«

»

Jun ১৫

ইসলাম কি এ ধরণের জুলুমকে আদৌ প্রশ্রয় দেয়?

আমাদের দেশে সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স হিসেবে কনের জন্য ১৮ বছর এবং বরের জন্য ২১ বছর নির্ধারন করা হয়েছে। অভিভাবক ও পাত্র-পাত্রীর সম্মতিতে ও উপযুক্ত কারন সাপেক্ষে এর চেয়ে কম বয়সে বিয়ে হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবক বা পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে কোন পক্ষের অসম্মতি থাকলে মুশকিল আছে। কারন সরকারের কাছে অভিযোগ করলে প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার, এমনকি বিয়ে ভেঙে দেবারও অধিকার রাখে। বর্তমানে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজে সাধারনত সরকার নির্ধারিত বিয়ের বয়স অতিক্রম করার পরই ছেলে (২৮ – ৩২ বছর)-মেয়েদের (২০ – ২৫ বছর) বিয়ে দেবার পদক্ষেপ নেয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে ও নিম্ন আয়ের অশিক্ষিত সমাজে কিন্তু এখনও বাল্যবিবাহের চল রয়েছে। তবে তা পূর্বের তুলনায় বেশ কমে এসেছে। সমাজ থেকে এ ধরনের অন্যায় রীতিকে বিদায় বলার সময় এসেছে। আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই জুলুমের হাত থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য মূলত সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

ইসলামের মূল গ্রন্থ আল-কোরআনে নির্দিষ্ট করে বিয়ের বয়স উল্লেখ করা হয় নাই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র ও পাত্রীর সম্মতি যেহেতু একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং যে কোন একজনের অসম্মতি থাকলে বিয়েই হবে না, তাই পাত্র ও পাত্রীকে অবশ্যই অন্ততপক্ষে তাদের সম্মতি/অসম্মতি প্রদানের মত উপযুক্ত হতে হবে। এই উপযুক্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের বয়স ও বুদ্ধি বিবেচনার উন্মেষ- এই দুটো নির্ধারকের উপর নির্ভরশীল। তবে পুরুষের জন্য আর্থিকভাবে সামর্থবান হওয়াও একটা বড় ফ্যাক্টর। আর্থিক সামর্থ না থাকলে বিয়ে করা যাবে না, তা নয়। তবে অর্থের অভাবে অনেক সময়ই সংসারে অশান্তি নেমে আসে, এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠতে পারে। তাই একজন পুরুষের জন্য আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হবার পরই বিয়ের পিরিতে পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বয়সে উপনীত মিয়া-বিবি যদি আর্থিক অসচ্ছলতাকে উপেক্ষা করে পরস্পর বিয়ে বসতে চায়, তাহলে এক্ষেত্রে কারো কিছু বলার বা করার নাই এবং বিয়ের নিয়ম ও শর্ত সাপেক্ষে কাজি বিয়ে পড়াতে বাধ্য। মানুষের মন বৈচিত্রময়। কথায় বলেনা- “যার মনে যারে লাগে ভাল”। বয়সের বড় ব্যবধান সত্বেও যদি কোন নারী বা পুরুষ একে অপরকে পছন্দ করে এবং বিয়ে করে সুখি হতে চায় বা পারে, তাতে তো কারও কোন আপত্তি থাকার কথা না। আপত্তির প্রশ্ন আসে তখনই, যখন কোন অবুঝের ঘাড়ে জোর করে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝা চাপিয়ে পুণ্য অর্জনের ঢেকুর তোলার পায়তারা করা হয়। এক্ষেত্রে মানুষ এতটাই অন্ধ হয়ে যায যে, বিয়ের শর্ত অনুসারে সম্মতি/অসম্মতির তোয়াক্কা তো করাই হয় না, এমনকি একটা হারাম উপায় অবলম্বন করে তদের পায়ে যৌন বেড়ি পরিয়ে গুনাহের পথ বেছে নিতেও কুন্ঠিত হয়না।

