«

»

Sep ২৭

সুন্দরবনের মানুষখেকো

বাঘ যে পথ দিয়ে যায় সে পথ দিয়েই ফিরে আসে, সব বাঘ মানুষ খায় না-তবে যে বাঘ একবার মানুষ খায় এরপর থেকে সে মানুষ ছাড়া অন্য কিছু শিকার করে না। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগলে এবং অন্য কোনো শিকার না পেলে বাঘ “মাছ”- খায়, বাঘ মনুষের রক্ত খাওয়া শুরু করার পর থেকে বুদ্ধি বাড়তে থাকে এমন মজার মজার ঘটনা আমরা জানতে পারি শিকারীদের জীবনি পড়লে। আসুন প্রথমে বাঘের কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করি, তারপর আমাদের দেশের অখ্যাত কিন্তু বিখ্যাত হতে পারত এমন একজন অসামান্য শিকারী “পচাব্দি গাজী” নিয়ে কিছু আলোচনা এবং পরিশেষে বৃটিশ-রাজত্বের সময় পৃথিবী-বিখ্যাত বৃটিশ শিকারী “জিম করবেট” নিয়েও কিছু আলোচনা।

::সুন্দরবনের বাঘ:: 

রয়েল বেংগল টাইগারকে বলা হয় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঘ। প্রথম সাইবেরিয়ান টাইগার। সুন্দরবনে কোনো সিংহ নেই, বাঘ সেখানে রাজত্বের সাথে বনের রাজা। অনবরত তারা বনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিচরণ করতে থাকে। বাঘ গুহায় থাকে না, যেটা আমরা ছোটকালে বই এ পড়েছি। খুবই অল্প ঘুমায় তারা এবং যেকোন অল্প শব্দে ঘুম থেকে উঠে যায়। তবে মানুষখেকো বাঘ যদি পচা গোস্ত খায় তবে কোনো কোনো সময় বেশী ঘুমাতে পারে, যেটা পচাব্দি গাজীর লেখা থেকে আমরা জানতে পারি। বাঘ সাঁতার কাটে এবং স্রোত যেদিকেই যাক না কেনো সে ব্যালেন্স করে একদম নদীর সোজাসুজি পার হতে পারে।

::মানুষখেকো বাঘের বৈশিষ্ট্য::  

বাঘ মানুষ পেলেই আক্রমণ করে না, সাধারণ অবস্হায় সামনে কোনো মানুষ পড়লে সে দৌড়ে পালায়, সেটা মাইক টাইসন হোক কিংবা আমাদের “অভিনেতা টেলি সামাদ” হোক। সাধারণত বাঘের খাবার হরিন এবং এই হরিন ধরতে হলে প্রচণ্ড দৌড়ের প্রয়োজন হয়। বাঘের বয়স হয়ে গেলে দৌড়াতে পারে না এবং তার কারণে সে মানুষ শিকার করতে শুরু করে। একবার মানুষের রক্তের সাদ পেলে আর মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী শিকার করে না। মানুষখেকো বাঘ, সাধারণ বাঘের চেয়ে অত্যধিক চালাক বা ধূর্ত হয়। তারা শিকারীকে অনেক সময় বিভিন্ন টেকনিকে ফাঁদে ফেলে দেয়, তার মধ্যে একটা হলো Circle তৈরী করা। যেমন শিকারী যদি বাঘের পেছনে আসতে থাকে এবং বাঘ সেটা টের পেয়ে গেলে সেও আস্তে আস্তে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। ঝানু শিকারী না হলে সেটা বুঝতে পারে না এবং বাঘ একসময় এভাবে ঘুরতে ঘুরতে শিকারীর পিছনে এসে পড়ে তাকে আক্রমণ করে।

::শিকারী কিভাবে বাঘ শিকার করে:: 

৩০/৪০ বছর আগে সাধারণত বন্দুক দিয়ে বাঘ শিকার হতো। সুন্দরবনে যখন কোনো মানুষখেকো বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যেত তখন বন-বিভাগ লিস্টেড শিকারী যারা থাকত তাদেরকে ডেকে পাঠাত। প্রতিটি বাঘ শিকারের জন্য শিকারীরা বন বিভাগ থেকে ১০০-৫০০ টাকা করে পেত। মানুষখেকো বাঘ ছাড়া অন্যান্য বাঘ শিকার করা নিষেধ।

