«

»

Feb ২৫

কুরআনে প্রাপ্ত সুন্নাহ-র প্রাথমিক পরিচয়: সুন্নাহ একটি অবতীর্ণ বিষয়

ভূমিকা:

কুরআন-অনলিদের কথা বাদ দিলেও অনেক সাধারণ আধুনিক মুসলিমদের মাঝেও সু্ন্নাহ-র ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা যায়। তারা সুন্নাহ হতে পছন্দসই বিষয়গুলো নিতে রাজী, কিন্তু যেসব বিষয়কে বিধর্মী ও নাস্তিকরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে সেসব বিষয়কে সযত্নে এড়িয়ে যেতে চান। এর কারণ সম্ভবত এটাই যে সুন্নাহকে তারা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করেন না এবং সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের ধারণা পরিষ্কার নয়। ফলে কোন সুন্নাহ আপাতভাবে কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হলেই তারা সেটাকে ছুঁড়ে ফেলতে উদ্যত হন যদিও কুরআনের কোন আয়াত আপাতভাবে অন্য আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হলে তারা ঠিকই সেটার ব্যাখ্যা ও মর্ম অনুধাবণে সচেষ্ট হন। এই লেখায় আমরা কুরআন হতে সুন্নাহর একটি প্রাথমিক ধারণা পেতে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

 

১. কুরআন-বহির্ভূত আল্লাহর কোন বিধান থাকতে পারে কি?

 

১.১ কুরআন-বহির্ভূত আল্লাহর বিধান:১

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। [২:১৮৭]

 

১.১.১ বিশ্লেষণ

এই আয়াত থেকে বুঝা যাচ্ছে:

পূর্বে রোয়ার রাতে স্ত্রী সহবাস হারাম করা হয়েছিল। কেননা,

১.১.১.১ পূর্বে কোন কিছু হারাম করা না হলে, সেটাকে নতুন করে হালাল করার দরকার পড়ে না করাণ যা কোন কিছু হারাম করা না হলে সেটা এমনিতেই হালাল হয়ে থাকে, সেটাকে হালাল করতে হয় না।

১.১.১.২ পূর্বে হারাম না করা হলে “আত্মপ্রতারণা”-র কথা আসতো না; ক্ষমা এবং অব্যাহতি প্রদানের কথাও আসতো না।

 

১.১.২ অনুধাবণ

হালাল-হারাম যদি কেবল কুরআনের আয়াত দ্বারাই নিরূপিত হতে হয়, তাহলে রোযার রাতে স্ত্রী সহবাস হারাম হওয়া সংক্রান্ত কোন আয়াত অবশ্যই কুরআনে থাকার কথা।

 

১.১.৩ পর্যবেক্ষণ

১.১.৩.১ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রোযার রাতে স্ত্রী সহবাস হারাম হওয়া সংক্রান্ত কোন আয়াত কুরআনে নেই।

১.১.৩.২ তার মানে, আল্লাহ তায়ালা কুরআনের কোন আয়াত দ্বারা আলোচ্য বিষয়টি হারাম করেন নাই।

১.১.৩.৩ তিনি কুরআনের ওহির বাইরে ভিন্ন কোনভাবে আলোচ্য বিষয়টি যে হারাম তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই মুসলিমরা অবগত হয়েছিলেন।

 

১.২ কুরআন-বহির্ভূত আল্লাহর বিধান:২

তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন। [৫৯:৫]

১.২.১ বিশ্লেষণ

১.২.১.১ এই আয়াতে একটি তথ্য দেওয়া হচ্ছে যে

মুসলিমরা কাফেরদের কিছু খেজুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছে এবং কিছু না কেটে ছেড়ে দিয়েছে।

১.২.১.২ অত:পর জানানো হচ্ছে যে এই কাজটি আসলে আল্লাহরই আদেশ ছিল।

১.২.২ অনুধাবণ

এই কাজটা যদি আল্লাহর আদেশ হয়ে থাকে, আর আল্লাহর আদেশ/নিষেধ যদি কেবলমাত্র কিতাব তথা কুরআন হতেই পেতে হয়, তাহলে এতদসংক্রান্ত আল্লাহ তায়ালার আদেশটি কুরআনের কোন না কোন আয়াতে থেকে থাকবে।

১.২.৩ পর্যবেক্ষণ

১.২.৩.১ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এতদসংক্রান্ত আদেশ সম্বলিত  কোন আয়াত কুরআনে নেই।

১.২.৩.২ তার মানে, আল্লাহ তায়ালা কুরআনের কোন আয়াত দ্বারা ঐ আদেশ প্রদান করেন নাই।

