«

»

Sep ১৩

আস্তাপভ ও ২৯ রুবল

“পৃথিবীর প্রতিটি সুখী পরিবার একই রকমভাবে সুখী, প্রতিটি অসুখী পরিবার নিজের নিজের ধরণে অসুখী।”

এই মনস্তাত্বিক বাক্যটি দিয়ে শুরু হয়েছে আনা কারেনিনা নামক পৃথিবীর অন্যতম মনস্তাত্বিক উপন্যাস। মাইক্রসফট তার Encarta Encyclopedia বিশ্বকোষ-এ টলস্টয়কে পরিচয় করিয়ে দেবার সময় এই বাক্যটি দিয়ে শুরু করেছে। যেন এটি এমন একটি বাক্য গোটা টলস্টয়কে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। আর টলস্টয় সম্বন্ধে অন্যরা কী বলেছে? “পৃথিবী যদি লিখতে পারতো, তাহলে টলস্টয় এর মতো করে লিখত” (দস্তয়ভস্কি) এই এক উপন্যাস লিখেই টলস্টয় পৃথিবীতে অমর হতে পারত। কিন্ত যার কাঁচামালের অভাব নেই, তার অমর হবার মতো আরো কিছু আছে। “ওয়ার এন্ড পিস” এবং “রিজারেকসন” তেমন আরো দুটো অমর কীর্তি।

কেনো আনা কারেনিনা ব্যতিক্রমধর্মী

আনা কারেনিনা শুধু ব্যতিক্রমধর্মী নয়, বাস্তবধর্মীও বটে। আমরা সাধারণত উপন্যাসে নায়ক, নায়িকাকে দেখি দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে ভালো মানুষ হিসেবে – যেটা বাস্তবে একেবারেই অসম্ভব। সমরেশ মজুমদারের ‘কালবেলা’য় অনিমেষ, যাযাবরের দৃষ্টিপাতে-এ “আধারকার” ইত্যাদি সব উপন্যাসেই নায়কদের মধ্যে মানবীয় দুর্বলতা পাওয়া যায় না। ব্যতিক্রম টলস্টয় এর উপন্যাস “আনা কারেনিনা”। উপন্যাসের নায়িকাকে চিত্রিত করেছেন “দোষ-গুণ” দিয়ে সৃষ্ট মর্ত্যের মানবী হিসেবে। যার চরিত্র আদর্শ নয়, আছে পদস্খলন — তাকেই  উপন্যাসের লিডিং পয়েন্টে নিয়ে আসা – ব্যাপারটা খুবই কঠিন। তবে সেটা আমাদের জন্য, টলস্টয় এর জন্য নয়।

উপন্যাসের সার সংক্ষেপ হোলো “আনা কারেনিনা একজন সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলা। ভাই এবং ভাবীর মধ্যে যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে, সেটার সমাধান করার জন্য সে মধ্যস্হতার ভূমিকা পালন করে। কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তার সংসারেই অশান্তির সৃষ্টি হয়, তিনি জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ার মতো ঘৃণ্য সামাজিক ব্যধিতে। স্বামীর সাথে তার ব্যবধান শুরু হয়, পরিণতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ। আনা কারেনিনা প্রেমিক ভ্রনস্কিকে বিবাহ করেন, কিন্ত ধীরে ধীরে তার সাথে তার দুরত্ব সৃষ্টি হয়, এবং একসময় প্রবল সন্দেহ। শেষে “আনা কারেনিনা” আত্নহত্যা করতে বাধ্য হন। এখানে উপন্যাসের মূল বক্তব্য হচ্ছে “আদর্শহীন চরিত্র কিভাবে সমাজ এবং ব্যক্তিজীবনে পতন নিয়ে আসে তাই ফুটিয়ে তোলা”। সম্পূর্ণ  উপন্যাসে একটি অশ্লীল বাক্য উল্লেখ না করেও কিভাবে সমাজের অশ্লীলতা ফুটিয়ে তোলা যায় তা টলস্টয় দেখিয়ে দিয়েছেন – যেটার থেকে আমাদের দেশের সাহিত্যিকদের অনেক কিছু শেখবার আছে বিশেষ করে যারা “খেলারাম খেলে যা” জাতীয় অপন্যাস লিখে কাটতি বাড়িয়ে থাকেন।

