«

»

Jan ১০

পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ-১: আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি ছয় দিনে না আট দিনে?

(আল-কুরআনে পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ ও তার জবাব)

 

অভিযোগ-১: আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি ছয় দিনে না আট দিনে?

 

১.১

কুরআনের বেশ কিছু আয়াতে(৭:৫৪, ১০:৩, ১১:৭, ২৫:৫৯, ৩২:৪, ৫০:৩৮, ৫৭:৪) বলা হয়েছে আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে।

১.২

কিন্তু ৪১:৯-১২ নং আয়াত অনুসারে দেখা যায় আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন আট দিনে।

 

অভিযোগের জবাব:

[আনুষঙ্গিক পাঠ:

১টা গর্ত খুঁড়তে একজন শ্রমিকের ১ ঘন্টা লাগলে, ৩টা গর্ত খুঁড়তে ৩ জন শ্রমিকের কয় ঘন্টা লাগবে? গণিতে যারা কাঁচা, তারা বলবে ৩ ঘন্টা। যারা গণিত মোটামুটি বুঝে তারা হয়ত বলবে ১ ঘন্টা। যারা আরেকটু বেশি বুঝে তারা বলবে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নটার উত্তর দেওয়া সম্ভব না। কারণ এখানে বিভিন্ন রকমের কেস হতে পারে।

কেস ১:

৩ জন শ্রমিক একসাথে কাজ শুরু করল সেক্ষেত্রে সময় লাগবে ১ ঘন্টা ।

১।।১।।১ = ১

কেস ২:

২ জন শ্রমিক একসাথে কাজ শুরু করল। তাদের কাজ শেষ হল। অত:পর ৩য় শ্রমিক কাজ শুরু করল। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ২ ঘন্টা।

(১।।১)+১=১+১=২

কেস ৩:

১ম শ্রমিক কাজ শেষ করল। অত:পর ২য় শ্রমিক কাজ শুরু করল।

২য় শ্রমিক কাজ শেষ করল। অত:পর ৩য় শ্রমিক কাজ শুরু করল।

এক্ষেত্রে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা।

১+১+১=৩

এ ধরণের কেস হতে পারে অগণিত। কাজেই এ প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে জানতে হবে কে কখন কাজ শুরু করল। তথ্য পাবার সাথেই ১+১+১=৩ হিসাব করা যাবে না।]
 

১.১ এর আয়াতসমূহ: (প্রাসঙ্গিক অংশ)

 

৭:৫৪

তিনি নভোমন্ডল ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন

১০:৩

নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান যমীনকে ছয় দিনে

১১:৭

তিনিই আসমান যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন

২৫:৫৯

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন

৩২:৪

আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন

৫০:৩৮

আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি

৫৭:৪

তিনি নভোমন্ডল ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে

 

বিশ্লেষণ:

নভোমন্ডল ভূমন্ডল সৃষ্টি করা হয়েছে মোট ছয় দিনে।

আবার, নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে ছয় দিনে।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে,

এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুকে সৃষ্টি করতে কোন আলাদা সময় নেওয়া হয় নাই। নভোমণ্ডল/আকাশ এবং ভূমণ্ডল/পৃথিবী সৃষ্টির সাথে সাথে সমান্তরালভাবে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুকে সৃষ্টি করা হয়।

অর্থাৎ ৬ দিনের মধ্যে পৃথিবী এবং আকাশ সৃষ্টিকালে সমান্তরালভাবে অন্যান্য কাজও হয়েছে।

 

১.২ এর আয়াতসমূহ:

 

 

৪১:৯ বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
৪১:১০ (وَجَعَلَ ) তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
৪১:১১ (ثُمَّ اسْتَوَى )অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
৪১:১২ (فَقَضَاهُنَّ)অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

 

 

লক্ষ্যণীয়:

১১ এবং ১২ নম্বর আয়াতের শুরুতে 'অতঃপর' শব্দ আছে (আরবীতে 'সুম্মা' বা 'ফা')।

কিন্তু ১০ নম্বর আয়াতের শুরুতে কোন 'এর পর' /'আরো'/'অত:পর'/'তারপর' এ জাতীয় কোন শব্দ(আরবীতে 'সুম্মা' বা 'ফা') নেই।

