«

»

Jan ৩০

বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কি কুরআন পরিপন্থী?

ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। [২৪:২]
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [২৪:৩]

এক.

অনেকেই বলে থাকেন, ২৪:২ আয়াতে যেহেতু সুনির্দিষ্ট করে কোন বিশেষ কোন প্রকারের ব্যভিচারির শাস্তির কথা বলা হয় নাই। কাজেই ২৪:২ আয়াতের শাস্তি সকল প্রকারের ব্যভিচারির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কাজেই বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কুরআন পরিপন্থী।

(যেহেতু প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত মত এটাই যে বিবাহিত ব্যভিচারির শাস্তি রজম বা প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করা এবং অবিবাহিত ব্যভিচারির শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত। তাই রজমকে চ্যালেঞ্জ করে) তারা এও বলে থাকেন যে, ৪:২৫  আয়াতে বলা আছে, বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক। রজমের অর্ধেক শাস্তি কিভাবে দেওয়া সম্ভব?

তাদের এই বক্তব্য হঠাৎ শুনে অনেকেই কনভিন্সড হতে পারেন। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই তাদের এই বক্তব্যের অন্তঃসারশূন্যতা দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে।

লক্ষ্য করুন, তাদের দাবি হচ্ছেঃ

১. ২৪:২ অনুসারে সকল প্রকার ব্যভিচারির শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।

২. ৪:২৫ অনুসারে বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক।

২৪:২ এ যেহেতু কোন সুনির্দিষ্ট বিশেষণ (বিবাহিত/অবিবাহিত/স্বাধীন/ক্রীতদাসি..) প্রয়োগ করা হয় নাই। তাই, এই আয়াত যদি সকল ব্যভিচারির জন্যই প্রযোজ্য হয়, তবে

বিবাহিত নারী ব্যভিচারির শাস্তি = অবিবাহিত নারী ব্যভিচারির শাস্তি = স্বাধীন নারী ব্যভিচারির শাস্তি = অবিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচারির শাস্তি = বিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচারির শাস্তি = ১০০ বেত্রাঘাত

কিন্তু ৪:২৫ অনুসারে উনারাই বলছেন-

বিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচারির শাস্তি = স্বাধীন নারী ব্যভিচারির শাস্তির অর্ধেক =(১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত

ফলে তাদের বক্তব্য আসলে কন্ট্রাডিকশনেই ঘুরপাক খায়।

 

দুই.

২.১

রজম অস্বীকারকারিরা আরো একটি চমৎকার যুক্তি দেন:

২৪:৩ এ বলা আছে, ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে। প্রস্তর বর্ষণে যদি হত্যাই করে ফেলা হয়, তবে বিয়ের কথা আসবে কেন?

এর উত্তরে সহজ ভাষায় বলা যায়,

রজম যারা স্বীকার করেন তারা তো আর একথা অস্বীকার করেন না যে, অবিবাহিত ব্যভিচারির শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত। রজম তো কেবল মাত্র বিবাহিতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তাও অনেক অনেক কঠিনতম শর্ত পূরণ হলে।

ফলে অবিবাহিত ব্যভিচারি বা বিবাহিত ব্যভিচারি- যাদের বিরূদ্ধে রজম প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়নি, তারা তো বেঁচেই থাকবে, আর বেঁচে থাকলে বিয়েও করবে।

কাজেই রজম অস্বীকারকারিদের এই যুক্তি মাঠেই মারা গেল।

২.২

মজার বিষয় হচ্ছে এই ২৪:৩ আয়াতটিই রজম অস্বীকারকারিদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। কেন? আসুন দেখা যাক।

ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। [২৪:২]

ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে। [২৪:৩]

[শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক অংশ নেওয়া হলো, আলোচনার সুবিধার জন্য।]

 

রজম অস্বীকারকারিগণ বলেন ২৪:২ আয়াতের শাস্তি সকল প্রকার ব্যভিচারির জন্যই প্রযোজ্য (বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত)। তাদের এই মত কিভাবে কন্ট্রাডিকশনে পতিত হয় তা আমরা একটু আগেই দেখেছি। এবার বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে।

রজমের পক্ষে যারা, তারা বলেন, ২৪:২ আয়াত সকল প্রকার ব্যভিচারির সাধারণ শাস্তি নয়। এই শাস্তি স্বাধীন অবিবাহিত ব্যভিচারির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, বিবাহিতের জন্য নয়। [এর পক্ষে হাদিস এবং তাফসিরের অগণিত দলিল আছে, সেদিকে আমরা যাচ্ছি না। কারো দেখবার ইচ্ছে হলে, দেখুন তাফসির ইবনে আব্বাস , তাফসির আল জালালাইন , তাফসির ইবনে কাছির ।]

২৪:২ আয়াতে ব্যভিচারি (আরবী “যানি”) এবং ব্যভিচারিণী( আরবী “যানিয়াহ”)-র শাস্তি বর্ণনা শেষ করেই পরের আয়াতে অর্থাৎ ২৪:৩ আয়াতে বলা হচ্ছে

“ব্যভিচারিণীকে(আরবী “যানিয়াহ”) কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে।”

ব্যভিচারিণী (আরবি “যানিয়াহ”) বলতে এই আয়াতে যদি সকল প্রকার ব্যভিচারিকেই বুঝানো হয়, এমনকি বিবাহিত ব্যভিচারিণীকেও বুঝানো হয়, তবে খুব সঙ্গত প্রশ্ন হচ্ছে, বিবাহিত ব্যভিচারি নারী আরেক জন পুরুষকে কিভাবে বিবাহ করে? সে তো বিবাহিত, আল্লাহপাক কিভাবে বিবাহিতকে বিবাহ করার কথা বলতে পারেন? কাজেই, ২৪:৩ আয়াতটিই বরং সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তার আগের আয়াতে যে শাস্তির আলোচনা হচ্ছিল সেটা বিবাহিতের শাস্তি নয়, অবিবাহিতের শাস্তি।

 

 তিন.

এখনো একটি প্রশ্ন থেকে গেল, না হয় রজম অস্বীকারকারিদের বক্তব্যগুলো কন্ট্রাডিকশনে ঘুরপাক খায়, কিন্তু ৪:২৫ এ বলা হয়েছে বিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচার করলে তার শাস্তি স্বাধীন নারীর শাস্তির অর্ধেক, রজমের অর্ধেক শাস্তি কিভাবে সম্ভব?- সেই উত্তর তো এখনো পাওয়া গেল না।

আসুন দেখা যাক কী বলা আছে ৪:২৫ আয়াতে-

আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন (الْمُحْصَنَاتِ) মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের (الْمُحْصَنَاتِ) অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [৪:২৫]

 

[বস্তুত এই আলোচনা অনেক জটিল, আমরা সহজ করে বুঝার চেষ্টা করবো, জটিলতায় না গিয়ে। কেউ জটিল আরোচনায় যেতে আগ্রহি হলে তখন বিবেচনা করা যাবে।]

বলা হচ্ছে:

বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি = ব্যভিচারি স্বাধীন (‘মুহছানাত’) নারীর শাস্তির অর্ধেক।

মুহছানাতের অনেক অর্থ হয়, তবে এই একই আয়াতে ‘স্বাধীন’ অর্থে মুহছানাতের ব্যবহার প্রথমেই এসেছে।

বলা হয়েছে:

আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন (الْمُحْصَنَاتِ/ মুহছানাত) মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে।

যেহেতু স্বাধীন অর্থে মুহছানাত শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে, আবার এই মুহছানাত বিবাহযোগ্য, মানে তাকে বিয়ে করা যেতে পারে সামর্থ্য থাকলে;

কাজেই সুস্পষ্টভাবেই,

এখানে স্বাধীন অর্থে সেই মুহছানাতকে বুঝাচ্ছে যে অবিবাহিত, না হলে তো বিবাহ করার বা না করার প্রশ্ন আসতো না।

সুতরাং,

বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি = ব্যভিচারি [অবিবাহিত] স্বাধীন (‘মুহছানাত’) নারীর শাস্তির অর্ধেক= (১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত।

[আগ্রহি পাঠক দেখুন, তাফসির ইবনে কাসির,  “The Slave Girl's Punishment for Adultery is Half that of a Free Unmarried Woman”]

      

কাজেই রজমের অর্ধেক শাস্তি কী- এ প্রশ্নই অবান্তর।  

 

শেষ কথাঃ

কাজেই আমরা দেখতে পেলাম কুরআনে বিবাহিত ব্যবিচারির জন্য রজমের শাস্তির উল্লেখ থাক বা না থাক, সেটা অন্তঃত কোনভাবেই কুরআন পরিপন্থী নয়।

৮৯ comments

Skip to comment form

  1. 32
    শাহীন

    সব অপরাধের শাস্তি এক ধরণের হতে হবে, বা সব অপরাধে একই বিষয় বিবেচনা করতে হবে, এমন কোন কথা আছে? কুরআনে চোরের হাত কাটার কথা আছে। সেখানে কি ক্রীতদাসির জন্য আলাদা কোন বিধান আছে? না নেই। তাহলে কি এই প্রশ্ন করা যাবে, ৪:২৫ আয়াতে যেসব ক্রীতদাসি বিবাহবন্ধনে আসার পর ব্যভিচার করে আলাদা শাস্তির বিধান কেন করা হলো? কথা হচ্ছিল কুরআনে কী কী উল্লেখ আছে তার ভিত্তিতে, কী উল্লেখ নেই তার ভিত্তিতে নয়। আর এক অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে কোন কিছুকে আমলে নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও নিতে হবে, বা এক অপরাধের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে আমলে না নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে না, এটা কুরআনের কোথায় বলা আছে? আর এই বক্তব্যের যৌক্তিকতাই বা কী?

  2. 31
    মোস্তফা

    স্ত্রী পরিকীয়ায় লিপ্ত । সম্প্রতি সে হাতেনাত প্রমাণিত ।
    সে স্বীকার করছে তার ভুল হয়েছে কিনা এর জন্যে সে অনুতপ্ত নয় ।
    এখন কি করবো? তার সাথে সংসার করা কি উচিত হবে । সে তো সংসার কে কনটিনিউ করতেও তেমন উদ্যোগী নয় ।
    কি করা উচিত ? দয়া করে জানাবেন । ।

    1. 31.1
      সাদাত

      মোস্তফা ভাই, এটা কোন ফতোয়ার সাইট না। ইংরেজি ও বাংলায় ফতোয়ার অনেক সাইট আছে। একটু সার্চ করলেই পাবেন। সেখানে খোঁজ করুন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় কোন বিজ্ঞ অভিজ্ঞ মুফতী সাহেবের সাথে সরাসরি দেখা করে জেনে নিলে।

  3. 30
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া কোরআনের বিধান ছাড়া আর কাউকে হত্যা করা যাবে না। কোরআনে যেহেতু পাথর মারার কথা নাই তাইলে আমরা কেন বিবাহিত ব্যভিচারকারীকে পাথর মারব ?

    1. 30.1
      সাদাত

      ১. শরঈ বিধান আহরণ করার ক্ষেত্রে আপনি কোন নীতিমালার অনুসরণ করেন?

      ২. “কুরআনের বিধান” বলতে কি শুধু কুরআনে উল্লেখ আছে এমন বিধানকেই বুঝে থাকেন?

      ৩. শুধু হত্যার ক্ষেত্রেই “কুরআনের বিধান” ছাড়া অন্য কিছু প্রযোজ্য হবে না, না-কি যে কোন ক্ষেত্রেই?

      ৪. কোন কিছুর কথা কুরআনে না থাকলে, তা কি করা যাবে না?

  4. 29
    অজয় রাউত

     যাবাব্বা, বাংলাদেসে কি শরিয়ত আইন চলছে।

  5. 28
    সাদাত

    বিজ্ঞপ্তি:
    আমি কয়েকদিন একটু নেটের বাইরে থাকবো বা থাকতে পারি। আলোচনা চলতে থাক। আমি এসে ইনশাআল্লাহ আবার অংশ নেবো। 

    1. 28.1
      সাদাত

      আলোচনা দেখি সেখানেই থেমে আছে!

  6. 27
    সাদাত

    রায়হান ভাই,
    ২৩.১.১ এ আমি বলেছি "কিন্তু এই বিতর্কে আমার মনে হয়েছে আপনি বারবার পজিশন চেঞ্জ করছেন, (হয়তো এমনও হতে পারে আপনার পজিশন কী সেটা আমি সঠিকভাবে বুঝি নাই) "- সে প্রেক্ষিতে আপনি জানতে চেয়েছেন কোথায় আপনি পজিশন চেঞ্জ করেছেন। উত্তরটা এরকম এটা আমার মনে হয়েছে, (হয়তো এমনও হতে পারে আপনার পজিশন কী সেটা আমি সঠিকভাবে বুঝি নাই):
    *****************************************************************
    প্রথম পজিশন:

    “রজম: একটি আলোচনামূলক পোস্ট”(http://www.shodalap.org/bngsadat/17663)-এর ২৪ নং কমেন্টে আপনি বলেছেন:

    ৪:২ আয়াতে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তিকে [১০০ বেত্রাঘাত, মৃত্যদণ্ড নয়] সকল প্রকার ব্যভিচারের ক্ষেত্রে ধরে নিলে কোরআনের আলোকে সমস্যা কোথায় তা জানতে চাই। এই আয়াতে তো নির্দিষ্ট কোনো ব্যভিচারের কথা উল্লেখ নাই, এটি একটি জেনারেলাইজড আয়াত।

    আমার উত্তর ছিল:

    ৪:২ নয় ২৪:২।
    উত্তরটা এখানে খুঁজুন। (http://www.shodalap.org/bngsadat/17778)

    আপনি এখানে বলেছেন,
    “৪:২ (আসলে ২৪:২) আয়াতে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তিকে [১০০ বেত্রাঘাত, মৃত্যদণ্ড নয়] সকল প্রকার ব্যভিচারের ক্ষেত্রে ধরে” নিতে
    কারণ বলেছেন “এই আয়াতে তো নির্দিষ্ট কোনো ব্যভিচারের কথা উল্লেখ নাই, এটি একটি জেনারেলাইজড আয়াত।”
     
    এখান থেকে আমার উপলদ্ধি হয়েছ:
    আপনি ২৪:২ আয়াতের ১০০ বেত্রাঘাতকে ব্যাখ্যাতীতভাবে সকল প্রকার ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি মনে করেন। ব্যভিচারের জন্য অন্য কোন শাস্তিকে আপনি কুরআন পরিপন্থী মনে করেন। আমার বিরোধিতা এই পয়েন্টে।
    ********************************************************************
     
    ২য় পজিশন:

    এরপর যখন আমি “বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কি কুরআন পরিপন্থী” তথা এই পোস্ট দিয়ে দেখালাম, কুরআনেই ব্যভিচারের জন্য ভিন্ন শাস্তিও আছে, তখন আপনি বললেন (৮ নম্বর কমেন্টে):

    আপনি যেভাবে ২৪:২ ও ৪:২৫ এর উদাহরণ দিয়ে কন্ট্রাডিকশন দেখাতে চেয়েছেন সেটিকে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কোরআনে কিছু কিছু বিষয়ে যেমন জেনারেলাইজড বক্তব্য আছে তেমনি আবার একই বিষয়ে স্পেসিফিক বক্তব্যও আছে। একই বিষয়ে এই ধরণের জেনারেলাইজড ও স্পেসিফিক বক্তব্যের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে কিছু জাস্টিফাই করতে গেলে সমস্যা আছে।
     
    ২৪:২ একটি জেনারেলাইজড আয়াত যেখানে ব্যভিচারের জন্য শাস্তির কথা লিখা আছে, তবে কোন ধরণের ব্যভিচার তা উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।
     
    দুটি আয়াতকে যদি পাশাপাশি রেখে বিবেচনা করা হয় তাহলে,
     
    ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।
     
    ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
     
    উল্লেখ্য যে, এর দ্বারা এও প্রমাণ হচ্ছে যে, ইসলাম ক্রীতদাসিদের প্রতি বেশী মানবিক।
     
    নোট- কোরআনে কি 'ক্রীতদাসি' বলে কোনো শব্দ আছে? নাকি এটি 'যুদ্ধবন্দী নারী' হবে?

