«

»

Apr ২২

একজন বলবীর সিংয়ের বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রায়শ্চিত্ত

১৯৯২ সনের ৬ ডিসেম্বর। ৪০ কেজি ওজনের কুঠার হাতে প্রচণ্ড আক্রোশে ক্ষিপ্ত এক রাজপুত যুবক শরিক হয়েছে ৫ লক্ষ উন্মাতাল মানুষের মিছিলে, বাবরি মসজিদ ভাঙার নারকীয় তাণ্ডবে। নাম তার বলবীর সিং। প্রথম কোপ দেবার জন্য কুঠার ওপরে তোলার সাথে সাথেই তার বুক ধরফর করা শুরু হলো। বহু কষ্টে প্রথম কোপ দেবার পর, দ্বিতীয় বার কোপ দেবার আর সাহস হচ্ছিল না। অনেক কষ্টে দ্বিতীয় কোপ দেবার পর ৩য় কোপ দেবার জন্য যখন কুঠার ওপরে তুলেছে, এবার সে আর কোনভাবেই কুঠার নামাতে পারছে না। এখন সে চোখের সামনে ৩টি মৃত্যুকে দেখতে পাচ্ছে। প্রথমত কুঠারটা কোনভাবে তার মাথায় পড়লে মৃত্যু অবধারিত, দ্বিতীয়ত যে উঁচুতে উঠে সে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গছিল সেখান থেকে নিচে পড়ে গেলেও মৃত্যু সুনিশ্চিত, তৃতীয়ত তার হৃদপিণ্ড যেভাবে কাঁপছে যে কোন সময় হার্ট অ্যাটাকে সে মার যেতে পারে। এমতাবস্থায় তার সহযোগী অন্যদের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। তার সহযোগী প্রায় একমাসের মাথায় মাওলানা কালিম সিদ্দিকির হাতে ইসলাম গ্রহণ করে এবং ৩ চিল্লায় চলে যায়। তার নতুন নাম হয় মুহাম্মাদ উমার। এদিকে ৩ চিল্লা থেকে ফিরে এসে উমার বলবীরকে খুঁজতে থাকে। বলবীরের অবস্থা এরকম হয় যে সে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিল না। ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে প্রায় ৬ মাস তার দিন কেটেছে কখনো গাছের নিচে, কখনো রাস্তায় রাস্তায়। অবশেষ প্রায় ৬ মাসের মাথায় বলবীর সিং মাওলানা কালিম সিদ্দিকির হাতে ইসলাম গ্রহণ করে। তার নতুন নাম হয় মুহাম্মাদ আমির।

এই যে কথাগুলো বললাম, সেগুলো কারো থেকে শুনে বা পড়ে বলছি না, বরং মুহাম্মাদ আমির ওরফে বলবীর সিংয়ের একেবারে নিকটে বসে তার নিজ মুখ থেকে শুনে বললাম। অনেক কথাই তিনি বললেন যেগুলো এখানে বলিনি, আমি শুধু সে অংশটুকুই বললাম যেটা মুহাম্মাদ আমির বলতে চাচ্ছিলেন না, শ্রোতাদের অনুরোধে মসজিদ ভাঙার সেই কাহিনী বলতে গিয়ে তার চোখ ছলছল করছিলো। তিনি খুব আফসোস করে বলছিলেন, মুসলিমরা আমাদের পাশেই ছিল। তারা আতরের ব্যবসা করেছে, তছবির ব্যবসা করেছে, টুপির ব্যবসা করেছে; কিন্তু একবার ও কেউ বুঝিয়ে বলে নাই মসজিদ আল্লাহর ঘর, এটা ভাঙা যায় না।

