«

»

Sep ২০

“আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি” -এই লাইনের ব্যাখ্যা।

আমাকে সদালাপে সিংহের ডিম নামক আইডি থেকে উক্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল – "কোরানের তথাকথিত লেখক আল্লাহ বলেছে সে সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছে। সূরা যুখরুফ:12 – 'এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত করেছেন', সূরা আয-যারিয়াত:49 – 'আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।' উভয়লিঙ্গ প্রানীদের ও কি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছে আল্লাহ ? যেমন… কেচু,শামুক,কৃমি…আর মলিকুলার প্রাণীদের ?? তাছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসদের কি অবস্থা?? একটি মানুষের হৃদপিন্ডও জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছে? আল্লাহ এই কথাগুলো হাস্যকর মনে হয়না আপনাদের?" – সিংহের ডিম

ভূমিকাঃ আমি যখন সিংহের ডিম সাহেবকে তাহার আগের অন্য প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি, তখন ঐ প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কিনা! তা না বলেই, তিনি নতুন প্রশ্ন লাফ দিয়ে ছিলেন। এবং তিনি আমার প্রতি প্রয়োজনীয় সৌজন্যতা দেখান নাই বলে আমি তাকে পরবর্তী উত্তর দিতে বিরত থেকেছি। কিন্তু পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় মনে করায় আমি এখানে এর উত্তর দিচ্ছি।

সাধারণ ব্যাখ্যাঃ প্রথমত, আপনাকে কোরান বুঝোতে হবে। কোরান একই সাথে ১৪০০ বছর আগের মানুষকেও শিক্ষা দিয়েছে এবং বর্তমানের মানুষোদেরও শিক্ষা দিচ্ছে। তাই কোরানের আয়াতের একটা সাধারণ অর্থ থাকে, এবং দার্শিনিক অর্থ থাকে এবং বিজ্ঞানিক অর্থ থাকে, এবং একেক মানুষ একেক বিষয় প্রাধান্য দিয়ে একেক সিদ্ধান্তে বা অর্থে উপনিত হয়। এ জন্য কোরানে পরিষ্কার বলা হয়েছে "তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।"- আল কোরান (৩ঃ৭)

যাইহোক, কোরানের উপরে উল্লেখিত দুটি আয়াত সাধারণভাবে নিলে "সব কিছুই জোড়ায় জোড়ায়" তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এর মানে এই বুঝায় না যে এর কোন Exception নাই। যেমন ধরেন আমি বললাম, "চীনের মানুষ দেখতে মংগলয়েড" হয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে সকল চীনের মানুষই মংগলয়েড, কারণ কিছু Exception থাকতে পারে, কিন্তু Exception কোন উদাহারণ হয়। এভাবে বাক্যের অর্থ সাধারণভাবে ধরা পরে।

কিন্তু কিছু কিছু মানুষ একে পরম অর্থে ধরে, শুধু মাত্র জীব বিজ্ঞানের আওতায় নিয়ে কোরানের ভুল বাহির করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যদি উক্ত আয়াত গুলিকে পরম অর্থে ধরা হয়, তাহলে তা পদার্থ বিজ্ঞানের আওতায় যাবে। জীব বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটা সাধারণ অর্থেই থাকবে। কারণ, পারম অর্থে নিতে হলে, প্রতিটা শব্দকেই পরম অর্থে নিতে হবে। যেহেতু, আয়াতে 'প্রত্যেক বস্তু' অথবা "সবকিছুর' বলা হয়েছে, সেহেতু সেটা সেভাবেই নিতে হবে। 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ ১৯২৪ সালে ফ্রান্সের পদার্থ বিজ্ঞানী প্রিন্স Louis de Broglie, একটি অসাধারণ থিউরি দিলেন বস্তুর প্রকৃতি সম্পর্কে। Young and Freedman, প্রিন্স লুইস এর থিউরিকে সামারাইজ করেন এভাবে, "Nature loves symmetry. Light is dualistic in nature, behaving in some situations like waves and in others like particle. If nature is symmetric, this duality should also hold for matters"(Young, Freedman 2014, p 1416). অর্থ্যাত, প্রকৃতি প্রতিসাম্যতা ভালবাসে। আলো প্রকৃতিতে দ্বৈতবাদী, কোন কোন সময়ে সে তরংগের মত আচরণ করে, এবং অন্য সময় কনার মত আচরণ করে। যদি প্রকৃতি প্রতিসাম্য হয়ে থাকে, তাহলে এই দ্বৈত আচরণ বস্তুও করে।

