«

»

Oct ১৯

বিশ্বাসের ভাইরাস ও আধুনিক বিজ্ঞান

বাংলা ব্লগ জগতে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য একটা শব্দ ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সেটা হচ্ছে বিশ্বাসের ভাইরাস। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক পরীক্ষিত বিজ্ঞানের সাহিত এই শব্দের কোন সম্পর্ক নেই। মোরালিটি বা নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচার বা জাস্টিসের সাথে এই শব্দের সম্পর্ক বিপরীত, কারণ এই বিশ্বাসের ভাইরাস নামক আইডিয়া দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ইনজাস্টিস বা অবিচারের পক্ষে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। যেমন, আপনারা একটা কথা শুনে থাকবেন: "কুকুর পাগল হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলতে হয়।" ঠিক একই যুক্তি দিয়ে কোন জালিম বলে উঠতে পারে বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্তদেরও সেরূপ পরিণতি বহন করা উচিত। ঐ জালিমের বিপরীতে যে থাকবে, তাকেই সে বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত বলে দাবী করতে পারবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন প্রকার রেসিজমস্টেরিওটাইপ ধারণারও জাস্টিফিকেসন বা ওজর দিবে। তাই এই কনসেপ্ট ভয়ংকর ও ক্ষতিকারক।

আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিশ্বাসের ভাইরাস

১৯৯১ সালে ডাঃ রিচার্ড ডকিন্স "Viruses of the Mind" নামে একটি Essay লিখেন। লিখাটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালের Dennett and His Critics: Demystifying Mind বইয়ে। এই ভাইরাস অব মাইন্ড বা মনের ভাইরাস বাংলায় অনুবাদিত হয় "বিশ্বাসের ভাইরাস" নামে। বিশ্বাসের ভাইরাস নামক আইডিয়ার প্রথম অবতারণা কে করেন আমার জানা নেই, তবে ধরে নিচ্ছি সেটা বাংলাভাষায় প্রথম ডাঃ অভিজিৎ রায় তার বিশ্বাসের ভাইরাস নামক প্রবন্ধ দ্বারাই করেছেন।

তিনি বিশ্বাসের ভাইরাস প্রবন্ধে ভাইরাসের উদাহারণে lancet liver fluke এর উদাহারণ টেনেছেন। যেটা উনার প্রবন্ধকে মূলত হাস্যকর করে ফেলেছে, এবং সম্পূর্ণ অযোক্তিক প্রবন্ধে পরিণত করেছে। কারণ lancet liver fluke একটা ফ্লুক বা পরজীবি বা কৃমি যা ভাইরাস নয় এবং এর সায়েন্টিফিক নাম Dicrocoelium dendriticum. | উকুনও এক প্রকার পরজীবি।

 

ছবি: lancet liver fluke ও এর জীবন কাল।

ছবিটি ভাল করে দেখলে বুঝতে পারবেন, এটি একটি প্রাণী। বিজ্ঞানীরাও এটাকে প্রাণীজগতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটার পূর্নাঙ্গ লাইফ সাইক্যাল আপনি উপরে দেখতে পাবেন। এটা মূলত পিপড়ার মাথায় ঢুকে এক প্রাকার সার্জারি করে একে পাগল করে দেয়। “>দিনের বেলায় পিপড়া ভাল ভাবেই কাজ করতে পারে কিন্তু পরবর্তিতে পাগলামীর আচরন করে। তাহলে এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে, কৃমিটি বাস্তব। কোন অবাস্তব কল্পনা নয়। বিভিন্ন প্রকার পরিক্ষার দ্বারাই এটা প্রমাণিত হয়েছে, যেকেউ এই বিষয়ে পরিক্ষা করে কাছা কাছি প্রমাণই পাবে। এটাই বিজ্ঞান। এটা সেই ১৮১৯ সালেই আবিষ্কার হয়েছে Rudolphi নামে এক বিজ্ঞানীর দ্বারা।

কিন্তু বিশ্বাসের ভাইরাস, সেটা কোথায়? সেই ভাইরাসের গঠন প্রণালীই বা কেমন? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই। আসলে এই নামে কোন ভাইরাসের বায়োলজিক্যাল কোন অস্তিত্ব নেই।

