«

»

Jan ০২

ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন

আপনি অনেক ভালো বক্তা। ইসলামে অগাধ পাণ্ডিত্য। কোর’আন-হাদীসের লাইন বাই লাইন না দেখে পড়ে যেতে পারেন। আপনার কোটি কোটি ভক্ত। যুক্তিবিদ্যায় বড়ই দখল আপনার। আপনার দাওয়াত পেয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলাম গ্রহণের হিড়িক পড়ে। হাজার হাজার মানুষ আপনার কথায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হচ্ছে। এ জন্য মুসলিম বিশ্বে আপনার বিরাট নাম-ডাক।

কিন্তু ভাইজান, আপনার এই এত এত জ্ঞান, এত পাণ্ডিত্য, এত যুক্তিবিদ্যা আর এত পরিশ্রমের আলটিমেট ফলাফলটা কী হচ্ছে? অমুসলিমরা মুসলিম হচ্ছে- এ পর্যন্তই? ইউরোপে ইসলাম ধর্মের মানুষ বাড়ছে- এ পর্যন্তই? এটাই কি শেষ কথা?

পৃথিবীতে ১৫০ কোটি মানুষ মুসলমান। সংখ্যাটা খেয়াল করুন, ১৫০ কোটি! তাতে মানবজাতির কী লাভ হয়েছে? ঐ মুসলমানদেরই বা কী লাভ হয়েছে? তাদের সম্মান বেড়েছে? ইসলামের সম্মান বেড়েছে? প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েছে? না। সংখ্যার সাথে সাথে কেবল একটা জিনিসই বাড়ছে- সেটা হচ্ছে মুসলিমদের প্রতি নির্যাতন, নিপীড়ন, লাঞ্ছনা আর অপমানের মাত্রা। আজ মুসলিমদের প্রতিটি নতুন দিন আগের দিনের চেয়ে বেশি কষ্ট ও নির্মমতার বার্তা নিয়ে হাজির হয়।

পৃথিবীর ৬৫০ কোটি অমুসলিম কি খুব অশান্তিতে আছে, আর ১৫০ কোটি মুসলমান জান্নাতের বাগানে অবস্থান করছে? যদি তা না হয়, যদি দেখা যায় বাস্তব অবস্থা তার ঠিক উল্টো তাহলে আপনি এই যে এত সাধনা করে, অতুলনীয় মেধা খাটিয়ে অমুসলিমকে মুসলিম বানিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন- তার যৌক্তিকতা কোথায়?

অন্য ধর্ম পশ্চাদপদ আপনার ধর্মও পশ্চাদপদ, অন্য ধর্ম সাম্প্রদায়িক আপনার ধর্মও সাম্প্রদায়িক, অন্য ধর্ম নির্জীব আপনার ধর্মও নির্জীব, অন্য ধর্ম দুনিয়াবিমুখ আপনার ধর্মও দুনিয়াবিমুখ, অন্য ধর্ম ব্যবসার পণ্য আপনার ধর্মও ব্যবসার পণ্য, অন্য ধর্ম পুরোহিতকেন্দ্রিক আপনার ধর্মও পুরোহিতকেন্দ্রিক, তাহলে একজন অন্য ধর্মের মানুষ আপনার ধর্ম গ্রহণ করলেই কি আর না করলেই কী?

এখানেও শেষ নয়। বর্তমান বিশ্বে আপনার ধর্মের দোহাই দিয়ে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবাদ সারা পৃথিবীর মানুষকে যতটা আতঙ্কিত করে রেখেছে, আপনার ধর্ম সাম্রাজ্যবাদীদের যতটা পারপার্স সার্ভ করছে, অন্য ধর্ম কিন্তু তার কাছেধারেও নাই। অন্য ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষকে কেবল ভিন্নমতের কারণে খুন করে বেহেশতে যাবার আশা করে না, কিন্তু আপনার ধর্মে সেটা ১৩০০ বছর ধরে চলে আসছে। অন্য ধর্মের মানুষ তাদের উপাসনলায়ে বোমা মারে না, আপনার ধর্মের মানুষ প্রায়ই মারে। এমন উদাহরণের শেষ নাই।

সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে- আজকে মুসলিম বিশ্ব বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আছে নাকি পশ্চিমা বিশ্ব? নিশ্চয়ই পশ্চিমা বিশ্ব। তাহলে কেন তারা ইসলাম গ্রহণ করবে? আপনি বলবেন পারলৌকিক মুক্তির জন্য, তাই তো? কিন্তু বিশ্বনবী তো বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।’ যারা দুনিয়াতে অশান্তিতে জ্বলছে, তাদের পরকাল কি শান্তিপূর্ণ হবার কথা? আপনার যুক্তিবিদ্যা কী বলে?

