«

»

Feb ০২

সহিহ সূত্রের মুতওয়াতির বর্ণনাকে অস্বীকার করা কুরআনকে বিতর্কিত করার নামান্তর

এক.

মুসলিম মাত্রই বিশ্বাস করেন যে কুরআন আল্লাহ প্রেরিত গ্রন্থ। তারা এও বিশ্বাস করেন, কুরআনে যেহেতু আল্লাহপাক বলেছেন তিনি কুরআনকে সংরক্ষণ করবেন, কাজেই কুরআন অবশ্যই অবিকৃত ও অপরিবর্তিত আছে  এবং থাকবে।  কিন্তু কথা হলো:

এই যে কুরআনে বলা আছে যে, কুরআন আল্লাহপাক সংরক্ষণ করবেন, এই কথাটিই যে অবিকৃত ও অপরিবর্তিত আছে, তার প্রমাণ কী? পূর্ববর্তী কোন আসমানী কিতাবই তো অবিকৃত ও অপরিবর্তিত নেই।

বলা হতে পারে,

উসমান(রা.) যে কুরআনের কপি তৈরি করেছিলেন, সেটা তো অদ্যাবধি সংরক্ষিত আছে।

সেই কপির সাথে বর্তমানে আমাদের হাতে যে কুরআন আছে তার কোন পার্থক্য সেই।

কাজেই আমরা বলতে পারি কুরআন অবিকৃত ও অপরিবর্তিত আছে।

কিন্তু আমাদের এটাও জানা থাকা উচিত যে উসমান(রা.) এর কপিতে যের, যবর, পেশ তো নেইই; নুকতা পর্যন্ত নেই।

 

মনে করুন, উসমানী(রা.) কপিতে নিচের শব্দটা পাওয়া গেল (নুকতাবিহীন অবস্থায়):

এটার উচ্চারণ কী হবে?

فنبينوا,فنثبتوا,فيبينوا,فيثبتوا,فتبينوا,فتثبتوا,….না অন্য কিছু…

 

সবগুলোই উসমানী(রা.) কপির নুকতাবিহীন স্ট্রাকচারের সাথে খাপে খাপে মিলে যায়।

 

আপনি যদি আরবী পড়তে জানা আরবীও হন তবু আপনি এখান থেকে আসল শব্দটা উদ্ধার করতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে জানতে হবে ক্বিরাআত। ক্বিরাআত জানা ছাড়া উসমানী(রা.) কপি হতে কুরআনের আসল উচ্চারণ বের করা সম্ভব নয়।

আমাদের পূর্বসূরীগণ ক্বিরাআত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অবলম্বন করতেন তা হলো, উসমানী(রা.) কপির সাথে মিলে এবং ব্যকরণগতভাবে সঠিক এমন যে কোন ক্বিরাআতই তারা গ্রহণ করতেন না, বরং কেবলমাত্র  সহিহ বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত মুতাওয়াতির বর্ণনাই গ্রহণ করেছেন।

“সহিহ বর্ণনাসূত্র” এবং “মুতাওয়াতির বর্ণনা” কুরআন সংরক্ষণের দুটি অপরিহার্য হাতিয়ার।

 

প্রকৃতপক্ষে উসমানী(রা.) কপির সাথে সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে কুরআনের শত শত নয় বরং হাজার হাজার রূপ দাঁড় করানো সম্ভব। কিন্তু আল্লাহপাক কুরআন সংরক্ষণের এমন দুইটি হাতিয়ার (“সহিহ বর্ণনাসূত্র” এবং “মুতাওয়াতির বর্ণনা”) আমাদের দান করলেন যার ফলে আমরা কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত অবিকৃত ও অপরিবর্তিত ক্বিরাআত(সমূহ)-ই পাই। [সাত হরফ ও সাত ক্বিরাআত সম্পর্কে জানুন এখানে]

পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রচলিত ক্বিরাআত হচ্ছে “হাফস”, এছাড়া কম প্রচলিত ক্বিরাআতের মধ্যে রয়েছে “ওয়ারশ” এবং “ক্বলুন”।

 

হাফস ক্বিরাআত আমরা কার কাছ থেকে কীভাবে পেলাম?

 

হাফসক্বিরাআত আমরা যার থেকে পেয়েছি তিনি হলেন

হাফস ইবনে সুলাইমান (মৃত্যু ১৮০ হিজরিতে)

উনি যার নিকট হতে পেয়েছেন তিনি হলেন

. আসিম ইবনে (বাহদালাহ ইবনে)আবি আন নাজুদ (মৃত্যু ১২৭ হিজরিতে)

. উনি দু'জন হতে পেয়েছেন

 . আবু আব্দুর রহমান আস সুলামমি

 . জির ইবনে হুবাইশ

আবু আব্দুর রহমান আস সুলামমি  যাদের থেকে পেয়েছেন তারা হলেন:

.. উসমান (রা.)

.. আলি ইবনে আবি তালিব(রা.)  

.. উবাই ইবনে কা'  (রা.)

.. যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.)

উনারা প্রত্যেকে পেয়েছেন

. রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

থেকে

 

জির ইবনে হুবাইশ  যার থেকে পেয়েছেন তিনি হলেন

.. ইবনে মাসউদ

উনি পেয়েছেন

. রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

থেকে

 

<২.১<২.১.১<

<২.১<২.১.২<

<২.১<২.১.৩<

<২.১<২.১.৪<

<২.২<২.২.১<

 

এই বর্ণনাসূত্রগুলো প্রত্যেকটি সহিহ। কারণ প্রতিটি চেইনের বর্ণনাকারিগণ সকলেই বিশ্বস্ত, আমানতদার, সত্যবাদি এবং কোন চেইনে কোন অসামঞ্জস্যতা/অসম্ভাব্যতা নেই।

আবার এই বর্ণনা মুতাওয়াতির কারণ ২.x লেভেলে দুইজন আছেন আর ২.x.y লেভেলে আছেন ৫ জন এবং উনাদের পক্ষে একইসাথে কোন মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব।

 

কাজেই আল-কুরআনের বোধগম্য পূর্ণরূপের জন্য আমরা যেমন ক্বিরাআতের ওপর নির্ভরশীল তেমনি

ক্বিরআতের নির্ভুলতা সহিহ বর্ণনাসূত্র এবং মুতাওয়াতির বর্ণনার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

 

দুই.

