«

»

May ২২

সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক: ইসলামে কি নারীকে উটের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

মুক্তমনা(!) আকাশ মালিক তার “যে সত্য বলা হয়নি” নামক জননিন্দিত ই-বুকে সুকৌশলে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, ইসলামে নারীকে উটের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মে নারীকে গুঞ্জাফল ও গাভীর সাথে তুলনা করা হয়েছে, আর ইসলাম ধর্মে তুলনা করা হয়েছে সম্পদ (মাল) ও উটের সাথে। [ই-বুক “যে সত্য বলা হয়নি”, ২য় অধ্যায়, পৃ. ৫]

নারীকে উটের সাথে কীভাবে তুলনা করা হয়েছে সেটা লেখক তুলে ধরেন ৮ নম্বর পৃষ্ঠায়-

হাদিসে নবীজি বলেন : (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস হতে বর্ণিত) “আল্লাহ ও শেষ দিনের ওপর বিশ্বাসী তোমাদের যারা দাসী খরিদ করে বিবাহ করতে চায়, তারা যেন এই বলে দোয়া করে, ‘হে প্রভু এই মহিলাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়ে রেখো, সে যেন আমার জন্য উপকারী হয়, তার মধ্যে যেন ভাল গুণ থাকে।’ আর এই দোয়া পড়বে তোমরা যখন উট খরিদ করবে।” (দ্রষ্টব্য : আবু দাউদ শরিফ, বুক ১১, নম্বর ২১৫৫)। আমাদের বাংলাদেশের কোনো পয়গম্বর হলে হয়তো বলতেন, ‘এই দোয়া পড়বে তোমরা যখন গাভী খরিদ করবে।’ [ই-বুক “যে সত্য বলা হয়নি”, ২য় অধ্যায়, পৃ. ৮]

আকাশ সাহেব তার চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে এখানে অসততার আশ্রয় নিয়ে নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে হাদিসটির বাংলা অনুবাদ করেছেন। আবু দাউদ শরিফ থেকে নেওয়া উনার রেফারেন্সটা আগে চেক করা যাক:

Book 11, Number 2155:
Narrated Abdullah ibn Amr ibn al-'As:
The Prophet (peace_be_upon_him) said: If one of you marries a woman or buys a slave, he should say: "O Allah, I ask Thee for the good in her, and in the disposition Thou hast given her; I take refuge in Thee from the evil in her, and in the disposition Thou hast given her." When he buys a camel, he should take hold of the top of its hump and say the same kind of thing.

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস(রা.) হতে বর্ণিত:

নবী (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যদি তোমাদের মধ্যকার কেউ কোন মহিলাকে বিবাহ করে অথবা কোন ক্রীতদাসি খরিদ করে সে যেন বলে: “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে তার এবং যে স্বভাব তুমি তাকে দান করেছ সেটার কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আমি তোমার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করছি তার এবং যে স্বভাব তুমি তাকে দান করেছ সেটার অকল্যাণ/অনিষ্ট হতে।”  যখন সে কোন উট খরিদ করে সে যেন তার কুঁজের শীর্ষদেশ ধরে একই ধরণের কথা বলে। [আবু দাউদ: বুক ১১, নম্বর ২১৫৫]

খুব ভালো করে লক্ষ্য করুন,

নারী কেবলই অকল্যাণকর, তার মাঝে কোন কল্যাণ নেই এমন কোন কথা কিন্তু এ হাদিসে বলা হয়নি। বরং তার মাঝে কল্যাণ আছে এটা স্বীকার করে প্রথমেই সেই কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।   

আকাশ মালিকের মতো- ‘হে প্রভু এই মহিলাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়ে রেখো, সে যেন আমার জন্য উপকারী হয়, তার মধ্যে যেন ভাল গুণ থাকে।’ এমন কোন দুআ হাদিসটিতে করতে বলা হয় নাই।

এখন কেউ বলতে পারেন নারীর মধ্যে কল্যাণ আছে, সেটা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে ভালো কথা। কিন্তু অকল্যাণের কথা, অনিষ্টের কথা কেন এলো? সে কথায় পরে আসছি।

ইসলামের বিশিষ্ট সমালোচক সাহেব সম্ভবত বলতে চান, যেহেতু কোন নারীকে বিবাহ করার সময়, কোন দাসিকে খরিদ করার সময় এবং উটকে খরিদ করার সময় একই ধরণের দুআ পড়তে বলা হয়েছে, কাজেই নারীকে উটের পর্যায়ে গণ্য করা হয়েছে।

প্রথমে দেখা যাক, দুআটিতে কী বলা হচ্ছে?

