«

»

Nov ১৩

নাস্তিকদের দেশে এত সমৃদ্ধি কেন?

নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন ইত্যাদি দেশের উদাহরণ টেনে ধর্মবিদ্বেষীরা বলেন, ওগুলো নাস্তিকদের দেশ, ওইসব দেশের মানুষরা ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামায় না, যারাও বা আস্তিক আছেন তারাও ধর্মকে নিছক ব্যক্তিগত, পারিবারিক কালচারের বাইরে কিছু ভাবেন না। অথচ দেশগুলোতে অপরাধ নেই, সন্ত্রাস নেই, দুর্নীতি নেই। দারিদ্র্য নেই, অশিক্ষা নেই। ধর্ম ছাড়াই দিব্যি দেশগুলো চলছে, তাহলে ধর্মের কী দরকার?

তাদের প্রতি আমার দাবি হচ্ছে, নেদারল্যান্ডস বা নরওয়ে বা সুইডেনের এতই যখন সমৃদ্ধি এসেছে তখন তাদের উচিত নয় সীমান্ত দিয়ে সেই সমৃদ্ধিকে কয়েকটি ক্ষুদ্র ভূখ-ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা। তাদেরকে বরং বলুন বর্ডার খুলে দিতে। তারা ঘোষণা দিয়ে দিক- আমাদের দেশ সবার জন্য। সব ধর্ম, বর্ণ, দেশ, জাতির মানুষের জন্য। যে কেউ আমাদের দেশে আসতে পারে, যতদিন ইচ্ছা বসবাস করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে যত ইচ্ছা টাকা কামাতে পারে। কোনো ভিসা লাগবে না, পাসপোর্ট লাগবে না। তারপর দেখা যাক তাদের শান্তি, সমৃদ্ধি কতদিন স্থায়ী হয়! জেনে রাখা দরকার- ইসলাম কিন্তু এই ঘোষণা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবেই দেয় কারণ ধারণাগতভাবে ইসলাম এসেছে সমস্ত মানবজাতির জন্য, কোনো নির্দিষ্ট ভূখ-ে সীমানাপ্রাচীরের শাসনে বন্দী হয়ে থাকার জন্য নয়।

দ্বিতীয়ত- নেদারল্যান্ডস, সুইডেন বা নরওয়ের প্রতি আরও দাবি হচ্ছে, তারা যে অভিনব আদর্শ দিয়ে এমন সমৃদ্ধ (?) দেশ গড়ে তুলেছে, অন্যায়, অপরাধ নির্মূল করে ফেলেছে সেটাকে বাকি পৃথিবীতেও প্রতিষ্ঠা করুক। কেবল নিজেরা সুখে থাকবে, অন্যদের কথা ভাববে না তা কী করে হয়? সারা পৃথিবী চুলোয় যাক, আমরা ভালো থাকলেই হলো- এরকম মানসিকতা থাকলে সে তো মানুষই না। তার উন্নতিই কি, সমৃদ্ধিই কি! নেদারল্যান্ডস কি পারবে বাকি পৃথিবীকেও তাদের মত শান্তি-সমৃদ্ধি দিয়ে ভরিয়ে তুলতে? নরওয়ে কি পারবে তাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাকে ছোট্ট ঐ ভূখ-ের পরিসরে আবদ্ধ না রেখে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে? সেই আশা কেউ করেন কি? অথচ ইসলামকে সেটাই করতে হয়েছে। 

