«

»

Aug ২৮

কোরানে নামাজ

হাদিস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কোরান অনুসরন করার কথা বল্লেই , অবধারিত ভাবেই যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় তা হলো – হাদিস না থাকলে নামাজ কিভাবে পড়ব? কোরান থেকে দেখিয়ে দিন নামাজ কিভাবে পড়তে হবে?

মজার ব্যাপার হলো বিশ্বের ৫% মুসলমান ও দৈনিক নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না এবং যারা পড়ে তাদের কয়জন নামাজে কি পড়ছে তা জানে , বলা দুরূহ। সাকুল্যে ১% মুসলমান কোরান বুঝে পড়ে কিনা সন্দেহ। (৫% ও ১% এর পরিসংখ্যানটি আনুমানিক।) তারপরেও নামাজ নিয়ে বিতর্কে এদের উৎসাহে কমতি নেই। কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে তার খুটিনাটি বর্ণনা নেই এটা যেমন সত্য , তেমনি হাদিস থেকে নামাজ শিখতে গেলে বিভ্রান্তি যে আরো বাড়বে সেটা ও তেমন সত্য।

তাহলে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে , সেটা বলতে আল্লাহ কি ভুলে গিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ) নাকি আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে? কোরানে যে ‘সালাতের‘ কথা বলা হচ্ছে তার অর্থ কি নামাজ? নাকি এ দুটি ভিন্ন কোন বিষয়? অথবা নামাজ সালাতের একটি ক্ষুদ্রতর অংশ , এমন কি হতে পারে?

কোরানে সালাত নিয়ে কি বলেছে , সেটা জানার আগে চলুন হাদিস নামাজ নিয়ে আমাদের কি শেখাচ্ছে সেটা জেনে নেই-

ওজু

– হজরত আনাস বলেছেন: রসূল প্রতিবার নামাজের আগে ওজু করতেন। (বুখারি)
– হজরত ইবনে আব্বাস বলেছেন: রসূল কিছুক্ষন ঘুমালেন – মসজিদে গেলেন ও ওজু ছাড়া নামাজ পড়লেন। (বুখারি)
– রসূলের সাহাবারা ঘুম থেকে উঠে ওজু না করেই নামাজ পড়তেন। (মুসলিম)

ফরজ গোসল

– হজরত উসমান বলেছেন: যদি কেউ বীর্যপাতের আগেই পুরুষাঙ্গ বের করে নিয়ে আসে , তাহলে সে যেন পুরুষাঙ্গ ধৌত করে ও ওজু করে। (গোসল করা লাগবে না) (বুখারি)
– প্রবেশ করালেই ওজু করা বাধ্যতামূলক। (মুয়াত্তা)
– রসূল বলেছেন: যখন কেউ স্ত্রীলোকের পায়ের মাঝে বসে জোরে ঠেলে , বীর্যপাত হোক বা না হোক গোসল বাধ্যতামূলক। (মুসলিম)
– উব্বি বিন কাব রসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন , ” যদি কেউ সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাতের আগেই বের হয়ে আসে , তার কি গোসল করা লাগবে? তিনি উত্তর দিলেন , ” তার উচিৎ ওজু করে প্রার্থনা (pray) করা।

খাওয়ার পরে ওজু

– রসূল বলেছেন: আগুনে রান্না করা কোন কিছু খাওয়ার পরেই নুতন করে ওজু কর। (মুসলিম)
– ইবনে আব্বাস বলেছেন , ” রসূলুল্লাহ ছাগলের ঘাড়ের রোস্ট খাওয়ার পরে ওজু না করেই নামাজ পড়লেন। (মুসলিম)

তাকবীর

– হজরত বিলালকে আদেশ করা হয়েছিল আজানে দুই তাকবীর এবং ইকামাতে এক তাকবীর বলার জন্য। (মুসলিম)
– এখন মসজিদে ইকামতের সময় ও ২ তাকবীর বলা হয়। হয়তো বা ইকামতের সময় ২ তাকবীর বলার হাদিস ও আছে। হাদীস অনুসারীরা ভাল বলতে পারবেন।

নামাজে সুরা ও দোয়া পড়া-

– নামাজে সুরা ফাতিহার পরে আর কিছু পড়া লাগবে কি না , এমন প্রশ্নের জবাবে আবু হুরাইরা বল্লেন , যে কোন সুরা পড়াই ভাল , কিন্তু শুধু মাত্র সুরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ঠ। (মুসলিম)
– ফিকহের সকল ইমামগনের মত হলো শধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়লে নামাজ হবে না।

– হজরত উমর “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” জোরে জোরে পড়তেন।(মুসলিম)
– ইমামগণ আমাদের “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” মনে মনে পড়তে বলেছেন।
– হজরত আনাস বলেছেন ,” আমি রসুলুল্লাহ , আবু বকর , উমর এবং উসমানের পিছনে নামাজ পড়েছি। তারা আল-ফাতিহা দিয়ে নামাজ শুরু করেছেন , “সুভানাকাল্লাহুম্মা—-” দিয়ে নয়। (মুসলিম)

– যখন মসজিদে নববিতে মিম্বার তৈরি হলো , রসূল এর উপরে উঠলেন , কিবলার দিকে ফিরলেন , তাকবীর দিলেন , লোকজন সারিবদ্ধ হলো। আবৃত্তির (recitation) পরে উনি হাটুর উপরে রূকুতে গেলেন , তারপর মিম্বার থেকে নেমে আসলেন , মাটিতে সিজদা দিলেন , তারপর আবার মিম্বারে উঠলেন। তিনি আবারো রূকুতে গেলেন এবং তারপরে মাটিতে নেমে এসে সিজদা দিলেন। (বুখারি) (এমনভাবে নামাজ পড়ার কথা আগে কখনো শুনিনি বা দেখিনি , আপনারা শুনেছেন?)

– রসুলুল্লাহ তার মেয়ে ‘জয়নাবে’র ছোট্ট মেয়ে ‘আমামা’কে তুলে নিয়ে (কোলে নাকি ঘাড়ে – জানি না) নামাজ পড়া শুরু করলেন। যখন সিজদায় গেলেন , তিনি তাকে মাটিতে নামিয়ে রাখলেন এবং যখন উঠলেন তাকে (‘আমামা’) আবার তুলে নিলেন। (বুখারি)