সাইড চরিত্র লেভিন

সাধারণত লেখক যার আদর্শকে পছন্দ করেন তাকেই উপন্যাসের নায়ক নায়িকা করেন, এখানেই টলস্টয় ব্যতিক্রম। নিজে যাকে আদর্শবান মনে করছেন তাকে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রে না দিয়ে সাইড চরিত্রে এনেছেন– “লেভিন”। অনেকেই বলে থাকেন লেভিন হোলো টলস্টয় নিজে। উপন্যাসে দেখা যায় লেভিন কিভাবে নাস্তিক থেকে ক্রমশ: আস্তিকে পরিণত হয়। কুশলী কারিগর টলস্টয় যে ধ্রুপদী কারিশমার মাধ্যমে সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন সেটা দেখার মতো।

উপন্যাসের আরো কিছু মনস্তাত্বিক দিক

এবার চলুন উপন্যাসের আরো কিছু  অসামান্য উক্তির দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক:

“প্রসংগ পেলে ফুল তোলা সহজ”

“সবাই নিজের বুদ্ধিতে সন্তুষ্ট, কিন্তু কেউ নিজের অবস্হার ওপর সন্তুষ্ট নয়”

“সে এমন একটি মিস্টি মেয়ে যার সাথে কথা বলা এবং চুপ করে থাকা দুটোই সমান আনন্দের”

“প্রেমিক যুবককে চেনা যায় ভাবাকুল দৃষ্টির মাধ্যমে”

“যতগুলো মাথা মনও যদি হয় ততগুলো, তাহলে যতগুলো হৃদয় ভালোবাসা হবে তত রকমের”

ইত্যাদি।

টলস্টয় ও ধর্ম 

টলস্টয় তার গল্প উপন্যাসের বহু জায়গায় বাইবেলের বাণী উদ্ধৃত করেছেন। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত এবং হায়াৎ মামুদ সম্পাদিত “ছোটগল্পের” সংকলনে বিষয়টি আমরা দেখতে পাই। তার অবিস্মরণীয় ছোটগল্প “শয়তান”, “ফাদার সিয়ের্গি” এবং আনা কারেনিনা উপন্যাসে এর উল্লেখ সুপ্রচুর। বাস্তব জীবনে টলস্টয় পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছিলেন। আমাদের এখানে তুলনাত্নক ধর্মে যেমন “নজরুল” ও সৈয়দ মুজতবা আলীর ছিল অগাধ জ্ঞান। তৎকালীন পাদ্রী এবং ইসলামিক স্কলারদের সাথে টলস্টয় মত বিনিময় করতেন।   অনেকে চিঠির মাধ্যমে টলস্টয় এর  কাছে ধর্মীয়ে বিষয়ে জানতে চাইতেন। তার “তিন মুনি” ছোট গল্প ১৯৪৮ সনে লিখিত বই এর থেকে সংগৃহিত।

টলস্টয় ও বিপ্লববাদ

শোষিতের প্রতি টলস্টয় এর ছিল প্রচণ্ড মমত্ববোধ, ঠিক তেমনই শোষকের প্রতি ছিল তার প্রচণ্ড ঘৃণা। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যে সকল বিপ্লবী এই ভারতীয় উপমহাদেশে কাজ করত তাদের সাথে টলস্টয় এর যোগাযোগ ছিল। বাংলাদেশের অনেক বিপ্লবীর সাথেও টলস্টয় এর চিঠি পত্রের আদান-প্রদান ছিল। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। নিজে ছিলেন একসময় জার এর সৈনিক, পারদর্শীতা দেখাবার জন্য সাধারণ সৈনিক থেকে জেনারেল পদ-এ উন্নতি। এর পরও জার এর বিপক্ষে যে সব চেচেন এবং ককেশীয় বিপ্লবী কাজ করেছেন – তাদের নিয়ে তিনি নাটক-গল্প লিখেছেন – যেমন “হাজী মুরাদ”। হ্যা চেচেন বিদ্রোহী ইমাম শামিলের প্রধান শিষ্য “হাজী মুরাদকে” নিয়েই তিনি রচনা করেছিলেন এক অবিশ্বাসী গল্প। পাঠককে কি পরিচয়ে করিয়ে দেবো কে ছিল এই ইমাম শামিল ও হাজী মুরাদ? ক্রমাগত ৪৫ বছর পরাক্রমশালী রাশিয়ার জারের বিরুদ্ধে ইমাম শামিল সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিল যা এখনও পৃথিবীর ইতিহাসে আর কারো নেই গেরিলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে। এই  জারের সৈনিক ছিল একসময় টলস্টয়। সেই টলস্টয় এর পক্ষে কিভাবে সম্ভব হোলো তারই এন্টি হাজী মুরাদকে নিয়ে গল্প লিখতে। নীতি ও আদর্শ এর জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছে।

