«

»

Sep ১৯

কুরআন কি আসলেই বিজ্ঞানময়: একটি মুক্ত আলোচনা

“বিজ্ঞানময় আল-কুরআন” আমাদের খুবই পরিচিত একটা শব্দগুচ্ছ। কিন্তু কথা হলো কুরআন কি আসলে নিজেকে বিজ্ঞানময় বলে দাবি করে? যারা বলেন কুরআন বিজ্ঞানময় বা মহাবিজ্ঞানময় তারা আসলে কিসের ভিত্তিতে এই দাবিটা করেন? একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, একই শব্দ একেক জায়গায় একেক অর্থ বহন করতে পারে। সাধারণ কথাবার্তায় আমরা যাকে ‘ওজন’ বলি বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলা হয় ‘ভর’। একইভাবে সাধারণ কথাবার্তায় আমরা অনেকই মনে করি বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান; অতএব সকল বিশেষ জ্ঞানই বিজ্ঞান। কিন্তু বিজ্ঞানী মহলে বিশেষ জ্ঞান মাত্রই বিজ্ঞান নয়। আল-কুরআনকে যখন বিজ্ঞানময় বলা হয়, তা কি সাধারণ অর্থে বলা হয় নাকি সত্যি সত্যি ‘বিজ্ঞানময়’ বুঝাতেই বলা হয়?

পোস্টে আমি বেশি গভীরে যাব না। শুধু একটু ইঙ্গিত দিলাম। আসুন আলোচনা শুরু করা যাক।

১১৮ comments

Skip to comment form

  1. 29
    rasel

    কোপারনিকাস বলেছীল সূর্য স্থীর —NASA কি বলে???

  2. 28
    ABU SAIF

    জ্ঞানের আলোচনার এ মজলিশে আমি বিমুগ্ধ শ্রোতা(পাঠক) মাত্র!!

  3. 27
    Mohammad \yousuf

    Alhamdulillah, Onek kichu shikte parlam apnader ai conversationer maddhome…shodalape atai amr prothom comment..asha kori, akhon theke shodalaper shathei thakbo shob shomoyy…

  4. 26
    মাহফুজ

    বেশ দেরিতে চোখে পড়ায় সময়মত অংশ নেয়া হয়নি। তারপরও আলোচনার বিষযটি আমার চিন্তা ও কর্মের সাথে সম্পর্কিত বিধায় ক্ষুদ্র জ্ঞানে মতামত ব্যক্ত করার চেষ্টা করছি-

    বিজ্ঞান= [Noun] Science; comprehensive knowledge.

    Science = সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত, বিশেষত পর্যবেক্ষণজাত ও পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা যাচাইকৃত জ্ঞান, বিজ্ঞান

    comprehensive = বিস্তৃত, ব্যাপক, সর্বাঙ্গীণ, প্রভূত বোধশক্তিসম্পন্ন

    knowledge = জ্ঞান , অভিজ্ঞতালব্ধ ধারণা বা পরিচিতি , বোধ , বিদ্যাবত্তা , অধীত জ্ঞান, জ্ঞাতব্য বিষয়

    বিজ্ঞানময়= [adjective] Scientific; intellectual

    Scientific=বৈজ্ঞানিক(Adj), বিজ্ঞানসম্মত(Adj), বিজ্ঞানসংক্রান্ত(Adj)

    intellectual= ধীশক্তিসম্বন্ধী, বৌদ্ধীক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐশী গ্রন্থ।

     

    আমার জানা মতে "আল-কোরআনকে" কখনো "বিজ্ঞানের বই" অর্থাৎ “Book of science” হিসেবে দাবি করা হয় না। তবে এই গ্রন্থের মাঝে স্রষ্টা প্রদ্ত্ত নিদর্শনসমূহ বিবৃত হয়েছে বিধায় এটিকে সহজ ভাষায় “Book of signs” হিসেব আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

    "আল-কোরআন" নিঃসন্দেহে একটি  intellectual অর্থাৎ ধীশক্তিসম্বন্ধী, বৌদ্ধীক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐশী গ্রন্থ।

    আল-কোরআনে অনেক বিজ্ঞানসংক্রান্ত বাণী রয়েছে। বিজ্ঞানসংক্রান্ত সবগুলো বাণী এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান অর্থাৎ বিশেষত পর্যবেক্ষণজাত ও পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা যাচাই করা সম্ভব না হলেও, এ পর্যন্ত এই বাণীগুলোর  প্রায় ৮০ -- ৯০% -ই সর্বাধুনিক সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সত্য বলেই প্রমাণিত হয়েছে। আর বাকীগুলোকে যাচাই করার মত সামর্থ এখনও বিজ্ঞান অর্জন করতে পারে নাই। কাজেই এই বাণীগুলোর সাথে যে বিজ্ঞানের সরাসরি অসঙ্গতি বা বিরোধিতা রয়েছে, এমনটি দাবি করাও ঠিক হবে না। এখনও যেমন "আল-কোরআনকে" সরাসরি "বিজ্ঞানের বই" হিসেবে দাবি করা হয়না। তেমনি এই মহাগ্রন্থের বিজ্ঞানসংক্রান্ত সবগুলো বাণী যদি কখনো বিজ্ঞান অর্থাৎ বিশেষত পর্যবেক্ষণজাত ও পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়, তারপরও "আল-কোরআনকে" শুধুমাত্র "বিজ্ঞানের বই" --  “Book of science” হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক হবে না। কারণ এই মহাগ্রন্থে শুধু বিজ্ঞান নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ট নানা মুখি জ্ঞানের সমাহার ঘটেছে। আল-কোরআনে নামাজ, রোজা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি জীবন ঘনিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে যে মৌল নিদর্শন ও তথ্যসমূহ রয়েছে, সেগুলো বিশেষত পর্যবেক্ষণজাত ও পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা যাচাই কোরে এখন পর্যন্ত ভুল বলে প্রমাণীত হয়নি, বরং ধীশক্তিসম্বন্ধী, বৌদ্ধীক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান হিসেবে অত্যন্ত বাস্তব সম্মত ও কল্যাণকর বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। আর চিন্তাশীল, বোধসম্পন্ন ও বিশ্বাসী মানুষ মাত্রই যা অনুধাবন করতে সক্ষম।

    মূলত "আল-কোরআন" মানুষের জন্য মহান স্রষ্টা প্রেরিত "জীবন বিধান" এবং সেইসাথে জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে এটি ধীশক্তিসম্বন্ধী, বৌদ্ধীক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ায় এবং এর মাঝে স্রষ্টা প্রদত্ত বিজ্ঞানসংক্রান্ত নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান থাকায়  এটিকে "বিজ্ঞানময় গ্রন্থ" হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে তা মোটেই ভুল হবেনা বলেই আমি মনে করি।

    আল-কোরআন-

    (১৩:০৩) অর্থ:- তিনিই পৃথিবীকে করেছেন বিস্তৃত এবং তাতে স্থাপন করেছেন পাহাড় ও নদনদী। আর যে সব ফল বানিয়েছেন তাদের দুটিতে মিলে এক জোড়া। তিনি দিনকে রাত দ্বারা আবৃত করেন। নিঃসন্দেহে এসবের মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

    Sahih International: And it is He who spread the earth and placed therein firmly set mountains and rivers; and from all of the fruits He made therein two mates; He causes the night to cover the day. Indeed in that are signs for a people, who give thought.

    (৩৬:০২) অর্থ- জ্ঞানগর্ভ কুরআনের শপথ,-

    Yusuf Ali: By the Qur'an, full of Wisdom,-

    (৪৩:০৪) অথৃ- আর নিঃসন্দেহে এটি রয়েছে আমাদের কাছে আদিগ্রন্থে, মহোচ্চ এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ।

    Sahih International: And indeed it is, in the Mother of the Book with Us, exalted and full of wisdom.

    ধন্যবাদ-

  5. 25
    সাদাত

    @ফারুক ভাই,
    আপনি বলেছেন:
    “কোরান গাইড বা দিগনির্দেশনার বই। এ কথাটি যদি মাথায় রাখেন , তাহলে মনে হয় বুঝবেন যে , আল্লাহ কোরানে কোন কিছুই লিখতে ছাড়েন নি।”

    ১. কুরআনে সব কিছু থাকা এবং সবকিছুর দিক-নির্দেশনা থাকা কিন্তু এক কথা নয়।
    যেমন; কুরআনে দিক-নির্দেশনা আছে যে কুরআতনে বর্ণিত হয়নি এমন অনেক নবী-রাসূলও ছিলেন। এ থেকে আমরা কেবল একটি তথ্য বা দিক-নির্দেশনা পেলাম; কিন্তু এই আয়াত বা কুরআনের অন্যান্য আয়াতের ওপর গবেষণা করে আমরা কি সেই সব অবর্ণিত নবী-রাসূলদের ইতিহাস খুঁজে পাব?

    ২. উপরের প্রশ্নের উত্তর ‘না’ হলে আমরা কি বলতে পারি না-
    কুরআনে আসলে সবকিছুর বর্ণনা(শুধু দিকনির্দেশনার কথা বলছি না) নাই বা কুরআন গবেষণা করে সবকিছুর বর্ণনা বের করা সম্ভব না?

  6. 24
    সাদাত

    এই পোস্টে অনেকের সাথেই আলোচনা হলো, কিন্তু অনেকেই মনে হয় আলোচনাটা মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে গেছেন। এর একটা কারণ হতে পারে সদালাপে কমেন্ট ফলো করার কোন অপশন নাই। জমজমাট আলোচনার জন্য কমেন্ট ফলোআপের অপশন থাকাটা খুবই জরুরী।

  7. 23
    ফুয়াদ দীনহীন

    এই বিশাল আলোচনার শিক্ষা কনক্লোশন আকারে নতুন পোস্টে দিতে হবে।

  8. 22
    এন্টাইভণ্ড

    ফারুকভাই
    আর একটা কথা। আপনি যেহেতু মনে করেন যে কোরানে আমাদের হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্তকিছূই আছে, সেহেতু আমরা কি ধরে নিতে পারি যে আপনি এ-ও মনে করেন যে কোরানে যা কিছূ আছে তার সবই (কোনো কিছু বাদ দিয়ে নয়) আমাদের হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়?