অনেক সময়ই দেখা যায় পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের সমাজ ব্যবস্থায় বিবাহ কি জিনিস তা বোঝার মত জ্ঞান-বুদ্ধি হবার আগেই বিয়ের নামে কচি অবুঝ শিশুকে বলতে গেলে এক রকম জোর করেই কোন এক বৃদ্ধ বয়সের মানুষের গলায় ঝুলিয়ে দিতে আপনজনেরা কুন্ঠাবোধ করে না। হায়! এক্ষেত্রে কনের সম্মতি বা অসম্মতির কোন তোয়াক্কা তো করাই হয় না, বরং ধর্মের নামে পুণ্য কামাই করার নেশায় তাদের অধিকার হরণের সকল পন্থা অবলম্বন করা হয়। অন্য কোন সমাজের রীতি সম্পর্কে বলার আগে একজন মুসলিম হিসেবে আপন সমাজের এই অন্ধকার দিকটি আমাকে খুবই পীড়া দেয়। যখন দেখি ধর্মগুরুরা ধর্মান্ধ সেজে ইসলামের নামে এরূপ বর্বর রীতিকে অনায়াশে গ্রহণই শুধু নয়, তৃপ্তি সহকারে হজমও করছে। তখন সত্যিই অবাক লাগে।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে ইসলাম কি এ ধরণের জুলুমকে আদৌ প্রশ্রয় দেয়?

না কখনই না; আল-কোরআনে এর পক্ষে কোন বক্তব্য তো নেই-ই, এমনকি কোন সহী হাদিছ দ্বারাও এর পক্ষে কোন প্রমাণ পেশ করা আদৌ সম্ভব নয়। বিকৃত কাম লিপসা চরিতার্থ করার জন্য অনেকে হয়ত কোন দুর্বল বা জ্বাল হাদিছ থেকে বানোয়াট বক্তব্য পেশ করে তাদের পক্ষের মতামতকে জোরদার করার পাঁয়তারা করে থাকে। কিন্তু এটি মোটেই ইসলাম সম্মত নয়। বরং কোন শিশুর সাথে অপরিণত বয়সে তার মতের বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্ক করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন সংগত শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। মনে রাখা উচিত যে, শুধুমাত্র যৌন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়াই বিয়ের উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি এমনি এক বন্ধুত্বপূর্ণ মধুর বন্ধন যা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের সাথে সাথে পরিনতিতে মানসিক ও দৈহিক স্বর্গীয় সুখ ভোগের দিকে আহ্বান জানায়। ফলশ্রুতিতে দুটো মন ও দেহের পূর্ণ মিলনে একটি নুতন জীবন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিয়ের মূল লক্ষ অর্জিত হয়। তাই যে সম্পর্কে মনসিক সম্মতি থাকে না, বিয়ের নামে জোর পূর্বক সেই পাশবিক যৌন সম্পর্কে সুখ তো দূরে থাক- প্রকৃত অর্থে যাতনা ও কষ্ট ছাড়া আর কি বা পাবার থাকে! যত বড় আলেম নামধারী ব্যক্তি এর পক্ষে যতই ছাফাই গাক না কেন, এ ধরনের বিয়ের নামে প্রহসনের সম্পর্ক স্থাপনের কোন অপশন ইসলামে নেই। যদি কোন সমাজে অবোধ শিশুকে জোর করে বিয়ের নামে পায়ে যৌন বেড়ি পড়ানোর কালা কানুন বা রীতি চালু থাকে তাহলে সেই অমানবিক রীতিকে বন্ধ করার দায় ইসলামি আলেম সমাজের উপরেই বর্তায়। ধর্মান্ধতার কারনে বা অজানা আশংকায় অন্ধ সেজে এর পক্ষাবলম্বন করার জন্য অবশ্যই তাদেরকে গুনাহগার হতে হবে। সমাজের অন্ধকার ঘরগুলো থেকে এই আন্ধা-রীতির মূলোৎপাটন করার জন্য বলা ও আইনের মাধ্যমে তার ইতি টানার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া এই গুনাহর হাত থেকে রেহাই পাবার অন্য কোন পথ নেই।

মুসলিম সমাজে বিশেষ কারন সাপেক্ষে পারিবারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে বাগদান সম্পন্ন করে রাখার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের বিধান অনুসারে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহিত জীবন যাপন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের বাগদান হয়ে গেলেও উপযুক্ত বয়সে উপনীত হবার পর বিবাহিত সংসার জীবন শুরুর পূর্বে সেই পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ একজন যদি অসম্মতি জ্ঞাপন করে, (67) তাহলে পূর্বেকার বাগদান ভেঙে দেয়া আইন সম্মত। এক্ষেত্রে বিয়ে আর পূর্ণতা পাবে না অর্থাৎ বিবাহিত সংসার জীবন যাপনের জন্য তাদেরকে বাধ্য করা যাবে না। নিচের হাদিছটি থেকে এর স্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়-

‘Wedlock, Marriage (Nikaah)’ of Sahih Bukhari.
67: Narrated Abu Huraira: The Prophet said, “A matron should not be given in marriage except after consulting her; and a virgin should not be given in marriage except after her permission.” The people asked, “O Allah’s Apostle! How can we know her permission?” He said, “Her silence (indicates her permission).”