ধরুন, এই মুহূর্তে আপনার কথায় মুগ্ধ হয়ে, ‘ইসলামই সেরা ধর্ম’ এর পক্ষে আপনার অকাট্য যুক্তি মেনে নিয়ে, আপনার দাওয়াত গ্রহণ করে দুনিয়ার আটশ’ কোটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে গেল। তাতে মানবজাতি আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ চলমান সমস্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে মুক্তি পাবে কি? সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার যখম শুকিয়ে যাবে কি? অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি? রাজনীতির নামে হানাহানি, রক্তারক্তি বন্ধ হবে কি? মুসলিম হবার কারণে স্বৈরশাসকরা গদি ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে যাবে কি? মানবজাতি ঐক্যবদ্ধ হবে কি? আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাহীনভাবে সামনে এগোতে পারবে কি? ধর্মব্যবসা বন্ধ হবে কি? রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে কি? মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে হুজুগ আর গুজবপ্রবণতা থেমে যাবে কি?

নির্মোহ উত্তর হচ্ছে- হবে না। কিছুই বন্ধ হবে না। আজ সারা মুসলিম বিশ্ব যেভাবে অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত, দারিদ্র, বেকারত্ব, কুসংস্কার, পশ্চাদপদতা আর ভ্রাতৃঘাতী অনৈক্য-সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে, সেই অশান্তি, রক্তপাতেরই বিশ্বায়ন হবে মাত্র। দেখা যাবে বাকি পৃথিবীর লোকেরাও কেউ শিয়া হয়ে সুন্নির মসজিদে বোমা মারবে, নয়তো সুন্নি হয়ে শিয়ার মসজিদে বোমা মারবে। 

সুতরাং এই মুহূর্তে অমুসলিমকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর দাওয়াতের চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ও বর্তমানের বিকৃত ইসলামের মধ্যে বিভেদরেখা টেনে দেওয়া। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম না- এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট সমাধানে পৌঁছনো। জাতির পতন ও পচনের কারণ চিহ্নিত করা। বিশ্বময় তাদের উপর যে গজব নেমে এসেছে তার গোড়া খুঁজে বের করা। আল্লাহ কেন এই জাতির অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন সে প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করা। তারপর জাতিকে তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা।

#এই_কাজটিই_করছে_হেযবুত_তওহীদ 

এই মুহূর্তে এই কাজ ত্যাগ করে অন্য যা কিছু করা হবে তা হবে অর্থহীন। ইসলামকে মহান প্রমাণ করতে আপনি যে শ্রম ও মেধা ব্যয় করছেন তাও অর্থহীন। একজন অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণ করাতে পেরে যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তাও অর্থহীন।

২৬ comments

Skip to comment form

  1. 18
    শামস

    আত্মসমালোচনা ভালো। আমাদের মুসলিমদের মধ্যে এই আত্মসমালোচনা কম। সে হিসেবে আপনার লেখা প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু আপনি যেভাবে আত্মসমালোচনা করেছেন, সেটা কি ইসলামী বিশ্বাস এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? সাধারণ যুক্তির আলোকেই বা তা কটটুকু সঠিক?

    তাছাড়া এমন কিছু প্রশ্ন করেছেন যেগুলো ঠিক বোধগম্য নয়, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেতো নয়ই। যেমন বলেছেন, আল্লাহ এ জাতির অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন। আল্লাহ যে অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছে, সেটা কিভাবে বুঝলেন? মুসলিম জনগোষ্ঠী বিপদে থাকলেই কি আল্লাহর অভিভাবকত্ব ত্যাগ করা বুঝায়?

    বলেছেন <>

    দুনিয়াতে অশান্তিতে থাকলে পরকালেও অশান্তিতে থাকার সম্ভাবনা বেশী, আপনার কথার টানটা সেদিকেই। আচ্ছা সেদিকে যাবার আগে, আপনার কাছে জানতে চাই, যুক্তিবিদ্যা দিয়ে কি পরকাল প্রমাণ করা যায়?

  2. 17
    মহিউদ্দিন

    দুনিয়ায় সব কিছু ছেড়ে ফকির হওয়া নয়।

  3. 16
    মহিউদ্দিন

    “দুনিয়া মু’মিনের জেলখানা ও কাফেরের জান্নাত- কীভাবে?”

    অন্যতম ইসলামী স্কলার ইমাম ইবনে হাজর আল আসক্বালানী (যিনি ৮৫২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং হদিস গ্রন্থ সহীহ আল বোখারীর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিখ্যাত ‘ফাতহুল বারী’ পুস্তকের লিখক) একদিন তাঁর বিরাট সংখ্যক ভক্তদের বহর পরিবেষ্টনে এক শহর দিয়ে যাত্রা করছিলেন। পথিমধ্যে এক দরিদ্র ও বিমর্ষ ইহুদি ইমাম ইবনে হাজর আসক্বালানীকে চিনতে পেরে প্রশ্ন করে, ” হে ইসলামের পণ্ডিত, এটা কি সত্য নয় যে নবী বলেছেন, দুনিয়া মু’মিনের জেলখানা ও কাফেরের জান্নাত ? তাহলে আমি এ ধর্মে বিশ্বাসী না আমি এ দুনিয়ায় হৃত দরিদ্র জীবন যাপন করছি আর আপনি তথাকথিত বিশ্বাসী হয়েও এভাবে মান মর্যাদা শান-সৌকত ও সম্পদ নিয়ে চলছেন, এটা কিভাবে সম্ভব?
    ইবনে হাজরের উত্তর ছিল, ” তুমি নবী (স:) যা বলেছেন বলে আমাকে বলছ তা সঠিক। তবে তুমার জানা উচিত এই প্রাচুর্য যা আমার বেলায় দেখতে পাচ্ছ তা আসলে জেল সমতুল্য যা আখেরাতে আমার জন্য অপেক্ষা করছে আর তোমার জানা উচিত তুমি এখন যে অবস্থায় আছ তা বেহেস্ত সমতুল্য আখিরাতে আল্লাহ তোমার জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছেন।”

