«

»

Apr ১৩

হস্তমৈথুনকে হারাম বলা কি “আল্লাহর ওপর খোদাগিরি”!

ভূমিকা:

কতগুলো বিষয় আছে যেসব বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে তেমন কোন মতভেদ নেই, প্রায় সকলের কাছেই বিষয়টা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও এরকমই। প্রায় সকল মুসলিমই এটাকে গর্হিত অপরাধ মনে করেন, এমনকি যারা এতে অভ্যস্ত তারাও। ফলে বিষয়টি নিয়ে আসলে কোন লেখালেখির দরকার হবার কথা ছিল না। কিন্তু তবু লিখতে হলো যখন দেখা গেল ইসলামের পক্ষে লেখালেখি করেন এমন কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান। এমন কি শ্রদ্ধাভাজন একজন নাস্তিক্যবাদবিরোধি ইসলামপন্থি লেখক যখন হস্তমৈথুনকে হারাম বলাকে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" হিসেবে অ্যাখায়িত করলেন, তখন কিছু না লিখে আর থাকা সম্ভব হলো না।

 

১. যৌনাঙ্গের হেফাযত করা আল্লাহর নির্দেশ (ফরজ)

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩০-৩১]

২. যৌনাঙ্গকে কিভাবে বা কী হতে হেফাযত করতে হবে?

মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এর বাইরে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। (২৩:১-৭)

Certainly will the believers have succeeded: They who are during their prayer humbly submissive. And they who turn away from ill speech. And they who are observant of zakah. And they who guard their private parts. Except from their wives or those their right hands possess, for indeed, they will not be blamed. But whoever seeks beyond that, then those are the transgressors. [23:1-7]

২.১ এখান থেকে দেখা যাচ্ছে:

সবকিছু থেকে যৌনাঙ্গকে হেফাযত করতে হবে ২টি ক্ষেত্র ছাড়া-

২.১.১ স্ত্রী

২.১.২ ডান হাতের মালিকানাভুক্ত নারী (ক্রীতদাসি)

২.২ বর্তমান সময়ের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ও আলোচনার প্রসঙ্গ বিবেচনায়, আমরা যদি  ডান-হাতের মালিকানাভুক্ত নারী বা ক্রীতদাসিদের কথা বাদ দিই, তাহলে ওপরের আয়াতে এটা সুস্পষ্ট যে, স্ত্রী ছাড়া আর কারো  দ্বারা বা কোন কিছুর দ্বারা যৌন কামনা চরিতার্থ করা সীমালঙ্ঘন তথা হারাম। কাজেই,

২.২.১ এই আয়াত বিবাহ-বিহর্ভূত নারীর সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে,

২.২.২ এই আয়াত পশু-পাখির সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে,

২.২.৩ এই আয়াত হস্তমৈথুনকে হারাম করছে,

মোটকথা, স্ত্রী ছাড়া যৌনকর্ম সম্পাদনের যত উপায় আছে সবকিছুকে হারাম করছে।

 

২.৩ কাজেই, কেউ যদি মনে করে থাকেন, “কুরআন অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম নয়” , তাহলে-

তাকে মানতে হবে, কুরআন অনুসারে পশুর সাথে সঙ্গমও হারাম নয়।

 

৩. আরো চিন্তার খোরাক

সূরা নূরের ৩০-৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা যৌনাঙ্গকে সংযত করতে বলেছেন, এর পরের আয়াতেই আল্লাহতায়ালা বিবাহের ওপর জোর দিচ্ছেন:

 

তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। [প্রাসঙ্গিক অংশ ২৪:৩২-৩৩]

 

৩.১ এখানে বুঝা যাচ্ছে,

৩.১.১ যৌনাঙ্গকে সংযত করার আল্লাহর নির্ধারিত উপায় হচ্ছে বিবাহ করা। (বিবাহে সমর্থদের জন্য)

৩.১.২ যারা বিবাহে সমর্থ নয়, আল্লাহ তাদেরকে অভাবমুক্ত করার আগ পর্যন্ত তাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত উপায় হচ্ছে “সংযম অবলম্বন করা”।

৩.২ চিন্তার খোরাক হচ্ছে,

যদি হস্তমৈথুন বা স্বমেহন বৈধই হবে তাহলে সংযম অবলম্বনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে?

শেষের কথা:

আশা করি, এই আলোচনার পর কুরআন অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম নয়, এ জাতীয় অদ্ভূত দাবি কেউ করবেন না বা কেউ আলেমদের থেকে শুনে হস্তমৈথুনকে “হারাম” বলে প্রচার করলে সেটাকে “আল্লাহর ওপর খোদাগিরি” বলে বসবেন না।

 

নোট: কুরআন বিষয়ক যেকোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আরবীকেন্দ্রিক হওয়া উচিত, কেননা সাধারণ বিষয়সমূহ হয়তো অনুবাদ দিয়ে বুঝা যায়, কিন্তু বিধান-সংক্রান্ত বিষয়াবলিতে প্রতিটি শব্দ অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে, কিন্তু অনুবাদ সবসময় সেই সকল বিষয় বিবেচনা করে করা হয় না। বিশেষত বাংলা অনুবাদ প্রায়ই ভাবানুবাদ হয়ে থাকে। সে তুলনায় ইংরেজি অনুবাদ অনেকটা আক্ষরিক হয়ে থাকে। ২৩:৭ এর প্রচলিত বাংলা অনুবাদ হচ্ছে- “অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে  কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে”। ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে But whoever seeks beyond that, then those are the transgressors। ইংরেজি অনুবাদটাই এখানে আক্ষরিক। সে কারণে “এদেরকে ছাড়া অন্যকে” শব্দগুচ্ছকে আমি “এর বাইরে” দ্বারা প্রতিস্থাপন করেছি। আক্ষরিক অনুবাদের বিস্তারিত কেউ এখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

—– সমাপ্ত ——

সাম্প্রতিক লেখাকুরআনে প্রাপ্ত সুন্নাহ-র প্রাথমিক পরিচয়: সুন্নাহ একটি অবতীর্ণ বিষয়

 

৪৯ comments

Skip to comment form

  1. 25
    Md Alif

    তুমি খুব ভালো বলেছো ভাই। আমি খুব উপকৃত হয়েছি। আল্লাহর কাছে আমি আজই তওবা পরলাম আমি আর এই কাজ করবো না মাবুদ। আমাকে হেদায়েত দান করো। আমি খুব বড় ভুল করেছি। আল্লাহ মাফ করো।

  2. 24
    TORIQUL

    আমার নাম মোঃ তরিকুল ইসলাম, আমি বর্তমানে ইরাক একটা কম্পানীতে চাকরি করি, আমার সাথে একটা কোরিয়ান মেয়ে চাকরি করে একি অফিসে, তার পরনের পোশাক দেখলে বৃদ্ধ বয়সের লোকের মনেও কামনার ডেউ উঠবেই, আমি আল্লাহ তায়ালার রহমতে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেস্টা করি, কিন্তু অফিসে যাওয়ার পরে কিছুতেই আমার চোখ হেফাজতে রাখতে পারিনা, না চাইলেও অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় ঐ মেয়ের দিকে, আমি এই জন্য আমার কম্পিউটারে কোরানের বাংলায় তাফসির কাজের ফাকে পড়ি যাতে আমার ইমানটা মজবুত থাকে, কিন্তু যখনি মেয়েটা বিভিন্ন কাজের জন্য আমার পাসে আসে এবং মাঝে মাঝে মজা করে আমার শরিরেও হাত স্পর্শ করে, আমার প্রশ্ন হচ্ছে এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিৎ? কিভাবে কি করলে আমি আমার ইমানকে ঠিক রেখে নিজের প্রতি অত্যাচার বন্ধ করেত পারি যদি কোনো পরামর্শ জানা থাকে তাহলে দয়া করে জানাবেন।

    1. 24.1
      Anonymous

      আপনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন ৷ যত ধরনের আত্মিক ব্যারাম আছে তার জন্য শ্রেষ্ঠ ঔষধ হলো ইসলামের দাওয়াত

       

  3. 23
    জাহাঙ্গীর হোসেন

    সবাইকে ধন্যবাদ,, সব গুলো কমেন্ট দেখে অনেক কিছু জানতে পারলাম, বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই,, সাদাত ভাই কে, মোআহাম্মদ হাসান ভাইকে ও, ফাতমী ভাইকে

  4. 22
    আরাফাত

    জানার গভীরতা বারলো। ধন্যবাদ

  5. 21
    এম_আহমদ

    আলোচ্য বিষয়ের উপর আমি আগে একটি মন্তব্য করেছি যা এখানে  রয়েছে। কেউ না দেখে থাকলে দেখে নিতে পারেন। এখন আরেকটি মন্তব্য করব এবং তা ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের (র) অভিমতের বিষয় নিয়ে। তবে আগে আরেকটি আরেকটি পরিভাষা সংযোগ করি। আরবিতে হস্তমৈথুনকারীকে ‘নাকিহুল ইয়াদাইন’ (ناكح اليدين) ‘করদ্বয়ে বিবাহিত’ও বলা হয়। হাস্যকর, তাই না? আরবের ভাষিক ব্যবহারে যৌন কাজের সাথে ‘নিকাহ’ শব্দকে এলোমেলোভাবে সর্বত্র জুড়ে দেয়া হয়। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কেও এই শব্দ দিয়ে টানা হয়।  এ ব্যাপারে আমার এই লেখাটি দেখা যেতে পারে Link to the blog

    ইমাম আহমদের মত

    ইমাম আহমদ হস্তমৈথুনকে অনুমোদন করেছেন এবং করেন নাই –এই মর্মে দুটি মত উল্লেখ হতে দেখা যায়। ইমাম তাইমিয়া (র) অনুমোদনের মতটি সঠিক নয় বলে তা নাচক করেন। এখানে প্রথমে ইমাম ইবন তাইমিয়ার ফাতোয়া থেকে একটি অংশ অনুবাদ করছি যাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

    "الاستمناء" لا يباح عند أكثر العلماء سلفاً وخلفاً سواءً خشي العنت أو لم يخش ذلك ، وكلام ابن عباس وما روي عن أحمد فيه إنما هو لمن خشي العنت وهو الزنا واللواط خشيةً شديدةً خاف على نفسه مِن الوقوع في ذلك فأبيح له ذلك لتكسير شدة عنته وشهوته.

