«

»

Oct ০৩

কুরআন কি মুহাম্মাদ সা.কে কেউ আগে থেকেই শিখিয়ে দিয়েছিল: একটি গাণিতিক পর্যালোচনা

যারা কুরআনকে স্রষ্টার বাণী হিসেবে স্বীকার করে না, তাদের জন্য এটাই স্বাভাবিক ছিল যে তারা কুরআনকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী সাব্যস্ত করবে। কিন্তু এত প্রভাবশালী একটি গ্রন্থ রচনার কৃতিত্ব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এককভাবে দিতেও ইসলাম-বিদ্বেষীদের আঁতে ঘা লাগে। তাদের একটি দাবি হচ্ছে কুরআনকে বা এর অংশ বিশেষকে আগে থেকেও কেউ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিখিয়ে দিয়েছে। দাবিটি কতটুকু বাস্তবসম্মত বা বাস্তবতা-বিবর্জিত এই লেখায় আমরা সেটাই দেখার চেষ্টা করবো।

কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এক অভিনব পদ্ধতিতে। আল্লাহতায়ালা সম্পূর্ণ কুরআনকে একসাথে নাযিল না করে অল্প অল্প করে নাযিল করেছেন। কখনো এক সূরার কিছু অংশ, তারপর অন্যান্য সূরার কিছু অংশ, অত:পর আবার সেই আগের সূরার কিছু অংশ- এভাবে। আর কুরআনের একটা বিশাল অংশ নাযিল হয়েছে বিভিন্ন অবস্হার পরিপ্রেক্ষিতে। কখনো অবিশ্বাসীদের প্রশ্নের উত্তরে, কখনো তাদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের প্রত্যুত্তরে, কখনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান বিধানে, কখনো মুসলিমদের সাহস যোগাতে বা সতর্ক করতে, ইত্যাদি। আসুন এক নজরে দেখে নিই আল-কুরআনের কোন্ সূরায় কতগুলো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আয়াত নাযিল হয়েছে:

সূরা নম্বর

শানে নুযুলের সংখ্যা

সূরা নম্বর

শানে নুযুলের সংখ্যা

সূরা নম্বর

শানে নুযুলের সংখ্যা

1

1

39

6

77

0

2

80

40

0

78

0

3

48

41

2

79

0

4

45

42

3

80

2

5

22

43

1

81

1

6

16

44

1

82

0

7

6

45

1

83

1

8

10

46

2

84

0

9

26

47

0

85

0

10

2

48

3

86

1

11

2

49

9

87

0

12

1

50

1

88

0

13

4

51

0

89

0

14

0

52

0

90

0

15

4

53

3

91

0

16

12

54

2

92

1

17

10

55

0

93

3

18

5

56

4

94

0

19

3

57

2

95

0

20

2

58

8

96

1

21

1

59

2

97

1

22

4

60

4

98

0

23

4

61

1

99

1

24

10

62

1

100

1

25

3

63

1

101

0

26

0

64

1

102

1

27

0

65

3

103

0

28

4

66

2

104

0

29

4

67

1

105

1

30

1

68

2

106

1

31

4

69

1

107

1

32

2

70

2

108

1

33

10

71

0

109

1

34

0

72

0

110

1

35

0

73

0

111

1

36

2

74

2

112

1

37

0

75

1

113

1

38

1

76

1

114

 

মোট=349

 

মোট=73

 

মোট=23

সর্বমোট শানে নুযুল = (349+73+23) = 445

 

[নোট: ১১৩ এবং ১১৪ নং সূরার মোট ১১টি আয়াত একটিমাত্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়।]

উল্লেখ্য ওয়াহিদি’র ‘আসবাব আল নুযুল’ কুরআন অবতরণের প্রেক্ষাপট আলোচনার ক্ষেত্রে একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। এই হিসাব শুধু ওয়াহিদি’র ‘আসবাব আল নুযুল’কে ভিত্তি করেই করা হয়েছে, ফলে অনেক শানে নুযুল এখানে বাদও থাকতে পারে। তবু এই হিসেবেও দেখা যাচ্ছে আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত অন্ত:ত ৪৪৫টি বিভিন্ন ঘটনা বা পরিস্থিতির প্রেক্ষিত নাযিল হয়েছে।

যেসব সূরায় কোন শানে নুযুল নেই সেগুলোর সূরা নম্বর হচ্ছে: 14, 26, 27, 34, 35, 37, 40, 47, 51, 52, 55, 71, 72, 73, 77, 78, 79, 82, 84, 85, 87, 88, 89, 90, 91, 94, 95, 98, 101, 103, 104.

