«

»

Dec ২৩

ঘৃণার অথৈ জলে ডুব দিয়না ভাইরে

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

শুরু করছি মহান আল্লাহ পাকের নামে, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের বিবেক দিয়েছেন ভাল মন্দ বিচার করার। যিনি আমাদের পালন কর্তা এবং যিনি পৃথিবীকে সাজিয়েছেন আমাদের প্রয়োজনীয় উপাদান দ্বারা। স্বরণ করছি মহান আল্লাহ পাককে যিনি আমাদের প্রভু, যিনি খোদাহ, যিনি ঈশ্বর, যিনি আমাদের মহান স্রষ্টা। যিনি আমাদের আইন দিয়েছেন নবী ও রাসূল গণের দ্বারা, এবং দিয়েছেন আইনের শিক্ষা, দিয়েছেন ন্যায় বিচার। আমি স্বরণ করছি, ঐসব নবী ও রাসূলগনকে, যারা ভয়ংকর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সত্য প্রচারে অবিচল ছিলেন, এবং যাহারা ন্যায়ের আদর্শ প্রতিষ্টা করেছিলেন অথবা প্রতিষ্টা করার চেষ্টা করে ছিলেন। এবং আমি স্বরণ করছি ঐসব শহীদদের যারা ন্যায় প্রতিষ্টায় নিজেদের জীবন উতসর্গ করেন, এবং স্বরণ করছি ঐসব আলীম, উলামা এবং আল্লাহ পাকের অলীদের যারা নিজেদের জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে সত্যের পতাকা তুলে ধরে রেখেছেন, হয়ত কিতাবের পাতায় তাদের নাম লেখা নেই। আমি স্বরণ করছি ঐ "সুন্দর সুবাস" যা রাসূল সাঃ মিরাজের রাত্রে পেয়েছিলেন। সেই সুবাতাস ছিল ঐ নারী ও তাঁর সন্তানদের, যাকে (যাদের) আল্লাহ পাককে বিশ্বাস করার কারণে তাঁর চোখের সামনে তাঁর ছেলেদের একে একে ফেরাউন উতপ্ত পাত্রে ফেলে দিয়েছিল, শেষ বাচ্চাটা ছিল দুধের বয়সী। আমি স্বরণ করছি, হযরত ইব্রাহীম আঃ কে, যাকে নমরূদ আগুনে ফেলে দিয়েছিল, শুধু এই অপরাধেই যে তিনি মহান আল্লাহ পাককে বিশ্বাস করেন। স্বরণ করছি, বেলাল রাঃ কথা, যাকে মরুর ভীষণ গরমে শাস্তি দেওয়া হত, অপরাধ তিনি একমাত্র আল্লাহ পাকে বিশ্বাস করতেন। আমি স্বরণ করছি রাসূল সাঃ এর সকল সাহাবীদের এবং উম্মতদের এবং সকল নবীর উম্মতদের যারা শুধু মাত্র মহান আল্লাহ পাকের উপর বিশ্বাস করার কারণেই দুনিয়াতে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। নিশ্চই আল্লাহ পাক মহান ও ন্যায়বিচারক। 

 

পৃথিবীতে ঘৃণার ব্যাবসা চালিয়ে সহজে বিভিন্ন কিছুতে জয় ও জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। ঘৃণার ব্যাবসার আরেকটা সুবিধা হল, নিজেদের ভুলের দায় অন্যের উপর ফেলে দেওয়া যায়। সাধারণত, (এবং অনেক ক্ষেত্রে) বিভিন্ন দেশে সংখ্যাগুরুর বন্ধু সেজে মূল সংখ্যালঘুর বিপক্ষে ঘৃণা ছড়ানো হয়। যেমন, ভারতের কিছু কিছু উগ্রবাদী গোস্টি এমন ভাব করে যেন "দায় সব মুসলিমদের", মুসলিমদের 'খারাপ থেকে খারাপাতর' সাজানো হয়, এমনকি "মুসলিমদের যেসব কাজ সবাইকেই সম্মানিত করেছে" সেসব কাজও মুসলিমরা করেনি বলে দাবি করা হয়। এবং এই দাবী দিয়ে নিয়ে মুসলিমদের বিভিন্ন অবদান চুরি করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। উদাহারণ স্বরপ বলা যায়, তাজমহলের কথা, যা নিয়ে আদালতের কেইস পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ঘৃণার ব্যাসায় সব থেকে সাফল্য পেয়ে ছিল হিটলার জার্মানিতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে, জার্মানিতে মুসলিম বিদ্দেষ তুংগে উঠেছে। এটাও কোন সময় হিটলারের মত নেতার হাতে পড়লে নতুন নাজি জার্মানির উত্তানও হতে পারে, নাও হতে পারে।

