«

»

Dec ২৬

রাজাকার : ‘৭১ বনাম ২০১৩ এডিশন

ভারতীয় অলিখিত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি আধিপত্যকামীদের একটা স্থুল কৌশল হল _ পৌনঃপুনিকভাবে বার বার '৭১ এর ধূয়া তুলে পাকিস্তান জামাত-শিবির ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে চলমান রাষ্ট্রীয় সহিংসতার 'বর্তমানের চালচিত্র' কে আড়াল করে রাখার ধুরন্ধর এক অপকৌশল। '৭১ এর রাজাকারদের তুলনায় ২০১৩ এর রাজাকাররা অত মোটাদাগের নয়, অনেক বেশি চিকনদাগের সুক্ষবুদ্ধিসম্পন্ন ক্রিমিনাল। আগের মত মোটাদাগের অপরাধ করে ধরা খাওয়া বা জাতীয়-আন্তর্জাতিক-ঐতিহাসিকভাবে নিন্দিত হওয়ার বিপদ এড়িয়ে ধুরন্ধর ডিজিটাল কৌশলে 'সাংবিধানিক' উপায়ে রাজাকারির নিত্যনত্যুন পন্থা যেমন আবিষ্কৃত হয়ে চলেছে, তেমনি সেগুলোকে মহিমান্বিত করার প্রয়াসে সাংষ্কৃতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক বিদূষকসুলভ চাটুকারিতা একটি আলাদা লাভজনক স্বতন্ত্র শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? '৭১ এর প্রেক্ষাপটে আমি পশ্চিমা হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা অবর্ণনীয় জুলুম করেছে নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ জনগণের ওপর, মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে তো বটেই, সেই রাগ তুলতে গিয়ে যারা কোন দলের ছিল না সেই আপামর সিভিলিয়ান জনগণ তথা গোটা জাতির ওপরই শ্বাপদসুলভ রক্তলোলুপ হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। 'ভারতীয় হিন্দু' 'পাকিস্তানের দুশমন' ইত্যাদি জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ক্রমাগত দীর্ঘমেয়াদী কালোরাত্রির অদ্ভূতুড়ে আঁধারে ঘেরা অমাবস্যা।

সেই কারণে আমি একজন অতি সাধারণ, অতি নগণ্য মুসলিম হিসেবে '৭১ এর নরঘাতক জালিমদের সমর্থন করি না, করতে পারি না।

আজ এই ২০১৩ তে একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি কার পক্ষ নেব ? আজকের প্রেক্ষাপটে আমি ভারতীয় হানাদার ও তদীয় দোসরদের পক্ষ নিতে পারি না কারণ তারা '৭১ এর পশ্চিমাদের মত নগ্নভাবে না হলেও সুক্ষ কৌশলে আরো ভয়ংকরভাবে খামচে ধরেছে আমার মাতৃভূমির প্রিয় লাল-সবুজের পতাকার বুক। সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদি ভারতীয় হিন্দুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেশীয় দালালবাহিনী একে একে দেশের সম্পদ সব তুলে দিচ্ছে তাদের প্রভুর হাতে, দেশের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, মানুষের ধন-মান-প্রাণ সবই অনায়াসে কুক্ষিগত করতে সহযোগীর অক্লান্ত ভূমিকায় পালন করে চলেছে তারা। ভারত থেকে লোক এনে দেশের মানুষকে হত্যা করাচ্ছে তারা। 'জঙ্গি' 'জামাত-শিবির' জুজু দেখিয়ে সেই অজুহাতে বিরোধীদমনের নামে চলছে শহরে বন্দরে-গ্রামে গঞ্জে-মাঠে প্রান্তরে নির্বিচারে চালিয়েছে গুলি, বসতবাটি ধ্বংস-অগ্নিসংযোগ, অবিশ্রান্ত হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের ধারাবাহিকতার 'সূচনা' হতে দেখছি। সাতক্ষীরায় '৭১ এর মতই হত্যা-লুটপাট-বসতবাটিতে অগ্নিসংযোগ _ এমনকি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ৫০ জনের অধিক নারী সমভ্রম হারিয়েছেন, সমভ্রম হারানোর ভয়ে গ্রামত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক নারী।

তাহলে ২০১৩ তে জালিম কারা আর মজলুমই বা কারা সে প্রশ্ন নিজেকে কখনো করেছি ? ‘৭১ এর ব্যাপারে আমি যদি পূর্ব পাকিস্তানের আপামর মজলুম জনসাধারণের পক্ষ নিয়ে থাকি _ ২০১৩ তে এসে আমি নতুন মোড়কে প্যাকেট হয়ে আসা জালিম ভারতীয় রাজাকারদের পক্ষ নিতে যাব কেন ?

অনেকে বলেন ‘৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধাবস্থা ছিল সে কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অগণিত সিভিলিয়ান হত্যা-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ-নির্বিচারে গুলি-ধর্ষণ এসব হয়েই থাকে, সেটা যুদ্ধেরই অঙ্গ। কিন্তু এই মাটির সন্তান হয়ে যারা এই দেশমাতৃকাকে, দেশমাতৃকার সহোদর-সহোদরাদের পিশাচসুলভ নীচতায় বিদেশী হানাদারদের হাতে হত্যা-ধর্ষণের জন্য তুলে দিতে পেরেছিল _ তাদের ক্ষমা করা অতি অতি দুঃসাধ্য ব্যাপার। স্বাধীনতা পাওয়ার পর ক্ষমতা হাতে পেয়েও কেন তাদের উপযুক্ত বিচার করা হল না ? কেন তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এত সহজে ছেড়ে দেয়া হল ? ৪২ বছর ধরে রক্তবীজ থেকে বাড়তে বাড়তে বিশাল অরণ্যে রুপান্তরিত হতে দেয়ার পর এত যুগ পর এখন কেন এই প্রজন্মের ওপর এত বিশাল বিভক্তি-ধ্বংসযজ্ঞ-গৃহযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হল ? ‘৭১ ধূয়া বার বার তুলে প্রতারণাপূর্ণভাবে ২০১৩ এ এসে ভারতের সেবাদাসত্ব করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ১২টা যারা বাজাচ্ছে চোখের সামনে ভারত কর্তৃক নির্মমভাবে সবকিছু লুন্ঠিত হতে দেখেও সুশীলসমাজ এবং মানবতাবাদিরা নিশ্চুপ কেন ? কেন তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশের নৃশংস হত্যা দেখেও অন্ধের মত চোখ বন্ধ রেখে বার বার ৪২ বছর আগের অতীতের কথা নিয়ে এসে নাটকীয়তা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায় ?

