«

»

Oct ০৪

আমার নামাজ

(প্রথমেই আমি সকলকে সতর্ক করে দিতে চাই যে , নামাজ সম্পর্কে আমার এই বক্তব্য, সম্পুর্নরুপে আমার নিজস্ব। কেউ যদি আমার লেখা পড়ে বিভ্রান্ত হন ,তবে তা নিজ দায়িত্বে হবেন, আমি কারো দায়িত্ব নিতে রাজি নই।)

আমি এমন কোন গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি নই যে আমি কিভাবে নামাজ পড়ি সেটা অন্যদের জানা আবশ্যক বা অন্যদের জন্য অনুকরনীয়। আমি মনে করি কে কিভাবে নামাজ পড়বে এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরন করবে ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে , সেটা যার যার নিজস্ব বিষয়। নামাজ নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ খন্ডন ও জিয়াউদ্দিন সাহেবের সাথে ডিলের কারনেই আমার নামাজ নিয়ে এই লেখা।

আমি প্রচলিত নিয়মেই কোরানের আলোকে কিছু সংশোধনীসহ দৈনিক ৫ বার ফরজ নামাজ পড়ি। কোন সুন্নত নামাজ পড়ি না। ফরজ নামাজের প্রচলিত নিয়ম বা রাকাত সংখ্যা তো কোরানে নেই। তাহলে কোরান বহির্ভূত পদ্ধতিতে নামাজ পড়ে আমি দ্বিচারিতা বা ভন্ডামি করছি কিনা? না , করছি না। কারন-

১) কোরানে যেহেতু নামাজ পড়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা রাকাত সংখ্যার উল্লেখ নেই , সেহেতু আমি মনে করি আল্লাহ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন যার যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে নামাজ পড়ার। নামাজের মধ্যে শিস না দিলে ও তালি না বাজালেই হলো (৮:৩৫)।

২) কোরান অনুযায়ী নামাজের যে ৩ অঙ্গভঙ্গির কথা বলা হয়েছে – দাড়ানো , রূকু ও সিজদা , এর সবগুলোই আমরা প্রচলিত নামাজের সময় করে থাকি। সুতরাং প্রচলিত নিয়মে নামাজ পড়ে আমি কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু করছি না।

৩) আমি নামাজ শিখেছি বাপ মার নামাজ পড়া দেখে ও নামাজের খুটি নাটি জেনেছি সম্ভবত আমাদের বাড়িতে যে মৌলভি সাহেব লজিং থাকতেন , তার কাছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ লোক এভাবেই নামাজ পড়া শেখে। এটাকেই বলে ‘বিল মারুফ’ বা সমাজে প্রচলিত , অনুমোদিত ও গৃহীত কোন নিয়ম। ভিন্ন ভিন্ন সমাজের জন্য ‘বিল মারুফ’ সাধারনত ভিন্ন হয়ে থাকে। কোরানে বহু বার বিল মারুফ অনুযায়ী বিচার করতে বা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

৪) একটা বিষয় লক্ষনীয় , কোরানে না থাকলেও সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে ফরজ নামাজের রাকাতের সংখ্যা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই , আর নামাজ পড়ার ধরনের মধ্যেও যে পার্থক্য , তা খুবই সামান্য। এর থেকে কি এটাই প্রতীয়মান হয়না যে , আল্লাহ নামাজকে মানুষের পালনের মাধ্যমে সংরক্ষন করছেন বা সংরক্ষন করবেন কেয়ামত পর্যন্ত। যে কারনে কোরানে নামাজ কত রাকাত , বা সঠিক ভাবে নামাজ কি ভাবে পড়তে হবে , তা লেখেন নি। খেয়াল করুন ফরজ নামাজে কোন বিভক্তি নেই। ইচ্ছা করলেই কেউ ফরজ নামাজের সংখ্যা বা রাকাত সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেনা বা যদি করেও কেউ মানবে না। ৪:১০২ আয়াত থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে , নামাজে রাকাতের সংখ্যা দুই বা ততোধিক। একারনে ফরজ নামাজে প্রচলিত রাকাত সংখ্যা কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক নয় বিধায় আমি প্রচলিত রাকাত সংখ্যা অনুযায়ী নামাজ পড়ে থাকি।

সংশোধনিসমূহ-

১) আমি নামাজের শুরুতে কোন নিয়ত করি না। আল্লাহ প্রতিটি বান্দার মনের খবর জানেন। একারনে ঘটা করে নিয়ত করাকে আমার কাছে বাহুল্য মনে হয়।

২) আমি সাধারনত বাড়িতে একাকি নামাজ পড়ি। ১০৭ সূরাতে লোক দেখানো নামাজ পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শুধু জুম্মার নামাজ মসজিদে পড়ি এবং কখনো কার্যোপলক্ষে বাড়ির বাইরে থাকলে মসজিদে ওয়াক্তের নামাজ জামাতের সাথে পড়ি।

৩) বাড়িতে পুরো নামাজই ২ , ৩ বা ৪ রাকাত যখন যেটা প্রযোজ্য , মধ্যম স্বরে পড়ি। এমনকি রুকু ও সিজদার সময় তাসবীহ এবং বৈঠকের সময় শাহাদা ও কোরান থেকে দোয়া মধ্যম স্বরে পড়ি।

৪) ১ম ২ রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ‘قُلْ ‘ শব্দটি বাদ দিয়ে সূরা ফালাক্ক ও সূরা নাস পড়ি।

৫) বৈঠকে আত্তাহিয়াতু ও দরূদ পড়ি না। বদলে ৩:১৮ আয়াত শাহাদা হিসাবে এবং কোরান থেকে বিভিন্ন দোয়া পড়ি।

পরিশেষে এটাই বলব , আমার নামাজ সময়ের সাথে আমার জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

১০৫ comments

Skip to comment form

  1. 41
    ফারুক

    গত কিছুদিন ধরে যখনি নামাজ পড়ি , তখনি নিজেকে মুনাফিক মনে হয়। কারন বিশ্বাস করি কোরান সবিস্তারে বর্নীত গ্রন্থ এবং একজন মুসলমানের জন্য করনীয় সবকিছুর নির্দেশ কোরানে আছে। কিন্তু নামাজ যে ভাবে পড়ি তার কোন বর্ননাই কোরানে নেই।  এর অর্থ দাড়ায় বিশ্বাস করি এক , আর করি আরেক। এরাই তো মুনাফিক। নয় কী?
     

    যারা বিশ্বাস করেন না কোরান সবিস্তারে বর্নীত পূর্ন গ্রন্থ নয় , তাদের জন্য এই কমেন্ট প্রযোজ্য নয়।

    1. 41.1
      এম_আহমদ

      আপনি তো এখন বড় সমস্যায়। আপনি যেন আগে বলতেন নামাজের কোন বর্ণনা জানার দরকার নেই। নিজ ইচ্ছেমত যেকোনভাবে পড়লেই হয়। আমি তো মনে করি আপনি আগের অবস্থানে থাকলে অন্তত এই বাড়তি সমস্যায় নিজের মনকে বিদগ্ধ করতে হত না।

      1. 41.1.1
        ফারুক

        ঠিকই বলেছেন , বড়ই সমস্যায় আছি। কোরানের নির্দেশ অনুসরন না করে , আর সকলের মতো আলেম ওলামাদের অন্ধভাভে অনুসরন করতে পারলেতো সমস্যাই ছিলনা। কি আর করা। আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছেন বুদ্ধি দিয়েছেন , সেটা ব্যবহার না করলে যে জবাবদীহি করা লাগবে।

        ৭:১৭৯ 

        আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
         

        1. 41.1.1.1
          এম_আহমদ

          @ ফারুক সাহেব, ভাইজান, আপনার সমস্যার কারণ কিন্তু আলেম-ওলামাদের অনুসরণের কারণে নয়, বরং আপনার মন্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কোরানের পর্যাপ্ত/বিস্তৃত বর্ণনার অভাবজনিত কারণে। যেকোনো ধর্মের ইবাদত-আরাধনায় মনের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। আপনার সাথে আমাদের এতটুকু মিল তো আছে যে আপনি এক আল্লাহয় বিশ্বাসী, পরকালে বিশ্বাসী, কোরানের হারাম-হালালের অনুবর্তী, তাই আপনার মনের অবস্থা অস্বচ্ছ হোক, এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। তাই ভাল নিয়তে কথাটি বলেছি। যে জিনিসটি বিস্তার করার দরকার নেই, সেটি হয়ত কোরানে বিস্তৃত হয়ে আসে নি -এভাবে দেখলে হয়ত আপনার মন থেকে সেই সমস্যা চলে যেতে পারে, এইজন্য বলেছি। ভাল ছাড়া মন্দ উদ্দেশ্য নেই। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

      2. 41.1.2
        ফারুক

        এম_আহমদ ভাই, আপনার input ও সহনশীল মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কতো না ভাল হতো যদি I could go with the flow. আল্লাহ ভরসা।

        ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  2. 40
    anas chowdhury

    rahman vai thik bolesen.
    e derke niye kotha na bolai valo.
    emon pondirder kothay kan diley beshi kotha bolbe, pechal korbe.

  3. 39
    rahman

    আপনাদের কোনো কাজ নেই ! ?

    একজন অতি বুদ্দিমান পন্ডিত মানুষকে শুধু শুধু শিখাতে চেষ্টা করছেন !

    যে কিনা সব কিছু শিখে ফেলছে

  4. 38
    রাজিব

    আপনি রাসুল (সা:) এর সুন্নত মানেন না। ধ্বংস হোক আপনার সব মনগড়া আমল। আল্লহ এই সব বেয়াদব মানুষদের হেদায়েত দান করুক।

    1. 38.1
      ফারুক

      আল্লাহর কাছে আমার জন্য হেদায়েত কামনা করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এইসাথে নিজের জন্য ও যদি হেদায়েত কামনা করতেন তাহলে আরো ভাল হতো , নাকি ভাবছেন আপনি হেদায়েত প্রাপ্ত?

  5. 37
    ফারুক

    এম_আহমদ সাহেব,
    তর্ক করার কোন ইচ্ছা নেই। জানার জন্য আলোচনা করতে রাজি আছি। তবে কোনটা আলোচনা আর কোনটা তর্ক , বোঝা মুশকিল।

    কথা আর বাড়াবো না। মনে হয় যার যার view point আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি। শুধু এটুকুই বলব "আল্লাহর স্মরন আকবর" এবং "আল্লাহ আকবর" এদুটোর মাঝে বিস্তর ফারাক আছে , সেটা যখন আপনি বুঝতেছেন না , তখন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোন মানে হয় না। let's agree to disagree. ভাল থাকুন , সুস্থ্য থাকুন।

    1. 37.1
      এম_আহমদ

      @ফারুক: </em> আমি এই পার্থক্য ভাল করে বুঝতে পেরেছি বলেই ব্যাকরণসহ শব্দের উৎপত্তিগত স্থান থেকে এর  অর্থকে বিভিন্ন আঙ্গিকে উদাহরণসহ দেখাতে পেরেছি, কিন্তু তবুও মাহাত্মপূর্ণ এই শব্দের অর্থে যদি আপনার সমঝ আগের মতই থেকে যায় এবং জেনে শোনেই তা বর্জন করেন, তবে আপনার স্থানেই আপনি থাকুন। ভাল থাকুন।

  6. 36
    এম_আহমদ

    ফারুক সাহেব আপনি ইয়ামানের দিকে মুখ করে নামাজ পড়েন। এর কারণ নিয়ে যে আলোচনা হল তা এভাবে।

    ফারুক:  প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা।

    এম_আহমদ: (১) এটা কি (প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান)  কোরানে আছে? (২) ঐ দিকে কিবলা করা কি কোরানে আছে?

    ফারুক: এটা সরাসরি কোরানে বলা নেই

    এম_আহমদ: সরাসরি না হলেও [পরোক্ষভাবে] কোরানে কোথায় ‘প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকায়’ রয়েছে, তা কি বলা যাবে?   

    ফারুক: ইয়েমেনের দিকে প্রাধান্য দেয়ার কারন হলো আমার সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে।

    এম_ আহমদ:  প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা” যেমন দলিল ভিত্তিক হয়ে আসে নি তেমনি আপনার “সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে” এমনটিও দলিল ভিত্তিক নয়, দলিল অকাট্য হতে হবে। সুতরাং এখনো যখন সেই দলিল সম্পর্কে জানেন না, অথচ ইয়ামানের দিকে নামাজ পড়েন, এটিই হচ্ছে না জেনে আমল।

    ফারুক:  দলিল সম্পর্কে জানব না কেন, জানি বলেই তো সাধারনত ইয়েমেনের দিকে নামাজ পড়ি। [নোট ১]

    এম_আহমদ: হাদিস ও প্রাচীন ইতিহাসের নিরিখে কোথায় ‘আল্লাহু আকবর’ দেবতা ছিল যার পূজা দেয়া হত, এবং ‘প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা ছিল’ – তা কি বলা যাবে? (comment 30:4)

    ফারুক: এটা জানার জন্য পড়া লাগবে (comment ৩০.১:৩)

    ফারুক: কোরানে নেই এমন অনেক কিছুই আমরা করি। সামাজিক রীতি অনুযায়ী অনেক কিছু করি – যেমন খাৎনা করি , হাগু মুতু করে শৌচ করি (অন্য ধর্মালম্বী অনেকেই শৌচ করে না), বেধর্মী শিক্ষায় শিক্ষিত হই (ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হই), কেউ ভাত খায় কেউ কুকুর সাপ ব্যাঙ খায় (কোরিয়ান চাইনিজ) ইত্যাদি।

    এম_আহমদ:  আপনি খাতনা করেন, হাগু করেন, শৌচ করেন কিন্তু এসব কর্ম আর ইয়ামানের দিকে মুখ করে নামাজ পড়া তো এক হতে পারে না। যা কোরানে নাই, কোরান অনলিতে তাও করা যায় –এই নীতিই স্পষ্ট হল। ধন্যবাদ।

    Note: [1]  আপনি আমাকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “আপনিতো সেই দলিল (কোরান বাইবেল ভিত্তিক) না পড়েই তাকে বাতিল করে দিচ্ছেন। না জেনে কোন কিছুকে বাতিল বলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” আমি বা আমরা কোরানকে ভুল বুঝলে, আপনি কোরান অনলিই হয়ে সেই ভুল করা যুক্তিসংগত নয়। আপনি এখনো কোরানের কোনো দলিল দিতে পারেন নি।   

    [2] ভুল বুঝাবুঝি। “সেই বিষয়ে জানার জন্য (আপনার) আরও পড়া লাগবে” [ ৩০.১:৩)] এটা কিন্তু আপনার উত্তর। এই বাক্যকে আরও স্পষ্ট করার জন্য আমি ব্রাকেটে (আপনার) সংযোগ করেছি মাত্র।

    [3]  আপনি বলেছেন, “তাহলে বলতে চাচ্ছেন যারা আল্লাহু আকবর বলে বোমা ফাটায় তারা বিধর্মী? আমি আমার অনুভূতির কথা বলেছি।” এই কথাটি আপনার কাছে স্পষ্ট হয় নি। তাই আবার বলছি। আপনার কথা ছিল যে একদল লোক আল্লাহু আকবর বলে মানুষ হত্যা করে এজন্য আপনি এই শব্দ ছেড়ে দিয়েছেন (আপনার মন্তব্য ২৭)। আমার যুক্তি ছিল যে অন্য ধর্মের লোকদের কারণে অর্থাৎ যারা আপনার কোরান অনলি ধর্মে নেই, তাদের কারণে আপনি আকবর শব্দ ছেড়ে দিতে পারেন না। পরন্তু তারা তো শুধু ‘আকবর’ বলে না, বরং ‘আল্লাহু আকবর’ বলে।

    আশা করি উপরের কথাগুলো  বিবেচনার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আপনার অবস্থান নিয়ে আলোচনা করছি, আক্রমণ, ভাষিক আক্রমণ, তর্ক ইত্যাদির জন্য নয়।

    ________________________

    আকবর শব্দ/দেবতার নাম

    إسم التفضيل (comparative/superlative terms) এ ‘আল’ অর্থাৎ definite article সংযুক্ত হলে তা আর إسم التفضيل থাকে না –এই নিয়মটি কোন ব্যাকরণের, তা কি দেখানো যাবে? আপনার কথাবার্তা আশ্চর্য লাগছে।

    আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ সম্বলিত শব্দদ্বয় ‘আল’ সংযুক্ত হয়ে যখন الأسماء الحسني  হল, তখন কি তার তাফদীল বা elative অবস্থা উহ্য হয়ে গেল?  একটু চেক করে দেখে নিন অনুবাদকগণ কেন এটাকে ‘most beautiful names, সব চাইতে উত্তম নামাবলী, সব উত্তম নাম’ বলে অনুবাদ করেন? আল-সংযুক্ত হলে যদি elative/التفضيل অর্থ মুছে যাবে, তবে তারা কেন এই টার্মকে superlative করে অনুবাদ করবেন?

    ৩১:৩০ আয়াতের الْعَلِيُّ   অথবা আররাহমান আররাহীম কি ‘আকবরের’ (أكبر) মত إسم التفضيل? আমরা কোন আলোচনা করছি, আর কোন ধরণের উদাহরণ নিচ্ছি?

    আপনি কি ২৭ নম্বার মন্তব্যে বলেন নি যে আল্লাহু আকবর ছেড়ে দিয়েছেন, “কারন কোরানে কোথাও আল্লাহু আকবর শব্দদুটি একসাথে নেই।   আল্লাহর সাথে কারো তুলনা করা উচিৎ নয়। আল্লাহ একক, তার সাথে কারো তুলনা চলে না।” কোন্‌ তুলনার জন্য আপনি শব্দ বর্জন করলেন? এই তুলনা কি আল্লাহ শব্দ সম্পর্কিত, না আকবর সম্পর্কিত ছিল? আল্লাহর নামসমূহের অনেকগুলোই আধিক্যবাচক, সবচেয়ে বেশি (مبالغة/إسم المبالغة) ইত্যাদি অর্থবাচক। রাজ্জাক্‌, রাহীম, কাহহার ইত্যাদিতে ‘আল’ যুক্ত শব্দ হয়ে নির্দিষ্টবাচক বা definite হয় কিন্তু তার comparative/superlative অর্থ তিরোহিত হয় না। এটা the Most, the Greatest, the Highest ইত্যাদিতে রূপায়িত থাকে। আকবর যদি তুলনার কারণে বর্জিত হয় তবে এই সবগুলো বর্জিত হতে হবে। ভাষায় কোন ধরণের শাব্দিক ব্যবহার comparative/superlative হয় তা কি না জেনেই আলোচনা করা হবে? 

    আপনি আরেকটি কারণেও ‘আকবর’ শব্দ মুখে আনবেন না –কেননা এটা আপনার দৃষ্টিতে এটা এক দেবতার নাম ছিল (যদিও সেটা কোথায় তা এপর্যন্ত জানেন না আর যদি “ইতিহাসের” বইয়ে কেউ দেখায় এবং তা আপনি মেনে নেন, তবে আপনি ইতিহাসও মানেন বুঝতে হবে)। অথচ এই শব্দটি আল্লাহর স্মরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বলেছেন –এটাই আকবর। আল্লাহ বলেন, وَلَذِكْرُ‌ اللَّـهِ أَكْبَرُ‌ নিশ্চয় আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে ‘আকবর’, অতীব মহান, সবচেয়ে বড় (২৯:৪৫)।  আর এই মাহাত্ম্য ঘোষণা করতে আল্লাহ বলেন, وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ আপনার রবের মাহাত্ম্য বর্ণনা করুন, ঘোষণা করুন (৭৪:৩)। এখানে imperative (فعل الأمر) এসেছে বাবুত-তাফয়ীল (باب التفعيل) থেকে এবং এই বাবে অর্থের আধিক্য (intensity/مبالغة) রয়েছে এবং আকবর বলাতে সেই তাৎপর্য প্রকাশ পাচ্ছে।

    আমি শুধু বিষয়টি বিবেচনা করতে বললাম। করলে করবেন, না করলে নাই। তর্কের প্রয়োজন নেই।

    1. 36.1
      ফারুক

      এম_আহমদ সাহেব,
      তর্ক করার কোন ইচ্ছা নেই। জানার জন্য আলোচনা করতে রাজি আছি। তবে কোনটা আলোচনা আর কোনটা তর্ক , বোঝা মুশকিল।

      কথা আর বাড়াবো না। মনে হয় যার যার view point আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি। let's agree to disagree. ভাল থাকুন , সুস্থ্য থাকুন।

  7. 35
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ফারুক -- আপনার কথাগুলো পড়ে বেশ মজা পাই -- কারন আপনি সোজা রাস্তায় চিন্তা না করে কঠিন ভাবে চিন্তা করেন। এইটাও আল্লাহ একটা নিদর্শন -- আল্লাহ দুনিয়ায় কত ধরনের মানুষ বানিয়েছে -- তাদের চিন্তা ভাবনাও কত বিচিত্র। যাই হোক -- নীচে একটা আয়াত দিলাম -- আমার বুঝ হলো -- উম্মতে মুহাম্মদের জন্যে পূর্বেকার কেবলা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বল্যাই বাহুল্য সেইটা মক্কার মসজিদুল হারাম। এই আয়াত অনুসারে যারা মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত (মানে অনুসারী) তারা সে্ কিবলা মুখী হবে এবং এইটা হলো রসুল (সঃ) এর প্রতি আনুগত্যেরও একটা নিদর্শন -- যা মুসলিম হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ন শর্ত বটে। 

    Sahih InternationalAnd thus we have made you a just community that you will be witnesses over the people and the Messenger will be a witness over you. And We did not make the qiblah which you used to face except that We might make evident who would follow the Messenger from who would turn back on his heels. And indeed, it is difficult except for those whom Allah has guided. And never would Allah have caused you to lose your faith. Indeed Allah is, to the people, Kind and Merciful.

     

    (2:143) এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।

     

    মদীনার ইহুদীরা নানান ধরনের শর্ত নিয়ে আসতো -- এদের এক দল সব কিছু্ই মানতে রাজি যদি তাদের কেবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া হয় এই শর্তে -- তখন এই সুস্পষ্ট আয়াত নাজিল হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে রেন্ডাম সিলেকশান করে কেবলা নির্ধারন বস্তুত মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত থেকে বাহিরে চলে যাওয়ার একটা নমুনা -- এবং এইটা আল্লাহ কাছে একটা প্রমান হয়ে থাকবে। সুতরাং -- এই রেন্ডাম কেবলার বিষয়টা ভয়াবহ ভাবে মুসলিম হওয়ার শর্ত লংঘন। এইটা আমার বুঝ। 

     

    আপনার বক্তব্যটা বিশেষ করে উপরে আয়াতের আলোকে জানতে ইচ্ছুক। ধন্যবাদ। 

  8. 34
    এম_আহমদ

    @ফারুক

    আমার মন্তব্য ২৭.১, মন্তব্য ৩০, মন্তব্য ৩৩, এর প্রেক্ষিতে “কোরান অনলি” নীতির উত্তর মোঠেই সন্তুষজনক পাওয়া যায় নি। আপনার সব কয়টি অবস্থান কোরানের বাইরেই থেকে গেল। এবারে ইয়ামানের দিকে কিবলা ও আল্লাহু আকবর নিয়ে কোরান বহির্ভূত অবস্থানগুলো দেখাবার চেষ্টা করব। আমার কথাগুলো  নিম্নরূপ:

    ইয়ামানের দিকে কিবলা

    আপনার প্রথম মন্তব্যে (comment 27) আপনি সাধারণত ইয়ামানের দিকে ফিরে নামাজ পড়েন বলে উল্লেখ করেন। এর কারণ হিসেবে বলেন, “প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম , মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা।” এই কথা যদি কোরানের দলিলে না থাকে তবে একজন কোরান অনলি ব্যক্তি হয়ে তা কীভাবে করতে পারেন সেটাই হয় প্রশ্ন এবং আমি আপনাকে এই প্রশ্নটি করি।

    উত্তরে আপনি বললেন, “এটা সরাসরি কোরানে বলা নেই”।

    এখানে দুটো জিনিস পাওয়া গেল। এক, যে জিনিস সরাসরি কোরানে নেই, সেটাও আপনি করেন, এবং বুঝা গেল, কোরান অনলিতে তা করা যায়। দুই, সরাসরি না থাকলে নিশ্চয় এই দলিল পরোক্ষভাবে থাকতেই হবে। তাই আমি প্রশ্ন করলাম পরোক্ষভাবে হলেও কোরানে কি সেই দলিল রয়েছে (comment 30:3)?

