«

»

Nov ০৪

মানুষ কি আল্লাহর ইচ্ছায় বাঁধা তাকদির নিয়ন্ত্রিত রোবট?

এক. আল্লাহর ইচ্ছা ও মানুষের দায়বদ্ধতা

মনে করুন আপনি কোন পাওয়ার স্টেশন থেকে বিদ্যুত নিচ্ছেন এবং সেই বিদ্যুত আপনি ইচ্ছামত বিভিন্ন কাজে লাগাচ্ছেন।
১.১.১ বিদ্যুতের জন্য আপনি পাওয়ার স্টেশন যিনি চালাচ্ছেন তার মুখাপেক্ষী।
১.১.২ কিন্তু বিদ্যুত কী খাতে ব্যবহার করবেন সেটা আপনার ইচ্ছাধীন।

কাজেই,
১.২.১ বিদ্যুতের সঠিক/অপ ব্যবহারের জন্য আপনি নিজেই দায়ী, ‘পাওয়ার স্টেশন যিনি চালাচ্ছেন’ তিনি নন।
১.২.২ কিন্তু যেহেতু ‘পাওয়ার স্টেশন যিনি চালাচ্ছেন’ তার ইচ্ছা ব্যতীত আপনি বিদ্যুত পেতে পারেন না, সেহেতু একথা বলা যায়, বিদ্যুতের যে ইচ্ছামত ব্যবহার আপনি করছেন তা ‘পাওয়ার স্টেশন যিনি চালাচ্ছেন’ তার ইচ্ছাতেই করতে পারছেন।

কেউ যখন বলে “আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়”, তখন সবচেয়ে বড় যে ভুলটা সাধারণত হয় তা হলো আল্লাহর ইচ্ছাকে মানুষের ইচ্ছার মত কিছু একটা বিবেচনা করা হয়। বস্তুত আল্লাহর ইচ্ছা হচ্ছে আমাদের জন্য একপ্রকার শক্তি, যেই শক্তির বলে আমরা ইচ্ছা করতে পারি। আমরা তখনই কেবল ইচ্ছা করতে পারি যখন “আল্লাহর ইচ্ছা” আমাদেরকে ইচ্ছা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
১.৩.১ ইচ্ছা করতে পারব কি না এই ব্যাপারে আমরা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। “আল্লাহর ইচ্ছা” তথা শক্তি ছাড়া আমরা কোন ইচ্ছাই করতে পারি না।
১.৩.২ কিন্তু ইচ্ছা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি “আল্লাহর ইচ্ছা” কর্তৃক প্রাপ্ত হবার পর আমরা “কী ইচ্ছা করব”, সেই ব্যাপারে আমাদের স্বাধীনতা রয়েছে। [মানুষের ইচ্ছার স্বীকৃতি রয়েছে এমন কিছু আয়াত ১৮:২৯, ২৫:৫৭, ৭৬:২৯, ৭৩:১৯, ৭৮:৩৯, ৮০:১২, ৭৪:৫৫]

১.৩.১ এর ব্যাপারে আরেকটু ব্যাখ্যা:
আল্লাহ মানুষের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না।
১.৩.১.১ যে সকল বিষয়ে মানুষ নিজ ইচ্ছাশক্তিকে স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারে কেবল এবং কেবলমাত্র সেই সকল বিষয়েই মানুষকে দায়ী করা হবে।
১.৩.১.২ যে সকল বিষয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তির কোন স্বাধীনতা নাই, সেসকল বিষয়ে মানুষকে কস্মিনকালেও দায়ী করা হবে না।

কাজেই, যেসকল বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করা হয়, সেসকল বিষয়ে যেহেতু মানুষ স্বাধীনভাবে ইচ্ছার প্রয়োগ ঘটাতে পারে, সেই বিষয়ে আল্লাহ কাউকে বাধ্য করেন না বা কারো ওপর কোন বিষয়কে চাপিযে দেন না, কাজেই এর দায়ভার মানুষের, আল্লাহর নয়।

দুই. তাকদিরের লিখন ও মানুষের স্বাধীনতা

কেউ যদি দাবি করে যে সে ভবিষ্যতের কথা জানে এবং তার এই জানার ভিত্তিতে সে একটা বই রচনা করে, কিন্তু সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে বাস্তবতা দেবার জন্য সে কোন প্রচেষ্টা না চালায়, তাহলে তার ব্যাপারে দুইটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়:
২.১.১ যদি তার সব ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব হয়, তবে বলা যাবে সে আসলেই ভবিষ্যত জানে।
২.১.২ যদি তার ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব না হয়, তবে বলা যাবে সে আসলে ভবিষ্যত জানে না।

কিন্তু তার প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী ফলে যাবার কারণে,
২.২.১ একথা বলা যাবে না যে, তার ভবিষ্যদ্বাণীর কারণেই কোন ঘটনা ঘটেছে।
২.২.২ বরং বলতে হবে, ভবিষ্যতের সঠিক জ্ঞান থাকার কারণেই সে ঘটনাটিকে আগেই লিখে রাখতে পেরেছে।

মানুষের কাজকর্ম কি তাকদির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নাকি লিপিবদ্ধ?