আল-কুরআনকে পূর্ণরূপে পাবার জন্য 'মুতাওয়াতির বর্ণনা' এবং 'সহিহ বর্ণনা সূত্র' দুইটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। আপনার কাছে যত প্রকারের দলিলই থাক না কেন, এই মুতাওয়াতির বর্ণনাকে পাশ কাটিয়ে আপনি আল-কুরআনের কোন বোধগম্য একক পূর্ণরূপ পেতে পারেন না।

 

মোটামুটিভাবে আমরা বলতে পারি,

আল-কুরআনের যে কোন আয়াতের বোধগম্য একক পূর্ণরূপের সঠিকত্ব = উসমানী(রা.) কপির সাথে সামঞ্জস্যতা + আয়াতের ক্বিরাআতের পক্ষে 'মুতাওয়াতির বর্ণনা' + আয়াতের ক্বিরাআতের পক্ষে 'সহিহ বর্ণনাসূত্র'

 

এখন 'মুতাওয়াতির বর্ণনা' এবং 'সহিহ বর্ণনাসূত্র' এই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি টুলকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তবে তা আল-কুরআনের সঠিকত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।

 

[নোটসঠিকত্ব বলতে 'নাযিলকৃত আলকুরআন'  এর সাপেক্ষে 'আমাদের প্রচলিত আলকুরআন' এর সঠিকত্বকে বুঝাচ্ছি ]

 

তিন.

'মুতাওয়াতির বর্ণনা' এবং 'সহিহ বর্ণনাসূত্র' এই টুল দুটোকে যেমন আল-কুরআনের সঠিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি

'মুতাওয়াতির বর্ণনা' এবং 'সহিহ বর্ণনাসূত্র' এই টুল দুটোকে হাদিসের সঠিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।

 

হাদিসের ক্ষেত্রে এই টুল দুটোকে সন্দেহযুক্ত মনে করে কুরআনের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা অথবা যেসকল সাহাবী, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন হতে আমরা কুরআনের কিরাআত পেলাম; কুরআনের ব্যাপারে তাদেরকে বিশ্বস্ত মনে করে হাদিসের ব্যাপারে অবিশ্বস্ত মনে করা- কেবল অযৌক্তিকই নয় সুস্হ চিন্তাধারারও বিপরীত।

 

চার.

আল-কুরআনের বর্ণনা মুতাওয়াতির এবং বর্ণনাসূত্র সহিহ

সোজা করে বললে কুরআনের প্রতিটি আয়াত সহিহ এবং মুতাওয়াতির

অন্য দিকে সকল হাদিস মুতাওয়াতির নয়, সহিহ নয় বা একইসাথে মুতাওয়াতির ও সহিহ নয়। তবে সহিহ সূত্রের মুতাওয়াতির বর্ণনার হাদিসও কিন্তু রয়েছে। (উল্লেখ্য, রজমের পক্ষে সহিহ বর্ণনাসূত্রের মুতাওয়াতির বর্ণনা রয়েছে।)

আল-কুরআনের এক আয়াতকে আরেক আয়াতের আপাতবিরোধি মনে হলেই, আমরা যেমন একটি সহিহ এবং মুতাওয়াতির আয়াত রেখে অন্য সহিহ এবং মুতাওয়াতির আয়াতটি ছুঁড়ে ফেলতে পারি না, বরং আয়াত দুটোর মাঝের সামঞ্জস্যতা বুঝবার চেষ্টা করি; তেমনি আল-কুরআনের কোন আয়াতকে হাদিসের কোন সহিহ এবং মুতাওয়াতির বর্ণনার সাথে আপাতবিরোধি মনে হলেই, আমরা সহিহ এবং মুতাওয়াতির বর্ণনার হাদিসটিকে ছুঁড়ে ফেলতে পারি না। বরং একই পদ্ধতিতে দুটি বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্যতা বুঝবার চেষ্টা করাটাই যৌক্তিক।

কুরআনের কোন একটি আয়াতের ব্যাপক নির্দেশকে কুরআনের অন্য কোন আয়াত সীমিত বা সুনির্দিষ্ট করার যতটুকু যৌক্তিক অধিকার রাখে, সহিহ-মুতাওয়াতির সুন্নাহও ঠিক ততটুকুই যৌক্তিক অধিকার রাখে।

[নোট: এই লেখায় কোন ভাবেই কুরআন ও সুন্নাহকে সমকক্ষ দেখাবার চেষ্টা করা হয় নাই। এখানে শুধু দেখাতে চেষ্টা করা হয়েছে, কুরআনের অবিকৃতি যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল; সেই বিষয়গুলোকে হাদিসের ক্ষেত্রে বিতর্কিত করা বস্তুত কুরআনের সঠিকত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করারই নামান্বর।]

************************************************************************************************

পরিশিষ্ট:

আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় পাঠ:

Conditions For The Validity Of Different Qirâ'ât

 

Conditions were formulated by the scholars of the Qur'anic recitation to facilitate critical analysis of the above mentioned recitations. For any given recitation to be accepted as authentic (Sahih), it had to fulfill three conditions and if any of the conditions were missing such a recitation was classified as Shâdhdh (unusual).

The first condition was that the recitation have an authentic chain of narration in which the chain of narrators was continuous, the narrators were all known to be righteous and they were all knwon to possess good memories. It was also required that the recitation be conveyed by a large number of narrators on each level of the chain of narration below the level of Sahaabah (the condition of Tawaatur). Narrations which had authentic chains but lacked the condition of Tawaatur were accepted as explanations (Tafseer) of the Sahaabah but were not considered as methods of reciting the Qur'an. As for the narrations which did not even have an authentic chain of narration, they were classified as Baatil (false) and rejected totally.

 

The seond condition was that the variations in recitations match known Arabic grammatical constructions. Unusual constructions could be verified by their existence in passages of pre-Islamic prose or poetry.

