«

»

Jan ২৩

রজম: একটি আলোচনামূলক পোস্ট

রজমের দলিল নিয়ে একটি পোস্ট দিতে চেয়েছিলাম।

পোস্টটা তৈরি করতে করতে ভাবলাম, যাদের জন্য লেখাটা তৈরি করছি, তারা আসলে কোন্ ধরণের দলিল চান, সেটা না জেনে বিশাল একটা পোস্ট লিখলে সেটা তেমন কোন কাজের কিছু হবে না। বস্তুত রজমের বিষয়টি এমন যে এই ১৪০০ বছরের মধ্যে হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী, হাম্বলী, সালাফি, আহলে হাদিস তথা সুন্নি আকিদাধারিদের কেউই এটিকে অস্বীকার করে নাই। একনকি একমাত্র খারেজিরা ব্যতিত শিয়া বা অন্য কোন আকিদাধারিগণও রজমকে অস্বীকার করেছে বলে আমার জানা নাই। তবে বর্তমানে কুরআন অনলিসহ বেশ কিছু স্কলার রজমকে অস্বীকার মতো সাহস বা দু:সাহস দেখিয়েছেন।

যা হোক এই পোস্টটা মূলত আলোচনামূলক পোস্ট। ফলে পোস্টের চেয়ে কমেন্টগুলোই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হবে। আশা করব আলোচনায় যারা অংশ নেবেন তারা আবেগতাড়িত না হয়ে যুক্তি এবং দলিলের প্রতি অধিক মনোযোগী হবেন।

আলোচনাটা আমি কিছু প্রশ্ন দিয়ে শুরু করছি:

১. রজম সম্পর্কে আপনার বিশ্বাস বা জ্ঞান কী?

ক. এটি আল্লাহর আইন নয়, কখনো ছিলও না।

খ. তাওরাতে এটি আল্লাহর আইন ছিল, তবে কুরআনে তা রহিত হয়ে গেছে।

গ. ইসলামের প্রথম যুগে রজম প্রচলিত ছিল, পরে তা রহিত হয়ে গেছে।

ঘ. অন্য কিছু হলে সংক্ষেপে বলুন।

 

২. রজম সম্পর্কে আপনি কী ধরণের দলিল চান?

৮৩ comments

Skip to comment form

  1. 25
    মুনিম সিদ্দিকী

    সাদাত ভাই শুধু রেকর্ড রাখার জন্য এই সংযোজন।

    আল কোরআনের সমস্ত অংশসমূহ তথা প্রতিট সূরা, আয়াত,শব্দ, অক্ষর এমনকি ক্বিরাত বা পঠনরীতি ও অক্ষরের সংযোজিত যের, যবর, পেশ যা কিছু আছে না কেন তার সব কিছু মোতওয়াতির সূত্র দ্বারা সমর্থিত। তাই আল কোরআনের কোন সূরা বা আয়াত বাদ পড়ে গেলে তাও মোতওয়াতির সূত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

    এখন আমরা যদি ইতিহাস দেখি তাহলে দেখতে পাব যে, আয়াতে রজম বিষক দাবিটি মোটেও মোতওয়াতির নয়, সেটি খাবারে ওয়াহিদ মাত্র।

    আর খাবারে ওয়াহিদ যদিও সেটির সনদ অসহীহ হোক না কেন তা মোটেও হুজ্জাত বা দলিল হতে পারেনা।

    উমর রাঃ ঐ দাবীর পক্ষে যে আয়াতটির কথা উল্লেখ করতেন তা হচ্ছে-"যখন কোন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, তখন তাঁদের উপর পাথর বর্ষণ কর"।

    ইতিহাস জানায় যে, আবু বকর রাঃ যখন প্রথম বারের মত পবিত্র কোরআন একত্রিত করণ ও সংকলনের উদ্যোগ নেওয়ার সময় উমর রাঃ নাকি এই আয়াতের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তখন যায়েদ বিন সাবেত রাঃ তাকে তাঁর এই দাবীর বিষয়ে ২জন স্বাক্ষী দেখাতে বলেন, যারা সাক্ষী দিয়ে বলবে যে এই আয়াত কোরআনের অংশ ছিল। কিন্তু উমর রাঃ এই বিষয়ে কোন সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হন।

    কিন্তু তারপরও তিনি তাঁর দাবী থেকে সরে যাননি, প্রায়ই এই আয়াতের বিষয়ে কথা বলতেন। এখন যদি আমরা উমর রাঃ বর্ণিত রজমের আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি তাতে দেখি যে রমজ প্রয়োগ করা জন্য শুধু মাত্র বৃদ্ধ(শেইখ) ও বৃদ্ধার (শেইখা) উল্লেখ করা আছে কিন্তু রমজের শাস্তি বৃদ্ধ হোক আর যুবক সকলের জন্য প্রয়োগ যোগ্য।

    সম্ভবতঃ উমর রাঃ রজমের বিধানটি রাসুল সাঃ এর কাছ থেকে হাদিস হিসাবে শুনেছিলেন কিন্তু তিনি ভুলবশতঃ ধারণা করেছেন যে, সেটি কোরআনের আয়াতঁ ছিল।

    1. 25.1
      সাদাত

      দেশের আলোচনার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের সাথে সাথে এই আলোচনা তো স্থগিত হয়ে আছে, এই আলোচনা চাঙ্গা করার সময় তো এটা নয়। যা হোক, উমর(রা.) এর ঐ হাদিসের ভিত্তিতে কেউ রজম প্রমাণ করেন নাই। রজম প্রমাণের জন্য রহিত কোন আয়াতের সাহায্যও নেওয়া হয় নাই। রজমের মূল দলিল সুন্নাহ। সুন্নাহ দ্বারা রজম প্রমাণিত ও প্রচলিত। রজমের পক্ষে অগণিত হাদিস আছে। রজমের একটি ঘটনার ইঙ্গিত করে সেটাকে আল্লাহর হুকুম বলে উল্লেখ করে কুরআনের একটি আয়াত আছে, সে নিয়ে সময় মতো আলোচনা করা যাবে। তবে আমার মনে আছে, রজমকে মেনে নিয়ে আপনি একটি কমেন্ট করেছিলেন, এখন আবার সেখান থেকে সরে আসছেন নাকি? আপনার একটা কথা আপনাকে মনে করিয়ে পাশ্চাত্য মন্তিষ্ক, শিক্ষা, চিন্তাধারা- এসব দিয়ে ইসলাম বুঝা যাবে না। আপনি প্রায় এধরণেরই একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন। 

      এখনকার পরিস্থিতিতে এই আলোচনা আর দীর্ঘায়িত না করার অনুরোধ করছি। সময় তো শেষ হয়ে যাচ্ছে না। রেকর্ড যা ছিল আপাতত নিজ পিসি/ল্যাপটপে রাখুন।

      1. 25.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        সরে আসার কথা নয়, আপনার এক পোস্টে একজন কোরআনের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাই সেই বিষয়ে যাচাই বাচাই করতে গিয়ে এই রজম সম্পর্কে এই  তথ্য পেয়েছি যা রেফারেন্সের জন্য দরকার তাই এখানে রেকর্ড করে রেখেছি মাত্র।

  2. 24
    এস. এম. রায়হান

    ৪:২ আয়াতে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তিকে [১০০ বেত্রাঘাত, মৃত্যদণ্ড নয়] সকল প্রকার ব্যভিচারের ক্ষেত্রে ধরে নিলে কোরআনের আলোকে সমস্যা কোথায় তা জানতে চাই। এই আয়াতে তো নির্দিষ্ট কোনো ব্যভিচারের কথা উল্লেখ নাই, এটি একটি জেনারেলাইজড আয়াত।

    1. 24.1
      সাদাত
  3. 23
    সাদাত
  4. 22
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    দেরীতে হাজিরা দেওয়া ছাত্র আমি -- আমার ভাবনাগুলো নির্ভয়ে বলি --
     
     
    ১. রজম সম্পর্কে আপনার বিশ্বাস বা জ্ঞান কী?
    >>> কোরানের এই বিষয় সুষ্পষ্ট কোন দলিল নাই -- তাই কিছুটা দূর্বল মত পোষন করি। তবে রসুল (সঃ) এবং ওমর (রাঃ) কৃর্তক এই শাস্তি প্রদানের বিষয়ে যে তথ্য পাওয়া যায় -- তাতে আমার মানতে কষ্ট হলেও মেনে নিয়েছি। তবে যতটুকু বুঝি -- এইটা একটা চরম শাস্তি -- সাধারনত এই ধরনের শাস্তি প্রদানের আগে প্রচুর সতর্কতা গ্রহন করা হয়। সেইটাই দেখছি ইতিহাস থেকে। 
     
    ক. এটি আল্লাহর আইন নয়, কখনো ছিলও না।
    >>>> আপাতত কোরানে নেই এই টুকু জানি। ছিলো কিনা তা নিয়ে নানান মত আছে। তাই হাদিসের দিকেই মনোযোগ দেবো। 
    খ. তাওরাতে এটি আল্লাহর আইন ছিল, তবে কুরআনে তা রহিত হয়ে গেছে।
     
    >>> সেই ধরনের কিছু মতের বিষয়ে পড়াশুনা করলাম। 
    গ. ইসলামের প্রথম যুগে রজম প্রচলিত ছিল, পরে তা রহিত হয়ে গেছে।
    >>>> রহিত হওয়ার কোন দলিল দেখিনি। 
     
    ঘ. অন্য কিছু হলে সংক্ষেপে বলুন।
    >>> বর্তমান বিশ্বের উদারনৈতিক ব্যবস্থায় অনেক বিষয়ই মানুষের কাছে কঠিন মনে হবে। যেমন সমকামের শাস্তি মৃতূদন্ড -- এই কথাটা বলার মতো অবস্থাও কানাডায় নেই। ওন্টারিও প্রদেশে মূখ্যমন্ত্রী হতে চলছেন একজন লেসবিয়ান। তা বলে আল্লাহ আইন অকার্যকর হয়ে যায় না। আমরা মানতে পারি না -- সেই দায় আমাদের। রজমও সেই ধরনের একটা বিষয় -- আমরা মেনে নিতে নিতে তলানীর কাছাকাছি এসে পৌছেছি -- এখন অনেক বিষয়ই আমাদের কাছে কঠিন এবং অবাস্তব মনে হতে পারে। তার মানে এ্ই না যে সেগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। 

    1. 22.1
      সাদাত

      ধন্যবাদ জিয়া ভাই পড়াশুনা করে মত দেবার জন্য।  আপনার দুর্বল মত ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই সবল হয়ে উঠছে। শেষের প্যারার কথাটা চমৎকার বলেছেন।
       

  5. 21
    আবদুস সামাদ

    বিনয়ের সাথেবলি, এমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আমি কিছু বলার যোগ্যতা রাখিনা, তাই শুধুই পড়ি। আজ কাল সময়ও কম পাই। এ আলোচনা অনেক দূর গড়িয়েছে। সব কিছু পড়ার সময় হলনা। অনুরোধ করি চলতে থাকুক। আর একটা সামান্য কথা না বলে পারছিনা। কোরআনে প্রথমেই কোরআন ঐ মুত্তাকীদের পথ দেখাবে, যারা কি কি করে তার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছে, সুরা বাক্বারা, আয়াত ৪, আর যারা ইমান রাখে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তাতে এবং আপনার পূর্ব বর্তীদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তাতে—--। এই আয়াতের পরেও কি বলা যাবে? তওরাতের আইন আমাদের জন্য নয়? যা কোরআন দ্বারা রোহীত হওয়ার প্রমান নেই। ঠিক যেমন, কোন কিছুকে হারাম বলতে হলে, কোরআনের প্রমান দরকার, তেমন পূর্বের কোন আইনকে(আল্লাহর)রোহীত বলতেও কোরআনের প্রমান লাগবে বলে যদি আমি মনে করি, তা কি ভূল হবে?
    হজ্জ্বের ব্যাপারে এক সাহাবীর প্রশ্ন ছিল, প্রতিবৎসর হজ্জ ফরজ কিনা। রসুল সঃ বার বার তার প্র্শ্ন না শোনার ভান করতে লাগলেন। সাহাবীর প্রশ্ন থামেনা দেখে রসুল সঃ বিরক্ত হয়ে বললেন, কোন দূর্বল মুহূর্তে যদি মুখ ফসকে আমি হাঁ বলে ফেলি তবে তা ফরজই হয়ে যাবে। সাবধান। এতে করেকি প্রমান হয়না, আইন প্রয়োগের অধিকার রসুল সঃ এরও ছিল?ল ধন্যবাদ।

  6. 20
    সাদাত

    মুনিম ভাই,
    ভিন্ন প্রসঙ্গের আলোচনা বাদ দিয়ে আপনার পেন্ডিং বিষয়গুলোর দিকে আগে মন দেন।
    ১. আমি দেখিয়েছি, সূরা আন -নূর বেশির থেকে বেশি ৬ হিজরিতে নাযিল হয়। আপনার মত বলুন। আপনার উত্তর পেলেই আপনার করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ।
    ২. ১০ নং কমেন্টে খালিদ(রা.) এর ইসলাম গ্রহণের সন নিয়ে আপনি একমত কিনা?
    ৩. ৮ নং কমেন্টের ব্যাপারে আপনার মত বলুন।

    1. 20.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      কোন একটি কিংবা ২টি আয়াত দিয়ে সেই সুরার অন্য আয়াত গুলো নাজিলের সময় বলা যায় কি?
       
      খালিদ রাঃ এর বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন তা ঠিক আছে।
       

    2. 20.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      ৩.৮ খুজে পাচ্ছিনা।

      1. 20.2.1
        সাদাত

        ৩.৮ কে খুঁজতে বলেছে?
        ৩ নম্বর পয়েন্টে ৮ নম্বর কমেন্টের ব্যপারে আপনার মত জানতে চেয়েছি।

        1. 20.2.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          ৩ নং কমেন্টে কোন উপ কমেন্ট আমি  দেখতে পাচ্ছিনা।  আপনি এইখানে পেস্ট করে দিন প্লিজ!