বিশ্লেষণ:

৯ নম্বর আয়াতের কাজ তথা পৃথিবী সৃষ্টির জন্য লেগেছে ২ দিন।

১০ নম্বর আয়াতের অন্যান্য কাজের জন্য সময় লেগেছে ৪ দিন। কিন্তু ১০ নম্বর আয়াতের শুরুতে যেহেতু 'এর পর' /'আরো'/'অত:পর'/'তারপর' এ জাতীয় কোন শব্দ(আরবীতে 'সুম্মা' বা 'ফা') নেই, কাজেই এই কাজ যে পৃথিবীর সৃষ্টি শেষ হবার পর শুরু হয়েছে এমন কোন তথ্য এখানে নেই, বরং এই কাজ কখন শুরু হয়েছে তা এখানে বলা নেই।

১১ নং আয়াতের নির্দেশ দেওয়া হয় ১০ নং আয়াতের অন্যান্য কাজের পর (আয়াতের শুরু হয়েছে ‘অত:পর’ দিয়ে), এখানে কোন কাজ নাই, কোন সময়ের প্রয়োজনও হয় নাই, উল্লেখও নেই।

১২ নম্বর আয়াতের কাজ তথা আকাশ সৃষ্টির জন্য লেগেছে ২ দিন। এই কাজ শুরু হয়েছে ১১ নং আয়াতের নির্দেশের পর (আয়াতের শুরু হয়েছে ‘অত:পর’ দিয়ে) তথা ১০ নম্বর আয়াতের অন্যান্য কাজ (যথা খাদ্যের ব্যবস্থা) শেষ হবার পরপরই।

এক নজরে আয়াত ৪টি হতে প্রাপ্ত তথ্য:

পৃথিবী সৃষ্টিতে ব্যয়িত সময়= ২দিন

অন্যান্য কাজে (যথা খাদ্যের ব্যবস্থা) ব্যয়িত সময়= ৪ দিন

আকাশ সৃষ্টিতে ব্যয়িত সময়= ২ দিন

আকাশ সৃষ্টি শুরু হয় অন্যান্য কাজের পরে এটা বলা থাকলেও অন্যান্য কাজ যে পৃথিবী সৃষ্টি শেষ হবার পর শুরু হয়েছে এমন কোন তথ্য এখানে নেই।

কাজেই এই আয়াতগুলো থেকে যারা হিসাব করেন যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে (২+৪+২) বা ৮ দিন লেগেছে, তারা আনুষঙ্গিক পাঠের গণিতে কাঁচাদের মতোই হিসেব করেন। সমান্তরালভাবে যে একাধিক কাজ হতে পারে এটা যেন তাদের ধারণাতেই আসে নাই।

প্রথমে যেহেতু পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে কাজেই পৃথিবী সৃষ্টিতে লেগেছে প্রথম ২ দিন।

শেষে যেহেতু আকাশ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে কাজেই আকাশ সৃষ্টিতে লেগেছে শেষের ২ দিন।

আর ১০ নং আয়াতের অন্যান্য কাজ (যথা খাদ্যের ব্যবস্থা) সম্পাদিত হয়েছে আকাশ সৃষ্টির আগের ৪ দিনে।

 

ফলাফল:

১.১ এর আয়াতগুলো হতে আমরা জেনেছি:

মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে মোট সময় লেগেছ ৬ দিন এবং একাধিক কাজ সমান্তরালেও ঘটেছে। এখন ১.২ এর আয়তগুলোতে প্রাপ্ত কাজগুলোকে এই ৬ দিনের ফ্রেমের সাজানো যায় কিনা দেখি-

 

 

দিন-১

দিন-২

দিন-৩

দিন-৪

দিন-৫

দিন-৬

৯ নং আয়াত

পৃথিবী সৃষ্টি

(প্রথম ২দিনে)

 

১০ নং আয়াত

অন্যান্য কাজ (যথা খাদ্যের ব্যবস্থা)

(শেষের ২দিনের আগের ৪ দিনে)

 

 

১২ নং আয়াত

 

 

 

 

আকাশ সৃষ্টি

(শেষের ২ দিনে)

 

