুল্লাহ স্যার সপ্তায় অন্তত তিন, চার দিন যতীনদের বাসায় আসতে শুরু করলেন। স্যার আসেন সাধারনত সন্ধ্যার দিকে। মাকে নিয়ে মায়ের ঘরের দরজা লাগিয়ে ঘন্টা, দু’ঘন্টা পার করে দরজা খুলে দ্রুত পায়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান স্যার। মা যেন দিন দিন কেমন মিইয়ে যেতে থাকলেন। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমত করেন না, ঠিকমত ঘুমোন না। মায়ের চোখের নিচে কালি পড়লো। মা সারাদিন কেমন যেন উদাস হয়ে থাকেন। এক কথা তিনবার, চারবার করে জিজ্ঞেস না করলে মা উত্তর দেন না। কারন জিজ্ঞেস করলে তিনি কেবল অঝোর ধারায় কাঁদেন। গন্ডগোলের আগে ওবায়দুল্লাহ স্যার কখনও যতীনদের বাড়িতে আসেন নি। তাহলে মেলেটারিরা বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে স্যার এত নিয়ম করে ঘন ঘন কেন তাদের বাড়ি আসছেন? আর কেনই বা প্রতিবার মা’কে নিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেন স্যার? মা’কে একদিন খুব করে চেপে ধরেছিল যতীন। মা যতীনকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন। তারপর কান্না জড়িত কন্ঠে ফিস ফিস করে বললেন, “স্যারকে আসতে বারণ করলে মেলেটারিরা এসে আমাকে, তোদের সবাইকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবে রে বাবা”। যতীন সেদিন কী বুঝেছিল কে জানে, কিন্তু মা’কে এরপর আর কোনোদিন স্যারের তাদের বাড়িতে আসা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি সে।

 

।। তিন।।

ট্রেন থেকে জনা পাঁচেক প্যাসেঞ্জার নামলো। নাহ, বাবা নেই তাদের মধ্যে। আজকেও আশাহত হলো যতীন। পরের ট্রেন সেই সন্ধ্যে ছ’টায়। প্রচন্ড রোদে ঠোঁট-মুখ শুকিয়ে যেন কাঠ হয়ে গেছে যতীনের। টিকেট ঘরের পাশেই একটা সরকারি টিউবওয়েল। কল চেপে ঢকঢক করে খানিকটা জল খেল যতীন। তারপর ধীর পায়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলো সে। মা নিষেধ করেছেন ওবায়দুল্লাহ স্যারকে কখনও কোনো প্রশ্ন করা যাবেনা। স্যার নাকি মা’কে বলে দিয়েছেন ওরা তিন ভাইবোন স্যারকে যেন কোনো প্রশ্ন না করে। এমনকি স্যারকে ওদের সালাম পর্যন্তও দেয়া নিষেধ। যতীন মনে মনে কতদিন ভেবেছে স্যারকে জিজ্ঞেস করবে তার বাবা কবে আসবেন। স্যার সেই যে বাবাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন, বাবাতো আর ফিরে এলেন না।

 

আজ মনে মনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় যতীন। মা যতই রাগ হোন না কেন, আজ সন্ধ্যায় ওবায়দুল্লাহ স্যার এলে সে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবে স্যার বাবাকে কোথায় রেখে এসেছেন। কেন তার বাবা ফিরে আসছেন না। এমনকি স্যার নিজেও তাতে যদি খুব রাগও হন, তবুও সে কেয়ার করবে না। আজ স্যারকে সে জিজ্ঞেস করবেই করবে। এসব ভাবতে ভাবতেই একসময় বাড়ির দেউড়িতে এসে পৌঁছায় যতীন। মায়ের ঘরের দরজাটা ভেজানো। ছোট বোন দুটো ফিস ফিস করে জানায় স্যার এসেছেন। ভীষণ অবাক হয় যতীন। স্যারতো আসেন সন্ধ্যায়, তবে আজ দুপুরে কেন? অন্যান্য দিনের মত মায়ের ঘরের দরজাটা ভেতর থেকে পুরো আটকানো নয়; আলতো ভেজানো। ঘরের ভেতর থেকে অস্পষ্ট গোঙ্গানীর মত একটা আওয়াজ ভেসে আসে। পা টিপে টিপে ভেজানো দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় যতীন। দরজার সামান্য ফাঁকা দিয়ে চোখ রাখে মায়ের ঘরের ভেতরে।