        2. সাদাত

          আরে ভাই, ৮ নম্বর কমেন্টের ব্যাপারে আপনার মত বলুন।

  7. 19
    সাদাত

    ফুয়াদ ভাই,

    আপনি বলেছেন:
    *****************************
    প্রথমে রজমের সংজ্ঞা “পাথর ছুড়ে মৃত্যু দন্ড” তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। দ্বীতিয়ত,যদি প্রথমটি প্রমানিত হয়, তাহলে রজম যে আল্লাহ পাকের বিধান তা সর্ব প্রকার সংদ্বেহমুক্ত দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। কারণ একটা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বলা বাহল্যঃ আমার কাছে সর্ব প্রকার সংদ্ধেহমুক্ত দলিল হচ্ছে আল কোরান।
    *****************************

    প্রশ্ন হচ্ছে কেন শুধুমাত্র কুরআন দ্বারাই প্রমাণ করতে হবে? তবে আপনি কি কুরআন-অনলি?

    1. 19.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @সাদাত,
      খুব অল্প সময়ে মন্তব্য করাতে আপনি ভাষাগত সমস্যা পেয়েছিলেন। যাইহোক,

      -আপনি কি কুরআন-অনলি?-সাদাত

      আমি একজন মুসলিম, যেমন হযরত আবু বকর রাঃ কিংবা হযরত উমর রাঃ কিংবা হযরত উসমান রাঃ কিংবা হযরত তালহা রাঃ কিংবা হযরত আবু উবায়দা রাঃ কিংবা হযরত আব্দুর রাহমান রাঃ কিংবা হযরত আলী রাঃ কিংবা হযরত আবু জর গীফারি রাঃ কিংবা হযরত যুবায়ের রাঃ কিংবা হযরত যায়েদ রাঃ কিংবা হযরত আনাস রাঃ এর মত ও পৃথিবীর বাকি সকল মুসলিমদের মত একজন সাধারণ মুসলিম। আমার কোন আলাদা স্টেটাস বা বিশেষ কোন সার্টিফিকেইট নাই।  

      -প্রশ্ন হচ্ছে কেন শুধুমাত্র কুরআন দ্বারাই প্রমাণ করতে হবে?-সাদাত

      কারন হচ্ছে এটি সর্ব প্রকার সংদ্ধেহমুক্ত দলিল।

      1. 19.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        তারা পারেন কিছু প্রশ্ন করলে কোরআন অনলি, মওদুদী, লা মদহাবী ইত্যাদী বলে আখ্যায়িত করা।

        1. 19.1.1.1
          সাদাত

          প্রশ্ন করা আর আখ্যায়িত করা এক কথা নয়, এটা তো আপনার বুঝা উচিত।

      2. 19.1.2
        আহমেদ শরীফ

        @ ফুয়াদ দীনহীন,

        কোরআনকে যদি একমাত্র সন্দেহমুক্ত দলিল হিসেবে ধরে নেন তাহলে আরো অনেক বিপদ আছে যেমন ধরেন 'সালাত আদায়ের পদ্ধতি'। কোরআনে সালাত কায়েম করার কথা বলা আছে ঠিকই, কিন্তু সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা নেই। তাহলে উপা্য় ?

        এখন কোরআনেই যেহেতু বলা আছে রাসূল(সাঃ) কে অনুসরণ করতে, সুতরাং হাদিস থেকে আমরা কোরআনের ইন্টারপ্রিটেশন পাই। হাদিসে অনেক কিছুর পদ্ধতি-ব্যাখ্যা আছে যা সরাসরি কোরআনে নেই। সুতরাং কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশানুযায়ী হাদিসের ওপর আমাল করলেই আমরা সঠিক ও সম্পূর্ণ রুপরেখা পেতে পারি।

        1. 19.1.2.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          @আহমেদ ভাই,
          আমরাতো এ ব্যাপারগুলি নিয়ে কুরান আনলীদের সাথে বহু সময় বিতর্ক করেছি। দলিলগুলি ক্রমান্নয় ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করুন। আল কুরানের দলিল অত্যান্ত শক্তিশালি, এবং পৃথিবীর যেকোন রেকর্ড কর্তৃক বর্ননা থেকে অথেন্টিক। 

        2. আহমেদ শরীফ

          আপনি আমার কমেন্টটাই আরেকবার পড়ুন ভাল করে। আল কোরআনের বর্ণনা সবচেয়ে অথেনটিক সে ব্যাপারে কোথাও দ্বিমত পোষণ করিনি। বলেছি সবকিছু আল কোরআনে পেয়ে যাবেন এমন কোন কথা নেই।

          "সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা" আপনার জানামতে আল কোরআনে আছে কি ? অনেক কিছুই সরাসরি আল কোরআনে নেই কিন্তু রাসূল(সাঃ) এর হাদিসে আছে। ইসলামের ভিত্তিমূলে আল কোরআনের পরপরই কিন্তু হাদিসের স্থান। বিদায় হজ্বের ভাষণে অত্যন্ত কঠিনভাবে আল্লাহর বাণীর পাশাপাশি আল্লাহ নবী(সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণের গুরুত্বও বর্ণনা করা হয়েছে, একই সঙ্গে।

      3. 19.1.3
        সাদাত

        কিভাবে আপনি নিজেকে তাদের মতো মুসলিম বলছেন-
        তারা তো বিনাবাক্যে রজমে বিশ্বাস করতেন, রজম প্রয়োগ করতেন।
        তারা তো শুধুমাত্র কুরআন দিয়েই দলিল দিতে হবে এমন আকিদা পোষণ করতেন না।

        1. 19.1.3.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          -তাদের মধ্যে কি মতবিরোধ হত না ? ২য়ত, যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক, আপনি কে যে আমার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন তোলবেন ? আপনি তো সয়ং আল্লাহ পাক নন। তারাও মহান আল্লাহর বান্দা, আমিও।
          -তারা বিনা বাক্যে আরবিতে কথা বলতেন, আপনি বাংলায় কেন বলেন ?
          -তারা যা করতেন বা বলতেন বলে আপনি যা বলতেছেন তার প্রমান কতটুকু ?
          -আল্লাহ পাকের বিশ্বস্থ বান্দা হিসাবে এ ব্যাপার গুলি বিনা তত্য প্রমানে মেনে নিতে পারবো না। সঠিক, নির্ভেজাল, নিছিদ্রিত প্রমান দরকার। 
           

        2. সাদাত

          তাদের মধ্য অবশ্যই মতবিরোধ হতো। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে সকল সাহাবী একমত ছিলেন। একজনও ভিন্ন মত পোষণকারি ছিলেন। 'রজম' এমনই একটি বিষয়।
          আমি কি কোথাও আপনার ঈমান বা মুসলিমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? না।
          বলেছি 'তাদের মতো মুসলিম' হওয়া বা না হওয়ার কথা।
          তাদের মতো মুসলিম হওয়া তাদের মতো ভাষাভাষী, খাদ্যাভাষী হওয়া, ইত্যাদি এক কথা নয়।
          তাদের মতো মুসলিম হতে হলে তাদের সেইসব নীতি যেসব বিষয়ে তারা একমত ছিলেন, সেগুলো মানতে হবে।  

  8. 18
    ইশতিয়াক শাহরিয়ার

    প্রথমে রজমের সংজ্ঞা "পাথর ছুড়ে মৃত্যু দন্ড" তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। দ্বীতিয়ত,যদি প্রথমটি প্রমানিত হয়, তাহলে রজম যে আল্লাহ পাকের বিধান তা সর্ব প্রকার সংদ্বেহমুক্ত দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। কারণ একটা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বলা বাহল্যঃ আমার কাছে সর্ব প্রকার সংদ্ধেহমুক্ত দলিল হচ্ছে আল কোরান।

    ফুয়াদ ভাইয়ের উপরোক্ত উক্তির রেশ ধরে বলছি, বিবাহিত ব্যাভিচারীর প্রতি পাথর ছুড়ে দন্ডবিধি সংক্রান্ত সরাসরি আয়াত হয়ত কোর'আনে কারীমে পাওয়া যাবে না, কিন্তু রাসুল (সাঃ) এর সময়ে এ ধরণের দণ্ডবিধি কার্যকর করার সন্দেহমুক্ত বিশুদ্ধ দলীল আমরা পাই। "মায়াজের রজম" শিরোনামে সাদাত ভাইয়ের পোস্টটিতেও সেইসব দলীলের বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। আর একটি বিষয়ে আমরা কেউই নিশ্চয়ই দ্বিমত হব না যে, রাসুল (সাঃ) দ্বীনি ব্যাপারে কোন কথাই বা নির্দেশনাই আল্লাহ রব্বুল আ'লামীনের নিকট থেকে আসা ওহীর নির্দেশ ছাড়া দিতেন না। এছাড়া সুরা হাশরের ৭ নং আয়াত থেকেও আমরা রাসুল (সাঃ) দেয়া আল্লাহ পাকের এই অথরিটির প্রমান পাই। সেখানে বলা হয়েছেঃ "আল্লাহ এই জনপদবাসীর নিকট হতে তাঁর রাসুল (সাঃ)-কে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর, রাসুলের (সাঃ) স্বজনগণের এবং ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্থ ও পথচারীদের, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান শুধু তাদের মধ্যেই ঐশ্বর্য আবর্তন না করে। রাসুল (সাঃ) তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহন করো এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।"
    সুতরাং, বিধানটি রাসুল (সাঃ) যেভাবে কার্যকর করেছেন সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু বিধানটি কার্যকর করার নিয়ামকসমূহ নিয়ে কথা অবশ্যই থাকবে, অর্থাৎ সমাজ ব্যবস্থাকে কোন ধরণের হতে হবে, সমাজের নাগরিকদের মানসিক গঠন কেমন হবে, সেই সমাজ ব্যবস্থায় বিচারক কারা হবেন, তাদের নিয়োগ কিভাবে হবে, কারা তাদেরকে নিয়োগ দিবেন, এ ধরণের অভিযোগ কিভাবে পেশ করা হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিভাবে পরিচালিত হবে ইত্যাদি।

    কোন মতেই যেন কোন পক্ষকে ভিক্টিমাইজ না করা হয়, সে জন্য পরিষ্কার বিশ্লেষন থাকতে হবে।

    ফুয়াদ ভাইয়ের এই কথাটির সাথে পুরোপুরি একমত।

    1. 18.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মুহাম্মদ সাঃ শুধু ইসা আঃ এর মত নবী ছিলেন না। তিনি শাসকও ছিলেন।  তাই শাসক হিসাবে শাসন করা আর নবী হিসাবে নবুয়াতীর দায়িত্ব পালন এক নয়।  যেহেতু রাষ্ট্রের আইন মানতে আইনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হয়। কাজেই তখন আইন ছিল  যে ব্যাভিচারীকে রজম করতে হয়, তাই শাসক হিসাবে মুহাম্মদ সাঃ তা হয়তো করেছিলেন। সেটি ছিল দুনিয়াধারী বিষয়, তাই তো এই বিষয়ে আল কোরআন কোন রজমের নির্দেশ দেয় নাই। কারণ আমরা এখন কোনটি সুন্নাহ আর কোনটি আরবদের কালচার তা ফারাক করতে পারিনা।  আর কথিত সেই আয়াত যা হাদিসে পাওয়া যায় সেখানে বলা হয়েছে বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধারা যদি ব্যভিচার করে তাহলে রজম করতে হবে। তাই প্রশ্ন সেই কথিত আয়াতে বিবাহিত না উল্লেখ করে কেন বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা উল্লেখ করা হয়েছিল। ধন্যবাদ।
       
       

      1. 18.1.1
        ইশতিয়াক শাহরিয়ার

        মুনিম ভাইয়া, তাহলে প্রশ্ন চলে আসে স্বাভাবিকভাবে-
        ১. রাসুল (সাঃ) এই রকম একটি শাস্তির বিধান কি নিজের মনমত দিয়েছিলেন?
        ২. হযরত মায়াজ বিন মালিক (রাঃ) কি বৃদ্ধ ছিলেন?
         

      2. 18.1.2
        শাহবাজ নজরুল

        মুহাম্মদ সাঃ শুধু ইসা আঃ এর মত নবী ছিলেন না। তিনি শাসকও ছিলেন। তাই শাসক হিসাবে শাসন করা আর নবী হিসাবে নবুয়াতীর দায়িত্ব পালন এক নয়। যেহেতু রাষ্ট্রের আইন মানতে আইনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হয়। কাজেই তখন আইন ছিল যে ব্যাভিচারীকে রজম করতে হয়, তাই শাসক হিসাবে মুহাম্মদ সাঃ তা হয়তো করেছিলেন।

         
        এটা বেশ দুর্বল যুক্তি, কেননা --

        ১. উনি যদি রজম কেবল শক্ত শাসনের জন্যেই করতে যা পরবর্তীতে রহিত হয়ে যাবে তা তিনি স্পষ্ট করেই বলতেন -- যার প্রমাণ পাওয়া যায়না।

        ২. রজম হচ্ছে হাদ- ইসলামী শারিয়ার বিধান। শারিয়ার বিষয়ে আল্লাহ্‌র সম্মতি ছাড়া কোনো কথা বলা রাসুল (সা.) এর পক্ষে হারাম। ইসলাম ও শারিয়াকে সন্দেহমুক্ত ভাবে আমাদের কাছে পাঠানোই ছিল তাঁর দায়িত্ব। আপনার যুক্তি তাই মানতে পারলাম না।

        ৩. নীচে সামাদ ভাইয়ের কমেন্ট পড়ে দেখেন। উনি যদি কোনো আদেশ দিয়ে দেন (যেমন প্রতি বছর হজে যাওয়া) তবে তাই আদেশ/আইন হয়ে যায়। এ নিয়ে অন্য রকমের ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।

        ৪. সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত সহ শারিয়ার মৌলিক বিষয়ে যেভাবে হাদীস থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় -- রজমের ব্যপারেও তাই। অন্যভাবে দেখার উপায় নেই।

        ৫. আমি যতদুর জানি ইস্তেহাদ রাসুল (সা.) শারিয়ী বিষয়ে করতে পারেন না। ইস্তেহাদ কেবল উম্মতদের জন্যে সংরক্ষিত আইনী উপাদান।