২.৩.১ কিছু বিষয় আল্লাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং তা তাকদিরের কিতাবে লিখেও রেখেছেন। যেমন; কোন মানুষ কখন জন্মাবে, কখন মারা যাবে, সে কতটুকু রিযিক পাবে, ইত্যাদি। এসব বিষয় মানুষের সাধ্য/ক্ষমতা/ইচ্ছার অধীন নয়, বরং তাকদির দ্বারা লিপিবদ্ধ, নির্ধারিত এবং নিয়ন্ত্রিত। [উল্লেখ্য এসব বিষয়ে মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে না।]

২.৩.২ কিছু বিষয়ে আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষমতা/স্বাধীনতা দিয়েছেন। যেমন; ঈমান আনা বা না আনা, হালাল উপায়ে রিযিক অন্বেষণ করা বা হারাম উপায়ে করা, নেকি/বদির কাজ করা বা না করা, ইত্যাদি। এই বিষয়গুলোর জন্য মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। এগুলোও তাকদিরের কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে, কিন্তু এগুলো তাকদির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।

ইসলাম অনুসারে আল্লাহ সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ নন, রবং অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল জ্ঞান আল্লাহর রয়েছে। সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহ জানেন কখন মানুষ কী করবে। এই জানার ভিত্তিতে আল্লাহ তাকদিরের কিতাবে লিখে রেখেছেন মানুষ কী কী করবে।

২.৩.২.১ ইসলাম একথা বিশ্বাস করতে বলে যে, আল্লাহ তার ইলমের দ্বারা জানেন মানুষ কী করবে, তা তিনি তাকদিরের কিতাবে লিখে রেখেছেন। এটা নিছক আল্লাহর এলেম সংক্রান্ত একটা বিশ্বাস বা স্বীকৃতি। পূর্ব নির্ধারণের সাথে সম্পৃক্ত কিছু নয়। স্রষ্টা বলে অনাদি, অনন্ত, সর্বজ্ঞ কেউ থাকলে তিনি সময়ের অধীন হতে পারেননা এবং অতীত, বর্তমান ভবিষ্যতের সব জ্ঞান তার থাকতেই হবে। সেই জ্ঞান তিনি লিপিবদ্ধ করবেন কি করবেন না, সেটা তার ইচ্ছা। সেটা লিপিবদ্ধ করা বা না করার দ্বারা কারো ওপর কিছু আরোপিত হয় না।

২.৩.২.২ ইসলাম একথা বিশ্বাস করতে বলে না যে, আল্লাহ তাকদিরের কিতাবে লিখে রেখেছেন বলেই আমরা পৃথিবীতে সব কাজ করি, বা আল্লাহ by force আমাদেরকে দিয়ে তাকদিরের কিতাবের লিখিত বিষয়বস্তুর অভিনয় করাচ্ছেন আর আমরা রোবটের মত অভিনয় করে যাচ্ছি। [অথচ আমরা অনেকে তাকদিরকে সেটাই মনে করি, আর সেখানেই আমাদের ভুল।]

কাজেই, যেসব বিষয়ে আমাদের পরীক্ষা করা হয়, তা তাকদির দ্বারা নির্দিষ্টকৃত/নিয়ন্ত্রিত নয়, বরং আল্লাহর এলেমের দ্বারা লিপিবদ্ধ মাত্র।

যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।
যে ইচ্ছা করে, সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক।
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী। [যথাক্রমে ১৮:২৯, ২৫:৫৭, ৭৪:৩৮ আয়াতের প্রাসঙ্গিক অংশ]

 

পরের পর্ব

৩৯ comments

Skip to comment form

  1. 17

    আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাহ।
    যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক হযরত মোহাম্মদ ও তার পরিবার এর প্রতি।
    ভাই আপনার লেখাটা সুন্দর হয়েছে, আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি তৌফিক দান করুন।
    আপনার এই লেখায়ও আপনি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আবু হানিফা র: এর ‘ফিকহুল আকবর’ এ লেখাটা এভাবে আছে যে ” মহান আল্লাহ অস্তিত্বহীন বিষয়কে অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হিসেবে জানেন, এবং তিনি জানেন যে তিনি তাকে অস্তিত্ব দিলে তা কিরূপ হবে। আল্লাহ অস্তিত্বশীল বিষয়কে তার অস্তিত্বশীল অবস্তায় জানেন এবং তিনি জানেন যে তা কিভাবে বিলোপ লাভ করবে।” অর্থাৎ সংক্ষেপ এ আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্ব দ্রষ্টা। এখন এ বিষয়ে আমার একটি প্রশ্ন ছিল। আমি এর উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি, এবং এখোনো কোথাও পাইনি। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানানুযায়ী আমি এর একটি উত্তর ভেবে নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ এ বিষয়ে এখানে অনেক জ্ঞানী ভাইয়েরা আছেন। কারো যদি উত্তর টা জানা থাকে অনুগ্রহ করে আমাকে ও জানান। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করেন।
    প্রশ্নটা হলো- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষ সৃষ্টির আগেই জানতেন যে এরা কে কোন পরিনতি বেছে নেবে, এবং সুরা ওয়াক্বিয়াহ অনুযায়ী মানুষের এক বড় দল জান্নাহ ও এক বড় দল জাহান্নাম এর অধিবাসি হবে। হাদিস দ্বারা ও এ কথা প্রমানিত। মানুষ নামের এই স্বত্তা কে অস্থিত্বে আনার পুর্বেই আল্লাহ জানেন যে এদের এক বড় অংশ সীমাহীন শাস্তিকে বেছে নেবে। এর পর ও আল্লাহ কেনো মানুষ জাতকে সৃষ্টি করলেন?

