«

»

Feb ০১

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব ০২

সদালাপে একের পর এক হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে অপপ্রচারমূলক ব্লগপোস্ট করছেন এম আহমেদ। পূর্বে তার একটি ব্লগপোস্টে হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে ভুল ধারণা প্রদান করায় ভিন্ন আরেকটি পোস্ট দিয়ে আমি তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম (লিংক- সদালাপে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব)। অতঃপর কিছুদিন অতিবাহিত হলে আমার ঐ জবাবমূলক পোস্টটিকে কেন্দ্র করে এম আহমেদ পুনরায় আরেকটি ব্লগপোস্ট করেন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই পোস্টেও তিনি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত রাখেন, এমনকি আমরা যা কোথাও বলি নাই, এমন কথাও আমাদের নাম করে প্রচার করেন। ফলে তার সর্বশেষ ব্লগপোস্টেরও জবাব দেওয়া এবং সদালাপের নিয়মিত পাঠকরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য তাদের কাছে আমাদের প্রকৃত বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই লেখাটিতে আমি চেষ্টা করেছি হেজবুত তাওহীদ – উম্মাহ বিচ্যুত এক ভ্রষ্ট ধারা  শিরোনামে এম আহমদের ব্লগপোস্টটির যথাযথ জবাব প্রদান করে পাঠকমনের বিভ্রান্তি নিরসন করতে।

[আন্ডারলাইন করা উদ্ধৃতিগুলো সরাসরি এম আহমেদের ব্লগপোস্ট থেকে কপি-পেস্ট করা]

মোজেজা’র মাধ্যমে আল্লাহ তাকে বিশ্ব মুসলিমের ‘ইমামতি দিয়েছেন বলে দাবী করেন।

মো’জেজার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে (জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী) ইমামতির দায়িত্ব দিয়েছেন এমন কথা আমরা কোথাও বলি নাই। আমরা বলেছি মো’জেজার মাধ্যমে আল্লাহ তিনটি বিষয়ের সত্যায়ন করেছেন। বিষয় তিনটি হচ্ছে-

  1. হেযবুত তওহীদ হক্ব
  2. হেযবুত তওহীদের ইমাম হক
  3. হেযবুত তওহীদ দিয়ে সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ হেযবুত তওহীদের ইমাম যে সত্য ইমাম, তিনি যে আল্লাহর মনোনীত বান্দা, আল্লাহ সেটাই মো’জেজা ঘটিয়ে ‘জানিয়ে’ দিয়েছেন। এটা আমাদের দাবি। আমাদের বই-পুস্তকে, লেখায়, বক্তৃতায় একথা আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে থাকি। যার ইচ্ছা হয় বিশ্বাস করুক, যার ইচ্ছা হয় অবিশ্বাস করুক। লোকে কী বলবে- তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। মিরাজ থেকে ফিরে আল্লাহর রসুল যখন মিরাজের ঘটনা লোকজনকে বলতে চাইলেন তখন উম্মে হানি আপত্তি জানিয়েছিলেন, বলেছিলেন কেউ বিশ্বাস করবে না, আপনি এই কথা গোপন রাখুন। কিন্তু আল্লাহর রসুল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, তাতে কার ঈমান থাকবে, কে ইসলাম ত্যাগ করবে, কে হাসাহাসি করবে তার পরোয়া করেন নি।

এম আহমেদ ভাই হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে যেহেতু একাধিক লেখা লিখেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তাই তার প্রতি আমার একটি অনুরোধ থাকবে- আমাদের আকীদা বা আমাদের বক্তব্য কোট করার ক্ষেত্রে এমন কিছু লিখবেন না যে ব্যাপারে আপনার পক্ষে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। আপনার সামান্য অসচেতনতার কারণে মানুষের মনে একটি আন্দোলন সম্পর্কে ‘মিথ্যা ধারণা’ গেঁথে যাক- এমনটা নিশ্চয় আপনিও চান না।

 

তার বক্তব্য ইসলাম ধর্ম নাকি সমূলে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়। এই ধর্ম বিগত ১৩ শো বছর ধরে বিকৃত। 

আমি ঠিক এই আশঙ্কাই করছিলাম যে, আমি যত সহজেই আমার বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করি না কেন, অনেকের বুঝতে অসুবিধা হবে। উল্টো বোঝার লোকের অভাব নেই। সে সুযোগ যাতে কেউ না পায় সেটা মাথায় রেখে আগের পোস্টটি অনেক লম্বা করে লিখেছিলাম। কিন্তু দুঃখের সাথে খেয়াল করলাম এতগুলো পাতা পড়েও লেখক আমার আশঙ্কাকেই সত্যে পরিণত করলেন।

ইসলাম আজ থেকে ১৩০০ বছর ধরেই বিকৃত- এমন কথা আমি কোথায় বলেছি? আমি বলেছি যে, ১৩০০ বছর ধরে বিকৃত হতে হতে বর্তমানে প্রকৃত ইসলাম হারিয়ে গেছে। আর  এখন ইসলামের নামে আমরা যেটা দেখছি সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়।

 

যদিও কোরান হাদিসে মোজেজার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের নেতা বা ইমাম হওয়ার কোন দলিল নাই এবং চার খলিফার কেউই মোজেজার মাধ্যমে নিয়োজিত হন নি

প্রথমত, আল্লাহ তাঁর বান্দার মধ্যে থেকে কাউকে ইমাম হিসেবে সত্যায়ন করতে কখনই মো’জেজা ঘটাবেন না- এমন কোনো প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা কোর’আন-হাদীসে নেই। তবে যদি কারো সংগ্রহে তেমন কোনো রেফারেন্স থাকে তাহলে জানালে উপকৃত হব।

দ্বিতীয়ত, চার খলিফার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করলে হবে না। তখন একজনের পর অপরজন স্বাভাবিক নিয়মেই খলিফা হয়েছেন। বর্তমানের মত হাজার হাজার ভাগে বিভক্ত ছিল না মুসলমানরা। সুতরাং তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টভাবে কাউকে মো’জেজা ঘটিয়ে সত্যায়ন করারও দরকার ছিল না। মো’জেজার দরকার এখন।

 

উলটা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের উপর থাকার দলিল রয়েছে। . . . . আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতকে কখনো পথভ্রষ্টতায় একত্রীভূত করবেন না। আল্লাহর হাত (বৃহত্তর) মুসলিম জামাআতের উপর। যে বা যারা এত্থেকে সরে যাবে সে বা তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে (ইবন ওমর/তিরমিজি)। 

এর জবাব আমাদের বইয়েই দেওয়া আছে, লেখক হয়ত বইটি পড়েন নি। ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ বইয়ে ইমামুযযামান নিজেই লিখেছেন,

‘‘যারা ঐ দুর্বল হাদিসটি দেখিয়ে বোললেন- এই জাতি পথভ্রষ্ট হয় নি, মোমেনই আছে, মুসলিমই আছে, উম্মতে মোহাম্মদীই আছে তাদের আমি বিশ্বনবীর (সা.) ঐ হাদীসটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যেটায় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে তার উম্মাহ তেহাত্তর ভাগে ভাগ হবে যার একটিমাত্র হবে জান্নাতী, অর্থাৎ হেদায়াতে, সেরাতুল মোস্তাকীমে থাকবে, আর বাকি বাহাত্তর ভাগই হবে না’রি অর্থাৎ জাহান্নামী, হেদায়াত থেকে পথভ্রষ্ট। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার, সংখ্যালঘিষ্ঠতার কথাই আবার এসে যাচ্ছে। তেহাত্তর ভাগের বাহাত্তর ভাগ কত? শতকরা ৯৮.৬৩%। অর্থাৎ জাতির শতকরা ৯৮.৬৩ জন পথভ্রষ্ট, (প্রকৃতপক্ষে একেবারে বিপরীতগামী) জাহান্নামী এবং এর মাত্র ১.৩৭ জন জান্নাতী। শতকরা ১.৩৭ জন হেদায়াতে আছে বোলে যারা সমগ্র জাতি ‘পথভ্রষ্টতায় একত্রিত’ হয় নি বলে আত্মপ্রবঞ্চনা করবেন তাদের আর আমার বলার কিছু নেই।’’

 

এই বিশ্বের আনাচে কানাচে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন এবং  এই কাজে যেসব মুসলমানরা মেহনত করছেন –উভয়টিই বেহুদা। গোটা জিনিসটিই নাকি অযৌক্তিক! এই ধর্মান্তর স্থগিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ আগে পন্নীর ‘এমামতি’ আসতে হবে।

সত্যের সাথে মিথ্যা মিশ্রিত করে আবারও আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেন। ‘ধর্মান্তর স্থগিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়’ এই কথাটি কি আমার কথা? আমি যেটুকু বলেছি সেটুকুর ভিত্তিতেই বলুন না, নাকি ওইটুকুতে আক্রোশ মিটছে না বিধায় আমার মুখে বাক্য বসানোর এই অপচেষ্টা? আপনার এই উদ্ধৃতি দেখে মনে হচ্ছে যেন আমি অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ করানো নিয়ে খুব টেনশনে আছি, ধর্মান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলেই আমার সুখ! আমি কি ঐ পোস্টে তেমন কিছু বুঝিয়েছিলাম? যারা সত্যান্বেষী মন নিয়ে ঐ লেখাটি (লিংক এখানে) পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে, অমুসলিমকে মুসলিম বানানোতে আমার আপত্তি নাই, আমার আপত্তি হচ্ছে মুসলিমদের ‘প্রকৃত মুসলিম’ না হয়ে ‘নামধারী মুসলিম’ হয়ে থাকাতে। আমার বক্তব্য ছিল গুরুত্বের অগ্রাধিকারের প্রশ্নে। আজ আমরা হাজারো ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেরা হানাহানি করছি, শিয়া হয়ে সুন্নি মারছি বা সুন্নি হয়ে শিয়া মারছি, নিজেরাই নিজেদের কৃতকর্ম দ্বারা সারা বিশ্বে ইসলামের সুমহান আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি, স্পষ্টত আমরা নিজেরাই ইসলামে নেই, কলেমায় নেই, ঐক্যবদ্ধ নেই,  অথচ অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে আমাদের সে কি আত্মতৃপ্তি! সে কি গর্ববোধ! এই গর্ববোধ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত তা কেউ ভাবছি না। আমার লেখার ফোকাসটা ছিল এখানেই। কিন্তু আদতে যত বৃহত্তর চিন্তা থেকে আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে, ততটাই ক্ষুদ্র চিন্তা নিয়ে পড়তে গিয়ে অনেকেই বিপত্তি পাকিয়ে ফেলেছেন।

 

মুসলিম উম্মাহ মুসলিম থাকে নাই। এরা আর মুমিন জাতি নয়!! কীযে ফিতনা! লক্ষণীয়, এমন ধারণা ও বর্ণনায় কুফরি রয়েছে। 

মুসলিম উম্মাহ জাতিগতভাবে মুসলিম নেই, মু’মিন নেই- এমন ধারণায় কুফরি আছে! বাহ! এতদিন ধরে ফেতনা ফেতনা করেও আক্রোশ মিটছিল না বলে আজকে একেবারে কাফের ইঙ্গিত করে ফেললেন? হেযবুত তওহীদ আর যা-ই হোক কোনো ধারণা বা বর্ণনার কারণে কাউকে কাফের বলে নাই আজ অবধি।

 

'আমরা ফিরকা নই' বললেই ফিরকার বাস্তবতা তিরোহিত হয়ে যায় না। আন্দোলন বললেও না। কোন ‘আন্দোলন’ই কখনো এলোমেলোভাবে (haphazard) হয় না। বরং শৃঙ্খলার জন্য ‘দলগত’ রূপেই হতে হয়। আন্দোলনেই থাকে দল। পন্নীর এটা আন্দোলন হলেও ফেরকা, দল।

আপনার দুইটি চোখ আমারও দুইটি চোখ। আপনার দুইটি কান আমারও দুইটি কান। আপনারও দুইটি হাত আমারও দুইটি হাত। এভাবে মিল খুঁজতে গেলে দু’জনের মধ্যে হাজারো মিল পাওয়া যাবে। কিন্তু তবু সত্য হচ্ছে আপনি আর আমি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি। আন্দোলন আর দলের মধ্যেও তেমন বাহ্যিক কিছু মিল পাবেন। কিন্তু মৌলিক পার্থক্যটা আপনাকে বুঝতে হবে-ফেরকার জন্ম হয় বিভেদ সৃষ্টির জন্য, আর হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের জন্ম হয়েছে সারা পৃথিবীর মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য।

পৃথিবীর সকল ফেরকা চায় অন্যরা তাদের মত হয়ে যাক। শিয়ারা চায় সুন্নিরাও শিয়া হয়ে যাক, সুন্নিরা চায় শিয়ারা সুন্নি হয়ে যাক। অন্যদিকে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য হচ্ছে- যার যার ব্যক্তিগত আকীদা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ব্যক্তিগত জীবনে রেখে, ওগুলোর ভিত্তিতে বিবাদ না বাড়িয়ে, জাতীয় স্বার্থে এক আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় ন্যায় ও সত্যের পক্ষে এবং অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোক। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে- মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাই যদি আপনাদের লক্ষ্য হয়, তাহলে আপনারা আলাদা নাম দিয়ে আন্দোলন গঠন করতে গেলেন কেন? এটার কী প্রয়োজন ছিল? হ্যা, তারও জবাব আছে।

মানুষ ঐক্যবদ্ধ হোক, সমাজে শান্তি আসুক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষের পরিসমাপ্তি ঘটুক- এটা কে না চায়? দুই একজন চরম স্বার্থচিন্তার মানুষ বাদ দিলে এটা সবারই চাওয়া। কিন্তু সবাই চাইলেও বাস্তবতা হচ্ছে শান্তি আসছে না। অদূর ভবিষ্যতে শান্তি আসবে তেমন কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এই ব্যক্তিগত চাওয়ার মূল কী থাকল? আসলে ব্যক্তিগতভাবে, বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে শত প্রচেষ্টা চালিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সংঘবদ্ধ আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল কাজ হবে জাতির সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। দেখা যাবে বিচ্ছিন্ন কোটি মানুষ যা করতে পারছিল না, ঐক্যবদ্ধ হাজার মানুষ খুব সহজেই সেই কাজে সফল হচ্ছে।

একটি জাতিতে সব ধরনের মানুষ থাকে। চিন্তা-চেতনার বিকাশ সবার মধ্যে সমান নয়। কেউ নিজের প্রচেষ্টায় শেখে, কেউ দেখে শেখে, কেউ ঠেকে শেখে। বিশ্বনবী আরবদের মধ্যে যে বিস্ময়কর নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন সেই নবজাগরণে সবার কৃতীত্ব কি সমান ছিল? আবু বকরও মুসলিম ছিলেন, আবু সুফিয়ানও মুসলিম ছিলেন। ইসলামের সুমিষ্ট ফলের স্বাদ তারা দু’জনেই আস্বাদন করেছিলেন। কিন্তু একজন চারা লাগিয়ে, আহার-বিহার-ঘুম উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় ধরে গাছের পরিচর্যা করে, গাছটিকে বড় করে তুলে, তারপর ফলের স্বাদ পেয়েছেন, আর অপরজন পেয়েছেন রেডিমেড। রেডিমেড ফল এখনও পাওয়া যাবে। জাতির কোটি কোটি মানুষ ইনশা’আল্লাহ এক সময় রেডিমেড ফলই ভোগ করবে, কিন্তু তার জন্য তো  আগে থেকে একদল ঐক্যবদ্ধ মানুষের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ লাগবে, গাছের চারা রোপন করতে হবে, পরিচর্যা করতে হবে, তাই নয় কি? এই মুষ্টিমেয় নিঃস্বার্থপরায়ণ লোকগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে হবে না।  বিশৃঙ্খল হলে হবে না। নেতৃত্বহীন হলে হবে না। আর এখানেই দরকার পড়ে নেতৃত্বের, শৃঙ্খলার, ঐক্যের, জামায়াতের। এই জামায়াতকে ফেরকা অভিহিত করে উড়িয়ে দিলে জাতি যে তিমিরে ডুবে আছে, সেখানেই আটকে থাকবে, কেয়ামত পর্যন্ত ভোরের আলো দেখবে না।

রসুল (সা.) বলেন, ‘‘আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের আদেশ করেছেন। আমি তোমাদেরকে সেই পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ করছি।
(১) তোমরা ঐক্যবদ্ধ হবে
(২) (তোমাদের মধ্যবর্তী আদেশকারীর কথা) শুনবে
(৩) (আদেশকারীর হুকুম) মান্য করবে
(৪) (আল্লাহর হুকুম পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে) হেজরত করবে
(৫) আল্লাহর রাস্তায় জীবন-সম্পদ দিয়ে সংগ্রাম করবে।

যারা এই ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে যাবে, তার গলদেশ থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে যাবে যদি না সে তওবা করে ফিরে আসে। আর যে জাহেলিয়াতের কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করে তাহলে সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথরে পরিণত হবে, যদিও সে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এমন কি নিজেকে মুসলিম বলে বিশ্বাসও করে [হারিস আল আশয়ারী (রা.) থেকে আহমদ, তিরমিজি, বাব-উল-ইমারত, মেশকাত]।’’

আমার প্রশ্ন হচ্ছে- কথিত বিশ্ব মুসলিম কি বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ আছে? তারা কি নির্দিষ্ট কোনো চেইন অব কমান্ডের মধ্যে থেকে আদেশদানের অধিকারীর আদেশ ঈমানী কর্তব্য মনে করে শুনছে ও মানছে? তারা কি যাবতীয় অন্যায় ও অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে হেজরত করেছে? দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের কোনো প্রচেষ্টা আছে? সর্বোপরি, আপনি কি মনে করেন যে, এরা বিশ্বনবীর নির্দিষ্ট করে দেওয়া ঐক্যবন্ধনী থেকে ন্যূনতম এক বিঘতও দূরে সরে যায় নি?