::একজন অসাধারণ শিকারী পচাব্দি গাজী:: 

পচাব্দি গাজীর বংশ বাঘ শিকারী হিসেবে ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তার পিতা মেহের গাজী ৫০ এর অধিক বাঘ শিকার করেছে এবং পরবর্তীতে বাঘের পেটে জীবন শেষ হয়েছে। আর পচাব্দি গাজী ৫০টি বাঘ মারার পর এক রাত্রে স্বপ্নে দেখেন তার শ্রদ্ধেয় পিতা তাকে বাঘ শিকার করতে নিষেধ করছেন। এর পর পচাব্দি গাজী আর কখনও বাঘ শিকার করেন নাই।

::পচাব্দি গাজীর লোমহর্ষক শিকারের কাহিনী:: 

পচাব্দি গাজী এবং অন্যান্য ধূর্ত শিকারীরা বাঘের ডাক নকল করতে পারতেন। এই ডাক শুনলে মানুষখেকো বাঘ মনে করতা অন্য বাঘিনী ডাকছে তাই সে ছুটে আসত আর এভাবেও শিকারীরা শিকার করেন। অনেকে কলপাতা টেকনিক ব্যবহার করেন, বন্দুক এমনভাবে ফিট করেন বাঘ ঐ পথ দিয়ে যাবার সময় ডালের মধ্যে চাপ পড়লে অটোমেটিক গুলি বের হয়ে বাঘের গায়ে বিদ্ধ হয়।

বাঘ রেগে গেলে মুখ থেকে যে লালা বের হয়ে সেটা বিষাক্ত, পচাব্দি গাজীর বংশের বেশ কয়েকজন এই লালার শিকার হয়েছে। এই লালা শরীরের যে অংশে লাগে তাতে পচন ধরে এবং অনেকের প্রাণ চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাঘের গায়ে গুলি লাগলে সাধারণত বাঘ মরে না, এর জন্য মাথায় গুলি করতে হয়। এমনও হয়েছে বন্দুকের গুলি করার আগেই বাঘ উপস্হিত, সেইক্ষেত্রে পচাব্দি গাজীর পিতা, সে, চাচা তারা সকলে মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়েও বাঘকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনাও তাদের জীবনে ঘটেছে।

::একজন জিম করবেট (১৮৭৫-১৯৫৫):: 

বৃটিশ-এর রাজত্বের সময়ে পৃথিবী-বিখ্যাত শিকারী জিম করবেট। তার “রুদ্রপ্রয়োগের চিতা”, “কুমায়ুনের মানুষখেকো” অসাধারণ দুটি রচনা। ভারতের উত্তরপ্রদেশে তিনি থাকতেন এবং মানুষখেকো বাঘ এর খবর পেলে সরকার তার সাথে যোগাযোগ করে বাঘ শিকারের জন্য অনুরোধ করতেন। জীম করবেট এর জীবনী এবং শিকার সম্বন্ধে জানতে হলে ২ খণ্ডে ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত মহাশ্বেতা দেবী কর্তৃক অনুদিত রচনাবলী পড়ুন। আর পচাব্দি গাজী সম্বন্ধে ইনফরমেশন পাওয়া যাবে সেবা থেকে প্রকাশিত “সুন্দরবনের মানুষখেকো” এবং সুন্দরবনের ইতিহাস বই-এ। Internet-এ জিম করবেটের ইনফরমেশন পাবেন, পচাব্দি গাজীর পাওয়া যায় না।

::পচাব্দি গাজী ও জীম করবেট:: 

