«

»

Jul ১৪

বাংলা অক্ষরে আরবি লেখার নিয়ম

বাংলা অক্ষরে আরবি লিখার কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম এখনো পর্যন্ত চালু হয়েছে কিনা জানি না। সাধারণত দেখা যায়, যার যেমন ইচ্ছা সে সেভাবেই লিখছে। সাধারণ লেখায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করলেও হয়তো চলে, তবে আরবী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাভাষীদের সুবিধার জন্য একটা নিয়ম অনুসরণের তাগিদ অনুভব করছি অনেকদিন থেকেই। তাই আমি আরবীকে বাংলায় লিখার জন্য একটা মোটামুটি নিয়ম দাঁড় করালাম। হয়ত এতে আরো সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজনের দরকার হতে পারে। তবে বর্তমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকলাম। নিয়মটি ব্যক্তিগত ব্যবহারে জন্য তৈরি করা হলেও কেউ চাইলে তিনিও ব্যবহার করতে পারেন।  

নিয়ম-১:

১.১ নিচের আরবি হরফগুলোকে একটিমাত্র বাংলা বর্ণ/যুক্তাক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অনুসরণীয় রীতি চিত্রে দেখানো হলো।

১.২ যবর-এর ক্ষেত্রে এই অক্ষর/যুক্তাক্ষর এর সাথে ‘আ’-কার যুক্ত হবে।

১.৩ যের-এর ক্ষেত্রে এই অক্ষর/যুক্তাক্ষর এর সাথে ‘ই’-কার যুক্ত হবে।

১.৪ পেশ-এর ক্ষেত্রে এই অক্ষর/যুক্তাক্ষর এর সাথে ‘উ’-কার যুক্ত হবে।

১.৫ সাকিন এর ক্ষেত্রে শুধু এই অক্ষর/যুক্তাক্ষর হবে।

নিয়ম-২:

নিচের হরফ-গুলো যবর, যের, পেশ এবং সাকিন এর ক্ষেত্রে একই বাংলা বর্ণ/যুক্তাক্ষর দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা যায় না। এক্ষেত্রে অনুসরণীয় রীতি চিত্রে দেখানো হলো।

 

নিয়ম-৩:

৩.১ যে হরফে ‘এক আলিফ টান’ হবে তার সমতুল্য বাংলা বর্ণ/যুক্তাক্ষের নিচে আন্ডারলাইন দিতে হবে।

৩.২ তিন/চার আলিফ টানের জন্য পৃথক কোন নিয়মের দরকার নাই, তবে সুবিধার জন্য আন্ডারলাইনকৃত বর্ণ/যুক্তাক্ষরের পরে ‘-’ দেওয়া যেতে পারে।

নিয়ম-৪:

তাশদিদ থাকলে ভেঙ্গে লিখতে হবে। যেমন, “আল্লাযি” না লিখে “আললাযি” লিখতে হবে। “আল্লাহু” না লিখে আললাহু লিখতে হবে।

নিয়ম-৫:

অনুচ্চারিত আরবি হরফ বাদ দিতে হবে।

 

উদাহরণ:

বিসমিললাহির রাহ্বমানির রাহ্বিম [অথবা রাহ্বি-ম]

ক্বুল হুওয়াললাহু আহ্বাদ।

আললাহুছ ছামাদ।

লাম য়ালিদ ওয়া লাম য়ুলাদ।

ওয়া লাম য়াকুললাহু কুফুওয়ান আহ্বাদ।

 

নোট-১: এখানে ث-কে ‘ছ্ব’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছ। হয়ত ‘থ’ দ্বারাও প্রতিস্থাপিত করা যেত। তবে আলোচনাসাপেক্ষে ‘ছ্ব’ অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়েছে।

নোট-২: এখানে ض-কে ‘দ্ব’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। যদিও আমার আমি চেয়েছিলাম একে ‘জ’ জাতীয় কিছু দ্বারা প্রতিস্থাপিত করতে, কিন্তু য, য্ব, জ, জ্ব ইতোমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ‘দ্ব’ ব্যবহার করতে হলো।

নোট-৩: এই রীতিতে কুরআনের কোন আয়াত লেখা হলে, তিলাওয়াতের জন্য আপনাকে অবশ্যই আগে আরবী উচ্চারণ জানতে হবে।