কাজেই আমরা বলতে পারি, পৃথিবী সৃষ্টির সাথে অন্যান্য কাজ ও সমান্তরালে সম্পাদিত হতে থাকে। ২য় দিনে পৃথিবী সৃষ্টি শেষ হয়, ৪র্থ দিনে অন্যান্য কাজ (খাদ্যের ব্যবস্থা) শেষ হয়, শেষের ২ দিনে আকাশ সৃষ্টি শেষ হয়। এভাবে পৃথিবী সৃষ্টির শুরু হতে আকাশ সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত মোট ৬ দিনই লাগে।

(২||৪)+২=৪+২=৬

সুতরাং, এখানে পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ একেবারেই অযৌক্তিক।

 

 

৩৩ comments

Skip to comment form

  1. 14
    ইয়াছির আরাফাত

    ভাই somewhere in blog অনেক নাস্তিক কুরআনের বিজ্ঞান ভিত্তিক আয়াত গুলো কে নিয়ে প্রশ্ন উঠায় এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করে আয়াত গুলি ভূল ,কিন্তু সেখানের কোনও ব্লগার এর জবাব দেয় না।যদি আপনি সেখানে ব্লগিং করেন তা হলে ভাল হয়।জাযাকাল্লা খায়ের ।

    1. 14.1
      সাদাত

      পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 13
    রিন্টু

    ধর্মান্ধ এর অনেক সুন্দর একটা এক্সাম্পল…

  3. 12
    বুড়ো শালিক

    ভালো লাগলো আপনার লেখা ও গাণিতিক ব্যাখ্যা।

  4. 11
    সরোয়ার

    নাস্তিকরূপী মুসলিম বিদ্বেষীরা অংকে যে এত কাঁচা তা তো জানা ছিল না!

  5. 10
    Mahfuz

     Many many thanks. May Allah bless you.
    I did not understand this 6 & 8 days complexity last 25 yers. But Today I got everything. 
    But this complexity did not effect on Eman any time on me. Alhamdulillah. Allah is the malik of hedayet (Straight path) and keeps on Straight path.
     

    1. 10.1
      সাদাত

      আলহামদুলিল্লাহ। জেনে খুব ভালো লাগলো।

  6. 9
    করতোয়া

    আমি মনে করি না একজন মোমিন মুসলিমের কাছে বিশ্বভ্রমান্ড সৃষ্টি করতে আল্লাহ সোবহানা তালা ৬ দিন বা ৮ দিন লাগিয়েছেন কিনা তা খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এ ধরনের বিতর্ক করে তারাই, যারা আল্লাহ'র আয়াতের উপর সন্দেহ পোষন করে। কাজেই যারা আল্লাহ'র আয়াতের উপর সন্দেহ পোষন করে তাদের সাথে বিতর্কে যাবার কোন অনুমতি কি একজন মোমিন মুসলিমের জন্য আছে?
    নাস্তিকদের জানার জন্য গানিতিক বিশ্লেষন দেবারও কোন প্রয়োজন দেখি না। কারন তারা সূরা বাকারা'র ২য় আয়াতের অনুসারী না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে বিতর্কে যাবারও কোন মানে নাই। আল্লাহ যেমন একই আয়াতে মোমিনদের জন্য পথপ্রদর্শনের ব্যবস্থা রেখেছেন তেমনি তাদের জন্য আছে পথভ্রষ্টের পাথেও। যারা মোমিন তারা যে আয়াত থেকে জ্ঞান নিয়ে আল্লাহ'র প্রতি আনুগত্য সেখানে তারা লুপহোল খুজে আল্লাহকে চ্যালেন্জ করে।

    1. 9.1
      সাদাত

      আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।[১৬:১২৫]
      Sahih International: Invite to the way of your Lord with wisdom and good instruction, and argue with them in a way that is best. Indeed, your Lord is most knowing of who has strayed from His way, and He is most knowing of who is [rightly] guided.
      Pickthall: Call unto the way of thy Lord with wisdom and fair exhortation, and reason with them in the better way. Lo! thy Lord is Best Aware of him who strayeth from His way, and He is Best Aware of those who go aright.
      Yusuf Ali: Invite (all) to the Way of thy Lord with wisdom and beautiful preaching; and argue with them in ways that are best and most gracious: for thy Lord knoweth best, who have strayed from His Path, and who receive guidance.
       