১.২.৩.৩ তিনি কুরআনের ওহির বাইরে ভিন্ন কোনভাবে আলোচন্য আদেশটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই মুসলিমরা অবগত হয়েছিলেন।

 

১.৩ কুরআন-বহির্ভূত আল্লাহর বিধান:৩

এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান। [২:১৪২]

এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়। [২:১৪৩]

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে। [২:১৪৪]

 

১.৩.২ বিশ্লেষণ

১.৩.২.১

এই আয়াতগুলো দ্বারা মাসজিদুল হারাম মুসলিমদের কিবলা নির্ধারিত হয়। এর আগে মুসলিমদের কিবলা ভিন্ন ছিল (বায়তুল মাকদিস/মুকাদ্দাস)।

১.৩.২.২

আয়াত (২:১৪৩) হতে আমরা জানতে পারছি-

পুর্বে যে কিবলা নির্ধারণ করা হয়েছিল,

সেটা আল্লাহ তায়ালাই নির্ধারণ করেছিলেন।

১.৩.২ অনুধাবণ

এখন কথা হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত সমস্ত বিধানের একমাত্র উৎস যদি কুরআনই হয় তবে পূর্ববর্তী কিবলা নির্ধারণ সংক্রান্ত কোন না কোন আয়াত কুরআনে থাকতেই হবে।

১.৩.৩ পর্যবেক্ষণ

১.৩.৩.১ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পূর্ববর্তী কিবলা নির্ধারণকারি কোন আয়াত কুরআনে নেই।

১.৩.৩.২ তার মানে, আল্লাহ তায়ালা কুরআনের কোন আয়াত দ্বারা পূর্ববর্তী ঐ কিবলা নির্ধারণ করেন নাই।

তিনি কুরআনের ওহির বাইরে ভিন্ন কোনভাবে পূর্ববর্তী কিবলা কোনটি হবে সেটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই মুসলিমরা অবগত হয়েছিলেন।  

 

২. আল্লাহর বিধান আহরণের উপায়

ইসলামে কিবলা কিন্তু কোন সাধারণ বিষয় না; বরং সেটা মুসলিম ঐক্য এবং স্বাতন্ত্র্যের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কিবলা নির্ধারণ করতে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের কোন আয়াত অবতরণ করলেন না। সেটা তাঁর রাসূলকে জানিয়ে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটা মুসলিমদের অবহিত করলেন। প্রাথমিক যুগের কোন মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ প্রশ্ন করলেন না যে কিবলা সংক্রান্ত এই বিধানের কুরআনিক দলিল কী?

 

২.১

এখন, প্রশ্ন হলো-

আল্লাহ তায়ালা প্রথমেই মাসজিদুল হারামকে কিবলা নির্ধারিত না করে প্রথমে ভিন্ন একটি কিবলা কেন নির্ধারণ করলেন, আর কেনই বা সেই নির্ধারণ কুরআনিক কোন ওহি ছাড়াই করলেন? এই প্রাথমিক কিবলা নির্ধারণের পেছনে আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য কী?

 

২.৩

এর একটা উত্তর আল্লাহ তায়ালা কিন্তু নিজেই দিয়ে দিয়েছেন:

আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়।  [২:১৪৩, প্রাসঙ্গিক অংশ]

 

রাসূলের অনুসরণকে আল্লাহ তায়ালা এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে পিঠটান দেয়- সেটা পরীক্ষা করার জন্য তিনি কিবলার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করেছেন কোন কুরআনিক ওহি ছাড়াই, কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তিনি পরীক্ষা করেছেন রাসূলের আনুগত্যে, রাসূলের অনুসরণে কারা উত্তীর্ণ হয়।

 

২.৪

তাহলে দেখা যাচ্ছে আল্লাহর বিধান প্রাপ্ত হবার দুটি উপায় আছে:

২.৪.১ আল্লাহর কিতাব তথা কুরআন

২.৪.২ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

 

৩. হিকমাহ: কিতাবের বাইরে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ একটি বিষয়

যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ [কিতাব] ও প্রজ্ঞা  [হিকমাহ] অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম। [৪:১১৩]

 

৩.১ এই আয়াতে আমরা অবগত হলাম যে,

৩.১.১ আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কেবলমাত্র কিতাবই অবতীর্ণ করেন নাই;

৩.১.২ বরং কিতাবের বাইরে আরেকটি বিষয় অবতীর্ণ করেছেন, যাকে কুরআনুল কারিমে “হিকমাহ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই “হিকমাহ” কোন অর্জিত, অনুমান/অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয় নয় বরং একটি অবতীর্ণ/নাযিলকৃত বিষয়।

 