এরিস্টটলের সময়কালের বিজ্ঞান ছিল অবসারবেশন বা নিজের দেখা-ভিত্তিক। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই বায়োলজিক্যাল অনস্তিত্বশীল বিশ্বাসের ভাইরাস এরিস্টটলের সময়কাল অনুযায়ীই বিজ্ঞান নয়। তার মানে, বিজ্ঞান কি যা দেখা যায় না, তা মানে না? নিশ্চয় না, যেমন বিজ্ঞান Force কে মানে। আপনি কি কখনো Force বা বলকে দেখেছেন? যাদের উত্তর "বল" কে দেখেছেন, তারা বিজ্ঞানের ছাত্র নন। Force হচ্ছে একটা আইডিয়া প্রকৃতিকে ব্যাক্ষা করার জন্য। Force গাণিতিকভাবে প্রমাণিত, এবং এর গাণিতিক মডেল আছে। এবার গ্যালালিওর সময়কালের বিজ্ঞান হল, আপনি দেখলেই হবে না, এর ভিত্তিতে পরিক্ষা করতে হবে, এবং ভবিষতবাণীর ভিত্তিতে মিলতে হবে। অভিকর্ষীয় বল প্রায় g=৯.৮ মিটার/সেকেন্ড এর বর্গ, গুন বস্তুর ভর। এটা আপনি পরিক্ষা করতে পারবেন, এবং এ ব্যাপারে ভবিষতবাণী দিতে পারবেন। এই বিজ্ঞান ব্যবহার করে রকেটের গতি কি পরিমান হলে, পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করতে পারবে সেটাও হিসাব করতে পারবেন। তার মানে কোন কিছু দেখা না গেলেও যদি তাঁর গানিতিক মডেল থাকে এবং এই মডেলের আলোকে বাস্তব এপ্লিকেশন বা প্রয়োগ থাকে এবং ঐ প্রয়োগের ফলাফল যদি দেখা যায় এবং গানিতিক মডেলের আলোকে যদি নির্ভুল ভবিষতবানী করা যায়, তাহলে তাও বিজ্ঞান । বিজ্ঞান এরিস্টটলের যুগে থেমে নেই। কিন্তু বিশ্বাসের ভাইরাস এরিস্টটলের যুগের অতি সাধারণ ক্রাইটেরিয়াই পার হয়ে আসতে পারে নাই। 

Science is to be based on what we can see, hear and touch rather than on personal opinions or speculative imagining. -Dr. Alan Chalmers. (What Is This Thing Called Science?, চ্যাপ্টার ১)

তাহলে বুঝাই যাচ্ছে বিশ্বাসের ভাইরাস একটি কাল্পনিক আইডিয়া। এটাকে ঠাকুর মা'র ঝুলি কিংবা ঈশপের গপ্লের মত রূপক অর্থে ব্যাবহার করা হয়েছে বলে "বিশ্বাসের ভাইরাস" প্রবন্ধ থেকে পরিষ্কার হওয়া যায় না, এবং এই তত্ব বুঝার জন্য ডকিংগসের লিখাগুলি ও মিমতত্ব পড়ার জন্য বলা হয়েছে, এবং বিভিন্ন রেফারেন্স দিয়ে এই আইডিয়ার উপর একটার পর একটা লিখা আছে। উপরুন্ত, অনেকেই এটিকেই বিজ্ঞান মনে করে ভুল করছে। যাইহোক, এই আইডিয়ার উপর বাকি আলোচনা (অবশ্যই কাল্পনিক আলোচনা) ক্রিটিক্যাল থিংকিং অংশে আলোচিত হবে।

মোরালিটি বা নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বাসের ভাইরাস

"গত সোমবার তিনি তাঁর (আলিয়াত শেকাদ, ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্য) ফেসবুক পাতায় লিখেছেন ‘প্রতিটি সন্ত্রাসীর পেছনে রয়েছে ডজন ডজন নারী ও পুরুষ, যাদের ছাড়া তিনি সন্ত্রাসবাদে যুক্ত হতে পারেন না। তারা সবাই শত্রুপক্ষীয় যোদ্ধা…তাদের মধ্যে রয়েছে সেই সব নিহতের মায়েরাও, যারা তাদের সন্তানদের ফুল ও চুমু দিয়ে নরকে পাঠায়। তাদেরও তাদের সন্তানদের পরিণতি বরণ করা উচিত, এর চেয়ে ন্যায়বিচার আর কিছু নেই। বাড়িগুলোর মতো তাদেরও নিপাত যাওয়া উচিত। সেই বাড়িগুলো, যেখানে তারা সাপ লালন-পালন করেছে। তা না হলে আরও বাচ্চা সাপ সেখানে লালিত-পালিত হবে।’ এর এক সপ্তাহ আগের কথা। সময়টা ছিল ১৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু খাদিরকে অপহরণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করার ঠিক আগে। শেকাদ লেখেন: ‘এটা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও নয়, এমনকি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধও নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, এটা দুজন মানুষের মধ্যে যুদ্ধ। শত্রু কে? ফিলিস্তিনি জনগণ। কেন? তাদের জিজ্ঞাসা কর, তারাই এটা শুরু করেছে।’ সুতরাং কিশোর খাদির নির্মমভাবে নিহত হওয়ার আগেই তাকে শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শেকাদ। আর পরে কোনো অপরাধবোধ বা অনুশোচনা তো দূরের কথা, তিনি নির্দোষ নারী ও তাদের অনাগত সন্তানদের মৃত্যু কামনা করছেন।"- মিরা বার হিল্লেল: ইসরায়েলে জন্মগ্রহণকারী ফ্রিল্যান্স লেখক, ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া, প্রকাশিত প্রথম আলো জুলাই ১৩, ১৯১৪

