«

»

Jun ২২

ধর্মনিরপেক্ষতার জন্মবৃত্তান্ত

আদম (আ.) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত আল্লাহ অসংখ্য নবী রসুল পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাঁরা তাদের জাতির কাছে যে জিনিসটা নিয়ে এসেছেন তা হলো তওহীদ অর্থাৎ জাতীয় এবং ব্যক্তিগত জীবনে যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের কোনো কথা আছে, আদেশ নিষেধ আছে সেখানে আর কারোটা না মানা। নবী রসুলদের মাধ্যমে আসা এই তওহীদের দাবি যখন যে জাতি মেনে নিয়েছে তখন তারা পুরস্কারস্বরূপ, ফলস্বরূপ শান্তিপূর্ণ ভারসাম্যযুক্ত সমাজ পেয়েছে। সে সমাজে কোনো অন্যায় অবিচার থাকত না, যুদ্ধ রক্তপাত থাকত না। সমাজে দেহ, আত্মার সুন্দর ভারসাম্য বিরাজ করত।
এই নবী রসুল পাঠানোর ধারাবাহিকতায় শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) এর আগমনের প্রায় ৫০০ বছর আগে আল্লাহ পাঠালেন ঈসাকে (আ.)। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল শুধুমাত্র মুসা (আ.) এর অনুসারী ইহুদি জাতির কাছে। তিনি এসেছিলেন মুসা (আ.) এর আনীত দীনকে সত্যায়ন করে শুধু মাত্র দীনের হারিয়ে যাওয়া আত্মিক ভাগটাকে যথাস্থানে ফিরিয়ে দিয়ে দীনের ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের জন্য। তিনি কখনই খ্রিষ্ট ধর্ম নামে নতুন কোনো ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান নি। তাঁর জীবনী থেকে এ কথার প্রমাণ দেওয়া যায়। ঈসা (আ.) যদি ইহুদিদের বাইরে তার দেখানো পথ অনুসরণ বা গ্রহণ করতে বলতেন তাহলে তা হতো চরম সীমালংঘন ও অনধিকার চর্চা। কারণ স্রষ্টা তাঁর কাজের সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং তা অবশ্যই শুধুমাত্র ইহুদিদের ভেতরে। কোনো নবীর পক্ষেই এই সীমারেখা অতিক্রম করা সম্ভব নয়, এবং ইতিহাস সাক্ষী যে ঈসা (আ.) তা কখনই করেন নি। একজন অ-ইহুদির শুধুমাত্র রোগ সারিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি ইতস্তত করেছিলেন। তিনি তাঁর সীমারেখার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন,

 I was sent only to the lost sheep of Israel. (Matthew 15:24) অর্থাৎ আমি শুধু মাত্র বনি ইসরাইলের পথভ্রষ্ট মেষগুলোকে পথ দেখাতে এসেছি।

তিনি যখন তাঁর প্রধান ১২ জন শিষ্যকে প্রচার কাজে বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তখন তাদের উপদেশ দিলেন,

Do not go among the Gentiles or enter any town of the Samaritans. Go rather to the lost sheep of Israel." (Matthew 10:5-6) অর্থাৎ “তোমরা অন্য জাতিগুলোর কাছে যেও না এবং সামারিয়ানদের নগরে প্রবেশ করো না। শুধুমাত্র ইসরাইলি পথভ্রষ্ট মেষগুলোর কাছে যেতে থাকবে।”

