«

»

May ২৪

ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ

[পাঠককে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো এই লেখাটি পড়ার আগে দাসপ্রথা ও ইসলাম লেখাটি পড়ে নেবার জন্য।]

 

ভূমিকা

 

ইসলামকে আক্রমণ করার যতগুলো মোক্ষম অস্ত্র ইসলামবিদ্বেষীদের হাতে রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই প্রোপাগাণ্ডা যে ইসলাম ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে বরং ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীদের যৌনদাসীতে পর্যবসিত করেছে। তাদের এই প্রোপাগাণ্ডায় যে কেউ ভেবে বসতে পারেন, ইসলামই বুঝি ক্রীতদাসি আর যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রবর্তক। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে ক্রীতদাসি আর যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে অতিপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা যথেচ্ছ, অমানবিক ও অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচারকে ইসলাম সীমিত, মানবিক ও নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে আনার পাশাপাশি তাদেরকে জৈবিক চাহিদা পূরণের একটি বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ প্রদান করেছে যার ফলে একদিক দিয়ে তাদের সন্তান জন্মগতভাবে স্বাধীন ও পিতার সম্পদের উত্তারিকারী হয়, অন্যদিক সন্তান গর্ভধারণের মাধ্যমে ক্রীতদাসিটি ক্রমান্বয়ে মুক্তি লাভ করে। মূল আলোচনায় যাবার আগে কয়েকটি বিষয় আমাদের ভালোভাবে মনে রাখতে হবে:

০.১ দাসপ্রথা ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং দাসপ্রথা অতিপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ইসলাম একদিকে সমাজে প্রচলিত অমানবিক দাসপ্রথাকে নিজ আওতার ভেতরে মানবিক করতে সচেষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে নানাবিধভাবে দাসমুক্তকরণের পথ উন্মুক্ত করেছে।

০.২ ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার দাসপ্রথার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, ইসলামের কোন অপরিহার্য, অবশ্য করণীয়, অথবা আকাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। ইসলাম নিজ গণ্ডির ভেতরে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে মাত্র।

০.৩ দাসপ্রথার নিয়মকে ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

 

 

এক. 

যুদ্ধবন্দি/যুদ্ধবন্দিনীর দাসত্ববরণ: একটি প্রচলিত পন্থা

 

১.১  যুদ্ধবন্দির দাসত্ববরণের প্রচলিত পন্থা ও ইসলামের অনুমোদন

ইসলামি রাষ্ট্রনায়ক যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে নিম্নোক্ত যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন:

১.১.১ কতল করতে পারেন (এটি কেবল সেইসব যুদ্ধক্ষম পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য যারা ইসলামি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে, নারী-শিশু-বৃদ্ধের জন্য প্রযোজ্য নয়।)

১.১.২ নি:শর্তভাবে মুক্ত করে দিতে পারেন।

১.১.৩ মুক্তিপণ সাপেক্ষে মুক্ত করে দিতে পারেন।

১.১.৪ যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে ব্যবহার করতে পারেন।

১.১.৫ প্রচলিত অন্য কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারেন। যেমন, দাসপ্রথা প্রচলিত থাকলে তাদেরকে দাস/দাসি হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারি যোদ্ধাদের মধ্যে বন্টন করে দিতে পারেন।

কাজেই,

যুদ্ধবন্দিদের দাস-দাসি বানানো একটি প্রচলিত পন্থা ছিল যা ইসলামের কোন বাধ্যতামূলক বা অপরিহার্য নির্দেশ তো নয়ই, কোন আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ও নয়, বরং অনেকগুলো অনুমোদিত পন্থার একটি মাত্র। যদি ইসলামি রাষ্ট্রনায়ক কোন কারণবশতঃ পঞ্চম পন্থাটি অবলম্বন করেন, সেক্ষেত্রে বণ্টিত হবার পর একজন যুদ্ধবন্দিনী একজন ক্রীতদাসি হিসেবে পরিগণিত হবেন।

১.২ কেন এর অনুমোদন?

ইসলাম যদিও স্বাধীন ব্যক্তির বেচাকেনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মাধ্যমে ক্রীতদাসপ্রথার মূল উৎস বন্ধ করে দিয়েছে, দাসমুক্তির নানাবিধ পথ উন্মুক্ত করেছে কিন্তু যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসী বানানোর এই পথটি বন্ধ করেনি। কেন?

১.২.১ ইসলাম একটি বাস্তব ধর্ম। একগালে চড় খেলে আরেক গাল পেতে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। ইসলামে যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো কোন জরুরী বিষয় না হলেও যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো তখনকার সময়ে একটি প্রচলিত নিয়ম ছিল। যুদ্ধে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হতো। যতদিন পর্যন্ত মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হবার সম্ভাবনা দূর না হয়, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য অমুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানোর সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজ অনুসারীদের নিশ্চিত বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ইসলাম কিছুতেই নিতে পারে না। তবে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত দ্বার বন্ধ করার চাবি অমুসলিমদের হাতেই রয়েছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সাথে মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি না বানানোর চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত পথটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।

১.২.২ মুক্তিপণ বা বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তকরণের পরও যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবন্দি রয়ে যেত, তাদের নি:শর্তভাবে মুক্ত করে দেওয়া ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য যেমন হুমকিস্বরূপ ছিল, তেমনি কারাবন্দি করে রাখাও ছিল ব্যয়বহুল ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ। সহজ পন্থা ছিল প্রচলিত নিয়মে ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হিসেবে তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া।

১.২.৩ যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হিসেবে বিভিন্ন পরিবারে বণ্টন করে দেবার ফলে একদিকে যেমন সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকতো, অন্যদিকে মুনিবের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ করে ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি নিজেদের মুক্ত করার সুযোগও পেত। অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে খুব কাছে থেকে ইসলামকে পর্যবেক্ষণ করে ইসলামে দাখিল হবার একটি সুযোগও তাদের সামনে খোলা থাকতো।

 

দুই.

ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনী সংক্রান্ত কিছু কুরআনের আয়াত

ক্রীতদাসিদের (ক্রয়কৃত/অধিকারলব্ধ দাসি বা বণ্টনকৃত যুদ্ধবন্দিনী) জন্য কুরআনে ব্যবহৃত সাধারণ পরিভাষা হচ্ছে “মা- মালাকাত আইমানুকুম” বা “তোমাদের ডান হাতের মালিকাধীন/মালিকানাভুক্ত”। নিচে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনী সংক্রান্ত কিছু কুরআনের আয়াত বা আয়াতের প্রাসঙ্গিক অংশের অনুবাদ তুলে ধরা হলো:  

 

আয়াতসূত্র-১: কেবল মুনিবের জন্য নিজ ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্কের অনুমোদন

তবে তাদের স্ত্রী ও ডান হাতের মালিকানাভুক্তদের (দাসীদের) ক্ষেত্রে [যৌনাঙ্গকে]  সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। [২৩:৬]

নোট: এই অনুমোদন নি:শর্ত নয়, পুরো পোস্টটি পড়ার পর এই অনুমোদনের ক্ষেত্র ও যৌক্তিকতা বুঝা যাবে।

আয়াতসূত্র-২: বিবাহিত যুদ্ধবন্দিনীদের পূর্বেকার বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ধরা হবে। 

এবং [তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ] বিবাহিত নারী তারা ব্যতিত যারা তোমাদের ডান হাতের মালিকাধীন। [৪:২৪, প্রাসঙ্গিক অংশ]

নোট: স্বামী ছাড়া যেসব বিবাহিত নারী যুদ্ধবন্দিনী হয় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজন্য, স্বামীসহ ধৃত হলে বিবাহ অক্ষুন্ন থাকে, দ্রষ্টব্য: সূত্র-৯]

 

আয়াতসূত্র-৩: অন্যের ক্রীতদাসিকে মুনিবের অনুমতিক্রমে বিবাহের অনুমোদন

আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না।  [প্রাসঙ্গিক অংশ, ৪:২৫]

 

আয়াতসূত্র-৪: দাসীদের বিবাহ প্রদানের নির্দেশ

তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও।  [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩২]

 

আয়াতসূত্র-৫: দাসীদের পতিতাবৃত্তিতে নিযুক্ত করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩৩]

 

তিন.

সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস, ফাতাওয়া ও আইন

সূত্র-১ (হাদিস)

আবু সাঈদ আল খুদরি (রা.) আওতাসে ধৃত যুদ্ধবন্দিদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত এরশাদ বর্ণনা করেন: গর্ভবতী নারীর সাথে সঙ্গম করো না যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে এবং যে নারী গর্ভবতী নয় তার সাথে (সঙ্গম) করো না যতক্ষণ না তার একটি ঋতুচক্র সম্পন্ন হয়। [ সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৫৭ ]

সূত্র-২ (হাদিস)

রুওয়াইফি ইবনে সাবিত আল আনসারি হতে বর্ণিত: আমি কি তোমাদেরকে বলবো না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুনাইনের দিনে যা বলতে শুনেছি: “আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় অন্যের ফসলে পানি দেওয়া (অর্থাৎ কোন গর্ভবতী নারীর সাথে সঙ্গম করা)। এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় কোন যুদ্ধবন্দিনী নারীর সাথে সঙ্গম করা যতক্ষণ না এটা প্রতিষ্ঠিত হয় যে সে গর্ভবতী নয়। এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় বণ্টন হবার আগে গণিমতের কোন মাল বিক্রয় করা।” [ সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৫৮ ]

সূত্র-৩ (হাদিস)

হারুন ইবনুল আসিম বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব(রা.) খালিদ বিন ওয়ালিদ(রা.)-কে সৈন্যবাহিনীসহ প্রেরণ করেন এবং খালিদ (রা.) সৈন্যদলসহ জিরার ইবনুল আযওয়ারকে প্রেরণ করেন, আর তারা আসাদ গোত্রের একটি এলাকা দখল করেন। তারা একটি সুন্দরী নারীকে বন্দি করেন এবং জিরার তার প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি তার সঙ্গীদের  থেকে তাকে (নারীটিকে) চাইলেন, তারা দিয়ে দিল এবং তিনি তার সাথে সঙ্গম করলেন। উদ্দেশ্য পূর্ণ হবার পর কৃতকর্মের জন্য তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং খালিদ(রা.)এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে বললেন। খালিদ(রা.) বললেন, অবশ্যই আমি তোমার জন্য এর অনুমোদন ও বৈধতা প্রদান করছি। জিরার বললেন, “না, উমরকে চিঠি না পাঠানো পর্যন্ত নয়।” উমর উত্তরে লিখলেন, তাকে রজম (প্রস্তারাঘাতে হত্যা) করতে হবে। কিন্তু চিঠি পৌঁছবার আগেই জিরার ইন্তেকাল করলেন। খালিদ(রা.) বললেন, “আল্লাহ জিরারকে অপমানিত করতে চাননি।” [সূত্র: বায়হাকি’র সুনান আল কুবরা, হাদিস নং ১৮৬৮৫]

লক্ষ্য করুন:

৩.৩.১ খলিফা বা খলিফা হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক বণ্টন হবার আগে যুদ্ধবন্দিনীর সাথে সহবাস করা যে অবৈধ সেটা সুবিদিত ছিল।

৩.৩.২ উক্ত কর্মটিকে ব্যভিচার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কেননা, উমর(রা.) এক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে ব্যভিচারের হদ নির্ধারণ করেছেন।

 

সূত্র-৪ (হাদিস)

আমর বিন সুহাই’ব তার পিতার বরাতে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যখন তোমাদের কেউ তার ক্রীতদাসের সাথে তার ক্রীতদাসির বিবাহ দেয়, তার (ক্রীতদাসির) গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো তার (মুনিবের) জন্য উচিত নয়। [সূত্র: সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪১১৩]

 

সূত্র-৫ (ফাতাওয়া)

মালিক (রহ.) বলেন যে, যদি কোন পুরুষ তার মালিকাধিন একজন ক্রীতদাসির সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত থাকে, অতঃপর সে তার (ক্রীতদাসির) বোনের সাথেও সম্পর্কে জড়িত হতে চায়, উক্ত বোন পুরুষটির জন্য হালাল নয় যতক্ষণ না (প্রথমোক্ত) ক্রীতদাসির সাথে তার সহবাস হারাম হয়ে যায়- বিবাহ, মুক্তকরণ, কিতাবা অথবা অনুরূপ কোন ঘটনার দ্বারা, যেমন যদি সে যদি তাকে (অর্থাৎ প্রথমোক্ত ক্রীতদাসিকে) তার ক্রীতদাসের সাথে বা অন্য কারো সাথে বিবাহ প্রদান করে। [সূত্র: মুয়াত্তা মালিক: বুক ২৮, হাদিস নং- ১১২৯

সূত্র-৬ (হাদিস/ফাতাওয়া)

ইয়াহইয়া মালিক হতে তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হতে এবং তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব হতে বলেন, “কোন নারীকে তার ফুপু বা খালার সাথে একই সাথে বিবাহাধীনে রাখা নিষিদ্ধ এবং অন্য পুরুষের সন্তান গর্ভে ধারণকারি কোন ক্রীতদাসির সাথে সহবাস করা নিষিদ্ধ। [সূত্র: মুয়াত্তা মালিক: অধ্যায় ২৮, হাদিস নং-১১১৫]

সূত্র-৭ (ফাতাওয়া)

মালিক (রহ.) বলেন, “মুনিবের জন্য মালিকানা বলে খ্রিস্টান ও ইহুদি ক্রীতদাসি হালাল, কিন্তু মালিকানা বলে  মাজুসি (magian) ক্রীতদাসির সাথে সহবাস হালাল নয়।” [মুয়াত্তা মালিক, ইংরেজি অনুবাদের বুক নং ২৮, হাদিস নং ৩৮]

সূত্র-৮ (হাদিস)