বিশ্বনবী পারতেন কেবল মদীনাকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা দিয়ে ভরিয়ে রাখতে। তারপর চারদিকে শক্ত পাহারা বসিয়ে দিয়ে আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে! বাকি আরবে চলত আইয়ামে জাহেলিয়াত, সারা পৃথিবীতে চলত রোমান-পারস্যের অপশাসন। তাতে কী? রসুল তো ভালো থাকলেন, তাঁর সাহাবীরা তো সুখে থাকলেন! কিন্তু ইতিহাস বলছে আল্লাহর রসুল তা করলেন না। তিনি যে মহান আদর্শ নিয়ে এসেছেন সেই আদর্শ সমস্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, সমস্ত পৃথিবীতে ন্যায়, সাম্য, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে- এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন। তারই ফলে মাত্র ৬০-৭০ বছরের মধ্যে অর্ধেক পৃথিবীতে ন্যায়, সাম্য ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হলো। উল্লেখিত দেশগুলোও সেটা করে দেখাক। তাহলে বোঝা যাবে আসলেই ধর্ম ছাড়াও এমন আদর্শ সম্ভব যা পুরো মানবজাতিকে সর্বাঙ্গীন সমৃদ্ধি এনে দিতে সক্ষম।

আচ্ছা, নেদারল্যান্ডস এর মত দেশগুলোর সমৃদ্ধি যে ‘ধর্মহীনতার’ কারণে হয়েছে তারই বা নিশ্চয়তা কী? বাংলাদেশ তো পৃথিবীর গরীব দেশগুলোর অন্যতম। সেই দেশটারই একটি এলাকা হচ্ছে গুলশান-বনানী। সেখানে গিয়ে দেখুন অন্য রকম চিত্র। যেমন নিরাপত্তার কড়াকড়ি, তেমনি চোখ ধাঁধানো ইমারত। বিলাসবহুল হোটেল রেস্টুরেন্ট। ঝা তকতকে রাস্তায় দামী দামী গাড়ি সাই সাই করে চলছে। মনে হবে কতই না সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু আমরা সবাই জানি এই সমৃদ্ধি আমার আপনার মত সাধারণ মানুষের চোখের তৃপ্তি যোগাতে পারে মাত্র, তার বেশি কিছু নয়। এই সমৃদ্ধি ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ছোট্ট একটি শ্রেণির শ্রেণিগত সমৃদ্ধি! কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের বিনিময়ে মুষ্ঠিমেয় একটি শ্রেণির সমৃদ্ধির ইমারত গড়ে উঠেছে, যা কস্মিনকালেও সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, সারা পৃথিবীতে তো আরও নয়। 

আপনি কেবল ঝলমলে অট্টালিকা, ফ্লাইওভার, রাজপথ দেখবেন, কিন্তু এসবের যোগানদাতা বস্তিবাসীদের দেখবেন না তা কী করে হয়? ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের শিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর ক্ষুধা-দারিদ্র্য, অশিক্ষা-কুশিক্ষা আর নিরাপত্তাহীনতার বিনিময়ে গড়ে উঠেছে কয়েকটি নেদারল্যান্ডস। সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নেবার মত করে কয়েক শতাব্দী ধরে নেদারল্যান্ডস এর মত ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো আফ্রিকা, এশিয়ার দেশগুলো থেকে অর্থ-সম্পদ শোষণ করেছে। আজকে আমরা এই দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ, অনুন্নত দেশ, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ বলছি, কিন্তু কয়েক শতাব্দী আগেও এই দেশগুলোর সমৃদ্ধি দেখে পশ্চিমাদের চোখ ছানাবড়া হত। নিছক সামরিক শক্তিবলে জোর করে দখল করে সমৃদ্ধ এই ভূখ-গুলোকে কয়েক শতাব্দী ধরে শোষণ করে দেউলিয়া বানিয়ে ছেড়েছে পশ্চিমারা। এই অবস্থায় নামানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক শতাব্দীতেও এদের পক্ষে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আর এদের শোষণ করে তারা এতই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে যে, আগামী কয়েক শতাব্দীতেও তাদের হেসেখেলে চলে যাবে! তারাই সুইডেন, নরওয়ের মত কার্যত কিছু পর্যটন স্পট বানিয়ে রেখেছে অবকাশ যাপন তথা ফূর্তি করবার জন্য। কাল যদি পৃথিবীতে ধর্ম বলে কিছু নাও থাকে তাহলেও পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে হতে পারবে না, যেমন পারবে না বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জনপদ গুলশান-বনানী হতে।

