«

»

Dec ১৩

ইসলামী বিবাহ হতে হবে ইসলামের আলোকে

গণতান্ত্রীক পৃথিবী ব্যাবস্থায় যে যাকে খুশি বিবাহ করতে পারে, কিন্তু সেটা ইসলামের আলোকে না হলে, ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে সেটাকে বিবাহ বলে গন্য করা হয় না। অতএব, যারা আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সাঃ ভালবাসেন তাদের উচিত আল্লাহ পাক এবং তাঁর রাসূলের দেওয়া নিতিমালা মেনে চলা।

যাদেরকে ইসলামী আইন অনুসারে বিবাহ করা জায়েজ নয়, তাদেরকে বিবাহ করার ধর্মিয় অপকারিতাঃ

  • যাদের বিবাহ করা জায়েজ নয়, তাদের বিবাহ করলে ইসলামী আইন অনুসারে আপনি "কন্টিনিউয়াস যিনার গোনাহ" করার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ তাঁর সাথে যৌন সম্পর্ক আপনার জন্য জায়েজ নয়। যেহেতু বিবাহ মানুষ একদিন দুইদিনের জন্য করে না বরং সারা জীবনের জন্য করে, সেহেতু ইসলামী নিয়ম অনুসারে ব্যাবিচারের গোনাহ সারা জীবনই চলার সম্ভাবনা থাকবে।
  •  আপনার ছেলে মেয়েরা যে মুসলিম হবে এর নিশ্চয়তা থাকবে না। এতে করে আপনি পুরো একটা জেনারেশনকে অমুসলিমের পরিনত করলেন, কারণ আপনার ছেলে মেয়ের ইসলামী বিষয়ে জ্ঞান না-থাকলে, অধিক সম্ভবত আপনার নাতী এবং তাঁর পরবর্তী জেনারেশনেরও ঐ জ্ঞান থাকবে না যদিনা তাঁর ক্ষেত্রে স্পেশিয়াল কিছু ঘটে। সেহেতু পুরো জেনারেশনকে আপনি জাহিলিয়াতের দিকে ধাবিত করলেন। এবং এর দায় আপনার থাকবে।
  • একটা গোনাহ অন্য আরেকটা গোনাহর দড়জা খুলেও দিতে পারে, সেই ক্ষেত্রে নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত সহ অন্যান্য বাধ্যতামূলক ইবাদত করা থেকেও আপনি বঞ্চিত হতে পারেন। কারণ ঐসব ইবাদত করার পরিবেশ না থাকলে এবং প্রতিকূল পরিবেশে আপনি ঐসব ভুলেও যেতে পারেন।
  • সব থেকে ভয়ংকর হল, একটার পর একটা নিয়ম অবেজ্ঞা করার পর আপনি নিজেই নামাজ রোজা ছেড়ে দিতে পারেন, আস্তে আস্তে আরো অবজ্ঞতা করতে করতে একটা সময় নিজেই অনেক বিষয় জ্ঞান হারাতে পারেন। মানে শয়তানের কাছে যুক্তিতে পরাজিত হতে পারেন, আর ফলাফলে নিজের ঈমানটাই হারানোর সম্ভাবনা তৈরি করবেন, সব থেকে খারাপ কিছু ঘটলে, ঈমানটাও হারাতে পারেন।

তাই, কাকে বিবাহ করার আগে কমপক্ষে আলাদাভাবে দুইজন আলিমের সাথে পড়ামর্শ করেই বিবাহ করেন। পাত্র-পাত্রীরা ইসলামী বেসিক বিশ্বাসগুলিতে [যেমনঃ আল্লাহ পাকের উপর বিশ্বাস, নবী-রাসূল গনের উপর বিশ্বাস, আখিরাতের উপর বিশ্বাস, আসমানী কিতাব গুলির উপর বিশ্বাস, ফেরেস্থা ও জ্বীন জাতির উপর বিশ্বাস, তকদিরের উপর বিশ্বাস, শেষ বিচারের উপর বিশ্বাস ইত্যাদি। বর্তমান আধুনিক যুগের প্রেক্ষিতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে শেষ নবী হিসাবে বিশ্বাস]  বিশ্বাস করেন কি না সেটাও জেনে নেওয়া উচিত। কারণ ইসলাম অনুযায়ী, আল্লাহকে বিশ্বাস করে না এমন মানুষের সাথে ইসলামী বিবাহ করা যায় না। কিন্তু কেউ যদি ভুল করেই ফেলেন, ইসলাম অনুসারে ফেরত আসার দড়জা সব সময় খোলা। তওবা করে সংশোধন হয়ে নিন। পাপকে ঘৃনা করুন, পাপিকে নয়। নিজের জন্য, নিজেদের পরিবারের জন্য, সন্তানদের জন্য আখিরাতের বিপদ ডেকে আনা উচিত নয়। মহান আল্লাহ আমাদের যেন জ্ঞান বুদ্ধি দান করেন, -আমিন। 