– যদি কেউ নামাজীর সামনে দিয়ে যায় , তাকে থামাও। যদি সে না থামে , তাকে হত্যা কর কারন সে শয়তান। (বুখারি)
-আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন , ” আমি একটি মেয়ে-গাধায় চড়ে মিনায় গেলাম। রসুলুল্লাহ নামাজ পড়াচ্ছিলেন। আমি কয়েকজন নামাজির সামনে দিয়ে যেয়ে গাধার পিঠ থেকে নামলাম ও নামাজে যোগ দিলাম। কেউ প্রতিবাদ করেনি।(বুখারি)
– হজরত সাদ বিন আবি ওয়াকাস নামাজের চলাকালীন সামনে দিয়ে যেতেন। (মুয়াত্তা)
– নামাজ চলাকালীন কেউ সামনে দিয়ে গেলে নামাজের ক্ষতি হয় না। (মুয়াত্তা)
– রসুলুল্লাহ বলেছেন , ” সামনে দিয়ে স্ত্রীলোক , গাধা বা কুকুর গেলে নামাজ ভেঙ্গে যায়। (মুসলিম)
– হজরত আয়েশা বলেছেন ,”তোমরা (হাদিস বর্ণনাকারীগণ) আমাদেরকে গাধা ও কুকুর বানিয়েছ। আল্লাহর কসম! রসুলুল্লাহ যখন নামাজ পড়তেন , তখন আমি তার সামনে কম্বলের উপরে শুয়ে থাকতাম।(মুসলিম)

– বুখারিতে ৪ টি হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে: রসূল রূকুতে যাওয়ার আগে ও আত্তাহিয়াতু পড়ে ওঠার সময় কান পর্যন্ত দুই হাত তুলতেন। (আমাদের দেশের মুসলমানেরা কেন হাত তোলে না? তাহলে কি তারা বুখারির হাদিস মানে না?)

-রসূলুল্লাহ কোন ওজর ছাড়াই বা ভ্রমন না করলেও যোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে পড়তেন। (মুয়াত্তা , মুসলিম)

– মুয়াবিয়া বিন হাকাম রসূলের সাথে নামাজ পড়ছিলেন। এক নামাজী হাঁচি দিলেন এবং আমি প্রথামতো “ইয়ারহামাকাল্লাহ”বল্লাম। নামাজ শেষে রসূল বল্লেন ,”নামাজের ভিতরে মনুষ্য কথার অনুমতি নেই। (মুসলিম)
– একদা নামাজ পড়া অবস্থায় রসূলের সামনে শয়তান আসল এবং তিনি ৩ বার বল্লেন , “তোমার উপরে আল্লাহর অভিশাপ”। (মুসলিম) (হতে পারে , রসূলের কথা মনুষ্য কথা নয়)

– বৃষ্টির জন্য দো’য়া করার সময় ছাড়া আর কোন সময় রসূল হাত তুলতেন না। (বুখারি)
– যে কোন দো’য়া করার সময় তিনি হাত তুলতেন।(সুত্র এত বেশি যে উল্লেখ করলাম না)

– রসুলুল্লাহ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তেন। (বুখারি , মুসলিম, নিসায়ি)

– সাহাবারা তীরবিদ্ধ জায়গা থেকে রক্ত পড়তে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়তেন। (বুখারি , মুসলিম , ইবনে মাজাহ ও আরো অনেকে)
– শরীরের কোন জায়গা থেকে রক্ত বের হলে নামাজ ও ওজু দুটোই বাতিল হয়ে যায়। ( বুখারি , মুসলিম , ইবনে মাজাহ ও আরো অনেকে)

– হজরত আনাস বলেছেন , “রসূল পুরো নামাজ খুবি অল্প সময়ে পড়তেন। (মুসলিম)
– রসূল সেই ইমামদের বকতেন , যারা লম্বা সময় ধরে নামাজ পড়াতেন। (মুসলিম)
– হজরত আনাস বলেছেন ,” রসূল রুকুর পরে এত দীর্ঘ সময় স্থীর ভাবে দাড়িয়ে থাকতেন যে মনে হোত তিনি সামনে বাড়তে ভুলে গেছেন। সিজদার সময়ও একি অবস্থা হোত। (মুসলিম)
– আবু সায়িদ খাদরি বর্ণনা করেছেন: রসুলুল্লাহ এত দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়াতেন যে ধরা যাক দুপুরের নামাজ শুরু হলো। এক লোক বাকী কবরস্থানে হেটে গেল , বাড়িতে ফিরে এসে ওজু করে মসজিদে গিয়ে দেখতে পাবে তখনো তিনি প্রথম রাকাত পড়াচ্ছেন। (মুসলিম)

এছাড়াও বুখারি ও মুসলিমে নামাজের বিভিন্ন পয়েন্টে কোন দো’য়া পড়তে হবে , তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অসংখ্য হাদিস পাওয়া যায়।

এই হলো হাদিস থেকে নামাজ শিক্ষা।

১) ঘুমের মধ্যে নাক ডাকলে , আপনার ওজু করা লাগবে না। দুঃখিত , ওজু করা লাগবে।
২) রান্না করা খাবার খেলে ওজু ভেঙ্গে যায় কিন্তু ছগলের রোষ্ট খেলে ওজু ভাঙ্গে না।
৩) রক্ত পড়লে নামাজ ও ওজু বাতিল হয় না। দুঃখিত , বাতিল হয়।
৪) বীর্যপাত না হলে গোসল লাগবে না। দুঃখিত , লাগবে।
৫) আপনি জোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে পড়তে পারবেন। দুঃখিত , একত্রে পড়তে পারবেন না।
৬) দো’য়ার সময় হাত তুলুন। না না , দো’য়ার সময় হাত তুলবেন না।
৭) রুকুতে যাওয়ার আগে ঘাড় পর্যন্ত দুই হাত তুলুন। না না , হাত তুলবেন না।
৮) বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়তে পারেন। আপনি এমনটি করতে পারেন না।(ফিকহ)
৯) নামাজের সময় ঈমাম সিড়ি বেয়ে ওঠা নামা করতে পারে। আদৌ নয়।(ফিকহ)
১০) নামাজে শুধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ট। দুঃখিত , যথেষ্ট নয়।
১১) নামাজের শুরুতে ‘সুভানাকাল্লাহুম্মা’ পড়া যায়। না না , যায় না।
১২) নামাজের ভিতরে আপনি শয়তান বা অন্য কাউকে অভিশাপ দিতে পারেন। না না , কখনো না।
১৩) আত্তাহিয়াতুর পরে যে কোন দো’য়া পড়তে পারেন। না , শুধুমাত্র এইটা আর এইটা।
১৪) নামাজের সময় যেই সামনে দিয়ে যাবে , মানা করলে না শুনলে তাকে হত্যা কর। শুধুমাত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও সাদ বিন আবি ওয়াকাসকে ছাড়া।
১৫) স্ত্রীলোক , গাধা ও কুকুর সামনে দিয়ে গেলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তবে তোমার স্ত্রী নামাজের সময় তোমার সামনে জায়নামাজে শুয়ে থাকলেও নামাজ বাতিল হবে না।

সহীহ হাদীস অমান্য না করে আপনি কিভাবে নামাজ পড়বেন , সেটা আপনিই ঠিক করুন। আমার পক্ষে এই ধাঁধার সমাধান করা দুরূহ ব্যাপার।

পরের পর্বে কোরান নামাজ নিয়ে কি বলে , সেটা নিয়ে আমার ধারনা জানাব ইনশাল্লাহ।

.