উপরে ঘটনায় দেখুন, একজন কিছু নিরিহ বাচ্চাদের সাপ বলে অবহিত করছেন। এখন তিনি যদি বিশ্বাসের ভাইরাস সম্পর্কে জানতেন, বা জানানো হলে, তিনি ইচ্ছা করলেই দাবী করতে পারেন, তারা বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত, অতএব, ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে হলে শিশু হোক, মা হোক, মেয়ে হোক সবাইকে রিমুভ করতে হবে। এভাবে যেকোন স্টেরিও টাইপ এবং রিসিজমের ভিত্তি দেওয়া সম্ভব। ওমুক জাতি খারাপ কারণ তমুক বিশ্বাসের ভাইরাসে তারা আক্রান্ত। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, বিশ্বাসের ভাইরাসের কোন মা-বাপ নাই, যেকোন জাতি একে নিজ স্বার্থে জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করতে পারবে। অতএব, এই আইডিয়াটি অনৈতিক ও ভয়ংকর। ইচ্ছা করলে যে কেউ ডাঃ অভিজিৎ রায় যেভাবে লিখেছেন ঠিক একইভাবে অবিশ্বাসের ভাইরাস নাম দিয়ে ডাঃ অভিজিত রায়ের দলকেই ট্যাগিং করতে পারবে। 

 

ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের ভিত্তিতে বিশ্বাসের ভাইরাস

এখন; যে বিষয়ে অবতারণা করা হবে তাকে কোন মতেই বিজ্ঞান বলে অবহিত করা যায় না। কেউ নিজের ইচ্ছামত বই লিখলেই সেটা বিজ্ঞান হয়ে উঠে না। তথাপি কিছু মানুষের কাছে ঐ সব অপ্রমাণিত বিষয় ও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বিধায়, এটাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

ডা রিচার্ড ডকিন্স মনে করেন জিন– (যা বংশগতির ধারক ও বাহক এবং পৃথিবীতে প্রাণী জগতের তথ্য সংরক্ষণ ও এর বাহক বলে প্রমাণিত) ভিত্তিক ন্যাচারাল সিলেকশন, যেখানে বিভিন্ন প্রকার জিন একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে যোগ্যতম টিকে থাকে। তিনি জিন-ভিত্তিক বিবর্তনবাদের উপস্থাপক। তার মতে জিন অমর, সে বেঁচে থাকার তাগিতে তার বাহক মানে ব্যবহার করে এমনকি প্রয়োজনে বাহককে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ এক প্রকার পুরুষ মাকড়সার কথা বলা যায় যে তার জিনের বেঁচে থাকাত প্রয়োজনে নারী মাকড়সার খাবারে পরিণত হয়, অনাগত বাচ্চার পুষ্টি সাধনের জন্য।

তিনি আরেক প্রকার ধারণা দেন যা মিম (meme) নামে পরিচিত।  এই মিম হচ্ছে কালচারাল বা সাংষ্কৃতিক বিষয় আশয় যা মানুষ থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয়। এই যুক্তি বলে ভাষাকেও এক প্রকার মিম হিসাবে ধরা যায়। এই মিমগুলির মধ্যেও আবার ন্যাচারাল সিলেকশন হয়, যেমন বিজ্ঞানের ভাষা জার্মান থেকে ইংরেজি হয়ে যাওয়া। এখানে ইংরেজি ভাষা টিকে গিয়েছে। এভাবে কালচারাল বিভিন্ন উপাদান বা ইনফরমেশন মানুষ থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয়ে টিকে থাকে।