        --শাহবাজ

  9. 17
    সরোয়ার

    এসব লেখা সাদাত ভাইকে বেশ মানায়। দীর্ঘায়ু কামনা করছি। http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif

  10. 16
    ফুয়াদ দীনহীন

    রজম নিয়ে আমার যেসব প্রশ্ন আছে তা নিম্নরূপঃ

    অনুসিদ্ধান্ত ১ঃ প্রথমে ন্যায়বিচারের একটি মানদন্ড মেনে নিতে হবে। যে অন্যায়ের শাস্তি যত কঠিন, সেই বিষয়ের প্রমাণ তত সঠিক হওয়া চাই।
    অনুসিদ্ধান্ত ২ঃ আইনের উদ্দেশ্য দুর্বলের অধিকারকে শক্তিশালীদের মোকাবেলায় রক্ষা করা। 
    অনুসিদ্ধান্ত ৩ঃ অবশ্যই অন্যায় করা ব্যাক্তিই শাস্তি পেতে পারে, নিরাপদ ব্যাক্তি একটি বারের জন্য শাস্তি পেতে পারে না।

    আমার প্রথম কথাঃ
    -প্রথমে রজমের সংজ্ঞা "পাথর ছুড়ে মৃত্যু দন্ড" তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। দ্বীতিয়ত,যদি প্রথমটি প্রমানিত হয়, তাহলে রজম যে আল্লাহ পাকের বিধান তা সর্ব প্রকার সংদ্বেহমুক্ত দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। কারণ একটা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বলা বাহল্যঃ আমার কাছে সর্ব প্রকার সংদ্ধেহমুক্ত দলিল হচ্ছে আল কোরান।

    অন্যায়ের মাত্রাঃ
    বিবাহিত ব্যাক্তির বিবাহ বহির্ভূত ব্যাবিচার হত্যার চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে সমাজে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, ফলাফলে খুনখারাবি এতই অতিরিক্ষ পর্যায়ে চলে যায় যে নিজ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান হত্যার ঘটনাও ঘটে।
     

    শাস্তির অপব্যাবহারঃ
    আমার অনুসিদ্ধান্ত ২ এর দিকে তাকান, অনেক সময় সমাজে গরিব মানুষকে ভিক্টিমাইজ করা হয়। ধরুন, বেগম এক্স একজন গরিব মানুষ, এক ধনীর ছেলে তাকে ফুসলিয়ে সাময়িক অবক্ষেয়ের কাছে নিয়ে গেল। ঐক্ষেত্রে সে টাকার ব্যাবহার করল। যখনই ঐ বেমন এক্স তার কথার অবাধ্য হল, তখন ব্যাবিচারের দায়ে তাকে হত্যা করা হল। সমাজ  শুধু ঐ বেগম এক্সকে পতিতা বলে অক্ষায়িত করল।

    এই আইনের অপব্যাবহারের মাত্রা অধিক হতে পারে। কারণ দেখা যায় নামাজ রোজার নাম নাই, বার বার এই আইনের কথা বলে, এ ধরনের মানুষের সংখ্যা সমাজে কম দেখি না। ব্যাপারটি রহস্যজনক, যেখানে আল কুরানে বার বার নামাজের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নামাজ ফেলে বার বার রজম নিয়ে আলোচনা, ব্যাপারটি ভয়ানক।

    প্রমানের দুর্বলতাঃ
    একটি মেয়ে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে এল, কিন্তু প্রমান করতে পারলনা। তখন এই আইন "অপরাদের"  নিজ সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচনায় নিলে, ঐ মেয়ের কি হবে ?

    ধরুন, ব্যাবিচার হল একটি ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে। ধরুন এ ব্যাপারটিতে ছেলেটাই অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সে তার মত গোপনে চলে গেছে, মেয়েটিও বিষয়টি গোপন রেখেছে, কিন্তু মেয়েটির একটি সন্তান হল। এখন এই সন্তানের পরিচয় মেয়েটি কি বলবে ? এবং এর পরিনতি কি দাঁড়াবে ? তাকে কি রজমে পরতে হবে ? আমার জানামতে আসল পড়িচয় গোপন করা একটি বড় ধরনের গোনাহ। বাচার জন্য মেয়েটিকে একটি গোনাহ করে, বাই ডিফল্ট একটির পর একটি গোনাহ করে যেতে হবে। ছেলেটি একটি গোনাহ করেই খালাস।

    ব্যাবিচার ও ধর্ষনের সজ্ঞাঃ
    মনে করুন, একটি মেয়ের এক বছরের একটি বাচ্চা আছে। তাকে খাওয়াতে হবে। স্বামী অসুসস্থ। সে অবস্থায় কোন ধনী তার সাথে টাকার বিনিময়ে ব্যাবিচার করল। তাহলে এটি ব্যাবিচার হিসাবে বিবেচনা করা হবে, নাকি ধর্ষন হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
     

    উপসংহারঃ
    রজমের পক্ষের সুনির্দিষ্ট সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল থাকতে হবে। রজমের বিধান সুসজ্ঞায়িত ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে, এবং এই সজ্ঞা মানুষজন কর্তৃক জ্ঞাত হতে হবে। কোন মতেই যেন কোন পক্ষকে ভিক্টিমাইজ না করা হয়, সে জন্য পরিষ্কার বিশ্লেষন থাকতে হবে। 

    নোটঃ আপনি কিংবা আমি ইসলামের অথরিটি নই, তাই আপনার নিজস্ব জবাব, যদি লোকজন কর্তৃক প্রতিষ্টিত না হয়ে থাকে, তাহলে, আপনার জবাব কেন লোকজন কর্তৃক গ্রহন করা হবে এবং ভবিষতে যদি রজমের বিধান চালু হয় তাহলে ঐ ব্যাক্ষাকৃত পন্থায় তা বাস্তবায়ন যে করা হবে, এই নিশ্চয়তার পক্ষে আপনার কাছে কি দলিল আছে ?
     

    1. 16.1
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:
      আপনার রচনা পড়লাম।
      এবার আমার প্রতিএকটু দয়া করুন। দয়াটা হচ্ছেঃ
      আপনার প্রশ্নগুলো (অতিরিক্ত কথা,উদাহরণ, বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে) সংক্ষেপে প্রশ্নাকারে করুন।

      1. 16.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        এর চেয়ে সংক্ষেপ আর কি হতে পারে আমার মাথায় ঢুকছে না।

      2. 16.1.2
        নির্ভীক আস্তিক

        আমি যা বুঝেছি তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ misleading হলে ক্ষমা করবেন --

        প্রথম কথাঃ রজমের পক্ষে শক্তিশালি ও সুস্পষ্ট দলিল আছে কিনা ? যদি কুরানে বর্ণিত ১০০ বেত্রাঘাতের পাশাপাশি  রজমের পক্ষেও সামঞ্জস্যপূর্ণ উক্তি থেকে থাকে তাহলে বিতর্ক করার অবকাশ নেই ।
        আমার মন্তব্যঃ আমিও জানতে চাই । দলিল গুলো বিস্তারিত ভাবে ।
        অন্যায়ের মাত্রাঃ অন্যায়ের মাত্রা বিষয়ঃ  ফুয়াদ ভাই নিজেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিবাহিতদের বিবাহ বহির্ভূত ব্যাবিচার করার অপরাধটি অবিবাহিতদের তুওলনায় অধিক মারাত্নক ও ভয়াবহ ।
        আমার মন্তব্যঃ সহমত।
        শাস্তির অপব্যাবহারঃ শাস্তিটি যেহেতু  death penalty তাই এ শাস্তির অপব্যবহার হলে তা সমাজ ব্যবস্থার জন্য আশঙ্কাজনক ।  যে ধর্মীয় সমাজ তাঁর আচারের (নামায, রোযা) মৌলিকদিক গুলো নীয়মিত লালন পালনের মাধ্যমে অনুসরন করে না, সে সমাজে রজমের মত শাস্তি ন্যয়বিচারের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন এরকম শাসক আশা করা কঠিন ।
        আমার  মন্তব্যঃ মনে হয়েছে বক্তব্যটির প্রথম অংশ অপ্রসাঙ্গিক এবং সাধারন শাস্তির Disposal না হলে  প্রস্তাবিত Condition টি দুর্বল এবং প্রদত্ত Condition এ যে বেগম সাহেবা ফুসলে গেছেন তিনিও দোষি । শেষাওংসের সাথে সহমত।
        প্রমানের দুর্বলতাঃ  ধর্ষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রমান না থাকলে মেয়েটির নিজ সাক্ষ্য এর গ্রহণযোগ্যতা কেরকম ? আবার ছেলে এবং মেয়ের ব্যবিচারের পর সেটি যদি দুজনেই গোপন করে, মেয়েটর বেলায় সেটি গোপন হয়তোবা থাকবেনা কেননা এর ফলাফল স্বরূপ সন্তান জন্ম নিতে পারে । সেক্ষেত্রে মেয়েটি তাঁর সন্তান এর পরিচয় ঢাকতে গেলে ক্রমান্বয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেবে ।
        আমার মন্তব্যঃ  প্রথম অংশটুকু আমারো জানার ইচ্ছা। পরের অংশটুকুতে বর্ণিত scene টি অপ্রাসাঙ্গিক মনে হয়েছে ।  যদি সন্তানের পরিচয় গোপন রাখতে মা সক্ষম হোন তাহলে তো সমস্যা নেই কেননা আল্লাহ্‌ নিজেও দোষ গোপনকারী। কিন্তু যদি তা না হন তাহলে এর ফলাফল ভয়াভহ এবং এটি যে মারাত্নক অন্যায় সেটিতো আপনার অন্যায়ের মাত্রা-এর অংশটুকুকে সমর্থন করে। তবে আমার বুঝার ভুল হতে পারে। 

        ব্যাবিচার ও ধর্ষনের সজ্ঞাঃ প্রলোভনে পড়ে ব্যবিচার এবং ধর্ষণ কি একই দন্ডের অপরাধ ?
        আমার মন্তব্যঃ আমার ধারনা, না তা নয় । সাধারন ভাবে বলতে গেলে ধর্ষণ হল জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন । ব্যবিচার সাধরনত লোভ, প্রলোভন,  মানসিক প্রবৃত্তির জন্যই হয় । একজন গরীব অনাহারী লোকের বেলায়  অনুমতি না নিয়ে অপরের খাবার খেয়ে ফেলা নৈতিক সমর্থন পায় কি ? 
         

        1. 16.1.2.1
          নির্ভীক আস্তিক

          ব্যাবিচার ও ধর্ষনের সজ্ঞাঃ প্রলোভনে পড়ে ব্যবিচার এবং ধর্ষণ কি একই দন্ডের অপরাধ ?

          একটু ভুল হয়েছে । সঠিক ভাবে বললে দাঁড়াবে --

          ব্যাবিচার ও ধর্ষনের সজ্ঞাঃ প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবিচার এবং ধর্ষণ কি একই দন্ডের অপরাধ ?

    2. 16.2
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:
      ১. ফুয়াদ : রজম নিয়ে আমার যেসব প্রশ্ন আছে তা নিম্নরূপঃ
      সাদাত: আমরা প্রশ্ন জানতে আগ্রহি, দেখি নিম্নে আপনার প্রশ্ন কী কী?
      ২. ফুয়াদ:
      অনুসিদ্ধান্ত ১ঃ প্রথমে ন্যায়বিচারের একটি মানদন্ড মেনে নিতে হবে। যে অন্যায়ের শাস্তি যত কঠিন, সেই বিষয়ের প্রমাণ তত সঠিক হওয়া চাই।
      অনুসিদ্ধান্ত ২ঃ আইনের উদ্দেশ্য দুর্বলের অধিকারকে শক্তিশালীদের মোকাবেলায় রক্ষা করা।
      অনুসিদ্ধান্ত ৩ঃ অবশ্যই অন্যায় করা ব্যাক্তিই শাস্তি পেতে পারে, নিরাপদ ব্যাক্তি একটি বারের জন্য শাস্তি পেতে পারে না।
      সাদাত: শুনলাম, এই অংশটুকু বলার কোন দরকার ছিল, এতে মনে হচ্ছে আপনি আমাকে ন্যায়নীতি শিখাচ্ছেন। শিখলাম। এখনো প্রশ্ন আসেনি। নিচে আসবে নিশ্চয়।
      ৩. ফুয়াদঃ
      আমার প্রথম কথাঃ
      -প্রথমে রজমের সংজ্ঞা “পাথর ছুড়ে মৃত্যু দন্ড” তা নির্ভরযোগ্য দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। দ্বীতিয়ত,যদি প্রথমটি প্রমানিত হয়, তাহলে রজম যে আল্লাহ পাকের বিধান তা সর্ব প্রকার সংদ্বেহমুক্ত দলিল দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। কারণ একটা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বলা বাহল্যঃ আমার কাছে সর্ব প্রকার সংদ্ধেহমুক্ত দলিল হচ্ছে আল কোরান।
      সাদাতঃ
      এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করতে হবে। ধৈর্ষ ধরুন। তবে এটাও কোন প্রশ্ন না, আপনার দাবি।
      ৪. ফুয়াদঃ
      অন্যায়ের মাত্রাঃ
      বিবাহিত ব্যাক্তির বিবাহ বহির্ভূত ব্যাবিচার হত্যার চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে সমাজে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, ফলাফলে খুনখারাবি এতই অতিরিক্ষ পর্যায়ে চলে যায় যে নিজ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান হত্যার ঘটনাও ঘটে।
      সাদাতঃ
      তাহলে বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের শাস্তি অবিবাহিতের ব্যভিচার অপেক্ষা অধিক শাস্তিযোগ্য, এটা আপনি মেনে নিচ্ছেন। GOOOOOD. আমি একমত। তবে এখানে প্রশ্ন কোথায়?
      ৫. ফুয়াদঃ
      শাস্তির অপব্যাবহারঃ
      আমার অনুসিদ্ধান্ত ২ এর দিকে তাকান, অনেক সময় সমাজে গরিব মানুষকে ভিক্টিমাইজ করা হয়। ধরুন, বেগম এক্স একজন গরিব মানুষ, এক ধনীর ছেলে তাকে ফুসলিয়ে সাময়িক অবক্ষেয়ের কাছে নিয়ে গেল। ঐক্ষেত্রে সে টাকার ব্যাবহার করল। যখনই ঐ বেমন এক্স তার কথার অবাধ্য হল, তখন ব্যাবিচারের দায়ে তাকে হত্যা করা হল। সমাজ শুধু ঐ বেগম এক্সকে পতিতা বলে অক্ষায়িত করল।