    অর্থাৎ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমদের নিকট হস্তমৈথুন গ্রহণীয় নয় –তাতে পাপের ভয় থাকুক বা না’ই থাকুক। তবে ইবন আব্বাস (রা) ও ইমাম আহমদ থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা কেবল এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে পাপ-কর্মে নিপতিত হওয়ার প্রবল ভয় করে যেমন যিনা বা সমকামিতার ভয়। এমতাবস্থায় তার জন্য এটা অনুমোদিত, যাতে করে তার সেই পাপাগ্রহের কঠোর আসক্তি ভেঙ্গে পড়ে” ((আব্দুল কাদীর আল মাগরিবী, (২০০৬), ‘হাল আল-ইসতিমনা মিন কাবাঈর’, মুলতাকা আহলিল হাদিস, প্রাপ্তব্যস্থান))।

    (অন্যত্র) ইমাম ইবন তাইমিয়াকে (র) হস্তমৈথুন ‘হারাম’ না হালাল, এই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন (ফাতোয়া সমগ্র: ৩৫/২২৯):

    أما الاستمناء باليد فهو حرام عند جمهور العلماء وهو أصح القولين في مذهب أحمد وكذلك يعزر مَن فعله وفي القول الآخر هو مكروه غير محرم وأكثرهم لا يبيحونه لخوف العنت ولا غيره ونقل عن طائفة من الصحابة والتابعين أنهم رخَّصوا فيه للضرورة مثل أن يخشى الزنا فلا يعصم منه إلا به ومثل أنْ يخاف إن لم يفعله أن يمرض وهذا قول أحمد وغيره وأما بدون الضرورة فما علمتُ أحداً رخَّص فيه. والله أعلم.

    এটা জামহুর আলেমদের মতে ‘হারাম’ –এটাই ইমাম আহমদের মাযহাবে প্রাপ্ত দুই মতের বিশুদ্ধ মত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই কাজ করবে তাকে তিরস্কার করা হবে। অন্যদের মতে এটা মাকরূহ, নিষিদ্ধ নয়। তবে (মাকরূহের পক্ষের) অধিকাংশ আলেম কেবল পাপের ভয় ব্যতীত অন্য কোন কারণে তা (মাকরূহের আওতাভুক্ত) করেন  না। কয়েকজন সাহাবি (রা) ও তাবেয়ীদের (র) কথা এই মর্মে উল্লেখ করা হয় যে তারা এই কাজটিকে প্রয়োজনে, ব্যতিক্রমস্বরূপ, অনুমোদন করেছেন। প্রয়োজনের উদাহরণ হল যিনার ভয় –যখন কোনো ব্যক্তি এই কাজ করা ছাড়া উপায় থাকে না, অথবা কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় [১]। এটাই ইমাম আহমদের মত এবং অন্যদেরও। তাছাড়া এই প্রয়োজনের বাইরে কেউই এক্ষেত্রে রোখসত (অনুমোদন) ভেবেছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহই এ বিষয়ে অধিক অবগত (প্রাগুক্ত)।”

    কোরান/হাদিস

    কোরান/হাদিস নিয়ে আগের মন্তব্যে আলোচনা করেছি। তবে নির্যাস হচ্ছে, কোরানের ২৩:৭ ও ২৪:৩৩ আয়াতদ্বয় এক্ষেত্রে ব্যাখ্যায় আনা হয়। তবে সরাসরি উল্লেখ্য কোন সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না। যে সহিহ হাদিসটি ব্যাখ্যায় টানা হয় সেটি সিহাহ সিত্তার সব কয়টি বইয়ে রয়েছে। এটি হল, ‘যে যুবকগণ, তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিয়ে করে নেয়া উচিত। এটা দৃষ্টিকে আনত রাখবে এবং যৌনাঙ্গকে হেফাজত করবে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই তাদের জন্য রোজা রাখা উচিৎ। এটা তাদের জন্য খোজাকরণ-সদৃশ’ (يا معشر الشباب من استطاع الباءة فليتزوج فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء)। হস্তমৈথুন অনুমোদিত হলে তা রোজার চেয়ে সহজ হত –এই হাদিসের মাধ্যমে সেই যুক্তি ধারিত হয়।

    ___________________

    [১] অর্থাৎ হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত না করলে অসুস্থ হওয়ার ভয়। তবে শারীরিক রোগের বিষয়টি 'সেকেলে' ধারণা হবে থাকবে। এই কাজ না করলে শারীরিক রোগের কোন ব্যাপার আছে বলে মনে হয় না। তবে শরীর বিদ্যার কেউ ভাল বলতে পারবেন। তবে, এতে মানসিক রোগের কোন ব্যাপার থাকতে পারে কিনা –সেটাও কোন বিশেষজ্ঞই বলতে পারেন।

  6. 20
    হাসান

    লেখক বললেন যে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত।আপনার ধারণা ঠিক নয়। হাম্বলী মাযহাবে হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ বৈধ। ড. কারযাভীও যেনার আশংকা থাকলে হস্তমৈথুনের অনুমতি দিয়েছেন।

  7. 19
    Ariful Islam

    মহানবী (সাঃ) এর কোন হাদিস আছে হস্তমৈথুন বিষয়ে ? থাকলে দয়করে হাদিসটি একটু জানান ৷ উপকৃত হব ৷

    1. 19.1
      মাহফুজ

      (০৭:৩৩) তুমি বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা/ অপবিত্রতা/ ইতরামি এবং সকল গোনাহ এবং অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, আল্লাহর সাথে অংশীদার করা, যে বিষয়ে তিনি কখনো কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞানই নাই।

          এই আয়াত অনুসারে যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত যাবতীয় প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য অশ্লীল/ অপবিত্র/ ইতর কর্ম গোনাহসমূহ, এমনকি অন্যায়ভাবে কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করাও হারাম হয়ে যায়। সুতরাং বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গ ছেড়ে অন্য কোন উপায়ে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করা অশ্লীলতার নামান্তর এবং হারাম। তাই হস্তমৈথুন তথা যে কোন ধরনের কৃত্রিম পন্থা অবলম্বন করা ইতরপনা ও পাপ কর্মের অন্তর্ভূক্ত বলে আমি বিশ্বাস করি।

      অবৈধ পন্থায় কাম-লালসা চরিতার্থ করলে যে মহান স্রষ্টার সাথে দূরত্ব বৃদ্ধি পায় তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে-

         (৪:২৭) আল্লাহ তোমাদের প্রতি ফিরতে (ক্ষমা করতে) চান; কিন্তু যারা কাম-লালসার অনুসারী, তারা চায় তোমরাও যেন (তাঁর কাছ থেকে) অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।

         তাই যে কোন প্রকার অশ্লীল কর্ম থেকে নিজেকে ফিরিয়ে না নেয়া একজন বিশ্বাসীর জন্য শোভা পায়না।

         বিস্তারিত এখানে- প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা হারাম

  8. 18
    কামরুল

    মূল কথা হল ইসলামের দৃষ্টিতে হস্ত মৈথুন হারাম।তা করলে শাস্তি কি রকম হয়?

  9. 17
    Sikdeer Md Mohsin

    Thank You. Brother.

  10. 16
    সাদাত

    POINT TO BE NOTED:

    কোন ব্যাপারে বৈধ বা অবৈধ পন্থা ঘোষণা করার ৩টি পদ্ধতি আছে:
    ১. প্রতিটি বৈধ ও অবৈধ পন্থার নাম ঘোষণা করা।
    ২. বৈধ পন্থা/পন্থাসমূহের নাম উল্লেখ করে বাকি সব পন্থাকে অবৈধ ঘোষণা করা।
    ৩.অবৈধ পন্থা/পন্থাসমূহের নাম উল্লেখ করে বাকি সব পন্থাকে বৈধ ঘোষণা করা।

    যদি ২য় পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, সেক্ষেত্রে অবৈধ হওয়ার জন্য কোন পন্থার নাম উল্লেখের প্রয়োজন হয় না; বরং সেই পন্থার নাম উল্লেখ না করাই পন্থাটির অবৈধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

    যারা বুঝার বুঝে নিন এবং কোন নির্দিষ্ট পন্থার নাম উল্লেখ করা না থাকলেই সেটার অবৈধতা অস্পষ্ট হয়ে যায় এ ধরণের অযৌক্তিক দাবির অন্তঃসারশূন্যতা উপলদ্ধি করে নিন।

    1. 16.1
      sotto

      ৥সাদাত ভাই,

      {{We have made lawful to you your wives to whom you have given their due compensation and those your right hand possesses from what Allah has returned to you [of captives] and the daughters of your paternal uncles and the daughters of your paternal aunts and the daughters of your maternal uncles and the daughters of your maternal aunts who emigrated with you}}

      আপনি তো দু’ট কোরে সেকেন্ড ব্র্যাকেট দিয়ে উপরের অংশটা আলাদা করে দিলেন।

      {{We have made lawful to you ———————-the daughters of your paternal uncles and the daughters of your paternal aunts and the daughters of your maternal uncles and the daughters of your maternal aunts who emigrated with you}}

      তাহলে নিচের এই অংশটুকু দ্বারা কি বোঝাচ্ছে?

      if she gives herself to the Prophet [and] if the Prophet wishes to marry her-- এই অংশটা কি শুধুমাত্র a believing woman এর জন্যই প্রযোজ্য!!