পচাব্দি গাজী যে ৫০টা বাঘ শিকার করেছে তার সবই রয়েল বেংগল টাইগার আর জীম করবেট যেগুলো শিকার করেছে বেশীরভাগই চিতা এবং সংখ্যায় ১২টি। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রয়েল বেংগল টাইগার শিকারের গৌরব পচাব্দি গাজীর, দৈর্ঘে ১২ ফুট। পক্ষান্তরে Wikipidea সবচেয়ে বড় শিকারের যে উল্লেখ করেছে সেটা ১০ ফুট। (গবেষকদের বলছি আমার ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন আর না হলে Wikipidea আপডেট করে দিবেন।) আর জিম করবেট শিকার করতেন রাত্রিতে, পচাব্দি গাজী দিনে। মাত্র ৮/১০ ফুট দূর থেকে পচাব্দি গাজী বাঘ শিকার করেছেন, জীম করবেট এত কাছের থেকে করেছেন কিনা আমার জানা নেই, যে কয়েকটি ঘটনা পড়েছি এর কোনোটিতে এত কাছের উল্লেখ নেই। জীম করবেট ছিল দুই বিশ্বযুদ্ধের কর্নেল, আর দরিদ্র গ্রামবাসী পচাব্দি গাজী অখ্যাতই রয়ে গেলো। দুইজনেরই বাঘ শিকারের কাহিনী প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে। একজন বাংলাদেশের সুন্দরবন আর অন্যজন ভারতের উত্তরপ্রদেশ। দুজনেই কম কথা বলেন।

::উপসংহার::

পচাব্দি গাজী কি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে? মারা যাওয়াই স্বাভাবিক তবে কেউ যদি সনটা জেনে থাকেন তবে কাইন্ডলি শেয়ার করেন। আমি অনেক খুঁজেও কোনো জায়গায় পচাব্দি গাজীর মারা যাবার ঘটনা উদ্ধার করতে পারি নাই।

এক সময়ে জার্মানের কিছু শিকারী সুন্দরবনে এসেছিল, তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন পচাব্দি গাজী। তারা একটি মানুষখেকো বাঘের সন্ধানে ট্রলার দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাঘটি একদম সামনের থেকে আক্রমণ করে ট্রলারের চালকের উপর। অতর্কিত এই আক্রমণে সবাই হতভম্ব এবং ভীষণ ভয় পেয়ে যান। বাঘটি ট্রলারে চালকের উপর জাপটে থাকে সে কারণে গুলি করলে যে কারোই মরে যাবার সম্ভাবনা থাকে। পরিস্হিতি বোঝার আগেই কখন একটি বুলেট সরাসরি বাঘের মাথায় বিদ্ধ হয়, সেখানেই বাঘের জীবনের পরিসমাপ্তি। বুলেটটি আর কারো নয়, পচাব্দি গাজীর বন্দুক থেকে বের হওয়া।

পচাব্দি গাজী, আপনার প্রতিভার প্রকৃত মূল্যায়ন আমরা করতে পারি নাই, তাই আমাদের প্রজন্ম আপনার সম্বন্ধে কিছুই জানে না।

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 10
    remon

     Pachabdi Gazi (1927-1996), mara gecen.

  2. 9
    ড. সামিমউল মওলা

    এই নিবন্ধে বাঘের মাপ সম্পর্কে এবং জিম করবেট সম্পর্কে ও তার শিকার সম্পর্কে যে তথ্য দেয়া আছে তা বস্তুনিষ্ঠ নয়! জিম করবেট এক টি ভয়ংকর চিতাই মেরেছিলেন, বাকি সব বড় বাঘ, চিতাটি ছিল রুদ্র প্রয়াগের চিতা!জিম করবেট ও বিখ্যাত শিকারী কেনেথ  এন্ডারসনের সমগ্র মার্কেটে আছে, দয়া করে পড়ে নিন!

  3. 8
    ড. সামিমউল মওলা

    ভাই, পচাব্দী গাজীর কাহিনী নিয়ে বইটা প্রকাশ করেন বিভাগীয় বনকর্তা সাহেব, সেটা সম্ভবতঃ আশীর দশকে, পচাব্দী গাজীর বাবা ও চাচাত্রাও শিকারী ছিলেন! কিন্তু তারা সেই বাঘ ই মেরেছেন যে সব বাঘ মানুষ ছাড়া আর কিছুই খেত না, এটা হয়তো অভ্যাসের কারনে বা মানুষ মারা সহজ বলে বাঘ যখন বৃদ্ধ বা কোন কারনে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে ও দৌড়িয়ে হরিন বা অন্য খবার ধরতে পারে না তখন!