নুমান ইবনে বশির হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে তার স্ত্রীর ক্রীতদাসির সাথে সহবাস করেছিল: যদি সে (অর্থাৎ স্ত্রী) তাকে (অর্থাৎ ক্রীতদাসিকে) তার (অর্থাৎ তার স্বামীর) জন্য হালাল করে থাকে, তাকে (পুরুষটিকে) একশ বেত্রাঘাত করা হবে; আর যদি সে তাকে তার জন্য হালাল না করে থাকে, আমি তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। [সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৪৫৯]

 

সূত্র-৯ (আইন গ্রন্থ)

“When the army takes a woman captive followed by her husband who is also taken captive sooner or later and either the woman does not have menses during that period or has had upto three menses but she is not taken out of the Territory of War before her husband is taken, their marriage shall continue. Whosoever of the two is taken captive and brought to the Territory of Islam before the other, their marriage shall cease to exist”

[সূত্র:Chapter II :The Army’s Treatment of the Disbelievers, passage 45, The Shorter Book on Muslim International Law, translated by Mahmood Ahmad Ghazi, মূল: কিতাবুস সিয়ার আস সাগির,  লেখক: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ শায়বানী ]

সূত্র-১০ (হাদিস)

আবু মুসা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামম বলেন, “যার কোন ক্রীতদাসি আছে এবং সে তাকে শিক্ষাদীক্ষা দেয়, তার সাথে সদ্ব্যবহার করে, অতঃপর তাকে মুক্তি প্রদান করে বিবাহ করে, সে দ্বিগুন সওয়াব পাবে।” [সূত্র: বুখারি, অধ্যায় ৪৬, হাদিস নং-৭২০]

সূত্র-১১ (হাদিস)

ইয়াহইয়া মালিক হতে বর্ণনা করেন, তিনি শুনেছেন যে উমর ইবনুল খাত্তাব(রা.) তাঁর ছেলেকে একজন ক্রীতদাসি দান করে বলেন, “তাকে স্পর্শ করো না, যেহেতু আমি তাকে উন্মোচণ করেছি।” [সূত্র: মুয়াত্তা মালিক, অধ্যায় ২৮, হাদিস নং ১১৩০]

সূত্র-১২

উমর (রা.) বলেন, “তার (ক্রীতদাসির) সন্তান তাকে মুক্ত করে যদিও তা মৃত হয়” [সূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ২১৮৯৪]

সূত্র-১৩

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন কোন ব্যক্তির ক্রীতদাসি তার সন্তান ধারণ করে, সে তার(মুনিবের) মৃত্যুর পর স্বাধীন হয়ে যায়।” [সূত্র: তিরমিযি, হাদিস নং- ৩৩৯৪]

 

সূত্র-১৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা তোমাদের সন্তান গর্ভধারিণী ক্রীতদাসিকে বিক্রয় করো না।”  [তাবারানি’র মু’যাম আল কাবির, হাদিস নং-৪১৪৭]

 

 

চার.

ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্কের পন্থা

৪.১

৪.১.১ বৈবাহিক পন্থা

৪.১.১.১ নিজ ক্রীতদাসিকে বিবাহ করা: দাসত্বে থাকা অবস্থায় নিজ ক্রীতদাসিকে বিবাহ করা যায় না। কোন মুনিব যদি নিজ ক্রীতদাসিকে বিবাহ করতে চায়, তবে তাকে মুক্ত করে বিবাহ করতে হবে। অর্থাৎ আগে তাকে স্বাধীন করতে হবে, অতঃপর স্বাধীন নারী হিসেবে তাকে বিবাহ করতে হবে। এই ধরণের বিবাহকে ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-১০]

৪.১.১.২. অন্যের ক্রীতদাসিকে বিবাহ করা: অন্যের ক্রীতদাসিকে মালিকের অনুমতিক্রমে বিবাহ করা যায়। [দ্রষ্টব্য: আয়াতসূত্র-৩]

২. অবৈবাহিক বা উপবৈবাহিক পন্থা (concubinage): এই পন্থা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা আসছে। তার আগে আমরা উপপত্নী (concubine) এবং উপবৈবাহিক বন্ধন (concubinage) সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করব।

 

৪.২

উপপত্নী ও উপবৈবাহিক বন্ধন:

৪.২.১ উপবৈবাহিক বন্ধনের (concubinage) ইসলামপূর্ব প্রচলন [সূত্র: উইকিপিডিয়া]

কুরআন অবতরণের অনেক আগে থেকেই উপপত্নী গ্রহণ করা সামাজিক ভাবে স্বীকৃত একটি বিষয় ছিল।

৪.২.১.১ প্রাচীন গ্রিসে,  উপপত্নী (গ্রিক "pallakis") রাখার প্রচলনের কথা সামান্য লিপিবদ্ধ থাকলেও এথেনিয়ান ইতিহাস জুড়েই তা বিদ্যমান ছিল। hetaera এর কিছু ব্যাখায় বলা হয়, তারা ছিল উপপত্নী যাদের কোন একজন পুরুষের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক ছিল।

৪.২.১.২ প্রাচীন রোমে ‘উপবিবাহ’ ছিল একটি প্রচলিত প্রতিষ্ঠান যা একজন পুরুষকে স্ত্রীভিন্ন এমন একজন নারীর (concubina, বহুবচনে concubinae) সাথে একটি অলিখিত কিন্তু স্বীকৃত বন্ধনে আবদ্ধ হবার অনুমতি প্রদান করে, যার নিচু সামাজিক মর্যাদা বিবাহের জন্য প্রতিবন্ধক ছিল। ধর্মীয় এবং পারিবারিক সংহতির জন্য হুমকিস্বরূপ না হওয়া অবধি ‘উপবিবাহ’ গ্রহণযোগ্য ছিল। “concubina” বলে পরিচিত হওয়াকে অসম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হতো না, কেননা এই উপাধি প্রায়ই সমাধিপ্রস্তরে খোদিত থাকতো।

৪.২.১.৩ প্রাচীন চীনে, সফল পুরুষরা প্রায়ই একাধিক উপপত্নী প্রতিপালন করতেন- চৈনিক সম্রাটগণ রাখতেন হাজার হাজার।

৪.২.২ উপপত্নী সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

৪.২.২.১ কোন স্বাধীন নারীকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণের কোন সুযোগ ইসলামে নেই।

৪.২.২.২  কিন্তু সমাজে দাসপ্রথা বিদ্যমান থাকলে  নিজ ক্রীতদাসিকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণের অনুমতি ইসলামে রয়েছে (বণ্টনকৃত যুদ্ধবন্দিনীও ক্রীতদাসি হিসেবে পরিগণিত)। যে ক্রীতদাসির সাথে তার মুনিব শারিরিক সম্পর্ক স্হাপন করে, সে অন্যান্য ক্রীতদাসি থেকে ভিন্ন হয়ে যায়। এ ধরণের ক্রীতদাসিকে বলা হয় সারিয়্যাহ বা উপপত্নী। আরবী সারিয়্যাহ শব্দটি ‘সির’ হতে আগত যার অর্থ বিবাহ। উপপত্নীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারি পুরুষের কোন বৈবাহিক চুক্তি সম্পাদিত হয় না, কিন্তু সামাজিকভাবে স্বীকৃত এমন একটি বৈধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় ইসলাম যার অনুমোদন প্রদান করে।

 

৪.৩ ইসলামে উপপত্নী ও স্ত্রীর সাদৃশ্য

ইসলামে উপপত্নী অনেকদিক দিয়েই স্ত্রীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপপত্নী সংক্রান্ত অনেক বিধানই স্ত্রীর বিধানের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। নিচে কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরা হলো:

৪.৩.১ নিজের স্ত্রীর জন্য যেমন স্বামী ভিন্ন অন্য কারো সাথে শারিরিক সম্পর্ক বৈধ নয়, তেমনি উপপত্নী ক্রীতদাসির জন্য মুনিব ভিন্ন অন্য কোন পুরুষের সাথে শারিরিক সম্পর্ক বৈধ নয়। অর্থাৎ স্ত্রী এবং উপপত্নী উভয়েই একইসাথে কেবলমাত্র একজন পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক রাখতে পারে।

৪.৩.২ কোন পুরুষ বিবাহ-বহির্ভূতভাবে কোন স্বাধীন নারীর সাথে যেমন দৈহিক সম্পর্ক রাখতে পারে না, তেমনি নিজ মালিকাধীন ক্রীতদাসি ভিন্ন অন্য কোন নারীকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। এমনকি নিজ স্ত্রীর মালিকাধীন ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনকেও ব্যভিচার হিসেবে গন্য করা হয়। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৮]

৪.৩.২ একই সাথে দুই সহোদর বোনকে যেমন বিবাহ করা যায় না, তেমনি একই সাথে দুই সহোদর ক্রীতদাসিকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৫]

৪.৩.৩ পিতার উপপত্নী ক্রীতদাসির অবস্থান সন্তানদের জন্য নিজের মায়ের মতো। পিতার উপপত্নী ক্রীতদাসি পুত্রের জন্য সেরকমভাবেই হারাম যেভাবে তার আপন মা তার জন্য হারাম। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-১১]

৪.৩.৪ নিজ স্ত্রীর সন্তান যেমন বৈধ ও স্বীকৃত, তেমনি উপপত্নী ক্রীতদাসির সন্তান ও বৈধ এবং স্বীকৃত।

৪.৩.৫ উপপত্নী ক্রীতদাসির সন্তান, স্ত্রীর সন্তানের মতোই মুক্ত সন্তান হিসেবে পরিগণিত হয়।

৪.৩.৬ উপপত্নী ক্রীতদাসির সন্তান স্ত্রীর সন্তানদের মতোই পিতার সম্পত্তির উত্তারাধিকারী।

 

পাঁচ.

ক্রীতদাসি এবং যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে ইসলামী নিয়ন্ত্রণ

৫.১ বণ্টন হবার আগে কোন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ

অনেকেই ভেবে থাকেন, যুদ্ধের ময়দানেই যে কোন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যে কোন মুসলিম যোদ্ধা ইচ্ছেমতো দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, ইসলামে এ ব্যাপারে কোন বাধা-নিষেধ তো নেই-ই, বরং এটিই সম্ভবত ইসলামী নিয়ম। এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। যুদ্ধক্ষেত্রে তো নয়ই এমন কি যুদ্ধ শেষ হলেও বন্টন হবার আগে কোন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্হাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ যদি এ ধরণের কোন কার্যে লিপ্ত হলে তবে সেটাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয় এবং উক্ত ব্যক্তির ওপর ব্যভিচারের হদ প্রযুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ, জিরার ইবনুল আযওয়ার খলিফা/খলিফা পক্ষ হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক বণ্টনের আগেই একজন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে সহবাস করার কারণে উমর(রা.) তার ওপর ব্যভিচারের হদ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৩]

৫.২ যুদ্ধক্ষেত্রে স্বামীসহ ধৃত যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ

বন্দি হবার পর সাধারণভাবে বিবাহিত যুদ্ধবন্দিনীর পূর্বেকার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে তাদেরকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করা তথা তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ বিবেচিত হয়। [দ্রষ্টব্য: আয়াতসূত্র-২] যদি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েই একসাথে অথবা একজনকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধির বাইরে নিয়ে যাবার আগেই অন্যজন যুদ্ধবন্দি/বন্দিনী হিসেবে ধৃত হয়, সেক্ষেত্রে তাদের বিবাহ-বন্ধন অক্ষুন্ন থাকবে, ফলে উক্ত যুদ্ধবন্দিনীর সাথে স্বামী ভিন্ন অন্য কারো দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন অবৈধ হবে। যদি শুধুমাত্র একজন যুদ্ধক্ষেত্রে ধৃত হয়ে ইসলামী সীমানায় পৌঁছে যায়, সেক্ষেত্রে তাদের বিবাহ বন্ধন বিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হবে। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৯]

৫.৩ ইদ্দতকাল অতিবাহিত হবার আগে ক্রীতদাসি/যুদ্ধবন্দিনীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ

ক্রীতদাসি ক্রয় করলেই বা বন্টনকৃত যুদ্ধবন্দিনী লাভ করার সাথে সাথেই একজন মুসলিমদের জন্য তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন বৈধ হয়ে যায় না, বরং এক ইদ্দতকাল (তথা একটি মাসিক চক্র) অতিবাহিত হবার আগে তাদের সাথে মিলিত হওয়া নিষিদ্ধ। [এই নিয়ম সেসব ক্রীতদাসি/যুদ্ধবন্দিনীদের জন্য যারা গর্ভবতী নন] [ দ্রষ্টব্য: সূত্র-২]

৫.৪ গর্ভবতী ক্রীতদাসি/যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

ক্রয়কৃত ক্রীতদাসি বা বন্টনকৃত যুদ্ধবন্দিনী যদি গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসবের আগে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা নিষিদ্ধ। [ দ্রষ্টব্য: সূত্র-১, সূত্র-২]

৫.৫ বিবাহিত ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

যদি মুনিবের অনুমতিক্রমে কোন ক্রীতদাসি অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, সেক্ষেত্রে মুনিবের জন্য উক্ত ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক তো বটেই এমনকি যৌনাঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাত করাও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৪]

৫.৬ যে ক্রীতদাসির সাথে মুনিবের দৈহিক সম্পর্ক রয়েছে তার বোনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা

যদি সহোদর দুই বোন কোন ব্যক্তির ক্রীতদাসি হিসেবে থাকে, মুনিব কোন একজনের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িত থাকা অবস্থায় অন্য জনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৫]

৫.৭ নিজ মালিকাধীন নয় এমন ক্রীতদাসির সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিষিদ্ধ

নিজের মালিকাধীন ক্রীতদাসি ব্যতিত অন্য কারো ক্রীতদাসির সাথে বিবাহ-বহির্ভূত দৈহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ (এমনকি নিজের স্ত্রীর ক্রীতদাসির সাথেও) এবং তা ব্যভিচার হিসেবে পরিগণিত। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-৮]

 

ছয়.