নোট-৪: যেসব হরফ মোটা করে পড়তে হয়, লেখায় আ-কার থাকলেও পড়ার সময় আ-কার ছাড়া পড়তে হবে। যেমন, লেখার সময় “রাহ্বমান” লিখতে হবে, পড়ার সময় “রহ্বমান” পড়তে হবে।

নোট-৫: এই নিয়মগুলো কেবল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্রেই প্রয়োগের জন্য, সাধারণ আলোচনায় এই রীতি ব্যবহার করে লেখাকে পাঠকের কাছে বিষয়কে দুর্বোধ্য করার জন্য নয়।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 5
    Lemunuzzaman

    Vai ms word a ki vabe arbi lekha jai. jodi kono software thake tahole janaben. thankyou

  2. 4
    এম_আহমদ

    Underlineগুলো উপরে আসেনি।

    1. 4.1
      সাদাত

      কমেন্ট বক্সে ফরম্যাটিং ঠিকমতো কাজ করে না।

  3. 3
    এম_আহমদ

    Transliteration –এর ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্য একটা সিস্টেমে আসতে হবে। উদ্যোগের প্রতি অভিবাদন। তবে আরও একটু চিন্তা ভাবনা করতে হবে। আমার ২/৩ কথা নিম্নরূপ:
    ي ইয়ার পরিবর্তে ‘য়া’ কেবল শব্দের শেষাংশে চলে, কিন্তু প্রথম ও মধ্যখানে আসলে চলে না। যেমন يا ليتني كنت ترابا  (ইয়া লাইতানী কুনতু তুরাবা) তে ‘ইয়া’কে ‘ই’-সংযোগে (য়া) দিতে হচ্ছে। ইয়া যদি মধ্যখানে আসে যেমন দীনে دين তখন তার স্বরূপ ভিন্ন হচ্ছে। দীর্ঘ স্বরের consistency-এর জন্য underline দিয়েই চালানো যেতে পারে। যেমন দিন মুসা  ই’সা ইত্যাদি।
    ث এর জন্য ‘স্ব’ ব্যবহারে স্বস্তি পাচ্ছিনা। কিন্তু আর কোন বিকল্পও ভাবতে পারছি না।
    শাদ্দার ক্ষেত্রে যদি বাংলা যুক্তাক্ষর ত্যাগ করা হয় (যেমন আললাহতে ) তবে সর্বত্র consistency maintain করতে হবে।  আবার আললাহ শব্দের শেষ ‘হা’ টি রাখা হবে, না ছেড়ে দিলেই চলবে, তাও চিন্তা করতে হবে।
    মাদ্দে ত্বাবেয়ির পরের সব মাদ্দগুলোর (যেমন মাদ্দে মুত্তাছিল/মুনফাছিল) জন্য অন্তত আরেকটি এক্সেন্ট পাওয়া গেলে খুব ভাল হত।

    1. 3.1
      সাদাত

      যদিও আমরা বাংলায় লিখি 'ইয়া আল্লাহ', কিন্তু আরবীতে উচ্চারণ করার সময় আসলেই কি আমরা 'ইয়া' বলি না 'য়া' বলি। আমার তো মনে হয় আমরা 'য়া' বলি, কিন্তু পাঠকের বলার সুবিধার জন্য 'ইয়া' লিখি। যেমন, একসময় লিখা হতো 'ইস্কুল', কারণ পাঠকের উচ্চারণের সুবিধার জন্য।  এখন কিন্তু 'স্কুল' বলতে কারো অসুবিধা হয় না। আমার মনে হয় 'ইয়া' বললে আসলে একটা 'ই' অতিরিক্ত উচ্চারিত হয়। 
      ث এর জন্য সম্ভাব্য দুটি বিকল্প হচ্ছে 'থ' এবং 'ছ্ব' ।
      এক নিয়ম অনুসরণ করলে, শাদ্দার ক্ষেত্রে যুক্তাক্ষর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ, মনে করুন  ত্ব এর ওপর তাশদিদ হলো, তখন ত্ব+ত্ব কিভাবে যুক্ত করা হবে? তবে এটা হতে পারে যে শাদ্দার ক্ষেত্রে যুক্তাক্তর রাখা এবং ছেড়ে দেওয়া দুটোরই অপশন থাকবে। 
      মাদ্দে মুত্তাসিল এবং মুনফাছিলকে আলাদা করতে গেলে লম্বা হামযা (আলিফ) এবং হামযার জন্য পৃথক বর্ণ/অক্ষর লাগবে। অথচ দুটোই কিন্তু ৪ আলিফ টানা যায়। মুত্তাসিলের ক্ষেত্রে জরুরি, আর মুনফাসিলের ক্ষেত্রে ১-৪ আলিফ পর্যন্ত টানা গেলেও ৪ আলিফ টানা মুস্তাহাব। কাজেই এই দুটোকে আলাদা করার কি খুব দরকার আছে?