তিনি তাঁর কথাগুলির ভিত্তিতে বস্তুর তরংগ দৈর্ঘ্য =h/mv, এখানে বস্তুর ভর হল m, এবং বস্তুর বেগ হল v, সূত্রটি ছবিতে (কৃতজ্ঞতার লিংক) দেখুনঃ

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ http://hyperphysics.phy-astr.gsu.edu/hbase/debrog.html

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বস্তুর একটা কনার মত রূপ আছে এবং Symmetric তরংগিয় রূপ আছে। অর্থ্যাত, প্রতিটা বস্তু তরংগ ও কণা রূপে জোড়ায় জোড়ায় আছে। উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে লুইস de Broglie উক্ত আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরুষ্কার লাভ করেন।

[বিদ্রঃ শিক্ষক, বইয়ের লেখক, ইন্টারনেট, গুগুল, এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল। যাইহোক, আপনার উপকার হলে, রাসূল সাঃ এর প্রতি দুরুদ পাঠ করার পর আমার ও সকল মুমিন মুসলিমদের জন্য দোয়া করবেন।]

Edit 24/Sep/2015: প্রকৃতিতে আরো অনেক জোড় পাওয়া যায়, যেমনঃ নিচের কমেন্টে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, ম্যাটার-এন্টি ম্যাটারের কথা, কেউ বলেছেন ইলেক্ট্রন-প্রটোনের কথা, তেমনি বলা যায় এসিড ও ক্ষারকের কথা ইত্যাদি। লেখায় শুধু একটা পয়েন্ট ফোকাস করা হয়েছে।

২১ comments

Skip to comment form

  1. 12
    Sheikh Lazim

    জাজাকাল্লাহু খাইরান। খুব ভাল লাগলো। আমার ছোট একটা প্রশ্ন ছিলো যদি উত্তর পেতাম খুশি হতামা। এমিবা সমন্ধে। এমিবার কি জোড়া আছে?

     

  2. 11
    মাহমূদ

    পড়ে খুব ভাল লাগলো

  3. 10
    তাহমিদ ইসলাম

    হ্যা,,,ভাইয়া এগুলো আমি আগেই জানতাম,,,,কিন্তু কিছু কিছু বিষয় জানাছিলো না।
    ভাইয়া ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন,,,
    আর সুন্দর করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে,,,
    অসংখ ধন্যবাদ

  4. 9
    তাহমিদ ইসলাম

    আসসালামুলাইকুম
    শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থীর দৃশ্য একে নিলাম।
    আমি inter 2nd year এ অধ্যয়নরত অনিয়মিত ছাত্র।
    জানার ইচ্ছায় জিজ্ঞেস করছি ভাইয়া,,!!
    সব কিছুর জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন আমাদের পরম করুনা-ময় মহান আল্লাহ,,,
    বাতাস আর আলো এর ব্যপারটা নিয়ে মনে একটু খটকা!!!!! বাতাস,,,আলো এর জোড়ার বিষয় টা একটু বুঝিয়ে বল্লে আমার মূর্খ মন শান্ত পেতো।।
    আসলে আমি জানি এবং বিশ্বাস করি ইসলাম এর পবিত্র আল-কোরআন এ যা কিছু বর্ণিত আছে তার সব সত্য।
    ভাইয়া আপনাদের সকল যুক্তিতে যথার্থ শিক্ষা গ্রহন সম্ভব।
    আগে জানলে আমি অনেক আগেই visit করতাম এই site