আজ যেসব যুবক-কিশোর-তরুণ জামাতশিবির করছে তারা কি ‘৭১ এ রাজাকার ছিল ? তাদের তো জন্মও হয় নি সেদিন। যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর পাইকারী হারে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষনা করে, ১৯৯৬ এ জামাতের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতার স্বাদ নেয়, একমাত্র বিএনপির সাথে জামাত জোটবদ্ধ হওয়ায় ‘রাজনৈতিক’ কারণেই কি তারা অনেকাংশে জামাতের বিরোধিতা করছে না ? চেতনার হোলসেলাররা যদি আদৌ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হত তাহলে অন্যান্যদের মত তাদেরও একেকজন রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুকুরচুরি করে কেউ শতগুণ কেউ সহস্রগুণ ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি করে কিভাবে ? এই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ? তাহলে আর ১০টা চোরবাটপাড়ের সাথে তাদের পার্থক্য সূচিত হয় ঠিক কোন জায়গায় ?

আজ বাংলাদেশে ‘৭১ এর মত কোন ঘোষিত যুদ্ধাবস্থা নেই ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় সাংষ্কৃতিক-সামরিক-রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক হানাদার দস্যুদের অঘোষিত কিন্তু ভীষণভাবে পরিচালিত এই আগ্রাসনে যারা দেশীয় তাঁবেদারের ভূমিকায় নির্লজ্জভাবে অবতীর্ণ হয়ে নিজের দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে বীভৎস বিশ্বাসঘাতকের মতো দাঁড়িয়েছে _ আমার কাছে তাদের সাথে ‘৭১ এর রাজাকারদের কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য এতটুকুই যে ‘৭১ এর ঘটনা সম্পূর্ণভাবে ঘটে কালের আবর্তে মিলিয়ে গেছে, ২০১৩ এর রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতা-নির্যাতন-লুটপাট রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ছদ্মাবরণে আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।

‘৭১ আমাদের পূর্বসূরীদের অতীত _ ২০১৩ আমাদের রক্তাক্ত বর্তমান। যে সঙ্গীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘৭১ এর অপরাধী নরাধমদের বিচার দাবি করছি, সেই একই যুক্তিতে ২০১৩ এর নব্য রাজাকারদের দুঃশাসন-গুম-খুন-হত্যারও আশু প্রতিকার চায় বাংলার জনগণ। খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে হয়তো জনগণ নিজের হাতেই আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে, যেমনটি হয়েছিল ‘৭১ এ, রাষ্ট্রের কাঠামো তখন চুর চুর করে চোখের সামনে ভেঙে পড়তে থাকবে তাসের ঘরের মত, মিলিয়ে যেতে থাকবে কর্পূরের মত আমাদের সাধারণ জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিল তিল করে গড়া ৪২ বছরের অর্জন, অনিশ্চয়তার অজানা চোরাবালিতে অসহায়ভাবে তলিয়ে যেতে থাকবে আমাদের ভবিষ্যতকে ঘিরে দেখা শত স্বপ্নের স্বর্ণজাল _ কাজেই তার আগেই সচেতনভাবে জেগে উঠতে হবে বাস্তব দেশপ্রেমের মধুর জ্বালাময় কষাঘাতে _ অদেখা পূর্বসূরীদের প্রাগৈতিহাসিক গৌরবগাঁথায় নয়, নিজেদের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বর্তমানের ঘূর্ণিতে সটান যোদ্ধার মত দুঃসাহসিক আগুনের পরশমণি বুকে নিয়ে।

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 10
    sankarshan

    Islam rastro kokhonoi santi te thake na…

  2. 9
    আহমেদ শরীফ

    ঠিক আছে মেনে নিলাম ৭১’এর যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের দলই আমাদের আসল সমস্যা। চারিদকে রব উঠছে এদের নির্মূল করলেই নাকি দেশের সব সমস্যায় ম্যাজিকেল চেঞ্জ আসবে। আসুন এবার এ সমস্যরা স্থায়ী সমাধানের দিকে চোখ ফেরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নির্মুল এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ নিয়ে নতুন কোন তেনা প্যাচানোর সুযোগ নেই। বাকি রইল রাজাকারের দল। এখানে আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বয়ান আমলে না নিলে দেশদ্রোহির খাতায় নাম লেখাতে হবে। এই যেমন তিনি বলেছিলেন ‘সব রাজাকারই যুদ্ধাপরাধী নয়’…বক্ত্যবের সাথে দ্বিমত করার কারণ দেখিনা। ৭১’সালে আমাদেরর বাড়ির কাজের ছেলে গিয়াস উদ্দিন নাম লিখিয়েছিল রাজাকারের খাতায়। সে বছর সেপ্টেম্বরের দিকে তার একটা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি হতে চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর একটা হদিস করা। গিয়াস উদ্দিন গালভরা হাসি দিয়ে জানিয়েছিল চুরির ব্যপারটা তারই কাজ। তবে সে একা করেনি অপকর্মটা। সাথে জড়িত ছিল স্থানীয় রাজাকারের কমান্ডার। ডিসেম্বরের শেষ দিকে গেসুকে আটকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন। বড় ধরনের চাঁদার দাবি মেটাতে না পারার কারণে তার গলা কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় শহরের মূল চত্বরে। গেসুর মত এমন অনেক রাজাকার ছিল যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিবেচনা করা যায়না। যেমন যায়না আমাদের মূখ্যমন্ত্রীর বেয়াইকে(এই বেচারা কেন রাজাকারে নাম লিখিয়েছিল তা এখনো পরিস্কার হয়নি)… ওদের অনেকে পেটের দায়ে অথবা দাও মেরে ঝটপট মাল কামানোর উদ্দেশ্যে নাম লিখিয়েছিল শত্রু ক্যাম্পে। তর্কের খাতিরে এবং দেশের সুশিল সমাজের দাবি মেটাতে ধরে নিলাম এরাও রাষ্ট্রদ্রোহি এবং গণনির্মুলের আওতায় আনা হবে। ভুলে গেলে চলবেনা আমরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কথা বলছি। এবার আসা যাক বাকিদের প্রসঙ্গে। ধরে নিলাম ৭১’এর পরে জন্ম নেয়া জামাত-শিবিরের সদস্যরাও রাজাকার অথবা দেশকে পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহি। রাষ্ট্রদ্রোহিদের নির্মুল আইনের চোখে বৈধ। তালিকায় এদেরও নাম থাকবে।

