«

»

Oct ২৬

আধুনিক পুঁজিবাদ কিভাবে মুসলিমদের ভিক্টিমাইজ করে

পুঁজিবাদ পৃথিবীর বহু উপকার করেছে, পৃথিবীকে গতিশীল করেছে, এজন্য পুঁজিবাদের অবদানের কথা স্বীকার না করে উপায় নেই। পুঁজিবাদ কিছু দিবার লোভ দেখিয়েছে এবং মানুষ কিছু পাবার আশায় একের পর এক নতুন কিছু বা প্রডাকশন নিয়ে এসেছে। নিত্য নতুন জিনিস-পাতি আবিষ্কার ও সেটা বাজারে নিয়ে আসার ব্যাপারে পুঁজিবাদের অবদান অনেক। কিন্তু এই পুঁজিবাদই একটা লেভেল পার হবার পর ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে এবং তার নিজের সাবজেক্টকেই ভিক্টিমাইজ করতে পারে, এবং বর্তমানে কিছু ফ্যাক্টরের কারণে মুসলিমদেরই এটি ভিক্টিমাইজ করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়ত এর শিকার হবে অন্য কেউ।

একনজরে আধুনিক বাজার অর্থনিতি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(চিত্র কৃতজ্ঞতা: PinkMonkey.com)

চিত্রে বাজার অর্থনিতিতে চাহিদা এবং যোগানের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। AD হল সামগ্রিক চাহিদা, এবং AS হল সামগ্রিক যোগান। যদি সামগ্রিক চাহিদা বেড়ে যায়, (কম সময়ে) তাহলে জিনিস-পাতির দাম বেড়ে যাবে। দাম বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীরা যোগানও বাড়িয়ে দিবে। এতে করে চাহিদা যোগানের ব্যালেন্স হবে। যদি যোগান থাকে কিন্তু চাহিদা না থাকে, তাহলে জিনিস-পাতির দাম কমে যাবে। শেষ-মেস যোগান কমে যেতে বাধ্য হবে। এই যে বাজারে চাহিদা এবং যোগানের সম্পর্ক দেখলেন, তা কোন মানুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং অদৃশ্য হাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অথবা বলা যায় বাজার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। (এই অদৃশ্য হাতই হল ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদের এক প্রকারের বুঝার মূল ভিত্তি, যেখানে বিবর্তনবাদ অর্থনিতির কাছে ঋণি।)

তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষ কোন্‌ বিষয়টা কিনবে? সেই বিষয়টাই কিনবে যেটার চাহিদা আছে। কিন্তু যেটার চাহিদা নেই, সেটার কি হবে? সেটা কেউ কিনবে না। এই জন্য বাজার এডভার্টাইজমেন্ট ও বিভিন্ন প্রকার প্রক্রিয়ার দ্বারা সেই বস্তুর চাহিদা তৈরি করবে। আর এখানেই লুকিয়ে আছে বিভিন্ন কৌশল। উদাহারণঃ সমাজে পাখি ড্রেসের চাহিদা তৈরি করা হয় সিনেমা কিংবা নাটকের দ্বারা। এর সাথে যুক্ত আছে অনেকের স্বার্থ, নাটক সিনেমার ডাইরেক্টর থেকে অভিনেতা/নেত্রী, পোশাক উতপাদনকারী থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত। আমরা সংবাদ পত্র পড়ে জেনেছি, কিছু মানুষ এই পোশাকের জন্য আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। যেহেতু বাজার কোন মানুষ নয়, তাই কে আত্মহত্যা করল, কিংবা না করল, এতে বাজারের কোন যায় আসে না। কিন্তু আত্মহত্যা যদি চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে বাজার চাইবে আত্যহত্যা ঘটুক, আর যদি চাহিদা কমিয়ে দেয়, তাহলে বাজার চাইবে আত্মহত্যা না ঘটুক।

 