৩২ comments

Skip to comment form

  1. 11
    Shahinur

    ভাই ঠিকই বলছেন বুখারীর ভিতর এরকম টাই আছে। হানীফি মাযহাব রা এই ভাবেই নামাজ পড়েন। Bt এই ভাবে নামাজ পড়া আমার কছে পছন্দ হলো না। আমরা(মুসলমান) নামাজ পড়ি প্রথমে জায়নামাজে দাড়িয়ে এই দোয়া ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ্ হিয়া লিল্লাজি, ফাত্বরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল্ আরদ্বঅ হানি-ফাওঁ ওয়ামা-আনা মিনাল মুশরিকী-ন পড়ি। এরপর নামাজের নিয়্যাত ও তাক্ বীরে তাহ্-রীমা। আমরা কানের লতি(ছেলেরা) ও কাঁদ(মেয়েরা) পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নাভীর নিচে(ছেলেরা) ও বুকের উপর(মেয়েরা) তাক্-বীরে তাহ্-রীম বাধিঁ।

    সানাঃ(হাত বাধার পর)
    উচ্চারণ :-সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা’ আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক।
    অর্থ- হে আল্লাহ ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ভিন্ন কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।
    তাআ’উজঃ
    উচ্চারণ-আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম ।
    অর্থ-বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ।
    তাসমিয়াঃবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
    অর্থ-পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।
    এরপর সূরা ফাতিহা , সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পর পবিত্র কোরআনের যে কোন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করি।

    এরপর রুকুঃ রুকুতে যাবার সময় আমরা কান কাদঁ পর্যন্ত হাত তুলি না। ৯০ডিগড্রি মত হাটুতে বাঘের থাবার মতো করে হাত রাখি। রুকুর তাসবীহঃ
    উচ্চারণ-সুবহা-না রব্ বি ইঃয়াল্ আ’জ্বীম। অর্থ-মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহাত্মতা ঘোষণা করছি ।

    তাসমীঃ(রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় পড়ি)
    উচ্চারণ-সামি আল্লা হুলিমান হামিদাহ,
    অর্থ-প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শোনেন ।

    তাহমীদঃ(রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পড়ি)
    উচ্চারণ-রাব্বানা লাকাল হামদ ।অর্থ-হে আমার প্রভু, সমস্ত প্রশংসা আপনারই।

    এরপর সেজদাঃ সেজদা তে যাবার সময় কান অথবা কাদঁ পর্যন্ত হাত তুলি না। প্রথমে রানের উপর হাত রেখে আস্তে করে বসি, জমিনে প্রথমে হাটু রাখি তারপর নাক তারপর কপাল এবং সিজদার তাসবীহঃ
    উচ্চারণ-সুবহা-না রাব্বিয়াল আ’লা। অর্থ-আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ট, তারই পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
    দু’সিজদার মাঝখানে পড়ার দোয়াঃ
    উচ্চারণ-আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী ।
    অর্থ-হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে রিজিক দিন ।
    [হানীফি মাযহাবে এই দোয়া পড়া হয় না, কেউ যদি হানীফি মাযহাব এর হয়ে থাকেন তাহলে এই সময এক তসবী পড়তে যে সময় লাগে , সেই সময় পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পুনঃরায় সেজদায় যাওয়া।] এরপর তাশাহুদ আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফঃ দুরুদে ইব্রাহিম, দোয়া মাসুরা। তারপর সালামঃ প্রথম ডানে পরে বামে।

    আর বিতর নামাজ পড়ার সময় তিন রাকাতে গিয়ে হাত তুলে মোনাজাত করি না। সুরা ফাতিহা ও ক্বিরাত পড়ার পর কান(B) কাদ(G) বরাবর হাত উঠায়ে নাভির নিচে(B) ও বুকের উপর(G) হাত বেধেঁ দোয়ায়ে কুনুত পড়ি।

    সবকিছুর পর সালামের পরে, দোয়া দুরুদ ও হাত তুলে মোনাজাত করি।

    আমি এর থেকে ভালো করে নামাজ পড়তে পারি না।। আর আমি জানি না আমার কোথায় ভুল আছে। ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করতে চাই।

    আর একটা কথা এই ভাই যে হাদিস গুলা পোস্ট করছেন বিভ্রন্তি কর। এবং কিছু অশুদ্ধ এগুলো ফারুক ভাই এটাই প্রমান করতে চাইছেন।

  2. 10
    ওবায়দুর

    আল্লাহ আপনাকে হেদায়ত করুন। আপনি কি আসলে বুঝাতে চাচ্ছেন যে, যাঁকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সারা বিশ্বের রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন তিনি রাসূল (স) আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। আপনার কথা মানলে বলতে হবে আল্লাহ ব্যক্তি নির্বাচনে ভূল করেছেন, জেনারেশন নিবার্চনে ভূল করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

    নিচের কথাটির জবাব আপনার কাছ আশা করছি অনলি কোরআন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহান কুরআন মাজীদে উল্লেখ করেছেনঃ

    "নিশ্চয় রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ" তাহলে এই আয়াতটি কি কুরআন মাজীদ থেকে বাদ দিবেন মি. অনলি কুরআন।

    1. 10.1
      ফারুক

       

      @ওবায়দুর, সালামুন আলাইকুম।

       

      আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়ত করুন এই কামনা করি। তবে সেটা হওয়ার নয় , কারন আল্লাহ তেমনটি চান না।

       

      33:21 যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা (  أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) রয়েছে।     

       

       

      আপনার কেন মনে হলো এই আয়াতটি বাদ দিতে চাই?  কোরানের কোন আয়াতই বাদ দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই বা কোন আয়াতই নাসেখ মানসূখ হয় নি। আপনি হয়তো ভাবছেন এই আয়াত দিয়ে আমাদেরকে বানোয়াট হাদিসের (কেন বানোয়াট , সে আলোচনা আরেকদিন) অনুসরন করতে বলা হয়েছে , তাহলে ভুল ভাবছেন। 

       

      প্রতিটি নবী রসূলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবেন , সেটাই স্বাভাবিক। তারাতো আর খারাপ নমুনা তাদের অনুসারীদের জন্য রেখে যেতে পারেন না!!