ইসলামে বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তালাক প্রাপ্ত নারীদেরকেও বিবাহ করা ও দেয়ায় কোন বাধা নেই। জোর করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের মতের বিরুদ্ধে বিবাহ দেয়া বা করা নিষেধ। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময় ইদ্দত পালনের বিধান রয়েছে। এই সময় অতিবাহিত হবার পর বিবাহ করা হারাম নয় এমন যে কোন ব্যাক্তির সাথে তাদের বিয়ে হতে পারে। বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দিলে তা ভেঙে দেয়া আইন সম্মত।

69: Narrated Khansa bint Khidam Al-Ansariya: that her father gave her in marriage when she was a matron and she disliked that marriage. So she went to Allah’s Apostle and he declared that marriage invalid.

56: Narrated Zainab bint Salama: Um Habiba said to Allah’s Apostle “We have heard that you want to marry Durra bint Abu-Salama.” Allah’s Apostle said, “Can she be married along with Um Salama (her mother)? Even if I have not married Um Salama, she would not be lawful for me to marry, for her father is my foster brother.” ‘And there is no blame on you if you make hint of betrothal or conceal it in your hearts. Allah is Oft-Forgiving, Most Forbearing.’ (2.235) Ibn ‘Abbas said, “Hint your intention of marrying’ is made by saying (to the widow) for example: “I want to marry, and I wish that Allah will make a righteous lady available for me.’ ” Al-Qasim said: One may say to the widow: ‘I hold all respect for you, and I am interested in you; Allah will bring you much good, or something similar ‘Ata said: One should hint his intention, and should not declare it openly. One may say: ‘I have some need. Have good tidings. Praise be to Allah; you are fit to remarry.’ She (the widow) may say in reply: I am listening to what you say,’ but she should not make a promise. Her guardian should not make a promise (to somebody to get her married to him) without her knowledge. But if, while still in the Iddat period, she makes a promise to marry somebody, and he ultimately marries her, they are not to be separated by divorce (i.e., the marriage is valid).

স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে- ইসলামের বিধান মতে তাহলে বিয়ের বয়স কত?

সূরা নিসা
(০৪:০৬) অর্থ:- আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে- যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে, তখন তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পারলে, তবেই তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার। এতীমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা স্বচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট।

এই বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে আল-কোরআনে বিয়ের বয়স সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা জানতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে, (০৪:০৬) নং আয়াতে বিয়ের বয়সে উপনীত হবার কথা বলতে গিয়ে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ ঘটেছে কিনা সেদিকটাও লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে। এখানে সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়টি এসেছে। আর আমরা জানি যে, বুদ্ধি-বিবেচনা করার যোগ্যতা না থাকলে সম্পদ রক্ষা করা এবং তার সদ্ব্যবহার করা বেশ কঠিন ব্যাপার। এমন কি বিচক্ষণতার অভাবে সম্পদহারা হয়ে পথে বসার মত পরিস্থিতিতে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেন তারা না পড়ে সেজন্য উপায় বলে দেয়া হয়েছে। আর বাকীটা তো আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা। সম্পদের হেফাজত করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি সাংসারিক জীবনে পারিবারিক দায়িত্ব পালন করাও তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে। আর তাই বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ ঘটার বয়সটি উভয় ক্ষেত্রেই বিবেচনা করার দাবি রাখে।

আল-কোরআনে বিয়ের বয়স হিসেবে নির্দিষ্ট কোন বয়সের কথা বলা হয়নি। তবে অনেকে মাসিক শুরু হওয়াকে, আবার অনেকে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সকে বিয়ের বয়স হিসেবে নির্ধারনের জন্য তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। যেহেতু (০৪:০৬) নং আয়াতে বিয়ের বয়সের উপযুক্ততা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, আর সাধারনভাবে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ এবং দৈহিক বৃদ্ধি সাধন একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে কোন ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার যদি পুরুষ ও নারীর জন্য গ্রহণযোগ্য বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দেন, তাহলে রাষ্ট্রের সামগ্রীক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে চলা যেতে পারে। আবার মাসিক শুরুর আগে মেয়েদের বিবাহ দেয়া যাবেনা- এমন নির্দেশ আল-কোরআন ও হাদিছে নেই, তাই এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রাখার উপায় নেই। তবে কোন দেশের ইসলামি শাসক কর্তৃক বিয়ের বয়স নির্ধারন করে দেয়া হলে তা লংঘনের পূর্বে যৌক্তিক কারন দেখিয়ে পূর্বানুমতি নেয়া উচিত। তা না হলে সরকার শাস্তি দেবার বা জরিমানা করার অধিকার রাখে।