    1. 22.1
      ফারুক

      @এন্টাইভণ্ড: অবশ্যই। তবে কে কতটুকু পালন করতে পারবে বা কতটুকু কার বুঝে আসবে , এটা যার যার ব্যাক্তিগত অবস্থান , ইচ্ছা , ক্ষমতা ও জ্ঞানের উপরে নির্ভরশীল।

      1. 22.1.1
        এন্টাইভণ্ড

        ফারুকভাই
        আপনার এই কমেন্ট নিয়ে আমি অন্য একটা পোস্টে কথা বলবো। এই টপিকে আমার মনে হয় মূল কথাটা আমরা বলতে পেরেছি যে, কোরানে “সবকিছু” নেই; সুতরাং বিজ্ঞানেরও সকল থিউরি কোরানে থাকবে এইটা আশা করা পুরোপুরিই অর্থহীন। সুতরাং যদি “বিজ্ঞানের থিউরি ভরা”—এই অর্থে কোরানকে বিজ্ঞানময় বলার চেষ্টা কেউ করে, তাহলে আমরা বলতে পারি যে আমরা অলরেডি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছি যে সেই কথাটা ভুলসেই অর্থে কোরান বিজ্ঞানময় নয়। আল্লাহ নিজেই এই জাতীয় কোনো কথা কাউকে কোথাও দেন নি।

        1. 22.1.1.1
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          এই টপিকে আমার মনে হয় মূল কথাটা আমরা বলতে পেরেছি যে, কোরানে “সবকিছু” নেই;

          আমার মনে হয় এর একটা ব্যাখ্যা দরকার। কোরানে “সবকিছু” নেই , আবার আছে। আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখছেন তার উপরে এটা নির্ভর করে। ‘কোরানে সকল নবী রসূলদের কথা বলা হয় নি’- এই কথা দিয়েই সকল নবী রসুলদের কথা কোরানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

          এখন কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে , ভাত রান্না করতে ১ সের চাউলে কতটুকু পানি দেয়া লাগবে? এটা কি কোরানে আছে? উত্তর হলো আছে। জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।

          ১৬:৪৩- আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে;

          তেমনি ভাবে বিজ্ঞানের থিউরির জন্য বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করুন।

        2. এন্টাইভণ্ড

          @ফারুকভাই: কোরানের আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো কোনো রাসুলের ঘটনা (কিসাস—যা আপনার অর্থমতে জীবনবৃত্তান্তও হতে পারে) আল্লাহ রাসুলকে বলেন নাই।

          আমি কোনোভাবেই বুঝলাম না যে পৃথিবীতে কোন এমন দৃষ্টিভঙ্গী থাকতে পারে যে দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখলে এই আয়াতে আসলে সব রাসুলের জীবনবৃত্তান্তের কথা আল্লাহ বলেছেন বলে পড়া যাবে।

          এমনকী যদি কিসাস মানে কথাও হয়, তাহলেও {{কোনো কোনো রাসুলের কথা}} আল্লাহ বলেন নি, এর অর্থ কীভাবে হয় যে এই কথা দিয়েই আল্লাহ সব রাসুলের কথা বললেন?

        3. সাদাত

          @ফারুক:
          কেউ যদি একটা বই লেখে যাতে একটা মাত্র লাইন আছে “যে কোন বিষয়ে জানতে হলে সেই বিষয়ে যারা জ্ঞানী তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো” -- তাহলেই কি বলা যাবে যে সেই বইতে সব কিছু বলা আছে?

        4. ফারুক

          @সাদাত: কোরান গাইড বা দিগনির্দেশনার বই। এ কথাটি যদি মাথায় রাখেন , তাহলে মনে হয় বুঝবেন যে , আল্লাহ কোরানে কোন কিছুই লিখতে ছাড়েন নি।

        5. 22.1.1.2
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          এমনকী যদি কিসাস মানে কথাও হয়, তাহলেও {{কোনো কোনো রাসুলের কথা}} আল্লাহ বলেন নি, এর অর্থ কীভাবে হয় যে এই কথা দিয়েই আল্লাহ সব রাসুলের কথা বললেন?

          ধরুন- “কোনো কোনো রাসুলের কথা আল্লাহ বলেন নি” এ আয়াতটি কোরানে নেই। তাহলে কোরানে যে সকল রসূলের কথা বলা হয়েছে , তাদের বাইরে যে আরো অসংখ্য রসূল ছিলেন , এটা কি আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারতাম?

  9. 21
    এন্টাইভণ্ড

    সাদাতভাই
    অনেক কিছু বলার ছিলো, কিন্তু আমার মনে হয় কোরান বিজ্ঞানময় কি না, সেইটা নিয়ে আলোচনা করার আগে {বিজ্ঞানময়তা কী জিনিস}— সেইটা আলোচিত হওয়া উচিত। আমরা ঠিক কোন বৈশিষ্ট থাকলে একটা যে-কোনো কিছুকে বিজ্ঞানময় বলবো? কোরান যদি বিজ্ঞানময় হয়ই, বিষয়টা নিশ্চয়ই এইরকম নয় যে পৃথিবীতে শুধু কোরানই বিজ্ঞানময়। তাই না? প্রশ্নটা হলো, কোন কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে আমরা কোনো কিছুকে বিজ্ঞানময় বলি?

    1. 21.1
      সাদাত

      @এন্টাইভণ্ড:
      বিজ্ঞানময় বলতে বুঝাবে যা বিজ্ঞানে ভরপুর। এটা মনে হয় খুব বেশি আলোচনাসাপেক্ষ না।
      কিন্তু আমার কথা হলো --
      ১. কুরআন নিজেই যদি নিজেকে বিজ্ঞানময় বলে দাবি না করে, আমরা করতে যাবো কেন?
      ২. বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীল কোন কিছু কিভাবে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহর বাণী হয়?

  10. 20
    ফারুক

    বিজ্ঞানময় বলতে কি বুঝাচ্ছেন? আগে সেইটা পরিস্কার করুন।

    আমি মনে করি কোরানে সর্বকালের জ্ঞানী , বিজ্ঞানী , স্বল্পজ্ঞানী , মুর্খ সকলেরি মুগ্ধ করার জন্য কিছু না কিছু আছে। আবার নাস্তিকদের নাস্তিকতা বৃদ্ধির মাল মশলা ও কোরানে আছে।

    ৩:৭ তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।

  11. 19
    এন্টাইভণ্ড

    ফারুকভাই
    6:38 আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।

    এখানে {{আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি}} অংশের আরবিটা হলো:

    مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ

    আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি।

    We have not neglected in the Register a thing

    এখানে الْكِتَابِ বলতে যে কোরানকে বুঝানো হয়েছে, সেটা কী দেখে বুঝা গেল?

    1. 19.1
      ফারুক

      @এন্টাইভণ্ড: ভাল প্রশ্ন করেছেন। ৬:৩৮ আয়াতটি একটি উপমা/দৃষ্টান্ত এবং এটি এই কোরানেরি একটি আয়াত। এখন দেখি উপমা সম্পর্কে কোরানে আর কি আয়াত আছে?

      ১৮:৫৪নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে সকল (كُلِّ مَثَلٍ) উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।

      ৩৯:২৭ আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;

      উপরের এই দুটি আয়াতে কোরানের নাম ধরেই বলা হয়েছে। এখন এই আয়াতদুটি পড়ার পরে এটা ভাবা কি অস্বাভাবিক যে ৬:৩৮ এ কোরানের কথাই বলা হয়েছে?

      1. 19.1.1
        এন্টাইভণ্ড

        @ফারুকভাই:

        {{৬:৩৮ আয়াতটি একটি উপমা/দৃষ্টান্ত}}

        কীভাবে?

        6:38 আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী।


        এইখানে উপমার কী পেলেন ভাই?

        আর, “সব উপমা” আর “সমস্তকিছু” দুইটা কি এক নাকি?

        মোরওভার,
        আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন যে তিনি কোরানে সবকিছু বলেন নি।

        ৪০:৭৮

        And We have already sent messengers before you. Among them are those [whose stories] We have related to you, and among them are those [whose stories] We have not related to you. And it was not for any messenger to bring a sign [or verse] except by permission of Allah . So when the command of Allah comes, it will be concluded in truth, and the falsifiers will thereupon lose [all].

        অনুবাদ: আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

        ///


        কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি।

        খুব খেয়াল কৈরা।

        আল্লাহ নিজে যদি বলে থাকেন যে কারো কারো ঘটনা আল্লাহ বিবৃত করেন নি, তাহলে তার মানে একটাই, সেটা হলো, “কিছু” ব্যপার আছে যা আল্লাহ কোরানে বলেন নি। “কিছু” ব্যপার আছে যা বলেন নি,
        এর সিম্পল মানে হলো,

        কোরানে আল্লাহ সবকিছু বলেন নি।

        1. 19.1.1.1
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          কোরানে আল্লাহ সবকিছু বলেন নি।

          বড় বেশি সরলিকরন করে ফেল্লেন।

          ৬:৩৮ এর কথাই ধরুন। আল্লাহ কি কোরানে আরশোলা , ব্যাঙ , ব্যাক্টেরিয়া বা হাজার হাজার নাম না জানা প্রাণী , এগুলোর কথা বলেছেন? তাহলে এগুলো তো কিতাব থেকে বাদ পড়ে গেল , নয় কী? না বাদ পড়েনি , কারন আল্লাহ যত প্রকার প্রাণী ও যত প্রকার পাখী দিয়ে সকল জীবিত প্রাণীর কথাই বলেছেন। সকল কিছুর খুটিনাটি বর্ণনা দিতে গেলেতো সাত দুগুনে ১৪ সমুদ্র সমান কালিও শেষ হয়ে যেত, যার কথা আল্লাহ কোরানেই বলেছেন। আলাদা ভাবে আরশোলা , ব্যাঙ , ব্যাক্টেরিয়া এগুলোর উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ নয় , সকল জীবিত প্রাণীই একেকটা জাতি/শ্রেণী। এই বক্তব্যটিই গুরুত্বপূর্ণ।

          তেমনি ভাবে ৪০:৭৮ আয়াত থেকে আমরা এটাই বুঝি যে সকল রসূলের নাম বলাটা গুরুত্বপূর্ণ নয় , “আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়” এটা জানাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে , ৪০:৭৮ আয়াত আমাদের কোরান সঠিক ভাবে বুঝতেই সাহায্য করে। সেটা হলো , কোরানে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুই আছে , যা নেই বা যা বলা হয় নি , সেটা আমাদের জানার দরকার নেই।

        2. এন্টাইভণ্ড

          @ফারুকভাই:

          কোরানে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুই আছে , যা নেই বা যা বলা হয় নি , সেটা আমাদের জানার দরকার নেই।

          অর্থাৎ, আপনি বলছেন, অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর ব্যাপারে কোরানে বলা হয় নি। এর অর্থ হলো,
          কোরানে সবকিছু বলা হয় নি।

          অরিজিনাল যেই আয়াত নিয়ে আলাপ শুরু হয়েছিলো, সেখানে কিন্তু আল্লাহ নিজে “প্রয়োজনীয়” নাকি “অপ্রয়োজনীয়”, সেসব নিয়ে কোনো কথা বলেন নি।

          “কিতাবে আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। “

          এই আয়াতে কোথাও “প্রয়োজনীয়”/”অপ্রয়োজনীয়” শব্দ আল্লাহ নিজেই উল্লেখ করেন নি। এর অর্থ হলো আল্লাহ যদি কিতাব শব্দ দিয়ে কোরানই বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ কোরানে প্রয়োজনীয়/অপ্রয়োজনীয় সবকিছুই উল্লেখ করেছেন।

          কিন্তু প্রশ্ন হলো এইখানে কিতাব শব্দটা কি আসলেই আল্লাহ কোরান অর্থে ব্যবহার করেছেন? যদি করে থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয়/অপ্রয়োজনীয় সকলকিছু আল্লাহ কোরানে আল্লাহ অবশ্যই লিখে রেখেছেন। কিন্তু যদি সেটা না করে থাকেন, যদি আল্লাহ কিতাব বলতে কোরান না বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অন্তত কোরানে আল্লাহ সবকিছু লিখে রাখেন্ নি।

          প্রসঙ্গক্রমে,
          কোরানের কোথাও কি স্পষ্টভাবে এমনকী একথা বলা আছে যে, এই কোরানে আল্লাহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিয়েছেন???