    1. 9.1
      ফাতমী

      অয়ালাইকুম আস সালাম,

      বাতাসে প্রায় ৭৮-৭৯% নাইট্রজেন থাকে, এবং বাকি অংশে থাকে ২০-২১ % অক্সিজেন ও অন্যান্য পার্টিক্যাল। এখন আপনি যদি নাইট্রজেনের উপর আমার লেখায় প্রকাশ পাওয়া অনুসিদ্ধান্ত প্রয়োগ করেন, তাহলে দেখবেন নাইট্রজেন একই সাথে বস্তু এবং তরঙ্গ রূপে আছে, আবার অক্সিজেনও একই ভাবে জোড়া রূপে আছে। আবার নাট্রজেনের ভিতর ৭টা প্রটোন আছে, বিপরীতে ৭ ইলেকট্রন আছে। এছাড়াও নিউট্রন থাকে, কিন্তু মূল বিশিষ্ট নির্ধারন করে ইলেকট্রন ও প্রটন, যা একে অপরের বিপরীত, এবং মানে হল জোড়া। এছাড়া, বাতাসকে যদি ম্যাটার ধরেন, তাহলে আবার এন্টিম্যাটার আছে, যদিও ম্যাটার ও এন্টি ম্যাটার এখনো তাত্বিক পর্যায়ে আছে। আলোর বিপরীত অন্ধকার 🙂 , যাইহোক, আলোরও দুইটি রূপ আছে একটি তরঙ্গ, আরেকটি ফোটন নামক কণা রূপ। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। 

  5. 8
    Md Noman

    অনেক উপকৃত হলাম

    1. 8.1
      ফাতমী

      ধন্যবাদ।

  6. 7
    সুলতান মাহমুদ

    “সৃষ্টি জগতের সমস্ত বস্তুকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে এ নিয়ে তোমরা চিন্তা/ গবেষণা করতে পার” (আল-কুরআন)। 

    সূরা আল যারিয়াতের ৪৯ নং আয়াতের সরল অনুবাদ এটি। আর যেখানেই এর ব্যাখ্যা পড়বেন, দেখবেন সকল ক্ষেত্রেই পরস্পর বিপরীত লিঙ্গের (পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের) কথা বলা হয়েছে। হ্যাঁ এটি সত্য যে আল্লাহতালা প্রায় সকল প্রকার প্রাণি-ই (কিছু প্রাণীর ছাড়া) সৃষ্টির ক্ষেত্রে এরুপ (পুরুষ ও স্ত্রী জাতির) জোড় সৃষ্টি করেছেন, এটি একটি সাধারণ জ্ঞান যা আমাদের সকলেরই জানা আছে। কিন্তু এ আয়াতের-ই পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, এতে এমন কিছু অন্তর্নিহীত আছে যা হবে- গবেষনা লব্ধ কিছু। অর্থাৎ যা আমাদের সাধারণ জ্ঞানের আওতার বাহিরে এবং এটি নিয়ে গবেষণা  করতে হবে। 

    তাহলে এখন আমরা গবেষণার দিকে অগ্রসর হই। উল্লেখিত আয়াতে বলা হয়েছে- “সৃষ্টি জগতের সমস্ত বস্তুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে”। এখানে সমস্ত শব্দের ব্যবহৃত আরবি শব্দটির অর্থ হল- সৃষ্টির প্রত্যেকটি বস্তু, তা হতে একটিও বাদ নয়। এর আলোকে বলতে পারি শুধু প্রাণিকুল নয়, জীব ও জড় সকল বস্তুকেই আল্লাহতালা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তা না হলে এটি ভাবনার কোন বিষয়-ই নয়। অন্যদিকে যুগল (জোড়ায় জোড়ায়) শব্দটির ব্যবহৃত আরবি শব্দটি দ্বিবচন। এর অর্থ শুধু যুগলই হবে না, অর্থাৎ এর অর্থ হতে পারে এমন যুগল- যারা পরস্পরের বিরুদ্ধাচারী কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল বা বিপরীত ধর্মী। উক্ত শাব্দিক বিশ্লেষণ থেকে আমরা এ আয়াতের সম্ভাব্য গ্রহণযোগ্য অনুবাদ নিতে পারি, যার প্রকৃতি হবে এমন- 

    “আমি সৃষ্ট সকল বস্তুকে অস্তিত্বে আনায়ন করিয়াছি পরস্পরের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল প্রতি-যুগল এক নির্ধারিত পরিমাপের ভিত্তিতে। তথ্যটি তোমাদেরকে অবগত করা হইল যেন তোমরা ভাবনার (গবেষণা) সূত্র পাও”।
     
    অথবা

    প্রশংসা তাঁহারই যিনি প্রত্যেক অস্তিত্বের প্রতি-যুগল (বস্তু ও বিপরীত বস্তু) সৃষ্টি করিয়াছেন যেন তোমরা নির্দেশ পাইতে পার”।

