«

»

May ২৯

নাসেখ ও মানসূখ – একটি মিথ্যা প্রচারনা

N.B- মুক্তমনায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি পোস্টের জবাবে।

নাসেখ মানসূখের এই কোরান বিরোধী মিথ্যা প্রথমে চালু হয় ৪০০ হিঃ বা ১০০০সনের শেষের দিকে তখনকার কিছু আলেম ওলামা কতৃক , যাদের অন্যতম আহমেদ বিন ইশাক আল দিনারি(মৃঃ ৩১৮ হিঃ), মোহাম্মদ বিন বাহার আল-আসবাহানি (মৃঃ ৩২২হিঃ) , হেবাতাল্লাহ বিন সালামাহ (মৃঃ ৪১০হিঃ) এবং মুহাম্মাদ মূসা আল-হাজমি (মৃঃ ৫৪৮ হিঃ)। তাদের দাবী , কোরানের কিছু আয়াত বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হয়েছে কোরানের অন্য আয়াত দ্বারা। যে আয়াত অন্য আয়াতকে বাতিল করেছে , তাকে বলা হয় ‘নাসেখ’ এবং বাতিলকৃত আয়াত – ‘মানসূখ’।

আসলেই কোরানের কোন আয়াত মানসূখ বা বাতিল হয়নি এবং কোরানের দুটি আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অমুসলিমরা ও কোরানস্কেপ্টিকরা এই আয়াতগুলি ব্যবহার করে দুটি আয়াতের ভিতরে বিরোধ দেখিয়ে এটা প্রমান করতে যে , কোরান পারফেক্ট নয় ।

যে দুটি আয়াতের উপর ভিত্তি করে আলেমরা নাসেখ মানসুখের দাবী করেন , চলুন সেই আয়াত দুটি বিশ্লেষন করা যাক –

প্রথম আয়াত ২:১০৬
“আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?”

আলেমদের দাবী এই আয়াত প্রমান করে যে কোরানের কিছু আয়াত অন্য আয়াত দিয়ে বাতিল করা হয়েছে। তারা ‘আয়াত’ এর শব্দগত মানে করেছে কোরানের আয়াত , যদিও কোরানে আমরা ‘আয়াত’ এর ৪ রকমের শব্দগত মানে পাই।

১) ‘আয়াত’ = অলৌকিক ঘটনা (miracle)
“১৭:১০১ আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন( آيَاتٍ ) দান করেছি।”

২) ‘আয়াত’ = উদাহরন (example)
“২৫:৩৭ নূহের সম্প্রদায় যখন রসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল, তখন আমি তাদেরকে নিমজ্জত করলাম এবং তাদেরকে মানবমন্ডলীর জন্যে নিদর্শন(آيَةً) করে দিলাম।”

৩) ‘আয়াত’ = চিহ্ন (sighn)
“১৯:১০ সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন(آيَةً) দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।”

৪) ‘আয়াত’ = কোরানের আয়াত।
“৩৮:২৯ এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ(آيَاتِهِ) লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।”

এখন

২:১০৬ “আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?”

আয়াতটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে প্রতীয়মান হয় যে , এই আয়াতে ‘আয়াত’ এর মানে কোরানের আয়াত না হয়ে বাকি ৩ টি মানেই বেশি যুক্তিযুক্ত। কারন – এই আয়াতেরি কয়েকটি শব্দের দিকে খেয়াল করুন –

১) “বিস্মৃত করিয়ে দিলে”- কোরানের আয়াত বিস্মৃত হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা , তদুপরি কোরান একবার লেখা হয়ে গেলে তো আর ভোলা সম্ভব নয়। যদি মেনেও নেই আয়াতটি বাতিল হয়ে গেছে , তবুও সেটা কোরানেই লেখা থাকবে এবং সেটা ভুলে যাওয়া কখনৈ সম্ভব নয়। অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন ভুলে যাওয়া সম্ভব।

২) “সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন” – একটি কোরানের আয়াত বাতিল করে তারি মতো সমপর্যায়ের আরেকটি আয়াত আনয়নের মধ্যে কোন যুক্তি আছে কি? আল্লাহ কি খেলা করছেন? (আল্লাহ মাফ করুন)। বরং মূসা বা অন্য রসূলের কাছে এমন কোন অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন দেয়া হয়েছিল যা মানুষ ভুলে গেলে উত্তম বা সমপর্যায়ের অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন আনয়ন বেশি অর্থবহ।

৩) আপনি যদি এই আয়াতের কন্টেক্সট দেখেন অর্থাৎ আগে পিছের আয়াত পড়েন , তাহলে বুঝবেন , ২:১০৬ নং আয়াতে ‘আয়াত’ এর মানে কোরানের আয়াত নয়। এখানে ‘আয়াত’ শব্দটি দিয়ে আল্লাহর কুদরতের কথা বলা হয়েছে যা অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরনের সমার্থক।

আল্লাহ মানুষকে বোঝানোর জন্য যখনি কোন (আয়াতের) অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরনের আনয়ন করেন , তখন তা পূর্ববর্তী আয়াতের সমান বা বৃহৎ হয়ে থাকে।

“৪৩:৪৬-৪৮ আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী (بِآيَاتِنَا) দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার রসূল। অতঃপর সে যখন তাদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী (بِآيَاتِنَا) উপস্থাপন করল, তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল। আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই (آيَةٍ) দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।”

২য় আয়াত ১৬:১০১
“এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।”

এখানে কোন আয়াতের প্রতিস্থাপনের কথা বলা হচ্ছে , তা বুঝতে হলে , এই আয়াতেরি শেষের অংশটি খেয়াল করুন – “তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।” এখানে এই ‘তারা’ টা কারা? যারা রসূলকে মনগড়া বা বানিয়ে কথা বলার দায়ে অভিযুক্ত করছে? এরা নিশ্চয় রসূলের অনুসারীরা না। এমন কথা মূসলমানেরা তাদের রসূলকে বলতে পারে না।

এরা হলো তারাই , যারা রসূলকে বিশ্বাস করে না এবং রসূলের কাছে নাযিলকৃত কোরানের আয়াত তাদের কাছে রক্ষিত আল্লাহর আয়াত থেকে ভিন্ন। ফলে তারা রসূলকে মনগড়া উক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত করছে। বোঝা গেল এরা হলো আহলে কিতাবের অনুসারীরা (ইহুদী ও খৃষ্টানরা)। শুধু এই আয়াতের মাধ্যমেই নয় , অন্য আয়াতের মাধ্যমেও আল্লাহ জানিয়েছেন যে , কোরান অনুসারীদের জন্য পূর্বের রসূলগনের জন্য নাযিলকৃত কিছু কিছু আয়াত বা আইনের পরিবর্তন করেছেন। আল্লাহ কোরানে একটি আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করলেন কিনা তা ইহুদী ও খৃষ্টানদের যেমন জানার কথা নয় , তেমনি তাদের জন্য কোন মাথা ব্যাথার কারন হতে পারেনা বা তার জন্য ক্ষেপে যেয়ে রসূলকে মনগড়া উক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেনা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ “আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন” এই বাক্য দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে , এই আয়াতে কোরানের আয়াত প্রতিস্থাপনের কথা বলা হয় নি । বরং আহলে কিতাবদের গ্রন্থে যে আয়াত আছে , তার স্থলে নুতন বা উত্তম আয়াত রসূলের কাছে নাযিলের কথা বলা হয়েছে।

২৬ comments

Skip to comment form

  1. 9
    manurul

    এক লোক একদিন খেয়াল করল একটা ছেলে তার মেয়েকে বলছে "আমি তোমায় ভালবাসি।"

    সেই লোক ত মহা খ্যাপা । 

    সেই ছেলেকে তো পারলে খুন করে। 

    মেয়ে যতই বলে ছেলেটা তাr বন্ধু আর সে মুলত গান গাচ্ছিল 

    "আমার সোনার বাংলা 

    আমি তোমায় ভালবাসি"

    নিজের মেয়ের কথা সে বিশ্বাস করে না । করতে চায় না। streo type mentality.