       

      এই উত্তম নমুনা (  أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) কেমন হতে পারে , তার বর্ণনা আল্লাহ কোরানের আরেক আয়াতেই দিয়েছেন এবং এটি রসূলের জন্য যেমন প্রযোজ্য ছিল , তেমনটি আমাদের জন্যেও প্রযোজ্য।

       

      ৬০:৪ তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে উত্তম নমুনা (  أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)  রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।

       

      ৬০:৬ তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম নমুনা (  أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) রয়েছে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ বেপরওয়া, প্রশংসার মালিক।    

       

      তাহলে এখন কি আমাদের ইব্রাহিম ও তার সঙ্গীদের হাদিস খুজে বের করা লাগবে?  না বা চাইলেও সেটা সম্ভব না। 

       

      রসূল আমাদের মতোই দোষে গুনে মানুষ। তার ভূমিকা কোরানে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। রসূলের একটি নমুনা কোরান থেকে- 

       

      ৬৬:১ হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।  

       

      ভাবুন- 

  3. 9
    হুমায়ূন

    লেখক,
    ফরয গোসল সংক্রান্ত একটি ফতোয়া নিয়ে আমার কথা আছে। ফতোয়াটি কপি করে নিচে পেষ্ট করলাম।

    ”হজরত উসমান বলেছেন: যদি কেউ বীর্যপাতের আগেই পুরুষাঙ্গ বের করে নিয়ে আসে , তাহলে সে যেন পুরুষাঙ্গ ধৌত করে ও ওজু করে। (গোসল করা লাগবে না) (বুখারি)”

    আমার জানা মতে এমতাবস্থায় ফরয গোসল আবশ্যক হয়, আমি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে এমনটা জেনে এসেছি। আপনার এবং সকলের অবগতির জন্য আমি একটি তথ্য নিচে দিলাম। তাই অনুরোধ রইল শুধুমাত্র সহীহ হাদীসটি যাচাই করে সে অনুসারে সঠিক তথ্যটি তুলে ধরুন।

    Contact between the genitals, because the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “If one part enters the other part (in another report: if one part touches the other part), then ghusl becomes obligatory.” (Reported by Ahmad and Muslim, no. 526) This ghusl is obligatory whether or not fluid (semen) is released. “touching” here refers to the entry of the tip of the penis into the vagina, not mere touching.

    1. 9.1
      এম_আহমদ

      আপনি এই বিষয়ের উপর বর্ণিত অসংখ্য হাদিসের মধ্য থেকে একটি হাদিসের এবারত উদ্ধৃত করেছেন। আপনি এখানে “ফতোয়া” কোন অর্থে ব্যবহার করলেন। আমি তো এই এবারতে কোনো ফতোয়া দেখতে পাই না। একটি হাদিস পড়েই কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া হয় না। এখানে মুফতিগণ অপরাপর হাদিসের এবারতের সমন্বয় ও আলোকে এমনসব বিষয় বিবেচনা করেন। “শারিয়া” হচ্ছে সেই পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনার স্থান। হানাফি মাজহাবে এই ক্ষেত্রে গোসল ফরজ।  

  4. 8
    ওমর

    ফারুক ভাই -- আসসালামু আলাইকুম,
    প্রথমত আমি আপনার বিপক্ষে নই এবং পুরোপুরি পক্ষেও নই।
    আপনাকে আমি একটি আয়াতের কথা মনে করিয়ে দিতে চাইঃ
    পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্র ভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলতে আসে, তারা বলে, “সালাম” (২৫:৬৩)
    অনুগ্রহ করে যারা আপনার আর্টিকেল পড়ে উল্টোপাল্টা, কোনো ধরণের রেফারেন্স ছাড়া কমেন্ট করছে এবং "আমরাতো শুধু আমাদের বাপ-দাদাকে অনুসরণ করি (২:১৭০)" ধরণের মন্তব্য করছে, তাদের পিছনে সময় নষ্ট করবেন না। আপনার দ্বিতীয় পর্বটি তাড়াতাড়ি পাবলিশ করুন।
    দ্বিতীয়ত, প্রতিটি হাদিসের নম্বর দিন। বিশেষ করে হাদিসগুলোর লিঙ্ক দিন sunnah.com থেকে যাতে করে আমরা হাদিস গুলো যাচাই করতে পারি। আমাদের জানা দরকার কোন হাদিসটি সাহিহ, কোনটি হাসান। এছাড়াও মূল আরবি পড়া দরকার। অনেক সময় অনুবাদে ব্যাপক বিভ্রান্তি হয়।
    তৃতীয়ত, আপনি কি সালাতের উপর কোনো টেক্সট বই পড়ে আপনার মত দিবেন? ইসলামিক স্টাডিজ ডিগ্রিতে যে টেক্সট বইগুলো পড়ানো হয়, অনুগ্রহ করে সেগুলো পড়ে দেখুন হাদিস সংক্রান্ত বিভ্রান্তি গুলো ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে কি না। আপনি islamiconlineuniversity.com এর ডিপ্লোমা কোর্সে ফ্রি রেজিস্ট্রেশান করে সালাতের কোর্সদুটির টেক্সট বই দুটি পড়ে দেখুন। আশাকরি অনেকগুলো বিভ্রান্তির অবসান হবে। http://www.fanarinstitute.com/opencampus/course/enrol.php?id=27
    এরপরেও যে ব্যাপারগুলো আপনার কাছে বিভ্রান্তি কর মনে হবে, যদি শুধু সেগুলো নিয়ে লিখেন, তাহলে আপনার লেখাটি একটি অরিজিনাল আর্টিকেল হবে, কারণ সালাত নিয়ে আপনি যেই বিভ্রান্তিগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো নিয়ে অনেক আর্টিকেল ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে এবং সেগুলোর অনেক গ্রহণযোগ্য উত্তর ইতিমধ্যে দেওয়াও হয়েছে। কিন্তু এখনও কাউকে আর্টিকেল লিখতে দেখলাম না যেখানে টেক্সট বইয়ে যে বিভ্রান্তিগুলো ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে, তার বাইরেও আর কি কি বিভ্রান্তি রয়েছে।

    1. 8.1
      নির্ভীক আস্তিক

      @ওমর ভাই, সদালাপের স্বাগতম। ফারুখ ভাই কোরআন অনলি হিসেবে সর্বজন বিদিত। এখানে উনার সাথে যারা তর্ক বিতর্ক করেছেন (আমি ছাড়া তাই ধরে নিচ্ছি আপনি আমাকেই বলেছেন) তারা সকলেই তাদের এলেমের জন্য সরব্জনবিদিত তাই তাদের বেলায় রেফারেন্সের প্রয়োজন অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরকার হয় না, কিন্তু এরপরো তারা প্রয়োজন হলে Attach করেন। 

      ফারুখ ভাই এর সাথে সদালাপের লেখকদের বিতর্ক অনেকদিনের। উনি কখনি কারো যুক্তি মেনে নিতে চান না। ত্যানা প্যাচান এবং অতিরিক্ত মাত্রায় পিছলা। এছারা উনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকৃতির অভিযোগ আছে যেগুলো তাকে সরাসরি ধরিয়ে দেয়ার পরেও সেগুল অস্বীকার করেন। তাই সদালাপের এডমিন সদালাপের ভাবমূরতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এবং পরিবেশের সুস্থতা রক্ষার তাগিদে তাকে সরাসরি পোস্ট করার অধিকার থেকে ইস্তফা দেন।

