«

»

Dec ২৩

কুরআন এবং মুহাম্মাদ সা.কে স্বীকার না করেও আহলে কিতাবগণ নাজাত পেতে পারে কি?

ইসলামের কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সমগ্র কুরআন এবং সুন্নাহকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্তটি নিতে হয়। কোন বিশেষ আয়াত বা কোন বিশেষ হাদিসকে সামনে রেখে, অন্যান্য আয়াত এবং হাদিস ও সুন্নাহকে আমলে না নিয়ে যদি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তবে সেই সিদ্ধান্তটি ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। অনেকেই দাবি করে থাকেন ইহুদি খ্রিস্টানদের মধ্যেও যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তারাও নাজাত প্রাপ্ত হবে। তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নের (বা এ ধরণের) কুরআনের আয়াত বিশেষঃ

নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে )যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।[২:৬২]

কোন সিদ্ধান্তে আসার আগে আসুন কুরআনের আরো কিছু আয়াত থেকে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই-

এক. মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু ‘আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম) কি শুধু মক্কার/আরবের/দুনিয়ার মুশরিকদের কাছে এসেছেন, নাকি আহলে-কিতাবদের কাছেও এসেছেন?

হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন! কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। [৫:১৫]

হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান। [৫:১৯]

দুই. ইসলাম পৌঁছে যাবার পর আহলে কিতাবদের অনুসরণ করা যাবে কিনা?

যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না। যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। [২:১৪৫]

তিন. আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মানা যাবে কিনা?

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে। [৩:১০০]

চার. আহলে কিতাবদের ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে কিনা?

فَإنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلّهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ وَالأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُواْ فَقَدِ اهْتَدَواْ وَّإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَاللّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, “আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি/ইসলাম গ্রহণ করেছি [আসলামতু]।” আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ/ইসলাম গ্রহণ করেছ [আআসলামতুম]? তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে/ইসলাম গ্রহণ করে [আসলামু-], তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা। [৩:২০]

যদি শুধু আল্লাহ ও কিয়ামতে ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে সৎকর্ম করা নাজাতের জন্য যথেষ্ট হতো তবে আহলে কিতাবদের নতুন করে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত কেন দিতে হবে?

পাঁচ. আহলে-কিতাবদের জন্য কুরআন স্বীকার করার দরকার আছে কি?

হে আহলে-কিতাবগণ, কেন তোমরা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরাই তাঁর প্রবক্তা? [৩:৭০]

হে আহলে কিতাবগণ, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে সংমিশ্রণ করছ এবং সত্যকে গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জান। [৩:৭১]

ছয়. আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা ঈমানদার তাদের জন্য কুরআনের ওপর ও ঈমান আনা জরুরি কিনা?

আর আহলে কিতাবদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে, যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং যা কিছু তোমার উপর অবতীর্ণ হয় আর যা কিছু তাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর উপর, আল্লাহর সামনে বিনয়াবনত থাকে এবং আল্লাহর আয়াতসমুহকে স্বল্পমুল্যের বিনিময়ে সওদা করে না, তারাই হলো সে লোক যাদের জন্য পারিশ্রমিক রয়েছে তাদের পালনকর্তার নিকট। নিশ্চয়ই আল্লাহ যথাশীঘ্র হিসাব চুকিয়ে দেন। [৩:১৯৯]

সাত. আহলে-কিতাবদের মধ্যে যারা কুরআন মানে না, তারা কাফের কিনা?

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّىَ تُقِيمُواْ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا فَلاَ تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এ কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না। [৫:৬৮]

এখানে “যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে” বলতে তাওরাত, ইঞ্জিলের পরের কিতাব কুরআনকে নির্দেশ করা হচ্ছে তা না বুঝার কোন কারণ নেই। তথাপি বিষয়টিকে আরো সুস্পষ্ট করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো যেঃ আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। তাহলে দেখা হচ্ছে আহলে কিতাবগণ কর্তৃক কুরআন অস্বীকার করাকে “কুফর” বলা হচ্ছে। এবং এই অস্বীকারকারিদের “কাফের সম্প্রদায়” বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

আট. আহলে-কিতাবদের মধ্যে যারা কাফের তাদের পরিণতি কী?

