«

»

Dec ১৫

তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কিছু নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর (১)

(বি: দ্র:কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। পরবতী পোষ্ট বিস্তারিত জবাব দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ)

প্রশ্ন : ১
অনেকে বলে থাকেন,
তাবলীগ জামাত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে?
জ্বি করে তবে ইলিয়াসী পদ্ধতিতে!

উত্তর :

ইলিয়াসী পদ্ধতি কি ???

“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)

“ তার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে, যে মানুযকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)

নবী মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
« مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا »
“যে হেদায়েতের প্রতি আহবান জানায়, তার জন্য তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, তবে তা তাদের সওয়াব থেকে কোন কিছু হ্রাস করবে না। আর যে পথভ্রষ্টতার প্রতি আহবান জানায়, তার ওপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ পাপ আরোপিত, তবে তা তাদের পাপ থেকে কোন কিছু হ্রাস করবে না।” [মুসলিম(২৬৭৪)]
………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ২
কোথা থেকে আসল এই পদ্ধতি ???

স্বপ্ন থেকে … কিন্তু দলীল ???

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুওয়তে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, বাকী আছে কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ)।
সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: ভাল স্বপ্ন।
…………………………………………………………………………………..
প্রশ্ন : ৩

আর কারো কি এই রকম স্বপ্ন ব্যপারে কোন ঘটনা আছে ???

আছে। যেমন …

ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেন, একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একটি হাতপাখা দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহে মোবারকে বাতাস করছি এবং তাঁর দেহ মোবারক থেকে মাছি তাড়াচ্ছি। একজন অভিজ্ঞ স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তদুত্তরে বললেন, তুমি এমন কোন কাজ করবে যার দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা ও জাল কথা সম্পৃক্ত করার ঘৃণ্য প্রয়াস মূলোৎপাটিত হবে।” বস্তুত উক্ত স্বপ্নই সহীহ বুখারী লিখতে আমাকে অনুপ্রাণিত করে। (হাদিউস সারী ৯:৬৫)
……………………………………………………………………………………………………………………..
প্রশ্ন : ৪

ফাযায়েলে আমলে যে অনেক ঘটনা দেখা যায় সেগুলোর ব্যাপরে কি বলবেন ???

উত্তর :

হাদীসে আছে,
عن عبد الله بن عمرو : أن النبي صلى الله عليه و سلم قال بلغوا عني ولو آية وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج (صحيح البخارى، كتاب الانبياء، باب ما ذكر عن بني إسرائيل، رقم الحديث-3274)
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, “আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। আর বনী ইসরাঈলের বিষয় বর্ণনা কর, কোন সমস্যা নাই”।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬২৫৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৬৬৪, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৮৪৮}

এখানে দ্বীন প্রচারের সুবিধার জন্য যদি বনী ইসরাঈলের বিষয়ে বর্ণনা করা দোষের না হয়, তবে দ্বীন প্রচারের সুবিধারন জন্য উম্মতে মোহাম্মদীর ভিতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রচারে সমস্যা কোথায় ???

শাইখুল হাদীস আল্লামা শায়েখ জাকারিয়া রহঃ এর লিখা “ফাযায়েলে আমাল” কিতাবটিতে তিনি ফাযায়েল সম্পর্কিত বেশ কিছু হাদীস বিভিন্ন হাদীসের কিতাব থেকে একত্র করেছেন। সেই সাথে বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনে ঘটে যাওয়া ঈমান উদ্দীপক কিছু ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন।
ঘটনা মূলত ঘটনাই। এর দ্বারা কোন বিধান সাব্যস্ত হয়না। আর বুযুর্গানে দ্বীন থেকে ঘটিত আশ্চর্য ঘটনাবলী কোন শরয়ী দলিল নয়, কিন্তু ঈমান উদ্দীপক। যার মাধ্যমে আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এগুলোতে অযথা শিরক খোঁজাটা বোকামীর শামিল। সেই সাথে শিরকের অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক।

আশ্চর্য ঘটনাবলী বা বুযুর্গানে দ্বীনের কারামাত বুযুর্গানে দ্বীনের নিজের ইচ্ছাধীন নয়। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। যদি কেউ মনে করে যে, কারামাত বা আশ্চর্য ঘটনাবলীর ঘটানোর মূল ক্ষমতা বুযুর্গের, তাহলে এটা শিরক হবে, এতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু একথাতো ফাযায়েলে আমালের কোথাও লিপিবদ্ধ নাই যে, কারামাতগুলো ঘটানোর ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বুযুর্গের। তাহলে এসব ঘটনা শিরক হল কিভাবে?

বনী ইসরাঈল হল হযরত মুসা আঃ ও হযরত ঈসা আঃ এর উম্মত বা জাতি। যদি হযরত মুসা ও ঈসা আঃ এর জাতির ঘটনা বর্ণনা করাতে কোন সমস্যা না থাকে, তাহলে শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম উম্মত, উম্মতে মুহাম্মদীর বুযুর্গানে দ্বীনের ঈমানদীপ্ত ঘটনা বর্ণনা করা শিরক বা দোষণীয় হয় কি করে?
তাহলে কি গায়রে মুকাল্লিদদের মতে উম্মতে মুহাম্মদীর চেয়ে বনী ইসরাঈলরা বেশি মর্যাদার অধিকারী? বা বেশি শ্রেষ্ঠ? বেশি বুযুর্গ?
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ৫

আপনাদের পাঠ্যক্রমে কুরআন ও প্রচলিত হাদীস গ্রন্থ যেমন বুখারী, মুসলিম, আবূ দাঊদ ইত্যাদি এমনকি রিয়াদূস সালেহীন এর মত কোন গ্রন্থের উল্লেখ নেই। আপনাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ হল, আপনারা তাফসীরগ্রন্থ পড়তে নিষেধ করেন।

উত্তর :

এটা মাদ্রাসা নয় যে হাদীসগ্রন্থগুলো তালিম দেয়া হবে। এখানে কিছু কিতাব লিখা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের জন্য আসা মানুষগুলোর মাঝে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার আকাঙ্খা সৃষ্টি হয়।

আমাদের মধ্যে কুরআন এর তাফছীর পড়াতে কোন নিষেধ নেই। হাদীস পড়তে কোন নিষেধ নেই। ইসলামী গ্রন্থ পড়তে নিষেধ নেই। তবে যে লোকটি এখনো অ, আ, ক, খ পড়তে শিখেনি। তাকে যদি একটি সাহিত্য গ্রন্থ দেয়া হয় তাহলে সেতো পড়তে পারবে না বরং তাকে দিতে হবে একটি আদর্শলিপি। যাতে সে পড়া শিখতে পারে। তদ্রুপ আমাদের জামায়াতে যে সমস্ত ভাইয়েরা আসেন তারা যাতে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের পড়া শিখতে পারে তার জন্য সে অনুযায়ী ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাব হাদীস, হায়াতুস সাহাবা ইত্যাদি গ্রন্থ পড়তে দেয়া হয়। ফাযায়েল অর্থ হলো লাভ। মানুষ যে জিনিসে লাভ দেখে তা পাওয়ার জন্য জীবনও দিয়ে দেয়। সে জন্য তাবলিগের ভাইদের দ্বীনের জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই ধরনের গ্রন্থ গুলো আগে পড়তে উৎসাহিত করা হয়।

………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ৬

আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, সরাসরি কুরআনের অর্থ পড়লে নাকি আমরা বিভ্রান্ত হব।

উত্তর :

কথাটা ঠিক নয়। কুরআন অর্থ পড়লে আমরা বিভ্রান্ত হব না। তবে কুরআন ও হাদীস পড়ে মাসয়ালা বের করতে গেলে আমরা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারন উক্ত কাজ করার আগে আমাকে মুজতাহিদ হওয়া প্রয়োজন। হাদীসে আছে.

من قال في القرآن برأيه فليتبوأمقعده من النار
অর্থঃ যে ব্যক্তি মনগড়া কুরআনের তাফসীর করল সে জাহান্নামে আপন স্থান বানিয়ে নিল, (তিরমিযি শরিফ-২৯৫১)
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ৭

আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, কুরআনের তাফসির পড়লেও নাকি আমরা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উত্তর :

এটাও ভুল কথা। তবে বর্তমানে এমন কিছু তাফসির বাজারে আছে যাদের উক্ত হাদীসটি সম্ভবত জানা নাই। বর্তমান সময়ের একজন বিখ্যাত তাফসীর লিখনেওলা বলেছেন,

“কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করার পর যে অর্থ আমার বুঝে আসে এবং আমার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা যথাসম্ভব বিশুদ্ধভাবে আমার নিজস্ব ভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।”
(তাফহীমুল কোরআন, উর্দ্দু ভূমিকা, মুদ্রণে: মার্কেন্টাইল প্রেস, পৃষ্ঠা নং- ১০ লাহোর, সন ১৯৫১ইং)

আরো বলছেন,
“কোরআন বুঝার উত্তম পন্থা একমাত্র ইহাই হতে পারে যে, কোরআন বুঝার ইচ্ছাপোষণকারী সর্বপ্রথম ইহা জানবে যে, কোরআনের ইলহাম তার উপর নাজিল হচ্ছে (অর্থাৎ সে রাসূল!)। অতঃপর ইহা বুঝে কোরআন পাঠ করবে যে, সে নিজেই কোরআনকে নাজিল করেছে (অর্থাৎ সে স্বয়ং আল্লাহ!!)। আমি কোরআন বুঝার জন্য এই পন্থাকেই গ্রহণ করেছি।”
(তথ্য সূত্র : নাওয়ায়ে পাকিস্তান, লাহোর ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫)
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ৮

আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, কোন ওস্তাদের নিকট হাদীসগ্রন্থ না পড়ে সরাসরি পড়লে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উত্তর :

বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস হল…
সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

এখন এক লোক এই নিয়তে জেনা করা শুরু করল যে, জেনা করার পর যে সন্তান হবে তাকে আমি ইসলামের বড় দ্বায়ী বা প্রচারক বানাব। তাহলে আমার জেনা করা জায়েজ হয়ে যাবে।

কারন হাদীসে আছে সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল !!!

এখন প্রশ্ন হল এই লোকটি কি আসলেই কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী আমল করল ???
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ৯

আপনার নাকি বলে থাকেন জিহাদের কোন প্রয়োজন নাই। দাওয়াত দিতে দিতেই নাকি ইসলাম কায়েম হয়ে যাবে।

উত্তর :

এই রকম কথা শুধু জাহেল বলতে পারে কোন আলেম নয় এবং তাবলীগের কোন মুরুব্বিদের মুখে আমি এই কথা শুনিনি। তবে কোন কোন অতি উৎসাহী তাবলীগি ভাই যার কিনা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান তারা এই ধারনা পোষন করে থাকেন এবং তাদের এই ধারনা অবশ্যই পরিত্যাগ করা উচিত।
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ১০

কাকরাইলের মুরুব্বিরা যা বলেন এর বাহিরে তাবলীগওয়ালারা কিছু বলবেন না কিছু করবেনও না। ওনারা যা পড়তে বলেন তাই পরবে।

উত্তর :

কাকরাঈলের মুরুব্বিরা হচ্ছেন আলেম। এখন কোন সাধারন মানুষ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে কোন আলেমের কথা মত চলে তবে আমি দোষের কিছু দেখি না।

হাদীসে আছে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِىِّ السُّؤَالُ ».
‘নিশ্চয় অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো জিজ্ঞাসা’। [আবূ দাঊদ : ৩৩৬]
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ১১

আপনাদের ফাযায়েলে আমলের ভূমিকাতে লিখা আছে,
“এত বড় বুজুর্গের [মাঃ ইলিয়াস] সণ্তুষ্টি বিধান আমার পরকালের নাজাতের উছিলা হবে মনে করে আমি কিতাব লিখার কাজে সচেষ্ট হই “।

উত্তর :

আসলে ওখানে কি ুজুর্গের বলা হয়েছে নাকি বুজুর্গগণের বলা হয়েছে ???

http://www.facebook.com/photo.php?fbid=373660195997421&set=a.373659252664182.108937.100000603328604&type=3&src=http://sphotos-b.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/419416_373660195997421_1177330571_n.jpg&size=888,741

………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ১২

আপনাদের ফাজায়েলের কিতাবে সূরা কামারের ১৭নং আয়াতের অর্থ লেখা আছে, “আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি কোন ব্যক্তি কি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে?”
কিন্তু আপনারা যদি এ আয়াতের অর্থ ভিন্ন কোন কুরআনে দেখতেন তাহলে দেখতে পেতেন সেখানে অর্থ লেখা রয়েছে, “এই কুরআনকে আমি সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহনের জন্য, অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেহ আছে কি?”

উত্তর :

(এটার জবাবটা কপি-পেষ্ট করে দিলাম)
মুরাদ বিন আমজাদ এই আয়াতের অর্থ বিকৃতির অভিযুগে সাইখ যাকারিয়া রাহ এর উপর কেমন আক্রমন চালিয়েছে । দেখুন ।
আমি এখানে আহলে হাদিস মুরাদ বিন আমজাদের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছি । দেখুন হতবাগা কি বলছে ।-
“(তাবলীগি)নিসাবের গ্রন্থকার কোরআনের আরেকটি আয়াতের বিকৃত অনুবাদ করে চরম দৃষ্টতা প্রদর্শন করেছেন । তিনি সুরা কামারের ১৭ নং আয়াতের তরজমা করেছেন –
ولقديسرنا القران للذكر فهل من مد كر
‘আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি । কোন ব্যক্তি কি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে ?’
শায়খ সাহেব উক্ত আয়াতের যে তরজমা করেছেন পৃথিবীর কোন তাফসির কারক সে তরজমা গ্রহন করেনি । এটা তার উদ্দেশ্য প্রণোদিত বানোয়াট অনুবাদ।-সহিহ আকিদার মানদণ্ডে তাবলীগি নিসাব,৫৩-৫৬
দেখুন কেমন জাহেল আর বেয়াদব ! সে যদি তাফসিরের এক-দুটি কিতাবও দেখেনিত তাহলে এমন কথা বলার সাহস পেতনা । কারন সকল তাফসিরকারক এই অর্থ গ্রহন করেছেন । সাহাবা- তাবেয়ি থেকেও এই অর্থ প্রমানিত । তবে বিষয়টি কোন জটিল না হওয়ায় মনে হয় এটা আহলে হাদিসদের প্রতারনার একটি ফাদ । যাতে তারা মানুষকে ফেলার জন্য বর্তমানে আরও অনেক খেত্রেও করছে । আরও মারাত্তক কথা ও বকা-ঝকও করেছেন এখানে । আফসুস, নিজের অযুজ্ঞতার শাস্তি আরেকজনের উপর চাপান হচ্ছে ।
এবার দেখুন আয়াতের তাফসির –যেখানে সকল মুফাসসিরগন ذكر শব্দের অর্থ ‘হেফজ’ দারাও করেছেন । আমরা আমাদের হাতের কাছে (সুরা কামারের ১৭ নং আয়াতের তাফসির) বাংলা মাআরেফুল কুরআন ও দেখে নিতে পারি । আমি এখানে শুধু কিতাবের নাম ও এর আরবি পাঠগুলো উল্লেখ করব । অনুবাদের প্রয়জন নেই । কারন সকলে একই -‘‘আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি’ -অর্থ করছেন ।
আগে বর্তমান আরবের কয়েকজন আলেমের তাফসির দেখুন ।
১-ইবনে উসাইমিন । তিনি আয়াতের অর্থ হেফজ দ্বারা করেছেন –
فتاوى: لقاءات الباب المفتوح
لفضيلة الشيخ العلامة: محمد بن صالح العثيمين
إن المعنى: أن الله تعالى يسر القرآن، أي: يسر معانيه لمن تدبره، ويسر ألفاظه لمن حفظه، فإذا اتجهت اتجاهاً سليماً إلى القرآن للحفظ يسره الله عليك،
এই আয়াতের অর্থ হল আল্লাহ যারা কুরআনকে নিয়ে চিন্তা করবে তাদের জন্য এর মর্ম এবং যারা হেফজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এর শব্দগুলো শজ করে দিয়েছেন ।
২- বিন বায রাহ –
مجموع فتاوى ابن باز” (11/117
ليس هناك آيات أو صلوات مخصوصة لحفظ القرآن ، وإنما المسلم يجتهد ويحرص على حفظ القرآن الكريم ، وقد قال الله تعالى : سورة القمر الآية 17 وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ فمن اجتهد في حفظ القرآن أعانه الله ويسره عليه ، وأما تخصيص آيات أو صلوات من أجل ذلك فلا دليل على ذلك ، ولكن عليه أن يدعو الله كثيرا أن يعينه على حفظ القرآن ، والله قريب مجيب৩-
في تفسير بن كثير

( وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ ( أي: سهلنا لفظه، ويسرنا معناه لمن أراده، ليتذكر الناس.
كما قال: [كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الأَلْبَابِ [ ص : 29 ،
وقال تعالى: [فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا [ مريم : 97.
قال مجاهد: ( وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ ) يعني: هَوّنّا قراءته.
وقال السدي: يسرنا تلاوته على الألسن.
وقال الضحاك عن ابن عباس: لولا أن الله يسره على لسان الآدميين، ما استطاع أحد من الخلق أن يتكلم بكلام الله، عز وجل.
وقوله: ( فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ) أي: فهل من متذكر بهذا القرآن الذي قد يَسَّر الله حفظه ومعناه؟
وقال ابن أبي حاتم: في قوله تعالى: ( فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ) هل من طالب علم فَيُعَان عليه؟ اهـ

~*~*~*~*~*~*~*~
৪-
فى أيسر التفاسير لكلام العلي الكبير=
ولقد يسرنا القرآن للذكر :أي سهلناه للحفظ، وهيأناه للتذكير.
فهل من مدكر :أي فهل من متعظ به حافظ له نتذكر.
৫-
تفسير السعدي=

)وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ( أي: ولقد يسرنا وسهلنا هذا القرآن الكريم، ألفاظه للحفظ والأداء، ومعانيه للفهم والعلم، لأنه أحسن الكلام لفظا، وأصدقه معنى، وأبينه تفسيرا، فكل من أقبل عليه يسر الله عليه مطلوبه غاية التيسير، وسهله عليه، والذكر شامل لكل ما يتذكر به العاملون من الحلال والحرام، وأحكام الأمر والنهي، وأحكام الجزاء والمواعظ والعبر، والعقائد النافعة والأخبار الصادقة، ولهذا كان علم القرآن حفظا وتفسيرا، أسهل العلوم، وأجلها على الإطلاق، وهو العلم النافع الذي إذا طلبه العبد أعين عليه، قال بعض السلف عند هذه الآية: هل من طالب علم فيعان [عليه]؟ ولهذا يدعو الله عباده إلى الإقبال عليه والتذكر بقوله: ( فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ) .
৬-

فى البحر المديد في تفسير القرآن المجيد=
ابن عجيبة
وقيل: ولقد سهّلناه للحفظ، وأعنّا مَن أراد حفظه، فهل من طالب لحفظه ليُعان عليه؟ قال القشيري: { ولقد يَسَّرنا القرآنَ للذكر } يسَّر قراءته على ألسنة قوم، وعِلْمَه على قوم، وفهمه على قلوب قوم، وحِفْظه على قلوب قوم،
৭-তাফসিরে মুয়াসসার
فى التفسير الميسر=
ولقد سَهَّلْنا لفظ القرآن للتلاوة والحفظ، ومعانيه للفهم والتدبر، لمن أراد أن يتذكر ويعتبر، فهل من متعظ به؟
৮-
الكتاب : الجامع لأحكام القرآن=
المؤلف : أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى : 671 هـ)
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ} أي سهلناه للحفظ وأعنا عليه من أراد حفظه ؛ فهل من طالب لحفظه فيعان عليه ؟
৯-
الكتاب : الكشف والبيان=
ولقد يسّرنا ( سهّلنا وهونّا ) القرآن للذكر ( اي ليتذكر ويُعتبر به ويتفكر فيه ، وقال سعيد ابن جبير : يسّرنا للحفظ ظاهراً ،
১০-
تفسير السمرقندي ( بحر العلوم )=
المؤلف : أبو الليث نصر بن محمد بن إبراهيم السمرقندي الفقيه الحنفي
ولقد يسرنا القرآن للذكر ” يعني سهلناه للحفظ لأن كتب الأولين يقرؤها أهلها نظرا ولا يكادون يحفظون من أولها إلى آخرها كما يحفظ القرآن ” فهل من مدكر ” يعني متعظ به
‘আমি কোরআনকে সহজ করেছি হেফজ করার জন্য ।‘ কেননা পূর্ববর্তী কিতাবসমুহ লোকেরা দেখে দেখে পড়ত । কোরআনের মত তারা তা মুখস্ত করতে পারতনা ।
১১-
تفسير البغوى =
{ وَلَقَدْ يَسَّرْنَا } سهلنا { الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ } ليتذكر ويعتبر به، وقال سعيد بن جبير: يسرناه للحفظ والقراءة، وليس شيء من كتب الله يقرأ كله ظاهرًا إلا القرآن “فهل من مدكر”، متعظ بمواعظه.
১২-তাফসিরে জালালাইন

تفسير الجلالين المحلي، السيوطي=
17 – { ولقد يسرنا القرآن للذكر } سهلناه للحفظ وهيأناه للتذكر { فهل من مدكر } متعظ به وحافظ له والإستفهام بمعنى الأمر أي احفظوه واتعظوا به وليس يحفظ من كتب الله عن ظهر القلب غيره
আমি কুরাআনকে হেফজ করার জন্য সহজ করেদিয়েছি ।এবং উপদেশ গ্রহন করার জন্য ও
আরও অনেক কিতাবের হাওয়ালা আনা সম্ভব , কিন্তু
সময়ের অভাবে এখানে থামলাম । আয়াত নং -১৭, খণ্ড ১ পঃ৭০৬
………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ১৩

ফাযায়েলে আমালে দুর্বল হাদীস আছে, তাই এ কিতাবটি কেন পরিত্যাজ্য নয় …

উত্তর :

মুহাদ্দিসীনে কেরামের মূলনীতি হল দুর্বল হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
যেমন-
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী রহঃ বলেন-
قال العلماء من المحدثين والفقهاء وغيرهم يجوز ويستحب العمل فى الفضائل والترغيب والترهيب بالحديث الضعيف ما لم يكن موضوعا (الأذكار-৭-৮
মুহাদ্দিসীন ও ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম বলেন-দুর্বল হাদীসের উপর ফাযায়েল ও তারগীব তথা উৎসাহ প্রদান ও তারহীব তথা ভীতি প্রদর্শন এর ক্ষেত্রে আমল করা জায়েজ ও মুস্তাহাব। যখন উক্ত হাদীসটি জাল না হয়। {আল আজকার-৭-৮}
এ মূলনীতিটি নিম্ন বর্ণিত বিজ্ঞ ব্যক্তিগণও বলেছেন-
১- মোল্লা আলী কারী রহঃ-মওজুয়াতে কাবীর-৫, শরহুন নুকায়া-১/৯
২- ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী রহঃ-মুস্তাদরাকে হাকেম-১/৪৯০
৩- আল্লামা সাখাবী রহঃ- আল কাওলুল বাদী’-১৯৬
৪- হাফেজ ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রহঃ- মাজমুআ ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-১/৩৯
আহলে হাদীস নামধারী গায়রে মুকাল্লিদগণও এ মূলনীতিতে একমত
১- শায়খুল কুল মিয়া নজীর হুসাইন সাহেব দেহলবী রহঃ- ফাতওয়া নজীরিয়া-১/২৬৫
২- নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান- দলীলুত তালেব আলাল মাতালিব-৮৮৯ {নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান সাহেবকে গায়রে মুকাল্লিদদের আকাবীরদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে ধর্তব্য করা হয়। {আপকি মাসায়েল আওর উনকা হল কুরআন ওয়া সুন্নাত কি রওশনী মে, লেখক-মুবাশশির আহমাদ রাব্বানী-২/১৮১}
৩- মাওলানা সানাউল্লাহ ওমরতাসরী রহঃ- আখবারুল হাদীস-১৫ শাওয়াল ১৩৪৬ হিজরী।
৪- হাফেজ মুহাম্মদ লাখওয়ী রহঃ- আহওয়ালুল আখরাস-৬
৫- মাওলানা আব্দুল্লাহ রূপরী সাহেব রহঃ- ফাতওয়া আহলে হাদীস-২/৪৭৩

বিখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবন হুমাম (র লিখেছেন ” জইফ হাদীস যা মউজু নয়, তা ফজিলত অর্জনের জন্য আমল করা যায়।(ফাতহুল কাদীর)
মোল্লা আলী কারী বলেন, “সকলেই একমত যে, জইফ হাদীস ফজীলত হাসিল করের জন্য আমল করা জায়ীজ আছে।”
যে ক্ষেত্রে জইফ হাদীস পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই কিয়াস হালাল নয়। তাই ইমামগণ প্রত্যেকে বাক্তিগত রায়-এর উপর জইফ হাদীসকে প্রাধান্য দিয়েছেন।এমাম আবু হানিফা’র বাণী “হুজুরে পাক (সা হতে বর্ণিত হাদীস যদিও তা রাবীদের কারণে জইফ হয়, ওটা কিয়াস হতে উত্তম।যে ক্ষেত্রে জইফ হাদীস পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই কিয়াস হালাল নয়” ( মুকাদদিমা এলাউস সুনান)

যয়ীফ সনদে বর্ণিত রেওয়ায়াত আমলযোগ্য হওয়ার মানদন্ড)
১।
ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী রহঃ তাঁর উসূলে হাদীসের কিতাব ‘আননুকাত’ এ লেখেন-
“যয়ীফ হাদীস যখন ব্যাপকভাবে উম্মাহর(মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের) কাছে সমাদৃত হয় তখন তার উপর আমল করা হবে-এটাই বিশুদ্ধ কথা।এমনকি তখন তা হাদীসে মুতাওয়াতির(বিপুলসংখ্যক সূত্রে বর্ণিত) হাদীসের পর্যাযে পৌঁছে যায়।”-আননুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ ১/৩৯০

২।
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ লেখেন-
“হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হল,ইমামগণ তার বক্তব্যের উপর আমল করতে একমত হওয়া।এক্ষেত্রে হাদীসটি গ্রহণ করা হবে এবং এর উপর আমল অপরিহার্য হবে।উসূলের অনেক ইমাম এ বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন।”-আননুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ ১/৪৯৪

৩।
মুরসাল বর্ণনার সমর্থনে উম্মাহর অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা বিদ্যমান থাকলে তা গ্রহনযোগ্য হওয়ার ব্যপারে ইমামগন একমত।এখানে শুধু শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর বক্তব্যটিই উদ্ধৃতি করছি যাকে গায়েরে মুকাল্লিদরা ‘আপন মানুষ’ মনে করেন-
“যে মুরসালের অনুকূলে অন্য কিছু পাওয়া যায় কিংবা পূর্বসূরিগণ যার অনুসরণ করেছেন তা ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে দলীল হিসেবে গ্রহণীয়।”
-ইকামাতুদ দলীল আলা বুতলানিত তাহলীল,আলফাতাওয়াল কুবরা ৪/১৭৯।
আরো দেখুন তাঁরই কিতাব মাজমূউল ফাতাওয়া ২৩/২৭১;মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যা ৪/১১৭

সুতরাং গায়েরে মুকাল্লিদরা যদি হাদীসের ইমামগণের অনুসরণ করে ‘যয়ীফ বা মুরসাল’ বলে থাকেন তাহলে সেই ইমামদের নীতি অনুসারেই যয়ীফ রেওয়ায়াতকে(যা শুধু সনদের বিবেচনায় যয়ীফ) অবশ্যই আমলযোগ্য স্বীকার করে নিতে হবে;যদি তারা তা স্বীকার না করে তবে রেওয়ায়াতটিকে যয়ীফ বলার কোনো অধিকারই তাদের নাই।
অতএব এমন রেওয়াত যার সনদটা শুধুমাত্র যয়ীফ/মুরসাল,কিন্তু মান ও এর বক্তব্য সাহাবা যুগ থেকে নিয়ে গোটা উম্মাতের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত;তার বিপরীতে কেবল যারা মারফু মারফু বলে চিল্লায় তারা মূলত হাদীস অস্বীকার করার মতলববাজি করা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্যই নাই।

শায়েখ জাকারিয়া রহঃ ও এ মূলনীতির কথা বলেছেন-
“এ বিষয়ে সতর্ক করাও জরুরী যে, হযরত মুহাদ্দিসীন রাঃ গণের নিকট ফাযায়েলের বর্ণনায় অনেক সুযোগ আছে। আর মামুলী দুর্বলতা গ্রহণযোগ্য। তবে সুফীয়ায়ে কেরামের ঘটনাতো ঐতিহাসিক বিষয়। আর এটা জানা কথা যে, ঐতিহাসিক বিষয় হাদীসের মর্যাদার তুলনায় খুবই কম।
{ফাযায়েলে আমাল, উর্দু এডিশন-৩৮৪, রেসালায়ে ফাযায়েলে নামায, তৃতীয় অধ্যায়, ফাযায়েলে আমাল পর ইশকালাত আওর উনকা জাওয়াব নম্বর-৬৫, ফাযায়েলে দরূদ-৫৬}

যে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসীনরা স্বীয় কিতাবে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস এনেছেন
১- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ স্বীয় কিতাব “আস সুন্নাহ” এর মাঝে ৩০৩টি।
২- ইমাম বায়হাকী রহঃ “কিতাবুল আসমাই ওয়াস সিফাত” গ্রন্থে ৩২৯টি।
৩- ইবনে তাইমিয়া রহঃ তার “আল মুনতাকা” গ্রন্থে ২৬২টি।
৪- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ তার “বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম” গ্রন্থে ১১৭টি।
৫- ইমাম নববী রহঃ তার খুলাসাতুল আহকাম মিন মুহিম্মাতিস সুনান ওয়া কাওয়ায়িদিল ইসলাম” গ্রন্থে ৬৫৪টি।
৬- মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমা রহঃ তার “কিতাবুস সিহাহ” গ্রন্থে যা সহীহ ইবনে খুজাইমা নামে প্রসিদ্ধ এনেছেন-৩৫২টি।
৭- মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান রহঃ তার “কিতাবুস সিহাহ” যা সহীহ ইবনে হিব্বান নামে প্রসিদ্ধ, তাতে এনেছেন-২৯৪টি।
৮- ইমাম দারা কুতনী রহঃ তার “সুনানে দারা কুতনী” তে অনেক দুর্বল হাদীস এনেছেন বলে মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন।
৯- গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খানও তার “কিতাবু নুজুলিল আবরার” নামক গ্রন্থে ১৩৩টি দুর্বল হাদীস এনেছেন।

………………………………………………………………………….
প্রশ্ন : ১৪

আপনারা বলেন নবীগণ কবরে জীবিত। এর কোন দলীল কি আপনাদের কাছে আছে ???

উত্তর :

নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার দলীল …

১-
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। {সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত।
আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
২-
عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন। {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}

তবে সেটা বারযাখী জীবন, যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। ঐ ছালাত দুনিয়াবী ছালাতের সাথে তুলনীয় নয়।

৩-
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।

হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব। ইমাম বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন । এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রহ) লিখেন যে-
আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জিবীত এবং তাঁকে রিযিক দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না। আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক। (আলকওলুল বদী’- ১২৫)

মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর কিতাব الدرة ِالمضٔية في ِالزيارة المصطفوية তে লিখেন-” নবিজীর কবর জিয়ারাতের ফায়েদা সমূহের মাঝে সবচেয়ে বড় ফায়েদা এই যে, যখন যিয়ারাতকারী হুজুরের কবরের নিকট দুরুদ ও সালাম পাঠ করে তখন তিনি তা যথাযথভাবে তা শুনেন ও তার জবাব দেন কোন প্রকার মাধ্যম(ফেরতেশতা ) ছাড়া, তার বিপরীতে যখন কোন ব্যাক্তি দূর হতে দুরূদ ও সালাম পাঁঠ করে ,তখন ফেরেশতার মাধ্যমে তা হুজুরের নিকট পৌঁছানো হয়। ( এ আকিদার কারণ ) এজন্য যে, মজবুত সনদে এসেছে (হুজুর বলেন) যে আমার কবরের নিকট দুরূদ পড়ে আমি তা সরাসরি শুনি, আর যে দূর হতে দুরূদ পড়ে ,তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়া হয়।”

উপরের মুল্লা আলী ক্বারী (রহ) যে হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে من صلّي عند قبرئ আছে তা আবুশ শায়খ -এর সনদে সহীহ। এই হাদিসে মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান সুদ্দী নেই। এই প্রসঙ্গেই হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানী (রহ) বলেন যে,بسند جيِّد পোক্তা সনদে বর্ণিত (ফতহুল বারী ৬: ৩৫২) এবং উক্ত সনদকে আল্লামা সাখাবী (রহ) وسنده جيِّد -এর সনদ মজবুত লিখেছেন। (আল কওলুল বদী-১১৬) এবং আহলে হাদিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক খান লিখেন اسناد جيِّد -বর্ণনা সূত্র উত্তম (আদদলীলুত ত্বালেব-৮৪৪)

এবং অধিক সম্ভাব্য যে, এর উপরই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) এই মাসয়ালার বুনিয়াদ রেখে লিখেন যে,
فاخبرانّه ىسمع اصلوة واسّلام من القرىب وانّه ىبلغ ذالك من بعد (منا سك لججع ص ٨٤)
অর্থাৎ,হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নিকটবর্তী থেকে নিজেই দুরূদ ও সালাম শুনতে পান। আর দূর থেকে হুজুরের নিকট দুরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয়।

ইবনুল কায়্যিম(রহ) লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন
( যাদুল মা’আদ খঃ ২, পৃঃ ৪৯)

রুহুল আয়ানীর লেখক তার কিতাবের ২২ঃ৩৬ এবং আল্লামা সবকী (রহ) শিফাউস সিকাম-১৪৩ এ বর্ণনা করেন যে, এই কবরের জীবন সমস্ত আহকামের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত নয় এবং সব দুনায়াবী আহকাম তার উপর বিন্যস্ত হয় না যে, এরকম বলা- যেমন দুনায়াবী খাওয়া ও পান করার প্রয়োজন ছিল,কবরেও এরকম হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরং তিনি বলেন যে, ঐ জীবন ইলম তথা জানা ও শ্রবন করা ইত্যাদি অর্জনের ক্ষেত্রে দুনিয়াবী জীবনের মত এবং এ সম্পর্কেই আল্লাম সুবকী (রহ) ও অন্যান্যগণ বলেন-
فلا شكّ انّ ذلك ثابت(شفاء السقام ص:١٤٣)

যারা কবরের হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর জিবীত থাকার মত পোষণ করেন,তাদের উদ্দেশ্যও দুনিয়াবী জীবন থেকে শুধু এতটুকু জীবন যে, কবরের পাশে সালাত ও সালামম শুনতে পান এবং শরীর মোবারকের সাথে রূহ মোবারকের গভীর(শক্ত) সম্পর্ক বিদ্যমান,তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়ার এই ধ্বংশশীল ও নিকৃষ্ট জীবন এবং পাবন্দী ও কষ্টের কখনই নয়। কোরানুল কারিমের কিছু কিছু আয়াত দ্বারা একথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ দুনিয়া থেকে ওফাত হয়েছে,কিন্তু এরপর উন্নত ও উত্তম জীবন কবরে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দিয়েছেন (যেমনটি নাকি তিনি স্তরভেদে শহীদ,সাধারণ মুমীন এবং কাফের ও গুনাহগারদেরকে স্থান দিয়ে থাকেন) তা সত্য ও প্রমাণিত। কোন সহীহ আকলী অথবা নকলী (যৌক্তিক কিংবা বর্ণিত) দলীল দ্বারা তার অস্বীকৃতি সাব্যস্ত নেই। এটাই আকাবেরে দেওবন্দ এর আক্বীদা। ( আল্মুহান্নিদ আলাল মুসান্নিফ-১৩)

১৭১ comments

Skip to comment form

  1. 75
    Shaiful Islam

    তাবলীগ যদি রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ করে, তাহলে রাসূল (সাঃ) যে ইসলাম প্রচারের জন্য তায়েফের ময়দানে পাথরের আঘাত খাইছেন, সেটা কি রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাত না, নাকি সুন্নাত শুধু লেবাস এর খাওয়ার মধ্যে। আরেকটি বিষয় হলো তারা কিন্তু ফাজায়েল নামাজ, হজ্ব, যাকাত, যিকির এর বই পড়ে কিন্ত আল্লাহর ফরজ বিধান জিহাদের কোন ফাজায়েল জিহাদের বই নেই, এই কেমন তারা ইসলাম প্রচার করে।

    1. 75.1
      Friend

      আসসালামু আলাইকুম।

      আপনার কথাগুলো পড়ে মনে পড়ল একজন জামাতে ইসলামির কথা। ট্রেনের মধ্যে সাক্ষাৎ। তবলীগ করি শুনে আপনার কথাগুলো বলছে। আপনি হয়তো একথাগুলো তাদের বলতে শুনেছেন। যাহোক। আমি একজন তবলীগী হিসেবে যিহাদ সম্পর্কে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিমত লিখছি। যদিও মুবাল্লিগগণ [তবলীগীরা] কারো পিছনে পড়েন না। অর্থাৎ কারো দোষ চর্চা করেন না। (দেখুন আমাকেও দোষ চর্চা করতে হয়েছে। আমি খুব একটা গুছিয়ে লিখতে পারিনি। সর্বর্পরি প্রথমেই পাঠকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর বলে রাখছি, এটি আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত।) এজন্যই তারা এরূপ নসীহতও করেন না। বরং শুধু দাওয়াত দেন। তো আপনার কামনা অনুসারে একে ফাযায়েলে যিহাদও বলতে পারেন।

      যিহাদের উদ্দেশ্য? একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এ যুগে যিহাদের ডাক প্রদানকারী প্রায় সব পক্ষের লক্ষ্য শাসন ক্ষমতা। তাদের কাছে ইসলাম হচ্ছে ক্ষমতা লাভের মাধ্যম মাত্র। এ উদ্দেশ্যে তারা নির্দ্বিধায় নিরপরাধ মুসলমানদের হত্যা করে। অথচ একজন নিরপরাধ অমুসলিমকেও হত্যা করা গুণাহ। তাই তারা সফলতার মুখ দেখেন না। দেখবেনও না। কারণ, আকিদায় ত্রুটি তো আছেই আমলের মধ্যেও ত্রুটি আছে। অথচ সাহাবাদের সময় কেবলমাত্র মেসওয়াকের আমলে ঘাটতি থাকা পর্যন্ত বিজয় অর্জিত হয় নি। চিন্তা করুন, তাঁরা সাহাবা ছিলেন। আর আমরা গুণাহগারেরা কতটা দুঃসাহস দেখাই। এ যমানার কিছু মানুষ (জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ইত্যাদি) ‍যিহাদের ময়দানে গিয়ে গুণাহ করতে থাকল আর ফলাফল এরূপ হল যে, মুসলিম দেশে দাড়ি রাখা টুপি পড়া দায় হয়ে গেল। যতটা খবরে পড়েছি জেএমবিরা নাকি আহলে হাদিসের অনুসারী ছিল। আহলে হাদিস মানে হাদিসের অনুসারী নয়। বরং হাদিস বিশারদ, মুহাদ্দিস। কিন্তু এ ভ্রান্ত দলটির নামেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা কিছু হাদিস মানে আর কিছু হাদিস মানতে চায় না। মাযহাব তো মানেই না। কিতাবের অনুবাদ দেখেই যে কেউ ফতোয়া দিতে চায়। বলে “কুরআনকে সহজ করা হয়েছে।” পরের অংশটুকু বলে না। অথচ কুরআনের উক্ত আয়াতের মর্মার্থ, “কুরআনকে উপদেশ দানে সহজ করা হয়েছে।” যেন সহজে বুঝে হেদায়েত পেতে পারে। আর এরা এটাকে ফতোয়া দানে সহজ করা হয়েছে বলে। যারা অন্তত ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিজ্ঞানে পড়েছেন তারা অন্তত ধারণা করতে পারবেন যে, বিজ্ঞানের পরিধি কতটা। তদুপরি, একটা বিষয়ে অনার্স করেও কেউ বলতে পারবে না যে, আমার পঠিত এই বিষয়টির ফায়সালা আমি যা বুঝি তাই হবে। অথচ তাদের মতিগতি খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, তারা মনের তাবেদার। তারাবীহ সংক্ষিপ্ত করা মনের জন্য আরামদায়ক বটে। হাত বাধার স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত হাদিসের ছক দেখিয়ে এক আহলে হাদিসকে বললাম চারটি হাদিসের তিনটিতেই নাভির নিচে নির্দেশ করে। বাকি একটিও ভাল করে খেয়াল করলে সেটিও নাভির নিচেই নির্দেশ করে। কিন্তু তার মন চায় না। বলে, ”আমার মনে হয় এটিই বেশি সহিহ।” যাহোক যারা যিহাদ করতে চায় তারা দ্বীনের তথা মুসলমানের ক্ষতি করতে চায়। আছে কিছু অতি উৎসাহী মুসলমান। একজন বলছে, আমাকে বললে আমি একটা লাঠি নিয়েই মায়ানমার যাব। বুঝাচ্ছে তার ঈমানের জোর আছে। কিন্তু দেখেছি, আমলে কমজোর। এ ব্যক্তি ভাবে না যে, এর মত কত লোক আফগানিস্তানে মরে গেছে। হোক সে শহীদ হয়েছে। (কেউ বলেন, “আফগানীরা কেন সফল হচ্ছে না?” আমি একটি ভিডিও দেখেছিলাম। যেখানে ‍মুক্তিকামী অথবা ইসলামী শাসনের পক্ষপাতী মুজাহিদেরা নামায পড়ছিলেন। কিন্তু বললে খারাপ শোনায়, তারপরও বলি, আমি মাদ্রাসায় পড়িনি। তদুপরি আল্লাহ আমাকে যতটুকু শুদ্ধভাবে নামায পড়া শিখিয়েছেন ততটুকুতেই মনে হয়েছে তাঁদের নামাযে কমতি আছে। এখন বুঝুন যাঁদের নামাযে কমতি আছে তাঁদের প্রায় সবখানেই কমতি আছে মনে করা যায়।)  ইসলামের কী লাভ হয়েছে? বেঁচে থাকলে সে জীবন দিয়ে ইসলামের সেবা সে করতে পারত। আরো দু চারজনের হেদায়েতের উসিলা হতো। তা বাড়তে থাকতো। আসলে যে যিহাদের ধ্বনি বাজে তা মুসলমানের অনেক ক্ষতির কারণ। হিসেব মিলিয়ে দেখুন। অস্ত্রের ব্যবসাও হচ্ছে। মুসলমান নিধনও হচ্ছে। হ্রাস পাচ্ছে সম্পদ ও জীবন। এটা ফাঁদ। যদি কেউ বলেন তবে কখন কোন পরিবেশে যিহাদ হতে পারে? এটা তখনই হতে পারে। যখন আমাদের দেশ আক্রান্ত হবে। বলতে পারেন, তখন কেন? কেন না এটা ছাড়া আপাতত যতগুলো যিহাদের ডাক আছে তা কেবলই ফাঁদ। যদি বলেন, সরকারের বিরূদ্ধে ‍যিহাদ করেন না কেন? দেখুন এটাও তো ফাঁদ। ভাগ কর, শাসন কর নীতির অংশ। আমরা নিজেদের সংশোধন করে জাতি গড়তে থাকলে একদিন এজাতিই চাইবে আমরা ইসলামি সরকার চাই। যিহাদ লাগবে না। এ সংক্রান্ত একটি হাদিসও আছে যার মর্মার্থ মোটামুটি এরূপ, ”তোমরা নেক কাজ করতে থাকলে তোমাদের শাসন ক্ষমতা দেওয়া হবে।” একটি কথা স্বরণীয়, আল্লাহ তাকেই বউ দেন যে, তা ধরে রাখতে পারে। নাবালক ছেলের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দেয় না। অনুরূপভাবে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। যে রক্ষা করতে পারবে তাকেই স্বাধীনতা দান করেন। মহান আল্লাহ অনেক বড় হিসাবকারী। যারা সত্যিকারার্থে ইসলামকে ভালবাসে তারা রসূল স. কেও ভালবাসে। তাঁর উম্মাতকে ভালবাসে। উম্মতের (নিজেও তো রসূল স. এর উম্মত ও অন্যের) কমতির  জন্য তাদের দ্বারে দ্বারে ঈমান, আমল ইত্যাদির ফেরি করে। কারো উপকার করতে না পারলে অপকার করতে চায় না। পক্ষান্তরে ‍যিহাদীরা কাকে ভালবেসে মুসলমান হত্যা করে। বলে দু একজন তো মরতেই পারে। ইসলাম এরকম ছাড় দেয় না। তবলীগে গিয়ে অধিকাংশ মানুষের জীবনের রূপরেখা বদলে গেছে। ইন্টারনেটে অনেক তবলীগ বিরোধী লেখাসহ বিভিন্ন পন্থিদের লেখা দেখতে পাওয়া যায়। দেখবেন তারা এটা মানতে চায় না যে, ‘ তবলীগিদের অধিকাংশ মানুষের জীবনের রূপরেখা বদলে গেছে।’ যদিও অল্প দিনের মেহনতে মানুষ একেবারে ফেরেশতা হবে তা কাম্য নয়। যাহোক দেখবেন লেখার শেষে তার মূল লক্ষ্যটা কী? আমার এ লেখার মূল লক্ষ্য যিহাদ নিয়ে মাতামাতি কেন? দ্বীনের প্রসার তো হচ্ছেই। যদি যিহাদ করতেই হয় তবে কার বিরূদ্ধে করবেন? মুসলমানদের বিরূদ্ধে? চিন্তা করে দেখুন, খারাপ কাজের কর্মকান্ডও এরূপ যে, মুসলমানে মুসলমানে যিহাদ। নিশ্চয়ই এটির উদ্যোক্তা কোন মুসলমান হতে পারে না। আরো লিখতে হবে?

      একটা কথা বলা প্রয়োজন মনে হছে। একদা ব্রিটিশ এদেশে ছিলনা তখন এত দলাদলিও ছিলনা। তখন এলেমের প্রচার প্রসার ছিল। তখন ফেসবুকে আমাকে এরূপ কমেন্ট করা লাগতো না। আমিও যা জানতাম তা আপনিও জানতেন। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে দেশ যতটা স্থিতিশীল সেদেশে ততটা উন্নতি ঘটে। সে উন্নতি সার্বিকভাবে প্রতিটি ক্ষেতেই ঘটে। দেশকে ভালবাসুন। আমাদের দেশের মানুষ অনেক ভাল। নিজের সন্তান ও অধীনস্ত অন্যান্যদের মানুষ করার চেষ্টা করুন। দেশের তরুণ প্রজন্মের যে পরিস্থিতি। সারাদিন ফেসবুকে পরে থাকে। তার জন্য মনে হয় যিহাদ করা প্রয়োজন। তাদেরকে মানুষ করার যিহাদ। তো এজন্য প্রথমে আমাকেই ভাল মানুষ হতে হবে। আমি ভাল মানুষ হতে থাকলে অবশ্যই জানতে পারব কীভাবে ভাল মানুষ হওয়া যায়। সেই সাথে আমাকে দেখে দেখে কেউ কেউ ভাল হয়ে উঠবে। ভাল মানুষ গুণাহ করে না। তার কাছে গুণাহ করা মানে বিষ খাওয়ার মতো কষ্টকর। একজন ভাল মানুষকে খুজে অনুসরণ করতে থাকুন। ভাল মানুষ চরম বিপদে কখনও দিশেহারা হয় না। অহেতুক কথা বলে না। গুণাহ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চায়। সবকিছুর চেয়ে একমাত্র আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। আপনার হাতের দামি ফোনটার চেয়েও। রাতের বিশ্রামের সঙ্গিনীর চেয়েও বেশি। আর আল্লাহর জন্য সবার সাথে উত্তম ব্যবহার করে। আর হ্যা নিকটতম প্রতিবেশি স্ত্রী কেউ কোন রূপ কষ্ট দেয় না। যেন আল্লাহ নারায না হন। নামায প্রিয় হয়। যেন খানিকক্ষণ একান্তে কাটানোর সুযোগ মিলল। আহা কেউ জানে না। কী হয় আলাপন। নামায কবুল হওয়ার একটা লক্ষণ হল, নামায শেষ কিন্তু ‍দিল আল্লাহর স্মরণেই মত্ত থাকতে চায়। নামাযের পর সাধারনত এদিক ওদিক চায় না। নামাযরত থাকতে যেমন তেমন থাকতে চায়। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন।  আস্তাগফুরুল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ। সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।আসসালামু আলাইকুম।

  2. 74
    মোঃ সোলায়মান আলী

    যারা তাবলিগ জামাত করেন তারাতো অন্যের ক্ষতি করেন না এবং কি অন্যের মঙ্গলসহ নিজের মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই তাবলিগ জামাত করেন। এটা একটি ভালো কাজ । ভালো কাজ আরো কিভাবে ভালো করা যায় এবং সুন্দর করা যায় সে বিষয়ে সকলের গ্রহণযোগ্য মতামত নেয়া যেতে পারে। তবে সমালোচনা করাও একটি ভালো কাজ এতে রাগের কিছুই নাই । সমালোচনাকারীর সমালোচনাই ভালোকে আরো ভালো করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। টুকিটাকি ভুল হতেই পারে, কারণ আমরা সকলেইতো আদম সন্তান।ভূলগুলোকে নিয়ে সমালোচনা না করে কিভাবে ভূলগুলো হতে শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সেদিকে সকলের যত্নবান হওয়া উচিত। আমি তাবলিগ জামাতে কখনও যাইনি। তবে বিভিন্ন জামাতের অনুষ্ঠানে বসেছি। কিছু কথা বলেই ওয়াদা নেয়া হয় কে কে জামাতে যাবে। এটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। 

    1. 74.1
      Anonymous

      তারা ওয়াদা নেন না। বরং নিয়্যত করান। নিয়ত আর ওয়াদা এক নয়। নিয়্যত হাল্কা ও জোড়ালো উভয়ই হতে পারে। তারা জোড়ালো নিয়্যত করানোর চেষ্টা করেন মাত্র।

       

  3. 73
    সুলতানা

    হায় রে খোদা!!!!! একটা বিষয় নিয়ে কি যুদ্ধ জেহাদ চলছে!!! আরে ভাই তাবলিগের এখানে তো কোনো খারাপ কথা লিখে নাই যে এটা নিয়ে এত তর্ক করতে হবে। নাকি লিখেছে যে বোমা মারো, কাটো, ঝগরা করো? এমন কিছু কি কিতাব গুলোতে পেয়েছেন? ভালর কথাই তে লেখা আছে।  এমন তো না যে মানুষকে খারাপ হতে শেখাচ্ছে!!! মানুষকে ভালর দিকে আনার চেষ্টা করে এমন যে কোনো জিনিসই তো আমার মনে হয় ভালো। কেউ ভালো কিছু করতে চাচ্ছে তাতেও আপনাদের অসন্তোষ!!  তাহলে কি আপনারা চান মানুষ খারাপ কিছু করুক, তার ভালো হওয়ার দরকার নেই? তাবলিগ যেই বানাক আমি তো বলবো মানুষটার মনে মানুষের জন্যে অনেক মায়া ছিলো।  আপনারা যদি এত কিছু বোঝেন তাহলে নিজেরাই কিছু বানিয়ে দেখান না কেনো?!! মানুষের প্রতি সুধারনা রাখুন! হেদায়াত তো আল্লহ দিবেন কিন্তু দাওয়াত দেয়ার দায়ীত্য তো আমাদের। ভাল চিন্তা করলে ফলও ভাল হয়, খারাপ ধারনার দারা ঘৃণা তৈরি হয়, আমরা তো মানুষ নাকি!! গরু ছাগল তো না! মানুষে মানুষে যুদ্ধ করে কি লাভ?!!!!

  4. 72
    Shourov Khan

    ভাই লিখাটি ভাল লাগল , তাব্লিক জামাতের বিভ্রান্তি সম্বন্ধে আপনাদের কোন PDF ভার্সনে কিছু লিখা থাকলে লিঙ্ক তা দয়া করে দিবেন । এই বিষয়ে মুস্লিম উম্মাকে ভালভাবে সতর্ক করাব্র প্রয়োজন বোধ করছি । তাই যত দ্রুত সম্ভব তাব্লিকের ভ্রান্তিময়তা সম্বন্ধে একটি pdf ভার্সনের রচনা প্রকাশ করুন (জাজাকাল্লাহ)। ………।

  5. 71
    মুহাম্মদ আসিফ

    শীতবস্ত্র বিতরন করলে কি উপকার হবে

  6. 70
    ওসমান গনি

    শুধু একটি কথাতে আপনার সব কথা ডাস্টবিনে পেলবো ইসশাইল্লাহ। আপনি বলেছেন।সপ্নের কথা দলিল নয়। এটা ঠিক। তবে এটা আপনার কথা। জাকারিয়া সাহেবের কথা হলো সপ্নের সুসংবাদ দলিল হিসেবে নেয়া জয়েজ।সপ্ন দলীল হওয়া তে সংসয়ের কিছু নেই। (ফাজায়েলে দরুদ শরিফ)

    এখন আপনার কথা মানবো না জাকারিয়া সাহেবেন কথা মানবো। আপনি কি জাকারিয়া সাহেব থেকেও বড় হয়ে গেছেন?

    ধরুন জাকারিয়া সাহেব শায়খুল হাদিস তার কথাই নিলাম। তার সকল সপ্নকে মেনে নিলাম।দেওবন্দী হুজুর দের সপ্নগুলোকে মেনে নিলাম। এখন আমার ইমানের কি হবে? আমি কি মুসলিম থাকবো। আমার বিশ্বাস আর মনসুর হাল্লাজের বিশ্বাস এক হলে আমার আর কাফির মুশরেক দের বিশ্বাসে কতটুকু পার্থক্য থাকলো?

    শুধু একটি কথা বলবো । ভালো মানুষের সূরতে,কোরআন হাদিসের ভূল ব্যাক্ষ্যা করে ইসলামের দোহাই দিয়ে মানুষকে শিরক/বিদয়াত খাওয়াবেন না ।

    1. 70.1
      মনসুর আজাদ

      "সুলতানা"

      বোন আপনি সুন্দর কথা লিখেছেন । আমিও আপনার কথায় একমত !!!

       

  7. 69
    আতিক হাসান

    আসসালামু আলাইকুম ভাই।

  8. 68

    ভাই @ আহমেহ  শরীফ  কারো সম্পর্কে না জেনে কথা বলা ঠিক না আগে আলবানি (রঃ) সম্পর্কে  জানেন তার পর কথা বলেন আপনাদের মত মুল্লাহ না উনি একজন বড় আলেম 

    https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1622387941363084&id=1622286988039846 

    1. 68.1
      আহমেদ শরীফ

      এই স্পিচটি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে দেখুন _

      https://www.youtube.com/watch?v=TvGcTf3WXhM

       

  9. 67
    আরমান হোসেন

    তাবলীগ এর লোকেরা আননদলোন করে না কেন, কেন ওরা মসজিদে থেকে থেকে দাওয়াত দেয়???

    1. 67.1
      আহমেদ শরীফ

      @আরমান হোসেন:

       

      আন্দোলন বলতে আপনি কি বোঝেন ?

      আপনার মতে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী যথার্থ আন্দোলন কিরকম হওয়া উচিত ?

      বাংলাদেশে সেই অনুযায়ী কারা কারা আন্দোলন করছেন ?

      সেইসব আন্দোলনে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম কিভাবে-কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ?

  10. 66
    samiul haque

    আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমার প্রশ্ন হচ্চে ড. যাকির নায়িক এর কথা আপ্নারা কিভাবে দেখেন? মুরব্বি রা ওনার সম্পর্ক এ কি বলেন?? আপ্নার কি মত?

