«

»

Apr ২৪

৬ এপ্রিলের লংমার্চ : একটি ঈমানী মহাজাগরণ এবং একটি চূড়ান্ত বার্তা

 

এক.

৬ এপ্রিল: ঈমানী মহাজাগরণের এক অবিস্মরণীয় দিন

বাংলা ব্লগকে ফাঁকা এবং অনিয়ন্ত্রিত পেয়ে নাস্তিকতা আর ইসলাম-বিদ্বেষ এমনভাবেই জেঁকে বসেছিল যে, সাধারণ মুসলিম ব্লগাররাও নতুন নতুন ব্লগে এসে বেদিশা হয়ে যাচ্ছিলেন। ইসলাম নিয়ে কথা বলা এবং ইসলামের পক্ষের কোন লেখাকে সমর্থন করা হয়ে উঠেছিল রীতিমতো দু:সাহসী এক কাজ। আর ইসলাম নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করাটা হয়ে উঠেছিল এক ধরণের ফ্যাশন। ইসলামের সমালোচনা করে দু-একটি কথা বলতে না পারলে, ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টে একটু আধটু প্রশংসা না করলে আধুনিক ও প্রগতিশীলতার জাতে ওঠা দায় হয়ে উঠেছিল। কিছু সংখ্যক ব্লগার এসবের বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সেই প্রতিরোধ কার্যকরও হচ্ছিল, তবে এ ব্যাপারে গণসচেতনতা যা তৈরি হচ্ছিল তা ছিল খুবই ধীরেগতিতে। এই গতিতে আগামী ১০ বছরেও যতটুকু গণসচেতনতা তৈরি করা সম্ভব না হত, ইসলাম-বিদ্বেষী ব্লগারদের কার্যক্রমগুলো দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশ পাওয়ায় ১ দিনে তার চেয়ে বেশি সচেতনতা তৈরি হয়ে যায়। এগিয়ে আসে হেফাযতে ইসলামের মতো অরাজনৈতিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। ডাক দেওয়া হলো লংমার্চের। নানা মিথ্যাচার, শত বাধা, সহস্র প্রতিকূলতা ঠেলে লক্ষ লক্ষ মুমিন মুসলিমের ঢল নামলো ঢাকার রাজপথে। পায়ে হেঁটে ৫০/৬০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েও অনেকে এসে পৌঁছেছেন মহাসমাবেশে। ছুটির দিনে নজিরবিহীনভাবে সরকারী মদদে হরতাল দিয়ে, গাড়িঘোড়া বন্ধ করে দিয়ে, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ দিয়ে হেনস্তা করেও দমানো যায়নি অপ্রতিরোধ্য এই স্বতস্ফূর্ত ঈমানী মহাজাগরণকে। সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পানি খাইয়ে শরবত খাইয়ে লংমার্চ এবং মহাসমাবেশে আসা মানুষকে যেভাবে আতিথ্য দেখিয়েছেন তার তুলনা মেলা ভার। ৬ এপ্রিল ঢাকা ছেয়ে গিয়েছিল সাদা পোশাক আর সাদা টুপিতে। বাংলার ইতিহাসে ঈমানী মহাজাগরণের এ ছিল এক অবিস্মরণীয় দিন।

দুই.

নতুন বার্তা

অধিকাংশ বরং প্রায় সব মিডিয়া যখন প্রতিকূলে তখনও সমস্ত মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে ৬ এপ্রিলের ঈমানী মহাজাগরণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন বার্তা নিয়ে আসে। ইসলাম-বিদ্বেষীরা জেনে যায় কোটি কোটি মুমিন-মুসলিম এখনো জেগে আছে এই বাংলার মাটিতে। যে মাটিতে শায়িত আছেন হাজারো আল্লাহর ওলি; যে মাটিতে জেগে আছেন লক্ষ লক্ষ আলেম, তালেবে এলেম; যে দেশের কোটি কোটি মুমিন মুসলিমের কাছে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পিতা-মাতা-স্ত্রী-সন্তান-সম্পদ এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় সেই মাটিতে বসে আল্লাহ-রাসূল নিয়ে, দ্বীন ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করা যাবে না। ইসলাম-বিদ্বেষীদের ঠাঁই এই মাটিতে হবে না।

তিন.

ধন্যবাদ হে হেফাযত!