    1. 17.1
      মাহফুজ

      @ fahad555,
      সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
      আপনার প্রশ্ন-//এর পর ও আল্লাহ কেনো মানুষ জাতকে সৃষ্টি করলেন?//
      আপনার এই প্রশ্নের উত্তরে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন- (৫১:৫৬) আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।
      আল্লাহতায়ালার প্রেরিত বিধান পবিত্র কোরআন অনুসারে ইবাদত করার জন্যই তিনি মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আর ইবাদতের পূর্ণতা প্রাপ্তি নির্ভর করে দুই ধরণের হক আদায়ের উপর-
      ১/ হক্কুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার হক আদায়।
      ২/ হক্কুল-ইবাদ অর্থাৎ বান্দার হক আদায়।
      নিচের লিংকের ৩ নং প্রবন্ধে (03- Purpose of Prayer / ইবাদতের উদ্দেশ্য) এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। আশাকরি এখানে ঘুরে আসলে উত্তরটা পেয়ে যেতে পারেন-
      https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/middle-way-is-the-best-madhyapantha-i-uttama

      1. 17.1.1

        @মাহফুজ: আস সালামু আলাইকুম, ধন্যবাদ আপনার উত্তর এর জন্য, আপনার উল্লেখ করা লিঙ্ক টি চেক করলাম, আলহামদুলিল্লাহ আপনি সুন্দর করে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেছেন। জাজাকাল্লাহ।
        প্রদত্ত লিঙ্ক এ “ইবাদতের purpose (উদ্দশ্য) হলো- স্রষ্টার আনুগত্য করার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন এবং সেই সঙ্গে শান্তি প্রাপ্তি ও কল্যাণ সাধন।” সেটা শুধু সৃষ্টির জন্য।

        কিন্তু আমার প্রশ্নের প্রেক্ষিতের সাথে এর সরাসরি যোগাযোগ নেই। প্রশ্নটা আমি আরো পরিষ্কার করছি -- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, জানতেন যে মানুষের একটি দল জান্নাত ও একটি দল জাহান্নাম এর অধিবাসি হবে, এবং তিনি এটা জানতেন তাদেরকে সৃষ্টি করার ও অনেক আগে। এখন আল্লাহ অভাব শুন্য, আমাদের ইবাদাত এবং আমাদের সৃষ্টি হওয়া বা না হওয়া এসব কোন কিছুর প্রতিই আল্লাহ মুখাপেক্কি নন। আল্লাহ ইচ্ছা করলেই বনি আদম কে সৃষ্টি না করার মাধ্যমে মানুষের এক বড় দলকে সীমাহিন শাস্তি পাওয়া হতে রক্ষা করতে পারতেন। তারপর ও তিনি কেন মানুষ জাত কে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন?

        1. 17.1.1.1
          মাহফুজ

          @ fahad555,
          সালাম,
          আপনার প্রশ্ন- //আল্লাহ ইচ্ছা করলেই বনি আদম কে সৃষ্টি না করার মাধ্যমে মানুষের এক বড় দলকে সীমাহিন শাস্তি পাওয়া হতে রক্ষা করতে পারতেন। তারপরও তিনি কেন মানুষ জাত কে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন?//
          নিচের আয়াতেই আপনার প্রশ্নের উত্তর আছে-
          (২:৩০) আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
          পৃথিবীতে মানব জাতি দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে, রক্তপাত ঘটাবে এবং ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই জাহান্নামে যাবে। আবার তাদের মধ্যে অনেকেই আল্লাহর মনোনিত বান্দা হিসেবে নবী ও রাসূলের মত গুরু দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ কেউ আল্লাহকে ভালবেসে তাঁর পথে শহীদ হবেন, কেউ কেউ জ্ঞান অর্জন করে মহান আল্লাহর মাহিমা কীর্তন করবেন, কেউ হবেন সরল সত্য পথের পথিক। ফেরেশতারা হয়ত মানুষের এই ধরনের সৎ গুণাবলী সম্পর্কে জানতেন না বলেই মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। মহান আল্লাতায়ালা তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন- “নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।”
          সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালা এমন আরও অনেক কিছুই জানেন, আমরা যার কোন কিছুই জানার সামর্থ রাখিনা। যদিও আমরা অনেকেই জ্ঞানের বড়াই করি। বাস্তবে কিন্তু যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি জ্ঞান আমাদেরকে দান করা হয় নাই। সব মানেুষের মধ্যেই কম-বেশি দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি ও রক্তপাত ঘটানোর মত মন্দ চরিত্র থাকা সত্বেও তাদের মধ্য থেকে অনেকেই স্রষ্টা প্রেরিত বিধান মেনে ভাল কর্মে অগ্রগামী হয়ে যাওয়ার সামর্থ রাখেন। মহান আল্লাহতায়ালা গায়েবের সব খবরই রাখেন। তিনি কাকে ক্ষমা করবেন এবং কাকে শাস্তি দেবেন সেটাও সম্পূর্ণরূপে তাঁরই এখতিয়ারভূক্ত। তিনি কাকে জান্নতের জন্য উপযুক্ত এবং কাকে জাহান্নামের জন্য উপযুক্ত হিসেবে সৃষ্টি করেছেনও, সেটাও একমাত্র তিনিই জানেন। আমরা হয়ত স্থুল জ্ঞানে যাকে জান্নাতি ভাবছি, তিনি চলে যাবেন জাহান্নামে এবং যাকে জাহান্নামি ভাবছি, আল্লাহর চুলচেড়া বিচারে তিনি চলে যেতে পারেন জান্নাতে। সুতরাং আমাদের মত কম জানা মানুষের জন্য এ নিয়ে অযথা প্রশ্ন করার ও জানার চেষ্টা না করাই ভাল। আমি এ নিয়ে আর বেশি কিছু জানতে আগ্রহী নই বিধায় আপনাকেও জানাতে পারলাম না। আমি মনে কর, মহান স্রষ্টার দেয়া জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তাঁর বিধান অনুসারে কর্ম করে যাওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া চাই।
          ধন্যবাদ-