  7. 8
    এম_আহমদ

    এখানে overlapping যে বিষয় আছে –তা ইসলাম বিদ্বেষীরা avoid করে। কেননা তা দেখতে গেলে তাদের গল্প সাজেনা।  সেদিন কোথায় দেখলাম, একটা loony কোরানের ১৮:৮৬ উল্লেখ করে বলছে, সূর্য নাকি কোরানের সেকেলে ধারণায় উত্তপ্ত কুপে ডুবে! এটা যে জুল ক্বারনাইনের দেখা প্রেক্ষাপট সেদিকটা তার মাথায় ঢুকেনি। আসলে সে হয়ত কোরানের আগের পিছের আয়াতগুলো পড়েইনি, বরং অন্য কোন মিশনারী নাস্তিকের কাছ থেকে পেয়েছে।

    1. 8.1
      ফোরকান

      এম আহমদ@ বিষয়টি অভিজিতের বিজ্ঞানময় কিতাবেও পড়েছিলাম।

      1. 8.1.1
        শামস

        @ফোরকান,
        এন্টাইভন্ড (ভন্ড ধরায় উস্তাদ!) ভাই এর মত করে বলতে হয়, এখন ভুলটা স্বীকার করার সৎসাহস কি আছে! যদি ভুল না হয়ে দুনম্বরী হয়ে থাকে, তাহলে সেই আশা সুদূর পরাহত!

      2. 8.1.2
        শাহবাজ নজরুল

        অভিজিতের বিজ্ঞানময় কিতাবেও পড়েছিলাম।

         
        তার সেই বিখ্যাত লেখাটা আসলেই বিজ্ঞানময়http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yes.gif । এই ৮ দিনের ভেল্কি সহ অনেক টোটকা অভিজিতের ঐ কিতাবে আছে। আজকাল অনেকে তার এই লেখাকে 'নাস্তিকতার' পক্ষে প্রামাণ্য লেখা বলে মনে করা শুরু করেছেন; কেননা ওটা অবিশ্বাসের জবানবন্দীতে আছে।
         

    2. 8.2
      সাদাত

      এটা বাংলা নাস্তিকদের অবশ্য পাঠের একটি বিষয়।

  8. 7
    এস. এম. রায়হান

    (২||৪)+২ = ৪+২ = ৬

    ব্যাখ্যাটা আমি নিজে বুঝলেও সমান্তরাল (||) চিহ্নের দ্বারা ঠিক কী বুঝাতে চেয়েছেন একটু পরিষ্কার করলে ভাল হয়। কেননা গণিতে ২||৪ = (২x৪)/(২+৪) = ৪/৩ হয়, ৪ নয়। অনুরূপভাবে,
     
    ১||১||১ = [(১x১)/(১+১)] || ১ = ০.৫||১ = (০.৫x১)/(০.৫+১) = ০.৫/১.৫ হয়, ১ নয়।

    1. 7.1
      সাদাত

      আপনি তো প্যারালাল সার্কিটের তুল্য রোধ বের করে ফেলেছেন দেখছি!
      আচ্ছা আমি আমি কী বুঝিয়েছি সেটা সবার সামনে ব্যাখ্যা করছি।
      মনে করুক দুইটি কাজ সমান্তরালে হচ্ছে,
      একটি সময় লাগছে ২ ঘন্টা
      আরেকটাতে সময় লাগছে ৪ ঘন্টা।
      এক্ষেত্রে কাজ দুটো একই সাথে শুরু হলে, দুটো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে যে কাজটায় বেশি সময় লাগছে, সেটার সময়।
      (২||৪)=৪
      একইভাবে (৫||৪)=৫
      দুই এর অধিক কাজের বেলাতেও একই কথা,
      আবার (২||৩||৬||৫||৪)=৬ [কারণ এখানে ৬ সবচেয়ে বড়]
       
       

  9. 6
    এস. এম. রায়হান

    কুরআনের অনেক আয়াতে সুস্পষ্টভাবে ছয় দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা বলা আছে কিন্তু কোথাও আট দিনের কথা বলা নেই। ফলে প্রাথমিকভাবেই এই অভিযোগ বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৪১:৯-১২ আয়াতের উপর ভিত্তি করে যেভাবে আট দিন বানানো হয় সেটি বুঝার ভুল বা অজ্ঞতা। কেউ কেউ বুঝেও হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালায়।

