«

»

Aug ২৪

শিরক বড় অপরাধ কেন?

  • "নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।" -সূরা নিসা, আয়াত ৪৮,আল কোরান।
  • "Thou shalt have no other gods before me"-Deuteronomy 5:7  "I am Yahweh your God, who brought you out of the land of Egypt, out of the house of bondage. You shall have no other gods before me. You shall not make for yourselves an idol, nor any image of anything that is in the heavens above, or that is in the earth beneath, or that is in the water under the earth: you shall not bow yourself down to them, nor serve them"-Exodus 20:2-6 (WEB)

দেখা যাচ্ছে ইব্রাহীমি ধর্ম গুলি শিরকের ব্যাপারে একদম পরিষ্কার এবং ইসলাম এ ব্যাপারে একেবারেই আপোষহীন। তথাপি কি হতে পারে শিরক বড় কারন হবার? এর উত্তর আল্লাহ পাকই ভাল জানেন। শুধু বুঝার জন্য একটি অনুসন্ধানঃ

  1. শিরক বড় গুনাহ হবার কারণ হল, তাতে আল্লাহর পবিত্রতার উপর অপবাদ দেওয়া হয়। আপনারা জানেন আল্লাহ পাকের ছেলে মেয়ে বউ স্বামী কিছুই নাই। এগুলো হল মানুষের বৈশিষ্ট। এবং বহু মানুষেই বহু ধরনের অপরাধে অপরাধি, কোন কোন ক্ষেত্রে নির্লজ্ব, সম্মান দেওয়া যায়না এমন পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যদি আল্লাহ পাকের সাথে কাউকে শরিক করেন, যেমন ধরুন আল্লাহ পাকের পুত্র আছে। তাহলে আল্লাহ পাককে মানুষের স্থরে নামিয়ে আনলেন, মানে পুত্র থাকলে বউ-স্বামীও থাকবে। যাহা আল্লাহ পাকের সম্মানের প্রতি সরাসরি অপবাদ দেওয়া, আরেক অর্থে গালি দেওয়া। যাকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করলেন, সেই আল্লাহ পাককে গালি দেয় বা অপবাদ দেয় বিষয়টা কেমন পর্যায়ের অকৃতজ্ঞতা?
  2. যদি আপনি আপনার আসল মা-বাবাকে ফেলে অন্য কাউকে মা-বাবা হিসাবে গ্রহন করেন এবং আসল মা-বাবাকে গালি দেন তাহলে তারা কেমন ফিল করবেন? আপনার সন্তান যদি এই কাজ করে, তাহলে আপনি কি ফিল করবেন? এটা কি মহা অন্যায় নয়? ধরুন আমরা মানুষরা রোবট বানালাম। পুরো একটা রোবট সিস্টেম বানানো হল। তারা মালিক হিসাবে অন্য কাউকে নিয়ে টারমিনেটর ছবির মত আমাদের গালি দেওয়া বা মারা শুরু করল। তাহলে বিষয়টা কেমন পর্যায়ের অকৃতজ্ঞতা হল?  তাহলে মহান আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করলেন, আপনি পুজা করেন আরেকজনের। যে আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করলেন, তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
  3. যুদ্ধের দরকারে বর্তমানে ন্যাশনালিজম বা জাতিয়তাবাদ আবিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আগে যুদ্ধের দরকারে (যা বর্তমানেও আধুনিক পদ্ধতিতে করা হয়) অপরাধী রাজনিতিবিদরা বিভিন্ন প্রকার গড তৈরি করত। মনে করুন, কেউ পুজা করে জিউসের, কেউ পুজা করে হেরার, কেউ পুজা করে এপোলোর। একেক গড যুদ্ধে একেক দলের পক্ষে। আর সাধারণদের একে অপরের সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে রাখা হত ঐ সব ফেইক গডদের নামে। মানে আল্লাহ পাকের সাথে শিরক করে নিরিহ জনগনের রক্ত ঝরানোর পরোক্ষ কারন হওয়া।
  4. যদি এক আল্লাহ পাকের কথা মানুষের না জানা থাকে, তাহলে তারা বিভিন্ন প্রকার অদৃষ্টি কেও বিশ্বাস করবে (বা করত)। যেমনঃ  নদী কল্লা চায়, কুমারী কন্যার সেকরিফাইস চায় ইত্যাদি অপ-বিশ্বাস। যা দ্বারা বহু নিরিহ মানুষের রক্ত ঝরার কারণ হয়।
  5. এক আল্লাহ পাকের ধারণা না থাকলে, বিচার বলে কিছু থাকে না। কারণ সেই ক্ষেত্রে, এক গডকে অন্য গডের বিচার করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে গডদের মধ্যে দলাদলি হবে, পরিনামে একপক্ষ আরেক পক্ষের শক্তির খেলা বজায় থাকবে। অর্থ্যাত, এক ঈশ্বর না থাকলে শেষ বিচারের ধারণাও বাতিল হয়ে যায়। অর্থ্যাত পৃথিবীতে ঘটা সকল প্রকার অপরাধ বিচারহীন থাকবে। এই ধারণা মানুষের বিশ্বাসে থাকলে তারা অপরাদ করতে বিরত হবে না, বা হতে চাইবে না।
  6. অর্থ্যাত, এক আল্লাহ পাকে বিশ্বাস না করলে বা আল্লাহ পাকের সাথে শিরক করলে, বিভিন্ন প্রকার কুসংষ্কারের লাইসেন্স দেওয়া হয়। যার দ্বারা বহু অন্যায়ের দরজার খুলে দেওয়া হয়।