 

The third condition required the recitation to coincide with the script of one of the copies of the Qur'an distributed during the era of Caliph cUthmân. Hence differences which result from dot placement (i.e., ta'lamoon and ya'lamoon) are considered acceptable provided the other conditions are met. A recitation of a construction for which no evidence could be found would be classified Shaadhdh. This classification did not mean that all aspects of the recitation was considered Shaadhdh. it only meant that the unverified constructions were considered Shaadhdh.[13]

সূত্র: http://www.islamic-awareness.org/Quran/Text/Qiraat/hafs.html#4

২৬ comments

Skip to comment form

  1. 8
    noman

    আমার মনে হয় আপনি হাদিসশাস্ত্র এর প্রতি আধুনিক কালের সাধারন শিক্ষায় শিক্ষত মুসলমানদের অশ্রদ্ধাবোধ ও ক্রমাগত সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া একটা জবাব দেয়ার যে কৌশল অবলম্বন করলেন তা কিন্তু যেই লাউ সেই কদুই হলো(sorry for the language)।

    আমার কথা হচ্ছে ,অমুসলিমদের কাছে কোরান যে নির্ভুল ও অবিকৃত তা প্রমাণ করার জন্য এর সংকলনের (বিতর্কিত) ইতিহাস ঘাটাঘাটির চেয়ে এর দৃশ্যমান কপির linguistic miracle এর উপর জোর দিলে মুসলিম অমুসলিম সকলের জন্যই ভালো।

    আমাকে খুবই পীড়া দেয় যখন দেখি খোদ মুসলমানরাই কোরানকে যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে অধ্যায়ন ও মূল্যায়ন করেনা এবং সেটা নিয়ে কোন টেনশন ও নাই।যদি কেউ একটু বুঝিয়ে বলতেন মূল সমস্যাটা কোথায় বা আমার বুঝতে কোথায় সমস্যা হচ্ছে তাহলে খুবই উপকৃত হতাম।

    1. 8.1
      সাদাত

      প্রথমত মতামতের জন্য ধন্যবাদ। দ্বিতীয়ত, আমার কাছে বিষয়টি যে লাউ সে কদু হয়নি। আমাদের মুসলিমদের একটা সমস্যা হচ্ছে কুরআন সম্পর্কে আমরা নিজেদের মতো করে কাল্পনিক কিছু ধারণা পোষণ করি। এবং মনে করি এতে কুরআনের খুব সম্মান হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে এই ধরণের কাল্পনিক ধারণা নিয়ে কেউ যখন কোন পড়াশোনা করা নাস্তিকের সামনে পড়বে, তখন তার সামনে দুটো রাস্তা খোলা থাকবে এক- কচুপাতার পানির মতো টলোমলো ঈমান, দুই-নাস্তিককে গালিগালাজ করে ঈমান ধরে রাখার কৃত্তিম চেষ্টা। অথচ প্রকৃত বাস্তবতা জানা থাকলে একদিকে যেমন কুরআনের মান কমে না, তেমনি আকস্মিক অপ্রত্যাশিত কল্পনাবিরূদ্ধ বাস্তবতা সামনে এলেও ঈমানের কোন নড়চড় হয় না।

  2. 7
    শাহবাজ নজরুল

    @ফুয়াদ,
     
    হাফস ক্বিরাতে সুরা হুমাযাহ দেখুন …

    বিশেষত "ইয়াহসাবু আন্না মালাহু আখলাদা" এই আয়াতটাতে ইয়াহসাবু (সিনের উপর আছে 'জবর' কিংবা 'ফাতহা')
     
    এবার ওয়ারশ ক্বিরাতের কোরানে সুরা হুমাযাহ দেখুন …

    লক্ষ্য করুন, ঐ একই আয়াতে "ইয়াহসাবু" কে "ইয়াহসিবু" করে ক্বিরাত করা হচ্ছে (অর্থাৎ সিনের নীচে 'জের' বা 'কাসরা')
     
    দুটোই সহীহ উচ্চারন। সাদাত ভাইয়ের ক্বিরাত বিষয়ক আগের লেখাটা ভালোভাবে পড়ুন।
     
    এই লিঙ্ক থেকে ওয়ারশ, হাফস ও ক্বালুন এই তিন ক্বিরাতের কোরান পাবেন। সবগুলোই সহীহ।
    http://www.quranflash.com/en/quranflash.html
     
    More Options এ ক্লিক করুন, তারপরে Book Type ক্লিক করুন।
     
    --শাহবাজ

    1. 7.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      ধন্যবাদ শাহবাজ ভাই 

  3. 6
    শামস

    এখানে কিছু বিতর্ক দেখতে পারছি, কিন্তু পুরো বিতর্কটা ফলো করতে পারি নাই। তাই আমার প্রশ্ন আগে করা হয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না। প্রশ্নটি হলঃ
    প্রশ্নটা কোরান ও হাদিসের সংরক্ষণের উপায় নিয়ে। কোরানে যেমন হাফেজ আছে হাদিসের কি কোন হাফেজ আছে? কোরানের কেবল হাফেজ থাকাটাই এর সংরক্ষণের একমাত্র উপায় না আল্লাহ হাজারটা উপায়ে তা করতে পারেন, হাফেজদের মাধ্যমে তার একটি। লিখিতভাবে সংরক্ষণ একটি যেটা কোরান ও হাদিস দুটোর জন্যও হতে পারে। কিন্তু মুখস্থের ব্যাপারটি শুধু কোরান ছাড়া পৃথিবীর আর কোন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা যায় না। যতটুকু বুঝতে পারি কোরানকে হাজার বছর ধরে এইভাবে সংরক্ষণের ধারাটা প্রথম থেকে এখনো চলে আসছে, হাদিসে সেটা দেখি না কেন? ধরে নিলাম, হাদিসে বর্ণিত নবীর জীবণ ও তার উপদেশ বাঁ আইনকানুন ইত্যাদির বিশাল সমাহারকে মুখস্থ করা সম্ভব নয়। কিন্তু যেগুলো কোরানের সমকক্ষ (কথাটি সঠিক কিনা জানি না, শুধরে দিলে ওয়েলকাম) আয়াতগুলো যেগুলো হাদিসে এসেছে সেগুলোকেও কোনভাবে মুখস্থ করার চেষ্টা করা হয়নি কেন? 
    ধন্যবাদ।
     