যদি মনে করেন এই জাতি সে ঐক্যবদ্ধনীর এক বিঘত তো দূরের কথা, ধারে কাছেও নাই তাহলে হতাশ হবেন না। আল্লাহর রহমে হেযবুত তওহীদ এই জাতিকে পুনরায় আল্লাহ-রসুলের নির্দিষ্ট করে দেওয়া পাঁচ দফার দিকে আহ্বান জানাচ্ছে। আর সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে সত্যনিষ্ঠ মানুষরা দলে দলে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে একজন নেতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, নেতার আদেশ শুনছে, আসমাউ ওয়া আত্তাবিয়্যু বলে সে আদেশ পালন করছে, যাবতীয় আল্লাহবিরোধী অপকর্ম থেকে হেজরত করছে এবং আল্লাহর রাস্তায় অর্থাৎ মানবতার কল্যাণে, মানবজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এটা কীভাবে হয় যে এই বিশ্বের বড় বড় আলেম পন্নীর পিছনে গিয়ে দাঁড়াবে? সে কে? হায়, জগত! কী বিস্ময়কর এই বিভ্রান্তি!

এতক্ষণে আরিন্দম কহিলা বিষাদে! আসলে এই কথার কোনো জবাব নাই ভাই। এইটা কোনো যুক্তি না যে খণ্ডন করব, কোনো দলিল না যে ভুল প্রমাণ করব। যুগে যুগে নবী-রসুলদেরকেও এই ধরনের উদ্ভট কথাবার্তা শুনতে হয়েছে, আর আমরা কোন ছার? শুধু এটুকু বলি, ঐ বড় বড় আলেম সাহেবরা যদি প্রকৃত ইসলামকে অনুধাবন করতে পারতেন, তাদের এলেম যদি সত্যিই জাতির কোনো উপকারে লাগত তাহলে পৃথিবীময় মুসলিম জাতিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গোলামী করতে হত না, আর বর্তমানের মত সমূলে ধ্বংস হবার মত অবস্থাও সৃষ্টি হত না, আর জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকেও ঈমানী দায়িত্ববোধ থেকে আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে অকর্মণ্যদের নানামুখী বিদ্রূপ, গালাগালি হজম করতে হত না।

 

আমাদের কথা ছিল লেখকের “আমরা” শব্দের ব্যবহার সঠিক হয় নি। কেননা “আমরা” (মুসলমানরা) পন্নীর ফিতনায় নেই এবং পন্নীর দৃষ্টিতে আমরা ‘বিকৃত’ ইসলামের লোক।

‘আমরা’ শব্দের ব্যবহার অবশ্যই সঠিক আছে। একটি হাদীসে রসুল (সা.) বলেন, ‘‘আমার উম্মাহ তিহাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে, তাদের বাহাত্তর ফেরকাই আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।’ এই যে বাহাত্তর ফেরকা আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে বললেন, তারা কি বিশ্বনবীর প্রকৃত উম্মাহ? কখনোই নয়। কিন্তু তবু তিনি বলার ক্ষেত্রে ‘আমার উম্মাহ’ বলেছেন। সুতরাং বর্তমানের এই মুসলিম নামধারী জাতিটি পথভ্রষ্ট হোক আর যাই হোক, প্রকৃত ইসলামে থাকুক বা বিকৃত ইসলামে থাকুক, তারা আমাদেরই জাতি। তাদেরকে সংশোধন করার জন্যই তো আমাদের এত প্রয়াস।

 

আমরা পন্নীকে, আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে, সত্যবাদী মনে করি না এবং, ‘এমাম’ তো দূরে থাক, তাকে ধর্মজ্ঞানশুন্য ফিতনা মনে করি। 

আপনি আপনার ধারণ করা ধর্মীয় জ্ঞান দিয়ে এমামুযযামানকে মাপতে থাকুন, ইচ্ছা হলে ইমাম বলে স্বীকার করুন, ইচ্ছা না হলে অস্বীকার করুন। আমাদের কোনো আপত্তি নাই। রবং এ ক্ষেত্রে যদি কোনো কিছু জানার দরকার পড়ে, কোনো তথ্য-উপাত্তের দরকার পড়ে আমাদেরকে জানালে আমরা আপনাকে সহযোগিতা করব ইনশা’আল্লাহ।

 

আধুনিক বিশ্বের অস্ত্রবাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত কোন মুসলিম পেলেই অভিজিত যেভাবে ‘বিশ্বাসের ভায়ারাস’ প্রতিষ্ঠিত বলে প্রোপাগান্ডা করত, মুসলিমদের উপর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চাপাত, ঠিক তেমনি পন্নীর ধর্মে ধর্মান্তরিতরাও সেই একইভাবে, একই বস্তুকে সামনে এনে  “এই এছলাম সেই এছলাম নয়” বলে শোরগোল তোলে এবং সন্ত্রাস/জঙ্গিবাদও প্রক্ষেপণ করে। উপমার স্থান এখানে। উভয় দলই ইসলামের ইতিহাসকে ভুল অর্থে ব্যাখ্যা করে।

জঙ্গিবাদের সাথে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের অস্ত্রবাণিজ্যের, তেল-গ্যাসের দখলদারিত্বের, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের অপরাজনীতি জড়িত- এ সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাত নই। কিন্তু এটাও তো সত্য যে, মুরগী শেয়ালের ধরা ছোয়ার মধ্যে চলে গেলে ‘লোকে কি বলবে’ এই চিন্তা করে শেয়াল মুরগীকে ছেড়ে দিবে না। মুসলিম জাতির কাছে যদি ইসলামের প্রকৃত আকীদা (সম্যক ধারণা) পরিষ্কার থাকত, তাহলে ঐ সাম্রাজ্যবাদীরা এইসব ষড়যন্ত্রের জাল বুনে সুবিধা করতে পারত না। শুধু পশ্চিমারা কেন, এই জাতির সদস্যদের সরল ঈমানকে ব্যবহার করে এদের মধ্যেই একটি শ্রেণি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ বিবিধ স্বার্থ হাসিল করছে। মানুষের ঈমানকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ এদের ঈমানের তো কোনো মা-বাপ নাই, অরক্ষিত ঈমান। ইসলাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্থাৎ আকীদা পরিষ্কার না থাকায় এই জাতির অবস্থা হয়েছে ঐ অন্ধ লোকগুলোর হাতি দর্শনের ঘটনার মত। কেউ হাতির লেজ ধরে মনে করছে হাতি রশির মত। কেউ কান ধরে মনে করছে হাতি কুলার মত। কেউ পা ধরে মনে করছে হাতি খাম্বার মত। এই সুযোগে যে যা ইচ্ছা এদেরকে ধরাচ্ছে আর ইসলামের দোহাই দিয়ে মানবতার ক্ষতি হয়, ইসলামের ক্ষতি হয় এমন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। হেযবুত তওহীদের এমামের লেখা ‘ধর্মব্যবসায়ী ও পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের যোগফল- জঙ্গিবাদ/ উত্তরণের একমাত্র পথ’ এই বইটি (ডাউনলোড লিংক এখানে) পড়লে এ বিষয়ে যে কেউ পরিষ্কার ধারণা লাভ করবে।

 

যদি “বিদ্বেষকে” এখানে সংযুক্তিতে টানা হয়, তবে পন্নীর দলকে সহজেই বিশ্ব মুসলিম বিদ্বেষী দেখানো যেতে পারে। 

সন্তান যখন অন্যায় করে বাবা/মা ধমক দেন, কড়া ভাষায় কথা বলেন, প্রয়োজনে প্রহার করেন। তার অর্থ এই নয় যে, ঐ বাবা/মা সন্তানবিদ্বেষী।

 

কিন্তু সবাই তো “চুপ” থাকার মত নয়। পন্নীর নিজ বাড়ীর মসজিদের ইমাম পন্নীকে “দাজ্জাল” বলেছেন। তিনি পন্নীর বিষয় আঁচ করতে পেরে ‘দাজ্জালের এই দল’ থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু পন্নীবাদীরা এটাকে “ন্যায় ও সত্য ছেড়ে দেয়া” হিসেবে উল্লেখ করে।

আবু লাহাবও বিশ্বনবীর বাড়ির লোক ছিল। বাড়ির লোক হলেই সত্য বুঝে যাবে এমন কথার ভিত্তি নাই।

 

এতক্ষণ পর্যন্ত, পন্নীদের ১২ পৃষ্ঠা অতিক্রম করে আসলেও, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আক্রোশ ও অপপ্রচার না দেখলেও অনেক দাম্ভিকতা ও রূঢ় শাসন দেখতে পেয়েছি।

দাম্ভিকতা: কাউকে ফেতনা সৃষ্টি করতে নিষেধ করার অধিকার আমার আছে। আর কাউকে অন্যায় করতে দেখলে কীভাবে তার প্রতিবাদ/প্রতিরোধ করতে হবে সেটা বিশ্বনবীই বলে গেছেন। লেখকের কাছে আমার সহজ কথাটি দাম্ভিকতা মনে হচ্ছে কেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

অপপ্রচার: অপপ্রচার যে তিনি করেছেন তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে পাঠকদের বোঝার বাকি নেই। আমি তার প্রমাণ দিয়েছি ইতোমধ্যেই।

আক্রোশ: গত লেখার একজায়গায় আমি ‘অন্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম, তাও কোনো ব্যক্তিকে সম্বোধন করে নয়। পরে এই শব্দটির ব্যাপারে আপত্তি ওঠায় বাক্যটিই কেটে ফেলেছিলাম। অন্যদিকে এম আহমেদ কখনই কোনো আক্রোশ দেখাননি বলে যে ভিত্তিহীন দাবিটি করলেন সেটার সত্যতা যাচাই করা যাক। নিচের এই শব্দগুলো আলোচ্য ব্লগপোস্টে এক বা একাধিকবার তার পবিত্র উদারপন্থী হস্ত থেকে উৎসারিত হয়েছে-

‘‘পন্নী সাহেবের অল্প বিদ্যার আন্দোলন, নাদানি যুক্তি, এই ধরণের বালখিল্য, শিশুসুলভ, ধর্মজ্ঞানহীন, পন্নী বিভ্রান্তির প্রচারণা, গোটা বয়ান হচ্ছে আবালের ইতিহাস দর্শন, আনাড়িদের যুক্তিচর্চা, পন্নীবাদের ভুল পাঠ, বালখিল্য, গাভীর প্রস্রাবে ভাসমান পাতায় উপবিষ্ট কীটের সামুদ্রিক নাবিকবিদ্যা (navigation)! শয়তাদের ফাঁদ, অজ্ঞ-মূর্খতা, আবালদের সংজ্ঞা দান, বেকুব, স্থূলদর্শীতার অতি নিম্ন মাত্রা’’

এই শব্দগুলো যিনি নিজ হাতে প্রয়োগ করেছেন সেই তিনিই যখন আমার বিরুদ্ধে দাম্ভিকতা ও রূঢ় আচরনের অভিযোগ তোলেন তখন বিস্মিত না হয়ে পারি না।

৩২ comments

Skip to comment form

  1. 32
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সত্য সন্ধানী -- আমার মন্তব্যে বলেছি জামায়াত কাগজে কলমে শুদ্ধ আকিদা অনুসরন করে। সুতরাং শিরকের প্রশ্নই আসে না।

    তবে তাদের কর্মকান্ড সব সময়ই স্বাক্ষ্য দেয় যে ওরা নিজরাই নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না। ফিতনা শুধু মাত্র শিরক করার বিষয় না -- ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে জামায়াত তাই করেছে। এরা বিশ্বাস করেছে -- "পাকিস্তান আল্লাহর ঘর" -- যদিও এই বিষয়ের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই -- কিন্তু জামায়াত পাকিস্তান নামক একটা ভুখন্ডকে মসজিদ অথবা বাইতুল্লাহর সমতুল্য করে তা রক্ষার জন্যে জীবন দিতে আহ্বান করেছে -- এবং নিহতদের শহীদ ঘোষনা করেছে কোন রকমের বিবেচনা ছাড়াই। এই ধরনের ফিতনার কথাতো আমরা ইদানিং কালেও দেখেছে -- সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে প্রচারনা চালিয়ে দাঙ্গা ফ্যাসাদ তৈরী করার সময় সরল মনা ধর্মিকরা তা বিশ্বাস করে ইসলাম রক্ষার জন্যে খুন-অগ্নিসযোগের মতো ফ্যাসাদ তৈরী করেছে। এই ফিতনার দায় কি হিজবুত তাওহীদের চেয়ে কম?

    আল্লাহ আমাদের সবার বুঝার ক্ষমতা দান করুন।

     

  2. 31
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী ধন্যবাদ। বোধ হয় আপনার কথা বুঝতে পারছি। আমি জানতে চাইনি হিজবুত তাওহিদ কি করে -- আপনি সুযোগ পেয়ে হিজুবুত তাওহীদের একটু প্রচারনা করে নিলেন। হিজুবুত তাওহীদ কি করে তার দায় তাদেরই বহন করতে হবে -- সেই বিষয়ে আমার কোন দায় নেই -- কথাটা বুঝতে পারেন কি না।

    যাই হোক -- আপনার ইমামকে ইমাম না মানলেও আমি মুসলিম থাকছি -- এটাই আসল কথা।

    তাহলে প্রশ্ন আসে -- কেন আমি একজন মানুষকে ইমাম মানবো! এইটা আপনার জন্যে প্রশ্ন না -- আমার জন্যে প্রশ্ন -- সুতরাং উত্তর দেওয়ার সুযোগে আপনার ইমামকে সমর্থন করার দরকার নেই। যা সত্য তা একদিন প্রকাশিত হবে -- সেইদিন কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করার সুযোগ পাবে না। সেইদিনের জন্যেইতো আমার প্রস্তুতি। সেই দিন সম্পর্ক কোরানে বলা হয়েছে --

    "আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।" (৭:৩৮)

    সুতরাং কাউকে ইমাম মেনে দ্বিগুন শাস্তির মতো ঝুঁকি নেওয়ার মতো নিবুদ্ধিতা করা কি ঠিক হবে?