  • এখন বিশ্বাসের ভাইরাস যদি একটা মিম হয়, আর ঐ মিমটা যদি তার বাহককে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে যেভাবে ডা অভিজিৎ রায় Dicrocoelium dendriticum এর উদাহারণ টেনে বর্ণনা করেছেন, তাহলে ঐ বাহকের সাথে সাথে মিমেরও মৃত্যু ঘটবে। যা টিকে থাকার সংগ্রামের সহিত সাংঘার্ষিক, কারণ প্রতিটি মিমই চাইবে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে। আবার যদি এটা মরেই যায়, তাহলে ভাইরাস আকারে ছড়াবে কি করে? তার মানে বিশ্বাসের ভাইরাস তত্ত্বের পতন ঘটল, এটা আইডিয়া নিজের সাথেই নিজেই সাংঘার্ষিক।

[বিদ্র: শুধু চিন্তাশীল মানুষদের জন্য আল কোরান থেকে দোয়া- “বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের, তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।” -সূরা নাস] 

কিছু বিবেচ্য বিষয়

রিচার্ড ডকিন্সের এই সব আইডিয়াকে অনেক মনীষী উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। John Bowker নামক একজন মনীষী এবং মানসিক রোগের চিকিত্সক (psychiatrist) Quinton Deeley সহ-লেখককে সাথে নিয়ে লেখায় দাবী করেছেন যে Virus of Mind উদ্দেশ্যমূলক এবং প্রমাণ ও তথ্য থেকে অনেক দূরবর্তী। তাছাড়া, মিমের ধারণাও অস্পষ্ট। রিচার্ড ডকিন্স একটা সময় স্বাগত জানিয়েছে N. K. Humphrey's suggestion that "memes should be considered as living structures, not just metaphorically" এবং বলতে চেয়েছেন মিম "physically residing in the brain"। এই আইডিয়াও অদ্ভুত, কারণ "ধারণা বা আইডিয়ার" কি আত্ম সম্পর্কে ধারণা আছে? এটা বর্তমান সময় পর্যন্ত জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকে অসম্ভব, যদি থাকত তাহলে বলা যেত ঠাকুর মার ঝুলিও একটা জীবন্ত জীব, জিউসের গল্পও জীবন্ত জীব। তাছাড়া, সাইকলজিস্টরা এমন কিছু পেয়েছেন কিনা তা আমি নিজে এই লেখা লিখার সময় জিজ্ঞাসা করেছি, উত্তর নাই বলা হয়েছে। ২০১৩ সালে একটি Saatchi & Saatchi New Directors' Showcase-তেও এই দ্ব্যর্থক প্রকাশ পেয়েছে, লজিকের সমস্যার কারণে কি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছে তা ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন, তিনি মিমেরও মিউটেশন উল্লেখ করেছেন, যার কোন প্রমাণ তিনি বলেননি। উল্লেখ্য যে, Luis Benitez-Bribiesca M.D এই তত্বকে "pseudoscientific dogma" হিসাবে অভিহিত করেন। 

কিছু প্রাসংগিক আলোচনা

এই এত অপচেষ্টার মূল কারণ হল ধর্মের উপর দায় চাপানো। কিন্তু আপনি যদি স্বাভাবিক চিন্তার মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে নিজের দেশের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন এই সব কুযুক্তির অসারতা। দেশে ঘটা কয়টা খুন ধর্মের জন্য? ৯৯% খুন হয় দলাদলি, জমিজমা, চাঁদাবাজি, ক্ষমতাবাজি, প্রতিশোধ ইত্যাদির কারণে। 

চিত্র: ২০০৪ সালে বিশ্বে  খুনের হারের পরিমাণ, যত বেশী গাঢ় নীল তত বেশী হারে খুন, যারা বিশ্বের ম্যাপ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তারা দেখবেন বিদেশী আক্রমণে বিপর্যস্ত মুসলিম দেশগুলি ছাড়া অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিতে খুনের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম। এখানে মুসলিমদের ফোকাস করার কারণ বিশ্বাসের ভাইরাস প্রবন্ধে ও একই প্রকার একই স্থান থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধগুলি এবং ঐ প্রবন্ধগুলির মন্তব্যগুলিতে মুসলিমরা বিশেষ ভাবে ফোকাসিত।

চিত্র: ছবিতে হিরোশিমা নাগাশাকিকে দেখা যাচ্ছে। যা ছেলে, বুড়ো, মা, বাবা, মেয়ে, ছেলেকে বিনা প্রশ্নে এক যোগে নিহত করে। হিরোশিমাতে ৯০ হাজার থেকে এক লক্ষ ছিষট্টি হাজার এবং নাগাশাকিতে ৩৯ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ কয়েক পলকের সময়ে নিহত হয়। যা সারা জীবনে ও পৃথিবী নামক গ্রহে থাকা মানব ইতিহাসে "ভয়াবহ ও বিরল" একটাই মাত্র উদাহরণ। এর জন্য কি ধর্ম দায়ী?