     
    [নোট: আমি বারবার বলার পরও আপনি অনেক জায়গাতেই বলেছেন আমি নাকি কুরআনে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে হাদিসে বা রজমের দ্বারা সমাধান খুঁজেছি, এগুলো আপনার ধারণা মাত্র। বরং কুরআনকে সুন্নাহ অনুসারে ব্যাখ্যা না করে নিজ বুদ্ধি অনুসারে ব্যখ্যা করলে কী ধরণের কন্ট্রাডিকশন সৃষ্টি হয় সেটাই আমি দেখাতে চেয়েছি।]

    এখানে আমার উপলদ্ধি হয়েছে:
    আপনি আগের পজিশনে যেমন ২৪:২ এর শাস্তিকে ব্যাখ্যাতীতভাবে সকল ব্যভিচারের শাস্তি মনে করছিলেন, সেখান থেকে সরে আসলেন। হয়ত ৪:২৫ আয়াতটি তখনও আপনি আমলে আনেননি।  এবার ৪:২৫ আয়াতটি আমলে নিয়ে দুটো আয়াতকে পাশাপাশি রেখে আপনি দুইটি পয়েন্টে আপনার সিদ্ধান্ত দিলেন। আমি ধরে নিলাম এটা আপনার ফাইনাল পজিশন, এখান থেকে আর নড়বেন না। যদিও আপনার এই সিদ্ধান্ত কিছুটা অশুদ্ধ ছিল। আপনি নিজেই বললেন, “অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।” , অথচ সিদ্ধান্ত দেবার সময় সুবিধাজনকভাবে ‘বিবাহিত’ কথাটি বেমালুম ভুলে গেলেন যেন সেটা আমলে নেবার মতোই কিছু নয়। যা হোক পুরো কমেন্টের উত্তর দেবার আগে আপনাকে ছোট ছোট কয়েকটা প্রশ্ন করেছিলাম:

    সাদাত (৮.২):

    তাহলে ক্রীতদাস ব্যভিচার করলে কী শাস্তি হবে?

    এস.এম.রায়হান (৮.২.১):

    ৪:২৫ আয়াতে যদি নির্দিষ্ট করে ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা থাকে তাহলে ব্যভিচারি ক্রীতদাসের শাস্তি ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তির মধ্যে যুক্ত করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নাকি ভুল কিছু বললাম।

    সাদাত (৮.২.১.১): আপনার যুক্তি অনুসারে,

    ৪:২৫ আয়াতে যদি নির্দিষ্ট করে [বিবাহিত] ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা থাকে তাহলে [অবিবাহিত] ব্যভিচারি [ক্রীতদাসির] শাস্তি ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তির মধ্যে যুক্ত করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

    এরপর দেখা যাক আপনার ৮ নম্বর কমেন্টের উত্তর ৮.৪ নং কমেন্টে আমি কী দিয়েছিলাম:
    এস.এম. রায়হান (৮):

    আপনি যেভাবে ২৪:২ ও ৪:২৫ এর উদাহরণ দিয়ে কন্ট্রাডিকশন দেখাতে চেয়েছেন সেটিকে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কোরআনে কিছু কিছু বিষয়ে যেমন জেনারেলাইজড বক্তব্য আছে তেমনি আবার একই বিষয়ে স্পেসিফিক বক্তব্যও আছে। একই বিষয়ে এই ধরণের জেনারেলাইজড ও স্পেসিফিক বক্তব্যের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে কিছু জাস্টিফাই করতে গেলে সমস্যা আছে।

    সাদাত (৮.৪):

    তাহলে এই বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করতে পারি যে, কুরআনের কোন জেনারালাইজড স্টেটমেন্টও ব্যাখ্যাতীত নয়, তাকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে। আর এই ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখেন তিনিই, যার ওপর এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

    এস.এম.রায়হান(৮):
    ২৪:২ একটি জেনারেলাইজড আয়াত যেখানে ব্যভিচারের জন্য শাস্তির কথা লিখা আছে, তবে কোন ধরণের ব্যভিচার তা উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।
    সাদাত(৮.৪):

    জ্বি খুব ভালো করে মনে রাখুন, শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসি, ক্রীতদাস বা অবিবাহিত ক্রীতদাসি নয়। (আপনার যুক্তি অনুযায়ী)

    এস.এম.রায়হান(৮):

    দুটি আয়াতকে যদি পাশাপাশি রেখে বিবেচনা করা হয় তাহলে,
     
    ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।
     
    ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    সাদাত( ৮.৪):

    একটু যে ভুল হয়ে গেল, একটু আগেই বলেছেন শুধু বিবাহিত ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
     
    ফলে আপনার সিদ্ধান্তের শুদ্ধরূপ হওয়া উচিত:
    ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র বিবাহিত ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।
    ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র বিবাহিত ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
     
    তার মানে আপনার সিদ্ধান্ত অনুসারে,
    অবিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসি ব্যতিক্রমের আওতামুক্ত, ফলে তার শাস্তি কিন্তু জেনারালাইজড শাস্তি।
    কাজেই,
    ১ অনুসারে অবিবাহিত ক্রীতদাসির শাস্তি = ১০০ বেত্রাঘাত
    ২ অনুসারে বিবাহিত ক্রীতদাসির শাস্তি = (১০০/২) = ৫০ বেত্রাঘাত
     
    বিবাহ করে ব্যভিচার করলে শাস্তি অর্ধেক, এটা কি খুব যৌক্তিক মনে হচ্ছে?

     
    ৩য় পজিশন:

    এর পর আমার ৮.৪ কমেন্টের প্রেক্ষিতে আপনি বললেন:

    আমার জানামতে কোরআনের কোথাও বিবাহিত ও অবিবাহিত অপরাধীধের [তা ব্যভিচার বা যা-ই হোক] ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। ফলে আপনি ঠিক কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

    একটু আগে নিজেই স্বীকার করেছিলেন, “অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।” অথচ সিদ্ধান্ত দেবার সময় সুবিধাজনকভাবে বিবাহিত কথাটা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সেটা ধরিয়ে দিতেই আপনি এই কমেন্টটা করলেন, যেটাকে আমি মনে করেছি আপনার ৩য় পজিশন। কারণ এতক্ষণ আলোচনা হচ্ছিল কুরআনে ব্যভিচারের শাস্তি নিয়ে কী উল্লেখ আছে তা নিয়ে, সেই উল্লেখ করা বিষয়গুলো কিছুটা সুবিধাজনকভাবে আপনি ফরমুলেটও করে ফেলেছেন, আর এখন আপনি অন্য অপরাধের শাস্তি টেনে এনে, সেখানে উল্লেখ নেই, এসব কথা বলছেন। এটাকে আপনার ৩য় পজিশন মনে হতেই পারে।

    সেজন্য উত্তরে আমি বলেছিলাম(৮.৪.১.১):

    এই আলোচনা কুরআনে যা উল্লেখ আছে, কেবল তার ভিত্তিতে চলছিল। কুরআনে যা নেই তার ভিত্তিতে নয়।
     
    অতঃপর যখন তারা (ক্রীতদাসি) বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। (৪:২৫, প্রাসঙ্গিক অংশ)
     
    আমরা যদি শুধু কুরআনকই বিবেচনা করি, তবে এই আয়াত তো খুব সুস্পষ্টভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পর ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা করছে। তা না হলে “অতঃপর যখন তারা (ক্রীতদাসি) বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন” কেন বলা হয়েছে?

    এখানে এ প্রশ্নের কোন উত্তর আপনি দেন নাই। বরং ৮.৪.২ তে আপনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন:

    ধরা যাক, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের একজন অ-বিবাহিত নারী/পুরুষ এবং আঠার বছর বয়সের একজন বিবাহিত নারী/পুরুষ একই অপরাধ করলো। আপনার যুক্তি অনুযায়ী পঞ্চাশোর্ধ বয়সের [অ-বিবাহিত] অপরাধীর চেয়ে আঠার বছর বয়সের [বিবাহিত] অপরাধীর বেশী শাস্তি হওয়া উচিত?

    সব অপরাধের শাস্তি এক ধরণের হতে হবে, বা সব অপরাধে একই বিষয় বিবেচনা করতে হবে, এমন কোন কথা আছে? কুরআনে চোরের হাত কাটার কথা আছে। সেখানে কি ক্রীতদাসির জন্য আলাদা কোন বিধান আছে? না নেই। তাহলে কি এই প্রশ্ন করা যাবে, ৪:২৫ আয়াতে যেসব ক্রীতদাসি বিবাহবন্ধনে আসার পর ব্যভিচার করে আলাদা শাস্তির বিধান কেন করা হলো? কথা হচ্ছিল কুরআনে কী কী উল্লেখ আছে তার ভিত্তিতে, কী উল্লেখ নেই তার ভিত্তিতে নয়। আর এক অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে কোন কিছুকে আমলে নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও নিতে হবে, বা এক অপরাধের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে আমলে না নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে না, এটা কুরআনের কোথায় বলা আছে? আর এই বক্তব্যের যৌক্তিকতাই বা কী?

  7. 26
    এস. এম. রায়হান

    ৬. আপনি লিখেছেন,

    এখনো একটি প্রশ্ন থেকে গেল, না হয় রজম অস্বীকারকারিদের বক্তব্যগুলো কন্ট্রাডিকশনে ঘুরপাক খায়, কিন্তু ৪:২৫ এ বলা হয়েছে বিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচার করলে তার শাস্তি স্বাধীন নারীর শাস্তির অর্ধেক, রজমের অর্ধেক শাস্তি কিভাবে সম্ভব?-- সেই উত্তর তো এখনো পাওয়া গেল না।

    এই সমস্যার সমাধান করেছেন এভাবে (ইবনে কাথিরের তাফসির থেকে)-

    বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি = ব্যভিচারি [অবিবাহিত] স্বাধীন (‘মুহছানাত’) নারীর শাস্তির অর্ধেক= (১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত।

    প্রথমত, এখানে আয়াতের মধ্যে ব্র্যাকেটে "অবিবাহিত" শব্দটা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু "স্বাধীন" বলতে বিবাহিত বা অবিবাহিত যে কোনটাই বুঝাতে পারে। আয়াতের ১ম অংশে "স্বাধীন নারী (যেখানে স্বাধীন নারীকে বিয়ে করার কথা বলা হয়েছে)" আর পরের অংশে "স্বাধীন নারী (যেখানে স্বাধীন নারীর অর্ধেক শাস্তির কথা বলা হয়েছে)" -- এই দুই অংশেই "স্বাধীন" মানে "অবিবাহিত" ধরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ১ম অংশের "স্বাধীন নারী" আর পরের অংশের "স্বাধীন নারী" এক অর্থে বুঝানো হয়নি।

    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন (الْمُحْصَنَاتِ) মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের (الْمُحْصَنَاتِ) অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [৪:২৫]

    দ্বিতীয়ত, আয়াতের মধ্যে "অবিবাহিত" শব্দটা ঢুকিয়ে দেয়ার পরও যে কন্ট্রাডিকশন (এটি আপনারই দাবি) রয়ে গেছে তা আগেই উল্লেখ করেছি। উল্লেখ্য যে, "রজমের অর্ধেক শাস্তি কিভাবে সম্ভব?" প্রশ্নটি আমার নয়, তথাপি এই প্রশ্নের জবাবের মধ্যেও যে "কিন্তু" আছে তা দেখিয়ে দিলাম মাত্র। 
     
    অনুরূপভাবে, ২৪:২ আয়াতে বিবাহিত বা অবিবাহিত কোনোটাই উল্লেখ না থাকা সত্বেও শুধু "অবিবাহিত" ধরে নেয়া হয়েছে।
     
    রজমকে "আল্লাহর আইন" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়েই কিন্তু এতকিছু ধরে নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    1. 26.1
      সাদাত

      কিন্তু ১ম অংশের "স্বাধীন নারী" আর পরের অংশের "স্বাধীন নারী" এক অর্থে বুঝানো হয়নি।

      কী কী ভিন্ন অর্থে বুঝানো হয়েছে?

      দ্বিতীয়ত, আয়াতের মধ্যে "অবিবাহিত" শব্দটা ঢুকিয়ে দেয়ার পরও যে কন্ট্রাডিকশন (এটি আপনারই দাবি) রয়ে গেছে তা আগেই উল্লেখ করেছি। উল্লেখ্য যে, "রজমের অর্ধেক শাস্তি কিভাবে সম্ভব?" প্রশ্নটি আমার নয়, তথাপি এই প্রশ্নের জবাবের মধ্যেও যে "কিন্তু" আছে তা দেখিয়ে দিলাম মাত্র। 

      আয়াতের মধ্যে কোন শব্দ ঢুকাই নাই। ব্যাখ্যা গিয়ে ঢুকয়েছি, কেন ঢুকিয়েছি সেটা ব্যাখ্যাও করেছি। কুরআনের অনেক আয়াত এমন আছে যেখানে বাইরেরে থেকে কোন শব্দ না এনে ব্যাখ্যা করলে অর্থই পাল্টে যেতে পারে।
       
      যেমন নিচের আয়াত দেখুন:
      হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। [২:১৭৮]
       
      এ আয়াত পড়ে মনে প্রশ্ন আসতে পারে-
      ১. কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হলে, তার বদলায় অন্য কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। (প্রশ্ন জাগবে যদি তাকে কোন দাস হত্যা করে থাকে তবু্ও অন্য কোন নির্দোষ স্বাধীন ব্যক্তিকে কেন হত্যা করা হবে?)

      ২. কোন দাসকে হত্যা করা হলে, তার বদলায় অন্য কোন দাসকে হত্যা করা হবে। (প্রশ্ন জাগবে যদি তাকে কোন স্বাধীন ব্যক্তি হত্যা করে থাকে তবু্ও অন্য কোন নির্দোষ দাসকে কেন হত্যা করা হবে?)

      ৩. কোন নারীকে হত্যা করা হলে, তার বদলায় অন্য কোন নারীকে হত্যা করা হবে। (প্রশ্ন জাগবে যদি তাকে কোন পুরুষ হত্যা করে থাকে তবু্ও অন্য কোন নির্দোষ নারীকে কেন হত্যা করা হবে?)
       