    মূলত এ দুনিয়ার জীবনে আপনি কি করতে পারেন এবং কি করতে পারবেননা তা সীমাবদ্ধতা শরীয়াহ দ্বারা আবদ্ধ করা আছে জেলখানায় বন্দী মত। মুমিনকে তার প্রভুর সঙ্গে থাকতে চাইলে জেলখানায় বন্দী মত, তাকে নিয়ম মানতে বাধ্য এবং নৈতিকতা একটি নির্দিষ্ট কোড অনুসরন করে এ দুনিয়ায় বাস করতে হবে । এটাই হচ্ছে এ দুনিয়া কারাগার বলার অর্থ বলে আমার বিশাস। দুনিয়াকে ছেড়ে দিয়ে বৈরাগ্য হয়ে যেতে নয় বা দুনিয়ায় ফ সব কিছু ছেড়ে কির হওয়া নয়।

  4. 15
    মোহাম্মদ আসাদ আলী
  5. 14
    সাদাত

    এই লেখাটি সম্পূর্ণ পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা, পারলৌকিক চিন্তা এখানে প্রায় অনুপস্থিত। আপাতত একটি পয়েন্ট টেনে আনছি। কিন্তু বিশ্বনবী তো বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।’ যারা দুনিয়াতে অশান্তিতে জ্বলছে, তাদের পরকাল কি শান্তিপূর্ণ হবার কথা? আপনার যুক্তিবিদ্যা কী বলে? হাদিসে কি এরকম কথা বলা হয় নাই যে 'দুনিয়া মুমিনের জন্য় কয়েদখানা আর কাফেরের জন্য় জান্নাত'? যারা দুনিয়াতে অশান্তিতে জ্বলছে তাদের পরকাল শান্তিপূর্ণ হবে না, এমন কথা কুরআন-হাদিসের কোথায় আছে? এটা কি যুক্তিবিদ্যার বিষয়?

  6. 13
    সাদাত

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: আত্মসমালোচনার এই হাল!

    এখানে সমালোচনা কিসের হচ্ছে:

    অন্য ধর্ম পশ্চাদপদ আপনার ধর্মও পশ্চাদপদ, অন্য ধর্ম সাম্প্রদায়িক আপনার ধর্মও সাম্প্রদায়িক, অন্য ধর্ম নির্জীব আপনার ধর্মও নির্জীব, অন্য ধর্ম দুনিয়াবিমুখ আপনার ধর্মও দুনিয়াবিমুখ, অন্য ধর্ম ব্যবসার পণ্য আপনার ধর্মও ব্যবসার পণ্য, অন্য ধর্ম পুরোহিতকেন্দ্রিক আপনার ধর্মও পুরোহিতকেন্দ্রিক, তাহলে একজন অন্য ধর্মের মানুষ আপনার ধর্ম গ্রহণ করলেই কি আর না করলেই কী?

  7. 12
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @সাদাত

    একজন মুসলিম হিসেবে ‘আত্মসমালোচনা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষকে’ আপনি এক কাতারে ফেলে দিচ্ছেন। নাকি আমরা মুসলমানরা দুধে ধোয়া তুলশী পাতা হয়ে গেছি, আমাদের কোনো ভুল নাই, কোনো ত্রুটি নাই, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার দরকারও নাই? তবে হ্যা, যদি এই আর্টিকেলের কোথাও ইসলামকে হেয় করে বা ইসলামের অপমান হয় এমন কোনো বাক্য খুঁজে পান আমাকে অবহিত করুন। আশা করি পাবেন না।

  8. 11
    সাদাত

    লেখাটা পড়ে আসলে বুঝতে পারছিলাম না- আমি সদালাপে আছি নাকি মুক্তমনায়!

    লেখাটির ব্যাপারে সদালাপ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  9. 10
    মহিউদ্দিন

    দেখেন ভাইয়েরা, মুসলিম বিশ্ব আজ যে এক ক্রান্তি লগ্নে উপস্থিত হয়েছে, আমার বিশ্বাস, এটা সবাই স্বীকার করবেন। তবে এখন আর মুসলিম দেশ বা অমুসলিম দেশ বলে কোন স্থান নেই যেখানে মুসলিমরা নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবতে পারে। সেদিন দেখলাম বাংলাদেশের এক প্রখ্যাত আলেম বলেছেন বাংলাদেশে মুসলিম হয়ে জীবন যাপন করাটাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

    আমরা সবাই চাই এ অবস্থার অবসান হউক। কিন্তু এ জন্য যে ঐক্যের প্রয়োজন এবং সর্বাগ্রে আন্তরিকতারও তা কি মুসলিম সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে?