সাধারনত মাসিক শুরু হওয়ার পূর্বে একজন নারীর শরীর সুগঠিত হতে শুরু করে এবং শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন গুলো বেশ দ্রুত ঘটতে থাকে। এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিসাধন বেশ দ্রুত ঘটলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পুষ্টিহীনতা, হরমোনের অসামঞ্জস্যতা বা বংশগত স্বাভাবিক কারনে ঋতুস্রাব শুরু হতে বেশ সময় লাগতে পারে। আমাদের দেশের মেয়েদের মাসিক শুরু হয় সাধারনত ১০ – ১২ বছর বয়সে। তবে দেখা গেছে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণতা প্রাপ্ত ২০ – ২২ বছর বয়স্কা নারীর ক্ষেত্রেও ঋতুকাল শুরু না হবার ঘটনা বিরল নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯০% মেয়েদের মাসিক সাধারনত ১৩.৫ বছর বয়সে শুরু হলেও এর সর্বোচ্চ সময়সীমা প্রায় ১৭ বছর ধরা হয়। এরপর শুরু না হলে মেডিকেল চেকআপের এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোন কারন খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এমনিতেই বা সমান্য চিকিৎসায় এর সমাধান হয়ে যায়। সুতরাং সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালা সঙ্গত কারনেই ঋতুকাল শুরু হওয়া বা না হওয়াকে বিবাহিত জীবন জাপনের উপযুক্ততার মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারন করে দেন নাই। কারন তাহলে যে সমস্ত মুসলিম নারীদের ঋতুকাল বংশগত ভাবেই দেরিতে শুরু হওয়ার টেন্ডেন্সি রয়েছে, তাদের বয়স বৃদ্ধি পেলেও ঋতুবতী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা মুশকিল হয়ে পড়ত। তাই মাসিক শুরুর পূর্বে বিবাহিত জীবন আরম্ভ করা যাবেই না, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে সে উপযুক্ত কিনা তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এবং আল-কোরআনের নির্দেশ ও রাসূলের (সাঃ) সুন্নতও তাই।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) ও আয়শা (রাঃ) এর বিবাহের বিষয়টি উদাহরন হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। হযরত আবুবকর (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মধ্যে এমনই ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যে তাঁরা তাদের এ সম্পর্ককে আত্মীয়তার বন্ধনে রূপ দিতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা আবুবকর (রাঃ)এর আদরের কন্যা আয়শা (রাঃ) -কে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধনকে সূদৃঢ় করার সাথে সাথে ইসলামের খেদমত করার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর সাথে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার সময় আয়শা (রাঃ) এর বয়স কম ছিল। তাঁরা বিবাহিত জীবন জাপন শুরু করেছিলেন বাগদানের বেশ কয়েক বছর পরে।

Saheeh al-Bukhari, Volume 7, Book 62, Number 64
‘Aa’ishah, may God be pleased with her, narrated that the Prophet was betrothed (zawaj) to her when she was six years old and he consummated (nikah) his marriage when she was nine years old, and then she remained with him for nine years.

যদিও আয়শা (রাঃ) এর বয়স নির্ধারন করা আমার এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নয়, তবে এ হাদিছ থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে, আয়শা (রাঃ) শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার উদ্দেশ্যেই রাসূল (সাঃ) তার সাথে বিবাহিত সংসার জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে সময় নিয়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর সাথে সংসার জীবন শুরু করার পূর্বে আয়শা (রাঃ) মূলত তাঁর পিতা হযরত আবুবকর (রাঃ) এর বাসাতেই থাকতেন। রাসূল (সাঃ) এর জীবনের এই অংশটি থেকে আমাদের জন্য শিক্ষনীয় রয়েছে। মানুষের বিচিত্রময় জীবনে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে জটিল সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে কোন কোন নারীর জীবনে কম বয়সে বিয়ে দেবার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। কোন বিশেষ কারনে বাল্যকালে বিয়ে সম্পন্ন হলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সেই নারীর সাথে বিবাহিত জীবন শুরু না করার ইংগিত এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া যতটুকু জানা যায় রাসূল (সাঃ) তাঁর কন্যা ফাতিমার (রাঃ) বিয়েও ১৮ বছর হবার পরই দিয়েছিলেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রাসুল (সাঃ) নিজেও যেমন তাঁর কোন স্ত্রীর সাথে বিবাহিত জীবন জাপন শুরু করেন নাই, তেমনি কাউকে তা করার জন্য কখনও উদ্বুদ্ধ করেছেন বা কারও বিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছেন বলে কোন প্রমান নেই।

