«

»

Jul ১৪

সাত হরফ, সাত কিরাআত এবং কুরআনের তথাকথিত একাধিক সংস্করণ(!)

[আমরা অনেকেই মনে করি আমাদের সামনে যে কুরআন গ্রন্থাকারে বিদ্যমান রয়েছে, সেটাই কুরআনের একমাত্র রূপ, এর বাইরে এর আর কোন রূপ নাই। অনেকে বড়জোর এতটুকু জানি কুরআনকে বিভিন্ন কিরাআতে পড়া যায়। কিন্তু বিভিন্ন কিরাআতে কী কী পার্থক্য হয়, এটা আমরা অনেকই জানি না। আমাদের এই অজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে একশ্রেণীর ইসলাম-বিদ্বেষী, তারা প্রচার করছে কুরআন আসলে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এর ফলে কুরআনের বেশ কিছু সংস্করণও তৈরি হয়েছে। তারা শুধু বলেই ক্ষান্ত হয় না, বরং কোন্ সংস্করণে কী কী পরিবর্তন হয়েছে তার তালিকাও পেশ করে অজ্ঞ পাঠকদের সামনে। তাই প্রতারিত হবার আগেই আসুন আসল তথ্যটি জেনে নিই। বি.দ্র.: এই লেখায় বাংলা অক্ষরে আরবী লেখার ক্ষেত্রে এই নিয়ম অবলম্বন করা হয়েছে।]

এক.

সাত হরফ:

কুরআন প্রথমে আরবীতে কুরাইশদের আঞ্চলিক ভাষায় নাযিল হচ্ছিল, কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে রাসূলুল্লাহ(সা.) একাধিক উপায় কুরআন পড়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। এর প্রেক্ষিতে কুরআন সাত হরফে নাযিল হতে থাকে।

ইবনে আব্বাস(রা.) হতে বর্ণিত:

রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন, “জিব্রাইল[আ.] আমার কাছে এক হরফে কুরআন তিলাওয়াত করলেন, আর আমি তাকে ভিন্ন ভিন্ন হরফে তিলাওয়াত করতে বলতে লাগলাম যতক্ষণ না, তিনি সাতটি ভিন্ন হরফে তিলাওয়াত করলেন।” [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ৩২১৯, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।৫৪।৪৪২, সুন্নাহ.কম: ৫৯।৩০]

উবাই বিন কা’ব(রা.) হতে বর্ণিত আরেকটি হাদিসের শেষে জিব্রাইল(আ.) বলেন: আল্লাহ আপনাকে আপনার উম্মতের নিকট সাত হরফে তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যে হরফেই তারা তিলাওয়াত করুক, তারা সঠিক [সাব্যস্ত] হবে। [দ্রষ্টব্য: সহিহ মুসলিম, আরবী: ৭।১৯৪২, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।১৭৮৯, সুন্নাহ.কম: ২১৭৮৯০]

কিন্তু এই সাত হরফের বিষয়টি প্রথম দিকে উমর(রা.) এবং উবাই ইবনে কা’ব(রা.)এঁর মতো বড় সাহাবিরাও জানতেন না। পরে তারা এ বিষয়ে অবগত হন।

উমর বিন খাত্তাব বলেন: আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেভাবে পড়তাম, যেভাবে রাসূলুল্লাহ(সা.) আমাকে শিখিয়েছিলেন, তা অপেক্ষা ভিন্ন এক পদ্ধতিতে পড়তে শুনলাম। আমি তার সাথে তর্ক করতে উদ্যত হলাম, কিন্তু তিনি তা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। অত:পর আমি তার চাদর ধরে তাকে রাসূলুল্লাহ(সা.)এঁর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি এই ব্যক্তিকে এমন পদ্ধতিতে সূরা আল-ফুরকান পড়তে শুনেছি যা আপনি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন তা অপেক্ষা ভিন্ন। এই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ(সা.) তাকে ছেড়ে দিতে বললেন এবং তাকে তিলাওয়াত করতে বললেন। তিনি তখন সেই পদ্ধতিতে পড়লেন যেই পদ্ধতিতে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। রাসূলুল্লাহ(সা.) তখন বললেন: এভাবেই এটা নাযিল হয়েছে। তিনি তখন আমাকে তিলাওয়াত করতে বললেন এবং আমি তিলাওয়াত করলাম। তিনি বললেন: এভাবেই এটা নাযিল হয়েছে। কুরআন সাতটি হরফে নাযিল হয়েছে। কাজেই সেগুলোর ভেতর হতে যেটা সহজ মনে হয় সেভাবেই তিলাওয়াত করো। [সূত্র: সহিহ মুসলিম, আরবী: ৭।১৯৩৫, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।১৭৮২, সুন্নাহ.কম: ২১৭৮২০]

উবাই বিন কা’ব(রা.) হতে বর্ণিত:

আমি এক মসজিদে ছিলাম যে সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে নাযাল পড়ল এবং এমন এক পদ্ধততিতে তিলাওয়াত করলো যাতে আমি আপত্তি করলাম। অত:পর অন্য এক ব্যক্তি প্রবেশ করলো এবং এমন এক পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করলো যা তার সাথীর পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্ন ছিল। যখন আমরা নামায শেষ করলাম, আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ(সা.)এঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম: এই ব্যক্তি এমন এক পদ্ধততিতে তিলাওয়াত করলো যাতে আমি আপত্তি করলাম, অত:পর অন্যজন প্রবেশ করলো এবং এমন এক পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করলো যা তার সাথীর পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ(সা.) তাদের তিলাওয়াত করতে বললেন, কাজেই তারা তিলাওয়াত করলেন। রাসূলুল্লাহ(সা.) তাদের ব্যাপারে অনুমোদন ব্যক্ত করলেন। আর আমার মনে একপ্রকার অস্বীকৃতি বিরাজ করলো যা এমনকি জাহিলিয়াতের দিনেও আসে নাই। যখন রাসূলুল্লাহ(সা.) দেখলেন আমি কিভাবে [ভুল ধারণার দ্বারা] আক্রান্ত হয়েছি, তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন, যার ফলে আমি ঘামতে লাগলাম এবং ভয়ে মনে হতে লাগলো আমি যেন আল্লাহকে দেখছি। তিনি বললেন: উবাই! আমাকে এক হরফে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। আমি উত্তর দিলাম: আমার উম্মতের জন্য সহজ করো। দ্বিতীয়বার আমাকে জানানো হলো যে দুই হরফে তিলাওয়াত করা যাবে। আমি পুনরায় উত্তর দিলাম: আমার উম্মতের জন্য সহজ করো। তৃতীয়বার আমাকে সাত হরফে তিলাওয়াত করার কথা জানানো হলো.. [সূত্র: সহিহ মুসলিম(হাদিসের প্রাসঙ্গিক অংশ), আরবী: ৭।১৯৪০, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।১৭৮৭, সুন্নাহ.কম: ২১৭৮৭০]

আরবী হাদিসে ‘হরফ’ শব্দটি এসেছে, বিধায় অনুবাদে আমি ‘হরফ’ লিখেছি, যদিও ইংরেজি অনুবাদে ব্যাখ্যামূলকভাবে এর অনুবাদ ‘way’ বা ‘dialect’ করা হয়েছে। আমি মূল হাদিসে ব্যাখ্যা না দিয়ে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করাকেই শ্রেয় মনে করি।

সাত হরফ বলতে কী বুঝায়?

