«

»

Jul ১৫

সন্ত্রাস, Terrorism অথবা জংগীবাদের উৎস কোথায়?

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে 'টেররিসম' একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে পরিনত হয়েছে। তাই, সন্ত্রাস, টেররিসম অথবা জংগীবাদের উৎস কোথায়? এর খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি। সন্ত্রাস বা টেররিসম মোকাবেলায় এর মূল কারণ জানা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন।

টেররিসমের ইতিহাস অনেক পুরোনো। এটা মানবের বিকাশের সাথে সাথে জন্ম হয়েছে।সন্ত্রাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ,  Amy Zalman (2015) বলেন, "The history of terrorism is as old as humans' willingness to use violence to affect politics" অর্থাৎ, সন্ত্রাসের ইতিহাস ততটুকুই পুরোনো যখন থেকে মানুষ রাজনিতিকে প্রভাবিত করার জন্য  হিংস্রতার ব্যাবহার করেছে। প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাস বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে ছিল, এবং এটি ইউরোপ থেকে মধ্যে প্রাচ্যের সকল স্থানেই ছিল, Professor Adam Roberts (2002) এর মতে, "Terrorism was not always like this. Its history is as much European as Middle Eastern, and as much secular as religious." অর্থাৎ, সন্ত্রাস সব সময় এক রকম (অথবা এ রকম) ছিল না। এর ইতিহাস যতটুকু মধ্য প্রাচ্যের ততটুকুই ইউরোপিয়ান, এবং যতটুকু ধর্মীয় ঠিক ততটুকু সেকুলার (বা ইহজাগতিয় বা ধর্মনিরোপেক্ষ)। পৃথিবীর ইতিহাসের বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসের উত্থান দেখা যায়। পৃথিবীর প্রথম আধুনিক সন্ত্রাস দেখা যায় ফ্রান্সে। Professor Adam Roberts (2002) বলেনঃ"the first meaning of the word 'terrorism', as recorded by the Académie Française in 1798, was 'system or rule of terror'. This serves as a healthy reminder that terror is often at its bloodiest when used by dictatorial governments against their own citizens." অর্থাৎ, সন্ত্রাসের প্রথম সংজ্ঞা দেওয়া হয় ফ্রেন্স একাডেমি থেকে ১৭৯৮ সালে, যা ছিল 'ত্রাসের শাষণ অথবা ব্যবস্থা '। এটা আমাদের ভাল করে মনে করিয়ে দেয়, সব থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাস হল সৈরাচার সরকার যখন এর নিজের নাগরিকদের উপর সন্ত্রাস চালায়।

 

টেররিসম যেকোন আইডলজি বা ধর্ম বা মতবাদ থেকে আসতে পারে। Kullberg and Jokinen, 2004 এর মতে, 

‘terrorism is not an ideology as such. It has no united political agenda. In principle, almost any ideology could be claimed by a terrorist’

টেররিসম নিজে কোন মতবাদ নয়। এটার কোন সম্মেলিত রাজনৈতিক  এজেন্ডা নেই। প্রকৃত পক্ষে, যে কোন মতবাত  একজন সন্ত্রাসীর দ্বারা  ব্যবহৃত (বা দাবীকৃত) হতে পারে।  

 

 

সন্ত্রাসের উৎসঃ 

সন্ত্রাসের মূল উতস খুজতে গিয়ে Bekir Ciner (2009), যে মূল কারণ গুলি পেয়েছেন। সেগুলো সংক্ষেপেঃ

  1. ঐতিহাসিক এবং রাজনিতিক,
  2. অর্থনিতিক এবং সামাজিক, 
  3. মতবাদ ও ধর্মিয়, 
  4. মানসিক বা মনোবিজ্ঞান ঘটিত কারণ।

 