      এই আইনের অপব্যাবহারের মাত্রা অধিক হতে পারে। কারণ দেখা যায় নামাজ রোজার নাম নাই, বার বার এই আইনের কথা বলে, এ ধরনের মানুষের সংখ্যা সমাজে কম দেখি না। ব্যাপারটি রহস্যজনক, যেখানে আল কুরানে বার বার নামাজের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নামাজ ফেলে বার বার রজম নিয়ে আলোচনা, ব্যাপারটি ভয়ানক।

      সাদাতঃ আপনিই বলুন এখানে প্রশ্ন কোথায়? এটা তো বিবৃতি।
      গোপনে করা ব্যভিচারের ক্ষেত্রে, যার কোন চাক্ষুস প্রমাণ নেই, রজম প্রয়োগের কোন সুযোগ নাই, যদি না ব্যভিচারি নিজেই এসে সব স্বীকার করে নিজের শাস্তি কামনা করে।
      ৬.
      ৬.১
      ফুয়াদঃ
      প্রমানের দুর্বলতাঃ
      একটি মেয়ে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে এল, কিন্তু প্রমান করতে পারলনা। তখন এই আইন “অপরাদের” নিজ সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচনায় নিলে, ঐ মেয়ের কি হবে ?
      সাদাতঃ যাক এতক্ষণে একটা প্রশ্ন পাওয়া গেল। ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তির ব্যাপারেও তো এই একই প্রশ্ন করা যায়। যাক উত্তর হচ্ছেঃ
      ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং ইবনে হাম্বলসহ অধিকাংশ ফিকাহবিদগণের মত এবং শুদ্ধতর মত এই যে, ঐ মেয়ের কিছুই হবে না। ধর্ষণের অভিযোগকে ব্যভিচারির স্বীকারোক্তি হিসেবে নেবার কোন সুযোগ নেই।
      ৬.২
      ফুয়াদঃ
      ধরুন, ব্যাবিচার হল একটি ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে। ধরুন এ ব্যাপারটিতে ছেলেটাই অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সে তার মত গোপনে চলে গেছে, মেয়েটিও বিষয়টি গোপন রেখেছে, কিন্তু মেয়েটির একটি সন্তান হল। এখন এই সন্তানের পরিচয় মেয়েটি কি বলবে ? এবং এর পরিনতি কি দাঁড়াবে ? তাকে কি রজমে পরতে হবে ? আমার জানামতে আসল পড়িচয় গোপন করা একটি বড় ধরনের গোনাহ। বাচার জন্য মেয়েটিকে একটি গোনাহ করে, বাই ডিফল্ট একটির পর একটি গোনাহ করে যেতে হবে। ছেলেটি একটি গোনাহ করেই খালাস।
      সাদাতঃ
      ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং ইবনে হাম্বলসহ অধিকাংশ ফিকাহবিদগণের মত এবং শুদ্ধতর মত এই যে, শুধু গর্ভধারণ রজম তথা হদ প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নয়। ফলে মেয়েটিকে রজমে পড়তে হবে না।
      এবার আপনি মনে করুন ব্যভিচারের শাস্তি কেবলই ১০০ বেত্রাঘাত, রজম নয়। সেই ক্ষেত্রে-
      এই সন্তানের পরিচয় মেয়েটি কি বলবে ? এবং এর পরিনতি কি দাঁড়াবে ?
      ৭.
      ফুয়াদঃ
      ব্যাবিচার ও ধর্ষনের সজ্ঞাঃ
      মনে করুন, একটি মেয়ের এক বছরের একটি বাচ্চা আছে। তাকে খাওয়াতে হবে। স্বামী অসুসস্থ। সে অবস্থায় কোন ধনী তার সাথে টাকার বিনিময়ে ব্যাবিচার করল। তাহলে এটি ব্যাবিচার হিসাবে বিবেচনা করা হবে, নাকি ধর্ষন হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
      সাদাতঃ
      এই প্রশ্নের সাথে রজমের সম্পর্ক কী?
      ৮.
      ফুয়াদঃ
      উপসংহারঃ
      রজমের পক্ষের সুনির্দিষ্ট সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল থাকতে হবে। রজমের বিধান সুসজ্ঞায়িত ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে, এবং এই সজ্ঞা মানুষজন কর্তৃক জ্ঞাত হতে হবে। কোন মতেই যেন কোন পক্ষকে ভিক্টিমাইজ না করা হয়, সে জন্য পরিষ্কার বিশ্লেষন থাকতে হবে।
      সাদাতঃ
      এগুলো কোন প্রশ্ন না। আপনার দাবি। জানলাম। রজমের পক্ষের দলিল সুস্পষ্ট, নির্ভরযোগ্য। রজম তথা হদের ক্ষেত্রে চুল পরিমাণ সন্দেহ থাকলেও তা রহিত হয়ে যায়; নিশ্চিন্ত থাকুন।
      ৯.
      ফুয়াদঃ
      নোটঃ আপনি কিংবা আমি ইসলামের অথরিটি নই, তাই আপনার নিজস্ব জবাব, যদি লোকজন কর্তৃক প্রতিষ্টিত না হয়ে থাকে, তাহলে, আপনার জবাব কেন লোকজন কর্তৃক গ্রহন করা হবে এবং ভবিষতে যদি রজমের বিধান চালু হয় তাহলে ঐ ব্যাক্ষাকৃত পন্থায় তা বাস্তবায়ন যে করা হবে, এই নিশ্চয়তার পক্ষে আপনার কাছে কি দলিল আছে ?
      সাদাতঃ
      আমার জবাব গ্রহণ করতে কে বলেছে? আপনারাই তো নিজস্ব চিন্তাভাবনার দুয়ার খুলে বসেছেন। আমরা সবাই যদি ইসলামিক অথরিটির কথা মেনে নিই, তবে তো কথাই থাকে না।

      আমি তো ১৪০০ বছরের প্রতিষ্ঠিত ইসলামি অথরিটির সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান গ্রহণ করেছি এবং করে থাকি। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সকল অথরিটি রজমের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে।

    3. 16.3
      মুনিম সিদ্দিকী

      বিবাহিত ব্যাক্তির বিবাহ বহির্ভূত ব্যাবিচার হত্যার চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে সমাজে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, ফলাফলে খুনখারাবি এতই অতিরিক্ষ পর্যায়ে চলে যায় যে নিজ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান হত্যার ঘটনাও ঘটে।

      আসলে এই মত পোষণ করা হচ্ছে একদেশদর্শী।  এই কথা ১৪শত বছর বা ৫০ বছর আগের জন্য প্রযোজ্য হলেও সব সময়ের জন্য প্রয়োজ্য নয়।
      ইসলামের আইনের লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কারো উপর জুলুম করা নয়। তাই ১৪ বছর আগে জীবন যাত্রা যত সহজ ছিল এখন তা তেমন নয়। তখন নারী পুরুষরা তাদের অধিকার বলতে যা বুঝত তা এখন বুঝেনা। তখন একজন পুরুষ যত সহজে ৪ বিয়ে করতে পারত কিংবা তালাক নিত বা দিতে পারত এখন সেই ভাবে করা সম্ভব নয়। আপনি জানেন যে চুরির অপরাধ হাত কাটা কিন্তু আমরা জানি যে চুরির অপরাধে উমর রাঃ এক চুরের হাত কাটেন নাই। কারণ প্রেক্ষাপট নয় কি?
      আর আমরা এখন কি ইসলাম পন্থি আর বে পন্থি  সবাই পরিবারকে ছোট রাখতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তো সন্তান হত্যা করে কি সন্তান হত্যা করে যাচ্ছিনা? আল্লাহর উপর নির্ভর থাকলে কি কেউ তা করতে পারত?

  11. 15
    আহমেদ শরীফ

    অপ্রাসঙ্গিকভাবে নতুন একটা বিচিত্র কনফিউশন দেখা দিচ্ছে কেউ যদি আংশিক 'কোরআন অনলি' আবার একই সঙ্গে আংশিক 'লা মাযহাব' হয় সেটা কি জায়েজ হবে ? 

    1. 15.1
      সাদাত

      @আহমেদ শরীফ:
      থাক ভাই। নতুন কোন কনফউশনের কথা আর বইলেন না!!! এমনিতেই যা অবস্থা…

      1. 15.1.1
        আহমেদ শরীফ

        আমি অবশ্য ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলাম কারণ এখন আবার কনফিউশনটি থেকে আরো একটি আনকোরা শাখা কনফিউশনও গজিয়ে উঠেছে। সদালাপের অনেক পোস্ট পড়ে জানতে পারি যে বিবর্তনবাদ আসলে ভিত্তিহীন, মিথ্যা। রায়হান ভাই, শামস ভাই, শাহবাজ নজরুল ভাইরা এতদিন পোস্ট লিখে লিখে হাতব্যাথা করে পাবলিককে সেটাই বুঝিয়েছেন। এখন দেখা যাচ্ছে যে খোদ ধার্মিকদের মাঝেই বিবর্তনচক্রের অশুভ ছায়ার উপস্থিতি কেউ কেউ বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে হানাফি থেকে মওদূদি, তার্পর মওদূদি থেকে অভাবনীয়ভাবে কোরআন অনলি, শেষ পর্যন্ত বিচিত্র দ্রুততায় আকস্মিকভাবে লা মাযহাবে চোখের সামনে বিবর্তিত হওয়ার ফাস্টেস্ট রেন্ডার্ড সিম্যুলেশন দেখে মোটামুটি বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে গেছি। তবে কি শেষ পর্যন্ত বিবর্তনবাদই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ? (নাউজুবিল্লাহ!)

        1. 15.1.1.1
          Sam

          আপনার কমেন্টটা মার্জিত নয়। কার উদ্দেশ্যে বলছেন অনুমান করতে পারছি। আমরা ইসলামের বড় বড় কথা বলছি-আবার সুযোগ বুঝে আক্রমণ করছি!
          তাবলীগ জামাতীতের প্রতি আমার আলাদা ভক্তি আছে-কেননা কয়েকজন নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, আক্রমনাত্বক তো নয়ই-তাবলীগী ভাইদের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। আপনার লেখায় ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছি।

        2. আহমেদ শরীফ

          @Sam:
           

          আপনার কমেন্টটা মার্জিত নয়। কার উদ্দেশ্যে বলছেন অনুমান করতে পারছি।

          এখানে আপনি দু'টো 'অনৈসলামিক' কাজ করেছেন যথা :

          ১/ 'মার্জিত নয়' বলে পয়েন্ট আউট করে একজন মুসলমান ভাইয়ের দোষ প্রকাশ করার চেষ্টা করছেন। যদিও রসগ্রাহী ভঙ্গিতে সুক্ষ ইঙ্গিতবাহী অঙ্গুলিহেলনের শিল্পসম্মত পন্থা আমার বিচারে 'অমার্জিত' এর সংজ্ঞায় পড়ে না।  

          ২/ যেখানে কারো নামোল্লেখ করা হয় নি সেখানে 'অনুমান' এর ওপর ভিত্তি করে একজন মুসলমান সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ এবং অন্যদের মাঝে প্রচার করার অনুমতি ইসলাম দেয় না।

          আমরা ইসলামের বড় বড় কথা বলছি-আবার সুযোগ বুঝে আক্রমণ করছি!

          আক্রমণ না, পর্যালোচনা করছি। এখানে ব্যক্তিকে নয়, মানসিকতাকে বিচার করা হচ্ছে। কারো কনফিউশন থাকলে এবং নিজের কনফিউশন সম্পর্কে তার আনকনশাসনেসের ব্যাপারে অন্য কারো সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস দোষের কেন হবে ?

          আর পোস্টে পোস্টে সবাই সবময় 'গলাগলি' করে থাকলেই সেটা খুব 'মার্জিত' হয় এটা আপনাকে কে বলল! কত কিছুই না হয় ব্লগে আলোচনা হবে, ঐক্যমত্য হবে, বিরোধিতা-তর্কবিতর্ক হবে, মনোমালিন্য হবে, কখনো যুদ্ধ হবে, আবার সবাই মিলেমিশে যাবে কিংবা কেউ থাকবে কেউ চলে যাবে। সবসময় একরকম হলে তো ব্লগ পানসা হয়ে যাবে।

          তাবলীগ জামাতীতের প্রতি আমার আলাদা ভক্তি আছে-কেননা কয়েকজন নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, আক্রমনাত্বক তো নয়ই-তাবলীগী ভাইদের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। আপনার লেখায় ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছি।

          আমি কোথাও দাবি করেছি যে আমি একজন 'তাবলীগী ভাই' ? এখানেও সম্পূর্ণ অনুমানের ওপরে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলেন! তাবলীগের লোকদের সাথে কিছু ওঠাবসা হয় কারণ অন্যদের তুলনায় তাদের সঙ্গ-কাজকারবার ভাল লাগে। কোথাও তাবলীগের মেহনতের ব্যাপারে প্রসঙ্গ উঠলে তাদের পক্ষ নেয়া পছন্দ করি এইটুকু, কারণ অন্যদের বকাবাজির তুলনায় এদের মেহনত-কষ্ট-ত্যাগ গঠনমূলক মনে হয় আমার কাছে।
           
           
           
           

        3. 15.1.1.2
          Sam

          দেখুন কত সহজেই অন্যের 'অনৈসলামিক' কাজগুলো আমাদের চোখে পড়ে। আমরা কত কথা লিখছি-ব্লগের পাতা ভরিয়ে দিচ্ছি। নিজের লিখায় 'অনৈসলামিক' কিছুই খুজে পাই না। আমরা কোন কিছুই অনুমান করছি না- সব সত্য,খাটি কথা লিখছি। মুসলমান ভাইদের দোষ প্রকাশও করছি না। ইসলাম অনুমতি দেয় না- এমন কাজও করছি না। আমরা সুক্ষ ইঙ্গিতবাহী ভাষা প্রয়োগ করছি না-আবার প্রয়োজনমত নিজের সুবিধামত ইন্টারপ্রিটেশনও করছি না। আমরা ব্যক্তি আক্রমণ করছি না- মানষিকতাকে বিচার করছি মাত্র। আমরা কোন দল,মত,পথের না- যদিও সেসব দল,মত,পথের পক্ষে লিখছি অনবরত। আরো কত কি!
           