সাত হরফ বলতে কুরআন তিলাওয়াতের সাতটি ভিন্ন উপায় বা ধরণকে যে বুঝায় তা উপরের হাদিসগুলো থেকেই বোধগম্য হবার কথা। এই সাত হরফে বিধানের(অনুমোদন/নিষেধাজ্ঞা) কোন পরিবর্তন হয় না।

ইবনে শিহাব(রহ.) বলেন: আমার কাছে এই কথা পৌঁছেছে যে, এই সাতটি প্রকার অপরিহার্যভাবে একই, অনুমোদন বা নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোন ভিন্নতা নেই। [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ৭।১৯৩৮, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।১৭৮৫, সুন্নাহ.কম: ২১৭৮৫০]

তবে, এই সাতটি ধরণ কিসের ভিত্তিতে হয়েছে, সে নিয়ে উলামাগণ অনেক আলোচনা পর্যালোচনা করেছেন। অনেকের মতে এর ভিত্তি হচ্ছে, আরবের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার পার্থক্য। কেউ কেউ এর সাথে আরো অনেক মতও প্রকাশ করেছেন। ভিত্তি যাই হোক না কেন, সাত হরফে আসলে সাত ধরণের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়:

১. বিশেষ্যের পার্থক্য:

এই পার্থক্য হয় বচনে(এক/দ্বি/বহু) এবং লিঙ্গে। আরবী অলংকার শাস্ত্র ব্যবহারের কারণে এই ধরণের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। কোন কিরআনে অলংকার প্রয়োগ করা হয়েছে, আবার সহজ করার জন্য কোন কিরাআতে অলংকার প্রয়োগ করা হয় নাই।

যেমন,

এক কিরাআতে এসেছে: কালিমাতু রাব্বিকা

ভিন্ন কিরাআনে এসেছে: কালিমাতু রাব্বিকা (‘মা’তে এক আলিফ টান)

২. ক্রিয়াপদের পার্থক্য:

এই পার্থক্য হয় অতীত, বর্তমান ও আজ্ঞাবাচক ক্রিয়ায়।

এক কিরাআতে এসেছে: রাব্বানা বাই’দু বাইনা আসফারিনা

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: রাব্বানা বাই’ই’দ বাইনা আসফারিনা

৩. বৈশিষ্ট্যসূচক চিহ্নের পার্থক্য:

ই’রা-এর পার্থক্যের ফলে শব্দের শেষের যবর, যের, পেশ ভিন্ন হয়। যেমন,

এক কিরাআতে এসেছে: যুল ‘আরশিল মাজিদু

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: যুল ‘আরশিল মাজিদি

 

৪. উচ্চারণগত পার্থক্য:

এই ক্ষেত্রে শব্দ একই থাকে তবে কোন হরফকে মোটা বা চিকন করা হয়, দীর্ঘ বা হ্রস্ব করা হয়, পরিষ্কার বা নাকের মধ্যে গোপন করা হয়, ইত্যাদি।

যেমন,

এক কিরাআতে এসেছে: মুসা

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: মুসি

৫. শব্দের ভিন্নতা:

কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কিরাআতে একই শব্দের স্থলে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই শব্দগুলো আসলে একটি অপরটির প্রতিশব্দ।

যেমন,

এক কিরাআতে এসেছে: ফাতাবাঈয়ানু

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: ফাতাছ্বাববাতু (একই অর্থ বহন করে)

(অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে এই ভিন্ন শব্দগুলো অবস্থাভেদে নির্দেশের পার্থক্যকে বুঝায় যা তাফসিরকারকদের বিষয়টি বুঝার ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হয়।)

৬. শব্দের আগ-পিছ:

যেমন,

এক কিরাআতে এসেছে: ওয়াজাআত সাকরাতুল হ্বাক্বক্বি বিল মাউতি

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: ওয়াজাআত সাকরাতুল মাউতি বিল হ্বাক্বক্বি

(একই অর্থ বহন করে)

৭. শব্দের কম-বেশ:

এক কিরাআতে এসেছে: তাজরি মিন তাহ্বতিহাল আনহারু

ভিন্ন কিরাআতে এসেছে: তাজরি তাহ্বতিহাল আনহারু (“মিন” বাদ দেওয়া হয়েছে অথচ অর্থের কোন পরিবর্তন নাই)

মোট কথা কুরআন তিলাওয়াতকে সহজ করার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে অনেক অক্ষর বা বাক্যে সুনির্দিষ্ট কিছু ভিন্ন পাঠের অবকাশ দেওয়া হয়, যাতে অর্থের তেমন কোন পরিবর্তন হয় না। তিলাওয়াতের এই ভিন্নতা আল্লাহ তায়ালা হতে নাযিলকৃত এবং রাসূলুল্লাহ(সা.) কর্তৃক বর্ণিত ও স্বীকৃত। এগুলো মানুষের ঐচ্ছিক বা ভুলবশত: পরিবর্তন নয়।

 

দুই.

সাত কিরাআত:

যা হোক, সাত হরফের ফলে রাসূলুল্লাহ(সা.) হতে সাহাবা(রা.)এর মাধ্যমে যে অনুমোদিত কিরাআতগুলো চালু হয় সেগুলোর ওপর দক্ষতার ভিত্তিতে সাত জন ক্বারি অধিক প্রসিদ্ধ হন, যদিও উনারা ছাড়াও আরো অনেক ক্বারি বিদ্যমান ছিলেন। এই সাত জন ক্বারির ‘বহুল বর্ণিত বিশ্বস্ত বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত’ কিরাআতসমূহ পরবর্তিতে সাত কিরাআত বলে প্রসিদ্ধি পায়।

বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কিরাআত হচ্ছে ‘হাফস’ কিরাআত। এই কিরাআত আমরা যার থেকে পেয়েছি তিনি হলেন: আসিম ইবনে (বাহলাদাহ ইবনে) আবি আন নাজুদ (র.) [ওফাত ১১৭ হি.]

উনি যে সূত্রে কিরআতটি পেয়েছেন সেটা নিচে দেওয়া হলো:

এছাড়াও বর্তমানে আরো দুইটি কম প্রসিদ্ধ কিরআত এখনো কোথাও কোথাও প্রচলিত আছে, এগুলো হলো ‘ওয়ারশ’ এবং ‘ক্বালুন’ কিরাআত। এই কিরাআত দুটি আমরা যার থেকে পেয়েছি তিনি হলেন:

নাফি (বিন আব্দুর রহমান) ইবনে আবু নাঈম(র.) [ওফাত ১৬৯ হি.]