ঐতিহাসিক উৎসঃ মানুষ নিজেদের দাবী আদায়ের জন্য শক্তি প্রয়োগ করেছে ‘the history of terror is unfortunately part of the humankind's history of executing political power, as force by the use of fear and violence has always been part of our history’(Leeman, 1987), অর্থাৎ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সন্ত্রাসের ইতিহাস হল মানব ইতিহাসে রাজনিতিক চর্চার অংশ যে, হিংস্রতা এবং ভয় দেখানো সব সময় বল প্রয়োগের ব্যবস্থা হিসাবে সব সময় আমাদের ইতিহাসে ছিল। তার মানে হচ্ছে, সন্ত্রাস বা টেররিসম কোন নতুন কিছু নয়। মানুষ সব সময় সন্ত্রাসের ব্যাবহার করেছে নিজের রাজনিতিক চাওয়া-পাওয়ার জন্য। একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, আলেকক্সেণ্ডার দ্যা গ্রেইট একবার এক জলদুস্যকে এরেস্ট করিয়ে নিজের সামনে নিয়ে আসলেন। তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কেন 'জলদুস্যুতা' কর? সে উত্তর দিল, মহারাজ, আমি যে কাজটা একটা জাহাজ নিয়ে করি, সেই কাজটা আপনি হাজারটা জাহাজ নিয়ে করেন বলেই আপনি মহারাজ, আর আমি জলদুস্যু। লোকমুখে এই কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, 'একজনের কাছে সন্ত্রাসী আরেকজনের নিকট মুক্তির সৈনিক' (Roberts, 2002), কথাটা পুরোপরি মিথ্যা নয়। অর্থাৎ, সন্ত্রাস দাবী আদায়ের মাধ্যম হিসাবে বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ধারায় যেকোন সময় সন্ত্রাসের উৎপত্তি এবং বিকাশ ঘটতে পারে।

ধারনা করা হয়, পৃথিবীতে প্রথম সন্ত্রাসের ব্যবহার হয়েছিল দখলদার রোমানদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী ইহুদীদের দ্বারা। Zalman 2015, এর মতে, "The Sicarii were a first century Jewish group who murdered enemies and collaborators in their campaign to oust their Roman rulers from Judea" , সিকারিরা ছিল প্রথম শতাব্দীর ইহুদীদের দল যারা শত্র এবং তাদের সাহায্যকারীদের হত্যা করেছিল রোমান শাষণ থেকে জুদায়াকে (যেমনঃ জেরুজালেম) মুক্ত করতে। ইসমাঈলী হাসাসিন বা আল হাসাসিন (এখান থেকে এসাসিন শব্দের উতপত্তি) দের কেও এক অর্থ সন্ত্রাসী বলা যায়, যারা নিজেদের রাজনিতির প্রইয়োজনে গুপ্ত হত্যা চালাত। আধুনিক যুগের প্রথম সন্ত্রাস বা টেররিসম কথাটা ব্যবহার করা হয় ফ্রান্সের বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে, যা তারা নিজেদের জনগনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এর ন্যায্যতা বা জাস্টিফিকেইশনের প্রয়োজনে বিল্ববী সরকার রক্ষার দোহাই দিয়েছিল। এদের কথা স্বরণ করেই, Robarts 2002, "বলেন, সব থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাস হল সৈরাচার সরকার যখন এর নিজের নাগরিকদের উপর সন্ত্রাস চালায়"

তারপর, কালের ঘড়ি চলেছে বহুদিন, আর সন্ত্রাসও হয়ে বিভিন্ন নামে এবং গুস্টির দ্বারা। 

 

রাজনৈতিক কারণঃ টেররিসমের প্রধান এবং অন্যতম কারণ হল রাজনিতিক। রাজনৈতিক ভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী টেররিসম বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের কথা বা ক্ষোভ প্রকাশ করে। পৃথিবীতে রাজনীতির কারণে সন্ত্রাস বা টেররিসম বহুকাল ধরেই ছিল এবং ভবিষতেও থাকবে, কিন্তু কৌশল এবং নামের পরিবর্তন হতে পারে। Bekir Ciner 2009, এ বিষয়ে একটি মিল পেয়েছেন, যা তিনি নিচের ছবি দ্বারা প্রকাশ করেছেন।

তাঁর মতে টেররিসম বা সন্ত্রাস হল একটি ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ যা রাজনিতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। তিনি উল্লেখ করেন তার পূর্বের গবেষকের কথা যে, If the political system works perfectly, this cancer cell will not be visible within the political system; if the system does not work perfectly, it will be visible, grow, and spread into the whole political system (Çınar, 1997), অর্থাৎ, যদি রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভালভাবে চলে, তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে না, কিন্তু যদি রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভাল করে না চলে, তাহলে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়বে এবং তার প্রভাব পরিলক্ষিত হবে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর। Bekir Ciner তার লেখায় উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যে "(t)errorism can be interpreted as a desperate response of the growing number of weak or powerless groups challenging the rigidities of frontiers, power and resource distribution underpinned by the current international system"(Wilkinson,1977)  