          একটা আয়াত?

          মাত্র একটা আয়াত?

          যদি কোরানে কোথঅও এমন না বলা থাকে, তাহলে আমরা এই কথা বলছি কীভাবে যে কোরানে আল্লাহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিয়েছেন?

        3. 19.1.1.2
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি

          এই কথা দিয়েই আল্লাহ রসূলের কাছে জানা অজানা সকল রসূলের কথাই বিবৃত করলেন , অর্থাৎ কোন রসূলের কথাই লিখতে কিতাব/কোরান থেকে বাদ গেল না ।

        4. এন্টাইভণ্ড

          @ফারুকভাই: কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি।

          আল্লাহ “কারও কারও” নিয়ে কথা বলেন নি। বলেছেন, “ঘটনা” নিয়ে।

        5. 19.1.1.3
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          কোরানের কোথাও কি স্পষ্টভাবে এমনকী একথা বলা আছে যে, এই কোরানে আল্লাহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিয়েছেন???

          কোরান কিসের বই?

          ২:২ এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

          ৩১:২-৩ এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত। হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।

          পরহেযগার ও সৎকর্মপরায়ণদের পথ প্রদর্শন , হেদায়েত ও রহমতের জন্য যা যা দরকার বা বলা যায় প্রয়োজনীয় তা এই কোরানেই আছে। যা প্রয়োজনীয় না , তা কি থাকার দরকার আছে? এ কথাটি ও কি বলে দেয়া লাগবে?

        6. 19.1.1.4
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          আল্লাহ “কারও কারও” নিয়ে কথা বলেন নি। বলেছেন, “ঘটনা” নিয়ে।

          আয়াতে قَصَصْنَا শব্দ ব্যাবহৃত হয়েছে। কাসাস অর্থ গল্প বলা। গল্পে নাম ধাম জীবণবৃত্যান্ত সবি আসতে পারে। ইংরেজি অনুবাদ করেছে -- mention , narrate।

        7. এন্টাইভণ্ড

          ফারুকভাই

          গল্পে নাম ধাম জীবণবৃত্যান্ত সবি আসতে পারে।

          আমি তো সেইটা অস্বীকার করছি না। এর অর্থ হলো, আল্লাহ কারো কারো নাম ধাম জীবনবৃত্তান্ত বলেন নাই।

          আমাদের অরিজিনাল আয়াত যেইটা ছিলো, তাতে বুঝা যায যে, আল্লাহ প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সবকিছুই লিখে রাখার কথা বলেছেন। সেই আয়াতে কিতাব মানে যদি কোরান হয়, তাহলে অবশ্যই কোরানেই আল্লাহ প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় “সবকিছু” লিখে রেখেছেন। যদি সেই আয়াতের কিতাব কোরান না হয়, তাহলে {কোরানে সবকিছু আছে}--এই বক্তব্যের সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নাই। এটা কিছু মানুষের কোরানের উপর নিজস্ব কথা চাপিয়ে দেয়া একটা কথা।

          হেদায়েত ও রহমতের জন্য যা যা দরকার বা বলা যায় প্রয়োজনীয় তা এই কোরানেই আছে।

          আমার প্রশ্নটা ছিলো:

          কোরানের কোথাও কি স্পষ্টভাবে এমনকী একথা বলা আছে যে, এই কোরানে আল্লাহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিয়েছেন???

          আমি কিন্তু হেদায়াত বা রহমত কথাটা বলিনাই।

          আপনি বলছেন যে যা কিছু হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়…

          {যা কিছু হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়} এবং {যা কিছু প্রয়োজনীয়} এই দুইটার পার্থক্য কিন্তু খুব স্পষ্ট।
          আমার দৈনন্দিন জীবনে যা প্রয়োজনীয়, তার সবকিছু কি আমার হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়?

          বিজ্ঞান আমার দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয়, তা কি আমার হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়?

          কোরানে কোন্ প্রয়োজনীয় “সবকিছু” রয়েছে? হেদায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়? নাকি মানুষের জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয়?

          আলাপটা দুইভাবে হতে পারে:
          ১) কোরানে হেদায়াতের জন্য সবকিছু রয়েছে
          ২) কোরানে মানুষের জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয়, তার সবকিছু রয়েছে।

          যদি ১নং সত্য হয়ে থাকে, এবং ২নং ভুল বা আংশিক সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে আমরা বলতে পারি, হেদায়াতের জন্য যা দরকার তা ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি নিয়ে কোরানে কিছু নাই।

          এই পর্যন্ত কি আমরা এ্যাগ্রি করি?

        8. 19.1.1.5
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড:

          যদি ১নং সত্য হয়ে থাকে, এবং ২নং ভুল বা আংশিক সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে আমরা বলতে পারি, হেদায়াতের জন্য যা দরকার তা ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি নিয়ে কোরানে কিছু নাই।
          এই পর্যন্ত কি আমরা এ্যাগ্রি করি?

          হ্যা , এ্যাগ্রি করি। কোনই দ্বীমত নেই।

        9. এন্টাইভণ্ড

          হ্যা , এ্যাগ্রি করি। কোনই দ্বীমত নেই।

          ব্যস! এটুকুতে যদি এ্যাগ্রি করেন, তাহলে এর মানে হলো, দৈনন্দিন জীবনের সাধারণা বিষয়াদি সম্পর্কিত বিষয় যা ইনক্লুড করে বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়াদিও, কোরানে নাই। বা আরো স্পেসিফিকালি বললে বলা যায়—নেসেসারিলি থাকবেই এমন কথাটা ভুল। থাকতেও পারে, না-ও পারে।

          এই পোস্টের সাথে রিলেট করে এই প্রসঙ্গে আমি এইটুকুই বলবো যে আমাদের উপরোক্ত কথার অর্থ হলো, বিজ্ঞানের থিউরিভরা বই অর্থে কোরান আসলে বিজ্ঞানময় গ্রন্থ নয়। কোরান নিজেই কখনো দাবী করে নি যে তাতে “সবকিছু আছে”, সো বিজ্ঞানের থিউরিও তাতে আছে এটা যদি দাবী করে তাহলে সেটা আল্লাহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বলতে হবে। অন্তত আল্লাহর উপর চাপিয়ে বলা যাবে না।

        10. 19.1.1.6
          ফারুক

          @এন্টাইভণ্ড: আরেকটু নির্দিষ্ট করেই বলি -- হেদায়েত ও রহমতের জন্য যা যা দরকার বা প্রয়োজনীয় তা এই কোরানেই আছে। সেটা বিজ্ঞান ও হতে পারে বা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বিষয়াদি সম্পর্কিত বিষয় ও হতে পারে।

  12. 18
    বুড়ো শালিক

    @ সাদাত:

    এখানে এসব নিয়ে বোধসম্পন্নদের চিন্তা করতে বলা হচ্ছে। কুরআন হতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বের করতে বলা হচ্ছে না।

    আপনি কীভাবে সিউর হলেন?

    1. 18.1
      সাদাত

      @বুড়ো শালিক:
      নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে।
      যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।
      [৩:১৯০-১৯১]

      এই দুই আয়াত পড়ে কি মনে হচ্ছে যে কুরআন হতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বের করতে বলা হচ্ছে?

      1. 18.1.1
        বুড়ো শালিক

        @সাদাত: আপনার কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি মনে করি না কুরআনকে শুধুই ইবাদাতের গ্রন্থ বা কিছু আচার-ব্যাবহারের গ্রন্থ বলে মনে করা উচিত। কুরআনেই সম্ভবত কুরআনের সর্বজনীনতা নিয়ে বলা আছে। কাজেই, কেউ যদি কুরআন থেকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব খুঁজতে চায়, আমি তাকে মানা করতে পারি না। কারণ কুরআনে সবই আছে।

        1. 18.1.1.1
          সাদাত

          @বুড়ো শালিক:
          কুরআনে আমাদের হেদায়েতের জন্য যা দরকার তার সবই আছে, এটা ঠিক।
          সাধারণভাবে “কুরআনে সবই আছে”, এই কথাটা কুরআনের কোথায় আছে?

        2. বুড়ো শালিক

          @সাদাত: হুম, আমি সেটার রেফারেন্স দিতে পারবো না। তবে এটা আমার একটা ধারণা বলতে পারেন। বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা একটা গ্রন্থ লিখেছেন। সেখানে সব কিছু থাকতেই পারে।

        3. ফারুক

          @সাদাত: সাধারণভাবে “কুরআনে সবই আছে”, এই কথাটা কুরআনের কোথায় আছে?

          6:38 আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।

  13. 17
    সাদাত

    আলোচনা অনেক হলো, এবার আমি কিছু বলি:
    এক.
    ১. আল্লাহপাক প্রকৃতিতে কিছু সাধারণ নিয়ম রেখেছেন।
    ১.১ বিজ্ঞান এই নিয়মগুলো আবিষ্কার করার চেষ্টা করে। কখনো পুরোপুরি আবিষ্কার করে কখনো আংশিক। ধীরে ধীরে বিজ্ঞান পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়।
    ২. আল্লাহপাক কখনো কখনো সেই সাধারণ নিয়ম বহির্ভূত ঘটনাও ঘটান। যেগুলোক মু’জিজা বলা হয়।
    ২.১ মু’জিজাকে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। আর ব্যাখ্যা করা গেলে সেটা আর মু’জিজা থাকবে না।

    আল-কুরআনে যেহেতু সাধারণ নিয়ম এবং সাধারণ নিয়ম বহির্ভূত উভয়প্রকার নিয়মের আলোচনাই এসেছে কাজেই আল-কুরআনের সবকিছু বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

    দুই.
    বিজ্ঞান ধ্রুব কিছু না। এটা ক্রমাগত নির্ভুলতার দিকে অগ্রসর হয়। কোন এককালের বিজ্ঞান এই দাবি করতে পারবে না যে এতে আর কোন পরিবর্তন আসবে না। কাজেই কুরআনকে বিজ্ঞানময় বলা হলে আসলে আল্লাহর জ্ঞানকেও পরিবর্তনশীল গণ্য করা হয়।
    আল্লাহর জ্ঞান পরিবর্তনশীল নয়।
    কাজেই আল-কুরআনকে বিজ্ঞানময় না বলে প্রজ্ঞাময় বলাই সঠিক।

  14. 16
    সাদাত

    وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
    [৩৬:২]
    অনুবাদ:
    Sahih International
    By the wise Qur’an.
    Muhsin Khan
    By the Quran, full of wisdom (i.e. full of laws, evidences, and proofs),
    Pickthall
    By the wise Qur’an,
    Yusuf Ali
    By the Qur’an, full of Wisdom,-
    Shakir
    I swear by the Quran full of wisdom
    Dr. Ghali
    And by the Ever-Wise Qur’an.
    Bangla
    প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম।
    সূত্র: http://quran.com/36/2

    এই অনুবাদগুলো ঠিকই আছে। কিন্তু যদি এই আয়াতের অনুবাদে লিখা হয়:
    “সাক্ষী এই বিজ্ঞানময় কোরআন”
    তখন কথা আসে।
    ওপরে আব্দুস সামাদ ভাই বলেছেন:
    ৩৬/২ এ কোরান বলছে; “সাক্ষী এই বিজ্ঞানময় কোরআন”।

    এই অনুবাদ তিনি নিশ্চয়ই কোথাও পেয়েছেন।
    এই অনুবাদকে আপনারা কেউ কি সমর্থন করেন?