ইসলামে বিবাহ সম্পাদনের বিষয়টি মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরুর সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে অর্থনৈতিক সামর্থের কথা বাদ দিলে বিবাহিত জীবন জাপনের বিষয়টি অবশ্যই একজন পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত। আবার মানসিক বিকাশের বিষয়টি নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। অপরের উপরে নির্ভরশীলতা মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে একটা বড় অন্তরায়। যেসব ছেলে- মেয়েরা যত তাড়াতড়ি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পায়, তাদের মানসিক বিকাশও তত তাড়াতাড়ি সাধিত হতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে এই বিকাশ সাধন এতই দ্রুততার সাথে হতে দেখা যায় যে তখন তা আর অন্য দশজন সাধারনের সাথে তুলনা করা চলে না। আমরা আয়শা (রাঃ) এর তুখোর স্মরণশক্তি ও মেধার কথা বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানতে পারি। হাদিছ বর্ণনা ও রাসূলের (সাঃ) ওফাতের পর বিভিন্ন সমস্যা সামাধানে তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রাজ্ঞতার যথেষ্ট প্রমান তিনি রেখেছেন। বিবাহিত জীবন শুরুর সময় আয়শা (রাঃ) এর প্রকৃত বয়স কত ছিল হাদিছ বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর শব্দ প্রয়োগ জনিত ত্রুটি কিংবা বোঝার ভুলের কারনে তার হিসেব-নিকেশ করতে গিয়ে হয়ত কম-বেশি হতেই পারে। তবে আল্লাহতায়ালা সেই বয়সেই যে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাসূলের (সাঃ) জন্য উপযুক্তভাবেই গড়ে তুলেছিলেন তাতে কোনই সন্দেহ নাই। অবিশ্বাসীরা এই বিষয়টি নিয়ে অবিবেচকের মত যেরূপ হাস্য-রস করে তা মোটেই যৌক্তিক নয়। রাসূলের (সাঃ) জন্য আয়শা (রাঃ) এবং তাঁর জন্য রাসূল (সাঃ) পারফেক্ট ছিলেন বলেই তো তাঁদের মাঝে বোঝাপরা ও পরস্পরের প্রতি সম্প্রীতি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মধুর ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আয়শা (রাঃ) রাসূলের (সাঃ) পাশেই ছিলেন এবং তাঁর কোলে মাথা রেখেই রাসূল (সাঃ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংসার জীবনে আপন জনের সাথে ছোট-খাট ভুল বুঝাবুঝি থেকে শুরু করে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতেই পারে। রাসূল (সাঃ) ও আয়শার (রাঃ) মাঝে অত্যন্ত নীবিড় সম্পর্ক ছিল এবং তাদের জীবনেও এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মহান আল্লাহতায়ালা স্বয়ং রাসূলের (সাঃ) জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতির অবতারনা করেছেন এবং ঐশী বাণী পাঠিয়ে পরোক্ষভাবে ইমানদার মানুষকে তার বাস্তব সমাধানও জানিয়ে দিয়েছেন।

মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞ। তিনি যা জানেন আমারা তা জানিনা। আর তিনি যতটুকু আমাদের জানাতে চান, ততটুকুই আমরা জানতে পারি। বিশ্বাসীদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য মহান স্রষ্টা আল-কোরআনে মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিবিধ বিষয় সম্পর্কে মৌল জ্ঞান দান করেছেন। এগুলো সঠিকভাবে মেনে চলার মধ্যেই মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 3
    ফুয়াদ দীনহীন

    মাহফুজ শান্ত ভাই,
     
    আপনি আপনার নাম ডাঃ মাহফুজ শান্ত পুরো পুরি লিখেদেন। কারন আরেকজন নাস্তিক অথবা মানবতাবাদী ব্যাক্তি আছেন ডাঃ মুশফিক নামে। তাই মানুষ আপনাকে ভুল বুঝতে পারে। পুরো নাম উল্লেখ করলে ভুল বুঝা বুঝির অবশান হবে।
     
    ধন্যবাদ।

    1. 3.1
      ডাঃ মাহফুজ শান্ত

      এখন কি মাহফুজ এর সাথে ‘শান্ত’ এড করা যাবে?