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُوْلَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ

আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। [৯৮:৬]

ওপরের দুই আয়াত একত্রিত করলে দেখা যাচ্ছেঃ
আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুরআন অস্বীকার করে, তারা কাফের এবং তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে।

এবার আসুন এই সিদ্ধান্তটি কতটুকু সঠিক তা হাদিস থেকে যাচাই করে দেখিঃ

আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, এই উম্মাতের যে কোন ইহুদি বা খ্রিষ্টান আমার কথা শুনবে অতঃপর যা কিছুসহ আমি অবতীর্ণ হয়েছি সে সকল বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন না করেই মৃত্যুবরণ করবে, সে দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ মুসলিম, দেখুনঃ http://sunnah.com/muslim/1/293)

এবার আসুন সেই বিখ্যাত/বহুল আলোচিত আয়াতের দিকে দৃষ্টিপাত করি:

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَادُواْ وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحاً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে )যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।[২:৬২]

এখন যদি ওপরের আয়াতগুলোকে এবং হাদিসটিকে সামনে রাখা হয়, তবে এই আয়াতের অর্থ বুঝাবে:

মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু ‘আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম)এর আগমনের আগে বা ইসলামের দাওয়াত পৌঁছার আগে যেসব ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।

এই ব্যাখ্যা শুধু যে ওপরের আয়াতগুলোকেই অর্থপূর্ণ করে তোলে তাই নয়, বরং এটিই (২:৬২) আয়াতের বিশুদ্ধ তাফসির: [দেখুন তাফসির ইবনে কাসির]

The Meaning of Mu’min, or Believer

`Ali bin Abi Talhah narrated from Ibn `Abbas, about,

[إِنَّ الَّذِينَ ءَامَنُواْ وَالَّذِينَ هَادُواْ وَالنَّصَـرَى وَالصَّـبِئِينَ مَنْ ءَامَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الاٌّخِرِ]

(Verily, those who believe and those who are Jews and Christians, and Sabians, whoever believes in Allah and the Last Day) that Allah revealed the following Ayah afterwards,

[وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَـمِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِى الاٌّخِرَةِ مِنَ الْخَـسِرِينَ ]

(And whoever seeks religion other than Islam, it will never be accepted of him, and in the Hereafter he will be one of the losers) (3:85).

This statement by Ibn `Abbas indicates that Allah does not accept any deed or work from anyone, unless it conforms to the Law of Muhammad that is, after Allah sent Muhammad . Before that, every person who followed the guidance of his own Prophet was on the correct path, following the correct guidance and was saved.

========== সমাপ্ত =================

সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক: যে সত্য বলা হয়নি

হাদিসে অবিশ্বাসের অযৌক্তিকতা

সাধারণ লেখাসমূহ:

আরো দেখুন>>>

১৬ comments

Skip to comment form

  1. 9
    SHIPON SHIPON

    THANKS YOUR KIND INFORMATION

     

  2. 8
    Anas Mohammad

    আসসালামু আলাইকুম সাদাত ভাই,

    আপনার লিখা অনেকদিন সদালাপে পাঠ করে নানান ভাবে উপকৃত হই।  ইসলাম বিদ্বেষি নাস্তিকদের নানান অপপ্রচারের যথাযথ জবাব, আমাদের নিজেদের আকিকাগত নানান ত্রুটি দূর্বলতা থেকে আপনার এবং সদালাপের আরো অনেক লেখকের লিখা থেকে অনেক কিছু শিখি।  এই লিখাটাও আমার অনেক ভুল ধারনার অবসান ঘটিয়েছে আল হামদুলিল্লাহ।

    এই লিখার আলোকে আমার মনের একটা প্রশ্ন যা অনেকদিন ধরে আমাকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে তার যদি সঠিক জবাব দিতেন বড় উপকৃত হতাম।

    আমরা জানি যে পবিত্র কোরানের একাধিক আয়াতে মুশরিক, ইহুদী খ্রীষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে (যেমন ৫-৫১)। নানান তাফসিরেও এভাবেই ব্যাখ্যা হয়েছে। এখনকার দিনে দেখি এর ব্যাখ্যা নানান জনে নানান ভাবে দেন।  অনেকে বলে থাকেন যে এসব আয়াত কেবল মাত্র ইসলাম নাজিককালীন ততকালীন আরব সমাজের জন্যই প্রযোজ্য, এখন আর প্রযোজ্য নাই।  আবার কেউ কেউ বলে থাকেন যে এসব আয়াতে কেবল মাত্র সেসব বিধর্মীর কথাই এসেছে যারা ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু, যেসব বিধর্মী ইসলামের শত্রু নয় তাদের জন্য এসব আয়াত প্রযোজ্য নয়।