      অনেক রেফারেন্স দেয়া যাবে। আপাতত নিম্নের পোস্ট গুলো দেখুন-
      ১। ফারুখ সাহেবের ব্লগঃ মিথ্যাচার ও ভন্ডামি- http://www.shodalap.org/m_ahmed/10415
      ২। সতর্ক সঙ্কেত ১- কুরআন অনলি ফারুখ যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন- http://www.shodalap.org/bngsadat/15228
      ৩। সতর্ক সংকেত ২- ব্লগার ফারুখের নিরলজ্জ মিথ্যাচার আর অসততা হতে সাবধান-  http://www.shodalap.org/bngsadat/15292

      আপনার নিকের লিঙ্কে ক্লিক করে আপনার ব্লগ ঘুরে এলাম। সদালাপে নিয়মিত আসবেন। ধন্যবাদ।

  5. 7
    শাহবাজ নজরুল

    ফারুক ভাই প্রচলিত অর্থে নামায পড়েন বলে আগে বলেছেন। তাই তিনি বাপ দাদাদের দেখানো পথেই নামায পড়েন। একটু ভণ্ডামি হয়ে গেলো না?!? বাপ দাদাদের সনদ মানেন কিন্তু সাহাবাদের সনদ নয় -- হুম, আজীব? বাপ দাদারা যে মূলত ঈমাম আবু হানিফার দেখানো পথেই নামায পড়ছেন তা কি তিনি জানেন না? আর ঈমাম আবু হানিফা (কিংবা অন্য ঈমামগণ) যে হাদীস অনুসারেই নামায পড়েছেন তাও কি তিনি জানেন না?
    ফারুক ভাই কি প্রমাণ দেখাতে পারবেন যে, "নামায পড়ো সেভাবে যেভাবে তোমরা আমাকে নামায পড়তে দেখছো" এর বদলে নবী (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের যার যা খুশী ও যার যেমন ব্যাখ্যা সে অনুসারে নামায পড়ো।"
     

    1. 7.1
      ফারুক

      সালামুন আলাইকুম।

      ফারুক ভাই কি প্রমাণ দেখাতে পারবেন যে, "নামায পড়ো সেভাবে যেভাবে তোমরা আমাকে নামায পড়তে দেখছো" এর বদলে নবী (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের যার যা খুশী ও যার যেমন ব্যাখ্যা সে অনুসারে নামায পড়ো।"

      নবী কোরানের বাণী ছাড়া আর কোথায় কোথায় , কি কি বলেছেন , তার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই।

  6. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনুমান নিয়ে কোরানে আরো কিছু কথা আছে -- 
     
     
     

    সূরা আয-যারিয়াত (The winnowing winds )

    (51:10) অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,

     

    1. 6.1
      ফারুক

      (51:10) অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,
      (51:11) যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।
      (51:12) তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত (يَوْمُ الدِّينِ ইয়াওমুদ্বীন) কবে হবে?

       
      এখানে কি সকল অনুমানকারীর কথা বলা হচ্ছে? নাকি নির্দিষ্ট কিছু অনুমানকারীর কথা বলা হচ্ছে? আপনার কি মনে হয়?
       
       

       

       

       

      1. 6.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আমারতো মনে হয় সব অনুমানকারীই এর মধ্যে পড়ে -- কারন অনুমান মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয় -- সত্যকে আড়ালে পাঠায় -- আপনি যেভাবে অনুমান নির্ভর মুসলমানদের নামাজ নিয়ে পরিসংখ্যান দিলেন তা প্রকৃত পক্ষে মিথ্যা তা আপনিই জানেন। সুতরাং এই বিষয়ে আপনি বিভ্রান্ত এবং অন্যকে বিভ্রান্তিতে টানতে চমৎকার করে উপস্থাপনক করলেন। 

        1. 6.1.1.1
          ফারুক

          আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না , দুঃখিত। আপনি যেটা বল্লেন , সেটা অনুমান , conjecture । কারন এই আয়াতগুলোতে পরিস্কার বলা আছে এই অনুমানকারী কারা?  কি নিয়ে তারা উদাসীন ও কি নিয়ে ভ্রান্ত , সেটাও পরিস্কার বলে দেয়া হয়েছে।

          (51:11) যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।
          (51:12) তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত (يَوْمُ الدِّينِ ইয়াওমুদ্বীন) কবে হবে?

  7. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    শুরুতেই হোঁচট খেলাম। ২য় প্যারা পড়ার পর আর আগানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি কারন একজন কোরান অনুসারী কিভাবে অনুমান নির্ভর কথা বলে -- সেইটা ভাবতেই সময় গেল। 
     
    যেখানে কোরানে সুষ্পষ্ট ভাবে বলা আছে --
     
     
     

    সূরা ইউনুস (Jonah )

    (10:36) বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে। 
    -- কোরান অনলী হিসাবে আপনি ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে গেলেন না?
    যাই হোক -- কথা ছিলো হাদিস পুরোপুরি বাদ দিয়ে আমরা কিভাবে নামাজ পড়বো সেই বিষয়ে একটা পোস্ট দিতে আপনাকে অনুরোধ করেছিলাম -- আপনি শিরোনাম দিলেন কোরানে নামাজ আর পুরো লেখায় হাদিসকে বিতর্কিত করার সকল প্রচেষ্টা নিলেন -- কি অবাক বিষয়!
    আপনাকে আবারো অনুরোধ করছি -- হাদিসের রেফারেন্স ছাড়া কিভাবে নামাজ পড়বো, কিভাবে জুম্মা নামাজ পড়বো -- কিভাবে ঈদ জামাত পড়বো -- সেই বিষয়ে যদি কথা বলতে পারেন -- সেইটা বলেন। আপনি হাদিস মানেন না -- একই কথা বারবার বলার জন্যে নানান ধরনের বিতর্ক তৈরী কি দরকার। ্

     

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ফারুক ভাই হাদিস নিয়ে যে ভাবে কথা উল্লেখ করেছেন তাতে বুঝা যায় হাদিস বিজ্ঞান বা হাদিসের ইতিহাস নিয়ে উনি একটি অন্ধ ধারণার মধ্যে পড়ে আছেন। যে কোন বিষয়কে যদি কেউ বিশেষ বদ্ধ ধারণা লালন করেন তাহলে উনার পক্ষে সত্য মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হওয় না। যেমন জন্ডিস রোগী যে দিকে তাকায় সে দিকে শুধু হলুদ রঙ দেখতে পায়।

      1. 5.1.1
        ফারুক

        সালামুন আলাইকুম।

         যেমন জন্ডিস রোগী যে দিকে তাকায় সে দিকে শুধু হলুদ রঙ দেখতে পায়।

        আপনাকে বহু জায়গায় এই উদ্ধৃতিটি দিতে প্রায়ই দেখতে পাই। আসলে আপনি একটি ভুল ধারনা নিয়ে আছেন। জন্ডিস রোগী যে দিকে তাকায় সে দিকে শুধু হলুদ রঙ দেখতে পায় , এটা ঠিক নয়। তারা আমাদের মতোই স্বাভাবিক রঙ দেখে। বিশ্বাস না হলে , কোন ডাক্তার বা জন্ডিস রোগীকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।