ক্রীতদাসির সাথে মুনিবের দৈহিক সম্পর্ককে অনুমোদনের যৌক্তিকতা

৬.১ ক্রীতদাসির জৈবিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিতকরণ

ইসলামে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌন চাহিদার স্বীকৃতি এবং তা পূরণের বৈধ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইভাবে ক্রীতদাসদাসিদের যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ ব্যবস্থাও ইসলামে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ক্রীতদাসিকে পতিতাবৃত্তিতে নিযুক্ত করার মতো ঘৃণ্য প্রথাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। নিজ ক্রীতদাসিকে শিক্ষদীক্ষা দিয়ে মুক্ত করে বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু কোন কারণে মুনিব যদি ক্রীতদাসিকে মুক্ত করতে অপারগ হয় সেক্ষেত্রে হয়তো তাকে নিজের সাথে জৈবিক বন্ধনে আবদ্ধ রাখবে (উপপত্নী হিসেবে) অথবা অন্য কারো বিবাহাধীনে দিয়ে দেবে। অর্থাৎ যে কোন অবস্থায় ক্রীতাদাসির জৈবিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রীতদাসিকে বিবাহ প্রদানের মাধ্যমেই যেখানে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ সম্ভব ছিল সেখানে মুনিবের জন্য ক্রীতাদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার বহাল রাখার যৌক্তিকতা কী ছিল? এ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

৬.২ মুনিবের সাথে দৈহিক সম্পর্ক অনুমোদনের যৌক্তিকতা

মনে রাখতে হবে ইসলাম ক্রীতদাসির সাথে মুনিবের দৈহিক সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটায়নি, বরং দাসপ্রথায় যেখানে ক্রীতদাসি যৌনপণ্যর মতো যার ইচ্ছে তার উপভোগের সামগ্রী ছিল, ইসলাম সেটাকে একজন মাত্র পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। সেই পুরুষ হয়তো তার মুনিব অথবা তাকে বিবাহকারী স্বামী।  একজন ক্রীতদাসির জন্য অন্য কোন পুরুষকে বিবাহ করার চেয়ে নিজ মুনিবের সাথে দৈহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুবিধা হচ্ছে:

৬.২.১ সন্তানের মুক্তি

৬.২.১.১ দাসপ্রথা অনুসারে একজন মুনিবের ক্রীসদাসির সন্তান (যে উক্ত মুনিবের ঔরসজাত নয়, ক্রীতদাসির স্বামীর সন্তান) উক্ত মুনিবের ক্রীতদাস হিসেবে গণ্য হয়।

৬.২.১.২ কিন্তু ক্রীতদাসির সন্তান যদি মুনিবের ঔরসজাত হয়, তবে সে উক্ত মুনিবের সন্তান হিসেবে গণ্য হয়। ফলে সে সন্তান স্বাধীন ও পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

৬.২.২ ক্রীতদাসির সামাজিক মর্যাদা ও মুক্তির সুযোগ

আমরা আগেই দেখে এসেছি, ইসলামে মুনিবের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনকারি ক্রীতদাসি তথা উপপত্নী অনেকটাই তার স্ত্রী-সদৃশ। ইসলাম মুনিবের সন্তানধারণকারি ক্রীতদাসির সামাজিক মর্যাদাকে নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে তার মুক্তির একটি পথকেও উন্মুক্ত করেছে:

৬.২.২.১ ক্রীতাদাসি মুনিবের সন্তান গর্ভে ধারণ করার সাথে সাথে মুনিবের জন্য উক্ত ক্রীতদাসিকে বিক্রয় করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে উক্ত ক্রীতদাসি মুনিবের পরিবারের স্থায়ী সদস্যে পরিণত হয়। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-১৪]

৬.২.২.২ ক্রীতদাসি মুনিবের সন্তান প্রসব করলে (জীবিত অথবা মৃত) উক্ত ক্রীতদাসি ‘উম ওয়ালাদ’ বা ‘সন্তানের মা’ হিসেবে অভিহিত হয়। সেই সন্তান মুনিবের বৈধ, স্বাধীন সন্তান হিসেবে পরিগণিত হয় এবং পিতার সম্পত্তির ঠিক সেরকম উত্তরাধিকার পায় যেরকম স্ত্রী’র সন্তানরা পেয়ে থাকে।

৬.২.২.৩ মুনিবের মুত্যুর পর ‘উম ওয়ালাদ’ ক্রীতদাসি মুক্ত হয়ে যায়। [দ্রষ্টব্য: সূত্র-১২, সূত্র-১৩]

কাজেই, দেখা যাচ্ছে ক্রীতদাস প্রথায় ক্রীতদাসির ওপর অনিয়ন্ত্রিত যে যৌনাচারের সুযোগ ছিল, ইসলাম সেটাকে নিয়ন্ত্রিত, মানবিক করে তুলে প্রচলিত উপবৈবাহিক বন্ধনের মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়ে –

একদিকে ক্রীতদাসির সন্তানকে মুক্ত, বৈধ ও পিতার সম্পত্তির উত্তারিধারী হবার সুযোগ দিয়েছে,

অন্যদিকে ক্রীতদাসিকে দিয়েছে একটি পারবারিক ঠিকানা ও মুক্তির পথ।

পরিশেষ:

সমালোচনা করাই যাদের লক্ষ্য তারা সমালোচনা করবেই, কিন্তু চিন্তা ও উপলদ্ধির দ্বার যারা এখনো বন্ধ করেন নাই আশা করি লেখাটি পড়ে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি সম্পর্কে তাদের অনেক ভুল ধারণারই অবসান ঘটবে ইনশাআল্লাহ।

৫৭ comments

Skip to comment form

  1. 29
    mahfuz08

    @ সাদাত :

    ইসলাম বিদ্দেষীরা বর্তমানে কাজের বুয়া আর হযরত মুহাম্মদ সা. -এর যুগের দাসিদের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে পায় না বরং দুটি বিষয়কে একই বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে।

     

    আপনার মতে বর্তমানে কাজের বুয়া  ও প্রাচিন যুগের দাসি এই দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য কি?

     

    1. 29.1
      সাদাত

      @mahfuz08:

      পোস্টটা একটু বড় হয়ে গেছে, ঠিক আছে। কিন্তু পোস্ট পাবলিশ করার পর তো অনেক দিন হয়ে গেল। পোস্টটা ভালো করে পড়লে এমন প্রশ্ন তো কারো মনে উদয় হবার কথা না। কাজের বুয়া হচ্ছে স্বাধীন, বেতনভোগী কর্মচারী। তার সাথে ক্রীতদাসির পার্থক্য তো আসমান আর জমিন। 

  2. 28
    এস. এম. আলম

    আসসালামুআলাইকুম,

    সাদাত ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে৷ প্রায় দু-সপ্তাহ ধরে বিমর্ষ ছিলাম৷ কিছুদিন আগেই একজনের সাথে অনলাইন বিতর্ক হচ্ছিল এবং সেই সময়ে সেই ব্যক্তিটি একজন মুসলিম নামধারী নাস্তিকের দেওয়া হাদিস ও কোরানের উধৃতি সহ এই বিষয়টিকেই তুলে ধরেছিল আমার সামনে৷ বিষয়টির উত্থাপন এতটা কদর্য ছিল যে আমার অন্তর কেঁদে উঠেছিল৷ কিন্তু আমার কাছে সেই মূহুর্তে কোনো উত্তর ছিল না৷ তারপর আমার পরিচিত আলেমদের থেকে অনেক উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি৷ কিন্তু সঠিক উত্তর পাইনি৷ আজ ঘটনাক্রমে আপনার পোষ্টটি পড়লাম৷ আলহামদুলিল্লাহ৷ আল্লাহপাক আমাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিলেন৷ এই পোষ্টটি বহু নিন্দুকের মুখে ঝামা ঘষে দেবে -- ইনশাআল্লাহ৷ আপনার কাছে আমি ঋণী রইলাম৷ দোআ করি আল্লাহ আপনাকে অনেক কামিয়াবী দান করুন এবং এই লেখাটি আপনার নামা-এ-আমাল এ উজ্জ্বল হীরের মত দ্যুতিপূর্ণ হয়ে থাকুক৷ -- আমীন 

  3. 27
    সাদাত

    কুরআন অনুসারে বিবাহ ব্যতিত যাদের সাথে মিলন বৈধ:

    (৭০:২৯-৩১)

    29.
    And those who guard their private parts

    30.
    Except from their wives or those their right hands possess, for indeed, they are not to be blamed --

    31.
    But whoever seeks beyond that, then they are the transgressors --

     (২৩:৫-৭)

    5.
    And they who guard their private parts

    6.
    Except from their wives or those their right hands possess, for indeed, they will not be blamed --

    7.
    But whoever seeks beyond that, then those are the transgressors --

    (৩৩:৫০)

    O Prophet, indeed We have made lawful to you your wives to whom you have given their due compensation and those your right hand possesses from what Allah has returned to you [of captives] and the daughters of your paternal uncles and the daughters of your paternal aunts and the daughters of your maternal uncles and the daughters of your maternal aunts who emigrated with you and a believing woman if she gives herself to the Prophet [and] if the Prophet wishes to marry her, [this is] only for you, excluding the [other] believers. We certainly know what We have made obligatory upon them concerning their wives and those their right hands possess, [but this is for you] in order that there will be upon you no discomfort. And ever is Allah Forgiving and Merciful.

     

    1. 27.1
      mahfuz08

      সাদাত ভাই, এটাতো বাংলা ব্লগ। কাজেই ইংরেজি বা অন্য কোন ভাষায় কোটেশন দিলে সেটা আবার সাথে সাথে বাংলা অনুবাদও দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

  4. 26
    Masum Billah

    চমৎকার একটি লেখা। অনেক অজানা বিষয় জানা হল। অনেকদিন ধরে এই ধরনের একটি লেখা খুজতেছিলাম। লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।

  5. 25
    সাদাত

    Sotto সাহেব,

    আপনি কি আমার কথা বুঝেন নাই।

    মুনিম ভাইয়ের প্রশ্ন উন্মুক্ত হতে পারে কিন্তু "কোরান-অনলি" বিভাগ সিলেক্ট করা না থাকলে আমার কোন পোস্ট আপনার জন্য উন্মুক্ত নয়। শুধু শুধু এই পোস্টে কমেন্ট করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না, আমারও সময় নষ্ট করবেন না। 

    মুনিম ভাই, দুঃখিত, sotto সাহেবকে দেওয়া reply মুছে দিতে হলো, যেহেতু মূল কমেন্টটাই মুছে দিয়েছি।

    1. 25.1
      মুহাম্মদ হাসান

      সাদাত ভাই,

      sotto একটা বাচাল প্রকৃতির লোক । একই কথা বারবার বলেন । উনার পেছনে আমিও অনেক সময় নষ্ট করেছি । উনার পেছনে আবার সাফাই গাইবারও একজন আছে যিনি নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে করেন । 

      আপনার সাথে কেবলমাত্র কুরআন-অনলি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, অন্য কোন বিষয়ে নয়।

      শতভাগ একমত । অন্য যেকোন বিষয়ে কমেন্ট করলে সেটা বিনা নোটিশে ডিলিট করার জন্য সবাইকে(যারা কুরআন এবং হাদিসকে মানেন) অনুরোধ করছি । কারনঃ

      ১। উনি এক পোস্টের মধ্যে আরেক পোস্টের আলোচনা ঠুকিয়ে দেন যারফলে অরিজিনাল পোস্টের মূলভাব অন্য দিকে চলে যায় ।

      ২। উনি প্রশ্ন করেন এমনভাবে যেন মনে হয় উনি আসলেই ঐ বিষয়টার ব্যাপারে জানতে চায় কিন্তু আসলে উনি উনার আহলে কুরআনের এজেন্ডা প্রচারের উদ্দ্যেশেই প্রশ্ন করেন । 

      ৩। যে সময় ব্যয় করে আমরা উনার জন্য উত্তর লেখি সেই সময় ব্যয় করলে অন্য একটা নতুন বিষয়ে লেখা সম্ভব । 

      1. 25.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        রায়হান ভাই বলেন আমার অনুমান নাকি ভুল হয়ে থাকে।  এই অনুমানও ভুল হোক তা আমি চাই। আমার অনুমান এই সত্য নিকটির পিছনে আমাদের এক সময়ের সহযোদ্ধা আমাদের মুরাদভাই। যিনি এক সময় আমাদের সাথে কাধে কাধে মিলিয়ে এন্টি ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। হঠাৎ করে উনার ফারুক ভাইয়ের থেরাপি কাজ করা শুরু করে, এরপ[র থেকে তিনি আমাদের থেকে দূরে সরে গেলেন, এমন করে গেলেন ব্যক্তিগত ইমেল ফোনালাপ পর্যন্ত বন্ধ করে দিলেন! কুরান অনলিদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোন এলার্জি নেই। তারা যদি তাদের বুঝকে সত্য বলে ধরে মেনে চলেন তার জাবাব তাদেরকে দিতে আমাকে নয়। আমি যদি হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান নাস্তিকদের সাথে বন্ধুত্ব সামজিকতা বজায় রাখতে পারি তাহলে কলেমার অংশিদার তাদের সাথে কেন রাখতে পারবোনা। তারা কি বলে তা আমি শুনতে পারি কিন্তু গিলা না গিলা আমার ব্যক্তিগত বিষয়।  তাই সবার বক্তব্য রাখার অধিকার দেয়া উচিত যা করতে পারি তা হচ্ছে ইগ্নোর! ধন্যবাদ।

        1. 25.1.1.1
          সাদাত

          মুনিম ভাই, এটা এলার্জির বিষয় নয়, বন্ধুত্ব বা সামাজিকতার বিষয়ও নয়। যেহেতু তাদের সাথে মতবিরোধ হচ্ছে মৌলিক বিষয়ে সুতরাং আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক সে বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য না থাকলে শাখাগত বিষয়ে তর্ক করা অনর্থক। 

        2. 25.1.1.2
          মুহাম্মদ হাসান

          মুনিম ভাই,

          তাই সবার বক্তব্য রাখার অধিকার দেয়া উচিত যা করতে পারি তা হচ্ছে ইগ্নোর! 