    1. 6.1
      সাদাত

      আপনার প্রশ্নগুলোর কমন উত্তর হাদিসেরও হাফিয (হিফযুল হাদিস) ছিল, এবং এখনো আছে। বড় বড় যত মুহাদ্দিসের নাম জানেন বা শুনে থাকবেন তারা তো হিফযে হাদিসই ছিলেন। কিন্তু কথা হচ্ছে আমার আলোচনার বিষয় তো কুরআন বনাম হাদিস এমন কিছু না। হাদিস কোনভাবেই কুরআনের সমকক্ষ নয় যদিও তা মুতাওয়াতির হাদিস বা হাদিসে কুদসিই হোক না কেন। কারণ কুরআন স্বয়ং আল্লাহর বাণী। আর হাদিসের ক্ষেত্রে ভাবটা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হলেও শব্দগুলো আল্লাহর নয়।
      দেখুন কুরআনে কী আছে বা না আছে, কুরআনে আল্লাহ কী বলেছেন না বলেছেন- সেটা পরের কথা। সবার আগে জানার বিষয় হলো আমার হাতে যে কুরআন আছে এটা সেই কুরআন কিনা যেটা আল্লাহপাক নাযিল করেছিলেন।
      যা হোক আপনাকে কয়েকটি তথ্য দেই:
      পৃথিবীতে আজো অন্ত:ত পক্ষে ৩ ধরণের কুরআনের পাঠ ভালোভাবেই বিদ্যমান (অবশ্য ৭ ধরণের পাঠও কেউ কেউ পারেন।) যেগুলোকে বলা হয়-
      হাফস ক্বিরাআত, ওয়ারস ক্বিরাআত, ক্বলুন ক্বিরাআত। এগুলোতে যে শুধূ যের যবেরর পার্থক্য আছে তাই নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে শব্দের ভিন্নতা আছে, কোন কোন ক্ষেত্রে শব্দের আগ-পিছও আছে। এই ভিন্ন ভিন্ন ক্বিরাআতের কোনটা শুদ্ধ আর কোনটা ভুল? আমি তো বলি সবগুলোই শুদ্ধ। কেন শুদ্ধ? নিচের পোস্টে আমি ব্যাখ্যা করেছি:
      http://www.shodalap.org/bngsadat/13479
      আপনি আগে বুঝার চেষ্টা করুন, এই ক্বিরাআতগুলোর সবগুলোই কেন শুদ্ধ। কী কী ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আমরা সেগুলোকে শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছি? এর পর আমার পোস্টটা আবার পড়ুন, এবার দেখুন কিছু বুঝতে পারেন কিনা।

      1. 6.1.1
        শামস

        @সাদাত,
        এ সম্পর্কিত সবগুলো এখনো পড়া হয়নি। দেখি সময় করে সবগুলো পড়ে দেখব। অসংখ্য ধন্যবাদ।

  4. 5
    শামস

    আপনি ক্বিরাআত, মুতাওয়াতি ইত্যাদি আরবী শব্দের বাংলা অর্থ লেখার একদম নীচে দিতেন। শব্দগুলোর অর্থ অনুমান করতে পারি কিন্তু সঠিকভাবে বুঝতে পারলে ভালো হতো।
    ধন্যবাদ।
     

    1. 5.1
      সাদাত

      তিলাওয়াত মানে উচ্চারণ। 
      মুতাওয়াতির কী সহ আরো কিছু বিষয় জানার জন্য নিচে একটা অংশ সংযোজন করেছি। দেখুন।
       

  5. 4
    ফুয়াদ দীনহীন

    লেখাটি পোস্ট আকারে দিয়েছিলাম, পোস্ট সরিয়ে কমেন্ট আকারে এখানে উল্লেখ করলাম, যাতে বিতর্কের ধারাবাহিগতা ঠিক থাকেঃ 
     
    দলিলগত নিশ্চয়তার দিক দিয়ে আল কোরানের সমকক্ষক আর কোন দলিল হতে পারে কি? উত্তর না, কারণ আল্লাহ পাক নিজেই এর সংরক্ষনের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন নিলেন? আল্লাহ পাক ছেড়ে দিলেই পারতেন। কিন্তু তিনি দেননি, আপনি মানুন আর না মানুন, তিনি নিয়েছেন। অতএব, যেকোন প্রকার দলিল থেকে আল কোরান নিশ্চয়তার দিক দিয়ে উচ্চ মর্যাদায় চলে যায়। আমি নিজের চোখে একটি বিষয় দেখেছি, এবং এটাই বর্ননা করলাম। তবুও আমার নিজের চোখে দেখা বিষয় নিশ্চয়তার দিক দিয়ে আল কোরানের নিশ্চয়তার উপরে যেতে পারবে না। কারণ এক, আমি নিজের দেখা ঘটনা নিজেই ভুল বুঝতে পারি। দুই, ঘটনার অজানা ব্যাকগ্রাউন্ড ঘটনার অর্থ পুরো ১৮০ ডিগ্রি ভিন্ন হতে পারে। তিন, আমি নিজে উপস্থাপনা করতে ভুল করতে পারি। চার, আমার শ্রোতা বুঝতে ভুল করতে পারে। পাঁচ, আজকে আমি যা বললাম, একই কথার অর্থের পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ সব শব্দ ঠিকই আছে কিন্তু সময় শব্দের অর্থ পালটে দিয়েছে। কিন্তু আল কোরানের ব্যাপারে আল্লাহ পাক যেহেতু নিজেই নিয়েছেন, সেহেতু আল কোরান উপরের দোষ ত্রুটি থেকে মুক্ত।