৪. সুন্নাহ: হিকমাহ-র প্রকাশিত রূপ

৪.১

৪.১.১ ওপরের আলোচনা হতে একথা তো সুস্পষ্ট যে,

“হিকমাহ” বলতে এমন কিছুকে বুঝানো হয়েছ যেটি রাসূলের ওপর অবতীর্ণ/নাযিল হয় কিন্তু সেটি কিতাবের অংশ নয়।

৪.১.২ অন্যদিকে,

“সুন্নাহ” বলতেও কিন্তু  আমরা এমন কিছুই বুঝে থাকি যেটি রাসূলের ওপর অবতীর্ণ বিষয়, তাঁর কথা-কাজ-সম্মতিতে প্রকাশ পায়, কিন্তু তা কিতাবের অংশ নয়।

৪.২

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে,

৪.২.১ সুন্নাহ কি তবে হিকমাহ প্রকাশেরই মাধ্যম নয়?

৪.২.২ অন্য কথায়, সুন্নাহ কি হিকমাহ-র সমার্থক নয়?

 

৪.৩

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে শুধু নিজেদের বিবেচনার ওপর ভরসা না করে আমরা ২:১২৯ আয়াতের তাফসির দেখতে পারি যেখানে বলা হচ্ছে:

(and Al-Hikmah) meaning, the Sunnah, as Al-Hasan, Qatadah, Muqatil bin Hayyan and Abu Malik asserted. It was also said that `Al-Hikmah', means `comprehension in the religion', and both meanings are correct. [তাফসির ইবনে কাসির]

http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=298

 

 

৫. হিকমাহ শিক্ষা দেওয়া আল্লাহরই নির্দেশ

হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।[২:১২৯]

 

আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও [হিকমাহ] কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। [৩:১৬৪]

 

তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। [৬২:২]

 

৫.১

ওপরের আয়াতগুলো হতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাসূলের কাজ হচ্ছে:

৫.১.১ মানুষের সামনে আয়াত পাঠ করা

৫.১.২ মানুষকে কিতাব শিক্ষা দেওয়া

৫.১.৩ মানুষকে হিকমাহ শিক্ষা দেওয়া

৫.১.৪ মানুষকে পবিত্র/পরিশুদ্ধ করা (প্রসঙ্গচ্যুতির ভয়ে এই বিষয়টি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে না।)

 

৫.২

কাজেই রাসূল শুধু একজন বার্তাবাহক নন যার কাজ শুধুই আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া (যেমনটি অনেকেই মনে করে থাকেন)।

বরং

৫.২.১ আল্লাহর কিতাবকে তিনি শিক্ষা দেবেন তথা ব্যাখ্যা করবেন।

৫.২.২ তিনি কিতাবের বাইরে আরেকটি বিষয় শিক্ষা দেবেন যেটাকে “হিকমাহ” নামে অভিহিত করা হয়েছে। আমরা আগেই জেনেছি, এই হিকমাহ-ও তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটা নিছক কোন অর্জিত বা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয় নয়।

 

পরিশেষ:

এতক্ষণের আলোচনায় আমরা জানলাম

১. কিতাব তথা কুরআনের বাইরেও আল্লাহ তায়ালা “হিকমাহ” অবতীর্ণ করেছেন।

২. রাসূলের জন্য মানুষকে সেই হিকমাহ-র শিক্ষা দেওয়া আল্লাহ তায়ালারই নির্দেশ।

৩. কিতাব তথা কুরআনই আল্লাহর বিধান আহরণের একমাত্র উৎস নয়, বরং কিতাবের বাইরে রাসূলের মাধ্যমেও আমরা বিধান প্রাপ্ত হতে পারি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা-কাজ-সম্মতির মাধ্যমে আমরা যা প্রাপ্ত হই সেটাকেই সুন্নাহ বলা হয়ে থাকে।

সুতরাং সুন্নাহ কোন উদ্ভাবিত বা উড়ে এসে জুড়ে বসা বিষয় নয়; বরং তা কুরআনে উল্লেখ করা অবতীর্ণ/নাযিলকৃত হিকমাহ-র প্রকাশিত রূপ।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 5
    ফাতমী

    সাদাত ভাই কে ধন্যবাদ, খুব সহজভাবে বিষয়টা তুলে ধরার জন্য।

  2. 4
    এম_আহমদ

    ১. কিতাব তথা কুরআনের বাইরেও আল্লাহ তায়ালা “হিকমাহ” অবতীর্ণ করেছেন।

    ২. রাসূলের জন্য মানুষকে সেই হিকমাহ-র শিক্ষা দেওয়া আল্লাহ তায়ালারই নির্দেশ।

    ৩. কিতাব তথা কুরআনই আল্লাহর বিধান আহরণের একমাত্র উৎস নয়, বরং কিতাবের বাইরে রাসূলের মাধ্যমেও আমরা বিধান প্রাপ্ত হতে পারি। …