 

অর্থনৈতিক কারণঃ 

  • অর্থনৈতিক অসাম্যতার কারণেও সন্ত্রাস তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে দুই দল দেখা যায়, যারা সন্ত্রাসের নেতৃত্ব দেন, বা সন্ত্রাস তৈরি করেন এবং যাদের দিয়ে সন্ত্রাস করা হয়। অনেক গরীব মানুষকে টাকা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ অনেক পেট্রোল বোমা হামলায়, অনেক গরীব ছেলেকে ব্যবহার করা হয়, যাদের কোন রাজনিতিক অভিলাস নেই, বরং সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে  তারা সন্ত্রাসের কাজ করে থাকেন। আবার দরিদ্রতার কারণেও সন্ত্রাস তৈরি হয়, তারা সাধারণত শিক্ষিত দরিদ্র অথবা ধনী যেকোন ফ্যামিলি থেকে আসতে পারেন। কারণ ধনীর শিক্ষিত সন্তান দরিদ্রদের জন্য দুঃখী হয়ে বিবেক তাড়িত হয়ে সন্ত্রাসের উতপত্তি ঘটাতে পারে।  
  • আবার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের জন্য কোন দেশের ভিন্ন মতকে পুজি করে এবং উষ্কিয়েও সন্ত্রাস বা টেররিসমের উতপত্তি ঘটানো হয়। সেই ক্ষেত্রে একদলের বিপরিতে আরেক দলকে সাহায্য করা হয়। 

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমন্নিত্ব কারণঃ আমি এখানে মুসলিমদের উদাহারণ দিয়ে এই অংশটুকু আমার সাবেক লেখা (ফাতমী, ২০১৪) থেকে একটি ম্যাকানিজমের কথা উল্লেখ করলাম, পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধ এ ধরনের ম্যাকানিসমের ফল। আর যুদ্ধ সবাই হারে না, তাই যুদ্ধের শেষে সন্ত্রাস বা টেররিসম তৈরি হয়।

 