    এর উত্তরে বললেন, “ইয়েমেনের দিকে প্রাধান্য দেয়ার কারন হলো আমার সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে” (comment, 30.1:1)।

    কিন্তু এতে কোরানের পরোক্ষও কোন দলিল পাওয়া গেল না।  কোরানে সরাসরি অথবা পরোক্ষ দলিল না থাকা সত্ত্বেও আপনি ইয়ামানের দিকে ফিরে নামাজ পড়েন। এই কাজটির পক্ষে অন্যান্য যুক্তি থাকলেও তা কোরান ভিত্তিক বলা যায় না এবং যা কোরানে নাই, কোরান অনলিতে যে তাও করা যায় –এই নীতিই প্রতিষ্ঠিত হল।

    তারপর   “প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা” যেমন দলিল ভিত্তিক হয়ে আসে নি তেমনি আপনার “সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে” এমনটিও দলিল ভিত্তিক নয়, দলিল অকাট্য হতে হবে।

    সুতরাং এখনো যখন সেই দলিল সম্পর্কে জানেন না, অথচ ইয়ামানের দিকে নামাজ পড়েন, এটিই হচ্ছে না জেনে আমল।

    তাছাড়া “প্রায় সকল নবী রাসূলের” জন্ম, মৃত্যু বর্তমানের ইয়ামানে ছিল এ কথাও প্রতিষ্ঠিত হয় নি এবং পরবর্তীতে ইব্রাহীম (আ) নিয়ে যা বলেছেন তাও কোরান থেকে প্রতিষ্ঠিত নয়। আপনার যদি substantial কোন দলিল না থাকে তবে এই বিষয়টির আলোচনা শেষ হয়ে গিয়েছে ধরব –কোরানের বাইরে খামাখা ব্যাখ্যা ভিত্তিক আলোচনার দরকার হবে না।

    আল্লাহু আকবার

    আপনি আল্লাহর স্তুতিবাচক আকবর বিশেষণটি ছেড়ে দেয়ার কয়েক কারণ দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনটিও সঠিক নয়।

    আপনি বলেছেন, কাফেরদের এক দেবতা ছিল ‘আল্লাহু আকবার’ -এজন্য আকবর অংশ ছেড়েছেন। কেননা এটা আপনাকে কোরানে বর্ণিত কাফেরদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ‘আল্লাহ’ অংশ রেখে দিয়েছেন এতে কোন সমস্যা দেখেন না, নিশ্চয় হয়ত এর ফলে কাফিরদের বর্ণিত দেবতার কথা আপনাকে আর স্মরণ করিয়ে দেয় না! কিন্তু কোন দেশে, কোথায় সেই ‘আল্লাহু আকবর’ দেবতাটি কোথায় ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে বললেন:

    ‘সেই বিষয়ে জানার জন্য (আপনার) আরও পড়া লাগবে’।

    এই উত্তর প্রণিধানযোগ্য, কেননা দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই ‘আল্লাহর’ স্তুতিবাচক ‘আকবর’ শব্দটি ছেড়ে দিয়েছেন।

    আকরব শব্দটি ছেড়ে দেয়ার আরেকটি কারণ বলেছেন:

    “বর্তমানের কিছু মুসলমান আল্লাহু আকবর বলে  বোমা ফোটায়, মানুষ মারে ইত্যাদি।”

    এটি কোন কারণ হতে পারে না। কোরান অনলির বাইরের বিধর্মীরা কী বলে, বা না বলে, সেটা আপনার ধর্মীয় রীতিতে গ্রহণীয় বর্জনীয় কিছু হতে পারে না।

    অতঃপর আপনার অন্য যুক্তি হল আকবার (أَكْبَرُ) অর্থ সবচেয়ে বড়, এখানে তুলনামূলক শব্দ এসেছে তাই এটা বর্জন করেছেন। কেননা, আল্লাহর সাথে কারো তুলনা করা উচিৎ নয়। অপরাপর দেবতার তুলনায় এই শব্দটির ব্যবহার হয়েছে –এমন ধারণা সঠিক নয়। আপনি তুলনাবাচক কারণে তা বর্জন করলে আপনাকে আল্লাহর আরও নামসমূহ বর্জন করতে হবে।

    কোরানে আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে তুলনাবাচক আরও অনেক শব্দ রয়েছে। এই শব্দ শ্রেণী কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে তুলনায় আসে নি বরং গুণের সর্বোচ্চ মাত্রা-প্রকাশক ধারণা সম্বলিত এক ক্যাটাগরি হিসেবে এসেছে। বিষয়টি আকবর শব্দ থেকে শুরু করা যাক।

    আকবর (أَكْبَرُ) শব্দটি ব্যাকরণের দিক থেকে ইংরেজির elative (comparative/superlative) ধারণার শব্দ। এর অর্থ সবচেয়ে মহৎ। শব্দটি আরবির intransitive/ لازم ক্রিয়া  ‘কাবুরা’ (كَبُرَ)  অর্থাৎ  মহান হওয়া, মহত্ত্বের দিক দিয়ে বড় হওয়া (to be great, to be weighty) ধারণা থেকে, এখানে,  إسم التفضيل বা elative আকারে ‘আকবর’ (أَكْبَرُ) হয়েছে। ‘আকবর’ এর স্ত্রীলিঙ্গ কুবরা/كُبْرَي (ফু‘লা-فُعلي এর ওজনে)। অর্থ একই।

    ঠিক এভাবে আহসান (أَحْسَنُ) শব্দ হচ্ছে elative (তাফদীলের অর্থবাচক)। এর অর্থ হচ্ছে সর্বাধিক সুন্দর/অধিক সুন্দর। এর স্ত্রীলিঙ্গ হচ্ছে হুসনা (حُسْنَي)। অর্থ একই (সর্বাধিক সুন্দর/অধিক সুন্দর)।

    আল্লাহ তার সকল গুণের নামকে তাফদীলের (التفضيل) তুলনাবাচক শব্দে উল্লেখ করেছেন।  বলেছেন, তার গুণবাচক নামগুলো ‘হুসনা’। ২০:৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তার রয়েছে সবচেয়ে উত্তম/সুন্দর (হুসনা) নামাবলী (لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ)। তাহলে, তুলনাবাচক কারণ থাকায় আপনাকে আল্লাহর গুণবাচক নাম বর্জন করতে হবে (নায়ূযুবিল্লাহ)।

    তারপর একই ক্যাটাগরির শব্দ হচ্ছে  ‘আ‘লা’ (أعلي)। আল্লাহ বলেন, আপনার সর্বোন্নত (Most High) প্রভুর নামে তাসবীহ করুন (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ৮৭:১)। সর্বোন্নত কোন তুলনায়?

    এভাবে আরও আয়াত রয়েছে। যেমন ১৭:২৫ আয়াতে ‘আ‘লামু’ (أعلم), ‘আল্লাহ বলেন, তোমাদের প্রভু সবচেয়ে বেশি (most well/best aware of) জানেন।’  কার চেয়ে অধিক, কার তুলনায়?

    আর বাড়তি উদাহরণ ছাড়াই বলব যে উল্লেখিত ব্যাখ্যার আলোকে আপনার ‘আকবর’ সংক্রান্ত ধারণা ও শব্দ বর্জনের বিষয়টি সঠিক নয়। এ নিয়ে চিন্তা করবেন। আপনার সাথে আমার এই বিষয়ে বিতর্কের দরকার নেই। আমরা ভিন্ন ধর্মের লোক। শুধু চিন্তা করার কথা বললাম।

    আল্লাহর গুণবাচক শব্দসমূহ গুণবাচক বিষয়ের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্দেশ করতে প্রয়োগ হয়েছে, কোন বস্তু বা ব্যক্তির সাথে তুলনামূলক অর্থে নয়। এভাবে ১৭:১১১, ৭৪:৩ আয়াতে এই তকবীরের কথাই বলা হয়েছে। আল্লাহর তকবীর হচ্ছে ‘আল্লাহু আকবর’। এখানে কোরানের বাইরে গিয়ে অযথা দেবতা আবিষ্কারের প্রয়োজন নেই। যদি কখনো কারো কোন দেবতা থেকেই থাকত তবুও এতে কিছুই আসে যায় না। আপনার বাংলা ভাষায় ও ইংরেজিতে মাসের নাম, দিবসের নাম দেবতাদের সাথে সংযুক্ত দেখা যায়। তাহলে আপনি কি সেই নামগুলো ব্যবহার করা বর্জন করেছেন? মূল কথা হল কোরানে যা নেই আপনি ‘কোরান অনলি’ হয়ে সেটা মেনে নিতে পারেন না। তাছাড়া যে ইয়ামানের কথা কোরানে নেই, সেটা মানেন, কিন্তু যা কোরানে আছে তা মানবেন না কেন? এখন স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, কোরানের বাইরের অনেক তথ্য নির্বিচারে মেনে যাচ্ছেন। ইব্রাহীমের (আ) বাসস্থান ইয়ামানেও স্থাপন করছেন।  কোরান অনলিতে এখন বড় আকারে ঘূণে ধরেছে।

    ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

    1. 34.1
      ফারুক

       @এম_আহমদ,
       
       {এখানে দুটো জিনিস পাওয়া গেল। এক, যে জিনিস সরাসরি কোরানে নেই, সেটাও আপনি করেন, এবং বুঝা গেল, কোরান অনলিতে তা করা যায়। দুই, সরাসরি না থাকলে নিশ্চয় এই দলিল পরোক্ষভাবে থাকতেই হবে। তাই আমি প্রশ্ন করলাম পরোক্ষভাবে হলেও কোরানে কি সেই দলিল রয়েছে (comment 30:3)?}
       
       কোরানে নেই এমন অনেক কিছুই আমরা করি। সামাজিক রীতি অনুযায়ী অনেক কিছু করি -- যেমন খাৎনা করি , হাগু মুতু করে শৌচ করি (অন্য ধর্মালম্বী অনেকেই শৌচ করে না), বেধর্মী শিক্ষায় শিক্ষিত হই (ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হই), কেউ ভাত খায় কেউ কুকুর সাপ ব্যাঙ খায় (কোরিয়ান চাইনিজ) ইত্যাদি। কোরান অনলি মতে আমি এগুলো করা বা না করায় কোন দোষ দেখি না। কারন কোরানে নির্দিষ্ট ভাবে যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তার বাইরে সব কিছুই করা যায়। কোন কিছু করতে কোরানে পরোক্ষ দলিল থাকতে হবে এমন নির্দেশ কোরানে নেই।
       
       {যা কোরানে নাই, কোরান অনলিতে যে তাও করা যায় –এই নীতিই প্রতিষ্ঠিত হল।}  --   সত্য।  
       
       

      {তারপর   “প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা” যেমন দলিল ভিত্তিক হয়ে আসে নি তেমনি আপনার “সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে” এমনটিও দলিল ভিত্তিক নয়, দলিল অকাট্য হতে হবে।}
       
       আমার বিশ্বাস মতে কোরান ছাড়া কোন দলিলই অকাট্য নয়। 
       

      { সুতরাং এখনো যখন সেই দলিল সম্পর্কে জানেন না, অথচ ইয়ামানের দিকে নামাজ পড়েন, এটিই হচ্ছে না জেনে আমল। }
       
       দলিল সম্পর্কে জানব না কেন , জানি বলেই তো সাধারনত ইয়েমেনের দিকে নামাজ পড়ি। আপনিতো সেই দলিল (কোরান বাইবেল ভিত্তিক) না পড়েই তাকে বাতিল করে দিচ্ছেন। না জেনে কোন কিছুকে বাতিল বলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
       
       
       
       {আল্লাহু আকবার
       
       আপনি আল্লাহর স্তুতিবাচক আকবর বিশেষণটি ছেড়ে দেয়ার কয়েক কারণ দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনটিও সঠিক নয়।
       
       ‘সেই বিষয়ে জানার জন্য (আপনার) আরও পড়া লাগবে’।}
       
       আপনি কি পড়েছেন বা জানতে চেয়েছেন কি পড়তে হবে? না পড়েই বলে দিলেন সঠিক নয়। এটা কি ঠিক?
       
       
       
       {আকরব শব্দটি ছেড়ে দেয়ার আরেকটি কারণ বলেছেন:
       
       “বর্তমানের কিছু মুসলমান আল্লাহু আকবর বলে  বোমা ফোটায়, মানুষ মারে ইত্যাদি।”
       
       এটি কোন কারণ হতে পারে না। কোরান অনলির বাইরের বিধর্মীরা কী বলে, বা না বলে, সেটা আপনার ধর্মীয় রীতিতে গ্রহণীয় বর্জনীয় কিছু হতে পারে না।  }
       
       তাহলে বলতে চাচ্ছেন যারা আল্লাহু আকবর বলে বোমা ফাটায় তারা বিধর্মী?  আমি আমার অনুভূতির কথা বলেছি।
       
       

      {অতঃপর আপনার অন্য যুক্তি হল আকবার (أَكْبَرُ) অর্থ সবচেয়ে বড়, এখানে তুলনামূলক শব্দ এসেছে তাই এটা বর্জন করেছেন। কেননা, আল্লাহর সাথে কারো তুলনা করা উচিৎ নয়। অপরাপর দেবতার তুলনায় এই শব্দটির ব্যবহার হয়েছে –এমন ধারণা সঠিক নয়। আপনি তুলনাবাচক কারণে তা বর্জন করলে আপনাকে আল্লাহর আরও নামসমূহ বর্জন করলে আপনাকে আল্লাহর আরও নামসমূহ বর্জন করতে হবে।}
       
      আপনার পুরা ব্যাখ্যায় ভুল। কোরানে আল্লাহর তুলনামুলক কোন নাম নেই। নামের সাথে সবসময় 'আল' জুড়ে দেয়া আছে। আল জুড়ে দেয়ার 
       অর্থ নিশ্চয় জানেন। কোথাও শুধু আলা বলা হয় নি , 'আল-আলা' বলা হয়েছে। কোথাও আকবর বলা হয় নি , বলা হয়েছে 'আল-কবির'। নিচের আয়াতটি দেখুন-

       ৩১:৩০  مِن دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ    

       এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ-ই সত্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান।

      এমনি ভাবে -- 'আল-রহিম' 'আল-রহমান'।

      ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

  9. 33
    এম_আহমদ

    (১) আমি আসলে আপনার আগের ও পরের অবস্থান বুঝার চেষ্টা করছি। আমি জানি না আপনি আমার প্রশ্ন ধারা লক্ষ্য করছেন কিনা। ইবাদত যদি ‘আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা’ হয় তবে, ইয়ামানের দিকে মুখ করার বিষয়টি কিভাবে আসে (যেদিকে-সেদিকের কথা বুঝলাম, কিন্তু কোরানিক দিক থেকে ইয়ামানের নির্দিষ্টতা বুঝিনি)। ইব্রাহীম (আ) ইয়ামানে তার জীবন কাটানোর ঐতিহাসিক যৌক্তকতা কি, সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। কেননা, অতীতে ইতিহাসের সত্যতা আপনি মানতেন না এবং হাদিসও মানতেন না। এখন মানে্‌ তবে ‘ধর্মীয় অনুশাসন বা ধর্মীয় আইন হিসাবে মানেন না’, কিন্তু ধর্মীয় আচরণে সেই অনুশাষন তো মানাই দেখাচ্ছে, তা নয় কি? আগে উল্লেখিত প্রশ্নগুলো ‘কোরানের (ফোরকান) কষ্টিপাথরে যাচাই’ করে দেখিয়ে দেবেন, এই মর্মেই আমার প্রশ্ন ছিল।

    (২ক) কোরানে কোন ‘ধারণার’ (বিশ্বাসের) ভিত্তিতে/প্রেক্ষিতে এই তকবীর উচ্চারণ করার কথা এল? তারপর আপনার উত্তর থেকে মনে হয় কোরানের শব্দের অর্থ যেকোনভাবেই একটা গ্রহণ করে নিলেই হয় –ঘটনা কি তাই? (আবার, আল্লাহর ব্যাপারে এই মহত্ব কথাটির অর্থ কি?)

    (২ খ) “আল্লাহু আকবর” বলা ছেড়ে দিয়েছেন এজন্য যে কাফেরদের এই নামে এক দেবতা ছিল। যদিও সে বিষয়ে এখনো আপনার কাছে দলিল নাই কিন্তু আমল বর্জন হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা, ‘আল্লাহু’ ও ‘আকবর’ এই শব্দদ্বয়ের প্রধান শব্দ কি ‘আল্লাহ’ নয়? তবে ‘আকবর’ বাদ দিয়ে দেবতার প্রধান নাম কেন ধারণ করছেন? এতে কি কাফেরদের কথা স্মরণ হয় না?

    (৩) যে জিনিসটি জানা লাগবে অর্থাৎ তা এখন জানেন না, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, না জেনেও আমল শুরু করেছেন –এটা কেন হবে? মনে কিছু করবেন না।

    1. 33.1
      ফারুক

          ১) আমার আগের ও পরের অবস্থানের মূল ভিত্তি হলো কোরান , যেটার কোন পরিবর্তন নেই এবং যেখানে হাদিসের কোন স্থান নেই। 
          
          তাহলে কেন এই পরিবর্তন? এই পরিবর্তন নুতন জ্ঞানার্জনের ফলে নিজেকে সংশোধন, যেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে।
          
          কেন ইয়েমেন? কোরান থেকে আমরা জানি (২২:৭৮) নবী ইব্রাহিম প্রথম আল্লাহর অনুসারীদেরকে মুসলিম নাম করন করেছিলেন এবং (১৬:১২৩) কোরান যে নবীর উপরে নাযিল হয়েছিল তিনিও নবী ইব্রাহিমের অনুসারী ছিলেন।  (২:১২৭) পুত্র ইসমাইলের সাথে যে গৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন , সেটা খুব সম্ভবত ইয়েমেনে। কোরানের কষ্টিপাথরে কিভাবে যাচাই করেছি সেটাতো আর এক দুলাইনে বলা সম্ভব নয় , এরজন্য পড়া লাগবে। সুত্র আগের মন্তব্যে দিয়েছি।
       
       ৩:৮ হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।    

       

      ২ক) ১৭:১১১ ভিত্তিতে আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন তার জবাবেই আল্লাহর মহত্ব ঘোষনার কথা এসেছে। আমি যেমনটা বুঝি তেমনটাই বলেছি। তা ঠিক না বেঠিক আল্লাহই ভাল জানেন। ৩:৭ নং আয়াতটি পড়ুন।
          
           ৩:৭ তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।    
           
        ২খ) আমার আপত্তি 'আকবর' শব্দটি নিয়ে, যা আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু আল্লাহ নিয়ে বা ভগবান নিয়ে বা God নিয়ে কোন সমস্যা নেই।  
          
          ১৭:১১০ বলুনঃ আল্লাহ বলে আহবান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই।

      ৩) একটু বিস্তারিত বলবেন কি , ঠিক কোনটা না জেনে আমল করছি। এটা ঠিক অনেক কিছুই করছি না বুঝে , তবে যেটাই করি না কেন উদ্দেশ্য থাকে আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জন।

      1. 33.1.1
        মাহফুজ

        ভাই ফারুক,

        আপনি বলেছেন- //(২:১২৭) পুত্র ইসমাইলের সাথে যে গৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটা খুব সম্ভবত ইয়েমেনে। কোরানের কষ্টিপাথরে কিভাবে যাচাই করেছি সেটাতো আর এক দুলাইনে বলা সম্ভব নয়, এরজন্য পড়া লাগবে। সুত্র আগের মন্তব্যে দিয়েছি।

        ৩) একটু বিস্তারিত বলবেন কি, ঠিক কোনটা না জেনে আমল করছি। এটা ঠিক অনেক কিছুই করছি না বুঝে, তবে যেটাই করি না কেন উদ্দেশ্য থাকে আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জন।//

        এই বিষয়টা যদি কোরআনের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করেই থাকেন, তাহলে সেক্ষেত্রে 'খুব সম্ভবত' বলাটা কি ঠিক হলো? তার মানে অন্তত এ বিষয়ে এখনও আপনার জানাজানি ও বুঝের মাঝে কিছুটা ফাঁক আছে। আল কোরআন (২:১৪৪, ১৪৯) ও সহী হাদিছের শিক্ষা অনুসারে সর্বশেষ নবী ও আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) উম্মত হিসেবে মুসলিমদের জন্য এখন মাসজিদুল হারাম অর্থাৎ পবিত্র মসজিদ- কাবার দিকে মুখ ফেরানোর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তারপরও আপনি শুধুমাত্র ঐতিহাসীক তথ্যের উপর ভর করেই যেকোন দিকে কিংবা ইয়েমেনের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামাজ আদায় করতে বেশি আগ্রহী। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত ও তাঁর উপর নাযিলকৃত গ্রন্থ পবিত্র কোরআনের অনুসারী হিসেবে কি এমনটি করা সঠিক হচ্ছে?

        আপনি বলেছেন- //২খ) আমার আপত্তি 'আকবর' শব্দটি নিয়ে, যা আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু আল্লাহ নিয়ে বা ভগবান নিয়ে বা God নিয়ে কোন সমস্যা নেই।//

        (১৭:১১০) নং আয়াতে মহান স্রষ্টা তাঁকে ডাকার জন্য প্রথমত দুটি নামের উদাহরণ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁকে এরূপ যেকোন নামেই আহ্বান করা হোক না কেন তাতে শর্ত হলো সেই নামের অর্থ যেন সুন্দর হয় অর্থাৎ তাঁর মর্যাদার সাথে মানানসই হয়। সুতরাং এখানে যে কোনরূপ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয় নাই তা স্পষ্ট। আপনার বক্তব্য থেকে আমি যতটা বুঝতে পেরেছি তাতে মনে হয়েছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে যেহেতু হযরত ইব্রাহিমের ধর্ম ইসলাম অনুসরন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তাই হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) নির্দেশনা অনুসরণ করার ব্যাপারে আপনার কোন দ্বিমত নেই। মহান আল্লাহই আমাদের পালনকর্তা। সুতরাং ইব্রাহিম (আঃ) যদি তাঁর রব অর্থৎ পালনকর্তার মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য 'আকবার' শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তো নিশ্চয় 'আল্লাহু আকবার' বলাতে আপনার কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে পবিত্র কোরআনের মধ্য থেকেই শিখিয়ে দিয়েছেন। এবার নিচের আয়াতটি লক্ষ্য করুন-

        সূরা আল আন-আম (মক্কায় অবতীর্ণ)

        (০৬:৭৮) অতঃপর যখন সে (ইব্রাহিম) সূর্যকে আলোকোজ্জ্বল হতে দেখল, বলল, এটি আমার পালনকর্তা, (hādhā akbaru) এটি সর্বশ্রেষ্ঠ/ মহান। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর, আমি সেসব থেকে মুক্ত।”

        সুতরাং এরপরও আল্লাহু আকবার বলাতে আপনার কিংবা অন্য কোন মুসলিমের আপত্তি থাকাটা মোটেও সুবিবেচনার কাজ হবে কি?

        আপনি বলেছেন- //১) আমার আগের ও পরের অবস্থানের মূল ভিত্তি হলো কোরান, যেটার কোন পরিবর্তন নেই এবং যেখানে হাদিসের কোন স্থান নেই।//

        হাঁ আমিও একমত যে, কোরআনের কোন পরিবর্তন নেই। কিন্তু এই কোরআনের মাধ্যমেই যদি কোন কিছু পরিবর্তণ করা নির্দেশনা দেয়া হয়, তাহলে তো সেটাও মানতে হবে।

        আপনার রেফারেন্স অনুসারে ধরেই নিলাম যে, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ইয়েমেনেই বাস করতেন। কিন্তু তাতে সমস্যা কোথায়? আপনি নিশ্চয় বিশ্বাস করেন যে, সর্বশেষ নবী ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আগমন ঘটে আরবের মক্কা নগরীতে। তাই সেই নগরীতেই মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় মানবজাতির নেতা হযরত ইব্রহিম (আঃ) এর মাধ্যমে পবিত্র মাসজিদ কাবার ভিত্তি স্থাপন করানোর বিষয়টি একেবারে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক ভাবাটা মোটেও ঠিক কি? আর এই বিষয়টি যে আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই জানতেন সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা জানি যে, সে সময় সাহাবিগণ (রাঃ) রাসূল (সাঃ) ও খলিফাগণের (রাঃ) নির্দেশে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার লক্ষ্যে পৃথিবীর দূর দূরান্তে দেশে দেশে ছড়িয়ে পরেছিলেন। সুতরাং আল্লাহর বন্ধু 'খলিলুল্লাহ' ইব্রাহিম (আঃ) এর ক্ষেত্রে তো মহান স্রষ্টার পথনির্দেশনা অনুসারে ইয়েমেন থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র মাসজিদ কাবার ভিত্তি স্থাপন করা কোন কঠিন বিষয়ই হতে পারেনা। ঘোড়ায় কিংবা উটের পিঠে চেপে এই পথ অতিক্রম করতে তার হয়ত খুব জোর তিন থেকে চার মাস সময় লেগেছিল। মহান আল্লাহর নির্দেশে মানবজাতির নেতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে সাথে নিয়ে এই গুরু দায়িত্ব পালন করার জন্য জীবনের এই সময়টুকু যে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দের সাথেই ব্যয় করেছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর এই তথ্যগুলো যাচাইয়ের জন্য কোরআনের পর এর সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সহী হাদিছের সাহায্য নেয়াই একজন মুসলিমের পরিচয় বহন করে। আর এই তথ্য থেকে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর উম্মতের জন্য পূর্বের কিবালা থেকে মুখ ফিরিয়ে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ভিত্তি দেয়া পবিত্র মাসজিদ কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর সে কারণেই যে যখন যেখানেই থাক বা যেদিকেই মুখ করে থাক না কেন, বিশেষ করে সালাত আদায় ও হজ পালনের সময় মুসলিমরা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারেই কাবার দিকে মুখ ফেরায়।  

        একজন মুসলিম হিসেবে অপর এক ভাইয়ের প্রতি আবেদন, আশাকরি নিরহঙ্কার অন্তরে একটু ভেবে দেখবেন।

        মহান আল্লাহতায়ালা যেন সকল না বুঝাবুঝির অন্ধকার থেকে বের করে আনার জন্য সত্যেকে বোঝার মত আলো দান করেন ও শয়তানের ধোকা থেকে আমাদের সবাইকে রক্ষা করেন।

        ধন্যবাদ-

        1. 33.1.1.1
          ফারুক

          ৬:৭৮ আয়াত থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ভালই করেছেন। 'হাদা আকবারু' মানে সর্বশ্রেষ্ঠ নয়। বরং আকবারু দিয়ে সূর্যকে চন্দ্র ও তাঁরার থেকে বড় বলা হয়েছে। এবং সূর্যকে যখন রাব্বি বলেছিলেন তখনও ইব্রাহিম অজ্ঞ ছিলেন, রব্ব সম্পর্কে তার কোন ধারনাই ছিলনা।

          আপনার রেফারেন্স অনুসারে ধরেই নিলাম যে, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ইয়েমেনেই বাস করতেন। কিন্তু তাতে সমস্যা কোথায়? আপনি নিশ্চয় বিশ্বাস করেন যে, সর্বশেষ নবী ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আগমন ঘটে আরবের মক্কা নগরীতে। তাই সেই নগরীতেই মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় মানবজাতির নেতা হযরত ইব্রহিম (আঃ) এর মাধ্যমে পবিত্র মাসজিদ কাবার ভিত্তি স্থাপন করানোর বিষয়টি একেবারে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক ভাবাটা মোটেও ঠিক কি? 