এটি একটি আলোচনামূলক পোস্ট। আপনাদের মূল্যবান কথা সংযুক্ত করা হবে। 

১২ comments

Skip to comment form

  1. 6
    sotto

    স্রষ্টা ও বিধানদাতা হিসেবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস না করা ও জীবনবিধান হিসেবে তাঁর প্রেরিত শেষ কিতাব আল-কোরআনের দিকনির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমেই কেবল শিরকের মত বড় অপরাধ থেকে বাঁচা সম্ভব।
    ধন্যবাদ

    1. 6.1
      ফাতমী

      -সঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ।

  2. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় সামনে আনার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। 

    মাঝে মধ্যে বাংলাদেশে থেকে আপলোড করা ভিডিও দেখি ইউটিউবে -- সেখানে নানান ধরনের পীর, ফকির, মাজার ইত্যাদির বিষয়ে ভিডিও গুলো দেখি আর অবাক হই কত সহজে এরা শিরকের ফাঁদে পা দিচ্ছে। ঢাকার প্রানকেন্ত্র রাজাবাগের এক পীর আছে উনি তো বেশ নিজেকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন -- তা বলতেও ভয় হয় -প্রচারের কারনে আমি কতটা দোষের ভাগ নেবো। 

    মুলত বাংলাদেশ একটা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ হলেও মাজার-পীর পূঁজার মতো শিরকগুলো স্বাভাবিক বিষয়ে পরিনত হয়েছে। অনেকের শুনেছি পার্সোনাল পীর আছে।

    আর তাবিজ-কবজতো আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটা বিরাট বিষয়। 

    গ্লোবাল সমস্যা হিসাবে না দেখে আমি ব্যক্তিগত সমস্যা হিসাবেই দেখি এইটাকে। আমার ব্যক্তিগত মত -- বাংলাদেশের ইসলাম প্রসার এবং পালনের সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো শিরক -- সেইটা মাজার পুঁজার মতো বড় শিরক থেকে অর্থের পিছনে ছুটার মতো ছোট শিরক সবই অন্তর্ভূক্ত। 

    ধন্যবাদ।  

    1. 5.1
      ফাতমী

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,

      এ সব সমস্যা সমাধান মানুষকে ক্রমান্নয়ে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এই ক্ষেত্রে ধর্মিয় শিক্ষা আবশ্যক, এবং পার্থিব শিক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের ছাত্র বাড়ার দিকে থাকার কথা, কিন্তু সেটা দেশে এখনো হচ্ছে না। কারণ চাকরির বাজারে রেজাল্টাই আসল। কিন্তু বিজ্ঞানে রেজাল্ট ভাল করা একটু কষ্ট।