 

মা খালি গায়ে। ব্লাউজ আর শাড়ী দলা পাকিয়ে বিছানায় একপাশে পড়ে রয়েছে। ওবায়দুল্লাহ স্যার খালি গায়ে মায়ের গায়ের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছেন। স্যারের পরনে কোনো পোষাক নেই। যতীনের পা কেঁপে ওঠে। গোটা পৃথিবী যেন চোখের সামনে দুলে ওঠে। তার বিস্ফোরিত চোখ দুটো মনে হয় এক্ষুণি যেন ছিটকে বের হয়ে আসবে কোটর থেকে। নিশ্বাস নিতেও যেন ভুলে যায় যতীন। তবে তা শুধু কয়েক মুহূর্তের জন্যে। ধীরে ধীরে হাত-পা শক্ত হয়ে আসে যতীনের। ফুলে ওঠে দুচোয়াল। যতীনদের বাড়ি চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বেড়ার গায়ে গোজা রয়েছে তার বাবার ধারালো রামদাখানা যেটা দিয়ে তার বাবা ঝোঁপঝাড় কাটতেন বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার জন্যে। সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি দেরী হয় না যতীনের। কয়েক লাফে রামদার কাছে পৌঁছে যায় সে। বেড়া থেকে রামদাখানা খুলে নিয়ে এক দৌড়ে মায়ের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় যতীন। এরপর এক ঝটকায় খুলে ফেলে ঘরের দরজা। ওবায়দুল্লাহ স্যার কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিন লাফে স্যারের কাছে পৌঁছে যায় যতীন। পেছন থেকে স্যারের ওপর পাগলের মত এলোপাথাড়ি রামদা চালায় সে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে চারিদিকে।  যতীনের হাতে, পায়ে, গায়ে, মুখে ছিটকে এসে পড়ে গরম তাজা রক্ত। তবু সে থামে না। মা ততক্ষণে উঠে বসেছেন। বুকের ওপর টেনে নিয়েছেন শাড়ী। যতীনকে তিনি থামানোর চেষ্টা করেন না। কেবল হু হু করে কেঁদে ওঠেন। তবে তার আজকের কান্না দুঃখের নয়, বরং তা প্রশান্তির। মুক্তির।

 

[পাদটীকা: গল্পের বিষয়বস্তু ও চরিত্রগুলো সম্পূর্ণরূপেই কাল্পনিক। রাজাকার ওবায়দুল্লাহ স্যারের ইসলামিয়াতের শিক্ষক হওয়া নিতান্তই কাকতলীয়। একাত্তরের দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতর অসংখ্য মাদ্রাসা ছাত্র, মাদ্রাসা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং সেক্যুলার স্কুলের ইসলামিয়াত ও আরবী শিক্ষার শিক্ষক ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়]

 

রচনাকাল: সেপ্টেম্বর, ২০১০

 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    [পাদটীকা: গল্পের বিষয়বস্তু ও চরিত্রগুলো সম্পূর্ণরূপেই কাল্পনিক। রাজাকার ওবায়দুল্লাহ স্যারের ইসলামিয়াতের শিক্ষক হওয়া নিতান্তই কাকতলীয়। একাত্তরের দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতর অসংখ্য মাদ্রাসা ছাত্র, মাদ্রাসা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং সেক্যুলার স্কুলের ইসলামিয়াত ও আরবী শিক্ষার শিক্ষক ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়]

    ভালো ভালো তো!!! বাংলা গল্প সাহিত্যে এই চিত্র ছাড়া আর কি পরিবেশনের আছে?