    এই নিয়ে তুমুল হট্টগোল মারামারি।

    streo type mentality লোকদের বোঝানো যায় না। 

    তাদের মনকে সীল্গালা করে দেয়া হয়েছে। 

    its total weast of time . 

  2. 8
    পারভেজ

    অসাধারন, ফারুক ভাই।
    আমি অনেক শিখতে চাই,
    প্রয়োজনে আমাকে হেল্প করবেন?

  3. 7
    Rafid

    bhalo….chaliye jan….@faruq

  4. 6
    ফারুক

    @এম_আহমদ:
    Peace be on you.

    সুতরাং কোরানে নসখ নেই এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আপনার উচিৎ হবে ব্লগের শিরোনাম বদলানো।

    আবারো বলছি , আপনি ভুল লাইনে তর্ক করছেন। কোরানে নসখ আছে কি নেই তা নিয়ে তর্ক হচ্ছে না , তর্ক হচ্ছে কোরানের কোন আয়াত নসখ -- মানসুখ হয়েছে কি না। কোরান থেকে যে প্রমাণ আপনি দেখালেন , সেই আয়াতদুটির উপরে ভিত্তি করেই আমার এই পোস্ট। আপনি আমার যুক্তি কতটুকু খন্ডন করতে পেরেছেন তা পাঠকদের বিবেচনা। তবে আমার স্বীদ্ধান্তে আমি এখনো অটল এবং সেকারনে ব্লগের শিরোনাম বদলানোর প্রয়োজন দেখি না।

    ২২:৫২ আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়। http://www.ourholyquran.com/index.php?option=com_content&view=article&id=190&Itemid=83

    নবী রসূলদের কল্পনা /আকাঙ্খা/‘তামান্না’ কোরানের আয়াত নয়। এবং এই সকল কল্পনা /আকাঙ্খা/‘তামান্না’থেকে মুক্ত করেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং এরপরে ও যদি কোরানে সু-প্রতিষ্ঠিত আয়াতকে কেউ নসখ বলে , তাহলে সেটার জন্য সেই দায়ী।

    এমন কোন আয়াত কি দেখাতে পারেন , যেখানে পরিস্কার বলা হয়েছে কোরানের অমুক আয়াত এই আয়াত দিয়ে রহিত করা হয়েছে? পারবেন না। নাসখ -- মানসুখ আলেম মোল্লাদের কল্পনা।

    ৪ ও ৫ এ আপনি কি বলেছেন , কিছুই বুঝলাম না। কিসের সাথে কি মিলালেন , তা আপনিই জানেন।

    আপনি মানবেন না, তবুও বলতে ইচ্ছে করছে। আপনি যে পথে আছেন, বলি –তা একটু পূনর্বিবেচনা করুন।

    দেখুন আমি কোন কিছুতেই অটল হয়ে বসে নেই। তা যদি হতাম , তাহলে এখনো বাপ দাদার পালিত ধর্ম আকড়ে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলতাম। পরকাল আমার কাছে অতীব গুরূত্বপূর্ণ । সে কারনে প্রতিদিন আমার অবসর সময়ের একটি অংশই কাটে কোরান চর্চা ও নুতন জ্ঞানের অণ্বেষনে। নুতন নুতন জ্ঞান প্রাপ্তির সাথে সাথে আমার অবস্থানের পরিবর্তন হয়েই চলেছে।

    আপনি ও ভাল থাকুন।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      আবারো বলছি , আপনি ভুল লাইনে তর্ক করছেন। কোরানে নাসখ আছে কি নেই তা নিয়ে তর্ক হচ্ছে না , তর্ক হচ্ছে কোরানের কোন আয়াত নসখ -- মানসুখ হয়েছে কি না।

      কোরানে নাসেখ/মানসূখ আছে, আপনি বলছেন কোন আয়াতে নাসেখ মানসূখ নেই। আপনি ‘আয়াত’ শব্দের বিভিন্ন অর্থ বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু উক্ত দুটি আয়াতে সেই ভিন্ন অর্থাদির কোন অর্থ নিহিত? আপনি এটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি যা বলছেন পক্ষান্তরে তার অর্থ হয়, “আমি যেটি ‘পছন্দ’ করব সেটি”। আপনার পছন্দ করা ‘নিদর্শন’ কেন নেয়া হবে? আপনার ‘যুক্তিই’ কি কোরানের প্রকৃত অর্থ বহন করবে? বক্ষ্যমাণ আলোচনার প্রথম শব্দ ‘নাসখ’। কিন্তু নাসখের কি অর্থ সেটা দেখাতে যাননি। নাসখের অর্থের ভিন্নতা দেখাতে যাননি। পারিভাষিক কোন কোন অর্থ প্রকাশ করে -তা দেখাতে যান নি।  কেন? এটাই তো প্রথম কথা। আপনার পরের ব্লগে যেসব আয়াত দিয়েছেন –সেগুলিতে ‘নাসখ’ রয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয়, আপনি ‘নাসখ’ বুঝেননি। সেই বৃত্তর অর্থের ফিল্ডে ঢুকলে হয়ত 'কোরান অনলি' অন্তঃসারশুন্য হ্যে পড়বে। সেগুলো বুঝতে গেলে হয়ত কোরানের বাইরে যেতে হবে, ‘অভিধানে’ যেতে হবে, ক্লাসিক্যাল ব্যবহার (historical use) দেখতে হবে, তাদের ব্যবহারের প্রকারভেদ দেখতে হবে, তাই সে পথে না গিয়ে ‘নিজ ব্যক্তি-যুক্তি’ হয়ে পড়েছে মূল নির্ভরস্থল। স্বেচ্ছাচারী ব্যাখ্যার পথ। অর্থাৎ আপনার ‘যুক্তি’ই কোরানের ‘অর্থ’। এই অর্থ গ্রহণ ভুল। আপনার ব্লগটি ভুলের উপর। নাসখের অর্থ শুধু রহিত-করণ নয়। নাসখ শব্দ calibration অর্থে হতে পারে,  moderation অর্থে পারে, ঈষৎ পরিবর্তন অর্থে হতে পারে এবং আরও অর্থাদিতে আসতে পারে এবং এর সবগুলো অর্থই কোরানে আছে। আরব জগতের প্রাচীন থেকে মডার্ন অভিধানগুলোতে রয়েছে –সেগুলো থেকে শুরু করে আসে -দেখি আপনার আপনার দুটি আয়াত কীভাবে ব্যাখ্যা লাভ করে। তবে প্রাচীন আরবী অভিধানগুলোও যদি মুসলমানদের হাতে corrupted হয়ে পড়ে, তাহলে তো ব্যাক টু স্কয়ার –হাদিসের যে দশা, ইতিহাসের যে দশা, আরবী অভিধানের হবে সেই দশা। কোন সমঝোতার স্থান পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকে যার যার কথা বলবে।
      শেষ কথা হল আপনি ব্লগ প্রকাশ করেছেন, আপনারটা আপনি বলেছেন, তাই আমারটাও আমি বলে গেলাম।

      1. 6.1.1
        ফারুক

        6:164

        আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।
         

         

         

  5. 5
    এম_আহমদ

    নাসেখ মানসূখের এই কোরান বিরোধী মিথ্যা প্রথমে চালু হয় ৪০০ হিঃ বা ১০০০সনের শেষের দিকে তখনকার কিছু আলেম ওলামা কতৃক , যাদের অন্যতম আহমেদ বিন ইশাক আল দিনারি(মৃঃ ৩১৮ হিঃ), মোহাম্মদ বিন বাহার আল-আসবাহানি (মৃঃ ৩২২হিঃ) , হেবাতাল্লাহ বিন সালামাহ (মৃঃ ৪১০হিঃ) এবং মুহাম্মাদ মূসা আল-হাজমি (মৃঃ ৫৪৮ হিঃ)।

    এখানকার সব কথাই তো ইতিহাসের কথা। ইতিহাস কি তাহলে এবারে মানা হয়ে গিয়েছে? এই ইতিহাসটি যে ‘সত্য’ তা কোন নিরিখে এবং কোন কোন বিবেচনায় সত্য হয়? তারপর যে সৌর্স থেকে এই বিবরণ উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেই সৌর্সটি কি এখন গ্রহণীয়? যদি হয়, তবে সেই সৌর্সে বর্ণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক বাকি তথ্যাদিও কি গ্রহণীয়?    