      বুঝলাম যে, চাচাত, ফুফাত, মামাত ও খালাত বোনদেরকে বিয়ে করার জন্য মোহর দেবার প্রয়োজন ছিলনা। কিন্তু তাই বলে কি তাদের মধ্যে কেউ রাসূলকে (সাঃ) স্বেচ্ছায় বিয়ে করতে চাওয়া, তিনি একজন ইমানদার মহিলা হওয়া এবং রাসূলেরও (সাঃ) তাকে বিয়ে করতে চাওয়া বা না চাওয়ার ব্যাপার জড়িত ছিল। নাকি রাসূলের (সাঃ) চাচাত, ফুফাত, মামাত ও খালাত বোনেরা শুধু হিজরত করে এলেই তাদের বেলায় এসব কিছুর প্রয়োজন ছিলানা!!?? তাদের সাথে কি এমনিতেই সব ধরনের সম্পক্য করার কথা এখানে বলা হয়েছে? বিষয়টা একটু ভেবে দেখবেন-

    2. 16.2
      মুহাম্মদ হাসান

      ভাল একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । জাযাকাল্লাহ খাইরান ।

  11. 15
    কিংশুক

    কিন্তু কেউ ভিন্ন মতের একজন প্রচারকারিকে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন না।

     হস্তমৈথুনকে ঢালাওভাবে কেউ হালাল বলেন নি বোধহয়, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের অনুমতি দিয়েছেন। হস্তমৈথুন কোরআন অনুযায়ীই অন্তত সন্দেহের বিষয়। সাদাত ভাইয়ের লেখা ও সবার আলোচনা হতে অনেক কিছু জানতে পারলাম। জাজাকাল্লাহ।

  12. 14
    সাদাত

    ATTENTION PLEASE

    না-হয় ধরেই নিলাম হস্তমৈথুন নিয়ে একাধিক মত আছে। একটি মত অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম। যারা এই মতের অধিকারি তাদের নিশ্চয়ই এই কথা বলার ও প্রচার করার অধিকার আছে। আর যারা মনে করছেন এটা হারাম নয়, তারাও নিজেদের মত প্রচার করুন।

    দলিল দস্তাবেজ নিয়ে এক মতের সাথে অন্য মতের তর্ক-বিতর্কও হতে পারে।

    একমতের অনুসারি অন্যমতকে খণ্ডনও করতে পারেন।

    কিন্তু কেউ ভিন্ন মতের একজন প্রচারকারিকে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন না।

    অভিযোগটা খুবই গুরুতর। আমার পোস্টের মূল ফোকাসটা এখানেই। 

    1. 14.1
      ফাতমী

      @সাদাত,

      সাদাত ভাই, এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ন একমত প্রকাশ করেছি যে, "কিন্তু কেউ ভিন্ন মতের একজন প্রচারকারিকে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন না"

  13. 13
    sotto

    ২৪:৩০-৩১ কিংবা ২৩:১-৭ নং আয়াত নয়, বরং হস্তমৈথুন তথা সকল অশ্লীল কাজ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সূরা আরাফ এর ৩৩ নং আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-

    (০৭:৩৩) অর্থ- তুমি বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল বিষয়সমূহ এবং সকল গোনাহ এবং অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, আল্লাহর সাথে অংশীদার করা, যে বিষয়ে তিনি কখনো কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞানই নাই।

     

    এই আয়াত অনুসারে যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম হয়ে যায়। যার মধ্যে হস্তমৈথুনও অন্তর্ভূক্ত বলে আমি বিশ্বাস করি। এই অপরাধের জন্য যেহেতু পার্থিব শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয় নাই, তাই এর জন্য শাস্তি প্রদান করা যাবে না। বিশ্বাসী মাত্রই এই ধরনের অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে আসক্ত হয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, বরং এ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানুষকে খুবই দুর্বলরূপে সৃজন করা হয়েছে। তাই কখনো অজ্ঞতা বা অসাবধানতা বশত এরূপ ভুল হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। বাকিটা মহান স্রষ্টার ইচ্ছা।

     

    (৪:২৭) অর্থ- আল্লাহ তোমাদের প্রতি ফিরতে (ক্ষমা করতে) চান; কিন্তু যারা কাম-লালসার অনুসারী, তারা চায় তোমরাও যেন (তাঁর কাছ থেকে) অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।

     

    সুতরাং কাম-লালসার অনুসরণ কোরে কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা এবং তা থেকে নিজেকে ফিরিয়ে না নেয়া একজন বিশ্বাসীর জন্য শোভা পায়না।

  14. 12
    মুনিম সিদ্দিকী

    সাদাত ভাই, খালি পেট তো যৌন ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়! বিবাহিত হলে শেষ রাতের কথা চিন্তা করুন, দেখুন ঐ সময় যৌন চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে অধিক হয় কিনা?  ধন্যবাদ।

    1. 12.1
      সাদাত

      খালি পেটে থাকা উপবাসে থাকা যেমন ভিন্ন, তেমনি উপবাস আর রোযাও ভিন্ন। রোযা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়, এর সাথে আরো বিষয় আছে যেমন দৃষ্টি, শ্রবণ ও চিন্তার সংযম। উপরন্তু যৌন সংযমের জন্য যে রোযা  রাখত বলা হয় সেটি একটি, দুটি রোযা নয়, বরং অনবরত/একাধারে বেশ কিছুদিন রোযা রাখা।

  15. 11
    এম_আহমদ

    এখানে যে ‘কাজটির’ কথা আলোচনা করা হচ্ছে সেই আলোচনায় ঢুকতে হলে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে হলেও এর সাথে যে আনুষঙ্গিক বিষয় রয়েছে তার কিছু অংশ সামনে আনা সংগত মনে করি। তাই প্রথমে কিছু আনুষঙ্গিক কথা সামনে আনতে যাবো এবং চেষ্টা করব যেন আমার কথাগুলো সেই প্রেক্ষিতে আসে।    

    শব্দ ও শাব্দিক অর্থ

    আলোচ্য বিষয়ের আরবি শব্দ হচ্ছে ইসতিমনা إستمناء, অর্থাৎ বীর্যপাত করা। এখানে ‘হাত দিয়ে’ অর্থ নিহিত।  কেউ কেউ বিষয়টি স্পষ্ট করতে ইসতিমনা বিল ইয়াদ (إستمناء باليد) ব্যবহার করেন অর্থাৎ হাত দিয়ে বীর্য বের করা। বীর্যের আরবি শব্দ ‘মানি’। বাংলায় আমরা এই শব্দটি ‘মনি’ হিসেবে ব্যবহার করি। এত্থেকেই এসেছে ইসতিমনা। এই কাজটিকে আল-আদাহ আস-সিররিয়্যাহ (العادة السرية)বা গোপন অভ্যাস/কাজ বলেও উল্লেখ করা হয়।

    হারাম হালাল

    হারাম শব্দটি ‘হালালের’ মোকাবেলায়। হালালের যেমন অনেক প্রকার ও রঙ রয়েছে তেমনি হারামেরও। উভয় ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমধর্মী (exceptional) স্থান রয়েছে। শূয়রের গোশত খাওয়া হারাম কিন্তু কেউ এমন কোনো স্থানে থাকলে যেখানে এই খাবার না খেলে প্রাণে বাঁচবে না সেখানে শুধু ততটুকু যতটুকু খেলে জীবন ধারণ করা যায় ততটুকু খাওয়া জায়েজ রয়েছে (কোরান)। ব্যতিক্রম (exception) কিন্তু আদর্শ নয় (norm)।

    হারামের সংজ্ঞা

    সংজ্ঞাগত দিক দিয়ে হারাম হচ্ছে তা’ই যাত্থেকে বিরত থাকতে আইন প্রণেতার নির্দেশ রয়েছে, যে নির্দেশ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যিকভাবে পালনীয়। এক্ষেত্রে জামহুর ধারণা হচ্ছে এই যে হারাম তা’ই যা বাধ্যতামূলকভাবে বর্জনীয়, এর পিছনের দলিল ক্বাথয়ী (قطعي, definite, absolute, connotative) হোক, অথবা যন্নি (ظني, denotative, indicative meaning)।

    কাথয়ী ও যন্নি দলিল

    কোরানের কাথয়ী আয়াত হচ্ছে স্পষ্ট অর্থবোধক টেক্সট যেখানে অর্থ দ্ব্যর্থহীণ, সুস্পষ্ট (unequivocal)। উদাহরণ সরূপ এই আয়াতটি দেখা যেতে পারে:  ‘যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান ’(২৪:৪)। এখানে অর্থ কাথয়ী। কিন্তু ‘তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা …’ (৪:২৩)।  যন্নি আয়াতের উদাহরণ: ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে  (৫:৩৩)’। এই আয়াতের শেষাংশ দ্ব্যর্থহীন নয়। এখানে ব্যবহৃত দুটি শব্দ নাফি (نفي)ও আরদ (أرض)। নাফি হচ্ছে উড়িয়ে দেয়া, নির্বাসন করা, বিলোপ করে দেয়া ইত্যাদি। আরদ হচ্ছে জমিন, মাটি, জগত, ভূমণ্ডল, দেশ ইত্যাদি। এখানে ‘দেশ থেকে বহিষ্কার’ হচ্ছে  বাক্যাংশটির একটি ব্যাখ্যা (interpretation)। এখানে ধারণায় আরও ব্যাখ্যা উদয় হতে পারে যা ভাষার ব্যবহার সামাজিক অর্থ ও অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্র বিবেচনায় আসতে পারে। অপরাধীকে দেশ থেকে বহিষ্কারের অর্থ হানাফি এবং আরও আইনবিদদের কাছে গ্রহণীয় নয়। হানাফি আইনবিদরা মনে করেন এটা নির্বাসন হবে না বরং এর অর্থ হবে ‘জেল’। তাদের ধারণায় নির্বাসনের অর্থ এখানে সন্তোষজনক হয় না। কেননা মৃত্যুদান ছাড়া কাউকে জগত থেকে সরিয়ে দেয়া যায় না। তাছাড়া দুষ্কৃতিকারীকে নিজেদের এলাকা থেকে অপরের এলাকায় সরিয়ে দেয়াতে কোনো মানি হয় না। এক জাগার সমস্যা আরেক জাগায় পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। তাই ‘নাফি’ (نفي) শব্দের অর্থ এখানে আবদ্ধ অর্থে জেল ধরতে হবে অর্থাৎ দুষ্কৃতিকারীকে আন্তরীণ করতে হবে। এখানে উভয় ক্ষেত্রে গৃহীত অর্থ  ‘ধারিত’ অর্থ (denotative, indicative) বা যন্নি। কিন্তু কোন অর্থেই অপরাধীকে আইনের বাহিরে রাখা হচ্ছে না। তাই যন্নিও আইনের ক্ষেত্রে প্রায়োগিক।

    আলোচ্য প্রসঙ্গে ২৩:৭ আয়াতের শেষাংশ যদি তর্কের খাতিরে যন্নিও ধরা হয় তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে?

