«

»

Jun ১১

কুরআন-হাদীছের আলোকে শবে বরাত (বিস্তারিত)

ইদানীং কালে শবে বরাত নিয়ে মানুষদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের দ্বন্দ দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ এর ফাযাইল বর্ণনা করছেন, আবার কেউ কেউ এর অস্তিত্বকেই পুরোদমে অস্বীকার করে বসছেন। আবার কেউ কেউ আমলের নামে অনেক বিধর্মীদের রেওয়াজও অনুসরণ করছেন। উম্মতের এই করুণ অবস্থায় যেখানে আমাদের এক হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার, সেখানে প্রতিষ্ঠিত বিষয়ে কলহ সৃষ্টি করা এবং এ নিয়ে মাতামাতি করা উম্মতের ঐক্যের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। তবে উম্মতের ঐক্যের পাশাপাশি, কোরআন সুন্নাহর সঠিক বুঝের অভাবে কেউ যেন কোন আমল থেকে বিচ্যুত না হয়ে পড়েন কিংবা আমলের নাম করে বিদআত বা শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়ে পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখাও জরুরী। কারণ আমরা সবাই জানি আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। তাই ইবাদতে যাতে কম না হয় কিংবা ইবাদতে যাতে ত্রুটি না হয়, এজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। 

এতদিন পর্যন্ত শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। তারা এ রাতটি উপলক্ষে নানা অনুচিত কাজকর্ম এবং রসম-রেওয়াজের অনুগামী হচ্ছিল। উলামায়ে কেরাম সবসময়ই এসবের প্রতিবাদ করেছেন এবং এখনো করছেন। 

আবার ইদানিং আবার এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ছাড়াছাড়ির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবী হল, ইসলামে শবে বরাতের কোন ধারণা নেই। এ ব্যাপারে যত রেওয়ায়েত আছে সব মওযু বা যয়ীফ। এসব অনুযায়ী আমল করা এবং শবে বরাতকে বিশেষ কোন ফযীলতপূর্ণ রাত মনে করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নয়। তারা এসব বক্তব্য সম্বলিত ছোটখাট পুস্তিকা ও লিফলেট তৈরী করে মানুষের মধ্যে বিলি করে। 

বাস্তব কথা হল, আগেকার সেই বাড়াবাড়ির পথটিও যেমন সঠিক ছিল না, এখনকার এই ছাড়াছাড়ির মতটিও শুদ্ধ নয়। ইসলাম ভারসাম্যতার দ্বীন এবং এর সকল শিক্ষাই প্রান্তকতা মুক্ত সরল পথের পথ নির্দেশ করে। 

শবে বরাত সম্পকে বিস্তারিত জানার জন্য বইটি ডাউনলোড করে পড়ুন। আশ‍া করি নতুন অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

কুরআন-হাদীছের আলোকে শবে বরাত (বিস্তারিত) 

আরো বই ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ইসলামিক বই

২২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    sotto

    @মুনিম সিদ্দিকী:

    //সত্য বুঝতে যত দেরি হবে তত ইসলাম মুসলিমদের থেকে দূরে সরে থাকবে।//

    জী, ঠিক বলেছেন। সত্য যতই তিক্ত কিংবা মধুর হোক না কেন, তা কখনই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাই যারা সত্যের দিশারী, তারা ইসলাম থেকে দূরে সরে যেতে পারেনা। তবে সেই সব মুসলিম নামধারীদের কথা আলাদা, যারা সুযোগ পেলেই ইসলামের নামে বাড়াবাড়ি কিংবা উপেক্ষা করতে কুণ্ঠিত হয়না। তারা হয়ত বুঝতেই পারেনা যে, ইসলামের মৌল নির্দেশনা অর্থাৎ আল-কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক প্রথা বা রেওয়াজকে আত্মস্থ করে নুতন কোন ইজমকে লালন-পালন করাকেই তারা ইসলাম ভাবছে।

    //রাসুল সাঃ যেন আপনার আমার মত ড্রয়িং রূমে ফ্যান বা এসির নিচে বসে চা মিস্টি খেতে খেতে ইসলাম প্রচার করে গিয়েছিলেন!//

    জী ভাই, বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের সময় রণ সংগীত আর শান্তির সময় শান্তির গানই মানায়। কিন্তু তাই বলে যুদ্ধের সময় শান্তির গান গাওয়া যাবেই না, এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যের পক্ষে শান্তির কৌশল অবলম্বন করা যেতেই পারে। তেমনি ড্রয়িং রূমে ফ্যান বা এসির নিচে বসে চা মিষ্টি খেতে খেতে ইসলামের সার্বজনীন ও সত্য বাণী প্রচার করা যাবেই না-- এমন কোন শর্ত আছে কি? তবে ইসলামের নামে মিথ্যাচার করা যুদ্ধের ময়দানে যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি ড্রয়িং রূমে ফ্যান বা এসির নিচে বসে চা মিষ্টি খেতে খেতেও তা অপরাধ বটে। একজন মুসলিম যখন যে অবস্থায় থাক না কেন, সে অবস্থাতেই তাকে সত্য ও ন্যায়ানুগ পথে চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে যেতে হবে। এই সহজ সরল বিষয়টি যতদিন মুসলিমরা বুঝতে না পারবেন, ততদিন তাদের প্রকৃত বিজয় ও মুক্তি মিলবে না।
    ধন্যবাদ-

  2. 6
    খালিদ

    আজ শবেবরাতের দিনে কে কে হালুয়া রুটি / গোশত রুটি খেয়েছেন হাত তুলুন।

  3. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ছোট কালের শবে বরাত পছন্দ করতাম কারন হালুয়া রুটি আর রাত জেগে কাঁটানোর সুযোগের জন্যে। জীবনে প্রথম সিগারেট টান দেবার সুযোগ পেয়েছিলাম শবে বরাতের রাতে। যাই হোক -- নফল ইবাদত করা সমস্যা না। তবে একটা বিশেষ দিনে ঘটা করে তা পালন করা এবং তার সাথে বিশ্বাস করা যে একটা বিশেষ দিনে আল্লাহ মানুষের ভাগ্য লিখে থাকেন -- সেইটাই বিপজ্জনক। যা আল্লাহ এবং তার রসুল(সঃ) বলেননি -- তা বলা এবং তাকে পালন করা সমস্যা বটে। এই ধরনের উৎসব পরিত্যাগ করা উচিত। অবশ্য বাংলাদেশের কালচার হলো সেখানে মদ-জুয়া-সুদ সব্‌ই চলবে আর পাশাপাশি একটা বিশেষ দিনে সবাই মিলে উৎসব করে মুসলিম হয়ে যাবো আর সেইদিন পূর্বের হিসাব কিতাব সোজা করে নেবো। এই ধরনের চিন্তা অবশ্যই ইসলাম সন্মত না। 

     

    1. 5.1
      সুজন সালেহীন

      চমত্কার বলেছেন। সম্পূর্ণ একমত। কাউকে আনন্দ দেবার জন্য বা খুশী করার জন্য এরকম কিছু সংযোজন-বিয়োজন করার সুযোগ ইসলামে নেই।

      1. 5.1.1
        Shahriar

        Fantastic write. I am fully agreed with u.

