«

»

Jun ২১

হাদিছে বর্ণীত সূর্যের গতিপথের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

Sahi Bukhari: Volume 4, Book 54, Number 421:
Narrated Abu Dhar: He said, the Prophet (sw) asked me at the time of sunset, “Do you know where the sun goes (i.e. travels)?” I replied, “Allah and His Prophet know better.” He said, “It goes (i.e. travels) till it prostrates Itself underneath the Throne and takes the permission to rise again, and it is permitted and then (a time will come when) it will be about to prostrate itself but its prostration will not be accepted, and it will ask permission to go on its course but it will not be permitted, but it will be ordered to return whence it has come and so it will rise in the west. And that is the interpretation of the Statement of Allah: “And the sun runs its fixed course for a term (decreed). That is The Decree of (Allah) The Exalted in Might, The All-Knowing.” (36.38)

বাংলা অনুবাদ- হাদিছটি আবুযর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাবার কালে হুজুর (সাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি জান সূর্য কোথায় গমন করে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এটা যেতে যেতে আরশের নিচে পৌঁছে সিজদাহ করে (অর্থাৎ নিজেকে অবনত বা নিচু করে দেয়) এবং পুনরায় উদিত হওয়ার (অর্থাৎ উঠবার জন্য) অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। এবং অচিরেই (এমন এক সময় আসবে) যখন সে প্রায় সেজদা নত হবে কিন্তু তা গৃহীত হবে না এবং নিজস্ব পথে যাত্রা করার অনুমতি চাইবে; কিন্তু আর অনুমতি মিলবে না, (বরং) তাকে নির্দেশ দেয়া হবে, সেই পথেই ফিরে যেতে – যে পথে সে এসেছে। এবং তখন সে পশ্চিম দিকে উদিত হবে। এটাই হলো আল্লাহতায়ালার এই বাণীর মর্ম: এবং সূর্যটা ছুটে চলেছে তার জন্য নির্ধারিত গন্তব্যের অভিমুখে; এটা হচ্ছে মহপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহতায়ালা) কতৃক (নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা) ঘোষিত এবং আইনের মর্যাদাসম্পন্ন আদেশ। (৩৬:৩৮)

এ হাদিছটির বর্ণনা থেকে বুঝে নেয়া যায় যে, বর্তমানে পৃথিবী থেকে আমরা গতানুগতিকভাবে সূর্যের উদয় ও অস্ত যেভাবে অবলোকন করি, এখানে তা বোঝান হয়নি। কারণ আমরা জানি যে, নিজ অক্ষের উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণেই মূলত আমরা সূর্যকে উদয় হতে ও অস্ত যেতে দেখছি। পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর এই ঘূর্ণন গতি যদি না থাকত তাহলে সূর্যের উদয় ও অস্তের প্রশ্ন আসত না। ফলে সূর্যটা এ পৃথিবীর এক পিঠকে যেমন সর্বক্ষণ আলোকিত করে রাখত, তেমনি অপরদিকে বিরাজ করত স্থায়ী অন্ধকার।

এই হাদিছটিতে সরাসরি সূর্যের কথা উল্লেখ কোরে এটির গতিপথ সম্পর্কে ইংগিত দেয়া হয়েছে। আজ আমরা বিজ্ঞানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে:-

[ The Apex of the Sun’s Way, or the solar apex, is the direction that the Sun travels through space in the Milky Way. The general direction of the Sun’s galactic motion is towards the star Vega near the constellation of Hercules, at an angle of roughly 60 sky degrees to the direction of the Galactic Center. The Sun’s orbit around the Galaxy is expected to be roughly elliptical with the addition of perturbations due to the galactic spiral arms and non-uniform mass distributions. In addition the Sun oscillates up and down relative to the galactic plane approximately 2.7 times per orbit.

This is very similar to how a simple harmonic oscillator works with no drag force (dampening) term.]