    ২৩:৭ আয়াতের শেষাংশ

    কোরানে বৈধ উপায়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে ‘এর বাইরে’ (وَرَآءَ ذٰلِكَ) যারা ঐ কর্মসাধনের অনুসন্ধান করবে তারা সীমালঙনকারী হবে।এই আয়াতের অর্থ তো আয়াতেই রয়েছে। প্রথম অংশে। তবে দু/চারজন ফকিহ এটাতে ব্যতিক্রমধর্মী ক্ষেত্রে ইসতিমনার অনুমোদন দেখেছেন। সরে-আমভাবে ‘হালাল’ কেউ দেখেননি। তবে কেন সরে আম হবে না?  

    এই বাক্যাংশ বা গোটা আয়াতে বা গোটা কোরানে যদি ইসতিমনা বিল ইয়াদ বা আদাহ সিররিয়্যাহ শব্দের অনুপস্থিতিই যদি যুক্তি হয় তবে ইসলামে অনেক কাজ রয়েছে যেগুলোর শাব্দিক উপস্থিতিতি কোরানে নেই। নামাজ, রোজা, হজ্জ জাকাত ইত্যাদিতে অনেককিছু রয়েছে যার উল্লেখ কোরানে নেই। আমি সিয়াসাহ (রাজনীতি) নিয়ে দুটি লেখা সদালাপে দিয়েছে যেখানে দেখা যাবে যে এই শব্দটি কোরানে নেই। কিন্তু যুক্তির স্বার্থে আপাতত মেনে নিলাম যে ইসতিমনা হারাম নয় বা হতে পারে না, বরং এটা হালাল।

    যা হারাম নয়, এবং যা কোরান হাদিস নিষেধ করেনি, তাতে সমস্যার কী আছে?  যে কাজটি ‘হাত দিয়ে’ করা হালাম সেই কাজটি হাতের চেয়ে উপযুক্ত যৌনপণ্য (sex product) দিয়ে সমাধা করা যেতে পারে। আজকাল শুধু পুং/স্ত্রী লিঙ্গই পাওয়া যাচ্ছে না বরং পরিপূর্ণরূপে নির্মিত পুতুলও পাওয়া যাচ্ছে। জীবনের বাদবাকি বিলাস-সামগ্রীর সাথে এটিও সংযোগ করা যেতে পারে। হালাল বস্তু ছেলে মেয়েরা কিনতে ও ব্যবহার করতে বাধা কীসের? আপনার মেহমানকে রাতে তার আপন রূম দেখিয়ে দিয়ে বলা যেতে পারেন, ‘ভাই (বোন), আলমারিতে সেই জিনিসটি রাখা আছে। আর ওখানে বাথরুম, জিনিসটি ব্যবহারের পর ধুয়ে-মুছে আগের মত রেখে দেবেন। আর জায়নাজ, ওটা ডেস্কের অপর পাশে।’ অথবা প্রেমিক মেয়ে তার প্রিয়কে আক্রোশে বর্জন করে বলতে পারে, ‘ ওহে, তুমি তো কোন, তোমার চেয়ে উপযুক্ত দেহ আমার আলমারিতে বিরাজ করেছে, so get lost!’

    এখানে সততই দেখা যাচ্ছে যে ‘উদ্ভট’ (the absurd) এসে হাজির হচ্ছে। আখলাকি জিন্দেগীর অবসান ঘটছে বা ওখানে অনুভূতি ক্লিষ্ট হচ্ছে। ধর্ম শুধু নানান গণ্ডিতে অবাধ সুযোগে বিচরণের জন্য নয় বরং আখলাকি জিন্দেগীর বিকাশের জন্য এবং আত্মশুদ্ধির জন্য। আত্মশুদ্ধদ্ধিতে ‘নিয়ন্ত্রণের’ (regime of restraint) জগতে প্রবেশ করতে হয়। মানুষের প্রয়োজন থাকবে কিন্তু অবকাশ থাকবে না; অনেক সমস্যা আসবে কিন্তু সমাধানের উপায় (means) থাকবে না; কঠিন জীবন আসবে কিন্তু ইচ্ছা করেই উড়িয়ে দেয়া যাবে না। এমন জীবনেই আসে ধর্ম। এখানে নানান সংকট ও প্রতিকূলতা জীবনের সামনে হাজির করে সবরের স্থান, তাওয়াক্কুলের স্থান, আত্মসংযতির স্থান, পরিশুদ্ধির মহা-উদ্যান। নানান দুরূহ পথেই অর্জিত হয় বিমলের রূপ। হারাম হালাল হচ্ছে বর্ডার লাইন।

    ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে ইসতিমনার অনুমোদন

    ব্যতিক্রমধর্মি স্থান হচ্ছে তাদের জন্য যারা এমন জাগায় বসবাস করছেন যেখানে তাদের সামনে যিনার মত গুরু অপরাধ সম্মুখীন হয়েছে। কিছু নারী/পুরুষ যৌন উত্তেজনা অপরাপর লোকদের চেয়ে বেশি অনুভব করেন। এমন আরও কিছু স্থান রয়েছে যেখানে সেখানে ব্যতিক্রমকে অনুমোদন করা হয়েছে। আর তা করা হয়েছে সম্ভবত অপরাধ ও সামাজিক নৈতিকতার ভিত্তিকে সামনে রেখে। যখন যিনা করা হয় তখন প্রথমত আল্লাহর আদেশ লঙিত হয় এবং দ্বিতীয়ত এই কাজটি দুই ব্যক্তির মধ্যে হলেও তারা সমাজ ও পরিবারের সদস্য এবং এদিক থেকে নৈতিকতা, সামাজিক আখলাক ও অপরাধের বিষয় আসে। কিন্তু ইসতিমনায় আল্লাহর নির্দেশের প্রেক্ষিতের ব্যত্যয় ঘটে এবং আখলাকি বিষয় সামনে আসে।  এভাবে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া উত্তম চরিত্রের অংশ হয় না।

    ব্যতিক্রমকে যুক্তিতে আনতে দুই/একজন ফকিহ এটাকে রক্ত নির্গরণের সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু এই তুলনা সঠিক নয়। শিঙা দিয়ে রক্ত বের করা হয় শরীরের রোগমুক্তির জন্য। এখানে সেই তুলনা অনুপযুক্ত। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে সবাই শর্তসাপেক্ষে এটাকে ব্যতিক্রমে এনেছেন। কেবল ইবন আক্বিল এটাকে মাকরূহ (অপছন্দনীয়/মন্দ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবন কায়্যিম ইবন আক্বিলের মতকে বিবেচনা করার পরও এটাকে অপরাধ বলেছেন, ‘And the right (correct) for me is that it is illegal, because the Prophet (Peace be upon him) guided one who had a desire, and could not marry, to the fast’ (উইকি) . মনে রাখতে হবে যে খুঁজে খুঁজে ব্যতিক্রমধর্মী স্থান উল্লেখ করে এটাকে সরে-আম করার অবকাশ নেই। Exception is never the norm. আল্লাহ আমাদের সমাজকে ফাহেস, ফাজের ও মন্দ কাজ ও আচরণ থেকে পরিত্রাণ দিয়ে উত্তম চরিত্রের (মাকারিমাল আখলাক) দিকে ধাবিত করুন যে যে বস্তু শেখানোর জন্য নবীকে পাঠানো হয়েছিল। আমিন।  

    1. 11.1
      মুহাম্মদ হাসান

      এম_আহমদ ভাই, 

      খুবই সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, মাশাআল্লাহ । যাজাকাল্লাহ খায়রান । আলাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দিন । আমিন ।

    2. 11.2
      সাদাত

      এম_আহমদ ভাই, অনেক ধন্যবাদ। আসলে আপনার কমেন্টটা একটা পোস্ট হবার দাবি রাখে। এই ব্যাপারে আপনার লেখাটা আগে এলে আমাকে আর লিখতে হতো না।  আমার কথা হলো, "বিশেষ ক্ষেত্রে" "শর্তসাপেক্ষে" একেবারে নগন্য সংখ্যক ফকীহ যদি ইসতিমনার অনুমোদন দিয়েও থাকেন; কেউ যদি জমহুর উলামায়ে কিরাম ও ফুকাহায়ে কেরামের ফাতাওয়ার ভিত্তিতে ইসতিমনাকে হারাম বলে থাকেন- তবে সেটাকে কেন "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" বলে অাখ্যায়িত করা হবে?

      "মনে রাখতে হবে যে খুঁজে খুঁজে ব্যতিক্রমধর্মী স্থান উল্লেখ করে এটাকে সরে-আম করার অবকাশ নেই। Exception is never the norm." 

      দারুণ একটি কথা বলেছেন।

    3. 11.3
      ফাতমী

      @এম আহমদ ভাই, ও সাদাত ভাই,

      ব্যাবিচারের কথা আল্লাহ পাক আলাদা করে ভিন্ন আয়াতে পরিষ্কার করে বলেছেন, সেটাও ভুলে গেলে চলবে না। আল্লাহ বিনা কারণে এরূপ করেন নাই বলেই আমার বিশ্বাস।

      "আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।"(১৭ঃ৩২)

      “Nor come nigh to adultery: for it is a shameful (deed) and an evil, opening the road (to other evils).”

