«

»

Apr ০৯

বাক-সন্ত্রাসের স্বাধীনতা!: এমন বাক-স্বাধীনতার খেতা পুড়ি

ব্লগারদের বাক-স্বাধীনতা দিতে হবে। সীমাহীন বাক-স্বাধীনতা। তারা যা ইচ্ছা বললেও সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাদের বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সম্প্রতি কিছু ব্লগ "ব্ল্যাকআউট"এ যায়। অনেক উদারপন্থি মুসলিমও তাদের এই বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে শ্লোগান দিচ্ছেন "MUZZLE ME NOT". প্রোফাইল পিকে মুষ্টিবদ্ধ হাতে উন্মুক্ত কলমের ছবি লটকিয়েছেন। বলা বাহুল্য এইভাবে কলম কেউ তখনই ধরতে পারে যখন কলম দিয়ে কারো পেট ফেঁড়ে দেবার বা চোখ উপড়ে ফেলার ইচ্ছা থাকে। এটা কলম সন্ত্রাসের একটি সুন্দর প্রতীক বটে।

কোন্ সে বাক-স্বাধীনতা যার ওপর হস্তক্ষেপে ইসলাম-বিদ্বেষীদের সাথে কিছু অনুগত মুসলিম ব্লগারও সোচ্চার হয়ে উঠেছেন?

সম্প্রতি ব্ল্যাক-আউটে যাওয়া (এখন অবশ্য ফিরে এসেছে) ব্লগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে 'মুক্তমনা' ব্লগ।

দেখুন মুক্তমনার বাক-স্বাধীনতার নমুনা…

 

মূল লিংক এবং স্ক্রীনশটের সূত্র: 

‘মুক্তবুদ্ধির চর্চা’র মোড়কে অভিজিৎ রায়ের মুক্তমনা ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষের মহোৎসব

উদারপন্থি(!) মুসলিম ভ্রাতাগণ! দু:খিত, আপনাদের মতো আমিও এমন বাক-স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দিতে পারছি না।

আমার ঈমান তাতে সায় দেয় না।

বরং হৃদয়ের ভেতর থেকে যে কথাটা উঠে আসে তা হলো-

এমন বাক-স্বাধীনতার খেতা পুড়ি।

আমার কাছে এগুলো বাক-স্বাধীনতা নয়, বাক-সন্ত্রাস।

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 13
    salman abrar

    thanks সাদাত ভাই। আমি আপনার লেখার ভিষন ভক্ত।

  2. 12
    salman abrar

    thanks সাদাত ভাই।।। আমি আপ নার পক্ষসমর্থন করি

  3. 11
    সজল আহমেদ

    গ্রুজি শার্লীজিত্‍ রায় যে বাক স্বাধীনতা শিখিয়ে গিয়েছেন সে বাক স্বাধীনতা মুক্তমনায় দেখা যেতে পারে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে নয় ।এতই বিজ্ঞান মনষ্কা যে তাঁরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার সুযোগ পায়না।
    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বাক স্বাধীনতা রাজনীতির বেলায় দেখাতে বলা হয়েছে কোন ধর্মের বেলায় বাক স্বাধীনতা প্রযোজ্য নয় ।অথচ বঙ্গীয় সুবিধাবাদী পাতি নাস্তিকরা বাংলাদেশের রাজনীতির বেলায় বাক স্বাধীনতা না দেখিয়ে ধর্মের বেলায় দেখায় যে নিয়ম রাষ্ট্র বিজ্ঞানে নাই ।
    স্যার Herbert Spencer এর সংজ্ঞা দেখা যাক ,

    Every man is free to do whatever he wills,provided he infringes not the equal freedom of any other man.

    এখন আমি যদি ব্লগে ব্লগে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু বা জিয়াউর রহমান কে লাগাতার গালি গালাজ করে যাই অথবা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করি তাহলে এইটা কি আমার বাক স্বাধীনতা জাহির করা হবে ?
    সমাজ বা রাষ্ট্র কি আমায় বয়কট করবেনা ?
    এমন বাক স্বাধীনতায় লাথি আসলেই মারা দরকার ।

  4. 10
    এস. এম. রায়হান

    মুক্তমনারা বলে, "MUZZLE ME NOT", হিন্দু যুব সেনারাও বলে, "MUZZLE ME NOT"!
     

    হিন্দু যুব সেনা -Hindu youth army

    1. 10.1
      সাদাত

      একজন রায় আর একজন দাস- এদের পেছনে কেই-বা আর থাকতে পারে! শুধু শুধু নাস্তিকতার ভং ধরে মুসলিমদের ধোঁকা দেওয়া!

      1. 10.1.1
        এস. এম. রায়হান

        নাস্তিকতার ভং ধরে মুসলিমদের ধোঁকা দেওয়া ছাড়া এই আধুনিক যুগে তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই যে!