একনজরে ইম্যাজিনারি প্রিজন বা কাল্পনিক জেলখানা

এই বিষয়টা বুঝানো একটু কঠিন। প্রথমে ইম্যাজিনারি প্রিজনের কথা আনোয়ার স্যারের মুখে শুনে ছিলাম, তিনি পতিতালয় সম্পর্কে বুঝাতে এই ট্রার্ম ব্যাবহার করে ছিলেন। পরবর্তিতে এই ধারনার ব্যাপকতা পৃথিবীর অন্যান্য বিষয়েও দেখতে পাই। দ্যা মেট্রিক্স ছবিতেও প্রিজনার অব মাইন্ড বিষয়টাও উপস্থাপিত হয়েছে, যা আমাকে এই ট্রাম বুঝতে সাহায্য করেছে।

  • বিষয়টা হচ্ছে এই রকম, আপনাকে একটা লোভ বা নেশা দ্বারা ব্যাস্ত রাখা হবে। আপনি এটার জন্য টাকা খরচ করবেন, সেই টাকাটা দেওয়া হবে সুদ ভিত্তিক লোনের দ্বারা। বিনিময়ে টাকা পরিশোধ করার জন্য আপনি খেটে খেটে যাবে। যেমনঃ আপনাকে বাড়ি কিনার জন্য বাজার চাপ প্রয়োগ করবে, বিভিন্ন কিছুর দ্বারা এমনকি সমাজের দ্বারা। সমাজ তাঁর নিজের অজান্তে বাজারের হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবঋত হয়। বাজার অনেক বড় বিষয় এবং আমরা সকলেই বাজারের উপর নির্ভর করি। এখন আপনি বাড়ি কিনলেন ৫০ লাখ টাকা লোন নিয়ে। এই লোনের উপর সুদ রয়েছে, যদি আপনি সামান্য ভুলকরে আয়ের বিপরিতে খরচের অনুপাতের বেশী দামে বাড়িটি কিনে থাকেন, তাহলে সেটা পরিশোধ করার জন্য আপনি বছরের পর বছর কুলুর বলদের মত কাজ করে যেতে হবে। চাইলেও আপনি এর থেকে মুক্তি পাবেন না, কারণ বাড়িটি নিলাম হয়ে যাবার ভয় থাকবে। শেষ হিসাব মতে আপনি এক প্রকার কাল্পনিক বন্দিশালায় বন্দি হয়ে গেলেন, মোটামোটি বিনাদোষে।                                                                               
  • এছাড়াও বিষয়টি এভাবেও হতে পারে, আপনি সোমবার থেকে শক্রবার পর্যন্ত কাজ করবেন(বাংলাদেশে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা, কিন্তু বাংলাদেশে এই পক্রিয়া হয় না বা হলেও অন্য কোন জটিল পন্থায় হয়ে থাকে, আপাত বুঝার সুবিধার্থে সরল পর্যায়ে থাকা হবে) কিন্তু শনিবার এবং রবিবার মদের বার অথবা পরিস্টিটিউটদের কাছে অথবা ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় থাকবেন, এবং আপনার ইনকামকৃত সকল টাকা সেখানেই খরচ করে ফেলবেন। এতে করে বকি ৫ দিন আপনাকে কুলুর বলদের মত খেটে যেতে হবে। এভাবেই চক্রের মধ্যে আপনি বন্দি থাকবেন। আর এটাও এক প্রকার ইমাজিনারি প্রিজন বা কাল্পনিক জেলখানা। উদাহারণ হিসবে বলা যায় বাংলাদেশের (বর্তমানে বিভিন্ন চেষ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে) চা শ্রমিকদের কথা যাদেরকে ব্রিটিশরা এই ফ্রমে বন্দি করে ফেলেছিল, যুগ থেকে যুগান্তরে তারা চা-শ্রমিক হয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।

prison-bars

 চিত্র: bigreporter.com

“Freedom in capitalist society always remains about the same as it was in ancient Greek republics: Freedom for slave owners.”- Vladimir Ilich Lenin