        2. @মাহফুজ: আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাহ।
          ধন্যবাদ মাহফুজ ভাই। চলবে। আপনি সঠিক বলেছেন, কিছু বিষয়ের পিছনে পড়া হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে আল্লাহ আমাদের সাথে সর্বোচ্চ সুবিচার কারি। শুধু মাত্র জানার আগ্রহ নিয়েই এই প্রশ্নটা করা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।

  2. 16
    mahfuz

    আপিন বলেছেন- [মানুষের গুণাহ হয় আত্মহত্যার ইচ্ছা করার জন্য, মৃত্যু সংঘটনের কারণে নয়।
    কেউ আত্মহত্যার ইচ্ছা করার পর চেষ্টা করেও যদি মরতে না পারে, তবু তার অবশ্যই গুণাহ হবে।]
    প্রথম লাইনটি থেকে== আত্মহত্যার ইচ্ছা করলেও== মানুষের গুণাহ হয় বোঝায়।
    আর পরের লাইনটি থেকে== আত্মহত্যার ইচ্ছা করার পর চেষ্টা করলেও== মানুষের গুণাহ হয় বোঝায়।
    অর্থাৎ এই দুটি লাইন থেকে আত্মহত্যার ইচ্ছা ও চেষ্টা (উভয়টির যেকোন একটি) করলিই গুনাহ হয় বোঝায়।
    যারা জানেন না তারা হয়ত ভাবতে পারেন যে, আত্মহত্যার ইচ্ছা করলেই গুণাহ হয়== যা মোটেই সঠিক নয়।
    যেহেতু কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করলেই গুণাহ হয়না, তা্ই গুনাহ সম্পর্কিত প্রথম লাইনটা বাদ দিলেই তো ভাল হয়। তবে এরূপ অবৈধ ইচ্ছার দ্বারা মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হতেই পারে।
    ধন্যবাদ-

  3. 15
    Juhi

    আত্মহত্যা করে যারা মারা যায়, তাদের ওই দিনই কি মৃত্যুর দিন বলে আগে থেকে নির্ধারন করা থাকে? সে যে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করবে তার এই ইচ্ছা আল্লাহ আগে থেকেই জানেন, আর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তার ওই দিনই মৃত্যু সংঘটিত হয়। তাই কি? 

    1. 15.1
      মাহফুজ

      @ Juhi,

      আশাকরি এখানে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা পয়ে যেতে পারেন- না, খবরদার! আত্মহত্যা নয়

      1. 15.1.1
        সাদাত

        ভালো কথা, আপনার এই প্রশ্নের উত্তর ওপরে একজনকে দিয়েছিলাম অনেক আগে। সেটা এরকম ছিল:

        মৃত্যুক্ষণ তাকদির দ্বারা নির্দিষ্ট, এতে মানুষের হাত নাই।

        আত্মহত্যা করা একটি গুণাহের কাজ। আল্লাহ মানুষকে এই কাজে বাধ্য করেন না। মানুষ নিজ ইচ্ছায় এই কাজ করে থাকে।
        কেউ যে মুহূর্তে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে-
        ১.যদি সেই সময় মৃত্যু লিখিত থাকে তবেই তার মৃত্যু ঘটবে (সেটা আত্মহত্যা করেই হোক বা অন্য কোনভাবেই হোক )।
        ২.যদি সেই সময় মৃত্যু লিখিত না থাকে তবে আত্মহত্যার যত চেষ্টাই করুক না কেন মৃত্যু ঘটবে না।

        কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা/ইচ্ছার দ্বারা মৃত্যু সংঘটন হওয়া না হওয়ারর ওপর গুণাহ নির্ভরশীল নয়।

        মানুষের গুণাহ হয় আত্মহত্যার ইচ্ছা করার জন্য, মৃত্যু সংঘটনের কারণে নয়। কেউ আত্মহত্যার ইচ্ছা করার পর চেষ্টা করেও যদি মরতে না পারে, তবু তার অবশ্যই গুণাহ হবে।

        1. 15.1.1.1
          মাহফুজ

          //মানুষের গুণাহ হয় আত্মহত্যার ইচ্ছা করার জন্য, মৃত্যু সংঘটনের কারণে নয়। //

          শুধু ইচ্ছা করলেই কি গুনাহ হয়?

          যেমন, একজন মানুষ আত্মহত্যার ইচ্ছা করল, কিন্তু চেষ্টা করল না- তাহলেও কি গুনাহ হবে?

        2. সাদাত

          পরের লাইনটাই তো বিষয়টিকে পরিষ্কার করছে:

          কেউ আত্মহত্যার ইচ্ছা করার পর ==চেষ্টা করেও== যদি মরতে না পারে, তবু তার অবশ্যই গুণাহ হবে।

    2. 15.2
      সাদাত

      ১.মানুষের মৃত্যুর সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ও তাকদিরে লিখিত।

      ২. আত্মহত্যা ইসলামে একটি গর্হিত পাপ, কবীরা গুনাহ ।

      ৩.১ কেউ যদি আত্নহত্যার চেষ্টা করে, তার ঐ সময়েই তার মৃত্যু লিখিত থাকে, সে মারা যাবে এবং সে গুনাহগার হবে।

      ৩.২ কেউ যদি আত্মহত্যার চেষ্টা করে, কিন্তু ঐ সময়ে তার মৃত্য নির্ধারিত না হয়ে থাকে, সে মরবে না, কিন্তু সে গুণাহগার হবে।