  10. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    গুরুত্বের প্রাইওরিটি না বোঝার কারণে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা যেন বিফলে না যায়, অর্থহীন না হয়। চোখের সামনে মানুষকে অর্থহীন কাজ করতে দেখি বলেই এবং তা দেখে প্রচণ্ড আফসোস বোধ করি

    >> এই আফশোস আমার মাঝেও কাজ করে। মুসলামানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো ইমানের বিষয়ে জ্ঞানর্জন আর অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানো। তার জন্যে মুল সূত্র হলো কোরআন। সেই কোরাআন একদল নিজেদের কাছে বাক্স বন্ধী করে নানান ধরনের মতাদর্শ প্রচার করে -- দল ভারী করে। মৌলিক বিষয় হলো শিরক থেকে মুক্ত হয়ে এক আল্লাহর দিকে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। কিন্তু বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী চর্চা হয় শিরকের -- মাজার, পীর ইত্যাদির ব্যাপক চর্চার ফলে ইসলাম এখন একটা কালচারের পরিতন হয়েছে। যতটুকু ভাল লাগে ততটুকু পালন করা আর বাকীটা মৌলবাদ। এই কঠিন বেড়াজাল থেকে বরে হওয়ার জন্যে কঠিন জেহাদ প্রয়োজন -- সেই জেহাদের মানে সমর না -- নিজের নফসের বিরুদ্ধে দাড়ানো। ইনশাআল্লাহ -- এক সময় আল্লাহ রহমত আসবে।

    আপনি আপনার লেখা চালিয়ে যান। ধন্যবাদ।

  11. 8

    হেজবুত তওহীদ তাদের এই বইয়ে দাবি করেছে তাদের দল, তাদের ইমাম মোজেজা প্রাপ্তঃ
    http://hezbuttawheed.org/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%a4%e0%a6%93%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%9f-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3/

  12. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এই মুহূর্তে এই কাজ ত্যাগ করে অন্য যা কিছু করা হবে তা হবে অর্থহীন। ইসলামকে মহান প্রমাণ করতে আপনি যে শ্রম ও মেধা ব্যয় করছেন তাও অর্থহীন। একজন অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণ করাতে পেরে যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তাও অর্থহীন।

    >> আপনার লেখাগুরৌ লক্ষ্য করেছি -- পড়লাম অনেকগুলো। পরিশ্রম করেন লেখার জন্যে -- যা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তারচেয়েও গুতু্বপূর্ন হলো আল্লাহর পথে নিজের সময় এবং মেধা বিনিয়োগ করার জন্যে আশা করা যায় আল্লাহ আপনার জন্যে উপযৃক্ত পুরষ্কারের ব্যবস্থা রাখবেন।

    তবে এবারের লেখাটা অনেকটা আক্রমনতাত্নক বটে। আপনি একটা সংগঠনের কথা বলেছেন আর বলছেন বাকী সবাই অর্থহীন কাজে লিপ্ত। এইটা একটা চরম চিন্তা।
    আমাদের উচিত চরম চিন্তা পরিত্যাগ করা।

    ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      আমার লেখাগুলো পড়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

      আসলে জাতিগতভাবে আমরা মুসলমানরা চিন্তা-চেতনার অঙ্গনে ভয়াবহ রকমের স্থবিরতায় ভুগছি। পৃথিবীময় আমাদের এত দুর্দশা- অথচ চারদিকে তাকান, কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। সবাই খাচ্ছে, দাচ্ছে, ব্যবসা, বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করছে, খেলাধুলা-বিনোদন ইত্যাদি নিয়ে মেতে আছে। অথচ তাদের মাথার উপর সাম্রাজ্যবাদী চীল-শকুন কিন্তু ঠিকই চক্কর দিয়ে বেড়াচ্ছে।

      এই সিংহভাগ অজ্ঞ ও গাফেল জনসাধারণের বাইরে আমরা অল্প কিছু মানুষ পাই যাদের চেতনা কিছুটা হলেও অবশিষ্ট আছে। তারা মুসলিমদের এই জাতীয় বির্যয়ের মুহূর্তে ইসলামের জন্য কিছু করতে চান। আমার বক্তব্য প্রাথমিকভাবে এই লোকগুলোর জন্যই। আমি/আমরা চাই এই মুষ্টিমেয় জনশক্তিটি যেন সত্যিকার অর্থেই ইসলাম ও মুসলিম জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে। গুরুত্বের প্রাইওরিটি না বোঝার কারণে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা যেন বিফলে না যায়, অর্থহীন না হয়। চোখের সামনে মানুষকে অর্থহীন কাজ করতে দেখি বলেই এবং তা দেখে প্রচণ্ড আফসোস বোধ করি বলেই হয়ত লেখার ভেতর এমন ‘চরম’ ভাষা প্রকাশ করে ফেলি। কখনও কখনও এমনটা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও ক্ষেত্রবিশেষে ইচ্ছাকৃতভাবেই এভাবে লিখি। চেষ্টা করি মাথায় শক্ত আঘাত করতে। শক্ত আঘাত ছাড়া এ ঘোর যে কাটবে না ভাই।

