«

»

Mar ২২

একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

আব্দুর রহমান ইবনে আবী নুয়াম (রহঃ) এর সময়কার ঘটনা। এক ব্যক্তির মনে খেয়াল এলো যে সে বিভিন্ন আলেম, ফকীহ, মুহাদ্দেসের কাছে যাবে এবং জিজ্ঞেস করবে "যদি কোনোভাবে এটা জানতে পারেন যে , আপনার মৃত্যু আগামীকালই হবে, তখন মৃত্যুর পূর্বে যে দিনটি পাবেন সেদিনটি কিভাবে কাটাবেন?" ওনার উদ্দেশ্য ছিল আলেমদের বিভিন্ন উত্তর থেকে নির্যাস বের করে সে উত্তম আমলগুলো খুঁজে বের করা এবং সে অনুযায়ী জীবনটা কাটানো।  

উনি তৎকালীন বিখ্যাত আলেম, মুহাদ্দিস, বুজুর্গদের কাছে গেলেন। একেকজন একেকভাবে উত্তর দিলেন। অবশেষে লোকটি আব্দুর রহমান ইবনে আবী নুয়াম (রহঃ) এর কাছে এলেন এবং তাকে প্রশ্ন করলেন। আব্দুর রহমান ইবনে আবী নুয়াম (রহঃ) যে উত্তর দিলেন তাতে আমাদের সবার জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।  উনি বললেন "আমি প্রতিদিন যে কাজ করি সে কাজই করবো। কারণ আমি প্রতিদিনের জন্য এমনভাবে একটি রুটিন তৈরী করে নিয়েছি যে, প্রতিটি দিনকেই আমি আমার জীবনের শেষ দিন মনে করি।  প্রতিদিনই আমি ভাবি হয়ত আজকের দিনটাই আমার জীবনের শেষ দিন। তাই আমার রুটিনের মধ্যে নতুন কিছু বাড়ানোর কোনো স্থান নেই। প্রতিদিন যে আমল করি জীবনের শেষদিন সে আমলই করবো।

[ সূত্র : ইসলাহী খুতুবাত – মাওলানা ত্বকী ওসমানী ]

২ comments

  1. 2

    Txn

  2. 1
    মহিউদ্দিন

    যেখানে এক মুহূর্তের নিশ্চয়তা নাই মানুষের জীবনের তাই এটাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য তবে সে লক্ষ্যে থাকতে হবে নিজেকে, নিজের পরিবারকে এবং সমাজকে সংস্কার করার , নিজের স্বাধ্যমত সমাজের কল্যাণে কাজ করার, সমাজের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার।

    আল্লাহর প্রতি ইমানের একটি বড় লক্ষণ হল ঈমানদার সাহসী হয় কেননা সে আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করে না আবার বোকারমত যেখানে সেখানে ঝাঁপ দেয় না। এখানে আরো কয়েকটি কথা যোগ করতে চাই যদিও অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে।

    আল্লাহ তার পবিত্র কোরআনে মানুষের মাঝে “মুত্তাকিন” কারা বা কে? যাদের কাছে কোরআন একটি হিদায়েতের গ্রন্থ তথা সঠিক পথ প্রদর্শনের ভূমিকা রাখতে পারে তার বর্ণনায় বলেন,

    “যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে …” (কুরআন সুরা বাকারা ২:২)

    এখানে গায়েব বা অদৃশ্য (unseen) বলতে কি একমাত্র অন্ধ বিশ্বাসকে বুঝায়? কিন্তু অবিশ্বাসীরা এখানে একমাত্র “অন্ধ বিশ্বাস” বলেই নিজেরা যেমন মনে করে তেমনি কালচারাল মুসলিমদেরকেও তা মেনে নিতে বলে। এখানেই হচ্ছে তথাকথিত আধুনিক মুসলিমদের ব্যর্থতা। একটু চিন্তা করে দেখেন এখান থেকেই শুরু হয়েছে ইসলামী আদর্শকে সমাজের মেইনস্ট্রিম কাজকর্ম থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা। ইসলাম নিছক একটি ” অন্ধ বিশ্বাসের ধর্ম ” এটা কোন জীবন ব্যবস্থা নয় ‍‍--“It is simply a religion and no more a way of life.” এ কথাটাই এরা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ কাজ শুরু হয়েছে সেই শত বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের আমল থেকে যার ধারাবহিকতা আজও চলছে!

    আজ বাংলাদেশে ইসলামের বিষয়ে সমস্যা হলে শুধূ মাদ্রাসার হুজুররাই রাস্তায় নামতে হবে কেন? অন্যরা কোথায়? ইসলামের দাবীর পক্ষে সমাজের নিপীড়িত বঞ্চিত সহ সকল শ্রেণীর নারী পুরুষকে নিয়ে আওয়াজ তুলতে ব্যর্থতার কারণ না জানতে চাইলে কোন কাজ হবেনা।

    ইসলামকে যদি জীবন ব্যবস্থা বলেন তাহলে মুসলিমদের মনে ইসলাম থাকতে হবে তার পরিবারে, আদালতে, বিচারকের এজলাসে, হাসপাতালে, স্কুলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিজ্ঞানীর রিসার্চ সেন্টারে, নাটকে, সাহিত্যে, বাজারে, হোটেলে, যানবাহনে, সেনাবাহিনীতে, পুলিশে এক কথায় মানুষের জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। কিন্তু ইসলামকে শুধু মাদ্রাসার হুজুরদের খানকায় বন্ধী রাখলে তা কি কখনো সম্ভব হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.