একমাত্র ইসলামই পেরেছে সকল মানুষের মধ্যে শ্রেণিগত, বর্ণগত, ভৌগোলিক, ভাষাগত বৈষম্য দূর করে মানুষ হিসেবে সকলকে সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করতে। সবার জীবনে ন্যায়, সাম্য, সুবিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে। অর্থের সুসম বণ্টনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে। ভবিষ্যতেও একমাত্র ইসলামের পক্ষেই সম্ভব সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো।
 

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 6
    চমকপ্রদ

    ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতার সুফল দেখাতে হলে সুইডেন বা নরওয়েকে দেখিয়ে হবে না, বরং নাস্তিকতার মূল তীর্থভূমি ও উৎপত্তিস্থল কমুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে যাচাই করতে হবে। রাশিয়ার অবস্থা সকলেই জানেন। চীন অর্থনৈতিক উন্নতিতে সেরা হলেও তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানকার মানুষের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অধিকার তো দূরের কথা, বাচ্চা নেবার অধিকারও নেই। কারো একটির বেশি সন্তান হলে দ্বিতীয় বাচ্চাটিকে গর্ভপাত করা সেখানে বাধ্যতামূলক। আর উত্তর কোরিয়াতে তো কারো নি:শ্বাসের শব্দ শোনা গেলেও তার সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে গর্দান যাওয়া, আর সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে নেড়ি কুকুরের কামড়ে মৃত্যুবরণ। নাস্তিকতা তথা কমুনিজম মানব সভ্যতাকে নারকীয় বীভৎসতা ছাড়া আর কিছুই উপহার দিতে পারেনি। কিন্তু তাদের নির্লজ্জ ছানাপোনার দল ইসলামের মাঝেই মাইক্রোস্কোপ লাগিয়ে বর্বরতা খুঁজে বেড়ায়। নিজেদের বদনামটাই ইসলাম ও ইসলামের নবীর ঘাড়ে চাপাতে উঠেপড়ে লাগে।

  2. 5
    Shahriar

    @চমকপ্রদ ,

    Jajak-allahu khairan.. wonderfull explained brother. 

  3. 4
    চমকপ্রদ

    নাস্তিকরা যেহেতু ধর্ম ও নৈতিকতার বন্ধন থেকে মুক্ত, তাই তাদের পক্ষে মানুষের উপর জুলুম ও শোষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া সহজ। এ নিয়ে তাদেরও গর্ব করার কিছু নেই, আর আমাদেরও হীনমন্যতায় ভোগার কারণ নেই। তবে আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখতে পারলে এবং সত্যিকার মুসলিম হতে পারলে আমরাও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর অবাধ্যতা ও অন্যায়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও সফলতা ধর্মহীন বা ধর্মবিরোধীদের আসতে পারে, কিন্তু আমাদের সফলতা ঐ পথে নয়। আমাদের সমৃদ্ধি ও সফলতা আসবে আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার মাধ্যমে।

  4. 3
    Ahmed

    অগ্নিপূজক, ইহুদী অতপর মুসলিম দাবিদার। অথাৎ, "মুসলিম" মানে ধোয়া তুলশি পাতা!? তো, Fellow মুসলিমদের কারবালা হত্যাযজ্ঞ, সিফফিন, উটের যুদ্ধ….. কোন গ্রহ থেকে লোকজন এসে করে দিয়ে গেল সেটা বল্লেন না। আপনারা ভেবেছেন কাকের মত চোখ বন্ধ করলেই দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায়। 

    1. 3.1
      চমকপ্রদ

      আপনার এ মন্তব্যের জবাব সংশ্লিষ্ট স্থানে দিয়েছি। কিন্তু আপনি এখানে একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করাই আমিও একই জবাবটি এখানে হুবহু কপি পেস্ট করলাম:-