      ৩.৩ সে গুণাহগার হবে আত্মহত্যার চেষ্টা করার কারণে, মরার জন্য না।

  4. 14
    পরশ পাথর

    অনেক অনেক বেশি ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুক। 
    কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানার কারনে অনেক কস্ট লাগত। এমন কি আমার নিজের মনেও এই প্রশ্ন গুলো ঘুরপাক খেত। সাদাত ভাই আপনাকে আবারো ধন্যবাদ এত সহজ ভাষায় এই জটিল বিষয়টা ব্যাখ্যা করার জন্য। 
    আর ভাইয়া, আরেকটা সাহায্য যদি করতে পারেন।আমার এই পোস্ট দেখার উদ্দেশ্য মুলত ইংল্যান্ড প্রবাসি আমার এক ভাগ্নির প্রশ্ন। সে খুব সাদা মনেই জানার জন্য প্রশ্ন টি করেছে। ইস্লামে নারী অধিকারের ব্যাপারেও সে কিছু জানতে ও শিখতে চায়। তো তাকে আমি হয়ত ইংলিশে এত ভাল করে বুঝিয়ে বলতে পারবোনা। সেজন্য এ সঙ্ক্রান্ত কোন ইংরেজি লেখা হলে আমার জন্য ভাল হত। এমন কোন লেখা বা ভাল ওয়েবসাইটের সন্ধান কি দিতে পারেন ভাইয়া? 

  5. 13
    কুরআনের আলো ওয়েবসাইট

    খুব সুন্দর লেখা। লেখাটি আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করার জন্য অনুমতি চাচ্ছি। 

    1. 13.1
      সাদাত

      করতে পারেন।

  6. 12
    শাহবাজ নজরুল

    সাদাত ভাই,

    এটি আপনার একটা অসাধারণ লেখা। তাকদীর কি, তা নিয়ে আবহমান কাল ধরে আলোচনা/সমালোচনা চলে আসছে। এটা নিয়ে মনেহয় আমাদের সবারই কমবেশী বিভ্রান্তি আছে। পুরো ব্যপারটা জটিল হওয়াতে এই সুযোগে অনেকে আবার অনেককে ভুল দীক্ষা দেন; নিধর্মীদের কাছে এটা একটা প্রিয় অস্ত্র। আপনার এই লেখাটা ঐসব সুযোগ সন্ধানীদের বিরুদ্ধে একটা রেফারেন্স হিসেবে থাকা উচিত ও থাকবে বলে আশা রাখি।

    --শাহবাজ

    1. 12.1
      সাদাত

      @শাহবাজ নজরুল:

      আপনাদের অনুপ্রেরণা এবং দুআ হিম্মতকে বাড়িয়ে দেয়।
      আমি চেয়েছি এই লেখার মাধ্যমে তাকদির নিয়ে অমূলক বিভ্রান্তিগুলোর অবসান হোক।

  7. 11
    হাফিজ

    আমার দৃষ্টিতে সাদাতের লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ পোস্ট।

    1. 11.1
      শাহবাজ নজরুল

      @দেশে-বিদেশে:

      আমার দৃষ্টিতে সাদাতের লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ পোস্ট।

      নেহায়ত মন্দ বলেন নাই।

  8. 10
    বুড়ো শালিক

    বরাবরের মতোই, একটা ‘সাদাত ভাই ক্ল্যাসিক’!

  9. 9
    সৈকত

    যৌক্তিক ব্যাখ্যা তবে প্রশ্ন হলো এই কথাগুলো আলেমরা বলেন না কেন?

    1. 9.1
      সাদাত

      @সৈকত:
      ১ এবং ২ নং কমেন্ট কিন্তু দুইজন বড় আলেমের। তবে তাকদির বিষয়টা সকলের জন্য সহজবোধ্য না হওয়ায় আলেমরা সাধারণ সমাবেশে এ নিয়ে বেশি কিছু সচরাচর বলেন না।

  10. 8
    ফোরকান

    @জ্ঞানসাধক:

    Dave
    Does Allah know the future?
    Does Allah know all that will happen in the future?….or Allah also does not know what will happen in the future and hence is not omniscient (all knowing).

    Farhan
    If we say No, you will say Allah is not God.
    if someone said Yes, then you will say why he tests us?
    .
    .
    so please proceed further.

    Dave
    Good…Farhan..u r intelligent boy…u can think and use ur brains…unlike most others who just blindly believe without using brains….

    So u see Farhan there are logical inconsistencies in the concept of God…

    Farhan
    the answer is very simple.
    No doubt Allah is All-knowing.
    and he Does tests us.
    .
    but Allah does NOT tests us bcoz he does NOT knows the future.
    .
    Allah tests us for US,,not to KNOW that what we will do in certain test.
    .
    .
    take an example.
    .
    Why does a teacher tests us? the test is for STUDENTS, so that they can make themselves strong, and KNOW that how much they know about certain subject. but certain teachers surely have 100% idea that which student will get how much marks,,he will pass or fail.
    .

    majority of tests are to Purity ourselves.
    some tests are to make us Strong
    some tests are there to show us that at what level of Imaan we are.
    some tests are to bring us close to Allah,when we are away from Allah.
    .
    i hope that now the question, that WHY Allah tests us, has been answered.

    Noor Ul Huda
    future, present , past are not for ALLAH, the creator of ALL the ALL-KNOWER.
    time, space, dimensions are created by the creator for the creation.

    Aamir Mustafa
    Lets Have a Different analogy ….
    Have you ever done the computer programming ?? Have you ever written a Computer Code with different control statements ?? Like IF, THEN, ELSE and the different control SWITCHES ????

    And the Principle of GIGO (Garbage In -- Garbage Out) Well I will come to GIGO later.

    Well to a large extent our lives are also like a Computer Program. A very large array of code where every situation is like IF THEN ELSE kind of Situations, Don’t we have situations at every second of our life where we have to make choice between a number of options we have like

    ITS RAINING OUTSIDE

    Shall I go Out ??

