«

»

Feb ১৩

হেযবুত তওহীদ যে নবজাগরণ (রেনেসাঁ) সৃষ্টি করতে চায় (০১)

ধর্মীয় দর্শন ও বৈজ্ঞানিক সূত্র উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে অন্য সব প্রাণীর মৌলিক তফাৎ রয়েছে। এবং এটা সর্বজনস্বীকৃত, বৈজ্ঞানিকভাবেও স্বীকৃত। মানুষ একটি অসাধারণ সৃষ্টি। কোনো প্রাণীর প্রখর ঘ্রাণশক্তি আছে, কিন্তু তার সেরকম প্রখর দৃষ্টিশক্তি নেই। কোনো কোনো প্রাণীর দৃষ্টিশক্তি সাংঘাতিক কিন্তু সে আবার বর্ণান্ধ। কারো গায়ে অনেক শক্তি কিন্তু তার শ্রবণশক্তি ক্ষীণ। কিন্তু মানুষ হচ্ছে এমন এক সৃষ্টি যার মধ্যে সকল প্রাণীর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি সমন্বয় ঘটেছে। মানুষের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্ক দিয়ে সে চিন্তা করে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে।

আরেকটি অসাধারণ, বিস্ময়কর সত্ত্বা মানুষের মধ্যে বিরাজ করে, সেটা হচ্ছে তার আত্মা যাকে কেউ বলেন বিবেক, চিন্তাশক্তি, উপলব্ধি করার ক্ষমতা, দূরদৃষ্টি, মন ইত্যাদি। আল্লাহর ভাষায় এটাই হচ্ছে রূহাল্লাহ বা আল্লাহর আত্মা যার মধ্যে আল্লাহর যাবতীয় গুণাবলীর সঙ্গে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিও রয়েছে, যদিও তা অতি ক্ষুদ্র মাত্রায়। বস্তু হলে তা চোখে দেখা যায়, তার আয়তন ভর পরিমাপ করা যায়। কিন্তু যা অবস্তু যেমন কোনো সঙ্কট, সেটা কত বড় সঙ্কট, তার ভয়াবহতা কী তা মস্তিষ্ক দিয়ে বুঝতে হয়, আত্মা দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। যদি কারো সম্মানের ব্যাপার হয় তাহলে সেই সম্মানের মাহাত্ম্য, উচ্চতা উপলব্ধি করতে হয় হৃদয় দিয়ে। যে জাতির চিন্তার জগতে স্থবিরতা নেমে আসে তাদের মৃত্যু অবধারিত হয়ে যায়। কিন্তু সমাজের শিক্ষিত শ্রেণিটি আধুনিকতার অহংকারে এতটাই স্ফীত হয়ে আছে যে, তারা এই সভ্যতাকে এই সমাজকে প্রগতিশীল সমাজ বলে। কারণ এই সময়ে মানুষ এত প্রযুক্তিগত উন্নতি করেছে যা দেখে তারা বিমুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করছে যে আমরা এখন সভ্যতার শিখরে উঠে পড়েছি। সে একশ-দেড়শ তলা হাইরাইজ বিল্ডিং বানাচ্ছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বর্তমানের চেয়ে বেশি স্থবিরতা, সমাজে ও মগজে এত আবদ্ধতা, এত সংকীর্ণতা মানব ইতিহাসে আগে কখনো হয়েছে কিনা সন্দেহ।

এটা মানুষকে উপলব্ধি করতে হবে, মানুষের সবচেয়ে বড় পরাজয় ঘটে কখন? যখন সমাজ অন্যায় অবিচারে পূর্ণ অথচ মানুষ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, ভিতরে প্রতিবাদের চেতনাও জাগ্রত হয় না, তখনই মানুষের সবচেয়ে বড় পরাজয়। যখন দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা, মজলুমের উপর জালেমের নির্যাতন মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে না তখন তো তার মনুষ্যত্বের সকল অহঙ্কার চূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা। এমতাবস্থায় সে কীভাবে সভ্যতা ও প্রগতির অহংকার করে? আজকে প্রতিটি সমাজে, প্রতিটি দেশে মানুষ অন্যায়ের কাছে দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণ করেছে। সে অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে, স্থবির হয়ে গেছে। সে তার চোখ, কান, মুখ সব বন্ধ করে ফেলেছে। সে আর দশটা পশুর মতো কেবল জীবনধারণে ব্যস্ত। ব্যক্তিগত আয়ুটাকেই সে জীবন মনে করছে। মানুষ এখন মৃত।
আজকের এই সময়টির দিকে যদি আমরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করি, যদি কান পেতে শুনি, যদি আমাদের হৃদয় দিয়ে সময়টাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি, যদি আমাদের চিন্তাশক্তি দিয়ে বিবেচনা করি তাহলে আমরা সম্যকভাবে জানতে পারব যে আমি নিজে কী অবস্থায় আছি এবং গোটা মানবজাতি কী অবস্থায় আছে। এই ঘোর অমানিশা, এই দুর্দশা দেখে সুস্থমস্তিষ্ক মানুষ আজ দিশেহারা। পৃথিবীতে এই মুহুর্তে ষোলো হাজার এটমবোমা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মানুষকে হত্যা করার জন্য। হিরোশিমা-নাগাসাকির ক্ষত এখনও শুকায় নি। সা¤্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলো নিত্য নতুন ভয়াবহ সব মারণাস্ত্র তৈরি করে মহড়া দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত একে অপরকে পাড়ার মাস্তানের ভাষায় হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। সীমান্তে সীমান্তে চলছে সংঘর্ষ রক্তপাত। সামরিক বিশেষজ্ঞ, নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ এবং সমাজ বিজ্ঞানীরা যে কোনো মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনার কথা উদ্বেগের সঙ্গে প্রকাশ করছে। সাম্প্রদায়িক উস্কানি, হানাহানি, স্বার্থের রাজনীতি সমস্ত দুনিয়াটাকে একটা নরককুণ্ডে পরিণত করেছে। এ যেন মহাকবি দান্তের সেই ইনফার্নো। 