  4. 4
    Shahriar

    @munim vi,
    How dare to compare nabi(sw ) with others.
    Nothing to ad or remove when come to ibadat(Islamic).
    Nabi(sw) already said .

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      reverse!!!!

  5. 3
    mdmasumbillah

    মুনিম ভাই যারা শবেবরাত করে তাদের বৈশাখে যাওয়ার সম্ভবনা বেশী।তারা বাদ বিচার করেনা বাপ দাদা যা করেছে তাই করে। যে ইবাদত সাহাবা আজমাইন করেননি কোন আলেম যদি সেটা করতে নিষেধ করে তবে দোষের কি?

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ছোটভাই, কত নামকরা মুফতি মৌলভীর সন্তান এবং পরিবার এই সব কাজে জড়িয়ে আছে তা চোখ মেলে দেখুন। তাদের পরিবার এখন এইসব কাজে অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলছে!

  6. 2
    sotto

    মুনিম সিদ্দিকি সাহেব,
    শুধু শবেবরাতে নয়, যে কোন রাতে বা দিনেও মানুষ নফল ইবাদত করতেই পারেন। কিন্তু তাই বলে ইসলামের গণ্ডির মাঝে কোন নুতন প্রথা চালু করার কোন জায়গা আছে কি?
    শবে বরাত, শবে মেরাজ, মিলাদ, ওরশ ইত্যাদিকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে কি?
    ধন্যবাদ-

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      প্রতিদিন করুন, সেটিতো অনেক উত্তম! কিন্তু যারা প্রতিদিন পারেনা তারা বছরে দুই/একদিন করতে অসুবিধা কোথায়?

      আছে, আর এই সত্য বুঝতে যত দেরি হবে তত ইসলাম মুসলিমদের থেকে দূরে সরে থাকবে।  আপনার এত বুঝেন কিন্তু রাসুল সাঃ এর ইসলাম প্রচারের ২৩ বছরের বাস্তবতা বুঝতে চেষ্টা করেন না। আপনাদের মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারি যে, রাসুল সাঃ যেন আপনার আমার মত ড্রয়িং রূমে ফ্যান বা এসির নিচে বসে চা মিস্টি খেতে খেতে ইসলাম প্রচার করে গিয়েছিলেন!

      এই যে বুঝের বিরোধ এইটি উসমান রাঃ শাসনামলে মুসলিমদের মধ্যে শুরু হয়েছিলো। বিলাল, আবু জর রাঃ প্রমূখ সাহাবি কেরাম চাইতেন রাসুল সাঃ যে ভাবে কষ্ট কৃষ্টে দিন কাটিয়ে গেছেন সে ভাবে সব মুসলিমদের চলতে হবে, অন্যদিকে উসমান রাঃ প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম বলছেন- ইসলামী রীতি বিরোধী কর্ম না করে জীবন উপভোগ করতে কোন রাসুল সাঃ বারন করে যাননি।

      আসলে আমাদের ঐতিহাসিক বাস্তবতা বুঝতে হবে -- বুঝতে হবে যুদ্ধের সময় যুদ্ধের গান গেতে হয়, সে সময় প্রেমের সংগিত কেউ করেনা। রাসুল সাঃ ২৩ বছরের প্রতিটি মুহুর্ত্য তিনি আন্দোলন সংগ্রাম , জিহাদ  আর ইসলাম প্রচারে প্রসারে, ইসলামের আইন কানুন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত ছিলেন যার কারণে তিনি শান্তিকালিন সময় লাভ করে যেতে পারেননি। কাজেই উনার সুন্নাহয় শান্তিকালিন সময়ের চালচিত্র খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। আর এর কারণে আমাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। ধন্যবাদ।

  7. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    বুড়িগঙ্গায় ঢিল ছূড়ে যেমন কেউ আরব সাগরের গভীরতা পরিমাপ করতে পারবেনা তেমন করে আরব সাগরে ঢিল ছুড়ে কেউ বুড়িগঙ্গা নদীর গভীরতা পরিমাপ করতে সক্ষম হবেনা।

    সে ভাবে আল হিযাযের কারো পক্ষে এদেশীয় মানস আলোক বুঝতে সক্ষম হবেন না। আমাদের কিছু ভাই উচ্চ শিক্ষার জন্য সৌদী সরকারের অর্থানূকুল্যে সে দেশে গিয়ে শিক্ষা লাভ করেন। তখন তারা সে দেশের চালু মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েন এবং তারা তখন এদেশে এসে সে দেশের ইসলামী মডেলকে এই দেশে বাস্তবায়ন করতে লেগে যান।

    এরা কিতাব দেখেন কিন্তু মানুষের মনমগজ দেখেন না। একদম কপিপেস্টের মতো সৌদী ইসলাম এই দেশে বাস্তবায়ণ করতে জিহাদ শুরু করেন। সৌদী মডেল ছাড়া আর সব মডেলকে বিদাত বলে উড়িয়ে দেন।

    ঐতিহাসিক বাস্তবতা এই যে, আমাদের দেশ ইসলাম এসেছে সুফী সাধক অলি আউলিয়াদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।  এখানে কোন তেলওয়ারবাজের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম হয়নি।

    এই দেশে হিন্দুদের মাঝে বারোমাসে তেরপর্বণ ছিলো, যাতে  এদের মানুষ সারা বছর আনন্দ উৎসবে লেগে থাকতো। উৎসব পার্বণ ছিলো এই দেশের কালচার এই দেশের মানুষের বংশপরম্পরা পালিত অভ্যাস। মানুষ ধর্ম ত্যাগ যত সহজে করতে পারে তত সহজে তার কালচার ত্যাগ করতে পারেনা।

    যখন এক পরিবারের কোন ভাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার সাথে সাথে তার স্ত্রী তার বাচ্চা কাচ্চাও ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় স্বামী/বাবার ইচ্ছায় ধর্ম মানতে বাধ্য হয়। তার পরিবারের অন্যরা যারা পিতৃধর্মে রয়েগিছে তারা যখন বিভিন্ন পুজা অর্চনা, ইত্যাদিতে স্বপরিবারে আনন্দ উৎসবে অংশ নিতো তখন সবে মুসলিম হওয়া পরিবারের সুদস্যরা সে উৎসব থেকে নিজদেরকে বঞ্চিত মনে করতো, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎসব অনুষ্ঠানে শরিক না হতে পারার বেদনা অনুভব করতঃ তখন যের কর্তা ব্যক্তি মুসলিম হয়েছিলেন তিনিও ধীরে ধীরে বিমর্ষ হয়ে পড়তেন।