      কাজেই "স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়।" এটাকে কুরআন-সুন্নাহ মিলিয়ে এভাবে ব্যাখ্যা করে লেখা নিশ্চয় অন্যায় হবে না:
      (হত্যাকারী) স্বাধীন ব্যক্তি (নিহত) স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়,(হত্যাকারী) দাস (নিহত)দাসের বদলায় এবং (হত্যাকারী) নারী (নিহত)নারীর বদলায়।  
      (বিস্তারিত এখানে http://www.shodalap.org/bngsadat/12920)
      অবশ্য আপনি যেমন বললেন অনেকে সেরকম বলতেই পারে, কত কিছুই না ধরে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 
       
      কিসের কী 'কিন্তু' আছে, কিছুই বুঝা গেল না।
       

      রজমকে "আল্লাহর আইন" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়েই কিন্তু এতকিছু ধরে নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

       
      একই কথা বারবার বলে কী শান্তি পান কে জানে? প্রথম থেকেই বলে আসছি, এই পোস্ট শুধু রজম কুরআন পরিপন্থী কিনা সেটা দেখানো, রজম প্রমাণ করা বা রজম আল্লাহর আইন কিনা সেটা দেখানোর কোন চেষ্টাই এখনো শুরু করি নাই। এরপর আশা করি এই কথার পুনরাবৃত্তি করবেন না।
       
       
       
       

  8. 25
    এস. এম. রায়হান

    ৫. আপনি বলেছেন,

    লক্ষ্য করুন, তাদের দাবি হচ্ছেঃ
    ১. ২৪:২ অনুসারে সকল প্রকার ব্যভিচারির শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত।

    এই দাবি কে বা কারা করেছেন তা আমার জানা নেই। ধরেই নেয়া যাক যে আমি নিজেই বা কেউ কেউ এই দাবি করেছেন। কিন্তু তাই বলে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে কারো "silly mistake or just a slip of tongue" এর উপর ভিত্তি করে নিজের কোনো দাবিকে জাস্টিফাই করা যায় না, যেখানে আবার আলোচিত বিষয় হচ্ছে স্বয়ং কোরআন। সোজা বাংলায় বললে বলা যায় আপনি অসচেতনতাবশত কারো একটি সিলি ভুলের সুযোগ নিয়ে তার দাবিকে "সাংঘর্ষিক" আখ্যা দিয়ে নিজের দাবিকে জাস্টিফাই করেছেন। কিন্তু সেটি করতে যেয়ে নিজেও একই ভুল করেছেন।
     
    সঠিকভাবে কেউ বলতে চাইলে বলতে হবে: কোরআনে ব্যভিচারের উপর যে কয়টি আয়াত আছে সেগুলোকে একত্রে করে কোন ধরণের ব্যভিচারের শাস্তি কী হওয়া উচিত -- তা দেখেশুনে নির্ধারণ করতে হবে। এবার বলেন কন্ট্রাডিকশন কোথায়।

    1. 25.1
      সাদাত

      প্রথম কথা হলো এই পোস্টে আমি রজম প্রমানের কোন চেষ্টা করি নাই, শুধুমাত্র রজম অস্বীকারকারিগন যেসব যুক্তি (তা যতই silly  হোক) দিয়ে রজমকে কুরআন পরিপন্থী দেখাতে চান সেগুলো খণ্ডন করতে চেয়েছি।  আপনি মনে করছেন, এইটুকু করেই আমি রজম প্রমান করে ফেলার দাবি করছি। ফলে ঘুরে ফিরে বারবার একই কথা বলছেন। আমি বার বার বলেছি এই পোস্টে আমি রজমকে প্রমাণ করছি না, শুধু রজম যে কুরআন পরিপন্থী না যেটা আনেকে বলে থাকে, সেটাই দেখাতে চেযেছি, তারপরও আপনি একই কথা বলতেই থাকছেন!! আমি ভুল করছি না ঠিক করছি সেটা সবাই দেখতে পাচ্ছে।
      সঠিকভাবে কেউ বলতে চাইলে বলতে হবে: কোরআনে ব্যভিচারের উপর যে কয়টি আয়াত আছে সেগুলোকে একত্রে করে কোন ধরণের ব্যভিচারের শাস্তি কী হওয়া উচিত — তা দেখেশুনে নির্ধারণ করতে হবে। এবার বলেন কন্ট্রাডিকশন কোথায়।
      না, সঠিকভাবে বলতে চাইলে বলতে হবে কুরআন-সুন্নাহ মিলিয়ে কোন ধরণের ব্যভিচারের শাস্তি কী হবে সেটা নির্ধারন করতে হবে। আর কুরআনে কন্ট্রাডিকশন আছে একথা আমি না বলার পরও, বিষয়টি বার বার পরিষ্কার করে বলার পরও, ঘুরে ফিরে বারবার এই দাবিকে আমার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।

  9. 24
    Farhad

    Salam Brothers,
    I would like to mention please conside the doctrine of "abrogation" in this subject as well.
    One of the lecture I heard about this topic was from Br. Imran Nazar Hossain. You would be able to find it on the youtube.com
    Fatemolla has changed his viewpoint on Shariah time to time. I happens to a student of any knowledge. People do change their view after getting full knowledge on the subject or subjects.
    May Allah open our heart and enlighten it with the truth and guidance. Ameen.

  10. 23
    সাদাত

    রায়হান ভাই,
    এখানে আসেন।
    কেউ কেউ মনে করেন, ২৪:২ আয়াতের শাস্তি সকল প্রকার ব্যভিচারির জন্য ব্যাখ্যাতীতভাবে প্রযোজ্য, এবং এটাই ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি। ফলে বিবাহিতের জন্য রজম বা ভিন্ন কোন শাস্তিকে তারা কুরআন পরিপন্থী মনে করেন। পোস্টটা এই মতপন্থীদের জন্য। আপনি যদি এই মতপন্থী না হন, তবে পোস্টে আপনার সাথে বিতর্কের কিছু নাই।
    এই মতপন্থীরা ২৪:২ আয়াতকে ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি মনে করলেও রজমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন:
    ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত অর্ধিক শাস্তি রজমের ক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব?
    আমি দেখাতে চেয়েছি, একই সাথে ২৪:২ আয়াতকে ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি মনে করা, অন্যদিকে ৪:২৫ আয়াত দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তারা কেমন স্ববিরোধিতায় লিপ্ত।
     

    1. 23.1
      এস. এম. রায়হান

      সাদাত ভাই,
       
      কিছু মনে করবেন না। আপনার লেখা থেকেই ১৬ নং মন্তব্যে যে অসঙ্গতি তুলে ধরেছি সেটির জবাব কিন্তু এখানেও পেলামনা [আপনি যেটিকে অসঙ্গতি (আপনার যুক্তি অনুযায়ী) হিসেবে দেখিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন সেই একই অসঙ্গতি দিয়ে আপনি আপনার দাবিকে জাস্টিফাই করেছেন। এর চেয়ে আর পরিষ্কার করে বলা যায় না। আশা করি বুঝাতে পেরেছি]।
       
      যাহোক-
      প্রথমত, এখানে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। ব্যক্তিগত ব্যাপার-স্যাপার হলে না হয় কিছু দূর এগোনোর পর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ছাড় দেয়া যায় কিংবা মিটমাট করা যায় কিংবা এড়িয়ে যাওয়া যায়।
       
      দ্বিতীয়ত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এখানে কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি না। আপনি যে বিষয় নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন বা যে বিষয়কে আল্লাহর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন সেই বিষয় নিয়ে আমি শুধু প্রশ্ন উত্থাপন করছি, যেহেতু একজন ইসলামে বিশ্বাসী হিসেবে আমার নিজের কাছেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়া দরকার।
       
      তৃতীয়ত, এখানে যেহেতু আমরা স্বয়ং কোরআন নিয়ে আলোচনা করছি সেহেতু আমাদের কারো মনেই যেনো “জিততেই হবে”র মতো সামান্যতমও চিন্তা না থাকে। আর আপনি যেহেতু পোস্ট দিয়ে একটা কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন সেহেতু আপনার উপর দায়িত্ব অন্য যে কারো চেয়ে অনেক অনেক বেশী।
       
      এবার আমি আমার আগের উত্থাপিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটা এখানে আবারো উত্থাপন করে আপনার থেকে স্পষ্ট ভাষায় উত্তর আশা করছি। প্রশ্নটি যেহেতু স্বয়ং কোরআন নিয়ে সেহেতু উত্তর দিতে গেলেই হেরে যাবেন কিংবা যুক্তি দুর্বল হয়ে যাবে কিংবা কোরআনের অবমাননা হবে -- এরকম কোনো চিন্তা আপনার বা কারো মাথাতেই থাকতে পারে না নিশ্চয়।
       
      প্রশ্নটি হচ্ছে:
      শুধুমাত্র কোরআনের আলোকে ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগ করতে কোনো সমস্যা আছে কি-না? থেকে থাকলে সেটি কী?

      তাড়াহুড়া করে উত্তর দেয়ার দরকার নাই। সময় নেন, আরো গভীরভাবে ভাবুন, তবে উত্তরটা আশা করছি।

      1. 23.1.1
        সাদাত

        আপনার ৩টা পয়েন্টের উত্তর একটা,
        মিটমাট করে কোন বিষয় এড়িয়ে যাবার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এই বিতর্কে আমার মনে হয়েছে আপনি বারবার পজিশন চেঞ্জ করছেন, (হয়তো এমনও হতে পারে আপনার পজিশন কী সেটা আমি সঠিকভাবে বুঝি নাই) তাই বিতর্কের আগে আপনার পজিশনটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। এটাকে কোনভাবেই দুর্বলতা বা এড়িয়ে যাবার মতে কিছু মনে করার কারণ নেই। কারণ এখন পর্যন্ত যতটুকু বিতর্ক হয়েছে যাতে আমার অবস্থান কোনভাবেই এড়িয়ে যাবার মতো নয়।  আপনার ১৬ নং কমেন্টের ব্যাপারে আসছি। একটু অপেক্ষা করুন।
         

        শুধুমাত্র কোরআনের আলোকে ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগ করতে কোনো সমস্যা আছে কি-না? থেকে থাকলে সেটি কী?

         
         যে কোন বিধান (তাই সেটা আমলগত বিষয় হোক বা বিচারিক বিষয় হোক) শুধু কুরআন হতে আহরণ করাটা একটি ভুল পদ্ধতি, সমস্যা এটাই। ইসলামের কোন বিধানই শুধু কুরআনকে বিবেচনা করে নেওয়া যাবে না, পুরো কুরআন এবং পুরো সুন্নাহ একসাথে রেখেই কেবলমাত্র সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।  

        1. 23.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          আমি বারবার পজিশন চেঞ্জ করছি -- এটা আবার কেমন অভিযোগ হলো তা মোটেও বোধগম্য নয়। আমার পজিশনগুলো উল্লেখ করলে ভালো হতো। আমার তো এ পর্যন্ত কোনো পজিশনই নেই। আমি শুধু আপনার লেখার উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন উত্থাপন করছি। আর এখানে যে প্রশ্নটা করেছি সেটাও নতুন নয়, ইতোমধ্যে ১১ নং মন্তব্যে করা হয়েছে। এখানে আরেকটু পরিষ্কার করে বলেছি মাত্র।

        2. সাদাত

          পজিশন চেঞ্জের ব্যাপারটা ২৭ নম্বর কমেন্টে ব্যাখ্যা করেছি।

        3. 23.1.1.2
          এস. এম. রায়হান

          আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি। প্রকৃতপক্ষে এ পর্যন্ত আমার কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেননি, পরে দিতে চেয়েছেন। তবে এখানে ভিন্ন প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন করছি (ভিন্ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন মানে আবার যেনো ধরে না নেন যে আমি আমার পজিশন চেঞ্জ করছি, যেখানে আমার কোনো পজিশনই নেই)। 
           
          প্রশ্নটি হচ্ছে-
          শুধুমাত্র কোরআনের আলোকে হজ্জ ও সালাত পালন করতে গেলে কোনো সমস্যা আছে কি-না?
           
          উত্তরটি প্রথমে "হ্যাঁ" বা "না" সূচকে দিলে ভালো হয়। তারপর চাইলে উত্তরের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে পারেন।

        4. সাদাত

          @এস. এম. রায়হান:
          হ্যাঁ,আছে।

          আপনার সবগুলো বক্তব্য প্রশ্নাকারে ছিল না, তবে আপনার বক্তব্যের রিপ্লাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দিয়েছি। দুই এক জায়গায় দেই নাই, যেগুলো নিয়ে ভিন্ন পোস্টের প্ল্যান আছে সেগুলো ইগনোর করেছি।আর শাহবাজ ভাই যেখানে উত্তর দিয়েছেন, সেখানেও কিছু বলি নাই, কারণ উত্তরটা আমি যথেষ্ট মনে করেছি। এরপরও আপনি যেসব প্রশের উত্তর পান নাই মনে করছেন, লিস্ট করুন; ইনশাআল্লাহ উত্তর দেব।

      2. 23.1.2
        সাদাত

        @এস. এম. রায়হান:
        ১৬ নম্বর কমেন্টের বিষয়ে,
        আমার বক্তব্য যেটা আমি সবসময় বলে থাকি,
        যে কোন বিষয়ে পুরো কুরআন এবং পুরো সুন্নাহকে সামনে রেখেই কেবলমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ন্তে পৌঁছানো যেতে পারে। কুরআনের কোন বিধানের ব্যাপকতা কুরআনের অন্য আয়াত যেমন সুনির্দিষ্ট করতে পারে, তেমনি কুরআনের বাইরে থাকা রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বক্তব্য/ব্যাখ্যাও তাকে সুনির্দিষ্ট করতে পারে।
        সুন্নাহ হতে আমি বুঝি,
        ২৪:২ আয়াতএর শাস্তি অবিবাহিতের ব্যভিচারের শাস্তি। এটাই সকল প্রকার ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি নয়।
        কাজেই,
        ৪:২৫ অনুসারে-
        “বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি = ব্যভিচারি [অবিবাহিত] স্বাধীন (‘মুহছানাত’) নারীর শাস্তির অর্ধেক= (১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত।”
        বললেও সেখানে নীতির কোন স্ববিরোধিতা থাকে না।
        নীতিগত স্ববিরোধিতা তাদের জন্য থাকে যারা মনে করে ২৪:২ আয়াতের শাস্তি সকল প্রকার ব্যভিচারের একমাত্র শাস্তি মনে করে।

  11. 22
    শাহবাজ নজরুল

    @ রায়হান ভাই,
     

    ২য়ত, কোনো বিষয়ের সমাধান কোরান ও সুন্নাহ মিলিয়ে করতে হবে -- ঠিক আছে। কিন্তু কোনো বিষয়ে কোরানকে কন্ট্রাডিকটরি দেখিয়ে কি সুন্নাহতে তার সমাধান খোঁজা যাবে?

    কোরান ও হাদীস (হাদীস বলতে সুন্নাহের সহীহ লিপিবদ্ধ বয়ান বুঝাচ্ছি) যেহেতু আল্লাহর তরফ থেকেই এসেছে তাই এই দুটো সুত্র মিলালে কোনো কন্ট্রাডিকশন থাকার কথা নয়। যদি কোরাণ ও হাদীস আপাত সংঘর্ষিক বলে আমাদের কাছে মনেও হয় -- তবে বুঝে নিতে হবে এটা আমদের বুঝের সীমাবদ্ধতা। যেহেতু এক আল্লাহ্‌ থেকে ইসলাম উৎসারিত -- তাই কোরান ও হাদীস মিলিয়ে কোনো সমস্যাকে পুরোপুরি ব্যবচ্ছেদ করলে কোনো কন্ট্রাডিকশন থাকতে পারেনা।

    আমার মনে হয় সাদাত ভাই এই পোষ্টে সেই কথাই বলতে চেয়েছেন। উনি আসলেই দেখিয়েছেন যা এই পোস্টের শিরোনাম বলছে -- অর্থাৎ, বিবাহিত ব্যাভিচারির জন্যে হাদীসে দেখানো রজমের শাস্তি কোরানের পরিপন্থী নয় -- অর্থাৎ তাদের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন নেই।
     

  12. 21
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    সহিহ সূত্রের মুতওয়াতির বর্ণনাকে অস্বীকার করা কুরআনকে বিতর্কিত করার নামান্তর-- সাদাত

    লেখাটি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্যণ করছি।

    If A then B…… (1)

    এই স্টেটম্যান্ট থেকে একমাত্র যেটি ডিডাক্ট করা যাবে তাহলো এর কন্ট্রাপজিটিভ অর্থাৎ

    If not B then not A …… (2)

    (1) থেকে এটি যৌক্তিকভাবে বলা যাবেনা যে

    If not A then not B……(3)

    কারণ, A ছাড়াও অন্য কোন কারণে B ঘটতে পারে।

    সারমর্মঃ Given (1), only (2) is true. (3) is not a logical deduction from (1), therefore, concluding (3) from (1) will be erroneous or wrong.