হেফাযতের তের দফার কয় দফা বাস্তবায়িত হবে জানি না। হেফাযতের ভবিষ্যত কী তাও জানি না। ভবিষ্যতের কথা সময় বলে দেবে। আমার জন্য অতীত আর বর্তমানই যথেষ্ট। হেফাযতকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি বলতে চাই:

হেফাযত!

তোমার উত্থাপিত একটি দফাও যদি বাস্তবায়িত নাও হয়, তবু তোমায় ধন্যবাদ হে হেফাযত।

তুমি অগণিত মুসলিমের ঘুমন্ত ঈমানকে একবারের জন্য হলেও নাড়িয়ে দিয়েছ। সে-ই বা কম কিসে!

তুমি ইসলাম-বিদ্বেষীদের অন্তরাত্মা একবারের জন্য হলেও কাঁপিয়ে দিয়েছ। সে-ই বা কম কিসে!

চার.

এবার আমাদের পালা

এককালে জামাত-শিবিরকে চিহ্নিত করার জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিল কেপি (কাঁঠাল পাতা) টেস্ট, ‘ছাগু’ ট্যাগ। কালক্রমে শুরু হলো এর নিদারুণ অপব্যবহার। জামাত-শিবির ছাপিয়ে ইসলামের পক্ষে কলমধারী মাত্রকেই ‘ছাগু’ বানাবার কালচার তৈরি হয়ে গেল। এই কালচারে নেতৃত্ব দিলো কিছুসংখ্যক ইসলাম-বিদ্বেষী। কেউ ইসলামবিষয়ক পোস্ট দিয়েছেন তো তিনি ছাগু। ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টে কেউ নেগেটিভ কমেন্ট করেছেন তো তিনি ছাগু। ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত এমন হয়ে দাঁড়ালো যে কথা বলাটাই একটা আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াল যে কখন না জানি কে ‘ছাগু’ ট্যাগ করে বসে! সেই দিন আজ অতীত। ৬ এপ্রিলের পরও যদি কোন মুসলিমের অন্তর হতে ‘ছাগু’ ভীতি দূর না হয়, তবে বুঝতে হবে সে ৬ এপ্রিলের ম্যাসেজ বুঝতেই পারে নাই। আজও যদি ইসলামের পক্ষ অবলম্বনের জন্য কেউ আপনাকে কেপি টেস্ট করতে আসে, আপনি উল্টো তার HIV টেস্ট করে নিন। তাকে বলে দিন,

আমার কেপি টেস্ট করার তুই কে?

আমাকে ছাগু বলার তুই কে?

আমাকে সার্টিফাই করার তুই কে?

এখন থেকে সার্টিফাই আমি করবো।

HIV পজেটিভ, তো তুই একটা ‘হনু’।   

[HIV-র পূর্ণরূপ আপাতত নাই বা দিলাম, আপনারা বুঝে নিন। ট্যাগাট্যাগির ব্যাপারটা আমি নিজে আসলে খুব বেশি পছন্দ করি না। তবে TIT FOR TAT নাহলেও TAT FOR TAT বা TIT FOR TIT হিসেবে বিপরীত একটি ট্যাগ এবং টেস্ট থাকা জরুরী। তবে লক্ষ রাখবেন অযথা শান্তিপ্রিয় কাউকে ট্যাগায়িত করে ‘হনু’র অবস্থা ‘ছাগু’র পর্যায়ে যেন নামিয়ে না ফেলেন।]

১১ comments

Skip to comment form

  1. 8
    আহমেদ শরীফ

    ইসলামপন্থিদের পুনরুত্থানের পর তাদের লোটাকম্বলসহ ধরার আগেই যদি শাহবাগিদের পরমবন্ধু খোদ চাপাতিলীগই উহাদের দেশছাড়া করে _ তা হবে তাদের জন্য চরম লজ্জা ও ইসলামপন্থিদের জন্য হতাশার। ইজ্জত আল্লাহর হাতে, বেইজ্জতও আল্লাহর হাতে _ শাহবাগিদের মত নির্লজ্জ কাপুরুষরা এভাবেই মরার আগেই হাজারবার মরে।

  2. 7
    সাদাত

    ৬ এপ্রিলের ঈমানী মহাজাগরণের এক বছর পূর্ণ হবার ঠিক আগ মুহূর্তে, হেফাজতকে প্রতিহত করতে সরকারী লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ শাহবাগীদের আজ কী করুণ দশা!!! লাঠিয়াল বাহিনী আজ নিজেই নির্দয় লাঠি পেটার শিকার!  ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস!!

