«

»

Nov ০২

কারবালায় ইমাম হোসেন

কারবালায় পৌছান ইমাম হোসেন

কুফায় ইমাম হোসাইনেজ্ঞাতিভাই মুসলিম বিন আকিলের মৃত্যু সংবাদ মক্কায় পৌছায়নি। ইমাম হোসাইন জুলহাজ্ব মাসের ৮ তারিখ(অন্য বর্ননায় ১০ তারিখ, আল ডাহাবী পৃঃ১০ ) কুফার উদ্দোশ্যে রওনা হন। ঠিক ঐদিনই মুসলিম বিন আকিল নিহত হন (তাবারি, পৃঃ৬৪)। ইমাম হোসাইন এই খবর জানতে পারেন যখন তিনি জুবালাহ নামক স্থানে পৌছান(তাবারি, পৃঃ৮৯)। অন্যদিকে ইবনে যিয়াদ, ইমাম হোসাইন যাতে কুফায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য কিছু সৈন্যবাহিনী রাস্তায় পাঠিয়ে দেয়।

ছবিঃ ইমাম হোসাইনের রক্ত মাখা কাপড়। (কৃতজ্ঞতা http://www.thesacredtrusts.co.uk)

ইমাম হোসাইন যখন ইরাকে পৌছালেন, তখন তরুন সেনাপতি আল হুর বিন ইয়াজিদের নেতৃত্বে ১ হাজার লোকবল বিশিষ্ট একদল সৈনিক তাঁকে বাধা দেয়। এই ধরনের অপ্রিতিকর অবস্থায় পরে ইমাম হোসাইন তাদের উদ্দোশ্যে বলেন, "তোমরা আমাকে চিঠি দিয়েছিলে, সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে তোমাদের একতৃত্ব করতে। তোমরা যদি তোমাদের অভিমত পরিবর্তন করে থাক, তাহলে আমি ফিরে যাব" কিন্তু সৈন্যবাহিনী তাঁকে মক্কা-মদিনার দিকেও ফিরে যেতে দিচ্ছিল না। তিনি বাধ্য হয়ে এমন পথ নিলেন যা মক্কা মদিনা কোন দিকেই নয়, এবং মহরম মাসের ২ তারিখ তিনি কারবালা নামক ভূমিতে পৌছান(তাবারি, পৃঃ ৭৫ ও পৃঃ১২৮-১২৯)

মহরম মাসের ২ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত ইবনে যিয়াদ সৈনিক বৃদ্ধি করা শুরু করে ইমাম হোসাইনে কে ঘেরাও করার জন্য। ৭ তারিখে প্রায় ২২ হাজার সৈন্য কারবালায় পৌছে। এই বাহিনী ইমাম হোসাইনের শিবিরের পানি সাপ্লাই বন্ধ করে দেয়। ইবনে যিয়াদ সরাসরি ওমর বিন সাদকে পানি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়ে ছিল, সে জন্য ওমর বিন সাদ প্রায় ৫০০ সৈন্য দিয়ে "ফোরাত নদীর" তীর বন্ধ করে রাখে(তাবারি, পৃঃ১০৭)

[বিদ্রঃ কোন কোন বর্ননায়, সর্ব্বোচ্চ ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ সৈন্য বাহিনী ইয়াজিদ পক্ষে শেষ মুহুর্ত্বে জড় হয়েছিল]

চিত্রঃ ফোরাত নদী (কৃতজ্ঞতা ওয়েকিপেডিয়া)

এমন সময়, ইবনে যিয়াদের এক লোক নাম আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন আল আযাদি, ইমাম হোসাইনকে উদ্দোশ্য করে বললেন, "হোসাইন, তুমি কি দেখ না, পানি পাওয়া ততই না কষ্ট যেমন মহাকাশের(Haven-আকাশমন্ডলী বা মহাকাশ) মধ্যে যাওয়ার মত। ঈশ্বরের নামে, তুমি এক ফোঁটা পানিও পান করতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত তুমি তৃষ্ণায় মারা যাও।" জবাবে ইমাম হোসাইন বললেন, "ও আল্লাহ, তাঁকে তৃষ্ণায় মৃত্যু দিও এবং ক্ষমা করিও না।"