এই সূরাগুলোর মোট আয়াত সংখ্যা হচ্ছে: (52 + 227 + 93 + 54 + 45 + 182 + 85 + 38 + 60 + 49 + 78 + 28 + 28 + 20 + 50 + 40 + 46 + 19 + 25 + 22 + 19 + 26 + 30 + 20 + 15 + 8 + 8 + 8 + 11 + 3 + 9)=1398, যা কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যার (১৩৯৮*১০০/৬২৩৬)= ২২% মাত্র।

যেসব সূরায় শানে নুযুল আছে এমন সূরাসমূহের মোট আয়াত সংখ্যা=(৬২৩৬-১৩৯৮)=৪৮৩৮, অর্থাৎ গড়ে এসব সূরার প্রতি (৪৮৩৮/৪৪৫)বা ১১টি আয়াতের বিপরীতে ১টি করে ঘটনা বা পরিস্থিতি রয়েছে। 

কাজেই কুরআনের এই বিশাল অংশ মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে কেউ আগে থেকেই শিখিয়ে দিয়ে রাখার সম্ভাবনা অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।

এবার আসুন কুরআনের প্রথম তিনটি (বড়) সূরায় শানে নুযুলের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি-

১. সূরা বাকারায় শানে নুযুলের উপস্থিতি

bngsadat_shane_nujul_1

২. সূরা আলে ইমরানে শানে নুযুলের উপস্থিতি

bngsadat_shane_nujul_2

৩. সূরা আন-নিসায় শানে নুযুলের উপস্থিতি

bngsadat_shane_nujul_3

আল কুরআনের অধিকাংশ হুকুম আহকামই এসে গেছে শানে নুযুল বিশিষ্ট সূরাসমুহে, অন্য সূরাগুলো মূলত উপদেশমূলক। আল-কুরআনের সবচেয়ে বড় বড় সূরাগুলোই সবচেয়ে বেশি শানে নুযুলবিশিষ্ট। এমতাবস্থায় কুরআন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আগে থেকেই কেউ শিখিয়ে দিয়ে রাখবে এমন সম্ভাবনা নিতান্তই একটি কষ্টকল্পনা মাত্র।

সুত্র:

আল ওয়াহিদির আসবাব আল নুযুল। এখানে দেখুন: http://www.altafsir.com/WahidiAsbabAlnuzul.asp

 

–সমাপ্ত–

 

 

সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক: যে সত্য বলা হয়নি

হাদিসে অবিশ্বাসের অযৌক্তিকতা

সাধারণ লেখাসমূহ:

আরো দেখুন>>>

 

২২ comments

Skip to comment form

  1. 14
    Md.Anowar Hossain Molla.

    খুবই যৌক্তিক লেখা লিখেছেন।কুরআন এ এক অলৌকিকের অলৌকিক।

  2. 13
    shahriar

    jajak-allah.

  3. 12
    সরকার সানজিদ আদভান

    খুব যুক্তিপুর্ন একটি লেখা।শানে নুযুলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কুরআন কোনভাবেই পূর্ব থেকে কোন মানুষ মুহাম্মদ(স) কে কুরআন শেখাতে পারে না।

  4. 11

    আলহামদুলিল্লাহ্‌

  5. 10
    রিজভী আহমেদ খান

    পড়ে ভালো লাগল।জাযাকাল্লাহ খাইর

  6. 9
    শাহবাজ নজরুল

    ভালো একটি লেখা উপহার দেবার জন্যে ধন্যবাদ।

    গ্রাফ-গুলোতে "ফ্রিকোয়েন্সি" এর বদলে "বিন্যাস" কিংবা "ডিসট্রিবিউশন" লিখলে বেশি শুদ্ধ হয়। আমার মনে হয় "ফ্রিকোয়েন্সি"-র হিসেবে বাকারাতে "আছে-৮০", "নাই-২০৬" এমন  দ্বিমিক (binomial) গ্রাফ অংকিত হবে।