    1. 6.1
      সাদাত

      কেউ কেউ আবার না বুঝেই সেই অপপ্রচারগুলোকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে।

  10. 5
    এন্টাইভণ্ড

    সাদাতভাই
    খুব মুগ্ধ হয়ে পড়লাম লেখাটা। পৃথিবী আগে সৃষ্টি হয়েছে, তারপর আকাশ, এই জায়গাটা ছাড়া পুরো লেখা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন নাই। সম্ভব হলে এই জায়গাটা টাচ করবেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির যে-বিভিন্ন-তত্ত্ব বিজ্ঞান দিচ্ছে, তার সাথে সম্ভবত এই ধারণাটা কন্ট্রাডিক্ট করে। আবার বলি, সম্ভব হলে এই পয়েন্টটা একটু টাচ করবেন।
     
    কিন্তু এই লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিলো যে-সেল্ফ-কন্ট্রাডিকশন দূল করা, তা পুরোপুরিই সাধিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
    ইন্টারনেটে অনেকেই দেখছি এই তথাকথিত সেল্ফ কন্ট্রাডিকশন নিয়ে অনেক গল্পগাঁথা রচনা করেছেন। তারা কেউ সাহস নিয়ে এইখানে নিজেদের ভুল-ভেঙে যাওয়ার কথা প্রকাশ করবেন কি? অথবা এই নিয়ে যদি আরো ক্রোশ্চেন থাকে, তাহলে সেইটা নিয়েও আসার আহবান জানাই।
    যারা ইসলামের বিরুদ্ধে দুটো প্রশ্ন তুলেই মনে করেন যে অনেক "যুক্তিবাদিতা" এবং "মুক্তমন"-এর পরিচয় দিয়ে ফেলেছেন, তাদের একটা ব্যাপার আপনি খেয়াল করেছেন কি না জানি না, তারা কিন্তু কখনোই এইরকমের স্পষ্ট যুক্তির বিপরীতে খণ্ডনও করতে আসেন না, আবার নিজেদের পূর্ব ধারণাটি যে ভুল ছিলো, সেইটিও জানানোর সৎসাহস রাখেন না। কিন্তু নিয়মিত সদালাপ না পড়লে তাদের যে রাতের ঘুমটা যথাযথ হয় না, সেইটা আবার তাদের নিজেদের লেখায় বিভিন্ন কমেন্টে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ইন্টারেস্টিং! আমি সত্যিই এই লেখকদের আশা করছি এইখানে এসে কিছু বলার। আবুল কাশেম সাহেব বা তার কোনো প্রশ্ন-না-করা-অন্ধভক্ত কেউ কি আছেন? আসবেন নাকি এখানে?

    1. 5.1
      এস. এম. রায়হান

      ভুল স্বীকার করলে লুঙ্গি-ধূতি খুলে প্যান্ট-শার্ট পরতে হবে -- যেটি খুবই কঠিন কাজ।

    2. 5.2
      সাদাত

      আমি যতটুকু বুঝেছি কুরআন অনুসারে,
      প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে,
      এরপর আকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে,
      এরপর পৃথিবীতে বিস্তৃত করা হয়েছ।
      এ নিয়ে আরেকটা লেখা দেবার ইচ্ছে আছে।