    1. 66.1
      আহমেদ শরীফ

      পোস্ট যাঁর উনিই হয়তো জবাব দেবেন তবে আমি একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণটি তুলে ধরতে পারি।

      লক্ষ্য করলে দেখবেন তাবলীগ জামাতের আয়োজনে যে বিভিন্ন দেশে ইজতেমা নামক জমায়েত হয় তাতে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সামনে যে তাক্বরীর হয় কিংবা এতগুলো দেশের মারকাজে মারকাজে প্রতি সপ্তাহে যে সাপ্তাহিক/দৈনিক বয়ান হয় _ সাধারণভাবে বক্তাদের নাম সেভাবে কিন্তু আসে না বা সাধারণ মানুষ সেভাবে তাঁদের নামও জানেন না। অথচ এঁরা এমন লোক যাদের কথা শুনতে লক্ষ লক্ষ লোক নিজের টাকাপয়সা খরচ করে বিছানাপত্র নিয়ে সরাসরি সশরীরে চলে আসেন ইজতেমাগুলিতে অবর্ণনীয় ত্যাগ-কষ্টস্বীকার করে ৩/৫ দিন অবস্থান করে কথাগুলো মন দিয়ে শোনেন। এরপর দেখা যায় সেই বিশালসংখ্যক মুসলিমের একটা বিরাট অংশ আবার সেই কথাগুলো শুনে ৩/৫ দিন পরেও আর বাড়ির রাস্তা না ধরে আল্লাহর রাস্তায় নিজের জান-মাল-সময় নিয়ে ইসলামের খেদমতে বের হয়ে পড়েন। সেখানে অত্যন্ত ত্যাগতীতিক্ষার মধ্য দিয়ে রীতিমত সাধনা করে নিয়ম-নির্দেশনা মেনে ৪০ দিন ৪ মাস পার করে আসেন তাও আবার জামাতে একত্রিতভাবে। যারা জামাতবন্দী হবার আগে এমনকি পরষ্পরকে চিনতেনও না ! কারো বক্তব্য শুনে মুগ্ধ হওয়া এক জিনিস _ আর বক্তব্য শুনে নিজের টাকাপয়সা খরচ করে নিজ ঘরবাড়ি আরাম আয়েশ ত্যাগ করে দীর্ঘসময়ের জন্য বের হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।  

      মৌখিক বক্তব্যের কতটা প্রভাব থাকলে এতগুলো মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে স্বেচ্ছায় বের করে তাদের খরচেই আবার তাদের দীর্ঘসময়ের জন্য এত ত্যাগতীতিক্ষা-কষ্ট-সাধনার পথে আত্মশুদ্ধির মহান উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাঠানো সম্ভব ? এই জমানায় এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক অতিমানবীয় প্রভাবই বলতে হয় নিঃসন্দেহে কারণ এমনটি আর কোথাও এত বেশি পরিমাণে হতে যেহেতু দেখা যায় না। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে দুনিয়াব্যপী এতগুলো ভাষাভাষী-জাতির এত লক্ষ লক্ষ লোকের ওপর প্রভাব বিস্তার করা সহজ কথা নয়। এতটা প্রভাবশালী হওয়া সত্বেও এই কথাগুলো যারা রাখেন তাঁদের সাধারণ মানুষ চেনে না সাধারণভাবে নামও জানে না। তাদের কোন ছবি-পোস্টার নেই। তাদের নামে কোন স্লোগান দেয়া হয় না কোথাও এ ব্যাপারে প্রচারণাও চালানো হয় না। বক্তব্য দেয়ার আগের মূহুর্ত পর্যন্ত বক্তার নামও ঘোষণা করা হয় না। এর কারণ হলো সেখানে ব্যক্তিকে হাইলাইট করা হয় না বরং কাজকে হাইলাইট করা হয়। এই কাজের যেটি মিশন সেটি ব্যক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিভাত। ব্যক্তি তো শেষ হবার জন্যই হয় কিন্তু যে মিশন যে মাক্বসাদের ওপর মানুষকে পাঠানো হয়েছে তা শেষ হয় না … ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার ব্যপ্তির সীমা।

      তাবলীগ জামাতে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নয় বরং যে উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য মানুষকে বানানো হয়েছে সেই উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্ত সাধনার আলোচনাই মূখ্য।

  11. 65
    আবু সাকিব মজুমদার

    অনেকে বলে থাকেন যে তাবলীগ জামাত এর কাজ ঠিক নেই। মহানবী (স.) নাকি মসজিদে ঘুমাতেন না কিন্তু তাবলীগ এর লোকেরা মসজিদ এ ঘুমায়…………মসজিদ আল্লাহ এর ঘর  সেখানে ঘুমালে নাকি আল্লাহ্‌ এর ঘরের অবমাননা করা হয়। এ সম্পরকে বিস্তারিত বললে উপকৃত হতাম

    1. 65.1
      আহমেদ শরীফ

      'অনেকে বলে থাকেন' তাতে কিছু যায় আসে না কারণ বাংলাদেশে ইসলামিক হোক বা অন্যান্য যে লাইনেই হোক না কেন _ সত্যিকার কাজের লোকের চেয়ে 'বলাবলির' লোক অনেক বেশি। বলার অধিকার সবার আছে এবং বলাটা খারাপও কিছু নয়। কিন্তু মুশকিল হল কাজ না করে আমরা বলতেই বেশি ভালবাসি এবং অত্যধিক বলাবলির কারণে তা বকওয়াজে পর্যবসিত হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এত বেশি বলি এত বেশি বলি যে শেষ পর্যন্ত কাজ করা আর হয়ে ওঠে না।  সেজন্যেই আমরা দিনকে দিন সব লাইনে পিছিয়ে পড়ছি বিশ্বের অন্যান্য জাতির তুলনায়।

      এজন্যই বলা হয় _ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ! বকাবাজির লোক এখানে সবসময় বেশি কিন্তু কর্মীপুরুষ কম। যারা নিজের উদ্যোগে নিজের জান মাল সময় খরচ করে ইসলাম প্রচারের কাজ করে চলেছে শত প্রতিকূল অবস্থার মাঝে তাদের সঙ্গে মুসলিম হিসেবে সক্রিয়ভাবে যোগদানের পরিবর্তে তাদের পথে বাজে মন্তব্যের পাথর ছোঁড়ার লোকের অভাব নেই। আজ পর্যন্ত এসব ব্যাপারে শত দলিল সম্ভবতঃ লক্ষ লক্ষবার দেয়া হয়েছে তারপরও এদেশে এখনও এধরণের 'অনেকে' কি করে অবশিষ্ট থাকে সেটাই বিস্ময়ের !

      রাসূল(সাঃ) এর রওজা মোবারকই হল মসজিদের ভেতরে। আম্মাজান আয়েশা(রাঃ) ঘরই এখন মসজিদ। পাশেই লাগোয়া মিম্বার এমনকি আহলে সুফফা নামীয় সাহাবীগণের নাতিদীর্ঘ মঞ্চটিও মসজিদের ভেতরেই সবগুলোই একেবারে লাগোয়া পাশাপাশি। রাসূল(সাঃ) ও সাহাবীগণ জীবনের অধিকাংশ সময়ই মসজিদে কাটিয়ে গেছেন। মুমিনের দিল এমনিতেই মসজিদে লাগা থাকে সে যুগেও এ যুগেও। যারা সত্যিকারের মুমিন। এখন মসজিদে কিছু লোক একা বসে ইবাদাত করে জিকির আজকার করে আর কিছু লোক এমন আছে _ যারা নিজস্ব ইবাদাত জিকির আজকার করার পাশাপাশি বেশিরভাগ মুসলিম যারা মসজিদে আসতেই পারেনি তাদের মসজিদে নিয়ে এসে ইসলামের ভিত্তি মজবুত করার জন্য নিয়মিত প্ল্যানপ্রোগ্রাম করে কাজ করে। এখন কারা রাসূল(সাঃ) ও সাহাবা(রাঃ) এবং ইসলামের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে সেটা বোঝার জন্য সাধারণ বুদ্ধি বিবেচনাই যথেষ্ট হবার কথা !

      ইতেক্বাফের নিয়ত মসজিদে ঘুমানো জায়িজ। মসজিদে থাকার নির্দিষ্ট আদব আছে সেগুলো মেনে চলতে পারলে মসজিদে থাকতে অসুবিধা হবার কথা নয়। যেখানে সুন্নাত পালনার্থে রমজান মাসে মসজিদে ইতেকাফ করা যায় যখন সমস্ত হাজার হাজার ফরজিয়াত ওয়াজাবাত সুন্নাহ মুস্তাহাব লাখো কোটি উম্মতের মধ্য থেকে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সেখানে সেটি কার্যকর গঠনমূলকভাবে প্রতিরোধকল্পে ইসলাম কার্যকরভাবে প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে মসজিদে থাকা নিয়ে আজ তাবলীগের মেহনত এত ফলদায়ক প্রসার-ব্যপ্তি ঘটার পরও এ নিয়ে চুলকানি দেখে আশ্চর্য লাগে সত্যি !

      একটা জিনিস মনে রাখবেন বলাবলির লোক সেই যুগেও ছিল এই যুগেও আছে কিন্তু সত্যিকার কাজ করার আসল লোক যারা তারা আগের যুগেও এইসব বকওয়াজে কান না দিয়ে কাজের কাজ করে গেছে _ এই যুগেও করে চলেছে এবং করে যাবে। এতকাল কি তাই হয়ে আসেনি ? বলাবলিওয়ালারা নিজের জায়গাতেই রয়ে গেছে কিন্তু কাজ করনেওয়ালাদের কাজের ব্যপ্তি বিশ্বব্যপী কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে সেটা দেখুন ! বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন আল্লাহ তাওফিক্ব দিলে ইনশাআল্লাহ বুঝে আসবে।

  12. 64
    amdin

    প্রশ্নঃ অনেকে বলে আমরা রাসুল (সঃ) তাবলিক মানি কিন্তু চয় অসৃলের তাবলীগ মানিনা
    দয়া করে সমাধান দিবেন?

    1. 64.1
      আহমেদ শরীফ

      না একথা ভুল। তারা আসলে রাসূল(সাঃ) এর তাবলীগও মানে না। এগুলো শুধু মুখে বলে তারা। আপনি তাদের বলেন যে রাসূল(সাঃ) দ্বীনের মেহনতের জন্য ঘরবাড়ী ছেড়ে বের হয়েছেন সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ) ও বের হয়েছেন আপনিও বের হন _ তখনই আসল পরীক্ষা হয়ে যাবে।

      আসলে তো ঈমান ও ইয়াক্বীনের বুনিয়াদের ওপর আমল নির্ভরশীল আর সেই ঈমান ও ইয়াক্বীন তৈরি হয় মজবুত হয় মাখলুকাতকে আল্লাহর রেজামন্দীর জন্য সাময়িকভাবে পরিত্যাগ করার দ্বারা। নিজের আরাম আয়েশ বিবি বাচ্চার মোহাব্বাত থেকে যাবতীয় প্রিয় জিনিস থেকে আল্লাহর জন্য পৃথক হওয়ার দ্বারা। একদিন তো সব ছেড়ে আল্লাহর সন্নিধানেই যেতে হবে মওতের গাড়ি আসার সাথে সাথে তার মশক দুনিয়াতেই করে অভ্যস্ত হওয়ার দ্বারাই আখেরাতের মোহাব্বাত পয়দা হবে।

      কিছু মূর্খ বা জাহিল থাকবেই সবসময় তা নিয়ে চিন্তা করবেন না। রাসূল(সাঃ) এর জামানাতেও যে সবাই হেদায়েতের দৌলত পেয়ে ধন্য হয়েছে এমন নয়। ঈসা(আঃ) বলেছিলেন পাহাড় স্থানান্তর করা বরং সহজ কিন্তু আহাম্মককে মানুষ করা কঠিন। আর এমন কিছু বদ আমল আছে যেগুলোতে মানুষ নিজেকে অভ্যস্ত করে তুললে তার দরুণ মানুষের আক্বলের ওপর শয়তান খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে আর তার ফলে হেদায়েতের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে। সর্বযুগের জন্যই একথা প্রযোজ্য।

      মোট কথা যে আল্লাহর জন্য কুরবানি মুজাহাদা করবে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দেবেন সেজন্যে নিজের জন্য নিজেই মোহতাজ বা মুখাপেক্ষী হতে হবে। আসল খাঁটি ঈমান ও ইয়াক্বীন বহু কষ্ট করে হাসিল করতে হয় ভাই এমনি এমনি তা আসে না। আজ দুনিয়াজুড়ে কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন জাতি গোত্র থেকে যে এই ঈমানি মেহনতের জন্য একত্র হচ্ছে দেশে দেশে ইজতেমা করছে অসংখ্য জামাতে জামাতে দলবেঁধে দেশ থেকে দেশান্তরে এলাকা থেকে এলাকায় ঘরে ঘরে দ্বারে দ্বারে বারে বারে যাচ্ছে পথে প্রান্তরে বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে _ ঈমান ও ইয়াক্বীন হাসিল করার জন্য আমালের হাক্বীকত পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য। ঘরে বসেই যদি হত এত কষ্ট না করে তাহলে তো ভালই হত। কিন্তু তা ঐ জামানাতেও যেমন হবার জো ছিল না এই জামানাতেও হবার জো নেই। সংক্ষিপ্ত ফাঁকিবাজির কোন পথ নেই। কষ্ট করতেই হবে।

      তাবলীগের ৬ উসুল কি তা আজ ছোট বাচ্চারাও জানে আর কারও জানা না থাকলে সহজে জেনে নেয়া যেতে পারে তাই আর ওই ব্যাখ্যায় গেলাম না। এখন যে আসবে আসবে যে আসবে না আসবে না। যাদের মেহনতের দ্বারা লক্ষ কোটি ফারায়েজ-ওয়াজাবাত-সুন্নাহ প্রতিনিয়ত জিন্দা হয়ে চলেছে _ মূর্খ কিছু লোকের বেকুবমার্কা চর্বিতচর্বণ প্রশ্নের জবাব দিয়ে যা বহু বছর ধরে ইতিমধ্যেই লক্ষবার দেয়া হয়েছে _ সেসব অর্থহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করার সময় আসলেই এখন আর অবশিষ্ট নেই। শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত ধনী হোক বা দরিদ্র সবার জন্য হেদায়েতের রাস্তা একই _ তা হল মুজাহাদা ও কষ্ট-কুরবানির রাস্তা। কষ্ট করলে আল্লাহ হেদায়েত দিয়ে দেবেন যত অশিক্ষিতই হোক না কেন। বিনা কষ্টে নিজ যোগ্যতায় স্টিফেন হকিং বা আইনস্টাইন হলেও হেদায়েতের অ আ বোঝা যাবে না যেখানে _ সেখানে একদল মূর্খ নিজ মোটা মাথায় কি বুঝল না বুঝল তাতে আসলেই কিছু যায় আসে না। যার মাঝে হেদায়েতের প্রকৃত আগ্রহ আছে সে যেভাবেই হোক ঘুরেফিরে আসবে আজ বা কাল। যারা চালিয়াতি ফাঁকিবাজির তালে থাকবে তারা নিজেদেরকেই প্রতারিত করবে আর কিছু করতে পারবে না।  

      ধন্যবাদ।

  13. 63
    আনোয়ার

    তাবলিগ জামাতের ভাইদের কে বলি, আপনারা ফাযায়েল আমল বা ফাযায়েলে ছাদাকাহ বা অন্যান্য বই থেকে ওয়াজ নসিহত না করে সরাসরি কুরআন ও হাদীস থেকে দাওয়াতের কাজ করুন, তাফসির করেন, মসজিদে গোল হয়ে ফাযায়েল আমল পড়া বাদ দিয়ে বুখারী শরীফ নিয়ে বিষয় ভিত্তিক প্রতিদিন পড়েন ও তাফসির করেন, তাহলে আর বিদাতী জন্ম হওয়া সম্ভাবনা থাকে না, কারণ একই জিনিষ যত কপি (মডিফাই) হবে তত মিশ্রিত বা জাল বানোয়াট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে. এজন্যই মহান রব কুরআনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন, ইতঃপূর্বে  সকল কিতাব লোকজন পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে তাদের ধর্মের বারোটা বাজিয়ে পুরো খ্রষ্টান ও ইহুদী জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। আল্লাহ্ আমাদের রক্ষা করুন। ফাযায়েল আমল এ অনেক আজগুবি বানোয়াট ও বাড়াবাড়িমূলক কথা রয়েছে। তাই আসুন আমরা সরাসরি কুরআনের অর্থসহ তাফসির করি এবং সিহাহ্ সিত্তাহ বা বুখারী শরীফ থেকে অধ্যয়ন করে রেফারেন্স সহ মানুষকে দাওয়াত দেই। তাহলে সব ভ্রান্তি দূর হবে। যতই আপনি ফাযায়েল আমল বা প্রচলিত তাবলি জামাতকে ১০০% খাটি বলার চেস্টা করবেন, ততই মনে হবে রাসূল স. উল্লিখিত েঐ সম্প্রদায়ের চরিত্র আপনাদের মাাঝে প্রেকাশ পাবে, আপনাদের অনেক খুব অহংকারী আলেম মনে হয়, অন্য ইসলামী পন্ডিত বা দার্শনিকদের আপনারা কাফের ফতোয়া দিতে কার্পণ্য করেন না। 

  14. 62
    Abdur Rafi

    যারা তাবলিগ, হানাফি মাজহাব,সুফিবাদ পায়নি বা করে না। তারা কি জাহান্নামি।
    তাবলিগ,সুফিবাদ,হানাফি,যয়িফ হাদিস =জান্নাতি /জাহান্নামি
    কুরআন,সহিহ হাদিস=জান্নাতি?
    আর যারা কুরআন বুঝেনা তাদের জন্য তাবলিগ জামায়াত বিশ্বের (ভারত/পাকিস্তার/বাংলাদেশ বাদে)কোন কোন আলেম রেখেছেন তারা কি মাদিনা মনওয়ারায় ও ফাজায়েলে আমল বইটা পড়েন?আরবি ভাষায় কেন পড়েন বা পড়েন না। যেহেতু এটা বাদ দিয়ে বা তাবলিগ ওয়াদের বাদে কেউ কুরআন হাদিস সহজে বুঝেনা। হেরেম শরিফের খতিব কি প্রতিদিন ফাজায়েলে আমল থেকে কিতাবে তালিম করেন,না করেন না বা তাবলিগ জামায়াতের কিতাবের ভাষা আল্লাহর রাসলের দেশের আরব বোঝেনা, না কি তারা জাহান্নামি। কোন হাদিসের মধ্যে আপনাদের না আছে।

  15. 61
    তানভির

    শেখ বিন বাজ সব সময় তাবলীগের প্রশংসা করেছেন অনেকে ওনাকে তাবলীগের সমালোচক হিসেবে উপস্থাপন করেন যা নিতান্তই মিথ্যাচার। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় এইসবের কোন অস্তিত্ত ছিল না। মরার পর এইসব বানানো ফতোয়া তার নাম এ চালানো হচ্ছে। আল্লাহ এদের হেদায়েত করুন। গুগল সার্চ দিলেই অনার বিভিন্ন ফতুয়া পাবেন যা তাবলীগের পক্ষে।

     

  16. 60
    আহনাফ মহসিন

    ভাই , আপনাকে আমি অনুরোধ করছি , এই লিংক এ গিয়ে এক আহলে হাদিস যে প্রশ্নগুলি তুলেছে তার জবাব দিতে --    https://www.facebook.com/asma.mst/posts/320256228177267?comment_id=320375554832001&offset=0&total_comments=3&notif_t=feed_comment_reply                                                                                                                                                                                               

  17. 59
    স্বরূপ

    এখন সারা বিশ্বে যে দাওয়াতের জোয়ার চলছে Mission Dawah নামে, এ থেকে আমি তাব্লিগের ভাইদেরকে শিক্ষা নেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরধ করছি । এবং এদের দাওয়াতে প্রচুর পরিমানে অমুস্লিম মুসল্মান হচ্ছে, মুসল্মান হক বুঝতেছে। 

    https://www.facebook.com/MissionDawah?ref=ts&fref=ts

     

     

  18. 58
    Mahabub Alam

    টাইপিং এর ভুলের জন্য দুঃখিত। 

    ফাযায়েলে হজে অনেক কিসসা বা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে তার পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১ …

    "আমি সফরের শুরুতে পাঁচটি হরফ পাথেয় হিসাবে নিয়াছি, কাফ, হা, ইয়া, আইন, ছাদ, যুবক বলিল কাফ অর্থ কাফী যথেষ্ট, হা অর্থ হাদী, ইয়া অর্থ ঠিকানা দাতা, আইন অর্থ আলেম সর্বজ্ঞানী, ছাদ অর্থ ছাদেক, …… ইহা শুনিয়া আমি তাহাকে আপন কোর্তা দিয়া দিতে চাই। সে বলিল বড় মিয়া! দুনিয়ার কোর্তার চেয়ে উলঙ্গ থাকা ভালো।"  পুরো বর্ণনা ফাযায়েলে হজে পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১ এ পাবেন।

     

  19. 57
    Mahabub Alam

    টাইপিং এর ভুলের জন্য দুঃখিত। 

    ফাযায়েলে হজে অনেক কিসসা বা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে তার পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১ …

    "আমি সফরের শুরুতে পাঁচটি হরফ পাথেয় হিসাবে নিয়াছি, কাফ, হা, ইয়া, আইন, ছাদ, যুবক বলিল কাফ অর্থ কাফী যথেষ্ট, হা অর্থ হাদী, ইয়া অর্থ ঠিকানা দাতা, আইন অর্থ আলেম সর্বজ্ঞানী, ছাদ অর্থ ছাদেক, …… ইহা শুনিয়া আমি তাহাকে আপন কোর্তা দিয়া দিতে চাই। সে বলিল বড় মিয়া! দুনিয়ার কোর্তার চেয়ে উলঙ্গ থাকা ভালো।"  পুরো বর্ণনা ফাযায়েলে হজে পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১ এ পাবেন।

    http://www.banglakitab.com/Fazail%20E%20Amal/Fazail-E-Amal2-Fazail-E-Hajj-Pages-222-331-MaulanaZakariah.pdf

    ফাযায়েল হজের বইয়ের এর পৃষ্ঠা নং ১৯৭ উল্লেখ করা হয়েছে লেকচারে, আপনারা গল্পটি ২৯০-২৯১ পৃষ্ঠায় বর্ণনায় আছে। 

    লেকচার নংঃ  45. স্বপ্নের ধর্ম  (45. sopner dhormo) Sheikh Motiur Rahman

    http://server1.quraneralo.com/lectures/mrm/45%20Shopner%20Dhormo.mp3

    বই এবং লেকচার  পর্যালোচনা করে বিস্তারিত জানাবেন কি? 

  20. 56
    Mahabub Alam

    ফাযায়েলে হজে অনেক কিসসা বা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে তার পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১ …

    http://www.banglakitab.com/Fazail%20E%20Amal/Fazail-E-Amal2-Fazail-E-Hajj-Pages-222-331-MaulanaZakariah.pdf

    "আমি সফরের শুরুতে পাঁচটি হরফ পাথেয় হিসাবে নিয়াছি, কাফ, হা, ইয়া, আইন, ছাদ, যুবক বলিল কাফ অর্থ কাফী যথেষ্ট, হা অর্থ হাদী, ত্যা অর্থ ঠিকানা দাতা, আইন অর্থ আলেম সর্বজ্ঞানী, ছাদ অর্থ ছাদেক, …… ইহা শুনিয়া আমি তাহাকে আপন কোর্তা দিয়া দিতে চাই। সে বলিল বড় মিয়া! দুনিয়ার কোর্তার চেয়ে উলঙ্গ থাকা ভালো।" 

    ……… 

    ফাযায়েল হজের বইয়ের এর পৃষ্ঠা নং ১৯৭ উল্লেখ করা হয়েছে লেকচারে, আপনারা গল্পটি ২৯০-২৯১ পৃষ্ঠায় বর্ণনা আছে।

    বই এবং লেকচার পরে শুনে বিস্তারিত জানাবেন কি? 

    লেকচার নংঃ  45. স্বপ্নের ধর্ম  (45. sopner dhormo) Sheikh Motiur Rahman

    http://server1.quraneralo.com/lectures/mrm/45%20Shopner%20Dhormo.mp3

  21. 55
    Mufrad

    তাবলীগী ভাইদের বলছি, আমার মন্তব্যটাকে বিকৃত করে তারপর তার জবাব দিতে গেলেন কেন??? কোন অশিক্ষিত মূর্খ ভাই যদি তার ধরন অনুযায়ী ইসলামী বয়ান করতে শুরু করে তাহলে তো সাধারণ মুসল্লিদের কাছে খারাপ লাগতেই পারে। আপনাদের উচিত এর থেকে শিক্ষা নেয়া। আমাদের খারাপ লাগাটাইতো এখানে শেয়ার করেছি। আরও একটা কথা শুনে রাখুন, মাশজিদ মারামারি বকাবকি করার জায়গা না তাই কেউ কিছু বলে না।

    1. 55.1
      মোঃ লাফিফুল ইসলাম

      আমই ''দেওবন্দী অলামাগনের মতে  তাবলীগের মহান কৃতিত্ব '' এর উপর লেথা পাঠাতে চাই। প্রশ্ন হল তা কি সরাসরি পোষ্ট হবে না, আপনারা করবেন?

  22. 54
    Saikat

    আপনি যে কারনে তাব্লীগদের বাতেল বলেছেন
    সেই হাদীসের  ভিতরেই আছে তাবলীগ হক হওয়ার প্রমান
    আপনি সমুদ্রের উপরের সাতারুদের সাহসী বলতে পারেন
    কিন্তু আপনি সমুদ্রের ভিতরের ডুবুরিদের কে দেখেননি
    এই জন্য আপনি তাদের বিশ্বাস করেন না
    কিন্তু আমি সমুদ্রের ভিতরের ডুবুরিদের দেখেছি
    এই জন্য আপনি তাদের সাহসী বলতে পারছি
    আপনি কোরআন হাদীসের অর্থ জানেন কিন্তু কোরআন হাদীসের ব্যখ্যা বুঝেন না
    ১৪০০ বছর আগে রাসূল (সাঃ) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন, তখন কাফেররা ভাবল সে একটা পাগল!
    ১৪০০ বছর পরে যখন তাবলীগের লোকেরা রাসূল (সাঃ) এর ইসলাম ধর্ম প্রচার কাজ অব্যহত রাখে তখন আহলে খবিশেরা বলে তাবলীগের লোকেরা পাগল!

  23. 53
    এহসান শিপন

    সবগুলো মন্তব্য পড়ি নি।তবে যারা তাবলিগের প্রচারপদ্ধতি সঠিক মনে করেন না তাদের উদ্দেশ্যে  —-

    ১.আল্লাহ সর্বজ্ঞ নিশ্চয় এটা মানেন আশা করি।আল্লাহ  মানবসভ্যতার যথার্থ অবস্থানে উন্নীত হওয়া সাপেক্কেই আখেরি নবি  সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম   কে আখেরি শরিয়ত ও সুন্নাহ সহ পাঠিয়েছেন।আল্লাহ কি জানতেন না যে একসময় এসকল আধুনি প্রচারমাধ্যম আসবে?তিনি ছবি হারাম করলেন কেন? এতাই তো ভাল হত যে টিভি তে নবি  সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বয়ান করছেন আর আবু জেহেলের দল তা দেখে ইসলাম কবুল করছে।কিন্তু আল্লাহ তা পছন্দ কেন করেন নি? ভাই,নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম যে পদ্ধতিতে দাওয়াত দিয়েছেন সেটাই আসল।বাকিগুলো তার চেয়ে উত্তম হতে পারে না। আর হারাম ছবি দিয়ে দ্বীনের ফরজ জিন্দা হয় না।

    ২.অমুসলিমদের দাওয়াত দেব না এমন কোন সংকল্প নেয়া হয়েছে বলে আম্র জানা নাই

    ৩.আজ ঢাবি,বুয়েট আর মেডিকেলের এই জাহেলি পরিবেশে দ্বীনের হাওয়া যা বইছে তা তাবলিগের বদৌলতেই ।যারা ফজরের জামাতে শরিক না হয়ে রাজপথে জেহাদ অথবা হলের রুম দখলের জেহাদ করে তাদের দ্বারা নয় ।

    ৪.গায়রে ইসনাদ স্ব-শিক্ষিত ডিজিটাল-পন্থি দাওয়াত দ্বারা মাথায় দ্বীন ঢুকলেও দিলে ঢোকে না

    ভুল মাফ করবেন

    আল্লাহ বোঝার তৌফিক দিন।

  24. 52
    মজলুম

    কারো  লেখা কপি পেস্ট মারলে সোর্স উল্লেখ করলে ভালো হয়@ আহমদ শরীফ।  এই লিখাটা লুৎফুর রহমান ফরায়েজীর
    সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা.

    আব্দুল ওয়াহাব ইমাম হাম্বলির   অনুসারি ছিলেন এটা বাস্তব সত্য। অনেক সালাফিই ইমাম হাম্বলিকে মানে চার ইমামের মধ্যে। অনেক সালাফিই ভালো, এরা মাহযাব না মানলেও  অন্য কেউ মানলে ভালো নজরেই দেখে। আর অনেকগুলা ঘাঁড় তেড়া, সারাদিন ওদের কাজ হলো কেমনে সালাফিরা ভালো অন্যদের চেয়ে। আর বাদ বাকিগুলো সালাফি নিজেরাই বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে কামড়াকামড়ি করে, এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে কাফের ফতোয়া দেয়।

    দেওবন্দি কওমিগুলো সারাদিন দেওবন্দ আর কওমী কওমী ঝপবে। তারাই এই যামানায় একেবারে খাঁটি, কেন তারা খাঁটি, তাদের কেন কোন  ছেঁদা নাই এই নিয়ে কাবজাব। মদিনার নুর সরাসরি দেওবন্দের উপর পড়ছে, বর্তমানে সুরেশ খাঁটি সরিষার তেলের  কেমনে শুধু দেওবন্দই খাঁটি ইসলাম চর্চা করছে। "আদর্শ নারী"  মাসিক পত্রিকাটা তো একবার কভার পেজেই মদিনার মসজিদে নববী হতে কিভাবে নুরের তাজাল্লি এসে ভার‌তের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ মাদ্রাসায় এসে পড়ছে তার সচিত্র দিয়েছে।

    সবার মাঝেই ভালো খারাপ আছে, কিন্তু এরা সব গ্রুপ যা করছে তার সবই বাড়াবাড়ি।

    1. 52.1
      আহমেদ শরীফ

      কপিপেস্ট সাধারণতঃ উল্লেখ করি, ভূলবশতঃ কখনো বাদ পড়ে যায়। জ্ঞান বন্টনের জন্যই। খুঁটিনাটি নিয়ে এত মাথা ঘামাই না। 'কে বলেছে' তার চেয়ে 'কি বলেছে' সেটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারো নিন্দা-প্রশংসার পরওয়াও কখনো করেছি বলে মনে পড়ে না।

      ইসলামের ২য় পুনরুত্থান প্রাচ্য থেকেই হবে। এশিয়ানগণ অনারব ও দরিদ্র হওয়ার কারণে আরব সালাফিদের উপেক্ষা-তাচ্ছিল্য নাক উঁচুভাব দেওবন্দী ওলামাদের প্রতি। যারা ছেলেবেলা থেকে শত অভাব-অনটন সত্ত্বেও কুরবানি-মুজাহাদার সাথে দ্বীনের মশাল হাতে এগিয়ে চলেন। হেদায়েত তথা হক্বের সবচেয়ে বড় চিহৃ হলে সুন্নাত অনুসরণের আধিক্য। যাঁদের মাঝে বিশুদ্ধপন্থি সুন্নাতের আমাল তাবত বিশ্বওলামাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি। দাওয়াতে তাবলীগের মত বিশ্বব্যাপী ব্যপক মেহনতেও নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এনারাই। যাঁদের মাধ্যমে লাখ লাখ নয় _ বরং কোটি কোটি লোকের মাঝে সুন্নাত জিন্দা হয়েছে, অবারিতভাবে হয়ে চলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এনারা অন্যান্য আক্বায়েদের ওলামাদের-মতাদর্শীদেরও সম্মান করেন, যা দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে অন্যরা ততটুকু এনাদের করেন না। বর্তমান বিশ্বে তো বটেই এবং অনাগত ভবিষ্যতেও এনাদের সম্প্রসারমান নেতৃত্ব-প্রভাবই সর্বাধিক হবে বলে আশা করা যায়।

  25. 51
    আহমেদ শরীফ

    বর্তমান যুগের একটি অপপ্রচারের জবাব।

    * অপপ্রচারণা :-

    ১/ তাবলীগ জামায়াত কেন রাতের পর রাত মসজিদে রাত্রি যাপন করে? এটা তো রাসুল (সা:)কখনও. করেন নাই। অতএব এটি একটি সম্পুর্ণ বেদআত।

    ২/ তাবলিগ জামায়াত কেন সামানপত্র নিয়ে মসজিদে কেন ঘুমায় এবং খাবার খায় ? সাহাবায়ে কেরাম(রাঃ) ও তাবে তাবেয়িগন(রহঃ) তো কখনও এটা করেন নাই। তাহলে তাবলীগ জামায়াত পেল কোথায় ? অতএব এটিও আরেকটি বেদআত।

    তাহলে তাবলীগ জামায়াত. যে দ্বীনি কাজের ক্ষেত্রে মসজিদে থাকে , খাবার খায় , ঘুমায় _ এটা কি জায়েজ ?

    উত্তর :

    মসজিদে সাময়িকভাবে ঘুমানো ও খাওয়া-দাওয়া করা জায়েয। আব্দুল্লাহ্ ইবনু ওমর (রাঃ) অবিবাহিত যুবক ছিলেন, যিনি রাসূল (সা:)-এর যুগে মসজিদে ঘুমাতেন।

    (নাসাঈ হা/৭২২)।

    তিনি বলেন, আমরা যুবকরা রাসূল (সা:)-এর যুগে মসজিদে ঘুমাতাম।

    (তিরমিযী হা/৩২১; ইবনু মাজাহ হা/৭৫১)।

    মসজিদে খাওয়া-দাওয়া করাও বৈধ। সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন হারেছ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (সা:)-এর যামানায় মসজিদে রুটি ও গোশত খেতাম’।

    (ইবনু মাজাহ, সনদ হাসান, হা/৩৩০০, ‘খাদ্য’ অধ্যায়)

     

    1. 51.1
      Saikat

      mosjide ittekafer niyote ghumanO ki bidat

  26. 50
    আহমেদ শরীফ

    প্রিয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে _

     

    আহলে সুন্নত অনুসারী আহলে হাদীস কেন হয়?

    আসলে সহীহ আকিদা ও আমল থেকে বিভ্রান্ত হয়ে আহলে হাদীস হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হল, অজ্ঞতা।

    আরেকটি কারণ হল, হাদীসের প্রতি মোহাব্বত। দু একটি হাদীস দেখেই আমাদের ভাইয়েরা আহলে হাদীস হয়ে যায়, কারণ আমাদের আকিদা হল, সুন্নাতে নববী সাঃ সবার উপরে। সুন্নতে নববীর উপর কোন ব্যক্তি বিশেষের জেদ ও মতামত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ শিক্ষা আমরা দিয়ে থাকি। এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী দেওবন্দীদের মূল উৎস ও প্রেরণা।

    তাই এ মাসলাকের কোন ব্যক্তি যখন নিজের কম ইলমীর কারণে স্বীয় আমলের দলীল সম্পর্কে ভালভাবে না জানে, তখন আহলে হাদীস ভাইদের বিভ্রান্তিকর দলীল দেখে আকৃষ্ট হয়। যখন দেখে আহলে হাদীস দাবিদারদের কাছে হাদীস আছে। তখন সে হাদীসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যেহেতু হাদীসের মোহাব্বত তার মন-মগজে প্রবিষ্ট। তাই খুব সহজে হাদীসের মোহাব্বতওয়ালা এসব সহজ-সরল ব্যক্তিদের নিজেদের ভ্রান্ত মতবাদে দিক্ষীত করে নিতে পারে আহলে হাদীসরা। যেহেতু বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদের মত ও কথা খুবই চমকপ্রদ এবং চিত্তাকর্ষী। যদিও তা আসলে মাকাল ফল। হাদীসের নামে ধোঁকাবাজীই যাদের স্বভাব। কিন্তু মুখরোচক স্লোগানের আড়ালে তা থাকে লুকায়িত। যা বুঝার ক্ষমতা সাধারণ লোকদের অনেক সময় হয়ে উঠে না।

    আহলে হাদীস হবার পর আর ফিরে না কেন?

    আহলে হাদীস হয়ে যাওয়ার পর সে আর কেন অসংখ্য সহীহ হাদীস দেখানোর পরও ফিরে আসে না কেন?

    এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    জবাবটি খুবই সোজা। আসলে একজন হানাফী দেওবন্দী খুব সহজে আহলে হাদীস হয়ে যায়, যেহেতু তার মনে হাদীসের মোহাব্বত রয়েছে। যেটি হানাফী দেওবন্দীদের থেকে পাওয়া। হাদীসের প্রতি টান তার ঈমান ও বিশ্বাস। তাই হাদীস দেখেই যাচাই বাছাই ছাড়াই মেনে নেয়। বাহ্যিক লেবাসধারী হাদীস অনুসারীদের কথায় ধোঁকায় পড়ে বিভ্রান্ত আহলে হাদীস মাযহাব গ্রহণ করে।

    কিন্তু যখনি আহলে হাদীস হয়ে যায়। তখন আহলে হাদীসের প্রশিক্ষকরা উক্ত ডাইভার্ট হওয়া ব্যক্তির মন-মগজ থেকে হাদীসের মোহাব্বতকে দূর করে দেয়। তার মনে হাদীস সম্পর্কে তৈরী করে দেয় সন্দেহ ও সংশয়। কিভাবে হাদীস অস্বিকার করতে হবে, তা তাকে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।

    বলা হয়, তোমার মতের উল্টো হাদীস আসলেই বলে দিবে- হাদীসটি জাল।

    বলবে- হাদীসটি মুনকার।

    বলবে- হাদীসটি জঈফ।

    বলবে- হাদীসটি মওকুফ।

    বলবে-হাদীসটির সূত্র নেই।

    বলবে- হাদীসটির মাঝে তাদলীস আছে।

    বলবে- হাদীসটি মুরসাল। ইদ্যাদি।

    এভাবে হাদীস কিভাবে বর্জন করা যায় এর প্রশিক্ষণ দেয়া হয় হাতে কলমে। তখন লোকটির মন থেকে হাদীসের মোহাব্বত দূর হয়ে যায়। যে মোহাব্বত তার রগ রেশা ঢুকেছিল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী দেওবন্দী থাকার সময়। তা আর তার থাকে না। তখন সে হাদীসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। তখন সে তার মনগড়া মতের বিরোধী হাদীস দেখলেই তা বর্র্জন করার জন্য হাদীসকে অস্বিকার করা শুরু করে দেয়। হাদীসটিকে দোষনীয় করার জন্য সর্ব প্রকার প্রচেষ্টা নিয়োগ করে। ফলে তার মনে আগের মত আর হাদীসের মোহাব্বত থাকে না। সে হয়ে যায় এক প্রকার হাদীস বিদ্বেষী।

    এ কারণে এ লোকটিকে যতই সহীহ হাদীসের রেফারেন্স দেয়া হোক না কেন, সে আর আহলে হাদীস নামক ভ্রান্ত মাযহাব ছেড়ে নাজাতপ্রাপ্ত জামাত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতে ফিরে আসার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে না। দু একজন যাও আসে তার পরিমান নিতান্তই কম।

     

    এ ভ্রান্তিতা নিরসনে কী করবেন?

    আসলে এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পড়াশোনা। আর বিজ্ঞ ব্যক্তিদের তত্বাবধানে দ্বীনের মাসায়েলকে সমাধান করার চেস্টা করা। নিজে নিজে হাদীস পড়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির ভান করার মানসিকতা খুবই বিপদজনক।

    যাইহোক, আহলে হাদীস ভাইদের মাযহাবের একটি বড় গুণ হল, তারা প্রচুর মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করেন। যে যত বেশি মিথ্যা কথা বলতে পারে, সে ততবড় আহলে হাদীস হতে পারে।

    ওদের আরেকটি গুণ হল, ওরা প্রচুর পরিমাণ ধোঁকাবাজি করে, যে যত বড় ধোঁকাবাজ সে ততবড় আহলে হাদীস।

    তাই ওদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।

    ওরা কথায় কথায় বুখারী বুখারী বলে বেড়ায়। মনে হয় বুখারী তাদের পৈত্রিক সম্পত্বি। অথচ বুখারীতে তাদের মাসলাকের ছিটেফোঁটাও নেই। বরং ওদের মাসলাকের উল্টো প্রচুর মত রয়েছে বুখারীতে। যা তারা মানে না।

     

    আহলে হাদীসের সাথে কিভাবে বিতর্ক করবেন?

     

    মূলনীতি নং-১

    আহলে হাদীস ব্যক্তিটি কুরআন ও সহীহ হাদীস ছাড়া কোন উম্মতীর উক্তি নকল করতে পারবে না। যদি নকল করে, তাহলে তাকে তার মাযহাব অনুপাতে মিথ্যুক সাব্যস্ত করা হবে।

    কারণ-

    আহলে হাদীসদের দাবি হল, তারা শুধু কুরআনও সহীহ হাদীস মানে। কোন উম্মতীর বক্তব্য তাদের কাছে মাননীয় নয়। কোন উম্মতীর কথা মানা জায়েজও নয়। কোন উম্মতীর কথা বা মন্তব্য তাদের কাছে দলীলও নয়।

    তাই কোনক্রমেই তারা কুরআন ও সহীহ হাদীস ছাড়া কোন উম্মতীর বক্তব্য বা মন্তব্য দলীল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে না। যদি করে, তাহলে ঐ মুহুর্তেই তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করা হবে। এবং আহলে হাদীস মাযহাবের মূলনীতিটিকে একটি ধোঁকাবাজিপূর্ণ মুখরোচক স্লোগান সাব্যস্ত করা হবে।

    মূলনীতি নং-২

    কোন উম্মতীর বক্তব্যের আলোকে কোন হাদীসকে জাল বা জঈফ বা সহীহ বলতে পারবে না। বরং হাদীস সহীহ বা জঈফ কিংবা জাল ইত্যাদি বলার জন্য পেশ করবে কুরআনের আয়াত বা হাদীস।

    কারণ-

    উম্মতীর কথা দলীল নয়। দলীল শুধুমাত্র কুরআনও হাদীস তাদের মতে। উম্মতীর কথাকে দলীল যারা মনে করে, তারা আহলে হাদীস ভাইদের মতে মুশরিক। তাই তারা কিভাবে উম্মতীর কথাকে দলীল সাব্যস্ত করে হাদীসকে সহীহ বা জঈফ বলতে পারে?

    এটিতো তাদের নিজের তৈরী মূলনীতির বিরোধী অবস্থান? এটি কি করে সম্ভব হতে পারে?

    তাই যখনি কোন হাদীসকে তারা সহীহ বা জঈফ বলবে কুরআনের আয়াত বা হাদীস ছাড়া উম্মতীর বক্তব্যের আলোকে, তখনি তাদের মাযহাব অনুযায়ী তারা মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজ সাব্যস্ত হবে।

    মূলনীতি নং-৩

    ওদের ভাষায় যারা কুরআন ও হাদীস থেকে কিয়াস করে মাসআলা বের করেছেন, সেই সকল মুজতাহিদগণ দ্বীন বিকৃতকারী। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী, ফিরক্বা সৃষ্টিকারী।

    আর যারা সে সকল মুজতাহিদের অনুসরণ করে মুকাল্লিদ, সেসকল মুকাল্লিদ হলেন ওদের ভাষায় মুশরিক। বিভ্রান্ত।

    তাই কোন আহলে হাদীস তাদের মতের দলীল কোন মুজতাহিদ বা মুকাল্লিদের সংকলিত হাদীসের কিতাব থেকে দিতে পারবে না।

    শুধুমাত্র এমন ব্যক্তির সংকলিত কিতাব থেকে হাদীস দেখাবে, যিনি মুজতাহিদও নয় আবার মুকাল্লিদও নয়। বরং ওদের মত গায়রে মুকাল্লিদ।

    যদি কোন মুজতাহিদের সংকলিত কিতাব থেকে হাদীস উপস্থাপন করে, বা কোন মুকাল্লিদের কিতাব থেকে হাদীস উপস্থাপন করে, তাহলে সাথে সাথেই তাকে মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজ সাব্যস্ত করা হবে।

    কারণ, যে মুজতাহিদ তাদের ভাষায় বিভ্রান্ত, দ্বীন বিকৃতিকারী, যে মুকাল্লিদ তাদের ভাষায় মুশরিক ও বিভ্রান্ত, সেসব দ্বীন বিকৃতিকারী, বিভ্রান্ত ও মুশরিকের কিতাব থেকে হাদীসের দলীল দেয়া কিভাবে তাদের মতে জায়েজ হবে? কিছুতেই জায়েজ হওয়ার কথা নয়।

    তাই যখনি একাজ করবে তারা, তখনি তাদের ধোঁকাবাজ ও প্রতারক সাব্যস্ত করা হবে।

    এক্ষেত্রে হাদীস সংকলগণের মাযহাবী অবস্থান মনে রাখা জরুরী

    ১। ইমাম বুখারী রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।

    সুত্রঃ নবাব ছিদ্দিক হাসান খান লিখিত আবজাদুল উলুম পৃষ্ঠা নং ৮১০, আলহিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৮৩।

    শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ পৃষ্ঠা নং ৬৭।

    আল্লামা তাজ উদ্দীন সুবকী রহঃ লিখিত ত্ববকাতুশ শাফেয়ী পৃষ্ঠা নং ২/২।

    ২। ইমাম মুসলিম রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।

    সুত্রঃ ছিদ্দিক হাঃ খান লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।

    ৩। ইমাম তিরমিজী নিজে মুজ্তাহিদ ছিলেন। তবে হানাফী ও হাম্বলী মাজহাবের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।

    সুত্রঃ শা ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ পৃষ্ঠা নং ৭৯।

    ৪। ইমাম নাসাঈ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।

    সুত্রঃ নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৯৩।

    ৫। ইমাম আবুদাউদ রহঃ শাফেয়ী।

    সুত্রঃ আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।

    1. 50.1
      আহমেদ শরীফ

      আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহঃ ইবনে তাইমিয়ার উদ্দৃতি দিয়ে ফয়জুল বারী ১/৫৮ তে ইমাম আবুদাউদ রহঃ কে হাম্বলী বলে উল্যেখ করেছেন।

      ৬। ইমাম ইবনে মাজাহ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।

      সুত্রঃ ফয়জুল বারী ১/৫৮।

      এ গেল ছিহাহ ছিত্তার ইমামগণের মাজহাব।

      অন্যান্য ইমামগণের মাজহাব নবাব ছিদ্দীক হাসান খান সাহেবের আল-হিত্তা থেকে।

      ╚►৭। মিশকাত শরিফ প্রণেতা শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫

      ╚►৮। ইমাম খাত্তাবী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫

      ╚►৯। ইমাম নববী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫

      ╚►১০। ইমাম বাগভী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৮

      ╚►১১। ইমাম ত্বহাবী হাম্বলী, পৃঃ১৩৫

      ╚►১২। বড় পীর আঃ কাদের জিলানী রহঃ হাম্বলী, পৃঃ ৩০০

      ╚►১৩। ইমাম ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী, পৃঃ ১৬৮

      ╚►১৪। ইবনে কায়্যিম রহঃ হাম্বলী, পৃঃ১৬৮

      ╚►১৫। ইমাম আঃ বার রহঃ মালেকী, পৃঃ১৩৫

      ╚►১৬। ইমাম আঃ হক রহঃ হানাফী, পৃঃ১৬০

      ╚►১৭। শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহঃ হানাফী, পৃঃ ১৬০-১৬৩

      ╚►১৮। ইমাম ইবনে বাত্তাল মালেকী, পৃঃ২১৩

      ╚►১৯। ইমাম হালাবী রহঃ হানাফী পৃঃ২১৩

      ╚►২০। ইমাম শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুদদায়েম রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ২১৫

      ╚►২১। ইমাম বদরুদ্দীন আঈনী রহঃ হানাফী, পৃঃ২১৬

      ╚►২২। ইমাম যারকানী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ২১৭

      ╚►২৩। ইমাম ক্বাজী মুহিব্বুদ্দীন হাম্বলী, পৃঃ ২১৮

      ╚►২৪। ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী, পৃঃ২১৯

      ╚►২৫। ইমাম বুলকিনী শাফেয়ী, পৃঃ ২১৯

      ╚►২৬। ইমাম মার্যুকী মালেকী পৃঃ ২২০

      ╚►২৭। ইমাম জালালুদ্দীন বকরী শাফেয়ী, পৃঃ২২০

      ╚►২৮। ইমাম কাস্তাল্লানী শাফেয়ী, পৃঃ২২২

      ╚►২৯। ইমাম ইবনে আরাবী মালেকী, পৃঃ ২২৪

      এমন কি তাদের মডেল আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদীকে ও হাম্বলী বলে উল্লেখ করেছেন তার আল্-হিত্তাতু ফিস সিহাহিস সিত্তাহ‘র ১৬৭ পৃষ্ঠায়।

      ইমাম তাহাবী রহঃ ছিলেন হানাফী রহঃ এর অনুসারী। যা তার সংকলিত তাহাবী শরীফ পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবে।

      মূলনীতি নং-৪

      দলীল দেয়া কার যিম্মায় তা নির্দিষ্ট করে নিন। এক্ষেত্রে রাসূল সাঃ এর প্রসিদ্ধ হাদীসটি জানিয়ে দিন-

      أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «البَيِّنَةُ عَلَى المُدَّعِي، وَاليَمِينُ عَلَى المُدَّعَى عَلَيْهِ»

      রাসূল সাঃ তার খুতবায় বলেছেন, দলীল আবশ্যক দাবিদারের যিম্মায়। আর হলফ করবে অস্বিকারকারী। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৩৪১}

      সুতরাং যে মাসআলায় কথা বলতে চাচ্ছেন আহলে হাদীস ভাইটির সাথে, সেখানে দেখে নিন, দাবিকারী কে আর অস্বিকারকারী কে?

      যে দাবিদার হবে সে পেশ করবে দলীল। অস্বিকারকারীর কাছে দলীল চাওয়া এ হাদীসের বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘণ।

      উদাহরণ :

      ১-      আমীন আস্তে বলা ও জোরে বলার মতবাদের মাসআলায় দাবিদার কে আর অস্বিকারকারী কে?

      আমীন জোরে বলার প্রবক্তা দাবিদার। আর আস্তে বলার প্রবক্তা অস্বিকারকারী।

      কারণ তারা জোরে বলার দাবি করছে, আমরা অস্বিকার করছি। বলছি জোরে বলা লাগবে না। উক্ত প্রসিদ্ধ হাদীসের বিধান অনুপাতে জোরে বলার প্রবক্তা দলীল পেশ করবে, অস্বিকারকারীর কাছে দলীল চাওয়া প্রসিদ্ধ হাদীসের বিধান লঙ্ঘণ।

      ২-      ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া ও না পড়ার মাসআলা।

      কে দাবিদার আর কে অস্বিকারকারী?

      নিশ্চয় ফাতিহা যারা পড়তে বলেন, তারা দাবিদার আর যারা মানা করেন, তারা অস্বিকারকারী।

      সুতরাং দলীল দিবে যারা ফাতিহা পড়তে বলেন। যারা পড়তে বলেন না, তাদের কাছে দলীল চাওয়া ধোঁকাবাজী ও প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

      ৩-     রুকুতে যেতে আসতে হাত উঠানোর মাসআলায় কে দাবিদার আর কে অস্বিকারকারী?

      নিশ্চয় যারা উঠাতে বলেন, তারা দাবিদার। আর যারা বলেন না, তারা অস্বিকারকারী?

      সুতরাং দলীল দিবে কে? কার যিম্মায় দলীল দেয়া আবশ্যক? অস্বিকারকারীর যিম্মায় না দাবিদারের যিম্মায়।

      নিশ্চয় দাবিদারের যিম্মায়। সুতরাং এক্ষেত্রেও অস্বিকারকারীর কাছে দলীল চাওয়া ধোঁকাবাজী।

      এমনভাবে প্রতিটি মতভেদপূর্ণ মাসআলায় নির্দিষ্ট করতে হবে, দলীল আসলে কার যিম্মায়। তারপর আলোচনা সামনে বাড়াতে হবে।

      মূলনীতি নং-৫

      যে মাসআলা নিয়ে আলোচনা হবে উভয় পক্ষ প্রথমে উক্ত মাসআলার ব্যাপারে নিজেদের পরিপূর্ণ দাবি ও আমল উপস্থাপন করবে। তারপর উক্ত পরিপূর্ণ দাবি ও আমলের উপর পূর্ণাঙ্গ দলীল পেশ করবে।

      অর্ধেক মাসআলার দলীল দিলে হবে না। বরং পূর্ণাঙ্গ আমলের দলীল দিতে হবে। যদি অর্ধেক আহলের দলীল দেয়া হয়, আর অর্ধেক আমলের ক্ষেত্রে দলীল উপস্থাপন করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে, তাহলেও এক্ষেত্রে উক্ত আমলের দাবিদারকে ধোঁকাবাজ ও প্রতারক সাব্যস্ত করা হবে।

      কারণ, সে উক্ত মাসআলায় আমল করছে একটি, অথচ তার আমলের পরিপূর্ণ দলীল পেশ করতে পারছে না, অথচ প্রচার করে বেড়াচ্ছে, তার আমলের দলীল হাদীসে বিদ্যমান, তাহলে সে প্রতারক ও মিথ্যুক নয়কি?

      যেমন কয়েকটি উদাহরণ নিচে উদ্ধৃত করা হল,

      রফয়ে ইয়াদাইন তথা নামাযে হাত উত্তোলন

      আহলে হাদীসরা বলে- রফয়ে ইয়াদাইন তথা নামাযে তাকবীরে তাহরীমা ছাড়াও হাত তুলতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের পরিপূর্ণ আমল কি?

      চার রাকাত নামাযে তারা ১০ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করে থাকে, যথা প্রথম ও তৃতীয় রাকাতের শুরুতে এবং প্রতি রাকাতের রুকুতে গমণের সময় এবং উঠার সময়। এই হল মোট ১০ স্থান। এই ১০ স্থানে তারা রফয়ে ইয়াদাইন করে থাকে। আর ১৮ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করে না। যথা দ্বিতীয় রাকাত ও চতুর্থ রাকাতের শুরুতে এবং প্রতি রাকাতের সেজদাতে গমণ ও উঠার সময়। তাহলে প্রতি রাকাতে দুটি করে সেজদা হলে চার রাকাত নামাযে হচ্ছে ১৬টি সেজদা, আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাতের শুরু নিয়ে হল ১৮টি স্থান। যে ১৮ স্থানে আহলে হাদীস দাবিদার ভাইয়েরা রফয়ে ইয়াদাইন করে না।

      সেই সাথে তাদের দাবি হল এটি রাসূল সাঃ এর সর্বশেষ আমল।

      আর যারা রফয়ে ইয়াদাইন করে না, তাদের নামায হয় না।

      তাহলে রফয়ে ইয়াদাইনের ক্ষেত্রে আহলে হাদীসদের পরিপূর্ণ আমল ও দাবি কি?

      ১-      ১৮ স্থানের রফয়ে ইয়াদাইনের নিষেধাজ্ঞা।

      ২-      ১০ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করতে হবে।

      ৩-     সর্বদা করতে হবে এ শব্দ।

      ৪-      যারা এভাবে রফয়ে ইয়াদাইন করবে না, তাদের নামায হবে না।

      এ চারটি পয়েন্টসহ দলীল উপস্থাপন করতে হবে। শুধু আংশিক দলীল গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি আংশিক দলীল পেশ করে পরিপূর্ণ আমল করে, তাহলে তারা ধোঁকাবাজ প্রমানিত হয়ে যাবে।

    2. 50.2
      আহমেদ শরীফ

      ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া

      গায়রে মুকাল্লিদরা [জেহরী তথা জোরে কেরাত পড়া নামাযে] নামাযের মাঝে ইমামের পিছনে ১১৩ সূরা কখনোই পড়ে না। এসব পড়াকে তারা নিষিদ্ধ ও হারাম বলে থাকে।

      আরো বলে থাকে যে, “যেমন সকল জামাতে পড়া নামাযের জন্য এক আজান, এক ইকামত, এক খুতবা ও একটি সুতরাই যথেষ্ঠ। তেমনি এক সূরা সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। কিন্তু সূরা ফাতিহা ইমামের পড়ার দ্বারা মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট হবে না। প্রতিটি মুক্তাদী নিজেই তা পড়া আবশ্যক। নতুবা মুক্তাদীদের নামায বাতিল ও বেকার হয়ে যাবে। আর [সিররী তথা কেরাত আস্তে পড়া নামায] নামাযের মাঝে মুক্তাদীদের জন্য সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ। আর সূরা মিলানো মুস্তাহাব”। 

      এসব মাসআলা গায়রে মুকাল্লিদ বিতার্কিক প্রথমে কুরআন পাক দ্বারা প্রমাণ করবে। যদি না করতে পারে, তাহলে লিখে দিবে যে, “এ মাসআলায় কুরআনে পাক আমাদের মাথায় হাত রাখতে তৈরী নয়”।

      দ্বিতীয় নাম্বার, এ পূর্ণাঙ্গ মাসআলাটিই এমন কিতাব দ্বারা প্রমাণিত করবে, যার সংকলক না মুজতাহিদ না মুকাল্লিদ। বরং গায়রে মুকাল্লিদ। সেই সাথে উক্ত হাদীসটি সহীহ হওয়াটিও দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে হবে। স্মর্তব্য- গায়রে মুকাল্লিদদের নিকট দলিল শুধুমাত্র কুরআন ও হাদীস। কোন উম্মতীর বক্তব্য উপস্থাপন করার সাথে সাথেই তাকে বিতর্ক থেকে উঠিয়ে দেয়া হবে।

      আমীন বিলজেহের তথা আমীন জোরে বলা প্রসঙ্গে

      ১-

      সবাই জানে যে, অধিকাংশ নামায যেমন সুন্নাত ও নফল একাকি পড়া হয়। সে সময় গায়রে মুকাল্লিদরা আমীন আস্তে আস্তে বলে।

      ২-

      জামাতের সাথে নামাযে ইমাম একজন হয়, আর মুক্তাদী হয় বাকিরা। এখানে একটি বিষয় পরিস্কার থাকা দরকার যে, গায়রে মুকাল্লিদ মুসল্লি প্রতিদিন এগার সিররী [আস্তে কেরাত পড়া নামায] রাকাতের পিছনে আস্তে আস্তে আমীন বলে। আর ছয় [জেহরী নামায তথা যাতে কিরাত জোরে পড়া হয়] রাকাতে পড়ে জোরে জোরে।

      এখানে দেখুন ছয় রাকাতের চেয়ে এগার রাকাত বেশি। অর্থাৎ জোরের চেয়ে আস্তে  আমীন বলে বেশি। তাই আগে প্রথমে ১১ রাকাতের বিষয়টি পরিস্কার হওয়া দরকার। তারপর ছয় রাকাতের বিষয়।

      ৩-

      কোন কোন মুসল্লি এমন সময় শরীক হয় যে, ইমাম সাহেব ফাতিহার অর্ধেক পড়ে ফেলেছে। এমতাবস্থায় মুক্তাদী ফাতিহা শেষ করার পূর্বেই ইমামের ফাতিহা শেষ হয়ে যায়। তাই সে সময়ও তার জোরে সবার সাথে আমীন বলতে হয়। তাহলে কী দাঁড়াল? মুক্তাদী সূরা ফাতিহা শেষ না করেই আমীন বলে দিল।

      এভাবে সূরা ফাতিহা শেষ করার আগেই আমীন বলা কোন আয়াত বা হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত?