  উকিপিডিয়ায় বাংলাদেশের মুসলিম আইনে বিবাহের কথা উল্লেখ আছে এভাবেঃ

আইন অনুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ের জন্য কতিপয় শর্ত পূরণ করতে হয়:

  • উভয়পক্ষের ন্যুনতম বয়স
  • পারস্পরিক সম্মতি
  • দেনমোহর
  • সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক ২ জন সাক্ষী
  • আইনী নিবন্ধন

এই শর্তানুসারে বরের বয়স কমপক্ষে ২১ এবং কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বর-কনেকে সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে।[২৩] অতঃপর নারী ও পুরুষকে ইসলামী বিধান অনুসারে উভয়পক্ষের সাক্ষীর সামনে একজন উকিল বা কাজি'র উপস্থিতিতে সম্মতি জানাতে হয় (মুসলিম আইন ও ইসলামী শরীয়াতে কনের প্ররোচনাহীন স্বেচ্ছা-সম্মতি বাধ্যতামূলক)। দুজন সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক এবং একজন পুরুষের সাক্ষ্য দুজন নারী সাক্ষ্যের সমান নয়।[২৩] একজন নারীকে বিয়ে করতে হলে "দেনমোহর" দেয়া বাধ্যতামূলক। দেনমোহর হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা (কিছু পরিমাণ অর্থ কিংবা সম্পত্তি), যার বিনিময়ে একজন নারী তার বিবাহিত পুরুষ সঙ্গীর জন্য হালাল বা সিদ্ধ হোন। ইসলাম ধর্মমতানুসারে এই দেনমোহর সম্পূর্ণ আদায় করে দিতে হয়, দেনমোহর মাফ হয় না।[২৩] মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এই দায়িত্ব পুরুষের। এই দায়িত্বের অন্যথায় ২ বছর পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনা শ্রম কারাবাস, বা ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।[২৩] একজন বিবাহিত নারী তার স্বামীর সেবা এবং আনুগত্য করবেন, আর বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেখভাল করবেন, যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্ত্রীর সুখ-শান্তি নিশ্চিত করবেন। ইসলামে, পুরুষ এবং নারী উভয়েই পরষ্পরকে তালাক দেবার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন, তবে এজন্য বিয়ের সময় কাবিননামায় তালাকে তাওফিজ-এর ক্ষমতা স্ত্রীকে দিতে হয়। তালাক দেবার জন্য মুখে "তালাক" শব্দটি উচ্চারণ করাই যথেষ্ট হলেও আইনীভাবে তা স্বীকৃত হয় না, বিধায় তার লিখিত চুক্তির বিধান রয়েছে। কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে একত্রে কিংবা বিভিন্ন সময়ে তিনটি তালাক দিয়ে দিলে সেই স্ত্রী তার জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং স্বামীকে যাবতীয় দেনমোহর আদায় করে দিতে হয়। [সূত্রঃ উকিপিডিয়া]

যাইহোক, বিবাহ বিষয়ক আরো নিতিমালা জানতে তফসীর পড়তে পারেন, এবং সরাসরি আলিমদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আলিমদের থেকে শুধু মতামত না জেনে তাদের থেকে দলিল ও যুক্তি গুলিও জেনে নিন। বিবাহর ক্ষেত্রে অবশ্যই হালাল এবং হারম দেখুন। আল্লাহ পাক আমাদের জ্ঞান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ পাকের মর্জিমত চলার তৌফিক দান করুন -আমীন।