    2. 10.2
      আহমেদ শরীফ

      জাত লুকানো সহজ নয়, চাইলেও বংশপরিচয় লুকানো যায় না, আচরণেই প্রকাশ হয়ে পড়ে। বর্ণহিন্দুদের উগ্রতা, হিংসুটে মনোভাব, উম্মুক্ত বিশ্বে শান্তিপ্রিয় ভিজে মেনিবেড়াল সাজলেও নিজের আয়ত্তাধীন নির্দিষ্ট অঞ্চলে শেয়ালসুলভ চালাকি আর যথেচ্ছাচার-স্বৈরাচারের চুড়ান্ত _ সবগুলো বৈশিষ্ট্য গুণধর জ্ঞাতিভাইদের সাথে মিলে যায়। নাস্তিক্য-টাস্তিক্য সব বাজে কথা আদতে ধর্মও মূল টার্গেট না, সনাতন ধর্ম তো ধর্ম হিসেবে এমনিতেই ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে বিলুপ্তির পথে, বাকি রইল সাংষ্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক গোত্রগত পরিচয়, সেটা রক্ষায় ভীষণ স্পর্শকাতর গোত্রিয়সচেতনতাকেই আঁকড়ে ধরে বিপন্নতা ঢাকার দ্বিগ্বিদিকজ্ঞানশূণ্য হিংস্রতার প্রকাশে এরকম প্রতিক্রিয়াশীলতাই শেষ আশ্রয়।

  5. 9
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    @ বিদ্রোহী

    আপনার অধিকাংশ মন্তব্যে ট্রলিং এর বৈশিষ্ট্যাবলী বিদ্যমান।  যিনি ট্রলিং করেন,  তিনি চাইবেন, আলোচনার সাধারণ গতিপথ ব্যাহত হোক। এর জন্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অপ্রাসঙ্গিক ও প্রভোকেটিভ কথা-বার্তা লিখবেন যাতে করে পাঠকদের ইমোশনাল আউটবার্স্ট হয় ও লেখার মূল বিষয় বাদ দিয়ে লোক-জন অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

    এব্যাপারে ভবিষ্যতে যত্নবান হয়ে মন্তব্যের এপ্রোচে সিগনিফিক্যান্ট ইম্প্রভমেন্ট না দেখলে ভবিষ্যতে আপনার করা কমেন্টগুলি কঠোর স্ক্রুটিনির মধ্যে দিয়ে যাবে। ধন্যবাদ। -- সম্পাদক, সদালাপ।

    নোটঃ সদালাপের লেখক ও পাঠকেরা বিদ্রোহীর করা মন্তব্যের ব্যাপারে যে রিমার্কেবল ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদার্হ। সদালাপের আর্কাইভে এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

     

  6. 8
    বিদ্রোহী

    @আহমেদ শরীফ:

    আপনারা নিজেরা কি সঠিক ইসলাম প্রচার করেন এ ব্লগে ? আপনারা তো দেখি এক পাক্ষিক ইসলাম প্রচার করেন। নবী বলে গেছিলেন যে তিনি দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন। কিন্তু কিভাবে সেটা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ? দাওয়াতের মাধ্যমে নাকি যুদ্ধের (জিহাদের) মাধ্যমে ? মক্কায় ১০ বছর ধরে উনি দাওয়াতি কাজ করেছিলেন কিন্তু কোন কাজ হয় নি, তাকে পালিয়ে চলে যেতে হয়েছিল মদিনাতে। মদিনায় গিয়ে তিনি কোন ধরনের ইসলাম প্রচার করতেন ? সেখানে কি তার দাওয়াতী ইসলাম ছিল ? অথচ আপনারা দেখি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দাওয়াতী ইসলামের কথা বলেন ,শান্তির ইসলামের কথা বলেন। প্রকৃত ইসলাম কি সেটা ? আপনাদের কাজ কর্মও প্রমান করে যে আপনারা মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করছেন তার অর্থ আপনারা হলেন প্রকারান্তরে মুনাফেক।

    1. 8.1
      আহমেদ শরীফ

      উপরে পোস্টদাতার কমেন্ট দেখে নিন আগে, তারপর পোস্টপ্রসঙ্গে আলোচনা করেন। প্রসঙ্গ থেকে দূরে সরে গিয়ে আবোলতাবোল বকে লাভ হবে না।

      এখান প্রসঙ্গ হচ্ছে বাকস্বাধীনতার নমুনা হিসেবে ‘মুক্তমনা’র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপ্রসূত স্বেচ্ছাচারী লাগামহীন বিষোদগারের জ্বলন্ত উদাহারণগুলো নৈতিক বিচারে আদৌ সমর্থনযোগ্য কি না ?