    এভাবে খুঁজতে থাকলে সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে? অনেকে বলেন প্রায় ১ কোটি। মাদ্রাসার ছাত্র হতে শুরু করে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদেরও বাদ দেয়া যাবেনা। কারণ তারাও রাজাকার তৈরীর ফ্যাক্টরীর সক্রিয় সদস্য। এবার আসুন এদের সবাইকে সমাজ হতে আলাদা করি। দ্ধিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের সৃষ্ট কনসেনষ্ট্রেশন ক্যাম্পের আদেলে ক্যাম্প বানাই। মাসের পর মাস অনাহারের অর্ধাহারে রেখে দুর্বল করার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেই। দেশে গ্যাসের সমস্যা থাকলে কেন্দ্র (ভারত) হতে গ্যাস এনে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মারি। এভাবে একদিন দেশ হতে রাজাকার, দেশদ্রোহি, রাজাকার তৈরীর মেশিনারীজ সহ সবকিছু নির্মুল হয়ে যাবে। ১ কোটি লাশ মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকায় কবর দিতে অসুবিধা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওসামা বিন লাদেনের লাশ দাফন করায় ওবামা প্রশাসনের পথ অবলম্বন করলে কাংখিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিতে হবে এসব লাশ। হাঙ্গর, কুমির, কুকুর, বেড়াল, হিংস্র মাছের শিকার হয়ে একদিন পৃথিবী হতে মুছে যাবে এদের উপস্থিতি। সমস্যার পাকাপোক্ত সমাধান চাইলে দেশের অলিগলিতে গজিয়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা গুলোও গুড়িয়ে দিতে হবে। যারা ধার্মিক হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে তাদের জন্মনিয়ন্ত্রনের আওতায় এনে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবার আসুন কল্পনা করি এবং স্বপ্ন দেখি এমন একটা বাংলাদেশের। ধরে নেই বাংলাদেশ এখন শাহরিয়ার কবির ও গণজাগরন মঞ্চের স্বপ্নের দেশ।

     

    ব্লগার ওয়াচডগের লেখা থেকে

     

  3. 8
    আহমেদ শরীফ

    সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর সময় ভারতীয় সামরিক বাহিনী অংশ নেয়ার ব্যাপারে আগেই অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে তথ্য প্রেরণের দুই পৃষ্ঠার একটি ফ্যাক্স মেসেজ এবং একটি ইমেইল ফাঁস হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছে।

    এতে দেখা যায়, মেসেজ ও ইমেইল প্রেরক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তৌফিক ইসলাম শাতিল। আর প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অনুরোধে সাতক্ষীরাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রাজনৈতিক দমন-পীড়নে ও গণহত্যায় সক্রিয় ভাবে অংশ নেয় ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ।

    চলমান রাজনৈতিক সংঘাত দমনে ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে পাঠানো এই বার্তায় দেখা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩৩তম কোরের ১৭তম, ২০তম ও ২৭তম মাউন্টেন ডিভিশান, এবং বিএসএফ।

    চিঠিতে অভিযানে কারা অংশ নেবে, যাতায়াতের পথ কী হবে, কোথায় কোথায় অভিযান চালানো হবে তা উল্লেখ রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ভারতীয় সেনাদের অংশগ্রহণ নিয়ে এ ধরনের দলীল ফাঁস হওয়ায় ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। হাজার হাজার ব্যবহারকারী ওই তিনটি ইমেজ শেয়ার করছেন। করছেন নানা ধরনের মন্তব্য। আবার দেশের সার্বভৌমত্ব আছে কিনা এমন প্রশ্নও রাখছেন কেউ কেউ।

     

    লিংক ১

    লিংক ২

    লিংক ৩

  4. 7
    আহমেদ শরীফ

    আসলে অতিদ্রুত পটপরিবর্তন ঘটছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উপমহাদেশের নতুন মহামেরুকরণ যে অত্যাসন্ন তার পূর্বাভাসই উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পালাবদলে উত্তরোত্তর মাত্রা যোগ করে চলেছে, টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাম্প্রতিক রিপোর্ট _

     

    বাংলাদেশ ও ভারতে বসবাসকারী বাঙালিদের নিয়ে একটি আলাদা জাতিরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে চীন তাতে সমর্থন দিতে পারে- এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে। চীনের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল সোমবার প্রকাশিত নিবন্ধটিতে এ আশঙ্কা করা হয়।

    নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়, ওই গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘যদি এই উদ্যোগ সম্ভব না হয়, তাহলে বাংলাদেশের পাশে বাঙালিদের আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর ফলে ভারতের কর্তৃত্ব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে।’ এই বিভাজনপ্রক্রিয়া ঘটাতে পারলে তিব্বতের ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ফিরে পাওয়ার আশা করতে পারবে চীন, তারা এই এলাকাকে নিজেদের বলেই দাবি করে আসছে।