  12. 14
    মুনিম সিদ্দিকী

    @সাদাত ভাই।

    সময় বাঁচাবার জন্যই আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি যে আপনিই সূরা আন-নূর অবতরণের এই টাইম লাইনটা নির্ধারণ করুন।
    আমার মতের সাথে আপনার মতের খুব বেশি পার্থক্য না হলে আপনার মত বিনাতর্কে মেনে নিয়েই আমি যুক্তি দেবো।
    আর মতের পার্থক্য বেশি হলে, অবশ্যই আমি আমার দলিল পেশ করবো।

     
    ভাই আপনি বলুন?  কারণ প্রশ্নটি আমার।

    1. 14.1
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:
      ১. সূরা আন-নূরে আয়েশা(রা.)এর প্রতি অপবাদ খণ্ডন করা হয়েছে।
      ২. আয়েশা(রা.)এর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বনু মুস্তালিক অভিযান থেকে ফেরার পথে। তখনই আয়েশা(রা.)এর প্রতি অপবাদ রটানো হয়।

      বনু মুস্তালিকের অভিযান কখন সংঘটিত হয়?
      হিজরি ৪ সনে (মুসা ইবনে উকবার মতে) , ৫ সনে ( ইবনে সা’দের মতে) অথবা ৬ সনে (ইবনে ইসহাকের মতে)।
      অধিকাংশের মত হিজরি ৫ সনে হলেও সতর্কতা হিসেবে ধরে ইবনে ইসহাকের মতটাই (অর্থাৎ ৬ হিজরি) গ্রহণ করছি।

      দলিলএখানে দেখুন:

      http://www.sunnipath.com/library/books/B0033P0032.aspx#Bani Al-Mustaliq (Muraisi‘) Ghazwah, Sha‘ban 6 Hijri

      এই হিসেবে সূরা আন-নূর অবতীর্ণ হয় ৬ হিজরিতে।
      মানলে ভালো, না মানলেআপনি দলিলসহ বলেন কবে সূরা আন-নূর অবতীর্ণ হয়েছে।

      1. 14.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আপনি যে ভাবে সূরা আন নুরের নাজিলের কথা জানালেন তাঁ কি যুক্তিক হয়েছে?  এমন কোন দলিল আছে যে একটি গোটা সূরা একই সময়ে নাজিল হয়েছিল? অনুমান আন্তাজ আর বাস্তবতা এক নয়। কাজেই আমার প্রশ্নের আয়াত ঠিক কবে নাজিল হয়ে ছিল তা জানলে উত্তর দিন নতুনবা এই আয়াত নিয়ে কথা বলার দরকার নাই। ধন্যবাদ।
         

  13. 13
    মুনিম সিদ্দিকী

    যে আয়াতের নির্দেশ বলবৎ সে আয়াত কোরআন থেকে সরিয়ে ফেলার কারণ কি?

    1. 13.1
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:
      আমি কি এই পোস্টের কোথাও নাসিখ মানসুখ নিয়ে কোন কথা বলেছি?
      **********************************************
      আমি আপনার সাথে যে বিতর্ক করছি তাতে তর্কের খাতিরে আমি ধরে নিচ্ছি নির্দেশ বলবৎ থাকা সত্বেও আল কুরআনের কোন আয়াত রহিত হয় নাই।
      **********************************************
      আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন আমি এই বিতর্কের কোথাও ওমর(রা.)এর সেই ভাষণ বা আয়িশা(রা.)এর সেই ছাগলে কুরআনের পাতা খেয়ে ফেলা,এসবকে যুক্তি হিসেবে পেশ করবো না। কাজই ঘুরে ফিরে এই প্রসঙ্গগুলো টেনে আনবেন না। রজম প্রমাণের জন্য এসবের কোন দরকার নেই।

  14. 12


     

  15. 11
    ইশতিয়াক শাহরিয়ার

    সাদাত ভাইয়ের পোস্টটির খাতিরে রজমের ব্যাপারে আবার কিছুটা পড়ার সুযোগ হল। এজন্য ধন্যবাদ। আশা করি, আরো বিস্তারিত আলোচনা চলবে এবং আরো অনেকেই এতে অংশ নেবেন।
    তাফসীরে এ বিধানটি নিয়ে অনেক বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অংশটুকু সরাসরি তাফসীর গ্রন্থ থেকে কোট করলাম। আশা করি অস্পষ্টতা দূর হতে পারে।

    সুরা নূরের তাফসীরে ইবনে কাসীর (রহঃ) রাসুল (সাঃ) এর এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেনঃ "হযরত ওবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা আমার কথা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কথা গ্রহণ কর। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য পন্থা বের করে দিয়েছেন। অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিতা নারী ব্যভিচার করলে একশ' চাবুক ও এক বছরের জন্য দেশান্তর আর বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা নারী ব্যভিচার করলে রজম।" [হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আরবাআ ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে] -- তাফসীর ইবনে কাসীর, ১৫ খন্ড, ৮৯ পৃঃ।

    এ প্রসঙ্গে তাফসীরে মা'রেফুল কোর'আনে হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর ভাষণ হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) রেওয়ায়েতে উল্লিখিত হয়েছে। আর তা হলঃ " হযরত উমর ফারুক (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মিম্বরে উপবিষ্ট অবস্থায় বললেনঃ আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সাঃ) কে সত্যসহ প্রেরণ করেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব নাযিল করেন। কিতাবে যেসব বিষয় অবতীর্ণ হয়, তন্মধ্যে প্রস্তরাঘাতে হত্যার বিধানও ছিল, যা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ংগম করেছি। এখন আমি আশংকা করছি যে, সময়ের চাকা আবর্তিত হওয়ার পর কেউ একথা বলতে না শুরু করে যে, আমরা প্রস্তরাঘাতে হত্যার বিধান আল্লাহর কিতাবে পাই না। ফলে সে একটি ধর্মীয় কর্তব্য পরিত্যাগ করার কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন। মনে রেখ, প্রস্তরাঘাতে হত্যার বিধান আল্লাহর কিতাবে সত্য এবং বিবাহিত পুরুষ ও নারীর প্রতি প্রযোজ্য--যদি ব্যভিচারের শরীয়ত সম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থিত হয় অথবা গর্ভ ও স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। (মারেফুল কোর'আনে সুত্র উল্লেখিত হয়েছে "মুসলিম ২য় খন্ড, ৬৫ পৃ") 

    তাফসীর ইবনে কাসীরে হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর এই ভাষণটিও উদ্ধৃত হয়েছেঃ হযরত আবদুর রহমান ইবেন আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত উমর ইবনে খাত্তা (রাঃ)-কে তাঁর এক ভাষণে বলতে শুনেছেনঃ "লোকেরা বলে যে, তারা রজম অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার কথা আল্লাহর কিতাবে পায় না। কুর'আন কারীমে শুধুমাত্র চাবুক মারার হুকুম রয়েছে। জেনে রেখো যে, স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রজম করেছেন, তারপরে আমরাও রজম করেছি। 'কুর'আনে যা নেই, উমর (রাঃ) তা লিখিয়ে নিয়েছেন' লোকদের একথা বলার ভয় যদি আমি না করতাম তবে রজমের আয়াত আমি ঐভাবেই লিখিয়ে নিতাম যেভাবে ওটা অবতীর্ণ হয়েছিল।" [এটা মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। সুনানে নাসাঈতেও এ হাদীসটি রয়েছে]-- তাফসীর ইবনে কাসীর, ১৫ খণ্ড, ৮৭ পৃঃ।

     

    1. 11.1
      সাদাত

      @ইশতিয়াক শাহরিয়ার:
      ইশতিয়াক ভাই,
      যার সাথে তর্ক হচ্ছে উনি যদি বিনা বাক্যে তাফসির মানতেন, সাহাবীদের ইজমা মানতেন, ফুহাকায়ে কেরামদের ঐক্যমত্যে আস্থা রাখতেন, ১৪০০ বছরের লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কেরামের ওপর আস্থা রাখতেন, তবে তো আর এত বিতর্কের দরকার পড়তো না।

      1. 11.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        যার সাথে তর্ক হচ্ছে উনি যদি বিনা বাক্যে তাফসির মানতেন, সাহাবীদের ইজমা মানতেন, ফুহাকায়ে কেরামদের ঐক্যমত্যে আস্থা রাখতেন, ১৪০০ বছরের লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কেরামের ওপর আস্থা রাখতেন, তবে তো আর এত বিতর্কের দরকার পড়তো না।

         
        যে গুলো উল্লেখ করলেন তা বিনা বাক্যব্যয়ে মানাটা কি ঈমানের অঙ্গ?  আমি তো সে রকম জানিনা। আমি জানি যা তা হচ্ছে-  আমানতু বিল্লাহি, ওয়া মালাইকাতিহি, ওয়া কুতুবিহি, ওয়া রুসুলিহি, ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি, ওয়াল কাদরি খাইরিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তায়ালা ওয়াল বাছি বা'দাল মাওত। অর্থাৎ 'আমি ইমান আনলাম আল্লাহর ওপর, তাঁর সব ফিরিশতার ওপর, তাঁর (প্রেরিত) সব কিতাবের ওপর, তাঁর সব রাসুলের ওপর। কিয়ামত দিবস তথা শেষ বিচারের দিনের ওপর এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর আর মৃত্যুর পর আবার উত্থিত হওয়ার ওপর।' আপনার দাবী যদি সত্যি হতো তাহলে আরেকটি বাক্য ওয়া নায়েবে রাসুলিহি উল্লেখ থাকত নয় কি?

        1. 11.1.1.1
          সাদাত

          @মুনিম সিদ্দিকী:
          অপ্রাসঙ্গিক এই বিতর্কে এখন যাবো না। তবে আপনার চম্ৎকার এই কমেন্টটি সংরক্ষণ করে রাখলাম। ভবিষ্যতে সময় পেলে আলোচনা করা যাবে। আপাতত: পোস্টের বিষয়ে মন দেন।

  16. 10
    সাদাত

    আলোচনার এক ফাঁকে আসুন আমরা খালিদ বিন ওয়ালিদ সম্পর্কে কিছু জেনে নেই:
    সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Khalid_Bin_Walid
    Muhammad's era (610–632)

    Map of the Battle of Uhud, showing Khalid's flanking movement against Muslim army, a maneuver that won the Battle for Quraysh.

    Not much is known about Khalid during the early days of the preaching of Muhammad. His father was known for his hostility against Muhammad. Following the migration of Muhammad from Mecca to Medina, many battles were fought between the new Muslim community at Medina and the confederacy of the Quraysh.[7] Khalid did not participate in the Battle of Badr—the first battle fought between Muslims and Qurayshites—but his brother Walid ibn Walid was caught and made a prisoner. Khalid and his elder brother Hasham ibn Walid went to Medina to ransom Walid, but soon after he was ransomed, Walid, amidst the journey back to Mecca, escaped and went back to Muhammad and converted to Islam.[8] Khalid's leadership was instrumental in turning the tables and ensuring a Meccan victory during the Battle of Uhud (625).[9] In 627 AD he was a part of Quraysh's campaign against the Muslims, resulting in the Battle of the Trench, Khalid's last battle against Muslims.[10]

    Conversion to Islam

    A peace agreement of ten years was concluded between the Muslims and Quraysh of Mecca at the Treaty of Hudaybiyyah in 628. It has been recorded that Muhammad told Khalid's brother, Walid bin Walid, that: "A man like Khalid, can't keep himself away from Islam for long".[11] Walid wrote letters to Khalid persuading him to convert. Khalid, who was not unduly drawn towards the idols of the Kaaba, decided to convert to Islam and is said to have shared this matter with his childhood friend Ikrimah ibn Abi-Jahl who opposed him. Khalid was threatened by Abu Sufyan ibn Harb with dire consequences, but was restrained by Ikrimah who is reported to have said: "Steady, O Abu Sufyan! Your anger may well lead me also to join Muhammad. Khalid is free to follow whatever religion he chooses".[12] In May 629, Khalid set out for Medina. On the way he met 'Amr ibn al-'As and Uthman ibn Talha, who were also going to Medina to convert to Islam. They arrived at Medina on 31 May 629 and went to the house of Muhammad. Khalid was received by his elder brother Walid bin Walid and was first among the three men to enter Islam.[13]
     
    আমরা কিছু তথ্য পেলাম:
    ১. খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলামের বিরূদ্ধে সর্বশেষ যুদ্ধ করেন ৬২৭ সনে।
    ২. খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন ৬২৯ সনে। (৩১শে মে)
    [মুনিম ভাই, কোন আপত্তি থাকলে জানাতে পারেন। ইউকির সূত্র পছন্দ না হলে ভিন্ন কোন সূত্র পেশ করতে পারেন।]

    1. 10.1
      সাদাত

      আসুন হিজরিতে কনভার্ট করি।
      You entered: 31 / 5 / 629
      The conversion result is: Wednesday 2 Safar 8 A.H.
      *There is a small probability of one day error.
      http://www.islamicfinder.org/dateConversion.php?mode=ger-hij&day=31&month=5&year=629&date_result=1

      আবার তাবাকাতের ৪র্থ খন্ডে খালিদ(রা.)এর উদ্ধৃতি পাওয়া যায়:
      “We reached the Messenger of Allah at Madina on the first day of Safar in the eighth year”.