    You make a CHOICE YES or NO depending upon the kind of urgency you have!! Isn’t it ?? You got wet (if you have nothing to protect you from rain) if you made a choice YES or you may choose to remain Dry if you choose NO. That doesn’t mean that you were predestined got wet. It was your freewill which made you to choose between Wet & Dry … both the things were destined for you but you shaped-up the future with your Freewill.

    Same is the situation with our whole life Allah(S.W.T) had already destined everything for us or talking in terms of Analogy already Programmed our life. But the results of this Programming is on our free will. So, these IF THEN ELSE Statements are the free will heuristics and making a Choice out of Number of option is the TEST, how do you choose between a Number of Options??? Simply you have Certain Criterion ?? For us i.e, Muslim this Criterion is Quran as Allah says in Quran.

    And who destined and [then] guided (Al-A’laa : 3)

    And

    Have We not made for him two eyes?
    And a tongue and two lips?
    And have shown him the two ways? (Al-Balad: 8-10)

    Blessed is He who sent down the Criterion upon His Servant that he may be to the worlds a Warner -- (Al-Furqaan: 1)

    So the Quran is not only a Criterion for Muslims but for all humanity but not all humans make this Fair Choice in choosing their criterion, rather they choose the saying and words of those who have no knowledge or authority, they choose their whims and desires to quantify what is RIGHT and What is WRONG. The two ways are told to mankind time to time in revealed scriptures…

    Now Come to GIGO (Garbage In -- Garbage Out), well this simple principle of Computer programming explains many thing and if I would explain it with a single verse of Quran it will explain everything right from What is this Predestination (like both getting wet and Dry predestined) and why some people would go to Hell and some will find their Abode in Paradise. Allah Says In Quran.

    What comes to you of good is from Allah , but what comes to you of evil, [O man], is from yourself. And We have sent you, [O Muhammad], to the people as a messenger, and sufficient is Allah as Witness. (An-Nisa :79)

    Well what is this verse ?? Its nothing but GIGO!! Allah has destined everything which is good for you, but we human make some absurd (garbage) Choices which end up in Garbage results. Allah(S.W.T) is not to be blamed. Its only the free will, belief & acting on wrong Criterion which mess up things for us. Allah(S.W.T) has given us a Criterion if we would act on it we will not get what is Garbage but good which is Predestined by Allah for us.

    Now come to third and final part of the Paradox namely Allah(S.W.T) knows everything that means he knows what Options we would choose or the How we will act based on our free will. Well answer to this Question is a rather complex and for believers the verse above (An-Nisa :79 ) will only suffice. But for those who are confused, let them then consider God to be an entity unlike Human beings, just like the verse of Surah Ikhlas say

    Nor is there to Him any equivalent. (Al-Ikhlass:4)

    So the Knowledge of Allah must not be like the Knowledge of we Humans, we humans mess up our thinking about Allah when we try to Imagine Allah with our human frame of Reference while it is clear that there is no Likeliness of Allah anywhere. he is one and Unique, never born and never to die. SO how does his knowledge is unlike the knowledge of we Humans. Let me Quote me another verse of Holy Quran to make you understand this,

    Allah says

    And they urge you to hasten the punishment. But Allah will never fail in His promise. And indeed, a day with your Lord is like a thousand years of those which you count. (Al-Hajj: 47)

    See the frame of Reference of Allah, what you say a Day i.e, 24 hours it is even lesser than a second for Allah, as Allah says a Day for Allah is Equivalent to a Thousand Years… take note of the plural years. It could be a thousand to any thousand years … we do not know, But that is how the knowledge of Allah encompasses and a several thousand fold superior to what we have, he know every of our step that we take in a blink of eye, because for him (his frame of reference) that blink is even lesser than a part of thousands of that blink. So, the frame of reference of Allah is not like the frame of reference of we humans.

    Scientifically this Concept is known as the Concept of Time Dilation derived from the theory of Relativity.

    Meaning, According to Quran a Day in the frame of Reference of Allah is somewhat like thousand years , so that means what is for us is a Day for Allah it is = 1/thousand years, then Imagine what would be the length of a Minute or a second, its even lesser than you can imagine, That is why we say that we do not even raise our step and Allah knows it, because in Allah(S.W.T) ‘ s frame of reference it had already occurred while we have not even raised our step. That is why he also have the knowledge of our free Choices, which means Allah have forced nothing on us in terms of our destiny (or predestination) even though he is aware of what we do in Advance. And Allah is not responsible for all the bad choices we make.

    As Allah says in Quran.

    Allah does not charge a soul except [with that within] its capacity. It will have [the consequence of] what [good] it has gained, and it will bear [the consequence of] what [evil] it has earned. …….. (Al-Baqara: 286)

    Its just like a Programmer knows everything about his Program (this is predestination) on what would be the results depending upon what a user choose. while Allah is superior in his Programming because he had programmed everything in our life good or bad and we only make our choices, but because the frame of reference of Allah is not like the frame of reference of we humans, he has the knowledge of what choices we will make beforehand.

    1. 8.1
      সাদাত

      @ফোরকান:
      এখান থেকে আপনি যা বুঝেছেন সেটা বাংলায় বললেই কিন্তু বেশি কার্যকরী হতো।

      1. 8.1.1
        ফোরকান

        @সাদাত: ইনশাল্লাহ, এই লেখাটি একটি পোষ্ট আকারে অচিরেই প্রকাশ করবো।

  11. 7
    জ্ঞানসাধক

    সর্বজ্ঞ আল্লাহর কেন দরকার পড়ে মানুষকে পরীক্ষা করার?