         যে কোন বিষয়কে যদি কেউ বিশেষ বদ্ধ ধারণা লালন করেন তাহলে উনার পক্ষে সত্য মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হওয় না।

        কথাটা সত্য।  যেমন আপনার চোখে জাজল্যমান স্ববিরোধী হাদিসগুলো ধরা পড়ছে না বা এগুলোর সত্য মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

        1. 5.1.1.1
          নির্ভীক আস্তিক

          মুয়া হা হা হা হা হা হা হা ! অহ অহ অহ । হা হা হা হা হা । ভাই একটু থামেন আপনি । আপনি তো আমাকে হাসাতে হাসাতে মেরেই ফেলবেন ।

          To the jaundiced eye all things look yellow

          এই proverbs টা কি আপনি জীবনেও পড়েন নাই ? মুনিম ভাই কে দেয়া আপনার উপদেশ দেখে আমার এক বন্ধুর কথা মনে পড়ল । ২০০৬ এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে admission এর তোর ঝোর শুরু ।  Dhaka University এর form কেনার জন্য আমরা বন্ধুরা ঠিক করলাম সবাই সকাল 9.00 am এ মধুর ক্যান্টিনে এসে জড়ো হব। বেশ, সব বন্ধু এসে হাজির কিন্তু বন্ধু তাহের আসে নি । তাই আর এক বন্ধু জিতু কে দাঁড় করিয়ে রেখে আমরা চলে গেলাম form কিনতে। কিছুক্ষন পর বন্ধু তাহের এসে উপস্থিত । সারা শরির ঘেমে অস্থির । জিতুকে দেখে সে বলল -- "দোস্ত আর সবাই কই ? তুই এখানে কেন ? আমি সেই সকাল ৮টা থেকে  কোন ক্যান্টিনে মধু বেঁচে  সেটা খুজতেছি । পাই নাই । "  এই হল অবস্থা ।

          আপনার ভাই সামনে অনেক বিপদ । আপনি সুস্থ হয়ে উঠুন মানসিক অসুস্থতা থেকে, এই কামনা করি ।

    2. 5.2
      ফারুক

      সালামুন আলাইকুম।

      (10:36) বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।
      -- কোরান অনলী হিসাবে আপনি ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে গেলেন না?

      না , কোরান অনলী হিসাবে আমি ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে গেলাম না। কারন:-

      নাস্তিকদের সাথে বিতর্কে , আমরা হামেশাই বলে থাকি ওরা কন্টেক্সট ছাড়া কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলামের সমালোচনা করে। তেমনি আপনি ও কন্টেক্সট ছাড়া কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে ডিসকোয়ালিফাইড করতে চাচ্ছেন। আপনাকে আগে তো জানতে হবে , এই আয়াতে কাদের কথা ও কোন ব্যাপারে আন্দাজ-অনুমানের উপরে চলার কথা বলা হয়েছে। কন্টেক্সট জানতে হলে আগে পিছের আরো দুটি আয়াত পড়ুন- 10:35 ,36,37 পারলে আরো একটু আগে থেকে পড়ে আসুন , দেখুন বুঝে আসে কি না?
       

      জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য। অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?
       

       

      বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।
       

       

      আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই-তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে।
       

       
      আয়াতগুলো পড়ে যা বুঝলাম --  ধর্মীয় অনুশাসন ও সত্য-সঠিক পথের জন্য যারা কোরান ছাড়া অন্য শরিকদের উপরে নির্ভর করে ,  তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে।
       

      আমি যে অনুমানটি করেছি সেটা নামাজী ও বুঝে পড়া নামাজীর সংখ্যা নিয়ে , যার সাথে  ধর্মীয় অনুশাসন ও সত্য-সঠিক পথের কোন সম্পর্ক নেই। ধর্মীয় অনুশাসন ও সত্য-সঠিক পথের জন্য ছাড়া অন্য যে কোন বিষয়ে অনুমান করতে কোরান নিষেধ করেছে এমন আয়াত আমি পাই নি। আপনি পেলে জানাবেন , আমি নিজেকে শুধরে নেব।
       

       আপনাকে আগেও বলেছি জীবণে চলার পথে কিছু কিছু বিষয়ে অনুমানের (educated guess ) উপর নির্ভর করাই লাগে। তবে  সেগুলো কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক হলে অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

      আপনি শিরোনাম দিলেন কোরানে নামাজ আর পুরো লেখায় হাদিসকে বিতর্কিত করার সকল প্রচেষ্টা নিলেন — কি অবাক বিষয়!

      আপনি মনে হয় এই পোস্টে লেখা এই লাইনটি ( কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে তার খুটিনাটি বর্ণনা নেই এটা যেমন সত্য , তেমনি হাদিস থেকে নামাজ শিখতে গেলে বিভ্রান্তি যে আরো বাড়বে সেটা ও তেমন সত্য ) পড়েন নি।

      না , হাদিসকে বিতর্কিত করার জন্য নয় , বরং যারা নামাজের খুটিনাটি কোরানে খুজে না পেয়ে হতাশ হয়ে হাদিসের শরনাপন্ন হলে নামাজের কেমন খুটিনাটি পেতে পারেন , সেই সম্পর্কে আভাষ দেয়ার জন্যই হাদিস থেকে এটুকু উদ্ধৃতি দেয়া জরুরি ছিল। আমি তো তাও সকল বিভ্রান্তিমূলক হাদিসের উদ্ধৃতি দেই নি , কারন সেটা লিখতে হলে পোস্টের কলেবর অনেক অনেক বড় হয়ে যেত।

      1. 5.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        যারা নামাজের খুটিনাটি কোরানে খুজে না পেয়ে হতাশ হয়ে হাদিসের শরনাপন্ন হলে নামাজের কেমন খুটিনাটি পেতে পারেন , সেই সম্পর্কে আভাষ দেয়ার জন্যই হাদিস থেকে এটুকু উদ্ধৃতি দেয়া জরুরি ছিল।
         
        -- সুতরাং দেখা যাচ্ছে ্  আমি কম্বল ছাড়লেও কম্বল আমাকে ছাড়ছে না। হাদিস ছাড়া নামাজ পড়ার কোন উপায় নেই -- যদিনা মজবাসার তরিকার মতে ( প্রার্থনা) করার মধ্যেই নামাজ আদায় শেষ করি। ফারুক, আপনি যেভাবে ঘাড় দিয়ে পাহাড় ঠেলার চেষ্টা করছেন তা আসলেই কৌতুহলপ্রদ। সমস্যা নে্ই -- তবে যদি পারেন একটা পূর্নাংগ লেখা দেন কিভাবে কোরান অনুসরন করে ইসলামের অনুশাসনগুলো পালন করা যায়। 
         