    আমি খোলা মনে কোরান পড়ে তাফসির পাঠ করে যা বুঝি এসব আয়াত কেবলমাত্র সেই সময়ের জন্যই প্রযোজ্য এমন মনে হয় না, সকল সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।  আর এসব আয়াতে ভাল খারাপ বিধর্মীর ভেদাভেদও করা হয়নি, যাদের আকিদাই দূর্বল/বিকৃত তারা আমার শত্রু না হতে পারে কিন্তু তাদের সাথে মেলামেশা করলে আমার ঈমান আকিদাও দূর্বল হবে এটাই স্বাভাবিক মনে হয়।  আমি নিজে পশ্চীমা দেশে থাকি, সাধ্যমত এসব আয়াতের আলোকে বিধর্মীদের সাথে মেলামেশা বন্ধুত্ব কম করার চেষ্টা করে থাকি।  এ কারনে আধুনিক মানসিকতার মুসলমান বন্ধুবান্ধবগন গোঁড়া, প্রকৃত ইসলাম জানি না, ইসলামকে প্রাচীনপন্থী বানিয়ে ইসলামের বদনাম করছি এসব বলে থাকেন।

    আপনি যদি একটু পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতেন তাহলে উপকৃত হতাম, আত্মবিশ্বাসও বাড়তো।

     

    যাজাকাল্লাহ

    আনাস

    1. 8.1
      মাহফুজ

      সালাম,

      মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যারা শত্রুতায় লিপ্ত নয় তাদের সাথে সৎভাব বজায় রাখার ব্যাপারে কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্প্রীতি রক্ষা করার কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে, এটা দাওয়াতেরও একটি অংশ-

          সূরা আল মোমতাহেনা-

          (৬০:০১) অর্থ- মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে মুরুব্বী/ পৃষ্ঠপোষক/ সাহায্যকারী/ সহযোগী/ রক্ষক/ অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি তাদের সাথে প্রীতি/ মমত্ব স্থাপন করতে চাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তারা তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিষ্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের সাথে গোপনে প্রীতি/ মমত্ব স্থাপন করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।       

          (৬০:০৮) যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ বাসস্থান থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদেরকে [তাদের সাথে প্রীতি/ মমত্ব স্থাপন করতে] নিষিদ্ধ করেন না; নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

      (৬০:০৯) আল্লাহ কেবল তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে [তাদের সাথে প্রীতি/ মমত্ব স্থাপন করতে] নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং এ উচ্ছেদকার্যে একে অপরকে সহায়তা করেছে যেন তোমরা তাদেরকে মুরুব্বী/ পৃষ্ঠপোষক/ সাহায্যকারী/ সহযোগী/ রক্ষক/ অভিভাবক মেনে নাও। আর যারা এদেরকে মুরুব্বী/ পৃষ্ঠপোষক/ সাহায্যকারী/ সহযোগী/ রক্ষক/ অভিভাবক বানায় তারাই জালেম।

      সুতরাং অবিশ্বাসী ও বিধর্মীদের আনুগত্য বা তাদের সাথে মাত্রা ছাড়া বন্ধুত্ব নয় আবার অযথা শত্রুতাও নয়, বরং তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্প্রীতি রক্ষা করা চলাই কোরআনের নির্দেশ।

      ধন্যবাদ-

       