    1. 16.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @সাদাত:

      আল কুরান বিজ্ঞানময়, এই কথার মধ্যে কি কোন সমস্যা আছে? আল কুরান বিজ্ঞানের বই না, কিন্তু তারমানে এই নয় এটি বিজ্ঞানিক বই হতে পারবে না।

      1. 16.1.1
        সাদাত

        @ফুয়াদ দীনহীন:
        আপনার অভিমত আগে বলেন।
        আপনি কি মনে করেন “আল কুরআন বিজ্ঞানময়”?

  15. 15
    এস. এম. রায়হান

    আমি নিজে সহ যারা দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম নিয়ে নেটে লেখালেখি করছেন তাদের কারো লেখাতেই কোরআনকে “বিজ্ঞানময়” বলে দাবি করতে দেখা যায়নি। তাহলে এই প্রশ্ন আসছেই বা কেন। ওয়েল, কেউ কেউ হয়ত কোথাও বলে থাকতে পারেন যদিও আদৌ কেউ বলেছেন কিনা তার কোন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ফলে কারো কারো দাবিকে পুঁজি করে কিংবা মুসলিমদের মুখে কথা গুঁজে দিয়ে “বিজ্ঞানময় কিতাব” এর মতো গার্বেজের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

    1. 15.1
      সাদাত

      @এস. এম. রায়হান:
      এই ব্যাপারে কিছু অতি উৎসাহী মুসলিম লেখকেরও ভূমিকা আছে। ১৬ নং কমেন্টটা দেখেন।

  16. 14
    এন্টাইভণ্ড

    সদালাপে পোস্ট প্রিয়তে রাখার কোনো সিস্টেম নাই?

    1. 14.1
      হাফিজ

      @এন্টাইভণ্ড:

      সদালাপের এডমিন এর নিকট সব পোস্টই বোধহয় প্রিয়, তাই আলাদা সিস্টেম রাখা হয়নি 🙂

    2. 14.2
      সাদাত
  17. 13
    হাফিজ

    এন্টাইভন্ড:

    “বিজ্ঞান এটা না। বরং বাচ্চাটি যা দেখছে তাকে বেইজ ধরে আসল যে অবস্থা (খাম্বাটি দুলছে মনে হলেও আসলে যে সেটা দুলছে না) তা জানার প্রসেসটাই হলো বিজ্ঞান।”

    “জানার প্রসেসটাই হলো বিজ্ঞান” এমন হবে নাকি “জানার প্রসেসটাই সিস্টেমেটিক হলে সেটা বিজ্ঞান”। কেননা ধরুন এক ব্যক্তি (a + b ) *2 এর সুত্র বের করার চেষ্টা করছে, এখন সে যদি সুকান্তের কবিতার মাধ্যমে সেটার সমাধান করতে চায়, তাহলে সেটাকে কোনোমতেই বিজ্ঞান বলা যাবে না, যদিও সে “প্রসেস” এর মধ্যে আছে। বরং সে প্রপার সিস্টেমের মাধ্যমে চেষ্টা করলে সেটাকে হয়ত বলা যেতে পারে। “হয়ত”? হ্যা “হয়ত” বলছি এই কারণে যে তার চেষ্টাটা প্রপার পদ্ধতিতে হলে তার চেষ্টার পদ্ধতিকে “বিজ্ঞানময়” বলা যায় কিন্ত সফলতা নাও আসতে পারে। সফলতা যদি আসে তাহলে বলা যায় চেষ্টা এবং ফলাফল দুটোই বিজ্ঞানময়।

  18. 12
    আহমেদ শরীফ

    গ্যালারীতে।

    1. 12.1
      হাফিজ

      @আহমেদ শরীফ:
      মেসির ৫০ হাজার নাকি ৭ হাজার এর টিকিট? ভি আই পি নাকি নর্মাল গ্যালারি?

      1. 12.1.1
        আহমেদ শরীফ

        @দেশে-বিদেশে:

        এখানে এত বড় বড় ভিআইপিদের মাঝে সাধারণ গ্যালারিতে বসলেও মনে হবে ভিআইপিতে আছি। মাঝখান থেকে ৪৩,০০০ বেঁচে যাবে।

  19. 11
    তামীম

    গ্যালারীতে বসলাম।

    1. 11.1
      সাদাত

      @তামীম:
      গ্যালারিতে না বসে মাঠে আসেন। মাঠের মজা গ্যালারিতে পাবেন না।

  20. 10
    এন্টাইভণ্ড

    প্রসঙ্গটা খুব জরূরি ছিলো।

    কথা আরো বলবো। আপাতত একটা প্রসঙ্গ তুলছি।

    মনে করেন একজন খুব জ্ঞানী লোক কোথাও বক্তব্য দিচ্ছেন। উনি যা যা বলবেন তার ভেতরে কিন্তু উনি যা যা জানেন, তার কিছু কিছুর একটা ছাপ পড়বে। এটা স্বাভাবিক।

    কোরান যেহেতু আল্লাহই লিখেছেন বলে আমরা ধরে নিচ্ছি, সেহেতু সেই যুক্তিতে আল্লাহ যা যা জানেন, তার একটা ছাপ তো কোরানে পড়তেই পারে। সুতরাং বিজ্ঞান এখন যা আবিষ্কার করছে, তা যেহেতু আল্লাহরই জ্ঞানের একটা অংশ, সেটার ইঙ্গিত কোরানের কোনো কোনো আয়াতে থাকতেই পারে, এসে যেতেই পারে। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় মনে রাখতে হবে এখানে,

    কোরান কি বিজ্ঞান প্রচারের জন্য পৃথিবীতে এসেছে? বিজ্ঞানের কোনো থিউরি দেবার জন্য পৃথিবীতে এসেছে?

    আমি সেইটা মনে করি না। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ বিজ্ঞান রিলেটেড আয়াত খুবই অস্পষ্ট হবার কথা। সেইটা উদ্ধারে কিছু মুসলিম অনুরাগীর কোরানের শব্দের সাথে প্রাণান্তকর ধস্তাধস্তি দেখলে আমার কাছে সেই ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    ইঙ্গিতগুলো যদি সত্য বলে প্রমাণিত হয়ও, তবু, এত অস্পষ্ট আয়াত থেকে বিজ্ঞান বের করতে চেষ্টা করার ধারণা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগে না। এবং সেইটা করার পর তাকে বিজ্ঞানময় বলার চেষ্টাটা দেখলে সত্যিই ভালো লাগে না।

    এইরকম অন্যান্য ধর্মের বা অনেক কবিতারও বহু ইঙ্গিতকে অনেক বড় বড় জিনিসের সাথে রিলেট করা যেতে পারে।

    প্লাস, কোরানের কিছু আয়াতের শব্দার্থের সাথে মারামারি করে যেভাবে অর্থটা থেকে বিজ্ঞান বের করেছেন অনেকে, ঠিক সেইরকমভাবেই কিন্তু অনেকেই. সেই কোরান থেকেই, অপবিজ্ঞান বা বিজ্ঞানবিরোধী বক্তব্যও বের করে আনছেন।

    1. 10.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @এন্টাইভণ্ড:

      “কোরানের কিছু আয়াতের শব্দার্থের সাথে মারামারি করে যেভাবে অর্থটা থেকে বিজ্ঞান বের করেছেন অনেকে, ঠিক সেইরকমভাবেই কিন্তু অনেকেই. সেই কোরান থেকেই, অপবিজ্ঞান বা বিজ্ঞানবিরোধী বক্তব্যও বের করে আনছেন”-এন্টাইভন্ড

      একমত,
      -কিন্তু মানুষের চিন্তার জগতকে থামিয়ে দিতে চাইনা। কেউ যদি আল কুরান থেকে বিজ্ঞান যেভাবেই প্রমান করুক, তাকে করতে দেওয়া উচিত। কারণ এতে করে বড় কোন জিনিস বেড়িয়ে আসতে পারে, যা পৃথিবীর উপকার করতে পারে, অথবা কোন জ্ঞান আবিষ্কৃত হতে পারে। সে হিসাবে আমাদের নিজেদের ক্যালকোলেশন অন্যার উপর চাপানো ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে, আমাদের মত, শেষ মত নয়।

      1. 10.1.1
        সাদাত

        @ফুয়াদ দীনহীন:
        কুরআন কি বলে কুরআন থেকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বের করতে?

        1. 10.1.1.1
          বুড়ো শালিক

          @সাদাত: নিষেধও তো করে না!
          নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। -- আল কুরআন (৩: ১৯০)

        2. সাদাত

          @বুড়ো শালিক:

          নিদর্শনগুলো কোথায় আছে? কুরআনে?
          এখানে কুরআন তো বলছে নিদর্শন আছে আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে।

          এখানে এসব নিয়ে বোধসম্পন্নদের চিন্তা করতে বলা হচ্ছে। কুরআন হতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বের করতে বলা হচ্ছে না।

    2. 10.2
      সরোয়ার

      @এন্টাইভণ্ড:

      ‘ইঙ্গিতগুলো যদি সত্য বলে প্রমাণিত হয়ও, তবু, এত অস্পষ্ট আয়াত থেকে বিজ্ঞান বের করতে চেষ্টা করার ধারণা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগে না। এবং সেইটা করার পর তাকে বিজ্ঞানময় বলার চেষ্টাটা দেখলে সত্যিই ভালো লাগে না।’

      -- সহমত। ঈমান দূর্বল তো তাই! আশে-পাশে তাকালেই আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।

      1. 10.2.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @সরোয়ার:

        মানুষের মনকে বন্দি করে দিবেন?

        1. 10.2.1.1
          সরোয়ার

          @ফুয়াদ দীনহীন:
          কিভাবে মানুষের মন এতে বন্দী হলো?

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          @সরোয়ার:

          যদি বলে আল কুরানে বিজ্ঞান খোজা ভাল নয়, তাহলে কি তার মন বন্দি হল না ?

    3. 10.3
      সাদাত

      @এন্টাইভণ্ড:
      এন্টাইভন্ড: কোরানের কিছু আয়াতের শব্দার্থের সাথে মারামারি করে যেভাবে অর্থটা থেকে বিজ্ঞান বের করেছেন অনেকে, ঠিক সেইরকমভাবেই কিন্তু অনেকেই. সেই কোরান থেকেই, অপবিজ্ঞান বা বিজ্ঞানবিরোধী বক্তব্যও বের করে আনছেন।
      সাদাত: দুইটাই চরমপন্থা। কিন্তু আপনি এখনও আমার মূল প্রসঙ্গে আসেন নাই। ‘কুরআন বিজ্ঞানময়’ কথাটা আপনি সমর্থন করেন কি না?