      ৪-

      গায়রে মুকাল্লিদদের ইমামরাও ১১ সিররী রাকাতে সর্বদা আস্তে আমীন বলে। একাজটির প্রমাণ সর্বপ্রথম সাব্যস্ত হওয়া উচিত। তারপর যে ৬ রাকাতে জোরে জোরে আমীন বলা হয়, সেটার প্রমাণ সর্বদার শর্তের সাথে ইবারত দ্বিতীয় দফা দেখাতে হবে।

      এ মাসআলাটিও গায়রে মুকাল্লিদ বিতার্কিক সর্ব প্রথম কুরআনে কারীমের দ্বারা প্রমাণিত করবে। যদি না করতে পারে, তাহলে লিখে দিবে যে, “কুরআনে কারীম এ মাসআলায় তাদের উপর হাত রাখতে তৈরী নয়”।

      তারপর পূর্ণ মাসআলাটি হাদীস দ্বারা প্রমাণ করে দেখাবে। হাদীসও এমন কিতাব থেকে দেখাতে হবে, যার সংকলক না মুজতাহিদ না মুকাল্লিদ। বরং কোন গায়রে মুকাল্লিদ কিতাবটি সংকলন করেছেন। সেই সাথে হাদীসটিকে দলিল দ্বারা সহীহ সাব্যস্ত করতে হবে। আর একথা কিছুতেই ভুলবেন না যে, আহলে হাদীস দাবিদারদের নিকট দলিল শুধুমাত্র কুরআন ও হাদীস। তাই যদি গায়রে মুকল্লিদ বিতার্কিক সাহেব কোথাও কুরআন ও হাদীস ছাড়া কোন উম্মতী বা স্বীয় সিদ্ধান্ত জানায়, তাহলে তাকে সে মুনাজারা থেকে উঠিয়ে দেয়া হবে। কারণ সে তখন আর আহলে হাদীস থাকবে না। আহলে রায় হয়ে যাবে।

      এক্ষেত্রে আহলে হাদীস দাবিদার লোকটি যদি আপনার কথার মাহাত্ব ও ওজন না বুঝেই বোকামী করে তার দাবির আংশিক প্রমাণ করার জন্য ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মুকাল্লিদ ইমাম বুখারী রহঃ এর সংকলিত কিতাব বুখারী শরীফ থেকে প্রমাণ পেশ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে বলে-

      “আত্বা (রঃ) বলেন, আমীন’’ হল দু’আ। তিনি আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের (রাঃ) ও তাঁর পিছনের মুক্তাদীগন এত জোড়ে ‘’আমীন’’ বলতেন যে, মসজিদে গুমগুম শব্দ হত। আবু হুরায়রাহ (রাঃ) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমাকে ‘’আমীন’’ বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন না, নাফি (রাঃ) বলেন, ইবন উমার (রাঃ) কখনই ‘’আমীন’’ বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদেরকে ‘’আমীন’’ বলতে উৎসাহিত করতেন। [বুখারী ১০/১১১]

      আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সঃ) বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘’আমীন’’ বলবে তখন তোমরাও ‘’আমীন’’ বলবে। কেননা, যে ব্যাক্তির ‘’আমীন’’ বলা ফেরেশতাদের ‘’আমীন’’ বলার সাথে মিলবে তাঁর পূর্বেকার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। ইবন শিহাব (রঃ) বলেন, রাসুল (সঃ) সুরাহ ফাতিহা শেষে ‘’আমীন’’ বলতেন। [বুখারি; হাদীস নঃ ৭৮০]”

      তাহলে তাকে ঠান্ডা মাথায় জবাব দিন-

      প্রশ্ন নং-১

      আতা রহঃ এর মতে আমীন হল দুআ, দুআ কি জোরে পড়া হয় না আস্তে?

      আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ এর বর্ণনাটির সূত্র কি?

      হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এর বক্তব্যটির সূত্র কোথায়?

      সেই সাথে ইবনে ওমর রাঃ আমীন জোরে বলতেন একথার সূত্র কোথায়?

      সূত্র ছাড়া কথা কি গ্রহণযোগ্য? অন্যের কাছে দাবি করার সময় সূত্র চান, আর নিজের বেলায় এত গাফলতী কেন?

      জেহরীর আর সিররীর যে পার্থক্য করেন, তা কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণ হয়? এবং কিভাবে?

      বুখারীর যে হাদীসটির কথা হল,  সেটির আরবীসহ পরে বর্ণিত একই টাইপের হাদীসটিও দেখা উচিত।

      حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ، فَأَمِّنُوا، فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ المَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ – وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ – وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: آمِينَ

      অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন ইমাম আমীন বলে তখন তোমরা আমীন বল। কেননা যাদের আমীন বলা ফেরেস্তাদের আমীন বলার সাথে মিলে যায় তাহলে তাদের আগের সকল গোনাহ মাফ হয়ে যায়। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৪৭, ৭৮০}

      আচ্ছা, ঠিক একই টাইপের বর্ণনা বুখারীতে একটু পর এল-

      حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِذَا قَالَ الإِمَامُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الحَمْدُ، فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ المَلاَئِكَةِ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

      অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন ইমাম সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে তখন তোমরা বল-আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ, কেননা যার বলা ফেরেস্তাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার আগের সকল গোনাহ মাফ হয়ে যায়। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৬৩, ৭৯৬}

      নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দুটি হাদীসের দিকেই তাকান।

      প্রশ্ন নং-২

      যদি প্রথম হাদীসটি দিয়ে, ফেরেস্তার আমীনের সাথে মিলানোর জন্য আমীন জোরে বলতে হয়, উক্ত হাদীসের কারণে, তাহলে পরের হাদীসে ফেরেস্তার কথার সাথে কথা মিলানোর জন্য রাব্বানা লাকাল হামদ কেন জোরে বলা হয় না? কেন এখানে আস্তে বলেন?

      আগের আমীনের হাদীস, আর রাব্বানা লাকাল হামদ বলার হাদীসতো একই মানের, একই শব্দের এবং বুখারীরই। তাহলে এক স্থানে আস্তে বলেন, আরেক স্থানে জোরে বলার জন্য এত তোড়জোড় কেন?

      প্রশ্ন নং-৩

      ফেরেস্তার আমীনের সাথে মিলানোর যুক্তি দিলেন, আমাদের প্রশ্ন হল, ফেরেস্তারা কি আমীন জোরে বলেন? না আস্তে?

      নিশ্চয় আস্তে বলেন। তাহলে ফেরেস্তার আমীনের সাথে মিলতে হলে কি আমীন জোরে বললে ফেরেস্তার সাথে মিলবে না আস্তে বললে মিলবে?

      পরিস্কার ভাষায় জবাব দিন।

      উপসংহার

      এভাবে জেনে বুঝে আহলে হাদীস ফিতনার মুকাবিলা করতে হবে। দেখবেন, কতটা দলীলহীন আর অযৌক্তিক এক ভ্রান্ত মাযহাব এ আহলে হাদীস মাযহাব। আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে আহলে হাদীস নামধারী দলীলহীন স্লোগান সর্বস্ব একদল মানুষের আসল চিত্র।

      আল্লাহ তাআলা আমাদের কথিত আহলে হাদীস বাতিল ফিতনাসহ সকল প্রকার ফিতনার মূলোৎপাটন করে সহীহ দ্বীন পালন করার তৌফিক দান করুন। আমীন ছুম্মা আমীন।

      সুত্র

  27. 49
    Mahabub Alam

    তাবলীগে জামাতের শির্‌কী আকিদা…

    ফাজায়েলে দরূদের ২১ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে: হুজুরে পাক (ছ:)-এর স্বয়ং শ্রবণ করার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন আসিতে পারে না কেননা আম্বিয়ায়ে কেরামগন কবরের মধ্যে জীবিত আছেন।…আমরা এই কথার উপর ঈমান রাখি এবং বিশ্বাস করি যে হুজুরে পাক (ছ:) কবর শরীফে জীবিত আছেন।

    অন্য স্থানে এও উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সা:) একজনকে রুটি খেতে দিয়ে ছিলেন।

    অর্থাৎ তাদের আকিদা রাসূল (সা:) জীবিত এবং রিজিকও (রুটি ইত্যাদি) পেয়ে থাকেন।

    সুতরাং তারা বলছে যে নবী (সা:) কবরে জীবিত আছেন এবং তিনি শ্রবণ অর্থাৎ কথা শুনতে পান। এই আকিদা ইসলামের আকিদা নয়।

    সবারই মৃত্যু হবে এবং আমাদের রাসূল (সা:) এরও মৃত্যু হয়েছে তার প্রমান কুরআন থেকে পাওয়া যায়:

    আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে…সূরা: আম্বিয়া, ৩৪-৩৫

    ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া…সূরা: আর-রহমান, ২৬-২৭

    নিশ্চয় তোমারও (ও মুহাম্মাদ) মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে…সূরা: আল’জুমার, ৩০

    সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে রাসূল (সা:) মৃত্যু বরণ করেছেন।

    কিন্তু আল্লাহ্‌ অন্য সূরায় বলছেন:
    আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না…সূরা: বাকারাহ, ১৫৪

    এর অর্থ হচ্ছে শহীদরা এবং আম্বিয়াগন জীবিত আছেন। হাঁ বারযাখে তারা জীবিত আছেন, পৃথিবীতে বা পৃথিবীর মানুষের মত জীবিত নয় যে তারা আমাদের কথা শুনতে পান, খেতে পান। তাই আল্লাহ্‌ বলেছেন ‘কিন্তু তোমরা তা বুঝ না’…

    আল্লাহ্‌ কুরআনে আরও বলছেন:

    কবরের ব্যক্তিরা জীবিতদের কথা শুনতে সক্ষম নন: আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন। …সূরা: ফাতির, ২২

    এর দ্বারা প্রমানিত হয় যে রাসূল (সা:) মৃত্যু বরণ করেছেন এবং বারযাখে জীবিত আছেন, আর তিনি আমাদের কথা শুনতে পান না এবং রুটিও খেতে পান না। বারযাখ জীবনে রাসূল (সা:) কি রকম জীবিত আছেন আমরা জানিনা। কারন আল্লাহ্‌ বলছেন আমরা বুঝব না। নবী (সা:) কবরে জীবিত আছেন এবং তিনি আমাদের কথা শুনতে পান, তাই তার কাছে সরাসরি চাওয়া যেতে পারে এই সব বিশ্বাস করা শির্‌ক এবং ইসলাম পরিপন্থীদের আকিদা, পীরপন্থিদের আকিদা।

    http://islamqabangla.wordpress.com/2013/04/09/তাবলীগে-জামাতের-শির্‌কী/

    তাবলীগী নিসাবে শির্কের প্রাদুর্ভাব

    “রওজুল ফায়েক গ্রন্থে অন্য একটি ঘটনা বর্ণিত আছে, হজরত সুফিয়ান ছুরী (রঃ) বলেন যে, আমি তওয়াফ করিতেছিলাম। তখন এক ব্যক্তিকে দেখিতে পাইলাম যে, সে প্রতি কদমে কদমে কোন প্রকার দোয়া না পড়িয়া শুধু দরূদ শরীফ পড়িতেছে, আমি তাহাকে উহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিল আপনি কে? আমি বলিলাম আমি ছুফিয়ান ছুরী। সে বলিল আপনি যদি এই জামানার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি না হইতেন আমার রহস্যের কথা ব

    র্ণনা করিতাম না। তারপর লোকটি বলিতে লাগিল আমি এবং আমার পিতা হজ্জে রওয়ানা হইয়াছিলাম, পথি মধ্যে পিতার এন্তেকাল হইয়া গেল। তাহার চেহারা কালো হইয়া গেল আর আমি পেরেশান হইয়া তাহার চেহারা কাপড় দিয়া ঢাকিয়া রাখিলাম। ঐ সময়ে আমার নিদ্রা আসিয়া যায়।

    আমি স্বপ্নে দেখিতে পাই যে একজন অপূর্ব সুন্দর লোক, তাহার মত এত সুন্দর পুরুষ আমি জীবনে কখনও দেখি নাই এবং তাহার মত পরিষ্কার পোশাক আমি ইতিপূবে আর দেখি নাই এবং তাঁহার চেয়ে অধিক খুশবু ওয়ালা আমি আর কখনও দেখি নাই। তিনি খুব দ্রুত কদমে আসিয়া আমার পিতার চেহারা হইতে কাপড় হটাইয়া উহাতে আপন হাত ফিরাইয়া দেন, যাহাতে পিতার চেহারা সাদা হইয়া যায়, তিনি ফিরিয়া যাইবার সময় আমি তাঁহার আঁচল ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, খোদা আপনার উপর রহম করুক আপনি কে? আপনার উছিলায় এই পরদেশে আল্লাহ পাক আমার পিতার উপর রহম করিয়াছেন। তিনি বলিলেন তুমি আমাকে চিন না? আমি মোহাম্মাদ এবনে আব্দুল্লাহ যার উপর কোরান অবতীর্ণ হইয়াছে। তোমার পিতা বহুত বড় পাপী ছিল কিন্তু আমার উপর বেশী বেশী করিয়া দরূদ পাঠ করিত। বিপদের সময় আমি আজ তাহার সাহায্য করিলাম। এইভাবে যেই ব্যক্তিই আমার উপর দরূদ পাঠ করে আমি তাহার সাহায্য করিয়া থাকি। (ফাজায়েলে দরূদ- ১২২ পৃঃ)

    সম্মানিত পাঠক! এতবড় একজন শাইখুল হাদীসের দরূদের ফাযীলাত লেখতে কি কোন সহীহ হাদীসের গ্রন্থ নজরে পড়ে নি। যে কারণে রওযুল ফায়েজ নামক একখানা অপরিচিত অপ্রামাণ্য গ্রন্থ থেকে এধরণের উদ্ভট শিরক বিদাত মিশ্রিত কাহিনী বর্ণনা করা কি প্রয়োজন ছিল তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাছাড়া নাবী ((সাঃ)) আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া তাঁর উপর দরূদ পড়ার জন্য কাবীরা গুনাহগারে সাহায্য করেন, এভাবে গুনাহ মাফ করা এবং সাহায্য করা, বিপদ দূর করা এতসব আল্লাহর কাজ। নাবী ((সাঃ)) এর মৃত্যুর পর এ জাতীয় কাজ আল্লাহর নাবী করতে পারেন বলে ধারণা শিরক নয় কি? তাছাড়া আমরা আমাদের জ্ঞান মুতাবেক জানি যে, ছোট ছোট গুনাহ নেক আমাল দ্বারা মাফ হয়, কিন্তু বড় গুনাহ তাওবা ছাড়া ক্ষমা হয় না, সে কথা কুরআন ও সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

    যেমন মহান আল্লাহ বলেন :
    إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلاً كَرِيماً
    “ যে সকল বড় গুহান সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, যদি তোমরা সে সব বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পার, তবে আমি তোমাদের ত্র“টি বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দিব এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাবো।(সূরা নিসা- ২৯)

    উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তা’আলা যারা কাবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে তাদেরকে তাঁর ফযল ও করম দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। কারণ সগীরা গুনাহ বিভিন্ন নেক আমাল দ্বারা যেমন, সলাত, সিয়াম, জুমু’আ, রমাযান ইত্যাদির মাধ্যমে মাফ হয়ে যাবে।

    যেমন রসূল ((সাঃ))- বলেন :
    الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة ورمضان إلى رمضان مكفرات لما بينهن إذا اجتنت الكبائر
    অর্থ : পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, এক জুমু‘আ হতে অন্য জম‘আ এবং এক রমাযান হতে অন্য রমাযান মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করিয়ে দেয়, যদি বড় গুনাহগুলো হতে বোঁচে থাকা যায়”। (সহীহ মুসলিম, গৃহীত কিতাবুল কাবায়ের- পৃঃ ৬ ইমাম আয-যাহাবী (রহ.))

    বুঝা গেল সলাত, সিয়াম দ্বারা ছোট গুনাহ মাফ হয় কিন্তু শাইখের উল্লেখিত ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে “রসূল ((সাঃ)) নিজেই বলেছেন, তোমার পিতা বড় পাপী ছিল” তাহলে সে কাবীরা গুনাহকারী ছিল।তা তাওবাহ ছাড়া কিভাবে ক্ষমা হল, আর রসূল ((সাঃ)) বা এত বড় গুনাহগারকে সাহায্য করবেন কেন আল্লাহ তা’আলার অনুমতি ছাড়া? সাহায্য তো নাবীগণ নিজেরাই আল্লাহ তা’আলার কাছে চাইতেন এবং আমাদেরকেও তাঁর নিকট সাহায্য চাইতে নির্দেশ করেছেন।

    তা ছাড়া আল্লাহর রসূল তাঁর উম্মাতের হাসায্যের জন্য (বারযাখী) জীবন থেকে এ দুনিয়াতে আসেন। এই ধারণাও র্শিক। উম্মাতের বিপদের কথা তিনি ((সাঃ)) জানতে পারেন এ ধারণাও র্শিক। তাছাড়া ঘটনা দ্বারা এটাও বুঝা যায়, যত বড় পাপী হোক না কেন দরূদ পাঠ করলে, মাফ হয়ে যায়। তাহলে তো মানুষ সবকিছু ছেড়ে শুধু দরূদ পড়াই কাম্য মনে করবে, বাকী সব ‘আমাল বাদ দিবে। এটাই কি শারী‘আতের কাম্য? এ বিশ্বাস শারী’আত পরিপন্থী নয় কি?

    আমাদের সাবধান থাকা দরকার শির্‌ক এবং ইসলাম পরিপন্থীদের আকিদা, পীরপন্থিদের আকিদা থেকে, আসুন আমরা সাবধান হই। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। আমিন।

     

    1. 49.1
      আহমেদ শরীফ

      কে মু'মিন আর কে মুশরিক তা নির্ধারণের একচ্ছত্র হোলসেলারশিপ তো আপনারা নিয়ে বসে আছেন অনেক আগে থেকেই। চোখের পলকে দুই লাইন রেফারেন্স দিয়ে সাধারণ মুসলিম থেকে শুরু করে বড় বড় আলেম যে কাউকে ইচ্ছা বানিয়ে দেন 'মুশরিক'। ৪ ইমাম মানেন না, হানাফি(রঃ) কে মানেন না _ বলা ভাল কখনো মানেন কখনো মানেন না। তাক্বলীদ করাকে বলেন অন্ধ অনুকরণ অথচ জন্মান্ধের মত মানেন আলবানিকে। সৌদি তেলের পয়সায় ভাসছে আপনাদের মুফতি-মুহাদ্দিসগণেরা, ডঃ গালিবের মত লোকাল এজেন্টগণ। একদিকে দাওয়াতে তাবলীগের সমালোচনা করেন অন্যদিকে নিজেদের কলকে না পাওয়া ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চের ব্যানারে লিখে রাখেন 'তাবলীগি ইজতেমা'। সারাক্ষণ সমস্ত মুসলিম দলগুলোর কুৎসা-বিষোদগার-সমালোচনা-নিন্দা _ জগতে এমন কোন মুসলিম বা মুসলিম জামাত কি আছে যারা আপনাদের দলের বাইরে এবং তাদের ছেড়ে আপনারা কথা বলেছেন ? সুতরাং আগেকার যুগের বুজুর্গগণও যাদের হাত থেকে রেহাই পাননি তাদের হাত থেকে তাবলীগ জামাত বেঁচে যাবে এমনটি মনে করার কারণ নেই, করিও না।

      ফেসবুক-ব্লগে আপনারা আর টিভিতে মতিউর মাদানি-তাওসিফ হুজুররা যতই গলা ফাটিয়ে গীবত শেকায়েত করুক না কেন _ দাওয়াতের মেহনতের প্রবল স্রোত যা গোটা দুনিয়া এমনকি খোদ সৌদি আরবের সামাজিক স্তরগুলোকে প্লাবিত করে চলেছে তা বন্ধ করতে পারবেন না। প্রতিটি মুসলিম যেখানে রাসূল(সাঃ)-সাহাবা(রাঃ)দের তরিকায় নিজের জান-মাল-সময় ব্যয় করে একনিষ্ঠভাবে ত্যাগতীতিক্ষার সাথে করে চলেছে, সেটিকে ইসলামিকভাবে অবৈধ অননুমোদিত রাজতন্ত্রের ভাড়াটে পুরোহিতরা বন্ধ করবে কি করে ! তবুও নিজের কাজ করে যান, ফলপ্রসূ না হলেও কিছু সান্ত্বনা তো থাকবে যে চেষ্টা করেছিলেন।

      আজ সকালে আমারই মহল্লার মসজিদ থেকে 'রিয়াদ' এর জামাত ৩ দিন কাজ করে আরেক মসজিদে চলে গেল। রিয়াদের অরিজিনাল সাওদি মুকিম। তাদের মাঝে একজন আওলাদে রাসূল(সাঃ) কুরাইশ বংশীয়, আরেকজন জনৈক সাহাবী(সম্ভবতঃ আমর রাঃ) র বংশধর। এবার এত বেশি সাওদি নাগরিক ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশে এসে গেছেন যে প্রথমবারের মত বিদেশী টেন্টের বাইরে সাধারণ বাংলাদেশিদের সাথে ময়দানে খোলা আকাশের নীচে বিদেশীদের রাখতে হয়েছে। আগে সব মিলিয়ে যত বিদেশী মুসলিম আসতেন এবার তত পরিমাণ শুধু আরবই এসেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

       

       

  28. 48
    A. HAmid

    First Question to ask: Our Prophet Muhammad (S) did not left us on "dream". He clearly said that 2 best things were given to us to follow. 1. The Quran and 2. His hadish.

    IN the holu Quran there is no single ayat where Allah ask us to follow anyones dream. Allah says "Atiullh and atiul Rasul(S)". It means we must follow the command of Ahhal and his massanger Mohammadut rasul ullah.

    Where are getting peoples dream from????? 

    2nd Q: The way tablig jamat doing so called "CHALLAH" 3, or 40 days or ant other lenth of time, did our NABI (S) ever practice is his life time???? THen wherr mr. Iliaash got this chillah from???? Is it not a new edition ??? If yes then we must call it as bidath.!!!!

  29. 47
    আবদুস সবুর

    ধন্যবাদ লিঙ্কগুলো শেয়ার করার জন্য। তবে দয়া করে এখানকার লিখাগুলোও পড়বেন দয়া করে। 

    http://www.asksumon007.blogspot.com

    সাথে এই বইটি . . .

    "তাবলীগ বিরোধী অপপ্রচারের জবাব"

    লেখকঃ আমিন সফদর উকারুবী রাহঃ
    অনুবাদকঃ মাওলানা ইজহারুল ইসলাম আল-কাওসারী

    লিঙ্কঃ
    http://www.mediafire.com/view/d8tt7xi9v5z8j9n/tablig%20birodhi%20apo%20procharer%20jawab.pdf

  30. 46
    মুনিম সিদ্দিকী

    প্রতিধর্মেই বিশাল বিভ্রান্তি দেখা দেয় সে ধর্মের ব্যাখ্যা নিয়ে। ধর্মের অনুসারিরা তখন নানা ফিরকায় বিভক্ত হয়ে যায় এবং পরস্পরে রক্তক্ষয়ী লড়াইও শুরু করে। এজন্যই মহান আল্লাহতায়ালা যখনই কোন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তখনই সে কিতাবের ব্যাখাদাতা রূপে রাসূলও প্রেরণ করেছেন। এভাবে ব্যাখ্যা দানের দায়িত্ব কোন ব্যক্তি,পীর,বুজুর্গ,সুফি বা মুর্শিদের উপর ছেড়ে দেননি। আল কোরআনের মূল ব্যাখাদাতা তাই খোদ নবীজী (সাঃ)। ইসলামকে শিখতে হলে তাই সরাসরি নবীজী (সাঃ)র জীবন থেকে শিখতে হবে। আল কোরআনের ইসলামই হলো নবী করীম (সাঃ)এর ইসলাম। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, নবী করীম (সাঃ) ছিলেন আল কোরআনের জীবন্ত রূপ। মহান আল্লাহর রাসূল রূপে নবীজী(সাঃ)র উপর মূল দায়িত্বটি ছিল পবিত্র কোরআনের সে ইসলামকে মানুষের কাছে অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছে দেয়া।

     

     ইসলামের যে চিত্রকে আল্লাহতায়ালা দেখতে চান নবীজী (সাঃ) সে চিত্রটিই নিজের কর্ম,আচরন এবং ইবাদতের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন। নবীজী (সাঃ) সে কাজে সফলও হয়েছেন। এদিক দিয়ে নবীজী (সাঃ)র পূর্ণ সফলতার সার্টিফিকেট এসেছে মহান আল্লাহতায়ালা থেকে।

     বিদায় হজে আরাফার ময়দানে সে সাক্ষ্য দিয়েছেন সমবেত সাহাবাগণও। মহান আল্লাহতায়ালা নবীজী (সাঃ)কে বলেছেন সমগ্র মানুষ জাতির জন্য “উসওয়াতুন হাসানা” তথা উত্তম আদর্শ। তাঁর চলার পথটি হলো একমাত্র সিরাতুল মোস্তাকীম।

    মুসলমানের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো,ধর্মের নামে অন্যদের পক্ষ থেকে যা কিছু পেশ করা হয় সেগুলিকে বিনাবিচারে কবুল করে নেয়া নয়,বরং নবীজী(সাঃ)র ইসলামের সাথে সেগুলোকে গভীর ভাবে মিলিয়ে দেখা। যা কিছু নবীজী (সাঃ)র সূন্নতের বিপরীত সেগুলোকে বর্জন করা এবং যা কিছু সূন্নতের অনুরূপ সেগুলোকে কবুল করা।

    মানুষের বুদ্ধিমত্তার চরম পরীক্ষাটি খাদ্য-পানীয়, জীবনসঙ্গি ও পোষাক-পরিচ্ছদ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে ঘটে না। এমনকি পশুও বোঝে কোনটি তার জন্য সুখাদ্য এবং কোথায় থাকতে আহারের সন্ধানে ছুটতে। সাইবেরিয়ার পাখিরা তাই বহু হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসে বাংলাদেশে। বরং জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হয় পথচলার সঠিক পথটি বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে। কে পরকালে মহা পুরস্কারটি পাবে সে পরীক্ষার শুরুটি হয় সঠিক পথ বেছে নেওয়ার সে সামর্থ থেকে। অথচ এ ক্ষেত্রেই অধিকাংশ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ভূলটি হয়। কোন মানুষই সজ্ঞানে পচা খাদ্য গ্রহণ করে না,অথচ ধর্মের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তিকে বহু পণ্ডিত ও পিএইচডি ধারীও বিনা বিচেচনায় গ্রহণ করে।

     চন্দ্র-সূর্য, মুর্তি,গরু-বাছুড়,শাপ-শকুন,নদ-নদী,পাহাড়-পর্বত,এমনকি পুলিঙ্গও যেভাবে কোটি কোটি মানুষের পুঁজা পায় –তা তো এ চিন্তাশূণ্যতা,অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির কারণে। একই কারণে সিরাতুল মোস্তাকীম থেকে যুগে যুগে ভয়ানক বিচ্যুতি ঘটেছে শুধু অতীতের নবীরাসূলদের উম্মতদের মাঝেই নয়,মুসলমানদের মাঝেও।

    আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর শরিয়তী বিধান মূলত সে কারণেই আজ  মুসলিম দেশসমুহে পরাজিত ও অবহেলিত। এমন এক পরাজিত অবস্থায় ময়দানে নেমেছিল তাবলিগ জামাত। আসুন ইতিহাস থেকে জেনে নেই তাবলীগ জামাতের শুরু কোথা থেকে-

    তাবলিগ জামাতের শুরু ১৯২৬ সালে উত্তর ভারতের মেওয়াত নামক এলাকা থেকে। মেওয়াত হলো দিল্লির দক্ষিণে হরিয়ানার একটি এলাকা। পূর্বে এলাকাটি পূর্ব পাঞ্জাবের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তাবলিগ জামাতের ধারণা,লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি রচনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস। ইনি ছিলেন উত্তর ভারতের শাহরানপুরের মাযহারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন দেওবন্দ মাদ্রাসায়। এদিক দিয়ে বলা যায়,তাবলিগ জামাত হলো দেওবন্দী আন্দোলনের একটি শাখা। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পর মুসলমানগণ শুধু শক্তিহীনই হয়নি,ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রাণহীনও হয়ে পড়ে। লোপ পায় তাদের আত্মবিশ্বাস;চেপে বসে নিদারুন হতাশা,বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলা। অপর দিকে প্রাণশক্তির নবজোয়ার শুরু হয় হিন্দুদের মাঝে। ব্রিটিশ শাসকদের পার্টনার রূপে তারা শাসকশক্তির কাছাকাছি পৌঁছার সুয়োগ পায়,ফলে শিক্ষা,অর্থনীতি,রাজনীতি ও প্রশাসনে তারা দ্রুত এগিয়ে যায়। পায় নবশক্তি। হিন্দুরা তখন এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে যে তাদের মাঝে প্রবলতর হয় মুসলমানদেরকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ। সে লক্ষ্যে হিন্দুদের মাঝে “শুদ্ধি” ও “সংগঠন” নামে দুটি আন্দোলন শুরু হয়। বিশেষ করে সেসব এলাকায় যেখানে ইসলামের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি ততটা মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারিনি। শুদ্ধি আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের মাঝে হিন্দু ধর্মের পূণর্জাগরন এবং যারা অহিন্দু -বিশেষ করে যারা হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম কবুল করেছে তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা। আর “সংগঠন” আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল হিন্দুদের মাঝে আত্মবিশ্বাস,আত্মশক্তি ও আভ্যন্তরীন বন্ধনকে আরো মজবুত করা। সে সময় ভারতের নানা অঞ্চলে এমন অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল যারা হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছিল বটে কিন্তু ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা লাভের তেমন সুযোগ তাদের জীবনে ঘটেনি,বরং হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির অনেক প্রথাই তাদের মাঝে রয়ে গিয়েছিল। মেওয়াতে মিওয়ো নামক এক রাজপুত সম্প্রদায় ছিল যাদের অনেকেই মুসলমান হয়েছিল। কিন্তু শুদ্ধি আন্দোলনের ফলে তাদের অনেকেই আবার হিন্দুধর্মে ফিরে যায়। এতে হিন্দুদের মাঝে আরো বেশী বেশী মুসলমানদের হিন্দু বানানোর ইচ্ছাটি আরো প্রকটতর হয়। মুসলমানদের জন্য এ ছিল বিপদজনক অবস্থা। সে সাথে চলছিল ইংরেজ পাদ্রীদের ব্যাপক তৎপরতা। ইংরেজদের হাতে রাজ্য হারানোর পর এবার ঘনিয়ে আসে ধর্ম হারানোর ভয়। হিন্দু ও খৃষ্টান হওয়া থেকে মুসলমানদের বাঁচানোর তাগিদেই মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস ১৯২৬ সালে হজ থেকে ফিরে আসার পর “তাহরিকে ঈমান” নামে এক আন্দোলন শুরু করেন। তবে কিছুদিনের মধ্যে তিনি সে আন্দোলনকে মেওয়াত থেকে দিল্লির নিযামুদ্দীন এলাকায় স্থানান্তর করেন। তখন থেকে আজও  দিল্লিই তাবলিগ জামাতের প্রাণকেন্দ্র। শুরুতে তাদের শ্লোগান ছিল,“আ্যায় মুসলমান, মুসলমান বনো” অর্থঃ “হে মুসলমানেরা মুসলমান হও”। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাবলিগজামাতের প্রসার ঘটে অতি দ্রুত,মাত্র ১৫ বছর পর ১৯৪১ সালের নভেম্বরে ইজতেমায় যোগ দেয় ২৫ হাজারের বেশী  লোক। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে এ সংখ্যা ছিল অতি বিশাল। বর্তমানে তাবলিগ জামাতের কাজ বিশ্বের ১০০টিরও বেশী দেশে। তাবলিগীদের সবচেয়ে বড় ইজতেমা হয় ঢাকায়। দাবী করা হয়,ঢাকার বিশ্ব ইজতেমাতে তিরিশ লাখের বেশী লোকের জমায়েত হয়। লক্ষ লক্ষ লোকের ইজতেমা হয় ভারত,পাকিস্তান,মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের নানা দেশে।

     

    নবীজী(সাঃ) এবং তাঁর সহাবায়ে কেরাম যে সিরাতুল মোস্তাকীম দিয়ে পথ চলেছিলেন এবং আমাদেরকে যে পথে চলার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন সেই পথ থেকে  তাবলিগ জামাতের প্রচারিত পথ বহু দূরে সরে পড়েছে ,সেটি ইতিহাসের যে কোন পাঠকের চোখেই ধরা পড়তে বাধ্য। তাদের প্রচারিত পথে  রাসূলে পাক (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে যে ভাবে কোরআনী জ্ঞান,হিযরত,জিহাদ,ইসলামী রাষ্ট্র,শরিয়তের প্রতিষ্টা ও শাহাদত এসেছিল সেই সব আবশ্যকীয় নির্দেশ থেকে বহু দূরে সরে পড়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

     

     

       

                                                

    সিরাতুল মোস্তাকীম আবিস্কারের বিষয় নয়, ব্যক্তির একান্ত ব্যাখ্যার বিষয় নয় বরং মহান আল্লাহর এটি দান। মূলতঃ এটিই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ দান। দুখ-যাতনা, জুলুম-নর্যাতন এবং অসত্য-অবিচার মানব জাতির ইতিহাসে সব সময়ই ছিল।তা থেকে মুক্তির পথ আবিস্কারে মানব জাতির ইতিহাসে বহু নেতা,বহু দার্শনিক,বহু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বহু ধ্যান, বহু গবেষণা এবং বহু প্রচেষ্ঠা করেছেন। বহু ধর্ম,বহু মতবাদ, বহু দর্শনও আবিস্কৃত হয়েছে। কিন্তু সেগুলি শুধু বিচ্যুতি এবং বিপর্যয়ই বাড়িয়েছে। কিন্তু এ বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির মাঝে ইসলামের পথটি দেখিয়েছেন খোদ আল্লাহতায়ালা।

     আল্লাহর সে পথনির্দেশটি ওহি রূপে বয়ে এনেছেন হযরত জিবরাইল (আঃ)।এটিই পবিত্র কোরআনের পথ। হযরত ইব্রাহীম, হযরত, মূসা, হযরত ঈসাসহ অতীতের সকল নবী-রাসূলের পথও ছিল এটি।এ পথটি সনাক্ত করা এবং সে পথে টিকে থাকার মধ্যেই ঘটে মানুষ জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।এ পথ খুঁজে পেতে যারা ব্যর্থ হয়, তাদের সকল প্রতিভা, প্রচেষ্টা ও ধর্মকর্ম -এমন কি এ জীবনে বাঁচাটাই ব্যর্থ হয়। পবিত্র কোরআনে তাই বলা হয়েছেঃ “বল (হে মুহাম্মদ)! আমি কি তোমাদের বলে দিব,কর্মের দিক দিয়ে কে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হলো সেসব ব্যক্তি যারা নিজেদের সকল প্রয়াস-প্রচেষ্ঠা নিঃশেষ করেছে নিজেদের পার্থিব জীবনের (সুখ-স্বাচ্ছন্দের)জন্য এবং মনে করে কর্মজীবনে তারা কত সফল!” –(সুরা কাহাফ,আয়াত ১০৩-১০৪)।

     

    এ জীবনে সিরাতুল মোস্তাকীমটি পাওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সে পথের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করাটিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থণা। এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সে প্রার্থণাটি শিখেয়েছেন মহান আল্লাহতায়ালা খোদ নিজে। তবে আল্লাহতায়ালার হিকমত শুধু এ দোয়াটি শেখানোর মধ্যে সীমিত নয়, সেটির পাঠকে বাধ্যতামূলকও করেছেন নামাযের প্রতি রাকাতে। প্রতি নামাযীকে তাই “ইহদিনাস সিরাতুল মোস্তাকীম” (“হে আল্লাহ! সিরাতুল মোস্তাকীমে পরিচালিত কর”) তেলাওয়াত করতে হয় প্রতি রাকাতে। মহান রাব্বুল আলামীনের শেখানো শ্রেষ্ঠ এ দোয়াটি ব্যক্তিকে তার জীবনের মূল এজেণ্ডা বলে দেয়। এভাবে আগ্রহ জন্মায় সে এজেণ্ডাটি নিয়ে বেঁচে থাকায়। এটি তখন চলার পথে কম্পাস রূপে কাজ করে এবং ধাবিত করে সফলতার দিকে – শুধু এ দুনিয়ায় নয়,আখেরাতেও।

     

    তাকওয়া যেখানে বিচ্যুতির ভয়

    সিরাতুল মোস্তাকীমের পথটি শুধু নামায-রোযা,হজ-যাকাত ও কালেমা পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সীমাবদ্ধ নয় মসজিদের চার দেয়ালের মাঝেও। বরং এ দীর্ঘ পথটি দুনিয়ার এ ক্ষণস্থায়ী মঞ্জিল থেকে জান্নাত অবধি বিস্তৃত। ঈমানদারের জীবনে সিরাতুল মোস্তাকীমের পথে পথচলাটি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়, এর পর আসে নামায-রোযা ও হজ-যাকাত।আসে কোরআনের জ্ঞানলাভ,আসে হিজরত। আসে লাগাতর জিহাদ। আসে সে জিহাদে শ্রম, সময়, অর্থ ও রক্তের কোরবানী। সে জিহাদের পথ ধরে ঘটে ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা,আসে সে ইসলামী রাষ্ট্রে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা।

     এগুলো হলো সিরাতুল মোস্তাকীমের বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন মাইল ফলক। ইসলামের পথে পথচলা কতটা সঠিক হচ্ছে সেটি বিচারের জন্য প্রতিক্ষণে পথচারিকে সে মাইল ফলকগুলোকে কোরআনের সাথে মিলিয়ে দেখতে হয়।

     গাড়ি চালনায় চালককে যেমন প্রতিক্ষণ পথের দিকে চেয়ে গাড়ি চালাতে হয় তেমনি মু’মিন ব্যক্তিকে সারাক্ষণ নজর রাখতে হয় সিরাতুল মোস্তাকিমের দিকে।ঈমানদারের জীবনে বস্তুত সেটিই হলো প্রকৃত তাকওয়া। তাকওয়ার অর্থ ভয়। এখানে সে ভয়টি মূলত সিরাতুল মোস্তাকীম হারানোর। তাই সুরা ফাতেহাতে শুধু সিরাতুল মোস্তাকীমের জন্যই দোয়া করতে শেখানো হয়নি,সে সাতে শেখানো হয়েছে পথহারানো থেকে বাঁচার দোয়াও। বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার পথ মানুষকে জাহান্নামে টানে,এবং সেটি আসে তাকওয়ার অভাবে। সিরাতুল মোস্তাকীমে উদাসীন ব্যক্তিটির কাছে তখন পপপতঅর্থ না বুঝে কোরআন তেলাওয়াতও ধর্মকর্ম মনে হয়। অথচ কোন শিশুও অর্থ না বুঝে কোন বই পড়েনা।

     

    সঠিক পথে চলা নিয়ে যার আগ্রহ নেই,তার কাছে কি রোড ম্যাপ বোঝার প্রয়োজন পড়ে? পবিত্র কোরআনের সাথে এমন উদ্ভট আচরণের কারণ এটাই।এমন মানুষ তো পথ চলে পীর,হুজুর,মুর্শেদ,মাওলানা, গুরু ও রাজনৈতিক নেতাদের বাতলানো পথ দিয়ে। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ভরে গেছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে। ফলে তারা যে পথ বেয়ে চলছে সে পথে কোরআনী জ্ঞান নেই;নেই হিজরত,নেই জিহাদ এবং নেই ইসলামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ।

     নবীজী (সাঃ) এবং তার সাহাবায়ে কেরাম থেকে এ হলো সম্পূর্ণ এক ভিন্নতর জীবন। ফলে এ পথকে কি সিরাতুল মোস্তাকীম বলা যায়? সিরাতুল মোস্তাকীমে চলার সামর্থ একমাত্র সত্যিকার ঈমানদারগণেরই থাকে। সে সামর্থ যেমন কাফের ও মুনাফিকগণের থাকে না,তেমনি কোরআনে জ্ঞানে অজ্ঞদেরও থাকে না। কারণ কোরআন-হাদীসের জ্ঞান ছাড়া সে পথ চেনা যেমন অসম্ভব,তেমনি সে পথে টিকে থাকাও অসম্ভব।

     তাই ইসলামে শুধু নামায-রোযা ফরয নয়, ফরয জ্ঞানার্জনও। কোরআনে বর্ণিত বান্দাহর উপর মহান আল্লাহর অর্পিত খেলাফতের যে মহান দায়িত্ব তা নিয়ে অজ্ঞ থাকাটি কবিরা গুনাহ। সে কবিরা গুনাহ থেকে আরো বহু জাতের গুনাহ জন্ম নেয়।

    জ্ঞানার্জন  জ্ঞানার্জন,নামায-রোযা ও হজ-যাকাতের পাশাপাশি জানমালের কোরবানীও চায়।

     কিন্তু যে পথে কোরআনী জ্ঞান নেই,

    যে পথে ঘরবাড়ী ছেড়ে দেশত্যাগের কথা নেই,

    নেই ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জিহাদ,

    নেই শরিয়তের প্রতিষ্ঠা এবং নেই জানমালের কোরবানী

     -সে সব পথে মিথ্যাবাদী রাজনীতিবিদ,ঘুষখোর কর্মচারি, দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী ব্যাক্তিরাও বিপুল সংখ্যায় হাজির হয়। তাই দেখা যায়,বাংলাদেশে আল্লাহর আইনের প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দেয়া বা সে দাবী নিয়ে রাস্তায় নামার লোক না থাকলে কি হবে,তাবলিগ জামায়াতের ইজতেমায় হাজির হয় ৩০-৪০ লাখ মানুষ। আরো লক্ষণীয় হলো, যে আমাদের বর্তমান সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা নামে রাজনীতি করা বেআইনী করে রেখেছে তাই আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে কাউকে  রাজপথে মিছিল করতে দেখলে লাঠিপেটা, গুলি আর টিয়ারগ্যাসের বৃষ্টি বর্ষাতে দ্বিধা না করলেও এরাই তাবলিগ জামাতের ইজতেমায় রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। 

    (নেট থেকে পাওয়া তবে কিছুটা সংশোধন করে নিয়েছি)

    1. 46.1
      মহিউদ্দিন

      মুনিম ভাই,
      অসাধারণ  চিন্তা উদ্দীপক, উজ্জ্বল দীপ্তিশীল কথাগুলা মনের গভীরে কীভাবে যে নাড়া দিয়েছে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা।
      আজ আমাদের দুর্ভাগ্য হল যারা যেভাবে যে অবস্থানে খুঁটি গেড়ে ফেলেছেন সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তথা সেই বাক্স বন্ধী মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে কীভাবে তাদের  আন্দোলনের কর্মপদ্ধতিকে শক্তিমান ও কার্যকর করা যায় এবং  ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসাবে  মানুষের মনের জগতে সুস্পষ্ট করা যায় সে চিন্তা করতে রাজি নয়।

      সত্য ও ন্যায়ের  সংগ্রামে পথ চলায় বাতিল ও অত্যাচারী রোষানলে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে অত্যাচারী শাসকদের সাথে সংঘাত হবেই। আমাদের ইমামদের জীবনী দেখেন। আমারা অনেকেই  দাবী করি আমরা ইমাম আবু হানিফার অনুসারী কিন্ত সেই ইমামের কেন  কারাগারে মৃত্যুবরণ হয়েছিল তা আমরা কয় জনই বা জানতে চাই?

      আল্লাহর পথে চলার পরিধি যে যতটুকু নির্ণয় করেছেন সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট মনে করেন। এখানে নবীজির নির্ধারিত পরিধি কতটুকু এবং সেথায় যাওয়া জরুরী কিনা সে চিন্তা করার আগে নিজের সুবিধা অসুবিধা কিংবা  বিতর্কিত হয়ে যাওয়ার আশংকাটাই বড়। তবে দিনের শেষে আমাদের প্রত্যেকের জন্যই কিন্তু অপেক্ষা করছে নিজের কাজের হিসাব দেয়া। আল্লাহ আমাদেরকে সে ভয়াবহ দিনের মুছিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ করে দিন সে দোয়া  করি সবার জন্য।

    2. 46.2
      আহমেদ শরীফ

      নবীজী(সাঃ) এবং তাঁর সহাবায়ে কেরাম যে সিরাতুল মোস্তাকীম দিয়ে পথ চলেছিলেন এবং আমাদেরকে যে পথে চলার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন সেই পথ থেকে  তাবলিগ জামাতের প্রচারিত পথ বহু দূরে সরে পড়েছে ,সেটি ইতিহাসের যে কোন পাঠকের চোখেই ধরা পড়তে বাধ্য। তাদের প্রচারিত পথে  রাসূলে পাক (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে যে ভাবে কোরআনী জ্ঞান,হিযরত,জিহাদ,ইসলামী রাষ্ট্র,শরিয়তের প্রতিষ্টা ও শাহাদত এসেছিল সেই সব আবশ্যকীয় নির্দেশ থেকে বহু দূরে সরে পড়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

       

      বুঝলাম। যদিও তাত্ত্বিক-ব্যবহারিক দিক থেকে আদৌ দূরে সরে গিয়েছে কিনা বা কতটুকু ওনাদের পথের ওপর আছে সেটা নিয়ে, কিংবা আপনার কপি-পেস্ট পোস্টটির কিছু পয়েন্টের অসারতা-মিথ্যাচার সম্পর্কে যুক্তিখন্ডন-আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে। সে আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য মুলতবি রইল।

      আপাততঃ এই মূহুর্তে এটুকুই উল্লেখ করে বাধিত করেন _ আপনার-আপনাদের দৃষ্টিতে কোন দল বা গোষ্ঠি রাসূল(সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের(রাঃ) পথের 'কাছাকাছি' আছে ?

      সেইসঙ্গে বাংলাদেশের 'জামায়াতে ইসলামী' দলটি সম্মন্ধে আপনার-আপনাদের মূল্যায়ন কি তা সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরারও আহ্বান রইল।

      ধন্যবাদ।

    3. 46.3
      মজলুম

      মুনিম ভাই, জামাতি দালাল লেখক ফিরোজ মাহবুব কামালের লেখাটা আমারদেশ হতে কপি পেষ্ট করে দিয়েছেন।   আপনার কাছ হতে আপনার নিজস্ব মতামত চাই, জামাতি পেইড লেখকের কপি পেষ্ট আপনার কাছ হতে আশা করিনা। তার নিজের ওয়েব সাইটে তথ্য,ইতিহাস বিকৃতি করে কাস্টমাইজ ইসলামের প্রচারনা চালায়, দুর্গন্ধে তার সাইটে ঢুকা যায় না। জামাতি বলে কথা।

      মুনিম ভাই, তাবলীগ জামাতের ত্রুটি বিচ্যুতি আছে, এটা তারাও স্বীকার করে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে আমেরিকা ও ইউরোপে যে লোকগুলা মুসলমান হচ্ছে তার বেশীরভাগই তাবলীগ জামাতের অবদান।  মজার ব্যাপার হলো তাবলীগ জামাতের অনেক বিরোধি থাকলেও তাবলীগীরা কারো বিরোধীতায় যায় না। সাধারন মানুষকে সংশোধন করার ব্যাপারে তাবলীগ জামাতের বিশাল অবদান আছে। এখানে কারো নিজস্ব ধান্ধাবাজি, ব্যবসা বানিজ্যের উদ্দেশ্য নেই, সবাই আপনমনে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যোই নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মানুষকে নামাজ পড়ার জন্যে ঢাকে। আপনাকে তিনদিনের তাবলিগী যাওয়ার জন্যে বলছি, খুবই ভালো লাগবে। নিজের চোখে ও মনের দিক হতে বুঝে আসুন জিনিসটা কি, মানসিক দিক হতে ফ্রেশ ফ্রেশ লাগবে।

      তাবলীগ জামাত যেহেতু সাধারন মানুষই বেশী যায়, যাদের ধর্মীয় জ্ঞানের গভিরতা কম, তাই ওদেরও কিছু ভুল ত্রুটি থাকবে।  ইলিয়াস সাহেব বলেছিলেন, তাবলীগ জামাত হবে ভ্রাম্যমান মাদ্রাসার মতো, সবাই ওখানে শিখবে ও শেখাবে।

      তাবলীগ জামাতের বিরোধিতাকারীরা প্রধানত তিন গ্রুপ, জামাতে মওদুদী, পীর-মাজারি গ্রুপ আর কিছু বাজারি। নিজেদের ব্যবসা বানিজ্যে যখন টান পড়বে তখন বিরোধিতা করতেই হবে এদের।   

      তবে মজার ব্যাপার হলো, তাবলীগের বিরুদ্বে বললে এরা কেউই চড় থাপ্পড়, কিল ঘুষি বা রগকাটার জন্যে তেড়ে আসবে না, গালিগালাজ ও করবে না, খুব সুন্দরভাবে হাসি মুখে আপনাকে বুঝিয়ে বলবে মাত্র।  এজন্যেই পৃথিবিতে যতগুলো ইসলামি দল আছে তার মধ্যে  তাবলীগ জামাতকেই এক নাম্বারে রাখি।    

      জাশিরের লোকেরা আল্লার যমিনে আল্লার আইন কায়েম করবো, এই গুলো এখনো নিজেদের সাড়ে তিন হাতের শরীরেই ইসলাম কায়েম করতে পারলোনা আর সারা দেশে ইসলাম কায়েম করবো। 

  31. 45
    কিংশুক

    @ Mufrad আপনি মিথ্যা কথা বলে সহানুভূতি পেতে চাচ্ছেন মনে হয়। ঈশার নামাজের পর বিতরের নামাজ না পড়ে খুব মুসল্লিই মসজিদ ত্যাগ করেন। এছাড়া তাবলিগ জামাতের লোকেরা গাশ্ত এ বের হয়ে এলাকার মানুষকে যখন নামাজের দাওয়াত দেন তখন হাসিমুখে খুব সুন্দর করে বুজিয়ে নামাজ আদায় করার জন্য বলেন। কিছু মানুষ তখন উল্টাপাল্ট কথা বলে কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত তাবলিগ জামাতের সদস্যদের তাদের সাথে ঝগড়া ঝাটি করতে দেখেছেন বলে মনে হয়না। তাবলিগ জামাতের সদস্যদের এত আদবের সাথে হাসিমুখের নামাজের আহ্বানে অনেকে চক্ষু লজ্জায় পড়ে সালাতের জামাতে সামিল হয়ে যান, দেখা যাবে ঐ লোক হয়তো গত ১ মাসেও নামাজ পড়েনি।

  32. 44
    Mufrad

    কিছুদিন আগে মাশজিদে বেতরের নামাজ পড়ছিলাম। ঈশার নামাজ শেষে বেশির ভাগ মুসল্লি চলে গিয়েছিল। সেই সময় কানে আসলো তাবলীগ জামাতের লোকদের কথা।

    কথাগুলো হচ্ছে এই-

    "আলহামদুলিলাহ… আমাদের এই আসরে খুব কম লোক হয়েছে। মসজিদে অনেক লোক এসেছিল, কিন্তু সবাই এই আসরে বসেনি। যারা এইখানে বসেছে শুধু তারাই হেদায়েত প্রাপ্ত। যারা এইখানে বসেছে সবাইকে সাত আসমান ওপর থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত ঝকমক দেখাচ্ছে। আর যারা নামাজের পরে চলে গেছে তারা গোমরাহির মধ্যে আছে। কারন তারা ঈমান এবং আমলের আলোচনা শুনতে চায় না। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দেয়না। আল্লাহ এখানে বসা সবাইকে হেদায়েত দিয়েছে। …………………"

     

    আমি এবং অল্প কিছু লোক প্রথম কাতারে নামাজ পড়ছিলাম। তাবলীগ জামাতের লোকেরা গোল হয়ে বসেছিল চতুর্থ কাতারের দিকে। আর তাদের একজন পিছন থেকে এইসব কথা আসরে বসা লোকদেরকে বলছিল। এখন আপনারাই বলুন তাদের এইসব উলটাপালটা কথা শুনার পর কি নামাজে মনোযোগ দেয়া যায়??? সুরার সঠিক উচ্চারণে গোলমাল হয় যাচ্ছিল। তাদের এইসব কথা শুনতে শুনতে নামাজ পরাটাই কষ্ট হয় যাচ্ছিল। নামাজ অনেক কষ্টে শেষ করার পর নিজেকে মনে হচ্ছিল একজন কাফের (তাবলীগ জামাতের লোকদের মতে)। কারন আমি নামাজ শেষ করে তাদের আসরে বসিনি। আমি একজন কাফের (তাবলীগ জামাতের লোকদের ভাষ্যমতে) কারন তাদের ঈমান এবং আমলের ওপর চলতে থাকা আলোচনা শুনিনি। হায় রে বদ নসিব…… মাশজিদে ঢুকলাম শুধুমাত্র আল্লাহ এর আদেশ পালন করার জন্য, আর মাশজিদ থেকে বের হলাম কাফের (তাবলীগ জামাতের লোকদের কথা মত) হয়ে।

     

    মনের দুঃখ কিছুটা কমানোর জন্য এই ব্যাপারটা শেয়ার করলাম একজন তাবলীগ জামাতের লোকের কাছে। প্রথমে সে বলল ""না এটা উচিত হয়নি। আপনি কিছু মনে করবেন না। একজন কে দিয়ে আপনি তাবলীগের সবাই কে বিচার করতে পারেন না।""  তারপর সে বলল ""কিন্তু আপনার ঈমান দুর্বল। আপনার মনে গোমরাহি বাসা বেধেছে। কারন নামাজের মধ্যে ঈমান এবং আমলের কথা শুনে আপনার ভিতরকার শয়তান পালাবার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছিল (!!!!)। আপনি যদি নামাজের পর সেখানে বসতেন তাহলে আপনার ঈমান শক্ত হত।"" 

     

    কিছুক্ষণ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বলার পর সে বলল- "তাছাড়া আপনার নামাজ হয় না। কারন আপনি নামাজ শুরু করার পর দুনিয়ার শব্দ থেকে আপনার কানকে হেফাযত করতে পারেন না। আপনাকে নামাজ পরতে হবে হযরত আলি (রাঃ) এর মত। তারপর আমাকে হযরত আলি (রাঃ) এর তীর বিদ্ধ বস্থায় নামাজ পরার পুরো ঘটনা সম্পর্কে গবেষণাধর্মী বয়ান পেশ করল। ……… অতঃপর তার থেকে বিদায় নিলাম……… মাশজিদে নিজেকে মনে হচ্ছিল কাফের, তার থেকে বিদায় নেবার পর নিজেকে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী কাফের বলে মনে হচ্ছিল। রাগে দুঃখে মনে হচ্ছিল ধুর্…… আর মাশজিদেই যাবনা। বাসায় নামাজ পরব। শুধু তাবলীগীদের জন্যই মাশজিদ থাকুক……

     

    কিন্তু যখনি মাশজিদে আজান দেয়, তখনই ছুটে যাই মাশজিদে। এখনও যাই আগামিতেও যাব ইনশাল্লাহ। কারন তাবলীগ জামাতের লোকদের জন্য আমার জন্ম হয়নি। আমার জন্ম হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য।

    1. 44.1
      আহমেদ শরীফ

      আপনার মিথ্যাচারগুলিতে বিদ্বেষ খুব বেশি প্রকাশ পাওয়ায় অসততার দিকটা প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে। এর পর থেকে আরো সাবধানী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি আপনাকে। বিরোধিতা করবেন ভাল কথা, সংযম-কৌশল আর বুদ্ধির ব্যবহারে দক্ষ না হলে সত্যের সাথে একগাদা মনগড়া বানোয়াট মিথ্যের মিশেলটা ঠিকমত দিতে সমর্থ হবেন না। আলোচ্য বিষয়ে মিথ্যাচার আরো প্রকটভাবে নগ্ন প্রতিভাত হয়েছে এই কারণে _ প্রায় প্রতি এলাকারই মসজিদে তাবলীগ জামাতের সাথীদের আচরণের সাথে সর্বস্তরের জনগণ ভালভাবেই পরিচিত, আপনি অতিরিক্ত মিথ্যা সংযোজন করতে গিয়ে পুরো বক্তব্যটাই হাস্যকর করে ফেলেছেন, সেইসঙ্গে আপনার মনের বিদ্বেষটাও উৎকটভাবে প্রকাশ করে ফেলে নিজের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেছেন। এরপর থেকে আরো সাবধানী আর যত্নবান হবেন আশা করি। ধন্যবাদ।

  33. 43
    আহমেদ শরীফ

    তাবলীগের মেহনত এমন একটা অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মেহনত যার গভীরতা ও রহস্য এই মেহনত না করে বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায়ই নেই। মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি দিয়ে নয়, একমাত্র আল্লাহপ্রদত্ত অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই এই মেহনতের গোপন রহস্য বোঝা সম্ভব হতে পারে। শুধু মস্তিষ্ক দিয়ে যদি বোঝা সম্ভব হত _ তাহলে আইনস্টাইন-নিউটন-হকিং-জাফর ইকবালরা হেদায়েতের লাইনে আগে থাকত। আল্লাহর অবারিত করুণাধারায় সিক্ত হওয়া ছাড়া হেদায়েত লাভ করার অন্য কোন উপায় নেই বলে বাংলাদেশের একজন সাধারণ অশিক্ষিত কৃষকও হেদায়েতের অমূল্য দৌলত পেয়ে ধন্য হয় _ কিন্তু দুনিয়ার লাইনে গর্বিত-অহংকারী অনেক উচ্চশিক্ষিত লোকও নিজের কর্মদোষে এই অমূল্য ধন লাভে বঞ্চিত হয়।

    সারা দুনিয়াজুড়ে ইসলামের পুনরুত্থান ও চুড়ান্ত যুদ্ধের নেতৃত্ব তাবলীগ জামাতের মেহনতের কারণে ঈমান-আমালের ব্যবহারিক উন্নতি আল্লাহর চাওয়া সুনির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছানোর আগে ঘটবে না। কুফর-তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আন্দোলন-মিছিল-অস্ত্র-সৈন্য-হরতাল-নির্বাচন-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মাধ্যমে হয় না। আসল যুদ্ধটা অর্থাৎ যুদ্ধের হাক্বীক্বি আত্মাটা ঈমান বনাম কুফরের। কুফরের বিরুদ্ধে ঈমান বাতিলের বিরুদ্ধের হক্বের লড়াইটা হয়। বাহ্যিক লড়াই-উপকরণ চোখের ধোঁকা মাত্র। কাজেই আল্লাহর সৈন্যদের ঈমান বাতিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহই তাঁর সৈন্যদের যুদ্ধে নামাবেন না। যখন নামাবেন তখন বুঝেশুনেই নামাবেন উপযুক্ত সময়টা কখন হবে সেটা তিনিই ভাল জানেন-বোঝেন, সময়মত বিজয়ী করার জন্যই নামাবেন ও বিজয়ী করেই ছাড়বেন। বিশ্বজুড়ে বাতিলকে পরাস্ত করার জন্য যে শুধু তাবলীগ জামাতকেই নামাবেন আর কেউ নয় এরকমও নয়, একটা বিরাট অংশ সেখান থেকে আসবে, এর বাইরেও আসবে, কিভাবে আসবে কারা আসবে একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। ঈমান আমাল যাদের মজবুত নয় এরকম অনেকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবে তাদের কবুল না হওয়ার ধমকি হাদিসে এসেছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

    তবে তাবলীগের মেহনতের প্রয়োজন সবসময়েই হবে। ইসলামের দুর্দশার যুগে যেমন, ইসলামের বিজয়ের পর বা ইসলামের প্রতিষ্ঠা হবার পরও এর প্রয়োজন আরো বেশি হবে। কারণ মুসলিমরা ইসলামের ওপর ঈমান-আমালের অভ্যাসের ওপর, বিধর্মীদের ইসলামের ভেতর প্রবেশের জন্য তাবলীগি মেহনত অব্যহতভাবে ভূমিকা রেখে চলবে বিকল্পহীন রাসূল(সাঃ) ওয়ালা দাওয়াতের অটোমেটিক ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে।

  34. 42
    mahabub

    নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা?