      আমরা কাকের মত চোখ বন্ধ করে রাখিনি, বরং আসল ইতিহাস জেনেশুনেই আপনার কথার জবাব প্রদানে অগ্রসর হয়েছি। কারবালার হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে আগেই বলেছি, ওরা ইসলামের অনুসারী মুসলিম ছিল না, বরং ছিল মুসলিম দাবিদার ক্ষমতালোভী চক্র। বর্তমানে অনেক মুসলিম নামধারী ব্যক্তি যেমন আপনাদের মত ধর্মবিদ্বেষীদের অনুগামী হচ্ছে, ওরা ছিল অনেকটা ঐ কায়দারই। সিফফিনের যুদ্ধে একটি পক্ষ ছিল সত্যিকার নবীপ্রেমিক মুসলিম, আরেকটি পক্ষ ছিল বিদ্রোহী মুসলিম, যা নবীর (সা.) হাদীসের একটি ভবিষ্যদ্বানী থেকে জানা যায়। শুধুমাত্র উটের যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমরা স্বীকার করি, এটা ছিল সত্যিকার মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত একটি ভুল বুঝাবুঝিজনিত অপ্রীতিকর ঘটনা। এ যুদ্ধে মুসলিমরা একটি কুচক্রী মহলের কারসাজিতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর সেই কুচক্রী মহলটি ছিল আপনাদেরই পূর্বসুরী, যাদের জন্য আপনারা আজও মায়াকান্না করে থাকেন। পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটা কি ফাঁদ পেতে ক্ষতিগ্রস্ত করার চাইতেও বড় অপরাধ? মানলাম, মুসলিম মানেই ধোয়া তুলসী পাতা নয়। কিন্তু মুসলিমরা বড়জোর এতটুকু দোষী হতে পারে যে, তারা অন্যের কূটচক্রান্তে রাগের মাথায় ফেতনায় জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ইবলিসের মত কুচক্রীপনা ও দাগাবাজি করে নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করার কাজ কোন মুসলিম করতে পারে না। আর কেউ যদি করেও থাকে, সে আর মুসলিম থাকে না। দয়া করে ইবলীস আর আদমকে এক পাল্লায় মাপবেন না।

      মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো অন্য গ্রহ থেকে কেউ এসে করে দিয়ে যায়নি, বরং মুসলিমদের আশপাশেই কিংবা মুসলিম সমাজের মাঝেই ঘাপটি মেরে থাকা ইহুদী ও মুনাফিক ষড়যন্ত্রকারীরা নাশকতার মাধ্যমে ঘটিয়েছে। তারা সুনিপুণভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো না ঘটে কোন উপায় ছিল না।

  5. 2
    নির্ভীক নাবিক

    খুব চমত্কার যুক্তি নির্ভর লিখুনি ! ধন্যবাদ 

  6. 1
    Ahmed

    দেখতে দেখতে ইসলামের বয়স প্রায় ১৫০০ বছর হয়ে গেল। এত বছর পরও পরিতাপের বিষয় যে আমরা এখনো ইসলামের পতাকা তলে একটি সিঙ্গাপুর, জাপান অথবা নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে বানাতে পরিনি। কথায় বলে "বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়"।
    জেনে রাখা ভাল : নবীজীর মৃত্যুর পর খোলাফায়ে রাশেদীন যুগে ৪ খলিফার ৩ জনই খুন হয়েছেন Fellow মুসলিমদের হাতে। উটের যুদ্ধ, সিফফিন, করবালা হত্যা যজ্ঞ। পরের ইতিহাস সবার জানা-  দেশ দখল, জিজিয়া কর। এই তো? 

    1. 1.1
      নির্ভীক নাবিক

      Ahmed ! হয়তো আপনি এতো বছরের  মুসলীম   ইতিহাসের শুধু  ত্রুটি তালাশে রয়েছেন  বিধায়  ভালোকিছু  দেখছেন না ! 