  21. 9
    বুড়ো শালিক

    আচ্ছা, বিজ্ঞান বলতে আমরা কী বুঝি?

    1. 9.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @বুড়ো শালিক:

      জ্ঞান বলতে বুঝায় কোন কিছু “জানা”, এই মহা বিশ্ব সম্পর্কে জানাই হল বিজ্ঞান। আবার আল কুরানও এই মহা বিশ্ব সম্পর্কে জানাচ্ছে। তাহলে কি বিষয় দুটো এক ?

    2. 9.2
      সরোয়ার

      @বুড়ো শালিক:

      আমান ভাই ও জিয়াভাইয়ের কমেন্টে বিজ্ঞানের ডেফিনেশন দেয়া আছে।

      1. 9.2.1
        বুড়ো শালিক

        @সরোয়ার: হ্যাঁ, সেটা দেখলাম। কিন্তু আমাদের একটা ব্যাপার ভুলে গেলে চলবে না, সেটা হচ্ছে, বিজ্ঞান কিন্তু ঘটনা বানায় না, ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়। যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার ব্যাখ্যা বের না হলেও ঘটনাগুলো ঘটা কিন্তু বন্ধ হবে না। পৃথিবী গোল ছিল, আছে, থাকবে। যখন পৃথিবীকে ফ্ল্যাট মনে করা হতো, তখনও তা গোলই ছিল।

        এখন কথা হচ্ছে, কুরআন কি ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়? কুরআনে আছে, পৃথিবী, সূর্য সবই ঘুরে। কিন্তু এক সময় পৃথিবীকে স্থির ভাবা হতো। তখন কি কুরআন অবৈজ্ঞানিক ছিল? আর “পৃথিবী ঘুরে”, এটা আবিষ্কার করার পর বৈজ্ঞানিক হয়ে গেছে?

  22. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপাতত বিরতিতে গেলাম -- রাতে এসে দেখবো। আপনারা আগান। ধন্যবাদ।

    1. 8.1
      সাদাত

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
      রাত কি এখনো আসে নাই?

  23. 7
    ফুয়াদ দীনহীন

    ডা অভিজিত রায়ের এ ব্যাপারে একটি লেখা আছে। লেখাটির নাম বিজ্ঞানময় কিতাব

    লেখায় উনার বক্তব্য হল, আল কুরানে বা ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে যখন লেখা হয়েছিল, ওই সময়ের মানুষের আশা-চাওয়া-পাওয়ার কথা প্রতিফলিত হয়েছে। যখন আল কুরান লেখা হয়েছিল, তখন গ্যালালিও বা কোপার্নিকাস কেউ ছিলেন না। তাই তাদের আবিষ্কার করা বিষয় সেখানে থাকার কথা না। আরো বেশ কিছু বিভিন্ন প্রকার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এবং আল কুরানে বিভিন্ন প্রকার বর্তমান বিজ্ঞান আছে, সে রূপ দাবীর কিছু উত্তর দেওয়া হয়েছে।

    সমস্যা হচ্ছে, আল কুরানে যে বিজ্ঞান পাওয়া যায়, তার বিপরিতে নাস্তিকরা যুক্তি দিতে পারে, আবার সেই যুক্তি আরেকজন মুসলিম খন্ডাতেও পারে। আপনি চাইলে অভিজিত রায়ের লেখা যুক্তিগুলি এক এক করে খন্ডাতে পারবেন।

    আল কুরানে বিজ্ঞান পেয়ে কেউ কি নিজে মুসলিম হয়েছিলেন এমন প্রমাণ কি আছে?

    আল কুরানে বিজ্ঞান আছে, এই মর্মে কাউরো থেকে শুনে কেউ কি মুসলিম হয়েছিলেন, এমন প্রমাণ কি আছে?

    1. 7.1
      সরোয়ার

      @ফুয়াদ দীনহীন:

      “যখন আল কুরান লেখা হয়েছিল, তখন গ্যালালিও বা কোপার্নিকাস কেউ ছিলেন না। তাই তাদের আবিষ্কার করা বিষয় সেখানে থাকার কথা না।’

      -- এটা কোন যুক্তি হলো? তাহলে গ্যালিলিও এর আবিষ্কারের আগে পৃথিবীর আবর্তন কি অন্যভাবে হতো?

      1. 7.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @সরোয়ার:

        এটা উনি যুক্তি হিসাবে ব্যাবহার করেননি। এবস্ট্রাক্ট হিসাবে বর্ননা করেছেন।

    2. 7.2
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:
      এটা আমাদের নিজেদের আলোচনা। এখানে অভিজিতকে না টানলেই ভালো হয়। নিজেদের মতামত বলি।

    3. 7.3
      সাদাত

      @ফুয়াদ দীনহীন:
      অ.ট:
      অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু তার পরও একটা কথা না বলে পারছি না।

      “যখন আল কুরান লেখা হয়েছিল, তখন গ্যালালিও বা কোপার্নিকাস কেউ ছিলেন না। তাই তাদের আবিষ্কার করা বিষয় সেখানে থাকার কথা না।” -- এইটা একটা খুবই খারাপ যুক্তি।

      কারণ মুসলিমরা কুরআনকে স্রষ্টার বাণী বলে মনে করে। গ্যালালিও বা কোপার্নিকাস বা বিজ্ঞানীরা প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার করেন, তারা প্রকৃতির নিয়ম তৈরি করেন না। মুসলিমরা মনে করে স্রষ্টা প্রকৃতির নিয়ম তৈরি করেছেন, কাজেই প্রকৃতির এই নিয়মগুলো বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিষ্কার হবার আগেই স্রষ্টা তা জানেন। কাজেই একজন মুসলিমের দৃষ্টিতে স্রষ্টার বাণীতে তার প্রতিফলন থাকতেই পারে।

      একজন মুসলিমের সাথে একজন নাস্তিকের কয়েকক্ষেত্রে বিতর্ক হতে পারে:
      ১. আস্তিক-নাস্তিক তর্ক: স্রষ্টা আছেন কি নাই এটা নিয়ে। এই ক্ষেত্রে একজন নাস্তিক ধরে নিতে পারেন স্রষ্টা বলে কেউ নাই। কুরআনকে তিনি বানোয়াট কিছু ধরে নিতে পারেন।
      ২. কুরআনে কোন বৈজ্ঞানিক ইংগিত/ভ্রম আছে কিনা?: এই তর্কে এক নাস্তিককে তর্কের খাতিরে কুরআনকে মুসলিম ধারণা অনুযায়ী স্বীকার করে নিতে হবে। ধরে নিতে হবে আল্লাহ বলে একজন স্রষ্টা আছেন, কুরআন হচ্ছে তার বাণী। আর তিনি যদি তর্কের খাতিরে এতটুকুও স্বীকার করতে না চান তবে তার বিতর্ক আস্তিকতা-নাস্তিকতা গন্ডির মধ্যেই রাখা উচিত।
      [আরো অনেক ক্ষেত্রে বিতর্ক হতে পারে, সেটা আলোচনায় প্রাসঙ্গিক না।]

  24. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ সাদাত -- বিষয়টা আলোচনার জন্যে নির্ধানর করেছে।

    “বিজ্ঞানময় কোরান” বা কোরানে বিজ্ঞান আছে কি নাই এই ধরনের আলোচনা আসলে কোরানের বিষয়ে খুবই প্রাথমিক এবং একটা বিশেষ দৃষ্টিভংগী থেকে কোরানকে দেখার একটা প্রচেষ্টা থেকে এসেছে। ধরা যাক যারা -- ধরেনই নিয়েছে যে -- ধর্ম হলো বিজ্ঞানের প্রতিপক্ষ বা বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্যে প্রতিবন্ধক -- তাদের হাস্যকর প্রচেষ্টা থা্কে বিভিন্ন আয়অতের অনুবাদ এনে বিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিগুলোর বিপরীতে দাড় করিয়ে তাকে বাতিল করা। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রাথমিক স্থরেই বাতিল করে দেওয়া যায় অনুবাদের কারনে।

    অন্যদিক -- বিজ্ঞানের কোন একটা বিষয়ে কোরানে আছে বলে হৈ চৈ করে উপস্থাপনায়ও নানান ক্রটি থাকে -- একই ভাবে অনুবাদের ধুম্রজালে তখন দু্ইপক্ষই হাবুডুবু খায় -- ফলে একটা সীমাহীন বিতর্কে রূপ নেয়।

    কোরান হলো একটা গাইড বই। একজন মানুষ একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পৌছানোর জন্যে যখন নিজেকে একটা নির্ধারিত পথে চালাতে চাইবে -- তাদের জন্যে জীবনের নির্দেশিকা হিসাবে কোরান কাজ করবে। একজন মানুষের জীবনে যেমন পারিবারিক সমস্যা, সম্পদ আর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, সামাজিক জীবন আর ব্যক্তিজীবনের হাজারো বিষয়ে মুখোমুখি হত এহয় -- সেখানে কোরান তাকে দিক নির্দেশনা দেবে। যেহেতু মানুষ প্রকৃতি (Nature) রই অংশ আর প্রকৃতির একটা নির্দিষ্ট নিয়ম-শৃংখলা আবদ্ধ -- যাকে বুঝার চেষ্টাই বিজ্ঞান। সেহেতু মানুষের জীবনটাই বিজ্ঞানময়। যার অনেকটুকু আমরা বুঝি আর অনেকটুকু বূঝিনা। যতটুকু জানা গেছে ততটুকুই বিজ্ঞান আর যা প্রমানিত নয় তা বিজ্ঞান না বলে গো ধরে বসে থাকা এক ধরনের মুঢ়তা। আর মানুষের জীবনের চলার জন্যে আল্লাহ থেকে আসা গাইড তো আর অলীক বিষয়কে অনুসরন করতে বলেনি। সেখানে যা বলা হয়েছে তা খুবই স্বাভাবিক -- এবং প্রকৃতির নিয়মনীতিরই অংশ -- সুতরাং সবটুকুই বৈজ্ঞানিক।

    আমার যদি কেউ বলতে চায় কোরান বিজ্ঞানের বই -- তা হলে তার কোরান সর্ম্পকে ভুল ধারনার বিষয়টা প্রমানিত হয়।

    1. 6.1
      এস. এম. রায়হান

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: সদালাপে এত টাইপো হলে কিন্তু ছাড় দেয়া হবে না। 🙂

      1. 6.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        @এস. এম. রায়হান:

        চেষ্টা করছি -- কিন্তু কি বোর্ড কাজ করছে না।। অন্য জায়গা থেকে টাইপ করে কপি/পেস্ট করতে হচ্ছে।

        1. 6.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: আপনি এই সমস্যার কথা অনেক আগেই বলেছিলেন। এত দিনেও সমাধান হয়নি কেন বুঝতেছি না। আপনি অভ্র কী-বোর্ড ইন্সটল করেছেন না?