উনি যে সূত্রে কিরাআতটি পেয়েছেন তা নিচে দেওয়া হলো:

এখন খুব সংক্ষেপে কতগুলো কথা মনে রাখুন:

১. ‘হাফস’, ‘ওয়ারশ’ এবং ‘ক্বালুন’ – সবগুলো কিরআত সহিহ মুতাওয়াতির, বহুল বর্ণিত বিশ্বস্ত বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত এবং উসমান(রা.) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কুরআনের কপিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২. সবগুলো কিরাআত রাসূলুল্লাহ(সা.) কর্তৃক বর্ণিত এবং স্বীকৃত।

৩. ‘হাফস’, ‘ওয়ারশ’ এবং ‘ক্বালুন’ – কিরাআতগুলোর মধ্যে যে পার্থক্য সেটা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক সাত হরফে কুরআন নাযিল করার কারণে, (ইচ্ছাকৃত, ভুল বা বিস্মৃতির ফলশ্রুতিতে)মানব কর্তৃক সৃষ্ট নয়।

৪. প্রতিটি কিরাআত তার নিজের জায়গায় অক্ষত, অবিকৃত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।

৪.১ ‘হাফস’ কিরাআত তার নিজের জায়গায় অক্ষত, অবিকৃত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।

৪.২ ‘ওয়ারশ’ কিরাআত তার নিজের জায়গায় অক্ষত, অবিকৃত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।

৪.৩ ‘ক্বালুন’ কিরাআত তার নিজের জায়গায় অক্ষত, অবিকৃত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

[টিপস: কোন ইসলামবিদ্বেষী ভ্রাতা/ভগ্নি যদি আপনার সামনে দু্‌ইটি ভিন্ন কিরাআতের কপি পেশ করে বলে যে ‘দেখো কুরআন কিভাবে পরিবর্তিত বা বিকৃত হয়েছে! এই তো কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন দুইটি সংস্করণ!’ তখন তাকে বিনয়ের সাথে বলবেন, ‘ওহে ভ্রাতা/ওহে ভগিনী! এ তুমি কী করিলে? তুমি যে দুইখান ভিন্ন ভিন্ন অনুমোদিত কিরাআতের লিখিত কপি আমার সামনে পেশ করিয়াছ? ইহা তো বিকৃতি নহে, ইহা অনুমোদিত দুইখান ভিন্ন পদ্ধতি। বিকৃতি দেখাইতে চাহিলে আমার সম্মুখে একই কিরাআতের ভিন্ন ভিন্ন দুইখান লিখিত কপি পেশ করো। তা না পারিলে সসম্মানে বিদায় গ্রহণ করো।’]

——–

আরো পড়ুন: আমার প্রত্যুত্তর সমূহ

 

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 15
    জিনিয়াস

    হযরত উসমান রা এর copy টি যদি থাকে তাহলে শব্দের এদিক ওদিক কেন একটু বুঝতে চাই???

  2. 14
    Nurhadi

    Quran bisoyok site

    http://www.alukah.net/sharia/0/62045/

    1. 14.1
      মুহাম্মদ হাসান

      Nurhadi,

      এখানে আরবি সাইটের রেফারেন্স দেওয়ার তাত্পর্যটা বুঝতে পারলাম না!

      1. 14.1.1
        nurhadi

        ভাই মুহাম্মদ হাসান- আরবি সাইটটিতে ‘কুরআনের সাত হরফ’ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে….আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সুরা ইউসুফে বলেছেন, ”আমি কুরআনকে আরবি ভাষায় নাযিল করেছি, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।”…. সুতরাং কুরআন বুঝতে হলে কুরআনের ভাষাটা আয়ত্ব করা ফরজ। আর যদি কুরআনের ভাষা কেউ আয়ত্ব করার চেষ্টা করে…তার জন্য এটা সহজ হয়ে যায়..কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ‘কুরআন শেখা/উপলব্ধি করা’ সহজ করার কথা কুরআনে বলেছেন।

  3. 13
    sahih

    @sadat,
    brother "haraf" is letter.Or any thing else.I ve learned readying arabic before i learned to read bengali. But now i find what u said is completely different than what we have learned.Clearly "7" "haraf" implies 7different (may or may not be but the Ahadith indicates) language or atleast dialect of arabic.So it is never mandatory to read and recite the Quraan in the vary that has been compiled and circulated by Kaliph Osman?
    Take resposibility (as u are demanding u know better!) to say that the Quraan we read now a days is the same authentic and unaltered Quraan that our Prophet (PBUH) has revealed from Allah.
    If u can verify then I would forward this post to others (seemingly non-believers) and say to them see THIS IS THE VARY QURAAN THAT ALLAH HAS REVEALED VIA mUHAMMAD(PBUH).
    THANKS
     

    1. 13.1
      সাদাত

       
       
      So it is never mandatory to read and recite the Quraan in the vary that has been compiled and circulated by Kaliph Osman?
      এই কথা তো বলি নাই। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সাত হরফের সেসব কিরাআতই কেবল পড়া যাবে যা উসমান(রা.) এর প্রস্তুতকৃত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এই ধরণের সমঞ্জস্যপূর্ণ কিরাআতের মধ্যে ৭ জন ক্বারির ১৪টি ক্বিরআত ছিল "বহুল বর্ণিত বিশ্বস্ত বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত"। এছাড়া আরো ৩ জন ক্বারির ৬টি কিরাআত কম প্রসিদ্ধ ছিল কিন্তু সেগুলো "বহুল বর্ণিত" ছিল না, ফলে সেগুলো তেমন প্রচার পায় নাই। ৭ জন ক্বারির ১৪টি কিরাআতের মধ্যে বর্তমানে ৩/৪টি কিরাআত প্রচলিত আছে। তবে একটি মাত্র কিরাআত সারা পৃথিবীতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত, সেটি হচ্ছে হাফস কিরাআত।  
      লক্ষ্য করুন লেখার শেষ অংশে আমি কী বলেছি:
      এখন খুব সংক্ষেপে কতগুলো কথা মনে রাখুন:

      ১. ‘হাফস’, ‘ওয়ারশ’ এবং ‘ক্বালুন’ – সবগুলো কিরআত সহিহ মুতাওয়াতির, বহুল বর্ণিত বিশ্বস্ত বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত এবং উসমান(রা.) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কুরআনের কপিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

      Take resposibility (as u are demanding u know better!) to say that the Quraan we read now a days is the same authentic and unaltered Quraan that our Prophet (PBUH) has revealed from Allah.
      আমি যা লিখি তার দায়িত্ব তো অবশ্যই আমার।  অবশ্যই আমরা যে কুরআন পড়ি সেটা, সেই একই কুরআন -যা আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ(সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর ওপর নাযিল করেছেন।
      If u can verify then I would forward this post to others (seemingly non-believers) and say to them see THIS IS THE VARY QURAAN THAT ALLAH HAS REVEALED VIA mUHAMMAD(PBUH).
      নিশ্চিন্ত মনে যাকে ইচ্ছা ফরোয়ার্ড করুন। 
       

    2. 13.2
      মুহাম্মদ হাসান

      sahih,

      What is your first language bro? It looks like english is not your first language neither is Bengali! Anyways, why can't you invite your non-muslim allies in here so we could see what they have to say?

  4. 12
    সাদাত

    শান্ত হোন ভ্রাতা! রাগলে মানুষের যুক্তিবোধ হারিয়ে যায়, থাকে শুধু মিথ্যা আবেগ।
    যেটা জিজ্ঞেস করেছিলাম সেটা তো বললেন না। যাক…
    আগের কমেন্টে আপনি বলেছিলেন,

    উক্ত হাদিস মোতাবেক কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না যে এটা আসলে  হরফের ব্যপার। হরফ হলো ফন্ট। ফন্ট ছোট বড়, বাকা ,সোজা যেমন ইচ্ছা খুশী হতে পারে। তাতে বাক্যের উচ্চারন ও বানানের কোন সমস্যা হবে না। উক্ত হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা উচ্চারন ও বানান সম্পর্কিত। হরফ বিভিন্ন হলেও উচ্চারন বা বানান তো ঠিকই থাকবে।

    হরফ, কখনোই ফন্ট নয়। হরফ হচ্ছে অক্ষর (letter). এটা আপনার প্রথম অজ্ঞতা। আলিফ, বা, তা এগুলো প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা হরফ।
    এখন বলছেন:

    আর আপনি কেন জেনে শুনে সেটাকে হরফ বলে চালাচ্ছেন ? ওটা তো হরফ না। আপনি কেন বিকৃত অর্থ করছেন?