      1. 3.1.1
        এম_আহমদ

        কাজেই এই দুটোকে আলাদা করার কি খুব দরকার আছে?

        আমি আলাদা করা কথা বলি নি ভাই, বরং উল্টোটা বলেছি অর্থাৎ মদ্দে লীন, আরেযী, মত্তাছিল, মুনফাসিল, সবই এক এক্সেন্টে চলে আসুক। [“মাদ্দে ত্বাবেয়ির পরের সব মাদ্দগুলোর (যেমন মাদ্দে মুত্তাছিল/মুনফাছিল) জন্য অন্তত আরেকটি এক্সেন্ট পাওয়া গেলে খুব ভাল হত।”]
         
        ‘য়া’ এর ব্যাপারে একমত হতে পারছিনা। এটা ইস্কুলের উদাহরণের মত নয়। প্রথমত, আমরা যে কনভেনশন তৈরি করতে যাচ্ছি, তা হচ্ছে বাংলা ভাষার প্রচলিত লেখার কনভেনশনকে সামনে রেখে। বাংলায় ‘য়া’ দিয়ে শব্দ শুরু করা হয় না। করা হতে পারে তবে তা বেখাপ্পা মানাবে। তাছাড়া আরবীর يا আর বাংলার ‘য়া’ –এর উচ্চারণ আমার কাছে নৈকট্য suggest করে না। ইস্কুলের ‘ই’ -র উচ্চারণ আর ইয়াকুবের ‘ই’-র উচ্চারণে আমার কাছে ভিন্নতা আসে। তবে এগুলো আরো চিন্তা করা যেতে পারে।
         
         ث এর জন্য ‘ছ্ব’ ভাল লাগছে।
         
        মনে বাংলায় ২/৩ জন phonetician এর সাথে কিছুটা consult করলে একটা নিশ্চিত অবস্থান পাওয়া যেতে পারে।

        1. 3.1.1.1
          সাদাত

          ث এর জন্য ‘ছ্ব’ গ্রহণ করলাম। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

  4. 2
    সাদাত

    তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। ই.ফা. যদি বই বানিয়েই দায়িত্ব শেষ করে তাহলে তো মুশকিল। মানুষকে এ ব্যাপারে জানাতে তো হবে, প্রচার তো করতে হবে। নইলে তাদের বানানো নিয়ম ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিতেই পড়ে থাকবে।

  5. 1
    Mahfuz

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর একটি বই আছে  নাম -- প্রতি বর্নায়ন নির্দেশিকা।
     এই বইটি তে আরবী লেখা বাংলায় লিখার নিয়ম দেওয়া হয়েছে । এই নিয়ম গুলি একদল জ্ঞানী লোকের কমিটি গঠন করেছেন । তাই  নূতন করে কোন নিয়ম  তৈরী করবার দরকার নাই । ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর নিয়ম অনুসরণ করলেই  হবে । নিয়ম গুলো খুবই সুন্দর ভাবে করা হয়ছে ।  আশা করি বইটি সংগ্রহ করবেন ।
     এটা সর্ব সম্মতিঃ কুরআন ওসমানীয়   পদ্ধতি  দিয়ে লিখা ওয়াজিব । অন্য পদ্ধতেতে লিখা জাইজ নাই । তাই আমাদের আলিম সমাজ প্রতি বর্নায়ন নির্দেশিকা-র প্রতি উদাসীন ।
     তবে অনেক সময় আরবী লিখা বাংলায় লিখার প্রয়োজন হয় ।
     
     

Leave a Reply

Your email address will not be published.