    যাই হোক -- কোরানে শুধু মুমিনদের কর্তব্য সম্পর্কে একটা আয়াতই আসেনি -- কমপক্ষে দেড়শত আয়াতে মুমিনদের সরাসরি উদ্দেশ্য করে আল্লাহ -- আদেশ-নির্দেশ এবং নির্দেশনা দিয়েছে। আপনার কথা মতো আপনারা "হেযবুত তওহীদ আন্দোলন সুরা হুজরাতের এই ১৫ নম্বর আয়াত মোতাবেক মানুষকে মো’মেন হবার দীক্ষা প্রদান করছে" -- বাকী আয়াতগুলো স্বাভাবিক ভাবেই কম গুরুত্ব পাচ্ছে বলেই মনে হয়েছে। ঠিক এমনি ভাবে আহমদিয়া সম্প্রদায় একটা শব্দের অর্থকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে একটা গোষ্ঠীতে পরিনত হয়েছে -- পীরদের বাণিজ্যও এমনই কোরানের কোন না কোন আয়াতকে নিজেদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। শিয়া সম্প্রদায় ইমাম মানা না মানা নিয়ে ডজন ভাগে ভাগ হয়ে আছে। কোরানকে খন্ডিত ভাবে ব্যবহার করে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। সেই বিবেচনায় আপনিও হয়তো একটা বিভ্রান্ত গোষ্টির পিছনে পড়ে গেছেন। মজার বিষয় হলো -- বিভ্রান্তিগুলোকে শয়তান খুবই চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করার বুদ্ধি যোগায় --

    " নিশ্চয় যারা সোজা পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তৎপ্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের জন্যে তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।"(৪৭:২৫)

      সুতরাং যুক্তি এবং বিতর্ক করে সুন্দর উপস্থাপন করে যাকে সত্য মনে হতে পারে -- তা আসলে বিভ্রান্তি -- আল্লাহর পথ থেকে সরে যাওয়ার লক্ষন সুষ্পষ্ট হয় যুক্তি দিয়ে পথ তৈরী মাধ্যমে -- যা নাস্তিকরা সব সময় করে থাকে -- তাদের যুক্তিতে তারা মশগুল থাকে। আমার বুঝ হলো -- পরিপূর্ন কোরান বুঝার চেষ্টা করা মানুষ এবং কোরান অনুসরন করা মানুষ কখনও কোন পীর বা তথাকথিত ইমাম অনুসরন করবে না -- কারন কোরানে আল্লাহ সুষ্পষ্ট ভাষায় বলেছেন --

    "সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।" "It will have [the consequence of] what [good] it has gained, and it will bear [the consequence of] what [evil] it has earned" (২:২৮৬)

    না তথাকথিত ইমাম -- না আমার নেতা -- না আমার পীর -- কেউই আমার দায় নেবে না। আমাকেই আমার বোঁঝা টানতে হবে। সুতরাং আসুন -- ফিতনা না ছড়িয়ে সোজা রাস্তায় চলি। সেই রাস্তার কথা দিনে কম পক্ষে ১৭ বার স্মরন করি -- আমরা আল্লাহ কাছে সেই রাস্তার পথিক হতে চাই -- যার নির্দেশনা আ্ল্লাহ দিয়েছে পুরো কোরানে -- আর সুরা ফাতিহায় সুষ্পষ্ট ভাবে শেখানো হয়েছে --

    "সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।" (১:৭)

    যাদের প্রতি "নিয়ামত" দান করা হয়েছে তা পুরো কোরানে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে -- এই জন্যে নতুন মোজেজা ওয়ালার অনুসরন করা বা সঠিক পথ পাওয়ার জন্যে নতুন কোন ইমামের দরকার নেই বলেই জানি। নানা যুক্তি আর বিতর্ক করে যে পথকে প্রতিষ্ঠা করতে হয় -- তা যে সরল পথ নয় তা সহজেই বুঝা যায়। তাই আসুন ফিতনা থেকে নিজেও বাঁচি -- অন্যকেও বাঁচাই। আল্লাহ দিকে একনিষ্টভাবে মনোযোগী হয় -- ইমাম-পীর-নেতাদের পিছন ছেড়ে কোরানকে অনুসরন করি মুহাম্মদ (সঃ) এর দেখানো পথে। আল্লাহ আমাকে এবং সকল মুসলিম জাহানে মানুষদের ক্ষমা এবং রহম করুন।

  3. 30
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: আমি অন্য কাজে মোটামুটি ব্যস্ত হয়ে যাবার কারণে সদালাপে একদমই সময় দিতে পারছি না। অনেক কথা বলার ছিল আমার। সুযোগ পেলে একদিন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। অনেক আলোচনা হবে, জানাশোনা হবে। তবে আপনার প্রশ্নটার উত্তর দিয়ে দিচ্ছি এখনই।

    আমি যদি আপনার ইমামকে ইমাম না মানি – উনার কথা অনুসরন না করি – তবে কি আমি “মুসলিম” হিসাবে বিবেচিত হবো – নাকি অমুসলিম হয়ে যাবো?

    আমরা কোথাও বলি নাই যে কেউ আমাদের ইমামকে ইমাম হিসেবে না মানলে এবং তাঁকে আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা যেভাবে অনুসরণ করি সেভাবে অনুসরণ না করলে সে অমুসলিম হয়ে যাবে। একথা বলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে একদিক দিয়ে দেখলে আমরা কেউই নিজেদেরকে পূর্ণ মুসলিম দাবি করতে পারি না, হেযবুত তওহীদও নয়। কারণ আমরা আল্লাহর হুকুম পূর্ণাঙ্গভাবে মানতে সক্ষম নই। ব্যক্তিগত জীবনে কেউ কেউ আল্লাহর হুকুম পুংখানুপুংখভাবে মেনে চলতে পারলেও আমাদের সমষ্টিগত জীবনে আল্লাহর হুকুমের কতুটুকু বাস্তবায়িত হয় সেটা সবারই জানা। তাই আমরা বরং প্রশ্ন তুলতে পারি ‘ইমাম’ না নামলেও কেউ নিজেকে মো’মেন দাবি করতে পারে কিনা, আমাদের দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তি মোমেন বিবেচিত হতে পারে কিনা। এবং সেক্ষেত্রে উত্তর হচ্ছে- হ্যা, পারে।

    মো’মেন হবার শর্ত দুইটি (হুজরাত ১৫)।

    ১. আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান: তওহীদ তথা আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস রাখা, সংশয় না রাখা এবং তওহীদের ভিত্তিতে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

    ২. জিহাদ: নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় অর্থাৎ মানবতার কল্যাণে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করা।

    এই দুইটি শর্ত যারা পূরণ করবেন তারা অবশ্যই আল্লাহর দৃষ্টিতে মো’মেন হিসেবে পরিগণিত হবার যোগ্য। হেযবুত তওহীদের বিশেষত্ব হচ্ছে- হেযবুত তওহীদ আন্দোলন সুরা হুজরাতের এই ১৫ নম্বর আয়াত মোতাবেক মানুষকে মো’মেন হবার দীক্ষা প্রদান করছে এবং এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ আল্লাহর তওহীদের মর্মার্থ অনুধাবন করে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং নিজেদের জীবন-সম্পদ ব্যয় করে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হচ্ছে।

  4. 29
    সত্য সন্ধানী

    জিয়া ভাই সালাম,
    //আমি স্বজ্ঞানে বলছি – বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার এবং প্রসারে সবচেয়ে বড় বাঁধা তৈরী করছে “জামায়াতে ইসলামী”//

    জামায়াত গোল্লায় যাক, এতে আনার সমস্যা কিসের ভাই? আমার প্রশ্ন কিন্তু এটা ছিল না যে কার ফিৎনা কেমন। আমার প্রশ্ন টা হল

    “জামায়াত কি হিন্দু দেব দেবীদের নবী ঘোষনা করে দরুদ পাঠ করেছে কিনা”

    হিন্দু দেব দেবীকে নবী রসুল বানানোটা কে আমি মুর্তি পুজা মনে করে থাকি।
    এবার আমার প্রশ্ন হল যে রাম কৃষ্ণ বুদ্ধ এদের উদ্যেশ্যে যদি দরুদ পড়ার পরেও কেউ মুসলিম থাকে, তবে লাত, মানাত, উজ্জা, হোবল, এরা কি দোষ করেছে? এদের উপর দরুদ পড়েও তো মুসলমান থাকার কথা তাই না?

    যদি সেই সুযোগ না থাকে সেখানে রাম কৃষ্ণ বুদ্ধ এদের উপরেও দরুদ পড়ে মুসলমান থাকার কোন সুযোগ নাই।

    কাজেই জামায়াত কি ফিৎনা করে সেটা এখানে প্রাসংগিক হয় কিভাবে যেখানে সরাসরি পৌত্তলিক দেব দেবীর উপর দরুদ পড়া হচ্ছে?
    জামায়া বা অন্য দলগুলির (তথাকথিত) ফিৎনা কি এসব হিজবুতি মুশরিক ফিৎনার সাথে তুলনীয় হতে পারে? ধন্যবাদ।

  5. 28
    Zahid

    @জিয়াউদ্দিন,
    আপনার চিন্তাধারা প্রচণ্ড জামাত বিদ্বেষী। আপনার জামাত সম্পরকে ধারণা কম। আপনার জামাত সম্পকে সব কথা বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।

  6. 27
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @সত্য সন্ধানী

    আমি স্বজ্ঞানে বলছি -- বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার এবং প্রসারে সবচেয়ে বড় বাঁধা তৈরী করছে "জামায়াতে ইসলামী" নামের একটা গোষ্ঠী। তাদের তৈরী ফিতনায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ বিপথগামী হয়ে -- জান-মালে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে -- তেমনি ইসলাম বিরোধীদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্রটা তুলে দিয়েছে জামায়াত। জামায়াতের খাতা-কলমে (গঠনতন্ত্রে) --  বাংলাদেশের সকল ইসলামী সংগঠনের মাঝে সবচেয়ে বিশুদ্ধ আকিদার কথা বলেছে -- কিন্তু যখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং দুনিয়ার বিষয়ে এসেছে -- এরা বারবার সেই আকিদা হয় উপেক্ষা করেছে -- নতুবা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে তা অনুসরন করেছে। এই পোষ্টকে বেশী বড় করতে দিতে চাই না। সময় সুযোগ হলে এই বিষয়ে বলার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। তবে আপনাকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয় -- আপনার কথায় আমি মাওলানা মউদুদী সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি -- এবং সেই সুবাদে অনেক আলেমের মতামত পড়েছি। সেই কারনেই জামায়াতের গঠনতন্ত্র নিয়ে মন্তব্যটা করলাম -- কিন্তু তাদের কর্মকান্ড ইসলামের মৌলিক বিষয়কে বিতর্কিত করা ছাড়া তেমন কোন নজির পাইনি। ধন্যবাদ।

  7. 26
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ভাই অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় আছি -- আমার প্রশ্নের উত্তরটা খুবই দরকার। দয়া করে উপেক্ষা করবেন না।

    প্রশ্নটা ছিলো:

    আমি যদি আপনার ইমামকে ইমাম না মানি – উনার কথা অনুসরন না করি – তবে কি আমি “মুসলিম” হিসাবে বিবেচিত হবো – নাকি অমুসলিম হয়ে যাবে?

  8. 25
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ আসাদ আলী: রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ তারা নবী ছিলেন কি ছিলেন না, তার কোন প্রমাণ নেই। অনুমান নিছক অনুমান, অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের আসার কোন বিধান ইসলামে নেই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছু যেমন বলতে পারিনা ঠিক তেমন তাদের কে নবী ছিলেন বলেও সিদ্ধান্তে আসতে পারিনা। এই ক্ষেত্রে আমাদের নীরব থাকাউ উচিত। আপনারা এই কন্সেপ্ট রামকৃষ্ণ মিনশ থেকে গেহণ করেছেন। ধন্যবাদ।

  9. 24
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ আসাদ আলী: ভাই, যে সব লোকদের অন্য উপায় আছে উপার্জনের, যার দ্বারা তারা তাদের পরিবার পরিজনদের লালন পালন করতে সক্ষম তারা হয়তো বিনা সম্মানীতে নামাজ পরিচালনা করতে পারবে, কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে সেটি সম্ভব নয়। ইমাম সাহেবের যদি অন্য কোন কাজ না থাকে তাহলে সে তার সংসার চালাবে কি ভাবে। এইরূপ অক্ষম লোকদের যদি ইমাম করা হয় আর লোকজন কিংবা সরকার যদি তাদের কে সম্মানী দেন, তাহলে তাতো অন্যায় দেখিনা!

    আমাদের মরহুম পিতা তিনিও ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত টাউনের প্রধান জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি এর বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করতেননা, কারণ আমাদের জমিজামা ছিলো সেখান থেকে ধান চাউল আসতো, তাছাড়া আব্বা সরকারী মাদ্রাসার প্রন্সিপ্যাল ছিলেন সেখান থেকে মাসে মাসে বেতন লাভ করতেন। যদি কোন লোক অর্থ রুজির ধান্ধায় ইমামতি করেও কিন্তু যারা নামাজি তাদের নামাজ আল্লাহ মকবুল করবেন। ধন্যবাদ।

  10. 23
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ সকল মন্তব্যকারঈ ভাইয়েরা, সালাম। আপনারা কেন কেন তাদের ব্লগে এসে অংশ নিচ্ছেন? তাদেরকে তাদের পথে ছেড়ে দিন। ইগনোর করেন। যখন তারা দেখবে তাদের ব্লগে কেউ কমেন্ট করছেনা। তখন নিরাশ হয়ে তারা চুপ হয়ে যাবে। যদি মনে করেন তাদের কথার মধ্যে বিভ্রান্তি আছে তাহলে সে বিভ্রান্তি নিরসন করে আলাদা পোস্ট দিন।

    আর যদি তাদের ব্লগে কথা বলেন তাহলে বিধর্মীদের সাথে যে ভাবে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে কথা বলেন সে ভাবেই বক্তব্য রাখুন। মানুষকে কথা বলতে দিন। কিন্তু যেই কথা বল্যন কথা গুলো যেন গালাগালি পর্যায়ে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখুন। ধন্যবাদ।

  11. 22
    সত্য সন্ধানী

    উপরের মন্তব্যটাএ জন্যে করলাম জিয়া ভাই কারন আপনি হিজবুতি ফিৎনা আর জামায়াত কে এক করে ফেলেছেন।
    জামায়াত কি সেই ওওব কাজ করেছে যেটা হিজবুতী রা করে চলেছে?