    তাই! আমি বিকৃত করছি না? আরবী জানেন তো? নিচের আরবীটা পড়েন তো?
    أَقْرَأَنِي جِبْرِيلُ عَلَى حَرْفٍ، فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيدُهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ ‏"‏‏.
    [সূত্র: সহিহ বুখারি, আরবী: ৩২১৯, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।৫৪।৪৪২, সুন্নাহ.কম: ৫৯।৩০]
    বোল্ড করা অংশগুলো কি পড়তে পারেন? কী শব্দ দেওয়া আছে?  হা -- রা -- ফা। পড়তে পারেন প্রথম শব্দটা হারফুন, শেষের শব্দটা আহরুফ?
    কমেন্টের শেষে আমার ওপর খুব মারাত্মক অপবাদ আরোপ করেছেন। আপনাকে কেউ বাধ্য করেছে আমার কথা মেনে নিতে। না মানলে না মানেন। কিন্তু নিজের অজ্ঞতাকে অন্যের ওপর চাপাবার আগে অন্ত:ত করেকবার চিন্তা করবেন, আরেকটু পড়াশোনা করবেন, সেটাও না পাড়লে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে ব্যাপারটা জেনে নিতে চেষ্টা করবেন।
    ধন্যবাদ। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন।
     

    1. 12.1
      আমির হামজা

      হরফ, কখনোই ফন্ট নয়। হরফ হচ্ছে অক্ষর (letter).
      হুম এই তো লাইনে আসছেন। হরফ অর্থ  অক্ষর নয়,  কোন অক্ষরের আকারগত বা বাহ্যিক রূপ। তাই একই অক্ষরকে  নানা হরফে লিখলেও তাতে যে শব্দ তৈরী হবে তার উচ্চারন ঠিকই থাকবে।  উদাহরন, এ উত্তর আমি সোলায়মান লিপি হরফে লিখছি। অথচ বৃন্দা বা বিজয় হরফেও লিখতে পারতাম। তাতে কি আমার বাক্যের শব্দের উচ্চারন ও অর্থ পাল্টে যেত? অথচ হাদিস মোতাবেক দেখা যাচ্ছে কোরান যে বিভিন্ন আহরূফে (৭)  নাজিল হয়েছিল তাতে একই আয়াতের  উচ্চারনই পাল্টে যাচ্ছিল। উচ্চারণ পাল্টে গেলে অর্থও তো অনেক সময় পাল্টে যাওয়া স্বাভাবিক, তাই নয় কি ? তার মানে হাদিসে বর্ণিত আহরুফ অর্থ হবে অক্ষর , হরফ নয় । তা বর্তমানে আরবীয়রা আহরূফ অর্থ যাই করে থাকুক না কেন। ভাইজান, আহরূফের অথকে হরফ না বলে অক্ষর বললে এত ক্যচাল হতো না। এখন প্রশ্ন হলো- কোরানের মত একটা চিরন্তল দলিল কিভাবে আলাদা আলাদা অক্ষরে লেখা হতে পারে  যার ফলে ভিন্ন উচ্চারন বিশিষ্ট কমপক্ষে ৭ ধরনের ( কারন ৭ ধরনের অক্ষর দ্বারা বর্ণিত) কোরান সৃষ্টি হতে পারে ? আর যেখানে ৭ ধরনের উচ্চারণ বিশিষ্ট কোরান নাজিল হয়েছিল, ওসমান কোন ক্ষমতাবলে মাত্র এক উচ্চারণ (কুরাইশ উচ্চারণ) বিশিষ্ট কোরানকে সংরক্ষন করলেন, যেখানে স্বয়ং আল্লাহই ৭ উচ্চারণের কোরান নাজিল করেছিলেন ?

      1. 12.1.1
        সাদাত

        @আমির হামজা:

        নাহ! আমি আলহামদুলিল্লাহ সহসা লাইনচ্যুত হই না। কিন্তু আপনি লাইন ছেড়ে যাচ্ছেন কোথায়?

        আপনি বলেছিলেন:

        আর আপনি কেন জেনে শুনে সেটাকে হরফ বলে চালাচ্ছেন ? ওটা তো হরফ না। আপনি কেন বিকৃত অর্থ করছেন?
         

        এর উত্তরে আমি আরবী হাদিস তুলে দিয়েছিলাম:

        أَقْرَأَنِي جِبْرِيلُ عَلَى حَرْفٍ، فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيدُهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ ‏"‏‏.
        এখন বলুন-

        প্রশ্ন-১: হাদিসে যেখানে সুস্পষ্টভাবে হরফ (حَرْفٍ) লেখা আছে, সেখানে আপনার পক্ষে আমি হরফ বলে চালাচ্ছি বলে অভিযোগ করাটা সঠিক হয়েছে?

        প্রশ্ন-২.১: "ওটা তো হরফ না। আপনি কেন বিকৃত অর্থ করছেন?" , তো হাদিসের বোল্ড করা অংশগুলো তাহলে কী? প্রশ্ন-২.২: আমি কিভাবে বিকৃত অর্থ করলাম?

        আপনার গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার করা এই প্রশ্নগুলোর "to the point" উত্তর না দিয়ে দয়া করে লাইনচ্যুত হবেন না।

         

      2. 12.1.2
        মুহাম্মদ হাসান

        আমির হামজা,

        হরফ হলো ফন্ট। ফন্ট ছোট বড়, বাকা ,সোজা যেমন ইচ্ছা খুশী হতে পারে। তাতে বাক্যের উচ্চারন ও বানানের কোন সমস্যা হবে না।

        ভাইসাহেব, কুরআন কি লিখিত আকারে নাযিল হয়েছিল নাকি মৌখিক ভাবে? কুরআন যে মৌখিক ভাবে নাযিল হয়েছিল এতেতো কোন দ্বিমত নেই, আছে কি? তাহলে হারফ মানে ফন্ট ছোট বড়, বাকা, সোজা কিভাবে হল? হারফ মানে যদি ছোট বড়, বাকা, সোজা হয় তাহলেত কিরাতের কোন পার্থক্য হওয়ার কথা না কিন্তু বুখারির হাদিসেত স্পষ্ট বলা হয়েছে যে কিরাতের মধ্যে পার্থক্য ছিল "আমি এক মসজিদে ছিলাম যে সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে নাযাল পড়ল এবং এমন এক পদ্ধততিতে তিলাওয়াত করলো যাতে আমি আপত্তি করলাম। অত:পর অন্য এক ব্যক্তি প্রবেশ করলো এবং এমন এক পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করলো যা তার সাথীর পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্ন ছিল" 

        এটা কিভাবে সম্ভব যে- একই কোরানের একই আয়াত ভিন্ন উচ্চারন ও বানান সম্বলিত হতে পারে ?

        এতে সমস্যাটা কোথায় দেখলেন? যে আল্লাহ পৃথিবীর সব মানুষের নিকট তাদের নিজ নিজ ভাষায় ওহী নাযিল করতে পারেন তিনি যদি সাতটি ভিন্ন কিরাতে কুরআন নাযিল করেন এতে সমস্যা কোথায়? 

        তা যদি হয় তাহলে কোরানের বিশুদ্ধতা থাকল কোথায় ?

        এখানে বিশুদ্ধতা না থাকার কারনটা কি? আমি যদি একই কথা সাত ভাবে বলি এতে সমস্যা কোথায়?