  3. 4
    এম_আহমদ

    যুদ্ধের দরকারে বর্তমানে ন্যাশনালিজম বা জাতিয়তাবাদ আবিষ্কার করা হয়েছে।

    আমার মনে হয় এখানে সমস্যার স্নায়ু-কেন্দ্রের এক একটিতে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়েছে। এই যুদ্ধ যে কেবল ‘বিজাতি’ মারতে, দখল করতে এবং কন্ট্রোল করতে ব্যবহৃত হতে পারে তা নয়, বরং আপন দেশে, নানান ব্যাখ্যায়, নিজেদের আদর্শে অবিশ্বাসীদের ন্যস্তে-নাবুদ করতে দুনিয়ার যাবতীয় অত্যাচার নিপীড়ন ব্যবহার করা হতে পারে। উদাহরণ দেবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ভৌগলিক জাতীয়তাদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এর নামে এবং এর উসিলায় সকল দেশের ‘ভিতরে-বাহিরে’ যাকিছু ঘটেছে তার ফিরিস্তির দিকে তাকালে সেই সত্য উপলব্ধি করলে হয়ত বেশি সময় লাগবে না। (‘হয়ত’ বললাম এজন্য যে যারা ভৌগলিক জাতীয়তাবাদকে ধর্মীয় আবেগের মত বিশ্বাস ও অনুভূতির সংযোগে নিজেদের সত্তাগত পরিচিতির সাথে একাকার করে ফেলেছে তারা নিজেরদের স্থান থেকে সরে আসবে না)। এই জাতীয়তার ভিত্তি অনেকটা হাস্যকর কিন্তু ইউরোপীয়দের ‘একাংশ’ যাকিছু  কৌশলে প্রতিষ্ঠিত করেছে তা হাস্যকর হলেও ‘বিশ্বাসী নাগরিকদের’ কাছে অত্যন্ত অর্থবহ। আমরা যখন বলি ব্রিটিশ ওয়েদার (British weather), ব্রিটিশ মূল্যবোধ (British value),  ব্রিটিশ কালচার তখন এসবে কী বুঝায়? ফিরিস্তি যতই দীর্ঘ করা হবে এবং প্রতিটি ধারণার তাৎপর্য অনুসন্ধান করা হবে তখন দেখা যাবে এগুলোর ভিতর “হুক্কা” (সিলেটী শব্দ, শুন্যতা অর্থে devoid of the significance attached to them)। এগুলোতে “ব্রিটিশ” শব্দ (বিশেষণ) জোড়ে দেয়া হয়েছে বা শতাব্দী ব্যাপী ইউরোপিয়ান সমাজের আত্মঘাতী কলহ ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মোকাবেলায় gradually develop হয়েছে। অতঃপর কলোনাইজড সমাজের বাদামি রঙের দেশি ‘ইউরোপীনরা’ যা পেয়েছে তা’ই গিলেছে। আজকের বাদামি ইউরোপিয়ানদের নাগপাশ থেকে মুক্তির উপায় কোথায় –তা আল্লাহই জানেন।

    1. 4.1
      ফাতমী

      @এম আহমদ,,

      আপনি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। জাতিয়তাবাদের অহংকার পৃথিবীতে বিবাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ, আবার এই অহংকার গুলি রাজনিতিবিদদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষ যুদ্ধে তা চাইলেই যাবে না, তাই তারা একটা কারণ সৃষ্টি করে, এই ক্ষেত্রে গড বা ঈশ্বরকেও ব্যাবহার করে, অমুক(ঐ দলের নিজস্ব বানানো ইশ্বর) ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন, তাই জয় আমাদের হবে, এভাবে নতুন নতুন ঈশ্বরের সৃষ্টি হয়।

      এক আল্লাহ পাকে বিশ্বাস মানুষকে এই সব ফেইক গড আর বিভিন্ন বাদ থেকে মুক্তি দেয়। আসলে এক আল্লাহ পাকে বিশ্বাস করা মানে মুক্তি পাওয়া।