২ comments

  1. 1

    মুহাম্মদ (স) বিয়ে করেন নব্যুওয়াতের ১৫ বছর আগেই। 

    …কাউকে বিবাহ করার আগে কমপক্ষে আলাদাভাবে দুইজন আলিমের সাথে পড়ামর্শ করেই বিবাহ করেন। পাত্র-পাত্রীরা ইসলামী বেসিক বিশ্বাসগুলিতে [যেমনঃ আল্লাহ পাকের উপর বিশ্বাস, নবী-রাসূল গনের উপর বিশ্বাস, আখিরাতের উপর বিশ্বাস, আসমানী কিতাব গুলির উপর বিশ্বাস, ফেরেস্থা ও জ্বীন জাতির উপর বিশ্বাস, তকদিরের উপর বিশ্বাস, শেষ বিচারের উপর বিশ্বাস ইত্যাদি। বর্তমান আধুনিক যুগের প্রেক্ষিতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে শেষ নবী হিসাবে বিশ্বাস]  বিশ্বাস করেন কি না সেটাও জেনে নেওয়া উচিত। কারণ ইসলাম অনুযায়ী, আল্লাহকে বিশ্বাস করে না এমন মানুষের সাথে ইসলামী বিবাহ করা যায় না।…

    অন্য ধর্মাবলম্বি দের বিয়ের সময় ইসলাম এর বেধে দেয়া শর্ত আদায় হয়না, এই যেমন দেন মহরের ব্যাপারটাই। এটা ছাড়া যেহেতু বিয়ে হালাল হয়না, অর্থাৎ তাদের বিয়ে কে ইসলাম বিয়ে বলে স্বীকৃতি দেয়না। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যেকার স্বামী স্ত্রী'র ভালবাসা কি 'জিনা' হিসেবে গন্য হবে…? সেরকম হলে তাদের সন্তান গুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জারজ…?  

    নব্যুওয়াতের পূর্বে আরব বাসিন্দা্রা জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মহানব্বী(স) এর প্রথম বিয়ে কি সেই জাহেলিয়াতের আরবদের রীতিনীতি অনুসরনেই হয়েছিল…? সেখানে মহরানা কি আদায় হয়েছিল…? 

    মুহম্মদ (স) এর পিতামাতা আবদুল্লাহ মা আমিনা'র বিয়েটা কি জাহেলিয়াতে নিমজ্জিতদের বেধে দেয়া নিয়মেই হয়েছিল……?   

     

      

    1. 1.1
      আবুযর মুহাম্মাদ

      দুলাভাইকে বলছি। ভাল আছেন আশা করি। বলার আগে একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করতে চাই । আপনার বিয়ে টা কিভাবে হয়েছিল? জানালে খুশি হব ।  

      আপনি হয়ত জানেননা যে ইসলামের সকল অনুশাসন  বা আইন একবারে আসে নাই । হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দীর্ঘ ২৩ বছর নবুয়তি জিন্দেগিতে সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রোমে এসেছে । ফলে একটা আইন তৈরি হবার পূর্বে তার ব্যবহার কি সম্ভব? না কাম্য ?

      আবার ধরুন, দেশে কোন সরকার কোন নতুন আইন নিজের প্রয়জনে তৈরি করলো । কিন্তু আইনসভাই বা সংসদের আনুমতি নাই। কিন্তু সরকার সে আইন প্রয়োগ করছে । পরবর্তীতে যখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সংসদ থেকে আনুমদন করিয়ে নেয় তখন সেই আইনের প্রয়োগে আর কোন অসুবিধা থাকে? উত্তর না। ইসলামি আইনে সর্বময় ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা । আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বিদায়ী হজ্জে ইসলামকে পরিপূরণ জীবন বিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন । সাথে সাথে হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমস্ত কার্যক্রমকেও স্বীকৃতি দেছেন। অতএব ইসলাম শুরুর পূর্বে ইসলামি শরিয়তের প্রয়োগ কতটুকু যুক্তিযুক্ত বিচার করার ভার পাঠকের উপর রইল ।      

      অন্য ধর্মের বিয়ে ইসলামকে মানতে হবে কেন? স্বীকৃতি দিতে হবে কেন? যারা ইসলাম গ্রহণ করে নাই তাদের ব্যাপারে ইসলামের শরিয়তের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তারা কেন ইসলামি শরিয়ত মানবে? তাদের প্রতি ইসলামের একমাত্র আহবান আল্লাহকে মান, ইসলামে দাখিল হও, তুমি ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হয়ে যাবে । 

       

       

       

       

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.