    2. 8.2
      সাদাত

      ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

      ইহুদি খ্রিস্টানরা আমাদের অন্তঃরঙ্গ বন্ধু হবে না। তাদের সাথে দহরম মহরম থাকবে না। তবে তাদের প্রতি সৌজন্য, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা থাকবে। এগুলো কেবল বন্ধুদেরই প্রাপ্য নয়, প্রতিবেশিদেরও প্রাপ্য। আমরা যদি অমুসলিমদের কাছাকাছি না যাই, তাদের দাওয়াত দেবো কীভাবে? তারা আমাদের নামায রোযা দেখবে না। তারা দেখবে আমাদের আখলাক। যতটুকু কাছাকাছি গেলে, যতুটুকু মেলামেশা করলে নিজের ঈমান আমলের কোন সমস্যা হয় না, ততটুকু সীমারেখার ভেতরে তাদের প্রতি সৌহার্দ্যময় আচরণ করতে হবে দাওয়াতের নিয়্যতে। আর যতটুকু মেলামেশার দ্বারা নিজের ঈমান আমলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, ততটুকু থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আসলে এই কথাটা বেআমল, ফাসেক মুসলিমদের জন্যও প্রযোজ্য।

  3. 7
    মাহফুজ

    সালাম,

    আশাকরি বিষয়টি আরেকটু ভেবে দেখবেন।

     

    Sūrat āl ʿim'rān (3:85)

    Pickthall: And whoso seeketh as religion other than the Surrender (to Allah) it will not be accepted from him, and he will be a loser in the Hereafter.

    Yusuf Ali: If anyone desires a religion other than Islam (submission to Allah), never will it be accepted of him; and in the Hereafter He will be in the ranks of those who have lost (All spiritual good).

    Shakir: And whoever desires a religion other than Islam, it shall not be accepted from him, and in the hereafter he shall be one of the losers.

    Muhammad Sarwar: No religion other than Islam (submission to the will of God) will be accepted from anyone. Whoever follows a religion other than Islam will be lost on the Day of Judgment.

    …………………………..

    (৩:৮৫) যে লোক ইসলাম (একমাত্র আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করা) ছাড়া কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।

             

    [The word Islam means voluntary “Submission” or “Surrender” to the Will of God. It derives from the root word “salam,” meaning peace.

    God sent Prophets to teach mankind how to worship Him; starting with Adam, including Noah, Abraham, Moses, Jesus and the last of the messengers, Muhammad (peace be upon them all). The Islamic position is that all of these prophets came with the same message, that there is no deity worthy of worship except the One True God, known in Arabic as Allah.

    Islam is a natural way of life that encourages one to give due attention to their relationship with God and His creation. Islam teaches that it is through the doing of good deeds and seeking the pleasure of God that souls find true happiness and peace. It is in this context that the word Islam derives from the root word “salam,” or peace.]

     

    Sūrat l-māidah (5:69)

    Pickthall: Lo! those who believe, and those who are Jews, and Sabaeans, and Christians -- Whosoever believeth in Allah and the Last Day and doeth right -- there shall no fear come upon them neither shall they grieve.

    Yusuf Ali: Those who believe (in the Qur'an), those who follow the Jewish (scriptures), and the Sabians and the Christians,- any who believe in Allah and the Last Day, and work righteousness,- on them shall be no fear, nor shall they grieve.

    Shakir: Surely those who believe and those who are Jews and the Sabians and the Christians whoever believes in Allah and the last day and does good-- they shall have no fear nor shall they grieve.

    Muhammad Sarwar: The believers, Jews, Sabaeans, and the Christians who believe in God and the Day of Judgment and who do what is right will have nothing to fear nor will they be grieved.

    ………………………………..

    (০৫:৬৯) নিশ্চয় যারা বিশ্বাসী, যারা ইহুদী, ছাবেয়ী ও খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

  4. 6
    শাহবাজ নজরুল

    বরাবরের মতই অসাধারণ, প্রত্যক্ষ্য প্রমাণ-সমৃদ্ধ, যৌক্তিক ও বিশ্লেষনী লেখা। ২.৬২ নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা দ্বন্দ্ব দেখা যায়। আশা করি এই লেখাটি, "ইসলামে আহলে কিতাবীদের অবস্থান কি" -- এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে জমে থাকা সমস্ত সংশয় দূর করবে।

  5. 5
    করতোয়া

    এক্কেবারে সঠিক সময়ে সঠিক পোষ্ট পেয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে। আমি একটা ইউনিটারিষ্ট খৃীষ্টান যারা ট্রিনিটিতে বিশ্বাসী নয় আবার জিজাসকেও গড বলে না বরং প্রফেট বলে এমন একজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। আশা করি আপনার কাছে পাব।

    প্রশ্নটা হচ্ছে এ ধরনের ইউনিটারিষ্ট খৃীষ্টান এক আল্লাহ (গড) বিশ্বাস করে, পরকালকেও বিশ্বাস করে, জিজাসকে গডের ছেলে হিসেবে বিশ্বাস করে না বরং প্রফেট হিসেবেই বিশ্বাস করে। সে আবার মোহাম্মদকে প্রফেট হিসেবেও বিশ্বাস করে এবং মোহাম্মদের (সাঃ) উপর যে কোরআন নাজিল হয়েছে সেটাও সে বিশ্বাস করে। কিন্তু জিজাসকে অনুসরন করে। একে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলা হবে বলে কোরআন বা হাদিসে আছে?