টলস্টয় ও জমিদারপ্রথা

টলস্টয় ছিলেন জমিদার, তার ছিল বিশাল জমিদারী। এ সত্তেও তিনি ছিলেন জমিদার প্রথার ঘোর বিরুধী। শুধু তাই নয়, তার জমিদারীর বিশাল অংশ উনি দান করে দিতে চেয়েছিলেন, যা নিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে তার ছিল ঘোর বিবাদ। রবীন্দ্রনাথেরও জমিদারী ছিল, যেখানে রবীন্দ্রনাথ খাজনা আদায় করতেন, আমাদের মতো প্রজাদের থেকে। তবে টলস্টয় আর রবীন্দ্রনাথের পার্থক্য হোলো, টলস্টয় জমিদারী দান করে দিতেন, তার বিপরীতে রবীন্দ্রনাথে যখন জমিদারী দেখাশোনা শুরু করলেন, খাজনা আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে লাগল। তার বড় ভাই দিজেন্দ্রনাথ যখন খাজনা আদায় করতে সাফল্য দেখাতে পারেনি, তখন রবীন্দ্রনাথ সেখান প্রভুত সাফল্য দেখিয়েছিল, যেটা সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা থেকে আমরা জানতে পারি। প্রতিভা অনেকরকম, সাহিত্য থেকে শুরু করে খাজনা আদায় পর্যন্ত, সেটা রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে বহুলাংশে প্রযোজ্য একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টলস্টয় এর উপন্যাস তথা সাহিত্যের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য

সামাজিক পরিবেশ-পরিস্হিতি ফুটিয়ে তোলা ছাড়াও উপন্যাসে আরো কিছু বিষয় চলে আসে, আর তা হোলো আমাদের চারিপাশের রাষ্ট্রীয়, আইন, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়গুলো। এইসকল বিষয় আলোচনার সময় টলস্টয় গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। উপন্যাসের প্রয়োজনে যখন যে বিষয় আসত সেগুলো নিয়ে টলস্টয় প্রচুর পড়াশোনা করেছেন –  সেটা কোনোক্রমেই গবেষকদের থেকে কম নয়। আনা কারেনিনা উপন্যাসে লেভিন যখন কৃষিবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন কিংবা রেজারেকশন উপন্যাসে যখন “আইন ও আদালত” নিয়ে আলোচনা করেছেন তখন আমরা বুঝতে পারি- কত গভীর পড়াশোনা থাকলে কোনো লেখক বিষয়ের এতো গভীরে পৌছতে পারেন। রেজারেকশন উপন্যাস সম্পূর্ণ বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে লিখা এবং সেখানে কয়েদিদের সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়েছে।

টলস্টয় ও মানবতা

রাশিয়ায় তখন সংখ্যালঘু দুখোবর সম্প্রদায়ের ছিল চরম দুরবস্হা। তার ফাদার সিয়ের্গি এবং আর একটি উপন্যাসের দ্বারা অর্জিত ৮০ হাজার রুবল দান করলেন সেই সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য। তারা সমস্ত টাকা দিয়ে একটি জাহাজ ক্রয় করে চিরদিনের জন্য আমেরিকায় চলে গেলেন।