    নব মুসলিমদের এই যে মানসিক সমস্যা, সেটি কিন্তু আমাদের ইসলাম প্রচারক সুফি সাধক, অলী আউলিয়াদের চোখে পড়েছিলো, তারা সে বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন, তাই এদের মনে খোরাক দিতেই এরা কোরান সুন্নাহর আলোকে মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা, শবে মেরাজ শবে বরাত শবে কদর ইত্যাদি নতুন প্রথার প্রচলন করেছিলেন। যাতে নব মুসলিমদের মনের খোরাকের কিছুটা হলেও লাগব করে।

    আমাদের সুফি সাধকগণ যা করেছিলেন সে ধরণের কাজ রাসুল সাঃ ও করেছিলেন। ইতিহাস দেখুন রাসুল সাঃ যখন সবে মাত্র মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন তখন দেখলেন সেখানের লোকজন বছরের দুই দিন বিশেষ উৎসব পালন করছে। তখন তিনি নব মুসলিমদের জন্য অনুরূপ দুদিনে দুই ঈদ উৎসব চালু করে ছিলেন। এই চালু করার পিছনেও সেই এক কাজ করেছিলো যে কাজ করেছে আমাদের এখানে।

    আমি বুঝিনা, দিনে যদি ৫ ফরজ পূর্ণ করে বছরে রমদানের ফর্জ রোজা রেখে কেউ যদি বিশেষ বিশেষ দিনে/রাতে বেশী করে নফল এবাদত বন্দেগী করে গরীব দুঃখিদের মধ্যে খাবার বিলিয়ে দেয়, নিজেরাও নতুন কাপড় চোপড় পরে আনন্দ উৎসব করে তাতে দ্বীনের কি ক্ষতি হতে পারে? ইসলামী জীবনে কি কোন আনন্দ আহ্লাদ থাকতে নেই? শুধু দাত কিড়মিড় করে গুমরা মুখে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া?

    অথচ বজ্র আঠুনি ফস্কা গিরোর মত ঘটনা হচ্ছে শবে বরাত শবে মেরাজ, মিলাদ ওরশ ইত্যাদি বেদাতী বলে এই গুলো বর্জন করতে যারা জিহাদে নেমেছেন তারা দেখতে পাচ্ছেন না তাদের সন্তানরা কেমন করে বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রার মত পুরোপুরি ইসলামী দর্শনের বিপরীতধর্মী উৎসব আনন্দে দিনকে দিন তাতে অংশ নিচ্ছে!!! ধন্যবাদ।

     

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      ভাই, কথা হচ্ছে কী -আপনি বোখারির তিকরারের পর প্রায় আড়াই হাজারের মত হাদিস পাচ্ছেন। এই হাদিসগুলোর এক বিরাট অংশ মুসলিমেও স্থান পেয়েছে। এবারে বলুন তো নবীর ২৩ বছরের জিন্দেগীতে যে পরিমান কথা বলেছিলেন –তা কি এই কয়টি মাত্র কথা? পাগলামী একটা সীমা থাকা দরকার। বোখারী শাফেয়ি মাজহাবের লোক। তার হাদিস নির্বাচনে সেই মাজহাবি ধ্যান-ধারণা স্থান পেয়েছে। সকলের কাজেই তাদের শ্রেণী, তাদের স্থান ও কালীন চিন্তার ছাপ থেকে যায়। যারা শবে বরাতে ‘সহিস’ সহিহ’ বলে অত্যাধিক চিল্লি-চিল্লি করেন তারা ফারসি শব, মাজার পূজা, আলোর দেয়ালি ইত্যাদির কথা এনে সাধারণ মানুষের চিন্তাকে ঘোলাটে করে নিজেদের মাজহাবি প্রোপাগাণ্ডা করেন। ফারসির ‘শব’ উল্লেখ করাতে তাদের কোনো যুক্তি প্রতিষ্ঠা হয় না, যেমন ‘নামাজ’ বলাতের ‘সালার’ গুরুত্ব বিলুপ্ত হয় না। আবার কেউ মাজার পূজা অথবা আলোর দেয়ালি জ্বালালো বলে শবে-বরাত বিদআত হয়ে যায় না, যেমন ঈদের দিনে আমাদের দেশে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়-দৌড় হয়, জোয়া খেলার আসরও বসে, ভলুয়ার (গরুর) লড়াই করানো হয়, মোরগের লড়াই করানো হয়, তাহলে ঈদেও বিদআত থাকবে নাকি? ‘নিসফে-শাবানের’ রাত না বলে ‘শবে-বরাত’ বলাতেই কী বিদআত হয়ে যায়? এরা পাগল। এদের ধর্ম খিট-খিটে। তারা যেন আল্লাহর হয়ে কথা কথা বলার এজেন্সি নিয়ে গেছে। তারা যা ব্যাখ্যা দেবে তা’ই হতে হবে ইসলাম। এরা ধর্মের এহসাস বুঝতে পারেনি। ‘সহিস’ ‘সহিহ’ এর টেকনিক্যালিটিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

      আবার দেখুন যারা শবে বরাতের গুরুত্ব বিবেচনা করেন তারা কিন্তু যুক্তির গোলমালে নেই। তারা শবে বরাত, শবে মেরাজ, মিলাদ, ওরশ ইত্যাদিকে একই পাল্লায় মাপেন না। এগুলোর প্রত্যেকটি বিষয় আলাদা আলাদা, সমতুল্য নয়। এখানেই ধর্মের সঠিক সমঝের ব্যাপার রয়েছে।

      1. 1.1.1
        mahfuz08

        @ এম_আহমদ :

        ‘নামাজ’ বলাতের ‘সালার’ গুরুত্ব বিলুপ্ত হয় না।"

        ওই শব্দটি "সালার" হবে না বরং সালাত হওয়ার কথা।

        আমার মনে হয় সাইট কর্তৃপক্ষের উচিত নিজের কারা মন্তব্যকে এডিট করার সুযোগ রাখা, যাতে এই ধরণের বা এর চেয়ে গুরুতর কোন ভুল হলে তখন নিজের কমেন্ট নিজেই এডিট করা যায়।

         

      2. 1.1.2
        মুহাম্মদ হাসান

        এম_আহমদ ভাই,

        এবারে বলুন তো নবীর ২৩ বছরের জিন্দেগীতে যে পরিমান কথা বলেছিলেন –তা কি এই কয়টি মাত্র কথা? পাগলামী একটা সীমা থাকা দরকার।

        কেউ এধরনের কথা বলে কোনদিন শুনিনি । আর কেউ যদি আপনার কাছে এরকম কথা বলেও থাকে সে নিঃসন্দেহে মানসিক বিকারগ্রস্থ কারন বুখারি ছাড়াও যে সহিহ হাদিসের কিতাব আছে সেটা কোন মুসলমানের অজানা থাকার কথা না ।  

        বোখারী শাফেয়ি মাজহাবের লোক। তার হাদিস নির্বাচনে সেই মাজহাবি ধ্যান-ধারণা স্থান পেয়েছে। 