  2. 2
    আদু ভাই

    ভাইজান, আপনি নিশ্চয় আদু ভাইয়ের কথা শুনে থাকবেন। এই যে আমি, আপনার বলগ পইড়বার আগে, নামটা দেখলাম ডক্টর। আর কৈ, আমি মনে কইরা লইলাম আমাগো বড় ভাইজান ডক্টর মুশফিক সাহেব লিখতাছেন। তারপর এক প্যারাগ্রাফ পড়লাম, মনটা উলট পালট হইয়া গেল গা। তারপর আরো কিছু পড়লাম। তারপর সন্দেহ ঘনিভূত হইল। মনে করলাম, ক্যাচাল অংশ পরে আইতাছে। তারপর মনোরে কইলাম, মিয়া তুমি আদু ভাই, কোনখানে মিষ্টেক হইয়া যাইতাছে, তুমি বরং নামটা আবার চেক কইরা লও। তারপর নামটা ভাল কইরা পইড়া নিজোরে কইলাম, ‘ধুৎ আমি তো হাছার হাছাই কবিতার আদু ভাই! খামাখা একবার এডমিন ভাইজানের সাহতে তর্ক করছি।  তো এখন নিজের পিছনের অংশখান যদি পাইতাম, তবে একটা লাৎ দিতাম। তয় একটা লাভ হইছে। আপনার লেখার অনেকটা অংশ পইড়া ফালাইছি।

    1. 2.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      জবাব আদু সাহেব,
      আপনি যে আদু ভাই নন, তে লেখার ধরন দেখলেই বুঝা যায়।
      না জেনে কথা বলা উচিত না। উনি আমাদের ডাঃ মাহফুজ শান্ত সাহেব। ব্লগ দুনিয়ায় উনি নতুন নয়। http://www.somewhereinblog.net/blog/Mahfuzhappy এই লিংকের ব্লগ উনার মূল ব্লগ। সামহোয়ার ইন নেট থেকে আমার ব্লগ দট কম সব জায়গায়ই আছেন। ডাঃ মুশফিক অন্য ব্যাক্তি এবং নাস্তিক নাকি মানবতাবাদী। আমাদের ডাঃ মাহফুজ শান্ত ভাই, সম্পূর্ন মুসলিম এবং নাস্তিক বিরুধী। নাস্তিকদের বিরুদ্ধে উনার অনেক লেখা আছে।
      পরিশেষে মানুষকে সম্মান দিয়ে ব্লগিং করতে শিখুন।
      ধন্যবাদ।

      1. 2.1.1
        ডাঃ মাহফুজ শান্ত

        ভাই ফুয়াদ, আপনাকে ধন্যবাদ-

      2. 2.1.2
        আদু ভাই

        @ফুয়াদ দীনহীন

        ভাইজান, আপনি এখানে যে reading capacity দেখিয়েছেন, এতে আপনার ব্যাপারে হঠাৎ যেন আমার ধারণা অনেকটা পরিবর্তিত হল। Sometimes in unfamiliar territory the reality may present itself differently. আমি বরং নিরাশ হলাম। আদু ভাইয়ের মন্তব্য পড়ে কী বুঝলেন আর কী লিখলেন? আদু ভাইয়ের মন্তব্যটি আবার তার বাক্যের progression থেকে পড়ে পড়ে আসেন। মন্তব্যের tenor ধরতে চেষ্টা করুন। এত খিট খিটে হওয়ার দরকার নেই। সে ক্রমাগতভাবে কোন উপলব্ধি থেকে কোন উপলব্ধির কথা বলছে এবং কীভাবে? What kind of text category was that?
        আপনি যে মন্তব্যটি করেছেন তার স্থান আদু ভাইয়ের মন্তব্যে ছিল কী ছিল না –তাও বিবেচনা করবেন। এবারে আদু ভাইয়ের মন্তব্যে কোথায়, কোনখানে ও কীভাবে কার প্রতি অসন্মান দেখানো হল তা একটু ব্যাখ্যা করবেন। আর এতে করে আদু ভাইয়ের শিখার কাজটা সহায়ক হবে। এর পর আপনাকে হয়ত একটি পূর্ণ মন্তব্য দেয়া হবে।

         

        1. 2.1.2.1
          ফুয়াদ দীনহীন

          কি করব আদু ভাই, আমিও আপনার মত ভুল করেছি। রিডিং মারত্বক খারাপ। 🙁 , এখন পড়ে দেখি সব ঠিকই আছে, হুদা হুদাই ব্যাকুবের মত বাক্য লিখেছি। আসলে চারদিকে ব্লগিং বিভিন্ন প্রকার বাক্যের আক্রমনে মাঝে মাঝে ভুলে যাই কোনটা আক্রমন আর কোনটা প্রশংসা। ভেবে ছিলাম, ১ মাসের জন্য ব্লগিং একেবারে বাতিল। শুধু বাসায় বসে ক্লাসের পড়াশুনা করব। আপনার মন্তব্য দেখে ভয়ে আবার প্রতি-মন্তব্য করতে হল।
          আপনি কাউকে অসম্মান দেখাননি, বরং আমিই আপনার প্রতি অসম্মান দেখিয়েছি। ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনার লেখার হাত ভাল, আর্টিক্যাল লিখুন, আমরা পড়ি।
          -ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।
           