    2. 6.2
      সাদাত

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
      প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ, সদালাপে এবং আমার পোস্টে পদার্পণের জন্য। আপনাকে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: সেখানে যা বলা হয়েছে তা খুবই স্বাভাবিক – এবং প্রকৃতির নিয়মনীতিরই অংশ – সুতরাং সবটুকুই বৈজ্ঞানিক।
      সাদাত: কথাটার সাথে একমত হতে পারলাম না। শুধু একটা ইদাহরণ দেই, ইব্রাহিম(আ.)কে আগুনে ফেলা হলো, কিন্তু আগুন তাঁকে পুড়ালো না- এটা কিভাবে প্রকৃতির নিয়মনীতির অংশ হয়?

  25. 5
    এম ইউ আমান

    এই আলোচনার শুরুতে একটি ব্যাপার মাথায় রাখলে মনে হয় ভাল হবে যে, বিজ্ঞান পদার্থের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলেও মানুষের ধর্ম আলোচনা বিজ্ঞানের আওতায় পড়েনা। বিজ্ঞান মূলতঃ অব্জার্ভড ফিনোমেনা ব্যাখ্যা করে, তাদের মধ্যে কার্য-কারণ নির্ণয় করে এবং ব্যবহারিক কাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটে। একটি স্পেচিফিক উদাহরণ দিই- কোরাণে জ্বীনের অস্তিত্ত্বের কথা ক্লিয়ারলি বলা আছে। বিজ্ঞান জ্বীনের অস্তিত্ত্ব স্বীকার করেনা; বিশেষতঃ সেইসব জ্বীনের অস্তিত্ত্ব যারা বাংলাদেশের পীরদের(!) সাধারণতঃ পোষা হয়ে থাকে এবং মাঝে মাঝে ঔষধ পত্র কোহকাফ নগরী থেকে এনে দেয়। শৈশবে অনেক গল্প শুনেছি যে জ্বীন মানুষের ঘাড়ে লাগে এবং ওঝা এসে ঝাড়ানোর পর জ্বীন যাওয়ার সময় প্রায়শঃই গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে যায়। কোন এক্সটারনাল ফোর্স ছাড়া মড়াৎ করে একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে গেলে কিছু সমস্যা আছে। তাতে করে নিউটন সাহেবের রাগের কারণ ঘটবে কারণ তার মোশনের প্রথম সূত্রটি বরবাদ হয়ে যাবে। তাহলে এই ব্যাপারটি কিভাবে রিকনসাইল করা যাবে?
    কোরাণ খুব সম্ভবত বিজ্ঞান শেখাবে না। কোরাণে খুব সম্ভবত পরীক্ষালব্ধ বিজ্ঞানকে কন্ট্রাডিক্টও করবেনা।

    1. 5.1
      দিশারী

      @এম ইউ আমান:

      ট্র্যাডিশনাল বিজ্ঞান কি? এটার জবাব আমান সাহেব দিয়েছেন, যেটা আমি দিতে চেয়েছিলাম! আমার কাজকে তিনি সহজ করে দিয়েছেন। তাহলে বিজ্ঞান হচ্ছে-

      “বিজ্ঞান পদার্থের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলেও মানুষের ধর্ম আলোচনা বিজ্ঞানের আওতায় পড়েনা। বিজ্ঞান মূলতঃ অব্জার্ভড ফিনোমেনা ব্যাখ্যা করে, তাদের মধ্যে কার্য-কারণ নির্ণয় করে এবং ব্যবহারিক কাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটে।”

      সারকথাঃ
      ‘কোরাণ খুব সম্ভবত বিজ্ঞান শেখাবে না। কোরাণে খুব সম্ভবত পরীক্ষালব্ধ বিজ্ঞানকে কন্ট্রাডিক্টও করবেনা।’

      আলোচনা মনে হচ্ছে মাত্র শুরু হলো!

      1. 5.1.1
        সাদাত

        @দিশারী:
        আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে।
        আপনার পড়াশোনা কতদূর এগুলো?

    2. 5.2
      ফুয়াদ দীনহীন

      @এম ইউ আমান:

      কেউ কেউ বলে থাকেন আল কুরান হচ্ছে বুক অব ফ্যাক্ট, নট বুক অব থিউরি। যেকোন ফ্যাক্ট অবশ্যই আল কুরানের সাথে মিলবে কিন্তু থিউরি, হিপোথিসিস নাও মিলতে পারে। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের কোন সীমা নেই। তাই মানুষ আল কুরান নিয়ে বিতর্ক করে যেতেই পারে। যারা আল কুরানের বিশ্বাস করেনা, তারাও যুক্তি দিতে পারবে, যারা করে তারাও যুক্তি দিতে পারবে। শেষমেষ, হেদায়েত প্রাপ্ত ব্যাক্তিরাই আল কুরানের পক্ষে থাকবে। কিন্তু যারা হেদায়েত পায়নি তারা কেন পায়নি? সত্যবাদীতা কি হেদায়েত পাবার অন্যতম শর্ত কিংবা ভাল কাজ? আপনি হয়ত এমন কোন কাজ করেছেন, যা আল্লাহ পাকের ভাল লেগেছে, এ জন্যও এই পুরষ্কার পেতে পারেন। আল্লাহ পাকই সব থেকে ভাল জানেন।

      1. 5.2.1
        সাদাত

        @ফুয়াদ দীনহীন:
        ইব্রাহিম(আ.)কে আগুনে ফেলা হলে তিনি পুড়লেন না। এই বর্ণনা কুরআনে আছে।
        অথচ আগুনে ফেলা হলে মানুষ পুড়ে যায়, এটা হচ্ছে ফ্যাক্ট।

        তাহলে এই ফ্যাক্টটা কি কুরআনের সাথে মিললো?

      2. 5.2.2
        কবরের ডাক

        কেউ কেউ বলে থাকেন আল কুরান হচ্ছে বুক অব ফ্যাক্ট, নট বুক অব থিউরি। যেকোন ফ্যাক্ট অবশ্যই আল কুরানের সাথে মিলবে কিন্তু থিউরি, হিপোথিসিস নাও মিলতে পারে।
         
        সুন্দর একটি কথা । এই কথাটি ভালো বুঝে আসবে আমার নীচের লিংকের পোষ্টটি পড়লে। এখানে চেয়েছিলাম কপি পেষ্ট করে দিতে। কিন্তু মনে হলো এডমিন তাহলে আমার কমেন্টটা প্রকাশ করবেনা, তাই দিলাম না। 
        যারা কোরানে শুধু বিজ্ঞান খুজেন বা যারা বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনের ভুল ধরেন, তারা সবাই একটু দেখুন; আগে সাইন্টিফিক মেথড সম্পর্কে জানুন। 
         

    3. 5.3
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @এম ইউ আমান:

      -- কথা সত্য যদি আপনি বিজ্ঞানের সংজ্ঞা এভাবে দেখি --

      Science (from Latin: scientia meaning "knowledge") is a systematic enterprise that builds and organizes knowledge in the form of testable explanations and predictions about the universe. An older and closely related meaning still in use today is that of Aristotle, for whom scientific knowledge was a body of reliable knowledge that can be logically and rationally explained.

      কোরান সেই অর্থে বিজ্ঞান সেখাবে না -- কিন্তু যেহেতু বিজ্ঞান অর্থৎ মানুষের লদ্ব বিশেষ জ্ঞান কোরানের মাধ্যমে মানুষের স্রষ্টাকে চেনাবে -- সেই জন্যই কোরানের দিকনির্দেশনাগুলো মানুষকে ভাবার জন্যে উৎসাহিত করবে। আর বিজ্ঞানের শুরুতো সেইখানেই। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো -- ১৫০০ বছর আগে মানুষের স্রষ্টার সম্পর্কে বুঝার জন্যে যতটুকু জ্ঞানের দরকার ছিলো তা মিটিয়েছে কোরান। বাকীটুকু ছিলো "মুতাশা বিহাদ" (কোরান ৩:৭)। কিন্তু আজকের বিজ্ঞানের অগ্রগতির আলোকে কোরআনে মহাবিশ্বের রহস্য বা ভ্রুনবিদ্যার জ্ঞানকে সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে আর তা বিশ্বাসীরা তাদের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে -- ১০০০ বছর আগে কল্পনাই করা যেত না। এই রকমের শতশত ঈংগিত কোরানে দেওয়া আছে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মানুষের কাছে পরিষ্কার হতে থাকবে। দিনে দিনে মুতাশা বিহাদগুলো মানুষের কাছে স্বাভাবিক আয়াতে পরিনত হবে। এইটা আসলে কোরআনের শ্বাশত চাহিদা মেটানোর জন্যেই হবে। আজ থেকে হাজার বছর পরেও মানুষ প্রকৃতির একটা রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হবে -- তখন বিশ্বাসীদের জন্যে তা হবে আরেকটা চমক -- পরম করুনাময়কে আরো গভীর ভাবে উপলম্বি করার আনন্দে মাতোয়ার হবে বিশ্বাসীরা।

      সুতরাং পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে কোরানের সাথে বিজ্ঞানের সংঘাতের কোন সুযোগ নেই -- বরঞ্চ বিজ্ঞানই কোরানের পরিপুরক জ্ঞান হিসাবে মানুষকে স্রষ্টার স্বরূপ উপলম্বি করতে সাহায্য করতে থাকবে -- অবশ্যই তাদের জন্যে যারা তা করতে চাইবে এবং আমাদের পালনকর্তা তাকে তা করার অনুমতি দেবেন।

      1. 5.3.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:

        এই গল্পটি দেখুনঃ
        এক ব্যাক্তি পুকুড়ে অজু করতেছে। তার ছোট বাচ্চা বলতেছে বাবা দেখ থাম্বাটি পানিতে দোল খাচ্ছে। তার বাবা জবাব দিল, আসলে থাম্বাটি পানিতে দোল খাচ্ছে না, থাম্বা শক্তই আছে।

        এখানে,
        ১ ছোট বাচ্চাটী যা দেখেছে তা ভুল নয়, কিন্তু ভুল বুঝেছে। এটাই বিজ্ঞান। মানুষ একের পর এক বিষয় জানতে থাকবে, ভুল বের করতে থাকবে।

        ২ আল কুরান যা বলেছে, তা এক দন্ডে মেনে নিতে হবে। কারন আল্লাহ পাক সম্পূর্ন বিষয় জানেন। তিনি যা বলেছেন, তা সত্য। মানুষের জ্ঞান বাড়তে বাড়তে তা পুরো পুরি বুঝতে পারবে।

        কাজেই, মূল প্রশ্ন হলঃ
        মানুষ যদি আল কুরান বুঝতেই এত বছর লাগে, তাহলে তা অনুষরণ করবে কিভাবে?

        1. 5.3.1.1
          আব্দুস সামাদ

          @ফুয়াদ দীনহীন:

          আল্লাহ তায়ালা কোরআনকে সব যুগের উপযোগী করেই বানিয়েছেন। যারা যখন যতটুকু আয়ত্বে আনতে পেরেছে বা পারবে সে মতই পালন করবে। উদাহরণ দিই; আগে জানতাম স্ত্রী অবাধ্য হলে তাকে মেরে শাসন করা যাবে। আগের প্রায় তাফসীরকারগনের এই মত।আরবী শব্দটি যা মারার প্রতি শব্দ তা দিয়ে এখন অন্য অনেক অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। এখন বউ মারায় আপত্তি আসছে বা প্রয়োজন পড়ছেনা কারণ উভয়েই এখন শিক্ষিত সচেতন। আমরাকি বলব যারা আগে মেরেছে তারা ভুল করেছে? তা নাবলে বলব তখন প্রয়োজন ছিল। দুই যুগে বোঝার তারতম্যই প্রমান হয়নাকি? কোরাণ একই জায়গায় আছে। নয় কি?