যেভাবে মুসলিমদের ভিক্টিমাইজ করা হয়

  1. প্রথমে মুসলিমরা কিছু বিষয় পছন্দ করে না, যেমন মদ খাওয়া (মদ ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), অশ্লীলতার ব্যাবসা (অশ্লিলতার সাথে শত্রুতা), জুয়া খেলা (জুয়া ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), সুদ ব্যাবসা (সুদের ব্যাবসার সাথে শত্রুতা) ইত্যাদি। কিন্তু  এই সবের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ও যারা এই সব নিয়ে থাকে (পৃথিবীর বহু জনগণ এবং মুসলিমদের মধ্যেও কেউ কেউ) তারা এই সব কাজ না করা ব্যক্তিদের সাথে এক ধরনের পার্থক্য অনুভব করে। এই পার্থক্যের মনের অজান্তে বা জান্তে কারণে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে একটু হলেও নির্দোষ খারাপ হিসাবে দেখতে চায় (এখানে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত নয়, বিবেকবান মানুষেরা এর বাহিরে)। মিডিয়া এই বিষয়টা ধরতে পারে, এবং মুসলিমদেরকে খারাপ করে উপস্থাপনা করলে অথবা মুসলিমদের নিয়ে খারাপ খারাপ খবর চুজ ও পিক করে নিয়ে আসলে, বাজারে সেই খবর উপরে বর্নিত কারণে বেশী চলে। মিডিয়া "সেই খবরটাই" তুলে আনে যেটার বাজার মূল্য আছে, কারণ মিডিয়াকেও বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হয়। যে খবরটি বাজারে চলবে না, সেই খবর পাবলিশ করে মিডিয়ার লাভ কম। (বিদ্রঃ আমি বলছিনা সকল মিডিয়াই খারাপ বা মিডিয়া খারাপ, শুধুমাত্র সরলতার স্বার্থে সহজ ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে)        
  2. পরবর্তিতে, মিডিয়ার "সেই খবর" পড়ে, মানুষ আরো ক্ষিপ্ত হয়, তখন মিডিয়ায় এই বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামতের বিতর্ক তৈরি হয়। তখন রাজনিতিবিদরা সুযোগ-দেখে তাদের এজেন্সির দ্বারা ক্ষোভটাকে উসকিয়ে দেন এবং একে পুজি, অর্থ্যাত দমন করার নামে ভোটের রাজনিতিতে জয়লাভ করতে চেষ্টা করেন। ঘৃনা ব্যাবসা ভোটের রাজনিতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর।           
  3. সর্বশেষ পক্রিয়ায়, যখন তারা ভোটের রাজনিতিতে জয় লাভ করতে পারেন, তখন ইচ্ছা করেই গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ক্ষোভের ব্যাবসা চালু রাখতে সচেষ্ট হন এবং যুদ্ধ বানিজ্যের দিকেও এগিয়ে যান। যুদ্ধের উপর নির্ভর করে, অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি। সেজন্য অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি চায় কোথাও না কোথাও যুদ্ধ চলুক। সেজন্যই যুদ্ধ বন্ধ হয় না। অন্যদিকে রাজনিতিক দল গুলিরও ক্ষমতা ধরে রাখা দরকার, সেইজন্য সেও ঘৃনার চক্র চালিয়ে যায়, বা ধরে রাখে বা ধরে রাখতে হয় কারণ রাজনিতিবিদরা রাজনিতির প্রয়োজনে বিভিন্ন ইন্ড্রাস্টির কাছ থেকে ডনেশন নিয়ে থাকেন, এবং এ জন্য চাপ সব সময় তাদের উপর থাকে।
  • কসেপ্টঃ "ইন্ডাস্ট্রি চায়" মানে কোন একক ব্যাক্তির চাওয়া নয়, বরং এর সাথেযুক্ত হাজারো ব্যাক্তির চাওয়া একভূত হয়ে একটা শক্তিশালি চাওয়া যা বাজার দ্বারা কামান্ডকৃত, আসলে তা বাজারের প্রেসারে হয়ে থাকে। কারণ যে অস্র ইন্ড্রাস্টি, সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি, জুয়া ইন্ড্রাস্টি, মদ ইন্ড্রাস্টি  বাজার থেকে লোন নিয়ে চলে, এবং সেই লোন সুদ সহ পরিশোধ করার চাপ বাজার সব সময় দিয়ে থাকে।