এই যে ধ্বংসযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুনিয়াজুড়ে তা থেকে আমাদের এই দেশটিও বিচ্ছিন্ন নয়। এই বাংলার মাটিতে আমি জন্ম নিয়েছি। এ মাটিতে আমার পূর্বপুরুষের অস্থিমজ্জা মিশে আছে। ১৯৭১ সালে এর পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের বীর জনতা দেশটাকে স্বাধীন করেছিল। সেই থেকে প্রায় অর্ধ-শতাব্দী অতিক্রান্ত হতে চলল। আজকে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে নিয়েও ভেতরে-বাইরে নানাপ্রকার ষড়যন্ত্র চলছে। এখানে জঙ্গিবাদী তাণ্ডব সৃষ্টি করে, উগ্র সাম্প্রদায়িকতার প্রদর্শনী ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র সৃষ্টির সাম্রাজ্যবাদী পাঁয়তারা চলছে। সূত্র হচ্ছে এখানেও প্রায় ৯০% মানুষ ধর্মপরিচয়ে মুসলমান, আর বিশ্বজুড়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলামানদেরকে মানবতার শত্রু বলে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে এবং তাদের দেশগুলো একে একে নানা কায়দায় আগ্রাসন চালিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হচ্ছে, দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হলে আমাদের সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ কোথাও সরকার একা তার দেশকে পশ্চিমা সামরিক আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে পেরেছে এমন নজির একটিও নেই। ষোলো কোটির এই জাতি যদি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একতাবদ্ধ হয়ে যাবতীয় জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, ধর্মব্যবসা ইত্যাদি অপশক্তিকে রুখে দেয় তাহলেই সম্ভব হবে দেশকে রক্ষা করা, কেননা সাম্রাজ্যবাদীরা জাতীয় অনৈক্য ও বিভাজনের সুযোগ নিয়েই সেখানে অনুপ্রবেশ করে থাকে।  

আমাদের দেশের সরকারগুলোও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই শক্তি প্রয়োগ করে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা প্রমাণিত সত্য যে, শুধু শক্তি প্রয়োগ করে মতবাদগত সন্ত্রাস কখনও নির্মূল করা যায় না। একটি অন্যায়, অবিচারপূর্ণ সমাজের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যুগে যুগে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে, কেউ তাদের সন্ত্রাসের পক্ষে ধর্মকে আশ্রয় করেছে, কেউ জাতীয়তাবাদকে, কেউ সাম্যবাদকে। আমরা হেযবুত তওহীদ ২০০৯ সন থেকে সরকারের প্রতি প্রস্তাবনা পেশ করে আসছি, পত্র-পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে, বই পুস্তক প্রকাশের মাধ্যমে, জনসভা-সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে বলে আসছি যে জঙ্গিবাদীরা যে আদর্শ (Ideology) মানুষের সামনে উপস্থাপন করে তাদেরকে প্রভাবিত করছে আমাদের উচিত সেই আদর্শের ত্রুটিগুলো মানুষের সামনে যুক্তি প্রমাণ ও ধর্মীয় রেফারেন্স দিয়ে (Counter Narrative) সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা যেন মানুষের ধর্মীয় চেতনা ভুল পথে, মানবতাবিধ্বংসী পথে পরিচালিত না হয়। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে ট্যাকটিক্যাল ওয়ার বা কৌশলগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পাশাপাশি Ideologicla war বা আদর্শিক লড়াইও অপরিহার্য। কেননা ধর্মীয় চেতনার অপব্যবহার এমনই একটি বিষয় যা কেবল বুলেট বোমা দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এই ধর্মীয় চেতনার অপপ্রয়োগ, ধর্মের উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যার বিপরীতে ধর্মের প্রকৃত আদর্শ তুলে ধরাই আমাদের মূল কাজ যার মাধ্যমে এই সকল বিষবৃক্ষকে শেকড়সুদ্ধ মানুষের মগজ ও হৃদয় থেকে উপড়ে ফেলা, পাশাপাশি যে ধর্ম মানুষকে উন্নত জীবে পরিণত করে, প্রগতিশীল করে, ভারসাম্য দেয়, ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আত্মিক প্রেরণা দান করে সেই শিক্ষাগুলোকে মানুষের সামনে মেলে ধরা। তাহলেই আবার এ জাতির মধ্যে চিন্তার জাগরণ হবে, মগজের বন্ধ দরজাগুলো খুলে যাবে, নতুন করে আবার তারা একটি রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটাবে।