একটি চমকপ্রদ ঘটনা 

টটলস্টয় তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি ফরমে এই মর্মে পিতার অংগীকার  করতে হয় যে ‘সন্তান স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো সময় অনাকাংখিত ব্যবহার করবে না’। টলস্টয় বেঁকে বসলেন, তার পরিস্কার জবাব “নিজের ব্যবহার বিষয়ে অংগীকার করা যায়, কিন্তু অন্যের ক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব?” স্কুল কর্তৃপক্ষ যতই টলস্টয়কে বুঝায়, এটা তাদের ফরমাল নিয়ম, টলস্টয় বুঝতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত তার সন্তানকে সেই স্কুলে আর ভর্তি করালেন না।

বরেন্যদের দৃষ্টিতে টলস্টয়

“টলস্টয় নিজেই একটি পৃথিবী” – ম্যাক্সিম গোর্কি

“জীবিত সকল সাহিত্যিকদের মধ্যে টলস্টয় সর্বশ্রেষ্ঠ” – দস্তয়ভস্কি

“কত প্রতিভাবান একজন শিল্পী এবং মনস্তাত্বিক!!” – আন্তন চেখভ

উপসংহার: 

Art for Art sake – সাহিত্যের জন্য সাহিত্য এই মতবাদে টলস্টয় বিশ্বাসি ছিলেন না– সাহিত্য হবে জীবনের জন্য। তাই দেখা যায় তার প্রতিটি সাহিত্য জীবন ও নীতিবোধ নিয়ে গড়ে উঠেছে। একটি উপন্যাস লিখতে সময় নিয়েছেন ১০ বছর। জীবন ও নীতিবোধ নিয়ে সম্পূর্ণ পরিস্কার ধারণা গড়ে ওঠার পরই লিখায় হাত দিয়েছেন। যেমন নজরুল নিজের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, “আমার কবিতা ও গান আমার জীবনের মধ্য থেকে জন্মলাভ করেছে।” আমাদের আর এক উপন্যাসিক “মানিক বন্দোপাধ্যায়” ঠিক এর বিপরীত, ফ্রয়েড এর ভোগবাদ ছিল যাদের উপন্যাসের মূল উপজীব্য। নীতি ও আদর্শের কারণেই ৬০ বছর বয়সে সিদ্বান্ত নিয়েছিলেন আর সাহিত্যের সাধনা করবেন না – যেহেতু এটা আদর্শিক নয়।

টলস্টয় নোবেল প্রাইজ না পাওয়াতে  ব্যর্থতা নোবেল কমিটির, টলস্টয়ের নয়। এর কলংক বয়ে বেড়াতে হবে নোবেল কমিটির আজীবন। ঠিক এই কারণে বার্নাড শ’ প্রথমে নোবেল প্রাইজ নিতে চাননি।

টলস্টয় বেঁচেছিলেন অনেকদিন – প্রায় ৮৩ বছর। এইদিক থেকে রবীন্দ্রনাথের সাথে তার আরো একটি মিল, জমিদারী ছাড়াও। তবে বয়স হিসেবে নয়, টলস্টয় বেঁচে আছেন তার অমর সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে।

এখানেই লেখা শেষ করা যেত, কিন্তু তখন পাঠক হয়ত প্রশ্ন করত “সবকিছু বুঝলাম কিন্তু আস্টাপভ ও ২৯ রুবল – এর কোনোটাই তো বুঝলাম না”?

টলস্টয় মারা যাবার ১০ দিন আগে বাসার থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং “আস্তাপভ” নামক এক অখ্যাত স্টেশনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিল। আর সে সময় তার পকেটে ছিল ২৯ রুবল।

তথ্যসূত্র:

১। আনা কারেনিনা উপন্যাস দ্রষ্টব্য
২।  টলস্টয় –   অন্নদাশংকর রায়
৩। টলস্টয় ছোট গল্প ও অন্যান্য – হায়াত মামুদ সম্পাদিত
৪।  What is Art – Leo Tolstoy
৫। টলস্টয় – বাংলাদেশ আফ্রো- ইউনিয়ন  সংস্হা
৬। রেজারেকসন উপন্যাস দ্রষ্টব্য
৭। ক্রোয়াটজাইট সোনাটা বড় গল্প
৮। ককেশাসের নায়ক ইমাম শামিল – মেজর হামিদ