শুধু মাত্র বিশ্বাসের কারণে, চামড়ার রঙয়ের (সাদা অথবা কালো) কারণে, মানুষকে ভিক্টিমাইজ করা যদি অন্যায় না হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায়টা কি? মহান আল্লাহ পাক বলেন, "যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে। অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।"-সূরা আল বাকারা, আয়াত ৮৪-৮৫। তিনি আরো বলেন, "তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিস্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ।"-সূরা আল মুমতাহিন, আয়াত ১। এগুলো তো স্পষ্ট নিদির্শন, এটাই বুঝাচ্ছে যে কোন ব্যাক্তিকে দোষী করা যায় না শুধু মাত্র সে কি বিশ্বাস করে এর ভিত্তিতে। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, এটা শুধু মুসলিমদের ব্যাপারেই, মানে মুসলিমরা আল্লাহ পাকের উপর বিশ্বাস করে, শুধু মাত্র এজন্য মুসলিমদের উপর অত্যাচার করা মহা-অন্যায়, এটাই আয়াতে বুঝাচ্ছে। কিন্তু আয়াতটা যদি আপনি আরো সার্বিক ভাবে দেখে, তাহলে দেখবেন, যদি মুসলিমরা যা বিশ্বাস করে তা যদি কোন ফোজধারী অপরাধ না হয়, তাহলে অন্য জাতি যদি অন্য কিছু বিশ্বাস করে, তাহলে সেটাও ফোজধারী অপরাধ নয়। ফোজধারী অপরাধ বলতে বুঝায়, যে অপরাধের শাস্তি মানুষ কতৃক বিচার করে শাস্তি যোগ্য, যেমনঃ খুনের বিচার।

এখন, কোন একটা জাতি, তারা কি বিশ্বাস করে, কিংবা কি বিশ্বাস করে না, এর ভিত্তিতে কোন ফৌজধারী অপরাধ হয় না। সে যাই বিশ্বাস করুক, তার বিচার করতে হবে কাজের আলোকে, এবং কাজটা কি সেটার ভিত্ততে? যেমনঃ ঠান্ডা মাথায় খুন, এক্সিডেন্টাল খুন, কেউ উত্তযিত করিয়ে খুন করিয়ে নিয়েছে, ইত্যাদি আলাদা আলাদা ভাবে বিচার যোগ্য। কিন্তু সে ওমুক ধর্মে বিশ্বাস করে কি করে না, এর ভিত্তিতে কোন ফোজধারী দায় তৈরি হয় না।

 

জাতি বিদ্দেষ ছড়ানোর আগে দেখে নিন আপনি তাদের অবস্থানে থাকলে কি করতেন?

