«

»

Sep ২০

সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণের সময় এসেছে

বার্মার ভাষায় রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’। তাদের সেনাপ্রধান জাতিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক দিয়েছে। তার মানে তারা বাঙালিদের বিরুদ্ধেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আবার বাংলাদেশকে সামরিক ভাষায় উস্কানিও দিচ্ছে।

তাদের একজন বৌদ্ধ নেতা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বার্মার হাতে ছেড়ে দিতে বলেছেন, কারণ এগুলোকে তারা ঐতিহাসিকভাবে বার্মার ভূখণ্ড মনে করে। তাদের মগ সম্প্রদায় বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে এক সময় কী পরিমাণ অত্যাচার-লুণ্ঠন-গণহত্যা চালিয়েছিল তা ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন। আবারও তাদের শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে বাংলার মাটিতে। আরও চিন্তার বিষয় হচ্ছে বার্মা আর আগের মত পৃথিবীবিচ্যুত, একঘরে অবস্থায় নেই। চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইজরাইলের সমর্থন ও সহযোগিতা তাদের পাশে রয়েছে।

অন্যদিকে আমাদের পাশে কে রয়েছে? আমাদের জাতিকে কে ঐক্যবদ্ধ করছে? অদূর ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঈমানী দায়িত্ব মনে করে কয়টা লোক জান দিতে প্রস্তুত থাকবে?

এই আশা করে লাভ নেই যে, কোটি কোটি মানুষ ঘরের কপাট লাগিয়ে খাটের নিচে সিধিয়ে থাকবে, আর কয়েক লক্ষ মিলিটারি যুদ্ধ করে তাদের জানমাল রক্ষা করে দিবে। অতীতে তেমনটা ঘটে নাই। পুরো জাতি যদি মাতৃভূমির সুরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়তে না পারে তাহলে কোনো বাহিনীর একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। আর যদি পুরো জাতি সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় তাহলে তাদেরকে ঠেকিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। বড় বড় পরাশক্তিকেও কুপোকাত করার দৃষ্টান্ত আছে জাতির ঐক্য ও সাধারণ জনগণের সামরিক চরিত্রের কারণে। যেমন ভিয়েতনামে আমেরিকার মার খাওয়া, আফগানিস্তানে রাশিয়ার মার খাওয়া। তাই বর্তমানে যে কোনো পরাশক্তি যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে জাতিটাকে আগাগোড়া দেখে নেয়। মানুষগুলো যোদ্ধা চরিত্রের কিনা। ঐক্যবদ্ধ কিনা। তাদের নেতৃত্ব অবিসংবাদিত কিনা। নিশ্চিন্ত হতে পারলেই কেবল আগ্রাসন চালায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমরা আসলে দেউলিয়া।

আমাদের না আছে যোদ্ধা চরিত্র, না আছে অবিসংবাদিত কোনো নেতৃত্ব, আর না আছে শক্তিশালী ঐক্য। ফলে কেউ যদি আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালাতে চায় তবে এক মুহূর্তের জন্যও পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। হাসতে হাসতে বিজয়ী হবে।

কয়েকটি ঘটনা ঘটবে তা নিশ্চিত। নেতারা সবার আগে দেশ ছেড়ে পালাবেন। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যারা বিদেশে আছেন তারা একটু হাউখাউ করবেন, আর যারা পালাতে পারেন নি তারা চুপচাপ থাকবেন। জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের খতিব আসমানি বালা নাজেল করে শত্রুকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাবেন। সরকারকে চিপায় পড়তে দেখে বিরোধী দলগুলো হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। যুবসমাজ ঘরে বসে বসে ‘ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানস’ খেলবে। শত্রুর বোমায় ঘরবাড়ি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘর ছাড়বে না, লড়াই তো করবেই না। উদ্বাস্তু হয়ে সমুদ্রে নৌকা ভাসাবে। তারপর নৌকাডুবি হলে সমুদ্রের লোনা পানি খেতে খেতে ভাববে এর চেয়ে তো যুদ্ধ করে মরাই ভালো হত!

কিন্তু না, উদ্বাস্তু হবার পরে হুঁশ ফিরলে লাভ নেই। সিদ্ধান্তটা নিতে হবে এখনই। আমরা অবশ্যই যুদ্ধ চাইব না। তবে যুদ্ধকে ভয়ও পাব না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত থাকব। কেউ অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে পুরো জাতি একদেহ একপ্রাণ হয়ে লড়াই করব। আমাদের মধ্যে এই চেতনা জাগ্রত হলে, ১৬ কোটি মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং তাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকলে পৃথিবীর বুকে এমন শক্তি নেই যে বাংলার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে।

১ comment

  1. 1
    Titas Mohammad

    Our Army is strong enough to play role in global peace missions. So they should do something in the wake of Rohinga crisis.

Leave a Reply

Your email address will not be published.