        ইমাম বুখারি(র) শাফিই মাজহাবের অনুসারী এটা একটা মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ । এই অভিযোগটা সাধারনত হাদিস অস্বীকার কারিরা করে থাকে । (আমি আপনাকে কোন ভাবেই আহলে কুরান মনে করছি না, দয়াকরে ভুল বুঝবেন না)। বুখারির(রঃ) কিতাবে অনেক হাদিস আছে যা ইমাম শাফিই(রঃ) এর মাজহাবের বিপক্ষে যায় । ইবনে তাইমিয়া(রঃ) এর মতে বুখারি(রঃ) সহ বড় বড় মুহাদ্দিসরা সবাই মুজতাহিদ ইমাম ছিলেন তারা নির্দিষ্ট কোন একজন ইমামকে অনুসরন করতেননা । যুক্তিরে খাতিরে যদি ধরেও নেই যে বুখারি(রঃ) শাফিই মাজহাবের অনুসারী থাকার কারনে শুধু শাফিই মাজহাবের পক্ষের হাদিসগুলো তাঁর কিতাবে সংরক্ষন করেছেন আর বিপক্ষের হাদিসগুলো সংরক্ষন করেননি তাহলেও সেটা হবে তাঁর ইখলাসের উপর একটা চরম মিথ্যাচার । 

        যারা শবে বরাতে ‘সহিস’ সহিহ’ বলে অত্যাধিক চিল্লি-চিল্লি করেন তারা ফারসি শব, মাজার পূজা, আলোর দেয়ালি ইত্যাদির কথা এনে সাধারণ মানুষের চিন্তাকে ঘোলাটে করে নিজেদের মাজহাবি প্রোপাগাণ্ডা করেন।  

         শবে বরাত যারা পালন করেনা তারা যে কোন মাজহাবের লোক তা জানাছিলনা । তারা কোন মাজহাবের লোক জানালে খুশি হব । শবে বরাতের ব্যাপারে চার ইমামের মত কি যদি জানা থাকে দয়াকরে জানাবেন । 

        ‘নিসফে-শাবানের’ রাত না বলে ‘শবে-বরাত’ বলাতেই কী বিদআত হয়ে যায়? এরা পাগল। এদের ধর্ম খিট-খিটে। তারা যেন আল্লাহর হয়ে কথা কথা বলার এজেন্সি নিয়ে গেছে। তারা যা ব্যাখ্যা দেবে তা’ই হতে হবে ইসলাম। এরা ধর্মের এহসাস বুঝতে পারেনি। ‘সহিস’ ‘সহিহ’ এর টেকনিক্যালিটিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

        ভাই, যারা শবে বরাতকে বিদাআত বলেন তারা কি শুধু নিসফে-শাবানের’ রাত না বলে ‘শবে-বরাত’ কারনেই এটাকে বিদআত বলেন?  তারা কি কখনও নামাজকে বিদআত বলেছেন?  কমেন্টগুলো আরেকটু ভেবে চিন্তা করলে মনে হয় ভাল হত ।  

        তারা শবে বরাত, শবে মেরাজ, মিলাদ, ওরশ ইত্যাদিকে একই পাল্লায় মাপেন না।

        তারা এগুলোকে একপাল্লায় মাপে কিনা জানিনা তবে যারা শবে বরাত পালন করেন তারা শবে মেরাজ ,মিলাদ, ওরশ ইত্যাদিও সমান গুরুত্তের সাথেই পালন করেন । যখন পালন করতাম তখন এসবগুলোকে গুরুত্তের সাথেই পালন করতাম । আলেমরা হয়ত সমান পাল্লায় মাপেনা কিন্তু আম জনতা এই পার্থক্যের কতটুকু বুঝেন এবং মানেন সেটা ভাবার বিসয় । 

         

        ওয়াসসালাম ।

         

         

        1. 1.1.2.1
          এম_আহমদ

          @মুহাম্মদ হাসান:

          স্কয়ার ব্রাকেটে আমার প্রতি মন্তব্য।

          কেউ এধরনের কথা বলে কোনদিন শুনিনি। [আপনি এমন কে যে আপনি শুনে না থাকলে আমাকে কোনো আলোচনায় যেতে হবে? তারপর আপনি এই বিশ্বের সকলের কথা শুনে ফেলেছেন?]  আর কেউ যদি আপনার কাছে এরকম কথা বলেও থাকে [“যদি” কেন?  ‘কেউ বলার’ কথা কেন?  আমি কি বলেছি যে এটা আমাকে কেউ বলেছে? বরং এটি ‘আমি’ বলেছি। সরাসরি বলেছি। আমার কথা যখন ‘স্পষ্ট’ তখন ধাপ্পাবাজি করবেন কেন? এখানে hypothesis –এর প্রয়োজন আছে নাকি? বিকারগ্রস্ত অবস্থা তো আপনিই প্রকাশ করছেন। আপনার সমস্যা কি? শবে বরাত? যদি হয়, তবে আমার ব্লগে আসেন এবং আমার লেখায় যা আপত্তিকর তা আলোচনা করুন।] “কারণ বুখারি ছাড়াও যে সহিহ হাদিসের কিতাব আছে সেটা কোন মুসলমানের অজানা থাকার কথা না।[This commonplace is idiosyncratic, এটা কার অজানা থাকার প্রেক্ষিতে উত্থাপন করছেন? আমার? জ্ঞান উপছে পড়ছে মনে হয় তাই আমাকে দেখাচ্ছেন? এখানে তো আপনার সাথে আমার কোনো কথাই হচ্ছে না। উপযাচক হয়ে এত কঠোরতা কেন?]

          [বুখারিকে শাফেয়ি মাজহাবের লোক বললে তা হাদিস অস্বীকার হয় -এমন কথা চরম মুর্খামি। এর কারণে কাউকে আহলে-কুরান দাবি করাও মুর্খামি। আপনি ভুল করে কেন ‘ভুল না-বুঝার জন্য’ অনুরোধ করবেন? হ্যাঁ, বুখারিকে কেউ শাফেয়ি ঘেঁষা বলে থাকলেও, যেমনটি আমিও বলেছি, বুখারির ধ্যান ধারনায় তার নিজ মাজহাবই প্রকাশ পায়। এদিক থেকে আপনার কথা সংগত। কিন্তু তার অভিমত তার হাদিস নির্বাচনে স্থান পাবে এমনটি অতি স্বাভাবিক। আমার কথাতে এখানে কোনো সমস্যা নেই। বুখারিকে কেউ অতিমানব মনে করলে সে মিথ্যাবাদী হবে না বরং more appropriately মুশরিক হবে। বুখারি আমাদের মত মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো তার মানবতার ঊর্ধ্বে ওঠে কোনো কাজ করা সম্ভব ছিল না। তার হাদিস নির্বাচনে যদি তার চিন্তা ও ধারনার প্রতিফলন ঘটে এবং এমনটি কেউ মনে করে, যেমনটি আমি মনে করি, তবে এতে তার ইখলাসের উপর কোনো আঘাত আসে না এবং এমন ক্ষেত্রে ‘মিথ্যাচার’ বলা যৌক্তিক দিক দিয়ে মুর্খামি। এখানে মিথ্যাচার শব্দের প্রয়োগ হবে inappropriate. ]