  1. প্রথমে মুসলিমরা কিছু বিষয় পছন্দ করে না, যেমন মদ খাওয়া (মদ ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), অশ্লীলতার ব্যাবসা (অশ্লিলতার সাথে শত্রুতা), জুয়া খেলা (জুয়া ইন্ডাস্ট্রির সাথে শত্রুতা), সুদ ব্যাবসা (সুদের ব্যাবসার সাথে শত্রুতা) ইত্যাদি। কিন্তু  এই সবের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ও যারা এই সব নিয়ে থাকে (পৃথিবীর বহু জনগণ এবং মুসলিমদের মধ্যেও কেউ কেউ) তারা এই সব কাজ না করা ব্যক্তিদের সাথে এক ধরনের পার্থক্য অনুভব করে। এই পার্থক্যের মনের অজান্তে বা জান্তে কারণে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে একটু হলেও নির্দোষ খারাপ হিসাবে দেখতে চায় (এখানে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত নয়, বিবেকবান মানুষেরা এর বাহিরে)। (কিছু কিছু) মিডিয়া এই বিষয়টা ধরতে পারে, এবং মুসলিমদেরকে খারাপ করে উপস্থাপনা করলে অথবা মুসলিমদের নিয়ে খারাপ খারাপ খবর চুজ ও পিক করে নিয়ে আসলে, বাজারে সেই খবর উপরে বর্নিত কারণে বেশী চলে। (কিছু কিছু) মিডিয়া "সেই খবরটাই" তুলে আনে যেটার বাজার মূল্য আছে, কারণ মিডিয়াকেও বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হয়। যে খবরটি বাজারে চলবে না, সেই খবর পাবলিশ করে মিডিয়ার লাভ কম। (বিদ্রঃ আমি বলছিনা সকল মিডিয়াই খারাপ বা মিডিয়া খারাপ, শুধুমাত্র সরলতার স্বার্থে সহজ ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে)        
  2. পরবর্তিতে, মিডিয়ার "সেই খবর" পড়ে, মানুষ আরো ক্ষিপ্ত হয়, তখন মিডিয়ায় এই বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামতের বিতর্ক তৈরি হয়। তখন রাজনিতিবিদরা সুযোগ-দেখে তাদের এজেন্সির দ্বারা ক্ষোভটাকে উসকিয়ে দেন এবং একে পুজি, অর্থ্যাত দমন করার নামে ভোটের রাজনিতিতে জয়লাভ করতে চেষ্টা করেন। ঘৃনা ব্যাবসা ভোটের রাজনিতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর।           
  3. সর্বশেষ পক্রিয়ায়, যখন তারা ভোটের রাজনিতিতে জয় লাভ করতে পারেন, তখন ইচ্ছা করেই গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ক্ষোভের ব্যাবসা চালু রাখতে সচেষ্ট হন এবং যুদ্ধ বানিজ্যের দিকেও এগিয়ে যান। যুদ্ধের উপর নির্ভর করে, অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি। সেজন্য অস্র ইন্ড্রাস্টি ও সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি চায় কোথাও না কোথাও যুদ্ধ চলুক। সেজন্যই যুদ্ধ বন্ধ হয় না। অন্যদিকে রাজনিতিক দল গুলিরও ক্ষমতা ধরে রাখা দরকার, সেইজন্য সেও ঘৃনার চক্র চালিয়ে যায়, বা ধরে রাখে বা ধরে রাখতে হয় কারণ রাজনিতিবিদরা রাজনিতির প্রয়োজনে বিভিন্ন ইন্ড্রাস্টির কাছ থেকে ডনেশন নিয়ে থাকেন, এবং এ জন্য চাপ সব সময় তাদের উপর থাকে।
  • কসেপ্টঃ "ইন্ডাস্ট্রি চায়" মানে কোন একক ব্যাক্তির চাওয়া নয়, বরং এর সাথেযুক্ত হাজারো ব্যাক্তির চাওয়া একভূত হয়ে একটা শক্তিশালি চাওয়া যা বাজার দ্বারা কামান্ডকৃত, আসলে তা বাজারের প্রেসারে হয়ে থাকে। কারণ যে অস্র ইন্ড্রাস্টি, সিকিউরিটি ইন্ড্রাস্টি, জুয়া ইন্ড্রাস্টি, মদ ইন্ড্রাস্টি  বাজার থেকে লোন নিয়ে চলে, এবং সেই লোন সুদ সহ পরিশোধ করার চাপ বাজার সব সময় দিয়ে থাকে।

তাছাড়াও, সামাজিক বিশৃংকলা, পারিবারিক কলহ, সমাজ থেকে আলাদা হয়ে থাকাও সন্ত্রাস এবং টেররিসমের অন্যতম কারণ। 

 

মতবাদ ও ধর্মিয়ঃ 

ধর্ম বা কোন মতবাদ প্রতিষ্টার জন্য টেররিসম বা সন্ত্রাসের আশ্রয় মানুষ নিতে পারে। আবার টেররিসম বা সন্ত্রাস সে নিজের প্রয়োজনে ধর্ম বা কোন মতবাদকে ব্যাবহার করতে পারে। মানুষ তাঁর প্রতিটি কাজের পিছনে একটা কারণ খুজার চেষ্টা করে। আর এই কারণ খুজার চেষ্টা থেকে সে ধর্ম, অথবা দেশপ্রেম অথবা জাতি প্রেম অথবা গোত্রীয় প্রেম অথবা অন্যকোন মতবাদএর আশ্রয় নেয়। Richardson, 2006, এর মতে terrorism needs an all-encompassing philosophy, a religion or secular ideology, to legitimize violence, to win recruits to the cause and to mobilize them for action’, অর্থ্যাত সন্ত্রাসের একটি ধর্মীয় অথবা সেকুলার দর্শণ প্রয়োজন 'ত্রাস' কে জায়েজ করার জন্য, দল বড় করার জন্য, এবং দলকে কাজে লাগানোর জন্য।