 

এখানে খুব জটিল একটা বিষয় খুব সংক্ষিপ্তকারে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ বাজারে আরো অনেক অনেক ফ্যাক্টরের কারনে সিদ্ধান্ত ও ফলাফল ভিন্ন হয়ে থাকে। এর ভাল ও খারাপ উভয় দিকই আছে।

"To feel much for others and little for ourselves; to restrain our selfishness and exercise our benevolent affections, constitute the perfection of human nature."-Adam Smith

উপসংহারঃ অর্থনীতির বহু সিদ্ধান্তের খারাপ কিছু এবং ভাল কিছু দুটোই আছে। অর্থনিতি খুবই জটিল একটা বিষয় যে উপরে বর্নিত সকল লাইন নিয়েই যুক্তি-তর্ক করা সম্ভব। বড় বড় অর্থনীতিবিদের উচিত উপরের দুঃখজনক বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে এমন অর্থনিতিক নিতিমালা প্রয়োগ করা যাতে কোন প্রকার ভিক্টিমাইজেশন তৈরি না হয়, অথবা কোন জাতিকে ভিক্টিমাইজেশনের মুখে পড়তে না হয়।

কৃতজ্ঞতাঃ আমার অর্থনিতির শিক্ষকগণ ও বাকি অনেক মানুষ । স্লাইডে ব্যবহৃত ছবির লিংক এখান থেকে দেওয়া হয়েছে। ও উপরে সকল লিংক।

২ comments

  1. 1
    শামস

    অর্থনীতি ছিল নাকি এ সেমিস্টারে?

    'ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই' এর ব্যাপারটা ম্যানিপুলেট করা হয়। অস্ত্র ব্যবসার কথাই ধরা যাক। যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৮০ টির মতো অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানী আছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে বিশেষ ভুমিকা রাখে। কিভাবে সেটা করে? সেটা করে বিভিন্ন লবিস্ট গ্রুপদের মাধ্যমে। লবিস্ট গ্রুপগুলো থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোকে পালে এবং সরকারকে নানা কূটচাল দেয়। বুশ আমলে এদের প্রভাব ভয়ঙ্কররকম বেড়ে যায়। এরা এখনও সক্রিয়, তবে ওবামা প্রসাশন থেকে সুবিধা নিতে কিছু বেগ পেতে হচ্ছে। কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশন এদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী, এছাড়া আরো অনেক আছে।

    পুঁজিবাদে ভোগই প্রধান। যতবেশী ভোগ তত বিক্রি এবং তত অর্থ। প্রতিযোগিতাটা এখন বিকারের পর্যায়ে চলে গেছে। ভোগবাদের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে বৌদ্ধ ধর্ম। অনুসাশন মানা বৌদ্ধও ভোগবাদের শত্রু। বৌদ্ধ ধর্মের এটা ভালো দিক হলেও, এখানে ভোগবাদের প্রতি মানুষের চিরন্তন আকর্ষণকে গণনায় রাখে না। ফলে অনুসাশন মানা বৌদ্ধ খুব কম। পৃথিবীর বৌদ্ধ অধ্যুষিত প্রধান দেশগুলোর দিকে তাকালে সেই চিত্রই পাওয়া যাবে! বৌদ্ধ ধর্মের একটা সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিকতা আছে, সেটা কেবল আধ্যাত্মিকতায় পর্যবসিত, তাও খুব বেশীর মধ্যে না। অপরদিকে তাদের কিছু জনপ্রিয় রিচ্যুয়াল, যেমনঃ ইয়োগা আছে, সেটা করার জন্য বৌদ্ধ বা হিন্দু হতে হয় না, পুঁজিবাদের সবকিছুকে ধারণ করেও এর সাথে সহাবস্থান করা যায়।