          সমস্যা যে কোথায় এবং কেন ইব্রাহিম কখনো মক্কায় যাননি , সেটা জানতে হলে পড়তে হবে। পড়ার বিকল্প নেই। জানেন কি ইয়েমেন ও ইরাকে ও কাবা আছে? গুগল সার্চ দিন ছবি সহ পেয়ে যাবেন।

        2. মাহফুজ

          সূরা আল আনকাবুত (মক্কায় অবতীর্ণ)

          (২৯:৪৫) তুমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ কিতাব পাঠ কর এবং নামায কায়েম কর। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কর্ম থেকে বিরত রাখে এবং (waladhik'ru l-lahi akbaru) আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ; আর আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।  

          সূরা আল আন-আম (মক্কায় অবতীর্ণ)

          (৬:১৯) তুমি জিজ্ঞাসা কর, (akbaru shahādatan) সাক্ষ্যদাতা হিসেবে কোন জিনিষ সর্বশ্রেষ্ঠ? তুমি বলে দাও, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি এ কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে-যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে এ কোরআন পৌঁছে সবাইকে সাবধান করি। তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্যও রয়েছে? তুমি বলে দাও, আমি এরূপ সাক্ষ্য দেই না। বল, তিনিই একমাত্র উপাস্য; আমি অবশ্যই তোমরা যা শিরক কর তা থেকে মুক্ত।

          আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষী। তাই 'আল্লাহু আকবার' বলার ও স্মরন করার মাধ্যমে বিশ্বাসীরা মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বই ঘোষণা করে থাকে।

          আপনি কি তদানিন্তন ইয়েমেনের গভর্ণর আবরাহার কথা কইছেন? যে মক্কায় অবস্থিত কাবাঘর ধ্বংসের জন্য হস্তিবাগিহনী প্রেরণ করেছিল। সে সান্নায় কাবার আদলে চার্চ নির্মাণ করেছিল এবং তার ধারণা ছিল মক্কার কাবা ধ্বংস করে দিলে মানুষ তার নির্মিত চার্চের দিকে মুখ ফেরাবে এবং এতে তার ব্যবসায়ীক ফায়দা হাসিল হবে। কিন্তু তার সেই দুরভিসন্ধি আল্লাহতায়ালা কিভাবে ব্যর্থ করে দেন তার বর্ণনা কোরআনেই (সূরা ফিল) রয়েছে। সুতরাং এটি নিয়ে নিজে বিভ্রান্ত হওয়া কিংবা অপরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা নির্বোধের কাজ হবে। সুতরাং সাবধান।

          আর মক্কার পবিত্র কাবার আদলে ইরাকে এবং ইরানে কিংবা পরবর্তীতে যেখানেই যত কাবাই নির্মিত হোক না কেন, তা কি কখনই ইব্রাহীম (আঃ) এর ভিত্তি দেয়া মাসজিদুল হারাম অর্থাৎ পবিত্র মসজিদ- কাবার স্থান দখল করতে পারবে? নিত্য নতুন কাবার এজেন্টরা যতই চেষ্টা করুক- তারা ব্যর্থ হবেই।

          আপনার মোকারি যে ক্রমান্বয়ে জোকারিতে রূপ নিচ্ছে তা যারা বোঝার ঠিকই বুঝে নেবেন। তারপরও সাক্ষী স্বরূপ আপনার পোষ্টে কিছু মন্তব্য রেখে দিলাম। যারা সত্য জানতে চান তারা যেন বিভ্রান্ত না হন এবং সঠিকটা খুজে ও বুঝে নিতে পারেন।

          মনে রাখবেন, শুধু মগজ দিয়ে পড়লেই হবেনা, অন্তরে খাঁটি বিশ্বাস নিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে।

        3. মাহফুজ

          আপনি বলেছেন- //সূর্যকে যখন রাব্বি বলেছিলেন তখনও ইব্রাহিম অজ্ঞ ছিলেন, রব্ব সম্পর্কে তার কোন ধারনাই ছিলনা।//

          না, হয় আপনার ধারনা ভুল, নয়ত আপনি কথা ঘুরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

          তিনি সূর্যকে প্রতিপালক হিসেবে অনুমান করেছিলেন বলেই প্রতিপালক হিসেবে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা প্রকাশের জন্য তাঁকেই সর্বশ্রেষ্ঠ/ মহান বলে উল্লেখ করেছেলেন। প্রতিপালক সম্পর্কে ধারণা ছিল বলেই ইব্রাহিম (আঃ) তার সময়কার পথভ্রান্তদের শিরকে লিপ্ত দেখেও নিজে বিভ্রান্ত হন নাই। তার নিকটাত্মীয়দেরকে চন্দ্র ও সূর্যকে উপাসনা করতে দেখেও মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সেগুলোর পার্থক্যটা তিনি ঠিকই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আর তাই (৬:৭৮) সূর্যকে অস্তমিত হতে দেখে প্রকৃত স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অমিল লক্ষ্য করেই তিনি অংশিবাদ থেকে নিজেকে মুক্ত করে (৬:৭৯) মহান স্রষ্টার দিকেই মুখ ফিরিয়ে নেন।

           

  10. 32
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    এই লোক বাইং মাছের থেকেও বেশি পিছলা। কথা পুরোপুরি অগোছালো, যুক্তির উত্তরে পিছলানো। নিজেকে মনে করে বিশ্বের এক নম্বর বুদ্ধিমান, সবজান্তা, জ্ঞানী। এবং অন্য কেউ প্রথমে তাকে না বুঝে তার পিছলামি, উল্টা পাল্টা কথার বিরুদ্ধে কিছু বললে তার প্রতি অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য। এক সাথে অনেক লোক তার মতামতের বিরুদ্ধাচারণ করলে সে মনে করে এ যুগের মানুষ অনেক পিছনে পরে আছে যার জন্য তার কথা বুঝতে পারছে না, কিন্তু অত্যাধুনিক যুগের মানুষ ঠিকই তার দেখানো পথ অনুসরণ করবে আর বলবে ঐ যুগে এত বুদ্ধি মানুষ ছিল?

    সিরিয়াস মানসিক রোগী। আমার পরিচিত একজন এরকম ছিল, সে মনে করত সব ফিজিক্সের সব থিওরী কিছু না কিছু ভুল, এবং তিনি একটি থিওরী আবিস্কার করেছেন যা পৃথিবীকে বদলে দিবে। জিজ্ঞেস করলে সেই থিওরী আর বলত না। ব্যাপক চিকিৎসার পরে ভদ্রলোক এখন পুরোপুরি লাইনে। যেহেতু সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছে তাই এখন আর কেউ তার অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করে না।

    এর কেস্‌ও তাই।

  11. 31
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     কিবলা বলতে আমি আল্লাহর দিকে ফেরাকে বুঝি , সেটা যে কোন দিকেই হতে পারে। যেহেতু কোরান অনুযায়ী পূর্ব পশ্চিম সহ সকল দিকই আল্লাহর সেহেতু আমি মাঝে মাঝে যেকোন দিকেই ফিরে নামাজ পড়ি।

    -- ভাই ইস্কনের লোকজন সব দিকে সেজদা দেয় -- এই দেখে অবাক হইছিলাম, এখন দেখি এর পিছনেও যুক্তি আছে। তবে যতটুকু জানি কোরানে আল্লাহ মসজিদুল হারাম (মক্কা) এর দিকে দাঁড়াতে বলেছেন। 

    আপনার অনুসৃত আয়াত:

    সূরা আল বাক্বারাহ    (The Cow )
    (2:115) পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ

    এইটা ঠি আছে -- কিন্তু পরের আয়াত -- 

    সূরা আল বাক্বারাহ    (The Cow )
    (2:144) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

     

    এই আয়াতের পর কি যে কোন দিকে মুখ ফিরিয়ে নামাজ পড়া কতটুকু যৌক্তিক -- এই বিষয়ে আপনার মতামত জানতে ইচ্ছুক। 

    1. 31.1
      ফারুক

      (2:144) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

      এই আয়াতের কোথাও কি নামাজের কথা বলা আছে? আমি তো দেখিনা। নবী বারে বারে আকাশের দিকে তাকাতেন , নামাজের সময় নাকি দোয়া করার সময় নাকি কোন অপছন্দের জিনিষ করার সময়? এই আয়াতে এব্যাপারে কিছুই পরিস্কার বলা নেই। কল্পনায় উত্তর না খোজায় ভাল।

      এই আয়াত অনুযায়ী আহলে-কিতাবরা সঠিক জানে কোনটা মসজিদুল হারাম। আপনি কখনো কোন আহলে-কিতাবকে মক্কার দিকে মুখ করতে দেখেছেন , না শুনেছেন , না ইতিহাসে এর কোন নজীর আছে? নেই। মসজিদুল হারাম এমন কিছু যা আহলে-কিতাবদের অন্তত কেউ কেউ সঠিক জানে।

      আয়াতের শেষ বাক্যটি খেয়াল করুন। সে সমস্ত কর্ম বলতে নিশ্চয় শুধু নামাজকে বোঝায় না। 

      ১০:৭৮ আয়াতেই শুধু কেবলার সাথে সালাতের উল্লেখ আছে , যেখানে ইহুদিদের যার যার বাড়িকে কিবলা বানাতে বলা হয়েছে।

      ভাবুন…..

      1. 31.1.1
        ফারুক

        ১০:৭৮ নয় , হবে ১০:৮৭।

        Sahih InternationalAnd We inspired to Moses and his brother, "Settle your people in Egypt in houses and make your houses qiblah and establish prayer and give good tidings to the believers."

  12. 30
    এম_আহমদ

    (১) তাহলে তো আপনার ‘কোরানে’ যে কিবলার কথা নেই, সেই দিকে কিবলাহ করে আপনি আল্লাহর ইবাদত  করছেন, তাই না? আমার তো মনে আপনার মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে।  

    (২) তাহলে, আবার in principle, হাদিসের সত্যতা ও প্রাচীন ইতিহাসের সত্যতা গ্রহণ করছেন, এই পরিবর্তনের কারণ কি?  

    (৩) সরাসরি না হলেও কোরানে কোথায় ‘প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকায়’ রয়েছে তা কি বলা যাবে?   

    (৪) হাদিস ও প্রাচীন ইতিহাসের নিরিখে কোথায় ‘আল্লাহু আকবর’ দেবতা ছিল যার পূজা দেয়া হত, এবং ‘প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা ছিল’ -- তা কি বলা যাবে?

    (৫) আল্লাহ যখন, সরাসরি এবং স্পষ্টভাবে, কোরানে তার ‘তকবীর’ (تكبير) ঘোষণা করতে বলেন, তখন আপনি সেই তকবীর কীভাবে ঘোষণা করেন (১৭:১১১, ৭৪:৩ )? (এগুলোতে তাকবীরের ফি'লুল আমর (فعل الأمر) ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেই তাকবীরই হচ্ছে প্রশ্ন )।

    1. 30.1
      ফারুক

      ১) কিবলা বলতে আমি আল্লাহর দিকে ফেরাকে বুঝি , সেটা যে কোন দিকেই হতে পারে। যেহেতু কোরান অনুযায়ী পূর্ব পশ্চিম সহ সকল দিকই আল্লাহর সেহেতু আমি মাঝে মাঝে যেকোন দিকেই ফিরে নামাজ পড়ি। ইয়েমেনের দিকে প্রাধান্য দেয়ার কারন হলো আমার সর্বশেষ যৌক্তিক জ্ঞানমতে নবী ইব্রাহিমের জীবন কেটেছে ইয়েমেনে। আমি নামাজ পড়ি আল্লাহকে স্মরন করার জন্য। ইবাদত বলতে আমি বুঝি কোরানে বর্নীত আল্লাহর আদেশ নির্দেশ মেনে চলা ও সৎ কর্ম করা।

      ২) আমি হড়ে গড়ে সকল হাদিস ও প্রাচীন ইতিহাসকে সত্য বলে মেনে নেই নি। কোরানের (ফোরকান) কষ্টিপাথরে যাচাই করে যেগুলোকে সঠিক মনে হয়েছে , সেগুলোকে সত্য হতে পারে বলে মেনে নিয়েছি। কিন্তু কখনৈ এগুলোকে ধর্মীয় অনুশাশন বা ধর্মীয় আইন হিসাবে মানি না।

      ৩) এটা জানার জন্য পড়া লাগবে। আমার কাছে ৩টি গবেষনামূলক ebook আছে , যার সুত্র নিচে দিলাম। আপনি চাইলে পাঠায়ে দেব।
      Qur’ān
      The Old Testament
      Call of the Sarāt: Hijacking the Geography of the Prophets -- The Tajdeed Society of Bahrain (2005) La Cite D’Isis -- Histoire Vraie des Arabes -- Pierre Rossi (1976)
      Palestine is not the Promised Land -- Jameel Effarah (2002)
      The Invention of the Jewish People -- Shlomo Sand (2009)
      The bible Came from Arabia -- Kamal Saleebi (1985)

      ৪) এটাও ইসলামের ইতিহাসের উপর লেখা পশ্চিমা লেখকের একটি বইয়ে পড়েছি। চাইলে বই ও লেখকের নাম দেয়া যাবে।

      ৫) তকবির বা আল্লাহর মহত্ব ঘোষনা নিজ সৎকর্মের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করে আপনি করতে পারেন।

  13. 29
    মাহফুজ

    মি. ফারুক,

    //আপনার দেয়া আর্টিকেলে দেয়া কোরানের আয়াতগুলোর অনুবাদে দেখুন কাবা শব্দটি ব্রাকেট বন্দি , অর্থাৎ কাবা শব্দটি মূল আরবি কোরানে নেই।//

    (২:১৪৪) ও (২:১৪৯) নং আয়াতে উল্লেখিত মাসজিদে হারাম (l-masjidi l-ḥarāmi) বলতে আপনি কি বোঝেন? এটি কি কাবা নয়?

    1. 29.1
      ফারুক

      ২:১৪৯ আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-

      না , মসজিদে হারাম কাবা নয়। 
      ১) যে স্থান থেকে বের হওয়া অর্থ নামাজ পড়ার সময় নয়।
      ২) ধরুন আপনার বাড়ি পূর্ব বা দক্ষিন মূখী। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কিভাবে কাবা মুখী হবেন?

      1. 29.1.1
        মাহফুজ

        (০২:১৪২) অর্থ- এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে (মুসলমানদের) ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? তুমি বল, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।

        (০২:১৪৪) অর্থ- নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি তোমাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে তুমি পছন্দ কর। এখন তুমি মসজিদুল-হারামের (কাবা) দিকে মুখ কর এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকেই মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

         

        (২:১৪২) ‘এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে (মুসলমানদের) ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা/ দিক থেকে, যার উপর তারা ছিল?’ -- এখানে ‘ঐ কেবলা’ বলতে কোন দিক থেকে কোন দিকে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং কেন?

        ‘মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ কর’ বলতে (২:১৪৪) এখানে কি বোঝানো হয়েছে?

        আবার, ‘তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকেই মুখ কর’- বলতে কখন এবং কি জন্য মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করার কথা বলা হয়েছে?

         

        এই প্রশ্নের উত্তরগুলো খোজার জন্য সহী হাদিছ অনুসরণের চেষ্টা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়-

        আপনি বলেছেন-

        //১) যে স্থান থেকে বের হওয়া অর্থ নামাজ পড়ার সময় নয়।

        ২) ধরুন আপনার বাড়ি পূর্ব বা দক্ষিন মূখী। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কিভাবে কাবা মুখী হবেন?//

         

        আপনার বাড়ি পূর্ব, দক্ষিন বা যেকোন মূখী হোক না কেন, সেই স্থান/ ঘর থেকে বের হয়ে সব সময়ের জন্য নয়, বরং একটি বিশেষ মূহুর্তেই যে মসজিদুল-হারামের দিকে অর্থাৎ কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশনা এখানে দেয়া হয়েছে, সহী হাদিছ অনুসরণ করলে তা বুঝে ও বিশ্বাস করে নিতে কোন মুসলিমেরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

        অযথা আর আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না। এরপরও আপনার মানতে অসুবিধা হলে আপিন আপনার মত চলতে থাকুন। মহান আল্লাহতায়ালা যথা সময়েই সবাইকে সবকিছু বুঝিয়ে দেবেন।

        ধন্যবাদ-

         

         

         

        1. 29.1.1.1
          ফারুক

          মহান আল্লাহতায়ালা যথা সময়েই সবাইকে সবকিছু বুঝিয়ে দেবেন।

           

          কথা সত্য। আপনিও ভাল থাকুন।

          ২৮:৫৬ আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।    

  14. 28
    মাহফুজ

    মি ফারুখ,

    তাহ‌লে (২:১৪২, ১৪৪, ১৪৮, ১৪৯, ১৫০) আয়াতগু‌লো সম্প‌র্কে অাপানার মতামত কিরূপ?

    এখা‌নে কি কিবলার বিষ‌য়ে কোন ইং‌গিত নেই?

     

    1. 28.1
      ফারুক

      @মাহফুজ, সালামুন আলাইকুম। 

      You have to think out of box. কিবলা বলতে আপনি কি বোঝেন আমি জানি না। হাদিস ও প্রচলিত ধারনা মাথা থেকে দুর করে দিয়ে শুধু কোরান থেকে ২:১৩০ ২:১৫০ নং আয়াত পড়ুন। কোন আয়াতেই কিবলার সাথে সালাত (নামাজ) শব্দটি নেই বা সালাতের সাথে কিবলার কোন যোগসুত্র নেই। 

      1. 28.1.1
        মাহফুজ

        @ফারুক,

        সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

        আপনি হয়ত জানেন যে, আমি সব হাদিছ অস্বীকার করিনা। আবার নিজের সুবিধা মতও গ্রহণ করিনা, বরং আল-কোরআনের সাথে সম্ঞ্জস্য থাকলে এবং যৌক্তিক কারণ থাকলে সহী হাদিছকে আমি অন্য সব কিছুর উপরে স্থান দেই।

        ধরুন আপনি পরিবারের সকলকে নিয়ে জামাতে সালাত আদায় করতে চাইছেন। এ অবস্থায় আপনি কোন কিবলা/ দিককে বেশি প্রেফার করবেন? আর ইমামতি করলে তো ইমামকেই সবার ফলো করতে হবে, তাইনা? তেমনি একাকি সালাত আদায়ের সময় কোন ওজর না থাকলে কোরআনের নির্দেশকে (২:১৪২, ১৪৪, ১৪৮, ১৪৯, ১৫০) উপেক্ষা করা কি ঠিক হবে? এক্ষেত্রে কোন দিকে মুখ কোরে সালাত আদায় করতে সাচ্ছন্দ বোধ করবেন। তাছাড়া মুসলিমের জন্য সালাত আদায় করাও একটি সৎকর্ম। সুতরাং এ সময় এই নির্দেশনাকে (০২:১৪৮) কেন আপনি গ্রহণ করবেন না?

        1. 28.1.1.1
          ফারুক

           @মাহফুজ,
           
           সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আবারো বলি , ২:১৪২ থেকে ২:১৫০ আয়াত মনযোগ দিয়ে পড়লে দেখতে পাবেন , কোন আয়াতেই নামাজ বা কাবা বলে কিছু নেই। 
           
           বিশেষ করে ২:১৪৮ আয়াতের কথা বলেছেন । ঐ আয়াতটিতে দেখুন নামাজ নয় , বরং ভাল কাজে প্রতিযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। 
          وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُواْ الْخَيْرَاتِ  

          وِجْهَةٌমানে মুখ , কেবলা নয়। আমি যেমন টা বুঝি- প্রত্যেকের মুখ আছে  যেদিকে সে ফেরে। এর অর্থ দাড়ায় প্রতিটি ব্যাক্তি স্বতন্ত্র , তার ইচ্ছা অনিচ্ছা , আকাঙ্খা  , জীবণের উদ্দেশ্য বিধেয় অন্য সকলের থেকে আলাদা। যে কারনে দেখবেন আমাদের সমাজে প্রায় সকলে একে অপরের সাথে ইদুর দৌড়ে লিপ্ত। এর বদলে ভাল কাজে প্রতিযোগিতার উপদেশ এই আয়াতে দেয়া হয়েছে।

           

  15. 27
    ফারুক

    গত কয়েকমাস ধরে লক্ষ্য করছি , এই পোস্টটি পুরনো হলেও , প্রতিদিন  কিছু না কিছু পাঠক পোস্টটি পড়ছে। সেকারনে গত একবছরে আমার নামাজে যে পরিবর্তন গুলো হয়েছে , সেটা আগ্রহী পাঠকদের জানানোর জন্যই এই মন্তব্য।

    ১) আমি এখন আর কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ি না। সাধারনত ইয়েমেনের দিকে ফিরে নামাজ পড়ি , মাঝে মাঝে যেকোন দিকে ফিরে নামাজ পড়ি। এর মূল কারন কোরানের ২:১৭৭ আয়াত। " সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে "

    আমার জ্ঞান মতে কোরানে বর্ণীত জুলকার্নাইন ছাড়া প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম , মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা।

    ২) নামাজে আল্লাহু আকবর না বলে শুধুই আল্লাহ বলি। কারন কোরানে কোথাও আল্লাহু আকবর শব্দদুটি একসাথে নেই।   আল্লাহর সাথে কারো তুলনা করা উচিৎ নয়। আল্লাহ একক, তার সাথে কারো তুলনা চলে না। 

    আরো একটি কারন হলো , বর্তমানের কিছু মুসলমান নাম ধারী ইসলামের নামে আল্লাহু আকবর বলে  বোমা ফাটিয়ে তরবারি দিয়ে শিরোচ্ছেদ করে ,কুপিয়ে নিরপরাধ মানুষ মারছে , যেটা আমাকে কোরানে বর্ণীত কাফেরদের কথা স্মরন করিয়ে দেয় , যাদের এক দেবতা ছিল আল্লাহু আকবর ও যার নামে তারা পুজা দিত, নেচে গেয়ে নামাজ পড়ত।

    1. 27.1
      এম_আহমদ

      প্রায় সকল নবী রসূলের জন্ম, মৃত্যু ও বাসস্থান ছিল বর্তমানের ইয়েমেন ও তার আশপাশের এলাকা

      (১) এটা কি কোরানে আছে? (২) এবং এই দিকে কিবলা করা কি কোরানে আছে?

      এক দেবতা ছিল আল্লাহু আকবর ও যার নামে তারা পুজা দিত

      এটা কি কোরানে রয়েছে?