    :১০৬ “আমি কোন আয়াত(آيَةٍ) রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?”
    ১) “বিস্মৃত করিয়ে দিলে”- কোরানের আয়াত বিস্মৃত হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা , তদুপরি কোরান একবার লেখা হয়ে গেলে তো আর ভোলা সম্ভব নয়। যদি মেনেও নেই আয়াতটি বাতিল হয়ে গেছে , তবুও সেটা কোরানেই লেখা থাকবে এবং সেটা ভুলে যাওয়া কখনৈ সম্ভব নয়। অলৌকিক ঘটনা বা চিহ্ন বা উদাহরন ভুলে যাওয়া সম্ভব।

    কোথাকার কথা কোথায় আনছেন?  ২:১০৬ আয়াতটি কার উপর নাজিল হচ্ছিল? কোরান হাফিজদের উপর, না নবী মোহাম্মদের উপর নাজিল হচ্ছিল? হাফিজদের উপর হলে, “বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা” –এই কথা যুক্তি সংগত হত। এখানে যুক্তি ধরেনি। তবে হ্যাঁ, এসব ব্যাপারে আপনার আর আমাদের অবস্থান এক স্থানে নয় কেননা আমরা বিশ্বাস করি মুহাম্মদের উপর কোরনা নাজিল হচ্ছিল, পক্ষান্তরে কোরানকে আপনি আপনার নিজ ঘরে পেয়েছেন এবং নবী মুহাম্মাদও আপনার কাছে কেউ নন, সুতরাং আপনার ইস্যু আর আমাদের ইস্যু ভিন্নই হতে পারে।
    তাছাড়া অলৌকিক ঘটনা আবার কীভাবে বিস্মৃত করা হবে? ইয়াহুদী/নাসারারা কোন অলৌকিক ঘটনা ভুলে গেল যে এখন মুহাম্মদকে (সাঃ) দিয়ে তা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে? প্রথম অর্থ ত্যাগ করে এই যুক্তি কিভাবে বেহতর হয়? ১৪ শো বছর ধরে কি নাসেখ/মানসূখ ‘বেখেয়াল’ বশত ঠিকে আছে?
    এখানে মনে হয় ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে আপনারা যেহেতু আমাদের মত ক্বিবওয়ালা নন, আমাদের মত নামাজ নেই, তাই আমাদের ব্যাখ্যা অনুযাইয়ী জেরুজালেম থেকে মক্কার দিকে মুখ ফেরানোর আয়াত, এবং আল্লাহ যেহেতু আল্লাহ তালা ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করতে এবং ইয়াদীদের ক্বিবলা থেকে সরিয়ে নিয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মাত্রা সংযোগ করতে যাচ্ছিলেন, এবং এরই প্রেক্ষিতে আগের ক্বিবলা সংক্রান্ত আয়াতের কার্যকারিতা রহিত করেন, তাই এই প্রেক্ষিত এবং ব্যাখ্যা আপনাদের কাছে অচল। ঘটনা এখানে।     
    নাসেখ/মানসূখের বিষয় ইয়াহুদীদের কাছে বেখাপ্পা লেগেছিল। আজও এক পক্ষের কাছে তা সমস্যার ব্যাপার। কিন্তু দ্রত পরিবর্তনমুখী সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটা স্বাভাবিক এবং এক ধরনের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। আদমের (আঃ) জীবদ্দদশায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে ভাইবোনের বিবাহ জায়জ হয়, তারপর সেটা পরিবর্তন করে সম্পর্কের দ্বিতীয়স্তরে নামানো হয়। ইব্রাহীমকে (আঃ) তাঁর পুত্র জবাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়, তারপর তা তুলে নেয়া হয়। মুসার (আঃ) যেসব অনুসারীরা বাছূর পূজার শিরক করেছিল, তাদেরকে প্রথমে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়, তারপর তা উঠিয়ে নেয়া হয়। এভাবে নবীদের জীবদ্দশায় একটি অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যাওয়া হয়। এগুলো ঐশী ইতিহাসে আছে এবং সামাজিক দ্রত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রয়ওজনীয়ও হয়। ‘আমাদের নবী’ (সাঃ) বলেছেন, অর্থাৎ এটা ‘হাদিসের’ কথা, (আপনি তো মানবেন না) لم تكن نبوّة قطّ إلا تناسخت  ‘কোন নব্যুয়াৎ এমন ছিল না, যাতে অনুবর্তন/নাসখ হয়নি।’ একটি সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের তুলপাড়ের মুহুর্ত্তে এগুলো হতেই হয়। এতে সমস্যার কিছু নেই।

    1. 5.1
      ফারুক

      এখানকার সব কথাই তো ইতিহাসের কথা। ইতিহাস কি তাহলে এবারে মানা হয়ে গিয়েছে?

      ইতিহাসকে মানা হয়নি বা এই ইতিহাস যে সত্য তেমন দাবী ও করিনি বা এই ইতিহাসের নিরিখে আমার যুক্তিগুলো ও দাড় করাই নি।
       
      ইতিহাসের কথাটুকু এসেছে পোস্টের ভূমিকা হিসাবে এবং যারা ইতিহাস ও হাদীসের উপরে ভিত্তি করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করছেন , তাদেরকে তাদেরি ইতিহাস স্মরন করিয়ে দেয়ার জন্য। পোস্টে আমার যুক্তির ভিত্তি হলো কোরান , ইতিহাস নয়।

      কোথাকার কথা কোথায় আনছেন? ২:১০৬ আয়াতটি কার উপর নাজিল হচ্ছিল? কোরান হাফিজদের উপর, না নবী মোহাম্মদের উপর নাজিল হচ্ছিল? হাফিজদের উপর হলে, “বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা” –এই কথা যুক্তি সংগত হত।

      আপনি মনে হয় আমার পোস্টটি ভাল করে পড়েন নি। যে দুটি আয়াতের উপর ভিত্তি করে আলেমরা নাসেখ মানসুখের দাবী করেন , চলুন সেই আয়াত দুটি বিশ্লেষন করা যাক -- আয়াত দুটো হলো -- ২:১০৬ এবং ১৬:১০১।  ২:১০৬ আয়াতটির কনটেক্সট ও যদি দেখেন , তাহলে ও নিশ্চিত হবেন যে , আয়াতটিতে কোরানের আয়াত নয় বরং আহলে কিতাবদের কাছে আসা আয়াত রহিত বা বিস্মৃত করার কথা বলা হয়েছে।  সেটা তাদের কাছে আসা ঐশীগ্রন্থের আয়াত ও হতে পারে বা তাদের কাছে পাঠানো নিদর্শন ও হতে পারে।
       
      আপনি নামাজ , ক্কিবলা , ইব্রাহীমকে (আঃ) তাঁর পুত্র জবাইয়ের নির্দেশ , আদমের (আঃ) জীবদ্দদশায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে ভাইবোনের বিবাহ জায়জ হয়, তারপর সেটা পরিবর্তন করে সম্পর্কের দ্বিতীয়স্তরে নামানো হয় , তাদেরকে প্রথমে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়, তারপর তা উঠিয়ে নেয়া হয় , এমনি অনেক কথায় বলেছেন , যেগুলো হাদীস ও ইহুদী খৃষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত মন গড়া কাল্পনিক ইতিহাস মাত্র। শুধুমাত্র কোরান থেকে এর উত্তর খুজেন , তাহলে সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র পাবেন। জানতে চাইলে একটি একটি করে প্রশ্ন করুন , ইনশাল্লাহ কোরান থেকে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।
       
       