    1. 9.1
      সাদাত

      পোস্ট পাবলিশ করার সময়, বিষয়টা আমিও চিন্তা করছিলাম। আসলে লেখাটা অনেক আগে তৈরি করা, গ্রাফসম্বলিত ছবিগুলো সহ। ছবি এডিটিং করার ঝামেলা পোহাতে চাচ্ছিলাম না। যাক আপনি যখন বিষয় সামনে এনেই ফেলেছেন, এখন তো কিছু একটা করতেই হয়।

  7. 8
    Raihan

    ধন্যবাদ ভাল একটি পোস্টের জন্য।
    যারা বলে মুহাম্মদ (সাঃ) কে আগে থেকে কোরআন শিখান হয়েছে বা তিনি নিজে লিখেছেন কোরআন।
    তার পূর্ব জীবন কাহিনীতে খেয়াল করলে দেখা যায়।তার জীবনে কোন শিক্ষা গ্রহণ করেন নি।তিনি লেখতেও পাড়তেন না।
    কোরআনের একটি আয়াত আছে—
    (যুদি মুহাম্মদ কোরআন নিজে লেখত,তাহোলে আমি তার কব্জি কেটে দিতাম)--
    তাহোলে বুঝা যায় কোরআন মুহাম্মদ (সাঃ) লিখিত বাণী নয়।
    যারা মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যাঙ্গো করে,তাদের একটা কথা বলব,ভাল করে ধর্ম বিষয় জানুন,এবং আপনারা নাস্তিক ভাইগন একটা কোরআন তৈরি করে দেখান।

  8. 7
    আঃ ছাত্তার

    ‘সত্য প্রচার
    ধন্যবাদ সাদাত ভাই;
    আশাকরি আরো লিখবেন

  9. 6
    সাদাত

    লেখার প্রারম্ভে ব্র্যাকেটের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হলেও লেখার মূল বিষয়টি কিন্তু সেই ঘটনার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং লেখাটি "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেউ আগে থেকেই কুরআন শিখিয়ে দিতে পারে কি-না" তার একটি গাণিতিক বিশ্লেষণ। সুতরাং পাঠকবর্গ তাদের মনযোগ সেই একটি বিশেষ ঘটনার দিকে নিবদ্ধ না রাখলে ভালো হয়। ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      সাদাত

      বিশেষত এম_আহমদ ভাইয়ের অনুরোধে ব্র্যাকেটের অংশটুকু মুছে দিলাম, কেননা এই অংশটুকু আসলে মূল লেখার কোন অংশ নয়, কাজেই পাঠকের দৃষ্টি মূল অংশেই নিবদ্ধ থাকা উচিত।

  10. 5
    এম_আহমদ

    কিছুদিন আগে এমন একটি দাবি পেশ করা হয় যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মেরও আগের একটি কুরআনের কপি পাওয়া গেছে।এই দাবীটি কারা করল? বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তো এই দাবী করে নি, বরং তারা এটা নবীর সময়ের অথবা তার মৃত্যুর কিছু কালের মধ্যেই উল্লেখ করেছে। সিরিয়াস কোন অথোরিটি এমনটি  এখনও বলতে শুনি নি। তবে বাংলার কিছু অপরিপক্ব অবৈজ্ঞানিক নাস্তিক এবং ছোপা নাস্তিক কিছু কিছু কথা বলেছেন এবং ইউরোপের খাটি ইসলাম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডিস্ট কেউ হয়ত বলে থাকতে পারেন, তবে আমি দেখিনি। কোন এক ছোপা নাস্তিকের লেখা পড়ে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত এক সাপ্তাহিক (বাংলা ভয়েস) পত্রিকার সম্পাদক আমাকে এ বিষয়ে ফোন করলে আমি তার জন্য নিচের কথাগুলো লিখে পাঠাই।  