    ফুয়াদ দীনহীন এই আরগুমেন্টটিই দিতে চেয়েছেন বলে মনে হয়েছে।

    দলিলগত নিশ্চয়তার দিক দিয়ে আল কোরানের সমকক্ষ আর কোন দলিল হতে পারে কি? উত্তর না, কারণ আল্লাহ পাক নিজেই এর সংরক্ষনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে মতভেদ নেই সাদাত সাহেবও খুব সম্ভবত সেরকমই মনে করেন কারন তিনি বলেছেন-

    নোট: এই লেখায় কোন ভাবেই কুরআন ও সুন্নাহকে সমকক্ষ দেখাবার চেষ্টা করা হয় নাই।

    সাদাত সাহেব কি কোরাণের সঠিকত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন? উত্তর হচ্ছে না। কারণ তিনি বলছেন-

    সঠিকত্ব বলতে ‘নাযিলকৃত আল-কুরআন’ এর সাপেক্ষে ‘আমাদের প্রচলিত আল-কুরআন’ এর সঠিকত্বকে বুঝাচ্ছি

    তবে সঠিকত্ত্ব শব্দটি এখানে মিসলিডিং হতে পারে। ‘কোরানের অবিকৃততা’ শব্দটি ব্যবহার করা যায় কিনা বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

    যেহেতু এই বিষয়ে এই পোষ্টে আলোচনা চলছে, বেশ কয়েকটি বিষয় আমলে নিয়ে, দু’টি পোষ্ট যথাঃ

    সহিহ সূত্রের মুতওয়াতির বর্ণনাকে অস্বীকার করা কুরআনকে বিতর্কিত করার নামান্তর -- সাদাত

    দলিলগত নিশ্চয়তার দিক দিয়ে আল কোরানের সমকক্ষ আর কোন দলিল হতে পারে কি? -- ফুয়াদ দীনহীন

    আর আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। এছাড়া পোষ্ট দু’টিকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছি। পোষ্টদু’টিতে অন্তর্ভূক্ত তথ্যাদি, চিত্র, ভবিষ্যতে পূণঃব্যবহার করার সুযোগ থাকছে।

    ধন্যবাদ। -সম্পাদক, সদালাপ

    1. 21.1
      সাদাত

      সম্ভাব্যতার লজিক আর সংঘটিত বিষয়ের লজিক এক রকম নয়।
      আপনি যে লজিক দিলেন, এটা সম্ভাব্যতার লজিক।
      এটা বিষয়ের সাথে খাপ খায় না।
      লজিকটা এমন:
       
      A, B ফিল্টার দিয়ে পানি পরিশোধন করে খেয়েছে।
      B ফিল্টার সঠিকভাবে পানি পরিশোধন করতে পারে না।
      সুতরাং A অপরিশোধিত পানি খেয়েছে।
       
      কোন পোস্টের ব্যাপারে কোন বক্তব্য থাকলে, সেটা সেই পোস্টে বলাটাই সঙ্গত ও যৌক্তিক।
      কোন বিষয়ে অভিযোগ থাকলে, আগে সেই বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য শোনাটা ন্যায়বিচারের দাবি।
      যেই পোস্টটা সরানো হয়েছে সেটাকে আমি কোনভাবেই অন্য কোন পোস্টের  সাথে একই বিষয়ক মনে করি না।
      পোস্টের কোন শব্দ বা বাক্যের ব্যাপারে সাজেশন থাকলে বলা যেতে পারে।
      একটা পোস্টের পেছনে অনেক শ্রম, অনেক ত্যাগ লুকিয়ে থাকে। এই মুহূর্তে সদালাপকে দেওয়া আমার প্রতিটি সেকেণ্ড অনেক ত্যাগের বিনিময়ে জীবন থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া সময়ের অংশ। আরাম আয়েশে গা এলিয়ে দেওয়া সময়ের অংশ সেগুলো নয়। সম্পাদক সাহেবের নেহায়েত মনে হওয়ার কারণে কোন "উপযুক্ত ও যৌক্তিক" কারণ না দর্শিয়ে সেটা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া আমার কাছে অত্যন্ত 'স্বেচ্ছাচারিতা' মনে হয়েছে।
      ঐ পোস্টকে প্রথম পাতা থেকে সরানোর কোন যৌক্তিকতা আমি দেখি না। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করছি। উক্ত পোস্ট যথাস্থানে বসিয়ে সেই পোস্টে আলোচনা করুন যে সমস্যাটা কোথায়। এর আগে যে কোন কমেন্ট এবং পোস্ট করা থেকে আমি বিরতি গ্রহণ করছি।
      ধন্যবাদ।
       
       

      1. 21.1.1
        সদালাপ কর্তৃপক্ষ

        পোষ্ট দু’টি প্রথম পাতা থেকে সরানো হয়েছে, আলোচনাকে স্ট্রিম লাইন করার জন্য। মূল ইস্যু হচ্ছে, ইসলামী মতে এডাল্টারির শাস্তি কি, কোন পরিপ্রেক্ষিতে, ও তার পক্ষে দলিল প্রমাণাদি নিয়ে। অথচ লেখাগুলি  ডিজেনারেট করছে- কান্ড থেকে যে শাখা প্রশাখা বের হচ্ছে, সেগুলিকে আপাততঃ সরিয়ে মূল কান্ডের দিকে ফোকাস করানোর জন্য প্রথম পাতা থেকে সরানো হয়েছে। লেখাদু'টি অপ্রকাশিত বা ড্রাফট করা হয়নি। উপরের লিঙ্কগুলিতে ক্লিক করলে দু’টি লেখাই পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম পাতা থেকে পোষ্ট সরানো একটি বেনাইন এক্ট, কোনভাবেই শাস্তিমূলক কিছু নয়। এটা হলুদ বা লাল কার্ড নয়। বৃষ্টি হলে খেলা স্থগিত করে আবার কিছুক্ষণ পর শুরু করার মত একটি ব্যাপার। 

        সম্ভাব্যতার লজিক আর সংঘটিত বিষয়ের লজিক এক রকম নয়।
        একমত।
        আপনি যে লজিক দিলেন, এটা সম্ভাব্যতার লজিক।
        এটা বিষয়ের সাথে খাপ খায় না।
        লজিকটা এমন:
        A, B ফিল্টার দিয়ে পানি পরিশোধন করে খেয়েছে।
        B ফিল্টার সঠিকভাবে পানি পরিশোধন করতে পারে না।
        সুতরাং A অপরিশোধিত পানি খেয়েছে।

        দ্বিমত। আপনার হাতের কাজটি শেষ হলে এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক পোষ্টটিতে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা রাখি। 
        কোন পোস্টের ব্যাপারে কোন বক্তব্য থাকলে, সেটা সেই পোস্টে বলাটাই সঙ্গত ও যৌক্তিক।
        এবসোলিউটলি। যেহেতু আলোচনা স্ট্রিমলাইন করার জন্য ওখানে কমেন্ট অপশনটি ক্লোজ করেছি, সেজন্য এই পোষ্টে রেফারেন্স সহ সিদ্ধান্তটি জানানো হয়েছে।   
        কোন বিষয়ে অভিযোগ থাকলে, আগে সেই বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য শোনাটা ন্যায়বিচারের দাবি।
        যেই পোস্টটা সরানো হয়েছে সেটাকে আমি কোনভাবেই অন্য কোন পোস্টের  সাথে একই বিষয়ক মনে করি না।

        রায়হান সাহেবের প্রশ্নের উত্তরে আপনি এ পয়েন্টটি ক্লিয়ার করেছেন। এটি একটি সাবজ্যাক্টিভ ম্যাটার। কি বলা হচ্ছে, এবং পাঠকেরা কি শুনতে পাচ্ছেন, সেটা মাঝে মাঝে দেখা খারাপ আইডিয়া নয়। 
        পোস্টের কোন শব্দ বা বাক্যের ব্যাপারে সাজেশন থাকলে বলা যেতে পারে।
        একটা পোস্টের পেছনে অনেক শ্রম, অনেক ত্যাগ লুকিয়ে থাকে। এই মুহূর্তে সদালাপকে দেওয়া আমার প্রতিটি সেকেণ্ড অনেক ত্যাগের বিনিময়ে জীবন থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া সময়ের অংশ। আরাম আয়েশে গা এলিয়ে দেওয়া সময়ের অংশ সেগুলো নয়। সম্পাদক সাহেবের নেহায়েত মনে হওয়ার কারণে কোন "উপযুক্ত ও যৌক্তিক" কারণ না দর্শিয়ে সেটা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া আমার কাছে অত্যন্ত 'স্বেচ্ছাচারিতা' মনে হয়েছে।

        লেখার ব্যাপারে আপনার সাহস, যোগ্যতা, ও পরিশ্রম ওয়েল রেকগনাইজড। এই তিন গুণের সমাহার আসলেই বিরল। কারো সাহস থাকে তো যোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকে। কারো হয়তো  যোগ্যতা আছে, কিন্তু ঠিক ততোটা পরিশ্রম করতে পারেন/চান না। ‘লোক-ভয়, রাজ-ভয়, আর দারিদ্র-ভয়’ জয় করতে চাওয়া অনেক বড় সাহসের কাজ।
        ঐ পোস্টকে প্রথম পাতা থেকে সরানোর কোন যৌক্তিকতা আমি দেখি না। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করছি। উক্ত পোস্ট যথাস্থানে বসিয়ে সেই পোস্টে আলোচনা করুন যে সমস্যাটা কোথায়।
        এর আগে যে কোন কমেন্ট এবং পোস্ট করা থেকে আমি বিরতি গ্রহণ করছি।

        রেস্টোর করে দিয়েছি। বেশিক্ষণ বিরতি (রেস্ট) পেলেন না।
        ধন্যবাদ। সম্পাদক, সদালাপ। 

        1. 21.1.1.1
          সাদাত

          ধন্যবাদ।
          আলোচনা করার জন্য স্বাগতম, তবে এডমিনের সাথে তর্ক/বিতর্ক ভালো দেখায় না, ব্যক্তি সামনে এলে ভালো হয়।
          রজম নিয়ে পোস্ট দিতে গিয়ে দেখি, অনেক মৌলিক বিষয়েই অনেকের সমস্যা রয়ে গেছে। এই সকল বিষয় ক্লিয়ার করতে হবে। সেটা আমি আলাদা আলাদা পোস্টে করতে চাই, যাতে এগুলোকে ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
          অনেকের কুরআন/ইসলাম সম্পর্কে কাল্পনিক ধারণা আছে, সেগুলো সরিয়ে বাস্তবকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ কল্পনার ওপর যে বিশ্বাস গড়ে ওঠে তার ভিত্তি খুব বেশি শক্ত হয় না, সামান্য বাতাসে নড়ে যায়।
           

    2. 21.2
      এস. এম. রায়হান

      পোস্টটি সরানোর জন্য লেখক যদি কোন মন্তব্য এবং পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে চান তাহলে সেই পোস্ট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তবে ফুয়াদের পোস্টের কন্টেন্টস সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পেস্ট করে দিলে ভালো হয় যাতে করে এক পোস্টেই পক্ষে-বিপক্ষে সব কিছু থেকে যায়।

    3. 21.3
      সরোয়ার

      আর আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। এছাড়া পোষ্ট দু’টিকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছি।-Editor

      সম্পাদক সাহেবের অযাচিত ও অযৌক্তিক হস্তক্ষেপে সদালাপের দীর্ঘদিনের পাঠক হিসেবে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। এধরণের হস্তক্ষেপ লেখকের মটিভেশনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

      1. 21.3.1
        সদালাপ কর্তৃপক্ষ

        কই যাই! সরোয়ার সাহেব, অযাচিত শব্দটির মানে কি?

    4. 21.4
      ফুয়াদ দীনহীন

      @এডমিন,
      আমার জন্য কোন অনাকাংখিত সমস্যা তৈরি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।
       

      পোস্টটি সরানোর জন্য লেখক যদি কোন মন্তব্য এবং পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে চান তাহলে সেই পোস্ট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তবে ফুয়াদের পোস্টের কন্টেন্টস সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পেস্ট করে দিলে ভালো হয় যাতে করে এক পোস্টেই পক্ষে-বিপক্ষে সব কিছু থেকে যায়- এস এম রায়হান

      আমি উপরের বক্তব্যের সাহিত সহমত প্রাকাশ করছি, একই সাথে এডমিনের দ্বায়িত্বশীলতার জন্য 
       
      আমি সদালাপের এডমিন, লেখক, সাদাত ভাই সহ সকলের নিকট দুঃখিত। সবাইকে ধৈর্যের সাহিত আমার কথাগুলি শুনার জন্য 
       

  13. 20
    মুনিম সিদ্দিকী

    ফতেমোল্লার পোস্ট পড়ে আমারও মনে বিরাট ধাক্কা লেগেছিল! সে যেভাবে উপস্থাপনা করেছিল তাতে আমার মত কম জানা মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল। আমার মনেও সেদিন প্রশ্ন ছিল যে আল্লাহ পাক কোরআন সংরক্ষণের দায়ীত্বে আছেন সেখানে এক আয়াত ছাগলে খেয়ে ফেলে দেয়াতে আয়াতই গায়েব!!!

    পরে এই নিয়ে ঘাটাঘাটি করে বুঝতে পারলাম যে, এন্টি ইসলামীরা কিভাবে সত্যকথার সাথে রঙ লাগিয়ে মূল বিষয়কে অন্য দিকে নিয়ে যায়!!!

    আসলে আমরা জানি যে কোন আয়াত নাজিল হলে পরে রাসুল সাঃ তা উনার সাহাবায়ে কেরামগণ দিয়ে মুখস্ত এবং লিখিত ভাবে সংরক্ষণ করিয়ে নিতেন। কাজেই যদি ধরে নেই যে এই আয়াতখানি শুধু একটি কাগজে বা পাতায় লিখা হয়েছিল, হতে পারে তখন তো এখানকার মত লিখে রাখার কাগজপাতি এত সহজলভ্য ছিলনা, তাই সেই পাতাটি ছাগল খেয়ে ফেলেছে। কিন্তু ছাগল খেয়ে ফেললেও এই আয়াত ধ্বংস হয়ে যেতে পারেনা কারণ এই আয়াত ৭০ থেকে ৮০ জন সাহাবীর বুকে সংরক্ষিত ছিল। 

    তাই এই আয়াতের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে, এই আয়াতকে সংরক্ষিত করে রাখার জন্য সাহাবীরা রাসুল সাঃকে অনুরোধ করলেও রাসুল তা লিখিত ভাবে রাখার অনুমতি দেননি। তবে আমার মনে যে প্রশ্ন আসে তা হচ্ছে কেন রাসুল সাঃ এই আয়াতের হুকুম বহাল রেখে দিলেন কিন্তু আয়াতকে লিখে রাখতে অনুমতি দিলেন না!!!!!

  14. 19
    এস. এম. রায়হান

    ৩. আপনার এই পোস্টের শিরোনাম-

    বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কি কুরআন পরিপন্থী?

    উত্তর: না।
     
    এবার শিরোনামটাকে যদি একটু পরিবর্তন করে দেয়া হয়-

    অ-বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কি কুরআন পরিপন্থী?

    এক্ষেত্রেও উত্তর হবে, না!
     
    তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, আপনি শিরোনামে শুধু 'বিবাহিত' দিলেন কেনো?
     
    ৪. আপনি কি নিশ্চিত যে কোরআনে শুধু অ-বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ব্যভিচারের শাস্তির কথা লিখা আছে? যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন তাহলে এ থেকে একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে কোরআনে বিবাহিতদের ব্যভিচারকে আমলেই নেয়া হয়নি, শাস্তি তো দূরে থাক! আর তা-ই যদি হয় তাহলে হাদিসে আবার বিবাহিত ব্যভিচারির শাস্তি একেবারে পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদণ্ড হয় কীভাবে! মনের অজান্তে ছাগলতত্ত্বকে ডিফেন্ড করছেন না তো! ভেতরে কিন্তু সন্দেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন! সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা-সহ উত্তর আশা করছি।

    1. 19.1
      সাদাত

      ৩. হাদিসে যেহেতু বিবাহিতের জন্য রজমের কথা আছে অবিবাহিতের জন্য নয়, আর এই বিধান যে কুরআন-পরিপন্থী নয়- এটাই আমি দেখাতে চেয়েছি, সেজন্য শিরোনামে 'বিবাহিত' না দেওয়ার তো কোন কারণ নাই।
      ৪. হাদিস অনুসারে ২৪:২ আয়াতে অবিবাহিতের ব্যভিচারের শাস্তির কথা বুঝানো হয়েছে। কোন কিছু উল্লেখ না করা আর আমলে না নেওয়া এক কথা নয়। কুরআনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করে রাসূলকে মান্য করতে বলা হয়েছে, অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। রাসূলকে মান্য করা কুরআনেরই নির্দেশ। ফলে কুরআনে কিছু না থাকলে তা হাদিসে থাকতে পারবে না এমন কথা নেই।
      ছাগলতত্ত্ব সম্পর্কে এখনো যে ভুলের মধ্যে আছেন বুঝলাম। ছাগলে খাওয়ার কারণে কুরআন হারিয়ে যায় না, যেতে পারে না।

  15. 18
    মুনিম সিদ্দিকী

    আর আমি জানতে চাই যে, যে হুকুম এখনও বহাল যার ফলে এখনও মানুষকে এই শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত দেয়া চলবে। তাহলে এই আয়াতকে কোরআন থেকে সরিয়ে নেয়া এবং পাঠ রহিত করার কারণ কি?