ইমাম হোসাইনের এই বলা সত্যে পরিনিত হয়েছিল, ইবনে মুসলিম বর্ননা করেছেন, "ঈশ্বরের নামে, পরবর্তিতে আমি তাঁকে দেখতে গিয়ে ছিলাম। আল্লাহর নামে বলছি যিনি ছাড়া আর কোন খোদাহ নেই, আমি তাঁকে দেখেছি পানি পান করছে তৃষ্ণা মিটছে না, এবং তারপর ভমি করছে। আবার সে পানি পান করছে কিন্তু তৃষ্ণা মিটছে না। এভাবে চলে ততক্ষন পর্যন্ত সে মৃত্যু বরন করে।" (তাবারি, পৃঃ১০৭)

মহরম মাসের ৭ তারিখ হতে ১০ তারিখ পর্যন্ত, ইমাম হোসাইন সহ নবী পরিবার ও তাদের সমর্থকদের উপর বিভিন্ন প্রকার অত্যাচার অব্যাহত থাকে। তারা প্রায় খাবার শূন্য ছিলেন, অন্য দিকেও পানিও ছিলনা। প্রচন্ড দমকা বাতাসও তাদের সহ্য করতে হইতো। শিবিরের সবাই খুব বিষণ্ণ ছিলেন। তবুও ইমাম হোসাইন তাঁর অবস্থানে শক্ত ছিলেন।

এই সময়ে, ওমর বিন সাদ ও ইবনে যিয়াদের মধ্যে চিঠি চালান হইলো। ইবনে যিয়াদ নির্দেশ করলেন, ওমর বিন সাদ যদি কাজ সম্পন্ন না করতে পারেন, তাহলে নেতৃত্ব শামির বিন জিহি আল জওসানের হাতে অর্পন করতে। অন্যদিকে ইমাম হোসাইনের সমর্থকগণ তাঁর সাথেই থেকে যান এবং যেকোন অবস্থায় তাঁকে পরিত্যাগ না করার ঘোষনা দেন। মুসলিম বিন আওসাযাহ আল-আসাদি, বলে উঠেনঃ "আমরা কি আপনাকে একা ছেড়ে যাব? আমরা কিভাবে আল্লাহ পাকের কাছে জবাব দিব আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে? ঈশ্বরের নামে,……আমি আপনাকে পরিত্যাগ করব না। আমার যদি কোন অস্র না থাকে, তাহলে আপনাকে রক্ষার জন্য আমি তাদের দিকে পাথর ছুড়ে মারবো যতক্ষনা আমার মৃত্যু হয় আপনার সাথে"

সাদ বিন আবদুল্লাহ আল হানাফী এবং যুহা'ইর আল কিয়ান ও একই প্রকার বক্তব্য দেন। 

Illustration of Battle of Karbala

ছবিঃ কারবালার যুদ্ধ ময়দান(কৃতজ্ঞতাঃhttp://www.panoramio.com)

তিনদিনের কঠিন কষ্টদায়ক এবং সমস্যাযুক্ত দিন পার করার পর, ঠিক আজকের এই দিনে, মহরম মাসের ১০ তারিখ, ইবনে সাদ ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডার ইমাম হোসাইনকে যুদ্ধের আহব্বান জানালেন, এবং তলোয়ারের মাধমে সমস্যা সমাধান করতে বললেন।  আলোচনার শেষের দিকের সময়, ইবনে সাদ প্রথম তীরটি ছুড়লেন। ইবনে সাদের তীর সত্য মিথ্যাকে পার্থক্য করে দেয়, যুদ্ধ শুরু হয়। এটাকে যুদ্ধ বললে ভুল হবে, সামান্য কিছু সংখ্যক পরিবারের সদস্য আর তাদের ভালবাসে এমন সব সামান্য কিছু মানুষ যারা কোন প্রকার যুদ্ধের প্রস্থতি ছাড়াই কারবালায় এসে পরেছে, যাদের কাছে কোন প্রকার পানি নেই, খাবারও প্রায় শেষ। তাদের বিরুদ্ধে একদল শক্তিশালি আর্মি আক্রমণ করেছে, এটা যুদ্ধ নাকি বিনাবিচারে হত্যা!