    বার্মিংহামে প্রাপ্ত কোরানের অংশ
    গত ২২ জুলাই ২০১৫ বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির ক্যাডবারি রিসার্চ লাইব্রেরী (Cadbury Research Library) থেকে বলা হয় যে তাদের মিঙ্গানা কালেকশনের (Mingana Collection of Middle Eastern Manuscripts) মধ্যে বিশ্বের পুরাতন কোরানের কপি পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সূরাহ কাহাফ, মারিয়াম এবং সূরাহ তা-হা। এই কপিকে তারা রেডিও কার্বন ডেইটিং (Radio Carbon Dating) করিয়েছেন। তবে কার্বন ডেইটিং একদম নির্ভুল কোন প্রসেস নয়। এতে কালের অনেক ব্যতিক্রম থেকে যায়।মিলিয়ন মিলিয়ন বৎসরের ব্যাপার হলে হাজার হাজার বছরের এদিক সেদিক থেকে থাকে এবং হাজার বছরের বিষয় হলে শো বছরের এদিক সেদিক থাকে। তবে এক্ষেত্রে কার্বন ডেইটিং ৯৪% নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ৭৭ বছরের ব্যবধানে স্থাপন করেছে। এই ডেইটিং যা প্রকাশ করেছে তা হল মেনুস্ক্রিপটি ৫৬৮ খৃ. থেকে (অর্থাৎ রাসূলের (সা) জন্মের দুই বছর পূর্ব থেকে) ৬৪৫ খৃ. পর্যন্ত (অর্থাৎ রাসূলের (সা) মৃত্যুর ১৩ বৎসর পর) -এই সময়ের মধ্যে লেখা হয়ে থাকবে। এব্যাপারের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির ‘খৃষ্টিয়ানিটি অ্যান্ড ইসলাম’ বিষয়ের প্রফেসর ডেভিড টমাস বলেন, “This manuscript could well have been written just after he [Muhammad] died. ‘এই মেনুস্ক্রিপটটি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর পরই লিখিত হয়ে থাকবে” [১]। প্রফেসর টমাস এবং বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির ইন্টার-রিলিজাস রিলেশন এর প্রফেসর নাদির দীনসো যৌথ বিবরণে বলেন, ‘They could well take us back to within a few years of the actual founding of Islam, এগুলো আমাদেরকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই নিয়ে যেতে পারে” [২]।
    ____________

    [১] University of Birmingham. (2015). University of Birmingham Qur’an manuscript among world’s oldest . [Online Video]. 22 Jul 2015. Available from: https://www.youtube.com/watch?v=C-HDFiC2boQ. [Accessed: 02 September 2015].

    [২] University of Birmingham, (2015). Birmingham Qur'an manuscript dated among the oldest in the world. [online] Available at: http://www.birmingham.ac.uk/news/latest/2015/07/quran-manuscript-22-07-15.aspx [Accessed 2 Sep. 2015].  

    ____________

    নোট: গতকাল থেকে (০২/১০/২০১৫) আগামী ২৫ অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এই মেনুস্ক্রিপ্টটি প্রদর্শনের জন্য রাখার কথা। দেখব, আগামী সপ্তাহ নাগাত যেতে পারি কীনা।   

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      সংশোধন: উপরের মন্তব্যের প্রথম উদ্ধৃত অংশটি ভুল হয়েছে। উদ্ধৃত অংশটি হবে, "প্রকারান্তরে দাবিটি হচ্ছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআনে আগে থেকেই কেউ শিখিয়ে দিয়েছিল।"

    2. 5.2
      এম_আহমদ

      (১) আসলে প্রথমে উভয় বাক্য একত্রে সংযুক্ত করতে ভুল হয়েছিল। এই দুটি কথাই উদ্দেশ্য:  [ক] কিছুদিন আগে এমন একটি দাবি পেশ করা হয় যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মেরও আগের একটি কুরআনের কপি পাওয়া গেছে। [খ] প্রকারান্তরে দাবিটি হচ্ছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন আগে থেকেই কেউ শিখিয়ে দিয়েছিল।