    ‘স্টে ইউনাইটেড’ শিরোনামের ওই নিবন্ধের লেখক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি দার্জিলিং সমস্যা নিয়ে সেখানকার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও সংসদ সদস্য যশবন্ত সিংয়ের দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নিবন্ধের সূচনা করেছেন। এতে বলা হয়, স্বাধীন ভারতে বিখ্যাত ব্যক্তিরা অনেকেই প্রায়ই এমন সব মন্তব্য করে থাকেন, যার পরিণামের বিষয়টি তাঁরা উপলব্ধি করেন না। যশবন্ত সিং দার্জিলিংকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দিল্লি ও কলকাতার প্রশাসকদের বোঝা উচিত, দার্জিলিংয়ের মানুষ কোনোভাবেই বাঙালি নয় এবং বাঙালি হিসেবে তাদের চিরকাল বাংলার সঙ্গে বেঁধে রাখা সম্ভব হবে না।’ নিবন্ধে আরো বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দার্জিলিংকে বাংলার বাইরে যেতে না দেওয়ার পদক্ষেপ সম্পর্কে যশবন্ত সিং ‘বঙ্গভঙ্গ’-এর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই শব্দটি নিয়ে বাংলার মানুষের মধ্যে অন্য এক মানসিকতা কাজ করে। লর্ড কার্জনের সময়ে এবং পরে ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের ঘটনা বাংলার বুকে এক গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে মন্তব্য করেন বিজেপির এই নেতা।

    নিবন্ধে অভিজিৎ ভট্টাচার্য লেখেন, বেশির ভাগ মানুষের স্বভাবই হলো অতীত ভুলে যাওয়া অথবা প্রয়োজনের খাতিরে উপেক্ষা করা। বিজেপি নেতার প্রস্তাবিত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গড়ার এই নকশা মূলত ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীনের। ২০০৯ সালের আগস্টে চীনের নীতিনির্ধারকদের দ্বারা পরিচালিত চীনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ নামের একটি সংগঠনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ভারতের ভেতরে থাকা ২০-৩০টি রাষ্ট্রকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মতোই স্বাধীন করে দেওয়া উচিত। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের লেখক জান লুই। আর এর শিরোনাম ছিল, ‘ইফ চায়না টেকস এ লিটল অ্যাকশন, দ্য সো-কলড গ্রেট ইন্ডিয়ান ফেডারেশন ক্যান বি ব্রোকেন আপ’

    নিবন্ধে আরো বলা হয়, চীনা লেখকের ওই প্রতিবেদনে ভারতকে ‘হিন্দু ধর্মভিত্তিক দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের ভেতর বাস করা অসমীয়া, তামিল ও কাশ্মীরিদের পাশে এশিয়ার অগ্রগতির জন্যই চীনের দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

     

    টেলিগ্রাফের মূল নিবন্ধের লিংক

     

  5. 6
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমি বার বার আমার অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে যাই, জানিনা পাঠক আমার অবস্থান বুঝতে পারেন কিনা!

    আমার বাবা বহু ত্যাগ এবং কষ্টের মাধ্যমে আমাদের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে গিয়েছিলেন। বাবা নেই তার উত্তরাধিকারী হিসাবে আমরা ভাই বোন এই বাবার রেখে যাওয়া বাড়ির বাসিন্দা, বড় ভাইয়েরা আমরা ছোটদের প্রতি সমান ব্যবহার করছেন না, আমাদেরকে প্রায় সব সময় ঠকান এমনি কি এই নিয়ে ন্যায় চাইতে গেলে তারা আমাদেরকে মারতে কসুর করেন না। এমন অবস্থায় আমরা ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ দেখা স্বাভাবিক। পাড়া প্রতিবেশী শত্রু মিত্র তাদের যার যার অসুবিধা এবং ফায়দার ভিত্তিতে তারা আমাদের ভাইদের মধ্যে কাউকে সমর্থন দিবে এবং কাউকে দিবেনা। এমন অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে হানা-হানি খুন খারাবি হয়ে যেতে পারে। পরবর্তিতে ভাগাভাগী হয়ে যার যার করে থাকতে লাগবে।

    এবার বলুন এখানে আমার বাবার কি দোষ? এবার বলুন বাবার তৈরি বাড়ির কি দোষ?

    বিবাদ করেছি আমরা, খুনা-খুনি করেছি আমরা, দোষ দায় দায়িত্ব যা বর্তায় তা বর্তাবে আমাদের উপর তাহলে দায় আমাদের উপর না চাপিয়ে আমরা কেন বাবার এবং বাবার তৈরি বাড়ির উপর দায় দায়িত্ব বর্তাবো?

    এখানে বাবা বলতে যারা পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে জড়িত ছিলেন তাদেরকে বুঝাচ্ছি, বাড়ি বলতে পাকিস্তান।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর বিভিন্ন সরকার  পূর্ব পাকিস্তানবাসীর প্রতি অন্যায় অবিচার করেছিলো সেটি সত্য তা কেউ অস্বীকার করছেনা, যেমন স্বাধীন বাংলাদেশ হবার ৪৩ হয়ে গেলেও আজো সেই রকম অন্যায় অবিচার হয়ে চলছে। আগে পশ্চিম পাকিস্তানী রেজিম করত এখন করে স্বদেশী রেজিম। এখনও অবিরাম ভাবে খুনা-খুনি চলছে কিন্তু কেউ তো ভাগাভাগি করার কথা চিন্তা করছেনা।

    এও অস্বীকার করা যাবেনা, যে ঐ পাকিস্তান আমরা সৃষ্টি করলেও ঐ পাকিস্তানে আমরা আমাদের ইচ্ছামত সরকার গঠন করতে পারতামনা। (এখনও কি আমরা পারছি?) আরো স্বীকার করতে পারিনা ৭১ সালে আমরা বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে সরকার গঠন করতে পশ্চিম পাকিস্তানীরা দেয়নি। বরং সে রায়কে অস্ত্রের মাধ্যমে বাতিল করতে গিয়েছিলো। সে কারনে বিরাট রকমের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাধে, সে যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলো, মা বোন ধর্ষিত হয়েছিলো, লোকজন বাড়িতে বিতাড়িত হয়েছিলো।