কথা এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। যে হাত একদিন মসজিদ ভাঙতে উদ্যত হয়েছিল, সেই হাতে আজ গড়ে উঠছে, আবাদ হচ্ছে মসজিদের পর মসজিদ। দেশভাগের পর মুসলিমদের পরিত্যক্ত মসজিদ যেগুলোকে গোয়ালঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, মুহাম্মাদ আমির সেগুলোক আবার মসজিদ হিসেবে আবাদ করে চলেছেন। প্রচণ্ড অনুতপ্ত এই মানুষটি এই পর্যন্ত ৮৭টি মসজিদ তৈরি করেছেন, আর তার সেই সহযোগি মুহাম্মাদ উমর এ পর্যন্ত ৪৭টি মসজিদ তৈরি করেছেন। মুহাম্মাদ আমির প্রতিবছর তাবলিগে ৪ মাস সময় দেওয়ার পাশাপাশি অমুসলিমদের ওপর দাওয়াতের যে কার্যক্রম চালান তাতে এখন পর্যন্ত ১০,০০০ মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আল্লাহতায়ালা তার মেহনতকে কবুল করুন এবং আমাদেরকেও উদ্বুদ্ধ হবার তাওফিক দান করুন।

২৬ comments

Skip to comment form

  1. 11
    এফ জেড করিম

    আলহামদুলিল্লাহ

  2. 10
    মাহাবুব

    আল্লাহ হেদায়েতের মালিক। আলহামদুলিল্লাহ্‌। ভাল সংবাদ।

  3. 9
    এম_আহমদ

    ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ সহিংসতার সাথে ভেঙ্গে দেয়া ছিল রাম-রাজ্যবাদী হিন্দুদের বীভৎস জঙ্গি চরিত্রের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ। বাবরি মসজিদ কোনো এক ব্যক্তি ভেঙ্গে দেয়নি। এর পিছনে ছিল, (এবং এখনও আছে), একটি হিংস্র আন্দোলন, ঐতিহাসিক দীর্ঘসূত্রিতা, রাজনৈতিক সমর্থন ও মুসলিমদের প্রতি হিন্দু-মানসিকতার অতল গভীরে লুকায়িত চেতনা

    ঐ পক্ষ থেকে এক ব্যক্তির হেদায়াত প্রাপ্তিকে স্বাগত জানাই এবং তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন। কিন্তু মুসলিমদের ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এবং হিন্দুদের ইসলাম বিদ্বেষের পরিমণ্ডলে এমন ঘটনা বা আরও দু/চার হয় মরুভূর বুকের বালুকণা সদৃশ। কিন্তু তবুও ভাল। ‘ছোট বালুকার কণা আর বিন্দু বিন্দু জল …’

    বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার ঘটনাটি আমাদেরকে অত্যন্ত আশ্চর্য করেছিল। একটি ‘সেক্যুলার’ দেশে দিন/দুপুরে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও এমন নগ্নভাবে হয়ে যাওয়াটিই ছিল আশ্চর্যের কারণ। আমি একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেছিলাম। কেউ চাইলে এখানে তা পড়ে দেখতে পারেন।   ওখানে সেই ঘটার একটি ভিডিও আছে।

    1. 9.1
      এম_আহমদ

      উপরের মন্তব্যে কিছুটা কমতি রয়েছে। ওখানে এক ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ নয়, বরং দুই জনের। এবং তাদের তৎপরতায় এক বিরাট পরিবর্তন আসছে। দ্রত চোখ আঁটিয়ে নেয়াতে শেষের অংশটি খেয়াল করা হয়নি। আল্লাহ তাদের ঈমানকে কবুল করে নিয়েছেন। না হলে তারা সাহসিকতার সাথে এতদূর অগ্রসর হতে পারত না। দোয়া করি আল্লাহ যেন এমন মর্দে মুজাহিদ আরও দান করেন।

      1. 9.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        এই ধরনের খবর প্রধান প্রধান মিডিয়ায় কেন আসেনি? তাবলিগ জামাতের তরফ থেকে প্রেস কনফারেন্স করে কি জানান যেত না?