      ব্যাভিচার বলতে সব ধরনের ব্যাভিচার, অর্থ্যাত সমকামীতা, পশুকামীতা, কিংবা অন্য কিছু সবই এই আয়াতের মধ্যেই আছে। 

      বাকিটা এম আহমদ ভাই যা বলেছেন তার সাথে একমত। তবুও মানুষকে জাহান্নামের দিকে আহব্বান করা আমাদের উচিত নয়, অর্থ্যাত জানা থাকা সত্তেও যে সে এই কাজ পারবে না, তবুও তাকে এই কাজের দায়ে ব্যাক্ষা বিশ্লেষন করে জাহান্নামী বা তাত্তিক্ব ভাবে জাহান্নামে্র ফায়সালা বলা আমাদের ঠিক নয়। মনে রাখা উচিত, আল্লাহ পাক সব বিষয়েই জ্ঞান রাখেন, তাই কোন কারণ ছাড়া এরূপ করেছেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এবং আপাত কারণটা বিবেচনায় নিচ্ছি যে ব্যাভিচার এবং হস্তমৈথুন এক পাল্লার বিষয় নয়।

      -আলোচনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। 

      1. 11.3.1
        সাদাত

        ফাতমী ভাই,

        যিনা বলতে নারী-পুরুষের মধ্যকার অবৈধ যৌনসঙ্গমকেই বুঝায়।

        পুরুষ যিনাকারিকে বলা হয় "যা-নী"

        নারী যিনাকারিকে বলা হয় "যা-নিয়াহ"

        ২৪:৩ এ বলা হয়েছে:

        উচ্চারণ (বাংলা উচ্চারণ তিলাওয়াতের জন্য নয়, শুধু আলোচনার সুবিধার্তে)

        আয "যা-নী" লা-  য়ানকিহু ইল্লা- যা-নিয়াতান আও মুশরিকাহ

        ওয়ায যা-নিয়াতু লা-য়ানকিহুহা- ইল্লা যা-নিন আও মুশরিক

        অর্থ

        যা-নী যানিয়াহ ও মুশরিকা ছাড়া অন্য কাউকে বিবাহ করে না।

        এবং যা-নিয়াহ যানী ও মুশরিক ছাড়া কাউকে বিবাহ করে না।

         

        যিনা অর্থ সমকামিতা ধরলে,

        ২৪:৩ এর এ অর্থ দাঁড়াবে:

        সমকামি পুরুষ সমকামি নারী ও মুশরিকা ছাড়া কাউকে বিবাহ করে না।

        এবং সমকামি নারী সমকামি পুরুষ ও মুশরিক ছাড়া কাউকে বিবাহ করে না।

        কোন অর্থপূর্ণ কিছু পাওয়া গেল না।

         

        যিনা অর্থ পশুকামিতা ধরলে,

        ২৪:৩ এর এ অর্থ দাঁড়াবে:

        পশুকামি পুরুষ পশুকামি নারী ও মুশরিকা ছাড়া কাউকে বিবাহ করে না।

        এবং পশুকামি নারী পশুকামি পুরুষ ও মুশরিক ছাড়া কাউকে বিবাহ করে না।

        কোন অর্থপূর্ণ কিছু পাওয়া গেল না। 

        1. 11.3.1.1
          ফাতমী

          @সাদাত ভাই,

          আসলে আরবি না-জানার কারণেই আমদের এই সমস্যা গুলি হচ্ছে। আমরা একেক অনুবাদে একেক রকম পড়ে, একেক সিদ্ধান্তে আসি। আসলে আরবি ভাষাটাই শিখা উচিত, বর্তমান আরবি না, ক্লাসিক্যাল আরবি। দোয়া করবেন আল্লাহ পাক যেন জ্ঞান দান করেন, এবং আরেকটা ভাষা শিক্ষার তৈফিক দান করেন।

          তবে আমরা যে আয়াত নিয়ে আলোচনায় ছিলাম, সেখানে আমার আরেকটু কথা ছিল। সময় নিয়ে লিখতেছি।

          ভাল থাকুন। ধন্যবাদ। 

    4. 11.4
      মুনিম সিদ্দিকী

      খুবই যৌক্তিক ভাবে বর্ণনা করেছেন ভাই। একজন মুসলিম হিসাবে তো আমাদেরকে হালাল হারাম  মান্য করে চলতে হবে। কিন্তু ভাই আজকের দুনিয়া মানুষের বাস জীবন ধারণ করে চলা অনেক কঠিণ হয়ে পড়েছে। এখনকার মানুষ ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদে বসে গত রাত কে কি স্বপন দেখেছেন তার তাবির নিয়ে সময় কাটানোর সময় নেই।  বিয়ে করা তালাক দেয়া, একাধিক বিয়ে করা ইত্যাদি সামাজিক, আর্থিক, এবং রাষ্ট্রিয় আইনে এমন কঠিন করে ফেলেছে যার ফলে মানুষ ঐ গুলো রাসুল সাঃ এর জামানার মত অতিসহজে করতে পারছেনা। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার পথ নিয়ে এখন আলোচনা হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। কারণ ইসলাম তো মানব স্বভাব বিরোধী ধর্ম নয় ইসলাম হচ্ছে মানব স্বাভাবের ধর্ম। ধন্যবাদ।

  16. 10
    Lincon

    পশুর সাথে সঙ্গম করা যাবে না, এমন কথা  "স্পষ্ট করে" (আপনার পরিভাষায়) কুরআনের কোথায় বলা আছে? 

    বৈজ্ঞানিক বিষয়াদি আল্লারই কুদরত। বিবাহবর্হিভূত নারী যেনা ও গুনার বিষয় তেমনি পশুর সাথে সেটা আরো জঘণ্য গুনাহ। এই লেখার বিষয় হল নিজ হাতের মাধ্যম। তাই তিনটি পৃথক বিষয়কে অহেতুক গুলিয়ে ফেলার কারণ বুঝা গেল না। যেহেত কোরআনে এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নাই তাই হস্তমৈথুনকে হারাম বলা মানুষের মতামত হিসেবেই গণ্য করব।

    1. 10.1
      সাদাত

      আপনি যদি আসলেই অর্থপূর্ণ আলোচনা করতে চান, to the point এ দুটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন:

      ১. কুরআনে (আপনার পরিভাষায়) "স্পষ্ট করে" কোথাও বলা আছে যে পশুর সাথে সঙ্গম করা যাবে না? থাকলে কোন আয়াতে?

      ২.  "আপনার মতে" পশুর সাথে সঙ্গম করা হালাল না হারাম?

      এই দুটি প্রশ্নের উত্তর না দিলে আপনার সাথে আর কোন আলোচনা নয়।

       

      1. 10.1.1
        মুহাম্মদ হাসান

        সাদাত ভাই, বাদদেন সময় নস্ট করে লাভ নেই । ঈমাম শাফঈ(র:) এর সুন্দর একটি কথা পড়েছিলাম “আমি যখন কোন জ্ঞানী (দ্বীনের জ্ঞানে জ্ঞানী) লোকের সাথে তর্ক বিতর্ক করি তখন জিতি আর যখন কোন জাহিল অজ্ঞ ব্যাক্তির সাথে তর্ক বিতর্ক করি তখন হেরে যাই”

    2. 10.2
      সাদাত

      জনাব Lincon, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, ১০.১ এ আমার প্রশ্ন দুটোর to the point উত্তর না দিয়ে এই পোস্টে আপনি আর আলোচনার সুযোগ পাবেন না।

  17. 9
    Lincon

    এই দেখেন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ 

    https://uk.answers.yahoo.com/question/index?qid=20081111155257AAJ3hdP  

     

    যে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ নাই সেটাকে হারাম বলা পুরাপুরি ঠিক হবে না। স্ত্রী সহবাসতো আর ঘুমের ঘোরে বা অসাবধানে হয় না। সচেতন মুসলমানগণ যথেষ্ঠ সাবধানতা নিয়েই এই বৈধ কাজটি করেন তাতে সহজেই পাক সাফ হওয়া যায়। কিন্তু স্বপ্ন দোষে আরো বেশী কিছু নাপাক হয়ে যায় তখন সাফ হওয়াটা ঝামেলা। মেসে থাকলে বন্ধু ও রুমমেটদের কাছে লজ্জার বিষয়।

    1. 9.1
      সাদাত

      বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়ে হালাল-হারাম যাচাই-বাছাই, বেশ চমৎকার ব্যাপার তো!!  আল্লাহ, ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নামের  বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেয়েছেন নিশ্চয়ই! 

      স্পষ্টতা, অস্পষ্টতা কাকে বলে? কোন বিষয়ে বৈধ উপায়কে স্পষ্ট করে বাদ বাকি সব উপায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হলে, কোন অবৈধ উপায়কে আলাদা আলাদা করে অবৈধ বলার কোন দরকার পড়ে না। স্পষ্টভাবেও না অস্পষ্টভাবেও না।

      পশুর সাথে সঙ্গম করা যাবে না, এমন কথা  "স্পষ্ট করে" (আপনার পরিভাষায়) কুরআনের কোথায় বলা আছে?