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 12
    ফারুক

    The essence of any religion lies solely in the answer to the question: why do I exist, and what is my relationship to the infinite universe that surrounds me? (Leo Tolstoy, Confessions)

    It is impossible for there to be a person with no religion (i.e. without any kind of relationship to the world) as it is for there to be a person without a heart. He may not know that he has a religion, just as a person may not know that he has a heart, but it is no more possible for a person to exist without a religion than without a heart. Religion is the relationship a person recognises himself to have with the external world, or with its origin and first cause, and a rational person cannot fail to have some kind of relationship to it. (Leo Tolstoy, Confessions)

    True religion is that relationship, in accordance with reason and knowledge, which man establishes with the infinite world around him, and which binds his life to that infinity and guides his actions. (Leo Tolstoy, Confessions)

    Despite the fact that at no time and in no place have people ever lived without religion, the learned people of today say, we can and must live without religion. But, as always, religion remains the chief motivator and heart of human societies. Without it, as without a heart, there cannot be rational life. Today, as in the past, there are a number of different religions, because the expression of man’s relationship to the infinite, to Gods or the God, varies according to the times and according to the level of development of different peoples. However, since the appearance of rational man there has not been one human society that could live or has lived without religion.

    1. 12.1
      সরোয়ার

      @ফারুক:

      ভালো কমেন্ট। ধন্যবাদ।

    2. 12.2
      হাফিজ

      @ফারুক:

      ফারুক, আগে বলেন কেমন আছেন? অনেকদিন পর দেখা হোলো কি বলেন?

      1. 12.2.1
        ফারুক

        @দেশে-বিদেশে: ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?

  2. 11
    ফুয়াদ দীনহীন

    আপনার রেফারেন্সগুলি পড়া যাচ্ছে না। বক্স বক্স আসে। তাই আমি নিচে কপি করে ঠিক ফর্মে দিলামঃ
    তথ্যসূত্র:
    ১) আনা কারেনিনা উপন্যাস দ্রষ্টব্য
    ২) টলস্টয় – অন্নদাশংকর রায়
    ৩) টলস্টয় ছোট গল্প ও অন্যান্য – হায়াত মামুদ সম্পাদিত
    ৪। What is Art – Leo Tolstoy
    ৫) টলস্টয় – বাংলাদেশ আফ্রো- ইউনিয়ন সংস্হা
    ৬) রেজারেকসন উপন্যাস দ্রষ্টব্য
    ৭) ক্রোয়াটজাইট সোনাটা বড় গল্প
    ৮) ককেশাসের নায়ক ইমাম শামিল – মেজর হামিদ

    বাংলায় দাড়ি দিবার সময় “সংখ্যা-কোন ব্রেকেট-কোন ডট, কমা, সেমি কলন, উদৃতির পর দিবেন না” কারন এতে সব কিছু বক্স বক্স দেখায়। পড়া যায় না।
    যেমনঃ
    =>আমি ভাত খাই। (ঠিক আছে)
    =>”আমি ভাত খাই”। বক বক আসবে (দেখুন বক্স বক্স আসছে)

  3. 10
    হাফিজ

    আমি টলস্টয় এর ছবি এখানে যোগ করি নাই। এটা এখানে কিভাবে আসল? আশাকরি কেউ বলবেন না টলস্টয় নিজে এসে এটা করেছে?