  16. 17
    এস. এম. রায়হান

    ২. আমি যদি ভুল বুঝে না থাকি কিংবা আপনি যদি অবচেতন মনে ভুল করে না থাকেন তাহলে আমার কাছে ব্যাপারটা এরকম মনে হচ্ছে-
     
    আপনি ব্যভিচারের শাস্তির বিষয়ে কোরআনের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে হাদিস দ্বারা সেটির সমাধান করার চেষ্টা করছেন, মানে রজমকে জাস্টিফাই করছেন।
     
    এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য আশা করছি। এজন্যই আমি ১১ নং মন্তব্যে বলেছিলাম-

    ব্যভিচারের শাস্তির জন্য কেনো কোরআনের বাইরে যেতে হবে — এর পক্ষে সুস্পষ্টভাবে ও পয়েন্ট আকারে যুক্তি দেন।

    আপনি হয়ত এই মন্তব্যটাকে আমলে নেননি, আর এজন্যই এবার পরিষ্কার করে বললাম।

    1. 17.1
      সাদাত

      আপনি ব্যভিচারের শাস্তির বিষয়ে কোরআনের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে হাদিস দ্বারা সেটির সমাধান করার চেষ্টা করছেন, মানে রজমকে জাস্টিফাই করছেন।

      এই পোস্টের উদ্দেশ্য শুধু দেখানো রজম কুরআন পরিপন্থী কিনা, এর বেশি কিছু না। রজম কুরআন সম্মত কিনা এটা পরের আলোচনার বিষয়বস্তু। কুরআনের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখাতে যাবো কোন দু:খে?
      যে কোন বিধানের জন্যই কুরআন-সুন্নাহ একসাথে আমলে নিতে হবে। শুধু ব্যভিচারের শাস্তির জন্য না।
       

  17. 16
    এস. এম. রায়হান

    একই বিষয়ে পর পর তিনটি পোস্ট দেয়াতে কোন পোস্টে মন্তব্য করব বুঝতে পারছি না। ওদিকে ফুয়াদও একটি পোস্ট দিয়েছে। এই ধরণের আলোচনামূলক বিষয় একটি পোস্টে সীমাবদ্ধ থাকলে মন্তব্য করা যেমন সহজ হতো তেমনি আবার পাঠকদের জন্যও বুঝতে সুবিধা হতো।
     
    যাহোক, আলোচনার জন্য যেহেতু পোস্ট দিয়েছেন সেহেতু ধরে নিতে হচ্ছে যে আপনার আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড নেই। অন্যথায় আলোচনামূলক পোস্ট দেয়ার কিন্তু কোনো মানে হয় না, মাঝখানে থেকে সবারই সময় নষ্ট।

    আমার পয়েন্টগুলো সংক্ষেপে একটি একটি করে তুলে ধরছি-
     
    ১. ২৪:২ আয়াতে বিবাহিত বা অবিবাহিত উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও আপনি বলেছেন যে এই আয়াতে উল্লেখিত ১০০টি বেত্রাঘাত শুধু অবিবাহিতদের জন্য প্রযোজ্য। আর বিবাহিতদের জন্য হাদিস থেকে রজমের কথা বলেছেন। ভালো কথা। কিন্তু যারা ২৪:২ আয়াতে বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয়ের ক্ষেত্রে ১০০টি বেত্রাঘাতের কথা বলেছেন তাদের দাবিকে খণ্ডন করতে যেয়ে আপনি ২৪:২ ও ৪:২৫ আয়াতদ্বয়ের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন [১০০ বনাম ৫০] দেখিয়েছেন এভাবে- 

    কিন্তু ৪:২৫ অনুসারে উনারাই বলছেন-
    বিবাহিত ক্রীতদাসি ব্যভিচারির শাস্তি = স্বাধীন নারী ব্যভিচারির শাস্তির অর্ধেক =(১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত

    ফলে তাদের বক্তব্য আসলে কন্ট্রাডিকশনেই ঘুরপাক খায়।

    প্রথমত, ইতোমধ্যে আমি বলেছি যে এটি কন্ট্রাডিকশন এর মধ্যে পড়ে না। এর পরও এটিকে যদি কন্ট্রাডিকশন হিসেবে দেখাতে চান তাহলে কোরানের সমালোচকদের কিছু দাবিকেও কন্ট্রাডিকশন হিসেবে মেনে নিতে হয়, যেহেতু কোরানে এরকম কেস একাধিক আছে।

    দ্বিতীয়ত, উপরে আপনি যে যুক্তি দিয়ে অন্যের যুক্তিকে কন্ট্রাডিকশন [১০০ বনাম ৫০] দেখিয়ে বাতিল করে দিলেন সেখানে আপনিই আবার একই যুক্তি [১০০ বনাম ৫০] দিয়ে উপসংহার টেনেছেন এভাবে-

    সুতরাং,
    বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তি = ব্যভিচারি [অবিবাহিত] স্বাধীন (‘মুহছানাত’) নারীর শাস্তির অর্ধেক= (১০০/২) বা ৫০ বেত্রাঘাত।

    আমার কাছে ব্যাপারটা গোলকধাঁধার মতো মনে হচ্ছে  এই গোলকধাঁধা থেকে আগে আমাকে উদ্ধার করেন, প্লিজ।

    1. 16.1
      সাদাত

      একই বিষয়ে পর পর তিনটি পোস্ট দেয়াতে কোন পোস্টে মন্তব্য করব বুঝতে পারছি না। ওদিকে ফুয়াদও একটি পোস্ট দিয়েছে। এই ধরণের আলোচনামূলক বিষয় একটি পোস্টে সীমাবদ্ধ থাকলে মন্তব্য করা যেমন সহজ হতো তেমনি আবার পাঠকদের জন্যও বুঝতে সুবিধা হতো।

      তিনটি পোস্টের বিষয়বস্তু আলাদা।
      ১. আলোচনামূলক পোস্ট। এই পোস্টের উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষ রজমের জন্য কী ধরণের দলিল চান, আলোচনার মাধ্যমে  সেটা বুঝতে চেষ্টা করা।
      ২. যে সকল যুক্তি দিয়ে রজমকে কুরআন পরিপন্থী প্রমাণ করা হয়, সেই যুক্তিগুলো যে কন্ট্রাডিকটরি এটা প্রমাণ করা।
      ৩. একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, যা শুধু রজমের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং সহিহ ও মুতাওয়াতির যে কোন বর্ণনার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।

      যাহোক, আলোচনার জন্য যেহেতু পোস্ট দিয়েছেন সেহেতু ধরে নিতে হচ্ছে যে আপনার আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড নেই। অন্যথায় আলোচনামূলক পোস্ট দেয়ার কিন্তু কোনো মানে হয় না, মাঝখানে থেকে সবারই সময় নষ্ট।

      আলোচনা বলতে কী বুঝিয়েছি তা একটু আগেই (এবং সেই পোস্টেও) ব্যাখ্যা করেছি। রজম নিয়ে আমার কোন স্ট্যাণ্ড নেই এটা বলা ঠিক নয়। কোন স্ট্যাণ্ড থাকলে আলোচনা হয় না, বা তাতে সময় নষ্ট হয়, এটা কী ঠিক। মজবাসারদের বিরূদ্ধে যখন লেখালেখি আলোচনা হলো, তাতে কী আমাদের কোন স্ট্যাণ্ড ছিল না? আলোচনার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে বুঝতে চেষ্টা করা। গ্যাপ দূর করা। আর গঠনমূলক নিয়মতান্ত্রিক আলোচনায় কখনোই ক্ষতি হয় না, লাভ ছাড়া।
      যে দুটো পয়েন্ট তুলে ধরলেন, সেটার গোলক ধাঁধা দূর করতে হলে, সব কিছু ভুলে গিয়ে এই বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে, সেটা নিয়ে নিচে আসছি ইনশাআল্লাহ।

  18. 15
    মো: সালাম

    ইবনে আব্বাস বর্ণিত- ওমর বললেন, আমার ভয় হয় অনেক দিন পার হয়ে গেলে লোকজন বলাবলি করতে পারে -“ আমরা কোরানে রজম(পাথর মেরে হত্যা) সম্পর্কে কোন আয়াত পাচ্ছি না এবং অত:পর তারা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ম ভূলে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।দেখ, আমি নিশ্চিত করে বলছি, যেই ব্যভিচার করবে তার ওপর পাথর মেরে হত্যার শাস্তি কার্যকর করা হোক এমনকি যদি সে বিবাহিত হয়, অথচ তার অপরাধ যদি সাক্ষী বা গর্ভধারণ বা স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমানিত হয়, তাহলেও”। সুফিয়ান যোগ করল, “আমি বিবৃতিটি এভাবেই শুনেছিলাম যা আমি স্মরণ করি এভাবে যে ওমর আরও বলল-আল্লার নবী নিজেও পাথর মেরে হত্যার শাস্তি কার্যকর করেছিলেন এবং আমরাও তাঁর পর এটা কার্যকর করেছিলাম”। সহি বুখারী, বই-৮২, আয়াত-৮১৬
     
    আচ্ছা উপরোক্ত হাদিসটি কি সহি নাকি জয়িফ ? যদি সহি হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে রজম সম্পর্কিত একটা আয়াত নাজিল হয়েছিল নবীর আমলে কিন্তু বর্তমান কোরানে তা সংকলিত হয় নি । কেন হয় নি , বলা যাবে ? এ ব্যপারে কারো কোন ধারনা আছে ?  এ আয়াত যদি মানসুক ( বাতিল ) হওয়ার কারনে কোরানে সংকলিত না হয়ে থাকে, তাহলে অন্য বাতিল হওয়া আয়াত কোরানে সংকলন হলো কেন ? আশা করি যথাযথ উত্তর পাব।

    1. 15.1
      সাদাত

      এই প্রসঙ্গে এখন আসতে চাচ্ছি না। আগে রজমের দলিল কী? রজম কীভাবে করতে হবে, এসব নিয়ে আলোচনা শেষ করি, তারপর এসব বিষয়ে আলোচনা করা যাবে। আপাতত সংক্ষেপে এতটুকু বলি, মাখসুখ আয়াত ৩ প্রকার: 
      ১. যার হুকুম রহিত হয়েছে, কিন্তু তিলাওয়াত রহিত হয় নাই, [এই ধরণের আয়াত কুরআনের অংশ]
      ২. যার তিলাওয়াত রহিত হয়েছে, কিন্তু হুকুম রহিত হয় নাই [এই ধরণের আয়াত এখন আর কুরআনের অংশ নয়]
      ৩. যার হুকুম ও তিলাওয়াত উভয়ই রহিত হয়েছে। [এই ধরণের আয়াত এখন আর কুরআনের অংশ নয়]
      আপনার উল্লেখিত রহিত আয়াতটি ২য় ক্যাটাগরির। তবে কোন রহিত আয়াত (যার অস্তিত্ব কুরআনে নেই) কোন আমলের দলিল হতে পারে না, এজন্য অবশ্যই সুন্নাহর দলিল থাকতে হবে।  

  19. 14
    এস. এম. রায়হান

    সাদাত ভাই,
     
    আলোচনার জন্য যেহেতু পোস্ট দিয়েছেন সেহেতু এখানে একটু আলোচনা করা যাক।
     
    কোরানে চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়ার বিধান আছে। চোরের হাত কেটে দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে চুরি-ডাকাতি কমানো বা বন্ধ করা। প্রশ্ন হচ্ছে চোরেরা কি চুরি করে তা স্বীকার করে? উত্তর হচ্ছে, না। তাহলে চোরকে কীভাবে ধরা হয়? এর উত্তর আশা করি বলে দিতে হবে না।
     
    অনুরূপভাবে, শারিয়া আইনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড [বিভিন্ন লেখা থেকে জেনেছি, তবে ঠিক কোথায় লিখা আছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত না]। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার উদ্দেশ্য কী? অবশ্যই সমাজে ধর্ষণ কমানো বা বন্ধ করা। প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ষকরা কি ধর্ষণ করে নিজ থেকে তা স্বীকার করে? ব্যতিক্রম কেস থাকলে থাকতেও পারে, তবে সাধারণত ধর্ষকরা কখনোই নিজ থেকে তা স্বীকার করে না। তাহলে ধর্ষককে কীভাবে ধরা হয়? এর উত্তরও আশা করি বলে দিতে হবে না।    
     
    এবার ব্যভিচারের ক্ষেত্রে আসা যাক। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-
     
    ১. ব্যভিচারের শাস্তির উদ্দেশ্য কী?
     
    ২. ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে কীভাবে ধরা হবে?

    1. 14.1
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:
      এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবেন ইনশাআল্লাহ।

    2. 14.2
      সাদাত

      ১ম প্রশ্নের উত্তর:
      ব্যভিচারের শাস্তি ২ ভাবে হতে পারে, 
      ১. 'হদ'-এর মাধ্যমে (স্বাধীন বিবাহিতের জন্য রজম, স্বাধীন অবিবাহিতের জন্য ১০০ বেত্রাঘাত)
      ২. 'তাযির' এর মাধ্যমে (এই শাস্তি বিচারক সবকিছু বিবেচনা করে নির্ধারণ করবেন)
      ব্যভিচারের হদ প্রয়োগের জন্য অনেক অনেক শর্ত পূরণ করতে হবে, সেগুলো এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। একটি শর্ত পূরণ না হলে, বা বিন্দুমাত্র সন্দেহ দেখা দিলে 'হদ' রহিত হয়ে যায়।
      কোন ক্ষেত্রে শর্তের অভাবে হদ প্রয়োগ না করা গেলে, বিচারক তাযির প্রয়োগ করতে পারেন।
      ২য় প্রশ্নের উত্তর:
      ইসলাম নিজে খুঁজে খুঁজে অপরাধীদের বের করবে না। কেবল যেসব অপরাধ প্রকাশ পেয়ে গেছে বা আদালতে এসেছে সেগুলোকেই আমলে নেবে।

  20. 13
    এস. এম. রায়হান

    এখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে যেটি "২৫,০০০ টাকা বনাম ৫০,০০০ টাকা" কিংবা "১০০টি বেত্রাঘাত বনাম ১৫০টি বেত্রাঘাত" কিংবা "সালাত পাঁচ ওয়াক্ত নাকি তিন ওয়াক্ত" জাতীয় কিছু না।
     
    বরঞ্চ দু-জন মানুষের সম্মতিতে একটি অপরাধের জন্য তাদেরকে কিছু শাস্তি দিয়ে জীবিত রাখা হবে নাকি পাথর ছুঁড়ে একেবারে হত্যা করা হবে -- এমন একটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হচ্ছে [নোট: দু-জন মানুষের সম্মতি ছাড়া অবৈধ সেক্সকে ব্যভিচার হিসেবে গণ্য করা হয় না]। ফলে এরকম একটি অপরাধের জন্য দু-জন মানুষকে হত্যার পক্ষে যিনি রায় দিবেন তার উপরই সকল প্রকার দায়িত্ব বর্তাবে।
     
    ব্যাপারটা যেহেতু জীবন-মরণ সমস্যা [আবারো বলছি, এটি "টাকা-পয়সা" কিংবা "সালাত দুই ওয়াক্ত নাকি পাঁচ ওয়াক্ত" জাতীয় কিছু না] সেহেতু কোরআনের বাইরের উৎস দিয়ে এটিকে জাস্টিফাই করা কতটুকু যৌক্তিক সে ব্যাপারে গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত।

    1. 13.1
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:
      রজম কিভাবে বাস্তবায়ণ করতে হবে, সে সংক্রান্ত পোস্টের জন্য অপেক্ষা করুন। আশা করি আপনার উদ্বেগ দূর হবে।

    2. 13.2
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:
      ইসলামের সকল বিধানের ক্ষেত্রে নিয়ম একটাই আর তা হলো কুরআন এবং সুন্নাহ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটা টাকা-পয়সার বিধান হোক, নামায-রোযার বিধান হোক আর জীবন-মরণ সংক্রান্ত বিধানই হোক।

  21. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    একপাশ ঠিক আছে -- রজম কোরান বিরোধী না। মানতে অসুবিধা নেই। 
     
    অনুরোধ করবো -- যদি সম্ভব হয় রজম সংক্রান্ত হাদিসগুলো নিয়ে একটা লেখা দেন। ধন্যবাদ। 

  22. 11
    এস. এম. রায়হান

    ব্যভিচারের শাস্তির জন্য কেনো কোরআনের বাইরে যেতে হবে -- এর পক্ষে সুস্পষ্টভাবে ও পয়েন্ট আকারে যুক্তি দেন।

    1. 11.1
      শাহবাজ নজরুল

      এটা তো ইসলামের মৌলিক মেথডলজি নিয়েই প্রশ্ন হয়ে গেলো। আপনি বরং এই প্রশ্নের উত্তর দেন --
       
      শারিয়ার যেকোনো ধারার জন্যেই কেনো কেবল কোরানের আওতার মধ্যেই থাকতে হবে?
       