  • প্রতিটি জাতি তাদের নিজেদের লাভ ক্ষতি দেখে। যদি প্রশ্ন করা হয় খ্রিস্টানরা মুসলিমদের জন্য কি কি করল? ইহুদিরা মুসলিমদের জন্য কি কি করল? এর উত্তর কি পাবেন? তাই ঠিক তেমননি শিয়ারা সুন্নিদের জন্য কি কি করল এর উত্তর ঐ প্রথম পয়েন্টের আলোকেই বিবেচিত করতে হবে।
  • সম্রাজ্যবাদীরা সব সময়ই সংখ্যালঘুদের ব্যাবহার করে, কারণ অনেক সময়ই সংখ্যালঘুদের কিছু আভিযোগ ও দুঃখ থাকেই। আর সেগুলোকেই ব্যাবহার করে সংখ্যাগুরুদের উপর ক্ষেপিয়ে দেওয়া সহজ। সেজন্যই মুসলিমদের মধ্যে সংখ্যালঘু শিয়াদের ব্যাবহার করা হয়। এজন্য দেখা গিয়েছিল, সিরিয়াতে তারা শিয়াদের ক্ষমতায় দিল যেখানে শিয়ারা সংখ্যালঘু, আর ইরাকে দিল সুন্নিদের কাছে যেখানে সুন্নিরা সংখ্যালঘু। ভাবখানা এমন "যাও বাবা তোমরা মারামারি করে মরো"
  • কোন জাতির ইতিহাস থেকে শুধু খারাপ খারাপ উদাহারণ টেনে আনেন, এবং ভাল কাজগুলি ছেকে দেন। তাহলে, জনসাধারণের কাছে এই মেসেইজটাই যাবে তারা ভয়ংকর খারাপ সবাই একসাথে। এভাবেই ঘৃণা ছড়ানো হয়।
  • যদি এমন ভাবনেন কোন জাতির উদ্দোশ্যে যে "ভাল কাজ করলে বাধ্য হয়ে করেছে, আর খারাপ কাজ করলে এরা সবাই খারাপ কাজ করে",  তাহলে তারা যদি তাদের কলিজাটাও কেটে আপনাকে দেয়, বলবেন বাধ্য হয়ে দিয়েছে। For them, there is no way to be good, because you are defining “bad” as themself. Where they can go? What they can do? You closed all the doors, and then you are saying, why you don’t get in the house.

লেখাটি মজলুম ভাইয়ের পোস্টে করা কিছু কমেন্ট থেকে বিবর্তিত, যা আমি তাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনায় পাঠকদের সাথেও শেয়ার করে নিলাম। হয়ত কেউ আমার থেকে অনেক বেশী ভাল করে বুঝবে এবং মানুষকে বুঝাতে পারবে। অনেকে বলতে পারে, আমরা মুসলিমরা যদি অন্যদের জন্য ভাল ভাল চিন্তা করি, অন্যরা যদি না করে! ভাই, আমাদের আল্লাহ পাক আছেন। আমরা যদি ভাল চিন্তা করি, সেটাই আমাদের জন্য যতেষ্ট।

১১ comments

Skip to comment form

  1. 6
    সরকার সানজিদ আদভান

    আমাদের সমস্যার মূলে আমাদের দোষ কি দেখা হবে না? কেউ যদি আপনাকে বার বার প্রতারিত করে থাকে যে আপনার ইন্টেলেকচুয়াল দুর্বলতা কি বিবেচনার বাইরে থেকে যাবে?

     

  2. 5
    সরকার সানজিদ আদভান

    মাশালাহ খুব ভালো একটি লেখা লিখেছেন।মূলত রাজনীতিবিদরা নিজেদের ভোট ব্যাংক ভরানোর জন্য ধর্মীয় উস্কানি দেয় এবং যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ মানুষ।অথচ এসব সাধারণ মানুষ দ্বারাই এসব পরোক্ষভাবে সংগঠিত হচ্ছে।আর কিছু মানুষ আছে যারা বুঝে না বুঝে এগুলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।এর পিছনে বেশিরভাগ সময় লুকিয়ে থাকে জনপ্রিয়তা।জাযাকাল্লাহ খায়ির এমন একটি লেখা দেয়ার জন্য

  3. 4
    মহিউদ্দিন

    একটি ইতিবাচক ভাল লেখা। অশেষ ধন্যবাদ।  ঘৃণার অথৈ জলে ডুবতে গিয়ে যারা ইসলাম ও মুসলিম জাতির ক্ষতি করছে আল্লাহ তাদেরকে হিদায়েত দান করুণ।

    1. 4.1
      ফাতমী

      ধন্যবাদ ভাই।।

  4. 3
    মজলুম

    Truth is stranger than fiction…. Mark Twain

    The Truth Is A Bitter Pill To Swallow

    Sometimes the truth hurts, but lessons learned make us better people in the long run.