ঠিক এই রকম মুহুর্ত্বেও ইমাম হোসাইন নামাজ আদায় করতে ভুলেন নাই। তিনি আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করেন, "ও আল্লাহ, এটি তুমিই যাকে আমি সকল বিষাদের সময়ও ভরসা করি। সকল বেদনায় তুমিই আমার সকল আশা। তুমিই আমার ভরসা এবং সংস্থান সব সময় যাহা আমার উপর ঘটে থাকে"…….(তাবারি, পৃঃ১২২)

যখন উত্তেজনা বাড়তে থাকে, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে হাওযাহ ইয়াজিদের শিবির থেকে এগিয়ে আসে। ইমাম হোসাইনকে উদ্দোশ্যে করে বলে উঠে "হোসাইন, হোসাইন"। "তুমি কি চাও?"-জবাব দেন ইমাম হোসাইন। "তুমি কি জাহান্নাম আশা করতেছ?"-প্রশ্ন করেন ইবনে হাওযাহ। ইমাম হোসাইন উত্তর দেন, "না, আমি দয়াবান আল্লাহর দিকে যাচ্ছি এবং যিনি সাক্ষী সব শুনতেছেন" ইমাম হোসাইন দোয়া করেন, "ও আমার প্রভু! তাকে আগুনের দিকে নিয়ে যান" ঠিক তখনই ইবনে হাওযাহ ঘোড়া উত্তোযিত হয়ে উঠে এবং সে ঘোড়া থেকে পরে যায়। ঘোড়ার পায়ের আঘাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।(ইবনে কাথির, পৃঃ১৮১)

ইমাম হোসাইনের মাত্র ৩২ ঘোড়া সাওয়ারি ছিলেন, তারা অত্যান্ত সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করেন। ইয়াজিদ বাহিনীর একজন কামান্ডার আল হুর বিন ইয়াজিদ তাঁর ভুল বুঝতে পেরে সপক্ষ ত্যাগ করে ইমাম হুসাইনের পক্ষে চলে যান। তিনি ইমাম হোসাইনের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু বিশাল সৈন্যবাহিনীর মোকাবেলায় এটা কিছুই ছিলনা। ইমাম হোসাইনের সমর্থকরা একজনের পর একজন নিহত হতে থাকে, আস্তে আস্তে প্রায় সবাই নিহত হয় কিছু নিকট আত্মীয় ছাড়া। কিছুক্ষনের মধ্যেই, ইমাম হোসাইনের পুত্র আলী আকবর নিহত হন, তাঁকে কেটে টুকরো করা হয়, একটু পরেই ইমাম হাসানের পুত্র কাসিম সাহসীকতার সাহিত যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। এমন ভয়ার্থ পরিবেশেও ইমাম হোসাইন আল্লাহ পাক ভুলেননি। তিনি নফল নামাজ আদায় করেন, এবং যুদ্ধে এগিয়ে যান। জাবিরের দুই যুবক সন্তান যুদ্ধের অনুমতি চান, এবং তারাও শহীদ হন। আবিস ইবনে আবি সাহিব আল সাকিরি এবং হানযালা ইবনে আসাদ সামনে এগিয়ে আসেন এবং তারাও শহীদ হন। 

ইমাম হোসাইনের শাহাদত:

শেষ সময়ে ইমাম হোসাইনের আর কোন সাথী বাকি নেই। তাঁর বন্ধু, আত্মীয় স্বজনের লাশ পারে রয়েছে। তিনি দুঃখ ও আহত মনে নিয়ে তিনি তাবুতে আসলেন। তিনি তাঁর শেষ বেঁচে থাকা অসুস্থ ছেলে জয়নাল আবেদীনকে দেখলেন, স্ত্রীকে কিছু উপদেশ দিলেন, বোন জয়নবের সাথে দেখা করলেন, এবং তাঁর ৭ বছরের মেয়ে সকিনাকে চুমু দিলেন। যাবার আগে শেষবারের মত ব্যাথা আক্রন্ত অশ্রুজল সবার দিকে তাকালেন।

সামনা সামনি যুদ্ধে ময়দানে কেউ তাঁর বিপক্ষে এগিয়ে আসলো না। সবাই চাইতে ছিল, অন্য কেউ যেন যায়। বেশ কিছু সময় এভাবে চলে গেলে শীমার এগিয়ে এসে গরজে উঠলো, "লজ্জ্বা তোমাদের জন্য, তোমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছ, তাঁকে হত্যা কর, যেন তোমাদের মা তোমাদের পরিত্যাগ করে"(তাবারি, পৃঃ১৬০) এরপরেই তিনি তীর এবং তোলয়ারের আঘাতে জরঝরিত হলেন। চাক্ষুস সাক্ষীমতে তিনি তখন নিরলস সাহসীকতায় যুদ্ধ করতে ছিলেন। তিনি প্রায় ৩৩ জায়গায় আহত হন এবং ৩৪টির মত কোপ পরে (ইবনে কাথির, পৃঃ ১৮৮)। আস্তে আস্তে তিনি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন ঠিক যখন জুম্মার নামাজ পড়া হয় সেই সময়ে।