  12. 21
    সত্য সন্ধানী

    জিয়া ভাই সালাম, জামায়াত কবে কোন সময় কিভাবে হিন্দু দেব দেবীদের নবী ঘোষণা করে দরুদ পাঠ করেছে, কবে ইসলামের দাওয়াত দেয়াকে অসার বলেছে সেগুলো তথ্য প্রমান সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

    সেটা না করতে পারলে সব জায়গায় জামায়াত জুজু টেনে না আনাই ভাল। ধন্যবাদ।

  13. 20
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @মজলুম,

    আপনি ধারনা থেক এঅনেক কথা বললেন। হয়তো আপনার মতো ক্রিটিক্যালী ওদের বিষয়ে জানি না। তবে অনেক আগে থেকেই ওদের সম্পর্কে জেনেছি। তবে নোয়াখালীর ঘটনা পর একটু বেশী জানার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে ওদের পাকুন্দিয়ার পীরের চেয়ে বেশী কিছু মনে হয়নি। কিছু ভক্ত সমর্থক জোগার করেছে ওরা -- যারা প্রকৃত বিভ্রান্ত তাদের কিভাবে আমরা পথ দেখাবো। এখন এইটা একটা পাবিবারিক সমাজে পরিনত হয়েছে। এরা খুব একটা বেশী দুর আগাতে পারবে বলে মনে হয়নি। তাই সময় নষ্ট করার মতো গুরুত্বপূর্ন মনে করি না ওদের।

    তার চেয়ে বড় ফিতনা হলো জামায়াতের ইসলাম -- যারা ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ গনহত্যার পার্টনার -- এবং তা করেছে ইসলাম রক্ষার নামে। এখনও বাংলাদেশের নাস্তিকতার চর্চার মুল ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধের গনহত্যার প্রিটেক্স -- কিন্তু আলেম সমাজ এখনও নীরব -- যারা সহজেই পারতো ইসলাম থেকে এই গনহত্যাকে আলাদা করতে (কতিপয় আলেম ছাড়া) যেমনটা করেছেন জঙগীবাদের থেকে ইসলামকে আলাদা হিসাবে দেখাতে। তাই জামায়াতের সাথে এই ধরনের গোষ্ঠীর তুলনা ভুল।

    বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে হাজার-হাজার নয়তো লক্ষ লক্ষ কবর -- যাদের মাজার বানিয়ে পূজা করা হয় -- বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষের আছে পার্সোনাল পীর -- যারা মানুষদের শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে -- তার উপরে বাংলাদেশের দুইটা বড় রাজনৈতি দল প্রকাশ্যে কবর আর ছবি পূঁজা করছে -- এ্ ইসকল বিষয়ে গুলো উপেক্ষা করে একটা কয়েকলোকের গোষ্ঠিকে আমার কাছ তুচ্ছই মনে হয়েছে। বিশেষ করে তাদের ভাষা-বানানরীতি আর নিজস্ব ব্যাখ্যার বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করা তেমন কাজের কথা নয় -- বরঞ্চ তাদের প্রচারের সুযোগ করে দেওয়া।

    যাই হোক -- যার বুঝ তার কাছে। আমি জেনেশুনেই উনাকে মতাদর্শ প্রচারে নিষেধ করেছি। সেখানেই শেষ হতে পারতো -- কিন্তু তার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে পোষ্টের পর পোষ্ট দেওয়া -- তাদের ভন্ড প্রমান করার জন্যে আদাজল খেয়ে নামা ভাল লাগেনি।

    অবশেষে একটা কথা বলি -- অনেকদিন আগে একটা মুভি দেখেছিলাম -- সেইটা ছিলো ২য় বিশ্বযুদ্ধের মুভি -- জেনারেল রোমেলের নেতৃত্বে যখন যুদ্ধে জয়ী হলো -- তখন জার্মান বাহিনীর জেনারেলকে উনার সামনে হাজির করা হলো -- রোমেল দাড়িয়ে তাকে সালাম কররে -- তেমনটাবাস্তবেও দেখেছি -- জেনারেল নিয়াজী যখন রেসকোর্স মাঠে সারেন্ডারের জন্যে আসলেন -- তাকে জগৎজিত সিং স্যালুট দিয়ে হ্যান্ডসেক কররেন। সৌজন্যতা মানেই সমর্থন নয় -- পক্ষে যাওয়া নয়।

    আমি একটা প্রশ্ন করেছি উনাকে -- দেখি উনি কি উত্তর দেন।

  14. 19
    মজলুম

    এখন বুঝতে পারলাম, আপনি হিজবুতিদের সম্পর্কে না জেনে সেই কমেন্টে হেজবুতিদের ভিকটিম বানিয়ে কমেন্টের শেষে ত্রাতা সেজে এসেছেন। হেজবুতিদের নিয়ে আহমাদ ভাইয়ের প্রথম পোষ্ট করার পর আসাদ আলি মিথ্যাচার করে একটা পোষ্ট দেয়। তার মিথ্যাচার দেখেও আমি কমেন্ট করিনি, ভাবলাম আহমেদ ভাই এসে উত্তর দিবেন। দুই দিন ধরে দেখলাম কেউই তার মিথ্যাচার ধরিয়ে দিচ্ছেনা, মনে করলাম আহমেদ ভাই হয়তো ব্যাস্ত তাই আমিই কমেন্ট করা শুরু করলাম। আমি তার সাথে কোন বিতর্ক করছিনা শুধু তার মিথ্যাচারগুলো ধরিয়ে দিচ্ছি। তা না হলে অনেক মুসলিম তার এই ধাপ্পাবাজি পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে যেতো।

    এই হেজবুত অন্যান্য গতানুগতিক ১০ টা ইসলামিক দলের মতো নয়। দেওয়ানভাগী শিরক করে যেমন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়, তেমনি হেজবুতিরাও কুফরী করে ইসলাম হতে খারিজ হয়ে যায়। ঠিক যেমন অনেক শিয়ারা খারিজ হয়ে যায় ইসলাম হতে যারা মনে করে রাসুল(সঃ) এর ওফাতের পর সব সাহাবিরা কাফির হয়ে গেছে। আপনি হয়তো মনে করছেন এরা ধর্মীয় দলগুলোর বিরুদ্বে বলছে, ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্বে বলছে বা ধর্মান্ধতার বিরুদ্বে বলছে তাই এদের ভিকটিম বানিয়ে সহানুভুতি দেখাচ্ছেন, ব্যাপারটা তা নয়, এরাও দেওয়ানভাগির মতো ইসলাম হতে খারিজ হওয়ার মতই কাজ করছে আরো সূক্ষভাবে। কোরান ও হাদিস হতে দেখা যায় এই উম্মাহ কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর অটুট থাকবে। কিন্তু পন্নির লেখা বই ইসলামের পকৃত রুপরেখা পড়ে নিন। তারপর ও যদি বুঝতে না পারেন তাহলে এটা প্রিন্ট করে নিয়ে আপনার পরিচিত যেকোন মাজহাবি বা লা-মাজহাবি আলেমকে পড়তে দিন। এই বইয়ের ১১ পৃস্ঠায় আছে মুসলিমরা এখন মোমেন, মুসলিম ও উম্মতে মুহাম্মদি বলে আর নাই। তারপর ২০ পৃষ্ঠায় বোল্ড করে বলছে বর্তমান ইসলাম আর ইসলামই নাই, বর্তমান ইসলাম হলো খ্রিষ্টান ইসলাম।

    সে তার কোন বইয়ে, আর্টিক্যালে বা হেজবুতিদের লেখায় ওরা কিন্তু বলেনা যে ইসলামের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে গেছে বা কিছু কিছু মুসলিম আর সঠিক মুসলিম নাই। তারা গনহারে সব মুসলিমকে এবং পুরা ইসলামকে বলছে মুসলিম আর নাই এবং ইসলাম বিকৃত হয়ে গেছে।

    আপনি যেকোন আলেমকে প্রশ্ন করেন সে মাজহাবি হোক আর লা-মাজহাবি হোক। কেউ যদি ইসলামে বর্নিত হারামকে হালাল করে সে কাফির হয়ে যায়, সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। হেজবুতিরা মিউজিক শোনাকে হালাল বলে। ব্যাপারটা হলো এই রকম, ধরেন আমি মদ খাচ্ছি, হারাম জেনেই খাচ্ছি তাহলে ব্যাক্তিগতভাবে আমি গুনাহগার হবো, কিন্তু কাফির হবোনা। কিন্তু আমি যদি বলি মদ খাওয়া হালাল, তাহলে আমি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবো। আসাদ আলির ফেসবুকের টাইম লাইনে গিয়ে দেখুন, সে লিখছে গান শুনা হারাম নয়, গানে বুদ হয়ে থাকা হারাম। ১ আনার জ্ঞান নাই ইসলাম সম্পর্কে সে আসছে হারামকে হালাল করতে। হেজবুত দলিয়ভাবেই মিউজিক শুনাকে হালাল করেছে। দাড়ি কাটাকে হালাল করেছে।

    হেজবুতিরা অন্যের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে যায় কেনো? এই কাজটা আইএস করেছে সিরিয়ায়। আইএস মনে করে শুধু আইএস ছাড়া বাকি সব মুসলিম দল ও গ্রুপ কাফির। তাই আইএস যদি সিরিয়ার অন্য বিদ্রোহী গ্রুপ আহরার আস-শাম বা ফালাইক আস-শামের বউকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আইএসের মতবাদে নিয়ে আসতে পারে তাহলে তাকে বলে তোমার স্বামীতো আহরার আস-শামের দলে। তাই সে কাফির, তুমি মুসলিমা, তোমার সাথে তার তালাক হয়ে গেছে। এখন তুমি যদি তার সাথে ঘর সংসার করো তাহলে তা হবে ব্যাভিচার। এইসব বলে তারা আরেকজনের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। হেজবুত ও দেখি একই কাজ করছে, করন এরা মুসলিমদের মুসলিম মনে করেনা। তাই কোন মেয়েকে হেজবুতে ভেড়াতে পারলে তাকে তার স্বামী হতে আলাদা করে ফেলে। বাংলাদেশে আইএস যেমন কোন ছেলেকে ব্রেইনওয়াস করে তার ফ্যামিলি হতে বিচ্ছিন্ন করে বসুন্ধরা থেকে নিয়ে কল্যানপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে আইএসের আস্তানায় যাওয়াকে হিজরত বলে, হেজবুতিরা ঠিক এভাবেই ফ্যামিলি থেকে হিজবুতের আস্তানায় যাওয়াকে হিজরত বলে।

    আমরা এখন সেই সময়ে আছি, যেই সময়ের কথা রাসূল(সঃ) বলেছেন যে, শেষ যামানায় মানুষ সকালে মুসলিম থাকবে, কিন্তু বিকেলে কাফির হয়ে যাবে বা বিকেলে মুসলিম থাকবে কিন্তু রাতে কাফির হয়ে যাবে।

    সদালাপে আগে অপপ্রচারটা সেই চালায়, তারপর আহমেদ ভাইয়ের পোষ্ট আসে। তারপর সে আবার পোষ্ট এবং আহমেদ ভাইও পোষ্ট দেয়। কারন সে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। উনি সদালাপে না লিখার কথা বলা হয় নাই, বলা হয়েছে সদালাপে উনার হেজবুতি অপপ্রচার বন্ধ করতে। আর সে যদি হেজবুতকে নিয়ে এভাবে লিখতে পারে সদালাপে, এভাবে যদি জামাত-শিবিরের কেউ সদালাপে নিজ দলের পক্ষে লিখে আপনি কি তখন সাপোর্ট করবেন? যদিও জামাত-শিবিরের কেই এই সদালাপে না লিখলেও বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হবেনা।

    যাকগে, আমি এই মন্তব্যের পর আপনার কোন মন্তব্যের উত্তর আর দিবোনা। আপনি আগে হেজবুতির বই ইসলামের রুপরেখা পড়ে নিন।

  15. 18
    শাহবাজ নজরুল

    @আসাদ আলী,

    ১. সাধারণ-অসাধারণ বলে কথা নয়, আমরা সব মসজিদেই নামাজ পড়ি। কেননা মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমরা ঐসকল ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়ি না যারা ধর্মব্যবসার সাথে জড়িত। দ্বীনের কাজ করতে হয় নিঃস্বার্থভাবে। যারা দ্বীনের বিনিময় গ্রহণ করে তারা গুরুতর অন্যায় করেন। তাদের পেছনে নামাজ পড়ার অর্থ তাদের গুরুতর অন্যায়কে সমর্থন করা, তাদের অনুসরণ করা। কিন্তু কাদেরকে অনুসরণ করতে হবে তা আমরা কোর’আন থেকে জানতে পাই। ‘‘অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।’’ (ইয়াসীন ২১) সুতরাং যে মসজিদে নামাজ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করা হয় না, যিনি দ্বীনের কাজ করেন নিঃস্বার্থচিত্তে, তার সাথে জামাতে নামাজ পড়তে আমাদের আপত্তি নাই।

    দ্বীনি কাজে খলিফা থেকে শুরু করে সবাই বেতন গ্রহণ করেছেন। ইতিহাস এরকমই স্বাক্ষী দেয়। আবু বকর (রাঃ) থেকে শুরু করে বেশির ভাগ খলিফা বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। উসমান (রাঃ) বেতন নেন নাই কেননা তিনি ধনি ছিলেন -- ও তার বেতনের টাকা রাষ্ট্রকে ফেরত দিয়েছিলেন। তাহলে প্রতিষ্ঠিত সনদের বাইরে যাওয়া কেন? এভাবে অবান্তর কারণে জামা'র বাইরে যাওয়াই তো হাদিসের বরখেলাপ -- হাদীসকে বিকৃত করা। নিজেরা জামা' থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছেন? হাসালেন। তাহলে আপনাদের মতে মসজিদের ইমাম কিভাবে নিজের জীবিকা নির্বাহ করবেন? নামাজ পড়িয়ে আর বাতাস খেয়ে?

    ২। আমরা আল্লাহর রসুলের শেখানো পদ্ধতিতেই নামাজ পড়ি। আমাদের ‘‘ইসলামের প্রকৃত সালাহ’’ বইটিতে নামাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে ইসলামের সঠিক আকীদা ও পদ্ধতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। হাদীসে যেমন বর্ণনা পাওয়া গেছে আমরা সেইভাবেই নামাজ পড়ে থাকি। ‘অন্যভাবে’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন তা পরিষ্কার করে বলতে হবে।

    'অন্যভাবে' বলতে কি বলেছি তা আপনি ভালোই জানেন। আপনাদের নামাজ কুচকাওয়াজের মতো কেন? ইমামের কাজ যেন সেনাবাহিনীর কমান্ডারের মতো। যেভাবে সেনাবাহিনীতে বলে 'প্যারেড সাবধান' কিংবা 'প্যারেড আরামে দাড়া' -- আপনাদের নামাজ তো সেই ধরণের। একমাত্র আপনাদের ফেরকা ছাড়া আর কাউকে তো আপনাদের মতো প্যারেড -- নামাজ পড়তে দেখিনা। মূল ধারার নামাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে বলেন আপনারা ঐক্যবদ্ধকারী?? কিভাবে সম্ভব? আপনি দিনকে রাত বলবেন আর ভাবছেন লোকজন তা বিনা কথায় মেনে নেবে? হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে তো আমি নিজেও একেবারে অন্য রকমের নামাজ বের করতে পারি। এমনকি হাদিস কোরান দিয়ে ২ ওয়াক্ত নামাজিয়া লোক জনও আছেন। প্রমান হিসেবে কোরানের আয়াতও দেখিয়ে দেন। প্রচলিত নামাজ বলতে যেভাবে সকল মসজিদে নামাজ হয় তাই'ই বলেছি। কোথাও কুচকাওয়াজ স্টাইলে নামাজ হয়না।

    ৩। রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ- এইসব মহামানবদের জীবনী পর্যালোচনা করে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁরা আল্লাহর নবী ছিলেন। তাদের গবেষণালব্ধ মতামতের উপর ভিত্তি করে ও আমাদের যুক্তিবুদ্ধি প্রয়োগ করে আমাদের কাছেও মনে হয়েছে এই মহামানবরা আল্লাহর নবীই ছিলেন। তাই আমাদের কোনো কোনো লেখায় এই মহামানবদের নাম উল্লেখের প্রয়োজন পড়লে আমরা নামের শেষে দরূদ লিখি, যেমনটা নবী-রসুলদের ক্ষেত্রে লেখা হয়।