     

    God bless you forever.

     

    1. 3.1
      ফাতমী

      "Sir, my concern is not whether God is on our side; my greatest concern is to be on God's side, for God is always right"-Abraham Lincoln  

      What is lie and what is truth will be exposed in the day of last judgment, and I always try to be in the side of truth and justice. May Allah pak bless us.

  5. 2
    ইমরান হাসান

    যে কোন বিষয় এর জন্য বিরোধিতা করা আর সেটাকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে মানুষ এর অধিকার কে লঙ্ঘন করা এক জিনিস না। কোন ভাবে যদিও বা শিয়া রা সঙ্খ্যালঘু ছিল অনেক ক্ষেত্রে কিন্ত এতাও সত্যি যে ইরানে সুন্নিরা অনেক দিন ধরে সঙ্খ্যালঘু, তো সেইখানে তাদের দ্বারা কি ধরন এর ষড়যন্ত্র মঞ্চায়িত হয়েছে সেটা একটু বর্ণনা করবেন? 

    মজলুম ভাই এর  পোস্ট টা থেকে আমার মাথাতে এই জিনিসটাই  এসেছে যে আমরা এখন যতই বলি না কেন, যে "ধর্ম এখন আর তেমন ভূমিকা রাখে না রাজনীতি তে" কিন্ত আসল সত্য ভিন্ন। কিন্ত এটা যেমন সত্যি যে আমরা ধর্মকে নিজের ভেতর থেকে পরিত্যাগ করতে পারব না;ঠিক সেভাবেই এতাও সত্যি যে বস্তুবাদ এর খোলসে ধর্ম কে মুড়ে অরুচিকর আর গর্হিত এই সব কাজ কে সমর্থন ও করতে পারব না। 

    আসলে এটা যেমন সত্যি যে সব খারাপ এর মধ্যে ভালো থাকে  ঠিক এভাবেও এটাও সত্যি যে শতকরা হিসাব অনেক কিছু নির্ধারণ করে। 

    আর এটার মানে এই  না যে আমরা শিয়া দের কে কোপানো শুরু করব; কিন্ত আমাদের কে এটাও বুঝতে হবে যে এই ঐতিহাসিক সমস্যা এর মুল কোথায়। 