          ধান ক্ষেতে যখন আগাছা হয় তখন শুধু ignore করলেই হয় না আগাছা কেটে ফেলতে হয় তানাহলে পুরো ধান ক্ষেতটি ক্ষতির সম্মুখীন হয় । আর এরকম আগাছা থাকলে অনেকের ক্ষতির আশংকা থাকে যেমনটি আপনি বলেছেন যে উনি "কাধে কাধে মিলিয়ে এন্টি ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন" কিন্তু পরে "ফারুক ভাইয়ের থেরাপি কাজ করা শুরু করে" । এই থেরাপি যে আর কারো মধ্যে কাজ করবে না সেটা বলা মুশকিল । আর এই থেরাপি sotto এর দ্বারা সদালাপে ছড়িয়ে পড়ুক সেটা কাম্য হওয়ার কথা না । তাই আগাছা না থাকাই ভাল । যারা ইসলামকে জানার এবং বুঝার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য এসব আগাছাদের লেখা পড়ে বিভ্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে । আশা করি বুঝতে পারছেন ইনশাআল্লাহ্‌ । 

        3. কিংশুক

          শিয়াদের যেমন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা:, সাহাবা রা: গণের বিষয়ে চরম মিথ্যা, বেয়াদবি মূলক নিফাকি মনোভাবের কারনে কোন ক্রমেই সহ্য করা সম্ভব না তেমনি কুরআন অনলিদের হাদিস সংকলক, সালফে সালেহিন, জগত বিখ্যাত আলেমগণের বিষয়ে মিথ্যা প্রচারনার কারনে সহ্য করা সম্ভব না। কোরআনের তাফসির, হাদিসের বিষয়ে কিছু জ্ঞান অন্তত: না থাকলে আহলে কুরআন নামক পথ ভ্রস্ট (প্রায় সব আলেমের মতে কাফের) দের মিথ্যা প্রচারনার ফলে দ্বিনের বিষয়ে কম জানা মুসলমান বিভ্রান্ত হয়ে প্রকৃত ইসলাম হতে বিচ্যুত হয়ে এমন এক দলে পরিনত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যারা হাদিসতো মানেইনা, ঠিকমতো কোরআনও মানেনা। সন্দেহ করতে করতে এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে ইসলামকে সমন্বিত করতে করতে কোরআনের আয়াতের অর্থ পরিবর্তিত করে, কিছু আয়াত বিশ্বাস কিছু অবিশ্বাস করতে করতে অবশেষে পরিপূর্ণ কাফের হয়ে যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা দেয়।

        4. মুনিম সিদ্দিকী

          হাসান সাহেব, আমি তারপরও আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।  মানুষকে চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পক্ষে আমি নই। তবে ইতরামী মিথ্যা দোষারোপ কালিমা লেপন ইত্যাদির বিপক্ষে অবশ্যই।  হাদিসটির রেফারেন্স নাম্বার আমার মনে নেই তবে ঐ হাদিসে যা বলা হয়েছিলো তা হচ্ছে, মসলিমরা হচ্ছে খাজুর গাছের পাতার মত,  যা কোন ঝড় বাতাসে ঝরে পড়েনা।  এখন যদি কোন মুসলিমকে দেখেন এই সব আগাছার কারণে ঝড়ে পড়েছে তাহলে বুঝতে হবে ঐ গাছ খেজুর গাছ নয়!

          যে ভাইটির কথা আমি উল্লেখ করেছি, সে ভাইটি একজন মহৎ হৃদয়ের মানুষ আমার সে বিশ্বাস আছে। আজ যেমন তিনি বিভ্রান্ত হয়ে কোরান অনলি ফেরকাতে চলে গেছেন আগামীকাল তিনি অবশ্যি আবার ফিরে আসবেন মুল স্রোতে এই আমার বিশ্বাস। কাজেই এই ধরণের প্রতিভাবান তরুণদেরকে আমি দূরে ঠেলে দিতে রাজী নই। বাকি সদালাপ কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।

          আপনাদের মত কড়াকড়ি করায় আজ পিস ইন ইসলাম ব্লগটি মৃতপ্রায় হয়ে আছে! আমি চাইনা আমাদের এত পরিশ্রমের সদালাপও কড়াকড়ির জন্য সে রূপ প্রাপ্তি লাভ করুক। মা আস সালামা।

           

  6. 24
    মুনিম সিদ্দিকী

    সাদাতভাই, আমি আমার প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষায় আছি, আপনি কি আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন? আর না দিলেও তা জানিয়ে দিন প্লিজ!

    @ সদালাপের সকল ভাইয়েরা আপনাদের কেউ জানেন আমার প্রশ্নের উত্তর? জানলে আমাকে জানান প্লিজ! কারণ আমি একটি ব্লগ তৈরি করছি যাতে আমার ঐ প্রশ্নের উত্তর জানা একান্ত দরকার। ধন্যবাদ।

    1. 24.1
      সাদাত

      একবার একটা উত্তর লিখেছিলাম, নেট চলে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে। আবার একটা উত্তর দিলাম। দেখুন মনঃপুত হয় কি-না। এ বিষয়ে উত্তর দিতে গেলে বিস্তর সময় ব্যয় করতে হবে। আপনি যেহেতু বিষয়টা নিয়ে ঘাঁটছেন আশা করি উত্তরটা বের করতে পারবেন, আমি একটু হিন্টস দিলাম মাত্র।

  7. 23
    শাহবাজ নজরুল

    আমার ফেসবুকে শেয়ার থেকে একটা কমেন্ট এসেছে -- যেটার জবাব এখানে দেয়া হলো।  

     

    The author claims that Islam has not given birth to slavery system, it existed way before than Islam. However, no other major social and religious system recognizes slavery anymore and slavery is listed in Quran as a permissible thing. Quran is eternal and so slavery system is still permissible? What if these kind of war situations break out in present days … then muslim states are allowed to capture slaves?? There is a guy in the comment section who asked some good questions and the author simply replied ‘No’ to them without justifying his answers.  

     

    উত্তরটা পোষ্টেই দেয়া আছে -- হয়ত ভার্বেটিম দেয়া নাই তবে বেশ পরিষ্কার ভাবেই দেয়া আছে। লেখার এই অংশটা পড়ুন --

     ইসলামে যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো কোন জরুরী বিষয় না হলেও যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো তখনকার সময়ে একটি প্রচলিত নিয়ম ছিল। যুদ্ধে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হতো। যতদিন পর্যন্ত মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হবার সম্ভাবনা দূর না হয়, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য অমুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানোর সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজ অনুসারীদের নিশ্চিত বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ইসলাম কিছুতেই নিতে পারে না। তবে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত দ্বার বন্ধ করার চাবি অমুসলিমদের হাতেই রয়েছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সাথে মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি না বানানোর চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত পথটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে

    এখানে এইটা পরিষ্কার বলা হচ্ছে যে ক্রীতদাস বানানো ইসলামে কোনো জরুরি বিষয় না -- যুদ্ধ বন্দিদের অনেক সম্ভাব্য পরিণতির একটি হতে পারে ক্রীতদাস বানানো -- তবে অবশ্যই যদি বিরোধী শিবিরও একই পদ্ধতি ব্যবহার করে তখন। আজকের দুনিয়ায় মূলত জেনেভা কনভেনশন অনুসারে যুদ্ধ বন্দিদের ডিল করা হয় -- তাহলে মুসলিম পক্ষও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করবে -- আর শরিয়ত সম্মত ভাবেই বর্তমানে মুসলিম পক্ষ বিরোধী শিবিরের বন্দিকে দাসত্বের শিঙ্খলে আবদ্ধ করতে পারবেন না।   আর কোরানে দাসত্বকে unconditionally permissible বলেছে -- এমন কোনো লাইন নেই -বরং কোরানের আয়াতগুলো দাস/দাসীদের সা থে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে -- কিভাবে তারা মুক্ত হবে -- তাদের অধিকার কতুটুকু ইত্যাদি সম্পর্কে বলেছে। অতএব, দাস/দাসী কিভাবে হবে সেই রুলিং আসবে কোরান হাদিস মিলিয়ে -- এর সাথে এই বিষয়ে পূর্বসুরীদের মতামত ও প্রতক্ষ্য ইতিহাস যাচাই করে। এটাই সুন্নি স্কুলের সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি। আর লেখাটা সেই পদ্ধতি ফলো করেই লেখা।   আর প্রশ্নগুলোর উত্তর একবাক্যে লেখক দিয়েছেন (কমেন্ট ৬) তা আশা করি এখন বোঝা যাচ্ছে। আর একটা কথা -- মুসলিম অন্য মুসলিমদের হাতে আটক হলে তাকে দাসত্বের শিঙ্খলে আবদ্ধ করা যাবেনা। যুদ্ধবন্দিদের যে কথা এখানে বলা হচ্ছে তা হলো কেবল অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের প্রসঙ্গে। মুসলিম নর নারী সর্বদা স্বাধীন -- তাই অন্য মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ হলে আটক নর নারী স্বাধীনই থাকেন। কেবলমাত্র  অমুসলিম পক্ষের সাথে যুদ্ধ হয়ে বন্দী হলে মুসলিম নর নারী দাসত্বে আটকাতে পারেন -- যদি বিরোধী শিবির তাদের দাসত্বে আটকানোর নীতি অনুসরণ করেন। তবে সেক্ষেত্রে মুসলিম পক্ষও একই নীতি অনুসরণ করবে -- যা ইতোমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে।  তাই প্রশ্নগুলোর উত্তর ব্যাখ্যা সহকারে এমন হবে --  

     

    ১. না।  কেননা ভারত যেহেতু 'জেনেভা কনভেনশন' অনুসরণ করে (বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও) করে -- তাই কোনভাবেই যুদ্ধবন্দীকে দাস/দাসী বানানোর সুযোগ নেই। আর দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ/পাকিস্তান মুসলিম প্রধান দেশ হলেও 'ইসলামী' রাষ্ট্র নয় -- তাই এক্ষেত্রে 'ইসলামী' নীতি অনুসরণ করাটা প্রায়োগিক অর্থে ভুল।

    ২. না। কেননা মুসলিম নর-নারী সবসময় স্বাধীন যদিও তারা মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন।

    ৩. না। কেননা মুসলিম নর-নারী সবসময় স্বাধীন যদিও তারা মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন।  

    ৪. না। কেননা মুসলিম নর-নারী সবসময় স্বাধীন যদিও তারা মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন।  

     

    The author seems to be residing in 650 A.D and he was trying to justify how Islam is better than other systems before or at that time. He should be defending the stand of Islam on slavery in 2014 in the light that all major religious and social systems simply abhors it. 

     

    ইসলামে সর্বকালের প্রেসক্রিপশনই দেয়া থাকে। এই ক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দীদের দাস/দাসী হবার পথ খোলা নেই ইসলামী নীতি অনুযায়ীই। এই পথ আবার অবমুক্ত হতে পারে কেবল যদি বিরোধী শিবির মুসলিমদের দাস/দাসী করার পথ বেছে নেয়।     ইসলাম এ abhorrence আরো ব্যপক ও বাস্তব ভিত্তিক। যেমন যেখানে ইসলামি শরীয়ত অনুসারে বর্তমান বিশ্বে দাসপ্রথা থাকতেই পারেনা -- সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে বারংবার এই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে ইসলাম বিরোধী শিবির এক অলিক সমস্যা ইসলামের গায়ে জড়াতে চায়। এই লেখার মাধ্যমে এই গোয়েবলস দের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে  সঠিক ইসলামী রূপরেখা বর্ণিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে তাই বলে দাসপ্রথা উঠে গেছে বলা যাবেনা। এটা বলবত আছে -- যেমন আহমেদ ভাইয়ের ৯ নং কমেন্ট দ্রষ্টব্য। এই ২ কোটি দাস দাসী কিন্তু ইসলামী শরিয়ত অনুসারে অবৈধ। এদের সবাইকে জোর করে দাস বানানো হয়েছে -- যা ইসলামে নিষিদ্ধ। তার উপরে এদের বেশির ভাগকেই  অবৈধ যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়েছে -- যেটা দাস/দাসী/স্বাধীন সকলের ক্ষেত্রেই হারাম। তাই বর্তমান যুগের এই দাসত্বের আসল সমস্যার কথা না বলে অলিক এক সমস্যাকে হাইলাইট করার মানে কি? বরং বর্তমান যুগের এই দাসত্বের সমস্যার সমাধান আছে ইসলামে। ইসলামী নীতি অনুযায়ী এই প্রচলিত দাসত্বের সবই হারাম -- ও অবৈধ।  

     

    I read both piece of writings … lots of rulings … but the above concern was not addressed (I am positive that I did not miss it)

     

    আশা করি জবাব পেয়েছেন।

     

    And the argument of permitting slavery (other states make us slave so we make them slave) doesn’t fly.