    রাম, কৃষ্ণ আর বুদ্ধ মুহাম্মদ (সাঃ) এর আগের চরিত্র -- অবশ্য রাম আর কৃষ্ণ যদি সত্যই ঐতিহাসিক চরিত্র হয়ে থাকেন। প্রথমত, বলেন অনেক অনেক নবী রাসূল সম্পর্কে মুহাম্মদ (সাঃ) বলে গেলেও কেন রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ সম্পর্কে বলেন নাই কেন? দ্বিতীয়ত, কোন ইসলামী স্কলার বলেছেন যে তারা আল্লাহর নবী ছিলেন? যেখানে মূল সুন্নি, শিয়া ধারার কোনো স্কলার'ই এমন দাবি জানান নাই, সেখানে আপনার সেই ইসলামী চিন্তাবিদের ব্যাপারে শিওর হলেন কীভাবে? মু'যেযা মতবাদ বাদে অন্য কিছু বলুন। যেখানে আপনারা মূলধারার মুসলিমদের পান থেকে চুন খসলেই ভুল ধরছেন -- ইমামদের বিনা বেতনে কাজ করতে বলছেন -- না করলে তারা তওহীদ থেকে বিচ্যুত হলে ফতোয়া দিচ্ছেন -- তারাই আবার ৩৩ কোটি দেব/দেবতার একজন রাম, কিংবা কৃষ্ণকে বলছেন তওহীদের প্রতীক। ৩৩ কোটি দেব দেবতাকে মানার নাম তাহলে তৌহিদ? মজা পেলাম ভাই।

    কৃষ্ণের জীবনে মামীর সাথে পরকীয়া প্রেম ছাড়া আর আছে কি? সেই কৃষ্ণকে আপনারা তৌহিদের প্রতীক বানাচ্ছেন আর বলছেন সাধারণ মসজিদে যাবেননা -- কেননা তারা এক আল্লাহতে ঈমান আনায় 'তৌহিদ' থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। ভণ্ডামির একটা তো সীমারেখা থাকা দরকার।

    গৌতম বুদ্ধ পরকালের কথা বিশ্বাস করতেন না। ঈশ্বরের প্রকৃতিও তার ধর্মে অস্বচ্ছ। সেই গৌতমকে আপনারা তৌহিদের প্রতীক বানিয়েছেন -- নবী বানিয়েছেন -- আর আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফি, ইমাম আহমেদ সহ সকল ইসলামী স্কলারলা হলেন মূল তৌহিদের বাণী থেকে বিচ্যুত? এমন কথা বললে বলবো একটু পাবনায় যান। চিকিৎসা করান।

    ৪। এটা আরবি শব্দের বাংলা বানানরীতির ব্যাপার। কিছুদিন আগেও আরবি জের এর উচ্চারণ বাংলায় ‘এ’ কার দিয়ে লেখা হত, পেশের উচ্চারণ লেখা হত ‘ও’কার দিয়ে, আর খাড়া জের অথবা জেরের বামে ইয়া সাকিন থাকলে তার উচ্চারণ ‘ই’ কার দিয়ে লেখা হত। এটা বহুল প্রচলিত বানানরীতি। এই রীতি মেনে এখনও অনেক উচ্চারণ আমারা অহরহ করে থাকি। যেমন- আলেম, যালেম, কাফের, মোসলেম, হেফাজত, এশা ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে এই উচ্চারণ রীতিটি ক্রমশই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে আরবি ভাষার উচ্চারণ থেকে দুইটি বর্ণ ‘এ’ এবং ‘ও’ বাদ পড়ে যাচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম এই বানানরীতিটি ধরে রাখতে। কিন্তু হেযবুত তওহীদের যারা কোনোকিছুই ভালো দেখেন না তারা অন্য সব ছেড়ে এই ‘বানানরীতি’ নিয়ে এমনভাবে উঠেপড়ে লাগল এবং একে কেন্দ্র করে মানুষকে যা-তা বোঝাতে লাগল যে, আমরা ‘অহেতুক বিতর্ক’ এড়ানোর জন্য বর্তমানে অনেকাংশেই এই বানানরীতি ব্যবহার করছি না।

    ফাতহা, দাম্মা, কাসরা'র উচ্চারণের ভিন্নতা থেকে এমাম কিংবা এছলাম বলার কারণটা সন্তোষজনক জবাব নয়। আমি যতদিন দেখেছি, শব্দগুলোকে ইসলাম কিংবা ইমাম'ই বলা হয়েছে। আর এগুলি'ই সঠিক উচ্চারণ আরবিতে এবং বাংলাতেও। তাই আমাদের কাছে মনে হয় এখানেও আপনারা ইচ্ছেকৃত ভাবে ফেরকা'বাজি করেছেন। নিজেদের অনন্যতা দেখাতে গিয়ে শব্দের উচ্চারণের রীতির ক্ষেত্রেও আপনারা স্বেচ্ছায় ইসলামী জামাত থেকে বের হয়ে গেছেন। এভাবে যে প্রতিটি কাজেই স্বেচ্ছায় মূল জামাত থেকে বের হয়ে যায় -- সেই'ই ফেরকা। এটা তো কঠিন কোনো বিষয় না।  

  16. 17
    মহিউদ্দিন

    একটি ধর্মীয় সমাজে পন্নীদের দায়িত্বহীন বক্তব্যগুলো দেখুন:
    “বর্তমানের ইসলাম বিকৃত, “বিগত ১৩০০ বছরের ধারাবাহিক বিকৃতির ফল, প্রকৃত ইসলামের ছিটে ফোটাও এর মধ্যে নেই”… “আল্লাহর চোখে এরা আর যে মো’মেন নেই, মুসলিম নেই, বরং মোশরেকে পরিণত হয়েছে সে জ্ঞান তাদের নেই” (link)। “এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?” … “এই সত্যটি স্বীকার করতে হবে যে এই জাতি আর মোমেন নয়” (link)। তারপর আলেম সমাজকে নানাভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ভাষায় দোষারূপ –এগুলো সামাজিক দৃষ্টিতে এবং নাগরিক সভ্যতায় ভাল নয়।

    উপরের উদ্ধৃতিগুলোতে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে, যে ভাষা ও রূপে, আক্রমণ করতে দেখা যায় তাতে দেশি বিদেশি চক্রান্ত এবং সামাজিক সংহতি বিনষ্টের লক্ষণ অনুভব করা যায়। এটা স্বাভাবিক যে একটি মুসলিম অধ্যুষিত ভূখণ্ডে, সাধারণ লোকের সমাজে, এমন ধরণের কথাবার্তা ও তৎপরতা যেকোনো সময়, যেকোনো পক্ষের উত্তেজনায় সংহতি বিনষ্ট করতে পারে। তারপর কিছু ঘটে গেলে কৌশলে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক মহল দুই বা ততোধিক পক্ষের সংঘর্ষকে কাজে লাগিয়ে তাদের অনভিপ্রেত ইসলামকে সরিয়ে, তাদের নিজেদেরই স্বার্থ খুঁজবে। এটা আলু-পোড়া খাওয়ার মত।

    মূলত “এই এছলাম সেই এছলাম নয়” এটা কেবল পন্নীবাদীদের স্লোগান নয়। রাজনৈতিক ময়দানে এর পিছনে আরও কয়েকটি শ্রেণী আছে।
    আজ যদি মুসাইলিমা আল-কাজ্জাব জীবিত হয়ে আসত, তবে তার পক্ষে বাংলাদেশে কথা বলার অনেক লোক পেত। তারা তার অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলত, তার প্রতি সম্মান জানানোর প্রয়োজন প্রকাশ করত।

  17. 16
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @মজলুম,

    নোয়াখালির ঘটনা টিভিতে দেখেছি -- হাজার হাজার গ্রামবাসী কয়েকশত হিজবুত তাওহীদের কর্মীদের উপর চড়াও হয়েছে -- আগুন দিচ্ছে তাদের বাড়িতে -- পিটিয়ে মারছে -মৃতদেহের উপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ যখন ওদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় -- তখন সেই গ্রামবাসী থানা আক্রমন করেছে -- পুলিশ গুলি করে সেই আক্রম ন প্রতিহত করেছে। এইজন পুলিশ কনেষ্টেবল আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছে। দুইদিন ধরে যে বর্বরতা দেখেছি তা সত্যই অসহনীয়। সেখানকার স্থানীয় মাদ্রাসার প্রন্সিপালের টিভির সামনে বলতে শুনেছি -- ওরা শয়তাদের পুঁজারী। এই জনতা হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়নি। ওদের উত্তেজিত করা হয়েছি নির্মম হওয়ার জন্যে। হিজবুত তওহীদ সেখানে একটা মসজিদ নির্মান করছিলো -- সেইটা বন্ধ করার জন্যেই এই আয়োজন।

    সত্যকথা বলতে কি -- যারা সেই আক্রমনে ছিলো তাদের যে হিংস্র চেহারা দেখেছি -- তারা যে ইসলাম বুঝে না সেইটা বুঝতে অসুবিধা হয়না।

    যাই হোক -- আওয়ামীলীগ বা বিএনপি যেই অন্যায় করুক তার দায় তাদের নিতে হবে। তবে ইসলামের নামে যখন কেউ এই নির্মম আচরন করে তা আমাকে সত্যই ব্যথিত করে -- কারন ওরা না বুঝে করছে এই কাজ -- আর যারা পিছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে ওরা কত বড় অন্যায় করছে তা গ্রাহ্য করছে না। জামায়াতের বিষয়ে এই একই কথা -- নেতাদের রক্ষা বা পকিস্তান রক্ষায় ওরাও ঢাল বানিয়েছে ইসলামকে -- তেমনি হেফাজতে ইসলাম মাহমুদুর রহমানকে রক্ষার বিষয়টা ইমানী আন্দোলনের সাথে একাকার করে ফেলে -- এই বিষয়ে কথা বলার মানেই যদি আওয়ামীলীগের সমর্থন করা হয় -- তবে আর কি বলার থাকে।

  18. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @মজলুম,

    আপনি বোধ হয় লক্ষ্য করেননি -- আমিই প্রথম উনার পোস্টে আপত্তি জানিয়েছিলাম যেন কোন মতাদর্শ প্রচার না করেন। তারপর উনার লেখার বিপরীতে দুইটা পোস্ট আসলো -- মানে উনাকে আমরা এনগেডজ করলাম আলোচনায়। এখন উনাকে কেন আমরা বলি যে সদালাপে লিখতে পারবেন না?

    যাই হোক পুরো আলোচনা দেখে একটা কোড মনে পড়লো --

    Don’t argue with idiots because they will drag you down to their level and then beat you with experience. —Greg King

    যদি উনি সদালাপে না লিখেন তবে কি বাংলাদেশ থেকে হিজবতু তওহীদ নামের সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে?

    আপনার কাজ আপনি করছেন -- ওদের ভন্ড প্রমান করছেন -- আমরা পড়ছি। জানছি -- তেমনি জানছি ওদের বক্তব্যও। আপনার কেন, কারো বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই -- সবাই সবার জায়গা ঠিক আছেন।

    যাই হোক -- ভিন্নমতের প্রতি অসিহ্নুতা একটা সমস্যা। হয়তো আপনিই ঠিক -- ওরা ভন্ড আর ধাপ্পাবাজ এক লোকের পিছনে পড়েছে। যেখানে আমার আপত্তির বিষয় হতো তা হলো তারা যদি শিরক করতো -- যেমন দেওয়াবাগীরা করে। যদি ওরা বলতো পন্নীর সুপারিশ ছাড়া মুক্তি নাই -- তবে সমস্যা ছিলো। আমার ধারনা আরো দশটা সংগঠনের মতো এইটা একটা সংগঠন -- যারা নিজেদের মতো করে ইসলাম চর্চা করছে -- তাদের বুঝ তাদের কাছে -- আমার কি বলার আছে।

    শেষ কথাটা হলো আমি উনিকে একটা প্রশ্ন করেছি -- দেখি উনি কি উত্তর দেন, সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।

  19. 14
    ফারুক

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী,
    সালামুন আলাইকা। মোজেজা নিয়ে আমি দুটো কথা বলতে চাই।

    আমি বলতে চাচ্ছি না পন্নী সাহেবের সাথে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটা মোজেজা না। হয়তো ওটা মোজেজা , হয়তো বা না। আল্লাহই ভাল জানেন। তবে সাধারনভাবে মোজেজা নিয়ে একসময় আমি অনেক চিন্তা করেছিলাম। প্রায়ই বিভিন্ন ধর্মানুসারীদের (হিন্দু মুসলমান খৃষ্টান ইত্যাদি) মাঝে নানারকম মোজেজার কথা শোনা যায় এবং সেই সেই ধর্মানুসারীরা সেই মোজেজাকে রটিয়ে নিজ নিজ ধর্মের সত্যতাকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে খৃষ্টান ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ হলো যীশুর নামে রোগনিরাময় করা (Healing)। তাহলে কি সব ধর্মই সত্য? নাকি এটা শয়তানের কাজ , যার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দুরে সরিয়ে নেয়? নাকি কোরানে যেমনটি বলেছেন- বিপদের সময় মানুষ কায়মনোবাক্যে এক আল্লাহ/ ভগবান/God কে ডাকে , তারপর বিপদ মুক্ত হলে শরীকদের ধন্যবাদ দেয়। সব ধর্ম প্রচলিত আচার অনুষ্ঠান ও বিশ্বাস অনুযায়ী যেহেতু সত্য হতে পারেনা , সেহেতু মোজেজা হয় শয়তানের কাজ অথবা মুশরেকদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। জানেন নিশ্চয় কোরানেই বলা আছে কাফেরদের দাবী সত্বেও আল্লাহ নবীকে কোরান ব্যতিত কোন মোজেজা দেন নি। এই কারনে মোজেজার উপরে নির্ভর করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

    আল্লাহ ইসলামকে রক্ষা ও প্রচারে সক্ষম , এর জন্য আমার আপনার বা কোন নবী রসূলের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আল্লহর উপরে ভরসা রাখুন ও অহেতুক কারো সাথে বিবাদে জড়িয়ে না পড়ে আল্লাহর বাণী প্রচার করুন। রসূলেরও একমাত্র কাজ ছিল কোরানের বাণী প্রচার করা। কে সঠিক পথে আছে , তা আল্লাহই ভাল জানেন এবং তিনি সেটা বিচার দিবসে জানিয়ে দেবেন।

  20. 13
    মজলুম

    মুমিনদের বিনয়ী হতে হবে। অবশ্যই বিনয়, ভদ্রতা মুমিনদের বৈশিষ্ঠ্য এবং ইসলামের শিক্ষাও সেটাই। কিন্তু সেই বিনয়ের মানে এই নয় যে কেই এসে আপনার ঘরে চুরি করছে, আপনি ধরেছেন তাকে কিন্তু তাকে চোর বলছেন না। বা কোন লোক এক এলাকায় গিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে এবং তা প্রমানিত, কিন্তু আপনি তাকে মিথ্যাবাদি বলছেন না। উপযুক্ত প্রমানের পর তাকে মিথ্যাবাদি না বলাটা হবে সত্যের বরখেলাফ। তাকে মিথ্যাবাদি বলা না হলে আরও অনেক লোক তার মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হবে, এতে সমাজের ক্ষতি। এই বিনয় হলো সহনশীলতা এবং ধৈর্যের মতো, এগুলোর একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকে। সহনশীলতার মানে এই নয় যে কেউ আপনাকে শুধু মারবে আর আপনি কিছুই করবেন না। এগুলোর একটা ব্যালেন্স সমাজে রাখতে হয়, তা না হয়ে কম বা বেশী হলে দুটোই সমাজের জন্যে ক্ষতি, সমাজ ধংস হয়ে যায়।

    এবার ইসলামের ইতিহাস দেখি। কুরাইশ নেতা আবু জেহেল নামে যে লোকটাকে আমরা চিনি তার নাম হলো আমর ইবনে হিশাম। কিন্তু রাসুল(সঃ) এবং সাহাবীরা তাকে ডাকতেন আবু জেহেল বলে। যার বাংলা হলো মুর্খের বাবা। এই নামে ডাকার কারন অবশ্যই আছে।