    1. 2.1
      ফাতমী

      একটা কথা বলি, ঘৃণার আকর্ষণ শক্তি অত্যান্ত বেশী, হিটলারের জার্মানিতে হিটলারের বিরুধীতা করে বেঁচে থাকাই অসম্ভব, এ জন্য সয়ং হিটলারকে আপনার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই, হিটলারের অনুগামীরাই তা সহজেই নিতে পারে। আবার সম্রাজ্যবাদীরা কিছু একটা করতে পারলেই যে সব সময় একই কৌশল নিবে সেটাও ঠিক না। ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা একেক জনের নিকট একেক রকম, কাউরো কাছে ষড়যন্ত্র, কাউরো কাছে স্বাধীনতার অন্দোলন। ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে হয় না, গোপনে হয়, তাই পূর্নাংগ সাকসেসফুল না হলে, তা অপ্রকাশিতই থাকে। শিয়ারা কোন কাজ করেছে বিধায় সুন্নিরাও করবে, সেটা ঠিক নয়। যখন ইরানীদের শায়েস্তা করা দরকার, তখন বালুচ ও কুর্দিদের অস্র দিয়ে ইরাণের ব্যাপারে ক্ষেপানো হয়, ঠিক তেমননি তুরষ্ককে শায়েস্তা করার দরকার হলে কুর্দিদের তুর্কিদের ব্যাপারে ক্ষেপানো হয়, ইরাকে করা হয়, সিরিয়ায় করা হয়, কারণ এই সব কয়টা দেশেই কুর্দিরা সংখ্যালঘু। কিন্তু এর মানে এই নয় কুর্দিদের সকল দাবীদাবা বেঠিক, কারণ কুর্দিদের দাবীও সঠিক, কুর্দিদের স্বাধীনতা ঐ দেশগুলি ঢেকে নিয়েছে।  আমি নিজে সুন্নি, তাহলে কিভাবে আমি সুন্নিদের স্বাধীনতা আন্দলনকে ষড়যন্ত্র দেখাবো? কিন্তু এক ইরানী শিয়া, আরেক ইরানী শিয়াকে তাদের রেফারেন্স ও তাদের পক্ষে যায় এমন রেফারেন্স দিয়ে প্রামণ দেখাতে পারবে সুন্নিরা ট্রেইটর এবং তাদের কেউ কেউ এটা বলেও থাকে পুরো বিশ্ব ব্যাবস্থার আলোকে। কিন্তু এটা বিবেকের কথা নয়, এটা সুন্নি বিদ্দেষ থেকে আগত। একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় দেখুন এই লিংকে কি বলা হচ্ছে, আমার কাছে উক্ত লিংক সৌদি বিদ্দেষীদের লেখা ।  আপনি উগ্র ইসলাম বিদ্দেষীদের একটা-প্রশ্নকে পরিক্ষা করুন, তারা বলে, "দেখানতো বিগত দশ বছরে অ-মুসলিম কেউ বাংলাদেশে(বা সাবজেক্টেট কোন দেশ) টেররিসম করেছে?"

  6. 1
    এম_আহমদ

    ভাল করেছেন লেখাটি দিয়েছেন। ইন্টারনেটের বদৌলতে আজ ‘অনেক ধরনের লেখা’ ছড়িয়ে ছিটিয়ে বের হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসের প্রাথমিক কিছু ‘মূলনীতি’ গ্রহণ না করে এবং ধর্মীয় অবস্থানেরও ‘মূলনীতি’ না জেনে ‘বিস্ফোরিত’ তথ্যসমূহ থেকে, বিনা বিবেচনায়, নিজ ঝুড়িতে পুরতে গেলে সর্পসহ অনেক মন্দ-বস্তু সেখানে জড়ো হয়ে যাবে।

    আপনি মনে করুন কোন কারণে সৌদি বিরোধী। বাদশাদের দেখতেই পারেন না। আবার আপনি ইখওয়ান বিরোধী। তাই সৌদি যখন ইখওয়ান মারতে সিসিকে আর্থিক সাহায্য দেবে তখন আপনি খুশ মনে সৌদির গানে কন্ঠ মিলাতে পারেন। আপনি জামাত বিরোধী। তাই সালাফি ফাসেক মতিউর রহমান মাদানিকে জামাত মারতে আমদানী করতে পারেন অথচ আপনার খেয়ালে নেই যে, যে ব্যক্তিকে আপনি হেয়ালিভাবে অথোরিটি ভেবে দাখিল করে দিচ্ছেন, সে আপনার বিরুদ্ধেও কথা বলেছে!

    অথবা জামাত পাকিস্তান সমর্থন করেছিল তাই পাকিস্তানের মূল আন্দোলন এমনভাবে দেখাতে চেষ্টা করবেন যাতে তা শিয়া আন্দোলন হয়ে পড়ে এবং তাতে অন্যান্য উদ্দেশ্যও জড়িত হয় (যেম্মন শিয়া উদ্দেশ্য, এমন কি কারামাতিসহ)। কিন্তু আপনি করছেন কি, মূল ইসমাইলিদের থেকে বিচ্যুত, (দলছুট), সন্ত্রাসীদের শিয়া দেখিয়ে সুন্নি বিরোধের বক্তব্যে রূপদান করছেন। এক্ষেত্রে আবার সেই সৌদি নেরেটিভে (narrative) দাখিল হয়ে পড়ছেন।