  8. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    আল্লাহু আকবার!!! এই পোস্টের মাধ্যমে ফারুক সাহেবের ইসলামী জ্ঞানের পরিমাপ করা সম্ভব হল।

  9. 3
    করতোয়া

    অবশেষে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। অবশেষে লুঙ্গি খুইলাই ফ্যালাইলেন লেখক। অনেক আগে মন্তব্য করেছিলাম লেখক একদিন নামাজ ৫ ওয়াক্ত থেকে ৩ ওয়াক্ততে নামিয়ে আনবেন তারপর দেখাবেন নামাজ-ই পড়ার দরকার নাই। তাই তিনি নামাজ আর সালাতের মধ্যে এখন ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করেছেন।
     
    সৎ সাহস থাকলে হাদিসের মধ্যে আঙ্গুল না খুচিয়ে সরাসরি "আপনার কোরআনের" আয়াত দিয়ে-ই দেখান সালাত পড়ার ব্যাপারে আপনার "আল্লাহ" কি বলেছেন।

    1. 3.1
      ফারুক

      সালামুন আলাইকুম (আপনার উপরে শান্তি)।

      সৎ সাহস থাকলে হাদিসের মধ্যে আঙ্গুল না খুচিয়ে সরাসরি "আপনার কোরআনের" আয়াত দিয়ে-ই দেখান সালাত পড়ার ব্যাপারে আপনার "আল্লাহ" কি বলেছেন।

      সৎ সাহস আমার আছে  এবং তার প্রমাণ ইনশাল্লাহ পরের পর্বগুলোতেই পাবেন। সে পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন।
       
      আপনি যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করেন এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ নেই এবং আপনার উদ্দেশ্য ও যে সৎ , তাতেও আমার সন্দেহ নেই। সেকারনে একটা অনুরোধ , আমাকে যত ইচ্ছা গালাগালি করুন বা আমাকে ভুল প্রমাণ করুন , তাতে আমার আপত্তি নেই। তবে আপনার কমেন্টের বোল্ড ও আন্ডারলাইন করা অংশটুকু খেয়াল করুন। এমন কমেন্ট করার আগে একটু চিন্তা করুন।

      1. 3.1.1
        করতোয়া

        যেভাবে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের দাঁতের মাজন বিক্রেতার মত আপনি কোরআন এর বিভিন্ন আয়াতের নিজের মনগড়া অর্থ দিয়ে নতুন ভার্সনের কোরআন ভিক্তিক ইসলামকে ফেরি করে বেড়াচ্ছেন" তাতে "আপনার কোরআন" আর "আপনার আল্লাহ" বলা ছাড়া উপায় কি। আপনার সম্পাদিত কোরআনের বানী তো আপনার তৈরী করা আল্লাহ-ই তো শুনার কথা।
        এত বোঝেন আর আমার মন্তব্যের ভাষা বোঝেন না? আমি চিন্তা করেই মন্তব্য করেছি। গতকাল বার্নাড রাসেল এর একটা বই পড়ছিলাম "Knowledge and Logic" । বইটি পড়েন অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

  10. 2
    নির্ভীক আস্তিক

    । পোষ্ট দাতা তার পোষ্টে  তার সল্পজ্ঞান থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অহেতুক ত্যনা প্যাচানো টাইপের পোষ্ট দিয়েছেন । অনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল --

    আমার অনুরোধ হলো —  আপনি হাদিস অনুসরন করেন না — সেই আলোকে ইসলামের মুল স্তম্ভগুলো ( সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত) কিভাবে পালন করা যায় ( হাদিস বাদ দিয়ে) তার একটা বিস্তারিত আলোচনা করে লেখা দিন। যেমন কখন ফজর নামাজ পড়বো — কত রাকাত পড়বো, কিভাবে রুকু সেজদা দেবো অথবা আদৌ রুকু সেজদা দেবো কিনা ( ইসমাইলীরা রুকু সেজদা ছাড়াই নামাজ পড়ে) — কিভাবে পড়া যাবে — হজ্জ কখন পালন করবো, যাকাত আদায় কিভাবে করবো — ইত্যাদি বিস্তারিত জানতে চাই।

    উনি এসকলের উত্তর না দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন । তাই পাঠক বিভ্রান্তিমূলক পোষ্ট এরিয়ে চলুন এবং মাওলানা, মোহাদ্দেস ও মুফতিদের কাছ থেকে সঠিক হাদিস জেনে নিন।

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      পোস্টদাতা অনেক পুরনো পাপী, উনি যুগে যুগে ত্যানা প্যাচায়য়াই গিয়াছেন। আর উনি খুব পিছলা। এই লেখাতে উনি যা লেখছেন তার সকল জবাব যে আমাদের আলেমদের কাছে আছে তা তিনি নিজেও জানেন। তার পরেও হালকার উপরে কিছু সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়া উনার পেশা। অতএব উনাকে এড়িয়ে চলাই ভালো।

      1. 2.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        বেশ জনপ্রিয় একটা কৌতুক আছে -- একদা হাটতে হাটতে ছেলেকে তার বাবা হরিচাদের গল্প শুনালো । ছেলে জিজ্ঞাসা করল, "বাবা, হরিচাদ কে ?" বাবাতো জানেনা , হরিচাদ কে ! সে নিজেও হরিচাদ এর গল্প তার বাবার কাছ থেকে শুনেছে, আর তার বাব শুনেছে তার বাবার কাছ থেকে । বাবা উত্তর দিল -- "হরিচাদ ? উনি একজন মানুষ । মানুষ হয়েও মহা মানুষ । তবে লোকটা তার চাইতেও অনেক খারাপ ছিল । উনি এখন আর বেচে নেই, তবুও তিনি যে হরিচাদ এতে কেন সন্দেহই নেই !" -- পোষ্টের লেখক হারে মজ্জায় অই **বাবার** মতই একটা চরিত্র ।

        আমার মন চাচ্ছিল এডমিনের কাছে লোকটাকে ব্যান করার দাবি করি কিন্তু তাহলে মুক্তমনারা  প্লাষ্টিকের রিভালবার বানিয়ে গুলি ছোরতে চাইবে সদালাপের দিকে । তাই সবাইকের অনুরোধ করেছি যেন ওনার পেছনে অহেতুক সময় নষ্ট না করে কেবল এক লাইনের মন্তব্য করতে -- "বিভ্রান্তিমূলক পোষ্ট । এরূপ লেখকের পোষ্ট এরিয়ে চলুন ।"

    2. 2.2
      ফারুক

      @ নির্ভীক আস্তিক,
      সালামুন আলাইকুম (আপনার উপরে শান্তি)।
      আমার জ্ঞাণ যে স্বল্প , সে ব্যাপারে আমার নিজেরও সন্দেহ নেই।
       