    2. 8.2
      আহমেদ শরীফ

      একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আপনি ইসলাম অবমাননার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখে আপনার প্রথম কমেন্টের প্রথমাংশে নীতিগতভাবে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষিতার অভিযোগ স্বীকার করে নেয়ার পরও বার বার অবান্তর বিষয়সমূহ নিয়ে এসে ভজঘট বাধিয়ে মূল অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

      যেমন 'মুক্তমনা' য় ইসলামবিদ্বেষী কটুক্তি _ এই পোস্টপ্রসঙ্গের সাথে ভিন্ন কতগুলো বিষয় এনে জুড়ে দেয়ার মানে বুঝলাম না। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন কিছু ধর্মান্ধ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা চালিয়েছে সেজন্যেই সেই যুক্তিতে অনলাইনের অধিকাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধিকৃত কুৎসিততম ঘৃণা উপত্যকা 'মুক্তমনা' র ইসলামবিদ্বেষের ভার্চুয়াল বধ্যভূমির সকল অপকর্ম বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে ? বাস্তবের কিছু ধর্মান্ধদের মুঢ়তার প্রতিশোধে আপনারা পুরো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পৈশাচিক ঘৃণার এক অগ্নিগর্ভ নরক সৃষ্টি করবেন ? ইসলাম কে কিভাবে প্রচার করছে সেটা কি আপনাদের বৈধতা দেয় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের গরল ছড়ানোর লীলাভূমি বিস্তৃত করার ? কোন যুক্তিতে আপনি আপনার 'নবযুগ' আর তার মাতৃদেবী 'মুক্তমনা'র উগ্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন আমার কাছে স্পষ্ট নয়।

      উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন আশা করি।

  7. 7
    এস. এম. রায়হান

    যে সকল উগ্র সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধরা [ইসলাম বিদ্বেষকে জায়েজ করার উদ্দেশ্যে] বাক-স্বাধীনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মুক্তচিন্তা, ইত্যাদি সুন্দর সুন্দর বুলি আউড়াচ্ছে তাদের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ:

    তারা এ পর্যন্ত কী কী বাক-স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেছে যেগুলো মুসলিমরা করতে পারেনি বা পারে না? সুস্পষ্ট প্রমাণ-সহ ব্যাখ্যা দিতে হবে। চ্যালেঞ্জ থাকলো।

    যারা বাক-স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার বুলি আউড়াচ্ছে তারা এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এড়িয়ে গেলে কী প্রমাণ হবে, তা আশা করি পাঠকরা বুঝতে পারছেন। যখনই দেখবেন কেউ এই ধরণের বুলি আউড়াচ্ছে, সাথে সাথে তার প্রতি উপরের প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেবেন।

  8. 6
    মুনিম সিদ্দিকী

    এমন স্বাধীনতা চাইনা।
    প্রতিটি দেশে তো এমন আইন আছে যে, এমন কোন  কথা বলা বা প্রচার করা যাবেনা যা বলা বা প্রচারের কারণে সমাজে রাষ্ট্রে দাঙ্গা ফ্যাসাদ শুরু হতে পারে।
    কাজেই নিরেট কথা বলার স্বাধীনতা কোথাও নাই।

    1. 6.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      মুনিম ভাই 
       
      সাধারনত সুরক্ষা আইনগুলো সংখ্যালঘুদের রক্ষার জন্যে তৈরী হয়। কানাডায় হোমোসেক্সুয়ালিটি, ইহুদী আর কালোদের রক্ষার জন্যে আইন করা আছে। কিন্তু সংখ্যা গুরুরা নিজেদের রক্ষার জন্যে আইন করে -- এই ঘটনা কোথাও নেই। আপনি যে দাঙ্গার কথা বলছেন তা শুরু করে সংখ্যাগুরুরা -- যদি তারা একটু সহনশীল হয় -- তবে কোন আইনের দরকার নেই। 
       
      তবে যে কোন বিশ্বাসকে আঘাত করা একটা অপরাধ -- বাংলাদেশে সেই অপরাধের শাস্তির আইন আছে। সেইটা কার্যকর করা হলেইতো হয়। 

      1. 6.1.1
        সুজন সালেহীন

        এখানে সংখ্যালঘু-গুরুর হিসাব আসবেনা। একটি দেশে বসবাসরত সংখ্যাগুরু থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ধমবিশ্বাস বা জীবনাচরণ নিয়ে অবমাননা বা বিদ্রূপ করা হলে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে। আর রাষ্ট্র উপযুক্ত প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রে অরাজকতা হওয়ার আশংকা থাকে। সংখ্যাগুরু বলে কেউ তাদেরকে দেদারছে গালি দিয়ে যাবে, তাতো হতে পারেনা।

        1. 6.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          Agree …

        2. 6.1.1.2
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          একটি দেশে বসবাসরত সংখ্যাগুরু থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ধমবিশ্বাস বা জীবনাচরণ নিয়ে অবমাননা বা বিদ্রূপ করা হলে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে। 

           
          -- অবশ্যই চাইতে পারে এবং চাওয়ার আগেই রাষ্ট্রের এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 
           

  9. 5
    মহিউদ্দিন

    এমন বাক-স্বাধীনতার খেতা পুড়ি।
    আমার কাছে এগুলো বাক-স্বাধীনতা নয়, বাক-সন্ত্রাস।

    সহমত ১০০ + %

  10. 4
    আহমেদ শরীফ

    কিন্তু একই সাথে বুঝতে হবে আমরা মধ্য যুগে বাস করি না।আমরা এমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির এক চরম যুগে বাস করছি। আমাদের একটা ন্যনতম নৈতিক মানদন্ড আছে , আছে সামাজিক বিধি বিধান ও শৃংখলা। সুতরাং কেউ যদি এভাবে অন্য ধর্মের ব্যপারে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে , যা আসলে বর্তমানকার ইন্টারনেট যুগে বন্দ করা সম্ভব নয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো জ্বালাও পোড়াও হত্যা দিয়ে করা যায় না।