ইমাম হোসাইনের দেহ বিহীন মাথা ইয়াজিদের নিকট পৌছানো হয়। ইয়াজিদ একটি বেত দিয়ে মুখে মুখে ধাক্কা দেয়(আল ডাহাবী, পৃঃ১৬)। ঐ সময় উপস্তিত আবু বারযাহ আল আসলামি, একজন সাহাবী, কেঁদে উঠেন, "তোমার বেত সরাও, খোদার নামে, আমি কতবার দেখেছি রাসূল সাঃ কে এই মুখে চুমো দিতে"(তাবারী, পৃঃ৭৬)

নবী পরিবারের যেসব ব্যাক্তি নিহত হনঃ

  • ইমাম হোসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব
  • আলী আকবর বিন ইমাম হোসাইন
  • আবদুল্লাহ বিন ইমাম হোসাইন
  • আবু বকর বিন ইমাম হাসান
  • কাসিম বিন ইমাম হাসান
  • আব্বাস বিন আলী বিন আবু তালিব
  • জাফর বিন আলী বিন আবু তালিব
  • আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আবু তালিব
  • উসমান বিন আলী বিন আবু তালিব
  • মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবু তালিব
  • আবু বকর বিন আলী বিন আবু তালিব
  • আওন বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবু তালিব
  • জাফর বিন আকিল বিন আবু তালিব
  • আব্দুর রাহমান বিন আকিল বিন আবু তালিব
  • আব্দুল্লাহ বিন আকিল বিন আবু তালিব
  • মুসলিম বিন আকিল বিন আবু তালিব
  • আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন আবু তালিব
  • মুহাম্মদ বিন আবু সাঈদ বিন আকিল

কিছু প্রাকৃতিক ঘটনাঃ

  • ইমাম হোসাইন শহীদ হন ১০ই মহরম,এই দিন সূর্যগ্রহন দেখা গিয়েছিল। (আল সুয়ুতি, পৃঃ১৬০)
  • আকাশ প্রান্তে লাল হয়েছিল প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত। (আল সুয়ুতি, পৃঃ১৬০) কোন বর্ননা মতে, আকাশের দেয়াল যেন রক্তে লাল হয়েছিল দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত।(তাবারি, পৃঃ৮১)
  • ঠিক এই দিনেই জেরুজালেমে বায়তুল মুকাদ্দেসের পাথরের নিচে লাল রক্ত দেখা গিয়েছিল।(আল সুয়ুতি, পৃঃ ১৬০)
  • সালমা বর্ননা করেন, আমি উম্মে সালমাহ নিকট গেলাম এবং তিনি কাঁদতে ছিলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, কেন আপনি কাঁদছেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি সপ্নে নবী সাঃ কে দেখলাম, এবং উনার মাথায় এবং দাড়ি কাদা লেগে রয়েছিল, আমি উনাকে প্রশ্ন করলাম, কি সমস্যা? তিনি উত্তর করলেন, আমি এই মাত্র হোসাইনকে খুন হতে দেখলাম।(আল সুয়ুতি, পৃঃ১৬০ এবং আল ডাহাবী, পৃঃ ১৭)

উপসংহারঃ ইমাম হোসাইন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্টার জন্য কিছু মানুষের আহব্বানে এগিয়ে গিয়ে ছিলেন, কোন প্রকার যুদ্ধ করার প্রস্তুতি তাঁর ছিলনা । তিনি একদল মানুষের বিশ্বাস ঘাতকতার শিকার হয়েছিলেন, এবং আরেক দল মানুষের হিংস্রতার শিকার হয়েছিলেন। যার নানাজান যাদের ক্ষমা করে বুকে আগলিয়ে নিয়েছিলেন এবং যার পিতা যাদের সম্মান দান করেছিলেন, তাদের উত্তাধিকারীদের দ্বারাই নির্মমভাবে প্রায় পুরো পরিবার সহ শহীদ হন।

নীল সিয়া আসমা লালে লাল দুনিয়া,–
‘আম্মা ! লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া’।
কাঁদে কোন্ ক্রদসী কারবালা ফোরাতে,
সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে !
রুদ্র মাতম্ ওঠে দুনিয়া দামেশকে–
‘জয়নালে পরাল এ খুনিয়ারা বেশ কে?
‘হায় হায় হোসেনা’ ওঠে রোল ঝন্‌ঝায়,
তল্‌ওয়ার কেঁপে ওঠে এজিদেরো পঞ্জায়!
উন্‌মাদ ‘দুলদুল্’ ছুটে ফেরে মদিনায়,
আলি-জাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়!