      1. 27.1.1
        ফারুক

        আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় -- না , এটা সরাসরি কোরানে বলা নেই। তবে কোরান হাদিস ও প্রাচীন ইতিহাসের মাঝে যোগসুত্র করলে এমনটাই প্রতীয়মান হয়। এবং এগুলো যে ধ্রুব সত্য , এমন দাবী আমি করি না। যেকারনে মাঝে মাঝে আমি যেকোন দিকে ফিরে নামাজ পড়ি।

        1. 27.1.1.1
          মাহফুজ

          মি. ফারুক,

          মাঝে মাঝে বিশেষ করে যাত্রাপথে নামাজ কাজা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে বাহনের মধ্যেই আমি মোটামুটি আন্দাজ করে নিয়েই নামাজ শুরু করি। তখন অনেক সময়ই দিক এদিক সেদিক হয়ে যাওয়াটািই স্বাভাবিক।

          কিন্তু আপনি তো বলেছেন- ১) //আমি এখন আর কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ি না।//

          অথচ এখন আবার বললেন- //যে কারনে মাঝে মাঝে আমি যেকোন দিকে ফিরে নামাজ পড়ি।//

          তাহলে কি প্রথম বক্তব্যটি ভুল করেই বলে ফেলেছেন? যদি সঙ্গত কারণে মাঝে মাঝে যে কোন দিকে নামাজ পরেন, তাহলে তো আর কোন সমস্যা নেই। আশাকরি সত্যিটা স্পষ্ট করে বলবেন।

          এখানে আমন্ত্রণ- পবিত্র কোরআন অনুসারে সালাত অর্থাৎ নামাজ

        2. ফারুক

          মি. মাহফুজ,
          আমি যতটুকু বুঝেছি , নামাজের সাথে প্রচলিত কাবা বা কিবলার কোন সম্পর্ক নেই। নামাজ যে কোন দিকে ফিরে পড়া যায়। আপনার দেয়া আর্টিকেলে দেয়া কোরানের আয়াতগুলোর অনুবাদে দেখুন কাবা শব্দটি ব্রাকেট বন্দি , অর্থাৎ কাবা শব্দটি মূল আরবি কোরানে নেই। এটা যারা অনুবাদ করেছে , তাদের নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী ঢুকিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ যা বলেন নি , সেটাকে আল্লাহর কথা বলে চালানোর চেষ্টা করেছে।

  16. 26

    কাদিয়ানী 😉 একটা আয়াতের কথা মনে পড়ল ” ‘আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে।’ Al-Quran (6:116)

    1. 26.1
      ফারুক

      ছালাম, 
      আপনার কাছে কাদিয়ানির কোন প্রমান আছে কী? থাকলে দেখান। নইলে নিচের আয়াতটি পড়ুন- 

      ৪৯:১১  মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।

  17. 25
    মোঃ শরিফুল ইসলাম (শরিফ)

    আপনি তা হলে ফরজ নামাজ পরেন কোন হাদিস দারা ২, ৩,৪ রাকাত পরেন আমাকে জানালে উপকৃত হতাম

  18. 24
    ফারুক

    পাগল হয়ে গেলাম রে ভাই। তুমি আবার কেমন মুসলমান?

    1. 24.1
      ফারুক

      যারা পরকাল নিয়ে চিন্তা করে , তাদের ইসলামের বর্তমান অবস্থা দেখে পাগল হতেই হবে। এখনো পাগল হন নি দেখে আশ্চর্য হচ্ছি!!

      আমি কেমন মুসলমান সেটা জানতে হলে আমার লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন এখানে -- http://faruk55kw.blogspot.com/

      (আমার নামে কেমনে লিখলেন?)

  19. 23
    ফারুক

    @Rasel, 

    Muhammad Sven Kalisch, a Muslim convert and Germany's first professor  of Islamic theology. He too is a scholar who has expressed the view  that the Prophet Muhammad probably never existed based on his study of multiple evidences.[44] Similar views were also held by other scholars too as Professor  Muhammad Sven Kalisch quotes in his conclusions. There are many such  views doubting the historicity of Muhammed. Another example is the case  of Hans Jansen, a Dutch scholar, who too has the opinion that the  evidences supporting the historicity of Muhammad are lacking.[45]

    --Historicity of Muhammad

    1. 23.1
    2. 23.2
      Rasel

      @ফারুক: আপনার দেওয়া লিংকে নীচের কথাটিও লেখা আছে:-

      //For Patricia Crone, a single Greek text written at around the time of Muhammad's death provides "irrefutable proof" that he was a historical figure. There is also, she says, "exceptionally good" evidence that Muhammad was an Arab political leader and prophet.//

      এবার আপনার বক্তব্য দিন।

  20. 22
    Mohsin

    এপ্রসঙ্গে শুধু একটি কথাই বলতে পারি যে , ঈমাম মুসলিম ঈমাম বুখারী-কে সন্দেহ করে বুখারীর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি। একি ভাবে  ঈমাম বুখারী ও তার গুরুর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি। 

    সন্দেহ করে যে ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারির কোন হাদিস তাঁর গ্রন্থে স্থান দেয় নাই তা আপনি কেমনে বুঝলেন? অন্য কোন কারনেও তো এমনটি হতে পারে, আপনি কি ওইসময়ে ভ্রমন গিয়েছিলেন ( টাইম মেশিন ) দিয়ে, তারপর সচক্ষে দেখে এসেছেন?

    আপনি যদিও বললেন হাদিস সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দিহান কারন এগুলো সঙ্কলন যারা করেছেন তারা কতটুকু নিখুঁত আর ত্রুটিপূর্ণ করে তৈরি করেছেন তা পরিষ্কার না,

    আমার মনে হয় না আপনার কোন গুরু নেই,( এত সুন্দর আইডিয়া এমনি এমনি মাথায় আসার কথা না ) যদি কারো প্ররোচনায় বা কোন লেখকের বই পরে আপনি হাদিস সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন তাহলে তারা কেন  সহিহ হবেন, তারাও তো ভুল করে থাকতে পারেন,

    আর কোরআন ছাড়া আপনি অন্য কোন বই পরেন না, বা পরে সেই মতো আমল বা বিশ্বাস করেন না এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, 

    সুতরাং কোরআনের ব্যাখ্যা আপনি কিভাবে করেন বুঝতে পারলাম না, নিজে নিজে যদি সবাই কোরআন ব্যাখ্যা করে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে মুসলমানদের যে কত দল সৃষ্টি হয়ে যাবে তাঁর ইয়ত্তা নেই,

    তাঁর থেকে এটাই কি ভালো না যে আমরা যার উপর কুরআন নাজিল হয়েছিলো তাঁর ব্যাখ্যাটাই মেনে নিব?

    ( যেহেতু আপনি হাদিসে বিশ্বাস করেন না, আপনি নবী (সঃ) এর ব্যাখ্যা গ্রহন করবেন না, তবে আপনার কাছে একটা আর্জি থাকলো আমার, হাদিস গ্রন্থগুলো সঙ্কলন করার ইতিহাস ভালো করে একটু পরে দেইখেন ) 

  21. 21
    ফারুক

    @Abdul away sumon

     

    আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য বলতে আপনি কি বোঝেন , সেটা জানা দরকার। আল্লাহে আনুগত্য বলতে যদি বোঝেন কোরান মেনে চলা , তাহলে আপনি বলতে পারেন না , আমি আল্লাহর আনুগত্য করি না। কারন আমি কোরান মেনে চলি।

    এবার আসি রসূলের আনুগত্যের কথায়। রসূলের আনুগত্য বলতে যদি বোঝেন , রসূলেকে বিশ্বাস করে তারই দাবী ও নির্দেশ মতো কোরানকে আল্লাহর বাণী মেনে নিয়ে কোরানে লিখিত আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা , তাহলে সেটাই আমি মনে প্রাণে করে চলেছি। আর যদি বলেন রসূলের আনুগত্যের মানে হলো বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোর যে কেহ দাবী করে যে নিম্নের কথাগুলো রসূল বলেছেন এবং সেটা মানতে হবে , তাহলে আমি দুঃখিত। আমি এদের আনুগত্য করি না।

    মজার বিষয় কি জানেন , সকল ধর্মাবলীই তাদের রসূলের আনুগত্য করতে যেয়েই পথভ্রষ্ঠ হয়েছে। খৃষ্টানরাও এই আয়াতের মানে বুঝতে চেয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে।

    "Jesus answered, "I am the way and the truth and the life. No one comes to the Father except through me." (Holy Bible, John 14:6)

    1. 21.1
      আব্দুল আওয়াল সুমন

      @ফারুক: হে ঈমানদারগন তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। (নিসাঃ ৫৯)।

      আল্লাহর আনুগত্য হল, আল্লাহর হুকুম মান্য করা। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা কোরানে যা করার আদেশ করেছেন তা করা আর যা করতে নিষেধ করেছেন তা না করা।

      রাসূলের আনুগত্য হল, রাসূল (সা) এর হুকুম মান্য করা। অর্থাৎ রাসূল (সা) যা করার আদেশ করেছেন তা করা আর যা করতে নিষেধ করেছেন তা না করা। রাসূল (সা) এর আদেশ-নিষেধ কোরানে নেই, আছে হাদীসে। হাদীস যদি না মানেন তাহলে আপনার প্রতি আল্লাহর এ আদেশ -- “রাসূলের আনুগত্য বা হুকুম মান্য করা” তা কিভাবে পালন করবেন?

    2. 21.2
      আব্দুল আওয়াল সুমন

      @ ফারুকঃ মানুষের একটাই জীবন, তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজীবন ক্ষনস্থায়ী আর পরকাল চিরস্থায়ী। পরকালীন জীবন পার্থিব জীবনের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ উভয় জীবনে সূখী হতে চাইলে পার্থিব জীবনেই ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তা হল পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়া। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) এর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমেই পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়া সম্ভব। তাই বলছি, নিজে পরিপূর্ণ মুসলিম হোন এবং অন্যকে হতে সাহায্য করুন তাহলেই উভয় জীবনে সূখী হবেন এবং জীবন সার্থক হবে।

      নিজে বিভ্রান্ত হয়ে এবং অন্যকে বিভ্রান্ত করে নিজের বা মুসলিম জাতির কোন কল্যাণ সাধন করতে পারবেন বলে আমার মনে হয়না।

      বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসেন। (আল ইমরানঃ ৩১)।
      তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারন কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা। (আল ইমরানঃ ১০৩)।
      তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করবে তাদের প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব। (বাক্বারাঃ ৮৫)।

      1. 21.2.1
        ফারুক

        কে যে বিভ্রান্তিতে আছে , আর কে অন্যকে বিভ্রান্ত করছে , সেটা নিশ্চিত ভাবে জানার জন্য হাশরের ময়দান পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। 

        ৫:১০৫ হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে বলে দেবেন, যা কিছু তোমরা করতে।

  22. 20
    Faruk

    ওয়া আলাইকুম ছালাম।
    ৩:৬৪ বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং [b][u]একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কোন মানুষকে পালনকর্তা বানাব না।[/u][/b] তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।
     আমরা মুসলমানরা ও আহলে কিতাবের অংশ , কারন কোরান আল্লাহর কিতাব। আমাদের নবী আমাদের মতোই মানুষ। হাদীস কোরানের বাণী নয় বা যেমনটি দাবী করা হয় রসূলের বাণী , তাও নয় বলেই আমার বিশ্বাস।
      
    কেউ কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারে না যদি আল্লাহ না চান , এমনকি শয়তানের ও সে ক্ষমতা নেই যদি আপনি একমাত্র আল্লাহর উপরে নির্ভর করেন। এটা আমার কথা নয় , এটা কোরানের বাণীর সারাংশ। চাইলে আয়াতগুলো দিব। কোরান আল্লাহভীরুদের জন্য দিকনির্দেশনা। অপরের মুখে ঝাল না খেয়ে নিজে বুঝে পড়ুন। আজকাল কোরানের অনেক অনুবাদ পাওয়া যায়। পরকাল এমনি গুরুত্বপূর্ণ যে ধর্মীয় ব্যাপারে শধুমাত্র আলেমদের উপরে নির্ভর করা বা অন্ধভাবে অনুসরন করা সমীচিন নয়। কারন আলেমরা ও কোন ব্যপারে একমত নয়। কে সঠিক বলছে সেটা যাচাই করার ভার আপনার উপরে। ভুল আলেমকে অনুসরন করেছেন এই অযুহাত আখেরাতে টিকবে না। এটাও কোরানের কথা।

    ভাল থাকুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত দিন এই কামনা করি।

    1. 20.1
      আব্দুল আওয়াল সুমন

      @Faruk: হে ঈমানদারগন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের নেতাদের আনুগত্য কর। (নিসাঃ ৫৯)।
      যে রাসূলের হুকুম মান্য করল, সে আল্লাহর হুকুমই মান্য করল। (নিসাঃ ৮০)।
      যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাস করেনা, আমি তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছি। (ফাতহঃ ১৩)।
      বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার (রাসূল সা) অনুসরণ কর। (আল ইমরানঃ ৩১)।
      নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। (আহযাবঃ ২১)।

      আমি তোমাদের মাঝে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না যদি এ দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাক। কিতাবুল্লাহ ও আমার সুন্নত। (মুয়াত্তা মালেক)
      যে কোন আমল রাসূল (সা) এর তরীকা মোতাবেক না হলে তা কবুল হবেনা। (মুসলিম)।

      উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলির কি ব্যাখ্যা করবেন আপনি?

      কোরআনে তাকবীরে তাহরীমা থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত নামাযের বিস্তারিত বিবরণ নেই, পাঁচ ওয়াক্ত সতের রাকাত নামাজ নেই, যাকাত আড়াই শতাংশ উল্লেখ নেই, হজ্জ্বের বিস্তারিত বিবরণ নেই। এসবের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে হাদীসে। আল্লাহতায়ালা কোরানকে ব্যাক্ষা করে মানুষকে বুঝিয়ে দেবার জন্যই রাসূল (সা) কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন। রাসূল (সা) এর আনুগত্য, অনুসরণই যদি না মানেন, তাহলে আল্লাহতায়ালা রাসূল (সা) কে কি উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন?

      1. 20.1.1
        ফারুক

        @Abdul awal sumon

        সদালাপে লেখা আমার নিম্নের পোস্ট ও মন্তব্যগুলো পড়লে আশা করি আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

        রসূলকে মান্য করা বা অনুসরন করা (উৎসর্গ মহিউদ্দিন) http://www.shodalap.org/faruk/14550/

        1. 20.1.1.1
          আব্দুল আওয়াল সুমন

          @ফারুক: হে ঈমানদারগন! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং নেতাদের আনুগত্য কর। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে সে বিষয়ে আল্লাহ ও রাসূলের কাছ থেকে ফয়সালা নাও। (নিসাঃ ৫৯)।
          আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। (আহযাবঃ ৩৬)

          উপরোক্ত আয়াত দুটি দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ, রাসূল এবং নেতাদের আনুগত্য করা ফরজ। এক্ষেত্রে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতে হবে বিনা শর্তে আর নেতাদের আনুগত্য করতে হবে শর্তসাপেক্ষে। উদাহরণস্বরূপঃ আল্লাহ ও রাসূল (সা) প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আদেশ করেছেন কিন্তু কোন নেতা যদি বলে চার ওয়াক্ত পড়লেও চলবে, তাহলে কি মানা যাবে? অবশ্যই না। এরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্মরণ রাখা আবশ্যক।

          নেতার আদেশ শোনা ও পালন করা ফরজ। তা পছন্দমত হোক বা না হোক। তবে তা যেন নাফরমানী কাজের জন্য না হয়। যখন নাফরমানী মূলক কোন কাজের আদেশ দেয়া হয় তখন তা শোনা বা পালন করা যাবেনা। (বুখারী)

          আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। (আরাফঃ ১৮৬)।

  23. 19
    ZakirHossain

    ভাই আসসালামুআলাইকুম। আপনি কি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে মানেন । আপনি যদি তাকে মেনে থাকেন তাহলে তার
    হাদীস গুলো দেখুন । নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে হাদিস গুলো বুঝার মানার তৌফিক দান করবেন(ইনশাল্লাহ )। আমরা আল্লাহ কে মানি এবং তার নবী ও রাসূল (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) দের মানি । হযরত মুহাম্মদ (সা) হল শেষ নবী তিনি বিশ্বের সকল মানুষের নবী। আমরা কুরআন মানি কুরআন হল আল্লাহ র গ্রন্থ যেটি কোন দিন ও বিক্রিত হবে না। আল্লাহ আমাদের কুরআন মানতে বলেছেন ও নবী (সাঃ ) যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছে সেইরকম আমাদের ও করতে বলেছে। সুতরাং আপনি বুঝতে পারছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। আল্লাহ আপনার মত লোককে হেদায়েত দান করুক।

    আর আপনি শুধু শুধু আমাদের বিভ্রান্তি করছেন কেন? আপনার যদি সত্যিই তেমন সাহস থাকে তবে ডাক্তার জাকির নায়েক এর মত লোকেদের কে বলুন আর তাদের সাথে তর্ক করুন

    আর আমাদের ধর্মে অনেক মাযহাব বা ভাগ আছে আমি এই বিভাগে বিশ্বাসী না । আমার মতে সকল সহীহ হাদিস গুলো র উপর আমল করা উচিত। আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে আপনি নতুন একটা মাযহাব তৈরি করছেন। তো আপনার তৈরি মাযহাব এর নাম কী?

    আমি যদি আপনার অনুভূতি তে ঘা দিয়ে থাকি তবে আমাকে মাপ করে দিবেন। কিন্তু এটাই বাস্তব।

  24. 18
    রিফাত হোসেন

    সালাম জনাব ফারুজ সাহেব আপনার উপলক্ষ এ অনেক না জানা, জানা হল! ধন্যবাদ। সবাই ই প্রাপ্য এখানে। আপনার ধ্যান ধারনা আমার সাথে মিলে মাত্র% কিছি, হাদীস পুরো সঠিক নয় অতটুকুই আর মহানবী সা: এরও ভুল হতে পারে কিন্তু আমাদের উপর এ তিনি। টেব থএকে টাইপ করছি তাই আর লিখলাম না। তবে আলোচনা ভাল লাগল, এই সাইট এর মোবাইল সাইট থাক্লেএ ভাল হয়।

  25. 17
    বাহাউদ্দিন

    ফারুক ভাই সালামুন আলাইকা , তাহলে আমি ভাবছি রুকু -(আল্লাহর আয়াতের প্রতি নত) , সিজদা -(আল্লাহর আয়াতকে মেনে নেওয়া), এবং যাকাত কি হবে যদি বলতেন। আমার viber চালু নেই এবং কোড হারিয়ে ফেলেছি সুতারং যদি একবার মিস কল দিতেন। ০১৮২২ ৮১৮১৯৩ এই নম্বরে।

  26. 16
    বাহাউদ্দিন

    ফারুক ভাই সালামুন আলাইকা, সালাত সম্বন্ধে খুব সুন্দুর জবাব দিয়েছেন , আমি গ্রহণ করলাম এবং মান্য করলাম। কুরআনে সিজদাহ, জাকাত এবং রুকুর  ধরন কিরকম হবে সংক্ষেপে জানালে খুশি হব । জবাবের অপেক্ষায় রইলাম।

     

    1. 16.1
      ফারুক

      বাহাউদ্দিন সালামুন আলাইকা।

      বোঝা যাচ্ছে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন , তবে এর উত্তর আপনাকেই খুজে বের করতে হবে। কারন কোরান মোল্লাতন্ত্র সমর্থন করে না। কোরান বিশ্বাসীদেরকে ভাবতে , চিন্তা করতে বলেছে। যারা ভাবে না , চিন্তা করে না তারা পশুর সমান।

      ৭:১৭৯ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।

       সালাত

      আলল্লাহর স্মরন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত। হাটতে শেখার আগে দৌড়ানো কি সম্ভব? বর্তমানের প্রচলিত নামাজ কি মানুষকে অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে? ভাবুন--

      ২৯:৪৫ আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।

      কারা দ্বীনকে মিথ্যা বলে? লোক দেখানো নামাজ কোনটি? ভাবুন--
       

      ১০৭:১-৭ আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে দ্বীনকে মিথ্যা বলে? সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয় এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না। অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।

       পশু পাখি সকলেই তার নামাজ জানে। সেই নামাজটা কি? ভাবুন--
       

      ২৪:৪১তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার নামায এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

      নবী শোয়ায়েব নামাজ সম্পর্কে কি শিক্ষা দিয়েছিলেন? বর্তমানের নামাজের সাথে টাকাপয়সা লেনদেনের কি সম্পর্ক আছে? ভাবুন--
       

      ১১:৮৭ তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।

      সেজদাহ

      তারা ও বৃক্ষাদি  ও সকলকিছু কিভাবে সেজদাহ দেয়? ভাবুন--

      ৫৫:৬ এবং তাঁরা ও বৃক্ষাদি সেজদারত আছে।

      ১৩:১৫ আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।
       

      দরজা দিয়ে কিভাবে সেজদারত ভাবে ঢোকা যায় , ভাবুন--

      ২:৫৮ আর যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ কর এ নগরীতে এবং এতে যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাক এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদারত ভাবে ঢুক, আর বলতে থাক-‘আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও’-তাহলে আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।

      রুকু

      নামাজ ও রুকু কি আলাদা? মারিয়াম কিভাবে রুকুতে যেতেন? ভাবুন--

      ২:৪৩ আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং অবনত (রুকু কর) হও তাদের সাথে, যারা অবনত (রুকু করে) হয়।

      ৩:৪৩ হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর।

      ২২:৭৭ হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

      ৭৭:৪৮ যখন তাদেরকে বলা হয়, নত হও(রুকু কর), তখন তারা নত হয় না(রুকু করেনা)।

       

       

       
       

       

       

       

       

       

       

  27. 15
    বাহাউদ্দিন

    হে ফারুক ভাই সালামুন আলাইকুম, নামাজে রুকু ও সেজদাহ কিভাবে হবে ? এবং কয়বার হবে? রুকু থেকে পুনরায় সোজা হতে হবে, সেজদাহ থেকে বসতে হবে আবার সেজদাহ করতে হবে। এ নিয়ম আপনি কুরআনে কোথায় আছে? কুরআনে থাকলে জানালে খুশি হবো । আমিও একজন একমাত্র কুরআনকে জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছি। আপনার কাছে অনেক প্রশ্ন আছে যদি দয়া করে আমার এই 01822 818193 নাম্বরে একটি কল করতেন তাহলে বড় উপকৃত হতাম । আল্লহ আপনাকে আরও জ্ঞান দান করুন। খোদা হাফেজ।

    1. 15.1
      ফারুক

      @ বাহাউদ্দিন, সালামুন আলাইকুম।

      <blockquote>আমিও একজন একমাত্র কুরআনকে জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছি।</blockquote>

      শুনে খুশি হলাম। তবে একটা জিনিষ মনে রাখুন , কোরান বিশ্বাসীদের জন্য উপদেশ গ্রন্থ। কোন আইনের বই নয়। যারা বলে কোরান একটি পূর্ন জীবণবিধান , তারা জ্ঞান পাপী।
      <blockquote>মুদাস্সির ৫৪  “এটা তো উপদেশ মাত্র।”
      সুরা আনাম ৯০  “এটি বিশ্বের জন্য উপদেশ মাত্র।”
      সুরা ছোয়াদ ৬৭ এবং ৮৭  “বলুন, এটি এক মহা সুসংবাদ  এটা তো বিশ্ববাসীর জন্য এক উপদেশ মাত্র।
      মুজাম্মিল-১৯ —
      এটা উপদেশ। অতএব, যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার দিকে পথ অবলম্বন করুক।
      হিজর-৯ --
      আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। </blockquote>

      নামাজ বলে কোন শব্দ কোরানে নেই।এটা একটা ফার্সি শব্দ। আমরা বাঙালিরা যাকে নামাজ বলি , সেটা কোরানে বর্ণীত সালাতের একটি অংশ মাত্র। সালাতের মানে ব্যাপক এবং সালাতের মানে নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত বিদ্যমান। একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করা , সদা সর্বদা আল্লাহর মহিমা ঘোষনা করা ও আল্লাহকে স্মরন করা , আল্লাহ ছাড়া অন্য প্রভুর  নির্দেশ না মানা ইত্যাদি ও সালাতের অংশ।

      প্রচলিত নামাজ অন্যান্য ধর্মের মতোই একটি ধর্মীয় রিচ্যুয়াল মাত্র। নামাজ কিভাবে , কত রাকাত , কয়বার পড়তে হবে তার কিছু দিকনির্দেশনা ছাড়া বিস্তারিত বিবরন কোরানে দেয়া নেই। এর অর্থ আমি যেটা বুঝি তা হলো , নামাজের ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। আপনি যেভাবে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন সেভাবেই নামাজ পড়তে পারেন। আপনাকে ভাইবারে একটি মেসেজ দিয়েছি। চাইলে ভাইবারে বা faruk55kw@gmail যোগাযোগ করতে পারেন।

  28. 14
    shabbir khan

    আসসালামু আলাইকুম

    ফারুক সাহেব, কোরআন তো আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে আরবদের জন্য। আপনি যেহেতু একজন কোরআনের স্কলার সেটা আপনার জানা থাকার কথা। সুরা ইয়ুসুফের শুরুতে আছে, আরো অনেক আয়াতে আছে। আপনিতো বাঙালি তাহলে আপনি কোরআন মানেক কেন?

    আর যারা হাদিস সংরক্ষণ করেছেন বলে আলেমরা দাবি করছেন, ওরাই কোরআন সংরক্ষন করেছেন, তাহলে কোরআন সংরক্ষিত হল ওদের দারা আর হাদিস সংরক্ষিত হলনা?