     
    আমরা যে যুগে বাস করি সে যুগেই ইউটিউব যেভাবে বন্ধ করা হয়েছে সেভাবে যেকোন ব্লগসাইট বা ফেসবুক পেইজ বন্ধ করা সম্ভব। বন্ধ হয়ে নতুন করে খুললে আবার সেটাও বন্ধ করা সম্ভব।

    ন্যূনতম মানদন্ড থাকলে এই প্রজন্মের নাস্তিক/ইসলামবিদ্বেষীরা নিজেদের এভাবে খেলো করত না, নিজেদের পূর্বসূরীদের এভাবে বেইজ্জত করত না। নিজেদের আদর্শের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হলে গ্রেপ্তারের ভয়ে ব্লগ লুকানো-পেইজ লুকানো-অজস্র মিথ্যাচার-ফেবু আইডি রাতারাতি গায়েব করে পালিয়ে বেড়ানো এসব কাপুরুষোচিত কাজ না করে তারা নীর্ভিক চিত্তে সত্যের মুখোমুখি হতে পারতো। তারা পারেনি কারণ নৈতিক মেরুদন্ড না থাকলে এমনই হয়, ক্লীব কাপুরুষদের দিয়ে বিপ্লব হয় না।

    হুমায়ুন আজাদ-আহমেদ শরিফদের প্রজন্ম এত হীন কাপুরুষ হালকা চরিত্রের লুম্পেন ছিলেন না। আজীবন নিজে যা বিশ্বাস করেছেন তা বলিষ্ঠচিত্তে প্রকাশ্য বলতে দ্বিধা করেন নি। অনলাইনে ছদ্মনাম নিয়ে তেলাপোকার মত লুকিয়ে শত স্ববিরোধিতা মিথ্যাচারের মাধ্যমে অশ্লীলতার পূজারি হয়ে নোংরামো করা আজকের নির্লজ্জ ইতর লুম্পেনদের সাথে ওনাদের তুলনা করাই মূর্খতার নামান্তর।

    শক্তি অর্জন করামাত্রই কাপুরুষ হয়ে ওঠে ক্ষেত্রেবিশেষে দুর্বলের ওপর 'মহাবীরপুরুষ'। ৬ ই এপ্রিল শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশ 'প্রতিহত' করার ঘোষণা দেয়ার পর শাহবাগে পুলিশ প্রটেকশনে ছিল মাত্র গুটি কয় লোক। বাকিরা প্রতিরোধ তো দূরের কথা শাহবাগে আসতেই সাহস পায়নি। যারা উপস্থিত ছিল ওখানে পুলিশ প্রটেকশনেও কাঁপছিল অজানা শঙ্কায় ভীরু শীতার্ত মেষশাবকের মতো। শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশ সেরে ঘরমুখী মানুষের পদযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন গুটিকয় বয়ষ্ক লোককে ‘আক্রমণকারী ভেবে’ আক্রমণ করে প্রবল বীরত্বের সাথে। বলাই বাহুল্য যেখানে শাহবাগে ইসলামবিদ্বেষীর গন্ধ পাওয়ামাত্র প্রথম দিনেই শুধু ঢাকার মঞ্চ ছাড়া সারাদেশের মঞ্চসমূহ ধূলিস্যাৎ করে দেয়া হয় _ সেখানে ৬ ই এপ্রিল শাহবাগের মঞ্চ আক্রমণের কোন ওফিশিয়াল নির্দেশ দেয়া হলে কি অবস্থাটা হত কল্পনা করাও কঠিন।

    একজন পক্ককেশ বৃদ্ধকে বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনের সুখে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে  যুদ্ধজয়ের উল্লাসে এগিয়ে চলছে ডজনখানেক 'কাপুরুষ' _
     

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      দয়া করে ছবিটার মুল লিংকটা দিতে পারেন। মুল ঘটনাটা দেখতে চাই। বিস্তারিত জানা থাকলে বলুন, প্লিজ!
      (ছবিটার নীচের ক্যপাশন মনে হচ্ছে পরে সেট করা হয়েছে, নিশ্চয় ছবিটা কোথাও পাবলিশ হয়েছে -- যদি সেইটা দেন খুবই উপকার হবে, জাজাকাল্লাহ) 

      1. 4.1.1
        আহমেদ শরীফ

        মূল ছবির লিংক এখন মনে নেই এটি ফেসবুক থেকে নেয়া। ক্যাপশন অবশ্যই পরে সেট করা।

        খুব সম্ভবতঃ সমাবেশ থেকে ফেরার পথে শাহবাগের রাস্তাটি বেছে নেয়াতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে, অথবা জজবার ঠেলায় যদি কিছু স্লোগান দিয়েও থাকে তবুও এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারণ গণজাগরণ মঞ্চ 'ভাঙ্গার' কোন ওফিশিয়াল নির্দেশনা হেফাজতের মঞ্চ থেকে দেয়া হয় নি, দেয়া হলে অন্ততঃ ৬ই এপ্রিল সেটা ঠেকানোর ক্ষমতা কারোরই ছিল না।