  13. 6
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সদালাপ কর্তৃপক্ষ:

    এই লিখায় হিজবুত তওহীদ নামে জিহাদী গ্রুপে (আমি মনে করি, জঙ্গিগোষ্ঠী) যোগদান করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। সুবিনয়ের সহিত আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার অনুরোধ করছি।

    1. 6.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      হিজবুত তাওহীদ জিহাদী গ্রুপ- এ কথার স্বপক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারবেন আপনি? ‘আমি মনে করি’ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না। যা বলতে চান তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে। হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে আপনার ন্যূনতম ধারণা নাই, অথচ আপনি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই গুরুতর অভিযোগ তুলে ফেলেছেন যা আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। সদালাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করব তো আমি। আপনি যে অভিযোগ তুলেছেন তার পক্ষে প্রমাণ হাজির করুন, হেযবুত তওহীদ কবে কোথায় কীভাবে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করেছে তার প্রমাণ দিতে না পারলে (অবশ্যই পারবেন না) এই মুহূর্তে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে আপনি যে মন্তব্যগুলো করেছেন সেগুলো ডিলিট করবেন, নয়তো সদালাপ কর্তৃপক্ষ আপনার ব্যাপারে যথাযোগ্য সিদ্ধান্ত নিবে সদালাপের প্রতি আমার সে অনুরোধ থাকবে।

      আদর্শিক জায়গা থেকে হেযবুত তওহীদের মোকাবেলা করেন, অনাপত্তি উত্থাপন করেন, হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে যা মনে হয় মতামত রাখেন, আমরা আদর্শিক জায়গা থেকে তার যৌক্তিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু এভাবে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের মত গুরুতর অভিযোগ তোলেন, তাও কোনো প্রমাণ ছাড়াই, একটি বইয়ের মাত্র বিশ পৃষ্ঠা পড়েই, এটাকে কী বলব? অন্ধত্ব? নাকি পূর্ব-বিদ্বেষের প্রকাশ?

  14. 5

    ভাই, আপনি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করে এখানে আমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন ঐ দলের ব্যাপারে বাংলাদেশের সকল হানাফী, সালাফী আলেমরা একমত যে দলটা পথভ্রষ্ট।
    আর আপনার সাইটের যেসব বই পত্র আছে ওগুলো মোটামোটি পড়া আছে। একটাতেও লজিকাল কিছু পাই নি। উলটো বায়জিদ খান পন্নীকে যে মুজিজা দান করা হয়েছে এরকম দাবীর উপর লেখা যে বইটা আছে ঐটা হাস্যকর ছাড়া কিছুই না।
    জঙ্গীবাদ দমনের নামে ইসলামে যে আপনারা পশ্চিমাদের নীতি পরোক্ষভাবে বাস্তবায়নের এজেন্ডা চালাচ্ছেন তা বলাই বাহুল্য।
    উনারদের ফেসবুকের একটি পেজ এটি। সবাই লেখাগুলা পড়ে দেখেন। তাহলেই বুঝবেন।
    https://mbasic.facebook.com/%E0%A6%9C%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B2%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%87-Ideological-War-on-Terrorism-1811250369109209/?refid=17&_ft_=top_level_post_id.1734896230163602%3Atl_objid.1734896230163602%3Athid.100009297265714%3A306061129499414%3A2%3A0%3A1485935999%3A1934877487023678483&__tn__=C

    আর সদালাপের ব্লগার যারা আছেন তারা সবাই কম বেশি এতটুকু যোগ্যতা রাখেন যে আপনাদের বই পত্র পড়ে আপনার ভ্রান্ততাগুলো দেখিয়ে দিতে পারবে।
    সুতরাং অন্যান্য স্থানে আমজনতাকে ঐক্যের কথা বলে যেভাবে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টা এখানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।

  15. 4
    Emdad

    Ei je problem lekok nijei. Tini eth meda diye ei nathi dirgoh lekhata liklen nichok onner somalochana korar jonno. Somadan kotai satic islam betic islam ke dirdaron Korbe,amra sobai jani ajker dine je jar moto kore islam ke dekchi. Kinto better hoto apni satic islam er ekto darona diya ei je somalochana kore jei triptir dekhur apni tulten!
    Ei updeshta apni apnar deshe kaje Lagan age okane satic islam ache kina Ota talash karun. Ei je bishwa estama ba dawathe tablig,r o kotho ki jamaat. Konta sotic islam egolo niye kaj korun karon apnar gore jodi satic islam na thake tha hole apni baki golor kotha bola nichok back bite hoye jabe.
    Probably u meant Dr. Zakir naik if so what’s wrong with name ?Nobody says that they are 100%right .you take initiative to identify correct islam if you could do so fine otherwise
    Brother let us stopped back biting.