    আল কোরান আমরা কোন রেওয়াত থেকে আবিষ্কার করিনি। আবিষ্কার শব্দের মানে বুঝে নিয়েন, নতুন করে পাওয়া। আল কোরান আমরা রাসূল সাঃ এর পরে নতুন করে পাইনি বরং রাসূল সাঃ এর সময়েই তিনি দায়িত্বশীলতার সাহিত সাহাবীদের কাছে পৌছিয়েছেন। মানে যা পাওয়ার তা রাসূল সাঃ এর সময়ই পাওয়া হয়েছে। আবার নতুন করে পাবার কোন বিষয় নেই। এই পাওয়া বিষয়টা অনেক ভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে জেনারেশন টু জেনারেশন, লিখিত আকারে এবং মৌখিক ভাবে মুখস্থ এবং তেলোয়াত করে। আপনারা জানেন, সালাতে আল কোরানের আয়াত তেলোয়াত করা হয়। আপনি ভুল তেলয়াত করলেই পিছন থেকে আপনার ভুল ধরে দিবে। আল কোরান এমনই ভাবে সংরক্ষিত হয়েছে যে ভুল করার স্কোপ থাকেনি। এখন নতুন কথা বের হচ্ছে, আমরা নাকি আল কোরানের তেলোয়াত "আসিম ইবনে (বাহদালাহ ইবনে) আবি আন নাজুদ" থেকে পেয়েছি, (মানে আবিষ্কার করেছি, নয়ত পেয়েছি কথার মানে থাকে না এবং তোলয়া্ত শব্দের মানে আল কোরান নিজেই যেহেতু আল্লাহ পাকের রাসূল সাঃ এর কাছে কোন লিখিত বার্তা আসেনি) এটা ভুলে যান, হাজার হাজার কোরানে হাফিজ তখনো বর্তমান ছিল। তারাও কোরান তেলোয়াত করতেন। এটা একটা চালু বিষয়, নতুন করে পাবার কিছুই এখানে নেই। এটা হতে পারে, তিনি অন্যদের থেকে আরো ভাল উচ্চারনে সুন্দর করে তেলোয়াত করতে পারতেন, তাই অন্যরা উনাকে শিক্ষক হিসবে মেনে নিয়েছে। তার মানে হচ্ছে, উনি তেলোয়াত করেছেন, অন্যরা সমর্থন দিয়ে গেছেন। এভাবে একাডেমিক্যালি অর্গানাইজ করা হয়েছে মাত্র। এটাকে কোন মতেই পাওয়া বলা যেতে পারে না। এটাকে বলা যেতে পারে প্রাতিষ্টানিক নিয়মন্তাত্রিক সংরক্ষন এবং এখানে কোন মতেই উনার একক ভূমিকা নেই। উনি কি বলছেন অন্যরাও দেখেছে এবং রেটিফাই করেছে। উনি ভুল বললে, অন্যরা ধরে ফেলত। আল্লাহ পাক উনাকে অনেক অনেক সম্মান দান করুন।

    ক্লিয়ার পয়েন্টঃ 'আমরা' শব্দটি আল কোরানের ক্ষেত্রে হযরত আলী, হযরত উসমান, হযরত যায়েদ রাঃদের পরে আসতে পারে না। কারণ আমরা সেখানেই আছি, মানে তারাই আমরা। সকল সাহাবীরাই শিখেছেন এবং অন্যদের শিখিয়ে গেছেন। এখানে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

    [আমার কথা বুঝতে না চাইলে কিছু করার নেই, ভাবিয়েন না যে আপনাদের জ্ঞান দিতেছি। আর ছোকরা পোলায় কি লিখব ভেবে যদি লেখা না পড়তে চান, নাই বা পড়লেন তাতে কোন আসে যায় না। যারা পড়তে চায়, তাদের একটু সময় নিয়ে পড়তে বলব, ধন্যবাদ]

    1. 4.1
      সাদাত

      অত বড় কমেন্ট করলে আলোচনা চালনো যায়, আলোচনা করতে হয় একটার পর একটা বিষয় নিয়ে। সেভাবেই শুরু করছি।
      বর্তমান বিশ্বে কমপক্ষে কুরআনের ৩ প্রকারের ক্বিরাআত প্রচলিত আছে। হাফস, ওয়ারশ, ক্কলুন। আমাদের দেশে বা পৃথিবীর বেশির  ভাগ অংশে   যেটা পড়া হয় সেটা হচ্ছে হাফস ক্বিরাআত।
      প্রশ্ন হচ্ছে:
      ১. এই তথ্য আপনি জানেন কি?
      ২. হাফস ক্বিরাআত বলতে কী বুঝায়?

      1. 4.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @সাদাত,
        তাহলে ধরে নিব আপনি আমার পয়েন্ট গুলি এড়িয়ে যাচ্ছেন। যাইহোক, একবার এক সালাফী ভাইয়ের সাথে আলোচনার সময় তিনি ইমাম আবু হানেফা রাঃ একটা বইয়ের নাম ধরিয়ে বললেন, বইটা বলা আছে, যতেষ্ট অহংকার নিয়ে বললেন "পড়তে পারবেন" ?
        তিনি ভাল করেই জানতেন আমি বাংগালি মানুষ আরবি জানি না। ভয় দেখিয়ে যুক্তিতে না করেই, নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের কৌশল, সেই একই ধরনের কৌশল আপনি নিচ্ছেন কি না জানি না।
         
        তবে আপনার দুটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হচ্ছে, "আমি জানি না" তবে আমি অনেক শিক্ষকের থেকে আল কোরান শিখেছি, তারা কেউ খুব একটা ভিন্ন উচ্চারণ করেননি, শুধু মাত্র আয়াত শেষ হলে দু জবর, দুই জের কিংবা দুই পেশ থাকলে তাদের কেরাতে পার্থক্য দেখেছি। 