দুআটিতে একটি বিষয় চাওয়া হচ্ছে এবং

একটি বিষয় হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা হচ্ছে।

বস্তুত ইসলাম শেখায় যে প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যেই ভালো দিক/কল্যাণ এবং মন্দ দিক/অনিষ্ট আছে, কাজেই মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে নিহিত কল্যাণ কামনা করা এবং সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা। এই ধরণের দুআ শুধু নারী, ক্রীতদাসি বা উটের অনিষ্ট হতে রক্ষা পাবার জন্যই করতে হবে এমন নয় বরং প্রতিটি সৃষ্টির অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য এমনকি নিজে নিজের অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্যও একই ধরণের দুআ করতে বলা হয়েছে। আসুন দেখা যাক হাদিসে এই একই ধরণের দুআ আর কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে শেখানো হয়েছে-  

এক.

হে আল্লাহ, প্রশংসা তোমার জন্য! তুমি আমাকে এর [কাপড়ের] দ্বারা পরিধান করিয়েছ। আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ এবং যা দ্বারা এটি প্রস্তুত করা হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এর অনিষ্ট হতে এবং যা দ্বারা এটি প্রস্তুত করা হয়েছে তার অনিষ্ট হতে। [আবু দাউদ ৩২/৪০০৯]

দুই.

আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা আমি আশ্রয় চাই সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্ট হতে। [মুসলিম ৩৫/১৫ /৬৫৪১]

তিন.

হে আল্লাহ, তোমার নিকট আশ্রয় চাই- আমি যা শুনি তার অনিষ্ট হতে, আমি যা দেখি তার অনিষ্ট হতে, আমি যা বলি তার অনিষ্ট হতে, আমি যা চিন্তা করি তার অনিষ্ট হতে এবং আমার বীর্যের অনিষ্ট হতে। [আবু দাউদ ৮/১৫৪৬]

চার.

আমরা তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমাদের নিজেদের মধ্যকার অনিষ্ট হতে। [আবু দাউদ ৪১/৫০৬৫]

পাঁচ.

আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর ক্রোধ, তাঁর শাস্তি এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে। [মুয়াত্তা ৫১/৪/৯]

ছয়.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার কাছে আমরা সাহায্য ও ক্ষমা চাই এবং আশ্রয় গ্রহণ করি আমাদের নিজেদের অনিষ্ট হতে। [আবু দাউদ ১১/২১১৩]

[স্বাভাবিকভাবেই আমি এখানে মূল হাদিস হতে শুধু প্রাসঙ্গিক দুআর অংশগুলো তুলে দিয়েছি।]

কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি কোন কিছু হতে কল্যাণ প্রার্থনা করা বা তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা এটা ইসলামের একটি সাধারণ শিক্ষা। এটা কোনভাবেই শুধুমাত্র নারী বা উটের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়, বরং যে কোন সৃষ্টি, এমনকি নিজেদের অনিষ্ট হতেও আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। আল-কুরআনেও সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে:

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,

তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, [সূরা ফালাক, ১-২]

এতক্ষণের আলোচনায় কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় যে ইসলাম নারীকে উটের সাথে তুলনা করে নাই, বরং সেটা আকাশ মালিকের কষ্টকল্পনা মাত্র।

আকাশ মালিক সাহেব যেহেতু একটি হাদিসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাই হাদিসটির মর্মার্থ তুলে ধরতে এত কিছু বলতে হলো। নয় তো আকাশ সাহেবের দাবিকে একটি মাত্র হাদিস দিয়েই উড়িয়ে দেওয়া যেত। কেননা সত্যই যদি ‘ইসলামে নারীকে উটের সাথে তুলনা করা হয়েছে’ এটা প্রমাণ করতে হয়, তবে নিচের হাদিসটিকে যে একেবারে গায়েব করে ফেলতে হবে!