        1. 9.1.1.1
          এম_আহমদ

          ভাই, সালাম। কেন কোনো কথা মিডিয়ায় আসেনি, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। মিডিয়াতে কোনো কথা আস্‌লেই তা সত্য হয়ে যায় না। আবার মিডিয়া অনেক সত্য প্রচার করতে চায় না। এসব বিষয়ে দালিলিক এবং সত্য-কেন্দ্রিক যুক্তি এখানে আলোচনার অবকাশ নেই। আমার কাছে এতটুকুই যথেষ্ট যে সাদাত ভাই তা নিজ কানে শুনে এসে বলেছেন। এখন ঐ ব্যক্তি সত্যিই বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার একজন ছিলেন, না ছিলেন না, তা আমরা যে মর্মের আলোচনা করছি সেই মর্মের আলোচনার জন্য কোনো অনুসন্ধানে যাবার প্রয়োজন দেখছি না। ঘটনা যদি সত্য না হয়েও থাকে তবুও আমাদের আলোচনার দীনি তাৎপর্য ব্যর্থ হচ্ছে না। আমরা অনেক যুক্তি, অনেক ব্যাখ্যা parabolic অর্থেও গ্রহণ করি। সুতরাং এত দূরে গিয়ে কী লাভ?

          আপনার কাবা ঘরের প্রসঙ্গ থেকে যা বুঝতে পারছি তা হল এমন ধরণের কাজে আল্লাহ tit for tat শাস্তি দিতে দেখা যায় না। কিন্তু আল্লাহর কাজ কীভাবে হয়, তা exactly বুঝা মুস্কিল। আল্লাহ যেমন তার কাজও তেমন। তার কাজের সকল পদ্ধতি, সকল নিয়ম বুঝার সাধ্য কারও নেই। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার কাজে শত শত লোক ছিল, বরং হাজার হাজার। তাদের সবাই কী মুসলমান হয়ে গিয়েছে? না। এখানে যে দুইজনকে মুসলমান হতে দেখছি, এটা তাদের উপর আল্লাহর  অনুগ্রহ! তাহলেও মসজিদ ভেঙ্গেও কী অনুগ্রহ পেল? হ্যাঁ, পেল। তিনি যেমন, তার কাজও তেমন। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন, এরই অর্থ সার্বভৌম।  হেদায়াতের ব্যাপার বুঝা মুষ্কিল। এসব তকদীদের অংশ। তকদীরকে যুক্তি তেমন ধরতে পারে না। আবার এই দুইজনের মাধ্যমে যদি ৪৭+৮৭=১৩৪টি মসজিদ পূণঃস্থাপিত হয়, যদি ১০,০০০ লোক হেদায়াত প্রাপ্ত হয়, তবে এতেও অনেক নিদর্শন রয়েছে। এর চেয়ে বেশি আর কী বলব বুঝতে পারছি না।     

      2. 9.1.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        আর একটি অনুরোধ! আপনি তো বিজ্ঞ মানুষ, আমাকে বলেন তো সব মসজিদের বড় মসজিদ আমাদের কাবাঘর। সে কাবা ঘরে কত বার হামলা হয়েছিলো, গুড়িয়ে গিয়েছিলো যারা ঐ ঘর ভেঙ্গে ছিলো জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছিলো তাদের পরিণতি কি হয়েছিলো? ধন্যবাদ।

  4. 8
    রাসেল ইউসুফী

    আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।

  5. 7
    সুজন সালেহীন

    সুবহানাল্লাহ! এইমাত্র খবরে পড়লাম একসময়কার ইসলাম-বিদ্ধেষী ডানপন্হী ওলন্দাজ রাজনীতিক ও কুখ্যাত ফিতনা ছবির নির্মাতা আর্নোড ভান দোর্নের ইসলাম কবুলের পর তার ছেলেও গত সপ্তাহে দুবাই-এ অনুষ্ঠিত ডঃ জাকির নায়েকের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে ইসলাম কবুল করে মুসলিম হয়েছেন। আমার আফসোস হয় আমাদের দেশের উচ্ছন্নে যাওয়া নাস্তিকদের জন্য! আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে যশস্বী একজনকে কবুল করে অন্য হতাশ পথ হারিয়ে ফেলাদের পথ খুঁজে পাবার কারণ বানিয়ে দেন! আমীন!