  16. 3
    Shakil

    হেজবুত তওহীদ একটি ভ্রান্ত দল।
    তারা মনে করে তাদের ইমাম বায়জিদ খান পন্নী আল্লাহর মুজিজা প্রাপ্ত এবং উনার দেখানো পথই একমাত্র সঠিক। উনাদের দলগতভাবেও আরো অনেক ভ্রান্ত আক্বীদা রয়েছে। যেমনঃ উনারা মনে করেন গান বাজনা হালাল।উনাদের বইগুলোও পড়ে দেখতে পারেন। উনারা উনাদের ইমাম বায়জিদ খান পন্নীর পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করতে চায়। উনাদের নামাযের নিয়মও অনেকটা সৈনিকদের কুচকাওয়াচের মত। উনাদের দলে কোন আলেম উলামা নেই। কুরান হাদিসের ব্যাখ্যা নিজেদের মনগড়া যা পূর্ববর্তী সালাফদের বিরোধীও অনেকক্ষেত্রে।

    অনেকদিন আগেই এদের সম্পর্কে পড়েছি।
    উনাদের আক্বীদায় যথেষ্ঠ গলদ আছে। বাংলাদেশের সকল স্কলার সালাফি, হানাফি সবাই হেজবুত তওহীদের পথভ্রষ্টটার ব্যাপারে একমত।

    1. 3.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      //// ভাই, আপনি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করে এখানে আমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন ঐ দলের ব্যাপারে বাংলাদেশের সকল হানাফী, সালাফী আলেমরা একমত যে দলটা পথভ্রষ্ট।///

       কে পথভ্রষ্ট আর কে হেদায়াহপ্রাপ্ত- তা বোঝার জন্য আল্লাহর কোর’আনই যথেষ্ট। আলেমদের ফতোয়া কোনো রেফারেন্স হতে পারে না, যদি না তারা সেটা যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে পারেন। গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই জাতি পশ্চিমাদের পায়ের তলায় পিষ্ট হচ্ছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে- কথিত আলেমদের এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে ‘কাফের, গোমরাহ’ ফতোয়া প্রদান।

       ////আপনার সাইটের যেসব বই পত্র আছে ওগুলো মোটামোটি পড়া আছে। একটাতেও লজিকাল কিছু পাই নি। উলটো বায়জিদ খান পন্নীকে যে মুজিজা দান করা হয়েছে এরকম দাবীর উপর লেখা যে বইটা আছে ঐটা হাস্যকর ছাড়া কিছুই না।///

      এমামুযযামানকে মোজেজা ‘‘দান করা হয়েছে’’ এমন কথা হেযবুত তওহীদের কোন বইয়ের কত পৃষ্ঠায় লিখা আছে বলতে হবে আপনাকে। জানাবেন আশা করি। মোজেজা আল্লাহ ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটার আগে ঘুনাক্ষরেও কেউ জানত না যে, এরকম কিছু ঘটবে, এমনকি এমামুযযামানও না। সুতরাং এমামুযযামানকে আল্লাহ মোজেজা দান করেছেন- এমন দাবি আমরা করতে পারি না। নিশ্চয়ই এ ধরনের দাবি ইসলামবিরোধী। সেই সাথে কেউ এ ধরনের দাবি না করা সত্ত্বেও তাদের নাম করে তা প্রচার করাটা আরও ইসলামবিরোধী।

      ////জঙ্গীবাদ দমনের নামে ইসলামে যে আপনারা পশ্চিমাদের নীতি পরোক্ষভাবে বাস্তবায়নের এজেন্ডা চালাচ্ছেন তা বলাই বাহুল্য।////

      এখানে আপনি গল্প লিখতে বসেন নি যে, যা ইচ্ছা হয় লিখবেন। হেযবুত তওহীদ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে ইসলামের স্বার্থেই। কারণ আজ অবধি এই জঙ্গিবাদের কারণে ইসলাম যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যতটা কলঙ্কিত হয়েছে, ইসলামের এতবড় ক্ষতি অন্য কেউ করতে পারে নি, ইসলামবিদ্বেষীরাও নয়। সুতরাং ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির। পশ্চিমা নীতির কথা বলছেন? তারা চায় না জঙ্গিবাদ নির্মূল হোক। তারা জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রাখতে চায় তাদের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের স্বার্থে, ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর স্বার্থে, অস্ত্রব্যবসার স্বার্থে, মুসলিম জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার স্বার্থে। কাজেই জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে চাইলে আমাদেরকেই করতে হবে।

      1. 3.1.1

        @মোহাম্মদ আসাদ আলী:

        //কে পথভ্রষ্ট আর কে হেদায়াহপ্রাপ্ত- তা বোঝার জন্য আল্লাহর কোর’আনই যথেষ্ট। আলেমদের ফতোয়া কোনো রেফারেন্স হতে পারে না, যদি না তারা সেটা যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে পারেন। গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই জাতি পশ্চিমাদের পায়ের তলায় পিষ্ট হচ্ছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে- কথিত আলেমদের এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে //

        কুরান বুঝেন??? আপনাদের এমাম তো এরাবিকই পড়তে পারে না। সে কুরানের কি বুঝে??? আর আলেম সমাজ যথাযথ যুক্তি প্রমাণ দিয়েই প্রমাণ করেছে হেযবুত তওহীদ একটি বাতিল দল।