        হরফ অর্থ  অক্ষর নয়,  কোন অক্ষরের আকারগত বা বাহ্যিক রূপ। 

        আপনাদের এই মহা পাণ্ডিত্য দেখে খুব কষ্টই লাগে এই ভেবে যে আপনারা নিজেরাই নিজেদের দুর্ভাগ্য রচনা করছেন!!! হরফের এই অর্থ কোথায় কোন অভিধানে পেলেন? আরবিতে অক্ষরকে তাহলে কি বলে? আর হারফ মানে শুধু অক্ষরই না এর আরেকটা মানে হল way/style; ধরন, রীতি, বাচনশৈলী এবং হাদিসে হারফ শব্দটি এই অর্থেই ব্যাবহার করা হয়েছে তানাহলে এর অর্থ হবে "কুরআনকে সাতটি অক্ষরে নাযিল করা হয়েছে" যার অর্থবোধক কোন মানেই হয়না । 

         

  5. 11
    আমির হামজা

    প্রশ্ন আসলে একটাই করা হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সেটা হলো -- আল্লাহ কিভাবে কোরানের মত একটা চিরন্তন দলিলকে ৭ টি আঞ্চলিক উচ্চারন ও বানানে নাজিল করেন। আর আপনি কেন জেনে শুনে সেটাকে হরফ বলে চালাচ্ছেন ? ওটা তো হরফ না। আপনি কেন বিকৃত অর্থ করছেন?
    আমার বিশ্বাস এখানে কোন ফ্যাক্টর নয়। আমার বিশ্বাস যাই হোক , আপনি একটা বিষয় মনগড়া রূপে দাখিল করেছেন আমি সেটা বিস্তৃত আকারে প্রকাশ করে দিয়েছি। আর যদি বলেন আপনি যা বলেছেন সেটাকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হবে , আমি দু:খিত আমি সে দলে নই। আপনার মত মহা জ্ঞানী না হলেও নিরেট মূর্খ নই বলেই মনে করি নিজেকে। আপনি মনগড়া ভাবে কোরান হাদিস ব্যখ্যা করবেন যার পিছনে খোদ কোরান হাদিসও সমর্থন করে না , আর বলবেন আপনি যা বলবেন বিনা প্রশ্নে সেটাই বিশ্বাস করতে হবে , আপনি কে ভাই ? নতুন কোন নবি নাকি ?

  6. 10
    আমির হামজা

    আচ্ছা , কোরান যে লাও হে মাহফুজে লেখা আছে , সেটা কোন ভাষায় লেখা আর কোন হরফেই লেখা ? সেখানেও কি ৭ টা হরফে লেখা ?

    1. 10.1
      সাদাত

      ভাই,
      এই বিষয়ে সঠিক তথ্য আমার জানা নাই। আর এটা জেনে লাভই বা কী হবে?
      তবে লাওহে মাহফুজের কিতাবে শুধু কুরআন নয়, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে না হবে সব কিছুই লেখা আছে। কাজেই সেখানে সাত হরফের কুরআনও লেখা থাকাই স্বাভাবিক।  

      1. 10.1.1
        আমির হামজা

        সব কিছুই যদি আগে থেকে লেখা থাকে , তাহলে যারা কাফির মুশরিক হয়ে কুফরি করে বা করবে সেটাও তো তাহলে লেখা আছে , তাই না ? তার মানে সব কিছুই পূর্ব নির্ধারিত, তা যদি হয় , তাহলে যারা বেহেস্ত বা দোজখে যাবে সেটাও পূর্ব নির্ধারিত , তাই নয় কি ?
        উমর বিন খাত্তাব বলেন: আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেভাবে পড়তাম, যেভাবে রাসূলুল্লাহ(সা.) আমাকে শিখিয়েছিলেন, তা অপেক্ষা ভিন্ন এক পদ্ধতিতে পড়তে শুনলাম। আমি তার সাথে তর্ক করতে উদ্যত হলাম, কিন্তু তিনি তা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। অত:পর আমি তার চাদর ধরে তাকে রাসূলুল্লাহ(সা.)এঁর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি এই ব্যক্তিকে এমন পদ্ধতিতে সূরা আল-ফুরকান পড়তে শুনেছি যা আপনি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন তা অপেক্ষা ভিন্ন। এই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ(সা.) তাকে ছেড়ে দিতে বললেন এবং তাকে তিলাওয়াত করতে বললেন। তিনি তখন সেই পদ্ধতিতে পড়লেন যেই পদ্ধতিতে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। রাসূলুল্লাহ(সা.) তখন বললেন: এভাবেই এটা নাযিল হয়েছে। তিনি তখন আমাকে তিলাওয়াত করতে বললেন এবং আমি তিলাওয়াত করলাম। তিনি বললেন: এভাবেই এটা নাযিল হয়েছে। কুরআন সাতটি হরফে নাযিল হয়েছে। কাজেই সেগুলোর ভেতর হতে যেটা সহজ মনে হয় সেভাবেই তিলাওয়াত করো। [সূত্র: সহিহ মুসলিম, আরবী: ৭।১৯৩৫, ইংরেজি অনুবাদ: ৪।১৭৮২, সুন্নাহ.কম: ২১৭৮২০]
        উক্ত হাদিস মোতাবেক কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না যে এটা আসলে  হরফের ব্যপার। হরফ হলো ফন্ট। ফন্ট ছোট বড়, বাকা ,সোজা যেমন ইচ্ছা খুশী হতে পারে। তাতে বাক্যের উচ্চারন ও বানানের কোন সমস্যা হবে না। উক্ত হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা উচ্চারন ও বানান সম্পর্কিত। হরফ বিভিন্ন হলেও উচ্চারন বা বানান তো ঠিকই থাকবে। এই যেমন উপরের হাদিসটি আমি বাকা হরফে উল্লেখ করলাম , তাতে কি আপনার উল্লেখের সাথে উচ্চারন ও বানানে  কোন পার্থক্য হলো ? হয় নি।  অথচ উক্ত হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে হিসাম ও ওমর একই আয়াত দুইরকম ভাবে পড়ছেন। তাদের উচ্চারন ও বানান ভিন্ন। উচ্চারন ও বানান ভিন্ন হলে অর্থও তো ভিন্ন হবে, তাই নয়? ঠিক একারনেই ওমর কিন্তু ভীষণ ক্ষেপে গেছিলেন। যাহোক , পরে নবি বললেন উভয়ের উচ্চারন ও বানান ঠিক আছে। খেয়াল করতে হবে উচ্চারন ভিন্ন হলে তার বানান ভিন্ন হবে ,. বানান ভিন্ন হলে উচ্চারন ভিন্ন হবে। এটা কিভাবে সম্ভব যে- একই কোরানের একই আয়াত ভিন্ন উচ্চারন ও বানান সম্বলিত হতে পারে ? তা যদি হয় তাহলে কোরানের বিশুদ্ধতা থাকল কোথায় ? এটা ছিল ওসমানের কোরান সংকলনের আগের ঘটনা। তার অর্থ সংকলনের আগে কোরানের ভিন্ন ভিন্ন রূপ ছিল যা নবি স্বীকার ও করেছেন। বর্তমান সংকলিত কোরানে হয়ত এখন সেটা নেই কারন সেখানে কুরাইশ আঞ্চলিক আরবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো -- খোদ নবী যখন ভিন্ন উ্চ্চারন ও বানানের কোরান কে স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তাহলে কেন অন্য উচ্চারন ও বানানের কোরানও সংকলন করা কেন হলো না ? তাহলে তো বোঝা যেত সবগুলোর অর্থ একই কি না । পরিশেষে, খোদ নবি কোরানকে সংকলন করেন নি কারন কোরানে বলা আছে , আল্লাহ বলছেন- আমি কোরান নাজিলকারী ও সংরক্ষনকারী (কোরান , ১৫:০৯) অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহই কোরানের হেফাজককারী আর এটা দিয়ে লাওহে মাহফুজের কোরান বুঝাচ্ছে না, কারন সেটা বুঝালে নবি নিজেই কোরান কে সংরক্ষন করে যেতেন। এখন প্রশ্ন হলো যা খোদ নবি করলেন না , তা আবু বকর বা ওসমান করার সাহস কোথায় পেলেন, কেই বা তাদেরকে সে ক্ষমতা প্রদান করল ? নবির ওপরে তো তাদের ক্ষমতা থাকতে পারে না । তারপরও  যদিও বা করলেন যে ভিন্ন উচ্চারন ও বানানে কোরান নাজিল হয়েছিল সেসব গুলোতেই কেন তারা ভিন্ন ভিন্ন কোরান সংকলন করলেন না ? কেন শুধু কুরাইশ আঞ্চলিক উচ্চারনের কোরান সংকলন করলেন ? নবির ব্ক্তব্য মোতাবেক, শুধুমাত্র কুরাইশ উচ্চারনেই কোরান নাজিল হয় নি। তাই নয় কি ? সর্বোপরি, নবীর জীবন ছিল মক্কা ও মদিনা কেন্দ্রিক, কুরাইশ আঞ্চলিক আরবি যদি আদর্শ ভাষা হয়  যা নাকি মদিনার লোকরাও বুঝত ও নবির নিজের মাতৃভাষা ছিল, তাহলে কুরাইশ উচ্চারন ছাড়া ভিন্ন উচ্চারনে কোরান নাজিলের কি দরকার ছিল ? নবি যদি বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করতেন আর তার জন্মস্থান যদি পাবনা হতো এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করতেন আর তখন যদি কোরানের আয়াত নাজিল হতো, তাহলে কি একটা আদর্শ বাংলা ভাষা বা নবির নিজস্ব আঞ্চলিক বাংলাভাষা ছাড়া ঢাকাইয়া, চাটগাইয়া, নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় কোরানের আয়াত নাজিল হতো ? সেটাই যে আসলে হতো তা তো বোঝা যাচ্ছে উক্ত হাদিস সমূহে যা আপনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব? কোরান একটা চিরন্তন দলিল। চিরন্তন দলিল তো দুরের কথা আমরা সাধারন একটা দাপ্তরিক পত্র লিখতে গেলেও তো একটা আদর্শ দা্প্তরিক ভাষা ব্যবহার করি।  বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা একসাথে ব্যবহার করি না। সে ক্ষেত্রে আল্লাহ কোরানের মত একটা চিরন্তন দলিল নবির কাছে নাজিল করতে  কমপক্ষে ৭ টা আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করলেন অথচ তিনি একই আরবি গোষ্ঠির মধ্যেই দিনাতিপাত করেছেন যাদের মাতৃভাষা ছিল আরবী, অঞ্চল ভেদে হয়ত নানা আঞ্চলিক আরবি ভাষা ছিল। এভাবে নানা রকম আঞ্চলিক ভাষায় সার্বজনীন দলিল  কোরান নাজিল কিভাবে একজন সর্বজ্ঞানী আল্লাহ করেন সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। দয়া করে একটু বুঝিয়ে দেবেন ?