সূর্য, পৃথিবী, চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহগুলো আপন আপন কক্ষপথে মোটামুটি বৃত্তাকারে পরিভ্রমণ করছে। সূর্য কেন্দ্রীক এই সৌরমন্ডলের পৃথিবী, চন্দ্র, ও অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহ সহ সূর্যটা এই ছায়াপথ বা ( Milky Way galaxy ) গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে ঘিরে আবর্তন করছে। এই কেন্দ্রের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে আপন কক্ষপথে ঘন্টায় প্রায় ৪,০০০০০ মাইল গতিবেগে ধাবমান সূর্যের সময় লাগে প্রায় ২২.৫ – ২৫ কোটি বছর। প্রায় ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার কক্ষপথের পরিধি বরাবর সূর্যের চলার পথটি কিন্তু উঁচু-নিচু বা ঢেউ-খেলানো এবং এই ঢেউ-খেলানো পথে ছায়াপথের কেন্দ্রের দিকে মোটামুটি ৬০ স্কাই ডিগ্রি কোনে সূর্যটা ছুঁটে চলেছে তার জন্য নির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের (কন্সটেলেশন অব হারকিউলাস এর নিকটবর্তী ভেগা নামক নক্ষত্রের) দিকে।

আল-কোরআন, ৩৬ নং সূরা ইয়াসীন এর ৩৮ নং আয়াতে ইংগিত দেয়া হয়েছে:-
(৩৬:৩৮) অর্থ- এবং সূর্যটা ছুটে চলেছে তার জন্য নির্ধারিত গন্তব্যের অভিমুখে; এটা হচ্ছে মহপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহতায়ালা) কর্তৃক (নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা) ঘোষিত এবং আইনের মর্যাদাসম্পন্ন আদেশ;
(Al-Quran : 36.38)”And the sun runs to its place of destination which is specified for it. That is The Decree of (Allah) The Exalted in Might, The All-Knowing.”

উদাহরন স্বরূপ একটি গাড়িকে যদি ঢেউ-খেলানো পথে চলতে দেয়া হয় তাহলে গাড়িটি ঢেউ-খেলানো পথের সর্বোচ্চ প্রান্তে পৌছানোর সাথে সাথে সেটার সম্মুখভাগ অর্থাৎ মাথাটি নিচের দিকে নেমে যাবে এবং তা (অস্তগামী অর্থাৎ নিম্নগামী অবস্থায়) নিচের দিকে চলতে থাকবে। এভাবে আবার যখন সেটি ঢেউ-খেলানো পথের সর্বনিম্ন প্রান্তে পৌছবে তখন সেটার সম্মুখভাগ বা মাথাটি উপরের দিকে উঠে যাবে এবং তা উপরের দিকে (উদিত অর্থাৎ ঊর্ধ্বগামী অবস্থায়) চলতে শুরু করবে। এভাবে গাড়িটি সম্মুখপানে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে গাড়ির ড্রাইভার যদি কখনো সর্বনিম্ন স্থানে গিয়ে ব্রেক চাপে বা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় তাহলে গাড়িটি কিন্তু সেটার মাথা নিচের দিকে নামিয়ে (অস্তগামী অর্থাৎ নিম্নগামী ভাঙ্গিতে) পড়ে থাকবে।

যেহেতু স্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালার আরশ অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় সকল নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহগুলো তাদের কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে। সুতরাং প্রতিটি কক্ষ-পথই মহান স্রষ্টার আরশের আওতাধীন। সূর্যের ক্ষেত্রেও তাই। সূর্যটা যখন তার কক্ষপথে আল্লাহর নির্ধারিত উঁচু-নিচু বা ঢেউ- খেলানো পথের সর্বনিম্ন স্থানে পৌছে যায়, তখন এই অবস্থাকে আরশের নিচে অর্থাৎ আল্লাহর বেঁধে দেয়া নির্ধারিত পথের সর্বনিম্ন স্থানে Solar Apex বরাবর মাথা-নত করা বা অস্তগামী হওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে সম্মুখভাগ বা মাথাটি Solar Apex বরাবর উপরের দিকে উঠিয়ে (উদিত অর্থাৎ ঊর্ধ্বগামী অবস্থায়) চলবার অনুমতি আছে বলেই বর্তমানে সূর্যটা গতানুগতিক উঁচু-নিচু পথে ছুঁটে চলেছে। আর এ কারনেই সৌরজগৎ সহ সূর্যটা (Our Solar System) নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্রমান্বয়ে ছায়াপথ বা Milky Way Galaxy এর গ্যালাক্টিক প্ল্যানের উপরে উঠছে আবার নিচে নামছে।