~কাজী নজরুল ইসলাম

কৃতজ্ঞতাঃ

এই পর্বের লেখাটি সরাসরি অনুবাদ না হলেও ব্যাপক ভাবে নির্ভর করা হয়েছে Allama Shahid Raza Na’mi & Allama Hafiz Ather Hussain al-Azahri, এর অসাধারণ কর্ম  Imam Hussain and the tragedy of Karbala, এর উপর এবং এখান থেকেই রেফেরেন্সগুলি নেওয়া হয়েছে। সমগ্র অবদান তাদের। 

ও সকল লিংকগুলি।

রেফারেন্সঃ

The History of al-Tabari; The Caliphate of Yazid. b. Mu’awiyah Volume XIX. Translated by  I.K.A. Howard. State University of New York Press, USA, 1990

Tarikh al-Khulafa,Jalal al-Din Abd al-Rahman ibn Abu Bakr al-Suyuti (d. 911 A.H.) Dar al-Kitab al-Arabi, Beirut, Lebanon, 2002.

Tarikh al-Islam .Hafiz Shams al-Din Muhammad ibn Ahmad ibn Uthman al-Dhahabi (d. 748 A.H.) Vol.: Years 61-80 A.H. Dar al-Kutub al-Arabi, Beirut, Lebanon, 1998

 Al-Bidaya wa al-Nihaya .Hafiz ibn Kathir (d. 774 A.H.) Volume VIII. Maktaba al-Ma’arif, Beirut, Lebanon. 1999

Allama Shahid Raza Na’mi & Allama Hafiz Ather Hussain al-Azahri, Imam Hussain and the tragedy of Karbala, Retrieved from  www.islamiccentre.org/presentations/imamhussainandkarbala.pdf

[বিদ্রঃ সম্পূর্ন বুঝা জন্য পড়ুন কারবালা ও একজন ইমাম হোসাইন, ১ম পর্ব , ২য় পর্ব , ৩য় পর্ব , ৪র্থ পর্ব এবং এক সাথে সকল লেখার লিংক (কারবালা ও একজন ইমাম হোসাইন সম্পূর্ন) । এই ৫ম পর্বই ছিল এই সিরিজের শেষ পর্ব। সময় কম থাকলে ৪র্থ ও ৫ম পর্ব পড়লেই সব বুঝতে পারবেন, এই দুটোই মূল পর্ব]

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 7
    নোমান

    যদিও পড়ি নাই তবে লিংকের ভিডিওটা সম্বন্ধে আপনার মতামত চাইছি।

    1. 7.1
      ফাতমী

      ২ই ঘন্টার উপর ভিডিও, ভাই যদি পয়েন্ট গুলি আপনি সামারাইজ করে দিতেন, তাহলে হয়ত কিছু বুঝোতে পারতাম। ধন্যবাদ।
       

    2. 7.2
      কিংশুক

      কারবালার ঘটনা নিয়ে শিয়া-সুন্নির এত মাতামাতির কিছুই নাই। ইসলাম পূর্ণ হয়ে গেছে নবীজি সাঃ এর জীবদ্দশাতেই । কোরআন হাদিস সিরাতুন্নবী সব ঐ সময়েই শেষ। 50 বছর পরের কোনও ঘটনা নতুন করে ইসলামে কিছু যোগ করতে পারেনা। শিয়া মতবাদের মূল বিশ্বাস গুলোর মধ্যে ইমামদেরকে নিষ্পাপ নীল আঃ দের চাইতেও বড় আসন দেওয়া কিছু শরিকি টাইপের বিশ্বাস কোরআন-হাদিসের আলোকে অতি সন্দেহজনক, নবী সাঃ এর সার্বক্ষণিক সাহাবী রাঃ, নবী সাঃ এর স্ত্রী গণকে মুনাফিক কাফের (আস্তাগফিরুল্লাহ) বলে অকথ্য গালাগালি করায় যা সকল নির্ভরযোগ্য তথ্য, যুক্তি বিরোধী বলে আমরা আহলে সুন্নাহর অনুসারীরা শিয়া মতবাদ বিরোধী কেবল পথভ্রষ্ট হয়ে দোজখে যাওয়ার ভয়ে। শিয়ারা তাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডা দিয়ে কোরআন হাদিস ইতিহাস কম জানা কোন সুন্নিকে পথভ্রষ্ট করে শিয়া বা নাক তাও আমরা চাইনা। আসলে আহলে সুন্নাহ 1400 বছর ধরেই শিয়া মতবাদের বিরোধিতা করে আসছে তার কারন মানুষকে ভুল পথ থেকে ফেরানো কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় । আমাদের কাউকে আল্লাহ্ কারবালার ঘটনার জন্য কোন জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না, আমাদের ঈমাণ আমলের হিসাব নিবেন। এজন্য কারবালা নিয়ে এত আলোচনার ও দরকার নাই। কারবালা সিফ্ফিন জামালের বিশ্লষন করতে হলে যে পরিমাণ পড়ালেখা গবেষণা করতে হবে তার যোগ্যতা সময় খুব কম জনের আছে বলে তা নিয়ে লেখার ও দরকার নাই। শিয়ারাও আল্লাহর কাছে জবাব দিবে, আমরাও দিবো। তাদের ব্যাপার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের ঈমাণ আমল নিয়ে চিন্তা করি। আরেকটা ব্যাপার হলো শিয়ারা সেই সাহাবা তাবেয়ীন গনের যুগেও ছিলো। তাবেয়ীন তাবে তাবেয়ীন গণ শিয়াদের সাথে কোরআন হাদিস ইতিহাস যুক্তি দিয়ে তর্ক করতেন, মারামারি কাটাকাটি করতেন না। আমাদেরকে তাই করতে হবে।