        2. 2.1.2.2
          ফুয়াদ দীনহীন

          আদু ভাইয়ের জন্য লাল গোলাপ, :rose: এবং আমি দুঃখিত আমার আচরনের জন্য।
           

        3. ফরিদ মিঞা

          As-Salamu Alaikum, Jonab Fuad Bhai, Ami Natun Registration Korechi, kinto banglai likhte parchina, Please Amake Akto help korun.
           
          Jonab Mahfuj apnar likha khub valo ebong shomoy upojugi, banglai likhte parsina bole banglishe dilam.
           
          farid miya

        4. ফুয়াদ দীনহীন

          @ Farid Uddin

          ওয়ালাইকুম আসসালাম, ফরিদ ভাই, আমার সালাম নিবেন।  আপনি অনলাইন থেকে অভ্র সফটোয়ার ডাওনলোড করে নিন। নিচে অভ্র কিবোর্ডের লিংক দিয়ে দিলাম। একদম ফ্রিতে ব্যাবহার করা যায় এবং বহু ধরনের কিবোর্ড এর ভিতর পাবেন। আপনি ইচ্ছা করলে ফনেটিক সিলেক্ট করতে পারেন। এটি সহজ।

          অভ্র কিবোর্ড

          :rate
          তারপর যেকোন সমস্যায় সদালাপে কমেন্ট করতে পারেন, তাহলে আমি অথবা অন্যরা আপনাকে লিখতে সহায়তা করতে পারেন। আশা করি আপনার লেখা সদালাপে দেখব। ভাল থাকুন।  :rose:  :rose:

        5. আদু ভাই

          @ ফুয়াদ দীনহীন 

          ঠিক আছে ভাই, কোন সমস্যা নাই। এমনটা হতেই পারে।

          আর যখন পড়াশুনা করছেন, তখন ব্লগিং একটু কম করবেন। আমু, সামু, বিকৃতমনা ইত্যাদি সাইটে ঢুকলেই আর সহজে বের হ’তে পারবেননা। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়। নাস্তিকেরা ইসলাম ধর্ম শেষ করে দেবে, এমন কোন সম্ভাবনা আসমান জমিনের কোথায় দেখা যাচ্ছেনা। তা’ই খেয়াল রাখবেন ব্লগে আসা যেন আসক্তিতে পরিণত না হয়। এডভাইসটা গায়ে পড়েই দিলাম, কারণ আমি আদু ভাই তো। এক কেলাশে থাকতে থাকতে শিক্ষাঙ্গণের অনেক সাইকোলজি আত্মস্ত হয়ে পড়েছে।

    2. 2.2
      ডাঃ মাহফুজ শান্ত

      আদু ভাই গেদুর মতই মন্তব্য করেছে-
      সম্পূর্ণ পড়া হলে শেষে দাদু ভাইয়ের মত মন্তব্য আসে কিনা দেখা যাক-

    3. 2.3
      Reza

      [ভাইজান, আপনি নিশ্চয় আদু ভাইয়ের কথা শুনে থাকবেন। এই যে আমি, আপনার বলগ পইড়বার আগে, নামটা দেখলাম ডক্টর।]

      Its not a good idea that few people use their own salutation before their names. It might be they are ignorant or they want to show up “who are they”. I can use salutation for others but not for myself. It might look too funny. For instance, can I say my name is “Mr. Reza” -- looks too funny, isn’t it? But someone can use this salutation if they wish. Say, Gedu Mia can call me as “Mr. Reza”. Got it?

      Here are some examples used for salutation:
      Master, Mr., Miss, Mrs, Dr. (Philosophical Doctor), etc. Sometimes people use salutation based on profession, say, Dr. (Medical Doctor), Engr., Prof., etc.

      Here in USA, its a law that someone can not use their profession just because they earned degrees in such and such field. They can use it only when they are licensed to do so. There are some steps and requirements for this licensure. One of them is professional exams which are extremely difficult to pass. Once you are licensed, then you can use the designation after your name, for instance:

      Gary M. Miller, P.E. (P.E.=Professional Engineer) -- [Note the name is fictitious]
      Gary M. Miller, M.D. (M.D.=Medical Doctor)

      Since you are also certified that you earned such and such degrees, you can still use it after your name (if you wish), for instance:
      Gary M. Miller, Ph.D., P.E.
      Gary M. Miller, Ph.D., M.D.