      উত্তর নিজের আবেগ, অনুভুতি ও উপলব্ধি দিয়ে না দিয়ে ইসলামিক সুত্র ও পরম্পরা থেকে দিন। আপনাকে দেখাতে হবে যে মূলধারার মুসলিমদের মধ্যে কে কে বলেছেন যে শারিয়ার কিছু কিছু বিধান কেবল কোরানের ভেতর থেকেই নিতে হবে- কোরানের আওতার বাইরে যাওয়া যাবেনা।

      1. 11.1.1
        এস. এম. রায়হান

        উল্টোটা প্রমাণ করতে হবে কেনো বুঝলামনা। শারিয়ার #১ ভিত্তি তো কোরআন, নাকি অন্য কিছু। যদি কোরআন হয় তাহলে ব্যভিচারের শাস্তির জন্য কোরআন সাফিশিয়েন্ট কি-না তা না দেখে অযথায় কোরআনের বাইরে যেতে হবে কেনো, এই প্রশ্নটাই তো সর্বাগ্রে আসা উচিত। কেউ যদি সুস্পষ্ট যুক্তি দিয়ে দেখাতে পারেন যে ব্যভিচারের শাস্তির জন্য কোরআন সাফিশিয়েন্ট নয়, সেক্ষেত্রেই কেবল কোরআনের বাইরে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসার কথা। নাকি ভুল বললাম।

        1. 11.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          শারিয়ার বিধানের ক্ষত্রে কোরান ও সুন্নাহ (বা হাদিস) পাশাপাশি চলে। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা চলেনা। কোনো বিষয়ের সমাধা কোরান ও সুন্নাহ মিলিয়ে করতে হবে। কোরান পর্যাপ্ত না হলে হাদিসে যাবো এমন কথা কোথাও শোনা যায়নি -- কেবল মুয়াদ বিন জাবল (রা.) একটি হাদিস ছাড়া। মোহাদ্দেসগণ মুয়াদ বিন জাবলের সেই হাদিসেও সমস্যা পেয়েছেন (যতদুর মনে পড়ে দূর্বল হাদিস)। আহলে সুন্নাহ ওয়া আল জামাহ (sunni schools of thoughts) এর মেথডলজি হচ্ছে কোনো বিষয়ে সুরাহা করতে কোরান ও সুন্নাহ পাশাপাশি নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এই মেথডলজি ব্যবহার করতেন আমাদের সকল পূর্বসুরিরা -- তাই রজম নিয়ে কারুর মধ্যেই কোনো সমস্যা ছিলোনা। আমার জানা মতে সুন্নি স্কুলের এমন কোনো স্কলার নেই যিনি রজমের ব্যপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই বলে যে এ সম্পর্কে কোরানে স্পষ্ট ভাষ্য নেই। এইসব ধারণা আধুনিক ও নতুন। ট্রাডিশনাল সুন্নি স্কুলে নামাযের ওয়াক্ত, আকীকা, নামায পড়ার ধরন, তারাবীহ তে কয় রাকাত … ইত্যাদি অনেক বিষয়ে মতদ্বৈততা পাওয়া যায় -- তবে রজমের ব্যপারে কোনো ধরণের দ্বিমত আছে বলে জানা নেই। তবে অবশ্যই রজম প্রয়োগের জন্যে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রয়োজন। আর মুনিম ভাইয়ের মতো বাসা থেকে ধরে নিয়ে রজম প্রয়োগ করা হবে -- এমন ধারণাও রজমে নেই। এ নিয়ে সাদাত ভাই আরো ক্লিয়ার করবেন বলে আশা রাখছি।
           

        2. এস. এম. রায়হান

          শারিয়ার বিধানের ক্ষত্রে কোরান ও সুন্নাহ (বা হাদিস) পাশাপাশি চলে। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা চলেনা। কোনো বিষয়ের সমাধা কোরান ও সুন্নাহ মিলিয়ে করতে হবে।

          ১মত, সুন্নাহ ও হাদিসগ্রন্থগুলো এক জিনিস নয় যদিও হাদিসগ্রন্থগুলোতে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা আছে। অর্থাৎ সুন্নাহ মানেই সেটি হাদিসগ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ থাকতে পারে কিন্তু যাহা কিছু হাদিসগ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ আছে তাহাই সুন্নাহ নহে। আশা করি এ ব্যাপারে একমত হবেন।
           
          ২য়ত, কোনো বিষয়ের সমাধান কোরান ও সুন্নাহ মিলিয়ে করতে হবে -- ঠিক আছে। কিন্তু কোনো বিষয়ে কোরানকে কন্ট্রাডিকটরি দেখিয়ে কি সুন্নাহতে তার সমাধান খোঁজা যাবে?

        3. 11.1.1.2
          শাহবাজ নজরুল

          শেখ জামাল যারাবোযো তাঁর The Authority and Importance of the Sunnah বইয়ের ৪র্থ অধ্যায়ের উপসংহারে বলেছেন,
           

          There is no question that both the Quran and the
          sunnah have as their source Allah. They are both
          inspirations from Allah and, therefore, they both
          must be submitted to on an equal basis. In legal
          authority and purpose, there is no difference
          between the one revelation that is recited as part
          of the Book and that revelation which is not recited
          as part of the Book: Together they constitute the
          guidance for mankind.

           
          বইটি ডাউনলোড করে পড়ে নিন প্লিজ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বই -- মৌলিক আক্বীদার সাথে জড়িত।
           

    2. 11.2
      সাদাত

      শুধু ব্যভিচারের শাস্তি নয় যেকোন বিধানের ব্যাপারেই কুরআন-সু্ন্নাহ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু কুরআনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামের সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। 

  23. 10
    মুনিম সিদ্দিকী

    যাক! রজমের বিষয়ে হয়তো এইটি আমার শেষ মন্তব্য।
    প্রথমতঃ যেটি বলতে চাই তা হচ্ছে – কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে রজম হচ্ছে কোরআন সম্মত শাস্তি। তাই সাদাত ভাই ও পারেননি।
    কারণ আল কোরআনে হত্যার মত শাস্তি দেয়ার কথা উল্লেখ আছে শুধু দুটি কারণে এক, হত্যার বদলে হত্যা দুই, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাঃ বিরুদ্ধে যুদ্ধ তথা রাষ্ট্র ও সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীকে হত্যা। তা আমরা এই আয়াত থেকে জানতে পারি-
    ৫-৩২। এই কারণে বণী ইসরাঈলীদের এই বিধান দিলাম যে নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করার কারণ ব্যতীত যদি কেহ কাউকে হত্যা করে, সে যেনো দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করলো ।
    ৫-৩৩। যারা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায় এবং সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের প্রসারের জন্য । তাদের শাস্তি হচ্ছে; তাদের হত্যা করা হবে, অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে  অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। পৃথিবীতে এটাই হবে তাদের লাঞ্জনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
     
     
     তবে তাদেরকে এই শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য বিকল্প বিধানও আছে। যেমন নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ যদি হত্যাকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেয়। রক্তপণ পরিশোধ করা হয়। আর বিশৃংখলাকারী যদি সে পথ পরিহার করে এবং অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়।
     
    ৫-৩৪। ব্যতিক্রম হবে তারাই যারা তোমার আয়ত্তাধীনে আসার পূর্বে অনুতপ্ত [তওবা] হবে। সে ক্ষেত্রে জেনে রাখ যে, আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
     
    কিন্তু প্রশ্ন আসছে যে কোরআনে উল্লেখ না থাকলে কি সুন্নাহয় থাকলে তা মানতে হবে?
    রাসুল সাঃ সুন্নাহকে যে মানতে হবে তা কোরআনের এই আয়াত থেকে নির্দেশ পাই-
    ৩৩-২১। যারা আল্লাহ্‌ শেষ বিচারের দিনে [ মুক্তির ] আশা রাখে, এবং যারা আল্লাহ্‌র প্রশংসায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে, তাদের জন্য রাসুলের [ চরিত্রে ] রয়েছে উত্তম আদর্শ ।
    ৫-৯২। তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর
    আরও আয়াত আছে- ২৪-৫৪, ৬৪-১২ ইত্যাদি।
    আমরা নির্ভর যোগ্য হাদিসে দেখতে পাই যে রাসুল সাঃ নিজে রজম করেছেন। এবং পরবর্তিতে খলিফাগণ করে গেছেন। এবং আমাদের যত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আছেন সবাই এই শাস্তিকে বৈধ বলে রায় দিয়ে গেছেন। তবে হাদিস থেকে জানতে পারি যে তারা সবাই উমর রাঃ এর মত বলে গেছেন যে, আমরা রাসুল সাঃ তা করতে দেখেছি সে কারণে রাসুল সুন্নত হিসাবে আমরাও তা করে যাচ্ছি।
    এখানে দেখা যাচ্ছে যে অমুক করে গেছেন তাই আমরা করছি। কেন করছি তা কেউ জানার চেষ্টা করাকে অপরাধ বলে গণ্য হয়ে যায়।
    আমরা হাদিস থেকে যত গুলো রাসুল সাঃ কর্তৃক রজম করার ঘটনা দেখি তাতে সকল ঘটনার অপরাধীরা তারা নিজ থেকে পবিত্র হতে রাসুল সাঃ অনেক অনুরোধ করার পর তাদেরকে রজম করা হয়েছিল। যিনাকারী মানে তাকে ঘর থেকে ধরে এনে রজম দেয়া হয়নি।
    এবং ঐ সকল ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে শুধু যিনা করার জন্য শাস্তি নয় এখানে স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার বড় অপরাধ জড়িয়ে ছিল। সেই সময়ে প্রযুক্তগত অসুবিধার জন্য অন্যান্য সামাজিক পারিবারিক গোত্রীয় সমস্যা দেখা দিত যিনার মাধ্যমে জন্ম নেয়া সন্তানদের জীবন বিড়ম্বনাময় হয়ে উঠত। অনেক ক্ষেত্রে এদের হত্যাকরার মত অপরাধ ঘটে যেত।
    সমাজ জীবনের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রজম মেনে নিলেও আমার মনে যে প্রশ্ন আসে তা হচ্ছে- উমর রাঃ বা অন্যরা যে আয়তের কথা উনারা উল্লেখ করছেন যাতে রজমের আদেশ ছিল। সেই আয়াত কেন রাসুল সাঃ অনুরোধ করার পরও লিপিবদ্ধ করে গেলেন না?
    কারণ তো আমরা জানি কোরআনের কোন অংশ হারিয়ে যায়নি। যাবার কথাও না, কারণ কোরআন সংরক্ষণ স্বয়ং আল্লাহ করবেন। তাছাড়া ঐ আয়াত যদি কোরআনের অংশ হত তাহলে তো সাহাবীরা তা সংরক্ষণ করে যেতেন। যা উমরা রাঃ এর করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু করতে পারেন নি।

    1. 10.1
      সাদাত

      প্রথমতঃ যেটি বলতে চাই তা হচ্ছে – কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে রজম হচ্ছে কোরআন সম্মত শাস্তি। তাই সাদাত ভাই ও পারেননি।
       

      আমি তো এরকম কিছু প্রমাণ করার চেষ্টাই এখনো করি নাই। কাজেই প্রমাণ করেতে পেরেছি কি পারি নাই, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত অমূলক।
      এই পোস্টের আলোচনা রজম কুরআন পরিপন্থী কিনা সেটা আলোচনা করা। এই কমেন্টেই আপনি স্বীকার করেছেন রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবী(রা.) রজমের প্রয়োগ করেছেন। রজম কুরআন পরিপন্থী হলে উনারা সকলেই কুরআন পরিপন্থী বিধান প্রয়োগের দায়ে অপরাধী হয়ে যাবেন। (নাউযুবিল্লাহ) 

    2. 10.2
      সাদাত

      আমরা নির্ভর যোগ্য হাদিসে দেখতে পাই যে রাসুল সাঃ নিজে রজম করেছেন। এবং পরবর্তিতে খলিফাগণ করে গেছেন। এবং আমাদের যত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আছেন সবাই এই শাস্তিকে বৈধ বলে রায় দিয়ে গেছেন। তবে হাদিস থেকে জানতে পারি যে তারা সবাই উমর রাঃ এর মত বলে গেছেন যে, আমরা রাসুল সাঃ তা করতে দেখেছি সে কারণে রাসুল সুন্নত হিসাবে আমরাও তা করে যাচ্ছি।
      এখানে দেখা যাচ্ছে যে অমুক করে গেছেন তাই আমরা করছি। কেন করছি তা কেউ জানার চেষ্টা করাকে অপরাধ বলে গণ্য হয়ে যায়।

      কেন করছি তা জানার চেষ্টা কেউ করেন নাই, করলেন এই আপনি!!
      দেখা যাক কেন রজম করতে হবে তা সাহাবীরা জানতেন কিনা, নাকি শুধু মাত্র অমুকে করে গেছেন বলেই করেছেন।

      Narrated `Abdullah:
      Allah's Messenger () said, "The blood of a Muslim who confesses that
      none has the right to be worshipped but Allah and that I am His
      Apostle, cannot be shed except in three cases: In Qisas for
      murder, a married person who commits illegal sexual intercourse
      and the one who reverts from Islam (apostate) and leaves the
      Muslims."

      Reference : Sahih al-Bukhari 6878
      In-book reference : Book 87, Hadith 17
      USC-MSA web (English) reference : Vol. 9, Book 83, Hadith 17
      http://sunnah.com/bukhari/87/17
      *************************************************************
      It was narrated from 'Aishah that:
      The Messenger of Allah [SAW] said: "It is not permissible
      to shed the blood of a Muslim except in three cases:
      An adulterer who had been married, who should be
      stoned to death;
      a man who killed another man
      intentionally, who should be killed; and a man who left Islam
      and waged war against Allah, the Might and Sublime, and
      His Messenger, who should be killed, or crucified, or banished
      from the land." (Sahih)
      Reference : Sunan an-Nasa'i 4048
      In-book reference : Book 37, Hadith 83
      English translation : Vol. 5, Book 37, Hadith 4053
      http://sunnah.com/nasai/37#83
      **********************************************
      Narrated Aisha, Ummul Mu'minin:
      The Messenger of Allah () Said: The blood of a Muslim man
      who testifies that there is no god but Allah and that
      Muhammad is Allah's Apostle should not lawfully be
      shed except only for one of three reasons: a man who
      committed fornication after marriage, in which case he should
      be stoned;
      one who goes forth to fight with Allah
      and His Apostle, in which case he should be killed or
      crucified or exiled from the land; or one who commits
      murder for which he is killed.