        2. 5.3.1.2
          এন্টাইভণ্ড

          @ফুয়াদ দীনহীন:

          {{১ ছোট বাচ্চাটী যা দেখেছে তা ভুল নয়, কিন্তু ভুল বুঝেছে। এটাই বিজ্ঞান। মানুষ একের পর এক বিষয় জানতে থাকবে, ভুল বের করতে থাকবে।}}

          এইটা কিন্তু ভুল ধারণা।
          বিজ্ঞান এটা না। বরং বাচ্চাটি যা দেখছে তাকে বেইজ ধরে আসল যে অবস্থা (খাম্বাটি দুলছে মনে হলেও আসলে যে সেটা দুলছে না) তা জানার প্রসেসটাই হলো বিজ্ঞান।

          একটা ভরা গ্লাস যদি আপনি সামনে রেখে ওপাশ আঙুল বা হাত রাখেন, সেটা অনেক মোটা দেখাবে, বাকা দেখাবে।
          এটা হচ্ছে বিজ্ঞান যে আপনাকে খুব স্পষ্ট করে কারণ সহ বুঝিয়ে দেবে যে না, আপনার আঙুলকে যদিও বাকা এবং মোটা দেখাচ্ছে, তথাপিও আসল সত্যটি এটি নয়। শুধু তাই না, বিজ্ঞান আপনাকে এই কথা বলে একই রকম ভাবে প্রেডিক্ট করবে যে আপনি একটা না-বাকা এবং চিকন একটা কিছু যদি এ্কইভাবে ভরা গ্লাসের ওপাশে রাখেন, তাহলে সেটিও একইরকম বাকা এবং মোটা দেখাবে। সাথে সাথে আপনাকে কারণটিও বলবে।

        3. ফুয়াদ দীনহীন

          @এন্টাইভণ্ড:

          আপনি ঠিক বললেও আমার গল্পটি ধরতে পারেননি। গল্পের অর্থ হল, মানুষ সব ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারবে না ঐ ছোট বাচ্চার মত একের পর এক বিষয় জেনে যাবে। কিন্তু মানুষকে রাসূল সাঃ এর কথা মেনে নিতে হবে, কারন তিনি যা জানেন আমরা তা জানি না। ঐ ছোট বাচ্চার পিতার মত।

        4. সরোয়ার

          @এন্টাইভণ্ড:

          “বিজ্ঞান এটা না। বরং বাচ্চাটি যা দেখছে তাকে বেইজ ধরে আসল যে অবস্থা (খাম্বাটি দুলছে মনে হলেও আসলে যে সেটা দুলছে না) তা জানার প্রসেসটাই হলো বিজ্ঞান।’

          এটাই আসল পয়েন্ট। বিজ্ঞান বলতে এটাই বুঝায়। জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। জিয়াভাইয়ের কমেন্ট থেকে-

          Science (from Latin: scientia meaning “knowledge”) is a systematic enterprise that builds and organizes knowledge in the form of testable explanations and predictions

        5. 5.3.1.3
          বুড়ো শালিক

          @ফুয়াদ দীনহীন: আসলে সবারই বুঝার ভুল আছে! পানি নড়তেছে, কিন্তু খাম্বাও কিন্তু স্থির না! কারণ পৃথিবী ঘুরতেছে!!! 😉

        6. ফুয়াদ দীনহীন

          @বুড়ো শালিক:

          তা ঘুরতাছে, কিন্তু কাপতাছেনা, আপনার পারিপার্শিক অবস্থার বিপরিতে। 🙂 🙂 🙂

      2. 5.3.2
        সরোয়ার

        @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
        অনেকদিন পর সদালাপে আপনার মন্তব্য পড়ে ভাল লাগল। নীচের কথাগুলো বেশ ভাল লেগেছে-

        “কিন্তু আজকের বিজ্ঞানের অগ্রগতির আলোকে কোরআনে মহাবিশ্বের রহস্য বা ভ্রুনবিদ্যার জ্ঞানকে সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে আর তা বিশ্বাসীরা তাদের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে – ১০০০ বছর আগে কল্পনাই করা যেত না। এই রকমের শতশত ঈংগিত কোরানে দেওয়া আছে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মানুষের কাছে পরিষ্কার হতে থাকবে। দিনে দিনে মুতাশা বিহাদগুলো মানুষের কাছে স্বাভাবিক আয়াতে পরিনত হবে। “

    4. 5.4
      বুড়ো শালিক

      @এম ইউ আমান: এইখানে আমার কিছু কথা আছে। আমরা আলোর বিশাল বর্ণালীর ঠিক কোন অংশটুকু দেখি? অতি সামান্য একটা অংশ। তার মধ্যেই নানান রং। এই দৃশ্যমান বর্ণালীর বাইরেও কিন্তু অনেক কিছু আছে। যেমন এক্স রে, অতিবেগুনি রশ্মি, ইত্যাদি। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে এরও বাইরে আরও কিছু থাকতে পারে, যা হয়তো আমরা দেখি না?

      আমি কোন ডিসিশন দিচ্ছি না, জাস্ট একটা প্রোবাবিলিটির কথা বললাম। আর বিজ্ঞান কিন্তু সবসময় প্রোবাবিলিটির কথাই বলে, আর সেই সাথে কোনো প্রোবাবিলিটিকেই উড়িয়ে দেয় না!

      1. 5.4.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @বুড়ো শালিক:

        বিজ্ঞান প্রবাবিলিটির কথা বলে, কিন্তু এতে যুক্তি থাকে। বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সমাধানে আসে। তাছাড়া, আমাদের বেশীর ভাগ সিদ্ধান্ত ১০০% একোরেইট না। আমরা মোটামোটির উপর ধরে নেই।

        1. 5.4.1.1
          বুড়ো শালিক

          @ফুয়াদ দীনহীন: আপনার কথা ঠিক। কিন্তু আমি যা বললাম, সেখানে বিপরীত যুক্তিটা কি একটু বলবেন?

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          @বুড়ো শালিক:

          আপনি “রে বা রশ্মিকে” বর্ণালির(আলো)” সাথে মিলিয়েছেন, যা আমি এখন বুঝতে পারিনি। আমার জানা মতে, এগুলো তরংগ, তাই তরংগ দৈর্ঘ ধরে নিন ১ থেকে শুরু করে অসংখ্য হতে পারে। কারন ১ আর ২ এর মধ্যে বাস্তব সংখ্যা অসীম।

          আলোর বাহিরে আরো অনেক তরংগ দৈর্ঘ আছে যা প্রমানিত ফ্যাক্ট। সেখানটায় প্রবাবিলিটি হতে পারে, কিন্তু আমি বুঝতে পারতেছি না?

    5. 5.5
      এন্টাইভণ্ড

      @এম ইউ আমান:

      আমিও মনে করি, সারকথাটা হলো:
      “কোরাণ খুব সম্ভবত বিজ্ঞান শেখাবে না। কোরাণে খুব সম্ভবত পরীক্ষালব্ধ বিজ্ঞানকে কন্ট্রাডিক্টও করবেনা।”

    6. 5.6
      সাদাত

      @এম ইউ আমান:
      আমান: এই আলোচনার শুরুতে একটি ব্যাপার মাথায় রাখলে মনে হয় ভাল হবে যে, বিজ্ঞান পদার্থের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলেও মানুষের ধর্ম আলোচনা বিজ্ঞানের আওতায় পড়েনা।
      সাদাত: আপনার এই বাক্যটা আলোচনা করার জন্য একটা আলাদা পোস্ট দরকার। কথাটা একদিক দিয়ে ঠিক, আরেক দিক দিয়ে ভুল। সমস্যাটা ধর্ম শব্দটাকে নিয়ে। ইংরেজি property বা characteristic কে বাংলায় সাধারণত 'ধর্ম' বলা হয় যদিও সঠিক শব্দটি হওয়া উচিত 'বৈশিষ্ট্য'; আবার ইংরেজি religion কেও বাংলায় ধর্ম বলা হয়।

      আপনি যখন বলছেন -- বিজ্ঞান পদার্থের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে- তখন আপনি অবশ্যই পদার্থের property বা characteristic কে বুঝাচ্ছেন।

      আবার যখন বলছেন 'মানুষের ধর্ম আলোচনা বিজ্ঞানের আওতায় পড়েনা' তখন যদি
      মানুষের ধর্ম বলতে মানুষের property বা characteristic কে বুঝান তবে আপনার কথাটা ঠিক না।
      আর যদি মানুষের ধর্ম বলতে মানুষের religion বুঝান, তবে সেটা ঠিকই আছে।

      [অ.ট. তবে কথা হচ্ছে আজকাল তো যে কোন বিষয়েই পেছনেই বিজ্ঞান বসছে। কাজেই অদূর ভবিষ্যতে ধর্মবিজ্ঞান(!) বলেই যে কিছু তৈরি হবে না, তাই বা বলি কী করে!!!]

      আমান:কোরাণ খুব সম্ভবত বিজ্ঞান শেখাবে না। কোরাণে খুব সম্ভবত পরীক্ষালব্ধ বিজ্ঞানকে কন্ট্রাডিক্টও করবেনা।
      সাদাত: ভালো বলেছেন। স্রষ্টাপ্রেরিত গ্রন্থ হতে সেটাই আশা করা যায়। তবে কুরআন বিজ্ঞান শেখাক বা না শেখাক, সেটা বিজ্ঞানময় কিনা- অর্থাৎ কুরআনে ভুরিভুরি বিজ্ঞানের তত্ত্ব আছে কিনা, সেটাই আলোচ্য বিষয়।

  26. 4
    আব্দুস সামাদ

    সাদাত ভাই, সালামো আলায়কুম,
    নিজের যেহেতু বিদ্যে নেই, তাই অন্যেরটা নিয়েই চলি।
    ৩৬/২ এ কোরান বলছে; “সাক্ষী এই বিজ্ঞানময় কোরআন”। বিজ্ঞান আর বিজ্ঞানময়, শব্দ দুটো একনয়। রসুল বলেছেন; ‘আনতুম আ’লামো বে উমুরে দুনিয়া কুম’।(একটা বিজ্ঞানের কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন) তিনি বলতে চেয়েছেন, আমার কাজ হেদায়েত বিলানো । তাই আমি নিয়ে এসেছি। অর্থাৎ কোরআনকে তিনি হেদায়েতের গ্রন্থ বলেই বেশী জোর দিয়েছেন। বিজ্ঞানময় বলতে আমরা বুঝি, বিজ্ঞান এতে আছে। কোরআন নিজেও তাই বলছে।