    1. 10.1
      সদালাপ কর্তৃপক্ষ

      আস্তাপভ ও ২৯ রুবলের কাহিনীটি শেষে না বললে, নাম করণের স্বার্থকতা নিয়ে চিন্তা কমতো না। বাই দ্য ওয়ে, নামকরণের স্বার্থকতা এখনো বুঝতে পারিনি। স্বল্প বুদ্ধির মানুষদের কথা মাথায় রেখে আরেকটু সহজ করে প্রাসঙ্গিক নামকরণ করার ব্যাপারে বিবেচনা করা যেতে পারে। নাহলে দেখা যাবে ‘নামকরণের স্বার্থকতা’ প্রশ্নের উত্তরে খামখা ১০ এ ৪ দিয়ে বসে আসে।
      ফ্যাক্ট তো ফ্যাক্ট ই কিন্তু তার ইন্টারপ্রিটেশন তো আমাদের কাছে। টলস্টয় সম্পর্কে এরকম কথাগুলি কি বলা যায়!-
      “তিনি ছিলেন এক ব্যর্থ জমিদার যিনি জমিদারী রক্ষায় রবীন্দ্রনাথের মত সাফল্য দেখাতে পারেননি। প্রায়শঃই ‘জমিদারী দান করে দেব’- ‘সব কিছু দান করে দেব’ এরকম কথা বলে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী করতেন”।
      “রাশিয়াতে আপন পরিবার-পরিবেশে আতঙ্ক ছড়ানো ছাড়াও বিদেশে বিশেষতঃ ভারত বর্ষের সন্ত্রাসীদের তিনি সাহায্য করতেন। স্বাধীনতাকামী সহিংস বিপ্লবীদের কাছে লিখিত এ ব্যাপারে উস্কানিমূলক অনেক পত্রাদি পাওয়া গেছে”।
      “তার মুসলিম প্রীতি ছিল চোখে পড়বার মত, কোথাকার কোন হাজী মুরাদ কে নিয়ে তিনি গল্প রচনা করেছিলেন যেটি তার উচিত হয়নি। এছাড়া প্রচ্ছন্ন ভাবেও তিনি ইসলামকে সমর্থন করতেন যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তার বই-এর নামকরণের মধ্যে পাওয়া যায়। তিনি তার একটি বহুল পঠিত বইয়ের নামকরণ করেছিলেন, ওয়ার এন্ড পিস। কে না জানে ইসলাম শব্দটির একটি অর্থ হলো পিস। তার উচিত ছিল বইটির নাম করা, ওয়ার এন্ড অনলি ওয়ার”।
      মুজতবা আলী আপনার প্রিয় লেখকদের একজন বলে মনে হচ্ছে। ওনাকে নিয়ে এখানে সদালাপে কিছু আলোচনা করতে পারলে ভালো লাগবে। গত দশ বছর ধরে মনে হচ্ছে, মুজতবা আলীর কাজ/লেখাকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ভাল থাকবেন।

      shuveccha

      শুভেচ্ছা ও স্বাগতম
      1. 10.1.1
        সরোয়ার

        @এডমিন/এডিটর:
        সুন্দর ফুলের তোড়াটা গেল কোথায়?

      2. 10.1.2
        সরোয়ার

        @এডমিন/এডিটর:
        টলস্তয় সম্পর্কে নতুন তথ্য জানলাম। আপনার সক্রিয় পার্টিসিপেশনে সদালাপ আরো আলোকিত হবে। আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

        সৈয়দ মুজতবা আলী সম্পর্কে ধারণা তেমন স্বচ্ছ্ নয়। এই বিষয়ে দেশ-বিদেশে’র কাছ থেকে পোষ্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

      3. 10.1.3
        হাফিজ

        @এডমিন/এডিটর:

        নামকরণ বিষয়ে আমি শেষে লিখেছি:

        এখানেই লেখা শেষ করা যেত, কিন্তু তখন পাঠক হয়ত প্রশ্ন করত “সবকিছু বুঝলাম কিন্তু আস্টাপভ ও ২৯ রুবল – এর কোনোটাই তো বুঝলাম না” ?
        টলস্টয় মারা যাবার ১০ দিন আগে বাসার থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং “আস্তাপভ” নামক এক অখ্যাত স্টেশনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিল। আর সে সময় তার পকেটে ছিল ২৯ রুবল।

        আপনার কিছু অভিযোগের উত্তর দেয়া হোলো:

        “তিনি ছিলেন এক ব্যর্থ জমিদার যিনি জমিদারী রক্ষায় রবীন্দ্রনাথের মত সাফল্য দেখাতে পারেননি। প্রায়শঃই ‘জমিদারী দান করে দেব’- ‘সব কিছু দান করে দেব’ এরকম কথা বলে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী করতেন”।