        1. 4.1.1.1
          সাদাত

          কোন্ ভাই কী করেছে, সেটা আমাকে শুনিয়ে লাভ হবে না।
          আমাক কী করেছি সেটা আমাকে বলুন।
          আপনি যেসব কথা বলছেন, যেগুলোকে আপনি যুক্তি বলছেন, সেগুলো পড়ে আমার প্রথমেই মনে হয়েছে যে কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন ক্বিরাআত সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা নাই, সেই সেই ক্বিরাআতে কী কী পার্থক্য আছে, তাও আপনি জানেন না। তাই প্রশ্নটা করা। কারণ এই প্রশ্নটার উত্তর না বুঝে আপনি যেসব বিষয়ে কথা বলছেন সেগুলোর উত্তর আপনি কিছুই বুঝবেন না।
          বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে কুরআন শিখেছেন, তাহলে আরবি জানেন না আবার কীভাবে? অন্ত:ত পক্ষে আরবি পড়তে তো অবশ্যই পারেন। আর আমি যে দুটো প্রশ্ন করেছি, সেটা জানার জন্য আরবি বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নাই।  গুগলে Hafs Warsh লিখে একটু সার্চ দেন। তাও না পারলে এই লিংকে একটু যান।
          http://en.wikipedia.org/wiki/Qira'at
          ২/১ ঘন্টা ব্যয় করুন। তারপর আবার আসুন। ভয় নাই, আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যাবো না।
           

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          => আল কোরান তেলোয়াত করা আর ইমাম আবু হানিফা রঃ এর বই পড়ে বুঝতে পারার মধ্যে রাত আর দিন তফাত। 

  6. 3
    সাদাত

    ফূয়াদ ভাই,
    আপনি বলেছেন:

    আমি ভুল করেছি মহা-জ্ঞানি ব্যাক্তির সাহির বিতর্ক করে, এডমিনকে অনুরোধ করব আমার সকল মন্তব্য ডিলিট করে দিতে।

    আমি নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে করি না। তাই সাহাবীদের মত, তাবেঈনদের মত, তাবে তাবেঈনদের, ফুকাহায়ে কেরামের মত, মুহাদ্দিসগণের মত, মুফাসসিরগণের মত তথা ১৪০০ বছর ধরে চলে আসা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের লক্ষ লক্ষ উলামার মতের বিপক্ষে গিয়ে স্বাধীন মত দিতে পারি না। নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে করলেই কেবল এত লক্ষ লক্ষ আলেমদের মতকে উপেক্ষা করে নতুন নতুন মতের জন্ম দেওয়া যায়।
    আপনি সুনিশ্চিতভাবে আমার পোস্ট বুঝেন নাই, না বুঝেই তর্ক করছেন, নতুন পোস্ট দিচ্ছেন। যা কিছু বলার এই পোস্টেই বলতে পারতেন। আপনি আর আমিই তো শুধু পোস্ট আর কমেন্ট পড়ছিনা। হয়তো আরো অনেকে আসবে আপনার নতুন নতুন মতকে স্বাগত জানাতে।  
    এডমিনকে অনুরোধ করবো এই পোস্টের কোন কমেন্ট না মুছতে।
     

    1. 3.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      যদি ভাল মনে করেন, তাহলে মন্তব্য তার নিজ জায়গাতেই থাকুক। 

      1. 3.1.1
        সাদাত

        এই পোস্টে আলোচনা চালাতে আপনার সমস্যা কোথায় হলো বুঝলাম না, যার কারণে আপনাকে ভিন্ন একটা পোস্ট দিতে হলো। আমি বলেছি "এই বিষয়ে" আপনার জ্ঞানের দৈন্যতা "এই বিষয়ে" জ্ঞানসম্পন্ন যে কোন ব্যক্তির কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হবে। এই কথাটাই কি কারণ? এর কারণেই আপনার মনে হলো যে আমি নিজেকে "মহাজ্ঞানী" মনে করি। আপনা আপনার সবগুলো কমেন্ট পড়েন, এবং আমার বিরূদ্ধে কত কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন খেয়াল করুন, সে তুলনায় আমি তো মাথা অনেক ঠাণ্ডা রেখেই উত্তর দিচ্ছি।
        কুরআন কিভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল, এই নিয়ে একটু পড়াশোনা করুন। তারপর বুঝতে পারবেন, আমি ঠিক বলেছি না ভুল বলেছি, নাকি নিজস্ব মতবাদ চাপাতে চেষ্টা করেছি। আমার লেখা দ্বারা কুরআন একটুও বিতর্কিত হয় নাই, সেটা হবার কোন কারণও নাই। ধন্যবাদ।
         

        1. 3.1.1.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          আমি যদি কোন কঠিন শব্দ ব্যাবহার করে থাকি, তাহলে আমি দুঃখিত। যাইহোক, আপনার লেখা বিতর্কিত করছে না, করার স্কোপ তৈরি করতেছে বা করতে পারে। কারণ, পরিষ্কার ভাষায় আমরা আল কোরান রাসূল সাঃ থেকে পেয়েছি, এখানে নতুন করে পাবার কিছু নেই। বোধ হয়, আমার কথাগুলি আপনি বুঝতে পারছেন না বা আমি বুঝাতে পারছি না। 
           
          "এটাকে না মানলে এটাকেও বিতর্কিত করছ" এই যুক্তিটি ধর্মীয় সর্বশ্রেষ্ট বইয়ের ক্ষেত্রে খারাপ। আপনার এই যুক্তিটাই পছন্দ হয় নি, যেন জোড় জবরদস্তি মানতে হবে মার্কা যুক্তি। বরং আপনি যে সব দলিল নিয়ে আসতে চান, সে সব দলিল কেন গ্রহনযোগ্য, কেন শক্তিশালী, কেন অথেন্টিক সেই যুক্তি গুলি দেন। সেটাই আমাদের জন্য ভাল। 
           
          যদি আমার কমেন্ট আপনার মনের কষ্টের কারণ হয়ে থাকে তাহলে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি ঠিক সরসরি আপনাকে উদ্দোশ্য করে নয়, বরং আপনাকে কিছু একটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ ধরনের কমেন্ট করেছি। আল্লাহ পাক আপনার ভাল করুন। আমিন।

  7. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভাল বলেছেন। কিন্তু কোরআনের ব্যাপারে যে ভাবে ঐক্যমত্য হওয়া গেছে হাদিসের বিষয়ে সে ভাবে যাওয়া  যায়নি বলেই তো আজ এত দল আর উপদল। ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      সাদাত