          ভাই, যারা শবে বরাতকে বিদাআত বলেন তারা কি শুধু নিসফে-শাবানের’ রাত না বলে ‘শবে-বরাত’ কারনেই এটাকে বিদআত বলেন? [আমারও প্রশ্ন ছিল তবে 'বিদাত' কেন হবে? আমি অনেককে শব্দ নিয়ে চিল্লাচিল্লি করতে দেখি, মাজার, পূজা মাজার বয়ান শুনি, তাই আমার দেখা বিষয় মুনিম ভাইকে আমিই ব্যক্তি করেছি।] তারা [তারা কারা?] কি কখনও নামাজকে বিদআত বলেছেন? [আমরা কি নামাজের আলচনা করছি? কি বলছেন?]  কমেন্টগুলো আরেকটু ভেবে চিন্তা করলে মনে হয় ভাল হত [তাই নাকি? ভবিষ্যতে আপনার কাছে পরামর্শের জন্য যাওয়ার চিন্তা করব? টেলিফোন দেবেন।]

           শবে বরাত যারা পালন করেনা তারা যে কোন মাজহাবের লোক তা জানাছিলনা। [আপনার জানা না থাকলে আমার কী হল?] তারা কোন মাজহাবের লোক জানালে খুশি হব। [আপনি খুশি হওয়ার জন্য বলছি, এরা আমাদের দেশে, সাধারণত আহলে হাদিস/সালাফি মজহাবের লোক। তবে অবশ্য অন্যরাও আছেন। একটি মন্তব্যে কেবল সাধারণী কথাই বলা হয়েছে। The Muslim world is consisted of a wide variety of people with a wide verity of opinions. শবে বরাতের আলোচনা হলে তা শবে বরাতেই থাকতে হবে] শবে বরাতের ব্যাপারে চার ইমামের মত কি যদি জানা থাকে দয়াকরে জানাবেন। [এখানে কোনো নতুন আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে নাকি? কমেণ্টের বাইরে বার বার নতুন প্রসঙ্গ কেন? চার মাজহাবের ইমামদের মতের সমষ্ঠিই কি মাজহাব? মাজহাব বলতে আপনি কি বুঝেন? আমার লেখায় হানাফি মাজহাবের উলামাদের উল্লেখ হয়েছে –এ আলোচনা সেখানে হতে পারে।] 

           

           

        2. মুহাম্মদ হাসান

          আসসালামুয়ালিকুম এম_আহমদ ভাই,

          আমি কমেন্ট করার সময় কোন আক্রমনাত্তক ভাব নিয়ে বা অহেতুক তর্ক করার উদ্দেশ্য নিয়ে কমেন্ট করিনি । আমার কমেন্টে আক্রমনাত্তক কিছু থাকলে সেজন্য দুঃখিত(অবশ্য আপনার কাছে দুঃখিত হওয়াটাও আরেক বিড়ম্বনা, আক্রমন করার পর আবার দুঃখ প্রকাশ কিসের?) । যাইহোক, আপনার অন্যান্য লেখা পড়ে আপনার প্রতি আলাদা একটা শ্রদ্ধাবোধ ছিল । আপনার কাছ থেকে এরকম কথা বার্তা আসা করিনি । আপনি বলেছেন যারা নিসফে-শাবানের রাত না বলে শবে-বরাত বলাতেই এটা বিদআত হয়ে যায় মনে করে 

          এরা পাগল। এদের ধর্ম খিট-খিটে।

          কিন্তু যে ধরনের কমেন্ট করেছেন এতেতো উলটোটাই প্রমানিত হচ্ছে । আবার বলেছেন

          এরা ধর্মের এহসাস বুঝতে পারেনি। 

          ধর্মের এহসান বুঝার পরেও আপনি দিমত পোষোণ কারীর সাথে যেভাবে কথা বলেন তাতে এহসানের যে মানেচ কি সেটা বুঝতেই দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি । যাইহোক, আপনার সাথে কোন আলোচনা যাওয়া হবে আমার মুর্খামি ।

          ওয়াসসালাম  ।  

        3. এম_আহমদ

          @মুহাম্মদ হাসান: ওয়া আলাইকুম সালাম

          কমেন্ট করার সময় আক্রমণাত্মক ইচ্ছা না থাকলেও তা লেখায় প্রকাশ পেয়েছে এবং এমনটি কখনো কখনো হয়ে থাকে। ভাষা দার্শনিক এবং দার্শনিক রুশো বলেন যে আমরা যে মনোভাব মনের ভিতর রাখি তা ভাষায় নিয়ে আসার পর সেটা exactly  সেই বস্তু থাকে না যা চিন্তায় উদ্রেক হয়েছিল। আপনার আপত্তিকর দুটি শব্দের ব্যবহার (‘পাগল’ এবং ধর্মীয় ‘এহসাহ’) আপনি যে প্রশ্নস্থিত বাক্য থেকে অর্থ নিচ্ছেন –এই অর্থ ওখানে নয় বরং সেই অর্থের পরিধি তার গোটা কমেন্টে। যারা বিদাতের বিপক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে এই শব্দদ্বয় নয়, কেননা আমিও বিদাতের বিপক্ষে। আবার যারা শবে বরাতের সমালোচনা করেন –তারাও একত্রে উদ্দেশিত নন, কারণ তাদের কিছু কিছু সমালোচনার সাথে আমরাও একমত। এখানে যাদেরকে উদ্দেশ্য করা হচ্ছে, তারা হচ্ছেন ওরা, যারা কঠোরভাবে শবে বরাতের পক্ষের লোকদের একচেটিয়া বিদাতি বলার লোক। কিন্তু একটি ছোট কমেন্টে এতকিছু ব্যাখ্যা করার স্থান আসে না তাই কমেন্টে, সাধারণত, সাধারণী একটি ছাপ পড়ে যায় যেমনি ঐ দুই বাক্যে এসেছে। এই স্থানটি আপনার আপত্তিকর ঠেকালে এত দূরে না গিয়ে আমাকে প্রশ্ন করতে পারতেন যেমনটি এখন করেছেন।