    আর এই সবের দায় ছিলো ঐ ১৯৭১ সালের পশ্চিম পাকিস্তানী রেজিম। এর দায় অবশ্য আমাদের বাবা দাদা যারা পাকিস্তান হাসিল করেছিলেন তাদের উপর বর্তাতে পারেনা, পারেনা এর দায় ৪৭ এ সৃষ্টি পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের উপর।

    কিন্তু এই প্রজন্ম এর দায় দায়িত্ব ১৯৭১ এর পাকিস্তানী রেজিমের উপর না চাপিয়ে তারা পাকিস্তান সৃষ্টির উপর চাপিয়ে যাচ্ছে। তাদের সুর আর যারা ৪৭ ভারত ভাগের বিরোধী ছিলো তাদের সুর এক হয়ে যাচ্ছে বলেই আমার মনে সন্দেহ হয়, হয়তো এই প্রজন্মের অনেক তরুণ  ভারত ভাগের বিরোধীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে, নয়তো তারা বিভ্রান্ত। কাজেই আমি যা সত্য বলে জানি তা বলে যাওয়ার চেষ্টা করে যাই, তার মানে এই নয় যে ১৯৭১ সালের সংঘটিত ঘটনাকে আমি অস্বীকার করে যাচ্ছি। ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      আহমেদ শরীফ

      হিন্দি-উর্দু ভাষায় 'বান্দরবাট' বলে একটা কথা আছে। সেই বাঁদরের পিঠা ভাগ করে দিয়ে কৌশলে চোখের সামনে নিজেই একে একে সব পিঠা খেয়ে ফেলার গল্পটা মনে আছে !

       

      পরিস্থিতি পর্যায়ক্রমে যেভাবে এগিয়ে গেছে গত কয়েক দশক ধরে, ঠিক এভাবেই ভারত ভাগাভাগির দায়িত্ব নিয়ে নিজেই সব খেয়ে ফেলার ব্যবস্থা করছে বলেই তীব্র সন্দেহ বাংলার জনগণের।

  6. 5
    শামস

    একজন নির্দলীয় ব্যক্তির অবস্থানটা কি হবে সেটা খুব ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে! স্থান, কাল, পাত্র অনুযায়ী একই মানুষগুলো নিজেদের অবস্থানকে মিলিয়ে নেয়। যারা পারে না, তারাই অতলে চলে যায়। এই বাংলাতেই প্রতিষ্ঠা পাওয়া প্রচন্ড প্রতাপশালী মুসলিম লীগের কঙ্কালটিও এই বাংলায় খুজে পাওয়া কষ্টকর! একজন মজলুম চিরদিনের জন্য মজলুম না। ইউরোপের  একসময়ের মজলুম ইহুদীরা আজ ইজরায়েলে জালিমের ভূমিকায়! তাই প্রতিটি সময়েই হিসেব কষে জালিম আর মজলুমের অবস্থান নির্ণয় করতে হয় এবং পক্ষ নিতে হয়। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে একজন মুসলিমের পক্ষ একটাই হওয়া উচিত- সেটা মজলুমের পক্ষ।

     

    1. 5.1
      আহমেদ শরীফ

      ১৯৪৭ এর অখন্ড পাকিস্তানজনিত দেশপ্রেমে যারা '৭১ এ এসেও বুঁদ এবং অটল ছিল _ আপামর জাতির সম্মিলিত আকাঙ্খার বিরুদ্ধেই যে তারা দাঁড়িয়ে গেছে সেই খেয়ালটুকু তাদের ছিল না, বা খেয়াল থাকলেও হানাদার বাহিনীর শক্তির দম্ভে সেই ন্যায্য আকাঙ্খাকে তারা অবহেলা-উপেক্ষা করেছিল, ভেবেছিল হানাদার বাহিনী সামলে ফেলবে সব। অবশেষে পাকেচক্রে কি অবস্থা হয়েছিল আমরা সবাই জানি। ধর্ম-সাম্প্রদায়িক স্বার্থরক্ষার অজুহাতে গড়া অখন্ড পাকিস্তান সম্পর্কিত মোহভঙ্গ ঘটতে দুই দশকও লাগেনি।

      আজও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। '৭১ এর চেতনার ধুয়া তুলে একদল লোক সমস্ত লুন্ঠন, হত্যা, শত অপকর্ম জায়েজ করতে চাইছে। পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার নামে জনগণের ভোটাধিকারের সম্মানকে ভুলুন্ঠিত করে পশ্চিম পাকিস্তানি ২২ পরিবারের গোষ্ঠিগত লুন্ঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে '৬৯-'৭১ এ হত্যা-সন্ত্রাসের নারকীয় ধারাবাহিকতা চালানো হয়। আজ একইভাবে ভারতীয় বণিকগোষ্ঠি ও দেশীয় দুর্বৃত্তদের লুটপাটের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে মানুষের ভোটাধিকার-মানবাধিকার-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা-গণতন্ত্র-বিচারব্যবস্থা সবকিছুকেই ভুলুন্ঠিত করে গুম-খুন-হত্যা-সন্ত্রাস রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় চালানো হচ্ছে। ঠিক '৭১ এর মত পুরোপুরি নরক ভেঙে না পড়লেও সাধারণ জনগণের কাছে মনে হচ্ছে এখনই না হলেও পরিস্থিতি ক্রমশঃ সেই চরম অবনতির দিকেই যাচ্ছে।

