«

»

Oct ১১

কুরবানীর বিস্তারিত মাসায়েল

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫

ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে এখানে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসায়েল উল্লেখ হল।

কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

নেসাবের মেয়াদ

মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২

কুরবানীর সময়

মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫

নাবালেগের কুরবানী

মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

মুসাফিরের জন্য কুরবানী

মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫

নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম

মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২

কুরবানী করতে না পারলে

মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে

মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১

কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

নর ও মাদা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

কুরবানীর পশুর বয়সসীমা

মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।
উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না।
-কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬

এক পশুতে শরীকের সংখ্যা

মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮

সাত শরীকের কুরবানী

মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে

মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯

কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ

মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২

মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে।
-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০

কুরবানীর উত্তম পশু

মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

খোড়া পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭

রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮

যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭

কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮

অন্ধ পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে

মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭

গর্ভবতী পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০

পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে

মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর কুরবানী সহীহ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী করতে পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা

মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের অবস্থা দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। -আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.

বন্ধ্যা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা

মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে

মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি কোনো একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪

কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া

মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন হালচাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং কুরবানীর পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০

কুরবানীর পশুর দুধ পান করা

মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা যাবে না। যদি জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে পশুর
কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না। প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে মূল্য সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে

মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার
স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫১

কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে

মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই বাচ্চা জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। যদি সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে বাচ্চাকেও জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-কাযীখান ৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩
মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫২

কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা

মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮, ইলাউস সুনান ১৭/২৭০

কুরবানীর গোশত বণ্টন

মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১

মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০

গোশত, চর্বি বিক্রি করা

মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া

মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া যাবে।

জবাইয়ের অস্ত্র

মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা উত্তম।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরূহ। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

অন্য পশুর সামনে জবাই করা

মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করবে না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না দেওয়া।

কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া

মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চাইলে

মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।

কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে

মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায় বা মরে যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে কুরবানী ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯

পাগল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা জায়েয। তবে যদি এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং মাঠেও চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না। -আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২
নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া

মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম ২২/১৫৯, মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪

ঋণ করে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণের টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।

হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী

মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন মুকীম থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার কুরবানী করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৬৬

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯

কোন দিন কুরবানী করা উত্তম

মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন, এরপর তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী

মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী করা উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল আনহুর ৪/২২৪, ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩

জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী

মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য নফল কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত দাতা ও তার পরিবারও খেতে পারবে।

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে করা

মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।

কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই করবে

মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা

মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত

মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, কাযীখান ৩/৩৫৪

কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে

মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে মুসাফির থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার পূর্বে মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয় দিনে মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে গুনাহগার হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯

কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক হওয়া

মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা, হজ্বের কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী ৪/১৪৪, আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯

কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা

মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া সুন্নত। এই সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী ১/১২০, শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬, আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩

কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন কুরবানীর হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে কুরবানী করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ জবাইয়ে ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা অনুত্তম। অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই করতে কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০

কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো

মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া

মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫

মোরগ কুরবানী করা

মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না জায়েয। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০

প্রশ্ন:

কুরবানীর পশুর চামড়া বা এর টাকা পাওয়ার প্রকৃত হকদার কারা?

উত্তর:
কুরবানীর পশুর চামড়ার মালিক কুরবানীদাতা। সে ইচ্ছা করলে তা ব্যবহারও করতে পারে। সে যদি চামড়াটি দান করে দিতে চায় তবে বিক্রি না করে আস্ত দান করাই উত্তম। বিক্রি করলে এর মূল্যের হকদার হয়ে যায় ফকীর-মিসকীন তথা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত লোকজন। আর এদের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনও দ্বীনদারগণ অগ্রাধিকারযোগ্য।
-রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮-৯; শরহুল কানয, বদরুদ্দীন আইনী ২/২০৬

এখান থেকে নেয়া

http://www.alkawsar.com/article/740

http://www.alkawsar.com/section/question-answer?page=85

কুরবানী বিষয়ে জানতে ক্লিক করুন . . .