    আমি অনেক খোঁজা খুঁজী করছি কিন্তু কোরআন বা হাদিসে কোন রেফারেন্স পাচ্ছি না। আশা করি জানাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

    1. 5.1
      সাদাত

      তাকে আমি কোন ক্যাটাগরিতে ফেলবো না, সেটার জন্য মুফতি সাহেবরা আছেন। তবে তার যে পদ্ধতি সেটা অবশ্যই ভুল। শৈশবের কাপড় কৈশোরে কেউ পড়ে না, কৈশোরের কাপড় যৌবনে কেউ পড়ে না। যৌবনের কাপড় সারা জীবন পড়তে পারে। মানবজাতি যখন যৌবনে উপনীত তখনই সর্বশেষ বিধিবিধানসহ কুরআন নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবির্ভূত হয়েছেন। এখন তাঁকে এবং তাঁর আনিত বিধানকে বাদ দিয়ে পূর্ববর্তী বিধান ও নবীর অনুসরণ যৌবনকালে কৈশোরের কাপড় পরিধান করার প্রচেষ্টা মাত্র। একজন ব্যক্তি কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বাস করে কীভাবে ঈসা আ.কে অনুসরণ করে সেটা খুবই আশ্চর্যজনক। 

      Jabir ibn Abdullah reported: Umar ibn Al-Khattab came to the Prophet, peace and blessings be upon him, with a book he obtained from some of the people of the Scripture. He read it to the Prophet but he became angry, and he said, “Are we playing in it, O son of Al-Khattab? By the one in whose Hand is my soul, I have come to you with a pure scripture, so do not ask them about anything because they might narrate something truthful and you disbelieve in it, or they narrate something false and you believe in it. Again, by the one in whose Hand is my soul, were Moses alive today he would have no choice but to follow me.

      Source: Musnad Ahmad 14736

      Grade: Sahih (authentic) according to Ibn Kathir

      عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ أَصَابَهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكُتُبِ فَقَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَغَضِبَ فَقَالَ أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوكُمْ بِحَقٍّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوا بِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي

      14736 مسند أحمد بَاقِي مُسْنَدِ الْمُكْثِرِينَ أتى النبي صلى الله عليه وسلم بكتاب أصابه من بعض أهل الكتب فقرأه النبي صلى الله عليه وسلم فغضب فقال أمتهوكون فيها يا ابن الخطاب

      المحدث ابن كثير خلاصة حكم المحدث إسناده على شرط مسلم

       

    2. 5.2
      সাদাত

      (208.O you who believe! Enter Silm perfectly, and follow not the footsteps of Shaytan (Satan). Verily, he is to you a plain enemy.) (209. Then if you slide back after the clear signs (Prophet Muhammad , and this Qur'an and Islam) have come to you, then know that Allah is All-Mighty, All-Wise).

       

      Entering Islam in its Entirety is obligated
       
       

       
      Allah commands His servants who believe in Him and have faith in His Messenger to implement all of Islam's legislation and law, to adhere to all of its commandments, as much as they can, and to refrain from all of its prohibitions. `Al-`Awfi said that Ibn `Abbas said, and also Mujahid, Tawus, Ad-Dahhak, `Ikrimah, Qatadah, As-Suddi and Ibn Zayd said that Allah's statement:

      ﴿ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ﴾

      (Enter Silm) means Islam. Allah's statement:

      ﴿كَآفَّةً﴾

      (…perfectly) means, in its entirety. This is the Tafsir of Ibn `Abbas, Mujahid, Abu Al-`Aliyah, `Ikrimah, Ar-Rabi` bin Anas, As-Suddi, Muqatil bin Hayyan, Qatadah and Ad-Dahhak. Mujahid said that the Ayah means, `Perform all the good works and the various pious deeds, this is especially addressed to those from among the People of the Scripture who embraced the faith.'