      Grade: Sahih (Al-Albani) صحيح (الألباني) حكم:
      Reference : Sunan Abi Dawud 4353
      In-book reference : Book 40, Hadith 3
      English translation : Book 39, Hadith 4339
      http://sunnah.com/abudawud/40#3

      এরকম আরো অনেক হাদিস দেওয়া যাবে।
      এর পরও কি বলা যাবে সাহাবীরা জানতেন না কেন রজম করতে হবে, শুধু অমুকে করতেন বলে করতেন?

  24. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এই পোষ্টটাকে স্টিকি করার অনুরোধ করছি। 

  25. 8
    এস. এম. রায়হান

    আপনি যেভাবে ২৪:২ ও ৪:২৫ এর উদাহরণ দিয়ে কন্ট্রাডিকশন দেখাতে চেয়েছেন সেটিকে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কোরআনে কিছু কিছু বিষয়ে যেমন জেনারেলাইজড বক্তব্য আছে তেমনি আবার একই বিষয়ে স্পেসিফিক বক্তব্যও আছে। একই বিষয়ে এই ধরণের জেনারেলাইজড ও স্পেসিফিক বক্তব্যের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে কিছু জাস্টিফাই করতে গেলে সমস্যা আছে।
     
    ২৪:২ একটি জেনারেলাইজড আয়াত যেখানে ব্যভিচারের জন্য শাস্তির কথা লিখা আছে, তবে কোন ধরণের ব্যভিচার তা উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।
     
    দুটি আয়াতকে যদি পাশাপাশি রেখে বিবেচনা করা হয় তাহলে,
     
    ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।
     
    ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
     
    উল্লেখ্য যে, এর দ্বারা এও প্রমাণ হচ্ছে যে, ইসলাম ক্রীতদাসিদের প্রতি বেশী মানবিক।
     
    নোট- কোরআনে কি 'ক্রীতদাসি' বলে কোনো শব্দ আছে? নাকি এটি 'যুদ্ধবন্দী নারী' হবে?

    1. 8.1
      শাহবাজ নজরুল

      সাদাত ভাই ভালো লিখেছেন -- তবে আপনি যেভাবে বললেন তাও যুক্তিপূর্ণ। তাই মনে হয়না কেবল কোরানের আলোকে রজমের শাস্তি পুরোপুরি স্থাপিত করা যাবে। এক্ষেত্রে কোরান-হাদীস একসাথে না দেখে কোনো উপায় নেই। রজম যদি শারিয়া বিরুদ্ধ হতো তবে তা প্রয়োগ করা রাসুল (সা.) এর উপর হারাম হতো। তাই আগে দেয়া মুনিম ভাইয়ের কথা (অর্থাৎ, রাসুল (সা.) ইস্তেহাদ করে রজমের রায় দিয়েছিলেন -- ওহীর মাধ্যমে নয়) এটা ঠিক নয়। আমি সঠিক জানিনা -- হয়তো সাদাত ভাই বলতে পারবেন -- তবে মনে হয় ইস্তেহাদ করা রাসুল (সা.) এর উপর বর্তায় না। ইস্তেহাদ কেবল উম্মতদের জন্যে সংরক্ষিত।

      --শাহবাজ

    2. 8.2
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:
      তাহলে ক্রীতদাস ব্যভিচার করলে কী শাস্তি হবে?

      1. 8.2.1
        এস. এম. রায়হান

        ৪:২৫ আয়াতে যদি নির্দিষ্ট করে ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা থাকে তাহলে ব্যভিচারি ক্রীতদাসের শাস্তি ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তির মধ্যে যুক্ত করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নাকি ভুল কিছু বললাম।

        1. 8.2.1.1
          সাদাত

          @এস. এম. রায়হান:
          আপনার যুক্তি অনুসারে,

          ৪:২৫ আয়াতে যদি নির্দিষ্ট করে [বিবাহিত] ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা থাকে তাহলে [অবিবাহিত] ব্যভিচারি [ক্রীতদাসির] শাস্তি ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তির মধ্যে যুক্ত করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

    3. 8.3
      এস. এম. রায়হান

      পুনশ্চ: বলতে ভুলে গেছিলাম। যে আয়াত দুটিকে কন্ট্রাডিকশন বলেছেন সেটি আসলে কন্ট্রাডিসটিংশন হবে, মানে কনটেক্সট অনুযায়ী উভয় আয়াতই সঠিক। কোরআনে এরকম আরো অনেক আয়াত আছে।

      1. 8.3.1
        সাদাত

        @এস. এম. রায়হান:
        আমি তো কুরআনে কন্ট্রাডিকশন আছে, এমন কোন কথা বলি নাই। বলেছি:

        ফলে তাদের বক্তব্য আসলে কন্ট্রাডিকশনেই ঘুরপাক খায়।

    4. 8.4
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:

      আপনি যেভাবে ২৪:২ ও ৪:২৫ এর উদাহরণ দিয়ে কন্ট্রাডিকশন দেখাতে চেয়েছেন সেটিকে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কোরআনে কিছু কিছু বিষয়ে যেমন জেনারেলাইজড বক্তব্য আছে তেমনি আবার একই বিষয়ে স্পেসিফিক বক্তব্যও আছে। একই বিষয়ে এই ধরণের জেনারেলাইজড ও স্পেসিফিক বক্তব্যের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন দেখিয়ে কিছু জাস্টিফাই করতে গেলে সমস্যা আছে।

      তাহলে এই বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করতে পারি যে, কুরআনের কোন জেনারালাইজড স্টেটমেন্টও ব্যাখ্যাতীত নয়, তাকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে। আর এই ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখেন তিনিই, যার ওপর এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

      ২৪:২ একটি জেনারেলাইজড আয়াত যেখানে ব্যভিচারের জন্য শাস্তির কথা লিখা আছে, তবে কোন ধরণের ব্যভিচার তা উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ৪:২৫ একটি স্পেসিফিক আয়াত যেখানে শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসির শাস্তির কথা লিখা আছে।

      জ্বি খুব ভালো করে মনে রাখুন, শুধু বিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসি, ক্রীতদাস বা অবিবাহিত ক্রীতদাসি নয়। (আপনার যুক্তি অনুযায়ী)

      দুটি আয়াতকে যদি পাশাপাশি রেখে বিবেচনা করা হয় তাহলে,

      ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।

      ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

      একটু যে ভুল হয়ে গেল, একটু আগেই বলেছেন শুধু বিবাহিত ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

      ফলে আপনার সিদ্ধান্তের শুদ্ধরূপ হওয়া উচিত:
      ১. ২৪:২ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি একমাত্র বিবাহিত ক্রীতদাসি ছাড়া বাকি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে বা হওয়া উচিত।
      ২. ৪:২৫ আয়াতে বর্ণিত শাস্তি [বাকি সবার অর্ধেক] শুধুমাত্র বিবাহিত ক্রীতদাসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

      তার মানে আপনার সিদ্ধান্ত অনুসারে,
      অবিবাহিত ব্যভিচারি ক্রীতদাসি ব্যতিক্রমের আওতামুক্ত, ফলে তার শাস্তি কিন্তু জেনারালাইজড শাস্তি।
      কাজেই,
      ১ অনুসারে অবিবাহিত ক্রীতদাসির শাস্তি = ১০০ বেত্রাঘাত
      ২ অনুসারে বিবাহিত ক্রীতদাসির শাস্তি = (১০০/২) = ৫০ বেত্রাঘাত

      বিবাহ করে ব্যভিচার করলে শাস্তি অর্ধেক, এটা কি খুব যৌক্তিক মনে হচ্ছে?

      1. 8.4.1
        এস. এম. রায়হান

        আমার জানামতে কোরআনের কোথাও বিবাহিত ও অবিবাহিত অপরাধীধের [তা ব্যভিচার বা যা-ই হোক] ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। ফলে আপনি ঠিক কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

        1. 8.4.1.1
          সাদাত

          @এস. এম. রায়হান:
          এই আলোচনা কুরআনে যা উল্লেখ আছে, কেবল তার ভিত্তিতে চলছিল। কুরআনে যা নেই তার ভিত্তিতে নয়।

          অতঃপর যখন তারা (ক্রীতদাসি) বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। (৪:২৫, প্রাসঙ্গিক অংশ)

          আমরা যদি শুধু কুরআনকই বিবেচনা করি, তবে এই আয়াত তো খুব সুস্পষ্টভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পর ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা করছে। তা না হলে “অতঃপর যখন তারা (ক্রীতদাসি) বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন” কেন বলা হয়েছে?

      2. 8.4.2
        এস. এম. রায়হান

        ধরা যাক, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের একজন অ-বিবাহিত নারী/পুরুষ এবং আঠার বছর বয়সের একজন বিবাহিত নারী/পুরুষ একই অপরাধ করলো। আপনার যুক্তি অনুযায়ী পঞ্চাশোর্ধ বয়সের [অ-বিবাহিত] অপরাধীর চেয়ে আঠার বছর বয়সের [বিবাহিত] অপরাধীর বেশী শাস্তি হওয়া উচিত?

        1. 8.4.2.1
          সাদাত

          সব অপরাধের শাস্তি এক ধরণের হতে হবে, বা সব অপরাধে একই বিষয় বিবেচনা করতে হবে, এমন কোন কথা আছে?
          কুরআনে চোরের হাত কাটার কথা আছে। সেখানে কি ক্রীতদাসির জন্য আলাদা কোন বিধান আছে? না নেই। তাহলে কি এই প্রশ্ন করা যাবে, ৪:২৫ আয়াতে যেসব ক্রীতদাসি বিবাহবন্ধনে আসার পর ব্যভিচার করে আলাদা শাস্তির বিধান কেন করা হলো?
          কথা হচ্ছিল কুরআনে কী কী উল্লেখ আছে তার ভিত্তিতে, কী উল্লেখ নেই তার ভিত্তিতে নয়। আর এক অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে কোন কিছুকে আমলে নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও নিতে হবে, বা এক অপরাধের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে আমলে না নিলে অন্য অপরাধের ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে না, এটা কুরআনের কোথায় বলা আছে? আর এই বক্তব্যের যৌক্তিকতাই বা কী?

  26. 7
    রাজদরবার

    রজম পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আগত।

  27. 6
    ফুয়াদ দীনহীন

    -স্বাধীন ব্যাক্তি আর পরাধীন ব্যাক্তির আইন কানন ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তার অনেক কিছুই করার থাকে না, অনেক ব্যাপারে কোনই স্বাধীনতা নেই। তাই, আইনের সময় অনেক ক্ষেত্রে তাকে আলাদা করে উল্লেখের দরকার পরে। স্বাভাবিক বর্ননায় স্বাধীন ব্যাক্তির কথাই বর্নিত হয়। 
     
    -আল্লাহ পাক স্বাধীন ব্যাক্তি, পরাধীন ব্যাক্তি উভয়ের শাস্তির কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু রজমের কথা ভুলেও উল্লেখ করলেন না !
     
    দুঃখিত সাদাত ভাই, বরং আপনার যুক্তিগুলোই তাজ্জব মনে হচ্ছে।  

    [বি দ্রঃ রজম আল কোরান পরিপন্থী অথবা পরিপন্থী না, এ ব্যাপারে আমার কোন স্ট্যান্ড নাই। সত্যি বলতে আমি এখন পুরোপুরি ক্লিয়ার হত পারছিনা]

    1. 6.1
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:

      -স্বাধীন ব্যাক্তি আর পরাধীন ব্যাক্তির আইন কানন ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তার অনেক কিছুই করার থাকে না, অনেক ব্যাপারে কোনই স্বাধীনতা নেই। তাই, আইনের সময় অনেক ক্ষেত্রে তাকে আলাদা করে উল্লেখের দরকার পরে।

      আগের পোস্টে বলেছিলেনঃ

      বিবাহিত ব্যাক্তির বিবাহ বহির্ভূত ব্যাবিচার হত্যার চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে সমাজে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, ফলাফলে খুনখারাবি এতই অতিরিক্ষ পর্যায়ে চলে যায় যে নিজ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান হত্যার ঘটনাও ঘটে।

      তার মানে আপনার মতে,
      স্বাধীন ব্যক্তির ব্যভিচার NOT EQUAL TO পরাধীন ব্যক্তির ব্যভিচার
      বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার NOT EQUAL TO বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার

      কাজেই সঙ্গত কারণেই এদের শাস্তিও এক হবার কথা নয়।

      স্বাভাবিক বর্ননায় স্বাধীন ব্যাক্তির কথাই বর্নিত হয়।

      এটা আপনার মত। একইভাবে আমার মত হলো ব্যভিচারের ক্ষেত্রেও ইসলামে স্বাভাবিক বর্ণনায় অবিবাহিতের কথাই বর্ণিত হয়, কেননা বিবাহিতের জন্য তো যৌন চাহিদা পূরণের সুযোগ রাখাই হয়েছে, ফলে তার জন্য অবৈধ যৌনাচার ইসলামে মোটেই স্বাভাবিক বিষয় না। কাজেই ২৪:২ আয়াতে স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন ব্যক্তির কথা বলা হলে, একইভাবে ইসলামের স্বাভাবিকতায় অবিবাহিতের কথা বলা হতেই পারে।

      -আল্লাহ পাক স্বাধীন ব্যাক্তি, পরাধীন ব্যাক্তি উভয়ের শাস্তির কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু রজমের কথা ভুলেও উল্লেখ করলেন না !

      আল্লাহর কারবার! আমার আপনার কী বলার আছে বলেন? তারপরও দেখুন-
      ক্রীতদাস ব্যভিচার করলে কী শাস্তি হবে তা কিন্তু বলা হয় নাই।
      আবার বলা হয়েছে ক্রীতদাসি বিয়ের পর ব্যভিচার করলে অর্ধেক শাস্তি, বিয়ের আগে করলে কী হবে তা কিন্তু বলা হয় নাই।

      দুঃখিত সাদাত ভাই, বরং আপনার যুক্তিগুলোই তাজ্জব মনে হচ্ছে।

      কারো মনে হবার ওপর তো আমার হাত নেই। তবে এক মাধ্যমের সরল কোন কিছুও ভিন্ন মাধ্যম থেকে দেখলে বাঁকা মনে হতেই পারে। সেটা পর্যবেক্ষণের সমস্যা। ধন্যবাদ।

  28. 5
    ফুয়াদ দীনহীন

    বিষয় বহির্ভূত প্রশ্নঃ
    যদি কোন দাসীর বিয়ে তার অধিকারীর বাহিরে অন্য কাউরো সাথে হয়েছে। এখন, যার অধিকারভুক্ত সেই ব্যাক্তি যদি বলে, সে আমার দাসী, দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক হালাল। তাহলে ব্যাপারটি কোন দিকে গেল ?
     
    -আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন। 

    1. 5.1
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:
      মালিকের অনুমতি ছাড়া দাসদাসীর বিবাহ বৈধ নয়।
      মালিকের অনুমতিক্রমে কোন দাসীর বিয়ে হয়ে গেলে,উক্ত দাসীর সাথে মালিকের দৈহিক সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়। করলে সেটা জিনা বলে গণ্য হবে।
      (ইসলামে একজন নারীর সাথে কোনভাবেই একাধিক পুরুষের দৈহিক সম্পর্ক করার সুযোগ নেই। )

      1. 5.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        আরেকয়েকটি প্রশ্ন সাদাত ভাই, ধরেন অনুমতিক্রমেই বিয়ে হল, তাহলে তার পুত্র কন্যাদের কি হবে ? তারা কি দাস-দাসী হবে নাকি মুক্ত হবে। শেষ প্রশ্ন দাস-দাসীর ছেলে মেয়েরা নির্দোষ, তাদের কেন দাস দাসী হতে হবে ?