    রাসুলের(সঃ) এর সময় মিথ্যা নবী হওয়ার দাবীদার ছিলেন মুসাইলামা ইবনে হাবিব। কিন্তু সাহাবীরা তাকে ডাকতো মুসাইলামা আল-কাজ্জাব। আল কাজ্জাবের মানে হলো মিথ্যাবাদী। কারন সে মিথ্যাবাদী।

    রাসূল(সঃ) এবং তার সাহাবীদের মতো বিনয়ী লোক সেই ১৪০০ বছর আগ হতে কেয়ামত পর্যন্ত কেউই হবে না। তবুও ওরা কেনো মুর্খের বাবা বা মুসাইলামা মিথ্যাবদি বলে ডাকতো? কারন ঐ যে ব্যালেন্স টা। তা না হলে সমাজের ইকোলিব্রিয়াম টা নস্ট হয়ে যায়।

    আমি হেজবুতিদের ধাপ্পাবাজ এবং গ্যাং বলছি। ইংরেজীতে হবে bluff/hoax এবং cult। এসব বলার পিছনে আমি যথাযথ প্রমান দিয়েছি আমার প্রত্যেকটা কমেন্টে, আমি ওদের মিথ্যা প্রচারকে ধরিয়ে দিয়েছি। সেই জন্যে আমি হেজবুতিদের ধাপ্পাবাজ ও গ্যাং বলেছি। পারলে আমার কমেন্টের তথ্যগুলো মিথ্যা প্রমান করুক তাহলে আমি হেজবুতিদের ধাপ্পাবাজ ও গ্যাং বলা থেকে বিরত থাকবো। অন্যথায় ধাপ্পাবাজদের ধাপ্পাবাজ না বলাটাই বিনয় হবেনা, হবে সত্যের বরখেলাপ।

  21. 12
    মজলুম

    আপনি সব সময় রাজনৈতিক বিশ্বাসের উপর উঠতে পারেন না, সেই জন্যে আপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিচার বিশ্লষনে ত্রুটি থাকে এবং সংকীর্নমনা হয়। এই দোষটা সব মানুষের মধ্যে কম বেশী থাকে, তবে আপনার মাঝে বেশীটাই আছে। একজন ইসলাম নিয়ে, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যা তথ্য, সত্যকে মিথ্যা দিয়ে গুলিয়ে মিথ্যা পরিবেশন, সত্য ম্যানিপুলেট করে একের পর এক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে। আর আপনি এসে তার ধৈর্যের! প্রশংসা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার লেখা মিথ্যা তথ্যের ও অপপ্রচারের বিরুদ্বে কিছুই বললেন না।

    তবে এইটা ঠিক – আপনাদের বিরুদ্ধে সদালাপের পোষ্টে যে উপাদান ও ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে তার কিছু কিছু বিষয় ভাল লাগেনি – যেমন মিডিয়াকে যারা নিজেদের বিরুদ্ধে গেলে নানান ভাবে দোষারোপ করে – আবার অন্যরে বিরুদ্ধে লিখলে তা প্রমান হিসাবে দেখায়। তা ছাড়া আপনাদের নেতা পূর্বের সেকুলার ছিলেন ইত্যাদি বলে কিছুটা হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে – এইটা জাজমেন্টের ত্রুটি – ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হল তওবা – যখন কেউ তাদের পূর্বের ভুল বুঝে তা পরিত্যাগ করে – তাকে তা নিয়ে বলাটা ঠিক না। আর কে সঠিক আর বেঠিক তা বিচার করার চেষ্টাও ভুল।

    কিন্তু তার মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ভালো লেগেছে?
    মিডিয়ার ব্যাপারে আপনিও সমান দোষে দুষ্ট। আপনাকে অনুসরন করি ২০০৬ সাল হতে তাই আপনার ব্যাপরে আমার ভালো করেই জানা আছে। মিডিয়া আওয়ামিলীগের বিরুদ্বে বললেই আপনি মিডিয়ার বিরুদ্বে বলেন, কিন্তু পক্ষে গেলেই শেয়ার দেন, সেটা প্রথম আলো হোক, আর বিডি নিউজ হোক। পূর্বে কে সেক্যলার ছিলো, বা হিন্দু, বৌদ্ব ছিলো তাতে কোন সমস্যা নাই, সে মুসলিম হলে ভালো। কিন্তু ইসলামের নাম দিয়ে যে ধাপ্পাবাজি করে যাচ্ছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে ভুল ইসলাম প্রচারের কাল্ট তৈরী করছে সেটাই ছিলো পোষ্টের মূল থিম, সে আগে কোন ধর্মে ছিলো তা মূল থিম ছিলোনা।

    একটা কথা বলা দরকার – যে বর্বর আক্রমন আপনার উপর হয়েছে নোয়াখালীতে – যদি এই আক্রমন কোন সংখ্যালঘুদের উপর হতো তবে ঢাকায় সুশীলরা হৈ চৈ লাগাতো – পুরো দেশে তোলপাড় হয়ে যেতো। এই ধরনের বর্বরতা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার মতো নির্মম বর্বরতার পরও আমাদের আলেম সমাজ বা সাধারন মুসলিমরাও একটু প্রতিবাদ করেনি। বরঞ্চ কেউ কেউ নানান ভাবে পরোক্ষ সমর্থন করেছে দেখলাম। উম্মার বিভক্তির এই উদাহরন বরই পীড়াদায়ক বটে!

    হেজবুতের সাঠে গ্রামবাসীর মারামারিতে অনেক বাড়ি ঘরে আগুন ধরে যায়, ওরাও দুই তিনশ এর মতো ছিলো। দুই পক্ষেই আহত নিহত হয়। হেজবুতের লোকদের ধরে এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার কথা যেমন বলছেন তেমন না। কোন আলেম এই হত্যার পক্ষে পরোক্ষ ভাবে সমর্থন দিয়েছে তার নাম বলেন। আর এর থেকেও বর্বর হত্যাকান্ড লীগের লোকেরা করে, সেটা নিয়ে ও কেউ হইচই করেনা। (তারা ধর্মভিত্তিক দল নয় বলে আপনার যুক্তি এখানে ফিট হবেনা, অবিচার অবিচারই)

    আপনি অবশ্যই সদালাপে লিখতে থাকুন – তবে ফোরামের নীতিমালার দিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের জবাব দেবার চেষ্টা করবেন – অবশ্যই এই সৌজন্য আমরা সবাই অনুসরন করবো। অবশ্যই আমাদের বিনয়ী হতে হবে – মুমিনদের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হবে বিনয়।

    আচ্ছা আমি নাহয় এদের ধাপ্পাবাজ বলছি, গ্যাং বলছি কিন্তু আহমেদ ভাইতো বিনয়ের সাথেই পোষ্ট দিয়েছেন, সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন, উনার বিরুদ্বে বলছেন কেনো। আহমেদ ভাই যদি কাল দুম্বার বিরুদ্বে পোষ্ট দেয় তাহলে মনে হয় আপনি তখন দুম্বার পক্ষে কথা বলা শুরু করবেন, দুম্বাধিকার কমিশন গঠন করে ফেলবেন। মুমিন ধাপ্পাবাজ হওয়াতো দূরের কথা মুসলিমরাও ধাপ্পাবাজ হতে পারেনা। ধাপ্পাবাজি মুসলিমদের বৈশিষ্ঠ্য না।

    তবে খুব অবাক লাগলো, এদের ধাপ্পাবাজির বিরুদ্বে, মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্বে কিছুই বললেন না।

  22. 11
    সত্য সন্ধানী

    জনাব আসাদ আলী সাহেব, আপনি যেটাকে অপপ্রচার বলছেন, আমি সেটাকে জিহাদ বলছি;কলমের জিহাদ।
    আহমদ ভাই সহ সদালাপের লেখক রা আপনাদের বিরুদ্ধে কলমের জিহাদ করছেন। এই জিহাদের প্রতি সাধারন সব মুসলিম এর সমর্থন আছে বলেই আমার বিশ্বাস।
    ভন্ডামীর একটা সীমা থাকা দরকার,কিন্তু আপনারা সেই সীমা অনেক আগেই লংঘন করেছেন। সদালাপের মত একটা ব্লগে কিভাবে আপনাদের লেখা প্রকাশ হয় আমার মাথায় ঢুকে না।
    আচ্ছা আপনি সেই দলের লোক নন তো যারা দুনিয়ায় ইসলামের প্রচার দেখে ভীত হয়ে পড়ে এটাকে থামানোর জন্য নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে?
    আচমকা কি আপনাদের দলের কর্মীরা পেশা থেকে বরখাস্ত হয়েছেন নাকি নতুন পেশা নিয়েছেন জানার খুব আগ্রহ হচ্ছে এই অধমের।
    নতুন পেশার বেতন আসছে কোথা থেকে? আমেরিকা না জার্মানী? সেখানে তো অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে সুখে শান্তিতে মুক্তবুদ্ধির(?) চর্চা করে চলেছে!!
    সেসব দেশেই কি সদলবলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খায়েশেই এসব লেখালেখি?তারাই তো ইসলামো ফোবিয়াতে আক্রান্ত, সে জন্যেই কি এই ফিৎনার সৃষ্টি করা?

    ////প্রথমত, আল্লাহ তাঁর বান্দার মধ্যে থেকে কাউকে ইমাম হিসেবে সত্যায়ন করতে কখনই মো’জেজা ঘটাবেন না- এমন কোনো প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা কোর’আন-হাদীসে নেই।/////
    এমন কোনো প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা কোর’আন-হাদীসে আছে এমন প্রমান কি আপনি দিতে পারেন?
    যদি না পারেন তবে এই মুহুর্তে তওবা করে আবার মুসলমান হয়ে য্যান, আল্লাহ ক্ষমাশীল।আল্লাহ আপনাদের সত্য পথে ফিরিয়ে আনুন, এই দোয়া করে গেলাম।

  23. 10
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ভাই আপনার ধৈর্য্যের প্রশংসা করতেই হয়। অবশ্যই সত্যের জয় হবে -- তবে কে সত্যে অনুসারী সেইটাই গুরুত্বপূর্ন। পৃথিবীতে প্রতি পাঁজনের চারজন ইসলাম অনুসরন করে না -- বাকী যারা মুসলিম হিসাবে পরিচিত তাদেরও নানান রকমফের আছে। সেইটা সমস্যা না। সমস্যা হলো আমি আমার আমলের জন্যে দায়ী হবো -- সেইটাই চিন্তার বিষয়। অন্য কাউকে ভুল বা শুদ্ধ বলার মতো কঠিন দায়িত্ব আমার না। অবশ্য আপনি সেই দায়িত্ব নিচ্ছেন -- ভুল হলে তার দায় আপনার।

    তবে এইটা ঠিক -- আপনাদের বিরুদ্ধে সদালাপের পোষ্টে যে উপাদান ও ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে তার কিছু কিছু বিষয় ভাল লাগেনি -- যেমন মিডিয়াকে যারা নিজেদের বিরুদ্ধে গেলে নানান ভাবে দোষারোপ করে -- আবার অন্যরে বিরুদ্ধে লিখলে তা প্রমান হিসাবে দেখায়। তা ছাড়া আপনাদের নেতা পূর্বের সেকুলার ছিলেন ইত্যাদি বলে কিছুটা হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে -- এইটা জাজমেন্টের ত্রুটি -- ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হল তওবা -- যখন কেউ তাদের পূর্বের ভুল বুঝে তা পরিত্যাগ করে -- তাকে তা নিয়ে বলাটা ঠিক না। আর কে সঠিক আর বেঠিক তা বিচার করার চেষ্টাও ভুল।

    একটা কথা বলা দরকার -- যে বর্বর আক্রমন আপনার উপর হয়েছে নোয়াখালীতে -- যদি এই আক্রমন কোন সংখ্যালঘুদের উপর হতো তবে ঢাকায় সুশীলরা হৈ চৈ লাগাতো -- পুরো দেশে তোলপাড় হয়ে যেতো। এই ধরনের বর্বরতা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার মতো নির্মম বর্বরতার পরও আমাদের আলেম সমাজ বা সাধারন মুসলিমরাও একটু প্রতিবাদ করেনি। বরঞ্চ কেউ কেউ নানান ভাবে পরোক্ষ সমর্থন করেছে দেখলাম। উম্মার বিভক্তির এই উদাহরন বরই পীড়াদায়ক বটে!

    আপনি অবশ্যই সদালাপে লিখতে থাকুন -- তবে ফোরামের নীতিমালার দিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের জবাব দেবার চেষ্টা করবেন -- অবশ্যই এই সৌজন্য আমরা সবাই অনুসরন করবো। অবশ্যই আমাদের বিনয়ী হতে হবে -- মুমিনদের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হবে বিনয়।

    যাই হোক -- আমাকে একটা প্রশ্ন করতেই হচ্ছে। আশা করি সংক্ষেপে একটা উত্তর দেবেন। আমি যদি আপনার ইমামকে ইমাম না মানি -- উনার কথা অনুসরন না করি -- তবে কি আমি "মুসলিম" হিসাবে বিবেচিত হবো -- নাকি অমুসলিম হয়ে যাবে?

  24. 9
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @শাহবাজ নজরুল:

    ১. আপনারা সাধারণ মসজিদে নামাজ পড়েন না কেন? ২. আপনারা অন্যভাবে নামাজ পড়েন কেন? ৩. আপনারা র্যাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এদের পরে দরূদ পড়েন কেন? ৪. আপনারা ইসলাম কে 'এসলাম' আর ইমাম কে 'এমাম' বলেন কেন?

    ১. সাধারণ-অসাধারণ বলে কথা নয়, আমরা সব মসজিদেই নামাজ পড়ি। কেননা মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমরা ঐসকল ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়ি না যারা ধর্মব্যবসার সাথে জড়িত। দ্বীনের কাজ করতে হয় নিঃস্বার্থভাবে। যারা দ্বীনের বিনিময় গ্রহণ করে তারা গুরুতর অন্যায় করেন। তাদের পেছনে নামাজ পড়ার অর্থ তাদের গুরুতর অন্যায়কে সমর্থন করা, তাদের অনুসরণ করা। কিন্তু কাদেরকে অনুসরণ করতে হবে তা আমরা কোর’আন থেকে জানতে পাই। ‘‘অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।’’ (ইয়াসীন ২১) সুতরাং যে মসজিদে নামাজ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করা হয় না, যিনি দ্বীনের কাজ করেন নিঃস্বার্থচিত্তে, তার সাথে জামাতে নামাজ পড়তে আমাদের আপত্তি নাই।

    যেহেতু প্রচলিত মসজিদগুলোতে যারা ইমামতি করেন তারা প্রায় সকলেই দ্বীনের বিনিময় গ্রহণ করেন তাই তাদের পেছনে নামাজ না পড়ে আমরা সুযোগ থাকলে নিজেরাই আলাদা জামাত করি বা ব্যক্তিগতভাবে পড়ি, অন্যথায় ঐ মসজিদে সুযোগ না থাকলে নিজেরাই আলাদা মসজিদ বানিয়ে সেখানে জামাতে নামাজ পড়ি।

    ২। আমরা আল্লাহর রসুলের শেখানো পদ্ধতিতেই নামাজ পড়ি। আমাদের ‘‘ইসলামের প্রকৃত সালাহ’’ বইটিতে নামাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে ইসলামের সঠিক আকীদা ও পদ্ধতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। হাদীসে যেমন বর্ণনা পাওয়া গেছে আমরা সেইভাবেই নামাজ পড়ে থাকি। ‘অন্যভাবে’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন তা পরিষ্কার করে বলতে হবে।

    ৩। রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ- এইসব মহামানবদের জীবনী পর্যালোচনা করে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁরা আল্লাহর নবী ছিলেন। তাদের গবেষণালব্ধ মতামতের উপর ভিত্তি করে ও আমাদের যুক্তিবুদ্ধি প্রয়োগ করে আমাদের কাছেও মনে হয়েছে এই মহামানবরা আল্লাহর নবীই ছিলেন। তাই আমাদের কোনো কোনো লেখায় এই মহামানবদের নাম উল্লেখের প্রয়োজন পড়লে আমরা নামের শেষে দরূদ লিখি, যেমনটা নবী-রসুলদের ক্ষেত্রে লেখা হয়।