[Bukhari  Vol.8, Book 73, No.: 68 ]
Narrated 'Abdullah bin Zam'a:
The Prophet forbade laughing at a person who passes wind, and said, "How does anyone of you beat his wife as he beats the stallion camel and then he may embrace (sleep with) her?" And Hisham said, "As he beats his slave".

ইসলামে যেখানে নারীকে উটের মতো প্রহার করার সমালোচনা করা হচ্ছে সেখানে উল্টো ইসলামের ওপর নারীকে উটের সাথে তুলনা করার অপবাদ আরোপ করাটা কিছুতেই ইসলামের মুক্ত সমালোচনা হতে পারে না, বরং তা হচ্ছে নগ্ন ইসলাম-বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।

১২ comments

Skip to comment form

  1. 8
    shamim

    hadis bikrito na kore bikkrito cinta cetona prokash korbe ki kore?

  2. 7
    শামস

    ভণ্ড এখনও দ্বিপদী ও চতুষ্পদী বিচরণক্ষেত্রে চইষা বেড়ায়!

  3. 6
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    সুন্দর ব্যাখ্যা ।আসলে ইসলামবিরোধিতা জিইয়ে রাখতে হলে নাস্তিকদের কষ্টকল্পনারই আশ্রয় নিতে হবে।

  4. 5
    এস. এম. রায়হান

    বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ।
     
    তবে প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামে যদি নারীকে উটের সাথে তুলনা করা হয়েও থাকে সেক্ষেত্রে ছাগনাস্তিকদের সমস্যা কোথায়? ছাগনাস্তিকদের কাছে উট কি খারাপ কিছু? তাদের কোন্‌ ধর্মগ্রন্থে এই কথা লিখা আছে? ছাগনাস্তিকরা তো বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে, যে কল্পকাহিনী অনুযায়ী তারা নিজেরা সহ সকল প্রাণী নাকি একে-অপরের আত্মীয় (খালাতো-মামাতো ভাই-বোন)। ফলে নারীকে উটের সাথে তুলনা করলে ছাগনাস্তিকদের মাথায় রক্ত উঠবে কেন? এই ছাগনাস্তিকরা কি তাহলে ভণ্ড বিবর্তনমনা? ইসলাম-বিদ্বেষী ছাগনাস্তিকরা আসলে গাছেরও খাইতে চায় আবার তলারও কুড়াইতে চায় -- যা সভ্য ও যুক্তিবাদী সমাজে প্রত্যাখ্যাত।

    1. 5.1
      সাদাত

      ভালো পয়েন্ট ধরেছেন। এই কথাটা আমি লিখবো লিখবো করেও লিখতে ভুলে গেছি।

    2. 5.2
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      ভালো পয়েন্ট এস.এম ভাই।survival of the fittest-এর কথা বলে মানবসমাজে ধর্ষণকে জায়েজ করতে চেয়েছিল নাস্তিকরাই।এদের মুখেই আবার "ইসলামে নারী অবমাননা" শীর্ষক লেকচার শুনলে স্রেফ হয়ে যাই।

      1. 5.2.1
        শামস

        বিবর্তনবাদের নামে প্রাণীর ধারাবাহিকতা মানুষ বহন করছে বইলা সমকামিতা নিয়া তাদের আবেগের শেষ নাই আর এখন উট নিয়া এতো চুলকানি কেন!  
         

  5. 4
    করতোয়া

    সুরা বাকারা'র ২য় আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই কোরআন কেবল তাদের জন্য হিদায়া যারা "মুত্তাকী"। এর অর্থ যে সমস্ত মানুষ মুত্তাকী বা যারা মুত্তাকী হবার বাসনায় পথ খোঁজে তাদের জন্য কোরআন একটি অন্যতম হিদায়া। তারা এই কিতাব থেকে সত্যিকারের সিরাতুল মুসতাকিম এর পথ খুঁজে পাবেন। আবার একই আয়াতের বৈপরিত অর্থ যে যারা মুত্তাকী নয় বা মুত্তাকী হবার বাসনা যাদের অন্তরে নাই তারাও এই কিতাব থেকে হিদায়া পাবে তবে সিরাতুল মুসতাকিম এর পথ নয় বরং পথভ্রষ্টতা। যে ব্যাক্তি কোরআনের আয়াত থেকে সুপথের খোজ করবে সে সুপথেরই সন্ধান পাবেন আর যে বিতর্ক করার জন্য পথভ্রষ্ট হবার জন্য কোরআনের আয়াতে বক্রতা খোজ করবে তাকেও আল্লাহ সোবহানা তালা বিমুখ করবেন না। সেও অনেক আয়াত পাবে যা দ্বারা সে কোরআনের আয়াতের বক্রতা খুজে পাবে। যেমন মদ্যপান সংক্রান্ত আয়াত, সুদ সংক্রান্ত আয়াত, নারী অধিকার সংক্রান্ত আয়াত ইত্যাদি।
     