    হাদীসে রাসূল সাঃ স্পষ্টতই সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। নাজাতপ্রাপ্ত হল সেই দল-যারা নবীজী সাঃ এর সুন্নাত ও সাহাবায়ে কিরামের জামাতের মত ও পথের অনুসারী। এক কথায় যারা সুন্নাতধারী, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী। যাকে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে থাকি।

    নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কোন রেজিষ্ট্রিকৃত দলের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। যারা নবীজী সাঃ এর সু্ন্নাত আঁকড়ে থাকবে, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী হবে তারাই হবে জান্নাতী দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।

    তবলিগ জামাত কি নবীজী সাঃ এর সুন্নাত ও সাহাবায়ে কিরামের জামাতের মত ও পথের অনুসারী? 

    আর 

    http://server1.quraneralo.com/lectures/mrm/114.%20Fazail%20e%20dorud%20o%20Tablig%20Nisab.mp3

    http://server1.quraneralo.com/lectures/mrm/113-Tablig%20Jamat%20-%20Part%202.mp3

    http://server1.quraneralo.com/lectures/mrm/113-%20Tablig%20Jamat%20-%20Part%201.mp3

    শুনবেন।

     

     

    1. 42.1
      আবদুস সবুর

      ধন্যবাদ লিঙ্কগুলো শেয়ার করার জন্য। তবে দয়া করে এখানকার লিখাগুলোও পড়বেন দয়া করে। 

      http://www.asksumon007.blogspot.com

      সাথে এই বইটি . . .

      "তাবলীগ বিরোধী অপপ্রচারের জবাব"

      লেখকঃ আমিন সফদর উকারুবী রাহঃ
      অনুবাদকঃ মাওলানা ইজহারুল ইসলাম আল-কাওসারী

      লিঙ্কঃ
      http://www.mediafire.com/view/d8tt7xi9v5z8j9n/tablig%20birodhi%20apo%20procharer%20jawab.pdf

      1. 42.1.1
        Mahabub Alam

        ইলিয়াসি তাবলীগ জামাত সম্পর্কে শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের মতামত কি? তারা কি এর পক্ষে না কি বিপক্ষে?

         

        সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্র।
        শেখ ইবন বায (রহ:) –কে জিজ্ঞাসা করা হয়ে ছিল ইলিয়াসি তাবলীগ জামাত সম্পর্কে:
        প্রশ্ন: আমরা তাবলীগ জামাত সম্পর্কে শুনছি, তারা দাওয়াতের কাজ করছে। তাহলে আপনি কি আমাকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে আমি এই জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারি? আশা করি আমাকে দিক নির্দেশনা দিবেন এবং সৎ পরামর্শ দিবেন। আল্লাহ্‌ আপনাকে মহা পুরষ্কার দান করুন।

        উত্তর: যেই ব্যক্তি আল্লাহ্‌র দিকে ডাকবে সেই হচ্ছে মুবাল্লেগ, কিন্তু জামাত তাবলীগ প্রসিদ্ধ যে এটি হিন্দিয়া (ভারতের) জামাত, তাদের মধ্যে বহু কুসংকার রয়েছে এবং তাদের কাছে বেশ কিছু বেদআত রয়েছে এবং শির্‌ক রয়েছে। তবে যদি কেউ যেতে চায়, (যেতে পারবে যারা) চোখে দেখে (জেনে শুনে) কথা বলে এবং এলম রয়েছে। তাদের সাথে যাক আল্লাহ্‌র দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য, তাদেরকে সঠিক পথ দেখানর জন্য এবং প্রতিবাদ করার জন্য। যাতে করে তারা বাতেলতরীকা ছেড়ে দেয়, আর আহলে সুন্নাহ্‌ ওয়াল জামাতের তরীকা ধরে নেয়।
        ইবন বাযকে আরও একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল: আমি তাবলীগ জামাতে গিয়েছিলাম ভারত এবং পাকিস্তানে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম, যে মুসজিদ রয়েছে তাতে কবর আছে, সেখানে চিল্লা দিতাম। আমরা শুনেছি, যে মসজিদে করব আছে সে মসজিদে নামায পড়া বাতিল, আমরা এখন ফিরে এসেছি তাহলে নামায গুলি কি আবার আদায় করব? এসব স্থানে যাওয়ার হুকুম কি?
        উত্তর: আকিদা মাসলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে তাবলীগ জামাতের কোন জ্ঞান নেই। সুতরাং তাদেরকে সংশোধন ছাড়া তাদেরকে সহযোগিতার জন্য যাওয়া যাবে না। কবর মসজিদে, আপনি যে নামায পড়েছেন সে নামায গুলি পুনরায় আদায় করা হচ্ছে আপনার জন্য ফরয। কারন রাসূল (সা:) বলেছেন: আল্লাহ্‌র লানত হয়েছে ইহুদী-খৃষ্টানদের উপর কারন তারা নবীগণের কবর গুলিকে মসজিদে পরিনত করেছে।

        শেখ আল্লামা নাছির উদ্দিন আলবানী (রহ:) –কে জিজ্ঞাসা করা হয়ে ছিল ইলিয়াসি তাবলীগ জামাত সম্পর্কে:
        প্রশ্ন: আপনার মতামত কি তাবলীগ জামাত সম্পর্কে? যারা তালেবে এলেম (মধ্যম শ্রেণীর আলেম) এরূপ আল্লাহ্‌র দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য যাওয়া যাবে কি?

        উত্তর: তবলীগ জামাত আল্লাহ্‌র কিতাব কুরআনুল কারীম এবং রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) এর সুন্নত এবং সালাফ আল-সলেহিনের তরীকার পথের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং তাদের সাথে বেরিয়ে চিল্লায় যাওয়া জায়েয নয়। কারন এটি সালাফ আল-সলেহিনের (সাহাবীদের) পথের পরিপন্থী।তাবলীগ জামাত কুরআন, সুন্নাহে্‌র দাওয়াতের কোন গুরুত্ব দেয় না। কেউ যদি বলে নামায পড়তে হবে কুরআন, সুন্নাহ্‌ অনুসারে তারা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এই জামাতটি ইখোয়ানওয়াল মুসলিমদের মত (মিসরের একটি দল), কিন্তু তারা দাবি করে তারা কুরআন, সুন্নাহ্‌ অনুসারে তাবলীগ করছে, কিন্তু এগুলি তাদের মুখের কথা মাত্র। তাদের কোন সহিহ আকিদা নেই। সুতরাং তাবলীগ জামাতের তাবলীগ হচ্ছে আধুনিক সূফীবাদ। যে রুপ সূফীবাদের মধ্যে ভাল দিক আছে, সে রুপ তাবলীগ জামাতের মধ্যেও ভাল দিক আছে। সমাজে যে কুসংস্কার আছে এর জন্য তাদের সামান্যতম প্রতিবাদ নেই, কারন এরূপ করলে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হবে।
        আল্লাহ্‌ আমাদের এরূপ জামাত থেকে হেফাযত করুন।

         

        From http://www.islamqabangla.wordpress.com

        1. 42.1.1.1
          আহমেদ শরীফ

          অনেক আগেই এক্সপায়ার্ড হয়ে যাওয়া এসব বস্তাপচা ফতোয়া এতদিন পরে দিয়ে কোন লাভ নেই। হুজ্জাতুল ইসলাম আশরাফ আলী থানভী(রহঃ) একদম শুরুর দিকে জামাতের কার্যক্রমের কথা শুনে বলেছিলেন _ ইলিয়াস (ইলিয়াস রহঃ) এক নতুন ফিৎনাহ চালু করল। কিছুদিন পরে ইলিয়াস(রহঃ) এর তাবলীগি উসুল-কার্যক্রম সরাসরি নিজের চোখে দেখার পর এই থানভী(রহঃ) ই আবার বলেছিলেন _ ইলিয়াস অন্ধকারের মাঝে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

          কাজেই এসব আপেক্ষিক। শুধু বিন বায(রহঃ) কেন অধিকাংশ আরব ওলামারাই আরবের বাইরে জীবনেও যাননি। আরবের বাইরে জগতের তাবত ওলামা-ইলমের মেহনত সম্পর্কে তাঁদের তেমন কোন স্পষ্ট ধারণাও নেই। উপরন্তু জন্মসুত্রে আরব হওয়া এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বিপুলভাবে পাওয়ার কারণে যুগের পর যুগ ধরে কষ্ট-মুজাহাদা-মেহনত-কুরবানি ইত্যাদি থেকে তাঁরা অনেকই দূরে। ফলে সেই রুহানিয়াত, সেই আধ্যাত্মিক গভীরতায় পৌঁছানো এমনিতেই ওনাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া আল্লাহতা'লা বিন বায(রহঃ) বা আরবদের মুখাপেক্ষী নন যে ওনাদের ছাড়া আর কাউকে দিয়ে কাজ নিতে পারবেন না। যে কাউকে দিয়ে আল্লাহ তাঁর কাজ নিতে পারেন। কুরাইশ বংশের, এমনকি রাসূল(সাঃ) এর পারিবারিক-বংশগত আত্মীয়-জ্ঞাতিদের অনেকেই স্বার্থান্ধ বিরোধিতা ও জাত্যাভিমানজনিত অহংকারের কারণে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়েছে _ আবার বেলাল হাবশী-খাব্বাব-হুরায়রা (রাঃ) দের মত সাধারণ দরিদ্র অগুরুত্বপূর্ণ লোকেরা হেদায়েত পেয়ে ধন্য হয়েছেন।

          তাবলীগে অন্ধ এমনকি বোবাদের বহু জামাত পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় চলছে, আবার অনেক সুস্থ লোক ঘরে বসে আছে। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ সুযোগ্য ওলামায়ে কেরাম এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রায় জামাতেই দেখা এক বা একাধিক আলেম থেকে থাকেন। আল্লাহর রাসূল(সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন _ 'বাল্লিগু আন্নি আলাও আয়াহ' _ অর্থাৎ একটি আয়াতও যদি জানা থাকে তবে আমার পক্ষ থেকে অন্যদের পৌঁছাও। অতএব এই কাজ করতে হলে যে আলেম হতে হবে, অনেক জ্ঞান থাকতে হবে এমনও না।

          আলবানি আর বায(রহঃ) উভয়কে আল্লাহতা'লা মাফ করেন। উভয়ের মন্তব্যই অজ্ঞানতাপ্রসূত, এবং বিশেষতঃ অত্যন্ত অদূরদর্শী, যা আজ এই ২০১৩ তে এসে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত প্রমাণিত। ইসলামের পুনর্জাগরণ প্রাচ্য থেকেই হবে, রাসূল(সাঃ) এর জামানায় অসহায়-অবহেলিত-দরিদ্র-দূর্বল আরবদের দিয়ে প্রথমে কাজ নেয়া হয়েছিল ধনবানরা পরে এসেছিলেন। বর্তমানে আরবরা ধনবান। এখন তুলনামূলক অসহায়-অবহেলিত-দরিদ্র-দূর্বল এশিয়ানগণ থেকে কাজ নেয়া হচ্ছে। অনেক পরে গিয়ে আরবরা কাজে লাগা শুরু করেছেন ব্যপকভাবে। এটাই আল্লাহতা'লার স্টাইল। 

        2. Mahabub Alam

          আহমেদ শরীফ আপনার জানা উচিত সৌদী আরবের প্রধান মুফতি আল্লামা আশ্‌ শাইখ বিন বায (رحمه الله) কে?

          From http://islamqabangla.wordpress.com/2013/04/23/এই-শতাব্দীর-শ্রেষ্ঠ-আলেম-2/

          এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলেম কে…?

          এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলেম…

          সৌদী আরবের প্রধান মুফতি আল্লামা আশ্‌ শাইখ বিন বায (رحمه الله)

          ‘আল্লামা আশ্‌শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আবদুল্লাহ বিন বায (رحمه الله) ছিলেন সারা বিশ্বে সুপরিচিত এক ইছলামী ব্যক্তিত্ব। অসাধারণ জ্ঞান, অনন্য প্রজ্ঞা, পরিপূর্ণ ইখলাস ও আল্লাহ ভীতি,ছুন্নাতে রাছূলের অকৃত্রিম অনুসরণ, চমৎকার আচার-ব্যবহার, উন্নত মানবীয় গুণাবলী ও চরিত্রের অধিকারী, শির্‌ক, কুফ্‌র ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে আপোষহীন,
          তাওহীদ ও ছুন্নাহ্‌র অতন্দ্র প্রহরী এক অকুতোভয় দা‘য়ী, মুবাল্লিগ ও অসাধারণ মু‘আল্লিম হিসেবে সমগ্র বিশ্বে বিশেষ করে মুছলিম বিশ্বে তিনি ছিলেন খুবই সমাদৃত অতি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। ইছলাম বিরোধী নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও কুট-কৌশল মোক্বাবিলায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও সঠিক দিক নির্দেশনার কাছে সমগ্র মুছলিম বিশ্ব যুগ যুগ ধরে ঋণী হয়ে থাকবে। ইছলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরার নিমিত্ত ক্বোরআন ও ছুন্নাহ্‌তে বর্ণিত খাঁটি ইছলামী “আক্বীদাহর প্রচার ও প্রসারে তিনি আমৃত্য কাজ করে গেছেন।

          ‘আল্লামা আশ্‌ শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (رحمه الله) ১৩৩০ হিজরীর জিলহাজ্জ মাসে সৌদী ‘আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনের প্রথম দিকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালো ছিলো। কিন্তুقدر الله وما شاء فعل ১৩৪৬ হিজরীতে ১৬ বৎসর বয়সে তাঁর চোখে রোগ দেখা দেয় এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। ১৩৫০ হিজরীর মুহার্‌রাম মাসে অর্থাৎ বিশ বছর বয়সে فعل قدر الله وما شاء তাঁর দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ লোপ পায়।

          এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন:- “আমার দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপরও আমি আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى)সর্ববিধ প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) কাছে দো‘আ করছি, তিনি যেন দুন্‌ইয়া ও আখিরাতে আমাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।”

          অতি অল্পবয়সেই তিনি (رحمه الله) লেখাপড়া শুরু করেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই তিনি ক্বোরআনে কারীমের হিফয সম্পন্ন করেন। মক্কার খ্যাতনামা ক্বারী শাইখ সা‘দ ওয়াক্কাস আল-বুখারীর (رحمه الله) নিকট ‘ইলমে তাজওয়ীদ তথা সঠিক-শুদ্ধভাবে ক্বোরআন কারীম পাঠের নিয়মাবলী শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি সৌদি ‘আরবের তৎকালীন গ্র্যান্ড মুফতী আশ্‌শাইখ মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন ‘আব্দুল লতীফ আল আশ্‌ শাইখ সহ দেশের প্রখ্যাত ‘উলামায়ে কেরামের নিকট ‘আরবী ভাষায় এবং শরী‘য়তের বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। বিশেষ করে তৎকালীন গ্র্যান্ড মুফতী আশ্‌শাইখ মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীমের নিকট তিনি একাধারে দশ বছর ইছলামের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে ক্বলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

          ১৩৫৭ সনে গ্র্যান্ড মুফতী শাইখ মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীমের (رحمه الله) পরামর্শক্রমে তিনি রিয়াদের অদূরে আল-খারজ এলাকার বিচারপতি নিযুক্ত হন। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর বিচারপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৩৭২ সনে রিয়াদ প্রত্যাবর্তন করেন এবং রিয়াদ মা‘হাদে ‘ইলমীতে শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত হন। এর এক বছর পর তিনি রিয়াদের শরী‘আহ কলেজে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ নয় বছর এই কলেজে তিনি ‘ইলমুল ফিক্ব্‌হ, ‘ইলমূত তাওহীদ ও ‘ইলমুল হাদীছ শিক্ষা দান করেন।

          ১৩৮১ হিজরীতে যখন মদীনা ইছলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শাইখ বিন বায
          رحمه الله উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৩৯০ হিজরী সালে তিনি চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। ১৩৯৫ হিজরী সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকেন।

          ঐ বৎসরই রাজকীয় এক ফরমানের অধীনে তাঁকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় “ইছলামী গবেষণা,ফাতওয়া,দা‘ওয়াত ও ইরশাদ” (দারুল ইফতা) নামক সৌদী ‘আরবের সর্বোচ্চ দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ করা হয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি পূর্ণ নিষ্ঠা, আমানতদারী ও সাফল্যের সাথে এই মহান দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

          উক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি শাইখ বিন বায (رحمه الله) আরো অনেক দ্বীনী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যেমন:-
          ১. প্রধান: সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদ, সৌদী আরব।
          ২. প্রধান: স্থায়ী ইছলামী গবেষণা ও ফাতওয়া কমিটি।
          ৩. প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সদস্য: রাবেতায়ে ‘আলম আল ইছলামী।
          ৪. প্রেসিডেন্ট: আন্তর্জাতিক মাছজিদ বিষয়ক উচ্চ পরিষদ।
          ৫. উচ্চ পরিষদ সদস্য: মদীনা ইছলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
          ৬. প্রেসিডেন্ট: ইছলামী ফিক্ব্‌হ পরিষদ, মক্কাহ ।
          ৭. উচ্চ কমিটি সদস্য: দা‘ওয়াতে ইছলামিয়্যাহ, সৌদী ‘আরব।

          উল্লেখ্য যে, ১৯৯৩ ইং সনে সৌদী রাজকীয় এক ফরমানের মাধ্যমে ‘আল্লামা শাইখ বিন বাযকে (رحمه الله) সৌদী ‘আরবের প্রধান মুফতী পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
          ‘আল্লামা শাইখ বিন বায (رحمه الله) ছোট-বড় অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করে গেছেন। তন্মধ্যে لعقيدة الصحيحة وما يضادها (সঠিক ধর্ম বিশ্বাস ও তার পরিপন্থী বিষয়),
          فضل الدعوة إلى الله وحكمها وأخلاق القائمين بها (আল্লাহর দিকে আহবানের ফযীলত, হুক্‌ম এবং দা‘য়ীর চরিত্র), وجوب لزوم السنة والحذر من البدعة (ছুন্নাতে রাছুলصلى الله عليه وسلم আঁকড়ে ধরা এবং বিদ‘আত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য) “হাজ্জ, ‘উমরা ও যিয়ারত সম্পর্কিত বিষয়াদির বিশ্লেষণ” “ইছলামের দৃষ্টিতে‘আরব জাতীয়তাবাদ” “আল্লাহর (سبحانه وتعالى) পথে জিহাদ” ইত্যাদি পুস্তক-পুস্তিকা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া শারহুল ‘আক্বীদাতিত ত্বাহাওয়িয়াহ ও ‘‘ফাতহুল বারী শারহিল বুখারী’’ সহ কয়েকটি গ্রন্থের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ টীকাও রয়েছে।

          আলহামদুলিল্লাহ,শাইখ বিন বাযের (رحمه الله) বিভিন্ন বক্তৃতা, রচনা,প্রশ্নোত্তর ও পত্রাবলী একত্রে সংকলন করা হয়েছে। মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওয়ী‘আহ (مجموع فتاوى ومقالاتمتنوعة) নামে এই সংকলন সমগ্রটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘আল্লামা শাইখ বিন বায (رحمه الله) রাষ্ট্রিয় ও অন্যান্য বিভিন্ন রকমের গুরুদায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও ‘দাওয়াত, দারছ, ওয়াজ-নসীহত ও সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজে নিষেধ প্রদানের কর্তব্য থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। আল-খারজ এলাকায় বিচারপতি থাকাকালে সেখানে তিনি দারছ ও ওয়াজ নসীহতের হালাক্বা (চক্র) চালু করেন। রিয়াদ প্রত্যাবর্তনের পর রিয়াদস্থ প্রধান জামে মাছজিদে দারছ প্রদানের যে কার্যক্রম চালু করেছিলেন তা মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত যথানিয়মে চালিয়ে গেছেন। মদীনায় অবস্থানকালীন সেখানেও তিনি হালাক্বায়ে দারছ চালু করেছিলেন। সাময়িকভাবে কোন শহরে স্থানান্তরিত হলে সেখানেও তিনি হালাক্বায়ে দার্‌ছ চালু করতেন। তাঁর যাবতীয় দ্বীনী খিদমাতকে আল্লাহسبحانه وتعالى ক্বিয়ামতের দিন তাঁর মীযানে হাছানাহ্‌তে রাখুন, আর এ সবের দ্বারা উম্মতে মুছলিমাহ্‌কে উপকৃত হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন।
          আল্লাহ سبحانه وتعالى পরকালে তাঁকে পরম সুখ-শান্তি ও উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহুম্মা আ-মী-ন।

          এসো দ্বীন শিখি ২০১২ ইং এর সর্বসত্ব সংরক্ষিত

    2. 42.2
      আহমেদ শরীফ

      আহমেদ শরীফ আপনার জানা উচিত সৌদী আরবের প্রধান মুফতি আল্লামা আশ্‌ শাইখ বিন বায (رحمه الله) কে?

       

      বিন বায(রহঃ) কে হন তা আমার জানা আছে। ওনার জীবনি সম্পর্কে তথ্যকণিকা কপিপেস্ট করার কোন দরকার ছিল না। আপনি বা আপনাদের কাছে উনি বা আলবানি শতাব্দির শ্রেষ্ঠ আলেম হতেই পারেন, জামাতিদের কাছে যেমন মওদুদি। এছাড়াও রয়ে গেছে হাজার মত ও পথ। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনি ও আপনারা ওনাকে সবার সেরা আলেম মনে করলেও অনেকের মত তা থেকে ভিন্নই হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে একজন বিশিষ্ট প্রভাবশালী আলেম অবশ্যই মনে করি। তবে ইসলামের বিভিন্ন শাখায় শুধু আরবের ওলামায়ে কেরামই নন, সারা বিশ্বের অনেক ওলামায়ে কেরামের অবদান রয়েছে বলে মনে করি। যেমন ইলমি লাইনে আশরাফ আলী থানভী(রহঃ) এবং দাওয়াতের লাইনে হজরতজী ইলিয়াস(রহঃ) এর বিরাট অবদান রয়েছে বলে মনে করি। কিন্তু একজনকে অন্যের সাথে তুলনা বা কে শ্রেষ্ঠ তার বিচার করার ক্ষমতা-অধিকার আমি মনে করি একমাত্র আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযার রয়েছে। এ ব্যাপারে আমার নিজস্ব ধারণা অভ্রান্ত বলে আমি মনে করি না, শেষ বিচারের দিন আল্লাহর খাতায় কার নাম আছে আর কার নাম কাটা গেছে _ সবার সম্মুখে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুড়ান্ত কোন মন্তব্য করা ঠিক মনে করি না।

      নিজের-নিজেদের আক্বীদা-মতবাদ যদি প্রচার করতে হয় তাহলে সেই তাত্ত্বিক আলোচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করুন, নিজের মতবাদকেই সুন্দরভাবে আখলাক্বিয়াতের সাথে পেশ করুন। গ্রহণ করার মত হলে মানুষ এমনিতেই গ্রহণ করবে। সেজন্যে অন্যান্যদের সমালোচনা-নিন্দা-উপহাস-তাচ্ছিল্য করার প্রয়োজন নেই, ওসব করলে নিজের-মতবাদের দৈন্য-কাঙালিপনাই প্রকাশ পাবে। যে মতবাদ স্বয়ংসম্পূর্ণ তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য অন্যের নিন্দা-সমালোচনার ওপর ভর করতে হয় না। দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের দেখে শেখার চেষ্টা করেন _ তারা অন্যদের বিরোধিতা-নিন্দা-সমালোচনায় যায় না। কেন ? কারণ তাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি আছে, নিয়মতান্ত্রিক দৈনন্দিন-সাপ্তাহিক-মাসিক-বাৎসরিক কর্মসূচি আছে। সার্বিকভাবে তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য বলেই বেশিরভাগ মসজিদে রীতিমত ঘোষণা দিয়ে তারা নিজের কাজ করে যায়, যা অন্যান্য দল বা মতবাদের ধারকেরা পারেন না। যাদের নিজস্ব মতবাদে গভীরতা আছে, উৎসাহব্যঞ্জক অক্লান্ত অনুসরণীয় আদর্শিক-ব্যবহারিক কর্মসূচী রয়েছে অন্যদের নিন্দা-সমালোচনার করার মত উদ্বৃত্ত সময় তাদের হাতে থাকে না, সেরকম অকাজের পেছনে সময় দেয়ার প্রয়োজনও তাদের হয় না।

       

  35. 41
    arif

    ভাল লাগল,

    কিন্তু কষ্ট করে একটা কাজ করেন,

    হাদিছের রেফারেঞ্ছ গুল দিয়ে দিবেন ।

    তাহলে আমার অনেক কাজে আসবে

    অনেক ধন্যবাদ।

  36. 40

    আমন্ত্রণ রইল-

    http://www.somewhereinblog.net/blog/namerkidorkar/29816239

  37. 39
    Imran

    আল্লাহ আমাদের কে সেই নাজাত প্রাপ্ত দলের সাথে সরিক হবার তৈফিক দিন।আমিন।
    আর জারা বুঝেও বোঝেনা তাদেরকে বুঝার তৈফিক দিন। 
    আর বলো --সত্য এসে গেছে আর মিথ্যাকে বিলুপ্ত করেছে নিঃসন্ধেহে মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবেই”
    (সুরা বনি ঈসরাঈল আয়াত ৮১)
     

  38. 38
    Imran

    দয়া করে সকল মুসলিমরা পড়বেন।
    Characteristics of the Victorious Group: Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah
     
    Praise be to Allaah.
    It is the Muslim’s duty to follow the truth and to join the victorious group, the people of Sunnah and Jamaa’ah (Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah) who are followers of the pious predecessors (al-salaf al-saalih), loving them for the sake of Allaah whether they are in his own country or elsewhere, and cooperating with them in righteousness.
    The attributes of the victorious group are related in a number of saheeh ahaadeeth, for example:
    The Prophet (peace be upon him) said: “My ummah is an ummah which carries out the commands of Allaah; those who let them down or differ from them do not harm them and they will keep adhering to this path until the Day of Judgement.”
    Mu‘aawiyah and ‘Umar ibn al-Khattaab (may Allaah be pleased with them) reported that the Prophet (peace be upon him) said: ‘A group of my ummah will continue victoriously adhering to the truth until the Last Hour begins.’”
    Al-Mugheerah ibn Shu‘bah (may Allaah be pleased with him) said: “I heard the Messenger of Allaah (peace be upon him) say: “Some people of my ummah will remain victorious over the people until the decree of Allaah reaches them.”
    ‘Imraan ibn Husayn (may Allaah be pleased with him) said that the Prophet (peace be upon him) said: “A group of my ummah will continue fighting for the truth, and will prevail over those who oppose them, until the last of them will kill al-Maseekh al-Dajjaal (the Liar or Anti-Christ).”
    From these ahaadeeth we may understand the following:
    (1) The Prophet’s words “A group of my ummah will continue . . .” indicate that this is a section of the ummah, not the entire ummah. This also indicates that there will be other groups and sects.
    (2) His words “those who oppose them will not harm them” indicate that there will be other groups who oppose the victorious group in the way they practice the religion. This also concurs with the hadeeth which describes the ummah being divided into seventy-two groups or sects who oppose the one group that is following the truth.
    (3) Both ahaadeeth offer glad tidings to the people who are following the truth. The hadeeth that speaks of the victorious group speaks of their victory in this world.
    (4) The words “until the decree of Allaah reaches them” refer to the wind or breeze that will come and take the soul of every believing man and woman. This does not contradict the hadeeth “A group of my ummah will remain victoriously supporting the truth until the Day of Resurrection,” because that hadeeth means that they will continue to follow the truth until that gentle breeze takes their souls just before the Day of Resurrection, when many other Signs of the Last Hour have already manifested themselves.
    The characteristics of the victorious group
    From the ahaadeeth quoted above, and other reports, we can derive the following characteristics of the victorious group:
    (1) They follow the truth. They are described variously as “following the truth,” “following the commandments of Allaah,” “following the true religion,” etc.
    All of these phrases indicate that they are adhering to the true religion with which Muhammad (peace be upon him) was sent.
    (2) They obey the commandments of Allaah, which means:
    (a) They are distinguished from the rest of mankind by carrying the banner of Da’wah towards Allaah.
    (b) They undertake the mission of enjoining what is good and forbidding what is evil.
    (3) They will be victorious until the Last Hour.
    The ahaadeeth say that “they will be victorious until the decree of Allaah comes,” “they victoriously support the truth,” or “they will be victorious over those who oppose them.”
    This victory includes:
    Being open and not hiding: they are well-known and prominent and have the upper hand.
    Adherence to true religion, righteousness, following Allaah’s commands and fighting against His enemies in jihaad
    Victory by defeating others
    (4) They are patient and resist others with patience.
    Abu Tha‘labah al-Khashani (may Allaah be pleased with him) reported that the Prophet (peace be upon him) said: “After you there will come days of patience, in which the patience required will be like having to hold a burning coal in one’s hand.”
    Who are the people of the victorious sect?
    Al-Bukhaari said: “They are the people of knowledge (the scholars).”
    Many scholars said that the victorious group is the scholars of hadeeth.
    Al-Nawawi said: “It is possible that this group is scattered among all types of believers. Some may be brave fighters, or fuqahaa’, or scholars of hadeeth, or ascetics, or people who enjoin good and forbid evil, and other types of good people.”
    Al-Nawawi also said: “It could be a group of different types of believers, including those who are brave and skilled in warfare, faqeehs, scholars of hadeeth, Qur’aanic commentators (mufassireen), those who enjoin good and forbid evil, ascetics and devoted worshippers.”
    Ibn Hajar, may Allaah have mercy on him, explained the matter as follows: “They do not have to all be in one city; they could be gathered in one country or dispersed across the world. They may be gathered in one city or in a part of it. It is possible that one group may exist, then disappear, then be replaced by another group, and so on, until the Day of Judgement, when all will disappear except for one group in one city, who will disappear when the breeze decreed by Allaah comes.”
    The scholars’ discussion of this group does not specify one type of people, or one city or country, except for the last group, which will be in al-Shaam (the territory comprising modern-day Syria, Lebanon, Jordan and Palestine) and will fight the Dajjaal, as the Prophet (peace be upon him) said.
    No doubt those who are involved with the sciences of sharee’ah – ‘aqeedah, fiqh, hadeeth and tafseer, studying and teaching – are the people who are most qualified to be called the Victorious Group, and they should be at the forefront of da’wah and jihaad, and enjoining what is good and forbidding what is evil, and refuting the people of bid’ah, all of which must be accompanied with sound knowledge based on the Wahy (Revelation).
    We ask Allaah to make us among them. May Allaah bless our Prophet Muhammad.
     
     
     

  39. 37
    Imran

    জানি তাবলীগওয়ালা রা এই পোস্টটি পড়বেন না আর পড়লেও মানবেন না, তবে সাধারন মুসলমান দের জন্য এই পোস্ট। দয়া করে কস্ট হলেও পড়বেন আশা করি।
    Who are the saved group?
     
    Praise be to Allaah.
     
    Firstly: 
    Division and differences among this ummah is something inevitable, to which history bears witness, as do the texts of the Sunnah of our Prophet Muhammad (peace and blessings of Allaah be upon him). 
    The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Whoever among you lives after I am gone will see a great deal of dissent.” Narrated by Abu Dawood (4067); classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh Abi Dawood.  
    Dissent has occurred in the political field, as well as in the fields of thought and ‘aqeedah, which is represented in the appearance of different sects at the end of the era of the Rightly-Guided Caliphs, such as the Murji’is, Shi’ah and Khawaarij.
     But by His mercy, Allaah decreed that this division should happen when some groups drifted away from the way of the main body of the Muslims and developed their own different approach, and they were distinguished by their own names and character. So the ‘aqeedah of Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah, and the ‘aqeedah of the majority of Muslims, was not confused even for a day with that of the other, misguided sects, so that those sects would not dare to call themselves Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah, rather they are called after the bid’ah (innovation) that they introduced, or the person who founded the sect. You can see that when you examine the names of all the sects. 
    The famous hadeeth about the ummah splitting into seventy-three sects bears witness to that. 
    It was narrated from Mu’aawiyah ibn Abi Sufyaan (may Allaah be pleased with him) that he said: The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) stood among us and said: “Those who came before you of the people of the Book split into seventy-two sects, and this ummah will split into seventy-three: seventy-two in Hell and one in Paradise, and that is the jamaa’ah (main body of Muslims).”
    Narrated by Abu Dawood (4597) and others; classed as saheeh by al-Haakim (1/128), who said: it is an important hadeeth that represents a basic principle. It was classed as hasan by Ibn Hajar in Takhreej al-Kashshaaf (63). It was classed as saheeh by Ibn Taymiyah in Majmoo’ al-Fataawa (3/345), al-Shaatibi in al-I’tisaam (1/430), and al-‘Iraaqi in Takhreej al-Ihya’ (9/133). It is mentioned frequently and often quoted as evidence by the scholars in the books of Sunnah, and it was narrated from a number of the Sahaabah via many isnaads, most of the soundest of which specify the number of sects as being seventy-three. 
    The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) described the saved group as the jamaa’ah, i.e., the consensus of the Muslim scholars. In other reports he also described them as “the vast multitude”, as in the hadeeth of Abu Umaamah and others which is recorded by Ibn Abi ‘Aasim in al-Sunnah (1/34) and al-Tabaraani in al-Mu’jam al-Kabeer (8/321), with an isnaad that is hasan li ghayrihi (hasan because of corroborating evidence). 
    The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) also described them in the following terms: “My ummah will split into seventy-three sects, all of whom will be in Hell except one group.” They said: Who are they, O Messenger of Allaah? He said: “(Those who follow) that which I and my companions follow.” This is mentioned in the hadeeth of ‘Abd-Allaah ibn ‘Amr which was recorded and classed as hasan by al-Tirmidhi (2641). It was also classed as hasan by al-‘Iraaqi in Ahkaam al-Qur’aan (3/432), al-‘Iraaqi in Takhreej al-Ihya’ (3/284) and al-Albaani in Saheeh al-Tirmidhi. 
    This is the clearest sign that the Muslim can use to determine what is the saved group, so he should follow the way of the majority of scholars, those whom all the people testify are trustworthy and religiously-committed, and he should follow the way of the earlier scholars among the Sahaabah, Taabi’een and the four Imams and other scholars, and he should beware of every sect that differs from the main body of Muslims (jamaa’ah) by following innovation (bid’ah). 
    Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah (may Allaah have mercy on him) said:  
    The sign of the people of bid’ah is that they do not follow the salaf. End quote from Majmoo’ al-Fataawa (4/155).  
    He also said (3/346): The sign of these groups – i.e., the seventy-two groups that go against Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah – is that they forsake the Qur’aan, Sunnah and scholarly consensus. The one who follows the Qur’aan, Sunnah and scholarly consensus is one of Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah. End quote. 
    It is not permissible for anyone to imagine after this that the Shi’ah, for example, are the saved group, or that the deviant Sufis, Khawaarij or Habashis are the saved group. Rather these are innovated groups which only follow invented ideas, that are denounced by the scholars and the majority of Muslims, who feel repulsion in their hearts towards them. Their ideas were never believed in for a day by Abu Bakr, ‘Umar, ‘Uthmaan or ‘Ali (may Allaah be pleased with them), or by Imam Abu Haneefah, Maalik, al-Shaafa’i or Ahmad ibn Hanbal. Would any wise person think that a belief that these imams were unaware of could be correct?
    Think about it. There is the greatest and most obvious difference between Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah (the saved group) and other, misguided groups. 
    Ibn Taymiyah (may Allaah have mercy on him) says: 
    Hence the saved group is described as Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah, and they are the greater majority and the vast multitude. As for the other groups, they are followers of weird ideas, division, innovation and whims and desires, and none of these groups reached anywhere close to the size of the saved group, let alone being equal to them, rather some of these groups are very small in number. The sign of these groups is that they go against the Qur'aan, Sunnah and scholarly consensus. The one who follows the Qur’aan, Sunnah and scholarly consensus is one of Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah. 
    Majmoo’ al-Fataawa (3/346). 
    Al-Shaatibi has mentioned many names of the doomed groups in al-I’tisaam (1/453-460). 
    Secondly: 
    The scholars of Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah have stated in their books that the other sects are among the misguided and doomed innovated groups, and that they deserve to enter Hell because of the reprehensible ideas and grave innovations that they have introduced into the religion of Allaah. But in most cases they are not regarded as kaafirs, rather they are regarded as Muslim sects. 
    Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah (may Allaah have mercy on him) said: 
    Similarly, with the other seventy-two groups, those that are hypocrites are inwardly kaafirs, and those that are not hypocrites but rather believe inwardly in Allaah and His Messenger are not inwardly kaafirs, even though they are mistaken in their interpretations, regardless of what that mistake may be. Some of them may have some of the branches of hypocrisy, or they may not have the kind of hypocrisy that dooms a man to the lowest depths of Hell. 
    The one who says that each of the seventy-two sects is guilty of kufr that puts one beyond the pale of Islam is going against the Qur’aan and Sunnah and the consensus of the Sahaabah (may Allaah be pleased with them all), and the consensus of the four imams and others. None of them regarded any of the seventy-two sects as kaafirs, rather they regard one another as kaafirs. 
    Majmoo’ al-Fataawa (7/218). 
    This does not mean that every sect that calls itself Muslim is actually Muslim, rather they may be kaafirs and apostates, such as the extreme Raafidis, the extreme Sufis and the baatini sects such as the Druze, Nusayris and others. These are all beyond the pale of Islam and are not regarded as being among the sects mentioned in the hadeeth.
    Thirdly: 
    The cause of difference and division among these groups mentioned in the hadeeth has to do with fundamental matters of religion and basic issues of ‘aqeedah, not differences of opinion regarding fiqh. 
    Al-Shaatibi (may Allaah have mercy on him) said: 
    These are regarded as sects because they differ from the saved group with regard to some fundamental issues of religion and basic rules of sharee’ah, not with regard to minor issues, because differences with regard to minor issues does not lead to division and factionalism, rather factionalism occurs when there are differences concerning fundamental issues of Islam. 
    Al-I’tisaam (1/439). 
    If some Muslim groups stand out from others because of a specific method of da’wah and working for Islam, but they do not go against Ahl al-Sunnah wa’l-Jamaa’ah in their ‘aqeedah, then they are not to be regarded as doomed groups, rather they are among the saved group in sha Allaah, if they follow the way of the Sahaabah and Taabi’een in ‘aqeedah and action. 
    And Allaah knows best.
     

  40. 36
    আহমেদ শরীফ

    عن عبد الله بن عمرو قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار إلا ملة واحدة قالوا ومن هي يا رسول الله قال ما أنا عليه وأصحابي (سنن الترمذى-كتاب الايمان، باب ما جاء في افتراق الأمة، رقم الحديث-2641)

    অর্থ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আমার উম্মত তা’ই করবে যা করেছে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। এক জুতা অপর জুতার সমান হওয়ার মত। এমনকি যদি ওদের মাঝে কেউ মায়ের সাথে প্রকাশ্যে জিনা করে থাকে, তাহলে এই উম্মতের মাঝেও এরকম ব্যক্তি হবে যে একাজটি করবে। আর নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এই সব দলই হবে জাহান্নামী একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা? নবীজী সাঃ বললেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে।

    {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০}

    বনী ইসরাঈলের মাঝে ছিল ৭২ ফিরক্বা। এর মাঝে ১টি ফিরক্বা ছিল জান্নাতী। আর ৭১ টি ফিরক্বা ছিল জাহান্নামী। আর এই উম্মতের মাঝে হবে ৭৩টি ফিরক্বা। এর মাঝে ১টি ফিরক্বা হবে জান্নাতী আর ৭২টি ফিরক্বা হল জাহান্নামী। নবী কারীম সাঃ ইরশাদ করেছেন-পূর্বের উম্মত যাই করেছে এই উম্মতও তাই করবে নাফরমানীর দিক থেকে। তথা ওরা যত পদ্ধতিতে নাফরমানী করেছে এই উম্মতও সেই পদ্ধতীতে নাফরমানী করবে। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করার ৭১টি পদ্ধতিওয়ালা বাতিল ফিরক্বা পূর্ব উম্মত থেকে গ্রহণ করবে এই উম্মত। তথা ৭১টি বাতিল ফিরক্বার মত ও পথ পূর্ব উম্মতের মত এই উম্মতেও থাকবে।

    আর জান্নাতী ছিল পূর্ব উম্মতের ৭২ ফিরক্বার মাঝে একটি ফিরক্বা। সেটিও এ উম্মতে পূর্ব পদ্ধতি অনুযায়ী থাকবে। শুধু বাড়বে একটি বাতিল ফিরক্বা এই উম্মতে। যেই বাতিল ফিরক্বার কোন নজীর পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না।

    সেই বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি কারা?

    আল্লামা কুরতুবী রহঃ তার প্রণীত তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন-

    . وقد قال بعض العلماء العارفين : هذه الفرقة التي زادت في فرق أمة محمد صلى الله عليه وسلم هم قوم يعادون العلماء ويبغضون الفقهاء ، ولم يكن ذلك قط في الأمم السالفة.( الجامع لأحكام القرآن
    المؤلف : أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى : 671)

    যেই ফিরক্বাটি উম্মতে মুহাম্মদীদে বাড়বে তারা হল-যারা ওলামাদের সাথে শত্রুতা করবে, আর ফুক্বাহাদের প্রতি রাখবে বিদ্বেষ। এই গ্রপটি পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না।

    {তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}

    এই উম্মতের মাঝে বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি হল ফিক্বহ ও ফুক্বাহাদের দুশমন, তথা ইজতিহাদ ও মুজতাহিদদের দুশমন দল। কারণ পূর্ব উম্মতের মাঝে কেবল নবীর আনীত দ্বীনের উপর আমল করতে হত, নতুন করে নীতিমালার আলোকে কোন উদ্ভাবন করার কোন সুযোগ ছিল না। যেহেতু ইজতিহাদই ছিল না, তাই ইজতিহাদ ও মুজতাহিদ তথা ফিক্বহ ও ফক্বীহ অস্বিকারকারী কোন বাতিল ফিরক্বাও ছিল না। আর এই উম্মতে যেহেতু ফিক্বহ ও ফক্বীহ আছে, তথা ইজতিহাদ ও মুজতাহিদ আছে, তাই এর দুশমন ও আছে। এই উম্মতের বর্ধিত সেই বাতিল ফিরক্বাটি হল ফিক্বহ ও ফক্বীহদের সমালোচনাকারী, ইজতিহাদ ও মুজতাহিদীনদের দুশমন দল। ফিক্বহে হানাফী, ফিক্বহে শাফেয়ী, ফিক্বহে মালেকী, ফিক্বহে হাম্বলী অস্বিকারকারী দল হল এই উম্মতের বর্ধিত বাতিল ফিরক্বা।

    মুরজিয়া, কাদরিয়া, জাবরিয়া, শিয়া, কাদিয়ানী, বেদআতি ইত্যাদী বাতিল ফিরক্বা এই উম্মতের বর্ধিত বাতিল ফিরক্বা নয়। পূর্ব থেকেই এই সব দলের নজীর আছে। কিন্তু ফক্বীহদের দুশমন বাতিল ফিরক্বার নজীর পূর্ব থেকে নেই। যেহেতু পূর্বে ফিক্বহ ও ফক্বীহই ছিল না।

    নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা?

    হাদীসে রাসূল সাঃ স্পষ্টতই সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। নাজাতপ্রাপ্ত হল সেই দল-যারা নবীজী সাঃ এর সুন্নাত ও সাহাবায়ে কিরামের জামাতের মত ও পথের অনুসারী। এক কথায় যারা সুন্নাতধারী, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী। যাকে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে থাকি।

    নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কোন রেজিষ্ট্রিকৃত দলের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। যারা নবীজী সাঃ এর সু্ন্নাত আঁকড়ে থাকবে, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী হবে তারাই হবে জান্নাতী দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।

    1. 36.1
      Imran

       
      ى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار إلا ملة واحدة قالوا ومن هي يا رسول الله قال ما أنا عليه وأصحابي (سنن الترمذى-كتاب الايمان، باب ما جاء في افتراق الأمة، رقم الحديث-2641)
      অর্থ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আমার উম্মত তা’ই করবে যা করেছে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। এক জুতা অপর জুতার সমান হওয়ার মত। এমনকি যদি ওদের মাঝে কেউ মায়ের সাথে প্রকাশ্যে জিনা করে থাকে, তাহলে এই উম্মতের মাঝেও এরকম ব্যক্তি হবে যে একাজটি করবে। আর নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এই সব দলই হবে জাহান্নামী একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা? নবীজী সাঃ বললেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে।
      {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০}
       
      একমত 
      কিন্তু তাহলে আপনারা কোরআন ও সহি হাদিস ছেরে আপনাদের বুজুর্গদের  কোরআন ও সহি হাদিস বিরোধী মতকে মানার চেস্টা করতেছেন কেন?
       
       
      হাদীসে রাসূল সাঃ স্পষ্টতই সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। নাজাতপ্রাপ্ত হল সেই দল-যারা নবীজী সাঃ এর সুন্নাত ও সাহাবায়ে কিরামের জামাতের মত ও পথের অনুসারী। এক কথায় যারা সুন্নাতধারী, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী। যাকে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে থাকি।
      নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কোন রেজিষ্ট্রিকৃত দলের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। যারা নবীজী সাঃ এর সু্ন্নাত আঁকড়ে থাকবে, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী হবে তারাই হবে জান্নাতী দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।
       
      সঠিক কথা বলেছেন যারা কোরআন ও হাদিসের উপর জ্বান অর্জন করবে তারা বুঝতে পারবে কারা মুসলমানদেরকে সুদুর বিভ্রান্তি তে নিয়ে যাচ্ছে।
       

  41. 35
    shahid

                     সবাইকে সালাম।  তবলীগ জামাত করলে ঈমান থাকবে না। কারন  এরা 'সিষ্টি খাওয়া সুন্ন' এই ওয়াই শুধু করে।  বদরের ,ওহুদের ওয়াজ করেনা।  আমাদের নবী(স:) রাষ্ট্র-নায়ক ছিলেন। একটা পরিপূর্ন  ইসলামী-রাষ্ট্রের মডেল তিনি প্রথমে তিনি  মদীনায-পরে  মক্কায়  তৈরী করে তিনি দেখায়ে  গেছেন, ভবিষ্যত মুসলমানদে কি করতে হবে।  সমস্ত নবীদের এটাই লক্ষ্য ছিল।  কুরআনী কার্যকর করা। তবলীগ  ইসলামী আইনের কথা বলেনা। তারমানে  এই দল ফেরাউনের আইন চায়।  বেশীর ভাগ  সমর্থক ধর্ম-নিরপেক্ষ  দলের অর্থাৎ  বিএনপি কিংবা আওয়ামী লিগের। এরা না বুঝেই তবলীগকে সমর্থন করছে। মূলত: তবলীগ এদের বিভ্রান্ত করছে।
                  কুরআনী- রাষ্ট্র-ব্যবস্থার  কথা গোপন রেখে  তবলীগ কুরআনকে অস্বীকার করছে।
    '  তেমরা কি আমার কিতাবের কিছু অংশ প্রকাশ কর আর কিছু অঙশ গোপন করা ?
    'তোমরা কি আমার কিতাবের  কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু  অবিশ্বাস কর?
    'আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যারা বিচার ফয়সালা করেনা, তারা জালেম,ফাসেক ও কাফের'
    এভাবে তবলীগ   কুরআনের আয়াত গোপন,অস্বীকার করে  বড় ধরনের গুনাহ করছে।  আবার কুরআনী শাসন অস্বীকার করে কুফরী করছে। দলের বিশাল অংশকে বিভ্রান্ত  করার সমস্ত দায়িত্ব নেতাদের উপর আসবে। আর এটা কিয়ামত  পর্যন্ত বিরাট বোঝায় পরিনত হবে।  হাশরের মাঠে দৃশ্য কল্পনা করে আমি শিউরে উঠছি।
    ধন্যবাদ।
    এভাবে তবলীগ কার স্বার্থ রক্ষা করচে ? 
     
          

    1. 35.1
      আবদুস সবুর

       
      shahid ভাই,

      কিছু মিথ্যাচার করার জন্য ধন্যবাদ দিতে পারলাম না।

      তাবলীগ জামাত! হ্যাঁ তাবলীগ জামাত!! তাবলীগ জামাত নিয়ে যারা করে তাদের চর্চা দেখে হতাশ হতে হয়। যারা এই নিয়ে মাথা ঘামায় তাদের কষ্টে আমিও কষ্টিত। 

      * যখন মাদ্রাসা বা জামিয়ার ভিতর সিহাহ সিত্তাহ, তাফসীর ইত্যাদী নিয়ে ব্যস্ত থাকে তখন তারা ছাত্র এবং শিক্ষক। 

      * যখন দ্বীন প্রচারের জন্য মাদ্রাসা / জামিয়া থেকে বের হয়, তখন তারা তাবলীগ জামাত। 

      * যখন কলম দিয়ে লেখে তখন লেখক। 

      * যখন ব্লগ লেখে তখন ব্লগার। 

      * যখন হরতালে নামে তখন পিকেটার।

      * যখন তারা জিহাদ করে তখন তারা মুজাহিদ।

      >>>>>>>>>>>>>>>>>
      এখন পিকেটার কেন বুখারী পড়েনা?
      তাবলীগ কেন পিকেটার হয়না?
      লেখক কেন তাবলীগ করেনা? 
      তাবলীগ কেন বুখারী পড়েনা? 
      মুজাহিদ কেন তাবলীগ করে না?

      এরকম অনেক সহজ সমীকরণ যারা সহজে বোঝেনা। তাদের না বোঝার কষ্টে আমিও কষ্টিত।

    2. 35.2
      আহমেদ শরীফ

      @ shahid,
       
      খুব মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন। আমি উজ্জিবীত। তবে আমি একা হলে তো হবে না …  এক কাজ করুন টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে সেখানে মাইক ভাড়া করে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের আপনার বক্তব্য সুন্দর করে ব্যাখ্যা করুন। হয়তো আপনার বক্তৃতায় আকৃষ্ট হয়ে ওনারা এই কাজ থেকে বিরতও থাকতে পারেন। অথবা জ্বালাময়ী একটা ভাষণ দিয়ে ওনাদের 'জিহাদের গুরুত্ব' বুঝিয়ে যদি নগদে তৈরি করতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই, একদিনের মাথায় খেলাফত কায়েম হয়ে যাবে। 'ইসলামী রাষ্ট্র' হয়ে গেলেই আর কোন চিন্তা নেই বাকি সব অটোমেটিক হয়ে যাবে।

      আর আপনি হবেন সেই রাষ্ট্রের সম্মানিত প্রথম খলিফা …

      1. 35.2.1
        Imran

        তাবলীগ জামাত সুফী,পীরতন্তী,শিরিকি জামাত তাই এদের কবর পুজা, মাজার পুজা,পীর দের ভন্ডামী,শিরিক করা কোন কিছুই চোখে পরে না।
        পরবে কিভাবে, তাদের বইতে তো কত ঘটনা জা, কবর পুজা, মাজার পুজা,পীর দের ভন্ডামী,শিরিক কেও হার মানায়।
        এই জন্যেই দিল্লির নেজামুদ্দিনের মসজিদে তাদের মুরুব্বিদের কবর, জার পাশে সবাই নামাজ পরে, আর তার পাশেই ৩০০ গজ দুরে নেজামুদ্দিন আঊলিয়ার কবর পুজা হয় কিন্তু তারা বাধা দেননা কেননা তারাতো ভাই ভাই। 
         
        উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট
        মানুষকে বলে এককথা আর ভিতরে সেখায় অন্য কথা
         এনাদের উদাহরন কোরআনের থেকে এভাবে দেয়া জেতে পারে
         
         
        অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।
        (106 sura Yousuf)
         
         

        1. 35.2.1.1
          আহমেদ শরীফ

          তাবলীগের মেহনত এখন যে স্তরে পৌঁছে গেছে যে, যে যাই বলুক না কেন তাতে মেহনতের কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। এই মেহনত সম্পর্কে সবার ধারণা এতটা সুস্পষ্ট যে কারো 'বলাবলি' কোন প্রভাব ফেলতে আর সমর্থ হবে না। এই মেহনত এমন দ্রুত সম্প্রসারিত বিস্তৃয়মান যে পুরো দুনিয়াটাই গ্রাস করে ফেলতে খুব বেশি দেরি নেই।

          বিরাট সাইজের হাতি যখন বসে যায় তখন তার নীচে থাকা পিঁপড়া এমনিতেই চ্যাপ্টা হয়ে যায় তেমনি আম বিশ্বমুসলিমজনতার বিশাল ব্যপ্তিময় এই মেহনত যখন আরো জমে যাবে তখন আপনার সৌদি রাজতন্ত্ররের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠবে, বেতনভুক্ত দায়ী পেটমোটা মাদানি হুজুরদের আজাইরা বকাবাজিও বন্ধ হয়ে যাবে কেননা তাদের বেতন-চাকরিও খতম হয়ে যাবে। সৌদি আরব থেকে আসা মেহমানদের সংখ্যা প্রতিবছর যেভাবে বাড়ছে আর রাজপরিবারে তাবলীগের মেহনতের সাহায্যের ব্যাপারে, যোগদানের ব্যাপারে সমর্থন-ঐক্যমত্য আগের তুলনায় বেড়ে চলেছে তাতে সেইদিনও বেশি দূরে নয় ইনশাআল্লাহ।

          কাজেই 'তার আগ পর্যন্ত আরো কয়দিন যা মুখে আসে' _ বলে যান। 

  42. 34
    Imran

     
    কোথা থেকে এল তাবলীগ জামাত?
     
    আল্লাহর দ্বীনে বিশ্ব ইজতেমা হল হ্জ্জ্ব। হজ্জ্ব ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ বিশ্ব ইজতেমা করেননি। "ভারতের উত্তর পশ্চিম সীমান্তে একটি রাজ্যের নাম হরিয়ানা, এর সাবেক নাম পাঞ্জাব। দিল্লীর দক্ষিণে হরিয়ানার একটি এলাকার নাম মেওয়াত। এই মেওয়াতে ১৩০৩ হিজরীতে একজন সুফী বুজুর্গের জন্ম হয়। তার ঐতিহাসিক নাম ছিল আখতার ইলিয়াস। কিন্তু পরে তিনি শুধু ইলিয়াস নামে পরিচিত হন। ১৩২৬ হিজরীতে তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসার শাইখুল হাদীস মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবের কাছে বুখারী ও তিরমিযী শ্রাবণ করেন। ১৩৪৪ হিজরীতে তিনি দ্বিতীয়বার হজ্জে যান। এই সময় মদীনায় থাকাকালীন অবস্থায় তিনি (গায়েবী) নির্দেশ পান, "আমি তোমার দ্বারা কাজ নিব"। ফলে ১৩৪৫ হিজরীতে তিনি দেশে ফিরে এসে মেওয়াতের একটি গ্রাম নওহে তাবলীগী কাজ শুরু করেন।
     
    ইলিয়াস (রঃ) নবীজির রওজা শরীফ থেকে গায়েবী নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে দাবী করেন। এটা ডাহা মিথ্যা কথা করাণ মহান আল্লাহ বলেনঃ
     
    ১। "আল্লাহ যেদিন রাসূলগণকে একত্রিত করবেন আর তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করবেনঃ তোমরা উত্তর পেয়েছিলে কি? তাঁরা বলবেন, আমরা তার কিছুই জানি না। আপনি অবশ্যই গায়েবের খবর ভাল জানেন।" (সূরা মায়েদা ৫ঃ৫৭)
     
    ২। "(নবী বলেন) আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমিই তাদের খোঁজ খবর নিয়েছি। তারপর যখন আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলেন তখন আপনি (আল্লাহ) তাদের খোঁজ খবর রেখেছেন। আপনি সবকিছুর খবর রাখেন।" (সূরা মায়েদা ৫ঃ১১৭)
     
    ৩। "প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাধ গ্রহণ করবে। তারপর সবাই আমার নিকট ফিরে আসবে।" (সূরা আনকাবুত-২৯ঃ৫৭)
     
     
    মৃত্যুর পরে কোন নাবী -রাসূল (সাঃ) গণই এ পৃথিবীর কোন খবর রাখতে পারেন না। মৃত্যুর পরে কারো আত্মা কবরে থাকে না, আল্লাহর নিকট ফিরে যায়। ফিরে যাওয়া অর্থ হল পূর্বে যেখানে ছিলাম সেখানে যাওয়া। জন্মের পূর্বে আমরা আল্লাহর নিকট ছিলাম। কোথায় ছিলাম, কেমন ছিলাম, কি করতাম, এসব যেমন আমরা কিছু্ই জানি না, তদরূপ মৃত্যুর পরে যেখানে যাব সেখানে থেকে পৃথিবীর কোন কিছুই জানা যাবে না।
     
     
    অতএব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর ইন্তিকালের পরও রেসালতের দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন বলে বিশ্বাস করি, তাহলে "আজ তোমাদের দ্বীনকে আমি পরিপূর্ণ করে দিলাম" আল্লাহর এ ঘোষনাটাকে অবিশ্বাস করতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক)
    তাবলীগী জাম'আতের কার্যকলাপ সোয়াবের আশায় আল্লাহর দ্বীনে নতুন সংযোজন। দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজন বিদ'আত। বিদ'আতীদের পরিণাম সম্পর্কে আমরা সবাই জানি প্রত্যেক বিদআতই ভ্রস্টতা আর প্রত্যেক ভ্রস্টতাই জাহাননাম।

    1. 34.1
      আহমেদ শরীফ

      ইলিয়াস (রঃ) নবীজির রওজা শরীফ থেকে গায়েবী নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে দাবী করেন। এটা ডাহা মিথ্যা কথা
       

      মৃত্যুর পরে কোন নাবী -রাসূল (সাঃ) গণই এ পৃথিবীর কোন খবর রাখতে পারেন না। মৃত্যুর পরে কারো আত্মা কবরে থাকে না, আল্লাহর নিকট ফিরে যায়। ফিরে যাওয়া অর্থ হল পূর্বে যেখানে ছিলাম সেখানে যাওয়া। জন্মের পূর্বে আমরা আল্লাহর নিকট ছিলাম। কোথায় ছিলাম, কেমন ছিলাম, কি করতাম, এসব যেমন আমরা কিছু্ই জানি না, তদরূপ মৃত্যুর পরে যেখানে যাব সেখানে থেকে পৃথিবীর কোন কিছুই জানা যাবে না।

       
      * নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার প্রমাণ

      ১-
      وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)
       
      আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।

      {সূরা বাকারা-১৫৪}
      উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।

      ২-

      عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)
       
      হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
       
      {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}

      ৩-

      عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
       
      হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
       
      {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
       
      এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।

      1. 34.1.1
        আহমেদ শরীফ

        আসল কথা হল সৌদি জনগণের তেলবেচা পয়সা আত্মসাত করে কুক্ষিগত করা রাজতন্ত্রের পোষা দালাল হল এই সালাফি আলেম সম্প্রদায়। তারা 'ইসলাম প্রচার' এর জন্য লক্ষ লক্ষ রিয়াল বেতন পেয়ে আয়েশে দুধ-ঘি খেয়ে ভুঁড়ি বাগিয়ে এসিতে আরামে বসে টিভিতে বক্তব্য দেন। তবে পেটে লাথি পড়ার ভয়ে (*বস্তুতঃ পেটে লাথি না বরং ‘কল্লা ঘ্যাচাঙ’ এর ভয়েই আসলে) সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কখনোই বলেন না। সৌদি সালাফি হুজুরদের রাজপরিবারের চাটুকারিতার অনন্য এক নজির হল মদিনা মসজিদের ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম তাঁর এক শিশুকন্যার বয়েস ১৩ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ১৩ হওয়ার পরপরই প্রায় ৬৫-৭০ বছর বয়েসী বুড়ো সৌদি রাজামশায়ের সাথে নিজের ১৩ বছরের মেয়েকে বিবাহ দিয়ে নিজের চাকরি পার্মানেন্ট করেন!  