http://alkawsar.com/article/483

http://alkawsar.com/article/760

http://alkawsar.com/article/66

http://alkawsar.com/article/493

http://alkawsar.com/article/63

http://alkawsar.com/article/510

http://alkawsar.com/article/817

http://jamiatulasad.com/?p=2513

http://jamiatulasad.com/?p=1582

http://jamiatulasad.com/?p=1577

http://jamiatulasad.com/?p=1575

http://jamiatulasad.com/?p=679

http://jamiatulasad.com/?p=672

http://jamiatulasad.com/?p=653

http://jamiatulasad.com/?p=649

http://jamiatulasad.com/?p=356

২১ comments

Skip to comment form

  1. 11
    মাহতাব

    অসম্ভব মস্তিস্কের অধিকারিণী জানরুবার এহেন অস্থির পশুপ্রীত দেখে উনাকে পশু ভাবতে মন চায় । 

     

  2. 10
    Masud

    আমি এবং আমার স্রী আয় করি। এখন একটা বকরি কোরবানী করব আর গরুর মধ্যে একটা অংশীদার হয়ে কোরবানী করব বলে নিয়ত করছি ইনশাআল্লাহ। এখন এইদুইটা কোরবানীর একটা কি মায়ের নামে করা যাবে? মা এখন জীবিত আছেন। দয়া করে মাসালা দিয়ে সহায়তা করলে উপকৃত হব।ধন্যবাদ।

  3. 9
    জাকির হোসেন

    পাঠা ছাগলের কোরবাণী জায়েজ আছে কিনা ?

  4. 8
    মোঃ রাফিউদ্দিন

    কেউ যদি সুদ খায়, কিন্তু তার হালাল টাকায় কোরবানি দেয়, সেই ব্যক্তির সাথে শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে কিনা? 

  5. 7
    মোঃ ইয়াকুব

    আচ্ছালামু আলাইকুম. .আহমেদ শরীফ ভাই 

     

    মুবরুক মুবরুক.

    সুকরান 

  6. 6
    মোঃ আকতার হোসেন

    ম্যাডামের বুঝি বুুদ্ধিজিবী হওয়ার সাধ জেগেছে। তবে আরো একটু নাস্তিক হতে হবে।কারণ আমাদের দেশে যে যত বেশি নাস্তিক সে তত বেশি বুদ্ধিজিবী ।এই মন্ত্র আপনি জেনেই ফেলেছেন। সময় কম তাই বেশি লেখা হলো না । আবার লেখা হবে।মনে হচ্ছে মাইকেল মধূসুদন দত্তের ছোট বোন।

     

  7. 5
    সাইফুল ইসলাম

    আসসালামু আলাইকুম ভাই।
    দারুণ একটি কাজ করেছেন।
    তবে কিছু বিষয় খেয়াল করা দরকার বলে মনে করি।
    মাসআলা ২০,৪৫,৪৮,৫০,৫৪,৫৯,৬০-এর ক্ষেত্রে কোন রেফারেন্স নেই।
    এইধরনের মাসআলা প্রকাশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত রেফারেন্স যোগ করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

    সংকলন হিসেবে লেখাটি আসলেই দারুণ হয়েছে।
    ধন্যবাদ।
    মা'আসসালাম

  8. 4
    কিংশুক

    জাজাকাল্লাহ খায়ের। খুবই দরকারী সংকলন।

  9. 3
    মুনিম সিদ্দিকী

    মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭

    আমার মনে হচ্ছে কোথাও ভুল হয়েছে!  গরীবের স্থলে ধনী হবে আর ধনীর স্থলে গরীব হবে নয়কি?

    মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০

    জেনে শুনে গর্ভবতী পশু কুরবানী জায়েজ বলার বিধান কি খুব রূঢ় হয়ে যাচ্ছেনা? অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা মানে কোথাও অন্য কোন পশু না পাওয়া গেলে, বা জীবন ধারণের জন্য বিকল্প না পাওয়া গেলে হয়তোবা এই ধরণের পশু কুরাবানী দেয়া গেলেও অন্য সময় তার বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া ঠিক নয় কি?