          আমার প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধ চলে গেলেও এর মধ্যেও একটা কল্যাণ নিহিত আছে। মানুষ কারো প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়লে তার কথা বার্তা বা লেখার প্রতি সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি শিথিল হয়ে পড়ে। আমি লক্ষ্য করেছি যে কেউ কোনো দলে বা গ্রুপের প্রবেশ করলে প্রায়ই সেই দল বা গ্রুপের সমালোচনা করতে পারেন না বা করতে কষ্ট হয় এবং কখনো কেশারতও দিতে হয়। এজন্য কোনো গ্রুপ/দলে অঙ্গাঅঙ্গি জড়িত হই না, distance  রাখি।  কেউ তাদের প্রোগ্রামে ডাকলে তাদের সভায় উপস্থিত হই, যা ভালো মনে করি, তাই বলি। তারপরও চলাফেরা-ওঠাবসার কারণেও অনেক সমালোচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটাই মানবিক, সাইকোলজিক্যাল। এই সদালাপে এবং অন্যত্র যারা আমার প্রশংসামূলক মন্তব্য করতেন তাদের তা না করতে আমি অনেকবার বলেছি। যাতে করে আমার লেখা তাদের critical mental disposition-এ অবস্থান করে। আমি ইসলাম নিয়ে যা বলি বা লেখি তা আপনাতেই ইসলামী হয়ে যায় না বরং আমার অবলোকনের প্রেক্ষিত বহন করে আর আমি ভুল-শুদ্ধের সমন্বয়ে গঠিত সত্তা। আর আমি যা লেখি তা আমার নিজের গরজেই লেখি। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। 

      3. 1.1.3
        মুনিম সিদ্দিকী

        লাইলাতুল খামতাশ সাবান মবরুক আহমেদ ভাই!

        ভাই আমি আমার কমেন্টে এত গভীর তাত্ত্বিক প্রসঙ্গ উপস্থাপন করিনি। আমি আনন্দ উৎসবহীন হতভাগ্য বাংগালী মুসলিমদের নিরস জীবনের দিকেই ইঙ্গিত রেখেছিলাম। লাইলাতুল খামতাশ সাবানকে হালুয়া খাবার রাত বলেন তাতে আমি অন্যায় কিছু দেখিনা, একরাত নাহয় হালুয়া রুটি বিলিয়ে  এবং খেয়ে চিত্তে আনন্দ পেলে তা মন্দ কি? এই পাওয়া কি কম পাওয়া?

        হালুয়া রুটির প্রসঙ্গ যখন চলে এলো তখন এক বাস্তব চিত্রের কথা তোলে ধরার প্রয়োজনীয়তা বোধকরছি, আমি যা উল্লেখ করছি সে চিত্র হয়তো আপনিও দেখে থাকবেন। এখন বাংলাদেশের প্রভুত উন্নয়ন হওয়ার কারণ দেশের মানুষ দুই বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারছে বলে সে চিত্র এখন দেখা যায়না। তবে আমি পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশের আমলের প্রথম দিকে দেখেছি যে, তখন এই দেশের মানুষ দৈনিক একবেলা একমুঠো ভাত জুটাতে পারতোনা, মানুষ হররোজ উপোষ করে কাটাতো, তখন অবস্থা সম্পন্ন লোক এই দিন উপলক্ষ্যে রুটি বানিয়ে গরীব দুঃখি মানুষের মধ্যে বিলাতো। গরীব দুঃখীরা বাসা বাসা গিয়ে এই রুটি সংগ্রহ করে তাদের ঘরে নিয়ে আসতো। যেহেতু এইদিন অনেক বেশী পরিমাণ রুটি তারা লাভ করত, সে রুটিগুলো তারা রোদে শুকিয়ে নিয়ে পরবর্তিতে পানিতে ভিজি নরম করে তা দিয়ে পেটে ক্ষুধা নিভারন করত! এই রাতের এই রুটি বিলানো উৎসবের কারণে সে সময় অনেক মানুষের কয়েক দিনের ক্ষুধা নিভারণের উসিল্লাহ হতো।

        ঠিক এই ভাবে তখন ধনীদের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের উৎছিষ্ট ভাত, বিরানীকেও তারা রোধে শুকিয়ে কয়েকদিন ধরে তাদের ক্ষুধা নিভাবরন করতে সক্ষম হতো। এই আমার দেখা চিত্র আর আমার পড়া ঐতিহাসিক কোরবানীর ঈদের চিত্র যেখানে ধনীদের পশু কোরবানীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুলো উদ্দেশ্য যে এক তা আর কেউ বুঝতে না পারুক আমি বুঝতে পেরেছি। তা হচ্ছে গরীব লোক গুলো যেন উৎসব উপলক্ষে যেন কিছু বাড়তি খাদ্য খেতে পায়।

        উপরের দুই চিত্রের আলোকে যেখানে খাওনো এবং বিলানোর সম্পর্ক আছে সে সব উৎসবে আমার সমর্থন থাকবে।

        ভালো কথা, শবে বরাতে ফটকা ফাটানো বা অন্যান্য যে সব পালক এসেছে লেগেছে সেগুলোকে আমি অবশ্য পরিত্যাগ করব। ধন্যবাদ।

    2. 1.2
      মুহাম্মদ হাসান

      মুনিম ভাই,

      তর্কের খাতিরে নয় বরং কিছু বিসয় পরিস্কার করার জন্য আপনার মন্তব্যের উপর কিছু মন্তব্য করছি ।

      সৌদী মডেল ছাড়া আর সব মডেলকে বিদাত বলে উড়িয়ে দেন।

      ভাই, ইসলামের যে অনেক মডেল আছে সেটা এই প্রথম শুনলাম । যাইহোক, ইসলামের মডেল বলতে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন সেটা একটু পরিস্কার করে বলবেন তবে ইসলামের মডেল বলতে আমি যেটা বুঝি সেটা হল রাসুলের(সঃ) দেখান ইসলাম আর সেটা স্থান কাল পরিবেশের কারনে পরিবর্তন হয়না এটা অভিন্ন- রাসুল(সঃ) যেভাবে দেখিয়ে গেছেন এবং সাহাবারা যেভাবে বুঝাছিলেন সেভাবেই আমাদেরকে বুঝতে এবং মানতে হবে । 

      ঐতিহাসিক বাস্তবতা এই যে, আমাদের দেশ ইসলাম এসেছে সুফী সাধক অলি আউলিয়াদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।  এখানে কোন তেলওয়ারবাজের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম হয়নি।

      ইতিহাস সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান আমার নেই তবে আপনার এই কমেন্ট পড়ার পর google search দিয়ে যা জানতে পারলামঃ ইসলাম বাংলাদেশে কোন সুফি সাধকের মাধ্যমে আসেনি বরং আরব ব্যবসায়ী যারা ইসলামের আগে থেকেই চিটাগং বন্দরে ব্যবসা করতে আসত তারাই ইসলাম গ্রহনের পরে এদেশে ইসলাম নিয়ে এসেছিলেন এবং অনেক সাহাবীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে । আর আপনি এখানে "তেলওয়ারবাজের" দারা কি বুঝাচ্ছেন একটু পরিস্কার করে বলবেন দয়াকরে । 

      মানুষ ধর্ম ত্যাগ যত সহজে করতে পারে তত সহজে তার কালচার ত্যাগ করতে পারেনা।

      কথা সত্য কিন্তু সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এটা সম্ভব যার জলন্ত প্রমান হল সাহাবারা তারপর তাবেঈনরা তারপর তাবে তাবেঈনরা এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সকল হকপন্থি আলেমরা যারা সাধারন মানুসদেরকে সঠিক পথ দেখাচ্ছেন । 