  4. 3
    কিংশুক

    ভালোই লিখেছেন। ইশ্বর এক ও অদ্বিতীয় না হলে তিনি সর্বশক্তিমান হতে পারেন না। তাঁর অযোগ্যতা, খুঁত ধরা পড়ে যায়। এক ও অদ্বিতীয় ইশ্বর না হলে নিখুঁত মহাবিশ্ব, পৃথিবী, মানুষ, জীবজগত তৈরী হতে পারেনা। বিশ্বজগতও সুশৃংখল নিয়মের আওতায় চলতো না। বহুশ্বর হলে অবশ্যই বিশ্বজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হতো।  পুত্র, স্ত্রী থাকা কোন ইশ্বর যৌক্তিক ভাবে, বৈজ্ঞানিক ভাবে মানুষের চিন্তার বাইরের সর্বশক্তিমান ইশ্বর যিনি কুন বললেই কোটি কোটি গ্যলাক্সি, মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে যায়; সুচারুভাবে পরিচালিত হয়, যাঁর শুরু ও শেষ নাই, সৃষ্ট জগতের প্রতি অনু পরমানুর ভিতরে কি আছে, কি ঘটছে, কি ঘটবে সবই জানা কোন সত্ত্বা হতে পারেন না। সৃষ্ট জগতের কোন কিছুই তাঁর (ইশ্বরের) মতো নয় এমন বৈশিষ্ট্যধারী ইশ্বরের কোন শরিক থাকতে পারেনা। শরিক ধারী ইশ্বরে বিশ্বাস করলে কোন যুক্তিজ্ঞানধারী ব্যাক্তি এক সময় ইশ্বরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে নাস্তিকে পরিনত হতে পারেন। সর্বশক্তিমান ইশ্বরে বিশ্বাস রাখতে হলে অবশ্যই শিরক মুক্ত ঈমান থাকতে হবে নাহলে সে আসলে ইশ্বর হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন সত্ত্বাকে অনুধাবন করতে না পারা ঘিলুহীন ছাগু।   

    1. 3.1
      ফাতমী

      @কিংশুক,

      ধন্যবাদ যুক্তিসংঘত মন্তব্যের জন্য। মন্তব্যে আরেকটা রিলেটেড বিষয় সুন্দর করে ফুটে উঠেছে।

      -আমি আসলে খুজতেছিলাম, যদি মানুষ আল্লাহ পাককে এক না মানে, তাহলে তারা যে অন্যায় করল, সেই অন্যায়ের গভীরতা কতদূর।

  5. 2
    সাইফুল ইসলাম

    "যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।"  (সূরা আম্বিয়া- ২২)

    1. 2.1
      ফাতমী

      @সাইফুল ইসলাম,

      ধন্যবাদ। আপনার উল্লেখিত আয়াতে মহান আল্লাহ এক মাত্র উপস্য তাহা পরিষ্কার করেছেন।

  6. 1
    মহিউদ্দিন

    ভাল লিখেছেন এ বিষয়ে আলোচনার অবশ্যই দরকার আছে । জানিনা লক্ষ্য করেছেন কিনা  আমার  লিখা "জানা অজানা" শিরনামের গত পেস্টটিতে  এ বিষয়টাই ছিল মুখ্য। পাঠকদের ব্যস্ততার কারণে হয়তবা তেমন সংখ্যক কমেন্ট এখনও আসে নাই।  অপেক্ষায় আছি বিজ্ঞ পাঠকেরা কি বলেন দেখতে। 
    http://www.shodalap.org/mohi/26569/

    1. 1.1
      ফাতমী

      @মহিউদ্দিন ভাই,

      আপনার লেখা পড়েছি কিন্তু কি মন্তব্য করব তাহা বুঝে উঠতে পারি নাই। আমি এখনও নিজের মন্তব্য এডিট করতে পারি না, কোথাও মন্তব্য করার মর, আমি শুধু ভুলের উপর ভুল খুজে পাই। এডিট করার পারমিশন না থাকলে, এডিট করতে পারি না। সময় নিয়ে মন্তব্য করার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.