      1. 5.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        ২১.৩১ অনুসারে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল একসাথে ছিল, পরে তাদের আলাদা করা হয়। এটা খেয়াল রেখেন। আগে পৃথিবী সৃষ্টি হলে তা আজকের বিজ্ঞান অনুসারে ভুল বলে স্থির হবে। আর নভোমন্ডল আসলেই বিজ্ঞান অনুসারে আগে গ্যাসীয় বা ধূম্রসদৃশ ছিল। এখান থেকে কিংবা সুরা মূলক থেকেও জানা যায়, যে নভোমন্ডলের স্তর সাতটি। আমার ধারণা এটা মাল্টিভার্স তত্ত্বকে সমর্থন করে। সুরা মূলকে আসমানকে একের উপর এক এভাবে সাতটি স্তর (সাত মানে আরবী গ্রামার অনুসারে বহুও হতে পারে; যদিও মিরাজের হাদীস থেকে অনুমান করা যায় যে ৭ মানে আসলেই ৭; কেননা প্রতি আসমানে রাসুল (সাঃ) একেকজন নবী/রাসুলের সাক্ষাত পেয়েছেন) বলে বলা আছে। আরো বলা আছে, সর্বনিম্ন স্তর তিনি সাজিয়েছেন তারকা রাজি দিয়ে। এটাও আজকের অতি অধুনা বিজ্ঞানের সাথে মিলে যায়। কোরানের আয়াত থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে এর উপরের স্তরের আসমান তারা দিয়ে সজ্জিত নয়;  কিংবা এর উপরের আসমানে ফিজিক্সের অন্য সুত্র অর্পিত আছে। তবে আমি যতদুর জানি বর্তমানের মাল্টিভার্স তত্ত্বে কন্সেন্ট্রিক ইউনিভার্সের কথা বলা যাই। আছে সমান্তরাল বিশ্বের কথা, সাবানের বুদবুদের মতো। এগুলো সব আমার নিজের মাথায় আসা ধারণা, আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
         
        --শাহবাজ

        1. 5.2.1.1
          কিংশুক

          @ এন্টাইভন্ড, প্রথমেই বেশকিছুদিন অনুপস্থিতির পর আপনাকে সদালাপে দেখে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।  সাদাত ভাইকেও পোণ্টের মাধ্যমে সুন্দর ব্যাখ্যা করার জন্য ধন্যবাদ। সাদাত ভাইয়ের ব্যাখ্যার মতোই  ব্যাখ্যা আরেক জায়গায় পড়েছিলাম ।
          Lo!your Lord is Allah Who created the heavens and the earth in six Days,
          then mounted He the Throne. He covereth the night with the day, which
          is in haste to follow it, and hath made the sun and the moon and the
          stars subservient by His command. His verily is all creation and
          commandment. Blessed be Allah, the Lord of the Worlds! (The Noble Quran,7 : 54)

          Say (O Muhammad, unto the idolaters): Disbelieve ye verily in Him Who
          created the earth in two Days, and ascribe ye unto Him rivals? He (and
          none else) is the Lord of the Worlds. (The Noble Quran,41 : 9)

          He placed therein firm hills rising above it, and blessed it and measured
          therein its sustenance in four Days, alike for (all) who ask; (The Noble Quran, 41 :10)

          So the earth was created in two days, and the mountains were created and the sustenance measured in two more days which makes a total of four

          Then He ordained them seven heavens in two Days and inspired in each heaven
          its mandate; and We decked the nether heaven with lamps, and rendered
          it inviolable. That is the measuring of the Mighty, the Knower (The Noble Quran,41:12)

          2+4=6
          Allah says in the beginning of this verse (41:9) that those who exploit this information contained in this passage to raise doubts about its authenticity are equally interested in promulgating blasphemy and denying His unity. Allah is telling us that in course of time, there will emerge unbelievers who will make use of this apparent contradiction.
          source: http://christian-talk.forumotion.com/t3075-scientific-errors-in-the-bible এখানে ফাজিলদের বিভিন্ন ফাজলামো প্রশ্নেরও উত্তর দেয়া হয়েছে।
                   কোরানে অবশ্যই পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে মহাকাশ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যথাসম্ভব কোরানে দুই প্রকারের আকাশের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত: পৃথিবীর ওজোন স্তর পর্যন্ত যে বায়ুমন্ডলীয় আকাশ এবং দ্বিতীয়ত: "আউটার স্পেস" এর আকাশ।
          Second, Giron compares 41:9-12, which speaks of the earth being made before the heavens, to 79:27-30, which speaks of the heavens being made before the earth. So what “wild confabulation” do I have to offer? How am I going to "sacrifice my intellectual integrity" here? Well, the fact is, there are two different heavens: first, there's the heaven we know as “the sky,” ending where the earth’s ozone layer ends, and then there's the heaven around and above it, which we know as “outer space.” First outer space was formed, and then the earth was formed (as well as other planets), and then the atmosphere of the earth settled into what it is now, giving the earth a sky. It's all very scientifically accurate. The heaven being referred to in surah/chapter 79 is obviously the sky, since this heaven darkens at night and has a forenoon:
          What, are you stronger in constitution or the heaven He built?
          (- 79:27 -)
          Noble Quran
          He lifted up its vault, and levelled it,
          (- 79:28 -)
          Noble Quran
          and darkened its night, and brought forth its forenoon.
          (- 79:29 -)
          Noble Quran
          And the heaven being spoken of in Surah/Chapter 41 is obviously outer space, since it is this heaven which contains the stars:
          Then He lifted Himself to heaven when it was smoke, and said to it and to the earth, “Come willingly, or unwillingly!” They said, “We come willingly.”
          (- 41:11 -)
          Noble Quran
          So he determined them as seven heavens in two days, and revealed its commandment in every heaven. And We adorned the lower heaven with lamps, and to preserve; that is the ordaining of the All-mighty, the All-knowing.
          (- 41:12 -)
          Noble Quran
          এপ্রশ্নের উত্তর সহ ফাজিলদের আরো কিছু ফাজলামি প্রশ্নের উত্তর নিচের সাইটে পাবেন
          http://xyapx.com/ziggyzag/workofmultiplehands.php