     

    টা অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক সমাধান -- কেননা এই পদ্ধতি ডিটারেন্স হিসেবে কাজ করে। নাহলে মুসলিম শক্তি disadvantaged হবে। তবে মুসলিম পক্ষ এই পথ নেবেন তখনই, যখন কেবল বিরোধী শিবির এই পথ নেবেন। পথটা reactive বা passive. এটাকে জোর করে active বানানো অসাধুতার পরিচায়ক।  

  8. 22
    সাদাত

    Sotto সাহেব,

    আপনার সাথে কেবলমাত্র কুরআন-অনলি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, অন্য কোন বিষয়ে নয়। "কুরআন-অনলি" বিষয় ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে আপনার সাথে আমি আলোচনায় আগ্রহি নই এবং আপনার যে কোন কমেন্ট বিনা নোটিশে ডিলিট করে দিতে পারি। সুতরাং এই সাবজেক্টের বাইরে আমার যে কোন পোস্টে আপনি না আসলে ভালো হয়। মজবাসার আর ফারুক সাহেবদের পেছনে অনেক সময় গেছে, নতুন করে সময় দেবার সময় নাই।

  9. 21
    সাদাত

    ডা. মাহফুজ শান্ত সাহেব, আমার পোস্টে একের পর এক প্রশ্ন করে লাভ নাই। আপনার সাথে কোন তর্ক করার ইচ্ছা আমার নাই, কারণ আপনাকে বুঝানোর মতো যোগ্যতা আমার নাই। 

    পাঠক (except Mr. Sotto), মাহফুজ সাহেবের করা প্রশ্ন যদি আপনাদের কারো মনেও জন্মায়, তবে পৃথকভাবে প্রশ্নটি করুন। বুঝাবার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

  10. 20
    আরিফ

    নাস্তিকদের একটি চটকদার অপপ্রচার হচ্ছে--  ইসলাম ক্রীতদাসীদের ধর্ষণ করতে বলেছে।

    প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ষণ কাকে বলে?

    অক্সফোর্ড Dictionary এর সংগা অনুযায়ী —
    The crime, typically committed by a man, of forcing another person to have sexual intercourse with the offender against their will:

    তার মানে ধর্ষণ হচ্ছে -- কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পুর্বক বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে যৌন সঙ্গম করা। যখন কোন মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়, তার আগে কখনই তার মতামত , অধিকার বা ইচ্ছার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করা হয় না। ধর্ষণের সময় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে যৌন লালসা পুর্ন করাটাই ধর্ষকের মূল  উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    ইসলাম ক্রীতদাসীদের সাথে সহবাস করার অনুমতি দিয়েছে। তার মানে এই নয় যে, ক্রিতদাসীদের মতামত , অধিকার বা ইচ্ছার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন গায়ের জোড়ে তাদেরকে ভোগ করার অনুমতি দিয়েছে। বরং হাজার বছরের পুরাতন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী চলতে থাকা দাসপ্রথাকে ইসলাম একটি মানবিক রূপ দান করেছে। ইসলাম ছাড়া তৎকালীন সমাজের আর কোথাও এরকম কোন উদ্যোগ আর কাউকে নিতে দেখা যায় নি।

    এখন আসলেই কি এভাবে ইসলাম কোন ক্রিতদাসীর সাথে এভাবে আচরন করার অনুমতি দেয়, যেটাকে ধর্ষণ বলা যেতে পারে?

    কোরান আর হাদীসের দিকে লক্ষ করলেই ব্যাপারটা বুঝা যাবে--

    তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [সুরা নুর: ৩২]

    যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে, অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্ত ি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্ত ির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা নুর: ৩৩]

    সূরা নিসার ২৫ নং আয়াতে বলা হচ্ছে–

    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে।ল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না।

     

    সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে [২:১৭৭, 

    কিছু হাদীস--

    আল-মা’রুর বিন সুওয়াইদ(রা.) হতে বর্ণিত:
    [রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন:
    তোমাদের দাসেরা তোমারদের ভাই যাদের ওপর আল্লাহ তোমাদের ক্ষমতা দিয়েছেন। কাজেই কারো নিয়ন্ত্রণে যদি তার ভাই থাকে, তবে সে যা খাবে তাকেও তাই খাওয়াবে, সে যা পরবে তাকেও তাই পরাবে। তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপাবে না যা তারা বহন করতে অক্ষম। যদি তা করো, তবে তাদেরকে সাহায্য কর।

    [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৪৫ (প্রাসঙ্গিক অংশ); ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৩, বুক ৪৬, নম্বর 

    আবু মুসা(রা.) হতে বর্ণিত:
    রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
    যার একটি ক্রীসদাসি আছে আর সে তাকে শিক্ষাদীক্ষা দান করে, তার সাথে সদয় ব্যবহার করে, অত:পর তাকে মুক্ত করে বিবাহ করে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।

    সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৮৪; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি. ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২০; http://sunnah.com/urn/23840%5D

    Source: Al-Adab al-Mufrad Al-Bukhari , Nr. 192.

    Not one of you should [ when introducing someone ] say ‘This is my slave’ , ‘This is my concubine’. He should call them ‘my daughter’ or ‘my son’ or ‘my brother’.
    তোমরা এভাবে বলনা যে -- "আমার দাস" " আমার দাসী" বরং বল -- আমার কন্যা আমার ছেলে।

    উপরের কোরানের আয়াত আর হাদীসগুলো দেখুন । আসলে দাস-দাসীদের প্রতি ইসলাম কি ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী প্রয়োগ করে সেটা বুঝা খুব বেশী কঠিন কিছু নয়। 

    ইসলাম তৎকালীন সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দাস প্রথাকে বাতিল করে নি ঠিক, কিন্তু তাদের প্রতি মানবিক আচরন করতে আর তাদেরকে চুক্তির অথবা অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দিতে উৎসাহিত করেছে। 

    এসব আয়াত আর হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যদি বলে , ইসলাম ক্রিতদাসীদেরকে ধর্ষণ করতে বলেছে, তবে ধর্ষণ কাকে বলে , তা উক্ত নাস্তিকের জানা আছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

     

     

     

     

     

     

     

  11. 19
    পাভেল আহমেদ

    চমৎকার একটি গবেষণাধর্মী এবং বিশ্লেষণমূলক লেখা! 🙂

    দাসপ্রথার উপরে আমার পড়া সবচেয়ে সেরা লেখা! 😀

  12. 18
    সারওয়ার

    ধন্যবাদ সাদাত ভাই! আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর এবং একটি তথ্যবহুল সুন্দর লেখা উপহার দেয়ার জন্য। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক।

  13. 17
    mahfuz08

    সাদাত :

    নিচের হাদিসটি দেখুন।
     

    উপহার প্রদান,  তার ফজিলত ও এর প্রতি উৎসাহ দান অধ্যায় ::

    সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৪৭ :: হাদিস ৭৬৫

    ইয়াহইয়া ইব্ন বুকায়র (রঃ)……….. মায়মূনা বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) এর অনুমতি না নিয়ে তিনি আপন বাদীকে আযাদ করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী (সাঃ) এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আপনি কি জানেন আমি আমার বাদী আযাদ করে দিয়েছে? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ ? মায়মূনা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শুনো ! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য তা অধিক পুণ্যের হত। অন্য সনদে বাকর ইব্ন মুযার (রঃ) …………. কুবায়ব (র) থেকে বর্ণিত যে, মায়মুনা (রাঃ) গোলাম আযাদ করেছেন।

     

    এখন প্রশ্ন হলো, দাসদের মুক্তি দেওয়া ও অন্য কাউকে দান করে দেওয়ার মধ্যে কোনটাকে সেই সময়ে উত্তম মনে করা হতো?

    1. 17.1
      সাদাত

      @পাঠক,

      কোন একটা হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ইসলামের কোন বিধান আহরিত হয় না, পুরো কুরআন ও পুরো সুন্নাহকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কুরআন এবং সুন্নাহয় দাসমুক্তি সংক্রান্ত এত অধিক উৎসাহ ও ফযিলত বর্ণিত হয়েছে যে দাসমুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র কোন সংশয় থাকার কথা নয়। সাহাবি ও উম্মুল মু’মিনিন (রা.) শত শত বরং হাজার হাজার দাসদাসি মুক্ত করেছেন, কখনো দাসমুক্ত করার চেয়ে কাউকে দান করে দেওয়াকে উত্তম মনে করেন নাই। এটা একটা বিশেষ ঘটনা এবং বিশেষ ঘটনার দ্বারা কোন ব্যাপক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কেন এই ক্ষেত্রে দাস/দাসি মুক্ত করা অপেক্ষা দান করাকে উত্তম বলা হয়েছে? এক্ষেত্রে এটাই বুঝতে হবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান দ্বারা কোন কারণবশতঃ উক্ত দাস/দাসীকে মুক্ত না করা- তাদেরকে মুক্ত করা অপেক্ষা উত্তম মনে করেছেন। তাই তিনি এই ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রমী নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিলেই তার প্রতি সবসময় এহসান করা হয় নাই, অনেক ক্ষেত্রে খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিলে তার জীবন ধারণ ও আত্মরক্ষা হুমকির সম্মুখীণ হয়ে পড়ে। একইভাবে দাস-দাসীকে মুক্ত করলেই হলো না, মুক্ত হবার পর এই দাস-দাসী স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারবে কি-না সেসব বিষয়ও দেখার প্রয়োজন আছে। যেসব দাস-দাসী জন্য স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে, তাদের মধ্যে যোগ্যতা তৈরির আগে তাদেরকে মুক্ত করা তাদের প্রতি অনুগ্রহ নয়, অভিশাপতুল্য। 

      1. 17.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        হ্যা সাদাত ভাই কারণ সেটি। যেমন ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দিয়ে ফরজ আদায় হবেনা যদিনা ঐ ছেলে তার বউ বাচ্চার অন্য বস্ত্র বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসার ভার বহণ করতে সক্ষম না হয়। সে সময়ে দাসমুক্ত করে দিলেই দাসের প্রতি ন্যায় করা হতো সেটি বাস্তবতা ছিলোনা। বরং মুক্ত দাসের অন্য বস্ত্র সংস্থানের জন্য সমস্যায় পড়তে হতো। কাজেই এই অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসুল সাঃ ঐ আযাদ না করে কাউকে দান করে দেয়ার কথা বলেছিলেন। ধন্যবাদ।

        1. 17.1.1.1
          ফাতমী

          @মুনিম সিদ্দিকী,

          আমরা অন্যন্য জাতির মত ধারনার উপর কথা বললেই হবে না, কথার পিছনে দলিল থাকতে হবে। আপনার বক্তব্যের সপক্ষে ঐতিহাসীক প্রমাণ নিয়ে আসলে ভালহত, বিশেষ করে তাতকালীন অর্থনিতিক ব্যাবস্থার উপরে।

          আমি যা বুঝতেছি, স্পেসিফিক্যালী রাসূল সাঃ কাউকে কিছু বলতে পারেন, যেমন ধরুন রাসূল কোন এক ব্যাক্তিকে পানি আনতে বললেন, তাহলে শুধু মাত্র ঐ ব্যাক্তিকেই বলেছেন, সবাইকে বলেন নাই। ঠিক তেমনি কোন কারন বসত রাসূল সাঃ, মায়মূনা বিনত হারিস (রাঃ) কে অধিক পুন্য হত বলেছেন। এর পিছনে অনেক কারণই থাকতে পারে। আপনি যা বলেছেন তাও হতে পারে, অথবা অন্য কোন কারণও হতে পারে। সেটা গবেষনা করে বের করতে হবে, কি কারণ ছিল। 

      2. 17.1.2
        মুহাম্মদ হাসান

        সাদাত ভাই,

        কোন একটা হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ইসলামের কোন বিধান আহরিত হয় না, পুরো কুরআন ও পুরো সুন্নাহকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

        এই বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ এবং ইসলামের কোন বিধান আহরন করার জন্য কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবাদের আমল ইত্যাদি বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে । কিন্তু বর্তমানে আমাদের মধ্যে এমন একটা মনোভাব দেখা যাচ্ছে যে ইন্টারনেট থেকে কয়েকটা হাদিস আর লেখা পড়ে আমরা নিজেরাই হুকুম আহকাম বের করে সেটার উপর আবার যুক্তিও পেশ করা শুরু করে দেই! শুধু তাই না- বড় বড় মুজতাহিদ ইমাম ও আলেমগনের সমালোচনা করতেও দিধাবোধ করছিনা । আমরা আমাদের জ্ঞানকে পেছনে ফেলে সামনে দৌড়ানোর চেষ্টা করছি যেটা ঈমানের ভয়াবহ পরিনতি বয়ে আনতে পারে । কথাগুলো কোন একজন ব্যাক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলছি না । এটা আমার genaral obsevation এবং আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি । আমি যখন প্রথম ইসলামকে ভাল করে মানার চেষ্টা শুরু করি তখন আমিও দুইএকটা হাদিস আর বই পড়ে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতাম । কিন্তু যখন সত্যিকার অর্থে ইসলামের বিভিন্ন শাখা জানার চেষ্টা করি বিশেষ করে যখন আলেমদের সংস্পর্শে এসে উসুল আল কুরআন, হাদিস এবং ফিকহ(এখনও কিছু জেনেছি বলে মনে হয় না) তখন বুঝতে পারি যে আমার মত মূর্খ আর মনে হয় কেউ নেই! নিজে নিজে মুজতাহিদ সাজার বুকামি এবং ভয়াবহতাটাও সংগে সংগে অনুধাবন করতে পারি । আমি এরদ্বারা এটা বুঝাতি চাচ্ছিনা যে আমরা আমাদের নিজদের চিন্তার দ্বার বন্ধ করে দিয়ে যে যা বলে তাই মেন নেব । বরং যখন কোন বিধান, হুকুম, আহকামের বিষয় আসে তখন আমাদের অতি সাবধানতার সাথে চিন্তা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ । আর এসব বিষয়ে মুজতাহিদ ইমামরা কি বলেছেন সেটা মেনে নিতে হবে । কারন আমার যদি কুরআন, হাদিস এবং ফিকহের উসুল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকে সেক্ষেত্রে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা হবে self-destruction এর শামিল।

        আশাকরি আমার মন্তব্যটি কেউ ব্যাক্তিগতভাবে নিবেন না । 

  14. 16
    মোঃ ফজলে হাসান

    আস সালাম,

    ভাই লেখাটা পড়ে খুব ভালো লেগেছে। সমস্যা এটা না যে, ইসলাম দাসকে কতটা দিয়েছে অথবা কতটা দেয়নি। এরা আজকে চিতকার করছে। তাদের পূর্বসূরী জ্ঞাতিভাইরা ত গত তের/চৌদ্দশত বছর ধরে এর তেমন কোন সমালোচনা করেনি।  আজকের বিশ্বে জাতিসংঘ থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার গুয়ান্তানামো কারাগার বন্ধ হয় না, এদের কে ত দাস না , পশু না, তার চা্‌ইতে নিচের কিছু মনে করে। সুদূর অতীতে জাতিসংঘও ছিল না, জেনেভা কনভেনশনও ছিল না। বর্তমানেই তার প্রভাব অনেক যুদ্ধে অনুপস্থিত দেখা যা্য। মনে হয়, এদের ভাষ্য, পূর্ণঅধিকারপ্রাপ্ত দাস ব্যবস্থার চেয়ে গুয়ান্তানামো কারাগার এ থাকা ভালো।

     

  15. 15
    mahfuz08

    @ সাদাত

    ভাই আপনি নিচের আয়াতটি দেখুন।

    "এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। (An-Nisaa -- 4: 24)"

     

    এখানে "দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়" বলতে যুদ্ধ বন্দি দাসিদেরকে বুঝানো হয়েছে।

    তো, এদের সাথে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কি মোহর দিতে হবে?