এভাবে ঈসা (আ.) যখন তাঁর প্রচার কাজ শুরু করলেন তখন সেই চিরাচরিত ব্যাপারের পুনরানুষ্ঠান আরম্ভ হয়ে গেল অর্থাৎ পূর্ববর্তী দীনের, মুসা (আ.) এর আনিত দীনের ভারসাম্যহীন বিকৃত রূপের যারা ধারক বাহক ছিলেন তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। সেই পুরোনো কারণ, আত্মম্ভরিকতা! কী? আমরা সারাজীবন ধরে বাইবেল চর্চা করলাম, এর প্রতি শব্দ নিয়ে গবেষণা করে কত রকমের ফতোয়া আবিষ্কার করলাম, এসব করে আমরা রাব্বাই, সাদ্দুসাই হয়েছি। আর এই সামান্য কাঠমিস্ত্রির ছেলে কি না আমাদের ধর্ম শেখাতে এসেছে! ঈসা (আ.) তাদেরকে বড় বড় মোজে’জাগুলো দেখানোর পরও তারা কেউই তাঁকে স্বীকার করল না। শুধুমাত্র সমাজের নিুশ্রেণীর হাতে গোনা কিছু ইহুদি তাঁর প্রতি ঈমান আনলো।
দীর্ঘ ৩ বছরের প্রচেষ্টায় মাত্র ৭২ জন মতান্তরে ১২০ জন ইহুদি তাঁর উপর ঈমান আনল ও তাঁর দেখানো পথে চলতে শুরু করল। কিন্তু বিকৃত দীনের ধারক বাহক রাব্বাই, সাদ্দুসাইরা তাদের তখনকার প্রভু রোমানদেরকে এই কথা বোঝাতে সক্ষম হলো যে, ভবিষ্যতে ঈসা (আ.) রোমানদের প্রভুত্বের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হবে। ফলে এই পুরোহিতরা রোমানদের সাহায্য নিয়ে ঈসা (আ.) কে হত্যার চূড়ান্ত ব্যবস্থা করল। তখন আল্লাহ তাকে সশরীরে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাঁর যে শিষ্য তাঁকে রোমানদের হাতে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল তার চেহারা অবিকল ঈসা (আ.) এর মত করে দিলেন। ফলে তারা তাকে ঈসা (আ.) মনে করে হত্যা করল। এই ঘটনার পর ঈসার (আ.) যে ৭২ জন অনুসারী ছিল তারা প্রাণভয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে গেল। গোপনে ব্যক্তিগতভাবে ঈসা (আ.) এর পথে চলা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় রইল না।
কিছুদিন পর পল নামের একজন লোক ঈসা (আ.) এর উপর বিশ্বাস আনলো। তবে তার পরবর্তী কাজগুলো বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে, ঈসা (আ.) এর অনুসারীদের মাঝে ঢুকে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। ঈসা (আ.) তাঁর অনুসারীদেরকে বারবার যে কাজে সাবধান করে দিয়েছিলন অর্থাৎ অ-ইহুদিদের মাঝে তাঁর শিক্ষা প্রচার করা যাবে না, কিন্তু পল তার অনুসারীদেরকে এই শিক্ষা ইহুদিদের বাইরে প্রচার করার জন্য প্রস্তাব দিলো। প্রথমত ঈসা (আ.) এর শিষ্যরা তার এই প্রস্তাবে ভয়ানক ভয় পেয়ে গেলেন। কারণ এটা সরাসরি তাদের শিক্ষকের শিক্ষার বিপরীত। কিন্তু পল তাদের মত বদলাতে সমর্থ হলেন সম্ভবত এই যুক্তিতে যে, বনি ইসরাইলিদের মধ্যে ঈসা (আ.) এর শিক্ষা প্রচার অসম্ভব, যেখানে ঈসা (আ.) নিজে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছেন সেখানে শিষ্যরা যে হতাশ হবেন তাতে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই। তাই ঈসা (আ.) এর এই শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে তারা তাঁদের শিক্ষকের সাবধানবাণীকে প্রত্যাখ্যান করে এই শিক্ষাকে বাইরে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলেন (Acts xiii, 46-47)। পল কিন্তু ঈসা (আ.) এর কাছে থেকে সরাসরি তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি, তাই তাঁর শিক্ষার আসল মর্মবাণী সে পায় নি। কিন্তু যখন ঈসা (আ.) এর শিক্ষাকে বাইরে প্রচার করা শুরু হলো তখন পল হয়ে গেলেন ঐ ধর্মের অন্যতম একজন প্রবক্তা। কাজেই তিনি যে শিক্ষা প্রচার করেছিলেন তা যে শুধু ঈসা (আ.) এর ধর্মের থেকে বহু দূরে তাই নয়, প্রধান প্রধান ব্যাপারে একেবারে বিপরীত।