      মিলে যাচ্ছে।

  17. 9
    ফুয়াদ দীনহীন

    সাদাত ভাই,
    আলোচনা চলুক, আমি আরো সময় নিয়ে ও আরো পড়াশুনা করে এই লেখায় আসব।

    1. 9.1
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন: @ফুয়াদ দীনহীন:
      পড়াশুন করেন, তবে বেশি সময় নিয়েন না। আমি এক বিষয় নিয়ে বারবার বসতে পারবো না, তও এমন বিষয় নিয়ে যে বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.), ফুকাকায়ে কেরাম একমত ছিলেন।

  18. 8
    সাদাত

    [DEAR ALL, ATTENTION PLEASE. VERY INTERESTING PART STARTS!]
    মুনিম ভাই,

    খুব ভালো করে বুঝে নিন:
    ১. আমরা যারা রজম স্বীকার করি, তারা কিন্তু বলছি না-
    রজম যে কোন ব্যভিচারির ওপর প্রযোজ্য। বরং রজম কেবলমাত্র বিবাহিত ব্যভিচারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
    ২.আমরা কিন্তু বলছি না যে ২৪:২ আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে।

    আমরা বলছি
    ১. ২৪:২ নম্বর আয়াতে উল্লেখকৃত ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তি যে কোন প্রকার ব্যভিচারির শাস্তি নয়।
    ২. ২৪:২ নম্বর আয়াতে উল্লেখকৃত ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তি অবিবাহিত ব্যভিচারির শাস্তি।

    এবার আসুন প্রথমে আপনার ৪ নং প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করি। (উত্তর দিচ্ছি না, উত্তর শেষে দেবো ইনশআল্লাহ, আপাতত প্রশ্ন নিয়ে প্রশ্ন…)
    ———————————————————————————
    আপনার প্রশ্ন:
    ৪।
    ২৪-৪। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর যদি তারা অশ্লীলতা করে, তবে তাদের শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক।
    এখন প্রশ্ন হল বিবাহিতদের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদন্ড তাহলে দাসীদের জন্য তাঁর অর্ধেক শাস্তি বলতে কি বুঝান হচ্ছে? মৃত্যুদন্ডের অর্ধেক শাস্তি কি?
    ———————————————————————————-
    আয়াত নম্বরট ভুল দিয়েছেন। এটা হবে ৪:২৫। এই আয়াতটা অনেক ব্যাখ্যার দাবি রাখে, সেটা পরে হবে। আপাতত:একটা বিষয় তো জানা গেল,
    ****************************************
    ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক।
    ****************************************
    তার মানে যে কোন প্রকারের ব্যভিচারির শাস্তি এক নয়, পার্থক্য আছে।

    এবার আসুন সূরা আন-নূরে যাই:
    *****************************************

    24:2 ব্যভিচারিণী নারী (الزَّانِيَةُ) ব্যভিচারী পুরুষ (الزَّانِي); তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। (প্রাসঙ্গিক অংশ)
    *****************************************

    ২৪:২ বলছে ব্যভিচারি নারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।
    যদি বলা হয়
    এখানে সকল প্রকার ব্যভিচারির শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে।
    তাহলে
    বিবাহিত, অবিবাহিত, ক্রীতদাসি এবং স্বাধীন নারী সকলের জন্যই ব্যভিচারের শাস্তি হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত। কোন পার্থক্য করা যাবে না। কারণ আয়াতে পার্থক্যসূচক কোন বিশেষণ নাই।

    কিন্তু ৪:২৫ অনুসারে আপনি নিজেই স্বীকার বলেছেন:
    ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক।

    এটা তো কন্ট্রাডিকশন হয়ে গেল!!
    তাই নয় কি?
    আপনি কী বলেন?

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আসলে কি বলতে চাইছেন বুঝে আসছেনা!!!

      1. 8.1.1
        সাদাত

        @মুনিম সিদ্দিকী:
        প্রচণ্ড শীতে শরীরের সাথে মাথাও জমে গেল নাকি!
        এক কাপ চা খেয়ে আবার পড়ুন।
        একেবারে খাঁটি বাংলা ভাষায় লেখা। এরপরও না বুঝলে কোন্ জায়গায় বুঝছেন না বলেন।

        1. 8.1.1.1
          এন্টাইভণ্ড

          সাদাতভাই
          খুব ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট!
          ৪:১৫ কিংবা ৪:২৫ প্রমাণ করে যে ২৪:২ সব ব্যভিচারীর জন্য শাস্তির কথা বলছে না।
          খুব সহজ হিসাব।
          দারুণ।

        2. 8.1.1.2
          মুনিম সিদ্দিকী

          শীতে জমা নয়, কাজের ফাকে ফাকে এর চেয়ে বেশি আলোচনা চালানো যায়না। আমার এই ভাই আমাকে জানিয়েছেন যে ২৪-২ নাকি বাতিল আয়াত!!!!

        3. সাদাত

          আলোচনা চালানোর কথা নয়।
          এত সোজা বাংলায় লেখার পরও আপনি কোন্ জায়গায় বুঝতে পারছেন না, সেটাই জানতে চাচ্ছি।
          এই ধরণের আলোচনায় আরেকটু সিরিয়াস হবেন। ২৪:২ কে কেউ বাতিল আয়াত বলতে পারে না। (নাসিখ আয়াত বললেও বলতে পারে) বললে যে বলেছে তার সাথে বলেন। আমার এখানে আমি যা বলছি তা নিয়ে কথা বলেন।
          অ.ট. ২৪:২ আয়াত বাতিল হলে আপনার তো কোন লাভ নাই। 
           

  19. 7
    এন্টাইভণ্ড

    সাদাতভাই
    আমার মনে হয় এই প্রসঙ্গে কিছু সহজ কথা বলার সুযোগ আছে।
    ১. রাসুল সা. রজম করেছেন। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
    ২. কোরান শরীফে রজমের কোনো আয়াত নেই।
    ৩. কিন্তু কোরান থেকেই আমরা জানি যে, রাসুল সা. ওহি ছাড়া আর কোনো কিছু অনুসরণ করতে অনুমোদিত ছিলেন না। সুতরাং, আমরা বলতেই পারি, রাসুল সা. অবশ্যই কোরানে অন্তর্ভুক্ত হয় নি এমন কিছু ওহির বলেই আগে-আসা, আসমানী কিতাবে বর্ণিত রজমএর বিধানকে সত্য এবং অবিকৃত বলে জেনেছিলেন এবং সেইজন্য পুণপ্রচলন করেছিলেন।
    ৪. কিন্তু অল্প যে-কয়েকটা নমুনা পাওয়া যায়, তাতে রাসুল সা. খুব আগ্রহ নিয়ে রজম করেছেন বলে মনে হয় না। বরং রজমের শিকার লোক/মহিলাগন অস্বীকার করে পালিয়ে গেলে রাসুল সা. অধিক স্বস্তি পেতেন বলেই আমার মনে হয়েছে।
    ৫. রজমের জন্য যেশর্তগুলো দিয়েছেন রাসুল সা. তা এতই কঠিন যে পালন করা অর্থাৎ ব্যাভিচার প্রমাণ করা অলমোস্ট অসম্ভব। যদি সংশ্লিষ্ট লোক-মহিলা স্বীকার না করেন, অথবা প্রমাণ দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট না হয়ে ওঠে, তাহলে রজম প্রয়োগ করা একেবারেই অসম্ভব। এথেকেও আমার মনে হয়, রাসুল সা. পারতপক্ষে এর প্রয়োগ না হলেই খুশি হতেন।
    ৬. কিন্তু এটা আল্লাহর বিধান, নিসন্দেহে। সেই শর্তগুলো পালন সাপেক্ষে; অবশ্যই। অতএব, যখন কোনো খাস আল্লাহর বান্দা নফসের ধোকায় পড়ে ব্যভিচার করেই বসে, তখন সে নিজেই যদি আল্লাহর সামনে সাফ হয়ে যেতে চায় এবং সেই উদ্দেশ্যে শাস্তিটা দুনিয়া থেকেই নিয়ে যেতে চায়, তাহলে এই হলো সেই ব্যবস্থা।
    ৭. ইন্টারেস্টিং হলো, যে-রাসুল সা. রজম প্রয়োগ করতে গিয়ে বলেন যে কেন তোমরা ওকে পালিয়ে যেতে দিলে না, সেই-রাসুল সা.-ই এক ধর্ষিতার মুখের কথাতেই রজম করে শাস্তি দিতে দিতে বলেছিলেন এক সন্দেহভাজন ধর্ষককে (যিনি কিনা আসলে ধর্ষক ছিলেন না)। ব্যভিচার-সঙ্ক্রান্ত কোনো শর্ত এখানে পালন করতে দেখা যায় নি। না চার সাক্ষী দিয়ে প্রমাণ করার প্রসঙ্গ এসেছে, আর না রাসুল সা. আফসোস করেছেন….কেবল ধর্ষিতার মুখের কথাই যথেষ্ট হয়েছে।
     
    আমি জানি না, এর ভেতরে আপনার তোলা প্রশ্নগুলোর সব জবাব উঠলো কি না। অনেক আগ্রহ থাকলেও মুনিমভাইয়ের বক্তব্যব্যের কিছু ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। ইনফ্যাক্ট এগুলো নিয়ে কি আমরা বহুবার আলাপ করি নি? সময়ও পাবো কি না বুঝছি না। ভালো থাকবেন।
    পোস্ট ভালো লেগেছে, এ কথাই বলতে এসেছিলাম। আপনার লেখা, সবসময়ই যেরকম লাগে।

    1. 7.1
      সাদাত

      @এন্টাইভণ্ড: @এন্টাইভণ্ড:
      আপনার উপস্থিতিই অনেক কিছু। শুধু চোখ রাখুন কোথাও ভুল করে বসে কি না। এই পোস্টে আমি আমাদের মুনিম ভাইয়ের সাথে কথা বলছি নাকি ফারুক ভাইয়ের সাথে কথা বলছি সেটাই বুঝতে পারছি না। যা হোক মুনিম ভাই কয়েকটা প্রশ্ন করেছেন, যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং এবং চ্যালেঞ্জিং কেস। আপনার ভালো লাগবে সন্দেহ নাই। এবং আমি নিশ্চিত আপনি সময় ম্যানেজ করতে না পারলেও সময় আপনাকে ঠিকই ম্যানেজ করে নেবে।

    2. 7.2
      ফুয়াদ দীনহীন

      @এন্টাইভন্ড, 

      ইন্টারেস্টিং হলো, যে-রাসুল সা. রজম প্রয়োগ করতে গিয়ে বলেন যে কেন তোমরা ওকে পালিয়ে যেতে দিলে না, সেই-রাসুল সা.-ই এক ধর্ষিতার মুখের কথাতেই রজম করে শাস্তি দিতে দিতে বলেছিলেন এক সন্দেহভাজন ধর্ষককে (যিনি কিনা আসলে ধর্ষক ছিলেন না)। ব্যভিচার-সঙ্ক্রান্ত কোনো শর্ত এখানে পালন করতে দেখা যায় নি। না চার সাক্ষী দিয়ে প্রমাণ করার প্রসঙ্গ এসেছে, আর না রাসুল সা. আফসোস করেছেন….কেবল ধর্ষিতার মুখের কথাই যথেষ্ট হয়েছে।-এন্টাইভন্ড

      আপনি রাসূল সাঃ এর সিদ্ধান্তের উপর নিজস্ব সিদ্ধান্ত আর্পিত করছেন। কারণ রাসূল সাঃ ধর্ষিতার মুখের কথা বিশ্বাস করেছেন, কিন্তু সিদ্ধন্ত দিবার আগেই আসল ধর্ষক তার দোষ স্বীকার করেছিল। আপনার কাছে ঐ হাদিসটি সংগ্রেহে থাকলে এখানে দিলে ভাল হয়।

      1. 7.2.1
        সাদাত

        @ফুয়াদ দীনহীন:
        কোন বিষয়ে পুরোপুরি অনুসন্ধান না করে একজনের বিরূদ্ধে এত কঠিন কথা কী করে বলছেন?
        নিচের হাদিসটি দেখুন:
        Narrated ‘Alqamah bin Wa’il Al-Kindi:
        From his father: “A women went out during the time of the Prophet () to go to Salat, but she was caught by a man and he had relations with her, so she screamed and he left. Then a man came across her and she said: ‘That man has done this and that to me’, then she came across a group of Emigrants (Muhajirin) and she said: ‘That man did this and that to me.’ They went to get the man she thought had relations with her, and they brought him to her. She said: ‘Yes, that’s him.’ So they brought him to the Messenger of Allah (), and when he ordered that he be stoned, the man who had relations with her, said: ‘O Messenger of Allah, I am the one who had relations with her.’ So he said to her: ‘Go, for Allah has forgiven you.’ Then he said some nice words to the man (who was brought). And he said to the man who had relations with her: ‘Stone him.’ Then he said: ‘He has repented a repentance that, if the inhabitants of Al-Madinah had repented with, it would have been accepted from them.'”
        Reference : Jami` at-Tirmidhi 1454

        http://sunnah.com/tirmidhi/17/37

        এই হাদিসের ভিত্তিতে এন্টাইভণ্ড এভাবে বলতেই পারেন, যদিও পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের জন্য ১/২টা হাদিসই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো কুরআন এবং পুরো সুন্নাহকে বিবেচনায় আনতে হবে।

        যা হোক এই পোস্ট ধর্ষণ নিয়ে নয়। ভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা না গড়ালে খুশি হবো।

        1. 7.2.1.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। খুব সম্ভবত এ ব্যাপারে আমি অন্য কোন হাদিস পড়েছিলাম। দুইটার মধ্যে আমি কনফিউশন ঘটিয়েছি। আমি দুঃখিত। 

  20. 6
    আহমেদ শরীফ

    চলুক।
    আপাততঃ গ্যালারিতে।

  21. 5
    সাদাত

    মুনিম ভাই,

    আপনার ৫টি প্রশ্নের জবাব দেব। ৬ নম্বরটির উত্তর দেবো না। কারণ রজম প্রমাণ করতে রহিত আয়াতের কোন প্রয়োজন আমার পড়বে না। তার আগে আপনি বলুনঃ
    সূরা আন নূর কবে অবতীর্ণ হয়েছে?
    ৪:২ তে বর্ণিত ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তি কি যে কোন প্রকারের ব্যভিচারির জন্যই প্রযোজ্য?