     

    আর একটি কথা, কুরবানীর সময় সাধারণতঃ আমরা বলে থাকি অমুকের নামে কুরবানী হবে, ৭ জনের নামে কুরাবানী হলো ইত্যাদি। আসলে আমরা মুসলিমরা কারো নামে কুরবানী দেইনা। আমরা কুরবানী দেই আল্লাহর নামে, জবাই কারী আল্লাহু আকবর বলেই জবাইর মূল কাজ সারেন। কিন্তু আমরা কথার কথার আমার নামে, ছেলের নামে, মায়ের নামে, বাবার নামে কুরবানী দেব বা দিয়েছি। আসলে এই কথা গুলো ইসলামে বৈধ নহে। কাজেই কথা বলার সময় আমাদেরকে সতর্ক ভাবেই কথা বলা দরকার। ধন্যবাদ।

  10. 2
    dilruba

    বাজার থেকে পশু কিনে মহা-ধুমধামে হত্যার মাঝে ত্যাগের কোন যৌক্তিক কারন থাকতে পারে না। তারচেয়ে বড় কথা একটি পশুকে নির্দয় ভাবে হত্যার মাঝে আল্লাহ কি সন্তুষ্টি থাকতে পারে? কোরবানীর পুরো বিষয়টি আসলে আমাদের মত গরিব দেশের জন্য প্রকৃত অর্থে অপচয় এবং এই বিজ্ঞানের যুগে হাস্যকরও বটে।

    মাত্র ৫৪ হাজার বর্গমাইলে ১৬ কোটি মানুষ। সম্পদ যৎসামান্য যা আছে তাতে নূন আনতে পান্থা ফুরায় অবস্থা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২৫ এর আগেই বাংলাদেশের একমাত্র খনিজ সম্পদ গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। বিকল্প জ্বালানি কয়লা ব্যাবহারের সুযোগ নেই, পরিবেশ বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডে ঢেকে যাবে। নদীতে মাছ নেই, অতি সামান্য, চাহিদার তুলনায় অপ্রত্যুল। এ দেশে কৃষক মানে মাঠ-মুজুর। আবাদযোগ্য জমি নেই, গোলায় ধান নেই, নেই হালের বলদ। শিশু খাদ্যে ভেজাল, দুধ নেই।

    এই তো বাস্তব চিত্র। অথচ এই দেশেই প্রতি বছর কোরবানীর নামে লক্ষ লক্ষ পশুসম্পদ ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে এক শ্রেনীর মানুষ। এর মানে খুজতে হবে এ মুহুত্বে। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ধন্যবাদ। 

    1. 2.1
      আবদুস সবুর

      আমার একটি স্ট্যাটাস কপি-পেষ্ট করলাম . . . বাকী জবাবগুলো নিয়ে খুব শিগগিরই হাজির হচ্ছি . . . এখন ব্যস্ত

      >>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

      আসছে পবিত্র কুরবানীর ঈদ, আর বাড়ছে কিছু মানবতাবাদী আর চুশিলদের জিদ। 

      আল্লাহর রাস্তায় এতগুলো পশুর জবেহ দেশে তাদের অন্তর মানবতায় পূর্ন হয়ে উপচে পড়তে থাকবে। 

      পশুর জন্য পশুর মানবতা থাকাটাই স্বাভাবিক। কারন, প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদেরকে পশুর মতো মারা হচ্ছ। তখন তাদের মানবতার সাগরে একটুও ঢেউ ওঠেনা। একটু আফসোস করেও বলেনা, আহ হতভাগা !!!

      মানুষ রাখিয়া পশুপ্রেমিদের এহেন মানবতা সেই কবিতাটাই মনে করিয়ে দেয় 

      "মানুষ রাখিয়া পশু প্রেমে মজে যেই জন, 
      মানবতা তাদের কাছে পশুরই মতন"

    2. 2.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      দিলরুবা এই কোরবানী ঈদের পরপরই নিরামিষভোজী হয়ে যাবে। উনার পশুর প্রেমের কান্নায় আমার ল্যাপটপ ভিজে যাচ্ছে। 

      1. 2.2.1
        এস. এম. রায়হান

        পৈতাধারী 'দিলরুবা'দের পশু প্রেম মানে শুধু কুরবানীর সময় তাদের গো-দেবতার প্রতি প্রেম বুঝায়। অন্যান্য পশুদের প্রতি বা কুরবানীর সময় ছাড়া তাদের পশু প্রেমানুভূতি জাগ্রত হয় না।