        তৎকালীন জমিদাররা ছিল শোষক। সেখানে যে ব্যর্থ এক হিসেবে সে সফল। সেটাই আমি বুঝাতে চেয়েছি।

        “রাশিয়াতে আপন পরিবার-পরিবেশে আতঙ্ক ছড়ানো ছাড়াও বিদেশে বিশেষতঃ ভারত বর্ষের সন্ত্রাসীদের তিনি সাহায্য করতেন। স্বাধীনতাকামী সহিংস বিপ্লবীদের কাছে লিখিত এ ব্যাপারে উস্কানিমূলক অনেক পত্রাদি পাওয়া গেছে”।

        ৭১ এ আমাদের কাছে যারা মুক্তিযোদ্ধা , পাকিস্হানিদের কাছে তারাই রাজাকার। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যে সব স্বাধীনতাকামী কাজ করেছে তারা অনেকের কাছে সন্ত্রাসি হতে পারে কিন্তু আমাদের কাছে নয়। সেই সকল স্বাধীনতাকামীদের টলস্টয় উৎসাহিত করেছেন।

        “তার মুসলিম প্রীতি ছিল চোখে পড়বার মত, কোথাকার কোন হাজী মুরাদ কে নিয়ে তিনি গল্প রচনা করেছিলেন যেটি তার উচিত হয়নি। এছাড়া প্রচ্ছন্ন ভাবেও তিনি ইসলামকে সমর্থন করতেন যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তার বই-এর নামকরণের মধ্যে পাওয়া যায়। তিনি তার একটি বহুল পঠিত বইয়ের নামকরণ করেছিলেন, ওয়ার এন্ড পিস। কে না জানে ইসলাম শব্দটির একটি অর্থ হলো পিস। তার উচিত ছিল বইটির নাম করা, ওয়ার এন্ড অনলি ওয়ার”।

        টলস্টয় এর ইসলাম-প্রীতি অনেকের কাছে ভীতির উদ্রেক করে, সেটা আজ কারো অজানা নয়, আমরা সেই বৃত্তের বাহিরে।

  4. 9
    শাহবাজ নজরুল

    দেশে-বিদেশে,

    স্বীকার করছি, টলষ্টয় সম্পর্কে খুবই অল্প জানতাম, আপনার লেখা পড়ে চোখ খুললো অনেকখানি। আসলে আমি বড় ধরনের রাশান লেখকদের নামই কেবল শুনেছি, ২-১ টা সিনেমাও দেখেছি হয়ত তাদের লেখা উপন্যাস নিয়ে; কিন্তু তাদের লেখা আলাদা করে মন দিয়ে পড়া হয়নি। সাজানো গোছানো ভাবে টলষ্টয়কে পরিচিত করিয়ে দেবার জন্যে ধন্যবাদ।

    টলষ্টয় ছাড়া আর যাদের লেখা উপন্যাসের উপর সিনেমা দেখেছি তারা হলেন, আন্তন চেখভ, দস্তয়ভস্কি, নবাকভ, পাস্তারনেক কিংবা গোর্কি।

    যাইহোক, এখানে স্বাগতম। নিয়মিত লিখুন।

    --শাহবাজ

    1. 9.1
      হাফিজ

      @শাহবাজ নজরুল:

      রাশান সাহিত্য খুবই রিচ। তবে টলস্টয়ে একমাত্র নীতির কারনেই আর সবার থেকে আলাদা।

  5. 8
    আবদুস সামাদ

    সদালাপ মনে হচ্ছে এবার আলাপীদের ফিরে পাচ্ছে। সবাই ভাল থাকেন।

    1. 8.1
      সাদাত

      @আবদুস সামাদ:
      আপনি ভালো আছেন তো?

  6. 7
    এন্টাইভণ্ড

    চমৎকার!

  7. 6
    ফুয়াদ দীনহীন

    Welcome to Shodalap

  8. 5
    হাফিজ

    সাধারনত “নীতি বিবর্জিত” বা ক্ষতিকর উপন্যাসকে ” অপন্যাস” বলা হয়।

    1. 5.1
      সাদাত

      @দেশে-বিদেশে:

      তাই নাকি? জানা ছিল না। শব্দটা আমার কাছে একেবারে নতুন।

      1. 5.1.1
        হাফিজ

        @সাদাত:

        যেই দিনকাল পড়ছে অনেক সময় নিজের নামও নিজের কাছে নতুন লাগে!!