       

    2. 9.2
      মুহাম্মদ হাসান

      ভাই, আপনার মত মানুষ যদি ইসলামের বিধানের মধ্যে ফতোয়া দেওয়া শুরু করে তাহলে মুছলমানদের বারোটা বেজে যাবে । নিজের সাময়িক সুবিধার জন্য হারামকে হালাল বানিয়ে আল্লাহর বিধানের সাথে ইয়ার্কি ফাজলামো করবেন না । কেউ হস্থমইথুন করতে চায় সেটা ভিন্ন বিষয় কিন্তু সেটাকে হালাল করার জন্য উল্টাপাল্টা যুক্তি খাড়া করা পথভ্রষ্টতার প্রথম লক্ষন যেটা ইসলামের প্রথম যুগের কিছু দলের মধ্যে দেখা যেত । ইসলাম যেমন সকল হারামকে হারাম বলেছেন তেমনি যেসব কাজ হারাম কাজের দিকে ঠেলে দেয় সেসব কাজও ইসলাম হারাম করেছেন । শয়তানের ধোকায় পড়ে বিভিন্ন ছুতা দিয়ে কোন হারামকে জায়েজ করাকেও হারাম করা হয়েছে । ইহুদীরা এ ধরনের কাজে খুবই পারদর্শী ছিল আর ঠিক এ জন্যই রাসুল(সঃ) বলেছেন 

      তোমরা এরকম করনা যেমন ইহুদীরা ঠুনকো ছুতো দ্বারা আল্লাহর নিষেধগুলোকে বৈধ করত । এই হাদিসটা ইবনুল কাইউম(রঃ) তার ইগাসাতুল লাহফান কিতাবের ১ নম্বর ভলিউমের ৩০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন । ইমাম তিরমিজি(রঃ) এ ধরনের আরেকটি হাদিসকে সহিহ বলেছেন ।   

      রাসুল(সঃ) আরও বলেছেন

      ……… এমন এক সময় আসবে যখন রুওয়াইবিদাহ (الرُّوَيْبِضَةُ) কথা বলবে । রাসুল(সঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল রুওয়াইবিদাহ (الرُّوَيْبِضَةُ) কারা? তিনি উত্তরে বললেন গুরুত্বহীন , নগণ্য, তুচ্ছ ব্যক্তি যে জনগনের ব্যাপারে কথা বলে “The insignificant person who speaks on the public affairs.” (ইবনে মাজাহ ৪০৩৬)

      শায়খ বাদিউদ্দিন শিনদি এই শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন "অতি সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি" .

      আল্লাহ কুরআনের বলছেনঃ

      তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না। (সূরা নাহল ১১৬) "আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়" ( সূরা আন নিসা ২৭) "অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না" (সূরা আল কাসাস ৫০)

      উপরের হাদিস আর আয়াতগুলো মাথায় রেখে একটু ভেবে চিন্তা করে কথা বলবেন । আপনি যেভাবে হস্থমইথুনকে বৈধ করার জন্য খোড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন এ ধরনের যুক্তি দ্বারা ইসলামের প্রায় সব হারাম জিনিসকে জায়েজ করা যাবে এবং অনেকে করেছেনও । যেমন- সুদ, গান বাজনা ইত্যাদি । ইমাম যাহাবি তার কবিরা গুনাহ বইতে ১১ নম্বর কবিরা গুনাহতে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন । এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করছিঃ

       " বিচারের দিনে, সাতজন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হবে এবং আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন এদের মধ্যে একজন হল হস্থমৈথুনকারী"

       

      যে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ নাই সেটাকে হারাম বলা পুরাপুরি ঠিক হবে না।

      "যৌনাঙ্গর হেফাযত করে।"  এটা জেনারেল এর মধ্যে সব ধরনের যৌনাচার অন্তর্ভুক্ত সেটা ব্যাভিচার হোক বা হস্ত মৈথুন বা অন্য যাই হোক । ইমাম শাফঈ(রঃ) সহ সব ইমামরা এইসব আয়াত দারাই হস্থ মৈথুনকে হারাম বলেছেন । তাহলে কি উনারা কুরানকে ভুল বুঝেছেন আর আপনি উনাদের চেয়ে বেশি বুঝেন? এর চাইতে স্পষ্ট আর কি চান? আপনি কি কুরআনের মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত সমস্থ হালাল হারামের নাম ধরে উল্লেখ দেখতে চাচ্ছেন?  

      আপনার যুক্তি অনুযায়িত মেয়েদের ক্ষেত্রেও এটা জায়েজ নাকি তাদের জন্য আবার অন্য ফোতওয়া দিবেন?

  18. 8
    Lincon

    স্বপ্নদোষ হওয়া ইসলামে কোন দোষণীয় বিষয় না। হস্তমৈথুন দোষণীয় (যেমনটা আপনি নিজেও এটাকে হালাল মনে করেন না)। নির্দোষ স্বপ্নদোষ থেকে বাঁচার জন্য নন-হালাল হস্তমৈথুনের প্রেসক্রিপশন কেন দিচ্ছেন সেটাই তো বুঝলাম না। 

    অবিবাহিতদের হস্ত মৈথুন না করলে স্বপ্ন দোষ অবধারিত। তাতে কাপড়, বিছানা নষ্ট সহ ফজরের নামায পর্যন্ত কাজা হয়ে যেতে পারে। এটা বড্ড ঝামেলার বিষয়। হস্ত মৈথুন মোটেও যেনা নয়। এটাকে হালাল না বললেও হারাম বলাটাও উপযূক্ত হবে না।

    1. 8.1
      সাদাত

      স্ত্রী-সহবাসেও কাপড় নষ্ট হতে পারে, বিছানা নষ্ট হতে পারে, অলসতা করে গোসল করতে দেরি করলে ফজরের নামায কাজা হতে পারে, সেজন্য কি স্ত্রী-সহবাস ও বন্ধ করে দিতে হবে না-কি! আপনি দলিল-প্রমাণ না দিয়ে কেবল নিজস্ব মতামত পেশ করছেন, ইসলামে দলিল-বিহীন নিজস্ব মতামতের কোন মূল্য নেই। 

  19. 7
    Lincon

    হস্ত মৈথুন অনেক প্রাচীন বিষয়। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট কিছু বলা নাই। কোন অবৈধ নারী সঙ্গ ও হস্ত মৈথুন একই বিষয় নয়। কারো বিয়ের বয়স হয়ে গেছে কিন্তু বিয়ে করতে পারছে না এমন পুরুষের পক্ষে হস্ত মৈথুন ব্যাতীত যেনা এড়ানো অনেক কঠিন। আর শ্রুক্রশয়ের পক্ষে ২৫ দিনের বেশী শুক্র ধরে রাখা সম্ভব না। তখন এক মাসের মধ্যে কোন না কোন সময় স্বপ্ন দোষ হতে বাধ্য। অবিবাহিত অথচ হস্তমৈথুন করে না এমন তরুণদের অনেকেরই প্রতি সপ্তাহে স্বপ্নদোষ হয় এমনকি তাদের অনেকেই কোন পর্ণগ্রাফিও দেখে না। অন্যদিকে দেখা গেছে অবিবাহিতরা যারা সপ্তাহে এক বার হস্তমৈথুন করে তাদের স্বপ্ন দোষ প্রায় হয়ই না। তাতে তাদের রাতের ঘুমে কাপড়, বিছানাও নষ্ট হয় না। তবে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন শরীর ক্ষতি করে। তাই হস্তমৈথুনকে যেনার সমতূল্য মনে করা যুক্তিযুক্ত না। যদিও কাজটি হালাল নয়।

    1. 7.1
      সাদাত

      আর শ্রুক্রশয়ের পক্ষে ২৫ দিনের বেশী শুক্র ধরে রাখা সম্ভব না। তখন এক মাসের মধ্যে কোন না কোন সময় স্বপ্ন দোষ হতে বাধ্য। অবিবাহিত অথচ হস্তমৈথুন করে না এমন তরুণদের অনেকেরই প্রতি সপ্তাহে স্বপ্নদোষ হয় এমনকি তাদের অনেকেই কোন পর্ণগ্রাফিও দেখে না। অন্যদিকে দেখা গেছে অবিবাহিতরা যারা সপ্তাহে এক বার হস্তমৈথুন করে তাদের স্বপ্ন দোষ প্রায় হয়ই না। তাতে তাদের রাতের ঘুমে কাপড়, বিছানাও নষ্ট হয় না।

      স্বপ্নদোষ হওয়া ইসলামে কোন দোষণীয় বিষয় না। হস্তমৈথুন দোষণীয় (যেমনটা আপনি নিজেও এটাকে হালাল মনে করেন না)। নির্দোষ স্বপ্নদোষ থেকে বাঁচার জন্য নন-হালাল হস্তমৈথুনের প্রেসক্রিপশন কেন দিচ্ছেন সেটাই তো বুঝলাম না।

      তবে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন শরীর ক্ষতি করে। 

      শরীরের ক্ষতি করে কি-না, সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় না, আমাদের আলোচনা হচ্ছে ইসলাম আমাদের সেটার পারমিশন দেয় কি-না। (অতিরিক্ত এলকোহল পান ক্ষতিকর। অল্প পরিমাণে পান করাকে অনেকই ভালো মনে করে, সেজন্যই নিশ্চয় তা হালাল হয়ে যাবে না।)

      তাই হস্তমৈথুনকে যেনার সমতূল্য মনে করা যুক্তিযুক্ত না। যদিও কাজটি হালাল নয়।

      হস্তমৈথুন যেনার সমতুল্য, নাকি </> সেটা নিয়ে কিন্তু মোটেই আলোচনা হচ্ছে না।

      কারো বিয়ের বয়স হয়ে গেছে কিন্তু বিয়ে করতে পারছে না এমন পুরুষের পক্ষে হস্ত মৈথুন ব্যাতীত যেনা এড়ানো অনেক কঠিন। 

      এমন পুরুষদের জন্য কুরআনের প্রেসক্রিপশন হচ্ছে সংযম অবলম্বর করা। কীভাবে সংযম করবে সেটা হাদিসে এসেছে, তা হলো রোযা রাখা।

      হস্ত মৈথুন অনেক প্রাচীন বিষয়। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট কিছু বলা নাই।

      আপনাকে যদি আপনার আব্বা স্কুলে যাবার আগে বলে, সোজা স্কুলে যাবে, এর বাইরে কোথাও যাবে না। তখন আপনি নিশ্চয় এই বলে পার্কে যাবেন না যে, পার্কে না যাওয়ার কথা স্পষ্ট করে বলা হয় নাই। যখন কোন কাজের বৈধ উপায় বলে দিয়ে অন্য সব উপায়কে নিষিদ্ধ বলা হয়, তখন আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি অবৈধ উপায়কে উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। এটা খুবই স্পষ্ট একটি বিষয়, কোন অস্পষ্টতা নেই।  

