«

»

Apr ২০

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম হত্যাকান্ড

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর একজন দুঃসাহসী মুক্তিযুদ্ধা, যিনি পশ্চিম পাকিস্থানের শিয়ালকোটের প্যারা ব্রিগেট থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এভাবে আর্মি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা কতটুকু বিপদজনক তা যেকোন মানুষই আচ করতে পারেন। কি পরিমান সাহস থাকলে এমন কান্ড কেউ করতে পারে, কি পরিমান ন্যায়বিচার-বোধ থাকলে মানুষ এমন করতে পারে তা সহজেই বুঝার যোগ্য। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য শুধু মাত্র বাংগালী হওয়াই যতেষ্ট ছিলনা। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য যতেষ্ট ন্যায়বিচার-বোধ থাকা লাগত। সে জন্য দেখতে পাই অনেকেই বাংগালি না হয়েও মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল সরাসরি। যাইহোক, মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর একজন ন্যায়বিচারবোধ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন সেটা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়, কারণ পাকিস্থান নামক রাষ্ট্র যখন ছিল, তখন তিনি পাকিস্থানের অনুগত থেকেছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, যখনই পাকিস্থান তার নাম জালিমের খাতায় লিখাল, তখন তিনি মজলুমের সমর্থনে এগিয়ে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে তিনি ৮ নম্বর সেক্টর কামান্ডার হিসাবে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরবর্তিতে তিনি মেজর জেনারেল পদে উন্নতি হন মাত্র ৪১ বছর বয়সে। তিনি দক্ষিন এশিয়ার সব থেকে কম বয়ষ্ক সম্মুখ সৈন্যবাহিনীর জেনারেল হয়েছিলেন। এ অবস্থায় সেনাপ্রধান বা সরকার প্রধান হবার কি এমন উচ্চ বিলাশ উনার থাকতে পারে যে প্রেসিডেন্ট জিয়া কে হত্য করতে যাবেন? তিনি এত কম বয়সে জেনারেল হয়েছেন এটাইতো অনেক বেশী। উনার তো বাকি সময় পরেই আছে। তাছাড়া, তাহার উপরেও সেনা অফিসার ছিলেন যারা ঢাকা কেন্দ্রিক। তিনি এত বোকা হবার কথা না যে, ঢাকার, ঢাকা কেন্দ্রিক বয়ষ্ক অফিসারদের পিছনে ফেলে ক্ষমতা নিয়ে নিবেন। এটা অসম্ভব ধারনা, এবং তিনি সেটা করার কথা না।

 

মঞ্জুর যদি প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্য না করে থাকেন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধা জিয়াও তার বিচার পেলেন না। এভাবে একের পর একজন বিচারের বাহিরে থাকলে, এমনি যারা মুক্তিযুদ্ধের হিরো; তারাও। এ ব্যাপারে বিএনপি, আওয়ামিলিগ নির্বিশেষে কাজ করা উচিত সত্য বেড় করার উদ্দোশ্যে। এভাবে সত্য চাপা পড়ে থাকতে পারে না। 

ছবি ডেইলিস্টার

(ছবিঃ ডেইলি স্টার)

“The prevalent version circulating in Dacca of what happened in Chittagong now differs substantially from the first interpretations made when the rebellion was on. Senior Bangladeshi army sources have told leading Bengali journalists that there is grave doubt about whether Manzur actually initiated and led the Chittagong revolt. According to these army sources, on the morning of May 30, immediately after Zia was killed, Manzur telephoned army headquarters and civilian officials in Dacca, declaring that he was not involved in Zia's killing and that what had happened had been done behind his back. He was quoted as saying that he was not yet in control of events in Chittagong and was attempting to regain command of the situation…
Although much information remains to be confirmed, army sources claim that Manzur's appeal for negotiations and a peaceful resolution of the crisis to prevent a civil war, was rejected by the first evening, and Dacca Radio, under orders from Ershad, began to broadcast a barrage of denunciations of Manzur as an 'assassin' and 'traitor'. Manzur at that stage is reported to have prepared for confrontation . . . believing his enemies in the Dacca garrison, particularly Ershad and Major General Mohabat Jan Choudhury of the Directorate General of Forces Intelligence (DGFI), were out to use Zia's death to finish him off at all costs.(“Confusion Over A Killing” by Lawrence Lifschultz, Far Eastern Economic Review, July 10, 1981)