অর্থ্যাত, বিভিন্ন কারণে উদ্ভুত সন্ত্রাস ধর্ম অথবা কোন মতবাদের আশ্রয় গ্রহন করার চেষ্টা করে, এবং ঐ মতবাদ ব্যাবহার করে সন্ত্রাস তার বা তাদের সমর্থক বাড়ায় এবং দলভারী করে। এ জন্য Kullberg and Jokinen, 2004 এই উপসংহারে আসেন যে ‘any political ideology, or opinion, cannot be terrorism' এবং Terrorism can be the means used in the name of some ideology by terrorist groups, but that ideology is not terrorism. অর্থ্যাত, কোন রাজনিতিক দর্শন বা মতামত নিজেই সন্ত্রাস হতে পারে না, এবং সন্ত্রাস বা টেররিসম হতে পারে সন্ত্রাসী গুস্টিরা দ্বারা ব্যাবহৃত দর্শনের দ্বারা। 

 

মানসিক বা মনোবিজ্ঞান ঘটিতঃ

সন্ত্রাস মোকাবেলায় এই ইসুটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। 

  • প্রতিশোধ পরায়ণতাঃ কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ভয়ংকর প্রতিশোধ পরায়ণ। তার প্রতিশোধ নিবার তাগিদে সন্ত্রাস চালায় এবং নিরীহ মানুষের সংজ্ঞা তাদের কাছে ভিন্ন হয়। একটা শিশু যদি কাউরো হাতে বা কোন যুদ্ধে তার সকল আপনজনকে হারায়, তাহলে সেও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারে। আবার সাধারন অবস্থায় ও সন্ত্রাস তৈরি হতে পারে, কোন প্রতিশোধ পরায়ণ মানুষ প্রতিশোধ নিবার জন্য কোন দল বা গুস্টিতে যোগদান করতে পারে। তথাপি যোগদানের পর সে উক্ত দলের দ্বারা ব্যাবঋতও হতে পারে।
  • অনুরাগ বিষয়ঃ Nahian Chowdhury ২০১৬, এর মতে "Human are all born with a need for attachment, whereby parents are required to respond to their child's emotional pleasure and distress in a healthy manner" সকল মানুষ জন্মগ্রহন করে অনুরাগের প্রয়োজনীয়তা সাথে করে, তদ্বারা মা-বাবার (অথবা দায়িত্বশীলদের) দেখাতে হয়, বাচ্চাদের ইমোশনাল আনন্দ এবং ক্ষোভের ব্যাপারে সুন্দর (স্বাথ্যকর) প্রতিক্রিয়া। কিন্তু অনেক বাচ্চারাই এ থেকে বঞ্ছিত হন, এটা মা-বাবার দায়িত্বে অবহেলা থেকে হতে পারে। এই সব বাচ্চারা বড় হয়ে ত্রাসের মাধমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করতে পারে। আবার বিভিন্ন দল বা গ্রুপে যোগদান করতে পারে যা তাদের "গুরুত্বপূর্ন" হিসাবে অনুভূতি সৃষ্টি করে। আর এভাবেই সন্ত্রাসী তৈরি হতে পারে। 

  • শয়তানের প্রভাব (The Lucifer Efect):  এটি Phillip Zimbardo এর The Lucifer Effect বই থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা যা করা হয়েছিল Standford University এ্রর একটি পরিক্ষার ভিত্তিতে। পরিক্ষায় কিছু ছাত্রকে এক প্রকার জেলের পাহারাদার এবং কিছু ছাত্রদের জেলের বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছিল। দেখা গেল কিছুদিন পর, পাহারাদাররা বন্দীদের মানসিক এবং শারিরিক অত্যাচার করছে। অর্থ্যাত, ক্ষমতা ও সুযোগ ভাল মানুষকেও খারাপ করে তুলতে পারে, "হাতে বন্দুক থাকলে নিরিহ কবুতরের দিকেও চোখ পরে"!!! এ বিষয় জানতে পড়ুনঃ Stanford prison experiment এবং The “Lucifer Effect” 

  • দাংগাবাজ মানুষের ব্যাক্ষাঃ ধর্ম গ্রন্থ বা কোন সম্মানি মানুষের কথার ব্যাক্ষা কোন দাংগাবাজ মানুষ দাংগা লাগানোর প্রয়োজন মত ব্যাবহার করতে পারে। এটা দাংগাবাজদের অপব্যাক্ষাও বলা যেতে পারে। আর এই সব অপব্যাক্ষায় নিরিহ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে এবং এর সাথে যদি আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য মানসিক প্রভাব থাকে, তাহলেও সন্ত্রাসের উতপত্তি ঘটতে পারে। 