      1. 5.1.1
        এম_আহমদ

        ইতিহাসকে মানা হয়নি বা এই ইতিহাস যে সত্য তেমন দাবীও করিনি বা এই ইতিহাসের নিরিখে আমার যুক্তিগুলো ও দাড় করাই নি। ইতিহাসের কথাটুকু এসেছে পোস্টের ভূমিকা হিসাবে এবং যারা ইতিহাস ও হাদীসের উপরে ভিত্তি করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করছেন , তাদেরকে তাদেরি ইতিহাস স্মরন করিয়ে দেয়ার জন্য। পোস্টে আমার যুক্তির ভিত্তি হলো কোরান , ইতিহাস নয়।

         
        ১। (ক) তাহলে বুঝা গেল যে আপনি আগের মতই ইতিহাস মানেন না এবং এই সূত্রে যে কথাগুলো বলেছেন সেই ঐতিহাসিকতার অসত্যতাতে আপনি বিশ্বাসীও নন। অর্থাৎ যাদের নাম উচ্চারণ করে ৪০০ হিজরিতে নাসেখ মানসূখের ধারণা শুরু হয়েছিল বলেছিল সেই কথাতে আপনি এখন আর নেই।
         
        তাহলে, কোরানে নাসখ আছে কী নাই তা কোরানকেই প্রমাণ করে দিতে হবে –যুক্তির দিক দিয়ে এটাই হতে পারে আপনার কথা। আপনি হাদিস মানবেন না, সাহাবীদের কথা মানবেন না,  এই দুই উৎস এবং তৎকালীন সময়ের ভাষার ব্যবহারিক অর্থ ও সামাজিক বাস্তবতায় দেখানো প্রাসঙ্গিক অর্থ (socio-contextual meaning) যা তফসীরকাররা বিপুল আকারে দেখিয়েছেন –তাও মানবেন না। আপনার শুধু একটি কথা ‘কোরান’ অনলি। ঠিক আছে।
         
        কোরানের প্রমাণ
        ২। (ক) কোরান তার মধ্যে ‘নাসখ’ (অনুবর্তন/রহিত করণ) আছে বলে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। কোরান বলে, ‘আমরা কোন আয়াতকে ‘নাসখ’ (রহিত) করলে  অথবা মন থেকে ভুলিয়ে দিলে (বিস্মৃতি ঘটালে) তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি।’ এখানে কোরান নিজেই প্রমাণ করে যে তার মধ্যে ‘নাসখের’ (বা রহিত করণের) বিষয় আছে (২/১০৬)।
         
        (খ) কোরান আবার বলছে, ‘আমরা যখন এক আয়াত রহিত (বা অনুবর্তন) করে তার স্থলে অন্য আয়াত আনি, এবং আল্লাহই ভাল জানেন তিনি কি নাজিল করেন, তখন তারা [মুশরিকরা] বলে, আপনি [মুহাম্মদ] তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং এদের অধিকাংশ (ওহী সংক্রান্ত নসখ/বদল বিষয়ে) জ্ঞান রাখে না (১৬/১০১)। এখানেও কোরান তার নিজের মধ্যে ‘রহিত’ করণের বিষয় রয়েছে বলে প্রমাণ করে। 
         
        (গ) শুধু এখানেই নয় আরও আছে। কোরান বলেছে, ‘আমরা আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু ‘তামান্না’ (কল্পনা/ অহীর মুহূর্তীক textual reading intent ) করতেন,  তখনই শয়তান তাদের সেই কল্পনায় কিছু প্রক্ষেপ করত। অতঃপর আল্লাহ শয়তানের সেই প্রক্ষেপকে ‘নাসখ’ করে দেন এবং আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়, (22/52)। এখানেও কোরান নসখের কথা উল্লেখ করেছে। সুতরাং কোরানে নসখ নেই এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আপনার উচিৎ হবে ব্লগের শিরোনাম বদলানো।
         
        ৩। নসখ আছে –এটা প্রমাণিত। এটাও প্রমাণিত যে ‘আয়াতকে’ নসখ করা হয়। (২/১০৬, ১৬/১০১, ২২/৫২) এখন আয়াত কি –তাই হবে কথা।
         
        ৪। (ক) প্রসঙ্গগত ‘আয়াত’ হচ্ছে টেক্সট। কন-টেক্সট তাই প্রমাণ করে। আল্লাহর কাছ থেকে যা আসত তা টেক্সট। গোটা কোরানটাই টেক্সট। অহীর সব আদেশ, নির্দেশ ও যাবতীয় বর্ণনা টেক্সচুয়্যাল (textual)। শব্দ ও বাক্যে গড়া। ২২/৫২ আয়াতের 'তামান্না’ হচ্ছে কিরাআত, অর্থাৎ পাঠ (আল-ক্বুরতুবী/এবং অন্যান্য মুফাসসীরগণ)। সুতরাং নসখের বিষয় হচ্ছে টেক্সট, পাঠ্য বস্তু। শয়তানের দুষ্কর্ম ছিল টেক্সট বিষয়ে। এই টেক্সটকেই আল্লাহ নিরাপদ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
         
        (খ) মুসলমানদের কাছে নাসেখ/মানসূখ জরুরি বিষয়। আল্লাহর আইনকে জানা, বুঝা এবং প্রয়োগ করার ব্যাপারে বিষয়টি জরুরি। ইবাদত থেকে শুরু করে অনেক অনেক প্রসঙ্গে নাসেখ/মানসূখের অবস্থান এসেছে। অসিয়্যাতের ব্যাপারে, রমজানের রাতে স্ত্রী-সহবাসের ব্যাপারে, মর্যাদার মাস (শাহরুল হারাম) ব্যাপারে,  ইদ্দতের ব্যাপারে এবং আরও অনেক কিছুতে। পূর্বের অবস্থান এবং পরের অবস্থান –উভয়ই টেক্সুয়্যাল (textual), যে আলোচনায় যাওয়া হবে সেটাই হবে টেক্সটকে কেন্দ্র করে। তাছাড়া আল্লাহর আইনের পূর্বেকার অবস্থান এবং পরের অবস্থান দেখে নীতিগত ইস্তেম্বাতের ক্ষেত্রে এই বিষয়ের জ্ঞান জরুরি এবং তার ক্ষেত্র হচ্ছে টেক্সট।
         
        ৫। মসজিদে হারামের দিকে ক্বিবলা করার কথা কোরানের, ইব্রাহীমকে (আঃ) তাঁর পুত্র জবাইয়ের নির্দেশও করানের, মুসার (আঃ) যেসব অনুসারীরা বাছূর পূজার শিরক করেছিল, তাদেরকে প্রথমে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয় তারপর তা উঠিয়ে নেয়া হয় -এসব কোরানের কথা, নসখ সংক্রান্ত কথা। এগুলো কী ইয়াদীরা কোরানে ঢুকিয়ে দিয়েছে? ইয়াহুদীদের কথা হবে কীভাবে? 
         
        ৬। আপনারা এবং মুক্তমনার কাফেরদের মধ্যে ‘মৌলিক’ কোন পার্থক্য নেই। তারাও modernist paradigm এর যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানবাদী, আপনারাও in principle the same। ওহী, আল্লাহ, ফেরেশতা, বেহেস্ত, দোজখ –এগুলো ‘তাদের’ যুক্তি ও বিজ্ঞানে ঠিকে নাই বলেই তারা নাস্তিক। কিছু হাদিস এবং কিছু ঐতিহাসিক তথ্যে আপনাদের দ্বিমত –তাই গোটা হাদিস সম্ভার এবং ঐতিহাসিক তথ্যাদি আপনাদের কাছে বর্জিত, এটা unscientific approach. বিজ্ঞান আর যুক্তির নামে তারাও যেমন ক্ষেত্র বিশেষে অযৌক্তিক থাকে যায়, আপনারাও তাই। যুক্তির ধোপে যা ঠিকে থাকবে, আপনারা তা’ই বিশ্বাস করবেন। এখানে আপনারা modernist কাফেরদের মত যুক্তিবাদের পুজারী। কোরানের যেখানে যেখানে যুক্তি ও বিজ্ঞানবাদের সাথে সাংঘর্ষিক হবে, সেখানে কাচু-মাচু করে সারা মুসলমানদের উপর দোষ চাপিয়ে কাফিরদের modernist principle –এর সাথে সহমত দেখাতেই আপনাদের এত কসরত। আপনি মুক্তমনায় নাসেখ/মানসূখ নিয়ে নিজ স্থানে দাড়িয়ে আলোচনা করতে পারেননি। তাই নাসেখ/মানসূখ নেই বলে যুক্তির অবতারণা করছেন। যে modernist যুক্তিবাদে গোটা কোরানই অমূলক, সেখানে নাসেখ/মানসূখ নেই বলে কী প্রমাণিত হবে? আপনি কোরান অনলি হয়ে কী তাদের কাছে “যুক্তিসম্মত ও বিজ্ঞান সম্মত ধর্মের লোক” বলে গ্রহণীয়তা পেয়েছেন? যুক্তি আর objectivism (these two are again of the modernist features) এর দোহাই দিয়ে এবং নিজ ধর্ম থেকে অনেক দূরে গিয়েও তাদের হাতে গদাম খাচ্ছেন। ব্যর্থ হয়ে কখনো আমুতে, কখন এখানে নিজের ব্যর্থ নিঃশ্বাস ফেলছেন।
         