        1. 10.1.1.1
          সাদাত

          ১. প্রথম প্রশ্নটা তাকদির সম্পর্কিত। এই লেখার শেষে 'আমার প্রত্যুত্তর' বলে একটা লিংক আছে, সেখানে তাকদির সম্পর্কিত আমার দু্টি লেখা আছে। লেখা দুটো পড়ুন এবং কোন প্রশ্ন থাকলে সেখানে করুন।
          এর পর আরো সম্ভবত ১১টা প্রশ্ন করেছেন। একই কমেন্টে এতগুলো প্রশ্ন করাটা কি ঠিক হলো। একটা প্র্শ্ন করুন, সেটার উত্তর পাবার পর আরেকটা প্রশ্ন করুন। এমনও তো হতে পারে প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই আরো কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাচ্ছেন।
          এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবার আগে আপনার ধর্মবিশ্বাসটা ক্লিয়ার করেন। কারণ সকলের জন্য উত্তরের লেভেল এক হবে না।

        2. 10.1.1.2
          Sanaullah Chowdhury

          নিম্নের লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন। লিংক সহ দেয়া হল। (আমার কোন বক্তব্য নয়, শুধুমাত্র গবেষনার জন্য)

          http://www.icsbook.info/2593/shibir/9

          প্রাথমিক পর্যায়ে আঞ্চলিক উচ্চারনে কুরআন পাঠের অনুমতি ছিল

          আরবী***

          ৬৭। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব ( রাঃ ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযামকে ( রাঃ )  সূরা ফুরকান পাঠ করতে শুনলাম। কিন্তু আমার পাঠের সাথে তাঁর পাঠের গড়মিল লক্ষ্য করলাম। অথচ স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এ সূরাটি শিখিয়েছেন। অতএব, আমি তাঁর উপরে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্ধত হলাম। কিন্তু ( ধৈর্য ধারন করলাম এবং ) তাঁকে অবকাশ দিলাম। সে তাঁর কিরআত শেষ করলো। অতঃপর আমি তাঁর চাদর ধরে টানতে টানতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁকে সূরা ফুরকান পাঠ করতে শুনলাম। আপনি এ সূরাটি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন সে তা অন্যভাবে পাঠ করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তাঁকে ছেড়ে দাও। অতপর তিনি হিশামকে বললেন- পড়। সুতরাং আমি তাঁকে যেভাবে পাঠ করতে শুনেছিলাম ঠিক সেভাবেই সে তা পাঠ করলো। অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। অতপর তিনি আমাকে বললেন- কুরআন সাত হরফে নাযিল করা হয়েছে। অতএব যেভাবে পাঠ করা সহজ সেভাবেই তা পাঠ করো। —– (বুখারী ও মুসলিম )

            ‘সাত হরফে’ অর্থ- সাত ধরনের উচ্চারন ভঙ্গি অথবা সাত ধরনের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য। আরবী ভাষায় আঞ্চলিক শব্দের পার্থক্য একটি প্রসিদ্ধ বিষয়। আরবের বিভিন্ন গোত্র ও এলাকার ভাষার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এই পার্থক্যের ধরন এমন নয় যে, তাতে ভাষার মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এই পার্থক্যের ধরন এমন নয় যে, তাতে ভাষার মধ্যে কোন মৌলিক পার্থক্য সূচীত হয়। স্থানীয় বাক্যরীতি, উচ্চারন-ভঙ্গি, ভাষাগত বৈশিষ্ট্য এবং ভাষাগত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিদ্যমান থাকা সত্যেও ভাষার মৌলিক ধাঁচ এক ও অভিন্ন। ভাষার স্থানীয় ঢং এবং পার্থক্যের দৃষ্টান্ত আপনারা এখানেও পেয়ে থাকবেন। সুতরাং আপনি যদি পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় যান তাহলে দেখতে পাবেন এর প্রতিটি জেলা বরং একই জেলার বিভিন্ন অংশে ভাষার বিভিন্নতা রয়েছে। উর্দু ভাষারও একই অবস্থা। পেশোয়ার থেকে মাদ্রাজ পর্যন্ত চলে যান, মাদ্রাজ থেকে তাঁর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চলে যান। উর্দুভাষীগণ একই বিষয় প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন বাক্যরীতি, উচ্চারন ভঙ্গি, প্রবাদ বাক্য ইত্যাদি ব্যবহার করে। দিল্লি, হাদ্রাবাদ, দাক্ষিণাত্য এবং পাঞ্জাবে একই উর্দু ভাষার বিশেষ পার্থক্য বিদ্যমান। বাংলা ভাষার অবস্থাও তদ্রূপ। একই বিষয়বস্তু প্রকাশ করার জন্য কলিকাতা, গোহাটি এবং ঢাকার বাক্যরীতি ও উচ্চারন ভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