এই প্রচারের ফলে অ-ইহুদিদের মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য অংশ এই শিক্ষা গ্রহণ করে পলের উপদেশ মত তাদের জীবন পরিচালনা করতে লাগল। পল তার ইচ্ছামত এই শিক্ষাকে যোগ বিয়োগ করে নতুন এক ধর্মের সৃষ্টি করল। যা মুসা (আ.) এর ধর্মও নয়, ঈসা (আ.) এর আনীত আত্মিক ভাগও নয়, পলের হাতে পড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক ধর্মই সৃষ্টি হয়ে গেল যাকে খ্রিষ্ট ধর্ম না বলে পলীয় ধর্ম বললেও ভুল হবে না। এই খ্রিষ্ট ধর্মরূপী, কার্যত পলীয় ধর্মটি ক্রমে ক্রমে সমস্ত ইউরোপে গৃহীত হয়ে গেল। তবে আসল ব্যাপারটা ঘটল তখনই। যুগে যুগে মানুষ তদের সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা করে এসেছে ধর্মের বিধান দিয়ে। ধর্মের বিকৃত পুরোহিতদের হস্তক্ষেপের ফলে ঐ ধর্মের আসল রূপ বিকৃত হয়ে গেলেও কিন্তু ঐ বিকৃত রূপকেই ধর্মের বিধান বলেই চালাতে হয়েছে।
রাষ্ট্র সর্বদাই চলেছে ধর্মীয় বিধি বিধান, আইন কানুন দ্বারা। স্বভাবতই খ্রিষ্টধর্মকে যখন সমস্ত ইউরোপ একযোগে গ্রহণ করে নিল তখন তারাও চেষ্টা করল খ্রিষ্টধর্মকে দিয়ে তাদের জাতীয় জীবন পরিচালনা করার জন্য। কিন্তু খ্রিষ্টধর্মে তো কোনো আইন কানুন, দণ্ডবিধি নেই এটা ইহুদি ধর্মের হারিয়ে যাওয়া আত্মাকে পুনঃস্থাপনের এক প্রক্রিয়ামাত্র। জাতীয় জীবন পরিচালনার জন্য যা কিছু দরকার তা ইহুদিদের কাছে অবিকৃত ছিল। কিন্তু ইহুদি ধর্ম থেকে ঈসা (আ.) এর আনিত আত্মিক ভাগকে পৃথক করে ফেলায় খ্রিষ্টধর্ম সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। তবুও ঐ চেষ্টা করা হলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই বোঝা গেল যে, এ অচল, অসম্ভব। প্রতিপদে ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক অঙ্গনে সংঘাত আরম্ভ হলো। এই সংঘাতের বি¯তৃত বিবরণে না গিয়ে শুধু এটুকু বললেই চলবে যে, এই সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইউরোপীয় নেতা, রাজাদের সামনে দুইটি মাত্র পথ খোলা রইল। হয় এই জীবনব্যবস্থা বা ধর্মকে সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। আর নইলে তাকে নির্বাসন দিতে হবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষুদ্র গণ্ডির ভেতরে। তৃতীয় আর কোনো রাস্তা রইল না। যেহেতু সমস্ত ইউরোপের মানুষকে নাস্তিক বানানো সম্ভব নয়, কাজেই তারা দ্বিতীয় পথটাকেই বেছে নিল। অষ্টম হেনরীর সময় ইংল্যাণ্ডে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মকে সার্বিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যক্তিগত জীবনে নির্বাসিত করা হয়। ইংল্যাণ্ডের পরে ক্রমে ক্রমে সমস্ত খ্রিষ্টান জগত এই নীতি গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে বাধ্য হলো। এরপর থেকে খ্রিষ্টান জগতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন দণ্ডবিধি ইত্যাদি এক কথায় জাতীয় জীবনে স্রষ্টার আর কোনো কর্তৃত্ব রইল না। জন্ম হলো ধর্মনিরপেক্ষতার।


