«

»

Sep ২৮

Fair Currency এবং “আয়কর ও যাকাত”

ভূমিকাঃ অনেক দিন যাবত এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে ছিলাম, মানুষ কিভাবে বিনা-লসে কর্যে-হাসানা দিতে পারবে।  তা নিয়ে একটা সমাধান বের করে ছিলাম। অন্যদিকে যারা আয়কর দেয় এবং একই সংজ্ঞে যাকাতও দেয়, তাদের উপর আর্থিক একটা বেশী প্রেসার পরে। সে জন্য এই বিষয়েও নতুন চিন্তা ভাবনা দরকার।

 

Fair Currency: আমরা ইচ্ছে করলে এমন একটা Currency তৈরি করতে পারি যেটা সময়ের বিপরীতে মূল্য হারাবে না। যেমনঃ ১০ বছর আগে কেউ আপনার থেকে ১০০টাকা ধার নিয়ে ছিল। ১০ বছর আগে আপনি ১০০টাকা দিয়ে যা যা পেতেন, বর্তমানে তা পাবেন না। কারণ টাকার দাম দশ বছরে কমে গিয়েছে। এই টাকার দাম কমাকে বলা হয়  inflation। আমরা ইচ্ছা করলে inflation এডাজস্ট কে একটি কাল্পনিক টাকা তৈরি করতে পারি। উল্লেখ্য, সর্ব প্রকার টাকা নিজেরাই কাল্পনিক আইডিয়া। এই Fair Currency সারা বিশ্বের ভিত্তিতে তৈরি করা যেতে পারে, কিংবা একটা দেশের ভিতরও তৈরি করা যেতে পারে। আলোচনার সুবিধার্থে শুধু মাত্র বাংলাদেশ বিবেচনায় নেওয়া হল। ধরুন, ২০১০ সালে বাংলাদেশের ১০০টাকা= ১  Fair Currency নিলেন। এর ভিত্তিতে আপনি কাউকে ১ FC কর্যা দিলেন। সে এক বছর পরে ফেরত দিবে ১  FC পরিমাণ টাকা। ধরুন ২০১০ সালে বাংলাদেশে Inflation এর হার ছিল ৬% , তাহলে ২০১১ সালে ১০৬টাকা = ২০১০ সালের ১০০টাকা। এ জন্য ২০১১ সালে ১ FC= ১০৬ টাকা। সে যদি ১ FC ফেরত দিতে চায় তাহলে তাকে ১০৬ টাকা ফেরত দিতে হবে। যাইহোক, Fair Currency টা একটা দেশের সাপেক্ষে না করে, পুরো পৃথিবীর সাপেক্ষেই হিসাব করা যাবে। তাহলে বিষয়টি আরও সঠিক ক্যাল্কুলেশন হবে।

 

আয়কর ও যাকাতঃ বেশীর ভাগ আধুনিক রাষ্ট্রে আয়কর দিতে হয়। রাষ্ট্র এই আয়কর নিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যাবহার করে। এর মধ্যে অনেকও গুলি খাত আছে যেগুলো তে যাকাত দেওয়া যায়, যেমন গরীবদের জন্য বিনামূল্যে চিকতসা, দরিদ্র অঞ্চলে সরকারী সহায়তা, বিদেশে বিপদ্গ্রস্থ মানুষকে সহায়তা ইত্যাদি। সরকার যদি তার আয়ের ৩০% টাকা যাকাত দেওয়া যায় এমন কাজে খরচ করে। তাহলে আপনি সরকারকে আয়কর বাবত যে টাকা দিলেন তার ৩০% সরকারী ভাবে যাকাত হয়ে গেল ধরতে পারেন। ধরুন, আপনি ১০০টাকা আয়কর দিলেন, তাহলে যাকাত হিসাবে খরচ হইল ৩০টাকা। আপনার প্রকৃত যাকাত ৫০টাকা হলে, আপনার যাকাত দিবার বাকি রইলো ৫০-৩০=২০টাকা। এভাবে সূক্ষ্ হিসাব করলে যারা আয়কর দেন এবং যাকাতও দেন তারা ইচ্ছে করলে নিজেদের উপর চাপ কমিয়ে নিতে পারেন।

 

সতর্কতাঃ উক্ত হিসাব গুলি সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তবনা মাত্র এবং আমার তরফ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নাই এর ব্যাবহারিক প্রয়োগের ব্যাপারে যদি না এ নিয়ে কোন মুফতি অথবা ইসলাম নিয়ে জ্ঞান আছে এমন ব্যাক্তি বর্গের সমর্থন পান। অর্থ্যাত, দয়া করে সদালাপে পোস্ট দেখেই পালন করা শুরু করবেন না। 

৩ comments

  1. 2
    সাদাত

    বিষয়গুলো নিয়ে যে আপনি একটা চিন্তা করেছেন, সেটাই বড় কথা। এগুলো নিয়ে সবাইকেই বিশেষ করে আলেমদের আরো বেশি চিন্তা ভাবনা করা দরকার। আলেমদের কাছে শুনেছি, দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে টাকায় লেনদেন না করে, স্বর্ণের মাধ্যমে লেনদেন করা উচিত। আয়করকে অনেক আলেমই অবৈধ বলে থাকেন। সরকার জনগণকে কোন সুবিধা প্রদান করলে অবশ্যই তার জন্য মূল্য নিতে পারে। কিন্তু সেটা নিরূপণ করতে হবে কতটুকু সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তার ওপর, কতটুকু উপার্জন করা হয়েছে সেটার ওপর নয়। আয়কর ছাড়াও যে দেশ চলতে পারে, তার নজীর কিন্তু বর্তমান বিশ্বেই বিদ্যমান।

    সরকার যদি অবৈধ ট্যাক্সের চিন্তা বাদ দিয়ে সদকার দিকে মনোনিবেশ করতো, তাহলে কয়েকটা পদ্মা সেতুর খরচ উঠানোও কোন ব্যাপার না। আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার মানুষের অভাব নাই, কিন্তু কাঁধের ওপর জোর করে চাপাইয়া দেওয়া ট্যাক্স খুশিমনে আদায়ের মানুষ খুব কম।

    আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ আয়কর ফাঁকি দেয়। কিন্তু আয়করের পক্ষে লেকচার দেবার সময় মানুষের অভাব হয় না। 

  2. 1
    সরকার সানজিদ আদভান

    সমাধানটা সম্পূর্ণ না।এ ধরনের সন্দেহজনক বিষয়গুলো মানুষকে আরও বিভ্রান্ত করবে।লেখাটার মধ্যে ফতোয়া বা সূত্র দেয়া উচিৎ।তাহলেই সমাধান বোধগম্য হবে।

    1. 1.1
      ফাতমী

      @সানজিদ সরকার,

      আপনি কি লিখাটি পড়েছেন? 

Leave a Reply

Your email address will not be published.