  6. 6
    এম ইউ আমান

    অত্যন্ত ইন্সপায়রিং। এই ব্যক্তিগত কথোপকথনটি শেয়ার করার জন্য সাদাত সাহেবকে ধন্যবাদ। সদালাপে আমরা ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে সতত কলমযুদ্ধ করছি। তখনো মনে রাখা প্রয়োজন- একজন প্রচন্ড বিদ্বেষীও হটাৎ করেই গভীর বিশ্বাসী হতে পারেন। আরব হজরত ওমর (রাঃ) থেকে শুরু করে মোঙ্গল বারকে খান, সুইস ড্যানিয়েল স্ট্রাইখ, ইন্ডিয়ান মুহাম্মাদ আমির এঁরা একই লিনিয়েজ অনুসরণ করছেন।

    আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদয়াত করেন।

    1. 6.1
      সাদাত

      আমান ভাই, একটু পরিষ্কার করি। এটা কোন ব্যক্তিগত কথোপকথন ছিল না। সাম্প্রতিককালে উনি বাংলাদেশ সফর করেছেন (এখনো সম্ভবত আছেন), অনেকগুলো প্রোগ্রাম করেছেন। এমনই একটি প্রোগ্রামে তার খুব নিকটে বসে তার মুখ থেকে কথাগুলো শুনেছি। 

      1. 6.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ধন্যবাদ বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য।

  7. 5
    আহমেদ শরীফ

    আল্লাহ আপনাকে উত্তম বদলা দান করুন।

    এই ঘটনাটা জানা ছিল না, আপনার উসিলায় আল্লাহ জানালেন।

    একই ধরণের ঘটনা ইউরোপেও ঘটে চলেছে।

    একদা ইসলামবিদ্বেষী ডাচ চলচিত্র নির্মাতা যিনি একসময় ইউরোপে কোরআন 'ব্যান' করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করে হজ্বপালন শেষে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন _

     

    "I felt ashamed standing in front of the Prophet’s grave. I thought of the grave mistake which I had made by producing that sacrilegious film. I hope that Allah will forgive me and accept my repentance."

     

    http://www.huffingtonpost.co.uk/2013/10/22/arnoud-van-doorn-hajj-conversion_n_4141718.html

  8. 4
    সাদাত

    পোস্টেই বলেছি মুহাম্মাদ আমিরের নিজের মুখ থেকে শুনে আমি কথাগুলো লিখেছি। কোন লিংক/রেফারেন্স থেকে নয়। বস্তুত ইন্টারনেটে নানা রকম গুজব সব সময় রটে, সেগুলোতে কান দেই না। কিন্তু সরাসরি আসল ব্যক্তি থেকে নিজের কানে শোনা বিষয়কে অবিশ্বাস করার কোন সুযোগ নেই। তবে অন্যদের জন্য বিশ্বাস অবিশ্বাস করা যার যার নিজস্ব ব্যাপার।

    তাবলিগে ৪ মাস সময় লাগাবার কথাটা বলেছি দ্বীনি কাজে তার সময় ব্যয়ের বিষয়টা বুঝাবার জন্য। এটা নিয়ে রাজনীতি বা তাবলিগকেন্দ্রিক আলোচনা বা বিতর্কে কেউ লিপ্ত না হলে ভালো হবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে একজন মানুষের অপরাধবোধ তাকে কতটুকু আত্মত্যাগী এবং আত্ননিয়োজিত করতে পারে সেটা উপলদ্ধি করা এবং বনেদি/খান্দানি মুসলিম হিসেবে আমরা কতটুকু পিছিয়ে আছি সেটা অনুধাবন করা।