    কারণ উপরিউক্ত আয়াতে রয়েছে যে, "অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর।"

     

  16. 14
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া ব্লগটা খুব ভাল হয়েছে। আমি নিজেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যুদ্ধবন্দী নারী নিয়ে আমার একটা লেখা আছে। আপনি এটা একটু দেখুন please http://farabiblog.com/?p=302

  17. 13
    sotto

    আপনার পোষ্টের শিরোনাম- (ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ)

    আপনার মন্তব্য- //লেখাটা এখনো ঠিক মনের মতো হয় নাই, আরো অনেক সম্পাদনার দরকার ছিল। কিন্তু অনেককে অনেকদিন থেকে অপেক্ষায় রেখেছি এই সংক্রান্ত লেখা দেবো বলে। তাই দিয়ে দিলাম, পরে আরো সংস্কার করতে হতে পারে। পাঠকদের নজরে কোন ভুল-ভ্রান্তি চলে এলে, জানালে কৃতজ্ঞ হবো।//
    …………………………
    বাহ! সুন্দর কথা বলেছেন। আসলেই, মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন,  অমুকের বানী, তমুকের বাণী প্রচারের চেষ্টা করুক না কেন, আল্লাহতায়ালার বাণীর সাথে পাল্লা দেয়া সাধ্যের অতীত বৈকি। অনেক সময় ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে দিলেও নানা মত ও পথের বেড়াজালে তা মানার মত মন ও বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। তখন নিজের মতবাদকে প্রাধান্য দেয়াই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

    কিছু বিষয় জানার ছিল-
    ১/ একজন সত্যিকার পৃষ্ঠপোষক কিংবা অভিভাবক কি তার তত্বাবধানে থাকা নারীকে বিবাহ (উভয়ের সম্মতি) ছাড়াই দৈহিক সম্পর্ক করতে পারে?
    ২/ আল-কোরআনে কি যুদ্ধবন্দীকে ক্রীতদাস/ ক্রীতদাসি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
    ৩/ আল-কোরআনে ক্রীতদাস প্রথাকে বহাল রাখার কথা বলা হয় নাই। অথচ তাহলে মুনিবের সাথে (উভয়ের সম্মতিতে বিবাহ ছাড়াই ) তার ক্রীতদাসীর/ উপপত্নির দৈহিক যৌন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়া হলো কেমন কোরে?

    আপনার ব্যবহৃত শব্দ 'মুনিব' এর স্থলে 'আহলিহিন্না/ পরিবার/ অভিভাবক' এবং 'ক্রীতদাস/দাসীর' স্থলে "মা-মালাকাত-আইমানুকুম/ ডান হাতের অধিকারভুক্ত" ব্যবহার করলে বেশ মানানসই হত। আশাকরি বিবেচনা করে দেখবেন।
    ধন্যবাদ-

  18. 12
    শামস

    দাসীর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে ইসলামের অবস্থান নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় কিছু মুসলিম একে নানাভাবে এবং বিচ্ছিন্নভাবে ডিফেন্ড করতে চেয়েছে। তেমনি কিছু লোক আছে যারা ইসলামে দাসীর সাথে সম্পর্ক কিভাবে হয়, তা মানতে না পেরে এ বিষয়ে হাদিসের গ্রহনযোগ্যতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেতে চেয়েছে এবং উপরের একজনের মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে এই লেখা তাদের কিছুর সংশয় এখনও পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম নয়!

     

    কোরানে চুরির অপরাধে হাত কাটার কথা আছে, এটা না মেনে উল্টোপাল্টা কিছু বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কিছু নেই। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তারা ওভারলুক করে সেটা হল, সময়, সমসাময়িক অবস্থা ইত্যাদি। আর সত্যিকারের ইসলামী সমাজে চুরি করার কথা না! অথবা ধরা যাক, শপ লিফটিং একটা মানসিক অসুখও হতে পারে, তাই বলে শরীয়ত মেনে চলা ইসলামী সমাজে যে চুরি করলেই হাত কাটতে হবে সেটা না, এর কার্যকারিতার অনেক ধরণের বাধ্যবাধকতা আছে, অনেক ধরণের কনসিডারেশনের অবকাশ আছে! তেমনিভাবে ইসলামে দাসত্ব এবং দাসীদের সাথে যৌনসম্পর্কের বিষয়টি জড়িত! 

     

    তৌহীদের উপর ভিত্তি করে যে ইসলামী সমাজ সেখানেই শরীয়ত কার্যকরী! এখনও মুসলিম আছে, সোকলড ইসলামী সমাজ আছে, কিন্তু সেগুলো কতটুকু তৌহিদের উপর ভিত্তি করে গড়া সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ! ফলে ইসলামী সমাজ হলেই যে চোরের হাত কাটা কিংবা কিংবা দাসীদের সাথে যৌনসম্পর্ক করা, ব্যাপারটি সেরকম নয়। যে ইসলামবিদ্বেষীরা যৌনদাসী নিয়ে ইসলামের অবমাননা করে, এখনকার ম্রিয়মান মুসলিম বিশ্বেও এর চলন দেখাতে পারবে না। কিন্তু তারপরও তারা নিজেদের ইগোর বশবর্তী হয়ে এবং প্রভূদের কথা শুনে ঢোল বাজিয়ে যায়। তারা এ রকম করবেই, কিন্তু এ লেখার মাধ্যমে যতনা তাদের প্রপাগান্ডার জবাব দেয়া হয়েছে, তারচেয়েও বেশি কাজ হয়েছে মুসলিমদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে।

     লেখাটির দরকার ছিল, ভালো কাজ হয়েছে। ভালো থাকুন।

     

  19. 11
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমি আর কি বলতে পারি! সবাইতো সব বলে ফেলেছেন! সাদাত ভাই তো সাদাত ভাই অনন্য! তার তুলনা তার সাথে করা ছাড়া আর কি করার কিছু আছে?

    তবে আমি  জানতে চাই,

    ১। ইদ্দতের বিষয়ে স্বাধীন নারীর জন্য চার মাস (৩ রজত কাল) এবং দশদিন আর যুদ্ধবন্দিনীদের জন্য এক রজত কালের মত বৈষম্য কেন?

    ২। ইসলামে স্বাধীন নারীর ইদ্দত নির্ধারণ  এর পক্ষে আল কোরানে নির্দেশ পাওয়া যায়। কিন্তু যুদ্ধবন্দিনীদের ইদ্দত নির্ধারনের এক রজতকালের নির্দেশ কোরানে নেই কেন?

    ৩। ইসলামিয়া শহরিয়ায় কখন হতে স্বাধীন নারীদের জন্য চারমাস দশ দিন এবং যুদ্ধবন্দিনীদের জন্য এক রজত কালের নির্দেশ প্রচলন করা হয়েছিল?

    ধন্যবাদ।

    1. 11.1
      সাদাত

      মুনিম ভাই,

      বণ্টিত হবার পর যুদ্ধবন্দিনী একজন ক্রীতদাসি হিসেবে পরিগণিত। কাজেই যুদ্ধবন্দিনীর বিধান আসলে ক্রীতদাসির বিধান।

      ৩. মূল বিষয়ের সূচনা তো অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশাতেই। তবে ক্ষেত্র কিন্তু অনেক, যেমন- স্বামী ক্রীতদাস, স্ত্রী স্বাধীন; স্ত্রী ক্রীতদাসি, স্বামী স্বাধীন; স্বামী স্ত্রী উভয়েই ক্রীতদাস/দাসি। এছাড়াও আরো ক্ষেত্র আছে। যেসব ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহয় সরাসরি নির্দেশ নেই সেসব ক্ষেত্রে ফকিহগণ পরবর্তীতে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ফাতাওয়া দিয়েছেন।

      ২. সব বিধান কুরআনেই উল্লেখ থাকতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।

      ৩. সব ধরণের স্বাধীন নারীর ইদ্দতকাল একই নয়; সব ধরণের ক্রীতদাসির ইদ্দতকালও এক নয়। তবে গর্ভধারিণী নারী স্বাধীন হোক আর ক্রীতদাসি সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইদ্দতকাল। আবার উম ওয়ালাদের ইদ্দতকাল চার মাস ১০ দিন। ইদ্দতকাল কমবেশি হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। ইদ্দতকাল বেশি হলেই যে বেশি অধিকার দেওয়া হলো এমন ভাবা ঠিক নয়। ক্রীতদাসি এবং স্বাধীন নারী উভয়ের সুযোগ সুবিধা এক ধরণের নয়। যেসব ক্ষেত্রে ক্রীতদাসির ইদ্দতকাল হ্রাস করা হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখেই তা করা হয়েছে। 

  20. 10
    শাহবাজ নজরুল

    সাদাত ভাই,

    সালাম। অনেকদিন থেকেই এই লেখাটির জন্যে অপেক্ষাতে ছিলাম। পেলাম অবশেষে। আপনার লেখাটি যা দিচ্ছে তা হলো --

    ১. কোনো সমস্যার সার্বিক মূল্যায়ন।
    ২. এইটি দেখানো যে আমরা বেশিরভাগ লোকই গভীরে না গিয়ে সমস্যার উপরিতল পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্তে চলে আসি।  আর স্বভাবতই অগভীর পর্যলোচনার ফলাফল বিপ্রতীপ ধারনাই দেয়। 
    ৩. বিদ্বেষীদের অপপ্রচারের সুবাদে সবাই এই সিদ্ধান্তে এসে পড়েন যে যুদ্ধবন্ধি  মানে কেবল অবাধ যৌনাচারের লাইসেন্স। এর বেশি কিছু নয়।  আপনার লেখাতে এই চিত্রের খন্ডন এসেছে সার্বিকভাবে বিষয়টাকে দেখার জন্যে। এখানে যেভাবে বললেন খলিফার কাছে একাধিক পথ খোলা থাকে যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে -- এরমধ্যে কেবল একটা বিষয়কেই বিদ্বেষীরা সামনে নিয়ে আসে। এর পরে আসে বন্দী হওয়া মাত্রই বন্দিনী সেক্স টয় হয়ে যান এই অপপ্রচারে। এখানে খলিফা ওমরের রজমের বিধান স্মর্তব্য। 
    ৪. একটা বড় ইস্যু হচ্ছে নারী যুদ্ধবন্দিদের নিজেদের জৈবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি। এই বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও আপনি ভালোভাবেই এটি তুলে এনেছেন। 

    সার্বিক ভাবে বাংলা ব্লগের ইতিহাসে এইটি একটি অনন্য-সাধারণ সংযোজন। মোবারকবাদ এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি সদালাপে সংযোজন করার জন্যে।

    সময় পেলে পরে আসছি আবার, ইনশাল্লাহ!!