    আর আপনি আরবি ভাষা জানেক কিনা? যদি না যানেন তাহলে কোরআন বুঝেন কিভাবে? এই আনুবাদগুলো তো আলেমদেরি করা। 

    তাছাড়া তাছাড়া সঠিক অনুবাদ করল কিনা? এ ব্যাপারে আপনি কিভাবে নিশ্চিত হন? 

     

  29. 13
    এ. এইচ, এম, এমদাদুল হক

    Salamun Alaikum …

    সালাতঃ
    আরবী শব্দ صلاة (সালাত) যার অর্থ হচ্ছে যোগাযোগ প্রার্থনা। আরবী শব্দ صلاة টি এসেছে এই صلة আরবী শব্দ থেকে যার অর্থ হচ্ছে যোগাযোগ।

    সালাতের প্রস্তুতিঃ
    শারীরিক প্রস্তুতিঃ
    যৌন সম্ভোগ পরবর্তি অবস্থায় সালাত আদায় করতে হলে গোসল বা সারা শরীর ধৌত করতে হবে (৪:৪৩;৫:৬)।
    যখনই সালাতে দাঁড়ানো হোক না কেন তার জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শারীরিক প্রস্তুতিকে অজু হিসেবে অভিহিত করা যায়। অজুর ধাপ সমূহ (৫:৬) হচ্ছে,
    ১.মুখমন্ডল ধোয়া
    ২.কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া
    ৩.মাথায় ভেজা হাত বুলানো (মাসাহ করা)
    ৪. পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ধোয়া/মাসাহ করা
    *পায়খানা, প্রশ্রাব আর পাদের কারনে অজু নষ্ট হবে (৫:৬)। এক্ষেত্রে আবার অজু করতে হবে।

    মানসিক প্রস্তুতিঃ
    উত্তেজিত, বিশৃঙ্খল বা অচেতন মন নিয়ে সালাতে দাঁড়ানো যাবে না, মনোযোগি, বিনয়ী ও সচেতন চিত্তে সালাতে দাড়াতে হবে (৪:৪৩)। সালাতে বিনয় নম্র হতে হবে, হতে হবে যত্নবান (২৩:২;২৩:৯)। সালাতের খবর রাখতে হবে , এর ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে (২৯:৪৫; ১০৭:১-৭)। শুধুমাত্র আল্লাহকে স্মরণের জন্য (২০:১৪;২৯:৪৫) ও একমাত্র আল্লাহর প্রতিই হবে সালাত (৬:১৬২)। এমন মনে করা যাবে না যে সালাতে আল্লাহর সাথে অন্য কারও (নবী রাসূল, পীর টির এর) নাম নিলে সালাত ভালো হবে বা সালাতে আল্লাহ ছাড়া আর কাওকে ডাকা যাবে না (৭২:১৮)।

    সালাতের পোশাক ও কন্ঠস্বরঃ
    সুন্দর পোশাকে সালাত আদায় করা উচিৎ (৭:৩১)। কুরআন কোনও পোশাক নির্দিষ্ট করে দেয় নি। যে কোনও পোশাকে সালাত আদায় করা যায়। সালাতে থাকতে হবে স্বাভাবিক কন্ঠস্বর, উচ্চস্বরে এবং ক্ষীনস্বরে সালাত আদায় করা নিষেধ (১৭:১১০)। জামাতে সালাত আদায় করার সময় ইমাম স্বাভাবিক স্বরে পাঠ করবে, আর ইমামের সাথে সালাত আদায় কারীরা মনোযোগের সাথে শ্রবন করবে (৭:২০৪)।
    সালাত যেহেতু উচ্চস্বরে বা ক্ষীনস্বরে পড়তে আল্লাহ নিষেধ করেছে। সুতরাং পুরু সালাত বা সালাতের কিছু অংশ উচ্চস্বরে বা ক্ষীনস্বরে পড়া আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

    সালাতের দিকঃ
    সালাতে ইব্রাহিম নির্মিত কা’বার দিকে মুখ করে দাড়াতে হবে (২:১২৫,১৪৩-১৫০; ২২:২৬)।

    সালাতের কঠোর নিয়মানুবর্তিতাঃ
    সালাত আদায় করতে নিয়মিতভাবে মৃত্যু পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সূচির মধ্য সালাত আদায় করা অবশ্য কর্তব্য (৪:১০৩)। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও সালাত আদায় করতে হয়, জীবনের নিরাপত্তা বজায় রেখে (৪:১০২)। হায়েজের সময় আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপনে নিষেধ করা উচিৎ না । বিশেষ অসুবিধার ক্ষেত্রে সালাত সংক্ষিপ্তকরণ ও সালাতে শিথিলতার সুযোগ রয়েছে (৪:১০১-১০৩; ২:২৩৮-২৩৯)। তা বিশেষক্ষেত্র পরিচ্ছেদে আলোচিত হল।

    বিশেষক্ষেত্রঃ
    পানি না পাওয়া গেলে অজু/গোসল/অজু+গোসলের পরিবর্তে ধুলির উপর হাত মেরে দু হাত ও মুখমন্ডল মাসাহ করতে হবে (৫:৬)।

    যদি স্থির হয়ে দাঁড়ানোর কোনও উপায় না থাকে তাহলে যানবাহনের উপরে বা হেটে যেতে যেতেও সালাত আদায় করা যাবে (২:২৩৯)।

    যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা বজায় রেখে সংক্ষেপে সালাত আদায় করতে হবে (৪:১০১-১০২)।

    সালাত আদায়ে কোনও জটিলতার সম্মুক্ষিন হলে বিবেকসুদ্ধ উপায়ে সালাত আদায়ের উপায় বের করে সালাত আদায় করতে হবে। সালাত মিস দেওয়া যাবে না।

    ক্বাজা সালাতঃ
    সালাত নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা অবশ্য কর্তব্য (৪:১০৩)। তাই অনিবার্য কারনবসত একসময়ের মিস হওয়া সালাত অন্য সময়ে আদায় করা যাবে না। রোজার মত সালাতে কোনও ক্বাজা নাই। যা মিস হল তা হয়েই গেল। এজন্য শুধু অনুশোচনা করতে পারি।

    জামাতে সালাত আদায়ঃ
    জুমুয়ার দিনের সালাত জামাতে আদায় করা অবশ্য কর্তব্য। অন্য দিনের সালাত জামাতে আদায় করা অবশ্য কর্তব্য না। তবে একত্রে থাকা অবশ্যই কুরআন উৎসাহিত করে (৪:১০৩;২:৪৩)। কিন্তু অন্য সালাত একত্রে আদায় করা অবশ্য কর্তব্য না কিন্তু একত্রে পড়াটা ভালো।

    জুমুয়ার দিনের সালাতঃ
    জুমুয়ার দিনে যখন সালাতের জন্য ডাকা হবে সেদিন সবারই একসাথে সালাতের জন্য যাওয়া অবশ্য কর্তব্য (৬২:৯)। অর্থাৎ জুমুয়ার দিনে অবশ্যই একত্রে সালাত আদায় করতে হবে। ব্যবসাবাণিজ্য কাজকর্ম বাদ দিয়ে সালাতের দিকে ধাবিত হতে হবে।

    সালাতে নারী পুরুষঃ
    নারী পুরুষ উভয়েরই সালাত আদায় করতে হবে (৯:৭১)। সালাতে নারী পুরুষের কোনও ভেদাভেদ নেই। পুরুষ নারী উভয়েরই আল্লাহর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। সালাতের নিয়মেও নারী পুরুষের কোনও পার্থক্য নেই।

    কুরআন বর্নিত সালাতসমূহের নামঃ
    ১. সালাতুল ফজর বা ভোরবেলার সালাত (২৪:৫৮)
    ২.সালাতুল ইশা সন্ধ্যাবেলার সালাত (২৪:৫৮)
    ৩.সালাতুল উসতা বা মধ্যবর্তি সালাত (২:২৩৮)
    সালাতসমূহের সময়সূচীঃ
    সালাতের নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে সালাতে সময়টা কেমন হবে। তারপরও আরও পরিষ্কারভাবে সময় পরিধি দেওয়া আছে সুস্পষ্ট কুরআনে।

  30. 12
    আদনান চৌধুরী

    @ ফারুক সাহেব, "ঈমাম মুসলিম ঈমাম বুখারী-কে সন্দেহ করে বুখারীর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি। একি ভাবে  ঈমাম বুখারী ও তার গুরুর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি।" -- এ কথাটা তো আপনি মিথ্যা বললেন। আপনি আর ও বললেন- "যদি আপনি যুক্তি মানেন তাহলে বলতে হয় হাদীসে সন্দেহের শুরু হাদীস সংগ্রহের সেই প্রথম আমল থেকেই এবং বুখারী ও মুসলিম কে সহীহ হাদীস অস্বীকারের দায়ে কেন যে স্কলাররা মুরতাদ ঘোষনা করে না , তা আমার মাথায় আসে না।" দুঃখজনক।  এরপর বললেন--"উনারা পারেন আমার মতো চুনোপুটিকেই মুরতাদ ঘোষনা করতে।" — এরপর ও এডমিন কোন বেবস্থা নিচ্ছে না!!!

  31. 11
    ওয়াহিদুর রহমান

    ২. ফারুক সাহেব:
    নিচের ১ নং মন্তব্যটি অনেক আগে লিখেছিলাম কিন্তু ব্লগে দেওয়া হয়নি। আসলে আমি আপনার আজকের এই লেখাটির জন্যই অপেক্ষা করতেছিলাম এতদিন।

    আপনার কাছ থেকে কিছু নতুন তথ্য পাবো বলে আশা করেছিলাম যা দিয়ে শুধু কোর’আন অনুসরণ করে নামাজ পড়া যায়।

    কিন্তু আপনার সর্বশেষ এই ব্লগ থেকে বুঝতে পারলাম যে আপনার আর আমার নামাজ পড়ার ধরনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আপনি বলেছেন আপনি প্রচলিত নিয়মে আপনার বাপ মার নামাজ পড়াকে অনুসরণ করে নামাজ পড়ছেন। আমরা ও তাই করছি।  কিন্তু আমার আপনার বাপ মা সবাইতো রসূল (স :)কেই অনুসরণ করতেন। এতে কি মনে হয় না য়ে পক্ষান্তরে আমি আপনি ও রসূল (স 🙂 কেই অনুসরণ করছি ? আমার মনে হয় আপনি সূন্নাহ্ আর সূন্নতের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। রাসূল (স 🙂 প্রদর্শীত নিয়ম অনুযায়ী ফরজ কাজ আদায় করা এবাদতের ব্যবহারিক প্রকৃয়া যাকে সূন্নাহ বলে অভিহিত করা হয়। আর ফরজের বাহিরে রসূল (স 🙂 যে সকল অতিরিক্ত এবাদত করেছেন এবং আমাদেরকে করতে বলেছেন তা আমাদের জন্য সূন্নাত। সুন্নাত পালনে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তাই আপনি তা পালন না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে অন্যায় কিছু হয়নি। টরন্টোতে আরব কমিউনিটির অনেককেই সুন্নাত নামজ পড়তে দেখা যায় না। কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখবেন, অফিসে যারা আটটা পাঁচটা কাজ করে তাদেরকে ক্লারিকেল মেন্টালিটির লোক বলে অভিহিত করা হয়। ক্লারিকেল মেন্টালিটির জন্য কেহ চাকুরী হারায় না। কিন্তু যখন পদন্নোতির প্রশ্ন আসে তখন যে কর্মচারী আটটা পাঁচটা কাজের বাইরে অনুমোদিত অতিরিক্ত কাজ করে তাদের কথাই বিবেচনা করা হয়। আর দোষ ত্র“টি মওকুফের ক্ষেত্রেও যারা অতিরিক্ত কাজ করে তারাই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। ইউনির্ভাসিটিতে এডমিশনের ব্যাপারে যাদের একস্ট্রা একাডেমিক একটিভিটিজ থাকে মার্কস সমান সংখ্যক হলেও এডমিশনের ব্যপারে তারাই অগ্রাধিকার পায়।
     আশা করি এটা অস্বীকার করবেন না যে রসূল (স 🙂 এর সাফায়েত জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার সর্বশেষ সুযোগ। মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের এবাদতের সব রকম সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সদকায়ে জারিয়া না থাকলে অবশিষ্ট গুনাহ মওকুফের সুযোগ থাকে না। এমতাবস্থায় যখন অনেকেই এই গুনাহ নিয়ে পুলসিরাতে ঝুলতে থাকবে তখন মোহাম্মদ (স 🙂 এর সাফায়েতই হবে মুক্তির একমাত্র উপায়। এই অবস্থায় মোহাম্মদ (সাঃ) কার জন্য সুফারিশ করবে বলে আপনার মনে হয় ? আপনি যা করেন মোহাম্মদ (সাঃ) তাই করবেন। মনে করুন আপনার দুজন কর্মচারী রয়েছে। একজন রোবটের মতো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে, আর অন্য জন আপনি চাইলে অতিরিক্ত কাজ করতে দ্ধিধাবোধ করেনা। সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই আপনি দ্বিতীয় ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকবেন। মোহাম্মদ (স :)ও সুপারিশের ব্যাপারে তাদেরকেই অগ্রাধিকার দিবেন যাদের তার অসিয়ত অনুযায়ী অতিরিক্ত এবাদত করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
    আমি মনে করি নামাজ নিয়ে এটাই হওয়া উচিত আপনার শেষ লেখা। কারন আপনি নিজেই বলেছেন আপনি কাকেও বিভ্রান্ত করতে চান না। আমার মতে আপনার মধ্যেও এর পর আর কোন বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। তাই নামাজ নিয়ে ব্লগে লিখে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করার প্রয়োজন নেই। আসলে নিজে শিখে পালন করা আর অন্যকে দেখে পালন করা একই কথা। জ্ঞান তিনভাবে শিখতে হয়। ১,হাক্কুল এয়াকিন (শুনে শিখা) ২. আইনুল এয়াকিন (দেখে শিখা) ৩. ইলমুল এয়াকিন (পড়ে শিখা)। জ্ঞান অর্জনের সোর্স একটা হলে আপনি যে ভাবেই শিখুন না কেন সোর্সে যা আছে তা’ই শিখছেন। নামাজ শিখে পড়া আর অন্যকে অনুসরণ করে পড়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। পক্ষান্তরে আমরা সবাই মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শীত পথই অনুসরণ করছি। মোহাম্মদ (সাঃ) অনুসরণ কাই আমাদের জন্য সুন্নাহ্ না সুন্নাত। মুসলমানদের পক্ষে কোর’আন, সুন্নাহ্, সুন্নাত কোনটাই পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়।                            
    ১. ফারুক সাহেব:
     আপনি কি একজন বিশ্বাসী না অবিশ্বাসী হিসাবে লেখাটি লিখেছেন তা বুঝতে পারলে মতামত দেওয়া সহজ হতো। কারন বিশ্বাসীদের সাথে কথা হয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এবং অবিশ্বাসীদের সাথে কথা হয় বিশ্বাস এবং অবিশ^াসের মাত্রা নির্ধারনের জন্য। কিন্তু মনে রাখবেন অনেক বুদ্ধিবন্দী মানুষ দুনিয়াতে রয়েছে কোর’আন-সূন্নাহ্র মধ্যে যারা দোষ খুঁজতে পছন্দ করে তাদের বিভ্রান্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ্ কোর’আনেই ব্যবস্থা রেখেছেন (সুরা আল-বাকারা ২/২৬)। বিভ্রান্ত মানুষরা কোর’আন-সূন্নাহ্ অধ্যায়নের মাধ্যমে ধর্ম অনুশীলনের পরিবর্তে কোর’আন-সূন্নাহ্কে বড়ি বানিয়ে খাওয়াকে ধর্মীয় কাজ মনে করে থাকে। এদের ব্যাপারে মুসলমানদের বিশেষ সর্ত থাকা বাঞ্চনীয়। আর এদের কেহ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে তর্ক করতে চায় তার সাথে ডিফেন্সিভ হয়ে লাভ নেই। শুধু অফেন্সিভ হলেই তার পাতানো ফাঁদে তাকে আটকানো সম্ভব হবে। আপনার লেখাটি আপনি কি উদ্দেশ্যে লিখেছেন তা বুঝা না যাওয়ায় আমার সহজ কথাগুলো যদি কঠিন হয়ে যায় মাফ করে দিবেন। তবে মনে রাখবেন নিজের বিভ্রান্তি যদি পাঠকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেখাটি লিখে থাকেন তা হলে কাজটা ভাল করেন নি। মুসলমানদের এমনিতেই এখন অনেক সমস্যা। এক সময় মুসলমানদের শুধু একটা মাজহাব ছিল। পরে হয়েছে দুটি। তারপর হয়েছে ষোলটি (সূন্নিদের ৪টি এবং শিয়াদের ১২টি)। আর এখনতো মা’শাল্লা প্র্রত্যেকটি মুসলমানই এক একটি মাজহাব। কোর’আন-সূন্নাহ্ অধ্যায়ন না করেও ফতুয়া দিতে আমরা কেহই এখন আর কারো থেকে কম যাইনা। আপনি কোন প্রকার কন্টেক্ট ছাড়া হাদীস-কোর’আন থেকে উদ্দৃতি দিয়ে আপনার বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপনা করেছেন তা কোর’আন-সূন্নাহ্র ব্যাপারে মানুষের মধ্যে যথেষ্ট পরিমান বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য। মনে রাখবেন মানুষের বিশ্বাস নিয়ে কৌতুক করা একটি গর্হিত কাজ; এতে মুসলমানিত্বই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সে যাই হোক, আপনি বলেছেন এবার হাদীস থেকে উদ্দৃত করেছেন, আগামী লেখায় কোর’আন থেকে অনুরূপ উদ্দৃতি দেবেন। তার আগে, আমি নিজেই আপনার সুবিধার্থে কোর’আন থেকে একটি আয়াতের উদ্দৃতি দিচ্ছি। সুরা আন্ নিসার ৪৩ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন ” হে বিশ্বাসী গন! তোমরা মাতাল বা মানষিক ভাবে অস্বচ্ছ অবস্থায় নামাজের কাছে যেও না, যতক্ষন না তোমরা কি বলছ তা বুঝতে পার, আর ভ্রমনের সময় ছাড়া অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা অসুস্থ থাক বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ পায়খানা-প্রশ্রাব কর, বা স্ত্রী সহবাস করার পর পানি না পাও, তবে তাইয়াম্মুম করবে পরিষ্কার মাটি দিয়ে ও তা মুখে হাতে বুলিয়ে দেবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী ক্ষমাশীল।” এই আয়াতের মাধ্যমে অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করা ফরজ হলেও পানি না পাওয়া গেলে নামাজ পড়ার জন্য তাইয়াম্মুম করা জায়েজ করা হয়েছে। হেদায়েত প্রতিপালনের জন্য বিধি-বিধানের এই পার্থক্য কন্টাডিকশন নয় কন্ডিশন। কন্ডিশন অর্থাৎ অবস্থা বা শর্ত বিবেচনা করে হেদায়েত প্রতিপালনের জন্য এরকম ব্যতিক্রম বা ফ্লেক্সিবিলিটির ব্যবস্থা রেখেই ইসলামকে সকল যুগের সকল মানুষের জন্য গ্রহনযোগ্য করা হয়েছে। কোর’আন-সূন্নাহ্ মুসলমানদের জন্য সংবিধান। অন্যান্য আইনের মতো হেদায়েত প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও মুসলমানদের জন্য অনেক কিছুই স্বত:সিদ্ধ রাখা হয়নি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী বিধান অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে মুসলমানদের প্রায় সকল কাজেরই হারাম-হালালের সংগা পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন আমরা সবাই জানি যে শুকরের মাংস খাওয়া হারাম, কিন্ত খিদেয় কষ্ট পাওয়া মানুষের জন্য এই শুকরের মাংস হারাম করা হয়নি। একই ভাবে ভ্রমন অবস্থায় ফরজ নামাজ চার রাকাতের স্থলে দু’রাকাত পড়তে হয়। ইসলাম সকল যুগের সকল পরিস্থিতির সহিৎ মানান সই একটি ধর্ম। আদেশ-নিষেধ বা হেদায়েত প্রতিপালনের ক্ষেত্রে এরকম ফ্লেক্সিবিলিটি না থাকলে ইসলামকে ইউনিভার্সাল ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হতোনা।
    কিন্তু দুর্ভাগ্য এই ব্যতিক্রম বা ফ্লেক্সিবিলিটি বুঝার জন্য কোর’াান-সূন্নাহ্র উপর যে জ্ঞান থাকার দরকার তা এখন মুসলমানদের নেই। অধিকন্তু প্রায় সর্বত্রই ইসলাম হয়ে গেছে এখন ট্রেডিশানাল ইসলাম। ফলে ইসলামের উপর প্রাইমারী এডুকেশন নেই এমন লোকও পিএইচডি লেভেলের বিষয় হেন্ডলিং করতে গিয়ে প্রতিদিন বিভ্রান্ত হচ্ছে। আসলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নীবিড় তথ্য বুজার জন্য মানুষের দু’টো গুনাগুণ থাকা প্রয়োজন। (১) মেন্টাল মেসিউরিটি যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়, এবং (২) নলেজ ডেভেলপ্মেন্ট যা অর্জন করতে হয় ‘ষ্টেপ-বাই-ষ্টেপ’ অর্থাৎ ধাপে ধাপে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেহ যদি ধাপে ধাপে জ্ঞানের উন্নয়ন সাধন না করে তাহলে বয়স ২৫ বছর হলেও পিএইসডি’র পড়া বুঝা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ইসলাম মানুষের সারা জীবনের জন্য একটি পরিপূর্ণ কোর্স। কিন্তু মুসলমানদের অনেকেই আজকাল ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ ‘বিসমিল্লাহ্’ ইত্যাদি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার উপর বিশেষ জ্ঞান রাখে না। এমতাবস্থায় ‘ক্লাস ওয়ান’ এর সমতুল্য জ্ঞান নেই এমন কেহ যদি ইসলামের ‘পিএইসডি’ ধরনের বিষয় বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করে তাহলে এমন প্রশ্নে যে সে নিজে বিভ্রান্ত হবে অন্যান্যদেরকেও বিভ্রান্ত করবে তা সন্দেহাতীত ভাবে সত্য হতে বাধ্য। দেশে একবার আমার এক বন্ধুর ছেলে ধর্ম নিয়ে আমাকে একটি উঁচু ধরনের প্রশ্ন করেছিল। আমি তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে এক ঘন্টা সময় নিয়েছিলাম ধর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সাথে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার জন্য। এক ঘন্টা পর সে আমাকে বললো ‘আপনি তো আমার প্রশ্নের উত্তর জানেন, তাহলে বলছেন না কেন?’ আমি তাকে বললাম ‘তুমি যে বুঝতে পেরেছ তোমার প্রশ্নের উত্তর আমার জানা রয়েছে এই মুহুর্তে তোমার ও আমার জন্য  এটুকুই যথেষ্ট। এটা একটি উঁচু স্তরের প্রশ্ন। এর উত্তর বোঝার জন্য কোর’আন-সূন্নাহ্’র উপর তোমার আরো লেখা পড়া করার দরকার। আর লেখা পড়া করলে তোমার নিজের পক্ষেই একদিন এর উত্তর খুুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু আমি যদি এর উত্তর তোমাকে বলতে যাই, তুমি প্রশ্ন করা শুরু করবে। এবং প্রশ্ন করতে করতে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়ে যেতে পার যে পর্যায়ে গেলে তোমার ঈমান প্রশ্ন বিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই তোমাকে এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি থেকে বাঁচানোর জন্য আমি এই মুহুর্তে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিনা।’ মানুষের পক্ষে অনেক সময় মানুষের তৈরী বিধি-বিধানই সঠিক ভাবে বুঝা সম্ভব হয় না। কোর্টে আইনের একই ধারা নিয়ে দুই উকিল দু’ভাবে যুক্তি উত্থাপন করে, কিন্তু বিচারক একটাকে গ্রহন করে অন্যটাকে পরিত্যাগ করে থাকে। কোর’আন-সূন্নাহ্ আল্লাহ্ প্রবর্তীত বিধি-বিধান। মানুষের সসীম জ্ঞান দিয়ে আল্লাহ্র এই অসীম জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করা সহজ না হলেও আল্লাহ্ কোর’আন-সূন্নাহ্ মানুষের বুঝার জন্য সহজ করেই প্রবর্তন করেছেন (সুরা কমর: ৫৪/১৭,২২,৩২,৪০)। তাই একটু সময় নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে কারো পক্ষেই কোর’আন-সূন্নাহ্ বুঝা ও মনে রাখা অসম্ভব নয়। তবে এজন্য মানুষের তৈরী বিধি-বিধান বুঝার জন্য আমরা যে সময় ব্যয় করে থাকি অন্ততঃ তার চেয়ে কম সময় ব্যয় করা ঠিক নয়। আর এটাও ঠিক নয় যে ‘উকিল না হয়ে আমরা ধর্মীয় বিধি-বিধানের ব্যাপারে উকিলের মতো তর্ক করি। আল্লাহ্র আইন না মেনে মানুষের কোন গন্ত্যত্তর নেই। তাই আসুন তর্ক না করে আমরা আল্লাহ্র আইন অনুশীলনের জন্য সঠিক ভাবে তা অনুধাবন করার কাজে একে অন্যকে সহায়তা করি। মনে রাখবেন ‘বিশ্বাসে মিলায় স্বর্গ তর্কে বহু দূর’ প্রবচনটি একেবারে অমূলক নয়। নিয়ত ঠিক থাকলে আল্লাহ্ কোন কাজেই মানুষকে পরাভুত হতে দেয় না। ডঃ জেফরি লেং আমেরিকার একটি স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটির মেথম্যাটিক্সের প্রফেসর। তিনি কেথলিজম ছেড়ে বিভিন্ন ধর্মচর্চা করতে গিয়ে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিলেন। দৈবাৎ তাঁর কোর’আনের সহিত পরিচয় ঘটে। সূরা বাকারার ৩০নং আয়াত পর্যন্ত পড়ে তিনি তাঁর আজন্ম লালিত অনেক প্রশ্নের জবাব পেয়ে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি মেথম্যাটিক্সের মতো এনালাইস করে পুরো কোর’আন অধ্যায়ন করেন। তিনি বলেছেন ‘কোর’আনের প্রতিটি আয়াত পূর্বের আয়াতে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেয় এবং নুতন প্রশ্ন উপস্থাপন করে। এই ভাবে আয়াতের পর আয়াতে উত্থাপিত প্রশ্ন-উত্তর সমাধান করে যখন তিনি কোর’আনের সর্বশেষ আয়াতে পৌঁছালেন তখন তার সকল প্রশ্নের সমাধান হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন ঘাত-সংঘাতময় এই পৃথিবীতে মনুষ্য জন্মের উদ্দেশ্য। তাঁর লেখা ‘ষ্ট্রাগলিং টু সারেন্ডার’, ‘ইভেন এঞ্জেল নিউ’, ‘লুজিং মাই রিলিজিয়ন’ ইত্যাদি বই গুলো পড়–ন, আপনিও কোর’আন-সূন্নাহ্ সঠিক ভাবে অধ্যায়নের অনুপ্রেরনা পাবেন এ্বং খুঁজে পাবেন আপনার মনুষ্য জন্মের মর্ম কথা। 
    তবে হাদীসের ব্যাপারে যে অনেক সমস্যা রয়েছে তা একেবারে অসত্য নয়। হজরত আলীর পর ইসলাম উমাইয়্যা-আব্বাসিয়দের হাতে পড়ে গিয়েছিল এবং বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল শিয়া-সুন্নি দু’ভাগে। তখন সবাই সবার কাজকে জাষ্টিপাই করার জন্য যে বেঠিক হাদীস তৈরী করেনি তা কেহ হলফ করে বলতে পারবে না। হাদীসের প্রেক্ষাপট, সঙ্কলন, ভাষান্তর ইত্যাদি সংরক্ষনের মধ্যেও রয়েছে অনেক লিমিটেশন। কিন্তু যত লিমিটেশনই থাকুক মনে রাখবেন, জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার দায়িত্ব আল্লাহ্ আমাদের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন (সুরা তাহ্রিম: ৬৬/৬)। কোর’আন মুসলমানদের হেদায়েতের মৌলিক গ্রন্থ। সূন্নাহ্ হেদায়েত কিভাবে প্রতিপালন করতে হবে তার উপর রাসুল (সাঃ) এর প্রত্যক্ষ ডেমোনেষ্ট্রেশন। এজন্যই মোহাম্মদ (সঃ) কে জীবন্ত কোর’আন বলে অভিহিত করা হতো। কালের বিবর্তনে এই ডেমোনেষ্ট্রেশনের বিষয়টি নিয়ে কিছু কিছু মতভেদ সৃষ্টি হলেও সম্পূর্ণ ভাবে তা হারিয়ে যায়নি। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য কোর’আন এখনো আমাদের সামনে অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। ফলে কোন হাদীস যদি কোর’আনের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে তাহলে তা পরিহার করে চলার সুযোগ অবশ্যই আমাদের রয়েছে। অপরদিকে হেদায়েত নিয়ে যত প্রকার মতপার্থক্য তার বেশীর ভাগই হেদায়েতের প্রয়োগ ‘কিভাবে’ হবে তা নিয়ে। কিন্তু হেদায়েত ‘কি’ এবং ‘কেন’ আমরা হেদায়েত পালন করি তা নিয়ে খুব বেশী মতপার্থক্য নেই। আর এই ‘কি’ এবং ‘কেন’র বিষয়টি কোর’আনই আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকে। তাই কোর’আন জানা থাকলে হেদায়েত প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ‘কিভাবে’ ইস্যূ নিয়ে যে ছোটখাট পার্থক্য আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে গুরুত্বহীন হয়ে যেতো। মনে রাখবেন, ইসলাম রীতি সর্বস্ব কোন ধর্ম নয়। মুসলমানদেরকে জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহ্র আইন অনুযায়ী সম্পাদন করে বেহেশ্ত লাভের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। একাজে, কোর’আন ও সূন্নাহ্ একটাকে বাদ দিয়ে আর একটা হয় না বলেই মোহাম্মদ (সাঃ) বিদায়  হজ্জ্বে আমাদেরকে কোর’আন-সূন্নাহ্ মেনে চলতে বলেছেন। সূন্নাহ্ সমূহের সঙ্কলনকে আমরা হাদীস বলে অভিহিত করে থাকি। হাদীস সঙ্কলনের মধ্যে যদি কোন ভুল ভ্রান্তি থাকে তা সংশোধন করার দায়িত্ব আমাদেরই। কিন্তু সংকলন যদি সঠিক থাকে এবং আমার তা বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে বিশ্বাসী হিসাবে হাদীস অস্বীকার করার অধিকার কোন মুসলমানের নেই। ক্লাসের অনেক পড়া-লেখাইতো আমাদের বোধগম্য হয় না। তাই বলে শিক্ষক বা শিক্ষার কোন উপাদানকে আমরা ভুল বলে অভিহিত করি না। একই ভাবে কোর’আন-সূন্নাহ্র ব্যাপারে আমাদের অসহিষ্ণু হওয়া উচিত নয়। আগেই বলা হয়েছে যে ইসলাম সর্বকালের সকল পরিবেশের সহিত মানানসই একটি ধর্ম। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একই হেদায়েতের প্রয়োগ বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন রকম হতে পারে। তাই আমাদের উচিত এরকম পার্থক্যের মধ্যে অসংগতি না খুঁজে অসঙ্গতির কারন খুঁজে বের করে যথাযত ভাবে হেদায়েত প্রতিপালন করা।
    পরিশেষে, আপনি আপনার লেখায় কোন প্রকার কন্টেক্ট ছাড়া কতগুলো বিষয়ের উদ্দৃতি দিয়েছেন। কন্টেক্ট ছাড়া কোন বিষয় উপস্থাপন একটি অনৈতিক কাজ। এর মাধ্যমে যদি মানুষের মধ্যে কোন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় তার দায় কিন্তু আপনি এড়াতে পারবেন না। মানুষ হিসাবে আমাদের এমনিতেই সামর্থ্যরে অনেক অভাব। আসুন এই অভাবকে আরো অধিক পরিমান পরিব্যাপ্ত না করে সবাই মিলে আমরা কোর’আন-সূন্নাহ্র উপর বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জনের কাজে মনোনিবেশ করি। এবং এই ব্লগকে ব্যবহার করি একে অন্যকে সহায়তা করার মাধ্যম হিসাবে। মনে রাখবেন, আল্লাহ্ জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের জন্য চারটি কর্তব্য নির্ধারন করে দিয়েছেন ১. ইল্লাল্লাজিনা আমানু ২. অ’আমেলুসসলেহাতে ৩. অ’তাওয়াসাওবিল হাক্ক ৪. অতাওয়াসাওবিসসব্র। ইমান ও আমলের সাথে ধৈর্য্যরে সহিত সঠিক ভাবে ধর্ম চর্চা না করে কারো পক্ষেই ক্ষতি পূরন করা সম্ভব হবে না (সুরা আসর: ১০৩/১-৩)।      