    অন্যদিকে আমার মনে হয়েছে, ইসলাম পুরোপুরি পুঁজিবাদ বিরোধী না, তবে সেটাতে রেশ টানে। ইসলামে ব্যবসাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সম্পদকে কূক্ষিগতি না করে বিনিয়োগ করলে সেটা থেকে সামষ্টিক লাভ হয়। উৎসব আছে, কিন্তু সেটাতেও জনকল্যাণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। রোজার ঈদে ফিতরা (অনেকে এসময়টাকে জাকাতের জন্য বেছে নেয়), কুরবানির ঈদে মাংসকে কেবল নিজের ভোগের জন্য সব না রেখে অনেকের মধ্যে বিস্তৃত করতে বলে। কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদ যেভাবে বিশ্বকে দেখে এবং যা প্রমোট করে তার সাথে ইসলামিক ভ্যালুর মিলের চেয়ে সংঘাতটাই বেশী। হালাল মার্কেটের বাজার উরধগামী, এখানে অনেকে পুঁজি খাটাচ্ছে। ম্যাকডোনাল্ড, কেএফসি কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত দেশে হালাল! অপরদিকে পুঁজিবাদের প্রোডাক্ট মদ, নাইট ক্লাব, ফ্যাশনের জিনিষপত্র, এমনকি এখন পাশ্চাত্যের কিছু দেশে মারিজুয়ানাও লিগ্যালিটি পেতে যাচ্ছে। পুঁজিবাদের রূপ-সর্বগ্রাসী! মানুষের সহজাত আকর্ষণের কারণে অপ্রতিরোধ্য। পুঁজিবাদে সবকিছুই প্রোডাক্ট, এমনকি ধর্মকেও রিশেপ করতে চায়। অপরদিকে ইসলাম কেবল আধ্যাত্মিকতা না, আবার বস্তুকে পুরোপুরি অস্বীকার করেও না, একটা ব্যালেন্সের কথা বলে। ইসলামের কোর ভ্যালু খুব স্পষ্ট, তা যেকোন কিছুকেই প্রডাক্ট হিসেবে পরিগণিত করতে বাঁধা, তেমনি বাঁধা সবধরণের বাজারকে প্রসারিত করতে দিতে (মদ, নাইটক্লাব ইত্যাদি)।

    পুঁজিবাদ বা আরেক অর্থে ভোগবাদের সাথে ইসলামের সম্পর্ক বন্ধুর মতো না এবং বিষয় বিচারে শত্রুর ভুমিকায়, সেখানে ইসলামের ভিক্টিমাইজ হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না!

     

     

     

    1. 1.1
      ফাতমী

      @শামস,

      শামস ভাই,

      না, অর্থনিতির ক্রেডিট আগেই শেষ করেছি। এই বিষয়টা আমার আগের পোস্টের (বিশ্বাসের ভাইরাস ও আধুনিক বিজ্ঞান) সাহিত সম্পর্কিত।

      আপনার মন্তব্যে পুরো বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এবং আরো তথ্যা সংযোযিত হয়েছে, যা লেখাটিকে আরো শক্ত ভিত্তিদেয়। পাঠকরা আপনার মন্তব্য সহ লিখাটি পড়লে, আশাকরি বিষয়টি বুঝতে পারবে।

      আমার পোস্টে ম্যাকানিজমটাই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছি, কারণ অনেকেই এই বিষয়টা বলে থাকেন, কিন্তু কিভাবে ঘটে সেটা বলেন না। আমি এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে, এ নিয়ে লিখা দিলাম। আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.