        //এমামুযযামানকে মোজেজা ‘‘দান করা হয়েছে’’ এমন কথা হেযবুত তওহীদের কোন বইয়ের কত পৃষ্ঠায় লিখা আছে বলতে হবে আপনাকে। জানাবেন আশা করি। মোজেজা আল্লাহ ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটার আগে ঘুনাক্ষরেও কেউ জানত না যে, এরকম কিছু ঘটবে, এমনকি এমামুযযামানও না। সুতরাং এমামুযযামানকে আল্লাহ মোজেজা দান করেছেন- এমন দাবি আমরা করতে পারি না। নিশ্চয়ই এ ধরনের দাবি ইসলামবিরোধী। সেই সাথে কেউ এ ধরনের দাবি না করা সত্ত্বেও তাদের নাম করে তা প্রচার করাটা আরও ইসলামবিরোধী।//

        এমন দাবী আপনাদের এই বইয়েই আছেঃhttp://hezbuttawheed.org/wp-content/uploads/2015/04/allahr-mojeja-hezbut-tawheed-er-bijoy-ghoshona.pdf

        //এখানে আপনি গল্প লিখতে বসেন নি যে, যা ইচ্ছা হয় লিখবেন। হেযবুত তওহীদ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে ইসলামের স্বার্থেই। কারণ আজ অবধি এই জঙ্গিবাদের কারণে ইসলাম যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যতটা কলঙ্কিত হয়েছে, ইসলামের এতবড় ক্ষতি অন্য কেউ করতে পারে নি, ইসলামবিদ্বেষীরাও নয়। সুতরাং ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির। //

        ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়ায় যদি আমেরিকা দমন পীড়ন চালায় তারা কি অস্ত্র হাতে নিবে না???? নাকি বইসা বইসা আঙ্গুল চুষবে? lol

  17. 2
    মহিউদ্দিন

    এখানে হা হতাশা ছাড়া কোন জ্ঞান ভিত্তিক কথা নাই। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামে বিশ্বাসী হলেই দুনিয়ার জীবনে অমুসলিমদের অত্যাচার থেকে নিরাপদ থাকা যাবে, এমনটা শিশুসুলভ ধারণা। দুনিয়ায় মুসলিমরা ফিতনায় বা পরীক্ষায় পড়লে বা অত্যাচারীর হাতে কষ্টভোগ করলে পরকালেও শান্তির আশা নাই –এমনটিও শিশুসুলভ। জীবনে দুঃখ কষ্টের বিষয় বুঝার জন্য পড়া-শুনা ও ধ্যান-সাধনার দরকার।
    দুনিয়াবি অনেক বিষয় খোদায়ী বিষয়ের মত নয়। কেউ যদি একটি কোম্পানিতে পরিশ্রমী হয়ে কাজ করে কিন্তু রিজাল্ট যদি মালিকের আশা ব্যঞ্জক না হয়, তাহলে তার কোন মূল্য নাই। কেউ দিবা রাত্র অনেক কষ্ট সহকারে পড়ালেখা করে কিন্তু পরীক্ষায় সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় তবে এই পরিশ্রমের কোন মূল্য নাই, সে পরীক্ষায় ফেইল করবে। তাকে কেউ ভাল ছাত্র বলবে না। এটাই এ দুনিয়ার নিয়ম। People see your result. কিন্তু আল্লাহর কাছে বিষয়টা এরকম নয়। আল্লাহতে আত্মসমর্থনকারী বান্দার সফলতা দুনিয়াবি মূল্যায়ন নির্ভর নয়। আল্লাহ মানুষের প্রচেষ্টা দেখেন। এ প্রচেষ্টার ধরন, তার নিয়্ত কি ছিল তা দেখেন। এখানে তাওহীদ ও তাকওয়া কতটুকু ছিল সেটা বিবেচনা করেন। আল্লাহর হুকুম পালনে সব সময় দুনিয়ার লাভ ক্ষতির অংক না কষে আল্লাহর ওহির মর্ম বুঝে চলাটাই হচ্ছে মুসলিমদের জীবন দর্শন। তবে তার অর্থ এ নয় যে আমরা দুনিয়াকে ছেড়ে দিব। দুনিয়ার সমাজে নেতৃত্ব নিতে হবে তাগুতি শক্তিকে পরাজিত করতে কিন্তু এতে সব সময় যে সফলতা আসবে তা নয়। তা নির্ভর করে বিভিন্ন উপাদানের সঠিক ব্যবহার, আল্লাহর উপর আস্তা ও বিশ্বাস, সঠিক কলা কৌশল ব্যবহার ইত্যাদি অনেক কিছু, সর্বোপরি আল্লাহর ইচ্ছা। মুসলিম হিসাবে এটি বিশ্বাস রাখতে হবে সব কিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা কিয়ামতের ময়দানেই হবে।

    1. 2.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      ইসলামে বিশ্বাসী হলেই দুনিয়ার জীবনে অমুসলিমদের অত্যাচার থেকে নিরাপদ থাকা যাবে, এমনটা শিশুসুলভ ধারণা।////
      .
      আমি কোথায় এমন দাবি করেছি? অমুসলিমদের অত্যাচার থেকে নিরাপদ না থাকা আর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অমুসলিমদের গোলামী করা- এই দুইয়ের মধ্যে আপনি কোনো তফাৎ দেখেন কিনা জানাবেন। আপনার উত্তর পাবার পর বাকি কথা বলব।