যেহেতু সৌরজগৎ সহ সূর্যটা ছায়া পথের কেন্দ্রকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২২ বার প্রদক্ষিণ করে ফেলেছে। সুতরাং সৌরজগৎ সহ সূর্যটা (Our Solar System) এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বার মাথা নত করে (সিজদারত অবস্থায়) Milky Way Galaxy এর গ্যালাক্টিক প্ল্যানের নিচে নেমেছে এবং মাথা উঁচিয়ে (সিজদা থেকে উঠে) গ্যালাক্টিক প্ল্যানের উপরে উঠেছে বলে ধরে নেয়া যায়।

কিন্তু মহান স্রষ্টা যখন সূর্যের এই ঢেউ-খেলানো পথকে পরিবর্তন করতে চাইবেন তখন (সেই নির্দিষ্ট সময়ে- কেয়ামতের পূর্বক্ষণে) আল্লাহতায়ালার আদেশে এই পথের সর্বনিম্ন স্থান থেকে সূর্যটাকে আর উপরের দিকে উঠবার অনুমতি দেয়া হবে না। ফলে সূর্যটা আল্লাহর আরশের নিচে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কর্তৃক নির্ধারিত পথের সর্বনিম্ন স্থানে গিয়ে অবনত মস্তকে বা অস্তগামী অবস্থাতেই থাকবে। পুণরায় নির্ধারিত পথে উদিত হতে অর্থাৎ Solar Apex বরাবর সম্মুখভাগ বা মাথা উঠিয়ে চলবার অনুমতি পাবে না। বরং আল্লাহতায়ালার আদেশে সূর্যটা যে পথে এসেছিল সে পথেই ফিরে যেতে অর্থাৎ পশ্চাদ গমন করতে বাধ্য হবে। সুতরাং এ থেকে এই ইংগিত পাওয়া যায় যে, মহান স্রষ্টার আদেশে সে সময় সৌরজগতের গতানুগতিক পদ্ধতিতে একটা বিরাট পরিবর্তন সাধিত হবে। এর ফলে সেই সময় পশ্চিম দিক থেকে সূর্যের উদিত হওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। আসল জ্ঞান তো সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালার নিকটে।

আল-কোরআনে এ ধরনের আরও অনেক শব্দ ও আয়াত এসেছে যেগুলো যখন নাজিল হয়েছিল শুধু তথনকার জন্য নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত সঠিক অর্থ বোঝানোর জন্যই মহান স্রষ্টা এগুলোকে সেভাবেই ব্যবহার করেছেন। মানুষের জ্ঞানের পরিধি যত বিস্তৃত হবে, সে চিন্তা-ভাবনা করলে তত সূক্ষ্মভাবে তার অর্থ বুঝতে সক্ষম হবে। একজন উম্মী নবীর পক্ষে মহান স্রষ্টার সাহায্য ছাড়া এধরনের বিসম্য়কর অকাট্য বৈজ্ঞানীক তথ্যগুলো আল-কোরআনে নির্ভুলভাবে তুলে ধরা যে কখনই সম্ভব ছিলনা- একজন সত্যান্বেষী সরলমনা মানুষ মাত্রই তা সহজেই বুঝে নেবে।