      (২) বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির মিঙ্গানা কপির সাথে যদি উল্লেখিত দাবী না থাকে, তবে এই কথাগুলো বাদ দিয়ে বা তা অন্যভাবে লিখে বা সাধারণী (general) অর্থের কথা দিয়ে শুরু করলে প্রবন্ধটির সার্বিক অর্থের অনুভূতি প্রথম থেকেই পাওয়া পাওয়া যাবে। এমনটিই আমার মনে হয়। আর তা করা হলে, আমার মন্তব্য মুছে ফেলা যেতে পারে। বার্মিংহাম কপির বাইরে আবহমান কাল থেকে কোরানের উৎসের ব্যাপারে (কুফফার মহল থেকে) কথা বলা হয়ে আসছে বরং অহির যুগেও তা বলা হচ্ছিল (২৫:৪-৫)।

  11. 4
    ফাতমী

    রেডিও-কার্বন এনালাইসিস থেকে জানা যায় বার্মিংহামে পাওয়া কোরান শরীফের অংশটুকুর ৯৫% কনফিডেন্সের সাহিত তারিখ ৫৬৮-৬৪৫ সালের মধ্যে (ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম), রাসূল সা এর জন্ম ৫৭০-মৃত্যু ৬২৩। তাহলে এটা রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় লিখা হয়েছে, অথবা কিছু পরে সাহাবীদের যুগে। কিছু মানুষ উপরের লিমিট ৫৬৮ দেখে লাফ দিয়ে উঠছে কিন্তু নিচের লিমিট যে ৬৪৫ সেটা বুঝে উঠে নাই। কিন্তু রাসূল সা এর যুগে কাগজ এত সুপ্রাপ্য ছিল না, অনেক সময় কাগজ তৈরির অনেক বছর পর  (অথবা ইম্পোর্ট করতেও অনেক বছর লাগত) সেখানে লেখা হত অথবা আগের লেখা মুছে নতুন করে উক্ত কাগজে লিখা হত। তাই, খুব স্বাভাবিক ভাবেই কিছু কাগজের কার্বন-ডেইটিং পুরাতন দেখাতে পারে। 
     

  12. 3
    কিংশুক

    আমার কাছে মোহাম্মদী বুক হাউজ থেকে প্রকাশিত মাওলানা সাঈদ আল মিসবাহ এর “শানে নুযুল” নামে একটি বই আছে যা 1। আল্লামা সূয়ূতী রচিত ‘লুবানুল নুকূল ফী আসবানিন নুযূল 2। আল্লামা ওয়াহদী রচিত ‘আসবানুন নুযুল’ 3।তাফসিরে কুরতুবী 4। ই বনে কাঁসির 5। তাফসিরে মারেফুল কোরআন হতে সংকলন করা হয়েছে ।আমি মাত্র 150 টাকা হাদিয়াতে কিনে ছিলাম। সেখানে কিছু কিছু সুরাতে আপনার উল্লেখ করা শানে নুযুলের চাইতেও বেশী উল্লেখ করা আছে। আসলে আল্লাহ্ যাদেরকে অন্ধ করে বানিয়েছেন তারাই আসল ছাগু ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (ইমানের বেপারে)। তারা ডারউইনিজমে অন্ধ বিশ্বাস করতে পারে, কিভাবে বেকটেরিয়া গুতাগুতি করে হার্ট নামক বা ব্রেণ নামক জটিলতম নিখুঁত অংগ বানাতে পারে তা চিন্তা করতে পারেনা ঐদিকে আবার জীববিদ্যায় পিএইচডি নিয়ে বসে আছে! সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করেনা কিন্তু নিজের সুন্দর তম, জটিল তম শরীর, জীবজগত মহাবিশ্ব এমনি এমনি হয়ে গেছে বিশ্বাস করে! আবার মানুষকেই বিশ্ব জগতের সৃষ্টি কর্তা জেসাস, বড় খোদার ছেলে বলে বিশ্বাস করে। বিশ্বজগতের সৃষ্টি কর্তার মানুষ রুপী ছেলে হাহামগে! আর আগামাথা হীন রুপকথার হিন্দু বৌদ্ধ দের কথা নাইবা বল্লাম। ব্যাক্তিগত সম্পদ রাষ্ট্রীয়করন করে সমঅধিকার কায়েম করানোর চার পাতার অর্থনৈতিক থিয়োরী যাকে মার্ক্সিজম ইত্যাদি সমাজতান্ত্রিক থিয়োরী বলে তা বুজা নিউটনের গতিসূত্রের চাইতেও সহজ। ঐ ব্যর্থ থিয়োরীর ব্যক্তিগত সম্পদবিহীন রাষ্ট্র গঠন করতে গিয়ে 10 কোটি মানুষ মেরে দূর্ভিক্ষ লাগিয়ে এখন কমুনিষ্ট লাওস ভিয়েতনাম এমনকি কিউবাতেও বেক্তিগত সম্পদ ব্যবসা সব আছে। সেই তো মল খসালি তবে কেন থিয়োরীর পরীক্ষাগারের গিনিপিগ বানিয়ে 10 কোটি মানুষ মার লি? অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিচার করলে নেপালের চাইতেও দরিদ্র 90 এর দশকে 20 লক্ষ না খেয়ে মরা কিন্তু দুই মিলিয়ন আর্মি পালা এটম বোমা বানিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়া উঃ কোরিয়া কোন ভালো মানুষের জাত না। ঐসব ছাগুরাই কোরআন সম্পর্কে কোন চিন্তা গবেষণা না করেই এসব ফালতু কথা বলে। কোরআন কেন মানুষের লেখা হতে পারেনা সে বিষয়ে এস এম রায়হান ভাইয়ের খুবই ভালো একটি লেখা সদালাপেই আছে। জাজাকাল্লাহ খায়ের সাদাত ভাই। আপনার লেখার জন্য সব সময় প্রতীক্ষায় থাকি। আপনার কাছ থেকে সঠিক কিছু শিখতে পারি।