 

উপসংহারঃ আলচ্য আলোচনা থেকে এটাই বুঝা যায় সন্ত্রাস একটি ব্যাপক বিষয়, এবং এর সমাধান আছে ছোট ছোট ন্যায় সম্পন্ন কাজে। কিন্তু বাংলাদেশের একার পক্ষে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ এর চেয়ে সন্ত্রাস দমনে দরকার সঠিক পদক্ষেপ, আর সেটা করতে পারেন, মা-বাবা ভাই বোন, এবং সরকার করতে পারে সামাজিক ও আর্থিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাস দমনে দরকার সামাজিক ঐক্য ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনিতিক ব্যাবস্থা। 

 

 

রেফারেন্সঃ 

Amy Zalman, 2015 The history of Terrorism, about news, viewed from http://terrorism.about.com/od/whatisterroris1/p/Terrorism.htm

Professor Adam Roberts, 2002 The Changing Faces of Terrorism, BBC, viewed from http://www.bbc.co.uk/history/recent/sept_11/changing_faces_01.shtml

KULLBERG, A. and JOKINEN, C. 2004, “From Terror to Terrorism: the Logic on the Roots of Selective Political Violence”, Research Unit for Conflicts and Terrorism, University of Turku, Finland, Source: Bekir Ciner 2009

Bekir Ciner 2009, The root causes of terrorism,  METU Studies in Development, 36 (June), 2009, 93-119.

Nahian Chowdhury, 2016, Terrorism, BFA voice, 2nd edtion, March 2016.

ÇINAR, B. (1997), Devlet Güvenliği, Đstihbarat ve Terörizm (State Security, Intelligence and Terrorism), Ankara: SAM Yayınları Source: Bekir Ciner 2009

RICHARDSON, L. (2006), What Terrorists Want: Understanding the Terrorists Threat, John Murray: Great Britain. Source: Bekir Ciner 2009

WILKINSON, P. (1974), Political Terrorism, London: Macmillan. Source: Bekir Ciner 2009
————(1977), Terrorism and the Liberal State, London: Macmillan, Source: Bekir Ciner 2009

৬ comments

Skip to comment form

  1. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পরিশ্রম করে লেখেছেন -- যথেষ্ট তথ্য সংযোগ করেছেন। পড়ে ভাল লাগলো। ধন্যবাদ।

    (কিছু বানান ঠিক করা দরকার) 

    1. 3.1
      ফাতমী

      বানান গুলি চেক করে ঠিক করে নিব ইনশা-আল্লাহ। 

  2. 2
    হবিজবি

    একমাত্র আলেম সমাজই পারেন বিপথগামীদের ফেরাতে.অবশ্য এদেরকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন কারণ আপনি তাকে এক হাদিসের কথা বলবেন, সে পাল্টা আপনাকে অন্য এক হাদিস শুনিয়ে দিবে রেফারেন্স সহ. যে মতাদর্শের কারণে এরা যোগদান করেছে সেই মতাদর্শ কে ভুল প্রমান করতে হবে কোরান হাদিস দিয়েই, এছাড়া আর কোনো উপায় নাই

    1. 2.1
      ফাতমী

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

  3. 1
    মাহফুজ

    আদর্শীক দ্বন্দ ও দমন নীতির করাণে যখন উগ্র/জঙ্গি/সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয়, তা কখনই সম্পূর্ণরূপে দমন করা যায়না। উভয়পক্ষই তাদের যুক্তি ও কর্মকাণ্ডকে যৌক্তিক হিসেবে দাবি করে অনঢ় অবস্থানে থাকে। পরস্পরের মধ্যে সমঝোতা না হলে বা না করিয়ে দিতে পারলে পরিণতিতে এটি খণ্ডিত কিংবা ব্যপক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং কেবলমাত্র জয়-পরাজয়ের মাধ্যমেই এই অবস্থার একটি দীর্ঘ মেয়াদী সমাপ্তি ঘটে থাকে।

    1. 1.1
      ফাতমী

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.