  32. 10
    রাতুল

     
    @ফারুক ভাই,
    ১।  আপনার নামাজ সুবিধামত কায়দায় পরিবর্তন হতে পারে আপনার কথানুযায়ী। যেহেতু, সুন্নত আগেই বাদ দিয়েছেন তাহলে ধরে নিতে পারি, ফরজ নামাজের মধ্যে আপনি সম্ভাব্য পরিবর্তন এর কথা বলছেন। কিন্তু সেখানে ও আপনার কথার দ্বিচারিতা লক্ষণীয়। যেহেতু, আপনার পোস্টের ৪ নং পয়েন্ট অনুযায়ী—-
    ““ইচ্ছা করলেই কেউ ফরজ নামাজের সংখ্যা বা রাকাত সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেনা বা যদি করেও কেউ মানবে না। ’’’’
     
    এখন প্রশ্ন হল, কেউ যদি ফরজ নামাজ ২০/৪০/৬০ রাকাত ও পড়ে তবে আপনার কথা অনুযায়ী কেউ তা মানবেনা কেন?
     
    ২। আপনি সুন্নত নামাজ পরেআপ,নবি-সাহাবিদের আমল থেকে ফরজ, সুন্নত, নফল নামজের বিধান চলে আসছে। এখন, হঠাত করে, আপনি সুন্নত অস্বীকার করছেন। এটাই কি বিভ্রান্তির জন্যে যথেষ্ট নয়? আপনার পোস্ট অনুযায়ী—-
    ‘‘‘‘আল্লাহ নামাজকে মানুষের পালনের মাধ্যমে সংরক্ষন করছেন বা সংরক্ষন করবেন কেয়ামত পর্যন্ত।””
     
    আমার ও তাই মত। আল্লাহ্‌ মানুষের পালনের মাধ্যমে কেয়ামত পর্যন্ত ফরজ, সুন্নত, নফল নামাজের বিধান সংরক্ষণ করবেন।
     
    ৩।   এআপনিদিয়েছেন, আপনি  নবীকে মানতে চান না। এটি আপনি বলেছেন। কেননা, ব্লগে একের পর এক পোস্ট দিয়েছেন,নবীকে অস্বীকার করে, নবীর সুন্নতকে অস্বীকার করে। আবার বলছেন,
          ‘‘‘‘নবীকে মানি বলেই না তার প্রচারিত কোরানকে মেনে চলি। ’’’’
     
    যদি তাই হবে, তবে বিভিন্ন সময়ে এসব কথা কেন বললেন? 

    ক। “আমরা মানুষ মুহম্মদকে অনুসরন করি না ; আমরা অনুসরন করি সেই আলো’কে , যা মুহম্মদের কাছে এসেছে। অর্থাৎ কোরানকে।’’
    খ। ‘‘মুসলমানদেকে মানুষ মুহম্মদকে নয় বরং আল্লাহ্‌র বানীকেই বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে।”
    (সূত্রঃ রসূলকে মান্য করা বা অনুসরন করা (উৎসর্গ মহিউদ্দিন) by ফারুক
    গ। ‘‘আমি ওহি নাযিলে বিশ্বাস করি , তবে সেটা হেরা গুহায় নাকি কোন গাছতলায় ঘটেছিল , সেটা জানা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইতিহাস ঘেটে ও কোরান পড়ে যেটুকু বুঝেছি , বিভিন্ন বিজয় তো দুরে থাক , রসূল কোনদিন মক্কায় পা রেখেছিলেন কিনা সেটাই আমি নিঃসন্দেহে জানতে পারিনি।’’

    ঘ। বিশুদ্ধ হাদিস বা বিশুদ্ধ রসূলের বাণী  বলে আজ আর কিছু নেই এবং যতটুকু বুঝেছি কোন কালে ছিল ও না। সত্যি কথা বলতে  রসূলের নাম ধাম ও সংসার জীবণের যে ইতিহাস আমরা জানি , তার কতটুকু সত্য , সেটা নিয়ে আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। 
    ঙ। আমি বলেছি , আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। এর অর্থ হলো — হযরত মুহাম্মদ সাঃ নামে কোন মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিল কিনা আমি জানি না। কোরান যে রসূলের উপরে নাযিল হয়েছিল তার নাম "আহমদ"।

    (সূত্রঃ আমার নামাজ এর মন্তব্য অংশে  by ফারুক)

    প্রশ্ন হল, কাঊকে বিশ্বাস এর তালিকায় সন্দেহে রেখে তার উপর অবতীর্ণ কোরআনকে আপনি বিশ্বাস করেন কোন যুক্তিতে? মানুষের মনে এত সন্দেহের বীজ বপন করে আপনি কি হাসিল করতে চান?  
    ভালো থাকুন। 
     

    1. 10.1
      ফারুক

      @ রাতুল,
      সালাম।

      ১।  আপনার নামাজ সুবিধামত কায়দায় পরিবর্তন হতে পারে আপনার কথানুযায়ী। যেহেতু, সুন্নত আগেই বাদ দিয়েছেন তাহলে ধরে নিতে পারি, ফরজ নামাজের মধ্যে আপনি সম্ভাব্য পরিবর্তন এর কথা বলছেন। কিন্তু সেখানে ও আপনার কথার দ্বিচারিতা লক্ষণীয়। যেহেতু, আপনার পোস্টের ৪ নং পয়েন্ট অনুযায়ী—-
       ““ইচ্ছা করলেই কেউ ফরজ নামাজের সংখ্যা বা রাকাত সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেনা বা যদি করেও কেউ মানবে না। ’’’’
       
       এখন প্রশ্ন হল, কেউ যদি ফরজ নামাজ ২০/৪০/৬০ রাকাত ও পড়ে তবে আপনার কথা অনুযায়ী কেউ তা মানবেনা কেন?
       
       

      আপনি বারে বারে সুবিধামতো কায়দায় পরিবর্তনের কথা বলছেন , যেটা ভুল। কথাটা হবে সুবিধামতো কায়দায় নয় , বরং নুতন জ্ঞানার্জনের কারনে কোরান পড়ে যদি বুঝি নামাজের কায়দার পরিবর্তন করা দরকার , তাহলেই শুধু নামাজ পরিবর্তন করব। এ কারনেই দেখবেন আমার নামাজের সাথে  প্রচলিত নামাজের বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। আমি আমার সুবিধার জন্য এই পরিবর্তন গুলো করিনি বরং আমার নামাজকে কোরান সম্মত করার জন্যই এই পরিবর্তন করতে হয়েছে।

      যে কেউ ইচ্ছা করলে সমাজে প্রচলিত নিয়মকে পরিবর্তন করতে পারে না , তার প্রমাণ তো আমিই। যদি পারতাম তাহলে তো আমার নিয়মটাই সমাজে প্রচলিত নিয়ম হিসাবে আজ চালু হোত। সমাজের নিয়ম পরিবর্তন না করতে পারলে ও নিজেরটা পরিবর্তনে তো কোন বাধা নেই। এর ভিতরে দ্বিচারিতার কি দেখলেন? কেউ যদি তার বুঝ অনুযায়ী  ২০/৪০/৬০ রাকাত ও পড়ে , সেটা সে পড়তেই পারে । তবে আপনি কি সেটা মানবেন? হ্যা মানা সম্ভব বা মানা উচিৎ হবে , যদি সে কোরান থেকে পরিস্কার আয়াত উপস্থাপন করে , যেখানে ২০/৪০/৬০ রাকাত নামাজের উল্লেখ আছে।

      ২। আপনি সুন্নত নামাজ পরেআপ,নবি-সাহাবিদের আমল থেকে ফরজ, সুন্নত, নফল নামজের বিধান চলে আসছে। এখন, হঠাত করে, আপনি সুন্নত অস্বীকার করছেন। এটাই কি বিভ্রান্তির জন্যে যথেষ্ট নয়?

      আমি হটাৎ করে সুন্নত অস্বীকার করিনি। পড়ে শুনে ও বুঝেই অস্বীকার করেছি। আমি তো মনে করি , আমি বিভ্রান্তিতে ছিলাম । বরং এখন আমি বিভ্রান্তি মুক্ত। আপনি কি মনে করেন বা আপনি কতটুকু সুন্নত নিয়ে গবেষনা করেছেন , সেটা আপনার ব্যাপার।

      ক। “আমরা মানুষ মুহম্মদকে অনুসরন করি না ; আমরা অনুসরন করি সেই আলো’কে , যা মুহম্মদের কাছে এসেছে। অর্থাৎ কোরানকে।’’
      খ। ‘‘মুসলমানদেকে মানুষ মুহম্মদকে নয় বরং আল্লাহ্‌র বানীকেই বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে।”

      আপনি মানুষ মুহম্মদ ও রসূল মুহম্মদের মাঝে যে পার্থক্য সেটা ধরতে পারেন নি বলেই আপনার কাছে এমনটা মনে হচ্ছে। আমি আমার শব্দ চয়নের ব্যাপারে যত্নবান। একটি উদাহরন দেই-

      একজন বিশিষ্ট নামকরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার একাধারে খারাপ স্বামী বা বোকা ব্যাবসায়ী হতে পারে , যার মাথায় সকলে কাঠাল ভেঙ্গে খায়। আপনার রোগের চিকিৎসার জন্য ঐ ডাক্তার সাহেবের কাছে যাবেন ডাক্তারি পরামর্শের জন্য নাকি ব্যাবসা ও স্বামী হিসাবে কি কর্তব্য সেই পরামর্শের জন্য?  একজন মানুষ একাধারে ডাক্তার , স্বামী ও ব্যাবসায়ী। ডাক্তারি জ্ঞানের জন্যই লোকটাকে ডাক্তার নামকরন করা হয়েছে।

      তেমনি মুহাম্মদ একাধারে রসূল , স্বামী , পিতা , সৈনিক , শাসক ইত্যাদি ইত্যাদি। ধর্মের ব্যাপারে আমাদের রসূল মুহাম্মদকে অনুসরন করা লাগবে , মানুষ মুহাম্মদকে নয়। রসূল মুহাম্মদ সকল ভুলভ্রান্তি মুক্ত কিন্তু মানুষ মুহাম্মদ   ভুলভ্রান্তি মুক্ত নয়।
       
       গ।ঘ। ঙ। এ. ইসলামকে দেয়া  6.2 কমেন্ট দেখুন।
       

      প্রশ্ন হল, কাঊকে বিশ্বাস এর তালিকায় সন্দেহে রেখে তার উপর অবতীর্ণ কোরআনকে আপনি বিশ্বাস করেন কোন যুক্তিতে? মানুষের মনে এত সন্দেহের বীজ বপন করে আপনি কি হাসিল করতে চান? 

      দেখুন কোরানকে কেউ মুহাম্মদের কারনে বিশ্বাস করে নি। কোরানকে বিশ্বাস করে কোরানের বাণীর সত্যতা যাচাই করে। অবশ্য বেশিরভাগ মুসলমানের কথা আলাদা। তারা বিশ্বাস করে উত্তরাধিকারে পাওয়া বিশ্বাস হিসাবে। এরা হিন্দু ঘরে জন্ম নিলে আজ হিন্দুই হোত , মুসলমান নয়।

      হাদীসে যতক্ষন সন্দেহ হবে না , ততক্ষন মানুষ কোরান ও পড়বে না এবং সত্যিকার ইসলামকে জানবে না। প্রতি অক্ষরে ১০ নেকীর লোভ দেখিয়ে শয়তান মানুষকে কোরান বুঝে পড়া থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছে , এটাই সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি।

      আপনিও ভাল থাকুন।

  33. 9
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @ফারুক ভাই,
    আপনি যদি mkfaruk হন, তাহলে কথাগুলো আপনার জন্য। ভবঘুরের একটি সিরিস লিখা চলছে। পর্ব-১৪ তে আমি ভবঘুরের বিদ্বেষ ও বিকৃত লিখার বিরুদ্ধে লিখা শুরু করলেও আপনার আগমনে আমি মন্তব্য লিখা বন্ধ করি। আপনার উপস্থাপনা ও মন্তব্যগুলো সুন্দর। পর্ব-১৫ তেও আপনি সুন্দর মন্তব্য করেছেন। আর এক নাস্তিক(king of monkeys) পাসক্যলের যুক্তি দিয়ে যে লিখা দিয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রথম যে মন্তব্য দিয়েছেন, অবশ্যই তা প্রশংসনীয়।  
    পর্ব-১৪ ও ১৫-তে আপনি যা মন্তব্য করেছেন এবং নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কুরানের অনেকগুলো আয়াতের যা ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা কোথায় পেলেন বা জানলেন? পর্ব-১৪ তে আপনি হযরত মহাম্মদ(স)-র যে চারিত্রিক রচনা লিখেছেন, তা আমির আলী-র ‘স্পিরিট অফ ইসলাম’ থেকে কপি করে তুলে ধরেছেন। আপনি সিহাহ সিত্তা বা ঈমামদের গ্রহন করেন না, কিন্তু কেন আমির আলী-কে গ্রহন করলেন?
    ঈমাম বুখারী-কে যদি সন্দেহ করা হয়, তাহলে আর কাকে বিশ্বাস করা যাবে?  তার লিখা হাদীসগ্রন্থ যদি গ্রহনযোগ্যতা হারায়, তাহলে কার-টা গ্রহনযোগ্য হবে?
    আপনার আর্টিকেল এবং উপরের মন্তব্যগুলো বাড়াবাড়ি, আর এটা না করতে কুরানে আল্লাহ বারবার বলেছেন। আর এইভাবে কথা বলা বা চিন্তা করা একজন মুমিনের উচিত নয়। কারন, মুমিনদের রাস্তা একটাই (১:৫)।

    1. 9.1
      ফারুক

      @ তাজুল ইসলাম ,
       
      সালাম।
       
      আমি মুক্তমনার   mkfaruk নই। এক সময় মুক্তমনায় 'ফারুক' নামে লিখতাম ও মন্তব্য করতাম। তবে বেশ কিছুদিন হলো আমার মন্তব্য মডারেশনের আওতায় আনার প্রতিবাদে ওখানে লেখালেখি ও মন্তব্য করা বন্ধ করে দিয়েছি। 
       

      ঈমাম বুখারী-কে যদি সন্দেহ করা হয়, তাহলে আর কাকে বিশ্বাস করা যাবে?  তার লিখা হাদীসগ্রন্থ যদি গ্রহনযোগ্যতা হারায়, তাহলে কার-টা গ্রহনযোগ্য হবে?

       
      এপ্রসঙ্গে শুধু একটি কথাই বলতে পারি যে , ঈমাম মুসলিম ঈমাম বুখারী-কে সন্দেহ করে বুখারীর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি। একি ভাবে  ঈমাম বুখারী ও তার গুরুর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি।  যদি আপনি যুক্তি মানেন তাহলে বলতে হয় হাদীসে সন্দেহের শুরু হাদীস সংগ্রহের সেই প্রথম আমল থেকেই এবং বুখারী ও মুসলিম কে সহীহ হাদীস অস্বীকারের দায়ে কেন যে স্কলাররা মুরতাদ ঘোষনা করে না , তা আমার মাথায় আসে না। উনারা পারেন আমার মতো চুনোপুটিকেই মুরতাদ ঘোষনা করতে।

      1. 9.1.1
        Rasel

        //ঈমাম মুসলিম ঈমাম বুখারী-কে সন্দেহ করে বুখারীর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি। একি ভাবে  ঈমাম বুখারী ও তার গুরুর কোন হাদীস তার গ্রন্থে স্থান দেন নি।//

        — মি: ফারুক,  মিথ্যা কথা বলেন কেন? আপনি কী জানেন,  এমন অনেক হাদিস আছে যা ইমাম বুখারি (রহ.) এবং ইমাম মুসলিম (রহ.) উভয়েই গ্রহণ করছেন? এবং এ ধরনের হাদিসগুলোকে 'মুত্তাফিকুন আলাইহে' বলা হয়?