      Assuming someone is already licensed as a Medical Doctor (M.D.) and when they use “Dr.” before their name, then its too confusing and difficult to decipher what does that “Dr.” mean. Is he/she a medical doctor (M.D.) or philosophical doctor (Ph.D.) or philosophical cum medical doctor (Ph.D., M.D.).

      I know this is off topic but wanted to share some clarification.

      1. 2.3.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        বাংলাদেশে ডাঃ লাগানো পরিচিত। আমি যতদূর জানি, বাংলাদেশে MD বোধ হয় ডক্টর অব মেডিসিন, মেডিক্যাল ডক্তর নয়। আপনাদের ঈউ এস এ তে সম্ভবত ভিন্ন নামে ডিগ্রি দেওয়া হয়। যাইহোক, আমি দেশে দেখেছি, যারা ডাক্তার তারা সাধারনত ডাঃ নামের আগে ব্যাবহার করে। বাংলাদেশের যে কোন স্বীকৃত মেডিক্যাল কলেজ থেকে আপনি পাশ করে থাকলে, বাংলাদেশের নিয়ম অনুষারে ডাঃ লাগাতে পারবেন। এ জন্য কোন পরিক্ষার ব্যাবস্থা নেই, মানে ডাক্তার হিসাবে রেজিস্ট্রি করার জন্য কোন পরিক্ষা দিতে হয় না। আপনার দেশে যেমন আপনার মূল্যবোধ আছে, তেমনি বাংলাদেশে বাংলাদেশের মূল্যবোধ আছে। পরিশেষে বলতে পারি, বাংলাদেশের মূল্য বোধের আলোকে, মাহফুজ ভাই কোন দোষ করেননি। আমি অনেক মানুষকেই নামের আগে ডাঃ লাগাতে দেখেছি। আর মাহফুজ ভাই, অন্য ব্লগ গুলিতে মাহফুজ শান্ত নামেই লেখেন। আপনি উনার মূল ব্লগ এখানে দেখতে পারেন http://www.somewhereinblog.net/blog/Mahfuzhappy
        তারপর খুব সম্ভবত উনার নিক চেইঞ্জে সমস্যা হচ্ছে। ধন্যবাদ

      2. 2.3.2
        ডাঃ মাহফুজ শান্ত

        Mr. Reza & মিঃ আদু ভাই,
        আপনার কন্ফিউশনটা দূর কারার জন্য আরেকটু পরিষ্কার করে বলি-
        (আমি) নাড়ীর স্পন্দন গুনে রুগীর সেবা করি, মনের মাধুরী মিশিয়ে চেতনার কলম ধরি।(‘মনের মাধুরী’ হলো পার্থিব জ্ঞান সমৃদ্ধ স্বচ্ছ মনন- আর ‘চেতনার কলম’ হলো আল-কোরআনের ঐশী আলোয় আলোকিত বিবেক সম্পন্ন লিখন)
        আমি বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত একজন ডাক্তার (ডাঃ) এবং দেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করছি-

  3. 1
    Abdus samad

    মাহফুজ সাহেবকে ধন্যবাদ।
    বিয়ের ব্যপারটি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ধারক যা, একটি বংশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। একটি পরিবারকে ধরে রাখে, যে পরিবারটি বৃহত্তর পরিসরে একটি সমাজের জন্ম দেয়। যা আমাদের দেশে আজও আছে। অথচ, পশ্চিমা দেশে আস্তে আস্তে বিয়ের সিস্টেম উঠে গিয়ে,লীভ টুগেদারকে জায়গা করে দিচ্ছে, যাতে করে পারিবারিক সমাজ থাকছেনা। বরং সেখানে দাবী উঠেছে, প্রত্যেকে তার বাপকে জানার, চেনার অধিকার চায়। ঠিকযেন জঙ্গলের বাসীন্দা আরকি? বংশ বিস্তার হবে ,বন্ধন থাকবেনা। ইসলামে এর সমর্থন নেই।।

    1. 1.1
      ডাঃ মাহফুজ শান্ত

      (ফলশ্রুতিতে দুটো মন ও দেহের পূর্ণ মিলনে একটি নুতন জীবন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিয়ের মূল লক্ষ অর্জিত হয়।)

      আর এই নব জীবনই তো সুস্থ-স্বাভাবিক বংশ, পরিবার ও সমাজ সৃষ্টির সব কিছুর সাথেই সম্পৃক্ত-

      ভাই, আমার এই এক লাইনের বক্তব্যের ভাব-সম্প্রসারণ করে ব্যাক্ত করার জন্য এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ-

Leave a Reply

Your email address will not be published.