    আকাশ মালিকরা হচ্ছে কোরআন থেকে পথভ্রষ্টতার পথ খোঁজ করে তাই তারা অনেক কিছুই বলে যা বোঝার মত জ্ঞান আল্লাহ তাদের দেন নাই। বহু জায়গায় এই লোকটি ধরা খায় কিন্তু বিড়ালের মত চোখ বন্ধ তাই বোঝে না অন্যরা কী বলছে তার সম্পর্কে। এরা মানুষরূপি শয়তান যাদের সম্পর্কে কোরআনে অনেক আয়াতে ইঙ্গিত দেয়া আছে। এরা যেমন ইসলামের প্রাথমিক যুগেও ছিল, এখনও আছে, এমনকি কিয়ামতের দিনেও এরা থাকবে। মুসা নবীর সময় যেমন সামেরী যে চরিত্রের ছিল এরা সেই চরিত্রের, এদের মধ্যে কোন তফাৎ নাই।

  6. 3
    এম_আহমদ

    মানুষ যখন বিদ্বেষ ও মিথ্যাকে প্রোপাগাণ্ডার হাতিয়ার করে, পর-ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়, তখন তার আচরণ ও কথাবার্তা আপনাতেই হীন হয়ে পড়ে –যুক্তি আবেদন হারায়। তার নিজ চরিত্রই বরং বিভিন্ন আকৃতিতে ভেসে আসে। সে কোন্‌ মাপের ব্যক্তিত্ব, তাও প্রকাশ পায়। এই প্রক্রিয়ায় সে কেবল তার নিজেকেই অপদস্থ করে। এটা চাক্ষুষ সত্য।

    আল্লাহ তাঁর নবীর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। এটা সমুন্নত আছে এবং ইনশাল্লাহ এভাবেই থাকবে।

    1. 3.1
      সাদাত

      আল্লাহ তাঁর নবীর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। এটা সমুন্নত আছে এবং ইনশাল্লাহ এভাবেই থাকবে।

      একদম ঠিক কথা।

  7. 2
    ইমরান হাসান

    অসাধারণ সাদাত ভাই। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারলাম না তবে আকাশ মালিক-কে ধিক্কার জানাচ্ছি আমি। আর আপনার জন্য গোলাপ  

  8. 1
    এস. এম. রায়হান

    আমার প্রাসঙ্গিক একটি লেখা- কোরআনের আলোকে নারী: সঠিক অবস্থান ও অভিযোগের জবাব
     
    নারীদের বিষয়ে কোরআনের কিছু আয়াত:

    “হে মানব-জাতি! তোমরা ভয় কর তোমাদের রবকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এক আত্মা থেকে এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তার থেকে তার জোড়া, আর ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের দু’জন থেকে অনেক নর ও নারী।” (আন-নিসা ৪:১)

    “যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” (আন-নিসা ৪:১২৪)

    “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া।” (আর-রূম ৩০:২১)

    “আমি বিনষ্ট করি না তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর কর্ম, তা সে হোক পুরুষ কিংবা নারী। তোমরা একে অন্যের সমান।” (আল-ইমরান ৩:১৯৫)

    “বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আনুগত্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। এদেরই উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করবেন।” (আত-তওবা ৯:৭১)

    “তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।” (আল-বাকারা ২:১৮৭)

    “হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মোত্তাকী।” (আল-হুজরাত ৪৯:১৩)

    “যে ভাল কাজ করে এবং বিশ্বাসী, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, আমি তাকে অবশ্যই দান করব এক পবিত্র শান্তিময় জীবন এবং তারা যা করত তার জন্য তাদেরকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।” (আন-নাহল ১৬:৯৭)