  18. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আসাদ ভাই, আপনি নীজে কেন প্রকৃত ইসলাম & বিকৃত ইসলামের বিভেদরেখা টেনে দিচ্ছেন না। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়, সেটা তো আপনি বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। দুনিয়ার মানুষ জানুক ইসলাম সন্ত্রাসী ধর্ম নয়। জাকির নায়েক একজন দায়ী। ইসলামের দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    প্রকৃত ইসলাম-কে দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি-টি কি? কিভাবে ISIS & উগ্র ইসলামিক গ্রুপগুলোকে বুঝাবেন “জিহাদ”-র প্রকৃত অর্থ? এরা নীজেরা নীজেদের কাফের বলে, হত্যায় লিপ্ত। আলেমদের মাঝে যে মতানৈক্য তা কেমন করে নিয়ন্ত্রনে আনবেন? আলেমসমাজ-কে কিভাবে এক করবেন? সুন্নী, শিয়া, ওহাবী, সালাফী, কাদিয়ানী, খারেজী, মাজহাবি…. সকল দল-উপদলদের কিভাবে দলবদ্ধ করবেন? হুর-পরি লোভ দেখিয়ে যারা যুব সমাজকে ব্রেইনওয়াশ করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত & বাধ্য করছে, তাদের কিভাবে শুদ্ধ করবেন?…….এই ধরনের সমস্যা উল্লেখ করে বিশাল বই লিখা যাবে।

    আপনার কাছে কি সমাধান আছে?

    1. 1.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      @তাজুল ইসলাম ভাই,

      অবশ্যই সমাধান আছে।

      সমাধান জানা আছে বলেই তো সমস্যাটাকে বোঝানোর জন্য এত তোড়জোড় আমাদের। এই লিংকে গিয়ে বইটি ডাউনলোড করুন। এটি ছাড়াও আরও অনেক বই পাবেন আমাদের এই ওয়েবসাইটে। সত্যসন্ধানী মন নিয়ে পড়বেন আশা করি।

      1. 1.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        @আসাদ ভাই,
        প্রথমেই আপনাকে শান্তির দাওয়াত দিই। ইসলাম শান্তি-কে প্রতিষ্টিত করে, কতল নয়।

        আপনার দেওয়া লিংক ডাউনলোড করে ২০ পৃষ্টা পর্যন্ত পড়েছি। হেজবুত তাওহীদ সম্পর্কে জানলাম। সংঘটন-টি ISIS-র টাইপ। ২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত শুধু উস্কানিমূলক কথাই লিখা, যা ইসলাম বিরুধী। ব্রেইনওয়াস করা পাগলামি কথাবার্তা। এইগুলা প্রকৃত ইসলামের পরিচয়?

        গুলশান হামলা এবং দুনিয়ার যুব সমাজদের ব্রেইন-ওয়াস কেমনে হয় & হইতেছে, এই বইটি একটি উদাহারন।

        1. 1.1.1.1
          মোহাম্মদ আসাদ আলী

          আপনার কমেন্ট পড়ে আমার বোঝা হয়ে গেছে, মাথার উপর দিয়ে গেছে আপনার। কিছুই বোঝেন নি আপনি। যা বুঝেছেন তা ভুল বুঝেছেন। আপনি হেযবুত তওহীদকে শান্তির দাওয়াত দিচ্ছেন, এর চেয়ে বড় জোক্স আর হয় না। হেযবুত তওহীদ সকল ধর্ম-বর্ণ-দল-মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য, মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে, নিজেদের জীবনের স্বাদ-আহ্লাদের পরোয়া না করে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, আপনি সেই হেযবুত তওহীদকেই কিনা শান্তির দাওয়াত দিচ্ছেন।

          ///ইসলাম শান্তি-কে প্রতিষ্টিত করে, কতল নয়।///

          তো? হেযবুত তওহীদ কি বলেছে নাকি যে, ইসলাম শান্তি নয়, কতল প্রতিষ্ঠিত করে? কারে কী পড়তে দিলাম! আপনি তো পুরাই উল্টা বুঝতেছেন রে ভাই। জিহাদ-কিতাল-সন্ত্রাসের পার্থক্য তুলে ধরে হেযবুত তওহীদ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের অসারতার কথা শুনিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের ইসলাম যে বিশ্বনবীর ইসলাম নয়, বিশ্বনবীর ইসলামে যে বর্তমানের মত সন্ত্রাসবাদ নাই- এ ব্যাপারে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে বোঝানোর জন্য, তাদেরকে জঙ্গিবাদের মত বিপথ থেকে ফেরানোর জন্য গত কয়েক বছরে হেযবুত তওহীদ সারা দেশে অন্তত ষাট হাজারেরও বেশি সভা, সেমিনার, জনসভা, ঘরোয়া আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি আয়োজন করেছে। আর আপনি এসব বলছেন কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published.