          আরবের আঞ্চলিক ভাষায়ও অনুরূপ পার্থক্য বিদ্যমান ছিল এবং বর্তমানেও আছে। আরবের উপদ্বীপে আপনি ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত অথবা ইয়েমেন থেকে ইরাক পর্যন্ত ভ্রমন করেন। তাঁদের উচ্চারন ভঙ্গি এবং বাক্যরীতির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করে থাকবেন। এই বিষয়বস্তু আরবের এক এলাকার এক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়, আবার অন্য এলাকায় ভিন্নরূপে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এই পার্থক্যের কারনে অর্থের কোন পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং এই হাদীসে সাত হরফ বলতে এই উচ্চারন ভঙ্গি, বর্ণনা ভঙ্গি ইত্যাদির পার্থক্য বুঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন শরীফ যদিও বা কুরাইশদের মধ্যে প্রচলিত বাক্যরীতিতে নাযিল হয়েছে, কিন্তু আরববাসীদের স্থানীয় উচ্চারন ভঙ্গি এবং বাক্যরীতিতে তা পাঠ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। একজন আরবী ভাষী লোক যখন কুরআন পাঠ করে তখন ভাষার স্থানীয় পার্থক্য বর্তমান থাকা সত্যেও অর্থ ও বিষয়বস্তুর মধ্যে এমন কোন পরিবর্তন সূচীত হয় না। হারাম জিনিস হালাল হয়ে যাওয়া অথবা হালাল জিনিস হারাম হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তৌহিদের বিষয়বস্তু শেরেকী বিষয়বস্তুতে পরিনত হতে পারে না ।

          কুরআন যতক্ষন আরবের বাইরে ছড়ায় নি এবং আরবরাই এর পাঠক ছিল এই অনুমতি কেবল সেই যুগ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীকালে এই অনুমতি ও সুবিধা রহিত করে দেয়া হয়। বিভিন্ন উচ্চারন ভঙ্গিতে কুরআন পাঠ করার অনুমতি কেন দেয়া হল তাও বুঝে নেয়া দরকার। এর কারন ছিল এই যে, তৎকালীন সময়ে লিখিত আকারে কুরআনের প্রচার হচ্ছিলো না। আরবের লোকেরা লেখাপড়াই জানতো না। অবস্থা এরূপ ছিল যে, কুরআন নাযিল হওয়ার সময় হাতে গনা মাত্র কয়েকজন লেখাপড়া জানা লোক ছিল। আরবে লেখাপড়ার যা কিছু রেওয়াজ ছিল তা ইসলামের আগমনের পরেই হয়েছে। সুতরাং এযুগের লোকেরা মুখে মুখে কুরআন শুনে তা মুখস্ত করে নিতো। যেহেতু তাঁদের মাতৃভাষা ছিল আরবী, এজন্য কুরআন মুখস্ত করতে এবং মুখস্ত রাখতে তাঁদের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। একজন আরব যখন কুরআন শুনত তখন পুরা বিসয়বস্তুই তাঁর মুখস্ত হয়ে যেত। এরপর সে যখন অন্যদের কাছে তা বর্ণনা করতো তখন ভাষার স্থানীয় পার্থক্যের কারনে তাঁর বর্ণনার মধ্যে অনুরূপ ধরনের উচ্চারনগত পরিবর্তন হয়ে যেত। এতে মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে কোন পার্থক্য সূচীত হতো না। স্থানীয় বাক্যরীতি অনুযায়ী তারা যেভাবে পাঠ করতো বিষয়বস্তু সেভাবে বর্ণিত হতো। এর ভিত্তিতে সেই যুগে আরবদের জন্য নিজ নিজ এলাকার উচ্চারন ভঙ্গি এবং বাক্যরীতি অনুযায়ী কুরআন পাঠ করার সুযোগ রাখা হয়েছিলো।

            হযরত উমর ( রাঃ ) যেহেতু মনে করেছিলেন, তিনি যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কুরআন শুনেছেন–ঠিক সেভাবেই প্রত্যেকের তা পাঠ করা উচিৎ। এজন্য তিনি যখন হিশাম ( রাঃ ) কে ভিন্ন পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করতে শুনলেন তখন আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না। তিনি যতো সময় ধরে পাঠ করতে থাকলেন, উমর ( রাঃ ) নিজ স্থানে ততক্ষন অস্থির অবস্থায় কাটাতে থাকেন। এদিকে তিনি কুরআন পাঠ শেষ করলেন, ওদিকে উমর তাঁর চাদর টেনে ধরলেন এবং তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এনে উপস্থিত করলেন। এখন দেখুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেজাজে কি ধরনের ধৈর্য, বিনয়, সহনশীলতা ও গাম্ভীর্য ছিল। তিনি একান্তই প্রশান্ত মনে তাঁর কথা শুনলেন। তারপর অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে বুঝালেন যে, তোমরা উভয়ে যেভাবে কুরআন পাঠ করো তা সঠিক এবং নির্ভুল। আল্লাহ তায়ালা দুই ভাবেই তা পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন।

  7. 9
    শাহবাজ নজরুল

    অন্য সব বারের মতই এটি একটি অনন্য লেখা। ইংরেজি আর বাংলায় ইসলাম বিদ্বেষী ওয়েব-সাইট গুলোতে এই নিয়ে কু-প্রচারণা চলে আসছে অনেক দিন ধরেই। লিঙ্ক সহ এই ভন্ডেরা বলে আসছেন দেখেন এই লিঙ্কের কোরান আর এই লিঙ্কের কোরান কিন্তু আলাদা -- তাই এক কোরান অটুট আছে এই কথাটা ঠিক নয়। কিন্তু সাধারণ জনতা আহরুফ আর ক্বেরাতের বিষয়গুলো না জানাতে অনেককেই তারা বিভ্রান্ত করতে পারছে। আপনার লেখা এই বিষয়ে জমা বিভ্রান্তি হ্রাস করবে বলে বিশ্বাস। এই লেখাকে আরো ছড়িয়ে দেয়া দরকার।

    1. 9.1
      সাদাত

      এই বিষয় নিয়ে আরো বিস্তারিত লেখার দরকার রয়েছে। পাঠকের ধৈর্যের কথা বিবেচনা করে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছি। ভবিষ্যতে আরো বিস্তারিত লেখা নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ। 

  8. 8
    এস. এম. রায়হান

    দারুণ বিশ্লেষণ। ভাল লাগলো।

    1. 8.1
      সাদাত

      সময় করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ

  9. 7
    মহিউদ্দিন

     
    অসাধারণ হয়েছে। কোরআন সর্ম্পকে  সাধারন পাঠক  প্রতারিত না হবার জন্য  আপনার এ পোস্টটি কাজে লাগবে।
     
    ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      সাদাত

      কিন্তু সমস্যা হলো প্রতারিত হবার পর আমাদের ঘুম ভাঙ্গে….