  9. 3
    মুনিম সিদ্দিকী

    কোন লিংক নেই, রেফারেন্স নেই, ভিডিও ক্লিপ নেই! কোথা থেকে যে এইগুলো তোলে নিয়ে এসেছেন! আমার কাছে মনে হচ্ছে কেউ আলিফ লাইলার কিচ্ছা শুনাচ্ছেন। ভাই এর প্রমাণ স্বরূপ কিছু দেন। ধন্যবাদ।

    1. 3.1
      কিংশুক

      সাদাত ভাইয়ের সাথে এত বছরের পরিচয় থাকার পর কিভাবে মনে করলেন তিনি আপনাকে আলিফ লায়লার কিচ্ছা শুনাবেন! একটু কষ্ট করে google এ সার্চ করলেই লিংক, রেফারেন্স, ভিডিও ক্লিপ সব পেয়ে যেতেন। মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা:বা: দেওবন্দী ঘরানার অনেক বড় দায়ী। ভারত, আফ্রিকা সহ সারা পৃথিবীতে তাঁর তাবলিগি জামায়াত ছাড়াও দ্বিনের দাওয়াতের ভিন্র সংগঠন, কার্যক্রম রয়ছে। প্রতি বছর অসংখ্য নওমুসলিম তাঁদের মাধ্যমে ইসলাম ক্ববুল করছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন। আল্লাহর একজন অলি।  প্রাক্তন বলবীর সিং বর্তমান মুহাম্মদ আমির এর বিষয়ে সার্চ করে কিছু রেফারেন্স দিলাম:

      http://www.islamhinduism.com/new-muslims/134-interview-with-master-amir-ex-shiv-sena-leader-balbir-singh

      http://www.milligazette.com/news/5204-repentant-karsevak

      http://english.islammessage.com/ArticleDetails.aspx?articleId=2107

      http://forums.islamicawakening.com/f49/babri-masjid-1527-1992-a-59845/

      http://newlyconvert.blogspot.com/

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

      rel="nofollow">

       

      1. 3.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আপনি সাদাত ভাইকে চিনতে পারেন, আমি চিনতে পারিনি! দুঃখিত! আপনি যে রেফারেন্স বা লিংক দিয়েছেন তা তিনি তার ব্লগে দিলে তো আমার এইভাবে প্রশ্ন করা দরকার ছিলোনা! সাদাত ভাই যখন কোন ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে প্রকাশ করেন তখন ঐ ব্লগের তথ্যসূত্র তিনি দিয়ে থাকেন। তার কোন ব্লগে তথ্যসূত্র নাই এইটি আমার কাছে প্রথমে নজর পড়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এইটি তার ব্লগ প্রকাশের ধারা নয়। তাই ভেবেছি এর ভিতর বোধহয় কোন রহস্য আছে তাই রহস্য জানতে প্রশ্ন করেছি।

        তাছাড়া সাদাত ভাইকে আমার খোদ ভাই যদি এই ভাবে রেফারেন্স ছাড়া কিছু অনলাইনে নিয়ে আসেন তার কাছেও আমি রেফারেন্স চাইতে পারি। চাওয়া আমার অধিকার।

        সাদাত ভাই এর মত আপনার অনেকই আছেন যারা শুধুমাত্র ভার্চুয়াল কারেক্টার। কোন যায়গা থেকে গদাম নেমে আসলে কোন পাত্তা পাওয়া যাবেনা বলে আমার বিশ্বাস। সে কারণে কোন ভাইকে কতদিন থেকে চিনি সেটি আমার কাছে বড় কিছুনা আমার কাছে বড় হচ্ছে সে ভাই কি প্রকাশ করছেন সেটি।

        আর যে সব রেফারেন্স লিংক দিলেন সেগুলো একটিও প্রচলিত জমহুর কোন লিংক দেখতে পেলাম না, এই সাইটের নাম এই প্রথম আমি দেখলাম। মার্কামারা কোন সাইটে কি এই বিষয়ে কিছু আছে?  ধন্যবাদ।