    3. 2.3
      জামশেদ তানিম

      dilruba: ম্যাডামের হাটু ফেটে কান্না আসছে। আজকে দেখলাম এক বেকুব বলছে কোরবানির টাকা দান করে কোরবানি করতে। বেকুব দিয়ে দেশ ভরে যাচ্ছে।

      অথচ যখন যাকাতের টাকার পরিমাণ কোরবানীতে ব্যয় করা টাকার থেকেও হাজার গুণ বেশি হয় এবং যাকাত কোনভাবেই আদায় আদায় করে না তখন এসব কুশীলরা তা নিয়ে কোন কথাই বলে না। তখন গরীবদের জন্য এদের কান্না আসে না।

      আমার পরিচিত ১০-১২ জন শিল্পপতিদেরকে দেখেছি কিভাবে যাকাতের নামে শ্রাদ্ধ করে। আর তাদের যে পরিমাণ যাকাত আসে তার যৎসামান্য লুঙ্গি, শাড়ী দিয়ে নাম কেনার মজমা বসিয়ে দেয়।

    4. 2.4
      এম_আহমদ

      @dilruba:

      যদি ‘মহাধুমধাম’ না করে পশু কিনে হত্যা করে খাওয়া হয়, তবে কি এর যৌক্তিকতা থেকে যাবে? কোরবানিতে ‘অপচয়’ ও ‘বিজ্ঞান’ টানছেন। বিজ্ঞান কি পশু হত্যার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে?

      ১৬ কোটি মানুষের অবস্থান কি এমন যে তাদের নুন আনতে পান্থ ফুরায়? আপনি কি জাতির আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝেন? কোরবানি বুঝেন? নুন আনতে যার পান্থ ফুরায়, সে কি কোরবানি করতে হয়? ২০২৫ সাল নাগাত গ্যাস ফুরিয়ে যাবার সাথে কোরবানির সম্পর্ক কি? কারা এই বিশেষজ্ঞ? কোরবানি ত্যাগ করলে কি গ্যাস অফুরন্ত থেকে যাবে? এসব কি বৈজ্ঞানিক কথা? আপনার পড়াশুনা কি? ৬-৯ বাক্যে যা বলেছেন তার জন্য কি কোরবানি দায়ী?

      আপনি ধর্ম বুঝেননি, নৈতিকতা বুঝেননি। আপনার মানসিকতা এলোমেলো। মূর্খতার কারণে ইসলাম বিদ্বেষী। খামাখা প্যান প্যান করে নিজেকে অপদস্থ করেন। বুঝতে কষ্ট হয় আপনার মনে ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে এত পীড়া কেনো।

      শুনেন,  গোশত খেতে শুরু করেন।  দেখবেন, অল্প দিনের মধ্যেই বিশ্ববাসীর ‘শুভবুদ্ধি’ আপনাতেও উদয় হচ্ছে। প্রত্যেক বৎসর মিট ইন্ডাস্ট্রিগুলো ৫৮ বিলিয়নের মত পশু খাবারের জন্য জবাই করে। কেবল ‘সুসভ্য’ আমেরিকাতেই ১০ বিলিয়নের মত পশু জবাই হয়। এতে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে সৃষ্ট আধুনিক জবাই অস্ত্র, চামড়া অপসারক, গোশত ও হাড় কাটার (cutter) ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞান ও গোশত ভক্ষণ সাংঘর্ষিক নয়। মূর্খতাই সাংঘর্ষিক।

      আর পারলে মুসলমান হয়ে যান। চেষ্টা করেন, আল্লাহ হুকুম থাকলে পারবেন। তখন বুঝতে পারবেন, কোরবানিতে ‘ধ্বংসের’ কিছু নেই। এই গোশত ফেলে দেয়া হয় না, খাওয়া হয়। পরবর্তী কয় দিন গোশত কিনতে হয় না। এই কয়দিন পশু জবাই কম হয়, এভাবে সবকিছুতে একটা balance আসে।
      এই প্রসঙ্গে যদি প্রতিমন্তব্য করতে আসেন তবে প্রশ্ন ও প্রসঙ্গের ভিতরেই থাকবেন।

       

      1. 2.4.1
        dilruba

        দুঃখিত, প্রতিমন্তব্যের প্রসঙ্গ কি হবে সেটা আমার বিবেচনা, আপনার না।

        আপনি আমার মূল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে আমাকে মুসলিম হওয়ার নসিয়ত করেছেন। কিন্তু ভাই, আমি অলরেডি মুসলমান। তবে মুসলিম পরিচিতিটা ইদানিং বিব্রতকর, মুসলিম নাম শুনলেই সবাই মনে করে useless আমড়া কাঠের ঢেকি। তাই ইসলামের বিকল্প নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। আপনিও করেন।

