«

»

Apr ৩০

যেদিন যুদ্ধ এসেছিল

যে দিন যুদ্ধ এসেছিল, জানালার ফুলগুলি তখনো ছিল,

এবং ছোট ভাইয়া, আব্বার মুখে ঘুম পোড়ানির গান শুনছিল,

মা আমার, রান্না করছিল, আমার নাকে চুমু দিচ্ছিল,

আমাকে ইস্কুলে নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছিল।

 

সেদিন সকালে আমি অগ্নিগিরির সম্পর্কে জানলাম,

সে দিন গান গেয়েছিলাম, কিভাবে ব্যাংগাচি ব্যাং হয়ে উঠল,

আমি এঁকেছিলাম নিজের জন্য ডানা,

দুপুরের খাবারের পর যখন আকাশে মেঘ গুলি ডলফিন মাছের মত লাগছিল,

ঠিক তখনই যুদ্ধ এল,

প্রথমে শিলা বৃষ্টির মত হল,

সাথে ঠাঠা পড়ার আওয়াজ হল,

তারপর শুধু আগুণ, ধোয়া আর আর্তনাদ, আমি কিছুই বুঝি নাই।

 

ইহা আমাদের খেলার মাঠে আসল,

আমাদের শিক্ষকের চেহারায় পড়ল,

ছাদটাকে মাটিতে ফেলে দিল,

এবং আমার শহরটিকে কুচি কুচি করে ফেলল,

আমি এমন কোন শব্দ জানিনা যা দিয়ে তোমার কাছে বলব,

আমার ঘরে বিরাট কাল গর্ত,

আমি শুধু বলতে পারব,

যুদ্ধ সব কিছু নিয়ে গেল,

যুদ্ধ সবাইকে নিয়ে গেল,

রেখে গেল আমাকে জরাজীর্ণ একা ।

 

আমি দোড়ালাম, কখন ট্রাকের পিছিনে, কখনওবা বাস,

হাঠলাম মাঠের পর মাঠ, পাহাড়ের পর পাহাড়,

ঠাণ্ডার মধ্যে, কাদার মধ্যে, বৃষ্টির মধ্যে,

নৌকাতে যার নিচে ফুটো ছিল, এমনকি প্রায় ডুবেই গিয়েছিল,

ঐ সৈকত পর্যন্ত গেলাম, যেখানে বাচ্চার মুখ মাটির দিকে পরে রয়েছিল,

আমি দৌড়ালাম ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পেরেছি,

আমি হাট পর্যন্ত পৌছালাম,

একটা জায়গা পেলাম ময়লা লেপের নিচে,

এবং একটা দড়জা যা বাতাসে নড়ে।

 

কিন্তু যুদ্ধ আমার পিছু পিছু এসেছে,

এটি আমরা চামড়ার নিচে ছিল,

আমার চোখে ছিল,

আমার স্বপ্নের মধ্যে ছিল,

এটা আমার ঋদয়ের দখল নিয়ে ছিল।

 

আমি হাঠলাম হাঠলাম যুদ্ধের সৃতি ভুলার পথে,

চেষ্টা করলাম এমন কোথাও পৌছাতে যেখানে যুদ্দ নাই,

কিন্তু যুদ্দটি ঐ রাস্তার দরজাও ছিল,

মানুষের হাসিহীন মুখে ছিল, যখন তারা আমাদের ত্যাগ করল।

 

তারপর আমি একটা ইস্কুল পেলাম ,

তারাও জানলা দিয়ে দেখে,

তারাও অগ্নিগিরি সম্পর্কে পড়ে,

চিত্র আঁকে পাখির, আর গান গায়,

আমি ভিতরে গেলাম,

আমার পায়ের শব্দ হল রুম থেকে শুনা গেল,

আমি দরজায় ধাক্কা দিলাম, চেহেরা গুলি আমার দিকে তাকালো,

কিন্তু শিক্ষক হাসলেন না,

তিনি বললেন তোমার জন্য কোন জায়গা নাই,

তুমি দেখ; তোমার জন্য কোন চেয়ার নেই,

তোমাকে চলে যেতে হবে।

তখন বুঝলাম যুদ্ধ তাদেরকেও পেয়ে বসেছে।

 

[ বিদ্রঃ  সিরিয়ার এক রিফুজি বাচ্চাকে স্কুলে আসলে ক্লাসে যোগদিতে দেওয়া হয়নি কারণ প্রয়োজনীয় সিট নাই, পরের দিন ঐ মেয়ে একটা ভাঙ্গা চেয়ার যোগার করে আসছে, তবুও তাকে পড়তে দেওয়া হোক। Nicola Davies, এর The Day the War Came – a poem about unaccompanied child refugees, থেকে অনুবাদ করা হল এই কবিতা]

 

 

 

৫ comments

Skip to comment form

  1. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    খুবই কষ্টকর। যুদ্ধ যে কত ভয়ংকর তার কিছুটা দেখেছি। 

    "

    হাঠলাম মাঠের পর মাঠ, পাহাড়ের পর পাহাড়,

    ঠাণ্ডার মধ্যে, কাদার মধ্যে, বৃষ্টির মধ্যে,

    নৌকাতে যার নিচে ফুটো ছিল, এমনকি প্রায় ডুবেই গিয়েছিল,

     

    -- এ্‌ইগুলো তো আমার কথা। ধন্যবাদ এই লেখার জন্যে। 

    1. 2.1
      ফাতমী

      আমি লিখি নাই, অনুবাদ করেছি। 🙂

  2. 1
    মাহফুজ

    রিফুজি বাচ্চাটির প্রতি সেই শিক্ষকের আচরণ খুবই দুঃখজনক। যে শিক্ষক সর্বহারা একটি বাচ্চার মুখপানে চেয়ে এক চিলতে হাসিও উপহার দিতে জানেনা, হৃদয়হীন স্রাম্প্রদায়িক সেই শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণরত বেশির ভাগ বাচ্চাই হয়ত একই আচরণ শিখছে। কিন্তু তারপরও তাদেরই মাঝ থেকে এমনও কেউ আছে যে সেই রিফুজি বাচ্চাটিকে বন্ধু বলে কাছে টেনে নেবে। ভাঙ্গা চেয়ার নয়, বরং নিজের চেয়ারািটই সে তার সাথে সেয়ার করে নেবে, অবশ্যই নেবে। তা না হলে তো এ পৃথিবী আর বাসযোগ্য থাকতে পারেনা।

    1. 1.1
      ফাতমী

      বিষয়টুকু এত সরল না।

      1. 1.1.1
        মাহফুজ

        কারো দৃষ্টিতে কিংবা সাধ্যে কোন বিষয় গরল মনে হলেও কারো অন্তর ও কর্মে তা সরল হিসেবেই ধরা দিতে পারে- বাংলাদেশের বজরঙ্গি ভাইজান

Leave a Reply

Your email address will not be published.