      Ibn Abu Hatim reported that Ibn `Abbas said that:

      ﴿يَـأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً﴾

      (O you who believe! Enter Silm perfectly) refers to the believers among the People of the Scripture. This is because they believed in Allah, some of them still followed some parts of the Tawrah and the previous revelations. So Allah said:

      ﴿ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً﴾

      (Enter Islam perfectly.) Allah thus commanded them to embrace the legislation of the religion of Muhammad in its entirety and to avoid abandoning any part of it. They should no longer adhere to the Tawrah.

      Allah then said:

      ﴿وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَتِ الشَّيْطَـنِ﴾

      (…and follow not the footsteps of Shaytan) meaning, perform the acts of worship and avoid what Satan commands you to do. This is because:

      ﴿إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَآءِ وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ ﴾

      (He (Shaytan) commands you only what is evil and Fahsha' (sinful), and that you should say about Allah what you know not.) (2:169) and:

      ﴿إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُواْ مِنْ أَصْحَـبِ السَّعِيرِ﴾

      (He only invites his Hizb (followers) that they may become the dwellers of the blazing Fire.) (35:6) Hence, Allah said:

      ﴿إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ﴾

      (Verily, he is to you an open enemy.)

      Allah said:

      ﴿فَإِن زَلَلْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا جَآءَتْكُمُ الْبَيِّنَـتُ﴾

      (Then if you slide back after the clear signs have come to you) meaning, if you deviate from the Truth after clear proofs have been established against you,

      ﴿فَاعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ﴾

      (…then know that Allah is All-Mighty) in His punishment, and no one can escape His vengeance or defeat Him.

      ﴿حَكِيمٌ﴾

      (All-Wise) in His decisions, actions and rulings. Hence Abu Al-`Aliyah, Qatadah and Ar-Rabi` bin Anas said, "He is Mighty in His vengeance, Wise in His decision.''

  6. 4
    মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান আবিব

    সাদাত ভাইয়া@আলহামদুলিল্লাহ্ অসাধারণ একটা লেখা ।আমি কি ফেইসবুকে নোট হিসেবে লেখাটা দিতে পারি ?রেফারেন্স হিসেবে আপনার নাম দেব ইনশাআল্লাহ্ ।

    1. 4.1
      সাদাত

      দিতে পারেন। এই পোস্টের লিংকটা সাথে দিলে ভালো হবে।

  7. 3
    কিংশুক

    জাজাকাল্লাহ। সাদাত ভাইয়ের এধরনের অকাট্য লেখাগুলির জন্য অপেক্ষায় থাকি।

  8. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    সালাম সাদাত ভাই। খুব দরকারি ও গুরুত্তপুর্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন। আমি নিজেও জানতাম ২:৬২ সঠিক, অনেককেই বলতাম এই আয়াত, যখন তাদের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এই লিখা পরে পরিস্কার হল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ২:৬২ আয়াতটি কখন এবং কি উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছিল?
    জাযাকাল্লাহ।

    1. 2.1
      সাদাত

      ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

      সালমান ফারসী রা. কিছু সন্যাসীদের চিনতেন যারা খুব এবাদত বন্দেগী করতেন, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বিশ্বাস রাখতেন এবং তাঁর আগমনের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতেন। এই আয়াত তাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।

      http://www.altafsir.com/AsbabAlnuzol.asp?SoraName=2&Ayah=62&search=yes&img=A&LanguageID=2

  9. 1
    আবদুল্লাহ

    ভাল লিখেছেন। আমাদের সমাজের বেশ কিছু মানুষ এই ধারণা পোষণ করে !