        আপনি হাস্যকর ভাবে এ্যামেরিকান অর্থনীতির মিট ইন্ডাস্ট্রির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন বাংলাদেশের বাস্তবাতায়। আপনি হয়তো মনে করেছেন এ্যামেরিকার সব গবাদি পশু আল্লারোয়াস্তে জন্ম নেয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা না। এখানে  দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার হিসাব নিকাস করেই আনুপাতিক হারে পশুর চাষ করা হয়। যে কারনে এ্যামেরিকায় মিট এন্ড ডেয়ারী প্রডাক্টে কোন আকাল নেই। পুরো বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রনে। অন্য দিকে বাংলাদেশে ডিমান্ড-সাপ্লাই ব্যালেন্স করার সম্পদ, সামর্থ কোনটি নেই। ফলে ১২ মাস দুধের আকাল, মাংসের চড়া দাম। তার উপর প্রতি বছর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ কোরাবানী। একদিনে সব খেয়ে, বমি করে অপচয়। এরপর ৩ মাস না খেয়ে থাকা। এই তো বাংলাদেশের মিট  ইন্ডাস্ট্রি।

        তাছাড়া, ঈদের আগের রাতে বাজার থেকে পশু কিনে হত্যার মাঝে আল্লাহর কি সন্তুষ্টি থাকতে পারে সেটি যে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ তা নয়, অবৈজ্ঞানিকও বটে। ধন্যবাদ।

        1. 2.4.1.1
          আহমেদ শরীফ

          দুঃখিত, প্রতিমন্তব্যের প্রসঙ্গ কি হবে সেটা আমার বিবেচনা, আপনার না।

           

          'য পলায়তি স জীবতি' _শ্লোকটি মনে পড়ে গেল। বাংলা ব্লগে এই প্রবণতাকে 'পিছলামি' বলে সসম্মানে অভিহিত করা হয়। অবশ্য যুক্তির মল্লযুদ্ধে খেই হারিয়ে উর্ধ্বঃশ্বাসে পলায়ন সাধারণতঃ বাংলাব্লগে ব্যক্তির বিবেচনাধীন গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাব্লগে এই অধিকার থেকে আজ পর্যন্ত কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি, হবেও না।

           

          আপনি আমার মূল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে আমাকে মুসলিম হওয়ার নসিয়ত করেছেন। কিন্তু ভাই, আমি অলরেডি মুসলমান। তবে মুসলিম পরিচিতিটা ইদানিং বিব্রতকর, মুসলিম নাম শুনলেই সবাই মনে করে useless আমড়া কাঠের ঢেকি। তাই ইসলামের বিকল্প নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। আপনিও করেন।

          আপনি অবশ্যই মুসলিম নন। মুসলিম হলে আপনি জানতেন শব্দটা 'নসিয়ত' নয়, নসীহত, 'নসীহা' থেকে যার বাংলাভাষী বিবর্তন। সদুপদেশের মাধ্যমে 'দাওয়াত' প্রদান ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

          মুসলিম পরিচয় নিয়ে বিব্রত আজ পর্যন্ত কোন মুসলিমকে হতে দেখিনি। সাধারণতঃ হিন্দুরাই নিজের পরিচয় গোপন করে থাকে, তাদের উদ্ভট আজগুবি কুসংষ্কারাচ্ছন্ন অপবিশ্বাসে পরিপূর্ণ কালচারের কারণে, বাংলাব্লগে এর ধারাবাহিকতাই এখনো অব্যহত আছে। শিক্ষিত হিন্দুমাত্রই আধুনিক এই যুগে নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সর্বত্র বিব্রত, বিপন্ন বোধ করে।

          আর এতদিন ধরে খুঁজেও ইসলামের বিকল্প যখন খুঁজে পাননি তখন আর পাবেনও না। কোন জিনিস থাকলে তবে পাওয়ার প্রশ্ন আসে _ ইসলামের চেয়ে ভাল কোন বিকল্প পৃথিবীতে নেই বরং ইসলামই অন্যান্য ধর্মের উত্তম বিকল্প। সেজন্যেই সারা দুনিয়ায় অন্যান্য ধর্ম থেকে কোটি কোটি মানুষ ইসলামে দাখিল হয়, ইসলাম থেকে সাধারণতঃ কেউ অন্য ধর্মে দাখিল হয় না।