      1. 7.2.1
        ফাতমী

        @কিংশুক, শিয়াদের ব্যাপারে আপনার এনালাইসিসের কিছু সমস্যা রয়েছে। সাহাবিদের যুগে বর্তমান কালের মত কোন শিয়া ছিল না। কিন্তু হযরত আলী রাঃ এর সমর্থক ছিলেন, এবং তারা খুবই ভাল মুসলিম ছিলেন। তবে, ইবনে সাবাহ (সে সত্যিই ছিল তা সুন্নিরা মানে, আর শিয়ারা অস্বীকার করে) ভাল মুসলিম ছিলেন না । বর্তমানের ইরানী শিয়ারা সাফাবিদ রাজবংশের তৈরি এবং আলী রাঃ এর সমর্থকদের আকিদাহ'র সাহিত সম্পর্কহীন। বরং আলীরাঃ এর সমর্থকরা সুন্নিদের ভিন্ন আলাদা দল নন, (প্রকৃত পক্ষে তারা কখনই মুসলিমদের মধ্যে আলাদা কোন ধর্মীয় দল ছিলেন না)। এর প্রমাণ হল, ইমাম শাফিয়ী রাঃ এর একটি কবিতা, যা অনেকটা এ রকম (আমার মুখস্ত নেই) যে "যদি আহলে বায়াতকে ভালবাসাই রাফদি(শিয়া) হয়, তাহলে মানুষদের বলতে দাও, আমি একজন রাফিদি(শিয়া)"।