        তবে এসব বিবেচনার উর্ধ্বে চলে যায় তখন, যখন সেকুলার মানবতাবাদীদের অনেকের ব্লগ-ফেসবুক লেখায় আলেমওলামা-ইসলামপ্রিয় জনগণকে 'গরু-ছাগল-গাধা-কুকুর-শকুন-শুয়োর' বলে গালি দেয়া হয়, হিন্দু-বৌদ্ধ-বিধর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটুও পরওয়া না করে নিঃসংকোচে এইভাবে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা দেখে আমার বিশ্বাস আজ আহত হয়েছে, জন্মসুত্রে মুসলমান হলেও সঙ্গদোষ যে কতটা ভয়াবহভাবে কারো মূল্যবোধকে বিবর্তিত-কলুষিত করতে পারে তার নজির দেখে সম্প্রতি আমি যারপরনাই বিস্মিত। একদিকে প্রগতিশীলরা ইসলামের কথা বলবেন, নিজে নামায পড়েন বলে দাবি করবেন আবার জীবনপদ্ধতি হবে বিধর্মীদের তরিকায় সেটা নিয়ে আবার তর্কও করবেন কোরআনের আয়াতও ফরমাবেন, কষে গালিও দেবেন নায়েবে রাসূল(সাঃ) দের _ এসব ভন্ডামি আর কতদিন।

        বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে মুসলমান এবং অমুসলমানের, এটি বেদনাদায়ক নিঃসন্দেহে।

  11. 3
    বিদ্রোহী

    বাক স্বাধীনতার নামে কেউ ধর্মকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে ধর্ম ভীরু মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আসলে এসব করে নীচু শ্রেনীর লোকজন। এগুলো মানুষকে আরও বেশী উগ্র ও সাম্প্রদায়ীক করে তোলে। কিন্তু একই সাথে বুঝতে হবে আমরা মধ্য যুগে বাস করি না।আমরা এমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির এক চরম যুগে বাস করছি। আমাদের একটা ন্যনতম নৈতিক মানদন্ড আছে , আছে সামাজিক বিধি বিধান ও শৃংখলা। সুতরাং কেউ যদি এভাবে অন্য ধর্মের ব্যপারে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে , যা আসলে বর্তমানকার ইন্টারনেট যুগে বন্দ করা সম্ভব নয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো জ্বালাও পোড়াও হত্যা দিয়ে করা যায় না। তাছাড়া ধর্মানুভূতিটাতো তো এক তরফা হতে পারে না। ধরা যাক কিছু নাস্তিক মনের খেদে ব্লগ সাইটে কিছু অশালীন বা উগ্র মন্তব্য করেছে, তারা বাস্তবে কারও ক্ষতি করতে যায় নি বা কারো মাথা কাটতে যায় নি। কিন্তু পক্ষান্তরে যারা ধর্ম বিশ্বাসে উগ্র তারা কি করছে? তারা কিন্তু কোন ব্লগে কিছু লিখে ক্ষান্ত থাকছে না। চাপাতি , বন্দুক বা বোমা নিয়ে অন্যদের ওপর হামলে পড়ছে। এখন আপনাদের কাছে কোনটা বেশী অপরাধ?

    এছাড়া দেখা যায়- খোদ কুরানে অমুসলিম বিশেষ করে খৃষ্টান ইহুদিদেরকে নিকৃষ্ট প্রানী, কুকুর , বানর বা শুকর বলে গালাগাল করা হয়েছে। এটাতে কি তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে না ? নাকি খালি মুসলমানদের জন্যই ধর্মানুভূতি বিষয়টা প্রযোজ্য ? যেমন-

    আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। (সূরা, বাইয়িনাহ, ৯৮:০৬, মক্কায় অবতীর্ণ)

    সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি। (সূরা আনফাল, ৮:৫৫, মদিনায় অবতীর্ণ)

    অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে। (সূরা আল আরাফ, ০৭:১৭৬)

    বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে। (সূরা মায়দাহ, ০৫:৬০)

    এছাড়া বাংলাদেশে যেসব ওয়াজ মাহফিল হয় , সেখানে দেখা যায় বক্তারা চুড়ান্ত রকম অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে ভিন্ন ধর্মকে সমালোচনা করে , অসম্মান ও অপমান করে। এতে কি অন্য ধর্মের লোকদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না?

    সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে -- বাংলাদেশে জামাত ইসলামের লোকজন জামাত ইসলাম প্রভাবিত অঞ্চলে হিন্দুদের ঘরবাড়ী ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তাদের মন্দিরেও ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে, এটাতে কি তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না ? তারপর রামুর ঘটনাই ধরুন , কে কোথায় ফেস বুকে কি একটা ছবি দিয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় রামুর বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চলে চলল ভয়াবহ নৃসংশ তান্ডব। যেখানে কিছু নাস্তিক হয়ত ইসলাম বা নবী সম্পর্কে কিছু অশ্লীল মন্তব্য বা উগ্র মন্তব্য করেছে , তার পরিবর্তে আপনারা যারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেলেন তারা ভয়ংকর রুদ্র মূর্তিতে দল বেধে অমুসলিমদের ঘরবাড়ী, উপসনালয় জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, এমনকি পিটিয়ে হত্যা পর্যন্ত করছেন, এ ব্যাপারে আপনাদের কি বক্তব্য? এ ব্যাপারে আপনাদের এরকম কোন একক পোষ্ট আছে ? নাকি আপনারাও মনে করেন যে শুধুমাত্র মুসলমানদেরই ধর্মানূভূতি বলে জিনিসটা আছে , অন্যদের এসব নেই, থাকতে পারে না।

    পরিশেষে , ধর্ম নামক এ অন্ধ বিশ্বাসটা না থাকলে দুনিয়ার মানুষ অনেক শান্তিতে বাস করতে পারত। কারন দেখা গেছে ধর্ম নিয়ে দুনিয়াতে যে পরিমান অশান্তি আর যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে , অন্য কোন কিছু নিয়ে এত যুদ্ধ বিগ্রহ বা গণহত্যা হয় নি।

    1. 3.1
      আহমেদ শরীফ

      বাক স্বাধীনতার নামে কেউ ধর্মকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে ধর্ম ভীরু মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আসলে এসব করে নীচু শ্রেনীর লোকজন। এগুলো মানুষকে আরও বেশী উগ্র ও সাম্প্রদায়ীক করে তোলে।

      এই অংশটুকু ছাড়া বাকিগুলো অপ্রাসঙ্গিক।

      যে প্রসঙ্গে পোস্ট দেয়া হয়েছে সেই প্রসঙ্গেই থাকেন।
      পোস্টদাতা 'অপ্রাসঙ্গিক' আলোচনা পছন্দ করেন না।

      1. 3.1.1
        বিদ্রোহী

        সত্য কথা বললেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় ? প্রশ্নর উত্তর দিতে না পারলেই তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় ? তা জনাব, কোথায় অপ্রাসঙ্গিক কথা বললাম ? আপনি বাক স্বাধিনতার প্রসংগ টেনেছেন, আর মনে হচ্ছে বাক স্বাধীনতার নামে মুসলমানরা যেমন ইচ্ছা খুশিী অমুসলিমদেরকে অপমান করতে পারবে , তাদের ধর্ম সম্পর্কে আজে বাজে অশ্লীল মন্তব্য করতে পারবে, তাতে তারা মুসলমানদেরকে কিছুই বলতে পারবে না , অর্থাৎ ধর্মানুভূতি ব্যাপারটা খালি মুসলমানদেরই থাকবে , অন্যদের থাকতে পারে না, থাকা উচিতও নয় , তাই না ? যেন মামা বাড়ীর আবদার আর কি।

        আমি কুরানের আয়াত ও বাস্তব ঘটনা থেকে প্রমান করেছি মুসলমানরা তাত্ত্বিক ও বাস্তব উভয় পদ্ধুতিতে অমুসলিমদেরকে তো বটেই তাদের ধর্মকেও প্রচন্ড গালাগালি করে ও অসম্মান করে প্রতি নিয়ত ও সম্পূর্ন বিনা উস্কানিতে। অথচ আপনাদের দাবী ইসলাম নাকি সকল ধর্মকেই মর্যাদা দেয় ও গালাগাল করে না।

        বাক স্বাধীনতার খেতা পোড়ার আগে , আমার প্রশ্নগুলোর জবাব দিন । ধর্মানুভূতি কি খালি মুসলমানদের একলার ? অন্যদের কোন ধর্মানুভূতি থাকতে পারে না ? বাক স্বাধীনতার নামে অন্য ধর্মকে গালাগাল করার অধিকার কি খালি ইসলামের ? অন্যদের কোন বাক স্বাধীনতা থাকতে পারে না ?

        1. 3.1.1.1
        2. 3.1.1.2
          আহমেদ শরীফ

          অন্যান্য সব ধর্ম ছেড়ে কিছু লোকের ইসলামের পেছনেই লেগে থাকার মিশন নিয়ে রাতদিন পড়ে থাকার বিষয়টি আগে নির্দিষ্ট বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক পালাবদলে সর্বসম্মুখে প্রকাশ্যে কুৎসিতভাবে নগ্ন হয়ে পড়ায় তারা এখন চোখে রীতিমত সর্ষেফুল দেখছে। তাদের সুখের দিন শেষ হয়ে ভাগ্যের করুণ পরিহাস তারা মেনে নিতে পারছে না বলেই বেদিশা হয়ে আবোল তাবোল প্রলাপ বকছে।

          আমি বলেছি পোস্ট প্রসঙ্গে থাকতে 'মুক্তমনা' য় বাকস্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতার যে কদর্য নমুনা দেখা যাচ্ছে সে সম্মন্ধে আলোকপাত করতে, সেটা অবশ্য ভূমিকায় আপনি করেছেন। কিন্তু তার সাথে আরো অনেক কিছু জুড়ে দিয়েছেন _

          আর মনে হচ্ছে বাক স্বাধীনতার নামে মুসলমানরা যেমন ইচ্ছা খুশিী অমুসলিমদেরকে অপমান করতে পারবে , তাদের ধর্ম সম্পর্কে আজে বাজে অশ্লীল মন্তব্য করতে পারবে, তাতে তারা মুসলমানদেরকে কিছুই বলতে পারবে না , 

          এসব কথা অপ্রাসঙ্গিকভাবে এখানে নিয়ে আসার মানে কি ?
          এখানে এই কথাগুলো কি লেখক দাবি করেছেন ?