      '৭১ এ পশ্চিম পাকিস্তানি জালিমগোষ্ঠি ও দেশীয় তাঁবেদারদের পৌনঃপুনিক অজুহাত একটাই ছিল 'অখন্ড পাকিস্তান ও ইসলাম রক্ষা' _ এটা একটা অলীক অজুহাত কারণ পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব অর্থনৈতিক শোষণবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক-সাংষ্কৃতিক অসাযূজ্যতাজনিত সংঘাত আগ্রাসনজনিত, অথচ ইসলাম রক্ষার সাথে আদতে কোন সম্পর্ক ছিল না, পাকিস্তান মোটেই ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক কোন রাষ্ট্র ছিল না। শুধু গোষ্ঠিগত লুন্ঠনশোষণকে অক্ষুন্ন রাখার জন্যই যত অজুহাত খাড়া করা হয়েছিল।

      আজকের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জালিমগোষ্ঠি ও দেশীয় তাঁবেদারগণ যে একই ভূমিকা পালন করছে _ পৌনঃপুনিক অজুহাত ও নামতা পড়ছে ''৭১'-মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধ করে পশ্চিম পাকিস্তানিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০১৩ তে এসে ভারতের অধীনতা অর্জনে দেশকে বাধ্য করা কি ধরণের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তারাই ভাল বলতে পারবে।

      আগামী কয়েক বছরের মাঝে '৭১ এর মত অথবা তার চেয়ে আরো বেশি ভয়ংকর পরিস্থিতি উদ্ভবের অনুঘটক ইচ্ছা-অনিচ্ছায় হয়ে পড়বে সেটির আলামত দৃশ্যমান, ঘটমান বর্তমানে। সেটা অনেকে এখনও বুঝতে পারছে না। '৬৯-'৭১ এ অনেক অখন্ড পাকিস্তানপ্রেমী নিজেদের দেশপ্রেমিক ভাবত, আজ ২০১৩ তে অনেকে নিজেদের যা ভাবছে সেটিও যে অলীক ভাবনা, জনগণবিচ্ছিন্ন একটি প্রতারণা সেটি বুঝতে আরো কিছুটা সময় হয়তো প্রয়োজন। সব বিশ্বাসের দেয়াল ভেঙ্গে পড়তে সেই চুড়ান্ত মূহুর্তটির প্রয়োজন যা আসতে এখনো কিছুটা দেরি আছে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি পুরো উপমহাদেশকে যে পরিমাণ অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে তা আঞ্চলিক বিশ্বযুদ্ধের রুপ নেয়ারও সম্ভাবনা আছে।

    2. 5.2
      আহমেদ শরীফ

      শোষক আর শোষিতের কাহিনী চিরকালই এক। নীলকর সাহেব থেকে শুরু করে '৪৭ এর মুসলিম লীগ আর ২২ পরিবারসহ পশ্চিম পাকিস্তানি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠি, স্বাধীনতাপরবর্তী ৪২ বছরে ২২ হাজার পরিবারসহ নানান ইন্টারেস্ট গ্রুপ, রাজনীতি-দেশসেবার নামে লুটপাট সব কাহিনী একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

      '৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধীরাই কি অনন্তকালের জন্য বাংলাদেশ নামক দেশটির একমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী ? কখনো আর কেউই কি স্বাধীনতাবিরোধী হতে পারে না ? পাকিস্তানের তুলনায় হাজার হাজারগুণ বেশি শোষণ-অত্যাচার করার ক্ষেত্র-সুযোগ-লোকবল-পরিস্থিতি-ক্ষমতা ভারত নামক রাষ্ট্রটির রয়েছে। '৭১ এর ভূমিকায় পাকিস্তান কস্মিনকালেও আর আসতে পারবে না এটা যেমন সত্য, ভারত নামক শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি ২০১৩ সালেও '৭১ সালের ভূমিকায় অক্ষুন্ন থাকবে এধরণের দাসখতও কাউকে তারা দেয় নি। ২০১৩ র প্রেক্ষাপটে '৭১/পাকিস্তান বহু পুরনো বিগত প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস, ভারত-মুসলিমবিদ্বেষ নিষ্করুণ জ্বলন্ত বাস্তব। ৪২ বছর আগের ঐতিহাসিক কাহিনী বারবার শুনিয়ে চোখের সামনে ঘটমান ২০১৩ র আগ্রাসী ভারতের কর্মকান্ড যারা এই প্রজন্মের মানুষদের ভুলিয়ে দিতে চায় _ তারা এমন কল্পনার জগতে বাস করছে যা করুণারই যোগ্য।

      পাকিস্তানের বদলে ভারতের আধিপত্য-বশ্যতা স্বীকার করে নেয়া কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী না ? '৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধীর কাহিনী শুনিয়ে জামাত-শিবির জুজু দেখিয়ে ৪২ বছর চালাবার পর গত ৫ বছরেও ভারতীয় স্বার্থের পদতলে দেশের স্বার্থ লজ্জাজনকভাবে মূল্যহীন বিকিয়ে দিয়ে আজকের ভারতের পুরোপুরি অধীনস্থ-আজ্ঞাবহ দালালেরা যদি প্রহসনের নির্বাচন করে বেহায়ার মত গদি আঁকড়ে থেকে বিশ্বনির্লজ্জের মত নিজেদের 'স্বাধীনতার পক্ষ' হিসেবে দাবি করে _ তাহলে তাদের সমর্থন করার পেছনে কি কি যুক্তি ?

  7. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    স্বাধিনতার মানে যদি হয় নিছক একটি পতাকা লাভ এবং একটি নির্দৃষ্ট মানচিত্র। তাহলে তো এই ধরণের পতাকা এবং মাত্রচিত্র ব্রিটিশদের অধিনে থাকা ১৯০ বছরে সে ধরণের পতাকা এবং মানচিত্র আমাদের ছিলো।

    স্বাধিনতার মানে যদি হয় নিছক একটি পতাকা লাভ এবং একটি নির্দৃষ্ট মানচিত্র। তাহলে তো এই ধরণের পতাকা এবং মাত্রচিত্র পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রেরও সে ধরণের পতাকা এবং মানচিত্র ছিলো।

    তাহলে কি ছিলোনা সেই ব্রিটিশ ভারতে ? যার জন্যে আমরা ১৯০ বছর ব্রিটিশ ভারতে স্বাধিনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছিলাম?