      কুরআনের ব্যাপারে যেমন ঐক্যমত্যে পৌঁছা গেছে হাদিসের সহিহ মুতাওয়াতির বর্ণনার ব্যাপারেও তেমনি ঐক্যমত্যে পৌঁছা গেছে। যেমন ধরুন, রজমের কথাই। এই ব্যাপারে সাহাবাদের সময় থেকেই ঐক্যমত্য ছিল। (তবে সব হাদিস মুতাওয়াতির নয়, আবার সব হাদিস সহিহও নয়, সেসব হাদিসের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকতেই পারে।) 
      আর দল উপদলে ভাগ হবার কথা বলছেন, সেটা কি শুধুই হাদিসের জন্য? হাদি‌স স্বীকারকারিরা তো এই বিষয়ে একমত যে নামায ৫ ওয়াক্ত। অথচ শুধু কুরআনে বিশ্বাসকারিদের কেউ বলে নামায ৫ ওয়াক্ত, কেউ বলে ৩ ওয়াক্ত, কেউ বলে ২ ওয়াক্ত….
      বস্তুত হাদিসের কারণেই দল/উপদল কম আছে, নইলে এর সংখ্যা অনেকে অনেক বেশি হতো।

      1. 2.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        মনে হচ্ছে আপনি ঠিক বলছেন।

  8. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    => "সহিহ" এবং "মুতাওয়াতি" বর্ননা আল্লাহ পাক কর্তৃক সমর্থিত তার ওহীগত প্রমান কি ?
     
    => আল্লাহ পাক এর ব্যাপারে কোন ধারনা কোন কল্পনা থেকে নেওয়া যাবে না। কল্পনা হল সেই বস্তু যা আমাদের উর্ভর মস্তিষ্ক্য থেকে আগত। ওহী হল যা আল্লাহ পাক আমাদের দিয়েছেন। অতএব, ওহী থেকে প্রমান আসতে হবে। {আপনি আবার আগ বাড়িয়ে আপনাকে জ্ঞান দিতেছি ভাবিয়েন না}
     
    => আমি মিস্টার এক্স, আমি একটি পদ্ধতি বের করলাম, বের করে বললাম আল কোরান সহী, সাথে সেই পদ্ধতিতে ইতিহাসের কিছু কথাও সঠিক পেলাম। তখন আমি বললাম, আমার ইতিহাসের ঐ অংশ না মানলে কিন্তু আল কোরানও ভুল প্রমানিত হয়ে যায়। অতএব, আমার কথা মানুন। 
     
    এটাকে বলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। 
    রাসূল সাঃ হাজার হাজার সাহাবী রেখে গিয়ে ছিলেন, তারা কি কোরান তেলয়াত করতেন না ?  
     
    তার আগে একটি বড় প্রশ্নের জবাব দিন, আমরা কি আল কুরান হযরত উসমান রাঃ এর কপি থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে গবেষনা করে আবিষ্কার করেছি নাকি আমাদের কাছে আগে থেকেই ছিল, বরং হযরত উসমান রাঃ কপি আমাদের মুখে থাকা কপি কে রেটিফাই করেছে ? (ভাল করে প্রশ্নটি বুঝুন, তারপর জবাব দিন) 
     

    1. 1.1
      সাদাত

      আপনি কি আসলেই আমার পোস্টটা পড়েছেন বা বুঝেছেন?
      আপনার প্রথম প্রশ্নটাই প্রমাণ করে আপনি আমার পোস্টটার কিছুই বুঝেন না। 
      আপনি বলেছেন:

      "সহিহ" এবং "মুতাওয়াতি" বর্ননা আল্লাহ পাক কর্তৃক সমর্থিত তার ওহীগত প্রমান কি ?

      তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার আর আমার হাতে থাকা কুরআনের কপিটাই যে আল্লাহ প্রেরিত কুরআন তার প্রমাণ কী?
       

      আমি মিস্টার এক্স, আমি একটি পদ্ধতি বের করলাম, বের করে বললাম আল কোরান সহী, সাথে সেই পদ্ধতিতে ইতিহাসের কিছু কথাও সঠিক পেলাম। তখন আমি বললাম, আমার ইতিহাসের ঐ অংশ না মানলে কিন্তু আল কোরানও ভুল প্রমানিত হয়ে যায়। অতএব, আমার কথা মানুন।

      এটাকে বলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।

       
      এখানে মিস্টার এক্স কর্তৃক আবিষ্কৃত পদ্ধতিতে কল্পিতভাবে কুরআন সহিহ প্রমাণ করা হচ্ছে না।
      বরং "বাস্তবে" ঠিক যে পদ্ধতিতে কুরআনের বিশুদ্ধতা সংরক্ষিত হয়েছিল, সেই পদ্ধতিতে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
      কোন পদ্ধতির অনুসরণে একটি বিষয় যদি সংরক্ষিত থাকে, তবে ঐ একই প্রকার পদ্ধতির ব্যবহারে অন্য বিষয়টিও সংরক্ষিত থাকবে।
      এটা হচ্ছে "লজিকাল ডিডাকশন"।
      এই লজিকাল ডিডাকশনকে "ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল" মনে করাটা হচ্ছে "ইমোশনাল ডিডাকশন"। 

      রাসূল সাঃ হাজার হাজার সাহাবী রেখে গিয়ে ছিলেন, তারা কি কোরান তেলয়াত করতেন না ?  

      অবশ্যই করতেন।

      তার আগে একটি বড় প্রশ্নের জবাব দিন, আমরা কি আল কুরান হযরত উসমান রাঃ এর কপি থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে গবেষনা করে আবিষ্কার করেছি নাকি আমাদের কাছে আগে থেকেই ছিল, বরং হযরত উসমান রাঃ কপি আমাদের মুখে থাকা কপি কে রেটিফাই করেছে ? (ভাল করে প্রশ্নটি বুঝুন, তারপর জবাব দিন)