  20. 6
    মুহাম্মদ হাসান

    আমাদের মধ্যে যারা দাওয়াতি কাজ করেন বিশেষ করে যারা নাস্তিকদের সাথে খুব ভাল পারদর্শী তাদের উচিৎ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর উপর ভাল করে পড়াশুনা করা এবং একজন ভাল আলেমের কাছ থেকে সেসব বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করা । সবকিছু শুধু বই আর শায়খ google এর কাছ থেকে শিখার চেষ্টা করা তারপর নিজেকে পণ্ডিত মনে করা খুবই আত্মঘাতী যা বর্তমান যুগের তরুণদের মধ্যে একটা ব্যধির মত দেখা যাচ্ছে ।  যারফলে এরা আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও দিন দিন হারিয়ে ফেলছে । আর নিজের যুক্তি বুদ্ধি দ্বারা ইসলামের যেকোনো বিষয়ে একটা সিদ্ধন্তে উপনীত হওয়াও তাদের মধ্যে প্রবল আকার ধারন করছে । যেমন শ্রদ্ধাভাজন একজন নাস্তিক্যবাদবিরোধি ইসলামপন্থি একজন লেখক "হস্তমৈথুনকে হারাম বলাকে "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" হিসেবে অ্যাখায়িত করলেন এবং উনি মনে করেন হালালহারাম, ও ফরজ বিষয় তিনটি আল্লাহর বাণী কোরআন দ্বারা সংজ্ঞায়িত ও নির্দিষ্ট" । জেনে বুঝে সজ্ঞানে এই ধরনের চিন্তা পোষণ আকিদাগত ভুল যারফলে তার ঈমান ও ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে । আমি কারো বিরুদ্ধে ফতওয়া দিচ্ছি না মুছলমান ভাই হিসেবে শুধু সাবধান করে দিচ্ছি । আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুক ।  

  21. 5
    সাদাত

    ২৩:৭ আয়াতটি হচ্ছে:

    فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ

    আয়াতটিকে ৩ ভাগ করি

    ১. فَمَنِ = Then whoever , অতঃপর যে

    ২.  ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ = Seeks beyond that, এর বাইরে খোঁজে/কামনা করে

    ৩.  فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ = then those are the transgressors, তারাই সীমালংঘনকারি

     

    ১ এবং ৩ নং অংশ নিয়ে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। ২ নম্বর অংশটিকে আরেকটু ভেঙ্গে বলি:

    ابْتَغَىٰ = seeks

     وَرَاءَ =beyond

     ذَٰلِكَ = that

    google translator সাধারণত জটিলতাযুক্ত বাক্যের অনুবাদ ঠিক মতো করতে পারে না, কিন্তু এই অংশটুকু এতটাই সহজ ও পরিষ্কার যে, google translator ব্যবহার করেও আপনি এর অনুবাদ seeks beyond that পেয়ে যাবেন। google translator এ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ এই অংশটুকু কপি করে দেখুন অনুবাদ কী দেখায়। অথবা সরাসরি নিচের লিংকে ক্লিক করে দেখে নিন।

    http://translate.google.com/#auto/en/%D8%A7%D8%A8%D9%92%D8%AA%D9%8E%D8%BA%D9%8E%D9%89%D9%B0%20%D9%88%D9%8E%D8%B1%D9%8E%D8%A7%D8%A1%D9%8E%20%D8%B0%D9%8E%D9%B0%D9%84%D9%90%D9%83%D9%8E

     ذَٰلِكَ (যা-লিকা) শব্দের অর্থ ন্যূনতম আরবী জ্ঞান যার আছে তার তো জানার কথাই এমনকি আরবী না জেনেও অনেকে এর অর্থ জেনে থাকবেন। কারণ সূরা বাকারা শুরুই হয়েছে "যা-লিকা" দিয়ে, এটি একটি demonstrative pronoun, যার অর্থ that.

    আশা করি ইংরেজি অনুবাদটা কেন অধিক গ্রহণযোগ্য সেটা পরিষ্কার হয়েছে, আরো বিস্তারিত বুঝতে এখানে (http://corpus.quran.com/wordbyword.jsp?chapter=23&verse=7) দেখুন। তাতে ও সন্তুষ্ট না হলে অনুবাদ বাদ দিয়ে কুরআনের  মূল আরবী টেক্সট নিয়ে আলোচনা করুন।

  22. 4
    Common Sense

    যেখানে দৃষ্টিপাত করা এবং মনে মনে কামনা করাই হারাম, সেখানে উক্ত কামনার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নির্দিষ্ট অঙ্গ মৈথুন করা তো আরো বড় রকমের হারাম হবে। যেমন, কুরআনে মদ খাওয়া হারাম বলা হয়েছে, পায়খানা নাপাক বলা হয়েছে, কিন্তু পায়খানা খাওয়া হারাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু এটা কমন সেন্স দিয়েই বুঝে নিতে হবে যে, এটা হারাম।

  23. 3
    মুসাফির শহীদ

    @ফাতমী

    এখানে দেখুনঃ http://islamqa.info/en/329

  24. 2
    মুহাম্মদ হাসান

    তবে একটা জিনিষ পরিষ্কার করা দরকার আর তা হল হস্তমৈথুনের গুনাহ বা শাস্থি আর জেনা ব্যাভিচার করার গুনাহ বা শাস্থি একই পাল্লায় মাপা যাবে না । ইসলামে সব হারামকে একই রকমভাবে গন্য করা হয় না । আশাকরি বিষয়টা পরিষ্কার ইনশাআল্লাহ্‌ । আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন ।

    1. 2.1
      ফাতমী

      @মুহাম্মদ হাসান,

      আপনি বললেই তো কিছু একটা হবে না, প্রমাণ করতে হবে। আমার আগের কমেন্টা দেখুন এবং প্রমাণ করুন কিভাবে ঐ আয়াতে হস্তমৈথুনও অন্তুর্ভুক্ত। কোরানের আলোকে প্রমাণ করতে হবে, অর্থ্যাত কোরান দিয়ে কোরানের ব্যাক্ষ্যা নিয়ে আসতে হবে। যদি মনে করেন, ঐ আয়াতে হস্তমৈথুনও অন্তর্ভুক্ত, তাহলে ব্যাবিচার এবং হস্তমৈথুন সমক্ষক হিসাবে আসছে, যেহেতু আলাদা করে পার্থক্য করা হচ্ছে না। অতএব, হস্তমৈথুনের শাস্তি এবং ব্যাবিচারের শাস্তি একই হতে হবে, যদি ঐ আয়াত হস্তমৈথুনকেও অন্তর্ভুক্ত করে। 

      1. 2.1.1
        মুহাম্মদ হাসান

        জি ভাই আমি বললেই হবেনা কিন্তু কুরান থেকেই কুরানের ব্যাখ্যা দিতে হবে এটা কোথায় পেলেন? আপনার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে একটি বিসয় জানতে ইচ্ছে করছে- আপনি কি কুরানের আরবি জানেন? কুরান থেকে কিভাবে বিধান বের করা হয়? কোন কিছুকে ফরজ,সুন্নাত বা নফল কিভাবে করা হয়?

        এ বিসয়টা সাদাদ ভাই তার লেখাতে একটু ইংগিত দিয়েছিলেন এবং এটা খুবই গুরুত্তপূর্ন।

      2. 2.1.2
        ফাতমী

        @মুহাম্মদ হাসান,

        জি ভাই, আপনি ভাল করে আমার আগের কমেন্ট পড়ুন এবং সাদাত ভাইর পোস্ট পড়ুন। এখানে আলোচনাটা হচ্ছেই কোরানের উপর, তাই আমি আলোচনার বিষয়বস্তুর উপর থাকতে চেয়েছি।

        আপনি হয়ত আরবি, ফার্সি, উর্দু, হানেফী ফিকাহ, মালেকী ফিকাহ, শাফেয়ী' ফিকাহ, হাম্বলী ফিকাহ, আহলে হাদিস সালাফী ফিকাহ সব ভাল করে জানেন, এবং বুঝেন। আপনি জ্ঞানি হতে পারেন।

        কিন্তু আমি শুধু এই অবস্থানে থাকি, "কেউ কিছু সত্য বললেই তাহা সত্য ভেবে থেমে থাকি না, এটা কেন সত্য সেটা না বুঝার আগ পর্যন্ত বুঝার চেষ্টা করি"

        1. 2.1.2.1
          মুহাম্মদ হাসান

          এখানে আলোচনাটা হচ্ছেই কোরানের উপর, তাই আমি আলোচনার বিষয়বস্তুর উপর থাকতে চেয়েছি।

          সাদাত ভাই যে আয়াত গুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো থেকেই প্রমানিত হয় যে হস্থ মৈথুন হারাম । ইমাম শাফঈ(রঃ) সহ সব ইমামরা এইসব আয়াত দারাই হস্থ মৈথুনকে হারাম বলেছেন । আপনার কথা মত তাহলে উনারা কুরানকে ভুল বুঝেছেন আর আপনি উনাদের চেয়ে বেশি বুঝেন । সেজন্যই বলেছিলাম আপনি কি কুরআনের আরবি বুঝেন । আমি এর দ্বারা এটা বুঝাতে চাইনি যে আমি সব ভাষা আর সব মাজহাব বুঝে ফেলেছি ।   

          তাহলে ব্যভিচার এবং হস্তমৈথুন সম মানের অপরাধ?  যদি ব্যভিচার=হস্তমৈথুন হয়, তাহলে কেন ব্যভিচারের শাস্তি হস্তমৈথুনকারীর উপর প্রয়োগ করেন না?