    তাহলে কি ছিলোনা সেই পাকিস্তানে ? যার জন্যে আমরা ২৪ বছর স্বাধিনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছিলাম?

    তাহলে কিসের জন্য কোটি কোটি জনতা ঘর বাড়ি ছেড়ে এই জনপদ ঐ জনপদে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটাছুটি করতে হয়েছিলো?

    তাহলে কিসের জন্য প্রায় এক কোটি জনতা সেদিন দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো?

    তাহলে কিসের জন্য লাখ লাখ জনতা আহত নিহত এবং নারীরা ধর্ষিত হয়েছিলো

    তাহলে  কিসের জন্য আমাদেরকে ৯ মাস ব্যাপি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিলো?

    সেটি কি ছিলোনা বাচার মত বাচার জন্য ?

    সেটি কি ছিলোনা আমার ভোট আমার ইচ্ছা মত দেবার জন্য ?

    সেটি কি ছিলোনা আমার সরকার আমার ইচ্ছা মত গঠণ করার অধিকার আদায়ের জন্য ?

    সেটি কি এমন এক রাষ্ট্র গড়ার জন্য ছিলোনা, যে রাষ্ট্রে থাকবেনা অন্যায় অত্যাচার? যে রাষ্ট্রে থাকবেনা ইয়াহিয়া খানের মত সরকার যারা জবাব দিতো অস্ত্রের ভাষায়?

    ব্রিটিশরা চলে গেছে ৬৭ বছর আগে, পাকিস্তানীদের বিতারণ করেছি ৪৩ বছর আগে। তাহলে আজো ৪৩ বছর পরেও কেন আমরা সে অধরা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা?  

     

     

     

     

    1. 4.1
      আহমেদ শরীফ

      ব্রিটিশরা চলে গেছে ৬৭ বছর আগে, পাকিস্তানীদের বিতারণ করেছি ৪৩ বছর আগে। তাহলে আজো ৪৩ বছর পরেও কেন আমরা সে অধরা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা?  

       

      তার কারণ একমাত্র একটাই। ইসলাম। ইসলামের অনুপস্থিতি সর্বাঙ্গসুন্দর সমাধান কখনোই দিতে পারে না। ইসলামের দিকে যাত্রা শুরুও হয়ে গেছে। হেফাজতে ইসলামের প্রাথমিক আবির্ভাবই তার শুভ সূচনা। এতে বোঝা যাচ্ছে ইসলামপন্থিরা আসবেন। হয়তো অনেক রক্তক্ষয়ের পর। তবে আসবেন, সঙ্গে আসবে ইসলামও। হয়তো আরো বিলম্বে, আরো অনেক সংঘাত-ধ্বংসের পর। হয়তো অন্য কোন নামে, হয়তো নামহীনভাবে।

      হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী 'গাযওয়ায়ে হিন্দ' এর আলামত শুরু হয়ে গেছে। বহু রক্তক্ষয়-সংঘর্ষ অপেক্ষা করছে উপমহাদেশের মাটির জন্য। অবশেষে অবশ্যই ইসলামের বিজয় হবে আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে। উপমহাদেশের সর্বত্র উড়বে কালিমার পতাকা।

  8. 3
    সাদাত

    দুর্দান্ত।

    1. 3.1
      আহমেদ শরীফ

      ১৯৪৭ এর চেতনাকে ধারণ করে শত অবিচার-শোষণ-জুলুম সত্ত্বেও অখন্ড পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে একদল মানুষ নিজেদের দেশপ্রেমিক ধারণা করলেও আদতে ঐতিহাসিক জালিমের চেহারা ধারণ করেছিল, এখন '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ধুয়া তুলে চেতনার নাম দিয়ে একদল শত অপকর্ম-শোষন-জুলুম জায়েজ করতে চাইছে। একসময়ের দোর্দন্ডপ্রতাপশালী মুসলিম লীগের নামগন্ধ আজকের বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যায় কোথাও ?

      আগামীতে আজকের চেতনাধারী ভন্ডদের দলেরও সেই অবস্থাই হবে। পক্ষ অবলম্বন করার জন্য 'প্রজ্ঞা' ও দূরদৃষ্টির(ফিরাসাত) প্রয়োজন। সেটি যাদের নেই তারা সব যুগেই এক। '৭১ এ মুসলিম লীগাররা সারা জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের ন্যায়ের পক্ষে দেশপ্রেমিক ভেবে ভুল করেছিল _ আজ সারা জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একদল লোক নিজেদের নিয়ে একই বিভ্রান্তিতে ভুগে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এই বিভ্রান্তি একসময় কেটে যাবে, যেতে বাধ্য হবে। 

  9. 2
    Sam

    Excellent Post Brother Ahmed!

    1. 2.1
      আহমেদ শরীফ

      ধন্যবাদ পাঠ ও মন্তব্যের জন্য।

  10. 1
    নূর

    এক কথায় অসাধারন, অত্যন্ত জ্বালাময়ী একটি পোস্ট। 

    "২০১৩ তে জালিম কারা আর মজলুমই বা কারা সে প্রশ্ন নিজেকে কখনো করেছি ? ‘৭১ এর ব্যাপারে আমি যদি পূর্ব পাকিস্তানের আপামর মজলুম জনসাধারণের পক্ষ নিয়ে থাকি _ ২০১৩ তে এসে আমি নতুন মোড়কে প্যাকেট হয়ে আসা জালিম ভারতীয় রাজাকারদের পক্ষ নিতে যাব কেন?"

    কারন ? কারন আমি চেতনাধারী, ভারত আমার চেতনায়, আমার রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় মিশে আছে !!!!