        আপনি মানবেন না, তবুও বলতে ইচ্ছে করছে। আপনি যে পথে আছেন, বলি –তা একটু পূনর্বিবেচনা করুন। হাদিসের গোটা ভাণ্ডারে সমস্যা নেই, ঐতিহাসিক তথ্যে এখানে সেখানে কিছু সমস্যা থাকলেও গোটা edifice-এ সমস্যা নেই। যেখানে সমস্যা আছে বলে মনে করেন, সেখানে নিয়মতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগতভাবে এনালিসিসে যান। একাডেমিয়ায় কোনখান থেকে শুরু করে আসা হয় তা দেখুন। আপনাকে মুক্তমনায় ও আমুতে কাফিরদের সাথে অনেক ফাইট করতে দেখেছি। আপনার energy আছে। কিন্তু যে principle ও paradigm এর উপর তারা অবস্থিত, সেখানে থেকে কোন ফাইট কাজে আসবে না। বরং এই যুদ্ধে paradigm-ই বিজিত হবে, বাছতে বাছতে কম্বল খালি হয়ে এক সময় হয়ত deist হতে হবে, the road will dictate the end । আমার কথাগুলো কতটুকু বুঝাতে পারলাম- জানি না। তবে মনে হয়েছে, তাই বললাম। এটা আমার ঈমানী অনুভূতি থেকে আসা একটি কথা। কোন শ্লেষ্মা বা ব্যাঙ্গ মনোবৃত্তিতে নয়।
        ভাল থাকুন।

  6. 4
    শাহবাজ নজরুল

    নাসেখ মানসূখের এই কোরান বিরোধী মিথ্যা প্রথমে চালু হয় ৪০০ হিঃ বা ১০০০সনের শেষের দিকে তখনকার কিছু আলেম ওলামা কতৃক , যাদের অন্যতম আহমেদ বিন ইশাক আল দিনারি(মৃঃ ৩১৮ হিঃ), মোহাম্মদ বিন বাহার আল-আসবাহানি (মৃঃ ৩২২হিঃ) , হেবাতাল্লাহ বিন সালামাহ (মৃঃ ৪১০হিঃ) এবং মুহাম্মাদ মূসা আল-হাজমি (মৃঃ ৫৪৮ হিঃ)। তাদের দাবী , কোরানের কিছু আয়াত বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হয়েছে কোরানের অন্য আয়াত দ্বারা। যে আয়াত অন্য আয়াতকে বাতিল করেছে , তাকে বলা হয় ‘নাসেখ’ এবং বাতিলকৃত আয়াত – ‘মানসূখ’।

    আপনার বক্তব্য সঠিক নয় … আমার জানা মতে ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হিজরী) এর অনেক আগেই নাসেখ আর মনসুখ নিয়ে পুরো বই লিখে গেছেন …

    http://aboutislamichistory.blogspot.com/2012/01/imam-ahmad-ibn-hanbal.html
    Amongst his publications, the more famous are Kitab ul Musnad (based upon 30,000 ahadith), Kitab ul Tafseer, Kitab us Salaah, Kitab us Sunnah, Kitab un Nasikh and Mansukh and others.

    1. 4.1
      ফারুক

      আপনার বক্তব্য সঠিক নয় … আমার জানা মতে ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হিজরী) এর অনেক আগেই নাসেখ আর মনসুখ নিয়ে পুরো বই লিখে গেছেন … 

      হতে পারে। ইসলামের ইতিহাসের সত্যতা নিয়ে আমার নিজেরি সন্দেহ আছে।

  7. 3
    শাহবাজ নজরুল

    ১) “বিস্মৃত করিয়ে দিলে”- কোরানের আয়াত বিস্মৃত হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? বেশিরভাগ হাফেজ ভুলে গেলেও কারো না কারো তো মনে থাকার কথা , তদুপরি কোরান একবার লেখা হয়ে গেলে তো আর ভোলা সম্ভব নয়।

    এখানে হাফেজ পর্যন্ত না গিয়ে কেবল রাসুল (স:) পর্যন্ত ভাবা যায়না কি? হতে কি পারেনা পুরোপুরি আত্মস্থ করার আগেই রাসুল (স:) কে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আয়াতটা ভুলিয়ে দিলেন? সুরা আলা'তে (৬,৭) কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাই বলছেন।
    We will make you recite, [O Muhammad], and you will not forget. Except what Allah should will. (Sura A'la 6,7)

    1. 3.1
      ফারুক

      এখানে হাফেজ পর্যন্ত না গিয়ে কেবল রাসুল (স:) পর্যন্ত ভাবা যায়না কি? হতে কি পারেনা পুরোপুরি আত্মস্থ করার আগেই রাসুল (স:) কে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আয়াতটা ভুলিয়ে দিলেন?

      আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং তিনি অবশ্যই পারেন -- পুরোপুরি আত্মস্থ করার আগেই রাসুল  কে আয়াতটা ভুলিয়ে দিতে। তবে একটা সমস্যা থেকে যায়। সেটা হলো -- যে আয়াত এখনো সাহাবিরা/ মুসলমানরা/আহলে কিতাবরা জানল না , তাহলে তারা কেমনে জানবে যে ,  এখন যে আয়াতটি শুনছে সেটি না জানা আয়াতের পরিবর্তে এসেছে? বা ১৬:১০১ আয়াত অনুযায়ী "আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন" এমন কথা বলার ও কোন যুক্তি থাকে না। 
       

      সুরা আলা'তে (৬,৭) কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাই বলছেন।
      We will make you recite, [O Muhammad], and you will not forget. Except what Allah should will. (Sura A'la 6,7)

      আয়াতটিতে দেখুন 'মা শাল্লাহ' বলা হয়েছে , 'ইন শাল্লাহ' নয়।। কোন কিছু ঘটে গেলেই বা আল্লাহ সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলেই 'মা শাল্লাহ' বলা হয়।  সুতরাং সম্ভবত সঠিক অনুবাদ হবে --
      Shabbir Ahmed
       87:7 And God wills that you should never forget. Certainly, He knows all that is open to human perception as well as all that is hidden

      1. 3.1.1
        করতোয়া

        এই "সাব্বির আহমেদ" এর পরিচয়টা কি দিবেন? আমি একজনকে চিনি এই নামে আমেরিকার ফ্লোরিডা'র বাসিন্দা পাকিস্থানী নাগরিক যিনি "মোহাম্মদের সুন্নাহ  নয় শুধু-ই কোরআন-ই ইসলামের সোর্স" প্রচার করছেন। আমেরিকায় অনেকে বলে এই সাব্বির আহমেদ-ই কোরানিষ্ট মুসলিম বা কোরআন অনলি মুসলিম গ্রুপের মূল ধারক ও বাহক। 

        1. 3.1.1.1
          ফারুক

          যতদুর জানি , ইনিই তিনি। তবে আমার সাথে পরিচয় নেই।
          কোরানিষ্ট মুসলিম বা কোরআন অনলি মুসলিম গ্রুপের মূল ধারক ও বাহক বলে কেউ নেই। সকলেই নিজের বিচার বিবেচনার উপরে ভর করে চলে। সত্যিকারের কোরানিষ্ট মুসলিম সম্পর্কে জানতে চাইলে http://free-minds.org/forum/index.php এখানে যেতে পারেন। শুধুমাত্র কোরানে বিশ্বাসী মুসলমান , খৃষ্টান ইহুদি এবং আরো অনেককেই পাবেন।