        গরীব মুসলিম দেশগুলোতে পেট্রোডলার দিয়ে 'ইসলামী বিপ্লব' এর নামে জঙ্গীবাদ এর ইন্ধন দিয়ে ইসলামের খেদমত করেন। যার ফলশ্রুতিতে আজকের 'আহলে হাদিস' এর নেতা ডঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব(*যিনি বিলুপ্ত জামাআতুল মুজাহিদীন বা 'জেএমবি'রও একজন প্রধান প্রতিষ্ঠাতা) ও বাংলা ভাইয়ের মত লোকেরা ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জঙ্গীবাদের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। জেএমবি নিষিদ্ধ হয়, হিজবুত তাহরিরও বর্তমানে নিষিদ্ধ। আহলে হাদিসও গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। 

  43. 33
    Imran

     
    তাবলীগী নেসাব ফাযায়েলে আমাল বইয়ের এই কথাগুলোকে অনেকে শিরক বলেন।
     
     
    ১)“ক্ষুধার্থ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে খাদ্যের আবেদন করে ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই অবস্থায় তার নিকট রুটি আসল, ঘুমন্ত অবস্থায় ঐ ব্যক্তি অর্ধেক রুটি খাওয়ার পর জাগ্রত হয়ে বাকী অর্ধেক রুটি খেলেন।” ফাযায়েলে হ্‌জ্জ, পৃ:১৫৫-১৫৬।
     
     
    ২) জনৈক মহিলা ত জন খাদেম কর্তৃক মার খাওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করলে, আওয়াজ আসল ধৈর্য ধর, ফল পাবে। এর পরেই অত্যাচারী খাদেমগণ মারা গেল। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৫৯।
     
     
    ৩) অর্থাভাবে বিপন্ন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে হাজির হয়ে সাহায্যের প্রার্থনা করায় তা কবুল হল। লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, তার হাতে অনেকগুলো দিরহাম। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬২-৬৩।
     
     
    ৪) মদীনার মসজিদে আযান দেয়া অবস্থায় এক খাদেম মুয়াজ্জেমকে প্রহার করায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করল। প্রার্থনার তিনদিন পরই ঐ খাদেম মরা গেল। ফাযায়েলে হ্‌জ্জ, পৃ:১৬২-৬৩।
     
     
    ৫) জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ায় ঐ ব্যক্তির আত্মীয় (করডোভার এক মন্ত্রী) রোগ্যের আবেদন করে হুজুরের (সাল্লাল্লাহর আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবরে পাঠ কার জন্য অসুস্থ ব্যক্তিকে পত্রসহ মদীনায় প্রেরণ করে। কবরের পার্শ্বে পত্র পাঠ করার পরেই রোগীর আরোগ্য লাভ হয়ে যায়। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ: ১৬৭।
     
     
    ৬) কোন ব্যক্তি হুজুরের রওজায় আরজ করায় রওজা হতে হুজুরের হস্ত মোবারক বের হয়ে আসলে উহা চুম্বন করে সে ধন্য হল। নব্বই হাজার লোক উহা দেখতে পেল। আবদুল কাদের জিলানীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ:১৫৯।
     
     

    1. 33.1
      আহমেদ শরীফ

       
      بسم الله الرحمن الرحيم

      উল্লেখিত ঘটনা এবং এছাড়া নবীজী সাঃ এর দরবারে আবেদন করা বিভিন্ন ঘটনা কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠির অস্বিকার করা এবং শিরক বলার মূল কারণ হল একটি আক্বিদার ক্ষেত্রে তাদের ভ্রান্ত ধারণা। সেই ভ্রান্ত আক্বিদা হল-নবীজী সাঃ রওজায়ে আতহারে মৃত। জীবিত নয়। কিন্তু আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল নবীজী সাঃ কবরে জীবিত। তবে দুনিয়াবী জীবনের মত নয়। তথা পানাহার করা, চলাফেরা করা ইত্যাদি করার ক্ষমতা নেই। বরং জীবিত থাকার অনেক বৈশিষ্ট তাদের মাঝে রয়েছে, যেমন-সালাম দিলে তা শ্রবণ করেন। রওজার সামনে দুরুদ পড়লে তা শুনতে পান। আর দূর থেকে দুরুদ পড়লে ফেরেস্তাদের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছলে তা তিনি জানতে পারেন। কবরে তিনি ইবাদতে নিমগ্ন আছেন। এ জীবনটা হল কবরের জগতে বিশেষ জীবন। দুনিয়াবী জীবন থেকে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন একথা মানা আবশ্যক। কিন্তু কবরের জীবনে তিনি বিশেষ জীবিত। যেমন শহীদরা বিশেষ অবস্থায় জীবিত। যে জীবন দুনিয়াবী জীবনের মত নয়।

      এ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা। আর ওদের আক্বিদা হল-নবীগণ কবরে একদম মৃত। জীবিত মানুষের কোন বৈশিষ্টই তাদের মাঝে নেই।

      এ আক্বিদার ভ্রান্ততার কারণে ওরা নবীজী সাঃ এর কবরের সামনে কথা বলা বা কিছু আবেদন করাকে শিরক বলে থাকে। যা উপরে উল্লেখিত সকল ঘটনায় স্পষ্ট।

      সুতরাং আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি যে, রাসূল সাঃ কবরে বিশেষ অবস্থায় জীবিত আছেন, তাই উল্লেখিত ব্যক্তিদের নবীজী সাঃ এর রওজায় গিয়ে এমন কোন কিছু চাওয়া, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায়, তা চাওয়াতে শিরক হয়নি। তবে এমন কোন বিষয় যদি চাওয়া হতো, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায় না, সেসব বস্তু চাইলে তা শিরকী কথা হতো। অথচ এরকম কোন বস্তু উক্ত ঘটনাবলীতে চাওয়া হয়নি, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া জায়েজ নয়। যেমন-সন্তান চাওয়া ইত্যাদি।

      উল্লেখিত ঘটনার দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে।

      নবীজী সাঃ এর কবরের জগতে বিশেষ হালাতে জীবিত থাকার এসব সুষ্পষ্ট প্রমাণবাহী ঘটনাকে কথিত আহলে হাদীস গোষ্ঠি নিতান্তই গোঁড়ামি করে অস্বিকার করছে। আর শিরকের অপবাদ আরোপ করছে এসব আল্লাহওয়ালা বুযুর্গদের উপর।

      বিঃদ্রঃ নবীজী সাঃ এর কবরে এভাবে চাওয়াটা ঠিক নয়। কেননা এতে বাহ্যিকভাবে মানুষের মাঝে এ সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে যে, নবীজী সাঃ ও আল্লাহর মত সব কিছু করতে পারেন। তাই এভাবে চাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে কেউ যদি নবীর প্রেমে পাগল হয়ে এমনটি করে তাহলে তা ভিন্ন ব্যাপার। কারণ পাগলের উপর কোন বিধান নেই। যেমনটি ঘটেছে উক্ত বর্ণিত ঘটনাবলীতে।
       
      * নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার প্রমাণ
      ১-
      وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ (سورة البقرة-154)

      আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।
      {সূরা বাকারা-১৫৪}

      উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। আর ইংগিতের সাথে একথাও বুঝাচ্ছে যে, নবীগণও কবরে জীবিত। কেননা নবীগণের মর্যাদা শহীদদের তুলনায় অনেক উর্দ্ধে। সুতরাং শহীদগণ যদি কবরে জীবিত থাকেন, তাহলে নবীগণ কেন হবেন মৃত? তারা অবশ্যই জীবিত।
      ২-
      عَن أَنَس ؛ أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون (مسند البزار-مسند أبي حمزة أنس بن مالك رضي الله عنه، رقم الحديث-6888)

      হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন।

      {মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২}
      ৩-
      عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)

      হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।

      {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}

      এ হাদীস সুষ্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নবীগণ কবরে জীবিত।

      1. 33.1.1
        Imran

        সুতরাং আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি যে, রাসূল সাঃ কবরে বিশেষ অবস্থায় জীবিত আছেন, তাই উল্লেখিত ব্যক্তিদের নবীজী সাঃ এর রওজায় গিয়ে এমন কোন কিছু চাওয়া, যা জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া যায়, তা চাওয়াতে শিরক হয়নি।
         
        উল্লেখিত ঘটনার দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে।
         
        আপনাদের বিশ্বাস বুঝতে পেরেছি ।
         

        1. 33.1.1.1
          Imran

          ””উল্লেখিত ঘটনার দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়।””
          তাই জদি হত তাহলে আবু বক্কর, উমর, উসমান, আলী (রা)রা কেন নবীর কবরের সামনে গিয়ে চাইলেন না?
          মুমিনদের মাতা আয়েশা (রাআ) কেন তার কবরের কাছে  গিয়ে চাইলেন না?
          কেন খোলাফয়ে রাশেদিনের জন্য হাত বের হলনা?
          কেন বিচার চাওয়া হল না?
          কেন রুটি আসলনা?
          কেন চিকিৎসা চাওয়া হল না?
          কেন সাহাবাদে (রা) জন্য কোন গায়েবি আওয়াজ আসলনা?
          উত্তর একটাই তাহল আপনাদের বুজুর্গের চেয়ে তারা আল্লাহ ও তার রাসুলের কাছে প্রিয় ছিল না (নাউজুবিল্লাহ)?
           
          আপনার জুক্তি
          ””তবে কেউ যদি নবীর প্রেমে পাগল হয়ে এমনটি করে তাহলে তা ভিন্ন ব্যাপার। কারণ পাগলের উপর কোন বিধান নেই। যেমনটি ঘটেছে উক্ত বর্ণিত ঘটনাবলীতে।””
           
          তার মানে আপনারা পাগলদের অনুসরন করেন?
          কিন্তু আমরা পাগলদের অনুসারী না। আমরা রাসুল (সা) ও তার সাহাবা দের অনুসরন করি।
          আপনারা নবীর সাথে প্রেম করেন আমরা নবীকে (সা) ভালবাসী।
           
          এই উত্তরটা পড়ুন।
          Praise be to Allaah.  
           
          The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) is alive in his grave in the sense of the life of al-barzakh, so he enjoys the blessings that Allaah has prepared for him as a reward for his great good actions that he did in this world. But the life in the grave is not like the life of this world, or the life in the Hereafter. Rather it is the life of al-barzakh which comes in between his life in this world and his life in the Hereafter. Hence we know that he died as other Prophets and other people before him died. Allaah says (interpretation of the meaning): 
          “And We granted not to any human being immortality before you (O Muhammad); then if you die, would they live forever?”
          [al-Anbiya’ 21:34] 
          “Whatsoever is on it (the earth) will perish.
          And the Face of your Lord full of Majesty and Honour will remain forever”
          [al-Rahmaan 55:26,27] 
          “Verily, you (O Muhammad) will die, and verily, they (too) will die”
          [al-Zumar 39:30] 
          And there are other verses which also indicate that Allaah caused him to die. Moreover, the Sahaabah (may Allaah be pleased with them) washed him, shrouded him, offered the funeral prayer for him and buried him; if he had been alive in the worldly sense, they would not have done the same as is done for others who die. 
          Faatimah (may Allaah be pleased with her) asked Abu Bakr (may Allaah be pleased with him) for her inheritance from her father (peace and blessings of Allaah be upon him) because she was convinced that he had died, and no one among the Sahaabah (may Allaah be pleased with them) differed with her concerning that. Rather Abu Bakr (may Allaah be pleased with him) responded to her request by saying that nothing could be inherited from the Prophets.  
          The Sahaabah agreed unanimously to choose a khaleefah for the Muslims to succeed the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him),  and that was done with the appointment of Abu Bakr (may Allaah be pleased with him) as khaleefah. If the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) had been alive in a worldly sense, they would not have done that. So this indicates that there was consensus among them that he had indeed died. 
          When the tribulations (fitan) and problems increased during the time of ‘Uthmaan and ‘Ali (may Allaah be pleased with them both), and before and after that, they did not go to his grave to consult him or ask him for a way out of those tribulations and problems, or the way to solve them. If he had been alive in a worldly sense, they would not have overlooked that when they were in such great need of someone to save them from the trials that surrounded them.  
          With regard to the soul of the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him), it is in the highest part of ‘Illiyyeen, because he is the best of creation, and because Allaah has given him al-waseelah which is the highest position in Paradise. 
          The life of al-barzakh is a special life. The Prophets and the shuhada’ (martyrs) are alive in al-barzakh as the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “The Prophets are alive and they pray in their graves.” (Narrated by al-Mundhiri and al-Bayhaqi who classed it as saheeh because of corroborating reports in al-Saheehayn.) 
          Allaah says (interpretation of the meaning): 
          “And say not of those who are killed in the way of Allaah, ‘They are dead.’ Nay, they are living, but you perceive (it) not”
          [al-Baqarah 2:154] 
          This is a special life, the nature of which is known to Allaah. It is not like the life of this world in which the soul remains with the body.  
          The basic principle concerning the dead is that they do not hear the words of the living sons of Adam, because Allaah says (interpretation of the meaning): 
          “but you cannot make hear those who are in graves”
          [Faatir 35:22] 
          Allaah confirmed that those whom he (the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him)) was calling to Islam could not hear, by likening them to the dead. There is nothing in the Qur’aan or in the saheeh Sunnah to indicate that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) can hear every du’aa’ or call from human beings. Rather it is proven that the only thing that reaches him (peace and blessings of Allaah be upon him) is the blessings and salaams of those who send blessings and salaams upon him. This was narrated by Abu Dawood, 2041, with a hasan isnaad from Abu Hurayrah (may Allaah be pleased with him) who said that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “There is no one who sends salaams upon me but Allaah will restore to me my soul so that I may return his salaams.” This does not mean that he hears the words of the one who sends salaams. Rather it is possible that he comes to know of those salaams when the angels convey that to him. If we assume that he hears the words of the one who sends salaams, this is an exception from the general rule, as in the case of the dead hearing the footsteps of those who carry his bier, and as in the case of the slain kuffaar in the well at Badr who heard the call of the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) when he said to them: “Have you found your Lord’s promise to be true? For we have found our Lord’s promise to be true.” (See Fataawa al-Lajnah al-Daa’imah, 1/313, 318, 321). 
          With regard to calling upon the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) and asking him directly, this is the essence of shirk which the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) was sent to forbid and to fight against its people.  We ask Allaah to bring the Muslims back to the right path. And Allaah knows best. May Allaah send blessings and peace upon his Prophet Muhammad and his family and companions.
           

        2. আহমেদ শরীফ

          আমি যে বাংলা উত্তরটা দিয়েছি তার সাথে আপনার দেড় মাইল লম্বা কমেন্টে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে তফাত বিশেষ নেই। আর এসব চর্বিতচর্বণ নিয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে আপনার সাথে বিতর্কের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।

          আহলে হাদিস নিয়ে যখন আলাদা পোস্ট দেয়া হবে তখন অভিযোগের জবাব দিতে আসবেন। যদিও মনে হয় না আসবেন কারণ হিম্মত করে অভিযোগের যথাযোগ্য সন্তোষজনক জবাব দিতে আহলে হাদিসের কাউকে ফেসবুকে-ব্লগে আসতে দেখি না।

          অন্যের দোষত্রুটি বের করে কাজের কাজ কিছু হয় না। রাজতন্ত্রের পোষ্য সৌদি মোল্লারা যারা সরকারী মোটা বেতন পেয়ে টিভিতে বসে ফতোয়াবাজি করছেন তাদের সংশ্রব কিছুদিনের জন্য ত্যাগ করে তাবলীগের রাস্তায় ৩ দিন লাগিয়ে দেখুন কেমন লাগে। ভাল লাগলে করবেন না লাগলে করবেন না। কারণ মেহনত মুজাহাদার রাস্তা এটা, আর আল্লাহ শর্তই করেছেন হেদায়েতকে 'যুহদ' এর সাথে। ঘরে বসে টিভিতে লেকচার শুনেই যদি সব হয়ে যেত এত কষ্টের কোন দরকারই ছিল না।
           
          গত বছরের বিশ্ব ইজতেমাতে শেষ দিনেই খোদ সৌদি আরব থেকেই ৫টা পুরো প্লেন চার্টার করে সৌদিরা এসেছিল। মক্কা শরীফে দু'বছর আগে দেখে এসেছি  তাবলীগের ১৮টি হালকা, প্রতি হালকায় ৩/৪টি করে মসজিদ, আরবরা রেগুলার সময় লাগাচ্ছে। দাম্মাম-রিয়াদ-জিদ্দায় চলছে মেহনত তুমুল গতিতে। বাকি আরব রাষ্ট্রগুলোতে তো আগে থেকেই অনেক অগ্রসরমান এই মেহনত। বিশ্ব ইজতেমায় আসুন। হাজার হাজার আরব(অনেকে এসে গেছেন, আসছেন) তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন। পরিবর্তন আসছে সেটাকে গ্রহণ করুন।

          যেসব আরব সালাফি আলেমদের রেফারেন্স দিচ্ছেন _ কা'বা যদি মক্কায় না হত, হুযুর(সাঃ) এর রওজা শরীফ যদি মদিনায় না হত, মুসলমানদের নিয়মিত হজ্বের জন্য আর রওজা জেয়ারতের জন্য সৌদি যেতে না হত, এইসব হজরতদের কেউ চিনতও কি না সন্দেহ। পেট্রোডলারের স্রোতে ভেসে ভেসে এসিতে বসে দাওয়াতের কাজ করা সহজ, উপমহাদেশের ওলামাদের দ্বীনের জন্য শিশুকাল থেকেই অজস্র ত্যাগতিতীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয় যার সম্মন্ধে সৌদি হুজুরদের ধারণাও নেই। এখন যেমন সৌদিসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো জেগে উঠছেন, অচিরেই সালাফিরাও বুঝতে পারবেন যে এই দিকে না এসে আর উপায় নেই। সেই দিন দূরে নয় বেশি।

        3. 33.1.1.2
          মাসুদ

          @Imran vai, 

          আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।

          আপনি লিখেছেন "  দু’ একটিতে রুটি বা খাদ্য চাওয়া হয়েছে, দু’একটিতে বিচার চাওয়া হয়েছে, একটিতে চিকিৎসা করার জন্য অষুধ দিতে চাওয়া হয়েছে। এসবই জীবিত মানুষের কাছে চাওয়া শিরক নয়। সুতরাং রাসূল সাঃ যেহেতু কবরে বিশেষ হালাতে জীবিত, তাই তার কবরে গিয়ে এসব চাওয়াটাও শিরক হয়নি। কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে। যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে। " 

          পয়েন্ট -১ঃ "কিন্তু অন্য মানুষের কবরে তা চাইলে শিরক হবে, যেহেতু নবী ছাড়া অন্যরা মৃত থাকে কবরে"

          আপনি কি এটা বলতে চান যে নবী ছাড়া  আর কেউ শহীদ হয় নি ?  নবী ছাড়া অন্য যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন তাদের কবরে গিয়ে কি চাউয়া যাবে ? 

          পয়েন্ট -২ঃ 
          নবী (সাঃ)  জীবিত থাকতে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে সাধারনত উত্তর দিতেন, কিন্তু কবরে গিয়ে কিছু  জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেন  না,  কেন ? আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না। বরং তারা জীবিত, এই জীবিত বলতে কি তার কবরে গিয়ে কিছু চাউয়া কে হালাল করে হয়েছে ? সাহাবি গন কি নবীর কবরে গিয়ে কিছু চাইতেন ?  

           

  44. 32
    Imran

     
    বিশ্ব বরেণ্য আলিমগণের দৃষ্টিতে তাবলীগ জামা'আত ও তার নিসাব :
     
     
    সম্মানিত মুসলিম ভ্রাতাগণ! আমি আপনাদের খেদমতে সামান্য একটু আলোচনা করব বিশ্বের সকল মুসলিমদের নিকট সমাদৃত আলিম উলামাদের মতামত, বিশেষ করে আরব বিশ্বের আলিমগণের অভিমত। কারন আমি কয়েকেটি বই পড়ে জানতে পারলাম যে, এতদিন ধরে আমরা যে সাওয়াবের আশায় তবলীগী কাজ করছি এবং পিপিলিকার স্রোতের মতো তুরাগনদীর পাড়ে জমায়েত হয়ে ফজিলতের বয়ান শুনে কান ঝালাপালা করে সমস্ত পাপ মুক্ত হয়ে যার যার ঘরে ফিরছি তা সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং বিদ'আতী কার্যকলাপ। দ্বীনের মধ্যে সওয়াবের আশায় নতুন কোন পন্থা আবিষ্কার করাই হল বিদা'আত। আরব বিশ্বের উলামায়ে কিরাম তাবলীগী জামা'আত ও তার নিসাবকে বাতিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারই প্রমান স্বরূপ বর্তমান শাতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কিছু আলিমের মতামত সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
     
     
    আল্লাহ পাক শারী'আতের বিভিন্ন বিষয়ে এ সমস্ত আলিমদের অভিমত গ্রহণ করার জন্য আল কোরআনে বলেন, "তোমরা জ্ঞানবানদের জিজ্ঞেসা কর, যদি তোমরা তা না জান।" (সূরা আম্বিয়া, ৭)
     
     
    ০১। শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল শাইখ (রহঃ)-- সাবেক গ্রান্ড মুফতী, সৌদী আরব তাঁর রাজকীয় তথ্য মন্ত্রনালয়ের প্রধানকে লেখা পত্রে তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে বলেন,
     
    আমি মহোদয়ের নিকট এ প্রতিবেদন পেশ করছি যে, এই জামা'আতের কোনই ফায়দা নেই, এটি একটি বিদ'আতী এবং গোমরা সংগঠন। তাদের নিসাব গ্রন্থ পড়ে দেখলাম, তাতে গোমরাহী এবং বিদ'আত ভরপুর। এতে কবর পূঁজা এবং শিরকের দিকে আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি এমনই যে, এ ব্যাপারে চুপ থাকা যায় না। এজন্য অবশ্যই আল্লাহ চাহেন তো আমি এর প্রতিবাদ লিপি পাঠাব যেন এর বিভ্রান্তি ও বাতিল প্রকাশ হয়ে পড়ে। আল্লাহর নিকট দু'আ করি তিনি যেন, তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন এবং কালিমাকে সুউচ্চে রাখেন- আমীন! তারিখঃ ২৯/০১/১৩৮২ হিঃ (তথ্য সূত্রঃ ফতওয়া ও চিঠিপত্র, শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখ, খন্ড ১ পৃঃ ২৬৭-২৬৮)
     
     
    ০২। শাইখ আবদুল আযীয বিন বায (রহঃ)'র নিকট তাবলীগ জামা'আত এর সঙ্গে চিল্লায় বের হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, "আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর তাবলীগ জামা'আতের নিকট আক্বীদাহর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ধারণা নেই। সুতরাং তাদের সাথে বের হওয়া উচিত নয়। একমাত্র যার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'তের আক্বীদা সম্পর্কে জ্ঞান ও স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে সে বের হতে পারে, এজন্য যে তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিতে এবং প্রয়োজনীয় নাসীহাত করতে পারে এবং তাদেরকে কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করতে পারে। কেননা, তারা তাদের কাজের ব্যাপারে খুবই তৎপর। কিন্তু তারা আরো অধিক জ্ঞানের মুখাপেক্ষী এবং আলিম-উলাময়ে কিরামের প্রতি মুখাপেক্ষী, যারা তাদেরকে তাওহীদ ও সুন্নাহর জ্ঞানে আলোকিত করবে। আল্লাহ তা'আলা সকলতে দ্বীনের জ্ঞান দান করুন এবং এর উপর সাবেত রাখুন। আমীন!
     
     
    ০৩। শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাবলীগ জামা'আত ও এর সাথে সংশ্রব রাখার ব্যাপারে এবং তাদের নির্দিষ্ট তরীকার যিকর ও ছয় উসূল সম্পর্কে। উত্তরে বলেন, "ইবাদাত হল 'তাওকিফী' অর্থাৎ শারীয়াত নির্ধারিত। এজন্য কোন মুসলিমই কোন ইবাদাত করতে পারবে না যা আল্লাহ ও তাঁরা রসূল (সাঃ) নির্দিষ্ট করেননি। কেননা আল্লাহ তা'আলা অস্বীকার করেছেন তাদেরকে যারা আল্লাহ তাঁর রসূল (সাঃ) ব্যতীত অন্য কারো তৈরী করা ইবাদাত করবে।
     
    আল্লাহ পাক বলেন, "তাদের কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য রয়েছে, তাদের জন্য যারা বিধান তৈরী করছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত ফায়সালা না থাকত তবে তাদের মাঝে এখই দফারফা করে দেয়া হত।" (সূরা আশ-শুরা ২১)
     
    ইবাদত হল তাওকিফী' তার ধরণ, পরিমাণ, গুণাবলী, সময় এবং স্থানের দিক দিয়ে। সুতরাং ইবাদত অবশ্যই শারী'আত মোতাবেক হতে হবে। প্রশ্নকারীরা যা উল্লেখ করেছে, এভাবে ক্রমাধারায় বিদ'আতী তরীকায় আল্লাহর যিকর ও তাদের ছয় উসূল দেখতে হবে যে, শারীয়াতের এভাবে সাব্যস্ত রয়েছে কি না? যদি রাসূল (সাঃ) থেকে এভাবে সাব্যস্ত হয়ে থাকে তাহলে মাথা পেতে নিতে হবে। আর যদি সাব্যস্ত না থাকে তাহলে যা রসূল (সাঃ) থেকে সাব্যস্ত রয়েছে তাই যথেষ্ট। আমি জানি না যে, রসূল (সাঃ) থেকে এভাবে যিকর তিলাওয়াত ও উসূল সাব্যস্ত রয়েছে কিনা। এজন্য আমার ভাইদের অনুরোধ করছি যারা এর সাথে জড়িত তারা যেন তা পরিত্যাগ করেন এবং রাসূল (সাঃ) থেকে প্রমাণিত ও সাব্যস্ত সে অনুযায়ী আমল করেন। সেটাই তাদের জন্য উত্তম এবং প্রতিফলও ভাল হবে।
     
     
    ০৪। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ)'র নিকট প্রশ্ন করা হয়ঃ
     
    তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? এদের সাথে কোন তালিমে 'ইলম বা অন্য কেউ আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে বের হতে পারে কি?
     
    উত্তরে তিনি বলেন, তাবলীগ জামা'আত আল্লাহর কুরআন এবং রসূলের হাদীসের তরীকার উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং আমাদের সলফে সালিহীনদের পন্থার উপর নয়। অবস্থা যখন এই, তখন তাদের সাথে বের হওয়া জায়িয হবে না। কেননা এটা আমাদের সালফে সালিহীনদের তাবলীগের পন্থার পরিপন্থী। দা'ওয়াতের কাজে বের হবেন আলিম বা বিদ্বান ব্যক্তি। আর এরা যারা বের হচ্ছে তাদের উপর অবশ্য করণীয় হল নিজের দেশে জ্ঞান শিক্ষা করা, মাসজিদে মাসজিদে জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা করা, যারা দা'ওয়াতের কাজ করবে তারা যেন আলিম তৈরী হয়। এ অবস্থায় তালিবে ইলমদের উচিত যেন এদেরকে তাদের দেশেই কুরআন-হাদীস শিক্ষার জন্য আহ্বান জানায়। মানুষকে আল্লাহর পথে দা'ওয়াত তাবলীগীরা কুরআন ও সুন্নাহকে তাদের মূলনীতি হিসাবে গণ্য করে না। বরং তারা এই দা'ওয়াতকে বিভক্ত করে ফেলেছে। এরা যদিও মুখে বলে যে, তাদের দা'ওয়াত কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক তা নিছক মুখের কথা, এদের কোন একক আক্বীদা বিশ্বাস নেই যা তাদেরকে একত্রিত করতে পারে। এজন্যই দেখা যায়- এরা হল সূফী ও মাতুরিদী, আশায়িরীর আর এরা তো কোন মাযহাবেই নেই। আর এর করণ হল তাদের আক্বীদাহ-বিশ্বাস জটপাকানো। এদের নিকট স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব। এদের জামা'আত প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশত বছর পার হয়ে গেল কিন্তু এত লম্বা সময়ের পরও তাদের মাঝে কোন আলিম তৈরী হলো না। আমরা এজন্যই বলি আগে জ্ঞানার্জন কর, তারপর একত্রিত হও, যেন একত্রিত হওয়া যায় নির্দিষ্ট ভিত্তির উপর, যাতে কোন মতভেদ থাকবে না।
     
    তাবলী জামা'আত বর্তমান সূফী মতবাদের ধারক বাহক জামা'আত। এরা চরিত্র সংশোধনের ডাক দেয় কিন্তু আক্বীদা-বিশ্বাসের সংস্কার ও সংশোধনের ডাক দেয় না। এ ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চূপ। কেননা তাদের ধারণা মতে এর দ্বারা বিভক্তি সৃষ্টি হবে। জনাব সা'দ আল হুসাইন এবং ভারত-পাকিস্তানের তাবলীগের মুরব্বীদের সাথে বেশ কিছু পত্র যোগাযোগ হয়। এর দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা ওয়াসীলা, উদ্ধারকারী (ইস্তিগাসা) এবং এ ধরনের অনেক ধারণাই সমর্থন করে। প্রত্যেক তাবলীগীকে এই চার তরীকার ভিত্তিতে বাই'আত গ্রহণ করতে হবে। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে এদের প্রচেষ্টায় অনেক মানুষই আল্লাহর পথে ফিরে এসেছে। বরং এদের সাথে বের হবার জন্য কিউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার জন্য কি এটা যথেষ্ট নয়? এ ব্যাপারে বলছি যে, এটার আমরা অনেক শুনেছি এবং জানি, সূফীদের কাছে থেকে অনেক ঘটনাই জানি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, যদি শাইখের আক্বীদাহ ফাসিদ হয়, হাদীস জানে না বরং লোকজনের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এতদ্বসত্ত্বেও অনেক ফাসিক লোক তার হাতে তাওবাহ করে। যে দলই ভাল বা কল্যাণের দিকে ডাকবে অবশ্যই তার অনুসারী পাওয়া যাবে। কিন্তু আমরা দৃষ্টি দিবো যে, সে কিসের দিকে আহ্বান করছে? সে কি কুরআন হাদীস এবং সালফে সালিহীনের আক্বীদার দিকে ডাকছে এবং কোন মাযহাবের ব্যাপারে কোন রকম গোঁড়ামী করে না এবং যেখানেই পায় সুন্নাতের অনুসরণ করে। তাবলীগ জামা'আতের কোন ইলমী তরীকা বা পন্থা নেই। তাদের পন্থা হল স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে যেখানে তার জন্ম হয়েছে। এরা সব রঙেই রঙ্গীন হয়। (ইমারতী ফতওয়া, আলবানী, পৃঃ ৩৮)
     
     
    আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার ধোকাবাজী হতে রক্ষা করূন। আমীন!

    1. 32.1
      আবদুস সবুর

      শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল শাইখ (রহঃ) কিসের ভিত্তিতে উল্লেখিত কথাগুলো বলেছেন তার কোন দলীল প্রমান তিনি উপস্থাপন করেন নি।

      এবং বাকীদের কথাগুলোর কোন তথ্যসূত্র আপনি উল্লেখ করেন নি।

      শায়খ আলুবানি সম্পর্কে সৌদি আরবের প্রাক্তন গ্রান্ড মুফতি আল্লামা বিন বায (র) কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন-

      الشيخ محمد ناصر الألباني –ناصر الدين الألباني- من خيرة الناس وهو من العلماء المعروفين بالاستقامة والعقيدة الطيبة والجد في تصحيح الأحاديث, وبيان حالها فهو عمدة في هذا الباب, ولكن ليس بمعصوم, قد يقع منه خطأ في تصحيح بعد الأحاديث أو تضعيفها, ولكن مثل غيره من العلماء, كل عالم هكذا له بعض الأخطاء من الأولين والآخرين, فالواجب على طالب العلم أن ينظر فيما صححه وحسنه وضعفه إذا كان من أهل العلم, من أهل الصناعة يعرف الحديث وينظر في طرقه وينظر في رجاله فإن ظهر له صحة ما قاله الشيخ فالحمد لله, وإلا اعتمد ………….. من الأدلة التي سلكها أهل العلم في هذا الباب؛ لأن أهل العلم وضعوا قواعد في تصحيح الأحاديث وتضعيفها
      “শায়খ নাসিরুদ্দিন আল্বানি প্রসিদ্ব হাক্বানি আলেম ছিলেন কিন্তু তিনি মাসুম নন, কিছু কিছু হাদিস কে ছহীহ এবং যয়ীফ বলার ক্ষেত্রে তার ভূল হয়েছে, যে রকম অণ্যদের হয়। সাধারণত এ রকম ভূল সবারই হয়ে থাকে। সুতরাং আলেমদের উপর ওয়াজিব শায়খ আলবানি যে সমস্ত হাদিস কে ছহীহ অথবা জয়ীফ বলেছেন সে গুলোর ব্যাপারে গবেষনা করা,যাচাই বাচাই করা, যদি শায়খ আলবানির কথা সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, অণ্যথায় ওলামায়ে কেরাম দলীলের আলোকে যেটি বলেছেন সেটি গ্রহণ করবে। কারণ মুহাদ্দিসিন কেরাম হাদিস ছহীহ এবং যয়ীফ বুঝার জন্য কায়েদা প্রনয়ন করেছেন।(সূত্র http://www.al-sunan.org)
      আল্লামা বিন বায শাইয়খ আলবানি রচিত “ছিফাতুস সালাত” নামক কিতাবের ও কিছু ভূল ধরেছেন এবং সে গুলোর সংশোধন করে দিয়েছেন। বিস্তারিত জানতে উপরের ওয়েবসাইটটি দেখুন।

    2. 32.2
      আবদুস সবুর

       
      আসুন আমরা আরো যারা এই শির্ক-বিদাতকে সমর্থন করেছেন তাদের একটি ছোট্ট তালিকা দেখি………. 

      ১. শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায 
      [সৌদী আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী, ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, বিগত শতাব্দীর বরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব] 
      ‘এই জামাতের মধ্যে অনেক উত্তম কাজ রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে রয়েছে প্রচণ্ড উদ্যম-উদ্দীপনা। তাদের ধৈর্য-সবরও অতুলনীয়। তারা তাদের দাওয়াত ও মজলিসগুলোতে নামায, যিকির, ইলম অর্জন এবং এই পথে বের হওয়ার কথা বলে। এর দ্বারা নামাযে অমনোযোগী, শরাবখোর মুসলমানদের অনেক উপকার হয়, তারা সৎপথে ফিরে আসে। ইসলামের সহীহ আকীদা-বিশ্বাসে সমৃদ্ধ আলেমরা এই পথে এগিয়ে এসে তাদেরকে ইলম শিক্ষা ও হেদায়াতের পথে আনতে চেষ্টা করতে পারেন।’ (জামাআতুত তাবলিগ ৪৩১-৪৩৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত বিন বায রহ. সাক্ষাৎকার অবলম্বনে। 

      ২. মুহাদ্দিসে আসর হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. (১৯০৮-১৯৭৭) 
      [বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। তিরমিযি শরীফের অদ্বিতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাআরিফুস সুনান’ -এর লেখক। জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিননূরী টাউন করাচীর প্রতিষ্ঠাতা। করাচী থেকে প্রকাশিত মাসিক বাইয়িনাতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক] 
      ‘আল্লাহর কাছে কোনো বান্দার মাকবুলিয়াতের ধারণা পাওয়া যায় তার কাজের মাধ্যমে। যেমন মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ. এর মাকবুলিয়াত তো তার এই কাজেই সুস্পষ্ট। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি জামাত সবসময় সত্যের ওপর সু-প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’ (তিরমিযি, হাদীস ২১৯২) 
      আমার কাছে একথা নিশ্চিত প্রমাণিত, এই যুগে তাবলিগ জামাতই হাদীসে বর্ণিত সেই জামাত। পৃথিবীর এমন কোন ভূখণ্ড নেই, যেখানে এই মহৎ জামাতের কদম পড়েনি। মস্কো, ফিনল্যান্ড, স্পেন থেকে শুরু করে চীন ও জাপান পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া এই কাফেলার দাওয়াত আম্বিয়ায়ে কেরামের দাওয়াতের পদ্ধতির সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। লোকজন তাদের কাছে আসবে, দীন শিখবে- তাঁরা সেই অপেক্ষা করে না। বরং অলি-গলিতে গিয়ে, হাট-বাজারে পৌঁছে প্রত্যেককে দীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়। মুখের কথায়, আদর্শ চরিত্রের কারিশমা ও নিজেদের আমলের সৌন্দর্য দিয়ে তারা মানুষকে আহবান করে। নিজেদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ইসলামী আদর্শের একটি জীবন্ত নমুনা পেশ করে তারা দাওয়াত দেয়। তাই এর প্রভাবও হয় সুদূরপ্রসারী।’ (১৯৭৮ ইংরেজীর ‘বাইয়িনাত’ পত্রিকার জানুয়ারী-ফেব্র“য়ারির বিশেষ সংখ্যা ৩৭৮-৩৯১) 

      ৩. শায়খ মুহাম্মদ ইবরাহীম তুয়াইজিরি (দা.বা.) 
      [সৌদী আরবের বিশিষ্ট আলেম, রাবেতা আলমে ইসলামী’র কিসমুল জালিয়াত’ -এর প্রধান সমন্বয়ক] 
      আমি ঈমান-ইয়াকিনের এই দাওয়াতের বিভিন্ন ইজতেমা দেখেছি। কাছে থেকে তাদের কার্যক্রম নিরীক্ষা করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইলমের নূর এবং ঈমানের আলো এখান থেকেই অর্জিত হয়। আমি কুরআন এর আগে শত শত বার পড়েছি। তাফসীর অধ্যয়ন করেছি। কিন্তু দাওয়াতের এই ময়দানে আমি কুরআনের এমন অসংখ্য আয়াতের অর্থ বুঝেছি, যা এর পূর্বে অনুধাবন করতে পারিনি। ঈমান-আকীদা এবং আল্লাহর মুহাব্বত-প্রেম উদ্বুদ্ধকরণে এর চাইতে কার্যকরী কোনো দাওয়াত আমি দেখিনি। আল্লাহর কসম, সত্যের প্রতি এই আমার সরল অভিব্যক্তি।’ (লিসানুদ দাওয়াহ ১০-১১) 

      ৪. আল্লামা সাইয়েদ সুলাইমান নাদভী রহ. 
      [ভারত উপমহাদেশে জন্ম নেয়া বিশিষ্ট ইসলামী দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, ‘সিরাতুন্নবী’ ‘সীরাতে সাইয়েদা আয়েশা রা.’ সহ সীরাত ও ইতিহাস বিষয়ক অসংখ্য মৌলিক গ্রন্থ তাঁর অমর সৃষ্টি।] 
      ‘হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস আওর উনকী দীনী দাওয়াতে’ কিতাবে ভুমিকা লিখতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এই কিতাবের সামনের পৃষ্ঠাগুলোতে যে দায়ীয়ে হক ও দাওয়াতে হক্বের বর্ণনা আসছে, আমি স্বচক্ষে তার চেহারার প্রতিটি রূপ দেখেছি। সামনে এবং অগোচরের সব কার্যক্রম দেখেছি, শুনেছি। ইসলামে দাওয়াত ও তাবলিগের প্রথম ধারার উসূলের সাথে এই দাওয়াত সর্বাধিক নিকটবর্তী। 
      হিকমতের সাথে দাওয়াতে ও তাবলিগ আমর বিন মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ইসলামের মেরুদণ্ড। এর ওপরই ইসলামের ভিত্তি ও শক্তি, ইসলামের প্রসার ও সফলতা। আজকের এই যুগে তার প্রয়োজন খুব বেশি। এই সময়ে অমুসলিমকে মুসলমান বানানোর চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, মুসলমানকে মুসলমান বানানো। নামের মুসলিমকে কাজের মুসিলম এবং ‘কাওমী’ মুসলিমকে ‘দীনী’ মুসলিমে রূপান্তর করা। সত্য হলো, বর্তমান যুগের মুসলমানদের অবস্থা দেখে কুরআন পাকের এই আহবান- হে মুসলমানরা! মুসলমান হও।’ -এর আওয়াজ খুব জোরে শোরে বুলন্দ করতে হবে। শহরে-নগরে, পাড়ায়-মহল্লায়, জনে-জনে গিয়ে মুসলমানদেরকে সঠিক অর্থে মুসলমান বানানোর কাজ করতে হবে। আর এ পথে লক্ষ্য অর্জনে জান-মাল ও প্রিয় সম্পদকে কুরবান করে দিতে হবে। প্রত্যেক বাধা অতিক্রম করতে দুর্জেয় শক্তি সাহস অর্জন করতে হবে। জান-মাল দিয়ে, চেষ্টা-সাধনা দিয়ে সম্ভাব্য সকল উপায়ে এই পথে কদম বাড়াতে হবে। নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে সেই ‘জুনুনী কাইফিয়াত’ যা বিনে অতীতে না দুনিয়ার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, না দীনের।’ 
      [ভূমিকা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস আওর উনকী দীনী দাওয়াত : ২৫-২৬] 

      ৫. ড. শায়খ মুহাম্মদ বকর ইসমাইল দা. বা. 
      [মিসরের বিশিষ্ট আলেম, মুহাক্কিক। জামেয়াতুল আযহারের ‘তাফসীর’ ও ‘শরীয়াহ’ ফ্যাকালিটির অধ্যাপক] 
      এই জামাতটি তাবলিগ জামাত নামে প্রসিদ্ধ। বাস্তব অর্থে নামের সাথে তাদের কাজের যথার্থ মিল রয়েছে। এই জামাতটিকে আমি কাছ থেকে দেখেছি। তাদের সাথে জামাতেও বের হয়েছি। তাদের মধ্যে আমি এমন কোন কিছুই খুঁজে পাইনি, যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। বরং আমি তাদের কাছ থেকে এমন অনেক কিছু শিখেছি, পেয়েছি, যা অন্য কোথাও পাইনি।’ (তাহকীকুল মাকাল : পৃ-৩২) 

      ৬. শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ উছাইমিন রহ. 
      [সৌদী আরবের প্রখ্যাত আলেম। ফিকহ ও ফতোয়ায় পারদর্শী ব্যক্তিত্ব] 
      আমার মতে, এই জামাতে অনেক উত্তম আমল রয়েছে। এই দাওয়াতের প্রভাবও খুবই সুদূরপ্রসারী। এর চাইতে দ্রুত ও বেশি প্রভাব সৃষ্টিকারী কোনো জামাত নেই। কত কাফের তাদের দাওয়াত দ্বারা ঈমান এনেছে! কত গুনাহগার এর দ্বারা মুত্তাকী ও মুমিন বান্দায় পরিণত হয়েছে। এতো সকলের সামনে সুস্পষ্ট। আর ছয়টি গুণ যার কথা তাবলিগ জামাতের ভাইয়েরা বলে থাকে। নিঃসন্দেহে তা সুন্দর ও উত্তম গুণাবলী। তবে এই জামাতে ইলমের চর্চা আরো বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। (জামাআতুত তাবলিগ : ৪৩৫-৪৩৭) 

      ৭. মাওলানা মানযুর নুমানী রহ. 
      [ভারতের প্রখ্যাত আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক। উর্দু মাসিক ‘আল-ফুরকান’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ‘ইসলাম কিয়া হ্যায়’ ‘কুরআন আপছে কিয়া ক্যাহতা হ্যায়’ ইত্যাদি তার অমর রচনা, যেগুলো পৃথিবীর প্রায় পনেরোর অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।] 
      হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. এই শতাব্দীতে থেকেও প্রথম যুগের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারের একটি দু®প্রাপ্য মুক্তা। আর তার দাওয়াত হলো ইসলামের সেই প্রথম যুগের একটি হীরক খণ্ড। নির্ভেজাল দীনী মুজাহাদার এটি একটি নতুন যুগের সূচনা। যা ছিল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। যারা হিম্মত করে এই কাজে এগিয়ে আসবে তাদের সৌভাগ্যের কোনো তুলনা নেই। শুধু প্রয়োজন হবে সময় আর আল্লাহর দেয়া ‘তাকতে’র। কিন্তু এই ‘সওদা’ তো এমন, তার কাছে ‘জান’ ও ‘সস্তা’। 
      (ভূমিকা- হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস আওর উনকী দীনী দাওয়াত) 

      ৮. মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানবী রহ. 
      [পাকিস্তানের করাচীর জামেয়াতুল উলূম বিন্নুরী টাউনের সাবেক মুহাদ্দিস। বিশিষ্ট লেখক ও গ্রন্থ প্রণেতা] 
      ‘কোনো আন্দোলনের হক-বাতিল বা সত্য-মিথ্যা নিরূপণের দুটি মৌলিক উপায়। ওই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতার নির্ভরযোগ্যতা আর তাঁর দাওয়াতের ফলাফলের বাস্তবতা। কুরআন মজীদে এই দুটি উপায়ের কথা বলা হয়েছে। তাবলিগ জামাতের এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ইলিয়াস সে যুগের অন্যতম আল্লাহর ওলী। আকাবিরদের নিকট তিনি ছিলেন আস্থাভাজন। তাঁর ইলম, আমল ও দৈনন্দিন জীবন-যাপন ছিল আল্লাহর রাসূল সা. সুন্নাহর ধাঁচে গড়া। আর তাঁর মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সংস্কারের যে কাজ আল্লাহ নিয়েছেন, তা ছিল সকল আকাবিরের নিকট পছন্দনীয়। আর তার সত্যতার ব্যাপারে সকলেই একমত। এগুলো এ কথার সুদৃঢ় আলামত যে, এই আন্দোলন ভালোই ভালো, আল্লাহর কাছেও মাকবুল। 
      (শাখছিয়াত ২/১০৮-১১০) 

      ৯. হযরত মাওলানা জাস্টিস মুহাম্মাদ তকী উসমানী দা. বা. 
      [পাকিস্তানের দারুল উলূম করাচী-র শায়খুল হাদীস, পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের শরীয়া আপিল বেঞ্চের সাবেক বিচারপতি। ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে রয়েছে তার সরব পদচারণা। ইংরেজী, আরবী ও উর্দুতে কুরআন-হাদীসসহ সমসাময়িক বিষয়ের ওপর শতাধিক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচয়িতা।] 
      আজকে পৃথিবীতে এমন কোনো মুসলমান আছে কি যে, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ. সম্পর্কে জানে না। আল্লাহ পাক তাবলিগ ও দীনের দাওয়াতের জযবাকে তার অন্তরে আগুনের মত জ্বালিয়ে দিয়েছেন। যেখানেই বসতেন, শুধু দীনের কথা বলতেন; দীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতেন। (ইসলাহী খুতুবাত : ৮/৫২) 

      ১০. হযরত মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. 
      [মদীনা মুনাওওয়ারা অভিবাসী বিখ্যাত উপমহাদেশীয় আলেমে দীন। বহু গ্রন্থ প্রণেতা। দা‘য়ী ও মুবাল্লিগ] 
      হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ. এর কবরকে আল্লাহ নূর দিয়ে ভরে দিন, যিনি বস্তি নিজামউদ্দীনে তাবলিগী কাজকে জামাতবদ্ধভাবে চালু করেছেন। এর ফলে কুরআন ও হাদীসে তাবলিগের হুকুমটিও পালিত হচ্ছে, অন্যদিকে এর ফলে সকলের দীনের একটি ‘আমলী নকশা’ও এসে গেছে। এই জামাতের মূল কাজই হলো, কিছু মানুষ একত্রে থাকবে, কেউ শিখবে আর কেউ শিখাবে। আর এভাবে সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বদদীনী মুক্ত হবে। (ছেহ্ বাতে : ৩) 

      ১১. শায়খ সালেহ বিন আলী সুয়াইমান 
      [সৌদী সরকারের দাওয়াহ, ইরশাদ ইফতা ও ইসলামী গবেষণা বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সৌদী আলেম] 
      এটি এমন একটি মুবারক জামাত, যারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা হলেও সকলের একই সুরত, একই স্বভাব, একই কথা আর একটিই লক্ষ্য। যেন তারা সকলেই একই বাবার অনেক সন্তান। অথবা আপনি বলতে পারেন, আল্লাহ তাআলা একটি হৃদয় সৃষ্টি করেছেন আর তা তাদের সকলের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। তাদের সকলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটিই, দীনকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা, মুসলমানদের সংশোধন করা আর অমুসলিমদেরকে আল্লাহর রাস্তা বাতলে দেয়া। এমন মানুষগুলোর ব্যাপারে শায়েখ আব্দুল মজীদ যিনদানী কতই না সুন্দর বলেছেন, তাঁরা তো আসমানের মাখলুক, যারা যমীনে বিচরণ করছে। (তাবলিগী জামাআত, পৃ-২৩) 

      এছাড়াও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দুজন মনীষী লেখক তো তাবলিগ জামাতের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। একজন হলেন সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী। তাঁর রচিত বই ‘হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস আওর উনকী দীনী দাওয়াত’। আরেকজন মাওলানা ওয়াহিদউদ্দীন খান। তার বইয়ের নাম ‘তাবলিগী তাহরীক’ উভয়টি উর্দু ভাষায় লেখা। তবে বাংলা অনুবাদও এখন বাজারে। চাইলে তা সংগ্রহ করতে পারেন।

    3. 32.3
      আবদুস সবুর

      অনেকে বলে থাকে সৌদিতে তাবলীগ জামাতের কাজ হয়না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। 

      দেখুন

      rel="nofollow">

  45. 31
    Najibullah

    অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পেলাম না, মিশরের ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠাকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন, যা পরিচালনা করবে মুসলিম বিশ্বের অহংকার শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আল আজহার আশ শরীফ। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা ইউনিভার্সিটি, ওআইসির ফিকাহ একাডেমী সহ দেওবন্দী ছাড়া অপরাপর বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও ওলামায় কেরামগণের দৃষ্টিতে তাবলীগের খেদমত এর মূল্যায়ন সম্পর্কে কতটুকু জানেন ? মিশর সহ আরব বিশ্বে খেলাফত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গন জাগরনে তাবলীগের ভুমিকা কতটুকু ?

    কাকরইল মসজিদের সীমানাতেই রমনা পার্কে চব্বিশ ঘন্টা প্রকাশ্যে জনসমক্ষ্যে বেহায়াপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ কি কিছুটা হলেও তাবলীগের কর্মকান্ডের ব্যার্থতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছেনা ? দিন দিন তাবলীগের মেহনত যে হারে বাড়ছে আর বিশ্ব ইজতেমায় আম পাবলিকের সংখ্যা যে হারে বাড়তেছে তাতে কি এ দেশের ইসলামী মূল্যবোধের বিন্দুমাত্র অগ্রগতী হয়েছে নাকি দিন দিন আরো অবনতি হচ্ছে ? দ্বীনী দাওয়াতে কুরআন বলেছে হেকমত ও সর্বোচ্চ যুক্তিসঙ্গত পন্থা অনুসরণ করতে যেমন রাসূলে পাক (স.) সে যুগের সর্বোচ্চ মিডিয়া ঘোড়া আর মুয়াবিয়া (রা.) তার যুগের সর্বোচ্চ আধুনিক সমরাস্ত্র কামান এর ব্যাবহার করেছিলেন জিহাদে। তাবলিগের মেহনত কি এ আধুনিক যুগে কোরআনে বর্ণিত সবোচ্চ আধুনিক পন্থায় হচ্ছে ? যেভাবে জাকির নায়েক, আহমদ দিদাত সহ আরো অনেকেই আধুনিক পন্থায় খেদমত করে যাচ্ছে। এ আধুনিক যুগে শিক্ষিত শ্রেনীতে যে মর্ডানিষ্ট ও স্মার্টনেস এর দৃষ্টিভঙ্গির যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে সে খেত্রে কুরআনে বর্নিত সবোচ্চ আধুনিক পন্থায় কি তাবলীগ জামাত দ্বীনের দাওয়াত পৌচাচ্ছে ? যদি না পৌছিয়ে থাকে তবে কি তার ব্যার্থতার ফলাফল আমরা শিক্ষিত শ্রেনীতে অবলোকন করছিনা ? দেশ-বিদেশের সেকুলারিষ্ট বুদ্ধিজীবী মহল যারাই মূলত একটি দেশের মূল চাবিকাঠি তারা কতটুকু ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে নাকি গাট্টি-বোস্তার সেকেলে পদ্ধতি দেখে ইসলামকে সেকেলে, নিম্নশ্রেনীর করাপ্টেড ধর্ম বলে আখ্যায়িত করছে, এ ব্যাপরে আপনাদের মাঝে কোন চিন্তা-চেতনা আছে কি ? মনে রাখবেন ইসলাম সকল যুগের সকল শ্রেনীর মানুষের জন্যে প্রেরিত হয়েছে, তাই ইসলাম হলো সর্বাধুনিক ধর্ম এবং এ ধর্মের প্রচারকদেরকেও সর্বাধুনিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে , যা নবী-রাসূল ও সাহাবায় বেরামগণ করে গেছেন। সর্বাধুনিক বলতে সুন্নাহ এর রীতি বিসর্জন দিয়ে নয়, বরং এ সর্বাধুনিক করার জন্যই মূলত শরীয়তে কিয়াসের স্থান দেয়া হয়েছে। সুতরাং আধুনিক যুগ জিজ্ঞাসার প্রশ্নের উত্তর দেবার মত তাবলীগের মুরুব্বীদের মাঝে এ কিয়াস করার যোগ্যতা সম্পন্ন আলেম কতপার্সেন্টিস রয়েছে তা ভেবে দেখতে হবে, যাদের ইজতিহাদ ও বিশ্বের অপরাপর যুগ শ্রেষ্ঠ ইমাম ও আলেমগণের ইজহিহাদাদের মঝে কি কি পার্থক্য রয়েছে তাও নিরপেক্ষ্য দৃষ্টিতে বিচার করতে হবে। তা না হেলে আমরা দেশ ও জাতির মূল পরিচালক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর নিকট ইসলামকে শুধুমাত্র হাসির পাত্রই বানাব আর তার কুফল যে দিন দিন দেশে ধর্ম বিরুধী কর্ম কান্ড সমুদ্রের স্রোতের ন্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে তা অনুধাবন করতে সমর্থ হবো না। 

    1. 31.1
      Imran

      পুরান ভার্সনের তাবলীগ নেছাব বই এর ভূমিকায় মাওলানা ইলিয়াস সাহেব সমন্ধে  লেখা আছে….
       
      ..”সুফীকুল শিরমনি”…….
       
      পরে নতুন ভার্সনে তা পরিবর্তন করে ‍দেয়া হয়েছে।
       
      তাবলিগ জামাত সুফি দর্শনের জামাত। তাদের একটা বই আছে “ফাজায়েলে খাস” এই বই সবাই কে পড়তে দেওয়া হয় না শুধু জারা ৩-৪ চিল্লা দেয় তাদেরকে পড়তে দেয়া হয়।

      1. 31.1.1
        আহমেদ শরীফ

        তাবলিগ জামাত সুফি দর্শনের জামাত। তাদের একটা বই আছে “ফাজায়েলে খাস” এই বই সবাই কে পড়তে দেওয়া হয় না শুধু জারা ৩-৪ চিল্লা দেয় তাদেরকে পড়তে দেয়া হয়।

         
        এই কথার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখান। আপনি এমন সব বানানো রুপকথা নিয়ে আসছেন যে সব বানানোর জন্যেও অতি উচ্চমানের উর্বর মস্তিষ্ক প্রয়োজন।

        আর আপনাকে যেসব প্রশ্ন করেছিলাম সেসবের উত্তর দিতে কিন্তু আপনি এখনো সমর্থ হন নি।

        1. 31.1.1.1
          Imran

          পুরাতন ভার্সনে দেখেন ..”সুফীকুল শিরমনি”…….
          লেখা আছে কি না ?
           