      1. 1.1.1
        Ahmed

        এ জন্য তো আপনারা আছেন, আমরা আরো বেশি জানতে চাই। রাজ্য শাসনে ইসলামের কী কী ভাল ক্ষতিয়ান আছে? একটু বয়ান করেন, শুনি।

    2. 1.2
      চমকপ্রদ

      Fellow মুসলিমদের হাতে কোন খলীফা খুন হননি। ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমর (রা.)-কে হত্যা করেছে এক অগ্নিপূজক আততায়ী। উসমান (রা.)-কে হত্যা করেছে ইহুদী ইবনে সাবার অনুসারী বিদ্রোহীরা। অবশ্য আলী (রা.)-এর হত্যাকারীরা মুসলিম দাবিদার ছিল। বর্তমানেও মুসলিমানদের মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র গোষ্ঠী আছে, যাদেরকে আমরা বিপথগামী চরমপন্থী সম্প্রদায় বলেই জানি। তবে এরূপ চরমপন্থী মাতাল টাইপের আবাল মার্কা কিছু লোক সব জাতির মধ্যেই থাকতে পারে। এই তো আপনাদের প্রিয় শান্তির দেশ সুইডেনেই এক খ্রিস্টান চরমপন্থী ব্যক্তি Islamization দেখে উদ্বিগ্ন ও দিশেহারা হয়ে এই Islamization ঠেকাতে গিয়ে এক উদ্ভট ও অভিনব Impulsive ঘটনা ঘটিয়ে বসে। তার একার ব্রাশফায়ারে নিহত হয় তার নিজ ধর্মেরই কয়েক ডজন নিরীহ মানুষ। আর কারবালার হত্যাকারীরা ছিল কায়েমী স্বার্থবাদী সেকুলার ক্ষমতালোভী মানুষ, যারা শুধু নামে মুসলিম ছিল, কিন্তু ধর্মানুসারী বা ধর্মানুরাগী ছিল না। বলাবাহুল্য, ধর্মের অনুসারী হলে কেউ ধর্মের নবীর প্রিয় ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারে না।

      1. 1.2.1
        Ahmed

        অগ্নিপূজক, ইহুদী অতপর মুসলিম দাবিদার। অথাৎ, "মুসলিম" মানে ধোয়া তুলশি পাতা!? তো, Fellow মুসলিমদের কারবালা হত্যাযজ্ঞ, সিফফিন, উটের যুদ্ধ….. কোন গ্রহ থেকে লোকজন এসে করে দিয়ে গেল সেটা বল্লেন না। আপনারা ভেবেছেন কাকের মত চোখ বন্ধ করলেই দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায়। 

        1. 1.2.1.1
          চমকপ্রদ

          আমরা কাকের মত চোখ বন্ধ করে রাখিনি, বরং আসল ইতিহাস জেনেশুনেই আপনার কথার জবাব প্রদানে অগ্রসর হয়েছি। কারবালার হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে আগেই বলেছি, ওরা ইসলামের অনুসারী মুসলিম ছিল না, বরং ছিল মুসলিম দাবিদার ক্ষমতালোভী চক্র। বর্তমানে অনেক মুসলিম নামধারী ব্যক্তি যেমন আপনাদের মত ধর্মবিদ্বেষীদের অনুগামী হচ্ছে, ওরা ছিল অনেকটা ঐ কায়দারই। সিফফিনের যুদ্ধে একটি পক্ষ ছিল সত্যিকার নবীপ্রেমিক মুসলিম, আরেকটি পক্ষ ছিল বিদ্রোহী মুসলিম, যা নবীর (সা.) হাদীসের একটি ভবিষ্যদ্বানী থেকে জানা যায়। শুধুমাত্র উটের যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমরা স্বীকার করি, এটা ছিল সত্যিকার মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত একটি ভুল বুঝাবুঝিজনিত অপ্রীতিকর ঘটনা। এ যুদ্ধে মুসলিমরা একটি কুচক্রী মহলের কারসাজিতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর সেই কুচক্রী মহলটি ছিল আপনাদেরই পূর্বসুরী, যাদের জন্য আপনারা আজও মায়াকান্না করে থাকেন। পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটা কি ফাঁদ পেতে ক্ষতিগ্রস্ত করার চাইতেও বড় অপরাধ? মানলাম, মুসলিম মানেই ধোয়া তুলসী পাতা নয়। কিন্তু মুসলিমরা বড়জোর এতটুকু দোষী হতে পারে যে, তারা অন্যের কূটচক্রান্তে রাগের মাথায় ফেতনায় জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ইবলিসের মত কুচক্রীপনা ও দাগাবাজি করে নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করার কাজ কোন মুসলিম করতে পারে না। আর কেউ যদি করেও থাকে, সে আর মুসলিম থাকে না। দয়া করে ইবলীস আর আদমকে এক পাল্লায় মাপবেন না।

          মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো অন্য গ্রহ থেকে কেউ এসে করে দিয়ে যায়নি, বরং মুসলিমদের আশপাশেই কিংবা মুসলিম সমাজের মাঝেই ঘাপটি মেরে থাকা ইহুদী ও মুনাফিক ষড়যন্ত্রকারীরা নাশকতার মাধ্যমে ঘটিয়েছে। তারা সুনিপুণভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো না ঘটে কোন উপায় ছিল না।

      2. 1.2.2
        Ahmed

        @ চমকপ্রদ : 

        সিফফিন, কারবালা হত্যা যজ্ঞ….. তাবৎ ইসলামী উদুর পিন্ডি বুধুর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে শেষমেষ আয়শা বিবির উটের যুদ্ধে এসে হোঁচট খেলেন!  আপনার রাসুলের অতি প্রিয় অন্য সব সাহাবীদের গায়ে অবলিলায় ইহুদি-নাসরা তকমা জুড়ে দিতে পারলেও আয়শার বেলায় শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা। হাস্যকর, নিতান্তই হাস্যকর চাতুর্যপনা। মুমিন মুসলমানরা তো ৫ বছরের খোকা, কে কখন তাদের হাতের মোওয়া ছিনিয়ে নেয় তা হেহুস মুমিনকুল বুঝে না। নাকি?

        নিরুপায় আপনি একটি হাদীসের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী রক্তারক্তি জায়েজ করতে যেয়ে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড় করলেন। হাদীসের ভবিষ্যদ্বানী যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে দিবালোকের মত প্রমান হয়ে যায়  যে এই ইসলামের জন্মই হয়েছে নিজেদের আভ্যন্তরিক কাইজা-ফ্যাসাদের জন্যই, যার সূচনা তথাকথিত ইসলামী স্বর্নযুগ খোলাফায়ে রাশেদীন থেকে।   ধন্যবাদ।

        1. 1.2.2.1
          চমকপ্রদ

          আপনার রাসুলের অতি প্রিয় অন্য সব সাহাবীদের গায়ে অবলিলায় ইহুদি-নাসরা তকমা জুড়ে দিতে পারলেও আয়শার বেলায় শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা। 

          সিফফিনের যুদ্ধে বিদ্রোহী পক্ষ অতিপ্রিয় সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন একপ্রকার 16th Division (১৬ই ডিসেম্বরের মুক্তিযোদ্ধা) এর অন্তর্ভুক্ত। তবে তাদেরকেও অবলীলায় ইহুদী-নাসারাদের দলভুক্ত করে দেয়া যায় না, বরং তারা ইহুদীদের দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিলেন মাত্র।

          মুমিন মুসলমানরা তো ৫ বছরের খোকা, কে কখন তাদের হাতের মোওয়া ছিনিয়ে নেয় তা হেহুস মুমিনকুল বুঝে না। নাকি?