  2. 3
    মাহফুজ

    এখানে আমন্ত্রণ- 

    মহাবিশ্ব ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে-

  3. 2
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    "ক্যান্টনমেন্ট মসজিদের মাওলানা জুমার নামাজের মধ্যে ফতওয়া দিয়েছিলো যে জনসাধারণ যদি পশ্চিম পাকিস্তানীদের খুন করে তবে জান্নাতবাসী হবে। ওই হারামজাদাকে আমরা শেষ করেছি"।  মেজর বশীর, এস.ও.এস, নবম ডিভিশন, কুমিল্লা পাকিস্তান আর্মি। -- জেনোসাইড '৭১, এ্যান্থনী মাসকারেনহাস।

    মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বেশিরভাগ প্রামাণ্যচিত্রে বা লেখায় দেখানো হয় যে সংখ্যা লঘুরাই একমাত্র ক্ষতিগ্রস্থ, আর মোল্লারা সব রাজাকার, আল-বদর। অথচ মাসকারেনহাসের লেখা বই যা কি না ইতিহাস হিসেবে গৃহিত সেখানেই একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে একজন মসজিদের ইমাম বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে শহীদ হয়েছিলেন।

  4. 1
    মজলুম

    ফিলিস্তিনিরাই  ঠিক আছে। তারা পাকিস্তানকে ঘৃনা করে। জর্ডানের ফিলিস্তিনি শরনার্থী শিবিরে  পাকিস্তানের সাবেক সেনাপতি ও প্রেসিডেন্ট  জিয়াউল হক এক অভিযান চালিয়ে অনেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। ইয়াসের আরাফাতের মতে ১০ হতে ২৫ হাজারের মতো  ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে জিয়া উল হক।  আর আমরা এই মীর জাফরের উত্তরসূরিরা ৩০ লক্ষ লোক হত্যা এবং ২ লক্ষ ধর্ষনের পর ও পাকি পতাকা উড়াই ১৯৯২ এর  বিশ্বকাপ জয়ে। পাকি সাপোর্টার হয়, কয়  খেলা আর রাজনিতী মেশাই না আম্রা। পাকিস্তানিরা আমগো ভাই। কুলসন সেমাই আর সেজান জুস খাইতে মজা করে বলি  পাকিস্তানে তৈরী।

    বাকি মীর জাফরগুলা  কয় বর্ডারে ভারত কিছু বাঙ্গালি মারলে আমগো কি, আম্রাতো ভালোই আছি।আমরা তো বর্ডার হতে অনেক দূরে আছি।  বিয়ার আগে দৌড় দিয়ে ভারতে গিয়ে দামি লেহেঙা, সেলোয়ার কামিজ, গায়ক, বাদক, নর্তক নিয়ে আসি। জরিনা, কারিনারা কি শাড়ি, দোপাট্টা  পরে তা দোকানে দোকানে খোজ। করি।  জি বাংলার এপিসোড, স্টার জলসার সিরিয়াল, সনির সাত নিভায়া সাথিয়া না দেখলে এদের রাতের ঘুম হয় না। টাটার লক্কর জক্কর গাড়ি দিয়া দেশকে বাঁশ দেই।  

    এজন্যেই বলি, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুরা ইন্ডিয়া ছাইড়া সবার আগে বাংলাকে কিভাবে দখল করলো।   
    বস্তুত এই বাংলায়  মীর জাফর, জগৎ শেঠ আে রায় ভল্লভের ছড়াছড়ি। কবি নজরুল ঠিকই বলেছিলেন, এদের যেই বুট দিয়ে লাথি দেওয়া হয়, সেই বুটেই এরা চুম্মা দেয়।

    ২৫০০০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যাকারী জেনারেল জিয়াউল হক।

     

    ব্লাক সেপ্টেম্বরঃ জর্ডানে ফিলিস্তিনি গনহত্যা 

    ফিলিস্তিনিদের উপর গনহত্যার জনক পাকিস্তানি কসাই জেনারেল জিয়া উল হক

     

    হিন্দি সিরিয়ালের উপর প্রতিবেদন -- কিভাবে এরা আমাদের মা বোনদের শেষ করতেসে দেখুন ।
    দেশীয় টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি এসব সিরিয়ালের কারণে মার খাচ্ছে আমাদের কাপড় সহ অনেক শিল্প আর মার্কেট পাচ্ছে ইন্ডিয়ান সব আজাইরা মানের কাপড় ।
    আর সুনিপুনভাবে শিক্ষা দিচ্ছে কিভাবে কিশোর বয়সে প্রেম , এর পর বিয়ের পর পরকীয়া , অন্যের জমি দখল সহ যাবতীয় গ্যাঞ্জাম বাঝানোর কূট কৌশল ।

     

    সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্ট- ভারতীয় সিরিয়াল নাটকের প্রভাব, -- পর্ব-২।

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.