    ৪। এটা আরবি শব্দের বাংলা বানানরীতির ব্যাপার। কিছুদিন আগেও আরবি জের এর উচ্চারণ বাংলায় ‘এ’ কার দিয়ে লেখা হত, পেশের উচ্চারণ লেখা হত ‘ও’কার দিয়ে, আর খাড়া জের অথবা জেরের বামে ইয়া সাকিন থাকলে তার উচ্চারণ ‘ই’ কার দিয়ে লেখা হত। এটা বহুল প্রচলিত বানানরীতি। এই রীতি মেনে এখনও অনেক উচ্চারণ আমারা অহরহ করে থাকি। যেমন- আলেম, যালেম, কাফের, মোসলেম, হেফাজত, এশা ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে এই উচ্চারণ রীতিটি ক্রমশই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে আরবি ভাষার উচ্চারণ থেকে দুইটি বর্ণ ‘এ’ এবং ‘ও’ বাদ পড়ে যাচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম এই বানানরীতিটি ধরে রাখতে। কিন্তু হেযবুত তওহীদের যারা কোনোকিছুই ভালো দেখেন না তারা অন্য সব ছেড়ে এই ‘বানানরীতি’ নিয়ে এমনভাবে উঠেপড়ে লাগল এবং একে কেন্দ্র করে মানুষকে যা-তা বোঝাতে লাগল যে, আমরা ‘অহেতুক বিতর্ক’ এড়ানোর জন্য বর্তমানে অনেকাংশেই এই বানানরীতি ব্যবহার করছি না।

    আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

  25. 8
    মহাজাগতিক

    মহম্মদ আসদ আলী দেখি অতি বিরাট এক ধান্দাবাজ। তার লেখাগুলো সবই শব্দবহুল আর ত্বত্ত্বের কচকচিতে ভরা, যেসব ত্তত্বের আগাপাছা গুলিয়ে গেছে। এটা মানুষ তো নয় বকরীর দলের নেতা যে কিনা দুনিয়ার সব মানুষকে বকরী ভাবে। একে কে বা কারা হিজবুতের বিছুটি লাগিয়ে দিয়েছে সেই জ্বালা তো দেখি থামছেই না। এগুলারে চটকানা দ্যায় না ক্যারে !!!!

  26. 7
    মজলুম

    ধাপ্পাবাজির জন্যে আবারো হাদিসের অর্ধেক কোট করা হয়েছে।

    ‘‘যারা ঐ দুর্বল হাদিসটি দেখিয়ে বোললেন- এই জাতি পথভ্রষ্ট হয় নি, মোমেনই আছে, মুসলিমই আছে, উম্মতে মোহাম্মদীই আছে তাদের আমি বিশ্বনবীর (সা.) ঐ হাদীসটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যেটায় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে তার উম্মাহ তেহাত্তর ভাগে ভাগ হবে যার একটিমাত্র হবে জান্নাতী, অর্থাৎ হেদায়াতে, সেরাতুল মোস্তাকীমে থাকবে, আর বাকি বাহাত্তর ভাগই হবে না’রি অর্থাৎ জাহান্নামী, হেদায়াত থেকে পথভ্রষ্ট। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার, সংখ্যালঘিষ্ঠতার কথাই আবার এসে যাচ্ছে। তেহাত্তর ভাগের বাহাত্তর ভাগ কত? শতকরা ৯৮.৬৩%। অর্থাৎ জাতির শতকরা ৯৮.৬৩ জন পথভ্রষ্ট, (প্রকৃতপক্ষে একেবারে বিপরীতগামী) জাহান্নামী এবং এর মাত্র ১.৩৭ জন জান্নাতী। শতকরা ১.৩৭ জন হেদায়াতে আছে বোলে যারা সমগ্র জাতি ‘পথভ্রষ্টতায় একত্রিত’ হয় নি বলে আত্মপ্রবঞ্চনা করবেন তাদের আর আমার বলার কিছু নেই।’’

    নজরুল ভাইয়ের উত্তরটা আগে দিয়ে দেন, তিরযিমীর হাদিসকে কিভাবে দূর্বল বললেন? পান্না গ্যাংয়ের ফেরকাবাজির বিপরীত হয় বলে সহীহ হাদিসকেও দূর্বল হাদিস বলতে এদের লজ্জা হয় না।
    ৭২ দলে বিভক্ত হওয়ার হাদিসটা অন্তত ১৫ জন সাহাবী বর্ননা করেছেন এবং তিরমিযী সহ মুসান ইবন আহমাদ, ইবনে মাজাহ সব অনেক হাদিস গ্রন্হে বর্ননা করা হয়েছে। পুরা হাদিস হলো, বনী ইসরাইলের লোকেরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত, এর মধ্যে ৭২ দল ই জাহান্নামে যাবে আর এক দল যাবে জান্নাতে। তখন সাহাবীরা প্রশ্ন করলো হে রাসূল(সঃ) সেই জান্নাতে যাওয়া দলটা কোনটা? রাসূল(সঃ) উত্তর দিলেন যারা আমি ও আমার সাহাবীদের অনুসরন করবে। তিরজিমী (২৬৪১)

    তাহলে দেখা গেলো জান্নাতে যাওয়া দলটা হবে রাসূল(সঃ) ও সাহাবীদের অনুসারী। এবার দেখুন হেজবুতীরা কি রাসূল(সঃ) এবং তার সাহাবাদের অনুসারী? হেজবুতের মূল এমাম! পান্না মুখে হলো ছাগলের মতো ফ্রেন্স কাটিংয়ের মতো দাঁড়ি। হেজবুতের বর্তমান এমাম! সেলিম হলেন পুরাই ক্লিন শেভ। পান্না গ্যাং দের কাউরই পোশাক আশাকে, দাড়িতে রাসূল(সঃ) ও সাহাবাদের মতো নয়। এমনকি এরা দাঁড়ি না রাখার পক্ষে ফতোয়া ও দিচ্ছে। গান বাজনা শোনা হারাম। কিন্তু হেজবুতিরা ফতোয়া দিচ্ছে গান শোনা হারাম নয়। রাসূল (সঃ) ও তার সাহাবীরা কখনোই গান বাজনা শোনেন নি। তাহলে দেখা গেলো হেজবুতিরা রাসূল(সঃ) ও সাহাবিদের অনুসারী নয়। সাহাবীরা মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ পড়তেন, সাহাবিদের মত নামাজ চার মাহজাবের সবাই নামাজ পড়ে, কিন্তু হেজবুতিরা আলাদাভাবে অদ্ভুদ ও উদ্ভটভাবে নামাজ পড়ে যা রাসূল(সঃ) ও সাহাবীরা করেন নাই।
    হেজবুতিরা রাম, বুদ্ব, কৃষ্ণ এর উপর দরুদ পড়ে, যা রাসূল(সঃ) ও সাহাবীরা করা নয়, ওরা করবে এটা ভাবাই যায় না।

    তাহলে দেখা গেলো হেজবুতিরা কোন ভাবেই রাসূল(সঃ) এবং সাহাবীদের অনুসারী নয়।

    এবার দেখি এই ফেরকার বিভাজন টা, এই ৭২ ফেরকা কিন্তু ইসলাম ও কুফরের বিভাজনটা না। এই ৭২ ফেরকা হলো ইসলামের অভ্যন্তরে। হাদিসে রাসুল(সঃ) বলেছেন আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। অর্থাৎ প্রত্যেক দলই রাসূলের উম্মাহ হওয়ার আশীর্বাদপ্রাপ্ত। আর রাসাূল(সঃ) উম্মতের কেউই কিন্তু কাফির না, কাফির রা রাসূল(সঃ) এর উম্মত নয়। তাই এই ৭৩ দলের সবাই মুসলিম, কারন এরা রাসূল(সঃ) এর উম্মত। কিন্তু এই ৭৩ দলে তারা নাই যারা মুহাম্মদ(সঃ) কে শেষ নবী মানেন না। বা যারা মনে করে কোরান শরীফে ভুল আছে। যেমন সব শিয়ারা কিন্তু এক নয়, শিয়ারাও মুসলিম। কিন্তু অনেক শিয়া আছে যারা মনে করে আল্লাহ মানুষের মধ্যে রুপান্তরিত হয়, যেমন নুসাইরী শিয়া, তারা এই ৭২ দলে নাই।অনেক শিয়া মনে কে আলী(রঃ) হলেন আসল আল্লাহ, তারাও এই দলে নাই। অনেক শিয়া মনে করে কোরান নাজীল হয়েছে হযরত আলী(রাঃ) এর উপর, কিন্তু জিব্রাইল (আঃ) ভুল করে মুহাম্মদ(সঃ) এর নাজিল করে ফেলেছেন। এরাও এই দলে নাই। অনেক শিয়া মনে করেন কোরান বিকৃত হয়ে গেছে, বর্তমানে আসল কোরান নাই। তারাও ঐ ৭৩ দলে নাই। কাদিয়ানিরা গোলাম আহমদকে শেষ নবী বলে মনে করে, তাই তারাও এই ৭৩ দলে নাই। আর এই ৭৩ দলে মাজহাবী, সালাফি, মওদূদিবাদি, চিশতিয়া, কাদেরিয়া, দেওবন্দী, ইখওয়ানি, কুতুবী, সুরুরি সবাই আছে। কোন দল বা মতবাদ যদি কুফরী মতবাদে বিশ্বাস করে তাহলে তাদের ইসলাম ইনভেলিড হয়ে যায় মানে কাফির হয়ে যায়। কাফের হয়ে গেলে তারা আর ঐ ৭৩ এর দলে নাই।
    এখান থেকে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ উসূল বের করা যায়। হাদিসে এক মুসলিমের উপরে অন্য মুসলিমের হকের কথা আলোচিত হয়েছে। তার মানে অন্য ফিরকার মানুষটিও সালাম পাওয়ার ও ফিরিয়ে দেওয়ার যোগ্য, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, মৃত্যুর পরে কবর জিয়ারত করা অপর মুসলিমের কর্তব্য। প্রত্যেক মুমিন ভাই ভাই। এই বিভাজনটা ইসলামের অভ্যন্তরে, বাইরে নয়।

    তাই ৭৩ ফিরকার মধ্যে এক ফিরকা সরাসরি জান্নাতে যাবে আর বাকী ৭২ গ্রুপ কিছুদিন জাহান্নামে থেকে তারপর জান্নাতে যাবে। কাফিরদের মতো চিরকাল জাহান্নামে থাকবেনা।
    আর যদি উম্মতের ৭২ দলই জাহান্নামে যায় তার মানে মুসলিমদের মধ্যে খুবই ছোট একটা দল হবে জান্নাতি। কিন্তু হাদীসে দেখা যায়, “ইন্না উম্মাতি উম্মাতি মারহুমাহ – নিশ্চয় আমার উম্মাহ রহমতপ্রাপ্ত, আশীর্বাদপুষ্ট”। রাসূল (সঃ) আরো বলেছেন, “জান্নাতের এক বিশাল অংশ হবে আমার উম্মত থেকে। আমার উম্মাহ এত বিশাল হবে যে, কোন নবীর উম্মাহ সংখ্যায় এর ধারে কাছেও থাকবে না”। রাসূল (সা) এর শাফায়াত গোটা মুসলিম উম্মাহ্‌র জন্য।

    এই ৭৩ ফিরকার হাদিস নিয়ে সবিস্তারে জানতে এই ব্লগ পোষ্টি দেখুন, একেবারে থিসিসের মতো ইনসাইড আউট করে ফেলা হয়েছে।

  27. 6
    মজলুম

    আমি ঠিক এই আশঙ্কাই করছিলাম যে, আমি যত সহজেই আমার বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করি না কেন, অনেকের বুঝতে অসুবিধা হবে। উল্টো বোঝার লোকের অভাব নেই। সে সুযোগ যাতে কেউ না পায় সেটা মাথায় রেখে আগের পোস্টটি অনেক লম্বা করে লিখেছিলাম। কিন্তু দুঃখের সাথে খেয়াল করলাম এতগুলো পাতা পড়েও লেখক আমার আশঙ্কাকেই সত্যে পরিণত করলেন।

    যত স্টাইলেই ধাপ্পাবাজি করেন না কেনো এখানে ধরা খাচ্ছেন এবং খাবেন, এখানে কেউই ইসলামের ব্যাপরে অজ্ঞ নয়, তাই এখানে ধাপ্পাবাজি করে পার পাবেনা না। সদালাপ ব্লগটাই চালু হয়েছে ধাপ্পাবাজদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্যে।

    আজকের যে জঙ্গিবাদ, যে সন্ত্রাসবাদ, যে ধর্মব্যবসা, যে সাম্প্রদায়িকতা, তা ইসলামের গত ১৩০০ বছরের বিকৃতির ফল

    এই লাইনেই তো আছে, বর্তমান ইসলাম হলো ১৩০০ বছরের বিকৃতির ফল। কোথায় লেখা আছে যে বিকৃত হতে হতে বর্তমানে প্রকৃত ইসলাম হারিয়ে গেছে???

    প্রথমত, আল্লাহ তাঁর বান্দার মধ্যে থেকে কাউকে ইমাম হিসেবে সত্যায়ন করতে কখনই মো’জেজা ঘটাবেন না- এমন কোনো প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা কোর’আন-হাদীসে নেই। তবে যদি কারো সংগ্রহে তেমন কোনো রেফারেন্স থাকে তাহলে জানালে উপকৃত হব।

    দ্বিতীয়ত, চার খলিফার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করলে হবে না। তখন একজনের পর অপরজন স্বাভাবিক নিয়মেই খলিফা হয়েছেন। বর্তমানের মত হাজার হাজার ভাগে বিভক্ত ছিল না মুসলমানরা। সুতরাং তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টভাবে কাউকে মো’জেজা ঘটিয়ে সত্যায়ন করারও দরকার ছিল না। মো’জেজার দরকার এখন।

    এখন থেকে ধাপ্পাবাজ বললে ভুল হবে, মহা ধাপ্পাবাজ বলতে হবে।
    ইসলামে নেতৃত হলো একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। ধাপ্পা ভবলেন যেহেতু মোজেজার মাধ্যমে নেতৃত্ব ইসলামে নাই, তাই একটু উল্টিয়ে বলি যে মোজেজা দিয়ে নেতৃত্ব যে হবেনা সেটা কি কোরান ও হাদীসে আসে? যেহেতু এই ধাপ্পাদের কোরান ও হাদিস নিয়ে সামগ্রিক জ্ঞান নেই তাই বলছে কেউ পারলে দেখান তো? মানে ধাপ্পারা সিউর হতে পারছেনা। ইসলামে নেতৃত্ব নিয়োগ দেবে মজলিশে সূরার মাধ্যমে, মজলিশের সূরার লোকগুলোও যেমন তেমন না কিন্তু। ইসলামে নেতৃত্ব কিভাবে নির্বাচন করা হবে তা এখানে পেপার দেখা যাক।