  2. 6
    কিংশুক

    সংক্ষেপে সুন্দর ভাবে অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। আসলে আল্লাহ্ যাদেরকে ভালোবাসেন তাঁদের অনেক কঠিন পরীক্ষা নেন। আল্লাহর খলিল হযরত ইব্রাহিম আ: সহ আল্লাহর সকল বন্ধুকে কঠিন মানি পরীক্ষা দিতে হয়েছে । বেহেশতী যুবকদের সর্দার হযরত হোসাইন রাঃ এর কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন আল্লাহ্ । সুকঠিন পরীক্ষাতেও আল্লাহর বন্ধুরা সবাই উত্তীর্ণ । উনাদের জন্য দুনিয়ার চাইতে আখেরাত অনেক উত্তম। শিয়ারা যেমন বাড়িয়ে কারবালাকে ইসলামের পরীক্ষা বলে আসলে কারবালা নীল হাঃ এর পবিত্র পরিবারের পরীক্ষা । ইসলামের হক বাতিলের পরীক্ষা ছিল বদর ওহুদ খন্দক প্রভৃতি ইসলাম ও কুবেরের লড়াইয়ে । আসলে প্রায় সকল সাহাবী রাঃ ঈমান বজায় রাখতে জান মাল দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। সর্বোচ্চ মাত্রার ঈমাণ না থাকলে মুষ্টিমেয় সাধারণ অচেনা গরীব মুসলমানের পক্ষে সকল শক্তিশালী বিরোধী শক্তির সাথে লড়াই করে অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে বিশ্ববিজয়ী হওয়া সম্ভব ছিলনা। মক্কার সেই অতি দূর্বল অল্প সংখ্যক মুসলমানকে আল্লাহ্ ঈমাণী পরীক্ষায় টিকলে তাঁর সাহায্যে বিশ্ববিজয়ী করে দিবেন কথা দিয়েছিলেন। আল্লাহ্ কখনো প্রতিশ্রুতি ভংগ করেন না। প্রকৃত ঈমাণদার কখনো হারেনা। হারের কোন সুযোগই নাই।সংক্ষেপে সুন্দর ভাবে অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। আসলে আল্লাহ্ যাদেরকে ভালোবাসেন তাঁদের অনেক কঠিন পরীক্ষা নেন। আল্লাহর খলিল হযরত ইব্রাহিম আ: সহ আল্লাহর সকল বন্ধুকে কঠিন মানি পরীক্ষা দিতে হয়েছে । বেহেশতী যুবকদের সর্দার হযরত হোসাইন রাঃ এর কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন আল্লাহ্ । সুকঠিন পরীক্ষাতেও আল্লাহর বন্ধুরা সবাই উত্তীর্ণ । উনাদের জন্য দুনিয়ার চাইতে আখেরাত অনেক উত্তম। শিয়ারা যেমন বাড়িয়ে কারবালাকে ইসলামের পরীক্ষা বলে আসলে কারবালা নীল হাঃ এর পবিত্র পরিবারের পরীক্ষা । ইসলামের হক বাতিলের পরীক্ষা ছিল বদর ওহুদ খন্দক প্রভৃতি ইসলাম ও কুবেরের লড়াইয়ে । আসলে প্রায় সকল সাহাবী রাঃ ঈমান বজায় রাখতে জান মাল দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। সর্বোচ্চ মাত্রার ঈমাণ না থাকলে মুষ্টিমেয় সাধারণ অচেনা গরীব মুসলমানের পক্ষে সকল শক্তিশালী বিরোধী শক্তির সাথে লড়াই করে অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে বিশ্ববিজয়ী হওয়া সম্ভব ছিলনা। মক্কার সেই অতি দূর্বল অল্প সংখ্যক মুসলমানকে আল্লাহ্ ঈমাণী পরীক্ষায় টিকলে তাঁর সাহায্যে বিশ্ববিজয়ী করে দিবেন কথা দিয়েছিলেন। আল্লাহ্ কখনো প্রতিশ্রুতি ভংগ করেন না। প্রকৃত ঈমাণদার কখনো হারেনা। হারের কোন সুযোগই নাই।

    1. 6.1
      ফাতমী

      আপনার এই কথাগুলি আমার ভাল লেগেছে, "প্রকৃত ঈমাণদার কখনো হারেনা। হারের কোন সুযোগই নাই"-কিংশুক

  3. 5
    শাহবাজ নজরুল

    আপনার লেখাগুলো 'সদালাপের' আর্কাইভকে সমৃদ্ধ ও মজবুত করছে। প্রচেষ্টা অব্যহত থাকুক। বন্ধনীর মধ্যে তাবারী কিংবা ইবন কাথিরের যে পৃষ্ঠা নম্বর দিলেন তা কোন সংস্করণ থেকে? রেফারেন্স কি মূল আরবি বই না এর কোনো বাংলা কিংবা ইংরেজি অনুবাদ থেকে দেয়া তা জানালে রেফারেন্সিং পরিপূর্ণ হয়। 

    1. 5.1
      ফাতমী

      ধন্যবাদ। এটাই এই সিরিজের শেষ পোস্ট ছিল। সব কয়েকটিই ইংরেজি অনুবাদ করা বই, নিচে রেফারেন্স সেকশনে বইয়ের নাম ও প্রকাশ কাল লিখা হয়েছে। তাছাড়া, আমি অন্যান্য রেফারেন্স থেকে বক্তব্যগুলি পরিক্ষা করে নিয়েছি, এবং আগে থেকেই এই বিষয়ে আমার অনেক পড়াশুনা ছিল এবং বিভিন্ন বুজুর্গের মুখে কাহিনী গুলি শুনে ছিলাম এবং পারিবারিক ভাবেও জানা ছিল। তবুও রেফারেন্সের প্রয়োজনে এবং সঠিকতার জন্য বিশেষ করে শেষ দুইটা পোস্টে Allama Shahid Raza Na’mi & Allama Hafiz Ather Hussain al-Azahri, এর অসাধারণ কর্ম  Imam Hussain and the tragedy of Karbala এর উপর নির্ভর করেছি। এর বাহির থেকে যে সব ইতিহাসের বর্ননা অন্তর্ভুক্ত করেছি, তাও জায়গামত রেফারেন্স দিয়েছি। আপনি এই বিষয়ে আমার আগের পোস্ট গুলিতে গেলে আরো ক্লিয়ার হতে পারবেন।

       

      -পুরো সিরিজটা পড়ে দেখুন।

  4. 4
    shahriar

    thanks.