          “ফাজায়েলে খাস” বই টি সম্পর্কে না জানলে আপনাদের মারকাজে মুরুব্বিদের সাথে যোগাযোগ করুন জেনে জাবেন ইনশাআল্লাহ।
           
          ”আর আপনাকে যেসব প্রশ্ন করেছিলাম সেসবের উত্তর দিতে কিন্তু আপনি এখনো সমর্থ হন নি।”
           
          আপনি যে আহলে হাদিসের কথা বলছেন আমি সেই আহলে হাদিসের কোন বিশারদ নই।
          মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে তবে ভুল বুঝতে পারলে তা ছেড় ‍দিতে হবে এটাই সঠিক ব্যাপার।
          ওইরখম ফতোয়া অনেক আছে সব জায়গায়। কোরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে জদি কোন ফতোয়া না মেলে তাহলে তা ছেড়ে দেন আমিও ছেড়েদিব ইনশাআল্লাহ।
          ঠিক সে ভাবেই তাবলিগ জামাতের বই ফাজায়েলে আমলের যে সকল কথা  কোরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে না মেলে তা ফেড়ে দেন এটাই সঠিক কাজ।
          আপনি সঠিক বলেছেন জারা পড়বে তারা বুঝতে পারবে কোনটা সঠিক আর কোনটা ছেড়ে দিতে হবে।
           
          ধন্যবাদ

        2. আহমেদ শরীফ

          আপনি যে আহলে হাদিসের কথা বলছেন আমি সেই আহলে হাদিসের কোন বিশারদ নই।

          কোরআন-হাদিসের মৌলনীতির সাথে প্রচন্ডভাবে সাংঘর্ষিক ব্যাপারগুলো বোঝার জন্য কিন্তু 'বিশারদ' হতে হয় না কমন সেন্সই যথেষ্ট। যে বইগুলোতে লেখা আছে সেগুলো আহলে হাদিসের মনিষীদের লেখা বই যার নাম এবং পৃষ্ঠা নাম্বার পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

          এখন বলুন একজন মুসলমান হিসেবে আপনার 'আহলে হাদিস' এর ব্যাপারে মূল্যায়ন কি ?

        3. আবদুস সবুর

          জনাব ফাযায়েলে আমলের পুরাতন ও নতুন ভার্সন কোন ব্যাপার নাই। আপনার জ্ঞান এই অবস্থা দেখে আসলেই করুনা হচ্ছে।

          ফাযায়েলে আমল মূল উদূ কিতাব এখন পৃথিবীর বুকে মজুদ আছে। তার কোন নতুন বা পুরাতন ভার্সন হয়েছে তা আপনার মুখে নতুন শুনলাম।

          আর যদি বাংলা অনুবাদের কথা বলেন তবে বলি,
          উদূ কিতাবটি বাংলায় অনেকেই অনুবাদ করেছেন। কিন্তু অনুবাদের ক্ষেত্রে অনেকেই কিছু ভুল করেছেন। তাই বাংলা কোন অনুবাদ পড়তে হবে তা তা কাকরাঈল থেকে বলে দেয়া হয়। যদি না জানেন তবে কাকরাঈল গিয়ে জেনে আসুন।

        4. N

          যারা কোরআন ও সহি হাদিস জানে তাদেরকেও জোড় করে দাওয়াত দিতে আসে।

          আমাদের প্রিয় নবী
          (সাঃ) এর উপর নাজিল
          কৃত গ্রন্থ কোনো ঋষির জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয় সবাই শিখতে পারবে।  তারপর ও ৭৩ ভাগের ৭২ ভাগ যারা বাতিল তবে একটাই দল থাকবে যারা সঠিক দ্বীন এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে তারা কোরআন ও সুন্নার মদ্ধে থাকবে কোনো মুরুব্বীয়ানার কথার উপর নয়।

           

           

    2. 31.2
      আবদুস সবুর

       
      Najibullah ভাই

      ভাই আপনার কথার একটি সুন্দর সমীকরন একটি হতে পারে . . .
       
      তাবলীগ জামাত! হ্যাঁ তাবলীগ জামাত!! তাবলীগ জামাত নিয়ে যারা করে তাদের চর্চা দেখে হতাশ হতে হয়। যারা এই নিয়ে মাথা ঘামায় তাদের কষ্টে আমিও কষ্টিত। 

      * যখন মাদ্রাসা বা জামিয়ার ভিতর সিহাহ সিত্তাহ, তাফসীর ইত্যাদী নিয়ে ব্যস্ত থাকে তখন তারা ছাত্র এবং শিক্ষক। 

      * যখন দ্বীন প্রচারের জন্য মাদ্রাসা / জামিয়া থেকে বের হয়, তখন তারা তাবলীগ জামাত। 

      * যখন কলম দিয়ে লেখে তখন লেখক। 

      * যখন ব্লগ লেখে তখন ব্লগার। 

      * যখন হরতালে নামে তখন পিকেটার।

      * যখন তারা জিহাদ করে তখন তারা মুজাহিদ।

      >>>>>>>>>>>>>>>>>

      এখন পিকেটার কেন বুখারী পড়েনা?

      তাবলীগ কেন পিকেটার হয়না?

      লেখক কেন তাবলীগ করেনা? 

      তাবলীগ কেন বুখারী পড়েনা? 

      মুজাহিদ কেন তাবলীগ করে না?

      এরকম অনেক সহজ সমীকরণ যারা সহজে বোঝেনা। তাদের না বোঝার কষ্টে আমিও কষ্টিত।

  46. 30
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @Imran Bhai,
    Walaikumus salam.
    Thanks for your help.

  47. 29
    Imran

    Brother 
    তাজুল ইসলাম Assalamu alikum.
    Please visit this link http://islamqa.info/en/search/sunnah%20prayer/AllWords/t,q,a
    you will get lots of Question than click the Question u will get the answer. In Shah Allah.
     
    and in this link u will get the answer of Is it obligatory to follow a particular madhhab?
    http://islamqa.info/en/ref/21420/madhab
     
    Thank you brother.

    1. 29.1
      আবদুস সবুর

      মাঝহাব নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান তারা এই বই দুটি পড়ে দেখতে পারেন………

      http://www.banglakitab.com/BanglaBooks/SchoolOfThoughts-WhatAndWhy-Part1.pdf
       
      http://www.banglakitab.com/BanglaBooks/SchoolOfThoughts-WhatAndWhy-Part2.pdf

  48. 28
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @Brothers,
    Please give the answer, if you know with reference. This is very important for our daily prayer.
    প্রশ্নটি আর্টিকেলের বহির্ভূত। আমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজের সহিত যে সুন্নত আদায় করি, তা কেন করি? এর কি নির্দেশ দেওয়া আছে করতেই হবে? সুন্নত নামায আদায় না করলে কি আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহি করতে হবে? আলেমরা বলে থাকেন ফযরের ২, যোহরের ৪+২, মাগরিব ২, এশা ২ তারপর বিতর ৩…… সুন্নত না পরলে গুনাহ হবে। কিসের ভিত্তিতে তারা এই কথা গুলো বলেন? ভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন ভিন্ন নীতি। হানাফি মাজহাবে যেই সুন্নত না পালন করলে, গুনাহ হবে বলে দাবী করতেছে, অন্য মাজহাবে তা করছে না বরং ভিন্ন দাবী করছে।
    আসল সত্যটি কিভাবে বুঝা যাবে?
    রেফারেন্স দিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে আমিসহ পাঠকগণ উপকৃত হবে।

    1. 28.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাল হয় আপনি এই বিষয় নিয়ে একটি আলাদা পোস্ট দিলে। তখন ঐ থ্রেডে তা আলোচনা করলে ভাল হবে। ধন্যবাদ।

    2. 28.2
      Imran

      আপনি যে আহলে হাদিসের কথা বলছেন আমি সেই আহলে হাদিসের কোন বিশারদ নই।
      মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে তবে ভুল বুঝতে পারলে তা ছেড় ‍দিতে হবে এটাই সঠিক ব্যাপার।
      ওইরখম ফতোয়া অনেক আছে সব জায়গায়। কোরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে জদি কোন ফতোয়া না মেলে তাহলে তা ছেড়ে দেন আমিও ছেড়েদিব ইনশাআল্লাহ।
      ঠিক সে ভাবেই তাবলিগ জামাতের বই ফাজায়েলে আমলের যে সকল কথা  কোরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে না মেলে তা ফেড়ে দেন এটাই সঠিক কাজ।
      আপনি সঠিক বলেছেন জারা পড়বে তারা বুঝতে পারবে কোনটা সঠিক আর কোনটা ছেড়ে দিতে হবে।
       
      ধন্যবাদ

    3. 28.3
      আহমেদ শরীফ

      بسم الله الرحمن الرحيم
      আহলে হাদীস দলের সংজ্ঞাতেই প্রতারণা
      যে দলের রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে ইংরেজদের কাছ থেকে সে দলের সংজ্ঞার মাঝে ধোঁকাবাজী ও প্রতারণা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ওদের সংজ্ঞার মাঝেই ধোঁকাবাজী আছে এটা বুঝার সহজ পদ্ধতি হল-

      আপনি তাদের জিজ্ঞেস করুন-আহলে হাদীস কাকে বলে?

      ওরা বলবে-কুরআন ও সহীহ হাদীস মানার নাম আহলে হাদীস।

      তাহলে কি দাঁড়াল? যারা কেবল কুরআন ও সহীহ হাদীস মানে তাদের বলা হয় আহলে হাদীস। মানে তারা কোন ব্যক্তির অনুসরণ [যার আরবী হল তাক্বলীদ] করে না।
      এবার তাদের জিজ্ঞেস করুন-কোন হাদীসকে আল্লাহ তায়ালা সহীহ বা দুর্বল বলেছেন কুরআনে? বা নবীজী সাঃ কোন হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলেছেন হাদীসে?

      ওরা বলবে-না বলেন নি।

      আপনি তখন তাদের বলুন-হাদীস সহীহ বা দুর্বল হওয়ার বিষয় যেহেতু আল্লাহ ও বলেননি, নবীজী সাঃ ও বলেননি তাই তারা নিজেরা হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলে আহলে হাদীস হওয়া থেকে বের হয়ে যায়। কারণ তারা না আল্লাহ, না নবী। তাদের কোন অধিকার নেই কোন হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলা। যেহেতু কেবল কুরআন ও সহীহ হাদীস মানার নাম হল আহলে হাদীস। আর কুরআনে কোন হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলা হয়নি। সেই সাথে হাদীসেও নবীজী সাঃ কোন হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলেননি। তাই কোন হাদীসকে সহীহ বা দুর্বল বলার মানেই হল এরা নিজেদের হয়তো আল্লাহ নয়তো নবী দাবি করছে। যদি বলে আল্লাহ বা নবী দাবি করেনা, বরং সহীহ বা দুর্বল বলে থাকে হাদীস বিশারদ মুহাদ্দিসদের বক্তব্যের আলোকে। তাহলেও তারা আর আহলে হাদীস থাকে না।

      কারণ মুহাদ্দিসীনদের কথা মানা, মানেই হল অনুসরণ করা যাকে আরবীতে বলা হয় তাক্বলীদ। আর তাক্বলীদ হল ওদের ভাষায় শিরক। মুহাদ্দিসীনদের কথা মানা মানেই অনুসরণ তথা তাকলীদ। আর তাক্বলীদ করার মাধ্যমে তারা নিজেদের বক্তব্য অনুযায়ী শিরকী কাজ করে। অথবা সেই মুহাদ্দিসকে আল্লাহ বা নবী [নাউজুবিল্লাহ] দাবি করে। দাবি যদি না করে তাহলে তারা কিছুতেই স্বীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী আহলে হাদীস থাকতে পারে না। হয়তো নিজেকে আল্লাহ বা নবী দাবিদার হয় [নাউজুবিল্লাহ], নতুবা মুহাদ্দিসীনদের তাক্বলীদ করে হয় ওদের ভাষায় শিরককারী, কিংবা মুহাদ্দিসীনদেরই আল্লাহ বা নবী দাবিদার হবে [নাউজুবিল্লাহ]।
       
      সুতরাং ওরা মুখে কুরআন ও সহীহ হাদীস মানার কথা বললেও তারা নিজেদের এ দাবিতে হাদীসের প্রকারভেদ ও সংজ্ঞাতেই ঠিক থাকতে পারে না। অথচ সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের অনুসরণ করা ছাড়া শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর আমল করার প্রচারণা করে একটি মিথ্যা ও প্রতারণামূলক মতবাদের দিকেই আহবান করে।

  49. 27
    Imran

    ► তাবলীগদের কোরআন ও হাদিস বিরোধী মনগড়া গল্প
    ফাজায়েল সাদাকাত, ২য় খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
    “আবু আলি রোদবারি (রঃ) বলেন, ঈদের দিন একজন ফকির আসিয়া আমাকে বলিল যে এখানে কি কোন পরিস্কার জায়গা যেখানে একজন ফকির মরিতে পারে? আমি ইহা বাজে কথা মনে করিয়া বলিলাম, ভিতরে এসে যেখানে এসে মর। সে ভিতরে আসিয়া ওযু করিয়া দুই রাকাত নামাজ পড়িল ও মারা গেল। আমি তাহার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করার পরে দেখিবার জন্য কাফন হটাইয়া দেখিতেই সে চোখ খুলিয়া ফেলিল। আমি তাকে বলিলাম, মৃত্যুর পরেও জীবন? সে বলিল আমি জীবিত ও আল্লাহর প্রত্যেক আশেকই জীবিত থাকেন। আমি তোমায় কাল কিয়ামতে স্বীয় প্রতিপত্তিতে সাহায্য করিব”।

    এখানে লক্ষণীয়-

    ১. ফকির আগে থেকেই তার মৃত্যুর খবর জেনে সে তার মৃত্যুর জায়গা নিজে নিজেই ঠিক করল।
    ২. সে মারা যাওয়ার পরেও একজন জীবিত মানুষ তাকে তাকে কিছু জিজ্ঞাস করল ও সে শুনল।
    ৩. কথা শুনার পর সে তার উত্তরও দিল।

    এখন দেখা যাক কুরআন কি বলে।

    ১. আল্লাহ বলেন,
    “… কেউ জানেনা আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানেনা কোন স্থানে সে মৃত্যুবরন করবে।” (সূরা লুকমানঃ ৩৪)
    এই আয়াতের ব্যখায় নবী (সঃ) বলেন, “এগুলো গায়িবের কথা এবং এগুলো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা।” (সহিহ বুখারি)

    কুরআন আমাদের শিক্ষা দেয়, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা সে কোথায় মারা যাবে। আর তাবলীগরা শিক্ষা দেয় ফকির বুজুর্গরা জানতে পারে তারা কোথায় মারা যাবে !!!

    ২. আল্লাহ বলেন,
    “মৃতকে তো তুমি (নবী) কথা শুনাতে পারবে না”। (সূরা নামলঃ ৮৪)

    তাহলে কিভাবে ঐ ব্যক্তি মৃত ফকিরকে প্রশ্ন করল এবং সে শুনল?

    ৩. আল্লাহ বলেছেন, “জীবিত ও মৃত কখনো সমান না”। (সুরা আল ফাতিরঃ ২২)
    অর্থাৎ, কিন্তু গল্পে জীবিত ও মৃত- উভয়েই কথা বলছে অর্থাৎ উভয়েই সমান।

    হাদিসে আছে (প্রথম অংশ দেওয়া হল), “একদিন রাসুল (সঃ) ও একজন ইহুদী বসে ছিলেন। এমন সময় একটি জানাজা অতিক্রম করতে থাকলে সে জিজ্ঞাসা করে, “হে মুহম্মদ, এই লাশ কি কথা বলতে পারে?” রাসুল (সঃ) জবাব দেন, “এই বিষয়ে আল্লাহ অধিক অবগত।.।"
    (আবু দাউদঃ ৩৬০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুদিত)

    শুধু একটি ঘটনা না, আরও অসংখ্য (যেমন ফাজায়েল সাদাকাত, ২য় খণ্ডের পৃষ্ঠা ২৭০তে উল্লেখ্য দুটি ঘটনা, ৩২২, ৩৫৪ ইত্যাদি পৃষ্ঠাতে) এমন আজগুবি অনেক কিচ্ছা রয়েছে তাবলীগি ভাইদের একমাত্র পঠিত বইগুলোতে।

    এখন দেখতে পাচ্ছি যে তাবলীগ ও তাদের আমলের বই, এক কথা বলছে, আর কোরআন হাদিস আর এক কথা বলছে। যেহেতু দুটো বিপরীত কথা, তাহলে এখানে যেকেউ একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। যেহেতু, কোরআন ও রাসুল (সঃ) কখনো মিথ্যা বলতে পারেনা, সেহেতু যে গল্পটি বলেছে সে অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আর যে বইয়ে মিথ্যাবাদীদের দ্বারা তৈরি আজগুবি গল্প, কিচ্ছা কাহিনী দিয়ে ভরা সে বই অনুযায়ী আমল করতেই কি রাসুল (সঃ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন? বরং রাসুল বলেছেন,

    “নেতা, উপনেতা বা দাম্ভিক ধোঁকাবাজ লোক ছাড়া আর কেউ কিচ্ছা কাহিনী বর্ণনা করেনা”। (আবু দাউদঃ ৩৬২৪)

    ► একটু জানুন ও ভাবুনঃ

    ১. ইহুদী নাসারারা মুসলমানদের একটা জিনিসই ভয় পায়, তা হল জিহাদ। তাবলীগরা এমন ধরনের জিনিস প্রচার করে মুসলমানদের কে মুল ইসলাম ও জিহাদ থেকে সরে নিয়ে এসে শুধু জিকিরনির্ভর সূফীবাদের দিকে নিয়ে যায়। আপনি কি জানেন, ইসরাইলেও তাবলীগরা বাধাহীন ভাবে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করে, যেখানে অন্যান্য মুসলমানদের প্রবেশ নিষেধ !!!

    ২. অন্যান্য সব ভাষায় ফাজায়েল আমল বইয়ের অনুবাদ থাকলেও আরবি ভাষায় এর কোন অনুবাদ নেই। কারন আরবরা দুর্বল, জাল হাদিস ও কিচ্ছা কাহিনীতে বিশ্বাস করেনা। তাই আরব তাবলীগদের বিশ্বস্ত হাদিসগ্রন্থ “রিয়াদুস সালেহিন” পড়ানো হয়।

    ৩. পাকিস্তান তৈরি হওয়ার সময়, ১৯৫০ সালে যখন সব ইসলামী দল “ইসলামী সংবিধান” প্রণয়নের জন্য আন্দোলন করছিল, তখন এই তাবলীগ নামক ইসলামী দল নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করেছিল, এই জন্য যে এগুলো নাকি ফেতনা, ফ্যাসাদ !!! 

    ৪. ইহুদী খ্রিষ্টানদের তৈরি, নিজেকে নবী হিসেবে দাবীকারী ও নতুন ইসলাম প্রচলনকারী গোলাম আহমেদের তৈরি কাদিয়ানীদের যখন অমুসলিম ঘোষণা ও বিতাড়িত করার জন্য রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকল ইসলামী দল মতভেদ ভুলে একসাথে ১৯৭৪ সালে “খতমে নবী” আন্দোলন ও প্রতিবাদ করছিল, তখন একমাত্র এই তাবলীগ জামায়াতই কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আন্দোলনে যেতে অস্বীকার করে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করেছিল। যুক্তি তাদের যে প্রকৃত জিহাদ হল নিজের নফসের বিরুদ্ধে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য যুদ্ধ বা আন্দোলন করা জিহাদ না, এগুলো ফেতনা, ফ্যাসাদ। অথচ আল্লাহ বলেছেন, 
    "তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহ‌র জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়"। (সূরা আনফালঃ ৩৯)

    ৫. সত্য-মিথ্যা যেখানে স্পষ্ট, সেখানে নিরপক্ষ ভুমিকা পালন করা মানেই মিথ্যাকে সমর্থন করা। কাদিয়ানীদের ক্ষেত্রে তাবলীগদের সেখানে নিরপক্ষ ভুমিকা পালন করা মানে এই নয় যে মিথ্যা কাদিয়ানীদেরকেই সমর্থন করা? আপনি কি জানেন কাদিয়ানীরাও যুদ্ধ, আন্দোলনের মাধ্যমে জিহাদ করে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাকে ফেতনা, ফ্যাসাদ হিসেবে প্রচার করে?

    ৫. ভারতে যখন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা হল, তখন হাজার হাজার মুসলমানদের হিন্দুরা হত্যা করেছিল। এর প্রতিবাদ সব ইসলামী দলই করলে, একমাত্র তাবলীগ ছিল চুপ, ফেতনা ফ্যাসাদের ভয়ে। এর পুরষ্কার সরূপ তারা ইন্দ্রা গান্ধীর সময়েও তাদের “তাবলীগি” দাওয়াত চালানোর অনুমতি পায়, যখন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক অন্য সকল ইসলামী দলকে নিষিদ্ধ ও বাধা দেওয়া হয়। 

    ৬. এমন কোন বিধর্মী দেশ নেই, যেখানে তাবলীগরা তাদের দাওয়াতি কাজ করতে পারেনা। আপনি অনেক আরবের তাবলীগ দেখতে পাবেন, কিন্তু সউদি আরবে তাবলীগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করেছে তাদের ত্রুটিযুক্ত একমুখী নির্দিষ্ট ভিন্ন আকিদার কারনে।

    ৭. রাসুল (সঃ) ও তার সাহাবারা যখন ইসলামের দাওয়াতে বের হতেন, তখন তারা ইহুদীদের হাতে অত্যাচারিত, বাধাপ্রাপ্ত হতেন। এর কারন ইসলামেরর মুল আদর্শ, বিশ্বাসের সাথে তাদের আদর্শ এক হতনা বলে। অথচ, আজ পর্যন্ত দেখেছেন আমাদের এই তাবলীগ ভাইরা কোথাও গিয়ে অত্যাচারিত, জেল, জরিমানা হয়েছে? এমনকি যেকোনো বিধর্মী দেশে গেলেও তাদের আরও Welcome জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা বলে, এটা নাকি তাদের উপর আল্লাহর রহমত !!! অত্যাচারিত, বাধাপ্রাপ্ত না হওয়াকেই যদি তারা আল্লাহর রহমত বলে, তাহলে কি রাসুল (সঃ) এর উপর আল্লাহর রহমত ছিলনা? (নাউজুবিল্লাহ)

    ৮. ইসলাম মুসলমানদের দলবদ্ধ হয়ে থাকাকে ফরজ করে দিয়েছে। তারাও দলবদ্ধ। আল্লাহ বলেছেন,
    "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা (মানুষকে) সৎকর্মের প্রতি আহবান জানাবে, ভাল কাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তারাই হলো সফলকাম"। (সূরা আলে ইমরানঃ ১০৪)

    কই তারা কখনো অন্যায় কাজের নিষেধ বা প্রতিবাদ করেছে? কখনোই না। যেকোনো অন্যায় ও অ-ইসলামিক কাজের প্রতিবাদ করা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন,
    “তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেনইনি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্য্যশীল”।(সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৪) 

    এটা স্পষ্ট যে তারা যেহেতু কোরআনের কিছু অংশ মানছে, আবার কিছু অংশ মানছে না।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যখন বিভিন্ন সরকার অ-ইসলামিক আইন ও কাজ করত, তারা কখনো এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক, এসব নিয়েও আলোচনা করতো না… কারন একটাই- ফেতনা, ফ্যাসাদের ভয়। যেই আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম ইসলামের দাওয়াত তারা দেয়, সেই আল্লাহর নাম ও তার প্রতি বিশ্বাস সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হল, আর ফেতনা ফ্যাসাদের ভয়ে তারা চুপ !!!
    বাংলাদেশের বর্ডারে হিন্দু বি.এস.এফ প্রতিনিয়ত গুলি করে বাংলাদেশিদের পাখির মত মারছে। তারা সরকারকে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে না বলে, চুপ। ইসলাম কি অন্যায় দেখে চুপ থাকতে বলেছে? অবশ্যই না। যদি না বলে থাকে, থাকে তাহলে তাবলীগরা কোন ইসলাম প্রচার করছে?

    ৯. ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বললে, তারা বলে তাদের এখনো পর্যাপ্ত জনবল হয়নি। তাই দাওয়াতি কাজ দিয়ে আগে বেশি সংখ্যক মানুষকে ইসলামের দিকে নিয়ে আসতে হবে। অথচ তারা গর্বকরে বলে, পবিত্র হজ্জের পরেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসলিম একত্রিত হয় তাদের বিশ্ব এজতেমায়। সত্যি, টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমায় তাদের যে সংখ্যক লোক সমাবেত হয়, তারা সবাই যদি একযোগে ইসলামী রাষ্ট্রের দাবীতে বা যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে ঢাকার দিকে মার্চ শুরু করে, কোন সরকারের ক্ষমতা নাই এত সংখ্যক মানুষকে আটকানোর। 

    ► এবার চিন্তা করে দেখুন, তাবলীগরা কি প্রকৃত ইসলাম মানছে? বরং প্রকৃত ইসলামকে তারা ধীরে ধীরে ধংস করছে । অনেকে বলতে পারেন, তারা একটু হলেও তো ভাল কাজ করছে, মানুষকে নামাজের দিকে ডাকছে। তাদের জন্য উত্তর হল- ওযু করা তো পবিত্র কাজ। কিন্তু আপনি যদি পানি না দিয়ে মুত্র দিয়ে ওযু করেন, তাহলে কি সেই ওযু হবে? মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকতে হবে, কিন্তু সেটা করতে হবে রাসুল (সঃ) যে পদ্ধতিতে করে গেছেন সেভাবে; কিন্তু তাবলীগের মত “চিল্লা” নামক বেদায়াত পদ্ধতিতে না।

    আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “ হে মুমিনগন, তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)
    পূর্ণরূপে মানে এই না যে শুধু সুন্নাতি পোশাক ও লেবাস পরে দোআ, জিকির, নামাজ নিয়ে পরে থাকা। পরিপূর্ণরূপে মানে এটা যে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোরআন সব বিধান ও রাসুলের সুন্নাহ মান্য করে একমাত্র কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করা।

    1. 27.1
      আহমেদ শরীফ

      @ Imran,

      আপনি কয়েকটা কমেন্টে কিছু প্রশ্ন করেছেন তার কিছু জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যাথাসাধ্য বাকিগুলোও চেষ্টা করা হবে। কিন্তু আমি আপনাকে একটি মাত্র কমেন্টে দলিলসহ কিছু গুরুতর বিভ্রান্তিকর তথ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়ার পরও আপনি সেগুলো খন্ডনের দিকে না গিয়ে পাল্টা দোষারোপের দিকে যাওয়ার রহস্যটা বুঝলাম না।
       

      এর মানে কি আমরা ধরে নেব যে অভিযোগগুলো অস্বীকার বা খন্ডনের মতো যথাযথ যুক্তি আপনার কাছে নেই কেন না অভিযোগগুলো সত্য ?
       
      উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যওয়ার চেষ্টা করলে পাঠকদের কাছে অভিযোগগুলো সত্য বলেই বিবেচিত হবে যা অত্যন্ত গুরুতরভাবে ইসলামের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

    2. 27.2
      আবদুস সবুর

      ধন্যবাদ আপনার কথাগুলোর জন্য। পরবর্তী পর্বে আপনার কথাগুলো জবাব দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ

      1. 27.2.1
        Imran

         
        ভাই, আবদুস সবুর
        জি আপনি উত্তর খুজে বেরকরুন বলা জায়না আল্লাহ আপনাকে নতুন আলো দেখাতে পারেন। আর আমিও তাই দোয়া করি আল্লাহ আপনার চিন্তা িশক্তির দার খুলে দেন। আমিন।
         

        1. 27.2.1.1
          আহমেদ শরীফ

           আপনাকে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল সেগুলোর উত্তর কোথায় ?

        2. 27.2.1.2
          আবদুস সবুর

           
          Imran ভাই,
          আপনি বলিনি উত্তর আমার জানা নাই। 

          আমি বলেছি,
          পরবর্তী পর্বে দেয়া হবে।

          শুধু আপনাকে একজনকে না জানিয়ে যারা এই বিষয়গুলো বিভ্রান্তির মধ্যে আছে তাদের জানানোর জন্যই পর্ব আকারে দেয়ার চ্ষ্টো করছি।

          আর যারা “যে যাই বুঝাক আমি বুঝতে রাজি নই” এই ধরনের মনোভাব নিয়ে বসে থাকে আমি তাদের সাথে সময় নষ্ট করি না।

    3. 27.3
      N

      আসসালামু আলাইকুম ইমরান ভাই।

      আপনি খুব ভালো লিখেছেন। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে বাতিল, খারিজ ও বেদয়াতি দের থেকে রক্ষাকরুন। আমিন(হে দয়াময় আল্লাহ্‌ কবুল করুন)।

      আমি দেখেছি তাবলীগে যারা যায় তাদের বেশিরভাগই চো..।

      আর আল্লাহর দয়ায় আমি তাফসির অর্থসহ কোরআন এবং সহি হাদিস ও নবিদের জীবনী পড়েছি।  তাছাড়া, কোরআন ও রাসূল(সাঃ) এর সহি হাদিসের বাহিরে যারা নতুন কিছু সংযোগ করে তাদেরকে ফিতনা কারী বলা হয়। সহি বুখারি -- ফেতনা অধ্যায়।

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

       

  50. 26
    Najibullah

    apnar tabligi dorshoner shathe ami akmot, kintu tablig jei pontai diner khedmot ar anajm disse avabe ki kono dinoi islami hukumat ba khelafat ar netritto dear moto joggo imam poida howa possible ? ajke mishore islami ain bastobaion hosse, ata ki tabliger karone holo naki rajnoitik islamic party ar mehenot ar karone holo ? 2 tar path o pontha ki shompurno vonno noi ? ajke world ke netritto dfei only political netarai so shevabe islami hukumat o jibon babosthake bastobaion o shobar kase tule dhorar jonne ki political neta ba imam ar dorkar nei ? khulafai rashidin  jodi rashtro chalanor moto training na niten tobe ki tara kono donoi khelafat ke tikia rakhte parten ? manusher dare dare gia ar moshjide jevabe iman o amoler training dea hosse tar shathe ki khelafat chalanor moto joggo netritto toirir traing near kono dorkar nei ?. avaber shei joggo neta toiri hoia jabe ? amni amni ? ajke muslim bratherhood jodi tabliger mehenot ai poritripto thakto tahole ki ajke mishore islami hukumat kaim kora shomvab hoto ? apni bolesen jonogoner akti nirdishto shongkha khelafat ke mene near moto jojhba toiri na hole shei khelafat tike thakena, but jonogonke jodi ajibon only namaj kalamer talim dia jan tahole ki tader majhe kono dinoi islami hukumot ar gurutto, shudi orthonitir opokarita, islam birudhi culter ar kufol etc hajaro bishoi ki tader jehene kono dinoi ashbe ? jodi taderke namaj-kalamer shathe shathe ai shob bishoi o shocheton kora na hoi ? namaj-kalamer shathe shathe ki amader sylebase islami khelafat, islamic orthoniti  etc subject ar talim dea foroz noi ? ar sherokom imam o neta toirir jonne ki shei field a mean rajnoitik field a ki mehenot o khedmoter anjuam dea foroz noi ? allah ki bolen ni je, ami kono jatir vaggo totokkhon porjonto poriborton na kori jotokkhon porjonto tara nijera nijederke poriborton ar jonne mehenot kore ? tahoel ki amara ai sector a mehenot sarai only namaj-kalamer dawat diai shofol hoia jete parbo ?

    1. 26.1
      আহমেদ শরীফ

      আজকেই সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা শুনলাম সেটা এখানে শেয়ার করছি। জামাতে ইসলামীর চারজন রোকন সদস্য কাকরাইল মসজিদে গিয়ে হাজির, জামাতে সময় লাগাবেন। সেদিনই পুলিশ/ডিআইবির অফিসাররা সেখানে যথারীতি গিয়ে হাজির। তাঁরা প্রথমে মুরব্বীদের সাথে দেখা করতে চাইলেন। শীর্ষ একজন মুরুব্বীর সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও হল। তিনি নামাজ শেষ করে সময় দিলেন। পুলিশের লোকেরা বললেন, এখন ওদের বিরুদ্ধে তো ওয়ারেন্ট আছে তবে মসজিদ থেকে এভাবে গ্রেফতার করতে চাচ্ছি না। আপনি কি বলেন ? মুরুব্বী তাদের খবর নিতে লোক পাঠালেন। খবর নিয়ে জানা গেল তারা অলরেডি এক চিল্লার জামাতে বন্দী হয়ে গেছে। তখন মুরুব্বী বললেন, ভাই এটা তো হেদায়েতের মারকাজ সবার জন্যই খোলা। কাকরাইল মসজিদে কোন গেটও নেই কোন তালাও নেই ২৪ ঘন্টাই খোলা। যার ইচ্ছে আসতে পারে। এখন ওরা তো আল্লাহর রাস্তায় জামাতবন্দী হয়ে গেছে এরকম অবস্থায় গ্রেফতার করলে তো জুলুম হবে। একথা শুনে পুলিশ অফিসাররা আর কিছু বলতে পারলেন না। মেনে নিলেন এবং গ্রেফতার না করেই চলে গেলেন।

      এই যে ঘটনাটা উল্লেখ করলাম এটি যে যার বুদ্ধিমত নিজে চিন্তা করলে একেকজন একেক রকম বুঝবে। এর মধ্যে আরো বিষয় আছে। যেমন যে কাকরাইল মসজিদ তথা তাবলীগের মেহনতের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ভাবমূর্তি, পরিবেশের প্রভাব, যে মুরুব্বী বললেন তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব, এই মেহনতের অভ্রান্ততা কার্যকারিতা সম্পর্কে বহুল ধারণা বা দৃঢ় বিশ্বাস ইত্যাদি। আল্লাহপাক এসবকেও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করিয়েছেন। ওপরে আরো দু'টো সমজাতীয় ঘটনার উল্লেখ করেছি যার একটি বাংলাদেশে আরেকটি ফ্রান্সে ঘটেছে।

      আগের উত্তরটি আবার পড়ে দেখুন। সারাংশ হচ্ছে আল্লাহর চাকরিতে বহু যোগ্যতা প্রয়োজন, মেহনত করে 'গুণাবলী' অর্জন করতে হয়। আল্লাহর শর্ত অনুযায়ী ঈমানিয়াতের গুণ তো সবার আগে, ইবাদাতেরও গুণ লাগবে, সামাজিক আচরণ বা মু'আশারা, পবিত্র লেনদেন বা মু'আমালা, সর্বোপরি আখলাক বা হুযুর(সাঃ) ওয়ালা উত্তম চরিত্রের নকশায় নিজেকে বানাতে হবে। এরকম নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ হলে বাকি সবার জন্য হেদায়েতের দরজা খুলে যাবে।

      উপযুক্ত শিক্ষাগ্রহণ শেষে চাকরির জন্য আবেদন করলে গৃহীত হবে। অনুপযুক্ত হলে হবে না। উপযুক্ত শিক্ষা যোগ্যতা অর্জন না করে অস্থির হয়ে হৈ চৈ করলে কোন লাভ হবে না। সাহাবা(রাঃ) দের ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘ ত্যগতিতিক্ষা সাধনা চর্চা লেগেছে, আজও কষ্ট-ত্যাগতিতীক্ষা ছাড়া হবে না। তাবলীগের মেহনতের পদ্ধতি হল নিজে কঠোর ত্যাগস্বীকার করুন, অন্যকে উৎসাহ দিন। আপনার ত্যাগস্বীকারের প্রচন্ডতার কারণে আপনার উৎসাহের মধ্যে শক্তি(প্রভাব) পয়দা হবে।

      আমাদের চেয়ে যোগ্যতর জাতি শ্রীলংকানরা। তারা সরাসরি বিধর্মীদের দাওয়াত দেয়ার অনুমতি পেয়ে গেছে যা আমরা এখনো পাইনি। জুমা আর ফজরের জামাতে তাদের একই সংখ্যক মুসল্লি হয় যা আমাদের এখনো হয় না। শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শ্রীলংকান মুসলিম এই রাস্তায় সময় লাগানো। আজ হাজার হাজার শ্রীলংকান মা-বোনেরা বিশ্ব ইজতেমার সফলতার জন্য নিয়মিত রোজা রাখছেন, দোয়া কান্নাকাটি করছেন। 'বিশ্ব ইজতেমার সাফল্য' মানে তাবলীগ জামাত ক্ষমতায় যাওয়া না, জয়জয়কার না, উম্মতের জন্য হেদায়েতের দরজা আল্লাহর তরফ থেকে খুলে যাওয়া। তার জন্য যা দরকার তা হল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরবানি এই উম্মতের পক্ষ থেকে আল্লাহর দরবারে পেশ করতে সমর্থ হওয়া _ যার জন্য এই উম্মত তৈরি হয়ে যায়। 
       

  51. 25
    Najibullah

    Sharif vai,
    Ami akjon hanafi sunni tasawf ponthib muslim. ami tablig jamatke 100% shomorthon kori. but amar akti prosno ase, ta holo, apni ahle hadis ar shathe shathe jamate islamke ak kore kisu coment koresen. jodio jamate islam majhab ke follow kore tobe tasaufke oshikar kore, but amar prosno holo jamate silamer main terget jeta tara dabi kore thake orthat islami hukumat o khelafat protishtha kora, ata ki akti foroz kaj noi ? jodi tara baktigoto jibone islamer onushashon palone antorik noi, even moududi shaheb namaj rojake o bolesen gouni ibadat ar hukumate ilahi protishthake bolesen main ibadat ja islam ke bikritir namantor, tobe amar prosno holo moududi ki bolesen na bolesen, sheta na dekhe bortoman seqularism o nastik rajnoitik  partygulor protipokkhob hishebe islami khelafat kaim ar jonne ki jamate islam ar dosh guloke upekkha kora jaina ? islami khelafat sara ki quraner ain, shud mukto orthoniti, islamic culture ar lalon ki shomvob ? tablig jamat nisshondehe islamer tabliger shorboccho khedmoter anjam disse, but islami hukumat o khelat kaim ar jonne ki amader rajnoitik moidane shokri o hoia foroz noi seqularuism ar biruddhe , jeta jamate islam kortese ?

    1. 25.1
      আহমেদ শরীফ

      @  Brother Najibullah,
       
      আল্লাহর সাথে কারো আত্মীয়তা নেই। কেউ আল্লাহর আত্মীয় না। সবাই বান্দা আর বান্দার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক হল বন্দেগির। বন্দেগি কাকে বলে ? আল্লাহর আহকামাত আল্লাহর রাসূল(সাঃ) এর তরিকায় পুরা করাই বন্দেগি, এটাই দ্বীন। হতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা সমষ্টি পর্যায়ে। ব্যক্তি পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মাঝে দ্বীন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে না আসা পর্যন্ত সমষ্টি পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দরজা খোলে না। ওই কিছু লোক যাদের ব্যক্তি পর্যায়ে দ্বীনের সৌন্দর্য আল্লাহর চাওয়া অনুযায়ী পূর্ন হবে _ সেটাকে জরিয়া বা মাধ্যম করে আল্লাহ বাকিদের জন্য হেদায়েতের দরজা খুলে দেবেন। মক্কা বিজয় নিতান্ত একটি যুদ্ধ বিজয় নয়, কেয়ামত পর্যন্ত সারা মানবজাতির জন্য হেদায়েতের সিংহদরজা খুলে যাওয়ার নাম।

      যেমন সরকারী চাকুরি। সরকারী চাকুরির জন্য আন্দোলন বা মিছিল-মিটিং করার প্রয়োজন নেই কিংবা কেউ যদি রাস্তাঘাটে হৈ চৈ মিছিল করে জোর গলায় নিজেকে সরকারের কর্মচারী দাবি করে তাতেই সে সরকারের লোক হয়ে যায় না। আবার সেটা অসম্ভবও নয়। তবে এর যথাযথ পদ্ধতি আছে। সরকার তাতে কিছু রিকোয়ারমেন্ট চায়। যেমন, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, কোন মামলার আসামি হিসেবে নাম থাকতে পারবে না, ৩য় বিভাগ থাকতে পারবে না ইত্যাদি। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে পরীক্ষা দিয়ে টিকতে পারলে তবে সরকারী কর্মচারী। এখানে শর্ত পূরণ করা নিয়ে কথা, যুদ্ধ সংগ্রাম করার কিছু নেই।

      খেলাফতের সিস্টেমও তাই। কাউকে এত সহজে আল্লাহ খেলাফত দেন না। আবার বলেও দেয়া হয়েছে যে আল্লাহর শর্ত পূরণ যদি করে তবে জমিনের খেলাফত মু'মিনদেরই দেয়া হবে। ঈমান এবং সবর শেখার জিনিস। এটা এমনিতেই হয়ে যায় না। দীর্ঘসময় ধরে মেহনত ত্যাগতিতীক্ষা লাগে। রাসূল(সাঃ) এর যুগে প্রথমেই নামাজ আসে নি প্রথমেই শরাব হারাম হয় নি। ৯-১৩ বছর ঈমান ও সবর শেখার মেহনত হয়েছে। তারপর যখন নামাজ এলো ততদিনে আল্লাহকে সাথে নেয়ার যোগ্যতা সাহাবা(রাঃ) দের এসে গিয়েছিলো।

      যাই হোক, এজন্যেই এক কথায় বলতে গেলে বিশ্বব্যাপী তাবলীগের মেহনত ছাড়া আর কোন মেহনত বিস্তার লাভ করছে না তার কারণও এটাই। আল্লাহর সাথে যে মেহনতের সম্পর্ক নেই যে মেহনত আল্লাহর শর্ত অনুযায়ি আল্লাহর নিয়মে হয় না _ সেই মেহনতকে আগে বাড়ানো যায় না বরং পদে পদে ধাক্কার সম্মুখীন হবে।

      তাবলীগ জামাত কোন দল নয় এটা একটা প্ল্যাটফর্ম মাত্র। চার মাযহাবের লোক, সাদা ও কালো, গরীব ও ধনী, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত, বিশ্বের সমস্ত জাতির লোকেরা একত্রিত হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কখন প্রতিষ্ঠিত হবে সেটা তো আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপার, যখন আল্লাহ প্রয়োজন মনে করবেন হবে। নিজের জীবনে আল্লাহর দ্বীন আসার গ্যারান্টি পাওয়া যাচ্ছে দেখেই মানুষ এই রাস্তায় সময় লাগাচ্ছে। নিজের জীবনে দ্বীন সহজে আসে মানে কালে কালে যথাসময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবেও আসা সম্ভব।

      যেসব মেহনতে নিজের জীবনেই দ্বীন আসে না, ভেতরগত পরিবর্তন আসে না, সেসব মেহনতে সমষ্টিগতভাবে দ্বীন আসবে _ এটা কি দূর কল্পনাতেও আশা করা সম্ভব ?

  52. 24
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @ শরীফ ভাই এবং সবুর ভাই,
    সালাম।
    আমার একটি প্রশ্ন এবং তা খুবই জরুরী আমার জন্য আর এই জন্যই আপনাদের দুজনের কাছে উত্থাপন করলাম। প্রশ্নটি আর্টিকেলের বহির্ভূত। আমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজের সহিত যে সুন্নত আদায় করি, তা কেন করি? এর কি নির্দেশ দেওয়া আছে করতেই হবে? সুন্নত নামায আদায় না করলে কি আল্লাহ্‌র কাছে জবাবদিহি করতে হবে? আলেমরা বলে থাকেন ফযরের ২, যোহরের ৪+২, মাগরিব ২, এশা ২ তারপর বিতর ৩…… সুন্নত না পরলে গুনাহ হবে। কিসের ভিত্তিতে তারা এই কথা গুলো বলেন? ভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন ভিন্ন নীতি। হানাফি মাজহাবে যেই সুন্নত না পালন করলে, গুনাহ হবে বলে দাবী করতেছে, অন্য মাজহাবে তা করছে না বরং ভিন্ন দাবী করছে।
    আসল সত্যটি কিভাবে বুঝা যাবে?
    রেফারেন্স দিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে আমিসহ পাঠকগণ উপকৃত হবে।

    1. 24.1
      আহমেদ শরীফ

      @ তাজুল ইসলাম,

      এই প্রসঙ্গ এখানে না আনলেই ভাল হয়। পোস্টপ্রসঙ্গের ফোকাস অন্যদিকে সরে যাবার সম্ভাবনা। সবচেয়ে ভাল হয় এ বিষয়ে আলাদা পোস্ট দিলে।

      ধন্যবাদ।

      Fatawa: SUNNAH MU'AKKADAH
      Fatawa Ibadah
      Question:

      If someone does not pray Sunnah before or after Fard prayer, due to laziness, will he be considered sinful?
      Saleem Khan, Bradford.

      Answer:

      The Prophet (صلى الله عليه وسلم) has emphasized on some prayers before and after obligatory (Fard) prayers. Aishah (رضى الله عنها) narrates that:

      كَانَ النَّبِيُ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّى قَْبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعَا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ َثِنْتَيْنِ، وَبَعْدَ العِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ، وَقَبْلَ الْفَجْرِ رَكْعَتَيْنِ"

      "The Prophet (صلى الله عليه وسلم) used to pray 4 Rak'at before Zhur and 2 Rak'at after Zhur; 2 Rak'at after Maghrib; 2 Rak'at after 'Ishâ and 2 before Fajr." (Muslim and Abu Dawud)

      She also said that:
      "The Prophet (صلى الله عليه وسلم) has mentioned, regarding these extra 12 Rak'at, that those who pray them regularly, Allâh will make them a home in Paradise."

      Umm Habibah (رضى الله عنها) also mentioned the above Hadîth, as stated in Sahih Muslim that:

      "The Prophet (صلى الله عليه وسلم) said, he who regularly prays 2 Rak'at before Fajr, it is better for him than the world."

      This related to the rewards offered, we shall now refer to the importance of these Rak'at and whether missing them is sinful.

      Indeed, it is not 'Fard' (obligatory) though it is highly recommended. We need to differentiate between a person who misses obligatory prayers from one who misses non-obligatory prayers. I will now analyse the following three points:

      i) if someone occasionally misses these Rak'at, with or without reason,
      ii) he who misses these Rak'at more often, and
      iii) one who does not give any importance to these, and therefore misses them.

      In analysis:

      i) Someone who misses the Sunnah Mu' akkadah occasionally due to laziness, is losing out on a chance of great rewards. But we cannot declare him sinful as we have no authentic proof of this. In the Hadîth, it says that one day a Villager came to the Prophet (صلى الله عليه وسلم) asking how many prayers Allâh has made obligatory for him. The Prophet (صلى الله عليه وسلم) replied, "Five". Then he asked, "Is there any other Fard on me regarding prayers?". The Prophet (صلى الله عليه وسلم) replied, "No, except what you voluntarily do so."

      If Sunnah prayers were also obligatory like Fard prayers, then the Prophet (صلى الله عليه وسلم) would have advised so.

      Another Hadîth narrated by Ibn Abbas (رضى الله عنهما)says that:

      "When the Prophet (صلى الله عليه وسلم) decided to send Mu'âdh (رضى الله عنه) to Yemen, he advised him to inform the people of Yemen that Allâh has made obligatory on them 5 daily prayers. Mu 'adh (رضى الله عنه) was going to Yemen in the last days of the Prophet's life. (Bukhari and Muslim)

      A Hanafi Scholar, Ashraf Ali Thaanvi, also mentioned in his book 'Bihishti Zewar' that "Qadâ' (prayer after lapse of time) is allowed of Fard and Witr, but not for Sunnah prayers. But, some people think that Sunnah is like Fard prayer and he who does not pray them, they declare him sinful. That is why some people concentrate more on quantity than quality of prayer. We can see that some people have a fixed 17 Rak'at for 'Ishâ prayer, which they try and complete no matter what.

      ii) Those who miss their Sunnah prayers more often, indeed they are missing out on great rewards. Especially when the Prophet (صلى الله عليه وسلم) has said: "If someone makes a mistake in his Fard prayer, Sunnah and Nafl prayers will compensate." So, who can claim that his Fard prayers are 100% perfect. If not, then how will he compensate without Sunnah and Nafl prayers. However, according to Islamic Shari'ah, we cannot say it is sinful to miss Sunnah prayers.

      iii) For those who do not give any importance to these prayers, then neglecting Sunnah prayers is wrong and indeed considered sinful. If one does not take their practices seriously, he can even be called a disbeliever (Kufr). So, we should try and avoid this sinful viewpoint.

      In conclusion, there are only 5 Fard prayers and regarding Witr, there are two opinions whether they are compulsory or Sunnah Mu'akkadah. However, we should pray Witr as well as all the Sunnah Mu' akkadah mentioned.

      Country Of Origin : Saudi Arabia
      State : Riyadh

      Author/Scholar : The Late Maulana Mahmood Ahmed Mirpuri

               
      http://infad.usim.edu.my/modules.php?op=modload&name=News&file=article&sid=2455   

  53. 23
    আহমেদ শরীফ

    @  ভাই   Imran,
     
    আমি আহলে হাদিস মতবাদে বিশ্বাসীদের প্রতি, তাদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি কিছু অভিযোগ প্রশ্নের সুরতে উত্থাপন করছি। যদি সম্ভব হয় কোরআন-হাদিসের দলিল দিয়ে প্রমাণ করুন। অন্যথায় আহলে হাদিস যে সম্পূর্ণ বাতিল একটি ফেরকাহ তা স্বীকার করে নিন।
     
    @ প্রিয় পাঠক,
    আমাদের দেশের নামধারী আহলে হাদীসরা নাম কুরআন হাদীসের নিলেও অনুসরণ করে মূলত তাদের নফসের। কুরআন ও হাদীসের নয়। এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। নিম্নের তাদের কয়েকটি মতবাদ উপস্থাপন করা হল, যার পক্ষে কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোন দলিল তাদের কাছে নেই।
     
    আগেই বলেছি আহলে হাদিসের মাস্টারমাইন্ড নাসিরুদ্দিন আলবানি ও জামাতে ইসলামীর মাস্টারমাইন্ড মাওদূদী কোন মাদ্রাসায় পড়েন নি কোন ওস্তাদও তাঁদের ছিল না। তারপরও তারা 'ইসলামী চিন্তাবিদ' বনে গিয়ে উম্মতের মধ্যে প্রচুর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, অনেক দল-উপদলের সৃষ্টির কারণ হয়েছেন। উভয় মতবাদেরই সমর্থকদের কর্মকান্ডের মধ্যে অদ্ভূতভাবে অনেক মিলও রয়েছে সেসব নিয়ে আলাদা আলোচনা হতে পারে।
     
    بسم الله الرحمن الرحيم

    কুরআন হাদীস বিরোধী আহলে হাদীস মতাদর্শের কিছু নমুনা নিচে উপস্থাপন করা হল-

    মতবাদ-১

    গায়রে মুকল্লিদদের নিকট কাফেরদের জবাই করা পশু হালাল। আর তা খাওয়া জায়েজ।

    (গায়রে মুকাল্লিদ আলেম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান সাহেব রচিত দলীলুত তালেব-৪১৩,
    গায়রে মুকাল্লিদ আলেম নূরুল হাসান খান রচিত উরফুর জাদী-২৪৭,)

    নিজেদের আহলে হাদীস দাবী করে কুরআন হাদীসের রেফারেন্স না দিয়ে এখানে তারা আল্লামা শাওকানী রহঃ অন্ধ তাকলীদ করেছেন। এ কুরআন হাদীসের দলিল ছাড়া এ তাকলীদ কি [কথিত আহলে হাদীসদের বক্তব্য অনুসারে] শিরক নয়?

    মতবাদ-২

    একই সময়ে যতজন মহিলাকে ইচ্ছে বিয়ে করা জায়েজ। চার জনই হতে হবে এর কোন সীমা নেই। (গায়রে মুকাল্লিদ আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান রচিত যফরুল লাজী-১৪১, ১৪২, এবং উরফুল জাদী-১১৫)

    এ মতবাদটি সরাসরি কুরআনের আয়াত বিরোধী। এখানে ও কথিত আহলে হাদীসরা কুরআন হাদীস ছেড়ে আল্লামা শাওকানী রহঃ এর অন্ধ তাকলীদের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন।

    মতবাদ-৩

    স্থলভাগের ঐ সকল প্রাণী হালাল, যার শরীরে রক্ত নেই।

    (গায়রে মুকাল্লিদ আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান রচিত বুদূরুল আহিল্লাহ-৩৪৮)

    এ বক্তব্যটির পক্ষে কথিত আহলে হাদীসদের পক্ষে কুরআন হাদীসের কী দলিল আছে? কোত্থেকে নাজিল হল এ মতবাদ?

    মতবাদ-৪

    মৃত প্রাণী পাক, নাপাক নয়।

    (দলীলুত তালেব-২২৪)

    কুরআন বা হাদীসের কোন বর্ণনার উপর ভিত্তিশীল এ বানানো মতবাদ?

    মতবাদ-৫

    নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান সাহেব লিখেন-“শুকর নাপাক হওয়ার উপর আয়াত দিয়ে দলিল দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তা পাক হওয়াকেই বুঝায়।"

    (বুদূরুল আহিল্লাহ-১৫, ১৬)

    তাহলে কথিত আহলে হাদীসদের মতে শুকর পাক? এ মতবাদ কোত্থেকে আমদানী হল?

    মতবাদ-৬

    হায়েজ নেফাসের রক্ত ছাড়া মানুষ ও সকল প্রাণীর রক্ত পাক।

    (দলীলুত তালেব-২৩০, বুদুরুল আহিল্লাহ-১৮, উরফুল জাদী-১০)

    কুরআনের কোন আয়াত বা কোন হাদীসের ভিত্তিশীল এ উদ্ভট মতবাদ?

    মতবাদ-৭

    ব্যবসায়িক সম্পদে কোন জাকাত নেই।

    (বুদুরুল আহিল্লাহ-১০২)

    কুরআনের কোন আয়াত বা কোন হাদীসের ভিত্তিশীল এ মতবাদ?

    মতবাদ-৮

    হাদীসে বর্ণিত ছয়টি বস্তু ছাড়া বাকি সকল বস্তুতে সুদ নেয়া জায়েজ।

    (দলীলুত তালেব, উরফুল জাদী, আল বুনয়ানুল মারসূস, বুদূরুল আহিল্লাহ ইত্যাদি গ্রন্থ।)

    কুরআনের কোন আয়াত বা হাদীস দ্বারা এ মতবাদ প্রমাণিত?

    মতবাদ-৯

    গোসল ছাড়াই নাপাক ব্যক্তি কুরআন কারীম স্পর্শ করা, উঠানো, রাখা, হাত লাগানো জায়েজ।

    (দলীলুত তালেব-২৫২, উরফুল জাদী, আল বুনইয়ানুল মারসূস)

    এ মতবাদের পক্ষে কী দলিল আছে?

    মতবাদ-১০

    স্বর্ণ রোপার অলংকারে যাকাত আবশ্যক নয়।

    (বুদুরুল আহিল্লাহ-১০১)

    কুরআন হাদীসের কোথায় আছে এ মতবাদ?

    মতবাদ-১১

    মদ নাপাক ও অপবিত্র নয়, বরং তা পাক।

    (বুদূরুল আহিল্লাহ-১৫, দলীলুত তালেব-৪০৪, উরফুর জাদী-২৪৫)

    কী দলিল আছে এ মতবাদের?

    মতবাদ-১২

    স্বর্ণ রোপার অলংকারে কোন সূদ নেই। তাই যেভাবে ইচ্ছে কম-বেশি করে তা ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ।

    (দলীলুত তালেব-৫৭৫)

    কি দলিল আছে এ মতবাদের?

    মতবাদ-১৩

    বীর্য পাক।

    (বুদূরুল আহিল্লাহ-১৫)

    কুরআনে কারীমের কোন আয়াত বা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এ মতবাদ?

    মতবাদ-১৪

    সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার আগেই জুমআর নামায পড়া জায়েজ।

    (বুদূরুল আহিল্লাহ-৭১)

    কোন স্থানে রাসূল সাঃ বলেছেন যে, সূর্য হেলার আগেই জুমআর নামায পড়া জায়েজ? এ ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস আছে কি?

    মতবাদ-১৫

    জুমআর নামাযের জন্য জামাত হওয়া জরুরী নয়। যদি দুইজন ব্যক্তিও হয়, তাহলে একজন খুতবা পড়বে, তারপর উভয়ে মিলে জুমআর নামায পড়ে নিবে।

    (বুদূরুল আহিল্লাহ-৭২)

     

    কুরআন হাদীসের কোন দলিলের ভিত্তিতে এসব মতবাদ প্রতিষ্ঠিত জানাবেন কি ?

  54. 22
    আহমেদ শরীফ

    তর্কের খাতিরে মানলাম আপনার কথা, কিন্তু জাল হাদিস যে বণিত আছে সেটাকে কি বলবেন?

     
    কোন কিতাবে দু’ একটি দুর্বল ও বাতিল বর্ণনা আসা মানেই উক্ত কিতাবটি বাতিল ও পরিত্যাজ্য বলে সাব্যস্ত হয় না। যদি তাই হয়, তাহলে সিহাহ সিত্তা সহ কোন হাদীসের কিতাবই আর গ্রহণযোগ্য থাকবে না। কারণ প্রতিটি হাদীসের কিতাবের ব্যাপারেই কম বেশি দুর্বল ও জাল হাদীস আছে মর্মে মন্তব্য করেছেন মুহাদ্দিসীনে কেরাম।

    যদি সবার কাছে এ কথা প্রচার করতে শুরু করা হয় যে, মুসনাদে আহমাদের জাল হাদীস আছে, তাই এ কিতাবটি পড়া যাবে না। এটি একটি পরিত্যাজ্য গ্রন্থ। এটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নাকি হাস্যকর একটি বিষয় হবে এমনটি করা?তেমনি ফাযায়েলে আমালের অভিযোগকৃত কিছু হাদীসকে আমরা জাল হিসেবে মেনে নিলেও ফাযায়েলে আমাল গ্রন্থটি পরিত্যাজ্য গ্রন্থে পরিণত হয় না। তাই এ টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাটা মোটেও উচিত হবে না। তবে এমন হাদীস বর্ণনা করা উচিত হবে না। বরং এছাড়া অন্যান্য হাদীস বর্ণনা করা উচিত। কারণ সুনিশ্চিত জাল হাদীস ইচ্ছেকৃত বর্ণনা করা জায়েজ নয়।

    1. 22.1
      Mijan

      "মুসনাদে আহমাদের জাল হাদীস আছে, তাই এ কিতাবটি পড়া যাবে না। এটি একটি পরিত্যাজ্য গ্রন্থ। এটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নাকি হাস্যকর একটি বিষয় হবে এমনটি করা?তেমনি ফাযায়েলে আমালের অভিযোগকৃত কিছু হাদীসকে আমরা জাল হিসেবে মেনে নিলেও ফাযায়েলে আমাল গ্রন্থটি পরিত্যাজ্য গ্রন্থে পরিণত হয় না।"

      ভাই, তর্কে তর্কে একেবারে হাদিসের কিতাব আর স্বপ্নের কিসসার কিতাবকে একই পাল্লায় তুলে দিলেন!!!