          হ্যাঁ, শয়তানদের তুলনায় আদম সন্তান ৫ বছরের খোকাই বটে। ইবলীস যেমন আমাদের চেয়ে বয়সে লাখো বছরের বড়, অভিজ্ঞতা ও কুবুদ্ধিতেও তার কাছে আমাদেরকে ৫ বছরের শিশুই বলা যায়। মানুষ যদি শয়তানের সাথে বুদ্ধিতে পারত, তাহলে তো আমাদেরকে পৃথিবীতে আসাই লাগত না। একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কোন মানুষই জিন বা মানুষ শয়তানদের কূটচক্রান্ত থেকে রেহাই পেতে পারে না।

          নিরুপায় আপনি একটি হাদীসের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী রক্তারক্তি জায়েজ করতে যেয়ে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড় করলেন।

          হাদীসের ভবিষ্যদ্বানীতে মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ কাইজ্যা-ফাসাদকে জায়েয করবার কোন কথা নেই। বর্ণিত হাদীসে শুধুমাত্র একথা বলা হয়েছিল যে, "একটি বিদ্রোহী দল আম্মারকে হত্যা করবে।" অর্থাৎ, যে দলটি আম্মার (রা.)-কে হত্যা করবে, সেই দলটি বিদ্রোহী।

        2. 1.2.2.2
          Ahmed

          আসলে আল্লা, শয়তান…… এই কাল্পনিক বস্তুগুলো পয়দা করেছে নবী মোহাম্মদ স্বয়ং, সুতরাং সেই শয়তান মুসলমানদের ঘাড়ে বাসা বাঁধবে না তো কার ঘাড়ে বাঁধবে? এজন্যই আগেভাগেই ভবিষ্যদ্বানী- কে কাকে খুন করবে, যখম করবে, বাঁশ দিবে। মুমিন মুসলিমের কাইজ্যা/ফ্যাসাদ, কামড়া/কামড়ির ৭৩ ফেরকা হাদীস কি এমনি এমনি বয়ান করা হয়েছে। শান্তির!!?? ধর্ম!!?? বলে কথা। হা হা….