        1. 9.1.1.1
          Anonymous

          ফারুক সাহেব মারাত্বক ভাবে বিভ্রান্ত। উনার লেখা স্ববিরোধীতাপূর্ণ এবং উনি মিথ্যা তথ্যও দেন (যেমন, বোখারী মুসলিম একে অন্যকে বর্জন করেছেন) Rusel ভাই ঠিকই বলেছেন "মুত্তাফকুন আলাইহ্‌" তাহলে কাকে বলা হয়? আল্লাহ ওনাকে সঠিক বুঝ দান করুন, সবাই এই দোয়া করেন।

  34. 8
    রাতুল

     
     
     
    ১। আমি প্রচলিত নিয়মেই কোরানের আলোকে কিছু সংশোধনীসহ দৈনিক ৫ বার ফরজ নামাজ পড়ি………প্রচলিত নিয়মটাতে ভুলটা কোথায়? একটু বিশদ বলবেন কি?
     ২। কোরানে যেহেতু নামাজ পড়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা রাকাত সংখ্যার উল্লেখ নেই , সেহেতু আমি মনে করি আল্লাহ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন যার যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে নামাজ পড়ার। নামাজের মধ্যে শিস না দিলে ও তালি না বাজালেই হলো (৮:৩৫)…………আপনার কি ধারণা, একই জামাতে নামাজ পড়ার নিয়ম চালু করে  নবি-খলিফারা লোক দেখানো শিরকের কাজ চালু করেছেন?
    ৩। আমি নামাজের শুরুতে কোন নিয়ত করি না। আল্লাহ প্রতিটি বান্দার মনের খবর জানেন। একারনে ঘটা করে নিয়ত করাকে আমার কাছে বাহুল্য মনে হয়।
    ৪। আমি সাধারনত বাড়িতে একাকি নামাজ পড়ি। ১০৭ সূরাতে লোক দেখানো নামাজ পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 
    আপনার ৩ আর ৪ নং পয়েন্ট সমূহ কন্ট্রাডেক্ট্রি হয়ে গেলনা। আল্লাহ্‌ যেহেতু মনের খবর জানেন, মসজিদে নামাজ পড়লে ও জানবেন। তার মানে এই না যে, মসজিদে যেতে হবেনা। মসজিদে পড়া যদি লোক দেখানোই হয়, তাহলে এত এত কি মসজিদের কি কোন দরকার আছে? আমার তো মনে হয়, আপনি বলবেন, মসজিদেরই কোন দরকার নেই। ঘরে বসে পড়লেই হল।
    মসজিদে কেউ ঘটা করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যায়না। যারা যায়, তাদের ব্যপারে উপরের কথা বলা হয়েছে। মসজিদে নামাজ পড়াকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বলা হয়নি।
    ৫। আমার নামাজ সময়ের সাথে আমার জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
    প্রিয় নবী হুযুরে পাক (সাঃ) আসার পর থেকে সারা দুনিয়ায়, একই কায়দায় নামাজ পড়া হয়। (সামান্য দুএকটা ব্যতিক্রম বাদে) আর, আপনি বলছেন, আপনার নামাজ সুবিধামত কায়দায় পরিবর্তন হতে পারে। এটা তো সুযোগসন্ধানী মানুষের আচরণ। মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষণ। এর পরে ও যদি আপনার কোন কথা মানুষ মেনে নেই, তাহলে আমার মত নাদানের কি বলার আছে?
     
    আপনার কথায় আসলে মনে হয়, আপনি কোন সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে আগাচ্ছেন। যার কারণে আপনার হুঁশ থাকতে ও আপনি বেহুঁশ(!!) হচ্ছেন না। আপনি নবীকে, নবীর সুন্নত কে মানতে না চান, ভালো কথা। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে কোরআন অনলি প্রচারকদের তত্তকথা মেনে নিচ্ছেন, বুঝা গেলনা। তারাই কি আপনার কাছে নবী? তাদের উপর এত বিশ্বাসের ভিত্তি কি? আপনার বুঝ যদি নবীর উপর হতে তাদের উপরেই বেশি থাকে তবে তার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিন। যদি বলে থাকেন, আপনি নিজেই কোরআন পড়ে নিজের বুঝ বুঝেছেন তবে, আমরা ও কোরআন বুঝেছি কোরআন পড়ে, হাদিস পড়ে, নবীজিকে জীবনাদর্শ মেনে। এখানে নবীজিকে অনুসরণ করা বলতে যদি আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করা বুঝায়, তবে নবীর অনুকরণ করার কথা আল্লাহ পাক কোরআনে বলতেন না। কিছু পথভ্রান্ত লোকের দায়ভার দয়া করে সমগ্র মুসলমানদের উপর চাপাবেন না। যুক্তি-বুদ্ধি যদি জ্ঞানের মাপকাঠি হয়ে থাকে, সঠিক পথকে বেছে নেওয়ার উপায় হয়ে থাকে, তবে সে জ্ঞানেই আমরা প্রকৃত হাদিসকে বেছে নিবো, বাদ দেবনা। তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে আসল পথকে খোঁজার চেষ্টা করবো। হেরে গেলে পিছপা হবোনা। শুধু কোরানের আয়াত দ্বারা সে ক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতাকে ঢাকার চেষ্টা করবোনা। যেখানে আটকাব সেখানে হাদিসে সমাধান আছে কিনা দেখব। না পেলে ইজমা-কিয়াসের আশ্রয় নেব। তবু ও শধুমাত্র নিজের তরিকা অন্যকে জোর করে খাওয়ানোর ধান্ধা করবোনা। ব্ল্যাক-হোল এর কথা বলে সবকিছু খুব সহজে উড়িয়ে দেবনা।
     
    ভালো থাকুন। আল্লাহ্‌ আপনার হেদায়েত করুন। 

    1. 8.1
      ফারুক

      @ রাতুল ,
       
      সালাম।
       
       
      আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বেশিরভাগ প্রশ্নের জবাব আমার পোস্টে আছে। আর যে সমস্ত প্রশ্নের জবাব নেই , তার উত্তর আমি জানি না।
       

       আপনি বলছেন, আপনার নামাজ সুবিধামত কায়দায় পরিবর্তন হতে পারে। এটা তো সুযোগসন্ধানী মানুষের আচরণ। মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষণ।

       
      একটু কি বলবেন নামাজের কায়দায় পরিবর্তন হলে আমার কি ধরনের সুযোগ লাভ হতে পারে? আপনি কি আমার পোস্ট পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন? হয়ে থাকলে কিভাবে? না হয়ে থাকলে কেন ভাবছেন অন্যেরা বিভ্রান্ত হবে? আপনি নিজেকে কি অন্যদের থেকে বেশি বুদ্ধিমান ভাবেন?
       

      আপনি নবীকে, নবীর সুন্নত কে মানতে না চান, ভালো কথা। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে কোরআন অনলি প্রচারকদের তত্তকথা মেনে নিচ্ছেন, বুঝা গেলনা।

       
      আমি নবীকে মানতে চাইনা একথা আপনাকে কে বল্ল?  নবীকে মানি বলেই না তার প্রচারিত কোরানকে মেনে চলি। এই সহজ জিনিষটা যদি বুঝতে না পারেন , তাহলে আমি অপারগ। 
       
       
      কোরানের ভিত্তিতেই আমি কোরআন অনলি প্রচারকদের তত্তকথা মেনে নিয়েছি। 
       
       
      আপনিও ভালো থাকুন। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের হেদায়েত করুন। 
       

  35. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক ধন্যবাদ অবশেষে এই পোষ্টটা দিলেন। আরো ধন্যবাদ পোষ্টের শুরুতে বলার জন্যে যে আপনি বললন -- 

     
    কেউ যদি আমার লেখা পড়ে বিভ্রান্ত হন ,তবে তা নিজ দায়িত্বে হবেন, আমি কারো দায়িত্ব নিতে রাজি নই।

    ধন্যবাদ এই কারনে যে আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন আপনার কথা মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। চমৎকার আত্নোপলদ্ধি -- সাধারনত মানুষের মাঝে দেখা যায় না। 
    আমি বিশেষ যে কারনে আপনার কাছ থেকে নামাজের একটা ম্যানুয়াল চাচ্ছিলাম তা হলো -- কোরান অনলী বলে যাদের পরিচয় তাদের মধ্যে নামাজের নানান রূপ আছে -- আপনি নিশ্চয়ই আমাদের এমন কিছু দিতে পারবেন  যা হবে সম্পূর্ন হাদিস মুক্ত। কিন্তু হতাশ হলাম -- কারন আমি এই যাবত বহু ধরনের নামাজ দেখেছি -- ইউরোপ আর কানাডায় নানান ধরনের মানুষের সাথে নামাজ পড়েছি। কিছু সামান্য বিষয় ছাড়া নামাজের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আপনার নামাজের সাথে হাদিসে বর্নিত নামাজেওর তেমন কোন পার্থক্য দেখলাম না। 
     
    মুলত কোরানের নির্দেশটা আপনার চোখ এড়িয়ে গেলো -- সালাত আদায় কর -- যাকাত আদায় করো বলেই ঠিক তার পরে বলা হয়েছে রসুলের অনুগত হও। এখানেই বুদ্ধিমানদের জন্যে কোন নির্দেশ নাই? 
     
    পুরো আলোচনায় কিছু বিষয় নজরের পড়েছে তা বলি --
    ১) আপনার বর্ণনা মতে আপনি নামাজ শিখেছেন কয়েকজন মানুষের কাছে যাদের সাথে মুহাম্মদ (সঃ) সময়কালের পার্থক্য হলো ১৪০০ বছরের উপরের আর হাদিসগুলো ১৩০০ বছরের আগের সংকলিত। যুক্তির বিচারে কোনটা বিশুদ্ধতায় বেশী এগিয়ে থাকবে? উত্তর আপনি না দিলে্ও চলবে। আশা করি যে কোন সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন মানুষই বুঝতে বিশুদ্ধতায় কে সেরা আর কাকে গ্রহন করতে হবে। 
     
    ২) আপনি বলছেন রসুল (সঃ) এর পর ১০০ বছর ব্লাক হোল -- এইটা আপনার নিজের বুঝ। সেই সময়ে কি কোন মানুষ ছিলো না যারা নামাজ পড়তেন এবং উনার কারো না কারো কাছ থেকে শিখতেন কিভাবে নামাজ পড়তে হবে। সেখানে অবশ্যই মুহাম্মদ (সঃ) এর রেফারেন্স ব্যবহূত হতো। আর হাদিসের অস্তিত্ব তখন ছিলো না এমন ধারনা করা বিরাট ভুল। মানুষের মুখস্ত করার ক্ষমতা যে কত বেশী তা কোরানের মুখস্ত করার অগনিত হাফেজদের কথা চিন্তা করলেই বুঝা যায়। তাই ব্লাকহোল থিয়োরীটা একটা ভুল। সেই সময়ে বরঞ্চ মানুষ আরো গভীর ভাবে ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা করতো। ইসলামের বিস্তারের সাথে সাথে পন্ডিতদের ঘাটতি হওয়ায় লিখিত আকারে পুস্তক প্রনয়নের তাগিদ থেকেই হাদিস গ্রন্থাকারে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। নতুবা আজও হয়তো আমরা মৌখিক হাদিস দিয়ে চলতাম। 
     
    ৩) আপনি একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন -- যারা হাদিস অনুসরন করে তারা কিন্তু কোরানকে বাদ দিয়েকরছে না। কোরান অনুসরনের জন্যেই সাপ্লিমেন্টারী হিসাবে হাদিসকে অনুসরন করছে। মুলত কোরানের নির্দেশিত পথেই রসুলের পথ অনুসরনের জন্যে হাদিস অনুসরন করা জরুরী। 
    ৪) এমন হাদিস কি আছে যা কোরানের বিরুদ্ধে যায়? যদি তা থেকে থাকে তা হবে মানুষের জন্যে পরীক্ষা এবং বিবেক বুদ্ধি থাকলে তার বিষয়ে মানুষ সতর্ক হবেই। 
     
    ৫) আপনি তর্ক করার জন্যে একটার পর একটা পোষ্ট দেন -- কিন্তু যুক্তিতে হেরে গিয়েও আগের যায়গায় চলে যান। মুলত আপনি একটা বৃত্তের ভিতরে আটকে আছেন। আপনাকে বুঝিয়ে বা যুক্তি দিয়ে তার থেকে যে বের করা যাবে না তা আশা করি সংশ্লিষ্ট সবাই বুঝে গেছে। 
    ৬) কোরানের শব্দ নিয়ে খেলার করাও আপনার একটা কাজ -- আতিআল্লাহ -- আতিয়ার রসুলকেও আপনি নানান ভাবে ব্যাখ্যা করেছে। 
    ৭) আপনি মুলত রসুল (সঃ) কে একজন ডাক পিয়নের বেশী মর্যাদা দিতে রাজী নন ( যদি ভুল হয়ে থাকে আল্লাহ মাফ করুন।) আর উনার সহযোদ্ধারা যারা জীবন সম্পদ দিয়ে প্রচন্ড পরিশ্রম করে ইসলামকে আমাদের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সাহায্য করেছেন -- আপনার কাছে তাদের কানাকাড়িও মূল্য নেই। 
     
    এই অবস্থায় একটা পথ খোলা -- লাকুম দ্বিনুকুম ওয়ালীয়াদ্বিন। 
     
    যতটুকু বুঝলাম -- এই বিতর্কের কোন মিমাংসা হবে না -- জ্ঞানহীন তর্কতো মাছ বাজারের ঝাগড়ার চেয়ে উন্নত কিছু না। আর সেই তর্কে যদি একজন আগেই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকেন -- তা হলে সেই তর্কের সমাধান অসম্ভব। তবে আল্লাহ আমাদের জন্যে একটা পথ খোলা রেখেছেন। যখন নিজেদের মধ্যে কোন বিষয়ে বিতর্ক হয় তখন মিমাংসার জন্যে আমরা রসুল (সঃ) এর দ্বারস্থ হই -- সেইটাই আল্লাহ নির্দেশ। 
     
     
     

    অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
    (সুরা নিসা আয়াত ৬৫) 

    আমরা রসুল (সঃ) কে ন্যায় বিচারক মনে করি এবং উনার মিমাংসা মেনে নেই। আমরা তো একটা সমাধানের পথ পেলাম  -- আপনি কি সেই পথে যাবেন? 

    1. 7.1
      ফারুক

      সালাম।

      ধন্যবাদ এই কারনে যে আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন আপনার কথা মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। চমৎকার আত্নোপলদ্ধি — সাধারনত মানুষের মাঝে দেখা যায় না।

      আপনি ভুল বুঝেছেন। এ কথাটি লেখার উদ্দেশ্য হলো , আমাকে যারা বিভ্রান্তকারী বলে অভিযোগ করেন , তাদের মুখ বন্ধ করা। আমি চাই না কেউ আমার কথাকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করুক বা কেউ আমার অন্ধ অনুসারী হোক। আমি যেটা সত্য বলে জানি ও বুঝি সেটাই লিখি। জ্ঞানত মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোন ইচ্ছা আমার কখনো ছিল না বা এখনো নেই। এর অর্থ এই নয় যে আমি সব জেনে বসে আছি বা আমার ভুল হতে পারে না। এ কারনেই আমার লেখা পড়ে বাছ বিচার করে কেউ যদি উপকৃত হতে চান , তার দায় দায়িত্ব তার।

      আপনি অনেকগুলো পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। এগুলো সবই আপনার বিচারিক রায়। এনিয়ে বিতর্ক করার মানে হয় না। কারন উত্তরে যাই বলি না কেন আপনার দৃষ্টিতে মনে হবে আমি যুক্তিতে হেরে গিয়েছি। আপনি দুই যোগ দুই সমান পাঁচ বল্লেও আমাকে মেনে নিতে হবে , নইলে বলবেন আমি যুক্তিতে হেরে গিয়েছি। অনেকটা আপনারি উল্লেখ করা গল্পের মাষ্টার মশাইয়ের মতো "আমি জানি না"  হিসাবে প্রমাণিত হব। যুক্তিতে হার জিতের ফয়সালাটা কোথায় কিভাবে হয়েছিল , আমি জানি না। জানালে খুশি হব।

      1. 7.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        ওয়ালাইকুম আসসালাম 
         
        সবাই আপনাকে ভুল বুঝে -- আমিও না হয় ভুল বুললাম। শুধু মাত্র অভিজিতের চামচা সৈয়দ হাবিবুর রহমান ওরফে আকাশ মালিক আপনাকে শুদ্ধ বুঝতে পারে বলে দেখেছি। 
         
        যাই হোক -- তর্কাতর্কি করে লাভ নেই।  সেইটা আমরা বুঝতে পারছি। এখন একটা অনুরোধ -- আপনি হাদিস মানেন না -- এই ভাবে কোরানই মানে না এই রকমের লোকওতো পৃথিবীতে প্রচুর। যেহেতু আপনি মুসলিম হিসাবেই পরিচিত হতে চান -- কেন অনাবশ্যক আরেকজন মুসলমানকে প্রভোক করা। দয়া করে নিজের বুঝ নিজের মাঝে রাখেন -- আমি কি মানি না মানি তাতো একান্তই আমার বিষয় -- কারন আখেরে আমাকেই আমার কর্মের জন্যে দায়িত্ব নিতে হবে। দয়া করে পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব এবং উনার অনুসারীদের নিয়ে বিতর্ক না করলেই কি নয়। বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যারা এই মহামানবের সমালোচনা করাকেই তাদের ধর্ম বানিয়ে নিয়েছে -- আপনি না হয় তাদের দলে না যোগ দিলেন।
         
        ভাল থাকবেন। 

        1. 7.1.1.1
          ফারুক

          @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
          সালাম।
           
          আপনি মিথ্যা হাদিস রচয়িতা ও সঙ্কলকদের সমালোচনাকে রসূলের সমালোচনা ভেবে গুলিয়ে ফেলেছেন। একজন মুসলমান হিসাবে আমার পক্ষে রসূলের সমালোচনার প্রশ্নই ওঠে না বা এমন দুঃসাহস আমার যেন কখনো না হয়।
           
          আপনাকে চ্যালেন্জ দিলাম , আমার কোন লেখায় রসূলকে সামান্যতম সমালোচনা করেছি এটা যদি দেখাতে পারেন , তাহলে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে ব্লগে লেখালেখি বন্ধ করে দেব।
           
          ভাল থাকুন , সুস্থ থাকুন।
           

  36. 6
    এ. ইসলাম

    আচ্ছো, আপনি তো হাদিস মানেন না , তাহলে নবীর জীবনি জানব কেমনে? হাদিস না মানলে মোহাম্মদ বলে যে কেউ ছিল সেটাই তো প্রমান করা যায় না। তার পর কোরান কিভাবে সংকলন হলো ? জিব্রাইল কি আস্ত একখানা প্রিন্টেড কোরান নবীর কাছে নিয়ে দিয়ে গেছিলেন? প্রতিটি মুসলমানের জন্য নবীর সুন্নত পালন আবশ্যক। হাদিস ছাড়া সুন্নত জানা যায় কিভাবে ? তাছাড়া কোরানের বিশেষ বিশেষ আয়াতের অর্থ কেমনে জানবেন যখন বিশেষ বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে উক্ত আয়াতসমূহ নাজিল হয়েছিল ? মহানবীর চরিত্র যে মহান ছিল, তার প্রমান কিভাবে করা যাবে হাদিস ছাড়া ? আর উনি যে নবী ছিলেন সেটারই বা প্রমান কি হাদিস ছাড়া ?হাদিস না মানলে কোরান যে মহানবীর কাছে আসছিল সেটা কিভাবে জানা যাবে ? কোরানের মধ্যে তো আর নবীর জীবনি লেখা নেই। হাদিস ছাড়া যদি আমি বলি যে কোরান তৎকালিন আরবের কিছু শাসক কর্তৃক তৈরী করা হয়েছিল, সেটা কিভাবে অপ্রমান করবেন ?

    1. 6.1
      Jamshed

      ইসলাম ভাই দুর্দান্ত কিছু পয়েন্ট বেলেছেন। দেখবেন ফারুক সাহেব সব পাশ কাটিয়ে একটা লাইন নিয়ে একটা আয়াত দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করবে। ফারুক এর প্রতি চ্যালেঞ্জ রইল ইসলাম ভাইয়ের প্রতিটি রিপিট করছি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিন। পারবে না …

    2. 6.2
      ফারুক

      @ এ. ইসলাম,
       
      সালাম।
       
       
      মুসলিম হতে হলে নবীর জীবণী জানা কি অত্যাবশ্যকীয়? আমি তো এমন কোন নির্দেশ কোরানে খুজে পাই নি।
       
       
      আচ্ছা মানলাম আমার জন্য না হলেও আপনার জন্য নবীর জীবণী জানা গুরুত্বপূর্ণ। তা হাদিসের বাইরে কোরান থেকে বা অন্য কোন সুত্র থেকে নবীর জীবণী কখনো জানার চেষ্টা কি করেছিলেন এটা জানার জন্য যে আপনি  নবীর যে জীবণী জানেন তা কতটুকু সত্য বা আদৌ সত্য কিনা?
       
       
      নবীর জীবণী জানা আপনার কাছে যদি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে একটু পড়াশুনা করুন।
       
      আপাতত এখান থেকে শুরু করতে পারেন।
      Road of the Patriarch  (Read 7902 times)
       

  37. 5
    Md: Toriqul Islam

    Totaly Faltu…………….Je Nijer essa moto Namaj pora…?????
    Ami besi kisu jani na Islam somporke Tobe Ja jani ta mone hoi kom na,,,,Jia hok
    Kotha holo Jodi je jar essa moto namaz Porbe Tahole tw Mohan ALLAH- ar Shudu Holy Quran duniate pathalei tw Hoto . Sudu Sudu NObi & Rasul pathalen keno..?
    Cause Nobi rasul Gon amader dekie diben Je kivabe ki korte hobe R apnara valo korei janen je HADIS er kotha.
    So first Quran poren tarpore Hadis poren torpore kono bisoye muk kohlen…setai mone hoi valo hobe..Tai na
    Jodi Quran pore sobai sob kisu buste partw Tobe hadis er dorkar Hoto na …..Tia maze maze Hadis o poren …
    Khamakha Faltu kotha Prochar koren na ..AllAH apnar upor doa korun AMeen@

  38. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    বাহ্‌!"ফারুকী মাযহাব" দেখছি!!আহা কি সোন্দর!!!!!!!!!!!!
     
    আপনি জুমার নামাজ মসজিদে পড়েন কেন?যে ঈমামের পেছনে নামাজ পড়ছেন,উনি কিন্তু হাদিস অস্বীকারকারী নন;মানে আপনার মতে একজন কাফের(নাউযুবিল্লাহ)।তো একজন কাফেরের পেছনে নামাজ পড়ছেন…বুঝলাম না ব্যাপারটা।তাছাড়া জুমার ফরয যে দুই রাকাত,সেটা কোরানের কোন আয়াতে লেখা আছে জানাবেন।আচ্ছা আযানের ব্যাপারে আপনার,মানে ফারুকী মাযহাবের কি মত?আযান তো জনৈক সাহাবির স্বপ্নে পাওয়া।তাছাড়া আযানে যে কথাগুলো বলা হয়,সেগুলোরই বা বৈধতা আছে কি আপনার মতে?
     
    আপনি বললেন আল্লাহ্‌ নাকি মানুষের পালনের মাধ্যেম ফরয নামাজের রাকাত সংখ্যা সংরক্ষণ করতে চেয়েছেন আর সেই কারণে কোরানে রাকাত নিয়ে আল্লাহ্‌ কোনো নির্দেশনা দেননি।আচ্ছা সেটাও মানলাম।কিন্তু আমি যদি প্রশ্ন করি মানুষ কখন থেকে বা কীভাবে এই "রাকাত সংখ্যা" ঠিক করে নিয়েছে,সেই প্রশ্নের উত্তর আপনি কীভাবে দেবেন?তাছাড়া আপনার মতে আল্লাহ্‌ নাকি মুত্তাকীদের অনুমতি দিয়েছেন যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে কোরান বুঝার জন্য।তাহলে আমি কেন মানুষের তৈরি নিয়ম মানতে বাধ্য থাকব!আমার যত ইচ্ছা তত রাকাত ফরয নামায পড়ব আমি।তাতে কারো সমস্যা হবার কথা না।
     
    আপনার ছেলেকে বা মেয়েকে(যদি থাকে) কোরান শেখান?শেখালে কীভাবে?জানতে খুব ইচ্ছে করে।তবে আপনার যুক্তি মানলে তাদেরকে কোরান শেখানোর কোনো অধিকার আপনার নেই।তারা তো নিজেরা যা বুঝবে,সেই অনুযায়ী আমল করবে!সুতরাং তারা যদি উলঙ্গ হয়ে নামাজ পড়ে,সেই নামাজ সঠিক অবশ্যই(এবং অবশ্যই আপনার মাযহাব অনুযায়ী)!! 

    1. 4.1
      ফারুক

      @মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত:
       
      সালাম।
       

      আপনি জুমার নামাজ মসজিদে পড়েন কেন?যে ঈমামের পেছনে নামাজ পড়ছেন,উনি কিন্তু হাদিস অস্বীকারকারী নন;মানে আপনার মতে একজন কাফের(নাউযুবিল্লাহ)।

       
      ৬২:৯ মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।
       
      এই আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ীই জুমার নামাজ মসজিদে পড়ি।
       
      ঈমাম সাহেব আমার মতে কাফের নন। কাউকে কাফের আখ্যায়িত করার দায়িত্ব আল্লাহ আমাকে দেন নি। তবে উনি বা হাদিসে বিশ্বাসকারীরা আমাকে নিচের এই আয়াতের কথাই স্মরন করিয়ে দেয়-

       
      12:106 অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।
       

       

      1. 4.1.1
        মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

        আমি আপনাকে এতগুলো প্রশ্ন করলাম আর আপনি উত্তর দিলেন মাত্র একটার!তা-ও আবার পিছলাতে পিছলাতে!!আচ্ছা যান,সব বাদ দিয়ে শুধু আযানের প্রশ্নটা রাখলাম।আযানে যে কথাগুলো বলা হয়,সেগুলো কোরানের কোথায় আছে জানালেন না তো।
         
        আপনি বলছেন আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে পড়েন না,কারণ আপনি নাকি লোক দেখানো নামাজ পড়তে চান না।তাহলে জুমার নামাজ "লোক দেখিয়ে" পড়ছেন যে!
         