        1. 5.1.1.1
          সাদাত

          দাস-দাসীর পুত্রকন্যারাও মালিকের দাস-দাসী হবে। -- এটা দাসপ্রথার নিয়ম, এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
          এজন্য ইসলামে অন্যের দাস-দাসীকে বিবাহের অনুমতি দিলেও সেটা পছন্দনীয় কাজ বা উত্তম নয়, বরং বিনা প্রয়োজনে অন্যের দাস-দাসী বিবাহ কর ঠিক নয়। ফিকাহবিদকে এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। (কেউ কেউ হারাম বা মাকরূহ বলেছেন)

          আয়াতটিতেও ইঙ্গিত আছে:
          আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন।

          তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে।

          এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [৪:২৫]

          শেষ অংশটা খেয়াল করুন:

          এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম।
           

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          ধন্যবাদ সাদাত ভাই, আরো কিছু প্রশ্ন ছিল, কিন্তু আলোচনা অন্যদিকে মোড় নিবে, তাই আপাত শেষ। 

  29. 4
    এস. এম. রায়হান

    এই মন্তব্যটি রজমকে সমর্থন বা বাতিল করার জন্য নয়, সে-রকম কোনো অথরিটিও আমি নই নিঃসন্দেহে।
     
    শিরোনামের প্রশ্নটা যদি এভাবে করা হয়,

    বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তি কি কুরআন সম্মত?

    উত্তর হবে, কুরআন সম্মত না। কারণ কুরআনে বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তির কথা লিখা নাই।
     
    এখানে যা বুঝাতে চাচ্ছি তা হচ্ছে এভাবে প্রশ্ন করে অনেক কিছুকেই জাস্টিফাই করা সম্ভব যেগুলো কুরআন পরিপন্থী হবে না। কিন্তু তাই বলে কি সেগুলোকে ইসলামের নামে গ্রহণ করতে হবে? নিশ্চয় না। অতএব, আমাদেরকে মনে হয় অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে।

    1. 4.1
      সাদাত

      আপনার এই সিদ্ধান্ত খুবই সঠিক ও যৌক্তিক যে, কোন কিছু কুরআন পরিপন্থী না হলেই কুরআনসম্মত হয় না।
       
      তবে, আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য মোটেই রজম কুরআনসম্মত কিনা সেটা প্রমাণ করা নয়। সেটা অবশ্যই ভিন্নভাবে প্রমাণ করতে হবে। আমার পোস্টের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র এটাই প্রমাণ করা যে রজম কুরআন পরিপন্থী নয়, কুরআনসম্মত হোক বা না হোক।
       
      পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ আমরা দেখতে চেষ্টা করবো রজম কুরআনসম্মত কিনা। একই সাথে এটাও দেখার চেষ্টা করবো কুরআনে লিখা না থাকা সত্ত্বেও কোন কিছু কুরআনস্মত হতে পারে কিনা।
       
      কাজেই,

      কুরআন সম্মত না। কারণ কুরআনে বিবাহিত ব্যভিচারির জন্য রজমের শাস্তির কথা লিখা নাই।

      আপনার উপরোক্ত বক্তব্যের ব্যাপারে আপাতত নীরবতা অবলম্বণ করলাম।

  30. 3
    এস. এম. রায়হান

    লেখাটি পড়লাম। কোনো মতামত থাকলে পরে আসছি। ইসলামের আলোকে যা সঠিক বা সত্য সেটিকে ইসলামে বিশ্বাসী হিসেবে মেনে নিতে হবে -- তা আপাতদৃষ্টিতে যা-ই মনে হোক না কেনো। এই কথা মাথায় রেখে আমার একটি প্রশ্ন হচ্ছে-
     
    প্রয়োজনে কোরআনের বাইরের উৎসে যাওয়ার দরকার হলে অবশ্যই যেতে হবে, কিন্তু প্রয়োজন না হলেও কি যেতে বাধ্য?

    1. 3.1
      সাদাত

      ভালো প্রশ্ন।

    2. 3.2
      সাদাত

      ভেবেছিলাম উত্তরটা বিশদভাবে ভিন্ন পোস্টে দেবো। কিন্তু উত্তর না দিলে, আপনি আবার ভাবতে বসেছিলেন, এড়িয়ে যাচ্ছি, তাই সংক্ষেপে আপনার সব প্রশ্নই টাচ করার চেষ্টা করছি।
      প্রয়েজন/অপ্রয়োজন নেই, সব ক্ষেত্রেই কুরআন-সুন্নাহ মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

  31. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    ফলে অবিবাহিত ব্যভিচারি বা বিবাহিত ব্যভিচারি যাদের বিরূদ্ধে রজম প্রয়োগের শর্ত পূরণ হয়নি, তারা তো বেঁচেই থাকবে, আর বেঁচে থাকলে বিয়েও করবে।
    কাজেই রজম অস্বীকারকারিদের এই যুক্তি মাঠেই মারা গেল।

     
    যুক্তি মাঠে মারা নয় আপনি যুক্তিকে গাছে তোলে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে!  কারণ উক্ত আয়াতে শুধু ব্যাভিচারী ব্যাভিচারীনীকে বিয়ে নয় মুসলিমকে মুশরিকদের সাথে বিয়ে করতে নির্দেশ দিচ্ছে! তাহলে ধরে নিতে পারি যে ইসলাম মুসলিম মুশরিকদের মধ্যে বিয়ে অনুমোদন দেয়!!!
     

    ব্যভিচারিণীকে(আরবী “যানিয়াহ”) কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে।”
    ব্যভিচারিণী (আরবি “যানিয়াহ”) বলতে এই আয়াতে যদি বিবাহিত ব্যভিচারিণীকে বুঝানো হয়, তবে খুব সঙ্গত প্রশ্ন হচ্ছে, বিবাহিত নারী আরেক জন পুরুষকে কিভাবে বিবাহ করে? কাজেই, ২৪:৩ আয়াতটিই বরং সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তার আগের আয়াতে যে শাস্তির আলোচনা হচ্ছিল সেটা বিবাহিতের শাস্তি নয়, অবিবাহিতের শাস্তি।

     
    কেন ভাই কারো স্ত্রী যদি যিনা করে যানিয়াহ হয়ে যায় তখন কি তাঁর স্বামী তাকে আবার স্ত্রী রূপে গ্রহণ করে নিবে? আমরা তো হাদিসে দেখেছি যে যিনার অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে তখন রাসুল সাঃ স্বামীকে স্ত্রী তালাক দিতে নির্দেশ করেছিলেন। সেই ভাবে স্ত্রীকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন। আর পরিত্যাক্তা নারী সে আবার বিয়ে করতে পারে। কাজেই এখানে আপনার যুক্তি খুব শক্তিশালী হয়নি বলেই আমার মনে হচ্ছে!
     

    আসুন দেখা যাক কী বলা আছে ৪:২৫ আয়াতে-
    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন (الْمُحْصَنَاتِ) মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের (الْمُحْصَنَاتِ) অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [৪:২৫]

    আমি এই আয়াতকে ভেংগে ভেঙ্গে তোলে ধরছি দেখুন তো কেমন লাগে!

    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন (الْمُحْصَنَاتِ) মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন।

    এইখানে মুহছানাত শব্দ দ্বারা শুধু স্বাধীন নারীর কথা উল্লেখ থাকলেও এই শব্দ ধারা প্রমাণিত কি হয় যে ঐ স্বাধীন নারীর মানে কুমারী?বিধবা? তালাকা?  বাকি আয়াত টুকুতে   নিজের অধীনে থাকা ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। নিজের অধীনের দাসীদেরকে  বিনা মোহরে হালাল বানান হয়।
     
    তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না।
     
    এই আয়াতের শানে নজুল যদি দেখেন তাহলে দেখবে যে মক্কা থেকে বেশ কিছু পতিতারা মদিনায় এসেছিল। এবং তারা মুশরিক ছিল। তাদেরকে কিছু সাহাবীগণ বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তখন রাসুল সাঃ তাদেরকে বিয়ে না করে নিজেদের দাসী বা অন্যের মুসলিম দাসীদের মোহর দিয়ে বিয়ে করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যিনাকারী মানে এখানে সেই পতিতাদের কথা বলা হচ্ছে সেই যিনাকারীনীর কথা বলা হচ্ছেনা যে ক্ষণিকের উত্তেজনায় কিছু করে বসেছে। আর এই পতিতারা আসলে মুমিনা ছিলনা ছিল মুসরিক। তাই বলা হচ্ছে যে এই সব পতিতা মুশরিক রা তাঁর প্রতিনিয়ত যিনাকারী এবং মুশরিকদেরকে বিয়ে করবে।
     

    অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের (الْمُحْصَنَاتِ) অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [৪:২৫]

     
    এই বার এই আয়াত খুব শান্ত মাথায় পাঠ করেন দেখুন এখানে কোন অবিবাহিত নারীদের কথা বলা হচ্ছে নিশ্চিত হয়া যাচ্ছেনা। বলা হচ্ছে – যে দাসীদের তোমরা বিয়ে করবে সেই দাসীরা যদি যিনা করে তাহলে তাদেরকে স্বাধীন নারীর অর্ধেক শাস্তি দিবে। আগেই উল্লেখ করেছি যে  এই যে স্বাধীন নারী মুহছানাত মানে কুমারী নয়। আরবীতে কুমারীদেরকে আনিসা বলে থাকে। এই আয়াতে যদি কুমারীদের কথা উল্লেখ করা হত তাহলে almuhsanati সাথে al anisati ও উল্লেখ থাকত। আর এই আয়াতে শুধু বিবাহিতা স্বাধীন স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কোন কুমারী মেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি!
    আমি আবারও বলছি এই আয়াতের শানে নজুলের বাইরে গিয়ে কেউ তাঁর মনমত ব্যাখ্যা করতে পারেন না। শানে নজুলই বলে দেয় এই আয়াতের কি লক্ষ্য।
    পরিশেষে আমি বলতে চাই যে, আমাদের দয়াল নবী সাঃ এর পর সাহাবায়ে কেরামগণ কোন কোন ক্ষেত্রে নবীজীর আমল থেকে শরীয়তের আইনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করে গেছেন। যদিও তাদের আমলে তারা যেটি গ্রহণ করেছিলেন তা হয়তো ঠিক ছিল। কিন্তু সেই কঠোর প্রয়োগ যে দেশকাল সময় পরিবেশ পরিস্থিতি প্রয়োগ যোগ্য হবে বলে আমি মনে করিনা। আমি বিশ্বাস করি ইসলামী শরীয়াহ আইন কোন বদ্ধ পুকুর নয়। ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:
      যেহেতু আপনি রজম সম্পর্কে নিচে (হয়তো) আপনার শেষ কমেন্ট দিয়ে দিয়েছেন, এবং সেখানে যেভাবেই হোক রজম মেনে নিয়েছেন, কাজেই এই কমেন্টর উত্তর দেওয়াটা জরুরী ছিল না, কিন্তু পাঠকদের বিভ্রান্তি দূর করতে উত্তর দিচ্ছি।

      যুক্তি মাঠে মারা নয় আপনি যুক্তিকে গাছে তোলে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে! কারণ উক্ত আয়াতে শুধু ব্যাভিচারী ব্যাভিচারীনীকে বিয়ে নয় মুসলিমকে মুশরিকদের সাথে বিয়ে করতে নির্দেশ দিচ্ছে! তাহলে ধরে নিতে পারি যে ইসলাম মুসলিম মুশরিকদের মধ্যে বিয়ে অনুমোদন দেয়!!!

      দেখুন, আপনারাই তো আগের পোস্টে শুধু কুরআন থেকে দলিল চাচ্ছিলেন। সে জন্যই এই লজিকের অবতারণা যা নেহায়েত কুরআন বেজড, ফলে এই লজিক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন বিষয় কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক প্রকৃত ইসলামের সাথে মিলতে নাও পারে। শুধু কুরআনকে দলিল হিসেবে নিলে এই আয়াত অনুসারে মুসলিম ব্যভিচারি মুশরিককে বিয়ে করতে পারে। আর আপনিও কিন্তু আগের পোস্টে এই আয়াতকে ব্যাখ্যামূলকভাবে উদ্ধৃত করেছিলেন এভাবে:

      ২৪-৩। ব্যভিচারে অভিযুক্ত পুরুষকে একই পাপে অভিযুক্ত নারী অথবা মোশরেক নারী ব্যতীত অন্য নারীকে বিবাহ করতে দেয়া হবে না, অথবা ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচারি অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কেহ বিবাহ করবে না। বিশ্বাসীদের জন্য ইহা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

      এটা আমার যুক্তির সমস্যা নয়, বরং আপনারা যে শুধু কুরআন থেকে দলিল চাচ্ছিলেন সেই নীতির সমস্যা।
      আমার জন্য এই যুক্তি দেওয়া যদি ভুল হয়ে থাকে, তবে এই একই আয়াতের ভিত্তিতে আগের পোস্টে নিচের প্রশ্ন করা কতটা সঠিক ছিল?

      ২৪-৩। ব্যভিচারে অভিযুক্ত পুরুষকে একই পাপে অভিযুক্ত নারী অথবা মোশরেক নারী ব্যতীত অন্য নারীকে বিবাহ করতে দেয়া হবে না, অথবা ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচারি অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কেহ বিবাহ করবে না। বিশ্বাসীদের জন্য ইহা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

      প্রশ্ন হচ্ছে যদি মৃত্যুদন্ড দেয়ার নির্দেশ থাকল তো মরার পর তাদের বিয়ের কথা কেমন করে আসছে?

    2. 2.2
      সাদাত

      @মুনিম সিদ্দিকী:

      কেন ভাই কারো স্ত্রী যদি যিনা করে যানিয়াহ হয়ে যায় তখন কি তাঁর স্বামী তাকে আবার স্ত্রী রূপে গ্রহণ করে নিবে? আমরা তো হাদিসে দেখেছি যে যিনার অপরাধ প্রমাণ করতে না পারলে তখন রাসুল সাঃ স্বামীকে স্ত্রী তালাক দিতে নির্দেশ করেছিলেন। সেই ভাবে স্ত্রীকে তিনি তালাক দিয়েছিলেন। আর পরিত্যাক্তা নারী সে আবার বিয়ে করতে পারে। কাজেই এখানে আপনার যুক্তি খুব শক্তিশালী হয়নি বলেই আমার মনে হচ্ছে!

      (এক বার বলেন শুধু কুরআন থেকে দলিল দিতে,আবার অন্যক্ষেত্রে হাদিসের দলিল দেন,এটা কোন্ ধরণের নীতি? )তালাক দেওয়া তো আর বাধ্যতামূলক না। কুরআনেও তালাক দেবার কোন উল্লেখ নাই। কাজেই সেটাকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করে যুক্তি দেবার সুযোগ নাই।
      [বি.দ্র. স্বামী স্ত্রী একে অপরকে বা একজন অন্য একজনকে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত করলে, কেউই অপরাধ স্বীকার না করলে লেআন করা হয়, তখন তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়, কিন্তু লেআনের মাধ্যমে কাউকে ব্যভিচারি সাব্যস্ত করা হয় না।]

  32. 1
    ইশতিয়াক শাহরিয়ার


    শিরোনামে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখে ভেবেছিলাম প্রশ্ন দিয়েই হয়ত শেষ হবে। কিন্তু পূর্ণ উত্তরই পেয়ে গেলাম। আলোচনাটি জমে ওঠার অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ, সাদাত ভাই যুক্তিপূর্ণ পোস্টটির জন্য।

    1. 1.1
      সাদাত

      আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.