      ১. কুরআন প্রথম থেকেই অনেক মুখস্ত করে রেখেছিলেন।
      তবে মুখে মুখে প্রচলিত কুরআনের মধ্যে ভুল-শুদ্ধ সবই ছিল।
      ২. উসমানী(রা.) কপি মুখস্ত কুরআনের ওপর ভিত্তি করে লিপিবদ্ধ হয় নাই। বরং লিখিত কুরআনের ওপর ভিত্তি করে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
      ৩. মুখে মুখে প্রচলিত কুরআনকে যাচাই করার একটি উপায় হচ্ছে উসমানী(রা.) কপি, তবে এর দ্বারা ১০০% যাচাই করা সম্ভব নয়।
      ৪. মুতাওয়াতির বর্ণনা এবং সহিহ বর্ণনা সূত্র হচ্ছে সেই দুইটি টুল যা বিশুদ্ধ কুরআন যাচাইয়ের জন্য বাস্তবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং তার মাধ্যমেই আমরা আজকে আমাদের হাতে যে কুরআন আছে সেটা পেয়েছি।

      1. 1.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        সরাসরি জবাব দিন, জিব্রাঈল আঃ কে দিয়ে আল্লাহ পাক রসূল সাঃ কে মোখিক আল কুরান দিয়ে ছিলেন নাকি লিখিত আল কোরান দিয়ে ছিলেন ? এখানে লিখা বড় হয়ে আসল কিভাবে ?

        আমার বক্তব্যঃ আল কোরান মৌখিক ভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে। রাসূল সাঃ সম্পূর্ন যোগ্যতার সাহিত উম্মতে মুহাম্মদীর কাছে আল কোরান পৌছাতে পেরেছেন। আল কোরান পোছানোর ব্যাপারে উম্মতে মুহাম্মদী ও রাসুল সাঃ এর মধ্যে কোন মধ্যবর্তী ব্যাক্তি নেই। সাহাবীরা যোগ্যতার সাহিত নির্ভুল ভাবে কোরান শিখেছেন  এবং পরবর্তী প্রজন্মকে শিখিয়ে গিয়েছেন। এখানে লেখা লেখির বিষয় নাই, লিখিত দলিল গুলি হচ্ছে আমাদের মুখে থাকা আল কোরান যে সঠিক তার প্রমান, আর বাকি দলিলগুলি এবং আপনার দেওয়া দলিলগুলিও একই, আমাদের মুখের আল কোরান যে সহী তার প্রমান। কিন্তু আমরা আল কোরান ঐসব দলিল থেকে আবিষ্কার করি নাই, বরং আমাদের পুর্ববর্তী হাজার হাজার উম্মতে মুহাম্মদী আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। এই কথা গুলির একটি সম্মেলিত মানে আছে আর তা হল, আল কোরান যে সহী তা বুঝার জন্য মুসলিম ব্যাক্তির কোন দলিলের দরকার নেই। দলিলগুলি অমুসলিমদের জন্য। 
         
        আমি দুঃখিত, আমার মনে হচ্ছে বরং আপনি আপনার মতবাদ ডিফেন্ড করতে গিয়ে অন্যায়মূলক ভাবে আল কুরানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চাল্লাছেন।

        1. 1.1.1.1
          সাদাত

          সরাসরি জবাব দিন, জিব্রাঈল আঃ কে দিয়ে আল্লাহ পাক রসূল সাঃ কে মোখিক আল কুরান দিয়ে ছিলেন নাকি লিখিত আল কোরান দিয়ে ছিলেন ? এখানে লিখা বড় হয়ে আসল কিভাবে ?

          মৌখিক। লেখাকে বড় বা ছোট কে করলো?

          আমার বক্তব্যঃ আল কোরান মৌখিক ভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে। রাসূল সাঃ সম্পূর্ন যোগ্যতার সাহিত উম্মতে মুহাম্মদীর কাছে আল কোরান পৌছাতে পেরেছেন। আল কোরান পোছানোর ব্যাপারে উম্মতে মুহাম্মদী ও রাসুল সাঃ এর মধ্যে কোন মধ্যবর্তী ব্যাক্তি নেই। সাহাবীরা যোগ্যতার সাহিত নির্ভুল ভাবে কোরান শিখেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে শিখিয়ে গিয়েছেন। এখানে লেখা লেখির বিষয় নাই, লিখিত দলিল গুলি হচ্ছে আমাদের মুখে থাকা আল কোরান যে সঠিক তার প্রমান, আর বাকি দলিলগুলি এবং আপনার দেওয়া দলিলগুলিও একই, আমাদের মুখের আল কোরান যে সহী তার প্রমান। কিন্তু আমরা আল কোরান ঐসব দলিল থেকে আবিষ্কার করি নাই, বরং আমাদের পুর্ববর্তী হাজার হাজার উম্মতে মুহাম্মদী আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। এই কথা গুলির একটি সম্মেলিত মানে আছে আর তা হল, আল কোরান যে সহী তা বুঝার জন্য মুসলিম ব্যাক্তির কোন দলিলের দরকার নেই। দলিলগুলি অমুসলিমদের জন্য।

          আবেগপূর্ণ কথা, অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সাথে যার কোন মিল নেই।

          আমি দুঃখিত, আমার মনে হচ্ছে বরং আপনি আপনার মতবাদ ডিফেন্ড করতে গিয়ে অন্যায়মূলক ভাবে আল কুরানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চাল্লাছেন।

          আমার নিজস্ব কোন মতবাদ নেই। আমার মত হচ্ছে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মত। আমার কোন মত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিপন্থী হলে সুনির্দিষ্টভাবে বলুন। অন্যথায় বুঝতে হবে আপনিই আমার ওপর অন্যায় অপবাদ চাপাচ্ছেন।

          এই কমেন্টের বক্তব্য বা প্রশ্ন কি জানার জন্য, নাকি জানানোর জন্য? আমার তো মনে হচ্ছে জানানোর জন্য, যদিও এই বিষয়ে আপনার জ্ঞানের দৈন্যতা এই বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন যে কোন ব্যক্তির কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হবে। দয়া করে নিজের অজ্ঞতার দোষ অন্যের উপর অন্যায়ভাবে না চাপিয়ে কুরআন কিভাবে সংরক্ষিত হয়েছে সেটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করে কথা বলুন।

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          আমি ভুল করেছি মহা-জ্ঞানি ব্যাক্তির সাহির বিতর্ক করে, এডমিনকে অনুরোধ করব আমার সকল মন্তব্য ডিলিট করে দিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.