      নব মুসলিমদের এই যে মানসিক সমস্যা, সেটি কিন্তু আমাদের ইসলাম প্রচারক সুফি সাধক, অলী আউলিয়াদের চোখে পড়েছিলো, তারা সে বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন, তাই এদের মনে খোরাক দিতেই এরা কোরান সুন্নাহর আলোকে মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা, শবে মেরাজ শবে বরাত শবে কদর ইত্যাদি নতুন প্রথার প্রচলন করেছিলেন। যাতে নব মুসলিমদের মনের খোরাকের কিছুটা হলেও লাগব করে। 

      ভাই, বাংলাদেশের মানুস চৌদ্দশ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় মুছলমান সুতরাং তাদের মনে নব মুসলিমের এই মানসিক সমস্যা কিভাবে আর থাকতে পারে? আর আপনি যেভাবে শিরক বিদআদকে justify করলেন তাতে ইসলাম আর ইসলাম থাকবে না এটাও তখন খৃস্টধর্মের মত হয়ে যাবে । আর এভাবে  শিরক বিদআদকে justify করতে থাকলে শিরক বিদআদের যে একটা concept আছে সেটা কিভাবে কোথায় apply করবেন? 

      আমাদের সুফি সাধকগণ যা করেছিলেন সে ধরণের কাজ রাসুল সাঃ ও করেছিলেন। ইতিহাস দেখুন রাসুল সাঃ যখন সবে মাত্র মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন তখন দেখলেন সেখানের লোকজন বছরের দুই দিন বিশেষ উৎসব পালন করছে। তখন তিনি নব মুসলিমদের জন্য অনুরূপ দুদিনে দুই ঈদ উৎসব চালু করে ছিলেন। এই চালু করার পিছনেও সেই এক কাজ করেছিলো যে কাজ করেছে আমাদের এখানে।

      ভাই, মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা ইত্যাদির সাথে  আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী রাসুল(সঃ) যে বিধান দিয়েছিলেন  সেগুলর তুলনা করা কি এক হল? আপনি বিদাতের সাথে ইসলামের বিধানের তুলনা করলেন । দুই ইদের পিছনেই কারন আছে । ইদুল আযহার সাথে ইব্রাহীম (আঃ) এর কাহিনী জড়িত আর ইদুল ফিতর একমাস সাওম পালন করার পর করা হয় । এখানে মদিনার কাফির মুশরিকদের উৎসবের মিল কোথায় পেলেন? মদিনার মুশরিকদের দুই উৎসবকে রহিত করে দিয়ে রাসুল(সঃ) এর পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য ইদুল আযহা এবং ইদুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন । আর এর পরে মুসলমানের জন্য আর কোন ধর্মীয় উৎসবের উদ্ভাবন এবং তা পালন করার কোন এখতিয়ার আছে কি? 

      ইসলামী জীবনে কি কোন আনন্দ আহ্লাদ থাকতে নেই? 

      অবশ্যই আছে । তবে ইসলামে যেভাবে আনন্দ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এতে অনেকের মন নাও ভরতে পারে সেজন্য ইচ্ছামত উৎসব বানানোর অনুমতি ইসলাম দেয়না । রাসুল(সঃ) এবং তার সাহাবারা এসব মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা, শবে মেরাজ শবে বরাত করেননি তাহলে তারা কি আনন্দ করেননি নাকি ইবাদত বন্দেগি কি আমাদের চেয়ে কম করেছেন? আর সুফি সাধকেরা কি তাদের চেয়ে বেশি পরহেযগার হয়ে গেলেন? 

      অথচ বজ্র আঠুনি ফস্কা গিরোর মত ঘটনা হচ্ছে শবে বরাত শবে মেরাজ, মিলাদ ওরশ ইত্যাদি বেদাতী বলে এই গুলো বর্জন করতে যারা জিহাদে নেমেছেন তারা দেখতে পাচ্ছেন না তাদের সন্তানরা কেমন করে বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রার মত পুরোপুরি ইসলামী দর্শনের বিপরীতধর্মী উৎসব আনন্দে দিনকে দিন তাতে অংশ নিচ্ছে!!! 

      যারা মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা, শবে মেরাজ শবে বরাতকে শিরক বিদআত বলে তারা বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রাকেও শিরক বিদআত বলে এবং তাদের সন্তানদেরকে নিষেধ করে ।

      ধরে নিলাম রাসুল(সঃ) শবে বরাত পালন করেছেন । আমার প্রশ্ন হল তিনি(সঃ) কি শবে বরাত আমরা প্রচলিত নিয়মে যেভাবে পালন করি সেভাবে পালন করেছিলেন? নামায রোযা হজ্জ যাকাত আমরা রাসুলের(সঃ) দেখান পথেই করার চেষ্টা করি তাহলে শবে বরাত কিভাবে পালন করব সেটা কি তিনি(সঃ) দেখিয়ে দিয়ে যাননি নাকি সেটা সুফি সাধকদের উপর ছেড়ে দিয়েগেছেন?   

      ওয়াসসালাম ।

      1. 1.2.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ভাই, ইসলামের যে অনেক মডেল আছে সেটা এই প্রথম শুনলাম । যাইহোক, ইসলামের মডেল বলতে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন সেটা একটু পরিস্কার করে বলবেন তবে ইসলামের মডেল বলতে আমি যেটা বুঝি সেটা হল রাসুলের(সঃ) দেখান ইসলাম আর সেটা স্থান কাল পরিবেশের কারনে পরিবর্তন হয়না এটা অভিন্ন- রাসুল(সঃ) যেভাবে দেখিয়ে গেছেন এবং সাহাবারা যেভাবে বুঝাছিলেন সেভাবেই আমাদেরকে বুঝতে এবং মানতে হবে । 

         

        <<আপনি আমি যত বলিনা কেন ইসলামের মডেল হচ্ছে এক এবং তা হচ্ছে রাসুল সাঃ এর দেখান মডেল। বাস্তবে কি আমরা তা দেখতে পাচ্ছি? আজ আমরা হাজার হাজার ফেরকার বিভক্ত, একদল অন্য দলকে মুরতাদ কাফের বলতের দ্বিধা করছিনা। একদল অন্য দলকে হত্যা করতে কুন্ঠাবোধ করছিনা? সৌদী মডেল ইসলাম হচ্ছে ওহাবী ফেরকা যা আপনার না জানার কথা নয়। সৌদীরা যদি দাবী করে তাদের দল হচ্ছে একমাত্র রাসুল সাঃ এর দেখানো মডেল তাহলে তা হবে তাদের নিফাক!>>