আপাতদৃষ্টিতে এই ঘটনাটিকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও মানবজাতির ইতিহাসে এই ঘটনাটি সবচেয়ে বড় ঘটনা। এই প্রথম মানুষ তাদের জাতীয় জীবন থেকে ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মকে জাতীয় জীবন থেকে বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে নির্বাসন দেওয়ার ফলে হয়তো এ আশা করা যেত যে জাতীয় জীবনে ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড না থাকায় সেখানে যত অন্যায়ই হোক ধর্মের প্রভাবে ব্যক্তি জীবনে মানুষ ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক মূল্যবোধ পূর্ণ থাকবে। কিন্তু তাও হয় নি। কারণ মানুষের শিক্ষা ব্যবস্থার ভার রইল ঐ ধর্মনিরপেক্ষ অর্থাৎ ধর্মহীন, ন্যায়-অন্যায় বোধহীন জাতীয় ভাগটার হাতে। সুতরাং অনিবার্য ফলস্বরূপ ব্যক্তিগত জীবন থেকেও ধর্মের প্রভাব আস্তে আস্তে লুপ্ত হয়ে যেতে শুরু করল। স্রষ্টার দেয়া জীবন-বিধানে যে দেহ ও আত্মার ভারসাম্য ছিল তার অভাবে ঐ শিক্ষা ব্যবস্থায় যে মানুষ সৃষ্টি হতে লাগল তাদের শুধু একটি দিকেরই পরিচয় লাভ হলো-দেহের দিক, জড়, স্থূল দিক, স্বার্থের দিক, ভোগের দিক। জীবনের অন্য দিকটার সাথে তাদের পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সৃষ্টি করে তা জাতীয় জীবনে প্রয়োগ করার ফলে শুধু জাতীয় জীবনই অন্যায়-অত্যাচার, অশান্তি ও রক্তপাতে পূর্ণ হয়ে যায় নি, যেখানে ধর্মকে টিকে থাকার অধিকার দেয়া হয়েছিল অর্থাৎ ব্যক্তি জীবনে, সেখানেও অধিকাংশ মানুষের জীবন থেকে ধর্ম বিদায় নিয়েছে, নিতে বাধ্য হয়েছে। দেহ থেকে আত্মা পৃথক করার পরিণাম এই হয়েছে যে, মানুষের মনুষ্যত্ব লোপ পেয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব পশুর পর্যায়ে নেমে গেছে।
আমরা সমাজে প্রচলিত অন্যায় অপরাধের জন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করে থাকি কিন্তু একটু গভীরে গেলেই আমরা দেখব যে, এই সকল অশান্তির জন্য এই ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমই দায়ী। মানুষ প্রকৃতপক্ষে কাদামাটির ন্যায়। এই কাদামাটিকে যে ছাঁচ বা ডাইসের মধ্যেই ফেলা হবে, কাদামাটি সেই ডাইসের আকার ধারণ করবে। কখনও কোনো মানুষ মায়ের গর্ভ থেকে চোর হয়ে, ডাকাত হয়ে, অন্যায়কারী, দূর্নীতিবাজ হয়ে জন্ম নেয় না। কিন্তু অন্যায় সমাজব্যবস্থার প্রভাবে তারা ধীরে ধীরে এমন অপরাধী চরিত্রের হয়ে যায়। অন্যান্য জাতির মত আমরাও এমনই এক স্রষ্টা বিবর্জিত আত্মাহীন সিস্টেম গ্রহণ করেছি, যার আবশ্যম্ভাবী ফল আমরা এড়াতে পারছি না। মানুষ হয়ে যাচ্ছে আত্মাহীন জানোয়ার। এই সিস্টেমে খুব সহজেই মানুষের সদগুণাবলিকে অসদগুণাবলী দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। শত চেষ্টা করেও মানুষ ভালো হয়ে থাকতে পারছে না। সুতরাং মানুষকে মনুষ্যত্ব ফিরে পেতে হলে ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর দেওয়া ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন একমাত্র সমাধান।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    এম_আহমদ