        1. 5.1.1.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          @দেশে-বিদেশে:

          “যেই দিনকাল পড়ছে অনেক সময় নিজের নামও নিজের কাছে নতুন লাগে”-দেশে-বিদেশে

          🙂 🙂 🙂

  9. 4
    সাদাত

    সাহিত্যের জন্য সাহিত্য এই মতবাদে টলস্টয় বিশ্বাসি ছিলেন না– সাহিত্য হবে জীবনের জন্য। তাই দেখা যায় তার প্রতিটি সাহিত্য জীবন ও নীতিবোধ নিয়ে গড়ে উঠেছে। একটি উপন্যাস লিখতে সময় নিয়েছেন ১০ বছর। জীবন ও নীতিবোধ নিয়ে সম্পূর্ন পরিস্কার ধারনা গড়ে ওঠার পরই লেখা হাত দিয়েছেন।

    >>এই জন্যই টলস্টয়ের লেখা অনেকের থেকে আলাদা।
    ——--
    সম্পূর্ণ উপন্যাসেএকটি অশ্লীল বাক্য উল্লেখ না করেও কিভাবে সমাজের অশ্লীলতা ফুটিয়ে তোলা যায় তা টলস্টয় দেখিয়ে দিয়েছেন – যেটার থেকে আমাদের দেশের সাহিত্যিকদের অনেক কিছু শেখবার আছে বিশেষ করে যারা “খেলারাম খেলে যা” জাতীয় অপন্যাস লিখে কাটতি বাড়িয়ে থাকেন।
    >> তা বুঝলাম, কিন্তু অপন্যাসটা কী জিনিস??

  10. 3
    সাদাত

    স্বাগতম!

  11. 2
    সরোয়ার

    সদালাপে স্বাগতম।

    1. 2.1
      হাফিজ

      @সরোয়ার:
      ধন্যবাদ।

    2. 2.2
      সাদাত

      @সরোয়ার:
      আমি তো আবার নতুন করে আসছি। আমাকে স্বাগতম জানাবে কে?

      1. 2.2.1
        হাফিজ

        @সাদাত:
        আরে ভাই, নতুনত্ব তো মনের মধ্যে, সেই হিসেবে আপনাকেই সবসময়ই স্বাগতম।

      2. 2.2.2
        সরোয়ার

        @সাদাত:

        আপনি তো এখনো পোষ্ট দেননি! পোষ্ট দেন, দেখবেন স্বাগতম কাহাকে বলে!

  12. 1
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে এটিই সম্ভবত আপনার প্রথম লেখা। তা-ই যদি হয় তাহলে সদালাপে স্বাগতম। আপনার থেকে ভাল কিছু লেখা আশা করছি।

    1. 1.1
      হাফিজ

      @এস. এম. রায়হান:

      জ্বী প্রথম লেখা। প্রথম লেখা না হলে কি স্বাগতম জানাবেন না?

      1. 1.1.1
        এস. এম. রায়হান

        @দেশে-বিদেশে: হেঃ হেঃ! না মানে একটি ব্লগে প্রথম লেখা হিসেবে যেভাবে স্বাগতম জানানো হয়, পরের লেখাগুলোতে তো ঠিক সেভাবে স্বাগতম জানানো হয় না।

        1. 1.1.1.1
          সাদাত

          @এস. এম. রায়হান:
          আপনার কো প্রোপিক নাই?

        2. সাদাত

          @কর্তৃপক্ষ:
          এখন যে কমেন্ট করতেছি, তাতে কোন Reply অপশন নাই কেন?

        3. এস. এম. রায়হান

          @সাদাত: প্রো-পিক সেটিং-এ মনে হয় সমস্যা ছিল। এজন্য দেখা যায় না।

        4. 1.1.1.2
          সাদাত

          @এস. এম. রায়হান:
          এই কমেন্টটা পরীক্ষামূলক

Leave a Reply

Your email address will not be published.