    1. 10.1
      ফাতমী

      @শাহবাজ ভাই ও সাদাত ভাই,

      "আমরা বেশিরভাগ লোকই গভীরে না গিয়ে সমস্যার উপরিতল পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্তে চলে আসি।  আর স্বভাবতই অগভীর পর্যলোচনার ফলাফল বিপ্রতীপ ধারনাই দেয়"-শাহবাজ

      কিন্তু বিভিন্ন মাহজাব যখন সামনে ভিন্ন ব্যাক্ষা নিয়ে আসবে, তখন কি বলবেন? আপনি একটা ব্যাক্ষা দিবেন, তারা বলবে আমাদের মাহজাবে এই ব্যাক্ষা নাই। এই যে সাদাত ভাই ব্যাক্ষা দিলেন, সেটা তফসিরুল মারিফাতুল কোরানেও এই প্রকার ব্যাক্ষা দিয়েছে।

      কোন বিষয় গভীরে গিয়ে ভাবলে, মাহজাব-লামাহজাব পন্থীদের আক্রমনে যেকেউ বিপর্যস্থ হবে। আরেকটা বিষয় দেখুন, আল্লাহ পাক কাউকে দাস বা দাসী না ডেকে "ডান হাতের অধিকারভুক্ত" বলেছেন এবং কেন বলেছেন? তারমানে এই উপসংহারে আসা যায়, তিনি দাস প্রথা চান না। সাময়িক সমাধান বাতলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দাস প্রথার বাজার থাকলে চাহিদাও থাকবে, যোগানও আসবে, কিন্তু ইসলামী ব্যাক্ষাকারীগন দাস বানিজ্য বা দাস বিক্রি করা বাতিল বা বন্ধ করেন নাই, এবং বন্ধ করার তেমন উদ্দোগ্য নেন নাই। বাজারে যদি ভাল দামে দাস বিক্রি করা যায়, তাহলে স্বাধীন মানুষকে ধরেও দাস বানানো হবে, বিক্রয় হবে, যা আপনি যত নিতি কথাই শুনান, যত হাদিসই শুনান।

       

      1. 10.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        সকল মাজহাবের লক্ষ্য একই -- অন্তত মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতাদের মতামত অনুসারে -- আর তা হচ্ছে কোরান ও সুন্নাহ অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা। এমন কোনো ইমাম নাই যিনি বলেছেন যে তার পথই সঠিক আর সবারটা ভুল।  বরং সবাই এটাই বলেছেন যে যদি তার দেয়া বিধান কোরান/সুন্নাহ/হাদিসের পরিপন্থী বলে পরবর্তিতে প্রমাণিত হয় তবে তা যেন গ্রহন করা না হয়। অতএব, আমরা মূল প্রক্রিয়াতে স্থির থাকি (কোনো সমস্যা কোরান ও সুন্নাহের আলোকে দেয়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা) তাহলে কারুর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।  এখানে সাদাত ভাই তো কোরান হাদিসের বাইরে যান নাই।  এই বিষয়ে পূর্বসুরীদের মতামত ও উদাহরণ ও বাস্তব ইতিহাসও উঠে এসেছে। এখানে মাজহাবের কথা এনে ভজঘট পাকাবার দরকার তো দেখি না। আপনার যদি জানা থাকে যে অন্যান্য সুন্নি মাজহাব সাদাত ভাইয়ের কথার সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলেছে তাহলে তা প্রমান সহ হাজির করেন। তারপরে আলাপ করা যাবে।  

        কোন বিষয় গভীরে গিয়ে ভাবলে, মাহজাব-লামাহজাব পন্থীদের আক্রমনে যেকেউ বিপর্যস্থ হবে। 

        আমার মনে হয় না -- যদি না কেউ কোনো সমস্যা সমাধানের মৌলিক তত্ত্বই না মানেন (যেমন কোরান অনলি)। সাদাত ভাই এখানে মাজহাব -- লা মাজহাব জাতীয় পথে সমস্যার বিশ্লেষণ করেন নাই।  উনি আহলে সুন্নাহের সর্বসম্মত কর্মপন্থাই ব্যবহার করেছেন। সমস্যা থাকলে পরিষ্কার করে বলুন। 

        আরেকটা বিষয় দেখুন, আল্লাহ পাক কাউকে দাস বা দাসী না ডেকে "ডান হাতের অধিকারভুক্ত" বলেছেন এবং কেন বলেছেন? তারমানে এই উপসংহারে আসা যায়, তিনি দাস প্রথা চান না।

        এখানে কিংবা আগের লেখাতে কি কথাও বলা হয়েছে যে সাদাত ভাইয়ের সিদ্ধান্ত এই যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা দাসপ্রথা বলবত থাকুক এটা চান???? যা বলা হয়নি তা কল্পনা করে নিয়ে আসছেন কেন? ইসলামের আগে হরেক রকম ভাবে স্বাধীন মানুষ দাসে পরিনত হত।  ইসলাম এসে তো সব রকমের পথকে রহিত করেছে -- খোলা রেখেছে কেবল যুদ্ধ বন্দিদের দাস হবার পথটা।  কেন এই পথটা  খোলা রাখা হয়েছে তাও লেখাতে বলা হয়েছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? দাসপ্রথার মত সামাজিক সমস্যাকে বাস্তবভিত্তিক পথে সমাধানের কথাই ইসলামে বলা হয়েছে। আর বলাই তো হলো যুদ্ধবন্দীদের "ডান হাতের অধিকারভুক্ত" হবার প্রশ্নই উঠবে না যদি ইসলাম বিরোধী শিবির এই পথ পরিত্যাগ করে। এখন তো সবাই এই পথ পরিত্যাগ করেছে। তাই বর্তমান যুগে যুদ্ধ বন্দিদের দাসে পরিনত হবার সম্ভবনা নেই। তবে যদি কখনো বিরোধী শিবির আবার এই পথ গ্রহণ করে তবে তা আবার ফিরে আসবে। সাদাত ভাই তো এক লাইনেই সমস্যার সমাধান লিখে দিয়েছেন -- "এই চাবি ইসলাম বিরোধীদের হাতে" -- তারা যে পথ অনুসরণ করবে ইসলামে তাই অনুসৃত হবে।  এই অ্যাকশন হচ্ছে প্যাসিভ -- এটাকে জোর জবরদস্তি করে একটিভ বানানোর তো কারণ নেই।  

        কিন্তু দাস প্রথার বাজার থাকলে চাহিদাও থাকবে, যোগানও আসবে, কিন্তু ইসলামী ব্যাক্ষাকারীগন দাস বানিজ্য বা দাস বিক্রি করা বাতিল বা বন্ধ করেন নাই, এবং বন্ধ করার তেমন উদ্দোগ্য নেন নাই। বাজারে যদি ভাল দামে দাস বিক্রি করা যায়, তাহলে স্বাধীন মানুষকে ধরেও দাস বানানো হবে, বিক্রয় হবে, যা আপনি যত নিতি কথাই শুনান, যত হাদিসই শুনান।

        এই লাইনগুলো পড়লে বোঝা যায় যে আপনি এই লেখাটি কংবা এর আগের লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়েন নাই। বর্তমান যুগে দাস প্রথার প্রচলন শরিয়্ত সম্মত ভাবেই বলবত নাই। বাজারে কেনা বেচার দাসপ্রথা অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে। সাদাত ভাইয়ের লেখাটি পড়ে দেখেন আবার -- এখানে দাস হবার পথ একটাই -- যুদ্ধবন্দী -- আর দাসমুক্তির পথ এখাধিক (ফাক্কু রাকাবা)। তাই দ্বিতীয়/ তৃতীয়  শতাব্দীর পরে ইসলামে দাস বলে তেমন কেউ ছিলনা বলেই জানা যায়। বাস্তবিক সামাজিক সমস্যার বাস্তব সম্মত সমাধানই ইসলামে দেয়া হয়েছে।   

        1. 10.1.1.1
          ফাতমী

          ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।

          আপনি দয়া করে এই দুইটি আর্টিক্যাল পড়ে আসুন।  আরব স্লেইভ ট্রেডইসলামিক ভিউ অন স্লাভারি

          বর্তমান যুগে দাস প্রথার প্রচলন শরিয়্ত সম্মত ভাবেই বলবত নাই। বাজারে কেনা বেচার দাসপ্রথা অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে-শাহবাজ

          আমি বর্তমান যুগের কথা বলি নাই। নিষিদ্ধ হবার আগ পর্যন্তের সময় কালের কথা বলেছি।

           

        2. শাহবাজ নজরুল

          পড়লাম। এখানে আরব দাস বানিজ্যের কথা বলা হচ্ছে -- "ইসলামী দাসপ্রথার" কথা নয়। আরব প্রাকটিস কে নিশ্চই আপনি "ইসলামী রীতি" বলে মানেন না। তাই মোটাদাগে  আমার কথা এই যে -- তারা যদি ইসলামী শারিয়ার বাইরে গিয়ে কাউকে দাসপ্রথায় শৃঙ্খলিত করে তবে তা হচ্ছে "ইসলামী শিক্ষার" সম্পূর্ণ বিপ্রতীপ। এই দায় ইসলামের নয় -- এটা তার ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত সমস্যা -- যার জন্যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে তাকে/তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। আপনি যখন উইকি থেকেই রেফারেন্স দিলেন -- তাহলে এই রেফারেন্সটা দিতে পারতেন -- যেটা অন্তত বিষয়বস্তুর নিরিখে এই পোষ্টের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। Islamic view of Slavery লিংক কিছুটা পড়ে দেখলাম -- ওখানে মোটামুটি সাদাত ভাইয়ের লাইনেই কথাবার্তা বলা আছে বলে মনে হলো। পুরোটা দেখা অবশ্য হয়নি। 

        3. ফাতমী

          @শাহবাজ ভাই,

          এখানে আমি ইসলামের কোন দোষ ধরছি না। কোরান-হাদিস ঘটলে ইসলাম যে ন্যায়বিচারের সমর্থক তাই প্রমাণ হয়। আমি ইসলামী মনষীদের কথা বলছিলাম, তারা যদি রাসূল সাঃ এর দেখিয়ে দেওয়া পথে আরেকটু এগিয়ে যেতেন, তাহলে সমাজ থেকে আরো বহু আগেই দাস প্রথা উঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হত। বোধ হয় এর দায় মনষীদেরও নয়, ইয়াজিদ-হোসাইন সম্ভবত এখানে এসে যায়। আমরা জানি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাঃ কাবা শরিফকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে ছিলেন। বোধ হয়, ইয়াযিদের বদলে হোসাইন-আব্দুল্লাহ ধারা যদি পৃথিবীতে থাকতো, তাহলে দাস প্রথা অনেক আগেই উঠে যেত। প্রকৃত-পক্ষে, ইসলাম এবং দাস প্রথা কোন ভাবেই যায় না।

        4. শাহবাজ নজরুল

          ইয়াজিদ-হুসাইন (রা.) দের কথা আমার মতে এখানে তেমন প্রাসঙ্গিক নয়। অতএব, আমরা মূল লেখার বিষয়ে স্থর থাকি। এই বিষয়ে নাহয় অন্য কোথাও (যেখান প্রাসঙ্গিক) আলোচনা করা যাবে। 

          প্রকৃত-পক্ষে, ইসলাম এবং দাস প্রথা কোন ভাবেই যায় না।

          এই ব্যপারে আপনার সাথে একমত। তবে এই সামাজিক সমস্যার সুচারু ও বাস্তব ভিত্তিক সমাধান ইসলামেই দিয়েছে। ইসলামে দাসপ্রথা উঠিয়েছে প্রতক্ষ্য শিক্ষার মাধ্যমে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ছিল সামাজিক সমস্যা -- এটাকেও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হয়েছে। প্রাকটিক্যাল ওয়ে ফলো করে। এক্ষেত্রে আয়েশা (রা.) এর হাদিস স্মরণ করুন -- যেখানে তিনি বলছেন যদি প্রথম দিনেই ইসলামে মদ নিষিদ্ধ করা হত তবে কেউ তা মানত না -- অথচ যেদিন শেষ ধাপে মদ নিষিদ্ধ হয় -- সেদিন মদিনার রাস্তাই যেন মদের নহর বয়ে যাচ্ছিল। দাসপ্রথাও মূলত সামাজিক সমস্যা -- মদের সমস্যার চেয়েও অনেক গভীর ও ব্যাপক। তাই একে ধাপে ধাপে ইসলামে অবলুপ্ত করা হয়েছে। প্রথমত, আগে যেভাবে ১০ উপায়ে দাস হত -- তা কিন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যুদ্ধবন্দী ছাড়া দাস হবার রাস্তা ছিলনা। আর দাস মুক্তির তো অনেক পথ খোলা রয়েছে। দাস যদি মুক্তি চায় তবে বিনিময় মূল্যের বিনিময়ে তা দিতে মনিব বাধ্য। দাসের মানসিক মুক্তি এখানে বড় ব্যপার। খাচার পাখিকে বনে হঠাত ছেড়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়না। তাকে ধীরে ধীরে মুক্ত হতে শেখাতে হয়।  নয়তো সে মুক্ত হবার পরে হয়ত বাচতে পারবে না। এই সার্বিক ইস্যুটা সেনসিটিভ -- অনেকে এ নিয়ে কথায় বলতে ভয় পান। তবে মুক্ত মন নিয়ে আলোচনা না করলে হয়ত অনেক কিছুই বোঝা যায় না। সাদাত ভাইকে অন্তত বিশেষ সাধুবাদ জানাতেই হয় যে উনি এই বিষয়ে লিখেছেন -- আর তাও লিখেছেন মেথডিক্যালি।যাইহোক আপনার সাথে আলোচনা করে ভালই লাগলো। 

    2. 10.2
      সাদাত

      শাহবাজ ভাই,

      ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

      কমেন্টে আপনার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  21. 9
    এম_আহমদ

    ইসলাম বিদ্বেষীদের নোংরামি প্রোপাগান্ডার বিপক্ষে এটি সুন্দর উত্তর উপস্থাপন করে যাবে, ইনশাল্লাহ। তবে এখানে “উপপত্নীর” ধারণাটি বুঝে ওঠতে পারিনি। যৌনসম্পর্কের রূপ তো দুটিই। এক, সেই নারী স্ত্রী হবে অথবা দাসী (أمَة/سُرِّيَّة)। দাসীর সাথে যৌনসম্পর্ক যেখানে অমনিতেই ‘সামাজিকভাবে স্বীকৃত এবং বৈধ’ সেখানে ‘উপপত্নীর’ ধারণা কোথায় বসে সেটি জানি না। আবার বিবাহিত দাসী তো স্ত্রীর ক্যাটাগরিতে চলে আসে।

    ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে আমেরিকায় দাসপ্রথার বিপক্ষে আইন পাস হলেও তা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং আইনের পাশ কেটে বিভিন্নভাবে দাসপ্রথা চলেই যাচ্ছে। এটা এক বিরাট ইন্ডাস্ট্রি। আর নারী পুরুষের যৌনসম্পর্কের রূপ সাথে বর্তমান বিশ্বে যে কীরূপ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেদিন বাংলা কাগজেও এই মর্মে একটি খবর। (লিঙ্ক বিশ্বে ২ কোটি ১০ লাখ ক্রীতদাস কাজ করছে)। এভাবে বালিকা বিবাহের বিষয়টিও। ইউরোপে প্রতি বৎসর লক্ষ লক্ষ বালিকা একটিভ যৌনজীবন চালিয়ে যাচ্ছে আবার অনেক ভিন্ন কুকর্মে নামানো হচ্ছে। এটিকে কেন্দ্র করে চলছে রমরমা ব্যবসা। সারা বিশ্বেই এই রূপ! কিন্তু এই মেয়েরা যাদের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হচ্ছে তাদের জীবনের সঙ্গী হতে পারছে না, তাদের সয়-সম্পত্তির অংশ পাচ্ছে না, তাদের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু ও নাস্তিকদেরকে এসব নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না। যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানের নামে আমরা যে সমাজ ব্যবস্থা দেখি তা তো এক ফিতনার বাস্তবতা। এই সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন ব্যতীত মুক্তি নেই।