    1. 7.1
      সাদাত

      @জ্ঞানসাধক:
      আল্লাহ মানুষের ভবিষ্যত জানার জন্য মানুষকে পরীক্ষা করেন না,

      তিনি পরীক্ষা করেন “পরীক্ষা”কে মানুষের জন্য প্রমাণ হিসেবে পেশ করার জন্য।

      আল্লাহ যদি নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে মানুষের জান্নাত/জাহান্নামের ফায়সালা করতেন, সেটা মানুষের জন্য কোন প্রমাণ হতো না, সেক্ষত্রে মানুষের জন্য এই অভিযোগের সুযোগ থাকতো, “যদি আল্লাহ নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে ফায়সালা না করে আমাদেরকে পরীক্ষা দেবার সুযোগ দিতেন তবে ফলাফল এমন হতো না।”

      কোন দোকানি যখন তার মেলামাইনের প্লেটকে কাস্টমারের সামনে মাটিতে ফেলে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখায় যে এই প্লেট ভাঙ্গবে না। তখন এই পরীক্ষাটা সে কেন করে, জানার জন্য নাকি তার জ্ঞান(যে এই মেলামাইনের প্লেট মাটিতে পড়লেও ভাঙ্গবে না)-কে প্রমাণ করে দেখাবার জন্য।

      ১. আল্লাহ মানুষকে যতটুকু ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন ততটুকু ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা ভোগ করে যেসব মানুষ আল্লাহর অনুগত হয় আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কৃত করতে চান আর যেসব মানুষ আল্লাহর অনুগত হয় না আল্লাহ তাদেরকে তিরস্কৃত করতে চান।

      ২. আল্লাহ তার সর্বজ্ঞতার গুণে জানেন কে কী করবে। কিন্তু এই জানার ভিত্তিতে তিনি কাউকে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করেন না। যেহেতু মানুষকেই তিনি পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করতে চান, কাজেই মানুষ যে আসলেই উক্ত পুরস্কার বা তিরস্কারের উপযুক্ত সেটা মানুষের সামনে তিনি ফুটিয়ে তুলতে চান। সেজন্যই তিনি একটা পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। মানুষ কী করবে সেটা জানার জন্য নয়, বরং সেটা সবার সামনে দৃশ্যমান করতে, সেটাকে একটি প্রমাণ হিসবে রেখে দেবার জন্য।

      আবার আসুন মেলামাইন বিক্রেতার উদাহরণে:

      মেলামাইন বিক্রেতা জানে তার মেলামাইনের প্লেট মাটিতে পড়লে ভাঙবে না। তারপরও ক্রেতার সামনে মেলামাইনের প্লেটটা মাটিতে ফেলে দিয়ে দেখায়, “এই দেখুন প্লেটটা ভাঙল না”।

      এখানে মেলামাইনের বিক্রেতা পরীক্ষাটির আয়োজক, কিন্তু তিনি নিজে জানার জন্য পরীক্ষা সংগঠন করেন না, বরং ক্রেতার সামনে বিষয়টি প্রস্ফুটিত করার জন্য পরীক্ষাটি সংঘটন করেন।

      একই ভাবে আল্লাহ জানেন মানুষ কী করবে। তারপরও তিনি পরীক্ষার আয়োজন করেন। মানুষ কী করে তা জানার জন্য না, বরং তিনি মানুষকে যে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করছেন মানুষ সেটার আসলেই উপযুক্ত কিনা সেটা মানুষের সামনে প্রস্ফুটিত করার জন্য।

  12. 6
    ইমরান আউলিয়া

    আমুতে কি এইটা পড়সি? ভালো, দারুণ, চমৎকার…আপনেদের দেখলে ভাই হিংসা হয়। আমাদের দিয়া যে কী হবে!

    1. 6.1
      সরোয়ার

      @imranauliya:

      আপনার যুক্তিবোধ দেখলেও আমার ঈর্ষা হয়!

      1. 6.1.1
        সাদাত

        @সরোয়ার:
        ঠিক, আউলিয়া সাব যথেষ্ট যুক্তিবোধসম্পন্ন মানুষ। কমেন্টে কমেন্টে উনার যুক্তিবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, কিন্তু পোস্ট দিতে উনার দুনিয়ার আলসেমি…

    2. 6.2
      সাদাত

      @imranauliya:
      অবশ্যই পড়ছেন।
      আবার পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  13. 5
    জ্ঞানসাধক

    মৃত্যু যদি তাকদির দ্বারা নির্ধারিত হয়, আত্মহত্যায় পাপ কেন হয়?

    1. 5.1
      সাদাত

      @জ্ঞানসাধক:

      মৃত্যুক্ষণ তাকদির দ্বারা নির্দিষ্ট, এতে মানুষের হাত নাই।

      আত্মহত্যা করা একটি গুণাহের কাজ। আল্লাহ মানুষকে এই কাজে বাধ্য করেন না। মানুষ নিজ ইচ্ছায় এই কাজ করে থাকে।
      কেউ যে মুহূর্তে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে-
      ১.যদি সেই সময় মৃত্যু লিখিত থাকে তবেই তার মৃত্যু ঘটবে (সেটা আত্মহত্যা করেই হোক বা অন্য কোনভাবেই হোক )।
      ২.যদি সেই সময় মৃত্যু লিখিত না থাকে তবে আত্মহত্যার যত চেষ্টাই করুক না কেন মৃত্যু ঘটবে না।

      কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা/ইচ্ছার দ্বারা মৃত্যু সংঘটন হওয়া না হওয়ারর ওপর গুণাহ নির্ভরশীল নয়।