    “যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে সে কেবল তদনুরূপ প্রতিফল পাবে। আর যে ব্যক্তি ভাল কাজ করে সে পুরুষই হোক কিংবা নারীই হোক, সে যদি বিশ্বাসী হয় তবে এরূপ লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেথায় তাদেরকে দেয়া হবে বেহিসাব রিযিক।” (আল-গাফির ৪০:৪০)

    “আমি মানুষকে তার মাতা-পিতা সম্বন্ধে নির্দেশ দিয়েছি তাদের সাথে সদাচরণ করতে। তার মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দু’বছরে তার দুধ ছাড়ানো হয়। সুতরাং শোকরগুজারী কর আমার এবং তোমার মাতা-পিতার।” (লুকমান ৩১:১৪)

    “নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজাদার পুরুষ ও রোজাদার নারী, স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী পুরুষ ও স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী–এদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান।” (আল-আহযাব ৩৩:৩৫)

    “সেদিন আপনি দেখতে পাবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে যে, তাদের নূর ছুটাছুটি করছে তাদের সামনে ও তাদের ডানে। তাদেরকে বলা হবে: আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ এমন জান্নাতের, যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ, সেখানে তোমরা অনন্তকাল থাকবে। ইহাই মহা সাফল্য।” (আল-হাদীদ ৫৭:১২)

    “পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ।” (আন-নিসা ৪:৩২)

    “পুরুষদের জন্য অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়; এবং নারীদের জন্যও অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়, হোক তা অল্প কিংবা বেশী। তা অকাট্য নির্ধারিত অংশ।” (আন-নিসা ৪:৭)

    “হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় নারীদের জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা। আর তাদের আটকে রেখ না তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করতে, কিন্তু যদি তারা কোন প্রকাশ্য ব্যভিচার করে তবে তা ব্যতিক্রম। তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করবে।” (আন-নিসা ৪:১৯)

    “যারা কোন ভাল নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই প্রকৃত দুষ্ট ও মিথ্যাবাদী।” (আন-নূর ২৪:৪)

    “এ কথা সত্য যে, নারীদের উপর পুরুষের যেমন কিছু অধিকার আছে তেমনি পুরুষের উপরও নারীদের কিছু অধিকার আছে।” (মুহাম্মদ সাঃ)
     
    নারীদের উপর কিছু হাদিস:

    *Fear Allah in respect of women.

    *The best of you are they who behave best to their wives.

    *If anyone has a female child, and does not bury her alive, or slight her, or prefer his male children over her, Allah will bring him into Paradise.

    *If anyone cares for three daughters, disciplines them, marries them, and does good by them, he will enter Paradise.

    *Whoever maintains two girls till they attain maturity, he and I will come on the Day of Resurrection like this; and he joined his fingers.

    *Jahimah came to the Prophet, peace be upon him, and said: “Messenger of Allah! I want to join the fighting (in the path of Allah) and I have come to seek your advice.” He said, “Then remain in your mother’s service, because Paradise is under her feet.”

    *The world and all things in the world are precious but the most precious thing in the world is a virtuous woman.

    *A Muslim must not hate his wife, and if he be displeased with one bad quality in her, let him be pleased with one that is good.

    *The more civil and kind a Muslim man is to his wife, the more perfect in faith he is.

    *Narrated Khansa bint Khidam Al-Ansariya that her father gave her in marriage when she was a matron and she disliked that marriage. So she went to Allah’s Apostle and he declared that marriage invalid.

    *Give them food what you have for yourself, and clothe them by which you clothe yourself, and do not beat them, and do not revile them.

    *None but a noble man treats women in an honorable manner. And none but an ignoble treats women disgracefully.

    *One who makes efforts (to help) the widow or a poor person is like a mujahid (warrior) in the path of Allah, or like one who stands up for prayers all of the night and fasts all of the day.

    *A man came to the Messenger of Allah, peace be upon him, and asked: “O Messenger of Allah, who is the person who has the greatest right on me with regards to kindness and attention?” He replied, “Your mother.” “Then who?” He replied, “Your mother.” “Then who?” He replied, “Your mother.” “Then who?” He replied, “Your father.”

    পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.