    ‘বিজ্ঞান না কোরআন’ গ্রন্থে লেখক জনাব নুরূল ইসলাম সাহেব লিখছেন; ‘মুসলমান হিসেবে কোরআন পড়তে হবে, এর মর্য্যা রক্ষা করতে হবে- শুধু এ ধারণাটুকুই ছিল। এ ধারণা আমার প্রথম ভাঙল ১৯৪০ সালে, যখন এ মহা গ্রন্থ হাতে নিলাম। নিশ্চুপ রাতে সামান্য কয়টি মাত্র সুরা অর্থ সহ পাঠ করে অবাক হয়ে গেলাম। মনে হল দুনিয়ার জ্ঞান ভাণ্ডার একত্রিত করে এতে সন্নেবেশিত করা হয়েছে। এমন আদেশ, উপদেশ, তত্ব, জ্ঞান, ইশারা ও প্রেরণা কোন বৈজ্ঞানিক গ্রন্থেই আজ পর্য্যন্ত দেখিনি। সম্পূর্ণ কোরআন পাঠ করার পর আমার ইচ্ছে হতে লাগল এর প্রতিটি শব্দ মুখস্ত করি ও অর্থ বুঝে চিন্তা করি। সুরা রহমান, সুরা ওয়াক্বেয়া, সুরামুলক, সুরা লোকমান, সুরা ইয়াসিন, সুরা নূর প্রভৃতির মধ্যে আশ্চর্য রকম বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দেখে আমি স্থির থাকতে পারলাম না। এ যাবৎ বিজ্ঞানের যে সব থিওরী নিয়ে আলোচনা করেছি দেখলাম সেগুলো তো আছেই, উপতন্ত্তু এমন সবকিছু আছে যা বিজ্ঞানীরা আজো ভাবতে পারেনি। আকাশতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, দৃশ্য-অদৃশ্য যা কিছু এ বিশ্বে আছে তার সঠিক ধারণা বিজ্ঞান দিতে পারেনি। কল্পনার জালে অনেক সময় যা ধরেছে তা যে কল্পনা ব্যতীত নয়, অবাস্তব, কোরআন তা ঘোষনা করে আমাদের মত বৈজ্ঞানিকদের সচেতন করেদিল এই বলে-“সত্যের সন্মুখে কল্পনা কিছুমাত্র ফলপ্রদ হইবে না”(সুরা নজম)।’ ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      সাদাত

      @আব্দুস সামাদ:
      ওয়া আলাইকুমুস সালাম আব্দুস সামাদ ভাই।
      [অ.ট. Reply অপশনে ক্লিক করলে শুধু নাম আসে, ভাই আসে না। কাজেই ধরে নেবেন ‘ভাই’ শব্দটা উহ্য আছে। কোথাও ভাই যোগ না করলে মাইন্ড কইরেন না]

      নুরুল ইসলাম সাহেব বলছেন: এ যাবৎ বিজ্ঞানের যে সব থিওরী নিয়ে আলোচনা করেছি দেখলাম সেগুলো তো আছেই, উপতন্ত্তু এমন সবকিছু আছে যা বিজ্ঞানীরা আজো ভাবতে পারেনি। আকাশতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, দৃশ্য-অদৃশ্য যা কিছু এ বিশ্বে আছে তার সঠিক ধারণা বিজ্ঞান দিতে পারেনি।

      উনার বক্তব্য ঠিক হলে উনি যে নতুন কিছু আবিষ্কার করলেন যা বিজ্ঞানীরা আজো ভাবতে পারেনি, সেগুলো কী কী? শুধু দাবি করলেই তো আর হবে না, সেটা যৌক্তিক এবং বাস্তব হতে হবে। কুরআন হতে উনি কী কী বিজ্ঞানের কী কী নতুন বিষয় আবিষ্কার করেছেন সেটা তুলে ধরতে না পারলে উনার বক্তব্যটা অতিরঞ্জিত এবং আবেগপ্রসূত বলা ছাড়া উপায় নেই।

      1. 4.1.1
        আব্দুস সামাদ

        @সাদাত:

        উনার বইখানাতে উনি জাগতীক বিভিন্ন জিনিষের যেমন, পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য, মানুষ, রেডিও, মাধ্যাকর্ষণ, জীবজন্তু, বিদ্যুত,কীটপতঙ্গ,প্রভৃতি বিষয়ে কোরানীক ব্যাখ্যা ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা আলোচনা করেছেন। নতুন কিছু আবিষ্কার করেছেন কিনা আমার জানা নেই। ধন্যবাদ।

        1. 4.1.1.1
          সাদাত

          @আব্দুস সামাদ:
          নতুন কিছু আবিষ্কার করলে বইটি পড়ে আপনি সেটা অবশ্যই জানতেন। নতুন কী কী আবিষ্কার করেছেন এটা যদি উনি উল্লেখ না করেন তবে “উপতন্ত্তু এমন সবকিছু আছে যা বিজ্ঞানীরা আজো ভাবতে পারেনি। আকাশতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, দৃশ্য-অদৃশ্য যা কিছু এ বিশ্বে আছে তার সঠিক ধারণা বিজ্ঞান দিতে পারেনি।” -- এই কথাগুলো অতিরঞ্জিত হয়ে যায় না? আল-কুরআন যা তাকে তাই বলতে হবে, যা না তা কেন বলতে হবে?

        2. নূর

          বিজ্ঞানী নুরুল ইসলাম সাহেবের " পৃথিবী নয় সূর্য ঘোরে " বইটি পড়ে খুব-ই ঘোরের মধ্যে আছি । বইটি কেহ পড়লে বইটির যুক্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরলে খুব-ই উপকৃত হতাম ।

           

        3. এস. এম. রায়হান

          এই 'বিজ্ঞানী' নুরুল ইসলাম সাহেবের নাম আমি প্রথম শুনি মনাদের গুরুজী মগাজিৎ রায়ের লেখা থেকে। মাত্র কয়েকদিন আগেও তার লেখা থেকে আবারো জানতে পারলাম। রতনে রতন চেনে কি-না।

    2. 4.2
      সাদাত

      @আব্দুস সামাদ:
      ৩৬/২ এ কোরান বলছে; “সাক্ষী এই বিজ্ঞানময় কোরআন”।

      ৩৬:২ এর এই অনুবাদটা কোথা থেকে পেয়েছেন? জানালে ভালো হতো।

  27. 3
    বুড়ো শালিক

    আপাতত গ্যালারিতে।

    1. 3.1
      সাদাত

      @বুড়ো শালিক:
      গ্যালারিতে থাকা চলবে না।

      1. 3.1.1
        আহমেদ শরীফ

        @সাদাত: একটু ভ্যাকেশনে আছে আর কি ক’দিন/ ওয়ার্ম আপ করে ঠিকই আবার নেমে পড়বে বুড়ো শালিক।

        1. 3.1.1.1
          বুড়ো শালিক

          @আহমেদ শরীফ: আইসা পড়ছি তো! 🙂

        2. সাদাত

          @বুড়ো শালিক:
          স্বাগতম!

  28. 2
    শাহবাজ নজরুল

    কুর`আন-কে “বিজ্ঞানময় আল-কুরআন” এভাবে দেখতে/বলতে আমি চাইনা| এভাবে বলার অন্তত ইতিহাস আছে বলে মনে হয় না| কুর`আন-কে কীভাবে বিশেষায়িত করা হবে তার সবচেয়ে অথেন্টিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে আমাদের পুর্বসূরীদের দেখানো পথ থেকে| কেউ তখন কুর`আন-কে “বিজ্ঞানময়”-কিতাব বলে উল্লেখ করেন নাই| আল-কুর`আন বিশ্ব মানবতার জীবন পাথেয়| এটা জীবন চালানোর ম্যানুয়েল| এটা বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয়| তবে আল কুর`আন যেহেতু মহান আল্লাহ-সুবহানা-তায়ালার তরফ থেকে এসেছে, তাই এখানে বিজ্ঞানের অনেক ইঙ্গিত আছে| আর মহাবিশ্বের স্রষ্টার কাছ থেকে আসা বলে এতে বৈজ্ঞানিক কোনো ফাঁক নেই| এর মাঝে থাকা বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিতময় আয়াতগুলো আমাদের চিন্তার মাত্রা প্রসার করার জন্যে অনুপ্ররনা দেয়| তবে আল-কুর`আন এর মূল বিশেষণ অবশ্যই “বিজ্ঞানময় আল-কুরআন” নয়|

    --শাহবাজ

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      @শাহবাজ নজরুল: আপনার মন্তব্যে দাঁড়িগুলো এত লম্বা দেখাচ্ছে কেন? কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়।

    2. 2.2
      সাদাত

      @শাহবাজ নজরুল:
      মূল বিশেষণ না হোক, সাইড বিশেষণ হিসেবেও কি বলা ঠিক যে কুরআন বিজ্ঞানময়?
      কোন কিছু কখন অন্য কিছুময় হতে পারে? এক বালতি পানিতে এক চামচ লবণ থাকলে সেটাকে কি লোনাময়/নুনময় পানি বলা যাবে, নাকি এত পরিমাণে লবণ সেখানে থাকতে হবে যাতে সেই পানি মুখে নিলেই বুঝা যায় এতে লবণ আছে?
      আপনি বলছেন কুরআনে বিজ্ঞানের অনেক ইঙ্গিত আছে। যদি থেকে থাকে, তবে তার পরিমাণ ততটুকু? সেটা কি এই পরিমাণ যাতে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বলা যেতে পারে?

  29. 1
    দিশারী

    কোরানের বর্ণিত বিজ্ঞান ও প্রচলিত বিজ্ঞান এক বিষয় নয়। Quran is a book of signs, NOT science.

    লেখকের অভিমত জানতে চাই। আশা করি এটি নিয়ে ভাল আলোচনা হবে।

    1. 1.1
      সাদাত

      @দিশারী:
      আগেই অভিমত দিয়ে দিলে আলোচনা হবে কিভাবে?
      আলোচনার পরে অভিমত দিলে ভালো হয় না!

      দিশারি: কোরানের বর্ণিত বিজ্ঞান ও প্রচলিত বিজ্ঞান এক বিষয় নয়।
      সাদাত: কেন ভিন্ন মনে করেন?

      দিশারি: Quran is a book of signs, NOT science.
      সাদাত: কুরআন বিজ্ঞানোর গ্রন্থ নয় অবশ্যই, কিন্তু এতে কি বিজ্ঞান নেই?

      অ.ট. আপনার কি সদালাপে একাউন্ট আছে? না থাকলে করে নিলে ভালো হয়। কারণ একাউন্ট না থাকলে কমেন্ট মডারেশনের ভেতর দিয়ে আসে, ফলে কমেন্ট প্রকাশে বিলম্ব হয়।

      1. 1.1.1
        দিশারী

        @সাদাত:
        আপনার পরামর্শ অনুযায়ী এইমাত্র একাউন্ট বানালাম।

        ‘সাদাত: কুরআন বিজ্ঞানোর গ্রন্থ নয় অবশ্যই, কিন্তু এতে কি বিজ্ঞান নেই?’

        অবশ্যই বিজ্ঞান রিলেটেড তথ্য রয়েছে, কিন্তু এটাকে ট্র্যাডিশনাল বিজ্ঞান বলা যাবে কিনা তা বিতর্কের বিষয়। এজন্য আমি পড়শুনা করছি। সময়মত ফিরে আসব। এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলুক।

        1. 1.1.1.1
          সাদাত

          @দিশারী:

          পড়াশুনা করেন। সময়মত ফিরে আসলেই চলবে।
          একাউন্ট করার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.