  3. 6
    সাদাত

    কুরআন-হাদিস দিয়ে ইসলাম শিকার: ইসলামের হেফাযতের দায়িত্ব নাকি শুধু আল্লাহর

    কুরআনে বলা হয়েছে:

    আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। (১৫:৯)
    এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব। (৭৫:১৭)

    এধরণের আয়াতের ওপর ভিত্তি করে কিছু কিছু ভণ্ডরা বলছে, ইসলাম হেফাযতের দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। অন্য কারো নয়। [কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে বলেছেন নিজেকে ইসলামের হেফাযতকারি বলা হলে সেটা নাকি কুফর/শিরক হবে।]

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো আয়াতগুলোতে কুরআন হেফাযত বা সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে ইসলাম হেফাযতের কথা নয়। অভিযোগকারিদের খুশি করতে না হয় ধরে নেওয়া হলো, কুরআনের হেফাযত = ইসলামের হেফাযত।

    সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, প্রত্যেক জামানায় অগণিত মুসলিম যে কুরআনের হাফেয হয়েছেন তারা কি তবে কুফর/শিরক করেছেন? (নাউযুবিল্লাহ) কারণ, ‘হাফেযে কুরআন’ বা ‘কুরআনের হাফেয’ এর কাজই তো হচ্ছে ‘হেফাযতে কুরআন’।

    না, তারা কুফর/শিরক তো করেনই নাই; বরং প্রশংসনীয় কাজ করেছেন, সওয়াবের কাজ করেছেন। একইভাবে মুসলিমরা যুগে যুগে ইসলামের হেফাযতে নিজেদের নিয়োজিত করে এসেছেন। তারা নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সামনে থেকে পেছনে থেকে, ডানে থেকে পেছনে থেকে ইসলামের হেফাযতে অকাতরে জীবন দিয়েছেন। অন্যদিকে ইহুদিদের যখন মুসা(আ.) জিহাদের জন্য ডেকেছিলেন তারা বলেছিল দেখুন-

    তারা বললঃ হে মূসা, আমরা জীবনেও কখনো সেখানে যাব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে। অতএব, আপনি ও আপনার পালনকর্তাই যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করে নিন। আমরা তো এখানেই বসলাম। (৫:২৪)

    আল্লাহ যেসব দ্বীনি বিষয়ের দায়িত্ব নেন, সেসব বিষয়ে চেষ্টা মেহনতের দ্বারা মানুষ নিজেকে দামী করে। আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় হয়। মানুষ হাত গুটিয়ে বসে থাকলে আল্লাহপাক ফেরেশতা বা অন্য কিছু দিয়েও কাজ নিতে পারেন, তাতে মানুষের মর্যাদা বাড়ে না। মানুষকে/বিশ্বাসীদের হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বলা অবিশ্বাসদের অনেক পুরনো তরিকা।

    আল্লাহই মানুষের রিযিক দাতা। কিন্তু তিনি মানুষকে নির্দেশ দেন তার প্রাপ্ত রিযিক হতে অন্যকে দান করতে। মুমিনরা নির্দেশ পেয়ে দান করে, আর অবিশ্বাসীরা বলে, রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর, আমাদের নয়।

    যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলে, ইচ্ছা করলেই আল্লাহ যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা তাকে কেন খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছ। (৩৬:৪৭)

    এককথায় বললে বলতে হয়, ইসলামের হেফাযতের যদি শুধু আল্লাহর কাজ হতো, তবে ইসলামে জিহাদের বিধান থাকতো না, শহীদের এত মর্যাদা হতো না।

  4. 5
    এস. এম. রায়হান

    এককালে জামাত-শিবিরকে চিহ্নিত করার জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিল কেপি (কাঁঠাল পাতা) টেস্ট, ‘ছাগু’ ট্যাগ। কালক্রমে শুরু হলো এর নিদারুণ অপব্যবহার। জামাত-শিবির ছাপিয়ে ইসলামের পক্ষে কলমধারী মাত্রকেই ‘ছাগু’ বানাবার কালচার তৈরি হয়ে গেল। এই কালচারে নেতৃত্ব দিলো কিছুসংখ্যক ইসলাম-বিদ্বেষী। কেউ ইসলামবিষয়ক পোস্ট দিয়েছেন তো তিনি ছাগু। ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টে কেউ নেগেটিভ কমেন্ট করেছেন তো তিনি ছাগু।

    যারা কথায় কথায় যাকে তাকে 'ছাগু' ট্যাগ করে পাকড়াও করার চেষ্টা করেছে তারা- প্রথমত, ইসলামে অবিশ্বাসী; দ্বিতীয়ত, তারা সবাই ভাদা কিংবা হনু। এটা একেবারে প্রমাণিত সত্য।

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      আমার হিসেব তো বলে ভাদা হনুর সাবসেট -- অর্থাত যিনি হনু তিনি ভাদা হবেনই বাই ডিফল্ট। HIV টেস্ট এর V টা কি ভাদা টেস্ট নয়?