        1. 3.1.1.1
          কিংশুক

          দু:খিত মুনিম ভাই। বলবীর সিংয়ের ঘটনা নামি দামী কোন মিডিয়ায় আসেনি বলে এ সম্পর্কে না জানাই স্বাভাবিক। সাধারনত: সেলিব্রেটি না হলে কারো ইসলাম গ্রহণ বড় মিডিয়ায় আসেনা। আগে অনেক সেলিব্রিটির বিষয়ে ইসলাম গ্রহণের গুজবের খবর অনেকে সরল বিশ্বাসে প্রচার করে ইসলাম বিদ্ধেষীদের হাসি ঠাট্টার স্বীকার হয়েছে। আপনি বাংলা ব্লগে ইসলাম বিদ্ধেষীদের ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনার লেখনির দ্ধারা অনেক জবাব দিয়ে চলেছেন। ইসলাম বিষয়ক জ্ঞানে অনেক এগিয়ে। আপনাদের লেখা হতে ইসলাম বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করার অনুপ্রেরনা জুগিয়েছেন। আমার রুঢ় মন্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

               আমরা মুসলমানরা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে না পারলেই তা অবিশ্বাস করিনা। নবী রাসূল সা: গণের মোজেজা, অলি আউলিয়াগনের কারামতে বিশ্বাসী। আল্লাহ তায়ালা চাইলে যে কোন সময়ে যেকোন অলৌকিক ঘটনা ঘটতে পারে।

    2. 3.2
      কিংশুক

      মুনিম ভাই জামায়াতে ইসলামি এত রাজনীতি, বাস্তবতা বুজার পরও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কোথাও তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দুরে থাকুক তেমন কোন গ্রহনযোগ্যতাও নাই। দেওবন্দের প্রাচীন ইসলামিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামি কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টে উনাদের অনেক আসন রয়েছ, তাঁদের হাতে পাকিস্তানে ইসলামিক শাসন কায়েম হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। 

      1. 3.2.1
        আহমেদ শরীফ

        উনাকে সাঈদির চাঁদে যাওয়ার কাহিনীর কিছু লিংক দিয়ে দেন।

        1. 3.2.1.1
          মোঃ তাজুল ইসলাম

          Double Thumbs up. Nice comment.

      2. 3.2.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        @কিংশুক: ব্লগের সাথে আপনার এই কমেন্টের কোন সংযোগ খুজে পেলাম না। আপনার কমেন্ট পড়ে বুঝতে পারলাম এই কথাগুলো আপনার মনে জমিয়ে রেখেছিলেন কিন্তু এক সুযোগে চাপমুক্ত হলেন!! 

        আমি দল সমর্থন করি কিন্তু অন্ধ নয়। বাংলাদেশ কেন সারা পৃথিবীতে যথার্থ ইসলামী দল নেই, যে কারণে ভালুকদের হাতে আল্লাহ কুড়াল তুলে দিচ্ছেন না। ধন্যবাদ। ওহ! ভালো কথা সদালাপে ভেউ ভেউ জাতিয় কমেন্ট মানায় না। তাই যারা এই ভাবে ভেউ ভেউ করতে অভ্যস্ত তাদেরকে স্মরন করিয়ে দিবেন এইটি সদালাপ আমু নয়।
         

      3. 3.2.3
        আহমেদ শরীফ

        জামায়াতে ইসলামি এত রাজনীতি, বাস্তবতা বুজার পরও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কোথাও তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দুরে থাকুক তেমন কোন গ্রহনযোগ্যতাও নাই।

         