    সুতরাং সুন্নাহ কোন উদ্ভাবিত বা উড়ে এসে জুড়ে বসা বিষয় নয়; বরং তা কুরআনে উল্লেখ করা অবতীর্ণ/নাযিলকৃত হিকমাহ-র প্রকাশিত রূপ।

    বেশ কয়েকটি জরুরি বিষয় এই লেখাটিতে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে স্থান পেয়েছে। জাযাকাল্লাহ। এই ধারায় আমার একটি লেখা এখানে রয়েছে, কেউ চাইলে এখানে পড়ে দেখতে পারেন। সুন্নাহর উপর আরেকটি লেখা দেয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটি আর লেখা হয়ে ওঠেনি।

     

  3. 3
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    হাদীসকে বাদ দিয়ে শুধু কোরআনকে অবলম্বন করা যে কতখানী অবাস্তব তা বলাই বাহুল্য। তথাপী কোরআন-অনলীরা কিসের উপর ভিত্তি করে তাদের এই ফিলোসোফি তৈরী করেছেন আমি বুঝতে সক্ষম নই।

    আপনার অসাধারণ লেখাটির জন্য শুকরিয়া। আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

     

  4. 2
    কিংশুক

    সাদাত ভাইয়ের মতো করে  কোরআন ও হাদিসের আলোকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ'র আক্বীদা ব্যাখ্যা করার মতো সামর্থ্যবান কাউকে দেখিনি।  সুন্নাহ ব্যতীত কোরআন ব্যাখ্যা দুরে থাকুক বুজাই যায়না। জিহাদ, ক্বিতালের আয়াতসমূহকে কুরআন অনলিদের নিকট অর্থহীন মনে হবে। মহান আল্লাহ পাক ৭ম শতকে পবিত্র মক্কা নগরীতে তাঁর রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর উপর ক্বুরআন শরীফ নাজিল করে সত্য দ্বীণ ইসলামকে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি পূরন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সারা পৃথিবীর শক্তিশালী সাম্রাজ্য গুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সত্য ধর্ম ইসলামকে সবার উপর বিজয়ী করে দিয়েছেন। এখন হযরত মোহাম্মদ (সা:), তাঁর সাহাবী (রা:), ততকালীন আরব ইতিহাস না জানলে/মানলে কোরআনের বেশীরভাগ আয়াতের অর্থ বুজা যাবেনা অর্থাত কোরআন বুজতে হলেও হাদিস লাগবেই। কুরআন অনলি মাত্রই চরমভাবেই অজ্ঞ, ভন্ড যারা ইসলামের শ্রেষ্ঠ সন্তাান সাহাবা (রা:), তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন গণের চরিত্রে কালিমা লিপ্ত করে হাদিস সংকলনের ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে। যার ফলে সাধারন মুসলমানগণ যারা ইসলামের তেমন কিছুই জানেনা তারাও চরমভাবে বিভ্রান্ত হয়ে আলেম উলেমাগনকে খারাপ মানুষ ভেবে হাদিস অস্বীকার করেন।

      জাজাকাল্লাহ খায়ের। আল্লাহ তায়ালা আপনার লেখনীকে হক্বের পক্ষে সব সময় এরকম শানিত রাখুন।

  5. 1
    আহমেদ শরীফ

    অত্যন্ত সময়োপযোগী পোস্টের জন্য আল্লাহপাক আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।

    ইসলামের প্রকৃতি-সংজ্ঞা-পরিধি সম্পর্কে আমাদের অনেকের ধারণা খুব স্পষ্ট নয়। সুন্নাহর সম্মিলনের ভিত্তিতেই যে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে তা আমরা অনেক সময় জেনেও না বোঝা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি যা আত্মপ্রতারণারই নামান্তর। আল্লাহর হাবীব রাসূল(সাঃ) এর সুন্নাহ এড়িয়ে গিয়ে বা বাদ দিয়ে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর আশা করা অবান্তর-অসম্ভব একটি চিন্তা। ইসলাম মানেই রাসূল(সাঃ) এর সুন্নাহ অথবা রাসূল(সাঃ) এর সুন্নাহ মানেই ইসলাম। যে কারণে সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ) দের মাঝে সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের ব্যাপারে অতি উঁচুমাত্রার নিষ্ঠা-মনোযোগ লক্ষ্য করা যায়।

    আশা রাখছি বিস্তারিত আলোচনায় আরো অনেক কিছু এ ব্যাপারে জানার সুযোগ হবে।

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.