  55. 21
    আবদুস সবুর

     
    আহমেদ শরীফ ভাইকে ধন্যবাদ আলোচনায় অংশগ্রহন করার জন্য . . .

    1. 21.1
      আহমেদ শরীফ

      ধন্যবাদ দেয়ার কিছু নেই আবদুস সবুর ভাই।

      আপনি নেই দেখে আমি জবাব দিচ্ছিলাম আর কি। জবাবগুলোও আপনাদের মতো ওলামা হজরতদেরই লেখা বিভিন্ন প্রবন্ধ থেকে নেয়া। বাস্তব দুনিয়ায় 'আহলে হাদিস' নামধারী সম্প্রদায় ও জামাতে ইসলামীর অবস্থা বিশেষ সুবিধের নয়, বাস্তবের মাটিতে ধর্মীয়-সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে বয়কট হতে হতে বেশ কিছুদিন থেকেই অনলাইনে আস্তানা গেড়েছে কিছু কিছু, তবে সেখানেও ল্যাজেগোবরে হাল হচ্ছে তাদের। এই মতবাদদ্বয় এতই অদ্ভূতভাবে ইসলামী মূলনীতির সাথে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক যে অনেকে চিন্তাই করতে পারবেন না। 

  56. 20
    Imran

    কাবা, আরশ, কুরসী কি আল্লাহর সৃষ্টি নয়? তাহলে রাসূল সাঃ আল্লাহর পর সবচে শ্রেষ্ঠ হলে তার সাথে লাগোয়া জমি কেন সবচে’ শ্রেষ্ঠ হবে না? যদি আল্লাহ তাআলা কোন জমির সাথে লাগোয়া হতেন, তাহলে সে জমি হতো আল্লাহর পর সবচে’ শ্রেষ্ঠ। যেহেতু আল্লাহ তাআলা কোন কিছুতে লাগোয়া হওয়া থেকে পাক, তাই আরশ কুরসী বা অন্য কিছু আল্লাহর পর নবীজী সাঃ থেকে শ্রেষ্ঠ নয়।
     
    ভাই, এই কথাগুল নিশ্চই আপনার নিজের? তা নাহলে এর সপক্ষে কোন কোরআন বা হাদিস থেকে উদৃতি দেন ?
     

  57. 19
    Imran

    আবার তো সেই ভুল করলেন ।  নবী (সা) এর কাবরের মাটি আল্লাহর আরশ, কুরসির চেয়েও পবিত্র?
    ভালো করে পরে দেখেন নবী (সা) এর কবরের মাটি বলা  আছে। মাটিকেও আরশ, কুরসির চেয়ে উত্তম বানায় দিলেন?
    আমিও বলছি “নবী (সা) হচ্ছেন আফজালুল বাশার”
    মুহাদ্দিসীনে কেরামের মূলনীতি হল দুর্বল হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। 
    তর্কের খাতিরে মানলাম আপনার কথা, কিন্তু জাল হাদিস যে বণিত আছে সেটাকে কি বলবেন?
    আর জত মুরুব্বিদের ঘটনা আছে  সেগুলো? সেগুলো আবার কোন হাদিস ? মুরুব্বিদের নিশ্চই?
    আর আপনারা দোয়া করেন জেন আল্লাহ সব দল মুছেদিয়ে আপনাদেরকে ই জয়ি করেন।
     
     

    1. 19.1
      আবদুস সবুর

       
      ফাজায়েলে হজ্জে লিখা আছে, যে জায়গা হুজুর স.-এর শরীরের সাথে মিলিত আছে তা আরশের চেয়ে দামী। এই কথা শুধু জাকারিয়া (র) বলেন নি, এমনকি ইবনুল কাইয়িম (র) তা বলেছেন।

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

  58. 18
    আহমেদ শরীফ

    ইসলামের দলিল কি? কোরআন ও সহি হাদিস? নাকি মুরুব্বিদের ঘটনা?

     
    মুহাদ্দিসীনে কেরামের মূলনীতি হল দুর্বল হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
     
    যেমন-

    সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী রহঃ বলেন-

    قال العلماء من المحدثين والفقهاء وغيرهم يجوز ويستحب العمل فى الفضائل والترغيب والترهيب بالحديث الضعيف ما لم يكن موضوعا (الأذكار-৭-৮<

    মুহাদ্দিসীন ও ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম বলেন-দুর্বল হাদীসের উপর ফাযায়েল ও তারগীব তথা উৎসাহ প্রদান ও তারহীব তথা ভীতি প্রদর্শন এর ক্ষেত্রে আমল করা জায়েজ ও মুস্তাহাব। যখন উক্ত হাদীসটি জাল না হয়। {আল আজকার-৭-৮}

    এ মূলনীতিটি নিম্ন বর্ণিত বিজ্ঞ ব্যক্তিগণও বলেছেন-

    ১- মোল্লা আলী কারী রহঃ-মওজুয়াতে কাবীর-৫, শরহুন নুকায়া-১/৯
    ২- ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী রহঃ-মুস্তাদরাকে হাকেম-১/৪৯০
    ৩- আল্লামা সাখাবী রহঃ- আল কাওলুল বাদী’-১৯৬
    ৪- হাফেজ ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রহঃ- মাজমুআ ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-১/৩৯

    আহলে হাদীস নামধারী গায়রে মুকাল্লিদগণও এ মূলনীতিতে একমত

    ১- শায়খুল কুল মিয়া নজীর হুসাইন সাহেব দেহলবী রহঃ- ফাতওয়া নজীরিয়া-১/২৬৫
    ২- নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান- দলীলুত তালেব আলাল মাতালিব-৮৮৯ {নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান সাহেবকে গায়রে মুকাল্লিদদের আকাবীরদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে ধর্তব্য করা হয়। {আপকি মাসায়েল আওর উনকা হল কুরআন ওয়া সুন্নাত কি রওশনী মে, লেখক-মুবাশশির আহমাদ রাব্বানী-২/১৮১}
    ৩- মাওলানা সানাউল্লাহ ওমরতাসরী রহঃ- আখবারুল হাদীস-১৫ শাওয়াল ১৩৪৬ হিজরী।
    ৪- হাফেজ মুহাম্মদ লাখওয়ী রহঃ- আহওয়ালুল আখরাস-৬
    ৫- মাওলানা আব্দুল্লাহ রূপরী সাহেব রহঃ- ফাতওয়া আহলে হাদীস-২/৪৭৩

    শায়েখ জাকারিয়া রহঃ ও এ মূলনীতির কথা বলেছেন-

    “এ বিষয়ে সতর্ক করাও জরুরী যে, হযরত মুহাদ্দিসীন রাঃ গণের নিকট ফাযায়েলের বর্ণনায় অনেক সুযোগ আছে। আর মামুলী দুর্বলতা গ্রহণযোগ্য। তবে সুফীয়ায়ে কেরামের ঘটনাতো ঐতিহাসিক বিষয়। আর এটা জানা কথা যে, ঐতিহাসিক বিষয় হাদীসের মর্যাদার তুলনায় খুবই কম।
    {ফাযায়েলে আমাল, উর্দু এডিশন-৩৮৪, রেসালায়ে ফাযায়েলে নামায, তৃতীয় অধ্যায়, ফাযায়েলে আমাল পর ইশকালাত আওর উনকা জাওয়াব নম্বর-৬৫, ফাযায়েলে দরূদ-৫৬}

    বিঃদ্রঃ

    হযরত শায়েখ জাকারিয়া রহঃ যদি কোথাও দুর্বল হাদীস বর্ণনাও করেছেন, সেখানে সাথে সাথে আরবীতে লিখে দিয়েছেন যে, এ হাদীসটি দুর্বল।

    শায়েখতো অনেক হেকমত ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন এ ব্যাপারে। কারণ হাদীস সহীহ দুর্বল বলাটা এটা বিজ্ঞ ওলামাদের কাজ। তাই তিনি এসব যারা বুঝেন তাদের জন্য আরবীতেই বিষয়টি পরিস্কার করে দিয়েছেন, উর্দুতে তা আর অনুবাদ করেন নি। কারণ যার কাজ তাকেই সাজে, অন্যরা করতে গেলেই সমস্যা বেঁধে যায়। যেমন বর্তমান জমানায় অনুবাদ পাঠকরাও হাদীসের সহীহ জয়ীফ নিয়ে মন্তব্য করে হাদীসকে হাস্যকর ও জগাখিচুরী পাকিয়ে ফেলছে।

    ফেতনা রুখার জন্যই শায়েখ হাদীসের সহীহ জয়ীফ হওয়ার কথা আরবীতে বলেছেন। উর্দুতে অনুবাদ করেন নি। হযরাতের ভাষ্য অনুযায়ী এটাও বুঝা যায় যে, হযরত ফাযায়েলে আমালে খুব কম হাদীসই দুর্বল এনেছেন।

    যে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসীনরা স্বীয় কিতাবে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস এনেছেন

    ১- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ স্বীয় কিতাব “আস সুন্নাহ” এর মাঝে ৩০৩টি।
    ২- ইমাম বায়হাকী রহঃ “কিতাবুল আসমাই ওয়াস সিফাত” গ্রন্থে ৩২৯টি।
    ৩- ইবনে তাইমিয়া রহঃ তার “আল মুনতাকা” গ্রন্থে ২৬২টি।
    ৪- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ তার “বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম” গ্রন্থে ১১৭টি।
    ৫- ইমাম নববী রহঃ তার খুলাসাতুল আহকাম মিন মুহিম্মাতিস সুনান ওয়া কাওয়ায়িদিল ইসলাম” গ্রন্থে ৬৫৪টি।
    ৬- মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমা রহঃ তার “কিতাবুস সিহাহ” গ্রন্থে যা সহীহ ইবনে খুজাইমা নামে প্রসিদ্ধ এনেছেন-৩৫২টি।
    ৭- মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান রহঃ তার “কিতাবুস সিহাহ” যা সহীহ ইবনে হিব্বান নামে প্রসিদ্ধ, তাতে এনেছেন-২৯৪টি।
    ৮- ইমাম দারা কুতনী রহঃ তার “সুনানে দারা কুতনী” তে অনেক দুর্বল হাদীস এনেছেন বলে মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন।
    ৯- গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খানও তার “কিতাবু নুজুলিল আবরার” নামক গ্রন্থে ১৩৩টি দুর্বল হাদীস এনেছেন।

    1. 18.1
      Imran

      ”মুহাদ্দিসীনে কেরামের মূলনীতি হল দুর্বল হাদীস ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।”
       
      ”জাল ও যঈফ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত সকল প্রকার আমল নিঃসঙ্কোচে নিঃশর্তভাবে বর্জন করতে হবে।” 
      কারণ জাল ও যঈফ হাদীছ দ্বারা কোন শারঈ বিধান প্রমাণিত হয় না। জাল হাদীছের উপর আমল করা পরিষ্কার হারাম।
       সে কারণ ছাহাবায়ে কেরাম যঈফ ও জাল হাদীছের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। আস্থাহীন, ত্রুটিপূর্ণ, অভিযুক্ত, পাপাচারী, ফাসিক শ্রেণীর লোকের বর্ণনা তারা গ্রহণ করতেন না।
      প্রসিদ্ধ চার ইমামসহ অন্যান্য মুহাদ্দিছগণও এর বিরুদ্ধে ছিলেন।
      ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর চূড়ান্ত মূলনীতি ছিল যঈফ হাদীছ ছেড়ে কেবল ছহীহ  হাদীছকে অাঁকড়ে ধরা। তাই দ্ব্যর্থহীনভাবে তিনি ঘোষণা করেন,  إِذَا صَحَّ الْحَدِيْثُ فَهُوَ مَذْهَبِيْ ‘যখন হাদীছ ছহীহ হবে সেটাই আমার মাযহাব’।
       
       ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন,
      إِنَّ الْعَالِمَ إِذَا لَمْ يَعْرِفِ الصَّحِيْحَ وَالسَّقِيْمَ وَالنَّاسِخَ والْمَنْسُوْخَ مِنَ الْحَدِيْثِ لاَيُسَمَّى عَالِمًا.
      ‘নিশ্চয়ই যে আলেম হাদীছের ছহীহ-যঈফ ও নাসিখ-মানসূখ বুঝেন না তাকে আলেম বলা যাবে না’। ইমাম ইসহাক্ব ইবনু রাওয়াহাও একই কথা বলেছেন।
       ইমাম মালেক, শাফেঈ (রহঃ)-এর বক্তব্যও অনুরূপ।

      মুহাদ্দিছ যায়েদ বিন আসলাম বলেন,
      مَنْ عَمِلَ بِخَبْرٍ صَحَّ أَنَّهُ كِذْبٌ فَهُوَ مِنْ خَدَمِ الشَّيْطَانِ. 
      ‘হাদীছ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যে তার উপর আমল করে সে শয়তানের খাদেম’।

      অতএব ইমাম হোন আর ফক্বীহ হোন বা অন্য যেই হোন শরী‘আত সম্পর্কে কোন বক্তব্য পেশ করলে তা অবশ্যই ছহীহ দলীলভিত্তিক হ’তে হবে।

      1. 18.1.1
        N

        ?✌

      2. 18.1.2
        Mijan

        @Imran ভাই, আপনার বলা এই সহজ সরল ধ্রুব সত্য কাথাটা কেন যে অনেকে বুঝতে চায় না!!! আফসোস।

        অথচ আরবের উতবা, শায়বা, আবু জাহাল, আবু লাহাবরা ও নামাজ পড়তো, রোযা রাখতো, কাবা ঘর তাওয়াফ করতো, আল্লাহ্‌র উদ্ধেশ্যে সেজদা করতো, এই আল্লাহ্‌কেই মানতো। তারা হযরত ইব্‌রাহিম (আঃ)এর ধর্ম পালন করতো। তারপরও আল্লাহ তাদেকে কুরআনে কাফির মুশরিক বলেছে। কারণ তারা এই বিভিন্ন ফাযায়েলের নামেই ওই দ্বীনকে বিকৃত করে তারপর মানতো। আমারতো মনে হয় ফাজায়েলের নামেই বিভিন্ন জাল, জইফ হাদিসের মাধ্যমেই আল্লাহ্‌ এবং আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) এর দ্বীনকে বিকৃত করা হয়।

  59. 17
    Imran

    অনেক কিছুই পড়লাম।বুঝলাম যে আপনারা খাটি ”ইলিয়াসি তাবলিগ ওয়ালা”।
    আপনাদের কথা থেকে বোঝা জায় আপনারা সুফি দর্শনে বিশ্বাসী।আর এই জন্যেই বুঝি আপনারা পীর,মুরীদ,থানকা,কবর পুজা হতে মানুষকে বাধা দেননা। এই জন্যেই বুঝি নেজামুদ্দিনের মসজিদে আপনাদের মুরুব্বিদের কবর, জার পাশে সবাই নামাজ পরে, আর তার পাশেই ৩০০ গজ দুরে নেজামুদ্দিন আঊলিয়ার কবর পুজা হয় কিন্তু আপনারা বাধা দেননা। দেশে এত কবর পুজা, মাজার পুজা, এই বড় বড় শিরর্ক থাকতেও আপনাদের নজর পরেনা।কেননা আপনারাওতো এদেরেই একটি অংগ।

    ১. জামি (রহ) এর সেই বিখ্যাত ঘটনা সমম্পর্কে কি বলবেন? (কাসিদায় নবী (সা) এর হাত বের হবার ঘটনা, ফাজায়েলে আমল ১১৭-১১৮ পৃ:)
    ২. সুরা তওবার ১১৯ নাম্বার আয়াতের যে তাফসির করেছেন জাকারিয়া সাহেব তার ব্যাখ্যায় কি বলবেন? (ফাজায়েলে কোরআনে আছে)
    ৩. নবী (সা) এর কাবরের মাটি আল্লাহর আরশ, কুরসির চেয়েও পবিত্র? এসম্পর্কে কি বলবেন? (ফাজায়েলে হজ, নবী (সা) এর কবর জেয়ারত এর একটি পয়েন্টে আছে)
    ৪. ইসলামের দলিল কি? কোরআন ও সহি হাদিস? নাকি মুরুব্বিদের ঘটনা?

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      এত কথা তো আমি শুনি নাই! যাহোক এই বিষয়ে লেখক নিশ্চয় জবাব দিবেন। আমি যেটি বুঝেছি এরা ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামি জামাত যাদের কাজ রাজনীতি বিমূখ করে মানুষকে শুধু এবাদত বন্দেগীতে নিয়োজিত রাখে। ফেতনা ফ্যাসাদের ভয়ে রাষ্ট্রের কাজ কর্ম থেকে দূরে থাকাকে শ্রেয় মনে করে রাজনীতির ময়দানকে প্রতিকূল শক্তির কবলে ছেড়ে দেওয়া। হয়তো আগামীতে দেখা যাবে যে বিশ্বজিতের মত কোন তবলীগী ভাই আক্রান্ত হলে সেও বলে উঠবে- ভাই আমাকে মেরনা আমি তবলীগী আমি তবলীগী!!!

      1. 17.1.1
        আহমেদ শরীফ

        ৬৪ জেলায় একসঙ্গে বোমা বিস্ফোরনের অনুঘটক ছিল জেএমবি। জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা মাস্টারমাইন্ড সদস্য ছিলেন শায়েখ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই-ডঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব জুটি। বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হওয়ায় জুটিটা ভেঙ্গে গেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় জেএমবি। বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি ও ডঃ গালিবের আড়াই বছর জেল হয়। ডঃ গালিব অবশ্য 'আহলে হাদিস' নামে আরেকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
         
        সৌদি আরবের জনগণের তেলবেচা পয়সায় নিয়মিত মোটা বেতন পেয়ে ভাল খেয়ে দেয়ে বিপুল ভুঁড়ি বাগিয়ে একদল গৃহপালিত শায়েখগণ আরামে এসিতে বসে বসে টিভিতে ইসলাম সম্পর্কে রেগুলার ফতওয়া-বক্তব্য দেন ইচ্ছামত। গরিব মুসলিম দেশগুলোতে পেট্রোডলার দেন যাতে 'ইসলামী আন্দোলন' শক্তিশালী হয়, ফলে পেট্রোলের আগুনে জ্বলে ওঠে ৬৪ জেলায় বোমাবিস্ফোরণ, সরলমতি বাংলার দামাল ছেলেরা হয় জঙ্গি, গঠিত-জেহাদি জোশে উম্মত্ত-শেষে নিষিদ্ধ হয় জেএমবি/হিজবুত তাহরির। জেএমবি নিষিদ্ধ হয়ে আড়াই বছর জেলে মাড়াই হবার পর আহলে হাদিসের ব্যানারে অবশ্য ডঃ গালিব বেশ সাবধানী। 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য' দিচ্ছেন জোরে শোরে প্রকারান্তরে যা স্ববিরোধী। ওনাদের সম্মেলনের মঞ্চে সবসময় দেখা যায় 'তাবলীগি এজতেমা' কথাটি বড় করে লেখা। যদিও তাবলীগ জামাতের সাথে কস্মিনকালেও তাদের কোন সম্পর্ক তো নেইই বরং তাবলীগ জামাতের সমালোচনাতেই তারা সমসময় মুখর। এনাদের মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন নাসিরুদ্দিন আলবানী, যিনি কোন মাদ্রাসায় পড়েন নি যাঁর কোন ওস্তাদ নেই, যিনি একই হাদিসকে এক জায়গায় বলেন 'সহি' আরেক জায়গায় 'জঈফ', এনার কথাই 'আহলে হাদিস' দের কাছে ধ্রুব বাক্য। মাযহাবি ইমামগণকেও সবসময় মানেন না কিন্তু আলবানি এনাদের কাছে স্বতঃসিদ্ধের অপর নাম। এনাদের দাবি হল এনারাই কোরআন-হাদিসের আসল মুখপাত্র, উপমহাদেশের আলেম যতবড়ই হোন না কেন এনারা বাই ডিফল্ট তাচ্ছিল্য করেন যেহেতু সৌদি আলেমরা উপমহাদেশীয় আলেমদের গণেন না।
         
        আবার সৌদি রাজতন্ত্রের পোষ্য হওয়ার কারণে হাজার ভুলত্রুটি থাকলেও 'রাজতন্ত্র' নিয়ে কখনো কিছুই বলেন না। শুধু মোটা বেতন পান আর টিভিতে বক্তব্য দেন। পেট্রোডলার ছিটিয়ে গরীব দেশগুলোতে 'ইসলামী বিপ্লব' তৈরির ইন্ধন দেন। যে যাই বলুক ইসলাম সম্মন্ধে এনাদের কথাই শেষ কথা যেহেতু এনারা আরব এবং ইসলামের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবে থাকেন।

        1. 17.1.1.1
          Imran

           
          মুনিম ভাই খুব সুন্দর কথা বলেছেন।  হয়তো আগামীতে দেখা যাবে যে বিশ্বজিতের মত কোন তবলীগী ভাই আক্রান্ত হলে সেও বলে উঠবে- ভাই আমাকে মেরনা আমি তবলীগী আমি তবলীগী!!!
          ভাই আহমেদ লেকচার সবাই পারে।
          তাই লেকচার না দিয়ে উত্তর জানা থাকলে উত্তর দিন ভাই।
           

        2. আহমেদ শরীফ

          লেকচারের ওপরই তো দাওয়াতের মেহনত। তাবলীগের মেহনতে জেএমবি/আহলে হাদিস বা জামাতে ইসলামীর মত ইসলামের নাম দিয়ে ধামা-কিরিচ-বোমাবাজি-গলাবাজি-রগকাটা-গলাকাটা-গাড়ি ভাঙচুর-মিছিল-মিটিং-জ্বালাও পোড়াও-পুলিশকে হামলা-পাবলিককে হামলা-মামলা-পাল্টা মামলা এসব নেই।

          যা আছে তা হল শান্তিপূর্ণভাবে নিবিষ্ট চিত্তে আত্মশুদ্ধিমূলক ঈমান ও আ'মালের মেহনত, মুসলমানদের আল্লাহর হুকুমের ওপর ওঠানোর জন্য খোশামোদ তোষামোদ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনে জনে আল্লাহর জন্য ধর্ণা দেয়া, হাতে পায়ে ধরা, খেদমত করা, মসজিদে নিয়ে এসে আল্লাহর বড়ত্ব, রাসূল(সাঃ) এর ক্বোরবানির কথা আর পরকালের সত্যতা মানুষের সামনে তুলে ধরা, আর গভীর রাত্রে উঠে আল্লাহর দরবারে চুপি চুপি পুরো মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত তথা কল্যাণ কামনা করে চোখের পানি ফোঁটায় ফোঁটায় ফেলতে থাকা।

        3. 17.1.1.2
          আহমেদ শরীফ

          জেএমবি নিষিদ্ধ হয়েছে হিজবুত তাহরিরও নিষিদ্ধ। বাকি 'আহলে হাদিস' আর 'জামায়াতে ইসলামী' সহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনীত নিষিদ্ধের জোরালো দাবি উঠেছে, আগে পরে হয়তো নিষিদ্ধ হবে এগুলোও। সহি কোরআন-হাদিসের নামে, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার নামে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কতিপয় ধর্মব্যবসায়ীদের জঙ্গিবাদ আর বোমাবাজি-ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের কারণে তাদের পদ্ধতিকেই মুসলিম উম্মাহ প্রত্যাখান করেছে। বহু মুসলিম তাদের হাতে নিহত হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত হত্যাও এক শ্রেণীর অতি উৎসাহী সালাফিদের দ্বারাই হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে ইসলামের ভাবমূর্তি এদের দ্বারা যতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অমুসলমানদের দ্বারা ততখানি হয় নি। 

          সেজন্যেই মসজিদগুলো থেকে তাবলীগ জামাতের মেহনত ছাড়া বাকি ভ্রান্ত মেহনতগুলোকে বের করে দিয়েছেন আল্লাহপাক। কারণ নববী তরিকায় শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামের মৌলিক চরিত্রের ওপর ওঠার আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যকর পদ্ধতি আন্তর্জাতিক পরিসরে মুসলিম উম্মাহর মাঝে মোটামুটি সার্বজনীনভাবে গৃহীত হয়েছে। তাবলীগ জামাতের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিগত মেহনতের ফলে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় গতবার ১৩০টি দেশ থেকে মুসলিম উম্মাহ সমবেত হয়েছেন এবার আরো বেশি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মানবজাতির স্মরণকালের বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমায় সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। এই মেহনতই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমেই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ একত্রিত হচ্ছে।

        4. 17.1.1.3

          @ আহমেদ শরীফ ভাই  কোন আলেম সম্পর্কে না জেনে কথা বলবেন যদি পারেন সত্য জিনিস জানান মিত্তা বললে জবাব দিতে হবে 

           

          নাসির উদ্দিন আলবানির জীবনীঃ

          https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1622387941363084&id=1622286988039846

      2. 17.1.2
        আবদুস সবুর

         
        মুনিম সিদ্দিকী ভাই,

        তাবলীগ জামাত কোন তথাকথিত রাজনৈতিক দল নয়। এর কোন নেতা নেই, কোন অফিস নেই। বিভিন্ন মন-মানসিকতার মানুষ এখানে আসেন এবং সময় দেন। বাংলাদেশে যত (দুই-একটি বাদে) ইসলামিক দল আছে তারা সকলেই তাবলীগ জামাতে সময় দেন।
         
        এবং এই সকল লোক প্রতিবাদ করা মানেই হল তাবলীগ জামাত প্রতিবাদ করা। কারন তাবলীগ জামাত করেন এই সকল লোকই !!!
         
        আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

    2. 17.2
      আহমেদ শরীফ

       নবী (সা) এর কাবরের মাটি আল্লাহর আরশ, কুরসির চেয়েও পবিত্র? এসম্পর্কে কি বলবেন?

       

      بسم الله الرحمن الرحيم

      শায়েখ জাকারিয়া রহঃ এর বলা কথাটি সম্পূর্ণ সহীহ। এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আল্লাহ তাআলার পর রাসূল সাঃ এর মত মর্যাদাবান গোটা সৃষ্টি জগতে দ্বিতীয় কেউ নেই। তাই তিনি যে স্থানে মিলে আছেন তাও শ্রেষ্ঠ স্থান। যেহেতু আল্লাহ তাআলা কোন স্থানের মুখাপেক্ষি নন, তাই তিনি কোন স্থানের সাথে লাগোয়া নন। যেহেতু আরশ-কুরসীর সাথে আল্লাহ তাআলার দেহ লাগোয়া নয়, তাই আরশ কুরসী রাসূল সাঃ এর সাথে লাগোয়া জমির চেয়ে শ্রেষ্ট হতে পারে নি। যদি আল্লাহ তাআলার দেহ মুবারক আরশ কুরসীর সাথে লাগোয়া হতো, তাহলে তা রাসূল সাঃ এর সাথে লাগোয়া জমির চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হতো এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেহেতু স্থানের মুখাপেক্ষি নন। তিনি সকল বিষয় থেকে পবিত্র। তাই আরশ কুরসীতে লাগোয়া হওয়ার আল্লাহ তাআলার কোন প্রয়োজন নেই। এ কারণেই আরশ কুরসীর চেয়েও রাসূল সাঃ এর সাথে লাগোয়া জমি শ্রেষ্ঠ।

      আর কাবা নিশ্চয় রাসূল সাঃ থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ রাসূল সাঃ এর মর্যদার তুলনায় কাবা কেন মর্যাদাপূর্ণ হবে? কি কারণে? কাবাতো একটি ঘর মাত্র। আর রাসূল সাঃ আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ এ মর্মে রাসূল সাঃ নিজেই হাদীসে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কাবা, বা আরশ কুরসী আল্লাহর পর সকল সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ একথা কোথাও আছে কি?

      قال العباس بلغه صلى الله عليه وسلم بعض ما يقول الناس قال فصعد المنبر فقال من أنا قالوا أنت رسول الله فقال أنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب إن الله خلق الخلق فجعلني في خير خلقه وجعلهم فرقتين فجعلني في خير فرقة وخلق القبائل فجعلني في خير قبيلة وجعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا فأنا خيركم بيتا وخيركم نفسا-1/169، رقم الحديث-3532)

      হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ [একবার কোন কারণে] মিম্বরে দাঁড়িয়ে সমবেত লোকদেরকে] জিজ্ঞেস করলেন-আমি কে? সাহাবীগণ বললেন-আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তিনি বললেন-আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে মুহাম্মদ। আল্লাহ তাআলা তামাম মাখলূক সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত করেছেন [অর্থাৎ মানুষ বানিয়েছেন]। এরপর তাদেরকে দু’ভাগে [আরব ও অনারব] বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে [আরবে] রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে পাঠিয়েছেন। এরপর সে গোত্রকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং আমি ব্যক্তি ও বংশ সর্বদিক থেকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
       
      {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৩৫৩২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭৮৮, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৭৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩২২৯৬}

      এ হাদীসে লক্ষ্য করুন-রাসূল সাঃ কে সকল সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাবা, আরশ, কুরসী কি আল্লাহর সৃষ্টি নয়? তাহলে রাসূল সাঃ আল্লাহর পর সবচে শ্রেষ্ঠ হলে তার সাথে লাগোয়া জমি কেন সবচে’ শ্রেষ্ঠ হবে না? যদি আল্লাহ তাআলা কোন জমির সাথে লাগোয়া হতেন, তাহলে সে জমি হতো আল্লাহর পর সবচে’ শ্রেষ্ঠ। যেহেতু আল্লাহ তাআলা কোন কিছুতে লাগোয়া হওয়া থেকে পাক, তাই আরশ কুরসী বা অন্য কিছু আল্লাহর পর নবীজী সাঃ থেকে শ্রেষ্ঠ নয়। সুতরাং শায়েখ জাকারিয়া রহঃ এর এ বক্তব্যটি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোন মানে হয় না।

    3. 17.3
      আবদুস সবুর

       
      Imran ভাই,
      আপনি বলেছেন,
      অনেক কিছুই পড়লাম।বুঝলাম যে আপনারা খাটি ”ইলিয়াসি তাবলিগ ওয়ালা”।

      ধন্যবাদ, তবে কিছুটা না পড়ে পুরোটা পড়লে বুঝতে পারতেন আমি “ কুরআন ও সুন্নাহর আলোক ইলিয়াস রহ.-এর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের একজন শুভাকাঙ্খি”।
      ……………………………………………………………………………………………………………………………..
       

      পূর্বেই বলেছি,

      ধন্যবাদ, তবে কিছুটা না পড়ে পুরোটা পড়লে বুঝতে পারতেন আমি “ কুরআন ও সুন্নাহর আলোক ইলিয়াস রহ.-এর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের একজন শুভাকাঙ্খি”।

      ===================================
      সাইয়েদ আহমাদ কবীর রেফায়ী(রহ) এর কবিতা শুনে যে,রাসূলুল্লাহ (সা) রওজা মুবারাক হতে হাত বের করেছিলেন,তা ইমাম জালালুদ্দিন সূয়তী(রহ) তার শায়েখ কামাল উদ্দিন থেকে,তিনি শায়েখ শামসুদ্দিন জাযিরী থেকে,তিনি শায়েখ য্যনুদ্দিন থেকে,তিনি শায়খ ইযুদ্দিন আহমদ ফারূকী থেকে,তিনি তাঁর পিতা শায়েখ আবু ইসহাক ইবরাহীম থেকে ও তিনি তাঁর শায়েখ ইযুদ্দিন ওমর (রহ) এর সনদে তাঁর কিতাব "শরফে মুখতেম" নামক কিতাবে উল্লখে করেছেন। সাইয়েদ আহমাদ কবীর রেফায়ী(রহ) এর "আল-বুরহানুল মুয়াইয়াদ" নামক কিতাবের ভূমিকায় এই কাহিনী আছে। 

      এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ভাইয়েরা ফাযায়েলের কিতাবের উপর কি রূপ খড়গহস্ত হয়েছে,তা মুটামুটি সকলেই দেখেছে,কিন্তু কেন তারা জালালুদ্দিন সূয়তী(রহ) এর বিরুদ্ধে আগে বলল না,কিন্তু তা কি আগে প্রয়োজন ছিল না। 

      এছাড়া ইমাম আবু বকর বিন আবিদ্দুনিয়া (রহ) এর কিতাব " মান আ'শা বা'দাল মাউত" , ইবনে কাসীর(রহ) এর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া", হাফেজ আবু নয়ীম ইস্পাহানী(রহ্‌) এর "হুলিয়াতুল আওলিয়া", ইমাম ইয়াসেফী এবং তাজুদ্দীন সুবকী(রহ) এর "তবাক্কাতুল কোবরা"- , শাহ আব্দুল আজীজ (রহ)"বুস্তানুল মুহাদ্দেসীন",আবু বকর বাগদাদী(রহ)"তারীখে বাগদাদী" ,শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসী দেহলভী(রহ)"আরবাঈন",ইবনুল কায়্যিম(রহ) এর "কিতাবুর রূহ" সহ অন্যান্য ইমাম এবং মুহাদ্দিসীনে কেরামের সমালোচনা কি আগে করা উচিৎ না,কারণ তাদের বইগুলোই তো কাহিনীহুলো মূল সূত্র। উনারা কোরআন-হাদিস জানতেন না, নাকি জানার পরেও ইচ্ছে করে শিরক আর কুফরী প্রচার করেছেন(নাউযুবিল্লাহ)। কিন্তু আরিফ সাহেবের কথা মানলে তো মনে করতে হবে তারা ইচ্ছে করেই তা করেছেন। 

      আর যদি উনে মেনে নেন তারা জানতেন হাদিস আর ঘটনার প্রয়োগক্ষেত্র এক নয়,তাহলে কেন ফাযায়েলের কিতাবের বিরুদ্ধে উনার অভিযোগ?
      আর যদি উনি মনে করেন এ সব ঘটনা বর্ণনা করা অন্যায়,তাহলে কেন যেসব ইমাম এবং মুহাদ্দিসগণ এসব ঘটনা বর্ণনা করেছেন তাদের সমালোচনা আগে না করে কেন ফাযায়েলের লেখকের সমালোচনা করা হচ্ছে? 

      আসলেই কি তার উদ্দেশ্য তাবলীগের সমালোচনা করে তাদের ঠিক করা ,নাকি এ সমালোচনার পিছনে অন্য কোন কারণ আছে।

      …………………………………………………………………………………………………………

      ফাজায়েলে হজ্জে লিখা আছে, যে জায়গা হুজুর স.-এর শরীরের সাথে মিলিত আছে তা আরশের চেয়ে দামী। এই কথা শুধু জাকারিয়া (র) বলেন নি, এমনকি ইবনুল কাইয়িম (র) তা বলেছেন।

      rel="nofollow">;

       
      বাকী জবাবগুলো আহমেদ শরীফ ভাইয়ের কমেন্ট থেকে দেখুন।

      (সর্বশেষ এটা দেখতে পারেন . . .

      http://sphotos-f.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/422707_502906649739441_920929896_n.jpg

       
       

    4. 17.4
      সাদা মন

      @Imran: @Imran:

      @Imran:  ভাই কিছু বিষয় আছে বিষয়ের মাঝখানের লাইন হইতে হতে…বলা ঠিক নয় …যেমন …কোরানের আশপাষের আয়াত অ তাফসীর না জানলে…আপনি মদকেও হালাল প্রমান করতে পারবেন…

      যেমন…।

      কুরানে একযায়গা বলা আছে…"মদের মধ্য উপকারের চাইতে ক্ষতিই বেশি" এর দ্বারা আপনি কিন্তু মদকে হালাল করতে পারবেন …যদিনা শানে নুযুল আর তাফসীর এবং এর পরের আয়াত আপনার যানা না থাকে ।

      তাই ভাই অন্যর কাছ হইতে কিছু না শুনে নিজে……তাবলীগে ৩ সময় দেন …।। অথবা কাকরাঈলে গিয়া মুরুব্বীদের কথা কয়েকদিন শুনে আসেন। নিজেই পরীক্ষা করে আস্তে পারেন

  60. 16
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     
    ধন্যবাদ ভাল লাগলো আপনার লেখাটা। চেষ্টা করেছেন তবলীগের সম্পর্কে মানুষের মনে কিছু প্রশ্নের উগ্রেক হয় তার জবাব দিতে। আমার ব্যক্তিগম বুঝ হলো -- পথ একটাই -- তা হলো কোরাআন আর শিক্ষক একজনই যিনি রসুল(সঃ)। যাই হোক আপনার লেখায় কিছু প্রশ্নের সন্মুখিন হয়েছে -- সবিনয়ে সেগুলো বলতে চাই। 
     
    প্রথম প্রশ্ন হলো -- 
     
    আপনার লেখায় প্রশ্ন : ৮ এ আপনি বলছেন --
     
    প্রশ্ন : ৮
    আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনারা বলে থাকেন, কোন ওস্তাদের নিকট হাদীসগ্রন্থ না পড়ে সরাসরি পড়লে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
    উত্তর :
    বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস হল…
    সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
    এখন এক লোক এই নিয়তে জেনা করা শুরু করল যে, জেনা করার পর যে সন্তান হবে তাকে আমি ইসলামের বড় দ্বায়ী বা প্রচারক বানাব। তাহলে আমার জেনা করা জায়েজ হয়ে যাবে।
    কারন হাদীসে আছে সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল !!!
    এখন প্রশ্ন হল এই লোকটি কি আসলেই কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী আমল করল ???
     
     
    >>> এই উদাহরনটার সাথে হাদিস বুঝার সম্পর্ক কি? জ্বেনা হারাম, সেইটা কোরানেই বলা আছে -- সেখানে কেন একজন মানুষ হাদিসের ব্যাখ্যা নিজের মতো করে কোরানের নির্দেশ ভংগ করবে? সেতো ইসলামকেই অবজ্ঞা করলো। তাকে হাদিস নি শিখিয়ে কি কোরান শেখানো যৌক্তিক নয়?
     
    আরেকটা প্রশ্ন -- 
     
    প্রশ্ন : ১২
    আপনাদের ফাজায়েলের কিতাবে সূরা কামারের ১৭নং আয়াতের অর্থ লেখা আছে, “আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি কোন ব্যক্তি কি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে?”
    কিন্তু আপনারা যদি এ আয়াতের অর্থ ভিন্ন কোন কুরআনে দেখতেন তাহলে দেখতে পেতেন সেখানে অর্থ লেখা রয়েছে, “এই কুরআনকে আমি সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহনের জন্য, অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেহ আছে কি?”
     
     
    দেখুন কেমন জাহেল আর বেয়াদব ! সে যদি তাফসিরের এক-দুটি কিতাবও দেখেনিত তাহলে এমন কথা বলার সাহস পেতনা । কারন সকল তাফসিরকারক এই অর্থ গ্রহন করেছেন । সাহাবা- তাবেয়ি থেকেও এই অর্থ প্রমানিত । তবে বিষয়টি কোন জটিল না হওয়ায় মনে হয় এটা আহলে হাদিসদের প্রতারনার একটি ফাদ । যাতে তারা মানুষকে ফেলার জন্য বর্তমানে আরও অনেক খেত্রেও করছে । আরও মারাত্তক কথা ও বকা-ঝকও করেছেন এখানে । আফসুস, নিজের অযুজ্ঞতার শাস্তি আরেকজনের উপর চাপান হচ্ছে ।
     
    আপনি বলছেন "এটা আহলে হাদিসদের প্রতারনার একটি ফাদ " -- এই বাক্যাংশের অর্থ কিন্তু মারাত্বক। আপনি কি সঠিক ভাবনার আলোকে কথাটা বললেন? এই বাক্য থেকে ধারনা করতে পারি -- "আহলে হাদিস" নামে একটা দল আছে -- যারা "প্রতারনার ফাঁদ" তৈরী করে। মারাত্বক অভিযোগ! যতটুকু বুঝি -- সকল উম্মতে মুহাম্মদ(সঃ) কেই হাদিস অনুসরন করতে হয় -- সুতরাং সবাই আহলে হাদিস। এখানে আপনি কি আহলে ইলিয়াস নামের কোন একটা গোষ্ঠিকে আহলে হাদিসের বিরুদ্ধে দাড় করাচ্ছেন কিনা -- দয়া করে ভেবে দেখবেন।  

    1. 16.1
      আবদুস সবুর

       
      জিয়াউদ্দিন ভাই,
      আপনি বলেছেন,
      >>> এই উদাহরনটার সাথে হাদিস বুঝার সম্পর্ক কি? জ্বেনা হারাম, সেইটা কোরানেই বলা আছে — সেখানে কেন একজন মানুষ হাদিসের ব্যাখ্যা নিজের মতো করে কোরানের নির্দেশ ভংগ করবে? সেতো ইসলামকেই অবজ্ঞা করলো। তাকে হাদিস নি শিখিয়ে কি কোরান শেখানো যৌক্তিক নয়?

      ===
      এই উদাহরনের উদ্দেশ্য হল শুধু এতটুকু বুঝানো যে, নিজে নিজে হাদীস দেখে হাদীস বিশ্লেষন করে আমল করার চেষ্টা করলেবিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

      আর বুঝানোর জন্য একটি উদাহরন মাত্র।
      ……………………………………………

      আপনি বলেছেন,
      এই বাক্য থেকে ধারনা করতে পারি — "আহলে হাদিস" নামে একটা দল আছে 

      অবশ্যই আছে। দেখুন . . .

      http://www.somewhereinblog.net/blog/asksumon0000/29539422
      …………………………………………………………
       
      আপনি বলেছেন,
      যতটুকু বুঝি — সকল উম্মতে মুহাম্মদ(সঃ) কেই হাদিস অনুসরন করতে হয় — সুতরাং সবাই আহলে হাদিস।

      আপনার বুঝটি কিছুটা ভুল।

      যুগযুগ ধরে হাদীস, উসূলে হাদীস, ফিক্বাহ, উসূলে ফিক্বাহ এবং হাদীসের ব্যাখ্যা ও হাদীসের বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের কিতাব সমূহের ভাষ্য মতে, যারা হাদীসের সনদ ও মতন (বর্ণনাকরী ও মূল বিষয়) নিয়ে নিবেদিত এবং হাদীস শরীফের সংরক্ষন, হিফাযত, সঠিক বুঝ এর অনুসরন-অনুকরন নিজের মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদেরকেই আহলে হাদীস বা আছহাবুল হাদীস বলা হয়। চাই সে হানাফী হোক বা শাফেয়ী, মালেকী অথাব হাম্বলী।

      শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা যাকে গাইরে মুক্বাল্লিদরাও অনুসরন করে থাকে, তিনি বলেন,
      “কেবল মাত্র হাদীস শ্রবণ, লিখন অথবা বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদেরকেই “আহলে হাদীস” বলা হয় না বরং আমাদের নিকট “আহলে হাদীস” বলতে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে বুঝায় যারা হাদীস সংরক্ষন, পর্যবেক্ষন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থ অনুধাবন করার যোগ্যতা সম্পন্ন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থের অনুসারী হবে।”
      (নাক্বদুল মানতিক, পৃ:১৮, কায়রো থেকে প্রকাশ ১৯৫১ইং)

      আল্লামা হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম আল-অজীর (মৃ: ৮৪০ হিজরী) লিখেন,
      “একটি জ্ঞাত কথা হল “আহলে হাদীস” বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে খেদমত করেছেন এবং এর অন্বেষনে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।” 

      আর বর্তমানে যারা আহলে হাদীসের দাবিদার তাদের কথা …

      গাইরে মুক্বাল্লিদরা “আহলে হাদীস” বলতে তক্বলীদ অমান্যকারী একটি দল ও একটি নির্দিষ্ট মতবাদ। অনুরূপভাবে যেথায়ই আহলে হাদীস বা আহলুল হাদীস শব্দ দেখতে পাওয়া যায় এর দ্বারা তারা নিজেদেরকেই মনে করা চাই সে জাহেল বা মূর্খ হোক, নামাযী হোক বা বেনামাযী হোক ……… হাদীস সম্বন্ধে তার কোন জ্ঞান থাক বা না থাক, কেবল আহলে হাদীস দলে ভর্তি হলেই আহলে হাদীস উপাধী পেয়ে যাবে।
      (আখবারুল ইত্তেছাল, পৃ:৫, কলাম-১, সংখ্যা- ২, ফে: ১৯৬২ আহলে হাদীসের তদানিন্তন জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা ইসমাইল কর্তৃক প্রকাশিত)

      তাই এ দলের সবার উপাধি “আহলে হাদীস” যদিও তাদের অনেকেরই পেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটালেও একটি হাদীস নির্গত হবে না। উপরন্তু তাদের নামধরী আলেমেদের অনেকেই ফিক্বহে হাদীস সম্বন্ধে কিঞ্চিত জ্ঞানও রাখে না, বুঝার চেষ্টাও করে না। এর প্রমান হিসেবে তাদেরই নেতা নবাব ছিদ্দিক হাসান খানের (যিনি ১২৮৫ হিজরীতে মৌলভী আব্দুল হক্ব বেনারসী থেকে লিখিতভাবে মুহাম্মাদী উপাধি লাভ করেন — মাযহাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ, পৃ:৩৬)  উক্তি পেশ করছি :
      “আপনি তাদেরকে কেবল হাদীসের শব্দ নকল করতে দেখবেন, হাদীস বুঝার প্রতি তারা কোন ভ্রুক্ষেপই করে না। এতটুকু তারা নিজেদের জন্য যথেষ্ট মনে করে। অথচ এ ভ্রান্ত ধারনা মূল লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে, কেননা হাদীসের কেবল শব্দের গন্ডীতে সীমাবদ্ধ না থেকে হাদীস বুঝা, এর অর্ত ও মর্ম নিয়ে গবেষনা করাই হল মূল উদ্দেশ্য।
      (আল-হিত্তাহ ফী যিকরিচ্ছিহাহ ছিত্তাহ, পৃ : ৫৩)

      ধন্যবাদ

  61. 15
    সাদাত

    তাবলীগের মেহনত সম্পর্কে আমার বক্তব্য হচ্ছে 'বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়'। আঙ্গুর ফলকে যত যুক্তি আর দলিল দিয়ে টক প্রমাণ করা হোক না কেন, যিনি এর স্বাদ একবার পেয়েছেন তিনি ঠিকই জানেন আঙ্গুর ফল কেমন।
    সেই দিন দূরে নয় যেদিন এই মেহনতের বিপক্ষে কথা বলার আর কেউ থাকবে না। যারা এই মেহনতের গভীরে যাননি তারা ভাবতেও পারবেন না কি প্রচন্ড ক্ষিপ্রতার সাথে এই কাজ এগিয়ে চলেছে।  

  62. 14
    আহমেদ শরীফ

    *টাইপো : তিনি হেদায়েত না করলে স্বয়ং নবীগণও হেদায়েত করতে পারেন না হাজারবার দাওয়াত দেয়া সত্বেও তার বহু প্রমাণ আছে।

  63. 13
    আহমেদ শরীফ

    "@ সালাম শরীফ ভাই,
    আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
    তাবলীগ জামাতে উসিলায় মসজিদে অবস্থান করলে প্রত্যেকের ভিতরে বিনয়ী ও নম্রতার সৃষ্টি হয়, যা মুমিনদের জন্য খুব জরুরী। আর নবীজি(স)-র সুন্নতের অনুশীলনও হয়। ‘দ্বীন প্রচার’-র জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করা, নিঃসন্দেহে উত্তম।"
     

    ওয়া আ'লাইকুমুস সালাম তাজুল ইসলাম ভাই।
    সরল, স্পষ্ট স্বীকারোক্তির জন্য ধন্যবাদ। এটাকেই আপনার বক্তব্যের বটমলাইন বলে ধরে নিচ্ছি।

    "আমি যা বলতে চাচ্ছি, যার কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া হবে, তার অন্তর ও বিবেক-কে যদি না নারানো যায়, তবে সেই দাওয়াত অর্থহীন আর হেদায়েত পৌছবে কিনা তা আল্লাহ ভাল জানেন এবং তিঁনিই তা নিয়ন্ত্রন করেন।"

    আল্লাহই হলেন 'মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব' তিনি ছাড়া কারো হাতে অন্তরসমূহের নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি হেদায়েত না করলে স্বয়ং নবীগণও হেদায়েত করতে পারেন হাজারবার দাওয়াত দেয়া সত্বেও তার বহু প্রমাণ আছে। হুজুর(সাঃ)এর পরে যেহেতু আর কোন নবী নেই সেজন্যে এই কাজের দায়িত্ব এ উম্মাহর ওপর বর্তেছে। দাওয়াতের মেহনত আসলে নিজেকে সামনে নিয়ে নিজের জন্য, যদিও অন্যের সামনে দেয়া হয়। নিজে মেহনত করলে নিজের হেদায়েতের গ্যারান্টি আল্লাহপাকই দিচ্ছেন("ওয়াল্লাজিনা যাহাদু ফি না লানাহদিয়াল্লাহুম সুবুলানা।), কাজেই নিজের হেদায়েতের জন্য নিজেকে মেহনত করতেই হবে। অন্যকে 'নাড়ানো' র কাজটা আল্লাহপাকের, দাঈর দায়িত্ব হলো আল্লাহপাকের যেসব উসুল রয়েছে সেসব মেনে দাওয়াত দেয়া। 'বাল্লিগু আন্নি ওয়ালাও আয়াহ' _ একটি আয়াতও জানা থাকলে অন্যকে পৌঁছাতে বলা হয়েছে হাদিসে পাকে।

    "পূর্বে উল্লেখ করেছি, একজন সত্যিকারের অলি বা মুমিন আল্লার তরফ থেকে যদি অলৌকিক কিছু পেয়ে থাকে, সেটা কখনই বাহিরে প্রকাশ করবে না।"

    আল্লাহপাকই কুদরত জাহির করেন বিশেষ উদ্দেশ্যে। এ ব্যাপারে আগেই একটা কমেন্টে বলেছি পড়ে দেখুন। নিজের ঢোল নিজে কোন নবী, সাহাবী, অলি বা মু'মিন স্বভাবতঃই পেটান না ওটা আল্লাহপাকই বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জাহির করেন। এখানে আল্লাহ ছাড়া কারো কোন হাত নেই।

    "জনাব জাকারিয়া কি উদ্দেশ্যে এতগুলো গল্প যোগার করে, বিশাল পুস্তক বানিয়ে প্রকাশ করলেন মানুষের মাঝে? এর কারন কি? যে সব কেরামতি গল্প জামাতের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে, এর অনেক গল্পই সংসার-বিরাগী হিন্দু  ঋষিদের মাঝে বিদ্যমান যা হিন্দুরা দাবী করে।"

    আপনি কি করে জানলেন যে সেগুলো গল্প ! পরম্পরা অনুযায়ী রেওয়ায়েত বিশ্বাস না করলে অনেকে সহি হাদিসকেও অস্বীকার করতে পারে কারণ রাসূল(সাঃ) এর মাধ্যমে সত্য সত্যই বর্ণিত হয়েছে কি না তার দলিল 'বিশ্বাস' এর ওপর। এরকম রাসূল(সাঃ) আদৌ নবী কি না বা আল্লাহ আছেন কি না এ ব্যাপারেই অনেক সন্দেহবাদী লোক পাওয়া যাবে এটির ভিত্তিও বিশ্বাস এর ওপর। রেওয়ায়েত খুঁজে দেখুন। খামোখা গল্প বলে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আগের যুগে হত না, আগের যুগেই মানুষ ছিল অনেক খাঁটি। মিথ্যা গল্প বলে ধর্মের নামে ধোঁকাবাজির ব্যবসা বর্তমান যুগেই চলছে বেশি। কোনটা গল্প আর কোনটা সত্য ইতিহাসের অংশ সেটি নির্ধারণের কোন অথোরিটি আপনি আমি কেউ না। সেজন্যে ওলামায়ে কেরাম রয়েছেন যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহতা’লা হাজার বছর ধরে পরম্পরা অনুযায়ী সেই ঐতিহ্য হেফাজত করছেন।

    * উপসংহার : আমার কাছে যে পদ্ধতিতে মূল শরীয়ত অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নাহর ওপর মানুষ বেশি বেশি উঠতে পারছে দেখব সেটিই সঠিক বলে মনে করব। আরো একটা জিনিস দেখতে হবে তা হল কারা মুসলমান এমনকি মানবজাতির প্রতি বিদ্বেষহীন, কাদের পদ্ধতি শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক পদ্ধতি কোনটি, সম্প্রসারিত হওয়ার পদ্ধতি বা তরিকাহ কি। যাদের ক্ষেত্রে এসবের ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যাবে তাদের পথেই চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ, আমার মতে আমার জন্য।

    ধন্যবাদ।

    1. 13.1
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      ধরে নিলাম যে সেই মিথগুলো ঠিক।কিন্তু মানুষকে কোরান-হাদিস না বুঝিয়ে এইসব মিথ প্রচারের ফায়দাটা কি?

      1. 13.1.1
        আহমেদ শরীফ

        মিথ হবে কেন ? কাশফ-ক্বারামাত-মু'জিযায় বিশ্বাস ঈমানেরই অঙ্গ। তা'ছাড়া উদ্দেশ্য কি সেটা দেখতে হবে। উদ্দেশ্য যদি কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি বিভিন্ন আউলিয়ায়ে কিরামের ঘটনা 'তারগীব' বা উৎসাহ হিসেবে ব্যবহৃত হয় _ যা মানুষকে আদপে দ্বীন বা শরীয়তের ওপর ওঠায়, আল্লাহর দিকে ধাবিত করে, তাহলেতো ঠিকই নয় বরং খুবই ঠিক আছে। যারা ঐতিহাসিক রেওয়ায়েত ছাড়া মনগড়া বানোয়াট কাহিনী বলে মানুষকে বোকা বানিয়ে ধর্মব্যবসার উদ্দেশ্যে _ তারাই দুনিয়া শিকারকারী, তারাই বিভ্রান্ত। 'কোরআন-হাদিস' ছাড়া কথাটা সহি নয়, বরং কোরআন-হাদিসের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে মেহনত, কিন্তু পাশাপাশি নবীগণ(আঃ),সাহাবাগণ(রাঃ), হক্বানি আউলিয়াগণ ও বিশিষ্ট সালেহীনগণের আলোচনা ইসলামের বাইরের কোন জিনিস নয় বরং উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে প্রণিধানযোগ্য।

        ফাজায়েলে সাদাকাত বা আ'মালে যা আছে সবই ঐতিহাসিক রেওয়ায়েত থেকে সংকলিত কিছু ঘটনা। ভুলে গেলে চলবে না এই দু'টি কিতাবের অধিকাংশই কিন্তু সরাসরি কোরআন-হাদিসেরই সংকলন। এছাড়াও মুন্তাখাব হাদিস তো পুরোটাই শুধু হাদিসসম্ভার যেখানে কিছু কোরআনের আয়াত আর প্রচুর হাদিস ছাড়া কিছু নেই। যেমন 'সত্য স্বপ্ন নবুওতের ৪৬ ভাগের ১ ভাগ' এরকম হাদিস আছে। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনা বা স্বপ্নবৃত্তান্ত পজিটিভ উৎসাহের জন্য ফাজায়েল হিসেবে বলা যেতে পারে, মাসায়েল হিসেবে এসবই এমনকি কাশফও কোন দলিল নয়। 

        1. 13.1.1.1
          মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

          ঠিক আছে,সেটাও মানলাম তর্কের খাতিরে।কিন্তু "ফাযায়েলে আমল" নামের এই বইটা উপমহাদেশ ছাড়া আর কোথাও পড়ায় না কেন?বাকিরা সবাই রিয়াযুস সালেহীন পড়ে কেন?

        2. আহমেদ শরীফ

           
          তর্ক করতে আসলে ঠিক আগ্রহী নই। বিশেষতঃ দাওয়াতে তাবলীগের মেহনতের গভীরতা বাইরে থেকে পুরোপুরি বোঝা যায় না। যতক্ষণ না এর ভেতরে প্রবেশ করা না হবে আসল হাক্বিকত বোঝা যায় না।

          'রিয়াজুল সালেহীন' কিতাবটি সাধারণতঃ আরবরাই বেশি তা'লিম করেন। এর পেছনে অনেক কারণও রয়েছে যেগুলো আলোচনা করতে গেলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে। ফাজায়েলে আ'মাল উপমহাদেশীয় ছাড়াও আরও অনেক ভাষায় অনূদিত, নিয়মিত মুদ্রিত ও পঠিত হয়ে চলেছে। তবুও এটি একটি সংকলনই, ধ্রুব কোন কিতাব নয় যে বদলাবে না। ফাজায়েলের তা'লিম হিসেবে আপাততঃ 'ফাজায়েলে আ'মাল' 'রিয়াজুস সালেহীন' দুটোই চলছে, যাঁরা এগুলোকে রেকমেন্ড করছেন তাঁদের মাঝে বড় বড় অনেক ওলামা হজরত আছেন, তাঁদের পরামর্শের ভিত্তিতেই হয়তো একসময় পরিবর্তিত-সংযোজিত হবে।

        3. 13.1.1.2
          Mijan

          আপনার মন্তব্য এবং যুক্তিগুলো পড়লে মনে হয় যেন আপনি বোঝাতে চাচ্ছেন, ইসলামে কাশফ্‌, কারামতই সব, কুরআন হাদিসের চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

          আর একটি কথা হাদিস সংরক্ষণের প্রয়োজনে হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের প্রয়োজনে যেভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে বিশ্ময়কর শাস্ত্র আসমাউররেজাল সৃষ্টি করেছেন মুসলিম মনিষীরা তার উপর ভিত্তি করে হাদিসের মান যাচাই করা হয়। কিন্তু কাশফ, কেরামতের সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য কোন শাস্ত্র আছে বলে যানা নেই।

          হাকিমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী (রহঃ)র কিতাবে উল্লেখ আছে মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর কাশেম নানুতুবী (রহঃ) (দেওবন্দের দুই শিক্ষকের সংকট নিরসনের জন্য) স্বশরীরে মাদ্রাসার অফিসে এসে হাজির হয়েছিলেন। এটাওতো অনেক বড় কারামত। এই কারামত কি বিশ্বাস করা যাবে? কারামত যদি কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে কোরআনের আয়াত বাদ দিয়ে কারমত বিশ্বাস করা যাবে? কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কারামত কি আল্লাহর পক্ষ থেকে না শয়তানের পক্ষ থেকে যা যাচাইয়ের মানদন্ড কি হবে?