  8. 2
    orbachin

    ai sob khora jukti die kaj hobe na…..shahos thakle mukto mona er oi lekha tay gie apnar cmt koren

    1. 2.1
      ফারুক

      সাহস ঠিকই আছে এবং মুক্তমনায় গিয়ে ঐ পোস্টে কমেন্ট ও করেছিলাম। কিন্তু মুক্তমনার মডারেটর ও অভিভাবকদের সাহসে কুলায়নি সেটা প্রকাশ করার।

      1. 2.1.1
        সাগর

        বিরক্তি কর যুক্তি …।।এসব ছাই লেখা বাদ দেন…।ধারমিকদের ভন্দামি অসহ্য

    2. 2.2
      এম_আহমদ

      @orbachin:
      যেহেতু আলোচনা এখানে হচ্ছে এবং এখানেই আপনি মন্তব্য করছেন, তাই আলোচ্য বিষয়ে আপনার সাহসটা এখানে একটু দেখালে কি হয়? কিছু আলোচনা করুন তো।

  9. 1
    আব্দুল হক

    আপনি যে ব্যখ্যা দিলেন তা সে সঠিক তার নিশ্চয়তা কি? তা ছাড়া মুক্তমনার সেই লোক তো অনেকগুলো হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছে, আপনি তো সে হাদিস গুলো সম্পর্কে কিছু বললেন না। শান্তির আয়াত ও জিহাদের আয়াত গুলো পরষ্পর রাখলে কোন আয়াতের কার্যকারিতা আছে বলে মানুষ জানবে যেখানে জিহাদের আয়াত গুলি শান্তির আয়াতের অনেক পরে নাজিল হয়েছে? চিরন্তন পদ্ধতি তো এটাই পরবর্তী বিধান কার্যকর হবে। তাই না ?

    1. 1.1
      ফারুক

      আপনি যে ব্যখ্যা দিলেন তা সে সঠিক তার নিশ্চয়তা কি?

      আল্লাহ আপনাকে ব্রেণ দিয়েছেন , সেটা ব্যাবহারের জন্য। সেটা খাটিয়ে নিজেই স্বীদ্ধান্তে আসুন।
      ৭:১৭৯ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
       
      হাদিসগুলো সব বানানো এবং এই বানানো কথার উপরে ভিত্তি করেই কোরান ও রসূলকে অবমাননা করা হচ্ছে। যেটা মিথ্যা , তাকে কিভাবে খন্ডন করব?

      1. 1.1.1
        আব্দুল হক

        তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না
        মুক্ত মনার উক্ত ভবঘুরে তো তার বিবেচনা দিয়েই নিবন্ধটি লিখেছে , প্রমান হিসাবে তুলে ধরেছে কোরানের আয়াত ও সহি হাদিস বুখারী ও মুসলিম। আপনি জাকির নায়েকের ভক্ত মনে হয় কারন আপনি হুবহু তার যুক্তি তুলে ধরছেন। মদ্যপান আগে চালু ছিল পরে তা বাতিল হয়, মহানবীকে আল্লাহ যত খুশী বিয়ে আদেশ দেয়ার পর তা রদ করেন বিয়ে করতে নিষেধ করেন, নারীর  ব্যভিচারের শাস্তি ঘরের মধ্যে অনির্দিষ্ট কাল আটকে রাখার পরিবর্তে ১০০ দোররা নির্ধারিত হয়- এসব বিষয়ে আপনার কি মন্তব্য , এগুলো কি নাসেক মানসুকের উদাহরণ নয়? এগুলো তো কোরানের পূর্ববর্তী আয়াত সমূহের কার্যকারীতাই রদ করেছে। সে ক্ষেত্রে ইহুদি খৃষ্টানদের সাথে সহাবস্থান বিষয়ে আগের শান্তি পূর্ন আয়াতের পরিবর্তে মদিনাতে যে ভিন্ন আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে যাতে ইহুদি খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে, তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, এমন কি হত্যা করতেও বলেছে।  পূর্বোক্ত বিষয়ের ঘটনাগুলো মেনে নিতে আপনার কোন অসুবিধা নেই , শুধুমাত্র সহাবস্থান বিষয়ক ঘটনা গুলোর আয়াত মানতে অসুবিধা হচ্ছে, এটা কি সুবিধাবাদিতা নয়? একই তত্ত্ব মোতাবেক কিছু ঘটনা মানবেন আর কিছু মানবেন না , তা তো হয় না।
        হাদিসগুলো সব বানানো এবং এই বানানো কথার উপরে ভিত্তি করেই কোরান ও রসূলকে অবমাননা করা হচ্ছে। যেটা মিথ্যা , তাকে কিভাবে খন্ডন করব?
         
        এক ফুতকারে আপনি হাদিস গুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলেন । আপনি যে এভাবে উড়িয়ে দিলেন এর যুক্তি টা কি ? গত ১২০০ বছর ধরে এসব হাদিস সহি হিসাবে মুসলিম জগতে বিশ্বাস করা হয়েছে আর আপনি তুড়ি মেরে তা উড়িয়ে দিচ্ছেন, আপনি উড়িয়ে দেয়ার কে ? আর ভিত্তিটাই বা কি ? হাদিস বাদ দিলে তো মহানবী(স:)কেও বাদ দিতে হয়। কারন মহানবীর (স:)  জীবনী ও তার আদর্শ আমরা হাদিস থেকেই পাই। হাদিস বাদ দেয়ার মানে হলো মহানবীর(স:)অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। আমাদের মহানবী(স:)  যে একজন ঐতিহাসিক ব্যাক্তি ছিলেন, তা আপনি জানেন কোথা থেকে? নিশ্চয়ই ইতিহাসবিদ থেকে, তাদের বক্তব্য যে সঠিক তার নিশ্চয়তা কি ? ঠিক এভাবেই হাদিস সংগ্রহকারীরা মহানবী(স:) এর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের হাদিস সংকলন করেছেন। বহু হাদিসই বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত আকারে তৎকালীন মানুষের কাছে লিখিত আকারে ছিল, শুধুমাত্র মৌখিক কাহিনী থেকে হাদিস সংগ্রহ করা হয় নি। হাদিস ঠিক সেভাবেই সংকলন হয় যেভাবে কোরান সংকলন হয়। তফাৎ হলো কোরানের অনেক পরে প্রায় পৌনে দুশ বছর পর হাদিস সংকলন হয়। কিন্তু তাতে কি , বহু লিখিত হাদিস ছিল, সেগুলো কিভাবে পাল্টাতে পারে ?  এভাবে হাদিস যদি পাল্টে গিয়ে থাকে তাহলে কোরান সংকলনের সময়েও তো সে ঘটনা ঘটতে পারে ও ঠিক ভাবে কোরান সংকলিত নাও হতে পারে। অথচ সেটা তো আপনি স্বীকার করছেন না। কোরান সংকলনের ঘটনা ও পদ্ধতি আপনি কোথা থেকে জানবেন? নিশ্চয়ই হাদিস থেকে, তাই না ? আল্লাহ তো আর আস্ত একটা কোরান জিব্রাইলের মাধ্যমে মহানবী(স:) এর কাছে পাঠিয়ে দেন নি। কোরান সংকলনের যে হাদিস পাওয়া যায় , আপনি যদি স্বীকার করেন তাহলে স্বীকার করতে হবে কোরান সংকলনে বেশ ত্রুটি ছিল, অস্বীকার করলে আপনাকে প্রমান করতে হবে কিভাবে কোরান সঠিক ভাবে সংকলিত হয়েছিল।   তা ছাড়া সবচাইতে গুরুতর অভিযোগ যা আপনি করেছেন তা হলো ইমাম বুখারী বা মুসলিম এদের মত বিখ্যাত পন্ডিতদেরকে আপনি  অস্বীকার করতে চাইছেন। এভাবে আত্ম নিবেদিত বড় বড় আলেম দেরকে আপনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার কে ? তাদের হাদিস যে বানান ও মিথ্যা তার যুক্তিটা কোথায় ? আপনি বললেই তো আর তা বানান বা মিথ্যা হয়ে যাবে না , তাই না ?
         