        ইতিহাস সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান আমার নেই তবে আপনার এই কমেন্ট পড়ার পর google search দিয়ে যা জানতে পারলামঃ ইসলাম বাংলাদেশে কোন সুফি সাধকের মাধ্যমে আসেনি বরং আরব ব্যবসায়ী যারা ইসলামের আগে থেকেই চিটাগং বন্দরে ব্যবসা করতে আসত তারাই ইসলাম গ্রহনের পরে এদেশে ইসলাম নিয়ে এসেছিলেন এবং অনেক সাহাবীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে । আর আপনি এখানে "তেলওয়ারবাজের" দারা কি বুঝাচ্ছেন একটু পরিস্কার করে বলবেন দয়াকরে । 

        <<গুগুল মামু হচ্ছে এমন মামু যার কাছে যে যে ধরণের তথ্য চাইবে তা সে ভাবেই পেয়ে  যাবে।

        এবার আপনার দাবির পক্ষে দলিল দেখান বাংলাদেশে কোন আরব বণিক ব্যবসা করতে করতে  ইসলাম প্রচার করেছে গেছেন? তার নাম ধাম ঠিকানা?  বাংলাদেশের যত্র তত্র অলী আউলিয়াদের মাজার কি আপনার চোখে পড়েনা? আপনি এত ইতিহাস জানেন তার তাদের ইতিহাস জানেন না তারা কি করে গিয়েছিলেন?  >>

        মানুষ ধর্ম ত্যাগ যত সহজে করতে পারে তত সহজে তার কালচার ত্যাগ করতে পারেনা।

        কথা সত্য কিন্তু সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এটা সম্ভব যার জলন্ত প্রমান হল সাহাবারা তারপর তাবেঈনরা তারপর তাবে তাবেঈনরা এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সকল হকপন্থি আলেমরা যারা সাধারন মানুসদেরকে সঠিক পথ দেখাচ্ছেন । 

        <<আপনাদের নিয়ে মুস্কিল হচ্ছে আরব মুরুময় এলাকার মানুষের মনমগজ এবং তাদের চাহিদা আর বাংলাদেশে যেখানে ঝড় বাদলের এলাকার মানুষদের মনমগজ এক ধরে বিচার করতে বসেন। >>

        ভাই, বাংলাদেশের মানুস চৌদ্দশ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় মুছলমান সুতরাং তাদের মনে নব মুসলিমের এই মানসিক সমস্যা কিভাবে আর থাকতে পারে? আর আপনি যেভাবে শিরক বিদআদকে justify করলেন তাতে ইসলাম আর ইসলাম থাকবে না এটাও তখন খৃস্টধর্মের মত হয়ে যাবে । আর এভাবে  শিরক বিদআদকে justify করতে থাকলে শিরক বিদআদের যে একটা concept আছে সেটা কিভাবে কোথায় apply করবেন? 

        <<না। আপনি কথার কথা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৪শত বছর ধরে মুসলিম নয়। পশ্চিম বঙ্গে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির আগমন তেরশতকে হলেও মুসলিম শাসন পূর্ব বঙ্গে আসতে আরো একশত বছর লেগেছিলো। আরআর বিজেতারা এসেই তলোয়ার গর্দানে রেখেই তাদের সাথে সাথে মুসলিম বানিয়ে ফেলেননি। বিজয়ীদের পিছনে পিছনে অলি আউলিয়ারা এসেছিলেন, তা পর্যায়ক্রমেই এসেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় ১৪শতকে দেখি শাহজালাল রাঃ তার সঙ্গীরা ইসলাম প্রচার করতে এই দেশে এসেছিলেন, যা ৭ শত বছরের বেশী হবেনা। ঐ যে মানুষ জন মুসলিম হয়েছিলো তারা কিন্তু তাদের আগের ধর্মের অনেক রীতি রেওয়াজ ত্যাগ না করে তা পালন করে এসেছিলো। যার কারণে বিদেশ থেকে আগত মুসলিমরা স্থানীয় নওমুসলিমদের সাথে বিয়ে সাদী ইত্যাদি সম্পর্ক করতে দূরে থাকতো।

         উপমহাদেশে শাহ ওয়ালী উল্লাহ রঃ, এবং আসাম বাংলাদেশে কেরামত আলী জৈনপুরী রঃ প্রমূখ উলামায়ে কেরামগণের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণে এই দেশে বিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কাজেই মুসলিমরা এই দেশে ৮/৯ শত বছর আগে এসেই রাতারাতি এই দেশের লোকদেরকে প্রকৃত মুসলিম বানিয়ে ফেলেননি। >>

        আমাদের সুফি সাধকগণ যা করেছিলেন সে ধরণের কাজ রাসুল সাঃ ও করেছিলেন। ইতিহাস দেখুন রাসুল সাঃ যখন সবে মাত্র মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন তখন দেখলেন সেখানের লোকজন বছরের দুই দিন বিশেষ উৎসব পালন করছে। তখন তিনি নব মুসলিমদের জন্য অনুরূপ দুদিনে দুই ঈদ উৎসব চালু করে ছিলেন। এই চালু করার পিছনেও সেই এক কাজ করেছিলো যে কাজ করেছে আমাদের এখানে।

        ভাই, মিলাদ, শিন্নি, ফাতেহাখানী, দশা চল্লিশা ইত্যাদির সাথে  আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী রাসুল(সঃ) যে বিধান দিয়েছিলেন  সেগুলর তুলনা করা কি এক হল? আপনি বিদাতের সাথে ইসলামের বিধানের তুলনা করলেন । দুই ইদের পিছনেই কারন আছে । ইদুল আযহার সাথে ইব্রাহীম (আঃ) এর কাহিনী জড়িত আর ইদুল ফিতর একমাস সাওম পালন করার পর করা হয় । এখানে মদিনার কাফির মুশরিকদের উৎসবের মিল কোথায় পেলেন? মদিনার মুশরিকদের দুই উৎসবকে রহিত করে দিয়ে রাসুল(সঃ) এর পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য ইদুল আযহা এবং ইদুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন । আর এর পরে মুসলমানের জন্য আর কোন ধর্মীয় উৎসবের উদ্ভাবন এবং তা পালন করার কোন এখতিয়ার আছে কি? 

        <<আমার মনে হয় আপনার অন্য কোন কাজ নেই তাই প্রশ্ন করার জন্য প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। বিদা’ কি  বিদা’ কি না এই নিয়ে আমি আলোচনায় যেতে চাচ্ছিনা। ইতিহাস পড়েন আর ইতিহাসের প্রেক্ষাপট কি তা জানেন না? >>

         

        আমি এই নিয়ে আলোচনা আর বাড়াতে চাইনা। আমার সময় নেই! মা আস সালামা।

        1. 1.2.1.1
          মুহাম্মদ হাসান

          মুনিম ভাই,

          আগেই বলেছিলাম তর্ক করার জন্য মন্তব্য করিনি । আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ । আর কোন মন্তব্য করবনা । যার যার বুঝ তার তার কাছে । সুতরাং আপনি যেভাবে ইসলাম বুঝেন এবং আমল করেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার ।

          ওয়াসসালাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.