          কাশফ, কারামত নিয়ে এত বাড়াবাড়ি না করে কুরআন এবং সহিহ হাদিসের উপর থেকে দ্বীনের কাজ করলে সমস্যা কি? শিরকী কারামত প্রচার ব্যতীত কি দ্বীনের কাজ করা যাবে না?

    2. 13.2
      AJIM

      SALAM গুরু ………………!!!! আরও চাই ……দাঁত ভাঙ্গা জবাব

       

  64. 12
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @ সালাম শরীফ ভাই,
    আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
    তাবলীগ জামাতে উসিলায় মসজিদে অবস্থান করলে প্রত্যেকের ভিতরে বিনয়ী ও নম্রতার সৃষ্টি হয়, যা মুমিনদের জন্য খুব জরুরী। আর নবীজি(স)-র সুন্নতের অনুশীলনও হয়। ‘দ্বীন প্রচার’-র জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করা, নিঃসন্দেহে উত্তম।
    সিডনী ও ঢাকা-র তবলীগ জামাতের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। পৃথিবী-র সকল স্থানের খবর আমার জানা নাই, আমার জ্ঞ্যান খুবই কম। আমি মন্তব্য করেছি এই দুটি সিটি-কে কেন্দ্র করে। যা অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, তা কিছু বলেছি উপড়ে এবং আপনার মন্তব্যের আগে, সবুর ভাই-র কলামে। তাদের দ্বীনের দাওয়াতের বিবরন বলেছি, যা আমার দেখা। আমি যা বলতে চাচ্ছি, যার কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া হবে, তার অন্তর ও বিবেক-কে যদি না নারানো যায়, তবে সেই দাওয়াত অর্থহীন আর হেদায়েত পৌছবে কিনা তা আল্লাহ ভাল জানেন এবং তিঁনিই তা নিয়ন্ত্রন করেন।
    পূর্বে উল্লেখ করেছি, একজন সত্যিকারের অলি বা মুমিন আল্লার তরফ থেকে যদি অলৌকিক কিছু পেয়ে থাকে, সেটা কখনই বাহিরে প্রকাশ করবে না। জনাব জাকারিয়া কি উদ্দেশ্যে এতগুলো গল্প যোগার করে, বিশাল পুস্তক বানিয়ে প্রকাশ করলেন মানুষের মাঝে? এর কারন কি? যে সব কেরামতি গল্প জামাতের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে, এর অনেক গল্পই সংসার-বিরাগী হিন্দু  ঋষিদের মাঝে বিদ্যমান যা হিন্দুরা দাবী করে।
    অনেক আলৌকিক কেরামতি এখন বর্তমানে প্রচলিত আছে, যার মধ্যে তরিকতে নক্সবন্দিয়া গ্রুপটি সবগুলোর মধ্যে অন্যতম।
    [masud4040@yahoo.com] মেইল করবেন। খুশী হব।  আরও বিস্তারিত বলা যাবে। আপনার উপকার না হলেও, আমার উপকার হবে।    
    আল্লাহ আমাদের সবাই-কে হেদায়েত দান করুন। আমিন।

  65. 11
    আহমেদ শরীফ

    তাবলীগ জামাতের দ্বীনের প্রচারের সিস্টেম ঠিক বলে মনে করি না। কিছু মুসলিম বাসায় গিয়ে নামায পরার কথা বলে চলে আসাটা দ্বীন প্রচার বলে না।

    ভুল কথা বললেন বরং বেনামাজি মুসলিমদের নামাজের দাওয়াত দেয়া এটাও দ্বীন প্রচারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেহেতু তাদের নামাজের দাওয়াত দেয়ার জন্য নতুন করে কোন নবী আসবেন না, ফেরেশতা নাজিল হয়ে বাসায় বাসায় গিয়ে বলবেন না কিংবা বিধর্মীরা এসে বলবে না নামাজের কথা। মুসলিমদেরই বরং মুসলিমদের বাসায় বাসায় দোকানে দোকানে পথে পথে ধরে বোঝাতে হবে। তবে বাসায় গিয়ে শুধু 'নামাজের কথা বলে চলে আসে' এটা ঠিক না, সাধারণতঃ ঈমানি কথা হয় এবং বিশেষতঃ মসজিদে আসার ব্যাপারে আমন্ত্রণ করা হয়। কেন না আল্লাহর ঘর মসজিদের পরিবেশে এসে ঈমান ও আখেরাতের আলোচনা মানবহৃদয়ে বিশেষ প্রভাব সৃষ্টি করে যা অন্য পরিবেশে সাধারণতঃ হয় না।

    আগেই উল্লেখ করেছি, ফাযায়েলে সাদাকাত বইতে যে সব অলি-আউলিয়াদের বরাত দিয়ে অলৌকিক ঘটনা দেয়া আছে, এই রকম অনেক ঘটনা হিন্দু মাইথোলজি আছে। এইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট এবং ধার করা ফালতু ধারনা।

    ওলামায়ে কিরামের মতে মু'জিযা-কাশফ-ক্বারামাত' এসবে সরাসরি অবিশ্বাস করা কুফরি। 'ঈমান' সম্পর্কে প্রকৃত ও বাস্তব ধারণা না থাকার কারণে এটা হয়। আর ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত তৈরি হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত পদ্ধতিগতভাবে এর ওপর মেহনত করা না হয়। বরং অলৌকিক ঘটনা প্রকাশের উদ্দেশ্য সর্বশক্তিমান আল্লাহতা'লার অসীম শক্তির সাথে মানুষের পরিচয় করানো ও বিশেষতঃ যে আ'মালের কারণে ব্যক্তির ওপর আল্লাহর কুদরতি সাহায্য প্রকাশ পায় তার প্রভাবে ওই ওই আ'মালের দিকে উম্মতকে ধাবিত করাই আল্লাহতা'লার উদ্দেশ্য। আল্লাহর প্রতি মানুষকে মুতাওয়াজ্জুহ করা উদ্দেশ্য, ব্যক্তির প্রতি নয়। কিন্তু উপমহাদেশের কিছু মূর্খ মানুষ সেগুলোর অপব্যবহার অপব্যাখ্যা দিয়ে করে মানুষকে আল্লাহর পরিবর্তে ব্যক্তিমুখী করে গোমরাহ করে দিয়েছে। ফাজায়েলে সাদাকাতে বা ফাজায়েলে আ'মাল কোনটাই আসলে মৌলিক কিতাব নয় বরং সংকলন, মাওলানা জাকারিয়া (রহঃ) বিভিন্ন কিতাব থেকে সেগুলো সন্নিবেশিত করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর সুত্রও উল্লেখ করা আছে।

    নবীজি(স) এবং তাঁর সময়ের সকল সাহাবীগনেরা কি ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা তাবলীগীদের জিজ্ঞেস করলে, জামাতের অনেক লোক কিছু বলতে পারে না। তারা পরে আছে, রুপকথার বানোয়াট গল্প নিয়ে।

    খুব সুন্দর প্রহসন করলেন যাহোক ! নবীজী(সাঃ) ও সাহাবা(রাঃ) তরিকায় নিজ জান-মাল-সময় নিয়ে ত্যাগস্বীকার করে ঘরবাড়ি ছেড়ে সফর করে আবার নিজ মহল্লায় থেকে মসজিদে বসে প্লাস বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে যারা আল্লাহর কথা বলে নবী(সাঃ) সাহাবা(রাঃ) দের কথা বলে আল্লাহর দ্বীনের দিকে মানুষকে ডেকে সারাবছর প্র্যাক্টিক্যাল মেহনত করছে, সাহাবা(রাঃ) দের আলোচনা যাদের প্রতিদিনকার মসজিদওয়ার আর ঘরের রুটিন তারাই সাহাবা(রাঃ) দের সম্মন্ধে বলতে পারে না !! আপনি কয়জনকে মিট করেছেন সেটাই জানতে মঞ্চায় ! রুপকথা যদি বলেন তো পুরো কোরআনকেই আজ মুসলিম নামধারী নাস্তিকেরা নাউজুবিল্লাহ প্রিয়নবী(সাঃ) এর স্বরচিত রুপকথা; বলছে পারলে তাদের সাথে যুদ্ধ করে প্রমাণ করুন।

    ৫/৬ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে, নিজের দেশে এই টাকা দিয়ে ‘দ্বীনের প্রচার’-এ ব্যয় করাটাই স্রেয়। তাবলীগ জামাতের উসিলায় কে কতগুলো দেশ ভ্রমন করল, কত জায়গা পরিদর্শন করল এইসব ফালতু কথাবার্তা মুখে থাকলে বুঝতে অসুবিধা হয়না, এদের ভিতরে কি আছে?

    আল্লাহর দ্বীনের প্রচার প্রসারের জন্য যারা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ অকাতরে খরচ করে সাহাবা(রাঃ) এর মত নিজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ত্যাগ স্বীকার করছে তাদের দেখলেই বোঝা যায় তাদের ভেতরে কি আছে, আর যারা তা না করে উল্টো সমালোচনা করে আর দ্বীনের জন্য খরচ করাকে 'ফালতু' বলে অভিহিত করেন _ আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন।

    তবে তাবলীগ জামাতের দাওয়াতের সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে, নয়ত ফায়দা হবে না।

    যেখানে ফায়দা হয় সেখানে মানুষ নিজেই ছুটে যায়। যেখানে নিজের ফায়দা দেখে সেখানে কারো মতামতের তোয়াক্কা মানুষ করে না। পুরো দুনিয়ার মানুষ ছুটেছে আজ নিজের ফায়দার জন্য। ফায়দা হচ্ছে বলেই মানুষ নিজের পয়সা খরচ করে সময় লাগাচ্ছে, দ্বীন শিখছে।

  66. 10
    আহমেদ শরীফ

    @ তাজুল ইসলাম,

    তাবলীগ জামাতের দ্বীন প্রচারের সিস্টেম ঠিক মনে করেন না এরকম অনেকেই আছেন, যদিও নির্ভূলভাবে 'ঠিক' কোনরকম নির্দেশনা বা পদ্ধতির প্রণয়ন প্রদান-প্রতিষ্ঠা করতে তারা সক্ষম হন নি। বরঞ্চ গোটা দুনিয়ায় তাবলীগি মেহনতই ব্যপকভাবে প্রচার-প্রসার লাভ করছে, কারো কারো 'ঠিক' মনে না হওয়া সত্বেও।

    ওয়াজ মাহফিল বা টিভি প্রোগ্রাম দেখে একটা মানুষ পুরোপুরি চেঞ্জ হয় না। কিছু কিছু জিনিস হয়তো শিখতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাবে টিভি থাকলে 'ইসলামিক' জিনিসের পাশাপাশি হয়তো এমন অনেক জিনিস দেখা হয়ে যাবে যা ঠিক 'ইসলামিক' নয়, যাহোক সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। যখন একটা মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্ন চর্চা সাধনা প্র্যাক্টিসের মাঝে থাকে তখনই তার মাঝে ধীরে ধীরে অন্তর্গত পরিবর্তন আসতে থাকে, ওয়াজ মাহফিল টিভি প্রোগ্রাম থেকে মানুষ যখন খুশি উঠে যেতে পারে, পালাতে পারে। আর ক্ষণিকের দাওয়াই হওয়ায় এর আসরও সাধারণতঃ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। জামাতে সময় লাগালে সেখানে পালাবার পথ নেই। একটা চর্চার মাঝে একটা সিস্টেমের মাঝে মানুষ পড়ে যায় যার ফলে তার ভেতরে নিয়মিত ঔষধির মত আল্লাহর হুকুম-আহকাম আর রাসূল(সাঃ) সুন্নাহর গুরুত্ব ঢুকতে থাকে, বাড়তে থাকে, শুনতে থাকে আর মানতে থাকে। মানার অভ্যাসটা হয়। দুনিয়ার পরিবেশে কোরআন সুন্নাহর উল্টো চলার অভ্যাস যেটা ছোটবেলা থেকে গড়ে উঠেছে তার বিপরীত চলার ট্রেনিংটা হতে থাকে। ফিরে এসে দেখা যায় সে কোরআন সুন্নাহর ওপর চলার অভ্যাসটা ফেলে দিতে পারছে না, বরং এর মধ্যে সফলতা দৃষ্টিগোচর হওয়ায় সে দ্বীনের ওপর স্বতঃস্ফূর্ত একটা আগ্রহ অনুভব করছে। এরকমই হয় এবং এরকম যখন আন্তর্জাতিকভাবে সমস্ত জাতি সম্প্রদায়ের ওপর একটা পদ্ধতি লক্ষ-কোটি মানুষের মাঝে ব্যপকভাবে 'প্রমাণিত' হয় _ তখন এরকম একটা মেহনত এর ব্যাপারে কিছু বলার আগে একটু 'চিন্তা' করে বলা উচিত নয় কি ভাই ?

    আপনার বাকি দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারে পরে আসছি কিন্তু আপনার কাছে সঠিক মনে না হলেও যেহেতু মুসলিমদের বৃহত্তম সম্মিলিত জামাত হিসেবে এটি সুসংবদ্ধ হচ্ছে এবং পদ্ধতিটি কার্যকরী হিসেবে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত সেহেতু ইতিবাচক ধারণা নিয়েই কি সমালোচনা করা উচিত নয়, এমনও তো হতে পারে আপনি যা সাধারণ ভাবছেন আদপে তার ভেতরেই রয়ে গেছে আসল রহস্য।

     

    1. 10.1
      AJIM

      মূর্খ বোঝে তর্কে জ্ঞানী বোঝে ইশারায় আবদুস সবুর এবং আরও অনেক কে  ছাত্র হতে হবে …………অনেক শিখার বাকী আছে ওদের

  67. 9
    ফারুক ফেরদৌস

    ভাল লেগেছে লেখাটা। ইসলামের কাজ যে যেভাবেই করছে, েকোন পক্ষেরই একতরফা সমালোচনা করা উচিত নয়। আমরা ঐক্য এবং সহযোগিতার মনোভাব চাই।

  68. 8
    আবদুস সবুর

    আজ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। তাই সবার থেকে কিছুদিনের জন্য ছুটি নিলাম। বাড়ি থেকে এসে আবার আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ

  69. 7
    শাহবাজ নজরুল

    বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মধ্যে তবলিক জামাত অনেক ভালো করছে, একথা অস্বীকার করতে পারার উপায় নেই। আসলে আমার বলতে দ্বিধা নেই -- মনে হয় বড় সংগঠন গুলোর মধ্যে তবলিক জামাত মনে হয় সবচেয়ে কম বিতর্কিত ও কমবেশি দ্বীনের মৌলিক ধারাগুলোকে শাণিত করতে অগ্রগামী। কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। জামাত ওসব সমস্যাকে আশা করি মোকাবেলা করে আরো শক্তিশালী হবে। আর আব্দুস সবুর সাহেব যেভাবে বললেন, সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তবলিগ জামাতের মুক্ত হৃদয়ই আছে। আশা করি এটা সামনে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে ও মুসলিম উম্মাহের সামগ্রিক উন্নয়নে ভালো অবদান রাখবে।
    তার পরেও সবারই কিছু সমস্যা থাকে। একটা সমস্যা মনে হয় বলা হয়নি। আমি যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি অনেক জামাত এসেছেন সেই সুদুর বাংলাদেশ, ভারত থেকে। এখানে হয়ত ৪০ দিন থাকেন। এখানে ২ রকমের সমস্যা আমি দেখি। আমি জানিনা হয়ত আমি অযথাই বড় করে দেখছি। তবে আমার মনে হয়, এতদিন বাড়ির বাইরে থাকলে অনেক সময় নিজ ঘরেই সমস্যা হতে পারে। আবার দ্বিতিয়ত, এত টাকা খরচ করে সুদুর যুক্তরাষ্ট্রে না এসে এই টাকা দিয়ে আরো গঠনমূলক কিছু করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা দরকার। কেননা যদি ৫-৬ লক্ষ টাকা এই বাবদ খরচই হয় তবে কোনো গরীব লোক কিংবা পরিবারকে ঐ অর্থ দিয়ে সাহায্য করলে মনে হয় সার্বিকভাবে ভালো হয়। আমার কিছু মনের ভাব জানালাম। ধন্যবাদ।
     

    1. 7.1
      আহমেদ শরীফ

      @ শাহবাজ ভাইজান,

      ভালই বলেছেন। তবে খরচের অনেক খাতই আছে কোনটাই পুরোপুরি বাদ দেয়ার নয়। ভাবুন এমন অনেক মুসলিম যাঁরা আগে লায়ন্স ক্লাব বা বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বিরাট চ্যারিটি ফান্ডে টাকা দিতেন কিন্তু যাকাত ফরজ হওয়া সত্বেও না বোঝার কারণে আদায় করতেন না, মেহনতের কারণে হেদায়েত পেয়ে শুধু যাকাতটাও যদি আদায় করেন তাহলে শুধু বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের থেকে কি বিপুল পরিমাণ যাকাত গরীব বাংলাদেশি মুসলমানরা পেতে পারে ! যাকাত আদায় না করা ছাড়াও বিভিন্ন অসাধু-হারাম উপায়ে যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন করে করে সম্পদের পাহাড় গড়ার প্রবণতা তার চিকিৎসাই কিভাবে করা সম্ভব ? যতক্ষণ না আল্লাহ ও আখেরাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা-অভিজ্ঞতা তৈরি না হবে ততক্ষণ মানুষ দুনিয়ার লোভলালসা ছাড়তে তৈরি হবে না। মেহনত করে ঈমান ও আ'মাল তৈরি না করলে ভেতরগত অবস্থা ঠিক হবে না, বাইরে শুধু কিছু কেতাবী কথাই থেকে যাবে যার ওপর আমল হবে না।

      সিডর দূর্গতদের সাহায্যার্থে দেখেছি তাবলীগের অনেক সাথী গিয়েছিলেন ট্রাকভর্তি সাহায্য নিয়ে। নিজেরা এক দুই সপ্তাহ উপদ্রুত অঞ্চলে থেকে খাদ্য-অর্থ সাহায্য ছাড়াও অনেক টিনের ঘর তুলে দিয়েও এসেছিলেন। তবে এসবই আল্লাহর জন্য, রাজনৈতিক দলগুলোর মত মিডিয়ায় কোন কাভারেজ হয় নি। এরকম অনেক সাহায্যই করা হয়, খাত তো অনেক, দ্বীনের সহি বুঝ পেলে অনেক মুসলমানই 'খরচ করা' শিখবেন আশা করা যায়।

  70. 6
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    তাবলীগ ছাড়া আর সবাই বাতিল-এবার খুশি তো?

  71. 5
    Najibullah

    আব্দুস সবুর ভাই,

    ইমাম ইবনে তাইমিয়া (র.) এর ব্যাপারে আপনার এবং দেওবন্দের দৃষ্টিভঙ্গিটাকি একটু বিস্তারিত জানাবেন ? আমাদের উপমহাদেশের বিভিন্ন আওলিয়ায়ে কেরামগণের বিভিন্ন দরবার থেকে যে সকল কথা বার্তা শুনা যায় অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়া ও আব্দুল ওহাব নজদী তাসাউফ, কাশফ-কারামত ইত্যাদি তথা আধ্যাত্মিকতা বিরুধী ছিলেন এ ব্যাপারে একটু বলুন ভাই। সকল দরবার ই তো তাদেরকে বিরুপ ভাবে দেখে এমনকি অনেক দেওবন্দি ওলামগণও তাই ইবনে তাইমিয়া ও আব্দুল ওহাব নজদী এ দুজন কতটুকু সহীহ ও কতটুকু বিভ্রান্ত ছিলেন একটু বিস্তারিত বলুন। 

  72. 4
    আবদুস সবুর

     
    তাজুল ইসলাম ভাই,
    ওয়ালাইকুম আসসালাম

    দাওয়াতের ব্যাপারে আপনার আবেগ অবশ্যই শ্রদ্ধার দাবি রাখে। তবে কিছু কথা,

    আপনি বলেছেন,
    সাউথ এশিয়া-র(বিশেষ করে বাংলাদেশ)  তাবলীগ জামাতের গ্রুপ-কে দেখতে পাই, কোরআন বা হাদিসের কোন গ্রন্থ তাদের কাছে নেই। ‘ফাযায়েলে আমল’ ও ‘ফাযায়েলে সাদাকাত’ বই দুটি নিয়েই তারা দ্বীনের কারবার করতেছে। 

    ভাই, ‘ফাযায়েলে আমল’ ও ‘ফাযায়েলে সাদাকাত’ -তে বিষয়ভিত্তিক কুরআন ও হাদীস এসেছে যা আপনি পড়লেই বুঝতে পারবেন।

    আর “বই দুটি নিয়েই তারা দ্বীনের কারবার করতেছে” কথাটি দেখে খুব কষ্ট পেলাম। এখানে আপনি বলতে পারতেন,

    “বই দুটি নিয়েই তারা যতটুকু সম্ভব দাওয়াতের কাজ এবং ইসলামের বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে”
     
    >>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

    আপনি বলেছেন,
    তারা অলি ও আওলিয়াদের যে গল্প বলে, এতে শুধু লজ্জা এবং আফসোস হয় তাদের মন-মনসিকতা দেখে। ইসলাম ধর্ম অবশ্যই রুপকথার আবেগী-মার্কা কথা-বার্তা নয়।

    ইসলাম কি বলে তা মুখে মুখে এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে প্রকাশ না করে একটু ৪নং প্রশ্নউত্তরটি দেখুন।

    সাথে আরো জানুন,

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(রহ) এর মতে কারামত সত্য এবং তা প্রকাশ করা হয় সমসাময়িক কালের মানুষের ঈমান বৃদ্ধির জন্য,যাতে তারা অলৌকিক ঘটনা দেখে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার উপর বিশ্বাস পোক্ত হয়। ( মাকামে সাহাবা কামারাতে সাহাবা- ১০৩)

    এমনকি ইবন্যুল কায়্যিম(রহ) তার "মাদারিজুস সালেকীন" নামক কিতাবে তার উস্তাদ ইবনে তাইমিয়া (রহ) এর কারামাতগুলো সন্নিবেশিত করেছেন।

    ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) তার ফতোয়ার কিতাব ১১ খণ্ডের ২০৪ পাতায় কি লিখেছেন- " হযরত উমর (রা) ব্লতেন, তোমরা নেক লোকদের সামনে যখন যাবে,তারা যা কিছু বলেন তা মেনে নিবে। কারণ তাঁদের কাছে সত্য প্রকাশ পায়। হযরত উমর(রা) যে সমস্ত সত্য বিষয়ের কথা বললেন , তা হল ঐ সমস্ত জিনিস যা আল্লাহ পাক তাঁদের কাছে খুলে দেন। কারণ এটা প্রমাণিত যে, ওলীয়াল্লাহগণের কাশফ হয় এবং গায়েবীভাবে তাঁদেরকে সম্বোধন করা হয়।"

    তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর মোজেজা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন- " এমনকি উম্মতের নেককার লোকদের কারামতসমূহও তাঁর নবুওয়াতের মু'জিযা বলে গণ্য হবে।" (আল জাওয়াব, খঃ ৪,পৃঃ ৮৬-৯৫)

    >>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

    আর বাকী কথাগুলো পড়ে মনে হল আসলে আপনি কিছু শুনা কথার উপর নির্ভর করে তাবলীগ জামাতের বিরোধীতা করছেন। দয়া করে তাদের সাথে কিছু সময় দিন
    (অর্থাৎ নুন্যমত 120 দিন সময় দিন। আশা করি, তখন আপনার অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়েছে যাবে।)

     

    1. 4.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      @ আসসালামু আলাইকুম সবুর ভাই,
      আপনার অনেক বিষয়ে আমি একমত নই, আবার অনেক বিষয় আমার জানা নাই। আমার জ্ঞ্যান খুবই কম।  আমার অনেক বিষয় জানার ছিল এবং তা আমার জন্য খুবেই জরুরী। এখানে শুরু করলে মহাভারতের মতই লম্বা হবে যা এডমিনসহ পাঠকগন  বিরক্ত হবে। [masud4040@yahoo.com] ই-মেইল আইডি। ই-মেইল করলে খুব খুশী হব।
      কারো সাধ্য নাই, দ্বীনের কাজ করার যদি না আল্লাহ তার উপর রাজী থাকেন। দ্বীনের ব্যাপারে আবেগী বা কঠিন বাস্তবতার কথা যাই বলি, আল্লাহ না চাইলে আমার  কিছুই করার ক্ষমতা নাই। “আমি”-র ভিতরে নিজের আমি-কে যে ঢুকাতে না পেরেছে, তার পক্ষে ‘মুমিন’ হওয়া কঠিন।  এটা আল্লাহ্‌র ইচ্ছা।
      আশাকরি, আপনার সাথে ই-মেইলে সাক্ষাত হবে। ভাল থাকুন।

      1. 4.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        @সবুর ভাই, ক্ষমা চাই আপনি আমার কথা থেকে যে কষ্ট পেয়েছেন। তারাতারি লিখতে গিয়ে ভাষার ব্যবহার সুন্দর করতে পারি নাই।

        1. 4.1.1.1
          আহমেদ শরীফ

          বর্তমানে তামাম দুনিয়ায় ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি যে বিরুপ ধারণা বিধর্মীদের এমনকি স্বয়ং অনেক নামধারী মুসলিম সন্তানদেরই তৈরি হয়েছে, যার অনেক চিহ্ন ফেসবুক-ব্লগ ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে দেখা যায় নাস্তিকতা-ইসলামের সমালোচনা বিষয়ক _ তা দূরীকরণে আপনি কোরআন-হাদিসের দলিল দিয়ে দেখুন কতটুকু সুবিধা করতে পারেন, খোদ কোরআন-হাদিসেরই যেখানে সমালোচনার ঝড় বইছে সেখানে দলিল দিয়ে আর কি করবেন ? যা চেষ্টা চলছে তা ঝড়ের মুখে খড়কুটোর মতন। ইসলামের বিভিন্ন আইন, খোদ কোরআনি আইনেরই সমালোচনা চলছে ধুমসে, ইসলামের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে, অনেক নামধারী মুসলিম সন্তান আজ বিধর্মী-অবিশ্বাসীদের লেখা ভ্রান্ত 'ইসলামের ইতিহাস' পড়ে সেসবের রেফারেন্স দিয়ে বিতর্ক করছে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেই ইসলাম খাঁটিভাবে কতটুকু মানা হচ্ছে ? সব মিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা আজ ইসলামের।

           ইসলামের আসল নকশা ছিল রাসূল(সাঃ) ও সাহাবা(রাঃ) দের মাঝে, জীবন্তভাবে, মানুষ তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছে ও দলে দলে দ্বীনের দিকে এসেছে। তাঁরা ছিলেন জীবন্ত কোরআন, ইসলামের জীবন্ত চলমান রুপ। আজ সেরকম মানুষ তৈরির চেষ্টাই এই তাবলীগি মেহনতের মাধ্যমে করা হচ্ছে, এই জামানায়। সেইভাবেই ইসলামের জন্য ঘরবাড়ি-বিবিবাচ্চার আরামআয়েশ ছেড়ে আগের জামানার মত। কিছু কেতাব পড়ে নিজে নিজে বুঝে নিয়ে বয়ান ঝেড়ে দেয়ার নাম ইসলাম নয় বরং এটি তো ক্রমাগত ত্যাগতীতিক্ষার মাধ্যমে এক নিরন্তর সাধনা যা মৃত্যু না আসা পর্যন্ত চলতেই থাকে। এটির ভেতরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত বাইরে থেকে কিছু আসলেই বোঝা যায় না, যারা সেই চেষ্টাটি করে তারা এমন এক বিরাট ভুল করে যা কোন উদাহারণ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।

          যেখানে নিজের জান-মাল-সময় খরচ করে সাহাবাদের(রাঃ) পদ্ধতিতে ত্যাগস্বীকারের মাধ্যমে গোটা দুনিয়াব্যাপী মেহনত চলছে সেখানে অন্ততঃ ৩ দিনের জামাতে গিয়ে নিজে দেখুন কেমন লাগে। বাংলাদেশে এই মূহুর্তে অনেক বিদেশী জামাত আছে যেখানে নওমুসলিমরা আছেন। এই তো চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এক জামাতে সোমবার যাওয়ার প্রোগ্রাম আছে যেটা রাশিয়ান জামাত এবং যেটার আমীর একজন রাশান নওমুসলিম। ইমাম বুখারির দেশ থেকে আসা।

          তা'লিমের কিতাবের অনেক সমালোচনা অনেকেই করছেন। কাজ করার চেয়ে সমালোচনা করা যেহেতু অনেক সহজ ও ঝামেলাবিহীন তাই বাংলাদেশে সমালোচকের অভাব কোনকালেই ছিল না। কোরআন-হাদিস থেকে বাছাইকৃত সংকলন হচ্ছে ফাজায়েলে আমাল, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে অনেক বড় একজন আলেমের লেখা কিতাব, সম্ভবতঃ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভাষা্য অনূদিত-পঠিত কিতাবগুলোর একটি এটি।

          আপনি কিতাব না দেখে কিতাবের প্রতিক্রিয়া দেখুন, ফলাফল দেখুন, আজ সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মাঝে কোরআন ও সুন্নাহর গুরুত্ব, আ'মাল 'জীবন্তভাবে' কোন মেহনতের দ্বারা আসছে।

        2. মোঃ তাজুল ইসলাম

          সালাম শরীফ ভাই,
          সুন্দর বলেছেন।
          rel="nofollow">
          লিঙ্ক দিলাম, সময় হলে দেখবেন (যদি দেখে থাকেন, আবার দেখুন)। বি বি সি ডকুমেন্টারি-তে আসল ইসলাম ধর্ম-কে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন  ভদ্রলোক।  
          আমাদের নবীজি(স) মারা যাবার পর ইসলামের পরবর্তী অনুসারীগণ  নিজেদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, মারামারি, দলাদলি, মতানৈক্য সৃষ্টি করে গেছেন, তার প্রভাব ব্যাপক-ভাবে এখনও আমাদের মাঝে বিস্তার করে আছে। ইসলাম থেকে তাদের সৃষ্ট বিভ্রান্তি-গুলো দূর করা যায়নি এবং এটা দূর না করতে পারলে, ইসলামের সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব না পৃথিবী-ব্যাপী। তার আগে প্রধান শর্ত, নিজের ‘আমি'-কে সম্পূর্ণরুপে বিশুদ্ধ করতে হবে।
          তাবলীগ জামাতের দ্বীনের প্রচারের সিস্টেম ঠিক বলে মনে করি না।  কিছু মুসলিম বাসায় গিয়ে নামায পরার কথা বলে চলে আসাটা ‘দ্বীন প্রচার’ বলে না। আগেই উল্লেখ করেছি, ‘ফাযায়েলে সাদাকাত’ বইতে যে সব অলি-আউলিয়াদের বরাত দিয়ে অলৌকিক ঘটনা দেয়া আছে, এই রকম অনেক ঘটনা হিন্দু মাইথোলজি আছে। এইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট এবং ধার করা ফালতু ধারনা। নবীজি(স) এবং তাঁর সময়ের সকল সাহাবীগনেরা কি ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা তাবলীগীদের জিজ্ঞেস করলে, জামাতের অনেক লোক কিছু বলতে পারে না।  তারা পরে আছে, রুপকথার বানোয়াট গল্প নিয়ে।
          ৫/৬ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে, নিজের দেশে এই টাকা দিয়ে ‘দ্বীনের প্রচার’-এ ব্যয় করাটাই স্রেয়। তাবলীগ জামাতের উসিলায় কে কতগুলো দেশ ভ্রমন করল, কত জায়গা পরিদর্শন করল এইসব ফালতু কথাবার্তা মুখে থাকলে বুঝতে অসুবিধা হয়না, এদের ভিতরে কি আছে?    
          অবশ্যই, দ্বীনের কাজে নিজের ‘আত্ম’-নিয়োগ করা অতি উত্তম কাজ। তবে তাবলীগ জামাতের দাওয়াতের সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে, নয়ত ফায়দা হবে না।
          ভাল থাকুন।

  73. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @আব্দুস সবুর ভাই,
    সালাম।
    আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
    তাবলীগ জামাতের সাথে প্রথম পরিচয় হই সিডনী-তে। অনেক  দেশের মুসলিম সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়। সবাই দাওাতের উদ্দেশ্যে সমাগম হয়। সাউথ এশিয়া-র(বিশেষ করে বাংলাদেশ)  তাবলীগ জামাতের গ্রুপ-কে দেখতে পাই, কোরআন বা হাদিসের কোন গ্রন্থ তাদের কাছে নেই। ‘ফাযায়েলে আমল’ ও ‘ফাযায়েলে সাদাকাত’ বই দুটি নিয়েই তারা দ্বীনের কারবার করতেছে। এই বই দুটি অনুসরন করার জন্য অন্যদের অনুপ্রেরন করে যাচ্ছে। এইগুলো বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা অলি ও আওলিয়াদের যে গল্প বলে, এতে শুধু লজ্জা এবং আফসোস হয় তাদের মন-মনসিকতা দেখে। ইসলাম ধর্ম অবশ্যই রুপকথার আবেগী-মার্কা কথা-বার্তা নয়। আর সবাই যে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে এখানে আসছে, তার কিছুই হচ্ছে না। কিছু মুসলিম ফামিলির বাসায় গিয়ে নামায পরার কথা বলে চলে আসে। তাদের বলার ধরন একেবারেই ফালতু। দাওয়াত দিতে গিয়ে যদি স্রোতার অন্তর ও বিবেক-কে নারাইতে না পারা যায়(হেদায়েত আল্লাহ-র কাছে), তবে সেই দাওয়াত অর্থহীন। স্রোতাদের চেহারা দেখলেই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তারা খুব বিরক্ত বক্তার প্রতি। ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলতে পারছে না। অল্প কিছু মুসলিম ফ্যামিলি ছাড়া অমুসলিমদের মাঝে তাদের দাওয়াত প্রচার হতে দেখা যায় না।
    ইহা আমার দুর্ভাগ্য যে, দাওয়াতের কাজে নিজকে আত্ম-নিয়োগ করতে পারিনি। তাই দাওয়াতের রাস্তা তৈরি করতে পারিনি। নিঃসন্দেহে এই রাস্তা তৈরি করা অনেক অনেক কঠিন। ইন-শা-আল্লাহ, আমি আমার “আমি”-র জগতের ভিতরে ঢুকব।
    ভাল থাকুন।

    1. 3.1
      সৌর কলঙ্কে পর্যবসিত

      @তাজুল ইসলাম ভাই,

      আপনি জানেন ??? শ্রীলংকাতে সরাসরি অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত দেয়া চালু করা হয়েছে ………… আমাদের দেশে কেন হয় না?? বা আপনার সিডনীতে?? যদি দাওয়াত দেয়া হয়, তখন বলে, ঐ যে , অমুক মুসল্মান, ও তো নামাজ পড়ে না, চুরি করে, ঘুশ খায়…………………

      শ্রীলংকাতে যতজন মুসলিম আছে, ১০০ ভাগ পরিবার নামাজি, দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের দেশে ঐ পরিবেশ এলে, এখানেও অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত দেয়া হবে…।। তাছাড়া একজন ঈমানহীন মানুষ জাহান্নামে যাওয়ার চেয়ে একজন ঈমানদার জাওা কি বেশি দুঃখজনক নয় ?

      1. 3.1.1
        F. Ahamed

        @সৌর কলঙ্কে পর্যবসিত

        "আমাদের দেশে ঐ পরিবেশ এলে, এখানেও অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত দেয়া হবে…।"

        ভাই আমাদের দেশে ঐ পরিবেশ কবে আসবে? বাঙ্গালিরা না হয় খারাপ। USA, England, India এরাও কি খারাপ? USA, England, India 'র মত দেশে কি অমুসলিমদের দাওয়াতের কাজ চলছে না? হাজার হাজার অমুসলিম মুসলমান হচ্ছে এই দাওয়াতের মাধ্যমে, ড. জাকির নায়েক, শাইখ খালিদ ইয়াসিন, ইউসুফ ইস্টেস, আব্দুর রহিম গ্রীন ওনারা যে দেশে বাস করেন সেই সব দেশে কি মুসলিমদের ঈমানের অবস্থা বাংলাদেশের চাইতে ভাল? ওনারা কিভাবে অমুসলিমদের দাওয়াত দিচ্ছেন?

        বাংলাদেশ ভাল হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাহলে, বাংলাদেশ ভাল হওয়ার আগ পর্যন্ত যে লাখ লাখ, কোটি কোটি অমুসলিম জাহান্নামে যাচ্ছে, এদের দায়ভার কে নেবে? দাওয়াতের জন্য পুরো জাতিকে বদলাতে হয় না ভাই, দাওয়াতের জন্য দায়ীকে বদলাতে হয়। আমাদের প্রিয় নবী করিম (সাঃ) এর তো এরকম একটি ঈমানদার মুসলিম জাতি ছিল না। তিনি একাই দাওয়াত শুরু করেছিলেন। তার কাছ থেকেই আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

        আর এত বিতর্কিত একটি বই ফাযায়েলে আমাল বাদ দিতে সমস্যা কি? এর বদলে রিয়াদুস সালেহীন বা অন্য একটি সহীহ কিতাব অনুসরণ করতে সমস্যা কি?

        আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (সাঃ) এবং সাহাবী (রাঃ) ছাড়া কারো কথাই অন্ধভাবে মেনে নেয়া উচিত না ভাই। সে যত বড় আলেমই হোক অথবা যতবড় বূজুর্গই হোক।

        বি।দ্র। লেখালেখির অভ্যাস নেই তাই আর এখানে লিখলাম না। পারলে ফাযায়েলে আমালের ২ খন্ডটা পরে নিয়েন (বিশেষ করে ফাযায়েলে দরূদ এবং ফাযায়েলে হজ),। আমিও এক সময় তবলীগ জামাতের সাথী ছিলাম। আশা করছি এ জামাত সংশোধিত হলে আবার সাথী হয়ে যাব ইন-শা-আল্লাহ।

        আল্লাহ আমাদের সরল সঠিক পথ দেখান। আমিন।

  74. 2
    আবদুস সবুর

     
    তাজুল ইসলাম ভাই, আপনি বললেন,
     কিন্তু এই দাওয়াতের যে পদ্ধতি বা পন্থা তাবলীগ জামাত আনুসরন করে, তা সঠিক নয়। এই আধুনিক সময়ে তাদের এই পদ্ধতির অমুসলিমদের প্রতি  গ্রহনযোগ্যতা অনেকটা পরিতেক্ত।

    এটা কতটুকু পরিত্যক্ত দয়া করে তাদের সাথে সময় লাগিয়ে দিখুন। বাস্তব অবশ্যই দেখতে পারবেন।

    আপনি বলেছেন,
    কোরআন-হাদিস বাদ দিয়ে তাদের ‘ফাযায়েলে আমল’ কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আবার কোথাও তাবলীগের একটা গ্রুপ এই কিতাব-কে নিয়ে বাড়াবাড়ি-তে লিপ্ত।

    জবাব 5, 6, 7 নয় প্রশ্নউত্তরে দেয়া আছে।

    আপনি বলেছেন,
    এই কিতাবে যেই সব ঘটনা অলি-আওলিয়ার বরাত দিয়ে লিখা আছে, যা তাদের জীবনে ঘটে গেছে, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই-সব অনেক ঘটনা হিন্দু মাইথলজি-তেও পাওয়া যায়, যা তাদের ঋষিদের জীবনে ঘটে গেছে।

    ৪নং প্রশ্নউত্তর দেখুন।

    আপনি বলেছেন,
    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, সত্যিকারের পীর বা অলিগন যদি সৃষ্টিকর্তা হতে অলৌকিক কিছু পেয়ে থাকেন, তা সাধারন মানুষদের কাছে কখনও প্রকাশ করেবেন না।

    অলৌকিক কিছু যদি কোন অলীগণের জীবনে ঘটে থাকে তবে এতে তাদের কোন অবদান নাই, আল্লাহ সীমিত সময়ের জন্য তাদের দ্বারা অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারেন। এতে তাদের কোন অবদান নেই।
    এবং তারা প্রকাশ করবেন না সত্য, কিন্তু কিছু ঘটনা এমন আছে যা সাধারন মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং সেগুলোই মানুষ প্রকাশ করে। 

    আপনি বলেছেন,
     পৃথিবীর সকল নাস্তিকেরা সকল ধর্ম বাদ দিয়ে শুধু ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, কারন আমরা মুসলমানেরা সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি করি।

    শুধু এই কারনেই তারা শুধু ইসলামকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করে না। বাড়াবাড়ি করার আরো অনেক কারন আছে . . .

    ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়েছে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ডের জন্যে এবং টাকার বিনিময়ে নাস্তিকতা,
    http://www.facebook.com/note.php?note_id=461524157197152
    আপনি বলেছেন,
    যেভাবে দ্বীনের প্রচার করা উচিত, তাবলীগ জামাত তা করে না।

    আপনি যেভাবে প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন সেভাবে শুরু করুন। ইনশাআল্লাহ আমি আপনার সাথে থাকব। তবে যতদিন শুরু করছেন না ততদিন কারো ক্রুটিযুক্ত কাজ নিয়ে কথা বলা বোকামী . . .

    (আর হ্যা কিভাবে করা উচিত সেই ব্যাপারে কিছু বললেন না যে)
     

    1. 2.1
      বাদল

      ইলিয়াসী তাবলিগ জামায়াত ১ চিল্লা, ২ চিল্লা, ৩ চিল্লা এবং জীবন চিল্লার প্রথাটি কোথায় থেকে পেল? দয়া করে জানাবেন। এছাড়া, আপনি তাবলিগের দাওয়াত দিতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। আপনি কি নিজের ঘরে কখনও তাবলিগের দাওয়াত দিয়েছেন? 

      1. 2.1.1
        আহমেদ শরীফ

        প্রথমতঃ 'ইলিয়াসি তাবলীগ জামাত' বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। এটা বিদ্বেষপূর্ণ একটি সম্বোধন যা নাকউঁচু কিছু সৌদি ওলামারা করে থাকেন যারা নিজেদের ছাড়া তাবৎ মুসলিম বিশ্বের আর কোথাও কোন হক্কপন্থি আলেমওলামার অস্তিত্ব আছে বলে মনে করেন না। ওনাদের ধামাধারী বেতনভুক্ত কিছু উপমহাদেশীয় কর্মচারী যারা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে উদয় হয়ে অসুস্থ উম্মাদের মতন প্রতিদিন নিজেদের ছাড়া আর বাকি সবার সমালোচনা নিন্দার বন্যা বইয়ে দিতে থাকেন _ তারা ও তাদের অর্ধশিক্ষিত মুরিদদের এধরণের কুৎসিত উক্তি করতে শিখিয়ে থাকেন।

         

        সৌদি রাজতন্ত্রের তেল বিক্রির পয়সায় পোষা এই গৃহপালিত প্রাণীসদৃশ বশংবদ চামচাদের ও তাদের গুণগ্রাহীদের কথা শুনলে মনে হয় যে জগতে ওনারাই একমাত্র সঠিক পথের ওপর আছেন বাকিরা বিভ্রান্ত। এনারা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন গীতবাদ্যের ফাঁকে ফাঁকে ইসলামী টাইপ অনুষ্ঠান সাজিয়ে ইসলামী জ্ঞান বিতরণের ভান করে নিজেদের ছাড়া তাবৎ ইসলামী দলের ১৪ পুরষ উদ্ধার করে নিয়মিত বিষোদগার করে সৌদি রাজতন্ত্রের লুটপাটতন্ত্র তথা মুসলিম বিশ্বের মোড়লগিরি আপ্রাণ চামচাগিরির মাধ্যমে ধরে রাখার চেষ্টা করতে থাকেন। পরিশ্রমবিমুখ বিভ্রান্ত আরামপ্রিয় মুরিদরা সেই চর্বিতচর্বণ গিলতে গিলতে দিনকে দিন নিজেদের পীরসাহেবদের মতই দূর্বিনীত-সমালোচনামুখর-নিন্দামুখর হয়ে উঠতে থাকেন। একদিকে নিজেদের ছাড়া ভয়ংকরভাবে আর বাকি সবার ১৪ পুরুষ উদ্ধার এবং নিজেদের পরম সঠিক মনে করে অর্থহীন অসুস্থ আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে থাকা _ এটাই মোটামুটি ঐ দর্শনের সারসংক্ষেপ। অন্যদিকে নিয়মিত তেলবেচা সৌদি বাজেট পেয়ে ধন্য হয়ে লোকাল পীরসাহেবরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সুযোগ বুঝে অন্য জিনিস হাসিল করার তালে থাকেন। একদা ৬৪ জেলায় একসঙ্গে বোমা বিস্ফোরণের যে ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছিল তা এনাদেরই ঐতিহাসিক তেলেসমাতি ! এদের পাল্লায় পড়লে সারা জীবনেও ইসলামের কিছু শেখার কোন সম্ভাবনা নেই কাজেই তাদের কাছ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

         

        একই প্রশ্ন যার উত্তর বার বার দেয়া হয়েছে তা আবার করার পন্ডশ্রম থেকে বাঁচার জন্য একটু খুঁজে দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন। আপনার নিজের জেলায় বা এলাকায় এমন লোক আপনি খুঁজে পাবেন যিনি এই কাজ করার পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তাদের নিয়েই এ কাজ করছেন। সবাই অবশ্য হেদায়েত হবে না রাসূল(সাঃ) এর নিকটাত্মীয়দের সবাই এই দ্বীন গ্রহণ করেননি অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও নিকটাত্মীয়রা সবাই মেনে নিয়েছে এরকম খুব কমই পাওয়া যাবে।

         

        নিজের ঘর-পরিবারের ফিকির রাসূল(সাঃ) নিজেরই আমল ও উম্মতের প্রতিও নির্দেশ। সেটা সবাই কমবেশি করেও থাকে তবে ফলাফল সবসময় হয়তো সমানভাবে দেখা যায় না। সেই কথা রাসূল(সাঃ) ও অন্যান্য নবীদের যুগের জন্যও প্রযোজ্য। তো রাসূল(সাঃ) তায়েফ গেছেন অথচ খোদ মক্কাতেই ওনার ঘনিষ্ট অনেক আত্মীয়স্বজন হেদায়েত হন নি _ এ কথা বললে যেমন শোনায় আপনার প্রশ্নটিও কি কিছুটা তেমনই শোনাচ্ছে না ? 🙂

         

  75. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    তাবলীগের উসিলায়, মসজিদে অবস্থান করে, নিজের অন্তর-কে দ্বীনের জন্য প্রস্তুত করতে সঠিক পরিবেশ পায় এবং কোলাহল সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে সাধনার ক্ষেত্র তৈরি করা যায়(যাদের ঘরের পরিবেশ নেই)। মসজিদ অবশ্যই অন্তর কঠোর হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। যারা ৪০ বা ১২০ দিন মাসজিদে কাটায়, অবশ্যই তারা একটা নম্রতার আবরন লাভ করে। আর এই নম্রতা বিনয়ির জন্য/নামাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জরুরী।
    নিঃসন্দেহে দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়া একটি উত্তম কাজ। কিন্তু এই দাওয়াতের যে পদ্ধতি বা পন্থা তাবলীগ জামাত আনুসরন করে, তা সঠিক নয়। এই আধুনিক সময়ে তাদের এই পদ্ধতির অমুসলিমদের প্রতি  গ্রহনযোগ্যতা অনেকটা পরিতেক্ত। এইভাবে দ্বীনের প্রচার হয় না। এটা খুব লক্ষ্য করা যায় যে, কোরআন-হাদিস বাদ দিয়ে তাদের ‘ফাযায়েলে আমল’ কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আবার কোথাও তাবলীগের একটা গ্রুপ এই কিতাব-কে নিয়ে বাড়াবাড়ি-তে লিপ্ত। আর এই কিতাবে যেই সব ঘটনা অলি-আওলিয়ার বরাত দিয়ে লিখা আছে, যা তাদের জীবনে ঘটে গেছে, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই-সব অনেক ঘটনা হিন্দু মাইথলজি-তেও পাওয়া যায়, যা তাদের ঋষিদের জীবনে ঘটে গেছে।
    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, সত্যিকারের পীর বা অলিগন যদি সৃষ্টিকর্তা হতে অলৌকিক কিছু পেয়ে থাকেন, তা সাধারন মানুষদের কাছে কখনও প্রকাশ করেবেন না। বাড়াবাড়ি কখনই ভাল নয় এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার এটি একটি কঠিন বাধা। পৃথিবীর সকল নাস্তিকেরা সকল ধর্ম বাদ দিয়ে শুধু ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, কারন আমরা মুসলমানেরা সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি করি। বাড়াবাড়ি মতানৈক্য তৈরি করে এবং শান্তি ধ্বংস করে। পৃথিবীর সকল অমুসলিমেরা ‘ইসলাম’ নিয়ে নেগেটিভ ধারনা পোষণ বা ‘ইসলাম’-র বিরুদ্ধে যে কর্মে  লিপ্ত তার জন্য আমারা মুসলমানেরাই দায়ী। যেভাবে দ্বীনের প্রচার করা উচিত, তাবলীগ জামাত তা করে না।

    1. 1.1
      সৌর কলঙ্কে পর্যবসিত

      অমুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক,হেদায়াত তার উপর নিরভরশিল না। রাসূলের (সা) ঘটনাই তার প্রমান।

      যে হেদায়াত চাইবে, আল্লাহ তাকে হেদায়াত দিয়ে থাকেন। তাবলীগের মূল কথা হল, আমরা নিজের ঈমানকে শক্ত সামর্থ্য করার জন্য দাওয়াত দেই, নিজেদের হেদায়াত চাই ।  দাওয়াতের কাজ তো করেছেন আম্বিয়া (আঃ) , সাহাবায়েকেরাম (রা), অলীআল্লাহ গন। আমরা কেবল দাওয়াতের কাজের সাথে জুড়ে আছি তা শেখার নিয়তে, শিক্ষার্থী হিসেবে,ও জুড়ে থাকার দ্বারা আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি পাবার আশায় । আর শিক্ষার্থীদের ছোটোখাটো ভুল তো ক্ষমা করা হয়ে থাকে।

      যাই হোক, আমরা মুসলিমরা বাড়াবাড়ি করি না। রাসূলের (সাঃ) যুগেও ইসলামের বিপক্ষে কথা বলার লোক ছিল, চিরকাল থাকবে, আর তাদের পেছনে শয়তানের ইন্ধনের কথা ভুলে গেলেও চলবে না। দ্বীনের প্রচারের কাজ রাসূলের (সাঃ) যুগে যেভাবে হয়েছে, তাবলীগ জামাত তার সবচেয়ে নিকটবর্তী সংস্করন(ওলামা হযরতের পর)।

      1. 1.1.1
        সাদা মন

        অবশ্যই সত্য বলিয়াছেন

    2. 1.2
      ইকবাল

      আস্‌সালামুআলাইকুম।

      আমার স্বল্প জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করাই উদ্দেশ্য।

      অামাদের (মুসলিম জাতির) অনৈক্যের মূল কারণ আমরা কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীসের চর্চা (অধ্যয়ন) ও অনুশীলণ (ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আর্ন্তজাতিক জীবনে) করা ছেড়ে দিয়েছি প্রায় ( অতি সামান্য কিছু মুসলিম ব্যতীত)। আসি তাবলীগের কথায়, তাবলীগকে বা এর অনুসরণ কারীদের প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও কিছু সময় তাবলীগে ছিলাম। কাছ থেকে দেখছি তাবলীগের কার্যক্রম ও এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য। আমায় সবচেয়ে অভিভূত করেছে তাবলীগের সাথি ভাইদের ( যারা দীর্ঘদিন বিশেঃষত ৪০/১২০ দিন বা ততোধিক সময় লাগিয়েছেন) সুন্দর ও কোমল ব্যবহার, নিজে কষ্ট করে দ্বীনি ভাইয়ের উপকার করার মানসিকতা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জান, মাল, সময় নিয়ে আল্লাহর পথে বের হওয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি আমি যে জিনিসগুলোর অভাব অনুধাবন করেছি সেগুলি হলোঃ ইসলামের আংশিক অনুসরণ। মুহাম্মদ (সঃ) যেমন ছিলেন আল্লাহর রাসূল ( আল্লাহর প্রেরিত দূত, কুসুম কোমল চরিত্রের অধিকারি আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে পাহাড়ের মত অটল ও পাথরের চেয়েও কঠিন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাকারী) তেমনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক (মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান)। তাঁহার অনুসারী আবুবকর (রাঃ), উমর ফারুক (রাঃ), উসমান (রাঃ), আলী (রাঃ) ( সহ সকল সাহাবী) একদিকে ছিলেন দ্বীনের দায়ী (দ্বীন প্রচারক), ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী (ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আর্ন্তজাতিক জীবনে), অত্যাচাকারির যম, দুর্বল,মজলুম,অসহায়ের আশা ভরসার প্রতীক। তাঁহারা যখন ইসলাম গ্রহন করেন একইসাথে এর সকল শাখার (আত্ম-সংশোধন,দাওয়াত, আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, ন্যায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা) অনুশীলণ করেন। তাবলীগের এই পয়েন্টগুলিতে কিছু সংশোধন আশা করি। তাবলীগ যেমন দাওয়াতকে গুরুত্ব দিচ্ছে পাশাপাশি তেমনি সুশাসন আর ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও এগিয়ে আসা অত্যাবশ্যক। কারণ পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ দ্বীনের পথে চলে আসলে আপনা অাপনিই ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টিত হয়ে যাবে, এ ধারণাটি সঠিক নয়। রাসূল (সঃ) এর ২৩ বছরের জীবন (নবী হিসেবে) ছিল একদিকে দাওয়াত অন্যদিকে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই ২৩ বছরেই তিনি ইসলামকে পূর্ণতা দিয়েছেন দাওয়াত এবং ন্যায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আমাদের জীবনেও একইভাবে দাওয়াত এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম একই সাথে চালিয়ে যেতে হবে। দাওয়াতকে বাদ দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যেমন অপূর্ন তেমনি ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র দাওয়াত ইসলামের পূর্নতা দেয় না। কারণ ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ  জীবন (ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আর্ন্তজাতিক) ব্যবস্থা। শুধুমাত্র বিভিন্ন ইসলামি দলগুলোর (তাবলীগ- দাওয়াত যাদের মূল লক্ষ্য, জামায়াতে ইসলামী-ন্যায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে অমুসলিমদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা যাদের মূল লক্ষ্য, হিযবুত তাহ্‌রীর- খিলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠা যাদের মূল লক্ষ্য, ইসলামী শাসনতন্ত্র- ইসলামের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা যাদের মূল লক্ষ্য )  মুরুব্বিদের ঐক্যমতের (স্ব স্ব দলের ছোট ছোট ভুলগুলির সংশোধনের মাধ্যমে) আন্দলোনই ইসলামকে বিজয়ী করতে পারে সকল বাতিল পদ্ধতির বিরুদ্ধে। আমিন। 

       

      1. 1.2.1
        সাদা মন

         

        ভাই…।

        সুন্দর বলেছেন , কিন্তু …আপনি জেনে থাকবেন ইসলামের প্রথম দিকে শরীয়া আঈন গুলো আল্লাহর পক্ষ হইতে কখন নাজিল হয় । মদের আঈনের কথা ধরুন ,প্রথম দিকে মদ খেয়ে নামাজ পড়া জায়েয ছিল…।। যখন সাহাবীরা মদকে ছাড়ার জন্নো ঈমানী দিকে পরিপুরন।।তখন ঈ মদ কে হারাম ঘোষোনা করা হয়………।

        পরদার আয়াত ও সেইম ভাবেই আসে…… শরীয়াতের আঈন গুলির বেশির ভাগ রাসুল (স) মদিনা জীবন হতেই আরম্ব হয়……।।

        এই আঈন গুলো মানার জন্য মক্কী জীবনে দীরঘ ১১ বছর তাদের ঈমানী পরীক্ষা দিতে হয় …

        একটা হুকুম এসেছে তো তারা তা মানতে জান দিতে প্রস্তুত……

        এটার মূল ছিল তাদের ঈমান ।

        তো এখনকার মুসলিম দের ঈমান কোন স্তর এ আছে তা আপনি আমি একটু মাথা খটালেই বুঝব বলে আশা করি

        একটা কথা মনে রাখা জরুরী্‌্‌্‌্‌্‌

          দাওয়াতে তাব্লীগ কোন সংগঠন নয়

        এই পন্থায় মেথর হতে কোটিপতি …ডাক্টার …ইঞ্জীনীয়ার একই ছায়াতলে…কিভাবে নিজের ইমানী দিপ্তি কে জাগিয়ে তোলা জায় । দ্বীন মানার পিপাসা নিজের মধ্য জাগিয়ে তোলা যায় ।

        এর সাথে একজন ব্যক্তি যদি আপনার উসিলায় দিনের উসিলায় দ্বীনের উপর আসে…তাহলে সে সারা দুনিয়ার বাদশা হওয়ার চাইতে ধনী হইয়া গেল…।।

        আর আপনার মজুদত পরকালে আছেই……

        আর মুসলীম যখন দ্বীনের ছায়ায় আসবে…শরীয়াত মানা তার জন্ন্য সহজ হবে ।

        দাওয়াতের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিটি মুসলিম কে একটি ঈমানী প্লাট ফরমে নিয়ে আসা ।।

        আর কোরানে আল্লাহ বলছেন মোটামুটি মনে আছে …তোমরা ইমান আনো , সতকরম করো আমি অবস্যই তোমাদের জমিনের খলিফা বানাবো ।

        রেফারেন্স চাইলে দিতে পারব এওখন মনে আসছেনা ।

        আর জিহাদের তামান্না যার দিলে নাই…সেতো পরিপুরন ঈমানদার নয়…

        ইসলামী রাষ্টতো একজন মুসলিমের প্রানের চাহিদা…

        আর আল্লাহর রাসুল ঈমাদার সাথে নিয়েই একটি ইসলামী রাষ্টের সুচনা করে ছিলেন ।

        যারা যরম তেলে সিদধ হইছে…কিন্তু ইসলাম ছাড়েনাই……

        ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমাদের জন্ন্য সুদিন অপেক্ষা করছ…।

        লেখায়

        ভুলত্রুটি হইলে ক্ষমার চোখে নিয়েন

    3. 1.3
      N

      আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

      তাজুল ভাইয়্যা আপনার মন্তব্যে অনেকগুলো?????

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.