          একেই বলে শুধু যুক্তি নির্ভরশীলতা । শুধু যুক্তির উপর ভিত্তি করে ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করলে গুমরাহ হওয়া ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না । কুরআনের কোন আয়াত বুঝতে সমস্যা হলে যারা বুঝেন তাদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে, এটা কুরানেরই নির্দেশ, বিশেষ করে সাহাবারা, তাবেঈনরা, তাবে তাবেঈনরা এবং সে যুগের ইমামরা কিভাবে বুঝেছেন সেভাবে বুঝতে হবে । আমি আগের পোস্টে বলেছিলাম যে হস্তমৈথুনের গুনাহ বা শাস্থি আর জেনা ব্যাভিচার করার গুনাহ বা শাস্থি একই পাল্লায় মাপা যাবে না যদিও দুটোই হারাম। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করা যাক । যেমন ধরুন মানুষ খুন করা এবং মদ পান করা বা গান বাজনা করা বা মিথ্যা কথা বলা বা চুরি বা প্রতারণা করা সবই হারাম কিন্তু এ সবগুলর শাস্থিই কি এক? অবশ্যই না । খুনের শাস্থি হল খুন কিন্তু গান বাজনা বা চুরির শাস্থি কিন্তু খুন করা না যদিও এসবই হারাম । ঠিক তেমনি ব্যাভিচার করা হারাম এবং এর শাস্থি মৃত্য দণ্ড বা বেতরাঘাত বা রজম কিন্তু হস্থ মৈথুনের শাস্থি এর মধ্যে পড়ে না তার মানে এই না যে হস্থ মৈথুন হারাম না । কোন কিছু হারাম হওয়ার মানে এই না যে এর শাস্থিও অন্যান্য হারামের সমান হতে হবে । যেমন শিরক করা হারাম এবং এর কোন ক্ষমা নেই যদি মরার আগে কেই তাওবা না করে অথচ অন্যান্য হারামের গুনাহ আল্লাহ চাইলে মাফ করে দেবেন ।     

          চলুন, সূরা আল মুমিনুনের আয়াত our holy Quran site অনুবাদ দেওয়া আছেঃ [যাহা আপনার দেওয়া অনুবাদের থেকে ভিন্ন]

          কুরআনের অনুবাদ পড়ে কুরআন থেকে বিধান বের করার চেষ্টা শুধু কুরআনের সাথে ধৃষ্ট করারই নামান্তর ।  তারপরও বলছি আপনার কাছে যদি  মনে হয় ২৩:৭ দ্বারা হস্ত মৈথুন বুঝানো হচ্ছে না তাহলে 

          মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩০-৩১]

          "দের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে।"  এর দ্বারা নিশ্চয় শুধু বউ আর দাসীকে বুঝাচ্ছে না । এটা জেনারেল এর মধ্যে সব ধরনের যৌনাচার অন্তর্ভুক্ত সেটা ব্যাভিচার হোক বা হস্ত মৈথুন বা অন্য যাই হোক ।  

          তবে হাদিসের আলোকে আমরা যেহেতু নিশ্চিত হস্তমৈথুন একটি গহির্ত কাজ

          দয়াকরে বলবেন কি কোন হাদিসে স্তমৈথুনকে একটি গহির্ত কাজ বলা হয়েছে? 

          চার মাহজাবের আলোকে হারাম, সেহেতু হস্তমৈথুন হারাম বলে

          চার মাজহাব এটাকে হারাম বললেন কিসের ভিত্তিতে? একটু বলবেন কি?

          চার মাহজাবের বাহির আমার জানামতে কিছু সালাফি ব্যাখ্যা আছে এমন, যদি কারো দ্বারা ব্যভিচার হবার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তার থেকে বাঁচার জন্য সে যদি হস্তমৈথুন করে, তাহলে তা দোষের নয়। 

          এটা ইসলামের একটা বিধান যে যেখানে বড় কোন ক্ষতির আশংকা করা হয় সেখানে যদি ছোট কোন ক্ষতির দ্বারা পার পাওয়া যায় তাহলে ছোট ক্ষতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় । তবে এটা শুধু মাত্র ঐ বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ । অর্থাৎ সেই বিশেষ পরিস্থিতির পর আবার সাধারণ বিধান অনুসরণ করতে হবে । 

          যদি ব্যভিচার=হস্তমৈথুন হয়, তাহলে কেন ব্যভিচারের শাস্তি হস্তমৈথুনকারীর উপর প্রয়োগ করেন না?

          এই ধরনের সমীকরণ সবসময় প্রযোজ্য না কারন ইসলামের সবকিছু এত সাদা কালো না ।  নিজের জ্ঞানের সীমানা নিজেকেই বুঝতে হবে । আমি কুরআন বুঝি বাংলাতে অথচ এর থেকে বিধান রচনা করতে চাই, এটা হল নিজেকে নিজের জ্ঞানের সামনে দাড় করিয়ে দেওয়া ।

           কিন্তু আমি শুধু এই অবস্থানে থাকি, "কেউ কিছু সত্য বললেই তাহা সত্য ভেবে থেমে থাকি না, এটা কেন সত্য সেটা না বুঝার আগ পর্যন্ত বুঝার চেষ্টা করি"

          খুবই ভাল । তবে নিজের বুঝকেই সত্যের মাপকাঠি করবেন না । যেখানে সমস্ত ইমামরা সহ পূর্বের এবং বর্তমানের সকল আলেমরা হস্থ মৈথুনকে কুরআনের এইসব আয়াতের দ্বারা হারাম বলেছেন সেখানে আমার আপনার মত মানুষের বিতর্ক করা বেয়াদবি ছাড়া আর কিছুই না ।

  25. 1
    ফাতমী

    "২.২ বর্তমান সময়ের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ও আলোচনার প্রসঙ্গ বিবেচনায়, আমরা যদি  ডান-হাতের মালিকানাভুক্ত নারী বা ক্রীতদাসিদের কথা বাদ দিই, তাহলে ওপরের আয়াতে এটা সুস্পষ্ট যে, স্ত্রী ছাড়া আর কারো  দ্বারা বা কোন কিছুর দ্বারা যৌন কামনা চরিতার্থ করা সীমালঙ্ঘন তথা হারাম। কাজেই, ২.২.১ এই আয়াত বিবাহ-বিহর্ভূত নারীর সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে, ২.২.২ এই আয়াত পশু-পাখির সাথে যৌনকর্ম করা হারাম করছে, ২.২.৩ এই আয়াত হস্তমৈথুনকে হারাম করছে, মোটকথা, স্ত্রী ছাড়া যৌনকর্ম সম্পাদনের যত উপায় আছে সবকিছুকে হারাম করছে।"-সাদাত

    প্রশ্নঃ তাহলে ব্যভিচার এবং হস্তমৈথুন সম মানের অপরাধ? অর্থাৎ আপনার ভাষ্য অনুযায়ী হস্তমৈথুন হচ্ছে, নিজের সাথে নিজে ব্যবিচার করা? যেহেতু স্ত্রী এবং দাসী উভয়ই বাহ্যিক অস্তিত্বসম্পন্ন আলাদা ব্যক্তিত্ব।

    চলুন, সূরা আল মুমিনুনের আয়াত our holy Quran site অনুবাদ দেওয়া আছেঃ [যাহা আপনার দেওয়া অনুবাদের থেকে ভিন্ন]

    "অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে" আয়াত ৭

    অর্থাৎ অন্য অস্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি, কারণ আপনার অনুবাদে অন্যকে না থাকলেও এই অনুবাদে "অন্যকে" পরিষ্কার করছে। অর্থাৎ, হস্তমৈথুন উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদি কোরান দিয়ে কোরানের তফসির করা হয়।

    উপসংহারঃ তবে হাদিসের আলোকে আমরা যেহেতু নিশ্চিত হস্তমৈথুন একটি গহির্ত কাজ, এবং চার মাহজাবের আলোকে হারাম, সেহেতু হস্তমৈথুন হারাম বলে প্রচার করা "আল্লাহর উপর খোদাগিরি নয়"।

    বিশেষ বিবেচ্যঃ চার মাহজাবের বাহির আমার জানামতে কিছু সালাফি ব্যাখ্যা আছে এমন, যদি কারো দ্বারা ব্যভিচার হবার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তার থেকে বাঁচার জন্য সে যদি হস্তমৈথুন করে, তাহলে তা দোষের নয়। অর্থাৎ, তাদের দৃষ্টিতে ব্যভিচার=হস্তমৈথুন নয়।

    প্রশ্নঃ যদি ব্যভিচার=হস্তমৈথুন হয়, তাহলে কেন ব্যভিচারের শাস্তি হস্তমৈথুনকারীর উপর প্রয়োগ করেন না?

    1. 1.1
      সাদাত

      আমি যা বলেছি, তার প্রেক্ষিতে আলোচনা হতে পারে, যা বলি নাই তার ভিত্তিতে নয়। ব্যভিচার আর হস্তমৈথুন সমমানের কি-না অথবা একটি আরেকটা থেকে কম/বেশি মানের হারাম কি-না, উভয়ের শাস্তি এক- না ভিন্ন এসব কিছুই পোস্টে নেই, আমার আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিকও নয়। পোস্টের মূল পয়েন্ট হচ্ছে "হস্তমৈথুনকে হারাম" বলা "আল্লাহর ওপর খোদাগিরি" কি-না সেটা ব্যাখ্যা করা।

      কমেন্ট করার আগে আশা করি পুরো পোস্টটা পড়বেন, নোটসহ। ২৩:৭ এর অনুবাদের ব্যাপারে নোটে বলেছি, না বুঝলে বলুন, আরো পরিষ্কার করে বলি।

      আপনার জ্ঞাতার্থে,

      ১. হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার মূল দলিল কুরআন, হাদিস এক্ষেত্রে সাপর্টিং দলিল মাত্র।

      ২. সালাফিদের মতেও হস্তমৈথুন হারাম। সালাফিদের অনলাইনের সবচেয়ে বড় ফতোয়া সাইট islamQA তে হস্তমৈথুনকে হারাম বলা হয়েছে। সূত্র: http://islamqa.info/en/329

Leave a Reply

Your email address will not be published.