    1. 3.1
      শামিম

       আপনাকে ধন্যবাদ, আজকের এই প্রযুক্তির যুগে এসে অন্য সব ধর্মের বিশ্বাসিরা যখন তাদের ধর্মের ব্যপারে চরম হতাশ তখন একমাত্র ইসলামই মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে যাচ্ছে  । ফলে খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, নাস্তিক মিশনারিরা একজোট হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা প্রপগন্ডা ছড়াচ্ছে। তারা মানব রচিত নানান থিউরি মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে পৃথবীকে বিষাক্ত করে রেখেছে,কোটি কোটি মানুষকে তারা নির্বিচারে হত্যা করছে । যুদ্ধ-বিগ্রহ,অশ্লীলতা, সুদ-ঘুষ, পরিবেশ বিপর্যয় আজ সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। 

       

    2. 3.2
      আবু সাইফ

      আসসালামু আলাইকুম………..

      মোহাম্মদী বুক হাউজ থেকে প্রকাশিত মাওলানা সাঈদ আল মিসবাহ এর “শানে নুযুল” নামে

      ঐ বইটা কি এখন বাজারে আছে?   পাবার উপায় কী?

       

      1. 3.2.1
        কিংশুক

        @আবু সাইফ: জ্বি ভাই, ঢাকায় সহজেই পাবেন। আমি যেখান থেকে কিনেছিলাম: মাকতাবুস সালাম- 1127/বি, হাজিপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা-1219, হাজীপাড়া পেট্রাল পাম্পের পিছনে, কইরা বাংলাদেশের বিপরীতে। ফোন-01557379480, 01556342040।
        কিতাবটির প্রকাশক- মোহাম্মদী বুক হাউজ, ইসলামী টাওয়ার, বাংলাবাজার। ফোন- 01199139471, 01190110450।
        পরিবেশনায় -- মাকতাবুল আতিক, আদর্শ নগর, মধ্যবাড্ডা, ঢাকা । ফোন -- 01712857570, 01745022290, 01675954831।

        1. 3.2.1.1
          আবু সাইফ

          জাযাকাল্লাহ….

  13. 2
    সাব্বির আহমেদ সজীব

    ধন্যবাদ ভাই,আপনার লেখা থেকে অনেক তথ্য জানতে পারলাম।

  14. 1
    Ahnaf

    JazakAllahu khairan. Very well-written. May Allah subhanahuwata'la reward you. 

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.