    বন বিভাগের সামান্য বোটম্যান ছিলেন পচাব্দী, সুন্দরবনের যখন যে বিটে গোলপাতা বা কাঠ সংগ্রহের পারমিট নিয়ে মানুষ যেত আর সেখানে যদি কোন মানুষ খেকো বাঘ মানুষ ধরা শুরু করত তা হলে সেই বিটের সরকারী উপার্জন, শ্রমজীবি মানুষের উপার্জন বন্ধ হয়ে যেত, তখন বন বিভাগ ১০ নং সোরা ইউনিয়নে পচাব্দী গাজীদের বাড়ী খবর দিতেন, বাঘকে মারার হুকুম সরকারী পর্যায়ে হলেই কেবল এরা বাঘ মারতেন, আর এটা ছিল এদের বংশানুক্রমিক পেশা নয়, দ্বায়িত্ব! এভাবেই কখন ও কেবল জালের কাঠি আর বারুদ দিয়ে দুই নল ভরে এরা মানুশ খেকো বাঘ মারতেন! চাচা নিজাম গাজী, বাবা মেহের গাজী ছাড়া আর ও অনেকে এই বংশের বাঘের হাতেই প্তান দিয়েছিলেন! আমি অনুরোধ করবো আপনাদের সুন্দরবনের আর্জান সর্দার বইটি পড়তে, সাথে এ এম এফ আব্দুল জলিলের সুন্দরবনের ইতিহাস বইটিও পড়তে! ও হযা, সুন্দরবনের বাঘ, জুলজিক্যালি Panthera Tigris Tigris নামে পরিচিত, এই বাঘ আসাম, ডুয়ার্স ব ভারতের জিম করবেট স্যাংচুয়ারিতেও অনেক আছে! বাংলাদেশের সুন্দরবনের লনমাক্ততা ও ম্যান গ্রোভের পরিবেশ ও মানুষের অতি কাছাকাছি থাকাত ফলে এরা একদিকে কিছুটা খর্বাকৃতি (আসামের বা অন্যান্য ভারতীয় বাঘের তূলনায়), রঙ ফিকে অত্যন্ত ধুর্ত হয়ে উঠেছে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোত জনে!

    পরিশেষে একটি তথ্য, সুন্দরবন সহ সমস্ত প্যান্থেরা টাইগ্রিস টাইগ্রিস বাঘই মানুষ খেকো, কিন্তু কেউ কেউ অন্য জীব খেতেই পছন্দ করে!

  4. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পড়ে ভাল লাগলো -- ধন্যবাদ।

    বাঘ নিয়ে অনেক গল্পই পড়ি কিন্তু চিড়িয়াখানায় বাঘড়ুলোকে আটকে রাখা অবস্থায় দেখলে খুবই খারাপ লাগে। মানুষ আসলেই অদ্ভুদ আচরন করে -- বনে পশুকে নিজেদের আনন্দের জন্যে জেলবাসী করে।

    1. 7.1
      হাফিজ

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:

      এই হিসেবে পশ্চিমা বিশ্বের কিছু চিড়িয়াখানার সিস্টেমটা ভালো। সেখান বিশাল বনকে চিড়িয়াখানা বানানো হয়। পশুপাখী স্বাধীনভাবে ঘুড়ে থাকে। ভিজিটরদের জন্য খাচার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্হা থাকে। অর্থ্যাৎ সেখানে চিড়িয়ারা স্বাধীন আর মানুষরা চিড়িয়া।

  5. 6
    বুড়ো শালিক

    রোমাঞ্চকর লেখাটা পড়ে শিহরিত হলাম।

    1. 6.1
      হাফিজ

      @বুড়ো শালিক:

      আপনার শিহরণ আমার মধ্যেও সন্বচারিত হোলো 🙂

  6. 5
    এস. এম. রায়হান

    অনেকদিন পর এই ধরণের রোমাঞ্চকর লেখা পড়ে ভাল লাগল।

  7. 4
    আব্দুস সামাদ

    পচাব্দী গাজী লাঠি দিয়েও একটা মানুষখেকো বাঘ মেরেছিলেন। তাতেই তার শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়েছিল। অনেক আগের কথা, মনে হয় গাজীর জীবনী হবে। তাতে তার ছবিও ছিল।

    এমন এক সময় ছিল যখন বাঘ শিকার করাকে গৌরবের বিষয় মনে করা হত। রাজা মহারাজা, জমিদার, বৃটিশের বড় অফিসারগণ এ কাজ করতেন। বৈঠক খানার দেয়ালে বাঘের চামড়া সুরক্ষিত থাকত। লেখককে ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      হাফিজ

      @আব্দুস সামাদ:

      আপনাকেও ধন্যবাদ

  8. 3
    সরোয়ার

    পড়লাম। জানলাম অনেক কিছু।

    1. 3.1
      হাফিজ

      @সরোয়ার:

      জানার কোনো শেষ নাই
      জানার চেষ্টা বৃথা তাই

  9. 2
    সাদাত

    লেখা ভালো হয়েছে।
    কিন্তু টাইপো এবং বানান ভুলগুলো এড়ানো গেলে আরো ভালো হতো।

  10. 1
    সোরজান সায়েম খন্দকার

    সুন্দর লেখা ও তথ্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু ভাই, আমার একটা প্রশ্ন আছে। বাঘ শিকার করা তো আইনগত নয়। অবৈধ। একটি বাঘ যখন আক্রমণ করে তাকে না হয় শিকার করাটা যৌক্তিক। কিন্তু খামাখাই বংশ ক্রমিক ধারা হতে বা ঐতিহ্য বজায় রাখতে ৫০টারও বেশী নিরীহ বাঘকে ধরে ধরে মেরে ফেলাটা আমি এক ধরণের নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথেই এক করব। একটা পিঁপড়েকেও যেখানে বাঁচাবার কথা সেখানে একজন মানুষ দিনের পর দিন বাঘ শিকার করবে তার পারিবারিক ধারা বা সেই ক্রম অনুযায়ী, তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। গাজী সাহেবের নামে বন্য প্রাণী হত্যার অভিযোগ আনা উচিৎ।

    1. 1.1
      সাদাত

      @সোরজান সায়েম খন্দকার:

      লেখাটা মনে হয় সময়ের অভাবে ঠিকমতো পড়েন নাই।
      নিচের অংশদুটো আবার পড়েন তো-
      ::শিকারী কিভাবে বাঘ শিকার করে::
      ::একজন অসাধারণ শিকারী পচাব্দি গাজী::

      1. 1.1.1
        সোরজান সায়েম খন্দকার

        @সাদাত: ভাই, লেখা খানি আমি খুব মনোযোগ দিয়েই পড়েছি। মন্তব্যে কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমি আমার মন্তব্যের ভাষ্যে অটল।

        আমার কথা হচ্ছে একজন শিকারীকে আমি তার শিকারের জন্য সাহসী ও বীরত্বে ভূষিত করতে পারিনা এবং যৌক্তিক ভাবেই প্রাণী হত্যা করে তিনি অপরাধী। তাই পৃথিবীর যত বড় ও যত খ্যাতিমান শিকারীই তিনি হোন না কেন, তার কর্মকান্ডকে আমি সমর্থন করি না।

        1. 1.1.1.1
          সাদাত

          @সোরজান সায়েম খন্দকার:
          বাঘ এবং মানুষখোকো বাঘ দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে,
          ঠিক যেমন মানুষ এবং পেশাদার খুনির মধ্যে পার্থক্য আছে।

          মানুষখেকো বাঘ যখন মানুষের প্রাণের জন্য অনিশ্চয়তার কারণ হয়, তখন সেটাকে হত্যা করা কোন দৃষ্টিকোণ থেকেই খারাপ হবার কথা নয়।
          লেখক বলেছেন:

          সুন্দরবনে যখন কোনো মানুষখেকো বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যেত তখন বন-বিভাগ লিস্টেড শিকারী যারা থাকত তাদেরকে ডেকে পাঠাত। প্রতিটি বাঘ শিকারের জন্য শিকারীরা বন বিভাগ থেকে ১০০-৫০০ টাকা করে পেত। মানুষখেকো বাঘ ছাড়া অন্যান্য বাঘ শিকার করা নিষেধ।

    2. 1.2
      হাফিজ

      @সোরজান সায়েম খন্দকার:

      ভাইজান, আপনি তো আমাকে “মানুষখেকো” বাঘের মতো আক্রমণ করলেন। ভাগ্যিস “সাদাত” পচাব্দি গাজীর ভূমিকার অবতীর্ণ হয়ে আমাকে রক্ষা করলেন।

      1. 1.2.1
        সোরজান সায়েম খন্দকার

        @দেশে-বিদেশে: হা হা, কি যে বলেন ভাই। আপনার লেখা তো খুব দারুন আর ইনফরমেটিভ হয়েছে। আমি শুধু শিকারীদের বিরুদ্ধে আমার মতামত পেশ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.