  5. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    সারা দুনিয়াই ইসলামি বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামি শাসন;মানে খিলাফতের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে।তার ম্যানিফেস্টেশন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে হচ্ছে।যেমন আরবে আর আফ্রিকায় হচ্ছে সেকুলার পশুদের হটানোর মাধ্যমে।আর আমাদের দেশে হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষী অমানুষদের বিরুদ্ধে জাগরণের মাধ্যমে।
     
    হেফাজত সঠিক সময়েই মাঠে নেমেছে আল্লাহ্‌র অশেষ মেহেরবাণীতে।শুধু বিএনপি-জামাতের প্রভাব এড়িয়ে চলতে পারলেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকে দেশের মানুষকে উনারা পরিচালিত করতে পারবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

  6. 3
    এম_আহমদ

     
    খন্দক যুদ্ধে পৌত্তলিক মিত্রবাহিনী এসেছিল মুসলমানদেরকে “নির্মূল” করতে এবং নিজেদের সংখ্যাধিক্যে আত্মপ্রতারিত হয়েছিল। অবশেষে আল্লাহর তরফ থেকে যখন সাইমুম এলো,  তখন কী হয়েছিল? হেফাজত ছিল আল্লাহর তরফ থেকে আসা সেই সাইমুম! 

  7. 2
    শামস

    HIV-র পূর্ণরূপ আপাতত নাই বা দিলাম, আপনারা বুঝে নিন। ট্যাগাট্যাগির ব্যাপারটা আমি নিজে আসলে খুব বেশি পছন্দ করি না। তবে TIT FOR TAT নাহলেও TAT FOR TAT বা TIT FOR TIT হিসেবে বিপরীত একটি ট্যাগ এবং টেস্ট থাকা জরুরী। তবে লক্ষ রাখবেন অযথা শান্তিপ্রিয় কাউকে ট্যাগায়িত করে ‘হনু’র অবস্থা ‘ছাগু’র পর্যায়ে যেন নামিয়ে না ফেলেন।

     
    আমিও ট্যাগাট্যাগির পক্ষে না। তবে রোগী দেখে ঔষধ দিতেও আপত্তি দেখি না। ছাগুর ফর্দ নিয়ে আসারা বাই ডিফল্ট রোগী মানে HIV টেস্ট এর জন্য qualify করবে।
     
     
     