    আপনি জানলে অবাক হবেন যে, আল-কুরআনের উক্ত আয়াতে বিজ্ঞানের এমন এক গুরুত্ব পূর্ণ তথ্যের কথা বলা হয়েছে যা- বর্তমান বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অনেক ব্যয় বহুল পরীক্ষা নিরীক্ষার ফল। হ্যাঁ বিজ্ঞান অনেক ব্যয় বহুল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা আবিষ্কার করল Antimatter বা প্রতি বস্তু। আমরা জানি, পরমানু তিনটি ক্ষুদ্রতম কণা (স্থায়ী) ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে তৈরী। বিজ্ঞানীগণ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালিয়ে পদার্থের সঙ্গে গামা রশ্মির সংঘাত ঘটিয়ে ইলকট্রন ও পজিট্রনের জোড় তৈরী করেছে। এখানে পজিট্রন হল ইলেকট্রনের জোড় ও প্রতি-বস্তু এবং ১৯৫৫ সালে বিভট্রিন নামক ত্বরণ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রোট্রন ও এন্টিপ্রোটনের (বিপরীত প্রোটন) জোড় উতপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই কণা গুলো (যেমন- প্রোটন ও এন্টিপ্রোটন) দেখতে একই, কিন্তু তারা পরস্পর বিপরীত ধর্ম বিশিষ্ট্য এবং কণাগুলো পরস্পর পরস্পরের সংস্পর্শে আসলে, পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংস করে শূণ্যে বিলীন হয়ে যায়। মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় কণা ও বিপরীত কণা একই সাথে এত বিপুল পরিমানে সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা পরস্পর পরস্পরের সংস্পর্শে এসে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এই মহাবিশ্বে প্রতি কণা (Antimatter) থেকে কণার (Matter) পরিমান বেশী থাকায়, কিছু কণা অবশিষ্ট রয়ে যায় এবং এই কণা গুলো পদার্থ গঠন করে, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের এই মহাবিশ্ব। বিজ্ঞানীগণের ধারণা আমাদের মহাবিশ্বের বাহিরে, আজানা কোন স্থানে এমনও কোন মহাবিশ্ব থাকতে পারে, যা Antimatter (মহাবিশ্বটি তৈরীর সময় Matter থেকে Antimatter এর পরিমান বেশি ছিল বিধায়) দিয়ে তৈরী এবং দেখতে আমাদের মহাবিশ্বের অনুরুপ কিন্তু বিপরীত ধর্মী বিশিষ্ট্য। আর সেই মহাবিশ্বটির নাম হবে এন্টিমহাবিশ্ব, এবং মহাবিশ্ব ও এন্টিমহাবিশ্ব পরস্পরের সংস্পর্শে আসলে উভয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে নিমেষেই। স্টিফেন হকিং এর ধারণা- আমাদের প্রতি মহাবিশ্বের মধ্যে আমাদের অনুরূপ প্রতি মানুষ ও রয়েছেন। উনার আশা আমাদের কারো, এই প্রতি মনুষের সাথে দেখা ও হয়ে যেতে পারে? তবে করমর্দন করতে নিষেধ করেছেন, তা না হলে দুজনেই আলোর ঝলকের সাথে শূণ্যে মিশে যাবে। যাই হোক এন্টি মহাবিশ্ব ও এন্টি মানুষ আছে কি নাই তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু এন্টিমেটার (প্রতি বস্তু) আছে, এতে আমরা ১০০% নিশ্চিত। তবে আল-কুরআনের সূরা আল যারিয়াতের ৪৯ নং আয়াতের প্রেক্ষাপটে বলা যায় এন্টি মহাবিশ্বও আছে, যদিও তা এখন আমাদের পক্ষে প্রমাণ করা সম্ভব না; তবে এটা একটা ভাবনার বিষয়?