        তাত্ত্বিক-ব্যবহারিকভাবে ইসলামের মূলধারার সাথে সম্পর্কহীনতা, ফলতঃ আধ্যাত্মিক দেউলিয়াপনাই এর মূল কারণ। তারা যতই নিজেদের 'ইসলামিক দল' হিসেবে জাহির করতে ভালবাসুক না কেন _ জনগণের কাছে তাদের ভাবমূর্তি আর ১০ জন সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি কিছু না। আরো স্পেসিফিক্যালি বললে কওমিরা উপমহাদেশে আক্ষরিক অর্থেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যপক প্রতিনিধিত্ব করেন, গ্রহণযোগ্য আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের সহজাত ক্ষমতা ধারণ করেন সে তুলনায় আলোচ্য দলটির নেতৃবৃন্দের মুসলিমসমাজের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশের সমর্থন লাভ ছাড়া আর তেমন কোন অর্জন নেই। আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাও তাদের কতটুকু আছে তাও আজ বিকটভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

        ইসলামের মূলনীতি তাত্ত্বিক-ব্যবহারিক-আধ্যাত্মিকভাবে এদের দেউলিয়া হওয়ার কারণও আছে অনেক। ধারাবাহিক দীর্ঘসুত্রী কোন পরম্পরা-ঐতিহ্য এদের পূর্বসূরীদের নেই। মতবাদটির ঐতিহাসিক বয়েসও অতি অল্প। প্রায়োগিক দিক থেকে অসংখ্য জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। বেপরোয়াভাবে সুবিধাবাদি, চুড়ান্ত আপোষকামী, স্ববিরোধী নানামুখী বৈপরীত্য শুরু থেকে বিচিত্র সব উৎকট বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে এসেছে দলটি।  মাওদূদিবাদ তাত্ত্বিক-ব্যবহারিক দিক থেকে ইসলামের মূলধারার সাথে বহু ক্ষেত্রেই বৈপরীত্যের আহ্বান করে, পদে পদে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়, যে কারণে অধিকাংশ মুসলিম '৭১ প্রসঙ্গ বাদ দিলেও এমনিতেই তাদের ব্যাপারে অস্বস্তিতে ভোগেন। তাদের সমর্থক-নেতাকর্মীরাও তাত্ত্বিক দিক থেকে নিজস্ব মৌলিক কিছু ভাবধারায় মোহগ্রস্ত, ব্যবহারিক দিক থেকে _ অর্থাৎ ঈমান-আ'মালের দিক থেকে দৃষ্টিকটুভাবে অমনোযোগী হওয়ায় সার্বজনীনভাবে মুসলিমসমাজে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারে সমর্থ হয়নি।

        আমরা জানি রাসূল(সাঃ) ও সাহাবা(রাঃ) এর যুগে মূলতঃ কালিমার দাওয়াত এবং এর ভিত্তিতে অবিস্মরণীয় ত্যাগতীতিক্ষার ওপর ইসলামের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু মাওদূদিবাদে উজ্জীবিত আলোচ্য দলটির জন্মই হয়েছিল অবিভক্ত ভারতবর্ষে সম্প্রদায়গত স্বার্থকে সামনে রেখে এক ধরণের নবউদ্ভাবিত সামন্তবাদি রাজনৈতিক চেতনার স্ফূরণে। সেজন্যেই দলটি যুগে যুগে যতটা রাজনৈতিক ভাবধারায় লালিত-পালিত হয়েছে, ততটুকু দ্রুতবেগেই ইসলামের মূলধারার আদর্শিক-আধ্যাত্মিক গতিপথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইসলাম একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবেই তাদের কাছে প্রতিভাত, চর্চাগত আধ্যাত্মিক দিকটি আগে তারা এড়িয়ে যেত, এখন সেটি নিয়ে তারা রীতিমত কটাক্ষ করে চলেছে। যে আধ্যাত্মিক উন্নতি ছাড়া মুসলিমসমাজে কোন অনুকরণীয় আদর্শ হওয়া আদৌ সম্ভব নয়, সেটিকেই তারা অপ্রয়োজনীয় বিবেচনা করার ফলে তাদের গণবিচ্ছিন্নতা আজ বহু রাজনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করা সত্ত্বেও দূরীভূত করা সম্ভব হয়নি।