      আপনার বিস্তর জ্ঞাণ দিয়ে আমি মানুষকে কিভাবে বিভ্রান্ত করছি , তা পয়েন্ট বাই পয়েন্ট লিখে জানান। শুধু দাবী করলে আপনাকে যারা জানে চেনে , তাদের কাছে ছাড়া অন্য অনেকের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
       
      কোরানে নামাজ নিয়ে আমার কি ধারনা সেটা জানার জন্য পরের পর্বগুলোর জন্য একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। আমি তো হারিয়ে যাচ্ছি না।
       
       

      1. 2.2.1
        নির্ভীক আস্তিক

        আমার উপর শান্তি ? —-এই শান্তি কই ? মাথার এক ফুট উপরে? নাকি চুলের গোড়ায় ? নাকি আল্লাহ্‌ বর্ষণ করবে ? সালাম টা ঠিক ভাবে দিতেও কি গুঁড়ো কৃমিতে কামড়ায় আপনার ? কোন জায়গায় বিভ্রান্তি আছে তা বিস্তারিত বলার সময় নেই । ২য় প্যারাতেই গলদ--

        মজার ব্যাপার হলো বিশ্বের ৫% মুসলমান ও দৈনিক নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না এবং যারা পড়ে তাদের কয়জন নামাজে কি পড়ছে তা জানে , বলা দুরূহ। সাকুল্যে ১% মুসলমান কোরান বুঝে পড়ে কিনা সন্দেহ। (৫% ও ১% এর পরিসংখ্যানটি আনুমানিক।) তারপরেও নামাজ নিয়ে বিতর্কে এদের উৎসাহে কমতি নেই।

        কইলেন ৫% আর ১% এরপরেই কইলেন আনুমানিক । এইটা বিভ্রান্তিমূলক নয়  ? ফারুক নামের ১০০% কোরান অনলি লোক ফাজিল, ভন্ড, প্রতারক, ইডিয়েট, ত্যানা প্যাচানিকারি ! তবে পরিসংখ্যানটি টি আনুমানিক । এইটাও তাহলে বিভ্রান্তুমূলক নয় । কারন দুটোই পরিসংখ্যান । বাংলাদেশের খোদ নিয়মিত তবলীগওয়ালারা এক ওয়াক্ত নামায-ও কাযা করে না । একটু খবর নিয়ে দেখুন ।

        কোরানে নামাজ কিভাবে পড়তে হবে তার খুটিনাটি বর্ণনা নেই এটা যেমন সত্য , তেমনি হাদিস থেকে নামাজ শিখতে গেলে বিভ্রান্তি যে আরো বাড়বে সেটা ও তেমন সত্য।

        এই লাইনে স্বীকার করলেন কোরানে নামায পড়ার খুটিনাটি বর্ণনা নেই, হুম ! বেশ, প্রীত হলাম । ভাবলাম এই বুঝি কুদ্দুস লাইনে আসল কিন্তু এর পরেই কুদ্দুস দাঁত খেলিয়া কহিল হাদিস থেকে নামায পড়লে বিভ্রান্তি আরো বাড়বে, হু হু । আমি মাঝ পথে দাড়িয়ে কূল কিনারা না পেয়ে আফসুস করলাম -- হায়রে আবুল ! তাইলে ব্যাপার কি দাড়াইল ? কোরানে আল্লাহ্‌ কহিলেন নামায পড়িও কিন্তু নামায কি করে পড়তে হবে তার খুটিনাটি জানাইলেন না ! তাই বিভ্রান্ত হয়ে ভাবছি, তাইলে কি আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কাবাডি খেলছেন ?  তাই পুনরায় আফসুস করলাম -- হাদিস ছাড়া কি গতি আছে রে আবুল !!

        অইদিন আর বেশি দূরে নাই, যেদিন কোরান অনলিরা দাবি করবে- "আল্লাহ্‌ নামায পড়ার কথা বলেননি, বলেছেন সালাত কায়েম কর। তাই নামায পড়া আর সালাত কায়েম করা এক নয়।" আর তখন আমাদের মত মুসলমানরা বলবে- "কছ কি আবুল !?!"
        বিঃদ্রঃ মার্জিত ভাষা রক্ষা না করার জন্য লেখক ছাড়া অন্যান্যদের কাছে দুঃখিত ।

      2. 2.2.2
        নির্ভীক আস্তিক

        অ আল্লাগো বাঁচাও গো ! অরে ভাইরে । আপনিতো অলরেডি বলছেন, আমি ভুলেই গেছিলাম --

        নামাজ কিভাবে পড়তে হবে , সেটা বলতে আল্লাহ কি ভুলে গিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ) নাকি আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে? কোরানে যে ‘সালাতের‘ কথা বলা হচ্ছে তার অর্থ কি নামাজ? নাকি এ দুটি ভিন্ন কোন বিষয়? অথবা নামাজ সালাতের একটি ক্ষুদ্রতর অংশ , এমন কি হতে পারে?

        তো কোনটা হইতে পারে ভাই ডি ? নামায সালাতের ক্ষুদ্র অংশ !!- হইতে পারে(??) । তয় নামাযের মত ক্ষুদ্র জিনিসের বর্ণনা আল্লাহ্‌ দেয়নাই, তয় সালাতের কায়েমের নিয়ম আল্লাহ্‌ গোপনে রাইখা দিসে ? বয়স কম । এখনো বিয়ে করি নাই । এর আগেই এত বিভ্রান্ত হইলে আমার অল্পবয়সে উচ্চ রক্ত চাপ ধরতে বেশি দিন বাকি নাই । আমারে তো মাইরালাইবিরে আবুল
        পুনশচ, লেখক ছাড়া বাকি সকলের কাছে এরকম মন্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী ।  

        1. 2.2.2.1
          ফারুক

          6:114,115  
          তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
           

          আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
           


           

           

  11. 1
    সাইফুল ইসলাম

    অল্পশিক্ষা ভয়ংকরী।
    কোন কোন হাদীস মানসূখ হয়ে গেছে তা শিক্ষা না করেই হাদীসের বিভিন্নতা নিয়ে লিখছেন।
    এ ধরণের প্রোপাগান্ডা কেবল ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষীদের পক্ষেই ছড়ানো সম্ভব।
     

    1. 1.1
      ফারুক

      সালামুন আলাইকুম (আপনার উপরে শান্তি)।
       
      ঠিকি বলেছেন , অল্পশিক্ষা ভয়ংকরী। সম্পূর্ন রূপে একমত।
       
      আসলেই ভাই , আমি জানিনা  কোন কোন হাদীস মানসূখ হয়ে গেছে। কে কিভাবে সহীহ হাদিসগুলোকে মানসূখ করেছে ,  সেটা জানিয়ে আমি সহ আমার মতো নাদান অশিক্ষিতদেরকে আলোকিত করলে খুবি খুশি হব।
       
       
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.