    চার খলিফার সাথে নাকি তুলনা করা হবে না, এখন। রাসূলে(সঃ) এর ওফাতের পর নেতৃত্ব নির্বাচনে খুব কঠিন সময় গিয়েছিলো, সেই জ্ঞান হেজবুতীদের না থাকলে কি আর করা। আবু বকর(রাঃ) এর ওফাতের পর ওমর(রাঃ) নির্বাচনের সময় অনেক ডিবেট চলেছিলো। উসমান(রাঃ), আলী(রঃ) এবং মুয়াবিয়ার(রাঃ) এর অবস্হা ভয়াবহ হয়ে গিয়েছিলো ফেরকাবাজদের কারনে। কে খলিফা হবে, কাকে নির্চন করা হবে, নাকি আগে উমর(রঃ) হত্যার বিচার হবে? নাকি উসমান(রাঃ) হত্যার বিচার করা হবে। মোজেজা দিয়ে যদি নেতৃত্ব নির্বাচন হতো তাহলে মোজেজা দিয়ে তখন আল্লাহ ঐ সব সমস্যার সমাধান করে দিতেন। খারেজী, সাবাঈদের ফেরকাবাজী তখন ভয়াবহ অবস্হায় ছিলো। আর ঐ সাহাবীরা ছিলেন আশরায়ে মোবাশ্বেরা বা সেরা দশ যারা জিন্দা থাকতেই বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
    কোন জিনিস যখন কোরান ও হাদিসে পাওয়া যায়না তখন সাহাবাদের সময়কাল দেখতে হয় যে তারা ঐ জিনিসটা কিভাবে করেছিলো। যদি সাহাবাদের মধ্যেও তা না পাওয়া যায় তাহলে তবেঈন দের জিবনী দেখতে হয়, যদি তাতেও না পাওয়া যায় তাহলে তাবে-তাবেইনদের জিবনী দেখতে হয়।

    কিন্তু মোজেজা দিয়ে নেতা হওয়ার নজির তাদের মাধ্যে নাই। কারন এই মোজেজাগুলো এখন সব ভন্ড বাবা, খাঁজাবাবারাও দেখায়। ব্লাক ম্যাজিক বা যাদুর দ্বারা ও এই ধূর্তামী করা যায়। আর যে কেউ এই ধূর্তামিকে মোজেজা বলে মুসলিমদের ইমাম সাজতে পারে ঠিক যেমন পান্না বাবা করছে। তাই ইসলামে মোজেজা দেখিয়ে নেতৃত্ব পাওয়ার নজীর নাই।

  28. 5
    মজলুম

    এই পোষ্টা পুরাটাই আরেকটা ধাপ্পাবাজি। শুরুতেই বলছেন মোজেজার মাধ্যমে আল্লাহ পন্নী কে ইমাম বানানের কথা যে আহমেদ ভাই বলছেন তা সঠিক নয়। বরং সঠীক হলো, মোজেজার মাধ্যমে আল্লাহ তিনটা বিষয় সত্যায়ন করেছেন। সেই তিন টা বিষয় হলো, হেজবুত গ্যাং হক, হেজবুত গ্যাংয়ের ধাপ্পাবাজ পান্না হক, হেজবুত গ্যাংয়ের মাধ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। আহমেদ ভাই তো ঠিকই বলেছেন। যেই লাউ সেই কদু।

    কথা হলো মোজেজা, এই মোজেজা অহরহ পাওয়া যায়, এর থেকেও ভালো! ভালো! মোজেজা ভন্ডদের কাছ হতে পাওয়া যায়।
    ১ঃ দেওয়ানভাগী ভন্ডদের মোজেজাগুলো
    ২ঃ দেওয়ানভাগী ভন্ডদের আরও মোজেজা আটরশী
    ৩ঃ হযরত সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা’বার মোজেজা

    এইসব ল্যাংটা বাবা, সাই বাবা, গাঁজা খাবা রা ঘন্টায় ঘন্টায় মোজেজা দেখায়, মোজেজা না বললে কি আর বলদ দের ভেড়াতে পারে নাকি?

    কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক তাতে ধাপ্পাবাজের অসুবিধা কি? কিছু বলদ তো আছে বিশ্বাস করার জন্যে। তবে হেজবুতি ভন্ডদের ধৃষ্টতা দেখলে অবাক হই, এরা রাসূল(সঃ) এর মোজেজার সাথে তাদের ভন্ড পান্নার ভন্ড মোজেজা নিয়ে তুলনা করে।

  29. 4
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    @মজলুম:

    সামান্য পরিমাণ লজ্জা থাকলে আমার পোস্টে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকতেন আপনি। আপনাকে অনেক আগেই বলেছি, ভদ্র ভাষায় কথা বলার যোগ্যতা যেদিন অর্জন করবেন সেদিন আমার পোস্টে কমেন্ট করতে আসবেন, আমি জবাব দিব। তবু আপনার লজ্জা হয় নাই।

    সদালাপ থেকে চলে যেতে বলার আপনি কে? এমন ধৃষ্টতা কীভাবে দেখান আপনি? এত অহংকার কেন? নাকি জোকের মুখে লবণ পড়ার মত, মিথ্যার মাথায় সত্যের আঘাত পড়েছে বিধায় দিশেহারা হয়ে গেছেন?

    রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র হেযবুত তওহীদের কর্মী ও সমর্থকরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই মুহূর্তে এদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকায় হেযবুত তওহীদই একমাত্র আন্দোলন যারা মাইক লাগিয়ে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ করে মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা শোনাচ্ছে, তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছে।

    হেযবুত তওহীদ সারা দেশে আছে, আপনি আছেন সদালাপে।

  30. 3
    মহিউদ্দিন

    আপনি বলছেন,

    “[চার খলিফার যুগে] বর্তমানের মত হাজার হাজার ভাগে বিভক্ত ছিল না মুসলমানরা। সুতরাং তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্টভাবে কাউকে মো’জেজা ঘটিয়ে সত্যায়ন করারও দরকার ছিল না। মো’জেজার দরকার এখন।”

    অর্থাৎ এখানেই বাজয়েজীদ পন্নীর মোজেজা। এমামুজ্জান। বিভক্ত জাতিকে এমাম বানিয়ের তার সত্যায়ন। 

    আপনি আরও বলেছেন,

    “হেযবুত তওহীদের ইমাম যে সত্য ইমাম, তিনি যে আল্লাহর মনোনীত বান্দা, আল্লাহ সেটাই মো’জেজা ঘটিয়ে ‘জানিয়ে’ দিয়েছেন। এটা আমাদের দাবি।”

    আহমদ সাহেব যা বলেছেন আপনি তাই বলছেন। সুতরাং এখানে অপপ্রচারের নামে আপনি কি প্রচার করতে এসেছেন? আমি সদালাপের সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কেননা আমি মনে করি এখানে সদালাপের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। 

    তারপর কত এলোমেলোভাবে যুক্তি চালাচ্ছেন –কেন? মুসলমানদের ব্যাপারে পন্নী ও পন্নীবাদিদের বিশদ্গার –এরা মুসলিম থাকে নি মুমিন থাকে নি ইত্যাদি কি বাপ-আর সন্তানের উদাহরণ হয়? পন্নী কি এই জাতির বাপ? মুসলিম জাতি নিয়ে এবং মোজেজার দাবী আপনারা যা করে যাচ্ছেন তা কি বাপ-সন্তানের বিষয়? মুসলিম জাতি কবে পন্নীকে বাপস্বরূপ মনে করল? আপনি জবাবের নামে এসব কি বলে যাচ্ছেন? আপনি আগের ‘জবাবে’ নিজেই প্রশ্ন ও প্রত্যয়ে এটাই বলেছেন,

    “এই জাতির পরাজয়, দাসত্ব লাঞ্ছনা কি এটাই প্রমাণ করে না যে আল্লাহ আর তাদের অভিভাবক নেই, আল্লাহ তাদের ত্যাগ করেছেন?”  তারপর পর বলেছেন “এই সত্যটি স্বীকার করতে হবে যে এই জাতি আর মোমেন নয়”।

    আপনার এমন ধরণের কথা আরও রয়েছে। যারা মুমিন/মুসলিম নয় তারা কারা? আপনার দল চালাকি করে এবং কৌশলে এদেরকে কাফিরই বলছে কিন্তু ভাসুরের নাম উচ্চারণ করছেন না, এজন্য যে কেউ যুক্তি গলা চেপে বলতে পারেন, “আমরা তো কাফির বলি নি”! এসব কী করছেন আপনারা? 

    তারপর  এম_আহমদ সাহেব যেখানে আপনার কথার উদ্ধৃতি দেন নাই (within speech marks) বরং আপনাদের বক্তব্যকে আপনাদের ধারণার আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন সেখানে সে কথা আপনার নামে নিয়ে জবাব বানিয়েছেন কিন্তু মূল কথা যে সত্যি তা আপনার বক্তব্যেই প্রমাণ পেয়ে যায়। দেখা যাচ্ছে দস্তুর মত ঝগড়া করতে চাচ্ছেন। 

    ধর্মান্তর স্থগিত হওয়াই বাঞ্ছনীয় –এটা আপনার লেখাতেই সুস্পষ্ট, এটা উদ্ধৃতির কোন বিষয় নয়। এবারেও আপনার কথায় সেই বক্তব্যের অর্থ প্রকাশ করে যাচ্ছে অথচ আপনি নির্বিঘ্নে যেন নিজেকে ডিফেন্ড করছেন আর অপর ব্যক্তিকে দোষারোপ করছেন। অপপ্রচারের নামে কি হচ্ছে এখানে?

    আপনার লিখার পুরাটই প্রপাগান্ডা।

  31. 2
    শাহবাজ নজরুল

    যারা ঐ দুর্বল হাদিসটি দেখিয়ে বোললেন- এই জাতি পথভ্রষ্ট হয় নি, মোমেনই আছে, মুসলিমই আছে, উম্মতে মোহাম্মদীই আছে তাদের আমি বিশ্বনবীর (সা.) ঐ হাদীসটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যেটায় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে তার উম্মাহ তেহাত্তর ভাগে ভাগ হবে যার একটিমাত্র হবে জান্নাতী,

    প্রথমত, আপনি তিরমিযীর হাদীসকে কেন দুর্বল বললেন? এই হাদিস ইসলামী বিধি ইজমা'র ভিত্তি দেয়। কোন ইসলামী স্কলার এই হাদীসকে দুর্বল বলেছেন জানালে বাধিত হবো। তাছাড়া হুদায়ফা (রাঃ) থেকে ফিতনার হাদিস বোখারীতে আছে যেখানে মুসলিমদের জামাতের মধ্যে থাকতে বলা হচ্ছে। হাদীসখানি তিরমিযী'র হাদিসের পরিপূরক। হুযায়ফা (রাঃ) এর হাদিস পড়লে তো মনে হচ্ছে আপনাদের হিজবুত তওহীদের কথাই ফিতনা হিসেবে বলছে।    

    Narrated Hudhaifa bin Al-Yaman: The people used to ask Allah's Apostle about the good but I used to ask him about the evil lest I should be overtaken by them. So I said, "O Allah's Apostle! We were living in ignorance and in an (extremely) worst atmosphere, then Allah brought to us this good (i.e., Islam); will there be any evil after this good?" He said, "Yes." I said, 'Will there be any good after that evil?" He replied, "Yes, but it will be tainted (not pure.)'' I asked, "What will be its taint?" He replied, "(There will be) some people who will guide others not according to my tradition? You will approve of some of their deeds and disapprove of some others." I asked, "Will there be any evil after that good?" He replied, "Yes, (there will be) some people calling at the gates of the (Hell) Fire, and whoever will respond to their call, will be thrown by them into the (Hell) Fire." I said, "O Allah s Apostle! Will you describe them to us?" He said, "They will be from our own people and will speak our language." I said, "What do you order me to do if such a state should take place in my life?" He said, "Stick to the group of Muslims and their Imam (ruler)." I said, "If there is neither a group of Muslims nor an Imam (ruler)?" He said, "Then turn away from all those sects even if you were to bite (eat) the roots of a tree till death overtakes you while you are in that state."     .

    ৭৩ ফেরকা থেকে ১.৩৭% বের করে বললেন যে

    শতকরা ১.৩৭ জন হেদায়াতে আছে বোলে যারা সমগ্র জাতি ‘পথভ্রষ্টতায় একত্রিত’ হয় নি বলে আত্মপ্রবঞ্চনা করবেন তাদের আর আমার বলার কিছু নেই।

    এখানে uniform ডিস্ট্রিবিউশন ধরে নেবার কারণ কি? এভাবে ধরেন, যে সুন্নি স্কুল (৪ মাজহাব ) হচ্ছে একমাত্র সঠিক ফেরকা, তাহলে আপনার শতাংশের হিসেবে কি দাঁড়ায়? জনসংখ্যা এর কথা মাথায় রাখেন।

    ১৩০০ বছর ধরে বিকৃত হতে হতে বর্তমানে প্রকৃত ইসলাম হারিয়ে গেছে।

    এখানে কি বলতে চাচ্ছেন পরিষ্কার করে বলেন। মনে করে সুন্নি স্কুলের ৪ ইমাম -- উনারা হিজরী সনের প্রথম আড়াই-শতকের (প্রায়) মধ্য পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আপনি কি বলতে চান যে ইসলাম এই ৪ ইমামের মাধ্যমে বিকৃত হয়ে বেরিয়েছে? কথার পরিষ্কার জবাব দেবেন, ত্যানা পেচাবেন না।

    অর্থাৎ হেযবুত তওহীদের ইমাম যে সত্য ইমাম, তিনি যে আল্লাহর মনোনীত বান্দা, আল্লাহ সেটাই মো’জেজা ঘটিয়ে ‘জানিয়ে’ দিয়েছেন। এটা আমাদের দাবি। আমাদের বই-পুস্তকে, লেখায়, বক্তৃতায় একথা আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে থাকি।

    এরকম দাবি মুসাইলেমাহ, কাদিয়ানী, বাহাউল্লাহ, জোসেফ স্মিথ সহ অনেকেই করেছেন। তাহলে লোকজন কিভাবে বুঝবে যে আপনারাই সঠিক ফেরকা আর সবাই বেঠিক? কিংবা একই ধরণের দাবি করলেও 'এমামুয্যামান' এর দাবীটিই যে একমাত্র সঠিক পথ -- তার নির্ণায়ক কি?   আপনি বারবার ঐক্যবদ্ধ হবার কথা বলছেন আর আদতে মুসলিমদের মসজিদ বয়কট করে তার জাগতিক প্রমান দিচ্ছেন। নামাজ পড়ার পদ্ধতি বদলিয়ে বলছেন ঐক্যবদ্ধতার কথা। এখানকার পাঠকদের কি এমন বেকুব পাইছেন যে তারা এই সাধারণ কথার প্যাচ বুঝতে পারেন না?

    আপনাকে আগের কোনো এক পোস্টে সহজ সরল কিছু প্রশ্ন রেখেছিলাম। কোনো কিছুর উত্তর দেন নাই। ভেগে গেছেন। ভন্ডরা ধরা খায় সহজ প্রশ্নেই। সত্যবাদী হয়ে থাকলে এই সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন তো ভাই।

    ১. আপনারা সাধারণ মসজিদে নামাজ পড়েন না কেন? ২. আপনারা অন্যভাবে নামাজ পড়েন কেন? ৩. আপনারা র্যাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এদের পরে দরূদ পড়েন কেন? ৪. আপনারা ইসলাম কে 'এসলাম' আর ইমাম কে 'এমাম' বলেন কেন?  

    পিছলাবেনা না। পিছলাইলে ধরে নেয়া হবে আপনারা ভন্ডের দল।

  32. 1
    মজলুম

    আপনি আসলেই একটা নির্লজ্জ, বেশরম লোক। তাজুল ভাইয়ের এক কমেন্টে বলেছিলো,

    “লজ্জ্বাশীলতা” ঈমানের অন্যতম প্রধান খুটি। এই হেজু তাওহীদের লজ্জ্বা-শরম নেই, এদের বুঝিয়ে লাভ হবে না।”

    একটু পরিমান লজ্জা শরম থাকলে এই ব্লগ ছেড়ে চলে যেতেন। সদালাপের লেখকদের প্রশ্নের সোজা জবাব না দিয়ে গোডাউন হতে লেখা এনে আহমাদ ভাইয়ের কয়েকটা লাইন উল্লেখ করে ঝোপের এপাশ ওপাশ পিটিয়ে পোষ্ট দেওয়া ধান্দাবাজি ছাড়া কিছু নয়।

    যাই হোক, এই লেখায় ও আগেরটার মতো অনেক ধাপ্পাবাজি। ধাপ্পাবাজিগুলো ধরিয়ে দিতে একটু পর আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.