    বিশেষত, সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত নাযিল হওয়ার পর এরকম কথাবার্তার অবতারণা নিছক বেকুবি ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

    حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 

     

    ‍"তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে মৃতজীব, রক্ত, শূকরের গোশ্ত, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নামে যবেহকৃত জীব এবং কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে, আহত হয়ে, ওপর থেকে পড়ে গিয়ে বা ধাক্কা খেয়ে মরা অথবা কোন হিংস্র প্রাণী চিরে ফেলেছে এমন জীব, তোমরা জীবিত পেয়ে যাকে যবেহ করে দিয়েছো সেটি ছাড়া। আর যা কোন বেদীমূলে যবেহ করা হয়েছে (তাও তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে। ) এছাড়াও শর নিক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য নির্ণয় করাও তোমাদের জন্য জায়েয নয়। এগুলো ফাসেকীর কাজ। আজ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি । তবে যদি কোন ব্যক্তি ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে ঐগুলোর মধ্য থেকে কোন একটি জিনিস খেয়ে নেয় গুনাহের প্রতি কোন আকর্ষণ ছাড়াই, তাহলে নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।"

     

    1. 1.1
      মাহফুজ

      (৫:৬৮) বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যা কিছু তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এ কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না।

      ………………………………….

          এখানে “যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে” বলতে যে, তাওরাত, ইঞ্জিল ও সবশেষ কিতাব কুরআন সহ সকল ঐশী কিতাবকেই নির্দেশ করা হচ্ছে তা না বুঝার কোন কারণ আছে কি? তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো যে, আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। এই বক্তব্য দ্বারা আহলে কিতাবগণ কর্তৃক শুধুমাত্র কুরআন অস্বীকার করাকেই নয় বরং তাদের কিতাবে উল্লেখিত যে কোন আয়াত/ সংবাদ/ বিধান অস্বীকার করাকেই “কুফর” বলা হচ্ছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ (সাঃ) এর আগমনের বিষয়ে তাদের কিতাবে যে সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল তা অস্বীকার করাকেও বোঝানো হয়েছে। আর এই অবিশ্বাসী দলটিকে “কাফের সম্প্রদায়” বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

      (৫:৩) "তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে মৃতজীব, রক্ত, শূকরের গোশ্ত, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নামে যবেহকৃত জীব এবং কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে, আহত হয়ে, ওপর থেকে পড়ে গিয়ে বা ধাক্কা খেয়ে মরা অথবা কোন হিংস্র প্রাণী চিরে ফেলেছে এমন জীব, তোমরা জীবিত পেয়ে যাকে যবেহ করে দিয়েছো সেটি ছাড়া। আর যা কোন বেদীমূলে যবেহ করা হয়েছে (তাও তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে।) এছাড়াও শর নিক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য নির্ণয় করাও তোমাদের জন্য জায়েয নয়। এগুলো ফাসেকীর কাজ। আজ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কাফেররা পুরোপুরি নিরাশ হয়ে পড়েছে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে/ধর্মকে  নিখুত/ উৎকৃষ্ট/ যথেষ্ট/ পূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে (একমাত্র আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করাকে) তোমাদের দ্বীন/ধর্ম  হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি। তবে যদি কোন ব্যক্তি ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে ঐগুলোর মধ্য থেকে কোন একটি জিনিস খেয়ে নেয় গুনাহের প্রতি কোন আকর্ষণ ছাড়াই, তাহলে নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।"

      ……………………………..

          যে ব্যক্তিরা অকুন্ঠ চিত্তে একমাত্র আল্লাহর প্রতি সত্যিকার অর্থে আত্মসমর্পণ করবে, তারা তাদের ঐশী কিতাবের সকল বিধান ও সংবাদকে বিশ্বাস করে নেবে। নিশ্চয় কোন বিষয় লুকিয়ে রাখার বা অবিশ্বাস করার দুঃসাহস দেখাবে না। সুতরাং অন্য সম্প্রদায়ের লেকেরা তাদর ঐশী গ্রন্থে উল্লেখিত রাসূল (সাঃ) এর শুভাগমন এবং তাঁর উপর নাযিলকৃত গ্রন্থ কোরআনের উপরেও বিশ্বাস স্থাপন করবে। আর আল-কোরআনের অনুসারীদেরকে তাদের কিতাবে উল্লেখিত সকল বিধান ও সংবাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে ও সৎকর্ম করতে হবে। তবে পালন করার কমতির কারনে ইহুদী, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান নামক সম্প্রদায়েরই শুধু নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের কেউ হলেও পরকালে তাকে অবশ্যই যথাযথ শাস্তি ভোগ করতে হবে। এরপর মহান স্রষ্টা কাকে জান্নাত আর কাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন তা একমাত্র তাঁরই এখতিয়ারভুক্ত।

       

       

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.