    1. 1.1
      আহমেদ শরীফ

      'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' প্রসঙ্গ আসলে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের হিসেব চাইলে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      ভারতের ঘেঁটুপুত্র হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জলাঞ্জলির অনুযোগ করলে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      ইসলামবিদ্বেষী কটুক্তিকারীদের বিচারের দাবি করলে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিনা ভোটারে সংবিধান লঙ্ঘনকারী ভোট আয়োজনকে 'অসাংবিধানিক' দাবি তুললে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      সাংবিধানিকভাবে বৈধ নাগরিক অধিকার শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশ-মিছিল করতে চাইলে পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ, গুলি, প্রতিবাদ করলে _ 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র'।

      মানুষ যাবে কোথায় ! বর্তমানে মনে হয় এই দেশে জন্ম নেয়াটাই একটা অপরাধ। একদল লোক ইচ্ছামত লুটপাট করে সম্পদ কুক্ষিগত করছে, রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় একদল দূর্বৃত্ত রাজনীতিবিদদের ছদ্মবেশ ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে পোয়াবারো, রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় থাকতে পারায় রাজনীতিবিদ পরিচয় ব্যবহার করতে পারায় তাদের কেউ সরাসরি চোরডাকাত বলতে পারছে না যদিও তারা আদ্যোপান্ত চোরডাকাতই, রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় 'রাজনীতিবিদ' পরিচয়টি না থাকলে তারা নিছক চোরডাকাতই হত পুলিশে ধরে জেলে ভরত তাদের। কিন্তু 'রাজনীতিবিদ' হওয়ায় রাষ্ট্রের কর্ণধার হবার সুযোগ কোনভাবে পেয়ে যাওয়ায় পুলিশ তাদের ভয়ে কম্পমান,, 'জো হুকুম জাঁহাপনা' বলে যা হুকুম করা হচ্ছে তাই বশংবদ ভৃত্যের মত পালন করছে।

      রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় থাকলেও মূল চরিত্র যেহেতু ছিঁচকে চোরডাকাতের,, শাসনভঙ্গিও তাদের চোরডাকাতের মতই। ছোটলোক ইতর নীচবংশের লোক ক্ষমতা পেলে যেমন পাগল হয়ে যায় তেমনি পাগল হয়েছে এরাও। পুলিশও ছিঁচকে হয়ে গেছে যাকে বলা হচ্ছে অনুগত পেয়াদার মত ধরে নিয়ে আসছে, যাকে বলা হচ্ছে লাঠিয়ালের মত লাঠি মেরে আসছে, অথবা খুন করে আসছে, অথবা ভঙচুর করে আসছে। আত্মসম্মান যেমন নেই তাদের বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি ন্যূনতম সম্মানবোধও তাদের নেই। সংবিধান,, বিচারব্যবস্থা-আদালত, প্রশাসন, রাষ্ট্র-রাজনীতি,, প্রচারমাধ্যম _ এককথায় সবকিছুকে নিজেদের নষ্টভ্রষ্ট চরিত্রের মতই বানিয়ে ফেলেছে তারা, এগুলোর প্রতি ন্যূনতম আস্থা বিশ্বাস জনগণের আর নেই, এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, এইগুলোর ভগ্নদশা থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে জাতির কতদিন লাগবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা তাদের নেই। তাদের একমাত্র মাথাব্যাথা কি করে তারা 'ক্ষমতায়' থাকটে পারবে এবং লুটপাটের হরির লুট চালু রাখতে পারবে। জনগণ পরিবর্তন চাইছে ? হ্যাং ইয়োর 'জনগণ', কেড়ে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দাও জনগণের ভোটাধিকার ! ভোটেরই দরকার নেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচিত ব্যস ঝামেলা শেষ। বিরোধীদল আন্দোলন করছে ? বেছে বেছে কতগুলোকে জেলে পুরে ফ্যালো বাকি কয়টাকে খুন করে ফ্যালো, কয়েকটাকে গুম _ পাইকারি হারে গণগ্রেফতার করো, বাড়িতে হামলা চালাও বাড়ি জ্বালিয়ে দাও বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ধ্বসিয়ে দাও, মিছিল করতে নামলেই নির্বিচারে গুলি, রিমান্ডে নিলে রড দিয়ে পিটিয়ে হাড়ের জয়েন্টে জয়েন্টে ভেঙে দাও আন্দোলন ইয়ে দিয়ে বের হয়ে যাবে। যেভাবেই হোক আর কি। ইদানিং এ্যটিচ্যুড আরো মরিয়া। অবিশ্বাস্য সংখ্যক বিরোধীদলীয় কর্মী মারো যাবার পরও হত্যা-গুম কমছে না, ঠিকই হয়ে চলেছে, প্রতিদিন। এরপর আবার তারা বলছে _ "আরো কঠোর হবে সরকার।" এই সপ্তাহেই দু''জন বলেছে _ ৫ ই জানুয়ারি নির্বাচন হবার পর দুই সপ্তাহে বিরোধীদলের 'মুলোৎপাটন' করে ফেলা হবে !

      আমরা জানি সংসদীয় গণতন্ত্রে 'বিরোধীদল' এর ভূমিকা অপরিহার্য। শক্তিশালী কার্যকর বিরোধীদল না থাকলে তা সরকারি দলের স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার দরজা খুলে দেয়। সেই বিরোধীদলের মুলোৎপাটন' গণতন্ত্রের মানসসরোবর-পুত্র-কন্যারা গণতন্ত্রের ১৪ পুরুষ যেভাবে উদ্ধার করছে, যে রাজনৈতিক সংষ্কৃতির অভ্যূদয় ঘটিয়েছে তাতে প্রশ্ন জাগে _ আজ হোক কাল হোক ফ্যাসিবাদের পতন তো অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে এই দূর্বৃত্তদের কারণে ৬৫ বছরের পুরানো দলটির রাজনীতি করার কোন সুযোগ-ক্ষেত্র কি অবশিষ্ট থাকবে বলে মনে হয় ? 

Leave a Reply

Your email address will not be published.