      মানুষের গুণাহ হয় আত্মহত্যার ইচ্ছা করার জন্য, মৃত্যু সংঘটনের কারণে নয়। কেউ আত্মহত্যার ইচ্ছা করার পর চেষ্টা করেও যদি মরতে না পারে, তবু তার অবশ্যই গুণাহ হবে।

  14. 4
    জব্বার খান

    সাদাত ভাই, তাকদির বিষযে খুব ভালো ব্যাখ্যা দিয়েছেন । অনেক ভালো লাগলো এবং মনপুত: হলো । “ইসলাম অনুসারে আল্লাহ সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ নন, রবং অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল জ্ঞান আল্লাহর রয়েছে। সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহ জানেন কখন মানুষ কী করবে। এই জানার ভিত্তিতে আল্লাহ তাকদিরের কিতাবে লিখে রেখেছেন মানুষ কী কী করবে।“- এর মাধ্যমেই আসলে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেয়া যায় । তবে তাকদিরের বিষয়টি অনেক জটিল এবং ইসলামের প্রথম হতেই এ বিষয়ে অনেক তর্কবিতর্ক হয়েছে, মুতাজিলা মতবাদের উদ্ভব হয়েছিলো । “মানুষ কি আল্লাহর ইচ্ছায় বাঁধা তাকদির নিয়ন্ত্রিত রোবট” এ বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যেও অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। তাকদির বিষয়ে কোরআনের আলোকেই আপনি খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন । মহান আল্লাহপাক আপনাকে তাঁর প্রদত্ত আরো জ্ঞান দানকরত: আমাদের মতো মুর্খ মানুষদের কিছু জানার-বোজার সূযোগ করে দিন এই দোয়া করছি।

    1. 4.1
      সাদাত

      @জব্বার খান:
      তাকদির বিষয়ে আমার যে উপলদ্ধি সেটাকেই সাজিয়ে লিখতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ধরণের লেখার একটা সমস্যা হলো লেখার কোন অংশ মুসলিমদেরই কেউ না বুঝলে বা ভুল বুঝলে লেখক সম্পর্কে খারাপ ধারণা করে বসে। তাই লেখাটা সদালাপে দেব কিনা ভাবছিলাম। এরই মধ্যে ফেসবুকে দেখি কয়েকজন তাকদির নিয়ে করা সেই সাধারণ প্রশ্নগুলো তুলেছে। সেজন্য লেখাটা সদালাপে দিয়ে সদালাপের লিংকটা ফেসবুকে দিয়ে দিলাম। যে বুঝতে চায় সে বুঝবে আর সে শুধুই সমালোচনা করতে চায় তার তো আর বুঝবার তৌফিক হবে না।

      আপনি যে মন দিয়ে লেখাটা পড়েছেন সেজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  15. 3
    সত্তুক

    সাদাত ভাই, ধন্যবাদ, সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবার জন্য, আমার জন্য অনেক উপকারি হল পোস্ট টি। অনেক ধন্যবাদ, এই পোস্টটির জন্য।

    1. 3.1
      সাদাত

      @সত্তুক:
      পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
      তাকদির নিয়ে লেখা অনেকেই পড়েন না, ভাবেন যদি গুণাহ হয় তাকদির নিয়ে আলোচনা করলে।

  16. 2
    সাদাত

    Taqdeer

    By Mufti Shafiq Jakhura
    Posted: 28 Muharram 1431, 14 January 2010
    ——————————————————————————--
    Q.My question is regarding taqdeer (fate): if Allah has written the taqdeer for every individual, then why does He punish accordingly, since it is He that has prescribed this . For example the u ncle of the Prophet , (Abu Talib) was not able to accept Islam as Allah did not appoint him with hidayat (guidance). If that was the way Allah had prescribed his life, then why should he be punished?
    ——————————————————————————--

    A. The subject of taqdeer is one that is very delicate and intricate. Delving too deep into this subject is discouraged and has caused many to go astray. However, in order to clarify your concern one should understand that Taqdeer does not refer to the command of Allah. Allah has not forced nor commanded any person to commit wrong. Rather it refers to the knowledge of Allah. Allah has blessed every person with the ability to choose between right and wrong. One does right or wrong of his/her own prerogative. Hence, if a person does evil or commits a sin, he does not do so because he was forced into it. Rather, he does so out of his own choice. Yes, Allah out of His infinite knowledge knew that this person would choose the wrong path.

    Perhaps a simple example would assist in understanding this concept further. If a newspaper announces that the head of State is to travel to South Africa, and thereafter he does indeed travel, he does so out of his own choice and not because the newspaper had knowledge thereof or had announced his plans.

    Nevertheless, my sincere advice is that you do not delve too deep into this subject and accept the concept as mentioned above. Remember, every person has a choice. No person is forced to do good or evil.

    And Allah Ta’ala Knows Best

    সূত্র: http://www.albalagh.net/qa/0123.shtml

  17. 1
    সাদাত

    মুফতি তাকি উসমানি কর্তৃক তাকদির সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর:
    Taqdir: Predetermination

    By Mufti Muhammad Taqi Usmani
    Posted: 2 Rabi ul-Thani 1432, 7 March 2011
    ——————————————————————————-
    Q. I am confused about taqdir. Why make any effort if everything is pre-determined?
    ——————————————————————————--
    A.That every thing is written in taqdir does not mean that man has lost his choice. It simply means that Allah Ta’ala knows what a person will do out of his own choice. That is why we are obligated to do right things with our free will. Whatever we will do through our freewill is part of taqdir as Allah knows what we will choose to do.

    সূত্র: http://www.albalagh.net/qa/0145.shtml

Leave a Reply

Your email address will not be published.