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      সূরা আন নূর কবে অবতীর্ণ হয়েছে?

       
      এই প্রশ্নটি তো আমি আপনাকে করেছিলাম! আপনি উত্তর না দিয়ে যে আমাকে পালটা প্রশ্ন করে বসলেন?
       

      আর আস সবাবে নজুলে তো পুরা সূরা নাজিলের উল্লেখ থাকেনা। কারণ তো জানেন যে এক সুরার সকল আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন থাকে। আলোচ্য আয়াতের নাজিলের সময় আমি পাইনাই। তাই তো আপনাকে প্রশ্ন করেছি।
      ৪:২ তে বর্ণিত ১০০ বেত্রাঘাতের শাস্তি কি যে কোন প্রকারের ব্যভিচারির জন্যই প্রযোজ্য?

       
      যেহেতু দাসী ছাড়া অন্য কোন আয়াত পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই ধরে নিতে পারি যে সব ধরণের ব্যভিচারের জন্যই প্রযোজ্য!
       
       

      1. 5.1.1
        সাদাত

        @মুনিম সিদ্দিকী:
        আমি বললে তো আপনি নাও মানতে পারেন।
        আমার মতে ৫ হিজরিতে।
        এখন আপনি বলেন কত হিজরিতে?

        1. 5.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          দলিল দেখান।

        2. সাদাত

          @মুনিম সিদ্দিকী:
          সময় বাঁচাবার জন্যই আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি যে আপনিই সূরা আন-নূর অবতরণের এই টাইম লাইনটা নির্ধারণ করুন।

          আমার মতের সাথে আপনার মতের খুব বেশি পার্থক্য না হলে আপনার মত বিনাতর্কে মেনে নিয়েই আমি যুক্তি দেবো।

          আর মতের পার্থক্য বেশি হলে, অবশ্যই আমি আমার দলিল পেশ করবো।

  22. 4
    এস. এম. রায়হান

    আমি আপাতত গ্যালারিতে বসলাম যেহেতু কোরআনের বাইরে ইসলামের অন্যান্য উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নাই।

  23. 3
    সাদাত

    মুনিম ভাই,

    আপনার এখনকার কমেন্টগুলোর সবগুলো দিক নিয়ে আমি ঘাটাচ্ছি না, তবে এই কমেন্টগুলো সংরক্ষিত থেকে যাচ্ছে, দেখবেন ভবিষ্যতে যেন নিজের বক্তব্য নিজের সাথই কন্ট্রাডিকট না করে।

    আপনি একজন সাহাবীর নামও উল্লেখ করতে পারলেন না যিনি রজম অস্বীকার করতেন। আপনার কথা অনুযায়ী কয়েক লক্ষ সাহাবীর সকলই ভুলের ওপরে ছিলেন বা অন্ত:তপক্ষে ভুলকে মেনে নিয়ে ছিলেন। হদের ব্যাপারে কোন ইজতেহাদ চলে না, নবীও করতে পারেন না, সাহাবীরও না,আমরও না।

    কুরআনে বর্ণিত আদেশকে অস্বীকার করলে কউ মুসলিম বা ঈমানদার থাকে না। ১.৩.১এর ব্যাপারে আপনি যেভাবে কুরআনের আয়াত পেশ করলেন সে পদ্ধতিতে যে কউ কুরআনকে নিজ মতের অনুকূলে নিতে পারবে।

    যাক আমার যা বুঝার বুঝে গেছি, আপাতত একজন কুরআন-অনলি চিন্তা করে আমাকে দলিল দিতে হবে।

    আমি পরে আসছি।

  24. 2
    শামস

    এ ব্যাপারে আমার জ্ঞান খুব কম, তবে আলোচনা উপভোগ করছি।
    আলোচনার পর যেসব সিদ্ধান্ত আসে সেগুলো পোস্টে বিস্তারিতভাবে সাজাতে পারেন। এতে অনেকের বুঝতে সুবিধা হবে।
    ধন্যবাদ।
     

  25. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    ১. রজম সম্পর্কে আপনার বিশ্বাস বা জ্ঞান কী?

     
    জ্ঞান নাই তাই তো জানার ইচ্ছা নিয়ে এখানে ওখানে খুজে ফিরছি।
     

    ক. এটি আল্লাহর আইন নয়, কখনো ছিলও না।

    না। সে ভাবে বলার মত কোন দলিল পাইনি।
     

    খ. তাওরাতে এটি আল্লাহর আইন ছিল, তবে কুরআনে তা রহিত হয়ে গেছে।

    দলিলে দেখতে পাই তাওরাতে ছিল কিন্তু ইহুদীরা তা পালন করতনা। রাসুল সাঃ তার পুনঃ প্রচলন করেছিলেন। কোরআনে ছিল কি না তা তো জানতে পারলাম না তাহলে কেমন করে বলব তা রহিত হয়ে গেছে! যে সন্তাদের জন্মাতে দেখিনি, সেখানে কমেন করে ছেলের আকিকা হয়েছে কিনা তাঁর জবাব দেব?
     

    গ. ইসলামের প্রথম যুগে রজম প্রচলিত ছিল, পরে তা রহিত হয়ে গেছে।

    দলিল পত্র থেকে তাই তো অনুমান করা যায়।

    ঘ. অন্য কিছু হলে সংক্ষেপে বলুন।

    যেহেতু এইটি একটি  জীবন বিনাশী শাস্তি তাই এই শাস্তির কথা কোরআনে থাকতে হবে। মানুষ খুন করার মত অপরাধের শাস্তি অপরাধীকে খুন করার আদেশ থাকলেও বিকল্প রক্তপণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী আবেগে পড়ে দুইটি মানুষের মধ্যে যৌন ক্রিয়া সম্পন্নের অপরাধে তাকে প্রাণ নাশের শাস্তি আবার এক কূপে কল্লা ফেলা নয় । তিলে তিলে পাথর ছূড়ে ক্ষত বিক্ষত করে হত্যা করা এবং এই অপরাধের জন্য রক্তপনের মত বিকল্প কিছু না থাকাকে ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই মনে হচ্ছেনা।
     

    1. 1.1
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:
      ধন্যবাদ আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য। আপনি যেহেতু স্বীকার করেছেন রজম সম্পর্কে আপনার তেমন জ্ঞান নেই, কাজেই যতক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞান লাভ না করছেন ততক্ষণ আশা করবো এই বিধান সম্পর্কে নেতিবাচক কোন কথা বলবেন না।
      প্রথমে কয়েকটি পয়েন্ট বলে রাখি:
      ০.১ যিনা করলেই রজম প্রযোজ্য হয় না।  বিবাহিত মুসলিমের জন্যই কেবল রজমের শাস্তি। তাও অনেক – অনেক -- অনেক গুলো শর্ত পূরণ হলেই (যেগুলো পূরণ হওয়া বাস্তবে প্রায় অসম্ভব) কেবল রজম প্রযুক্ত হতে পারে। অবিবাহিতের জন্য রজমের বিধান নেই, অবিবাহিতের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত যেটা সূরা নূরে বলা হয়েছে।
      ০.২ আপনি যে সমাজে বসে রজম নিয়ে চিন্তা করছেন, রজম সেই সেই সমাজের শাস্তি নয় যেখানে যত্র তত্র যিনা হচ্ছে, আর যে সমাজ যিনার উপকরণে সয়লাব হয়ে রয়েছে। বরং রজম একটি পবিত্র সমাজের পবিত্র মানুষদের জন্য শাস্তি, যে সমাজে যিনা এত জঘন্য অপরাধ যে এমনকি একজন যিনাকারিও যিনাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে, এবং এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে নিজ ইচ্ছায় রজমের শাস্তিকে মাথা পেতে মেনে নেয়।
      এবার মূল আলোচনায় আসি।
      ১.১ আপনি স্বীকার করেছেন, তাওরাতে রজমের বিধান ছিল। তাওরাতের বিধানও তো আল্লাহর বিধানই ছিল। আল্লাহর কোন বিধান তা তাওরাতে থাক আর কুরআনেই থাক, (রহিত হোক বা না হোক), তা কি ইসলামের ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে?
      ১.২ দলিলপত্র দেখে আপনার মনে হয়েছে রজমের বিধান ইসলামের প্রথম যুগে ছিল, পরে রহিত হয়ে গেছে।  প্রশ্ন:
      ১.২.১ আপনি কি খুলাফায়ে রাশেদিনের জামানায় রজম চালু থাকার কোন দলিল পান না?
      ১.২.২ রহিত হবার আগ পর্যন্ত রজমের প্রয়োগ কি ইসলামের ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ছিল?
      ১.৩ আপনি বলেছেন, “যেহেতু এইটি একটি  জীবন বিনাশী শাস্তি তাই এই শাস্তির কথা কোরআনে থাকতে হবে। ”
      প্রশ্ন:
      ১.৩.১ এই যে শর্ত আপনি আরোপ করছেন -জীবন বিনাশী শাস্তির কথা কুরআনে থাকতে হবে, এই শর্তের দলিল কী? এই শর্ত আপনি কোথা থেকে পেলেন?

      1. 1.1.1
        আহমেদ শরীফ

        ০.২ আপনি যে সমাজে বসে রজম নিয়ে চিন্তা করছেন, রজম সেই সেই সমাজের শাস্তি নয় যেখানে যত্র তত্র যিনা হচ্ছে, আর যে সমাজ যিনার উপকরণে সয়লাব হয়ে রয়েছে। বরং রজম একটি পবিত্র সমাজের পবিত্র মানুষদের জন্য শাস্তি, যে সমাজে যিনা এত জঘন্য অপরাধ যে এমনকি একজন যিনাকারিও যিনাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে, এবং এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে নিজ ইচ্ছায় রজমের শাস্তিকে মাথা পেতে মেনে নেয়।

         
        সাহাবা(রাঃ) এর জিন্দেগী দেখলে এই ব্যাপারটাই প্রতীয়মান হয়।

      2. 1.1.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        ১.১ আপনি স্বীকার করেছেন, তাওরাতে রজমের বিধান ছিল। তাওরাতের বিধানও তো আল্লাহর বিধানই ছিল। আল্লাহর কোন বিধান তা তাওরাতে থাক আর কুরআনেই থাক, (রহিত হোক বা না হোক), তা কি ইসলামের ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে?

         
        ন্যায় অন্যায় পরিমাণ করা আপেক্ষিক। তবে সিরাত থেকে জানতে পেরেছি যে, এক ইহুদী পুরুষ আর নারী যিনা করার পর তাদেরকে রাসুল সাঃ এর কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁর প্রতিকার করতে। রাসুল সাঃ তখন জানতে চান তাদের কিতাবে কি শাস্তি লিখা আছে, তারপর তিনি সেই কিতাবে যে শাস্তি লিখা ছিল সে শাস্তি তিনি বহাল করেন। এবং তিনি বলেছিলেন যে, আল্লাহর হারানো বিধানকে তিনি পুনঃ জীবিত করলেন। এই ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, এই ধরণের শাস্তি দেয়ার নির্দেশ তিনি ওহি মারফত লাভ করেন নাই। তিনি শুধু ইহুদীদের কিতাবে যা আছে সেটি ই ইমপ্লিমেন্ট করেছিলেন তা উনার ইজমার মাধ্যমে।
        মুসা  আঃ এর শরীয়তের পর আসে ইসা আঃ এর শরীয়ত এখন যদি আমরা ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হয় তাহলে তো ইসা আঃ এর শরীয়তকেই অনুসরণ করা দরকার ছিল। এখন একজন মুসলিম হিসাবে রাসুল সাঃ যে শাস্তি ইমপ্লিমেন্ট করেছিলেন তাকে অন্যায় বলতে পারিনা।

        ১.২.১ আপনি কি খুলাফায়ে রাশেদিনের জামানায় রজম চালু থাকার কোন দলিল পান না?

        চালু ছিল। কিন্তু সেই সময়ে সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে এই নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু যেহেতু খলিফার মত ছিল চুড়ান্তঁ তাই মেনে নিতে হয়েছিল।

        ১.২.২ রহিত হবার আগ পর্যন্ত রজমের প্রয়োগ কি ইসলামের ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ছিল?

        আইন নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। আর আমার কাজে মনে হয়েছে সেটি আল্লাহর কাছ থেকে ওহি মারফত নির্দেশ আসে নাই। সেটি ছিল রাসুল সাঃ এর ইজমা নির্ভর। তাই তো কোরাআনে সে ধরণের শাস্তির কথা উল্লেখ করে আয়াত নেই। আর যদি ধরে নেই যে আয়াত ছিল। তারপর যখন আল্লাহর সে আয়াত মুহাম্মদ সাঃ রহিত করে গিয়েছেন তাঁর মানে সে শাস্তির নির্দেশও রহিত বলে ধরে নিতে হবে। যেহেতু আমরা কোরআনে নির্দেশ পাই কোন এক আয়াত আল্লাহ সরিয়ে নিলে তাঁর বদলে অন্য আয়াত তিনি দান করবেন। কাজেই এখন এই অপরাধের শাস্তির জন্য অন্য যে আয়াত পাচ্ছি আমরা সেগুলোকেই ধরে নিচ্ছি আল্লাহর প্রতিশ্রুত সেই বদল আয়াত।

        ১.৩.১ এই যে শর্ত আপনি আরোপ করছেন -জীবন বিনাশী শাস্তির কথা কুরআনে থাকতে হবে, এই শর্তের দলিল কী? এই শর্ত আপনি কোথা থেকে পেলেন?