    2. 3.2
      আবদুস সামাদ

      আপনি একটা চাকর রাখলেন৷ তাকে খাওয়া পরা, আরাম আয়েশ সবই দিলেন৷  তার কাজ আপনার ফাই ফরমাশ শুনবে, আপনার কথা মত কাজ করবে ইত্যাদী৷ আপনি দেখলেন, আপনার চাকর তার প্রাপ্য, যা আপনি ওয়াদা করেছেন তা ঠিকই নিচ্ছে অথচ সে অন্যের হুকুম মত তার কাজ করে যাচ্ছে৷ এখন আমার প্রশ্ন আপনি কি ঐ চাকরকে চুমা দেবেন না প্রথমেই গালা গালি করবেন৷ যদি চুমা দেন তবে বলব ইহুদী নাসারাদের গালা গালি দেওয়া আল্লাহর উচিৎ নয়(নাউজু বিল্লাহ) আপনি কি বলেন?

    3. 3.3
      সাদাত

      এছাড়া দেখা যায়- খোদ কুরানে অমুসলিম বিশেষ করে খৃষ্টান ইহুদিদেরকে নিকৃষ্ট প্রানী, কুকুর , বানর বা শুকর বলে গালাগাল করা হয়েছে। এটাতে কি তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে না ? নাকি খালি মুসলমানদের জন্যই ধর্মানুভূতি বিষয়টা প্রযোজ্য ? যেমন-

      আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। (সূরা, বাইয়িনাহ, ৯৮:০৬, মক্কায় অবতীর্ণ)

      সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি। (সূরা আনফাল, ৮:৫৫, মদিনায় অবতীর্ণ)

      অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে। (সূরা আল আরাফ, ০৭:১৭৬)

      বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে। (সূরা মায়দাহ, ০৫:৬০)

       
      কুরআনে অমুসলিম বিশেষ করে খৃষ্টান ইহুদিদেরকে নিকৃষ্ট প্রানী, কুকুর , বানর বা শুকর বলে কোথায় গালাগাল করা হয়েছে? নির্দিষ্ট করে বলুন।

      এই অভিযোগ আপনি করছেন কেন, তাদের কি মুখ নাই?

      এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝে নেন, কোন ব্যক্তি মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছে বলেই সে ঈমান নিয়ে মরতে পারবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই। ইসলামের কোন একটা বিধানকেও যদি সে অস্বীকার করে, সেটা নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করে তবে সে কাফির হয়ে যায়। মুসলিম নাম নিয়ে শিরক করার কারণে সে মুশরিক হয়ে যায়। ফলে মুসলিম নামধারিরাও কাফের বা মুশরিক হতে পারে, ফলে কুরআনে যেসব আয়াতে কাফির-মুশরিকদের ভয় দেখানো হয়েছে সেটা একজন মুসলিম নামধারির জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে।

      অন্যদিকে একটা লোক সারাজীবন ইসলামের বাইরে থেকে মৃত্যুর আগে  ঈমান কবুল করে মুসলিম হিসেবে পরিগণিত হবে। ফলে কুরআনে মুসলিমদের জন্য যেসব সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে সে সেগুলোর ভাগী হবে।

      কাজেই এসব আয়াতে কোন মুসলিম নামধারির উল্লসিত হবার বা কোন অমুসলিম নামধারির কষ্ট পাবার কোন কারণ নাই।

      1. 3.3.1
        বিদ্রোহী

        অন্যদিকে একটা লোক সারাজীবন ইসলামের বাইরে থেকে মৃত্যুর আগে  ঈমান কবুল করে মুসলিম হিসেবে পরিগণিত হবে। ফলে কুরআনে মুসলিমদের জন্য যেসব সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে সে সেগুলোর ভাগী হবে।

        বলতে পারেন সেই সুখবরটা কি ? বেহেস্তে যাওয়া তো ? এখন দয়া করে বলুন তো বেহেস্তে পুরুষদের জন্য কি আছে ? মহিলাদের জন্যই বা কি আছে ? কুরান হাদিস থেকে রেফারেন্স দিয়ে বলবেন প্লিজ। আমরা জানতে চাই , বেহেস্তে নারী বা পুরুষ নির্দিষ্টভাবে কি পাব যদি ইমানদার মুসলমান হয়ে মারা যাই। খালি সুখবর নামক একটা অস্পষ্ট শব্দে আমরা এখন আর সন্তুষ্ট নই।
        কুরআনে অমুসলিম বিশেষ করে খৃষ্টান ইহুদিদেরকে নিকৃষ্ট প্রানী, কুকুর , বানর বা শুকর বলে কোথায় গালাগাল করা হয়েছে? নির্দিষ্ট করে বলুন।