    আজকাল ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে যেকোনো কিছু বলা যেতে পারে। সুন্নিদের শিয়াবিরোধী ফাতোয়াও আনতে পারেন। তালিবান/আলকায়েদার কর্মকাণ্ড generalise করে সুন্নিদেরকে নেগেটিভ প্রেক্ষিতে স্থাপনের প্রয়াস চালাতে পারেন। আমি এই ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ করতে পারি। কিন্তু সেটার প্রয়োজন নেই।

    মুসলিম বিশ্বে যত সমস্যা আছে তার জন্য আমেরিকা, ইসরাইল ও জায়োনবাদ সার্বিকভাবে দায়ী নয়। আমাদের সমস্যা আমেরিকার জন্মের আগের। হ্যাঁ, এখন তারা যা করছে তা তো তারা করবেই। আমাদের সমস্যার মূলে আমাদের দোষ কি দেখা হবে না? কেউ যদি আপনাকে বার বার প্রতারিত করে থাকে যে আপনার ইন্টেলেকচুয়াল দুর্বলতা কি বিবেচনার বাইরে থেকে যাবে?

    1. 1.1
      মজলুম

      আহমেদ ভাই, আমার পোষ্টে ভুল থাকলে সেটা আমার পোষ্টেই ধরিয়ে দিতেন, এখানে আরেকজনের পোষ্টে এসব বলার মানে হয় না। আমি আমার ভুল শুধরানোর জন্যে সর্বদাই প্রস্তুত।  এখন ইন্টারনেটের যুগ বলে কি এখন মানুষ পড়াশোনা করে, আগে কি পড়াশোনা করতো না?

      আমার এই লেখাটা মোটেও এমন নয় যে, শুধু আওয়ামী বিরোধী বলে নাস্তিক ফরহাদ মাজহার, বাংলাদেশে ভালবাসা দিবস চালুর উদ্যোক্তা, বাংলাদেশে চটি লিখাকে সাহিত্যিক মর্যাদা দেওয়া আরেক নাস্তিক  বাংলার হেফ হেফনার শফিক রেহমানকে খুব ভালো লাগা, উনাদের লেখালেখিকে প্রচার করা বা উনাদের কাছ হতে ইসলামী বিষয়ে শিখতে হবে এমন নয়।

      কেউ তার মতো মনে করে সবাইকে তার মতো মনে হলেও ওটা ভুল।
      তোমরা অনুমান করে কথা বলোনা । কারণ অনুমান হচ্ছে জঘন্যতম মিথ্যা কথা। ( বুখারি ও মুসলিম )  

      পৃথিবীর সবকিছুই সাদা এবং কালো নয়, বরং রংধনুর মতো মাল্টি-কালার।
      আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।

      1. 1.1.1
        এম_আহমদ

        ভাই, আপনার মন্তব্যের মর্ম ও ভাবার্থ বিবেচনা করেছি। আমার বক্তব্য নিম্নোরূপ: 

        “এখন ইন্টারনেটের যুগ বলে কি এখন মানুষ পড়াশোনা করে, আগে কি পড়াশোনা করতো না?” আপনার এই প্রশ্নের সাথে আমার মন্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। তারপর আপনি “শুধু আওয়ামী বিরোধী বলে “নাস্তিক” ফরহাদ মাজহার, বাংলাদেশে ভালবাসা দিবস চালুর উদ্যোক্তা, বাংলাদেশে “চটি” লিখাকে সাহিত্যিক মর্যাদা দেওয়া আরেক “নাস্তিক”  বাংলার “হেফ হেফনার” শফিক রেহমানকে খুব ভালো লাগা, উনাদের লেখালেখিকে প্রচার করা বা উনাদের কাছ হতে ইসলামী বিষয়ে শিখতে হবে এমন নয়” –এখানেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাছাড়া এতে আপনার যে অবস্থান ও মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে এবং আপনার ব্লগে যে মনোভাব অনুভব করেছি (এবং মহি ভায়ের ব্লগ মন্তব্যেও) সেসব দেখে আমার এমন কোনো ইতমিনান থাকেনি যে আমার কথা আপনি শুনবেন। বরং উলটা যদি তা বিতর্কে পর্যবেশিত হয়ে পড়ে –যে বাস্তবতা আমি এড়িয়ে যেতে চাই, তখন কি করব? এখানেও যে প্রথম বাক্য লিখেছেন সেখানেও (শেষাংশে) অভিযোগের স্বরও স্পষ্টভাবে স্থান পাচ্ছে।