  10. 6
    আবদুস সামাদ

     একটা সুন্দর বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য সাদাত ভাইকে ধন্যবাদ। আমরা অনেকেই এ ব্যাপারে অজ্ঞ।  যার সুযোগে নিন্দুকেরা মাথা গলায়, আমরা বিভ্রান্ত হই।

    1. 6.1
      সাদাত

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  11. 5
    ফুয়াদ দীনহীন

    আরেকটি ক্লাসিক্যাল লেখা। সাদাত ভাইকে ধন্যবাদ। সাথে এই আবেদন যে উনার কোন জনগুরুত্বপূর্ণ লেখা আগে (যখন অন্য ব্লগ্লে ব্লগিং করতেন) অন্য কোন ব্লগে দিয়ে থাকলে তা এখানেও প্রকাশ করা। এতে করে সবার লাভ হবার সম্ভাবনা।

    1. 5.1
      সাদাত

      মন্তব্য এবং পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

  12. 4
    সাদাত

    ইসলামের উপর যতই scrutiny আসবে, সংশ্লিষ্ট তথ্য ততই বেরিয়ে আসবে। ইসলাম বিগত ১৪ শত বৎসরে তথ্যের এক সমুদ্র গড়েছে। তাদের অনেকের ধারণা ছিল এই অপপ্রচার করলেই ইসলাম স্তিমিত হবে, মুসলমানরা আটকে যাবে। তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং অনেক তথ্য তাদের প্রোপাগান্ডা হলে সেই পুরানোও পাণ্ডুলিপিতে অথবা বইয়ে কোন অখ্যাত লাইব্রেরীতে অনস্তিত্বের মত পড়ে থাকত। আজ প্রত্যেহ ইসলামের ব্যাখ্যা ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। অনেক কিছু অনুদিত হচ্ছে। অনেক মুসলমান নিজের নিজের সময় ব্যয় করে সেই কাজ করছে। আমরা বলে থাকি, 'দুশমন থেকে ফায়দা লাভ হয়,'   এটা যেন সেটাই।

    ভালো বলেছেন।

  13. 3
    এম_আহমদ

    সুন্দর পোস্ট হয়েছে। কোরান যখন নাজিল হয় তখন আরবী (ফুসহা) ভাষার বয়স ১৫০ থেকে ২০০ বছর। তখনও বিভিন্ন ডায়ালেক্ট প্রচলিত। তবে বিভিন্ন মেলায় (ওকাজ বা হজ্জের মৌসুমি মেলা) বাইরে থেকে যেসব কবিরা এসে কবিতার আসর জমাত, তারা কোরাইশি ডায়ালেক্টে তা লিখত এবং আবৃতি করত। এভাবে কোরাইশ ডায়ালেক্ট যোগাযোগের স্ট্যান্ডার্ড মিডিয়াম হয়ে পড়ে। কিন্তু বড় বড় ডায়লেক্টে যাতে কোরান ছড়িয়ে পড়ে  তার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে সেই একই বাণী অন্য উচ্চারণে পাঠের অনুমোদন রাখা। শব্দ অপরিবর্তিত রেখে ছন্দের শেষাংশকে নিজেদের উচ্চারণি কায়দায় পড়তে পারত যেমন 'ওয়াদ্দুহে, ওয়াল-লাইলে ইজে কালে' ইত্যাদি (সূরা দোহা) ।

        তবে ছদ্মবেশী ব্রাহ্মণয় চক্র ক্রুসেডের যুগ থেকে লেখা ইসলাম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডা লিটারেচার থেকে এবং বিদ্বেষী মডার্ন জায়োনিষ্টদের সাইট থেকে এগুলো সংগ্রহ করে বাংলায় ঢালে। তবে এতে অনেকাংশে ইসলাম ও মুসলমানদের লাভও হচ্ছে। অনেক ঐতিহাসিক ধারণা ও তথ্য প্রয়োজন বিহনে সামাজিক স্মৃতি থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছে। আজ বিদ্বেষীদের প্রোপাগান্ডার কারণে আবার সেগুলোকে revisit করতে হচ্ছে, আবার পুনরুজ্জীবিত করতে হচ্ছে। এবং তথ্যের পুনর্জীবন হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে যে কারণে এগুলো চিরঞ্জীব হচ্ছে। ইসলামের উপর যতই scrutiny আসবে, সংশ্লিষ্ট তথ্য ততই বেরিয়ে আসবে। ইসলাম বিগত ১৪ শত বৎসরে তথ্যের এক সমুদ্র গড়েছে। তাদের অনেকের ধারণা ছিল এই অপপ্রচার করলেই ইসলাম স্তিমিত হবে, মুসলমানরা আটকে যাবে। তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং অনেক তথ্য তাদের প্রোপাগান্ডা হলে সেই পুরানোও পাণ্ডুলিপিতে অথবা বইয়ে কোন অখ্যাত লাইব্রেরীতে অনস্তিত্বের মত পড়ে থাকত। আজ প্রত্যেহ ইসলামের ব্যাখ্যা ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। অনেক কিছু অনুদিত হচ্ছে। অনেক মুসলমান নিজের নিজের সময় ব্যয় করে সেই কাজ করছে। আমরা বলে থাকি, 'দুশমন থেকে ফায়দা লাভ হয়,'   এটা যেন সেটাই।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      অত্যান্ত মুল্যবান সংযোজন! ধন্যবাদ।

  14. 2
    কিংশুক

    খুব সহজ করে সাত কিরআত এর খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইসলাম বিদ্ধেষী, নাস্তিক রা কিন্তু সত্যিই মনে করে সাত রকমের কোরআন ছিলো। হাদিসের আলোকে বিভ্রান্তিকর বিষয়ে এত সুন্দর ব্যাখ্যার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif

    1. 2.1
      সাদাত

      পড়ার জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

  15. 1
    ইমরান হাসান

    সাদাত ভাই আপনি তো দিনে দিনে সদালাপে আমার ফেবারিট হয়ে যাচ্ছেন। কি বলব আমি আর! তবে এর একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে ভালো হত। যেমন অন্য সকল তেলাওয়াত এর পদ্ধতি গুলো কেমন ছিল এরপরে আমরা যদি কুরাইশ দের মত করে আরবি পড়তে না পারি তাহলে আঞ্চলিক টান থাকলে আমাদের কোন অসুবিধা হবে কিনা। এগুলো একটু আলোচনা করতে পারতেন। তবে এই ব্যাপারে আমার জ্ঞান প্রায় ০ এইজন্য কিছুই বলতে পারলাম না। 
     
    লেখার জন্য 

    1. 1.1
      সাদাত

      অন্য কিরআতগুলো কেমন ছিল সে সম্পর্কে ধারণা দেবার জন্যই তো সাত হরফের সাতটা পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করলাম। আর এখন আমরা যেভাবে পড়ি সেটা কুরাইশদের আঞ্চলিক ভাষাতেই পড়ি। কেননা, প্রথমে মূলত এই ভাষাতেই কুরআন নাযিল হয়। যা হোক, 'আমরা কিভাবে কুরআন পেলাম' শিরোনামে একটা বিস্তারিত পোস্ট দেবার ইচ্ছা আছে। সেখানে আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা আসবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.