         

        1. 1.1.1.1
          ফারুক

           

          মুক্ত মনার উক্ত ভবঘুরে তো তার বিবেচনা দিয়েই নিবন্ধটি লিখেছে , প্রমান হিসাবে তুলে ধরেছে কোরানের আয়াত ও সহি হাদিস বুখারী ও মুসলিম। 

           
          ঠিক কথা। আপনিও আপনার বিবেচনা দিয়ে সেটা বিচার করুন এবং নিজের স্বীদ্ধান্ত নিজেই নিন। আমি জাকির নায়েকের ভক্ত নই , তবে কারো বক্তব্য এমনকি আপনার কথাও যদি আমার বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য মনে হয় , তাহলে সেটা মেনে নিতে আমি দ্বীধা করি না। 
           
          কোরানের যে দুটি আয়াতের উপরে ভিত্তি করে ভবঘুরে  নাসেখ-মানসুখের পক্ষে তার বক্তব্য সাজিয়েছেন , আমি কোরান থেকেই তার বক্তব্য যে ভুল ছিল , তা দেখিয়েছি। এখন আপনার বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করুন।  পরবর্তি পোস্টে তার উদ্ধৃত বাকি আয়াতগুলো নিয়ে আলোচনার আশা রাখি।
           

          এক ফুতকারে আপনি হাদিস গুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলেন ।

           
          এক ফুতকারে উড়িয়ে দেই নি। এ নিয়ে প্রচুর পড়াশুনা করেছি এবং আমার কিছু পোস্ট ও আছে । আমার লেখা হাদীস ও সুন্নাহ সিরিজ পড়ে দেখতে পারেন। 
          http://faruk55kw.blogspot.com/2011/10/blog-post_01.html
           

    2. 1.2
      এম_আহমদ

      শান্তির আয়াত ও জিহাদের আয়াত গুলো পরষ্পর রাখলে কোন আয়াতের কার্যকারিতা আছে বলে মানুষ জানবে যেখানে জিহাদের আয়াত গুলি শান্তির আয়াতের অনেক পরে নাজিল হয়েছে?

       
      যেহেতু আলোচনা এখানে হচ্ছে এবং এখানেই আপনি মন্তব্য করছেন, তাই আপনার উপরের মন্তব্যে কি বলতে চাচ্ছেন, তা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?

      1. 1.2.1
        আব্দুল হক

        তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ)
        দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)
        উক্ত ১০৯: ০৬ (কাফিরুন) ও ০২: ২৫৬(বাক্কারা)  আয়াত গুলোর অনেক পরে নিচের আয়াত গুলো মদিনাতে নাজিল হয়। খেয়াল রাখতে হবে বাক্কারা সূরার বড় অংশ মক্কাতে নাজিল হয়েছিল বাকী অংশ নাজিল হয়েছিল মদিনাতে তখনও মহানবী ( সা:) মদিনায় নবাগত ও ক্ষমতা হীন। আর নীচের আল ০৩: ৮৯ বাক্কারার পরে নাজিল হয় ও তাতে তেমন জিহাদী ভাব নেই। কিন্তু পরের ৯:০৫ ও ৯: ২৯ আয়াত সমূহ অর্থাৎ সূরা আত- তাওবা মদিনার জীবনের  একেবারে শেষে নাজিল হয় যখন মহানবী মদিনাতে একটা ইসলামী রাজ্য গঠন করে ফেলেছেন ও ক্ষমতা সুসংহত।
        যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত। সূরা আল ইমরান, ০৩: ৮৫ মদিনায় অবতীর্ণ
        অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আ ত-তাওবা, ০৯: ০৫মদিনায় অবতীর্ণ
        তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। আত তাওবা, ০৯: ২৯মদিনায় অবতীর্ণ
        উপরিউক্ত আয়াত সমূহ মুসলমান ও অমুসলমান দের সহাবস্থান সম্পর্কে নাজিল হয়েছিল। এক্ষেত্রে কোন আয়াত গুলোর বিধান আমাদের অনুসরণ করা উচিত?