    1. 9.1
      সাদাত

      এম আহমদ ভাই, সব দাসীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক বৈধ নয়, পোস্টে অনেকগুলো ক্ষেত্র উল্লেখ করেছি। যেমন, যদি দুইজন সহোদর বোন একই মুনিবের অধীনে থাকে, সেক্ষেত্রে একজনের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করলে, সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আরেক জনের সাথে সম্পর্ক করা যাবে না। অথবা যে ক্রীতদাসি মুনিবের অনুমতিক্রমে অন্যের বিবাহাধীনে আছে তার সাথেও সম্পর্ক করা যাবে না। কাজেই ক্রীতদাসি ২ ধরণের (সারিয়্যাহ/আমাত):

      ১. সাধারণ ক্রীতদাসি, যাদেরকে আপনি 'আমাত' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

      ২. বিশেষ ক্রীতদাসি, যাদের সাথে মুনিবের দৈহিক সম্পর্ক রয়েছে। এদেরকে আপনি সারিয়্যাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সারিয়্যাহকেই ইংরেজিতে concubine ও বাংলায় উপপত্নী বলা হচ্ছে। 

  22. 8
    সরোয়ার

    খুবই প্রয়োজনীয় লেখা। আল্লাহ আপনাকে উপযুক্ত পুরুষ্কার দান করুন এবং আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন।

  23. 7
    কিংশুক

    আলহামদুলিল্লাহ! খুবই দরকারী লেখা। অনেকেই ইসলামে যুদ্ধবন্ধিনী ও ক্রীতদাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক বিষয়ক হাদিস দেখে হাদিসের উপরই বিশ্বাস রাখতে পারেনা, মনে করে কোরআন বিরোধী হাদিস। যেমন : আমাদের শ্রদ্ধেয় ডা: মাহফুজ শান্ত ভাই। ফারাবির লেখা হতে আগে এই বিষয়ে অনেক কিছু জেনেছিলাম। আজ আপনার লেখা পড়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি। জাজাকাল্লাহ খায়রান।

    1. 7.1
      মাহফুজ

      কেন ভাই, এ লেখার মাধ্যমে কি অমুসলিম কিংবা মুসলিম যুদ্ধবন্দীর সাথে যৌন সম্পক্য করার পারমিশন পেয়ে গেছেন? এমন কি তাদের সম্মতি না নিয়েই উপপত্নি বানিয়ে ভোগ করাতেও (ধর্ষণ) কোন বাধা থাকলো না- তাইনা?

      এই লেখা পড়ে যদি কোন মুসলিম নামধারী ব্যক্তি এরূপ ব্যভিচারে লিপ্ত হন- তাহলে তার দায় যারা এমনটি বিশ্বাস করেন তাদেরকে এবং সেই সাথে এই পোষ্টের লেখক এবং এইরূপ কুৎসিত ফতোয়া দানকারী তার উত্তরসূরীদেরকেও বহন করতে হবে।

      1. 7.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        কেন ভাই, এ লেখার মাধ্যমে কি অমুসলিম কিংবা মুসলিম যুদ্ধবন্দীর সাথে যৌন সম্পক্য করার পারমিশন পেয়ে গেছেন?

        লাইসেন্স কিভাবে পেয়ে গেছেন বোঝা গেলনা। আবেগ বাদ দিয়ে যুক্তি তর্কে আসুন -- তবে হাদিস যদি প্রথমেই বাদ দিয়ে দেন তাহলে তর্ক নিয়ে এগুনো মুশকিল। 

         

        এই লেখা পড়ে যদি কোন মুসলিম নামধারী ব্যক্তি এরূপ ব্যভিচারে লিপ্ত হন- তাহলে তার দায় যারা এমনটি বিশ্বাস করেন তাদেরকে এবং সেই সাথে এই পোষ্টের লেখক এবং এইরূপ কুৎসিত ফতোয়া দানকারী তার উত্তরসূরীদেরকেও বহন করতে হবে।

         

        এই লাইন পড়ে বুঝলাম আপনি লেখাটা পড়েনই  নাই।  পড়লে এই অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতেন না। 

         

         

      2. 7.1.2
        পাভেল আহমেদ

        @মাহফুজ: মনে হয় বাংলা লেখা পড়তে পারেন না। এই কারনেই এই অবস্থা! -_-

        এই লেখা থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থায় ইসলাম কৃতদাস রাখাকে কোনভাবেই সমর্থন করে না। এমনকি যুদ্ধের সময় কৃতদাস তৈরি হলেও সেখানে অসংখ্য শর্ত প্রযোজ্য! এয়ারটেলের প্যাকেজগুলো বোধহয় খুব একটা ব্যাবহার করা হয়নি এর জন্য শর্ত প্রযোজ্য কথাটা ঠিক বুঝা যাচ্ছে না! 😛

      3. 7.1.3
        আহমেদ শরীফ

        বাস্তবতা হচ্ছে ক্রীতদাসি আর যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে অতিপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা যথেচ্ছ, অমানবিক ও অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচারকে ইসলাম সীমিত, মানবিক ও নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে আনার পাশাপাশি তাদেরকে জৈবিক চাহিদা পূরণের একটি বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ প্রদান করেছে যার ফলে একদিক দিয়ে তাদের সন্তান জন্মগতভাবে স্বাধীন ও পিতার সম্পদের উত্তারিকারী হয়, অন্যদিক সন্তান গর্ভধারণের মাধ্যমে ক্রীতদাসিটি ক্রমান্বয়ে মুক্তি লাভ করে। মূল আলোচনায় যাবার আগে কয়েকটি বিষয় আমাদের ভালোভাবে মনে রাখতে হবে:

        ০.১ দাসপ্রথা ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং দাসপ্রথা অতিপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ইসলাম একদিকে সমাজে প্রচলিত অমানবিক দাসপ্রথাকে নিজ আওতার ভেতরে মানবিক করতে সচেষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে নানাবিধভাবে দাসমুক্তকরণের পথ উন্মুক্ত করেছে।

         

        এই অংশটা না পড়েই মন্তব্য করতে এসে গেলেন ! যে কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সেই সময়ের স্থান-কাল-পাত্রের প্রেক্ষাপটেই বিচার করতে হয় সেটাও জানেন না ?

        সেই সময়ের লব্ধপ্রতিষ্ঠিত একটি চিরাচরিত প্রথাকে এক ধাক্কায় কতটুকু পরিবর্তন করে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার শিকার ক্রীতদাসীদের প্রায়-স্বাধীন মানুষ হিসেবে বিবাহিত স্ত্রীর ৯০% সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেটা দেখুন। দেড় হাজার বছর আগের সেই বর্বর-পশ্চাৎপদ সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে এটি কি চমকপ্রদ ব্যাপার নয় ?

        আর এটা যে এখনও প্রচলিত বা প্রযুক্ত হবে সেটা তো কেউ বলছে না। একটি ঐতিহাসিক ঘটনার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে মাত্র। কোরআনের বেশকিছু আয়াতের প্রেক্ষাপটে কিছু হুকুমসমূহকে এ পর্যন্ত 'মানসুখ' বা অপ্রযোজ্য ঘোষণা করা হয়েছে যেসব সেই জমানার প্রেক্ষাপটেই প্রযোজ্য ছিল, এই সময়ের জন্য আর প্রযোজ্য নয়। কোথাও ইসলামিক খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলেই এখন আর 'দাসপ্রথা' নতুন করে চালু করা যাবে এরকমও নয়।

        কাজেই মাথা ঠান্ডা করে লেখাটি আবার খুঁটিয়ে পড়েন। সেই জমানাতেই যদি এতটুকু সংষ্কার এক ধাক্কায় সম্ভব হয় তাহলে বুঝতে হবে এটি অতিমাত্রায় সভ্য একটি ধর্ম যা সেই অন্ধকার যুগেই সূর্যালোকের মত আলো ছড়িয়েছিল। তাহলে সেই একই আলোকবর্তিকা এই যুগে আবার অন্ধকারে ফিরে যাবার প্রশ্ন স্বভাবতঃই অচিন্তনীয় এটা উপলব্ধি করাও খুব সহজ।

         

  24. 6
    সারওয়ার

    ভাই লেখাটি পরে অনেক কিছু জানতে পারলাম। তারপরেও আমার ৪টি প্রশ্ন আছে। সেগুলো হল ঃ (১)বর্তমানেতো কোন ইসলামী রাষ্ট্র নেই। তাহলে মুসলিম রাষ্ট্র যেমন পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সাথে যদি ভারতের বা অন্য কোন অমুসলিম রাষ্ট্রের যুদ্ধ হয় তাহলে কি নারী যুদ্ধ বন্দীদের দাসী হিসেবে ব্যাবহার করা যাবে?(২) যদি ভারতের বা অমুসলিম রাষ্ট্রের নারী বন্দিনী মুসলমান হয়, তাহলে ও কি তারা দাসী হিসেবে গণ্য হবে? (৩)যদি মুসলিম রাষ্ট্র বনাম মুসলিম রাষ্ট্র যুদ্ধ হয় তাহলে কি নারী বন্দীরা দাসী হিসেবে গণ্য হবে? (৪)যদি কোন ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয় এবং তার সাথে কোন মুসলিম রাষ্ট্রের যুদ্ধ হয় তখন কি নারী যুদ্ধ বন্দীরা দাসী হিসেবে সাব্যস্ত হবে?বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

    1. 6.1
      মাহফুজ

      আপনার প্রশ্ন গুলোর সাথে আমিও প্রশ্ন রাখলাম-

      ৫) যদি যুদ্ধবন্দীনি মুসলিম কিংবা অমুসলিম হয় এবং সে যদি তার মুনিবের সাথে যৌন সম্পক করতে কখনই সম্মতি না দেয়, তখন কি হবে?

      ৬) আপনার দেয়া ছকে বলা হয়েছে- মুনিব তার কোন ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পক স্থাপন করলে তাকে উপপত্নি/ সারিয়াহ বলা হয়। তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যে, ইসলাম মুনিবদেরকে উপপত্নি গ্রহণের পারমিশন দেয়-নাউযুবিল্লাহ। আল-কোরআনেে আদৌ কি উপপত্নি গ্রহণের অপশন রাখা হয়েছে, নাকি এর বিপক্ষেই বলা হয়েছে?

      (০৪:২৫) অর্থ- আর তোমাদের মধ্যে কেউ মুহসানাতিল মু’মিনাতিকে বিয়ে করার সামর্থ্য না রাখলে, "তোমাদের ( مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ) ডান হাতের অধিকারভুক্ত" নারীকে (বিয়ে কর); এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন; তোমরা (ইমানদাররা) পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর- বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য, ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হিসিবে নয়। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে ইমানদার সধবাদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা পাপের ভয় করে। আর যদি ধৈর্য্য ধারণ কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম-করুণাময়।

       

    2. 6.2
      সাদাত

      ১-না,২-না,৩-না,৪-না।

  25. 5
    ওমর ফারুক

    খুব সেন্সিটিভ একটা বিষয়কে খুব সুন্দরভাবে এক্সপ্লেয়ন করেছেন………এটা আমাদের অনেক মুসলমানের মনের বিতর লুকায়িত সংশয়কে দূর করবে………ইনশাল্লাহ।
    যাজাকাল্লাহ খায়ের।

  26. 4
    ইনতেহাব হোসাইন জাওয়াদ

    লেখাটি অসাধারন তথ্যবহুল এবং শিক্ষনীয়। তবে একটু বেশি বড় হয়ে গেছে। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ন কিছু বাক্য ছেটে ফেলে লেখাটিকে আরেকটু সংক্ষিপ্ত করলে আরো ভাল হবে।

  27. 3
    রাসেল ইউসুফী

    আলহামদুলিল্লাহ!

    মন ভরে পড়লাম লেখাটি! এরকম একটা লেখাই বিগত প্রায় চার বছর ধরে হন্যে হয়ে    খুঁজে ফিরছিলাম। কতজনকে যে বলেছি এধরনের একটি লেখার জন্য তার কোন  ইয়ত্তা নাই!

    একটা কথা বলি সাদাত ভাই, আমার মনে এই ব্যাপারটি নিয়ে এতদিন যে  সংশয়-সন্দেহ ছিল তার  সবটুকুই আজ দূরীভূত হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ!  মনে হচ্ছে বিরাট  একটা বোঝা থেকে যেন ‍মুক্তি পেলাম আজ!                                                                                                                 

    আল্লাহর কাছে দোয়া করি  এই লেখাটিই যেন আপনার মুক্তির সনদ হয়ে দাঁড়ায়। ভালো থাকবেন।

  28. 2
    Shahriar

    Thanks,
    Very fruitful write. Pls keep going.

  29. 1
    সাদাত

    লেখাটা এখনো ঠিক মনের মতো হয় নাই, আরো অনেক সম্পাদনার দরকার ছিল। কিন্তু অনেককে অনেকদিন থেকে অপেক্ষায় রেখেছি এই সংক্রান্ত লেখা দেবো বলে। তাই দিয়ে দিলাম, পরে আরো সংস্কার করতে হতে পারে। পাঠকদের নজরে কোন ভুল-ভ্রান্তি চলে এলে, জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

Comments have been disabled.