        সূচনালগ্ন থেকেই এ ধরণের অনেক কারণে মাওদূদিবাদে বিশ্বাসী এ দলটি এবং সমর্থকগণ ক্রমাগত হোঁচট খাচ্ছে। সমর্থকগণ বিরক্ত, হতাশ, শংকিত। আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ক্রমাগত ব্যর্থ হওয়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যার প্রভাবে অন্যান্য ইসলামিক দলগুলি বা মূলধারার ধর্মজ্ঞানী আলেমওলামা-তাওহীদি মুসলিমসমাজের প্রতিও তারা এক ধরণের ঈর্ষাপরায়ণতা, অন্ধ বিদ্বেষ, অনীহা, প্রতিহিংসা অনুভব করাটা তাদের রীতিমত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। একমাত্র নিজের দল বা গোষ্ঠি ছাড়া অন্যান্য মুসলিম বা মুসলিম গোষ্ঠি-দলের প্রতি অকারণে বাঁকা চোখে দেখার একটা অক্ষম ঈর্ষাজনিত দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মাঝে সাধারণভাবে তৈরি হয়েছে। এই অক্ষমের আস্ফালন তাদের মূলধারার ইসলামিক স্রোত থেকে আরো দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

        তবে আমি পুরোপুরি হতাশ নই। কারণ ক্রমাগত ব্যর্থতা, ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে হয়তো একসময় সত্যিই তারা নিজেদের সংশোধনের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে সংকল্পবদ্ধ হবে। ভ্রান্ত মতবাদের পৌনঃপুনিক আদর্শিক-নৈতিক-আধ্যাত্মিক অগ্রহণযোগ্যতার ব্যপকতাকে নিশ্চয়ই তারা একদিন না একদিন উপলব্ধি করতে সমর্থ হবে।  

         

    3. 3.3

      This is the Media link of Bolo bor Sing                                                                                                                                                                                                                             http://www.amadershomoys.com/newsite/2014/05/01/1620.htm#.U3tAztKSx6B

  10. 2
    কিংশুক

    “মুহাম্মাদ আমির প্রতিবছর তাবলিগে ৪ মাস সময় দেওয়ার পাশাপাশি অমুসলিমদের ওপর দাওয়াতের যে কার্যক্রম চালান তাতে এখন পর্যন্ত ১০,০০০ মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আল্লাহতায়ালা তার মেহনতকে কবুল করুন এবং আমাদেরকেও উদ্বুদ্ধ হবার তাওফিক দান করুন।”
    আমিন আমিন আমিন।
    আমি কোথায় যেন পড়েছিলাম যে, মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা:বা: বাবরী মসজিদের বিষয়ে উত্তপ্ত সময়ে বিজেপির এল, কে, আদভানীর সাথে দেখা করেছিলেন। মাওলানা সাহেব আদভানীকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার জন্য ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। এল,কে আদভানী মাওলানা সাহেবের মতো একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির সাথে কথা বলে ইসলামের আধ্যাত্মিক শক্তি উপলব্দি করে ঐশ্বরিক চিহ্ন টের পেয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু তার ভারতব্যপী ‘রথযাত্রা’র প্রচারনা শেষ পর্যায়ে ছিলো সেহেতু ঐ সময় তার হিন্দুত্ববাদ হতে ভিন্ন দিকে ঘুরে গেলে ভারতব্যপী সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে আশংকায় তখনকার মতো ইসলাম গ্রহন করেন নি।

  11. 1
    ফাতমী

    "আল্লাহতায়ালা তার মেহনতকে কবুল করুন এবং আমাদেরকেও উদ্বুদ্ধ হবার তাওফিক দান করুন।"

    -আমীন

Leave a Reply

Your email address will not be published.