        হাদিসের কথা বাদ দিলাম,ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে ঈমানদার মুসলিম পুরুষরা সবসময় জামায়াতেই নামাজ পড়ত,এমনকি জিহাদের ময়দানে মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়েও।
         
         

        1. 4.1.1.1
          ফারুক

          সালাম।
           
          একটা প্রবাদ আছে -- "যারে দেখতে নারি , তার চলন ব্যাকা।"
          আমার সব জবাব যে আপনার কাছে পিছলানো মনে হবে , এ আর নুতন কী?

          আচ্ছা যান,সব বাদ দিয়ে শুধু আযানের প্রশ্নটা রাখলাম।আযানে যে কথাগুলো বলা হয়,সেগুলো কোরানের কোথায় আছে জানালেন না তো।

          আপনাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। মানুষের স্বভাব হলো আজাইরা প্রশ্ন করা। মানুষের এই স্বভাবের জন্য কোরানের রসূলকে ও ভুগতে হয়েছে। যে কারনে রসূলকে আজাইরা প্রশ্ন করে (রসূলের জবাব বা হাদিসের জন্য) বিরক্ত করতে মানা করা হয়েছে।

          ৩৩:৫৩ হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ  হাদিসের (আজাইরা প্রশ্নের জবাব) জন্য অপেক্ষা করো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক।
           

           ৬২:৯ আয়াত দেখুন যেখানে জুমার নামাজের জন্য ডাকতে বলা হয়েছে , যাকে আজান বলা হয়। এখন কি বলে ডাকবেন , সেটা ও কি বলে দেয়া লাগবে? খৃষ্টানদের মতো ঘন্টা বাজিয়েও ডাকতে পারেন , কে মানা করেছে?

          শুধু খেয়াল রাখবেন সুন্নি ও শিয়াদের মতো আল্লাহ ছাড়াও মুহাম্মদ বা আলীর নামে ডাকবেন না।কারন --

          ৭২:১৮
          وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
          এবং নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে ডেকো না।

          জুমার নামাজ নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা আছে , তখন না হয় জানবেন কেন মসজিদে জুমার নামাজ পড়ি।

  39. 3
    ফুয়াদ দীনহীন

    @ফারুক ভাই,
     
    আমি আমার একটি আর্টিক্যালে বলেছিলামঃ
     

    "মুসলিম বিশ্বে চাঁদ দেখেই ঈদ করে দেখা যায়, সে হিসাবে এটাও একটা দলিল, এবং কোন লিখিত দলিলের চেয়ে দলিলগত শুদ্ধতার বিচাররে বড় রকমের দলিল। কারণ এই দলিল কেউ করাপ্ট করার সুযোগ নেই।
    মুসলিম বিশ্বের সকল দেশের ট্রেডিশনের উপর এবং পূর্বের মানুষের উপর ভিত্তি করে যে দলিল তৈরি হয়, সেই দলিল অনুযায়ী আমাদের এলাকা ভিত্তিক চাঁদ দেখতে হবে। এটাও বুখারি শরিফের মত একটি শক্তিশালী দলিল।
    "

    ফারুক উপাধিটা আমাদের রাসূল সাঃ হযরত উমর রাঃ কে দিয়ে ছিলেন। সেটাও কিন্তু হাদিসের কথা। তাই আসুন হাদীস মেনে নিন, নিজেই পরিক্ষা করুন দেখুন কোন হাদিস বিশুদ্ধ, কোনটি আপনার নিকট বিশুদ্ধ নয়। অন্তত এট লিস্ট এটা মানুন, হাদিসের বই গুলি বিশুদ্ধ কিংবা বিশুদ্ধ নয় দূরে রেখে, বিশুদ্ধ রাসূল সাঃ এর বানী মানতে হয়।

    1. 3.1
      ফারুক

       

      সালাম।
       
      বিশুদ্ধ হাদিস বা বিশুদ্ধ রসূলের বাণী  বলে আজ আর কিছু নেই এবং যতটুকু বুঝেছি কোন কালে ছিল ও না। সত্যি কথা বলতে  রসূলের নাম ধাম ও সংসার জীবণের যে ইতিহাস আমরা জানি , তার কতটুকু সত্য , সেটা নিয়ে আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। ইসলামের ১ম ১০০ বছর আমার কাছে ইতিহাসের ব্লাকহোল বলেই মনে হয়।
       
       মুসলমানের জন্য কোরানই যথেষ্ঠ। 
       

       

      1. 3.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @ফারুক,
        তারমানে বলতে চাচ্ছেন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ নামে কোন মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিল না ? মুসলিমদের জন্য কি যতেষ্ট সেটা আল কুরানেই বলে দিয়েছে। সে জন্যই আমাদের সকল হাদিসের রেফারেন্স ঘাটতে হয়। আর আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে রাসূল সাঃ ব্যার্থ ছিলেন, তিনি নিজের আশে পাশের মানুষদেরই বুঝাতে পারেন নি, আমাদের কি বুঝাবেন। 

        সর্বশেষে বুঝা যাচ্ছে, আপনি মুসলিম, না দারুজ বাহিয়া টিয়াপের কেউ, বা বিশেষ কোন স্পেশিয়াল নতুন ধর্মের কেউ। যে নবী মুহাম্মদ সাঃ কে মানে না আর বলে আল কুরান মানে, সে একটা ভয়ংকর।

        “এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো”

        যারা আল্লাহ পাকের সিলকশনকে অপছন্দ করে, তারা মদীনার ঐসব ব্যাক্তিদের মত, যারা তাদের উচ্চবংশীয় গরীমাতে কেন রাসূল সাঃ তাদের বংশে জন্মাননি সে জন্য ইসলাম গ্রহন করে নি। আল্লাহ পাক নবুয়তের কাজের জন্য মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহকে সিলেক্ট করেছেন, অন্য কাউকেই নয়। 

         

         

        1. 3.1.1.1
          ফারুক

          @ ফুয়াদ দীনহীন,
           

          তারমানে বলতে চাচ্ছেন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ নামে কোন মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিল না ?

          আমি বলেছি , আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। এর অর্থ হলো -- হযরত মুহাম্মদ সাঃ নামে কোন মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিল কিনা আমি জানি না। কোরান যে রসূলের উপরে নাযিল হয়েছিল তার নাম "আহমদ"।

          ৬১:৬ স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।

          মুহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত। এই অর্থে সকল রসুলই মুহাম্মদ বা প্রশংসিত। সেকারনে কোরানের রসূলকে ও মুহাম্মদ বলাই যায়। সবচেয়ে বড় কথা রসূলের নাম আহমদ নাকি মুহাম্মদ ছিল সেটা জেনে পরকালে আমার কোনই কাজে আসবে না। আমার বা প্রত্যেকের বিচার হবে তার কর্মফলের উপরে ভিত্তি করে।

          আর আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে রাসূল সাঃ ব্যার্থ ছিলেন, তিনি নিজের আশে পাশের মানুষদেরই বুঝাতে পারেন নি, আমাদের কি বুঝাবেন।

          আমার কোন কথা শুনে মনে হচ্ছে রাসূল সাঃ ব্যার্থ ছিলেন? একটু ব্যাখ্যা করবেন কী?

          রসূল কাউকে এমনকি নিজের পছন্দের জনকে ও পথ দেখাতে পারেন না। পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ।

          ২৮:৫৬ আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।
          ১০:৪২-৪৩ তাদের কেউ কেউ কান রাখে তোমার প্রতি; তুমি বধিরদেরকে কি শোনাবে যদি তাদের বিবেক-বুদ্ধি না থাকে! আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার প্রতি দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখে; তুমি অন্ধদেরকে কি পথ দেখাবে যদি তারা মোটেও দেখতে না পারে।

           
           
           
           
           

        2. নির্ভীক আস্তিক

          কোরানে আহমদ বলা আছে তাই মুহাম্মদ exist করেননি এবং আহমদ ও মুহাম্মদ একি ব্যক্তি নন । কোরআনের বানীকে অপব্যবহার করে এখন শেষ নবীর Existance নিয়ে এরকম ফালতু দাবি করলে, নবী Exist না করলে কোরআন কি করে মানুষের কাছে আসল সে প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে আপনার মত পিছলা লোকদের সাথে তর্ক করতে আগ্রহী নই ।

          সদালাপের এডমিনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । ফারুখ সাহেবের মন্তব্য গুলো এডমিনকে একটু পড়ে দেখার অনুরোধ রইল । এ ব্যক্তি এখন স্বীকার করলেন উনি মোহাম্মদের Existence নিয়ে সন্দিহান । উনি কোরআনের আলোকে নবী রাসূলদের বিচার করছেন এবং এছাড়া অন্য যে কোন দলিল কে এমনকি নবীদের Existence নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন । এর আগে আমারব্লগে ঈসা(আঃ) কে নিয়েও ওনাকে আমি পোষ্ট দিতে দেখেছি যা উনি অন্য জায়গা থেকে Copy Paste মেরেছেন এবং ব্লগের নাস্তিক ও হিন্দুদের বাহবা কুরিয়েছেন। A Book can not talk without a reader- এ ধারনায় এই ব্যক্তি বিশ্বাসী নন । সদালাপে ব্লগ পরিবেশ রক্ষার্থে এডমিন তাঁর এরকম মিথ্যা প্রচার এবং পিছলানের দায় নিবেন কিনা সেটা  বোধ হয় প্রশ্ন করার সময় এসেছে ।

        3. ফারুক

          @ নির্ভীক আস্তিক,

          কোরানে আহমদ বলা আছে তাই মুহাম্মদ exist করেননি এবং আহমদ ও মুহাম্মদ একি ব্যক্তি নন

           
          কেন আমার কথাকে twist করে মিথ্যা অভিযোগ করেন? আমার মন্তব্যটি ভাল করে পড়ুন।

          আলাপ অর্থ এই নয় যে আপনার মনমতো আলাপ করা লাগবে। আপনার জানা জিনিষই যদি জানতে বা শুনতে চান তাহলে ব্লগে আসা কেন? রাত জেগে ওয়াজ নসিহত শুনুন বা জাকির নায়েকের ভিডিও দেখুন বা  peaceinislam ব্লগে হিজরত করতে পারেন বা সদালাপ ব্লগের নীতিমালা পরিবর্তন করে শুধুমাত্র সুন্নীদের লেখার জন্য দাবী জানাতে পারেন।

        4. Rasel

           

          মি: ফারুক,

          //আমি বলেছি , আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। এর অর্থ হলো – হযরত মুহাম্মদ সাঃ নামে কোন মানুষ পৃথিবীর বুকে ছিল কিনা আমি জানি না। কোরান যে রসূলের উপরে নাযিল হয়েছিল তার নাম "আহমদ"।//

          — তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, আমরা "মুহাম্মাদ" (স.) নামে যে ব্যক্তিকে চিনি, তিনি আর “আহমদ” দুইজন দুই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি?? তাহলে 48:29 আয়াতে  বর্ণিত "মুহাম্মাদ" নামক ব্যক্তিটি কে? 

        5. Rasel

          তাছাড়া হযরত মুহাম্মাদ (স.) একটি ঐতিহাসিক চরিত্রও বটে! এই ঐতিহাসিক চরিত্রকে আপনি অস্বীকার করছেন কীভাবে?

          @মি: ফারুক

      2. 3.1.2
        ফরিদ মিঞা

        সত্যি কথা বলতে  রসূলের নাম ধাম ও সংসার জীবণের যে ইতিহাস আমরা জানি , তার কতটুকু সত্য , সেটা নিয়ে আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান। ইসলামের ১ম ১০০ বছর আমার কাছে ইতিহাসের ব্লাকহোল বলেই মনে হয়।
         
         মুসলমানের জন্য কোরানই যথেষ্ঠ। 

         
        তার মানে এটা স্পষ্ট যে, আপনি ওহি নাযিলে বিশ্বাস করেন না, হেরা গুহায় ওহি নাযিল বিশ্বাস করেন না,   প্রথম সূরা ইকরা নাযিলে বিশ্বাস করেন না, মেরাজ বিশ্বাস করেন না, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত বিশ্বাস করেন না, বদর, ওহুদ, খন্দক, খায়বার বিজয় এবং মক্কা বিজয় বিশ্বাস করেন না, হজ্জ বিশ্বাস করেন না। কারন; এগুলো সব আমার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। বরঙ এসবই তাঁর জীবন। 
        বরঙ আপনি কুরআন ই মানে না। কারন; কুরআন মানেই রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর কাজ, কথা, আদেশ-নিষেধ, সাংসারিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন। 
        বরঙ আপনি কুরআন ই মানে না। কারণ; রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ থেকে কিছুই বনেন নি, শুধুমাত্র যা তাঁর কাছে প্রত্যাদিষ্ট  হয়েছে তা ছাড়া। 
        বরঙ আপনি কুরআনই মানে না। কারন; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাগণ আল্লাহর সন্তুস্টি অর্জনকারী ছিলেন এবং তাহা কুরআন দ্বারা সত্যায়িত। 
        কারণ; আপনি সন্দেহবাদী, আর রাসূল সাঃ এর জীবন নিয়ে যারা সন্দেহ পোষণ করে তারা আসলে কিছুই মানে না, বিশ্বাস করে না। প্রকৃতই যারা বিশ্বাস করে তাঁরা সবটুকু বিশ্বাস করে, আর যারা কিয়দাংশ বিশ্বাস করে তারা আসলে পুরোটাই অবিশ্বাস করে। 
        তারপরও বলি, আচ্ছা যে কুরআন নিয়ে আপনি এত ধানাই-পানাই করেন, তা কি আপনার কথিত ব্ল্যাকহোল এর ওপার থেকে কেউ ফেলে দিল আর এপারে আপনি কুড়িয়ে নিলেন? আদৌ তা বিশ্বাস যোগ্য? 
        আসলে কি জানেন? নিজে নিজে কুরআন, ইসলাম, ঈমান, আল্লাহ ও রাসূল কে চিনতে গেলে বড়ই সমস্যা। ব্ল্যাকহোলের ওপারের কুরআন নিয়ে এপারে নিজে নিজে হাজারো গো-এষণা করে যেতে পারেন, ফলাফল কচু! 

        1. 3.1.2.1
          ফারুক

          @ ফরিদ মিঞা,
           

          তার মানে এটা স্পষ্ট যে, আপনি ওহি নাযিলে বিশ্বাস করেন না, হেরা গুহায় ওহি নাযিল বিশ্বাস করেন না, প্রথম সূরা ইকরা নাযিলে বিশ্বাস করেন না, মেরাজ বিশ্বাস করেন না, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত বিশ্বাস করেন না, বদর, ওহুদ, খন্দক, খায়বার বিজয় এবং মক্কা বিজয় বিশ্বাস করেন না, হজ্জ বিশ্বাস করেন না। কারন; এগুলো সব আমার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। বরঙ এসবই তাঁর জীবন।

          দেখুন ভাই , আমি ওহি নাযিলে বিশ্বাস করিনা , এটা আপনার ভুল ধারনা। আমি কিসে বিশ্বাস করি আর কিসে বিশ্বাস করিনা , সেটা আমার চেয়ে আপনার বেশি জানার কথা না।  আমি ওহি নাযিলে বিশ্বাস করি , তবে সেটা হেরা গুহায় নাকি কোন গাছতলায় ঘটেছিল , সেটা জানা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইতিহাস ঘেটে ও কোরান পড়ে যেটুকু বুঝেছি , বিভিন্ন বিজয় তো দুরে থাক , রসূল কোনদিন মক্কায় পা রেখেছিলেন কিনা সেটাই আমি নিঃসন্দেহে জানতে পারিনি।

          বরঙ আপনি কুরআন ই মানে না। কারন; কুরআন মানেই রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর কাজ, কথা, আদেশ-নিষেধ, সাংসারিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন।

          এইটা কি শুনাইলেন? কোরান কি পড়েছেন? কোরানে  রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর কাজ, কথা, আদেশ-নিষেধ, সাংসারিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনের বাইরে কি আর কিছু খুজে পান নি?
           
          রসূল ও তাঁর সাহাবাগণ আল্লাহর সন্তুস্টি অর্জনকারী ছিলেন ভাল কথা , তাতে আমার আপনার কি লাভ? তারা বেহেস্তে গেলে কি আমার দোযখের আযাব কমে যাবে? বরং আমাদের সকলের  উচিৎ হবে আল্লাহর বাণী কোরানকে অনুসরনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। অন্যের ব্যাপারে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না বরং আপনি কি করেছেন , সেটাই হবে বিচার্য।

  40. 2
    শাহবাজ নজরুল

    আমি নামাজ শিখেছি বাপ মার নামাজ পড়া দেখে ও নামাজের খুটি নাটি জেনেছি সম্ভবত আমাদের বাড়িতে যে মৌলভি সাহেব লজিং থাকতেন , তার কাছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ লোক এভাবেই নামাজ পড়া শেখে। এটাকেই বলে ‘বিল মারুফ’ বা সমাজে প্রচলিত , অনুমোদিত ও গৃহীত কোন নিয়ম। ভিন্ন ভিন্ন সমাজের জন্য ‘বিল মারুফ’ সাধারনত ভিন্ন হয়ে থাকে। কোরানে বহু বার বিল মারুফ অনুযায়ী বিচার করতে বা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

     

    বৈঠকে আত্তাহিয়াতু ও দরূদ পড়ি না। বদলে ৩:১৮ আয়াত শাহাদা হিসাবে এবং কোরান থেকে বিভিন্ন দোয়া পড়ি।

     
    আপনার বাবা, মা ও মৌলভি সাহেব কি তাহিয়্যাত ও দরূদ ছাড়া নামাজ পড়া শিখিয়েছেন?
     
    মৌলভি ও বাবা, মা যেহেতু আপনার জ্ঞানের ইস্নাদ, তাহলে হাদিসের সহিহ ইস্নাদ মানবেন না কেন?
     

    1. 2.1
      ফারুক

       
       
      সালাম।
       
      আমার বাবা, মা ও মৌলভি সাহেব তাহিয়্যাত ও দরূদ সহই নামাজ পড়া শিখিয়েছেন। তবে নামাজ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য , আল্লাহকে স্মরন করার জন্য বিধায় , তাহিয়্যাত ও দরূদের মাধ্যমে নবী রসূলদের স্মরন করা ও তাদেরকে ডাকা বাদ দিয়েছি।
       
      হাদিস কেন মানি না , সেটা জানতে আমার আগের পোস্টগুলো পড়ুন। এক কথায় এর জবাব দেয়া যায় না। শুধু এটুকুই বলব , বুখারি মুসলিমদের হাদিসের আগের ২০০ বছর মানুষ এদের হাদিস ছাড়াই নামাজ পড়ত।  তাছাড়া এদের হাদিস অনুসরন করে যদি নামাজ পড়তে চান , তাহলে গ্যারান্টি দিতে পারি নামাজ যেটুকু জানেন , সেটুকুও আপনাকে ভুলে যেতে হবে। নতুবা হাদিস অমান্য করার দাঁয়ে দায়ী হবেন।
       

  41. 1
    Jamshed

    ওরে বিনোদন রে। বস সেই যে প্রশ্ন করলাম নগ্ন হয়ে নামায পড়লে কি সমস্যা আছে উত্তর দিলেন না দেখি? আপনি বললেন কোরান অনুযায়ী নামাজের যে ৩ অঙ্গভঙ্গির কথা বলা হয়েছে – দাড়ানো , রূকু ও সিজদা , কোণটার আগে কোনটা বুঝলেন কেমনে? ধরেন আমি দাঁড়িয়ে সোজা সিজদায় যাই প্রথম রাকাতে আর পরের রাকাতে সিজদায় না গিয়ে রুকুতে গিয়ে উঠে পড়ে নামায শেষ করি তাহলে বাধা কোথায়? রুকু ও সিজদার মধ্যে তাসবীহ পড়তে হবে এই নিয়ম কই পাইলেন? আমি যদি না পড়ি? প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা কেন পড়েন? এই নিয়ম কই পাইছেন প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে?
    শেষ প্রশ্ন আপনার সিষ্টেমে নামায কোন মসজিদে পড়ানো আদো সম্ভব?
    নিজেকে মুসলমান দাবী করলে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন। আপনার স্বভাব হোল বাইন মাছের মতো পুরো বক্তব্যের শেশ একটা লাইন টান মেরে দুই লাইন লিখে গা বাচিয়ে চলেন। প্রথম প্যারার প্রতিটি উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর এর অপেক্ষায় রইলাম

    1. 1.1
      ফারুক

       
      সালাম।
       
      আপনার  প্রশ্নের উত্তর আমার আগের পোস্টগুলিতেই আছে , একারনেই জবাব দেইনি। 
       
      ৭:৩১ হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও,..
       
      আপনাকে সাজসজ্জা করে অর্থাৎ সুন্দর জামা কাপড় পরে নামাজ পড়তে বলা হয়েছে। সাজসজ্জাহীন নগ্ন হয়ে নামাজ পড়া যাবেনা , এটা মনে হয় আমরা এই আয়াত থেকে নির্দ্বীধায় বলতে পারি। এখন আপনার কাছে সাজসজ্জার অর্থ যদি হয় নগ্ন হওয়া তাহলে ভিন্ন কথা।
       
      ৪:১০২ আয়াতটি পড়ুন , তাহলে দেখবেন নামাজ শুরু হয়েছে দাড়ানোর মধ্য দিয়ে আর শেষ হয়েছে সিজদার মাধ্যমে। তবে আপনি যদি ভিন্নভাবে নামাজ পড়ে শান্তি পান , সেটা আপনার ব্যাপার। এব্যাপারে আমার কোন মতামত নেই। 
       
      নামাজে সূরা ফাতিহা , তাসবীহ পড়ার ব্যাপারে আগের পোস্টগুলোতে লিখেছি। পড়ে নিন।
       

      1. 1.1.1
        Jamshed

        ৪:১০২ আয়াতটি পড়ুন , তাহলে দেখবেন নামাজ শুরু হয়েছে দাড়ানোর মধ্য দিয়ে আর শেষ হয়েছে সিজদার মাধ্যমে। তবে আপনি যদি ভিন্নভাবে নামাজ পড়ে শান্তি পান , সেটা আপনার ব্যাপার। এব্যাপারে আমার কোন মতামত নেই।

        সেটাই বলছি বস নিজের কথায় নিজে ধরা খেলেন। আমি ৪ রাকাত নামায শুরু করব দাঁড়িয়ে আর শেশ করব সিজদায় মাঝে যা খুশী তাই করব, কখনো রুকুতে গিয়ে সিজদায় যাব কখনো আবার রুকুতে না গিয়ে সিজদায় যাব কখনো আবার দাঁড়ানো থেকে সরাসরি সিজদায় যাব মোটকথা আমার শুরু আর শেষ ঠিক থাকলেই হবে -- কারন কোরানি ঐ টুকুই আছে।
        এখন আপনার মাথায় কি বুদ্ধিতে কুলায় এভাবে যে যার মতো যা ইচ্ছে নামাযের নামে নাচানাচি করলেই সেটাকে নামায বলবে? পাশাপাশি ২টা মানুষ ৪ রাকাত নামায পড়বে যে যার স্টাইলে? এর নাম কি নামায?

        1. 1.1.1.1
          ফারুক

          সালাম।

          এখন আপনার মাথায় কি বুদ্ধিতে কুলায় এভাবে যে যার মতো যা ইচ্ছে নামাযের নামে নাচানাচি করলেই সেটাকে নামায বলবে? পাশাপাশি ২টা মানুষ ৪ রাকাত নামায পড়বে যে যার স্টাইলে? এর নাম কি নামায?

           
           
          কোরান থেকে নামাজের উদ্দেশ্যকে স্মরন করুন --

          আল্লাহকে স্মরন করার জন্যই সালাত।
          সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।
          সালাত পরকালের জন্য সর্বোত্তম বিনিয়োগ।
          সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।

          এখন আপনার যদি মনে হয় নামাজের উদ্দেশ্য হলো মেক্যানিক্যাল ভাবে মোল্লাদের দেখানো পন্থায় নিয়ম মেনে উঠ বোস ও সিজদা করা , তাহলে যার যার মতো নামাজ পড়লে যে তা মোল্লাদের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না তা বলাই বাহুল্য।

          আর কোরানে বর্ণীত নামাজের উদ্দেশ্য পূরনের লক্ষ্যে আপনি যদি নাচানাচি করেন , তাহলে সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা তিনিই ভাল বলতে পারেন। তবে মুসলিম সুফিদের মধ্যে দেখা যায় আল্লাহকে স্মরন করার জন্য নাচানাচি ও গান করতে।

          আপনি দেখেছেন কিনা জানি না , তবে আমি বিদেশের এয়ারপোর্টে তিন জন মানুষকে তিন ভাবে নামাজ পড়তে দেখেছি। একজনকে সুন্নি পন্থায় বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে , আরেকজনকে একটি মাটির দলাকে সামনে রেখে তার উপরে সিজদা করতে এবং আরেক জনকে দুই হাত বুকে বা নাভির উপরে না বেঁধে দুই পাশে ঝুলিয়ে রেখে এবং প্রতিরাকাত সিজদার পরে বৈঠক করে নামাজ পড়তে দেখেছি। শেষোক্ত জন কোন তরীকার জানি না।
           
           
           
           
           

Leave a Reply

Your email address will not be published.