উপসংহার

মোরাল বা নৈতিকতার দিক থেকে বিশ্বাসের ভাইরাস নামক আইডিয়ার ভয়াবহ দিক আমি লেখায় স্পষ্ট করেছি। এটা ড্রোন হামলা করে শিশু হত্যা থেকে বিমান দিয়ে হাজার লক্ষ মানুষকে মারার অনৈতিক ভিত্তি দিবার চেষ্টা করতে পারে, যা পৃথিবীকে আরো ভয়ংকর করে তুলবে। মিমের ধারণা বাতিল বা গ্রহণের চেয়ে আমার কাছে নৈতিক বিষয়টাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, যা সায়েন্টিফিক্যালি প্রামাণিত নয়, তা প্রমাণ হবার আগ পর্যন্ত তা নিয়ে চিন্তা-ফিকির হতে পারে। কিন্তু অপ্রমাণিত বিষয়ের ভিত্তিতে কোন দল বা কোন প্রকার মানুষকে ভিক্টিমাইজ করার রাস্তা তৈরি করা অন্যায়। অবিচারের বিপরীতে ন্যায়-বিচারের কথা সবার আগে মনে রাখতে হবে। জালিমের বিপরিতে মজলুমকেই সমর্থন দিতে হবে।

কৃতজ্ঞতাঃ লেখায় দেওয়া সকল লিংক ও মানুষ যাদের নাম উল্লেখিত আছে এবং উইকিপিডিয়া। সবগুলি ছবির কৃতজ্ঞতা উইকিপিডিয়া।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 4
    সরকার সানজিদ আদভান

    খুব সুন্দর একটি লেখা।ভাল লাগলো।অনেক পর্যবেক্ষণ করেছেন।এমন সুন্দর একটি লেখা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।একটি সমস্যা দেখা যাচ্ছে,তা হলো লেখাটির দ্বিতীয় ছবিটি দেখা যাচ্ছে না।

  2. 3
    হাবিব হাসান শাকিল

    ফাউল একটা বই হচ্ছে বিশ্বাসের ভাইরাস।
    অযথা আবোলতাবোল প্রলাপে ভর্তি। ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে কুরানের আয়াতগুলোকে।

  3. 2
    এস. এম. রায়হান

    মনা ব্লগে মুসলিমদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:

    -- দেড়-দু বিলিয়ন মুসলিমদের কেউই বিজ্ঞান বোঝে না, দর্শন বোঝে না, যুক্তি বোঝে না, বিবর্তন বোঝে না, এমনকি নিজ ধর্মটা পর্যন্ত বোঝে না। অর্থাৎ মুসলিমরা সব দলিত-শূদ্রদের মতো আরকি। এজন্য তারা 'নাস্তিক/মনা' পুরোত সেজে মুসলিমদেরকে এগুলো বুঝানোর দায়িত্ব নিয়েছে। ফেসবুকের বেশ কিছু গ্রুপেও তারা অতি নিষ্ঠার সাথে একই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা।

    -- মুসলিমরা সব বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত রুগী, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ইত্যাদি। তারা মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর। কাজেই তাদেরকে হয় দুনিয়া থেকে মূলোৎপাটন করতে হবে, না হয় নাস্তিক/অমুসলিম (মানে ভাদা/হিন্দু) বানাতে হবে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মিশনের সাথে মনাদের মিশন একই সূত্রে গাঁথা। কিন্তু এই কাজ তো তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য তারা জায়নবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের সাহায্য প্রার্থনা করছে।

    আর এগুলোর সবই করা হচ্ছে বিজ্ঞান-এর ঘাড়ে বন্দুক রেখে। থিঙ্ক অ্যাবাউট ইট।

  4. 1
    এস. এম. রায়হান

    তুমি আধুনিক যুগের এক ব্রাহ্মণ পুরোতকে বিজ্ঞান ও নৈতিকতা শেখাতে চাও? তোমার সাহস তো কম না!

    1. 1.1
      ফাতমী

      @রায়হান ভাই,

      আপনাকে মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি উনাকে কিছুই শিখাতে চাইনা। এটা সাধারণ মানুষের জন্য লিখা হয়েছে। যাইহোক, সে তাহার মত ভাল থাকুক। আমাদের আর কি বলার আছে, মানুষরা স্বাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.