        আজকাল পারত-পক্ষে কারো সাথে বিতর্ক করতে চাই না, কেননা এতে কেবল শত্রুতা বাড়ে। যেখানে মত-পার্থক্য বিস্ফোরিত হবার সম্ভাবনা দেখি সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করি। আর মনে মনে বিদগ্ধ হই এই ভেবে যে আমি তো কাউকে বুঝাতে পারব না, আমার তো সেই ক্ষমতা নেই। আর আজকাল এত অসংখ্য মত ছড়িয়ে আছে যে –এসবের মোকাবেলা করার সময় ও শক্তি কারও নেই। আপনি যে ধারায় কথা বলে যাচ্ছেন এই ধারায় আপনি একক ব্যক্তি নন, এই লাইনে আরও অনেকের কথা রয়েছে। আমি তো যারে পাই তারে ধরি এমনটি করতে পারি না।

        আমার এই মন্তব্যে মূলনীতি বিষয়ক কয়েকটি কথা স্থান পেয়েছে, ‘ইজমালি’ প্রকৃতিতে। এগুলো অনেক স্থানে বা ক্ষেত্রে প্রসারিত করা যেতে পারে। যারা এতে তাদের ধারণা প্রতিফলিত অনুভব করে থাকতে পারেন, তারা হয়ত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে চিন্তা-বিবেচনা করে নিতে পারেন, অথবা আমার প্রতি উষ্মাও অনুভব করে থাকতে পারেন, অথবা নিজেদের প্রেক্ষিত টেনে বিভিন্ন বক্তব্যের অবতারণাও করে থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানেও থেকে থাকবে তাদের নিজেদের ‘ধারণা’। নিজেদের বুঝ ও সমঝের প্রেক্ষিতে কোরান হাদিসের ব্যবহারও হয়ে যেতে পারে। কোনো কথা বাড়াতে শুদ্ধ অশুদ্ধের প্রয়োজন হয় না। এই মূলনীতি ধর্মীয় ও সেক্যুলার অঙ্গনে সমভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু শেষ বেলায় অবস্থান এই হবে যে, এই মন্তব্যে যেসব ইজমালি মূলকথা স্থান দেয়া হয়েছে, inadvertently, সেগুলোর reflection পুনরায় হয়ে পড়বে।

        ভাই, সোজা কথা হল এই যে আমাদের ধারণায় অনেক পার্থক্য আছে। হয়ত আস্তে আস্তে এক সময় তা অমনিতেই দূর হয়ে যেতে পারে অথবা ঝগড়া বিরোধ ছাড়াই যদি থেকে থাকে, তবে থাকে না, অসুবিধে কি? 'পৃথিবীর সবকিছুই তো সাদা এবং কালো নয়।'  প্রকৃতির বিভিন্ন রঙ নিয়ে থাকতে অসুবিধে কীসের, যদি না আমি সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা হিসেবে চালিয়ে না দেই? তখন অবশ্যই পার্থক্য ধরা দেবে কিন্তু তবুও পাস্পারিক ঝগড়া বিবাদ ছাড়া নিজেদের কথা নিজেদের অঙ্গনে বলে যাওয়াতেও অসুবিধে নেই। আল্লাহ আমাদের জ্ঞানকে বৃদ্ধি করুন, আমাদের বক্ষকে দ্বীলের জন্য প্রশস্ত করুন, আমাদের প্রতি করুণা ও ক্ষমা বর্ধিত করুন -আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.