যখন কোনো সমাজ অচলায়তনে পরিণত হয়, প্রথাগুলো প্রগতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডূকতা প্রবল শক্তিমান হয়ে ওঠে, অযৌক্তিক বিজ্ঞানহীন চিন্তাচেতনায় মাকড়শার জালে বন্দী পতঙ্গের ন্যায় সমাজ ছটফট করতে থাকে তখন সেই জালকে ছিন্ন করতে আবির্ভূত হন কিছু দৃষ্টিবান মানুষ যারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার জন্য। তারা ইতিহাসের গতিপথকে পাল্টে দেন। তাদের এই সম্মিলিত আঘাতকে বলা হয় রেনেসাঁ। মানবজাতি বারবার এই রেনেসাঁর অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে মানবসভ্যতার চিন্তাজগতে সাম্প্রতিকতম রেনেসাঁটি হয়েছিল ইউরোপে। আধুনিক এই সভ্যতার জন্ম হয়েছিল সেই রেনেসাঁর হাত ধরেই। মানুষের হৃদয়ে তখন পরিবর্তনের বাসনা তীব্র হয়ে উঠেছিল, কারণ মানুষ তাদের সঙ্কট উপলব্ধি করেছিল। আর পরিবর্তনের এই তীব্র বাসনাটাই ছিল ওই রেনেসাঁর প্রধান নিয়ামক।

৩ comments

  1. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এই লেখালেখি কি আপনার জীবিকার জন্যে করেন? আপনি যদি তাই করেন তবে আমার পরামর্শ -- এই কাজ ছেড়ে অন্যকাজ করুন। 

    1. 1.1
      মোহাম্মদ আসাদ আলী

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন  বর্তমানে ধর্মের কাজ টাকা ছাড়া হয় না বলেই কি আমাদের ব্যাপারে আপনার এমন নিচু মানসিকতা? তাহলে জেনে রাখুন- হেযবুত তওহীদ টাকার জন্য কিছু করে না। হেযবুত তওহীদ যা করে আল্লাহর জন্য, আল্লাহর দ্বীনের জন্য করে। আর আমাদের লেখালেখিকে এত ভয় কিসের? আমরা তো পথভ্রষ্ট গোমরাহ দল, ফিতনার দল। আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে হাস্যকর ও অযৌক্তিক কথাবার্তা! তাহলে আপত্তি কেন? অযৌক্তিক কথা হলে মানুষ গ্রহণ করবে না, যৌক্তিক হলে গ্রহণ করবে- এখানে কণ্ঠরোধ করার কী আছে?

      1. 1.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনাকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম -- এইটা আপনার পেশা কিনা না? অনেক স্ক্রীপ রাইটার থাকেন যারা কোন দলের বা ব্যক্তি পক্ষে লেখেন -- অনেক সাংবাদিক কোন দলের বা ব্যক্তি পক্ষে লিখে জীবিকা নির্বাহ করেন। সব অফিসের একজন পিআরও আছেন যিনি তার অফিসের পক্ষে লেখেন -- জনসংযোগের কাজ করেন। আপনি সেই রকমের কোন পদে আছেন কিনা সেইটা জানতে চাইছিলাম -- আর আপনি আমাকে নীচু মানসিকতার কথা বললেন, এ্‌ইটা কি পক্ষান্তরের আপনার স্বীকারোক্তি কিনা তা বুঝতে পারছি না।  আপনি বলছেন হিজবুত টাকার জন্যে কিছু করে না -- কিন্তু বলেননি আপনি কি টাকার জন্যে কিছু করেন কিনা -- সিরাতুল মুস্তাকীমের দাবীদার মানুষ হয়ে সোজা ভাষায় জবাব দিতে পারলেন না -- কারন কি? 

        তবে আপনি এই কথা বলতে গিয়ে একটা বিপজ্জনক কাজ করেছেন -- তা হলো --

        বর্তমানে ধর্মের কাজ টাকা ছাড়া হয় না বলেই কি আমাদের ব্যাপারে আপনার এমন নিচু মানসিকতা? 

        -- আমার জানামতে তবলীগ জামায়াতের লক্ষ লক্ষ কর্মী নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে দাওয়াতের কাজে লিপ্ত -- আপনি তাদের বিষয়ে একটা মিথ্যা অপবাদ দিলেন। এইটা কি কোরানের শিক্ষা পরিপন্থী কিনা? যেখানে আল্লাহ বলেন -- 

        মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। (সুরা হুজরাত -- আয়াত ১২) 

        আপনি বড় বড় বয়ান দিচ্ছেন -- কিন্তু আপনারতো ভাই চেরাগের তলেই অন্ধকার -- শুধু নিজের গোষ্ঠীকে সহী মনে করে বাকী সকল মুসলিমদের নামে আন্দাজে গিবত করছেন। 

         

Leave a Reply

Your email address will not be published.