    3. 5.3
      সাদাত

      যারা ইসলামের বিরুদ্ধে দুটো প্রশ্ন তুলেই মনে করেন যে অনেক "যুক্তিবাদিতা" এবং "মুক্তমন"-এর পরিচয় দিয়ে ফেলেছেন, তাদের একটা ব্যাপার আপনি খেয়াল করেছেন কি না জানি না, তারা কিন্তু কখনোই এইরকমের স্পষ্ট যুক্তির বিপরীতে খণ্ডনও করতে আসেন না, আবার নিজেদের পূর্ব ধারণাটি যে ভুল ছিলো, সেইটিও জানানোর সৎসাহস রাখেন না।

      ভালো পর্যবেক্ষণ।
       

  11. 4
    ফোরকান

    পোষ্ট খুব ভাল হয়েছে।
     মহাবিশ্ব সৃষ্টি  ছয় দিনে নয়, মূলত ছয়টি সময়কালে  সৃষ্টি হয়েছে। বুঝতে পেরেছি আপনার উদ্দেশ্য ছিল ছয় এবং আট ব্যপারটি নিয়ে, দিনের ব্যপারটি নয়।http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

    1. 4.1
      সাদাত

      ধন্যবাদ।

  12. 3
    এস. এম. রায়হান

    সুতরাং, এখানে পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ একেবারেই অযৌক্তিক।

    শিরোনাম সহ দু-তিন জায়গায় 'পরস্পবিরোধিতা'র মধ্যে 'র' মিসিং হয়েছে।

    1. 3.1
      সাদাত

      ধন্যবাদ, ঠিক করলাম।

  13. 2
    ফুয়াদ দীনহীন

    দিনে বোধ হয় বলা হয়নি, যা বলা আছে তা বহু দিন বুঝায়, লেখায় এ বিষয়টাও একটু আলোকপাত করেন
     
    yes    yes   

    1. 2.1
      সাদাত

      আপনারা সবাই মিলে যেভাবে 'আলোকপাত' করছেন তাতে আমি 'আলোকপাত' না করলেও অন্ধকার তো আর থাকার কথা না।

  14. 1
    শামস

    এখানে 'দিন' বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?

    1. 1.1
      সাদাত

      এখানে দিন বলতে যা বুঝাতে চাওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই আমাদের দিন বা ২৪ ঘন্টা নয়, কেননা তখনও তো মহাবিশ্ব সৃষ্টিই হয়নি। এই দিন ব্যাখ্যা করাটা এই পোস্টের প্রসঙ্গ না। কেননা, এখানে আমরা শুধু পরস্পরবিরোধিতা আছে কি-না সেটাই যাচাই করবো। ধন্যবাদ।

    2. 1.2
      বুড়ো শালিক

      আমার মনে হয়, দিনকে আমরা আপাতত সময়ের একটা একক হিসাবে ধরে নিতে পারি। তারপর সেই একক অনুযায়ী আয়াতগুলো পরস্পরবিরোধী কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারি (যেটা লেখক অলরেডি করে ফেলেছেন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.