        1. 1.2.1.1
          এম_আহমদ

          @আব্দুল হক:
          ১। আপনি বলেছিলেন, “শান্তির আয়াত ও জিহাদের আয়াত গুলো পরস্পর রাখলে কোন আয়াতের কার্যকারিতা আছে বলে মানুষ জানবে যেখানে জিহাদের আয়াত গুলি শান্তির আয়াতের অনেক পরে নাজিল হয়েছে?” আপনার এই কথাটি “অস্পষ্ট” ছিল। হয়ত বাক্যের গঠনের কারণে। তাই প্রশ্ন করেছিলাম, “যেহেতু আলোচনা এখানে হচ্ছে এবং এখানেই আপনি মন্তব্য করছেন, তাই আপনার উপরের মন্তব্যে কি বলতে চাচ্ছেন, তা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?”  আমি মনে করেছিলাম জিহাদের কথা ও “আয়াতের কার্যকারিতা আছে বলে ‘মানুষ’ জানবে” এই জাতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে অন্য দিকে গিয়েছেন।
          যদিও মূল কথায় যাননি, তবুও যতটুকু বুঝেছি তার আলোকে আপনার জিহাদী কথায় মন্তব্য করি। জিহাদ রাষ্ট্রের ব্যাপার। রাষ্ট্র প্রধানই বিজ্ঞ-ওলামাদের শূরায় জিহাদের স্থান আছে কি না তা নির্ধারণ করবেন। এটাই ইসলামের অবস্থান। ইসলাম বিদ্বেষী অপপ্রচারক মুর্খরা মনে করে প্রত্যেক ব্যক্তি কোরান পড়ে সে arbitrarily যা বুঝবে তার আইনি প্রক্রিয়ায় চলে গিয়ে তা execute করে ফেলবে। এই অপপ্রচারক বিদেষীরা মানবজাতির দুশমন। তারা জাতি জাতিতে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, নিজেদেরকে মানব-দরদী ভাবে। কোরান বলছে, “ওদেরকে যখন বলা হয়, তোমরা জগতে ফেতনা-সৃষ্টি কর না, তখন তারা বলে আমরা তো শান্তিকামী।”  আপনার উল্লেখিত ‘মানুষ’ যদি মুসলমান হয়, তবে সে জানবে যে এটা তার বিবেচনা ও execute করার কিছু নয়। আর যদি সে বিদ্বেষী হয়, তবে এর কথাতে যাওয়ার দরকার নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই বলুক, লিখুক, প্রচার করুক, who cares?  রাস্তায় কত মন্দ লোক কত কিছু বলে। কিন্তু আমরা তাদের কথাকে ignore করলেই চলে।
          ২। তারপর আমার প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন তার ভাষা ও বাক্যের বিন্যাস থেকে দেখা যাচ্ছে এখানে মুক্তমনার যে ব্লগটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তারই মত, যেটি false premises and frail argument এর প্রতিষ্ঠিত। আপনি সেই লেখক হলে সরাসরি সেই মূল আলোচনায় যাওয়া যেত। কিন্তু ধরে নিচ্ছি এটা আলাদা, কারণ এক জাগার কথা অন্য জাগায় আলোচনা করার তেমন কোন মানি হয় না। আপনি যা বলেছেন তা অসংখ্য প্রশ্নের অবতারণা করে। অনেক ভুল তথ্য ও ধারণার প্রেক্ষিতে সাজানো। কিছু কথা অস্পষ্ট। তবুও একটা উত্তর দিচ্ছি। আপনার কথাকে সামনে রেখে স্কয়ার বন্ধনীর ভিতরে আমার কথা দেয়া হবে।
          ৩। তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। কোরান, কাফিরুন- ১০৯:০৬ ( মক্কায় অবতীর্ণ) দ্বীন নিয়ে কোন বাড়া বাড়ি নাই। সূরা-বাকারা, ০২: ২৫৬ ( মদিনায় অবতীর্ণ)। উক্ত ১০৯: ০৬ (কাফিরুন) ও ০২: ২৫৬(বাক্কারা)  আয়াত গুলোর অনেক পরে নিচের আয়াত গুলো মদিনাতে নাজিল হয়। [মক্কায় নাজিল হলে কি হয় আর মদিনায় হলে কি?]
          ৪। খেয়াল রাখতে হবে বাক্কারা সূরার বড় অংশ মক্কাতে নাজিল হয়েছিল  [১। এটা ভুল তথ্য। কে আপনাকে বলল যে সূরা বাকারার বড় অংশমক্কাতে নাজিল হয়েছিল? আপনার কথা শুদ্ধ হলে প্রমাণ দেন। ভুল তথ্যের উপর কিছু ভিত্তি করতে নেই। ২৮৬ আয়াত সম্বলিত সূরা বাকারার সম্পূর্ণই মাদানী,  অর্থাৎ মদিনায় অবতীর্ণ , তবে বলা হয় কেবলমাত্র একটি আয়াত অর্থাৎ ২৮১ নম্বর আয়াত যেটি মক্কায় হজ্জের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল এই যা।] বাকী অংশ নাজিল হয়েছিল মদিনাতে তখনও মহানবী ( সা:) মদিনায় নবাগত ও ক্ষমতা হীন, [২।ক্ষমতাহীনকে বলল? এ সব কী কথাবার্তা? এই evaluation –এর basis কি? সুরা বাকারা যখন নাজিল হয়, তখন কি তিনি ক্ষমতাহীন কিভাবে? হিজরতের পর পরই অবস্থানগত পার্থক্য সূচিত হয়। মুহাম্মদ সেখানে মদিনার নেতা। অমুসলমানরা তার সাথে মদিনা রক্ষার্থে ও শান্তি রক্ষার্থে চুক্তিতে আবদ্ধ। তাঁর অবস্থান মক্কার মত ক্ষমতাহীন নয়।] আর নীচের আল ০৩: ৮৯ বাক্কারার পরে নাজিল হয় ও তাতে তেমন জিহাদী ভাব নেই। [৩। বাকারায় জিহাদী ভাব আছে আর আলে-ইমরানে জিহাদী ভাব নেই, বা কম, এই ধরনের তুলনা কোন প্রেক্ষিতটা কী এবং কিভাবে এসব তুলনায় উপনীত হওয়া হল? Am I in presence of literary criticism here?  এগুলোর কি কোন basis  থাকতে হবেনা?  বাকারায় কেন জিহাদী ভাবধারা থাকল এবং আলে ইমরানে কেন থাকল না?] কিন্তু পরের ৯:০৫ ও ৯: ২৯ আয়াত সমূহ অর্থাৎ সূরা আত- তাওবা মদিনার জীবনের  একেবারে শেষে নাজিল হয় যখন মহানবী মদিনাতে একটা ইসলামী রাজ্য গঠন করে ফেলেছেন ও ক্ষমতা সুসংহত। [৪। এখানে কিন্তুদিয়ে কোন analogy  খুঁজা হচ্ছে? মদিনার প্রথম বর্ষ থেকেই তো তাঁর হাতে ক্ষমতা। দ্বিতীয় বর্ষে বদর যুদ্ধ করছেন। এখানে কি মুক্তমনার সেই আগড়া-বাগড়া আসছে যে মক্কাতে ক্ষমতা নেই, মদিনাতে আছে, সুতরাং তিনি এখন তিনি ইচ্ছামত নাসেক/মনসূখ করছেন? এইই কি যুক্তি? যদি তাই হয়, then that is in fact very telling, you need not say anything more, its all known now.
          ৫। ৩:৮৫ আয়াতের দীন বলতে আপনি কি বুঝেছেন এবং সেই ইসলামই বা কি? আল্লাহর কাছে ইসলাম একমাত্র দীন হলে এটা কোন যুক্তি বহন করে? জোরাজুরির? এগুলো খোঁড়া যুক্তি।  অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত এবং আপনি হয়ত cut and paste করছেন। ৩:৮৫ কি নির্দেশ বাক্য (imperative), না simply informative বাক্য?  আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিত তৈরি করার জন্য  যে analytical process mounting করতে চাচ্ছেন, তার মধ্যে কোরানের তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রকাশ পাচ্ছে না। 3:85, 2:256,109  ইত্যাদি একে অন্যকে negate করছে না। এই দেখুন আমি দেখাচ্ছি। আল্লাহর কাছে একমাত্র দীন হচ্ছে ইসলাম(কোরান)। কিন্তু দীনে কোন বাড়াবাড়ি নেই (কোরান)। (হে মুহাম্মদ) ওরা বিশ্বাস করলো না বলে আপনি তাতে আফসোস করে নিজেকে বিদগ্ধ করবেন না (কোরান)। কেবল আল্লাহই যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দেন। আমি আপনাকে পুলিশ করে পাঠাই নি (কোরান)। আল্লাহ ইচ্ছে করলে গোটা বিশ্ববাসীকে বিশ্বাসী করতে পারতেন (কোরান)। আমি মানুষকে উভয় পথ দেখিয়েছি।(কোরান)। তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে (কোরান) যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং ভাল করবে তার জন্য তার পুরষ্কার রয়েছে (কোরান)। এভাবে অসংখ্য সন্নিবেশ করা যেতে পারে। আলেম-ওলামারা কোরানের আয়াত এভাবেই দেখেন। মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পর সেখানে যে আয়াত নাজিল হয় তা মক্কার সব আয়াতকে নস্যাৎ করে দেয়নি। নাসেখ/মানসূখের অর্থ এটা নয়। আপনি আপনি মূর্খদের পণ্ডিতি কথায় না যাওয়াই ভাল। ওদের আদ্য-পাদ্য ভুল, প্রোপাগান্ডা, মুর্খামি। ওদের থেকে সরে থাকার জন্য কোরানে নির্দেশ রয়েছে। এতে সময় বাঁচে, কুতর্কে যাওয়া আর রাস্তার পাগলদের সাথে ঝগড়া করা সমান।
          ৬। ৯:০৫ এ আয়াত স্থান/কাল কেন্দ্রিক। আপনি ৯:০৫ পড়ে মুশরিক মারার জিহাদে নামার অধিকার নেই এটাই যদি আপনার শেষ প্রশ্ন হয়ে থাকে, তবে এটাই আমার উত্তর। যুদ্ধ, জিহাদ ইত্যাদি আইনি বিষয়। চুরি করলে হাত কাটা/না কাটা, ব্যভিচারীকে রজম করা/না করা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় আইনি। এগুলো রাষ্ট্র, আদালত, রাষ্ট্র প্রধান এবং রাষ্ট্রকে কোরানি interpretation দেয়ার দায়িত্ব বিজ্ঞ ওলামা পরিষদের, আপনার নয়, কোন একক আলেমের ও নয়। মুশরিক জাতিকে যেখানে পাও সেখানে মার, যুদ্ধ কর, এসব বেকুবদের কথা। তাদের নিজেদের বিদ্বেষী interpretation কোরানের উপর চাপিয়ে দেয়া কথা। ইসলাম একটি দীন, একটি সভ্যতা। এটা যদি এত মামুলি হত, তাহলে ১৪০০ টিকে থাকত না।]
           
          ৮। উপরে যা লিখলাম তা হল আপনার মন্তব্য ও প্রশ্নের প্রেক্ষিতে। যদিও আমি উত্তর দিয়েছি, কিন্তু যে ধারায় আলোচনা শুরু হয়েছে সে ধারায় উত্তর দেয়া ছিল আপনার role । আমিই  ব্যাখ্যা চেয়েছি। এবারে আপনার বলার কিছু থাকলে, যে প্রেক্ষিতগত setting তৈরি হয়েছে, তার বাইরে না গিয়ে করতে অনুরোধ করব।  আমি অনেক সময় ব্যয় করে আপনার এই উত্তর তৈরি করেছি। মূল জিহাদী প্রসঙ্গে থাকলে এতকিছুতে যাওয়ার দরকার হত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.