          ফলে ১২ মাস  মাংসের চড়া দাম। তার উপর প্রতি বছর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ কোরাবানী। একদিনে সব খেয়ে, বমি করে অপচয়। এরপর ৩ মাস না খেয়ে থাকা। এই তো বাংলাদেশের মিট  ইন্ডাস্ট্রি।

          মাংসের দাম আরও চড়া হত যদি ভারত থেকে কোটি কোটি গোমাতা বাংলাদেশে প্রবেশ করে জীবনদান না করতেন। তারপরেও বর্ডার থেকে পুলিশ-মস্তান-ইজারাদার ইত্যাদি হাজারটা ট্যাক্স বসানোর ফলেই মাংসের দাম বেশি হয়ে থাকে, রাজনীতিবিদরা সৎ হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে ভারতীয় যে বিপুল সাপ্লাই তাতে মাংসের দাম ৫০/৬০% কমিয়ে আনা কোন ব্যাপারই না, বর্ডারে তার চেয়েও কম থাকে।

          কোরবানির কথা বললেন কালীপূজা ও অন্যান্য পশুবলির কথা বললেন না ? ভারতে নরবলি তো এখনো চালু আছে সেটাও বলেন। কোরবানির ফলে সারা বছর ধরে ঘাসপাতা খাওয়া দরিদ্র সাধারণ মানুষ যে বেশ কয়েকদিন ধরে কবজি ডুবিয়ে মাংস খেয়ে আশ মেটাতে পারে সেটাও বলেন। কোরবানির মাংস দরিদ্র জনগোষ্ঠিই মূলতঃ উপকৃত হয় কারণ যারা কোরবানি দেয়ার সামর্থ রাখে তারা সারাবছর মাংস খাওয়ার মানুষ, সিংহভাগেরই ডিপফ্রিজ নেই কাজেই সামান্য কিছু ঘরের জন্য রেখে অধিকাংশই দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করে দেয়।

          '৩ মাস না খেয়ে থাকে' এই তথ্যটাও বিরাট ভুল তথ্য। কয়েকদিন একনাগাড়ে খাবার পর দুচারদিন গ্যাপ দিয়েই আবার নতুন উদ্যমে খাওয়া শুরু করে। গরুর মাংস আমার মনে হয় আপনি এখনো খান নি, খেলে বুঝতেন এর চেয়ে উপাদেয় মাংস ধরাধামে আর নেই। আমরা সারা বছর ধরে অক্লেশে উদরপূর্তি করে গরুর মাংস ভক্ষণ করতে পারি, এতে আমাদের কোন ক্লান্তি নেই। এই বাজারে বাংলাদেশে ৪০০ টাকা কেজির মতো চড়া দাম সত্ত্বেও যখন লাখ লাখ ভারতীয় গরু জবাই হয় এবং মানুষ তা পাইকারি হারে সর্বত্র কেনে তখন বুঝতে হবে চাহিদার পরিমাণ কি বিপুল !

          *(শুদ্ধাচারী নিরামিষাশী ব্রাহমিন হলে এই কথা শুনে আপনার মনে হয় বমি উদ্রেক হতে পারে, সেজন্যে দুঃখিত কিন্তু কিছু করার নেই।)

           

          তাছাড়া, ঈদের আগের রাতে বাজার থেকে পশু কিনে হত্যার মাঝে আল্লাহর কি সন্তুষ্টি থাকতে পারে সেটি যে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ তা নয়, অবৈজ্ঞানিকও বটে। ধন্যবাদ।

           

          সেটা বুঝতে গেলে আপনাকে আরো অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে।

          আপাততঃ আপনি বসে বসে এটাই ভাবুন একটা মাটির মূর্তির সামনে এক কোপে পাঁঠা বলি দিয়ে নর্তকুর্দন শেষে কারণবারি সহযোগে খেয়েদেয়ে মচ্ছব করার মাঝে কি জটিল 'বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-রহস্য' নিহিত থাকতে পারে !