        দলিল তো খোদ কোরআন। বিভিন্ন অপরাধের জন্য জীবন বিনাশী শাস্তির বিধান কোরআনে উল্লেখ আছে তাই এই বিষয়েও থাকা দরকার। জীবন আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই একমাত্র মালিক জীবন নেয়ার দণ্ডদান করার।

        1. 1.1.2.1
          সাদাত

          ১.৩.১ এ আমি দলিল চেয়েছি (টেক্সট – স্পেসিফিক আয়াত বা হাদিস), কোন উপলদ্ধিগত বক্তব্য নয়। কুরআন তো আমাদেরকে রাসূলের ফায়সালা মানবারও নির্দেশ দিয়েছে। তবে কেন কোন নির্দিষ্ট বিধানকে কুরআনেই থাকতে হবে? কুরআন বা হাদিসের কোথায় বলা আছে যে কুরআনে না থাকলে সেটা আল্লাহর বিধান হবে না? [এটা তো সুস্পষ্ট কুরআন-অনলি ফিরকার দাবি।]
          নোট-১: আপনি এখানে কয়েকবার ‘ইজমা’ শব্দ (ভুলভাবে) ব্যবহার করেছেন, সম্ভবত আপনি ‘ইজতিহাদ’ বুঝাতে চাচ্ছিলেন।

          প্রথম কমেন্টে আপনি বলেছিলেন:
          “তিলে তিলে পাথর ছূড়ে ক্ষত বিক্ষত করে হত্যা করা এবং এই অপরাধের জন্য রক্তপনের মত বিকল্প কিছু না থাকাকে ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই মনে হচ্ছেনা।”

          আপনার এই কমেন্ট থেকে আপনার যে উপলদ্ধি জানতে পারলাম তা হলো:
          ২.১ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহি মারফত রজম প্রয়োগের নির্দেশ পান নাই। তিনি ইজতিহাদের মাধ্যমে ইহুদিদের কিতাব অনুযায়ী রজম প্রয়োগ করেছিলেন।
          ২.২ খুলাফায়ে রাশেদিনের জামানায় রজম চালু ছিল। কিন্তু সেই সময়ে সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে এই নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু যেহেতু খলিফার মত ছিল চুড়ান্তঁ তাই মেনে নিতে হয়েছিল।
          প্রশ্ন:
          ২.২.১ তার মানে আপনার মতে খুলাফায়ে রাশেদিন ‘আল্লাহর আইন’কে উপেক্ষা করে “ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই” নয় এমন একটি বিধান জারি রেখেছিলেন?
          ২.২.২ সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে খুলাফায়ে রাশেদিন বা সৎপথপ্রাপ্ত খলিফা না বলে বিপথগামী খলিফা বলাটাই কি শ্রেয় নয়?
          ২.২.৩ কোন সাধারণ ঈমানদারও আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করে ““ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই” নয় এরূপ ভিন্ন কোন বিধান জারি করতে পারে না। আর কেউ যদি তা করে থাকে, সে কি আর মুসলিম বা ঈমানদার থাকতে পারে?
          ২.২.৪ অন্যান্য সাহাবারা নিশ্চুপভাবে খলিফাদের মত মেনে নিলেন কিভাবে? আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করে মানব আইন জারি করা হচ্ছে অথচ সাহাবা(রা.) নিশ্চুপ বসে থাকলেন? মোহরানা কম ধার্য করার ব্যাপারে ওমর(রা.) নির্দেশ দিলে এক সাধারণ মহিলাকেও তার প্রতিবাদ করতে দেখি, আর এত বড় একটা বিষয়ে এতগুলো সাহাবী কেউ একটুও প্রতিবাদ করলেন না, এমন খলিফার আনুগত্য তারা কিভাবে করলেন যিনি আল্লাহর বিধানের আনুগত্য ছেড়ে দিয়েছেন? তবে কি সাহাবাদের ঈমান এতটাই দুর্বল ছিল?
          ২.২.৫ কোন্ কোন্ সাহাবী রজমকে অস্বীকার করতেন? (৩/৪টা দলিল দেন)

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          ১.৩.১ এই যে শর্ত আপনি আরোপ করছেন -জীবন বিনাশী শাস্তির কথা কুরআনে থাকতে হবে, এই শর্তের দলিল কী? এই শর্ত আপনি কোথা থেকে পেলেন?
          নিচের আয়াত গুলো লক্ষ্য করেন দেখুন তো আয়াত গুলো আমাদেরকে কি নির্দেশ দিচ্ছে!!!!
          ১৮-৫৪। মানুষের উপকারের জন্য, এই কুরআনে আমি উপমার সাহায্যে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি।
          ৬-৩৮।  কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দিই নাই;
          ৪-৮২। তারা কি কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা করে না ? ইহা যদি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও নিকট থেকে অবতীর্ণ হতো তবে তারা এর মাঝে অনেক অসামঞ্জস্য দেখতে পেতো ।
          ৬-১১৫।  সত্য ও ন্যায়ের দ্বারা তোমার প্রভুর বাণী পরিপূর্ণতা লাভ করে। কেউ তার বাণী পরিবর্তন করতে পারে না। একমাত্র তিনিই সব শোনেন এবং জানেন।
          ১.৩.১ এ আমি দলিল চেয়েছি (টেক্সট – স্পেসিফিক আয়াত বা হাদিস), কোন উপলদ্ধিগত বক্তব্য নয়।
          আশাকরি এবার পেয়েছেন।
          কুরআন তো আমাদেরকে রাসূলের ফায়সালা মানবারও নির্দেশ দিয়েছে। তবে কেন কোন নির্দিষ্ট বিধানকে কুরআনেই থাকতে হবে? কুরআন বা হাদিসের কোথায় বলা আছে যে কুরআনে না থাকলে সেটা আল্লাহর বিধান হবে না? [এটা তো সুস্পষ্ট কুরআন-অনলি ফিরকার দাবি।]
          ১।কোরআনের আল্লাহ রাসুল সাঃকে মানার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা ঠিক কিন্তু হাদিসে এমন কিছু করার নির্দেশ থাকলে যা কোরআনের আয়াতের উলটা বা বহির্ভুত হলে  তা নিশ্চয় করে দাবী করা যেতে পারে যে তা রাসুল সাঃ এর নির্দেশ নয়। কারণ তিনি এমন কোন নির্দেশ দিতে পারেন না।
          ২। আর সুন্নাহ যদি আল কোরআনের নির্দেশনার মত প্রধান নির্দেশক হত বা অবশ্য পালনীয় হত তাহলে অবশ্য তা সংরক্ষণ, সংকলন, সম্প্রচারণ আল কোরআনের সংরক্ষণ, সংকলন এবং সম্প্রচারের মত করতে হত। কিন্তু এই বিষয়ে না আছে কোরআনে, না রাসুল সাঃ নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, না খালিফা রাশিদুনগণ তা সংরক্ষণ, সংকলন, সম্প্রচার করে ছিলেন। কাজেই  উপরে দুই যুক্তির আলোকে বুঝা যায় রাসুল সাঃকে মানা বলতে কোরআনের নির্দেশ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

          ২.২.১ তার মানে আপনার মতে খুলাফায়ে রাশেদিন ‘আল্লাহর আইন’কে উপেক্ষা করে “ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই” নয় এমন একটি বিধান জারি রেখেছিলেন?
          দেখুন আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নির্ভুল ছিলেন না। রাসুল সাঃ এর কাছে যেহেতু অহি আসত তাই রাসুল সাঃ কখনও ভুল করে বসলে আল্লাহ পাক ওহির সাহায্যে তা সাথে সাথে সংশোধণ করে দিতেন। কিন্তু খলিফারা এই সুযোগ লাভ করতে পারেন নাই। কাজেই মানবীয় সত্ত্বার অধিকারী হওয়ায় কোথাও কোথাও এরর হয়ে থাকতে পারে। কারণ রাসুল সাঃ এর সাথে খালিফারা যখন উঠাবস করেছিলেন তখন তাদের কত ভুলকে রাসুল সাঃ সংশোধণ করে দিয়েছিলেন। এবং এর থেকে প্রমাণিত হয় যে তারাও মানবিক দুর্বলতার উর্দ্ধে ছিলেন না।  তাছাড়া কোরআন ব্যাখ্যার দিক থেকে দেখলে দেখা যায় যে বিভিন্ন বিষয়ে উমরা রাঃ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা অনেক কঠোর ছিল। আবার সেই আয়াত যখন আব্বাস রাঃ ব্যাখ্যা করেছেন তা তত কঠোর ছিলনা। আমি উমর রাঃ অন্যায় করেছিলেন বলে দাবী করছিনা। আমার সে ক্ষমতা নাই। তবে আমার মনে সন্দেহ হয় যে রাসুল সাঃ এবং উমর রাঃ এর মধ্য রজম নিয়ে কোথাও হয়ত গ্যাপ থেকে গিয়েছিল।

          ২.২.২ সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে খুলাফায়ে রাশেদিন বা সৎপথপ্রাপ্ত খলিফা না বলে বিপথগামী খলিফা বলাটাই কি শ্রেয় নয়?
          এই ভাবে প্রশ্ন করে আপনি চিন্তার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন না তো?  আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, এই ভাবে তাদেরকে আমি বলতে পারিনা। আল্লাহর ইচ্ছাতে তারা রাসুল সাঃ এর পরবর্তিতে ইসলামের হাল ধরেছিলেন। কাজেই তারা বিপথগামী হতে পারেন না। তবে মানুষ হিসাবে বিচার বিবেচনায় কোন ভুলতো হতে পারে। তবে বড় কথা যেটি সেটি হচ্ছে- উনারদের সময়ে যা ভাল মনে করেছেন তা উনারা করে গেছেন। এখন আমাদের সময় আমরা যেটি ভাল মনে করব তা করে যাওয়া কি ভুল হবে?

          ২.২.৩ কোন সাধারণ ঈমানদারও আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করে ““ইসলামের ন্যায় বিচারের সাথে মানান সই” নয় এরূপ ভিন্ন কোন বিধান জারি করতে পারে না। আর কেউ যদি তা করে থাকে, সে কি আর মুসলিম বা ঈমানদার থাকতে পারে?
          আপনি নিশ্চয় জানেন যে ইজতেহাদকারী ইজতেহাদ ভুল হলেও তাঁর দোষ হবেনা। কাজেই এখানে  ঈমান না থাকার কোন প্রশ্ন আসে কি করে?

          ২.২.৪ অন্যান্য সাহাবারা নিশ্চুপভাবে খলিফাদের মত মেনে নিলেন কিভাবে? আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করে মানব আইন জারি করা হচ্ছে অথচ সাহাবা(রা.) নিশ্চুপ বসে থাকলেন? মোহরানা কম ধার্য করার ব্যাপারে ওমর(রা.) নির্দেশ দিলে এক সাধারণ মহিলাকেও তার প্রতিবাদ করতে দেখি, আর এত বড় একটা বিষয়ে এতগুলো সাহাবী কেউ একটুও প্রতিবাদ করলেন না, এমন খলিফার আনুগত্য তারা কিভাবে করলেন যিনি আল্লাহর বিধানের আনুগত্য ছেড়ে দিয়েছেন? তবে কি সাহাবাদের ঈমান এতটাই দুর্বল ছিল?
          এই মত তো আর ঈমান সংক্রান্ত ছিলনা। ইমান আর আকিদা সংক্রান্ত হলেই তা প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করতে নির্দেশ দেয়া আছে। নতুবা ইমামের বিরুদ্ধাচরণ করতে নিশেষ করা আছে। কাজেই যিনাকারীর শাস্তি যতই কঠোর হোক তা ঈমান আকিদার সাথে দ্বান্ধিক ছিলনা। তাই অন্যান্যরা তা মেনে নিয়েছিলেন।

          ২.২.৫ কোন্ কোন্ সাহাবী রজমকে অস্বীকার করতেন? (৩/৪টা দলিল দেন)
          অস্বীকার নয় তারা যে প্রশ্ন তোলে ছিলেন তা তো উমর রাঃ বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যাচ্ছে, উমর রাঃ নিশ্চয় উনার সময়ে উনার আশেপাশে যে সকল সাহাবী কেরাম ছিলেন তাদের কথাই উল্লেখ করেছিলেন নয়?
          এবার আমি আপনার কাছে প্রশ্ন করছি-
          ১। রাসুল সাঃ দ্বারা মোট কতটি  রজম এর শাস্তি দেয়া হয়েছিল?
          ২। এই শাস্তি দেয়ার টাইম লাইন বলুন?
          ৩। সূরা আন নুরের ২ নং আয়াতের টাইম লাইন বলুন? তা কি রাসুল সাঃ কৃত রজমের শাস্তির আগে না পরে নাজিল হয়েছিল?
          ৪।
           ২৪-৪। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর যদি তারা অশ্লীলতা করে, তবে তাদের শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক।
          এখন প্রশ্ন হল বিবাহিতদের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদন্ড তাহলে দাসীদের জন্য তাঁর অর্ধেক শাস্তি বলতে কি বুঝান হচ্ছে?  মৃত্যুদন্ডের অর্ধেক শাস্তি কি?
          ৫।
           ২৪-৩। ব্যভিচারে অভিযুক্ত পুরুষকে একই পাপে অভিযুক্ত নারী অথবা মোশরেক নারী ব্যতীত অন্য নারীকে বিবাহ করতে দেয়া হবে না, অথবা ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচারি অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কেহ বিবাহ করবে না। বিশ্বাসীদের জন্য ইহা নিষিদ্ধ করা হয়েছে
           
          প্রশ্ন হচ্ছে যদি মৃত্যুদন্ড দেয়ার নির্দেশ থাকল তো মরার পর তাদের বিয়ের কথা কেমন করে আসছে?  আর মুসলিমদের  মুশরিক বিয়ে করার বৈধতা এই আয়াতে দেয়া হয়েছে?
          ৬।
           ১০-১৫ । বল: "ইহা বদলানোর কোন ক্ষমতা আমার নাই। আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয় তা ব্যতীত অন্য কিছু আমি অনুসরণ করি না। যদি আমি আমার প্রভুকে অমান্য করি, তবে আমি (অনাগত) মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি।
          ২:১০৬ "আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি
          উপরের ১০-১৫ আয়াতের উল্লেখ আছে যে রাসুল নিজ থেকে কোরআনের আয়াত বদল বা বাতিল করতে পারেন না। আর ২-১০৬ আয়াতে বলা হয়েছে যে আল্লাহ যদি কোন আয়াত বদল করে দেন তাহলে তাঁর বদলে নতুন আরেকটি আয়াত প্রতিস্থাপন করে দেন।  আচ্ছা কোরআনে কি আল্লাহ বলছেন যে আমি অমুক আয়াত বাতিল করে দিলাম?
           
           
           

Leave a Reply

Your email address will not be published.