    আমরা সমাজে প্রচলিত অন্যায় অপরাধের জন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করে থাকি কিন্তু একটু গভীরে গেলেই আমরা দেখব যে, এই সকল অশান্তির জন্য এই ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমই দায়ী। মানুষ প্রকৃতপক্ষে কাদামাটির ন্যায়। এই কাদামাটিকে যে ছাঁচ বা ডাইসের মধ্যেই ফেলা হবে, কাদামাটি সেই ডাইসের আকার ধারণ করবে।

    প্রথমত, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে প্রসঙ্গ নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। উপরের কথাগুলো বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষিতে যথার্থ। আমি এখানে আপনার উত্থাপিত সেক্যুরাজিমের ঐতিহাসিকতাকে এক পাশে রেখে সেক্যুরালিজমের সমাজ বিধ্বংসী যে বাস্তবতা গোটা বিশ্বে বিরাজমান হয়েছে সে বিষয়ে দুটি কথা বলতে যাচ্ছিল।

    আমাদের দেশের সেক্যুলার সমস্যা প্রধানত ইউরোপীয় রাষ্ট্র ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উৎসারিত। ঐপনিবেশবাদীরা তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করে এবং এরই মাধ্যমে এক শ্রেণীর আমলা তৈরি করে, এই নব্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম থেকে এবং সার্বিকভাবে ইউরোপীয় সাহিত্য পড়ে ‘ধর্ম’ বলতে যে বস্তুর ধারণা লাভ করে তারা তা’ই নিজেদের ধর্মে প্রয়োগ করতে থাকে। এখন পর্যন্ত যুবক যুবতিরা যখন ইংলিশ লিটরেচার, সমাজ বিজ্ঞান ও অপরাপর সাবজেক্ট পাঠ করতে গিয়ে ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক ও সমন্বয় যেভাবে দেখে তা নির্বিচারে নিজেদের ধর্মের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইসলামের ক্ষেত্রে, প্রয়োগ করে থাকে। তাদের কথাবার্তায় দেখা যাবে, ইউরোপের সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রের যে ঐতিহাসিকতা অতিক্রম করেছে তা যেন ইসলামের জগতের অনুরূপ। আজকের ধারণাগত বাস্তবতার পরিবর্তন কে ঘটাবে? রাষ্ট্রীয়  শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ইউরোপীয় মানসিকতায় যুগপৎ ছাত্র-ছাত্রীর মন-মগজ ধোলাই করে যাচ্ছে সেখানে দশ/বিশ জন লোক এখানে সেখানে অন্য কিছু বলে গেলে সামাজিক ধারণা পরিবর্তন হবার মত নয়। আজ আমরা  ঈমানের দায়িত্ব হিসেবে কিছু কথা বলি ও লিখি। উদ্দেশ্য শুধু এই যে ইসলামের সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্নটি যাতে প্রজন্ম পরম্পরায় ঠিকে থাকে। কিন্তু বঙ্গাল-মুল্লুকে যে কোনো পরিবর্তন আসবে সে ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী নই।  

    এক সময় মনে করতাম যে সেক্যুলার শব্দটি যদি ভিন্ন সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যায় পরিবর্তিত করে কোনোভাবে সামাজিক সমঝোতায় উপনীত হওয়া যায় তাহলে হয়ত ভাল হয়। কিন্তু এটা বুঝতে তেমন দেরি হয়নি যে নাস্তিককুল ও মুনাফিককুলের হাতে এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। ওরা মুসলমানদের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য সেক্যুলার শব্দটিতে কিছু টিঙ্কারিং করে থাকে, এই যা।  

  2. 3
    সুজন সালেহীন

    ধর্মনিরপেক্ষতার দাবী আসলে একটা ভূঁয়া দাবী! ধর্মনিরপেক্ষতা নিজেও একটা ধর্ম হতে পারে! এটা নাস্তিকতার নামান্তর। ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মপ্রাণদের অনুভূতির ক্ষু্ণ্ণ করে। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষবাদের নিরপেক্ষতা রইল কোথায়? বরং আন্তধর্মের সম্পর্ক, আচরণ কি হওয়া উচিত তা নিয়ে বলা যায়। যেমন দ্বীন ইসলামে বলা আছে অপর ধর্মের সাথে কি সম্পর্ক, আচরণ এবং অধিকার ইত্যাদি।

  3. 2
    রাকীব আল হাসান

    আমরা সমাজে প্রচলিত অন্যায় অপরাধের জন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করে থাকি কিন্তু একটু গভীরে গেলেই আমরা দেখব যে, এই সকল অশান্তির জন্য এই ধর্মনিরপেক্ষ সিস্টেমই দায়ী। মানুষ প্রকৃতপক্ষে কাদামাটির ন্যায়। এই কাদামাটিকে যে ছাঁচ বা ডাইসের মধ্যেই ফেলা হবে, কাদামাটি সেই ডাইসের আকার ধারণ করবে।

    1. 2.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      ধন্যবাদ, রাকীব আল হাসান ভাই।

  4. 1
    নির্ভীক আস্তিক

    পোষ্টটির বেশ কিছু জায়গা এলোপাতাড়ি চোখ বুলালাম, sequentially পড়ি নাই। আপনি যেহেতু ধর্ম ও ইতিহাস কে সামনে রেখে লিখছেন, সেক্ষেত্রে আপনার রচনাতে আনা দাবিগুলোর উৎস এবং তাদের authenticity গুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ রাখলাম। এর আগে এটা পড়া থেকে বিরত থাকছি।

    1. 1.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      এই লেখায় আসলে সেই অর্থে কোনোকিছু দাবি করা হয় নি। ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বিষয়গুলোকেই তুলে ধরেছি, যেগুলোর বেশিরভাগেরই রেফারেন্স প্রয়োজন পড়ে না। তবুও আমি রেফারেন্স প্রদান করতে খুব শৈথিল্য প্রদর্শন করি নি। গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোর রেফারেন্স দিয়েছি। তার বাইরেও যদি এই লেখায় আলোচিত কোনো বিষয়ে রেফারেন্স প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্দিষ্ট করে জানালে খুশি হব।  ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.