    1. 2.1
      সাদাত

      @শামস:
      ভালো বলেছেন।

  8. 1
    নীরব সাক্ষী

    আপনার সাথে সহমত। ৬ ই এপ্রিলের পর দেশে সাধারণ আলোচনার গতি পরিবর্তন হয়েছে। সব জায়গায় বিভিন্ন রকমের বিশ্লেষণ হচ্ছে। তবে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করছে তাদের অর্গানাইজিং পাওয়ার দেখে। এত কিছুর পরও সাধারণ মানুষের সমর্থন এবং সর্বোতভাবে বিশৃংখলাহীনভাবে এত বড় সমাবেশ শেষ করা। তাদের সময়জ্ঞানও অনেকের নজর কেড়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে মুহাম্মদ (সা) এর সন্মান অক্ষত আছে তা ৬ই এপ্রিলের মেসেজ যা ইসলাম বিদ্বেষীদের অন্তর আত্না কাপিয়ে দিয়েছে। ব্লগে ব্লগে বলা হলো হেফাজত সব নাস্তিকদের ফাঁসি চায়। এটা সত্য নয়, কেননা পরিচিত নাস্তিক ফরহাদ মজহার হেফাজতে মঞ্চে গিয়েছে হুজুরদের সাথে মোলাকাত করেছেন!  তিনি তো এখনো বেচে আছেন! দেশে ইসলাম বিদ্বেষীদেরকেই নাস্তিক হিসেবে ধরা হয়। ফরহাদ মজহার অনেকের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছেন। আমারব্লগে তাকে নিয়ে রীতিমত রিসার্চ হচ্ছে! উনার এনজিও বিদেশে টাকা এনে দেশে ব্যয় করছেন। কিন্তু তথাকথিত প্রগতিশীলরা এটা মেনে নিতে পারছেন না। এজন্য দাতাগোষ্ঠীর কাছে ইমেল করছেন যাতে দেশে সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়! বলা হচ্ছে উনি মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন!
    আমার মনে হয় না হেফাজত রাজনীতিতে আসবে। তারা অরাজনৈতিক হিসেবেই বেশী শক্তিশালী। বাস্তবতা হচ্ছে হুজুরদের কাছে  দেশের দায়িত্ব দেয়া হলে উনারা দেশ চলাতে পারবেন না। তারা বর্তমান ডিপ্লোমেটিক ও সেক্যুলার ব্যবস্থার সাথে একদম অপরিচিত। তাই সাধারণ মানুষের ঈমানী লেভেল একটি সাধারণ অবস্থায় না পৌছা পর্যন্ত ইসলামি সিস্টেম জোর করে চালু করলেও তা অপ্রিয় হয়ে যাবে।
    ৬ই এপ্রিলের পর থেকে মিডিয়ার প্রগতিশীলরা বেশ মনোকষ্টে আছে। তারা ভাবত হুজুররা তাদের সংগায়িত 'সভ্য' সমাজে কথা বলতে পারে না। কিন্তু টক শো গুলোতে হুজুরদের সাথে কথায় পেরে উঠতে পারছে না তথাকথিত সুশীল ও প্রগতিশীলরা। এতে সাধারণ মানুষ কিন্তু পজেটিভ মেসেজ পাচ্ছে। সাধারণ জীবনের মত শিক্ষিত হজুররা টক শোতে বেশ ফোকাসড এবং প্রগতিশীলদের বেশ ভালভাবেই মোকাবেলা করছেন। 
    ৬ই এপ্রিলের আগে আমার এক কমিউনিস্ট কলিগ হেজাযতের সমাবেশ নিয়ে রীতিমত মকারী করেন এবং যথারীতি রেগে মেগে বলেছিলেন যে সমাবেশ তেমন লোক হবে না। ৭ই এপ্রিলে উনার মুখ শুকনা ছিল। কিন্তু মনের কষ্ট দূর করতে নারীর অধিকার নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন। হেজাযতের দাবী মানলে নাকি গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাবে বলে অপ-প্রচারে লিপ্ত আছেন! সরকার গার্মেন্টেসের গরীব নারী শ্রমিকদের নিয়ে জোর করে পলিটিক্স খেলতে গিয়ে কিন্তু পুরো গার্মেন্টস ইন্ড্রাষ্টি ধবংসের চেষ্টা করছে। দুই লাখ নারীদেরকে জোর করে ঢাকা এনে সমাবেশ করলেও হেফাজতের ইস্যুতে তেমন প্রভাব ফেলবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে হেফাজতের নেতারা যদি গার্মেন্টেস শ্রমিকদের ন্যায্য বেতনের দাবীতে আন্দোলন করে তবে গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্টি আমাদের দেশে ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাবে। কম খরচের কারনে আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টর ফ্লারিশ করেছে। এখানে কোন সরকারের তেমন ক্রেডিট নেই।  তাই গার্মেন্টেস নিয়ে রাজনীতি করলে হিতে বিপরীত হবে।

    1. 1.1
      সাদাত

      @নীরব সাক্ষী:
      ভালো বলেছেন।
      হুজুররা রাষ্ট্র চালাতে যাবেন না, সেই ইচ্ছাও তাদের নাই। আর সার্বিকভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো যথাযথ পরিবেশ এখনো তৈরি হয় নাই, সেটা আলেমরা ভালোই বুঝেন। কাজেই আজকের দাবি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি নয়, বরং ইসলাম-বিদ্বেষী শক্তিকে কোণঠাসা করাই এখন মূখ্য বিষয়।
      নারী সমাবেশ করে লাভ হবে না। হেফাযত চাইলে ওদের চেয়ে শতগুণ বড় নারী সমাবেশ করতে পারে। ভাড়াকৃত কৃত্রিম সমাবেশ দিয়ে কোন কিছু অর্জন করা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.