        কুরানের অনেকগুলো আয়াত উপরে দিয়েছি। সেখানে কি খুব পরিস্কার ও নির্দিষ্টভাবে বলা নেই কিভাবে অমুসলিমদেরকে গালাগাল করা হয়েছে? আপনার চোখে কি সমস্যা আছে ? থাকলে ডাক্তার দেখান।

      2. 3.3.2
        এস. এম. রায়হান

        @বিদ্রোহী,
        কুরআনে অ মুসলিম বিশেষ করে খৃষ্টান ইহুদিদেরকে নিকৃষ্ট প্রানী, কুকুর , বানর বা শুকর বলে কোথায় গালাগাল করা হয়েছে? নির্দিষ্ট করে বলুন। এই অভিযোগ আপনি করছেন কেন, তাদের কি মুখ নাই?

        না, খৃষ্টান ও ইহুদিদের মুখ নাই। এজন্য তারা মগাজিৎ রায় ও তার কিছু চ্যালা-চামুণ্ডাকে মুখপাত্র বানিয়ে এই দায়িত্ব দিয়েছে।

        1. 3.3.2.1
          বিদ্রোহী

          না, খৃষ্টান ও ইহুদিদের মুখ নাই। এজন্য তারা মগাজিৎ রায় ও তার কিছু চ্যালা-চামুণ্ডাকে মুখপাত্র বানিয়ে এই দায়িত্ব দিয়েছে।

          কে বলল নাই ? আছে তো , আপনি তার খবর রাখেন না। http://www.abnsat.com এ সাইটে যান, এটা একটা স্যটেলাইট টিভি চ্যনেল। ওখানে যান , দেখবেন খৃষ্টান ও মুসলমান পন্ডিতরা কি ধুমছে বিতর্ক করছে আর খৃষ্টান পন্ডিতদের কাছে মুসলমান পন্ডিতরা কিভাবে অসহায়ের মত হেরে যাচ্ছে।
          আপনাদের একটা খুব বাজে ধারনা আছে আমাদের ব্যপারে। আমরা আসলে ইসলাম বা মুসলমান কারও শত্রু নই। আমরা বাঙালী কিন্তু খুবই গরিব ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। দেশ বিদেশে বসবাসের কারনে আমরা বুঝতে পারি আমরা কত নিচে পড়ে আছি আর এর কারন হিসাবে আবিস্কার করি ইসলামই হলো এর মূল কারন। আমরা যেহেতু আমাদের দেশ ও জাতিকে ভালবাসি আমরা চাই না এরকম ফকির মিশকিনের মত বাচতে। আর তাই যে কারনটির জন্য আমরা ফকির মিশকিন , আমরা চাই তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করতে। মানুষ এসব জানতে পারলে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে কোনটা তারা বেছে নেবে। পক্ষান্তরে আপনারা ভুল ভাল ভাবে ইসলামকে প্রচার করে মানুষকে অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন রাখতে চান। তাই আপনারাই হলেন আমাদের দেশ ও জাতির শত্রু। আমরা আপনাদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের চেষ্টা করে যাই অবিরত।

    4. 3.4
      সাদাত

      @বিদ্রোহী

      ১. কোন ওয়াজ মাহফিলে হিন্দুদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার মতো কিছু বললে প্রমাণ সহ তাদের বিরূদ্ধে সরকারের কাছে অভিযোগ করুন। শুধু ফাঁকা বুলিতে কাজ হবে না।

      ২. রামু হোক আর এখনকার ঘটনাই  হোক, যারাই সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, উপাসনালয় ভাংচুর করে, তাদের ধরে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আমি মহা আনন্দিত হবো। 

      ৩. কেউ কোন অপরাধ করলে তাকেই ধরতে হবে, একজনের অপরাধে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অযৌক্তিক, অনৈতিক। কাজেই কারো কারো ধর্মঅবমাননার কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।

      আশা করি  আপনার  উত্তর পেয়েছেন।

      এবার লাইনে থাকেন। প্রসঙ্গ হচ্ছে, পোস্টে উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলো বাক-স্বাধীনতা কি-না? এধরণের বাক-স্বাধীনতার পক্ষ অবলম্বনের সুযোগ আছে কি-না?

  12. 2
    দ্য মুসলিম

     

    উদারপন্থি(!) মুসলিম ভ্রাতাগণ! দু:খিত, আপনাদের মতো আমিও এমন বাক-স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দিতে পারছি না।
    আমার ঈমান তাতে সায় দেয় না।
    বরং হৃদয়ের ভেতর থেকে যে কথাটা উঠে আসে তা হলো-
    এমন বাক-স্বাধীনতার খেতা পুড়ি।
    আমার কাছে এগুলো বাক-স্বাধীনতা নয়, বাক-সন্ত্রাস।

    একমত।

  13. 1
    সরোয়ার

    এইভাবে কলম কেউ তখনই ধরতে পারে যখন কলম দিয়ে কারো পেট ফেঁড়ে দেবার বা চোখ উপড়ে ফেলার ইচ্ছা থাকে। এটা কলম সন্ত্রাসের একটি সুন্দর প্রতীক বটে।

    দারুণ অবজারভেশন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.