           

           

        2. এম_আহমদ

          @আহমেদ শরীফ:

          আহমেদ ভাই, ধন্যবাদ। একটু মজা দেখুন। সদালাপে আমরা যে কয়টি  গো-পুজারী নিক দেখি তাদেরকে তো জানেনই, ব্যক্তি এক, নিক অসংখ্য। টুডে-ব্লগেও তাই। সেখানে আরও বেশি নিক ছিল কিন্তু লাথি আর থাপ্পড় খেতে খেতে অনেক কমে এসেছে। এই দেখেন 'সত্য বচনের'  কোরবানির বক্তব্য ও গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার কাহিনী   তারপর দেখুন মুক্তিদাত্রী দূর্গাদেবীর কাহিনী। এবারে দেখুন হেলেনা পাশার ব্লগ।এটাই  ফুয়াদ পাশা হয়ে  (টুডে-ব্লগে অবিকল ছিল, পরে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে )।  ব্লগে ব্লগে নানা রূপে গিয়ে মনে মনে ভাবনাখানা এই যে কেউ বুঝি ঠাহর করতে পারছে না, কেননা ‘নিক’ তো ভিন্ন! হায়রে গো-মুক্তামী! সদালাপকে আক্রমণ করতে মূর্খটা 'সেমিটিক' বিদ্বেষ উল্লেখ করছে অথচ এই সামান্য জ্ঞান নেই যে আরবরাও ‘সেমিটিক’ জাতি, নূহের অধস্তন শেমের বংশধর।

  11. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার সংকলন। সদালাপে সময়পোযোগী লেখা দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। 

    যদি শিরোনামগুলো ব্লোল্ড করে দিতেন তাহলে পড়তে সুবিধা হতো। 

     

    যাই হোক -- একটা বিষয় জানতে চাই -- মুসাফির হিসাবে যা বলা হয়েছে --

    অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) 

     

    -- এখন দ্রুত গতি জীবনের জন্যে বিশেষ করে -- ৪৮ মাইলতো ঘন্টার খানেকের পথ -- তা ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংককিং, ইন্টারেট, ইমেইল ইত্যাদির কারনে দুরত্বের দিয়ে কি মুসাফিরের সংজ্ঞা নির্নয় করা সঠিক হবে?

     

    এই বিষয়ে কি কোন নতুন ফতোয়া আছে কি না! 

    1. 1.1
      আহমেদ শরীফ

      মুসাফির সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসায়েল এই লিংকে পাবেন _

      http://jamiatulasad.com/?cat=45

      সরাসরি ফোনের মাধ্যমে জানতে হলে _

      মুফতী আব্দুল হাসীব- ০১৮১৮৭৮১৩৮৩

      মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী- ০১৭২৩৭৮৫৯২৫

      উল্লেখ্য, মুফতি ফরায়েজী সদালাপেও লিখে থাকেন।

    2. 1.2
      মুনিম সিদ্দিকী

       ৪৮ মাইল বলার মানে হচ্ছে উটে চড়ে ঘর থেকে ৩ দিন যতদূর পথ পাড়ি দেয়া যায় সেই অবস্থান। ঐ সময়ে  আরবে প্রধান এবং দ্রুতগামী বাহন ছিলো উট। ঐসময়ে দ্রুতগামী বাহন হিসাবে ঘোড়াও ছিলো কিন্তু মুসাফিরের দুরত্ব নির্ণয় করতে কিন্তু ঘোড়া ৩ দিনে কত টুকু পথ যেতে পারে তা সময় নিরূপনের নির্ধারক করা হয়নি। হয়তো হয়নি এর জন্য যে, ঘোড়া আরবের আদি পশু ছিলোনা, বা ঘোড়া দামী ছিলো বলে তা সর্ব সাধরণে ব্যবহার করা ক্ষমতা ছিলোনা, বা ঘোড়া শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অতিজরুরী পশু ছিলো বিধায় তাঁকে সামরিক পশু হিসাবে গণ্য করা হয়েছিলো, যে কারণে ঘোড়ার মাংস খাওয়া মকরূহ করা হয়েছিলো।

      সেই অনুপাতে যদি আমাদের বর্তমানের যুগের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ যে যান ব্যবহার হয় তা দিয়ে হিসাব করা হয় তাহলে হয়তো বা যুগ উপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। তবে এই সবের জন্য আমাদের নায়েবে নবীগণ আছেন তারা এই বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নিয়ে আসবেন বলেই আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.