        3. 1.2.2.3
          চমকপ্রদ

          আপনার সর্বশেষ মন্তব্যের জবাবে আমার বক্তব্য নিম্নরূপ:-

          আপনার অবগতির জন্য বলে রাখি, আল্লাহ, শয়তান এই শব্দগুলো মুহাম্মদ (সা.) পয়দা করেননি, বরং মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের বহু পূর্ব থেকেই মানুষ এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত ছিল। এটা শেষ নবীর প্রবর্তন বা আবিষ্কার নয়।
          কাল্পনিক বস্তুর কোন শত্রু-মিত্র থাকে না, পক্ষে-বিপক্ষে কেউ সক্রিয় থাকে না। আল্লাহ যদি কাল্পনিক হতেন, তাহলে আল্লাহর নামে আপনাদের এলার্জি থাকতো না। আবার শয়তান যদি অস্তিত্বহীন কাল্পনিক কেউ হতো, তাহলে শয়তানের প্রতিও আমাদের বিরাগ বা ক্ষোভ থাকতো না।
          উটের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধের মত বিয়োগান্তক ঘটনাগুলোর পিছনে শয়তানের কারসাজি বলতে আমি মূলত মানুষ শয়তানের কারসাজিকেই বুঝিয়েছি। আর এই মানুষ শয়তানদের বুদ্ধির সূক্ষ্মতা ও কারসাজির দক্ষতা বোঝানোর জন্য জিন শয়তানের প্রসঙ্গ এনেছি, যেহেতু জিন শয়তানের সূক্ষ্মবুদ্ধি ও মানুষ শয়তানের সূক্ষ্মবুদ্ধি হুবহু একই রকম বা সাদৃশ্যপূর্ণ। জিন শয়তানের অস্তিত্বের বিষয়টি ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্তর্গত বিধায় হয়তো আপনারা ওটা মানতে চাইবেন না। কিন্তু মানুষ শয়তানদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্যাবোটাজ এবং Intelligence Activity সম্পর্কে নিশ্চয়ই কমবেশি জানেন। এই জিনিসটা এ যুগেও আছে, তখনকার যুগেও ছিল। শত্রুপক্ষের সূক্ষ্ম শয়তানী কারসাজির শিকার যে কেউ হতে পারে।
          মানুষ শয়তানদের মতিগতি থেকে জিন শয়তানের অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায়। আর মানুষ শয়তানের অস্তিত্ব অস্বীকার করার কোন সুযোগই নেই। আমি নিজেও মানুষ শয়তান দেখেছি, শয়তানের ফাঁদ ও কারসাজি মর্মে মর্মে অনুভব করেছি। যেমন দেখেছি পারিবারিক পর্যায়ে, তেমন দেখেছি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। পারিবারিক পর্যায়ে দেখেছি এক কুটনী বুড়িকে, যে আপনাদের মতন স্বঘোষিত নাস্তিক নয়, তবে প্রচণ্ড রকমের ধর্মবিদ্বেষী আর সেই সাথে মানুষের অকল্যাণকামী। বাচ্চাদেরকে ছলে-বলে-কৌশলে নানান ছুতায় ধর্ম থেকে ফিরিয়ে রাখে, নামাজ-কালাম থেকে দূরে রাখে। আমরা জানি, আল্লাহর স্মরণ ও আল্লাহর এবাদত থেকে সর্বাত্মক চেষ্টায় মানুষকে ফিরিয়ে রাখাটা হচ্ছে শয়তানের কাজ। দৃশ্যমান মানুষের মাঝে এমন শয়তানী প্রবণতা কি অদৃশ্য শয়তানের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়? আবার ঐ মানুষ শয়তানের তৎপরতা থেকে তো আল্লাহর অস্তিত্বটাও প্রমাণিত হয়। কারণ, আল্লাহ যদি মিথ্যাই হবেন, তাহলে ঐ কুটনী বুড়ির কী এমন ঠেকা পড়েছে যে, আল্লাহর এবাদত থেকে মানুষকে সরিয়ে রাখতে আদাজল খেয়ে ব্যতিব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন থাকতে হবে? উক্ত কুটনী বুড়ি পরিবারের ছোট-বড় সকলের মাঝে চোগলখুরীর মাধ্যমে ফেতনা-বিবাদ লাগিয়ে রাখে, যে কাজটাকে আমরা শয়তানের কাজ বলেই জেনে থাকি। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, ইহুদী লবি কিভাবে পশ্চিমা বিশ্ব সহ গোটা বিশ্বকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে। কিভাবে এক সম্প্রদায়ের সাথে আরেক সম্প্রদায়ের এবং এক রাষ্ট্রের সাথে এক রাষ্ট্রের যুদ্ধ-লড়াই বাধিয়ে দিয়ে নিজেরা দূরে থেকে তামাশা দেখছে! আজকে যারা পানি না ছুঁয়েই মাছ ধরে দেখাতে পারছে, তারা কি ১৪০০ বছর আগে কারসাজি ও স্যাবোটাজের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ বাধাতে অক্ষম ছিল?

           

        4. 1.2.2.4
          চমকপ্রদ

          @ Ahmed,

          শয়তান বলতে যদি কারো অস্তিত্ব না থেকে থাকে, তাহলে আপনাকে দিয়ে এসব মাতলামি করাচ্ছে কে? কেই বা আপনাকে এসবে উৎসাহ যোগাচ্ছে? আর আল্লাহ বলতে যদি কেউ না থেকে থাকেন, তাহলে আমাদেরকে দিয়ে আপনার অপপ্রচার ও কুযুক্তির পাল্টা উপযুক্ত জবাব প্রদান করিয়ে আপনাকে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছেন কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.