    1. 4.1
      ফাতমী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  5. 3
    মাহফুজ

    আপনি যেসব তথ্য তুলে ধরেছেন সেই অনুসারে দেখা যায় যে সে সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করার ব্যাপারে মুসলিমরা বেশ পিছিয়ে পড়েছিল। কারণ শতজনেরও কম সংখ্যক ন্যায়-পন্থী মানুষের বিরুদ্ধে ২২,০০/ ৩০,০০০/ ১,০০,০০০ জন অত্যাচারি মানুষ জড় হয়েছিল এবং যে জঘন্যতম অন্যায়ে লিপ্ত হয়েছিল তা কখনো ভোলার নয়। রাসূলের (সাঃ) সাহচার্য থেকে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি এরূপ দশা হয়, তাহলে তো তা সত্যিই চিন্তার বিষয়।!

    নিঃসন্দেহে ইমান হোসাইন (রাঃ) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই ছিলেন। তিনি তার কর্মের যোগ্য পুরস্কারই পাবেন। সেই সময়ে তো অনেক সাহাবাই (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা কি ইমান হোসাইনের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষাবলম্বনকে অনুধাবন করতে পারেন নাই? নাকি পেরেও জান বাঁচানো ফরজ ভেবে তার পক্ষ নিতে পিছপা হয়েছিলেন? এটাই কি আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সাঃ) এর শিক্ষা? অজানা আশঙ্কায় অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ না করার ভীমরতি নুতন কিছু নয়। তাদেরই কারণে সাধারণ মুসলিমদেরকে আগেও ভুগতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে। জালিমের জন্য তো জাহান্নাম অবধারিত। কিন্তু একটি কাওমের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যখন কোন জালিম শাসকের জুলুমকে প্রতিহত করার প্রয়াস না নিয়ে বরং প্রশ্রয় দেয়ার মানসিকতা দেখায়, তখন আল্লাহতায়ালা তাদের ভবিষ্যতের জন্য কঠিন ফয়সালা নির্ধারণ করে দেন। আমাদের এই দেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সুতরাং জুলুম করা তো দূরে থাক, যে কোন মানুষের উপরে জুলুম হতে দেখলে অন্তত তার প্রতিবাদ করার মানসিকতা যেন আমরা অর্জন করতে পারি- মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন।

    1. 3.1
      ফাতমী

      @মাহফুজ,

      ভাই মাঝে মধ্যে সত্য মিথ্যার পার্থক্য করা এতই কঠিন হয়ে পেরে যে অনেক না বুঝেই জালিমের সাথে চলে যায়। এই ক্ষেত্রে চোখের জল ফালানো ছাড়া আর কি ই করার আছে। আল্লাহ পাক আমদের মাফ করুন।

      ঐসময় অধিকাংশ সাহাবীরাই ছিলেন না, বাকিরা বৃদ্ধ ছিলেন। তাছাড়া, সৈন্যবাহিনীর বাইরে এই খবর তেমন মানুষ জানত না। এখনকার মত পত্রিকা, অনলাইন, ফেইসবুক কিছুই ছিল না, তাই জানতে জানতে অনেক সময় লেগে গিয়েছিল, তাতে অনেক দেড়ী হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া, আল্লাহ পাক হয়ত এর মধ্যে বিশেষ কোন রহস্য রেখেছেন। হয়ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদর্শ তৈরি করেছেন।

  6. 2
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    ছবিটির সাইজ ও স্লাইডারের সাইজের মিসম্যাচের জন্য আপাততঃ স্লাইডারে প্রথম ছবিটি দেয়া যাচ্ছে না। ছবিটি পোষ্টের মধ্যেই ভালো লাগছে। ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      এস. এম. রায়হান

      অনেকদিন ধরে সদালাপের মেইল মনে হয় চেক করেন না।

  7. 1
    ফাতমী

    এডমিন,

    প্রথম ছবিটি যদি স্লাইডে দেখানোর ব্যাবস্থা করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.