অনুবাদঃ "ঢাকায় প্রচারিত সংবাদ অনুসারে চট্রগ্রামে কি হয়েছিল, তা প্রথম প্রচারিত ব্যাক্ষার যা বিদ্রোহ শুরুর দিকে হয়েছিল তার সাথে যতেষ্ট পরিমান পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। উচ্চ পদস্থ বাংগালি আর্মি অফিসারগন বাংলাদেশের প্রথম সারির সাংবাদিকদের বলেন, এর মধ্যে সংদ্ধেহ আছে যে আসলেই মঞ্জুর বিদ্রোহ শুরু এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কি না। এই আর্মিদের মতানুসারে, ৩০ মে এর সকালে, যখনই জিয়া নিহত হলেন, মঞ্জুর আর্মি হেডকর্টার এবং ঢাকার সিভিল অফিসারদের ফোন দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে তিনি জিয়া হত্যাকান্ডে জরিত নন, এবং যাহা ঘটেছে তাহা তার পিছন থেকে করা হয়েছে। তিনি এরূপ উদৃতি দিয়েছিলেন যে, চট্রগ্রামের ঘটনায় তার এখনো কোন নিয়ন্ত্রন নেই, এবং চেষ্টা করছেন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন নেওয়ার।

যদিও অনেক তথ্য এর সঠিকতা যাচাইয়ের দরকার ছিল, সেনাবাহিনীর সোর্স দাবী করল যে মঞ্জুর আহব্বান করে ছিলেন আলোচনার এবং গৃহ যুদ্ধ এড়াতে শান্তিপূর্ন সমাধানে আসতে, যাহা প্রথম প্রহরেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল, এবং ঢাকা রেডিও এরশাদের নির্দেশ মত, প্রচার করতে শুরু করল যে মঞ্জুর আত্মতায়ী এবং বিশ্বাস ঘাতক। এই অবস্থানে মঞ্জুর তৈরি হচ্ছিলেন মোকাবেলা করার, এটাই বিশ্বাস করছিলেন যে তার শত্রুরা ঢাকা কেন্দ্রিক, বিশেষভাবে এরশাদ এবং ডিজিএফআই এর পরিচালক মেজর জেনারেল মহাবাত জাং চৌধুরি যারা জিয়া হত্যাকান্ডকে ব্যাবহার করে তাকে ধ্বংশ করতে চায় যেকোন মূল্যে।" (আমার অনুবাদের উপর নির্ভর না করে মূল ইংরেজি পড়ার অনুরোধ রইল, কিছু শব্দের অর্থ বের করতে গুগুল ট্রান্সলেটর ব্যাবহার করা হয়েছে)

 

এরশাদ নিজেই এখন সরকারের সহযোগি, আমরা চাই না তিনি সত্যকে প্রভাবিত করেন। বের হয়ে আসুক সত্য কাহিনী, কেউ নির্দোষ থাকলে অবশ্যই নির্দোষ। কিন্তু মঞ্জুর যদি কাউকে হত্যা না করে থাকেন, তাহলে তাকে নিরাপরাদ প্রমাণের দায়িত্ব আমাদেরই। কেন একজন নিরাপরাধ লোক খুনি হিসাবে বিবেচিত হবেন? যখন তার কাছে আমরা দেশবাসী ঋনী। মঞ্জুরের খুনী শাস্তি পাওয়ার চেয়েও মঞ্জুর নির্দোষ ছিলেন সেটা প্রমাণ হওয়াই অনেক বড় কিছু, অন্তত ভাল করে তদন্ত করে এই বিষয়টা নিশ্চিত করা হোক। ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা থেকে এটাই প্রমান হোক, তিনি খুনি ছিলেন না, তিনি বিশ্বাস ঘাতকতা করেননি, করতে পারেন না।

আরো জানতে পড়ুনঃ (কৃতজ্ঞতা)

মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর (এম.এ. মঞ্জুর)

২ comments

  1. 1
    নাজনীন

    জিয়ার আমলে জেনারেল মঞ্জুর নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপকহারে বাঙ্গালী অভিবাসন গড়ে তোলা হয়, আত্মরক্ষার্থে অস্ত্রও দেয়া হয়। জেনারেল মঞ্জুর জিয়ার উপর কেন ক্ষিপ্ত হয়েছেন বোঝা যায়নি, তবে ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং পরবর্তীতে ভারত থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত এরশাদের মঞ্জুরসহ ১১জন সেনা অফিসারকে তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদন্ডে ঝোলানোর মধ্যে উপরের তথ্যটির যোগসূত্র থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে।

    সূত্রঃ বাংলাদেশঃ রক্তাক্ত অধ্যায়, ১৯৭৫-৮১, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, এনডিসি, পিএসসি(অব.)

    1. 1.1
      ফাতমী

      @নাজনীন,

      সেটাই, পুরো বিষয় গভীর তদন্তের দাবী রাখে, এবং সব প্রাপ্ত তথ্য গনমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.