একজন মানুষ হিসেবে আমার জ্ঞানকে আমি সীমিতই ভাবি। মহান আল্লাহতায়ালার অসীম জ্ঞানের সাথে তো নয়ই- বরং সর্বশেষ নবী ও রসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে মহান স্রষ্টা যে জ্ঞান দান করেছেন তার সাথেও অন্য কোন মানুষের জ্ঞানের তুলনা করার কোন প্রশ্নই আসেনা। যারা তাদের জ্ঞানকে অসীম ভাবতে কুন্ঠাবোধ করেন না তারা আমার এই আলোচনা নিয়ে তাচ্ছিল্ল করতেই পারে। কেননা তারা তো সর্বজ্ঞ স্রষ্টার চেয়েও তাদের জ্ঞানী ভাবতে অভ্যস্ত। তাই বিশ্বাসী ভাইদের বলছি- আপনারা এদের মিথ্যাচারে বিচলিত হবেন না। বরং আল্লাহতায়ালার উপর ভরসা কোরে সত্যজ্ঞান আহরনে সময় দিন। দেখবেন মহান স্রষ্টা আপনার কত নিকটে চলে এসেছেন। মহান স্রষ্টা যেন আমাদেরকে সত্যকে সঠিকভাবে বোঝার এবং সরল ও শান্তির পথে চলার তৌফিক দান করেন।

“মহান স্রষ্টা যে আছেন” আল-কোরআনই তার চিরন্তর জ্জ্বলন্ত প্রমান। এটি নিছক কোন বিজ্ঞানের বই নয়। তাই এতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ত্বত্ত্বগুলোর বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে ঐশী ইংগিত দেয়া হয়েছে মাত্র। সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে একজন ইমানদার যখন আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গভীর চিন্তা-গবেষণায় রত হয়, তখন পরম শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসে জগৎসমূহের স্রষ্টা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর সামনে মাথা নত করতে সে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হয় না। আল-কোরআন যে স্বয়ং মহান স্রষ্টা প্রেরিত পথপ্রদর্শনকারী মহাগ্রন্থ তা জ্ঞানী ও সরলমনা বিশ্বাসীরা তখন নির্দিধায় মেনে নেয়।।এভাবে অল্লাহতায়ালা বার বার প্রমাণ করে দেখান যে, আল-কোরআনে প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ঐশী তথ্যগুলো যেমন সত্য, ঐশী আইন-কানুনগুলোও তেমনই অকাট্য ও সত্য এবং সর্বকালেই কল্যাণকর। মহান স্রষ্টা চান, বিশ্বাসী মানুষেরা যেন এইসব ঐশী তথ্য সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণাব মধ্য দিয়ে আধুনিক আবিষ্কারগুলোকে যাঁচাই করে নিয়ে প্রকৃত সত্যের সন্ধান লাভ করতে পারে এবং আল্লাহর মহত্ব ও করুণার কথা স্মরণ করার সাথে সাথে একমাত্র তাঁরই কাছে মাথা নত করে।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    ferdous

    ত্যি অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেছেন পড়ে ভালো লাগলো

  2. 3
    ফারাবী

    সুন্দর পোস্ট। এতোদিন পরে দেখলাম এতো মূল্যবান লেখা? যাইহোক আমাদের পরে জেনারেশনেও কাজে লাগবে লেখাটা ….. এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত থাকতে পারে বলা যায় না

    1. 3.1
      মাহফুজ

      আপনাকে আমন্ত্রণ- আল-কোরআন কি বিজ্ঞানময় নয়?

  3. 2
    annozomsgt.blogspot.com

    আপনার মনোরম উপস্থাপনার জন্যধন্যবাদ
    ( কেউ কেউ এই হাদিছ খানাকে রূপক অর্থে ধরে নিয়েছেন)
    যেমন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত, এটা যেমন সম্পূর্ণ রূপক,, সূর্যের আরশের নিচে গিয়ে সেজদা এটাও রূপক।
    তারা এর ব্যাখ্যা করেন অনেক ভাবে। তারপরও আপনার গবেশনাটি, সত্যিই বাস্তব ও অভিজ্ঞতা পূর্ণ।
    জাঝাকাল্লহু খইর। আপনার প্রতি শুভ কামনা

  4. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    ভাল করে বুঝে তারপর ইনশা-আল্লাহ কমেন্ট দিব। :rose:

    1. 1.1
      ডাঃ মাহফুজ শান্ত

      সময় পেলে অন্যান্য পোষ্টের সাথে দেয়া আমার মন্তব্যগুলোতে চোখ রাখতে পারেন- ‘:rose:’

Leave a Reply

Your email address will not be published.