    তাঁহার মহাবণী সত্য (৬:৭৩)।
    এইগুলিই প্রমাণ যে আল্লাহ সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাদের আহ্বান করে তাহা সত্যবিবর্জিত (৩১:৩০)।
    দ্বীনের (ধর্ম) পথে কোন জোর জবরদস্তি নাই, নিশ্চই সত্য মিথ্যা হইতে পৃথক রহিয়াছে (২:২৫৬)।

    1. 7.1
      ফাতমী

      @সুলতান মাহমদু,

      আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      আমি আসলে একটা পয়েন্ট তুলে নিয়ে এসেছি, কিন্তু এছাড়াও আরো পয়েন্ট আছে, যেমন , ইলেক্ট্রন প্রোটন, ম্যাটার-এন্টি ম্যাটার, তাছাড়াও রসায়ন আছে এসিড ও ক্ষারক, ইত্যাদি। এই সব গুলোই আলাদা আলাদা করে জোড়া। 

      কিন্তু পোস্টে এন্টি-ম্যাটারকে ফোকাস করিনি, কারণ এটি এখন তাত্বিক পর্যায়ে আছে। কিন্তু আমি এমন একটা পয়েন্ট তুলে এনেছি, যেটা পদার্থ বিজ্ঞানে মোটামোটি প্রতিষ্টিত।

      পড়া এবং গভীর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনি এই লেখাটি পড়তে পারেন, যেহেতু আপনার আগ্রহ আছে।

  7. 6
    কিংশুক

    পরমাণুর পজিটিভ-নেগেটিভ চার্জ অর্থাত্ প্রোটন-ইলেকট্রন সংখ্যাও হতে পারে । আপনার ব্যাখ্যাও ভালো লেগেছে । আল্লাহ্ ভালো জানেন ।

    1. 6.1
      ফাতমী

      ধন্যবাদ ভাই। আমি আসলে একটা পয়েন্ট তুলে নিয়ে এসেছি, কিন্তু এছাড়াও আরো পয়েন্ট আছে, যেমন আপনি বললেন, ইলেক্ট্রন প্রোটন, উপরে একজন বলেছেন ম্যাটার-এন্টি ম্যাটার, তাছাড়াও রসায়নে আছে এসিড ও ক্ষারক, ইত্যাদি।ীই সব গুলোই আলাদা আলাদা করে জোড়া। 

      সব কিছুই আল্লাহ পাক ভাল জানেন। 

  8. 5
    কিংশুক

    ভালো লাগলো। আপনার “কারবালা” বিষয়ক লেখাটির এ কোন পর্ব দিবেন কি ? অবশ্য সঠিক আহলে সুন্নাহর আক্বিদা না থাকলে কারবালা নিয়ে পথভ্রষ্ট হবার সমূহ সম্ভাবনা । অনেক দিন পরে লিখলেন তো তাই নতুন করে স্বাগতম।

    1. 5.1
      ফাতমী

      এইখানে শেষ অংশ দিয়েছি, আপনি হয়ত দেখেন নাই। আল্লাহ পাক চাইলে পুরো সামারি সুন্দর করে একটি পোস্টে তুলে ধরব। আপাত ঐখান পর্যন্তই। 

  9. 4
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে স্বাগতম 🙂

    1. 4.1
      ফাতমী

      হায় হায় রায়হান ভাই, আপনাকেও স্বাগতম 🙂

  10. 3
    অভী

    অসাধারন লিখেছেন ফাতমী।

    1. 3.1
      ফাতমী

      আপনাকেও ধন্যবাদ।

  11. 2
    dorkar nai

    joray joray srishti bolte asole matter anti-matter k bojhano hoyese, ek e bostur dui boisisto thaka k noy.

    1. 2.1
      ফাতমী

      সেটা আপনার বিবেচ্য। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  12. 1
    লতিফুল আজম

    জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি বুঝতে মহাজ্ঞানী হবার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ পাক বেহেশতে আদম (আ) এবং মা হাওয়া (আ) কে অর্থাৎ এক জোড়া নর-নারী সৃষ্টি করেছিলেন। আবার তঁাদেরকে একত্রে এ পৃথিবীতে পাঠায়েছিলেন। প্রত্যেক জীব-জন্তুুর জোড় আছে যার অন্যতম উদ্দেশ্য য়েৌনতৃপ্তি এবং বংশ বিস্তার। যেমন মানুষের নর-নারী, জন্তুুর হস্তি-হস্তিনী ইত্যাদি। আপনার বিজ্ঞানভিত্তিক উদাহরণটি জুতসই হয়েছে।
     

    1. 1.1
      ফাতমী

      আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.